বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৩৩ / ১৭৪ · ৩,২০১৩,৩০০ / ১৭,৪৩৭

৩,২০১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প কোনটি?
  1. দেনাপাওনা
  2. সমাপ্তি
  3. ল্যাবরেটরী
  4. ভিখারিণী
ব্যাখ্যা

'ভিখারিণী' ছোটগল্প:
- ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- 'ভিখারিণী' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।

• তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- রবিবার,
- সমাপ্তি,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরী ও
- পোস্ট মাস্টার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২০২.
সৈয়দ আলী আহসান কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) মাগুরা
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) ফেনী
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আলী আহসান মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

• সৈয়দ আলী আহসান:
-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২০৩.
'ভিখু ও পাঁচী' চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'প্রাগৈতিহাসিক' গল্প:
- 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- ভিঁখু ও পাচি 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী। 
- 'প্রাগৈতিহাসিক' মূলত মানুষের জৈবিক ক্ষুধার ইতিহাস।
- জৈবিক ক্ষুধার জন্য মানুষ যে পশুতে পরিণত হতে পারে সে কথাই বর্ণিত হয়েছে 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পে।
- জৈব প্রেরণা মানুষের আদিম প্রবৃত্তি।
- 'ভিখু' ও 'পাঁচী' জন্মগতভাবে কামনা বাসনা ও জৈব তাড়না লাভ করেছে এবং এ প্রবৃত্তিকেই তারা আবার তাদের সন্তান সন্ততির মাঝে সঞ্চারিত করে যাবে।
- এ প্রবৃত্তি নিতান্তই প্রাগৈতিহাসিক।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য বিখ্যাত ছোটগল্প:
- অতসী মামী, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ
- হলুদ পোড়া
- ভেজাল, 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী, 
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া ও প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থ।
৩,২০৪.
"আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 
- কবিতাংশটুকু 'আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি' কবিতার অন্তর্গত।

• 'আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি' -কবিতা, 

সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ
গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
---------
আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম। (সংক্ষেপিত) 
------------------------ 
• নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
৩,২০৫.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা হলো -
  1. সবুজপত্র
  2. বিশ্বভারতী
  3. রূপ ও রীতি
  4. অলকা
  5. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ও তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।

- ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২০৬.
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২০৭.
কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত সংবাদপত্র কোনটি?
  1. শিখা
  2. নবযুগ
  3. সৈনিক
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• দৈনিক নবযুগ পত্রিকা:
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকাটি ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রকাশের বছর খানেকের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৪২ সালে পুনরায় চালু হয়ে দুবছর পর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
- দৈনিক নবযুগে কাজী নজরুল লিখিত কলামসমূহ নিয়ে নজরুলের ‍যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যা ব্রিটিশ সরকার রাজয়োপ্ত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২০৮.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) আহুতি
  2. খ) পদচারণ
  3. গ) রায়তের কথা
  4. ঘ) তেল-নুন-লাকড়ী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬): বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক, ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
তিনি সম্পাদনা করেন সবুজ পত্র (১৯১৪) ও বিশ্ব ভারতী পত্রিকা।
কাব্য গ্রন্থঃ সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), পদচারণ (১৯১৯);
গল্পগ্রন্থঃ চার ইয়ারি কথা (১৯১৬), আহুতি (১৯১৯), নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ (১৯৪১);
প্রবন্ধগ্রন্থঃ তেল- নুন -লাকড়ী (১৯০৬), বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা, ১৯১৬), নানাকথা (১৯১৯), আমাদের শিক্ষা (১৯২০), রায়তের কথা (১৯২৬), নানাচর্চা (১৯৩২), আত্নকথা (১৯৪৬)।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,২০৯.
কার নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন?
  1. রাজা গণেশ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২১০.
'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- বক্তব্যটি কার রচনা?
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

কাহিনি সংক্ষেপ-
আনোয়ারা' উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে আনোয়ারা নাম্নী এক তরুণীকে ঘিরে। তার জীবনকে যেন লেখক বাঙালি নারীর আদর্শ জীবনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে কিনা সৎ মা গোলাপজানের শত গঞ্জনা সয়েও মুখে টু শব্দটি করে না। মায়ের বাধ্য সন্তান যেমন হয় আনোয়ারাও ঠিক তাই। আনোয়ারার একমাত্র সঙ্গী তার সই হামিদা। অন্যদিকে সৎ মায়ের গঞ্জনাতে শীতল ছায়া দিয়ে চলেছে আনোয়ারার দাদীমা। এই দুটি মানুষের কাছে জীবনের পরম আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে আনোয়ারা। কিন্তু আনোয়ারার জীবন দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আদর্শপূর্ণ করে রেখেছেন লেখক। নামাজের জন্য ওযু করতে গিয়ে চোখ পড়ে নুরল এসলামের ওপর। যে সৎ, পবিত্র, নিষ্ঠাবান একজন কর্মী। নৌকাতে অবস্থানকালে তার মধুর কণ্ঠের কোরআন পাঠ আনোয়ারাকে মুগ্ধ করে। মনের অজান্তেই ভিনদেশি এই যুবকের মতো কেউ তার স্বামীর আসন দখল করুক এই তার বাসনা।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বিয়ে হয় আনোয়ারা এবং নুরল এসলামের। কিন্তু এখানেও আনোয়ারার জীবনে আসে কালবৈশাখী ঝড়। এক তিমির থেকে বেঁচে সে এসে উপস্থিত হয় আরও এক গভীর অন্ধকারে। যেখানে তার পক্ষে কেউ নেই।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি।

উৎস: 'আনোয়ারা' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২১১.
'মালতী' - উপন্যাস এর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
'মালতী' - উপন্যাস এর রচয়িতা স্বর্ণকুমারি দেবী।

স্বর্ণকুমারি দেবী 
১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট কলকাতার জোড়াসাঁকো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো:
উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ
- মেবার রাজ
- মালতী
- বিদ্রোহ
- স্বপ্নবাণী
- মিলনরাত্রি

নাটক:
- বসন্ত উৎসব
- বিবাহ উৎসহ
- দেব কৌতুক

কাব্য:
- গাথা
-কবিতা ও গান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২১২.
'রাজার জন্মদিনে' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
'রাজার জন্মদিনে'' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- দণ্ডকারণ্য, চিঠি, কবর, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২১৩.
"এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;"  পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীম উদ্দীন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাস রচিত 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের '' কবিতার অংশ। 
কবিতাটি নিম্নরূপ - 

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সবচেয়ে সুন্দর করুণ :
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নামঃ কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার র’ঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,

সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সেখানে লেবুর শাখা নূয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের উপর
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর—
শঙ্খমালা নাম তারঃ এ-বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো—বিশালাক্ষী দিয়েছিলো বর
তাই সে জন্মিছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।

উৎস: এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে, জীবনানন্দ দাস।
৩,২১৪.
'মাধবীলতা' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গৃহদাহ
  2. দেবদাস
  3. পল্লী সমাজ
  4. বড়দিদি
ব্যাখ্যা

• 'বড়দিদি' উপন্যাস:
- 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল 'শিশু'।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা।
-  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি চরিত্রটির নাম মাধবীলতা। এই উপন্যাসে মাধবীলতা একজন শক্তিশালী, স্বাধীনচেতা এবং ত্যাগী নারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন, যিনি পরিবার ও সমাজের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সুখের ত্যাগ স্বীকার করেন।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
• 'দেবদাস' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হলো দেবদাস, পার্বতী (পারু) এবং চন্দ্রমুখী।
• ১৯১৫ সালে 'পল্লী সমাজ' উপন্যাসটি ভারতবর্ষ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

---------------------
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বড়দিদি' উপন্যাস।

৩,২১৫.
'কেমন আছ, সবুজ পাতা' - এই স্নিগ্ধ নামধারী সাহিত্যকর্মটি বাংলা সাহিত্যের কোন ঘরানার অন্তর্গত?
  1. শিশুতোষ প্রবন্ধ
  2. কাহিনীকাব্য
  3. গীতিনাট্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'কেমন আছ, সবুজ পাতা' - এই স্নিগ্ধ নামধারী সাহিত্যকর্ম ইমদাদুল হক মিলন রচিত - উপন্যাস

ইমদাদুল হক মিলন:
- ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম।
- লেখনীশক্তির পাশাপাশি তার রয়েছে নাট্যরচনায় পারদর্শিতা।
- বর্তমানে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্র 'কালের কন্ঠ-এর সম্পাদক পদেও নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২১৬.
'এখনো ক্রীতদাস' - নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. গ) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
এখনো ক্রীতদাস
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা' বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২১৭.
'পথে প্রবাসে'- ভ্রমণকাহিনী কে লিখেছেন?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনী কে লিখেছেন - অন্নদাশঙ্কর রায়

- তার আরেকটি ভ্রমণকাহিনী - ইউরোপের চিঠি।

অন্য অপশনের লেখকদের ভ্রমণকাহিনি: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী - দেশে বিদেশে, জলে ডাঙায়।
- জসীম উদ্‌দীন - চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশে , যে দেশে মানুষ বড়।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় -মস্কোতে কয়েকদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩,২১৮.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. আহসান হাবীব 
  2. হাসান আজিজুল হক 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। 'হাতির শুঁড়' কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে। 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯', 'পুলিশ রিপোর্ট', 'হরতাল', 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়', তাঁর রচিত এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,২১৯.
'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. শনিবারের চিঠি
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নাটক:
- নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনি বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।

নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২২০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘রেইনকোট’ ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  3. খোঁয়ারি
  4. দুধেভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা

⇒ ‘রেইনকোট’ ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ গুলো হলো: 
- অন্য ঘরে অন্য স্বর , 
- খোঁয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২২১.
মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. রূপার কৌটা 
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা

• মুনীর চৌধুরী রচিত 'রূপার কৌটা' একটি অনুবাদ নাটক।

----------------
• মুনীর চৌধুরী:

- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 'মুনীর অপটিমা' তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২২২.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দ্বীনবন্ধু মিত্র
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
- 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে।

গোবিন্দচন্দ্র দাস:

- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৩.
‘কবিতা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২২৪.
মাত্রবৃত্ত ছন্দে পূর্ণপূর্ব সাধারণত কয় মাত্রায় হয়ে থাকে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৬
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রুদ্ধদল সর্বদাই বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
- এ ছন্দে সুস্পষ্ট উচ্চারিত অক্ষর-ধ্বনি থেকেই মাত্রার রীতি বা পরিমাণ স্থিরকৃত হয়।
- এ ছন্দে স্বরান্ত, হলন্ত বা কেবল স্বরান্ত অক্ষর দ্বারাই পর্ব সংঘটিত হয়।
- এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়।
- এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচ নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার।
- এ ছন্দের মূল পর্ব চার, পাঁচ, ছয়, সাত এবং আট মাত্রার। তবে, এ ছন্দে ছয় মাত্রার চাল বা প্রয়োগ বেশি।
- এ ছন্দের লয় বিলম্বিত এবং এর গতিবেগ ঢালা সুরে একটানা প্রবাহিত।
- এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর।
- এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবনতা বা সুরনিষ্ঠতা।

সুতরাং, এখানে খ) ৬ অধিক গ্রহণযোগ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,২২৫.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঠানদিদির থলে
  2. ঠাকুরমার চিঠি
  3. ঠাকুরদাদার ঝুলি
  4. দাদামশায়ের থলে
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার রচিত গ্রন্থ নয়- ঠাকুরমার চিঠি।
• ‘ঠাকুরমার চিঠি’ কামিনী রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য। গ্রন্থটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ছিলেন রূপকথার লেখক, শিশুসাহিত্যিক। 
- ঢাকা জেলার সাভারের নিকটবর্তী উলাইল গ্রামে ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭) ২ বৈশাখ তাঁর জন্ম।
 - প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ঠাকুরমার ঝুলি'র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন। জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

- তিনি বিভিন্ন সময়ে 'সুধা' (১৯০১-১৯০৪), 'সারথি' (১৯০৮) ও 'পথ' (১৯৩০-৩২) নামে তিনটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 'পথ' ছিল বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র। দক্ষিণারঞ্জন কিছুদিন ওই পরিষদের সহ-সভাপতি (১৯৩০-৩৩) ছিলেন। পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা-সমিতির সভাপতিরূপে তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের অনেক পরিভাষা রচনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৩৬৩ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) ১৬ চৈত্র কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদামশায়ের থলে,
- ঠানদিদির থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২২৬.
’আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত 
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. পায়রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২২৭.
'অমরনাথ' কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিলাসী
  2. মহেশ
  3. মন্দির
  4. মেজদিদি
ব্যাখ্যা

• 'মন্দির' গল্প:
- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম মন্দির।
- তিনি মন্দির গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমরনাথ,
- অপর্ণা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• 'বিলাসী' গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
• 'মহেশ' গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা,মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মেজদিদি' গল্পের প্রধান চরিত্র হলো কেষ্টা, কাদম্বিনী, হেমাঙ্গিনী।  

---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির, 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'মহেশ' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২২৮.
বাংলা একাডেমির ‘আঞ্চলিক অভিধানে’র সম্পাদক হলেন:
  1. ক) ড. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) নরেন বিশ্বাস
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫ - ১৯৬৯)। 
• তার অন্যান্য সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী,
- গল্প সংকলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২২৯.
'চলে মুসাফির' ভ্রমণ কাহিনি কে লিখেছেন?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণ কাহিনির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:

- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

• জসীমউদ্দীন:
- পল্লীকবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।

• তাঁর উপন্যাস।
-'বোবা কাহিনী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩০.
'রাইফেল রোটি আওরাত' রচনাটির প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে, ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩১.
'লাল নীল দীপাবলি' কার রচনা?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

লাল নীল দীপাবলি:
- কবি হুমায়ুন আজাদ বাঙলা সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী।
- এটি প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯৭৬ সালে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কিত একটি কিশোরসাহিত্য গ্রন্থ।

• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ব নাম হুমায়ুন কবির।
- ১৯৮৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি হুমায়ুন কবির নাম পরিবর্তর করে বর্তমান হুমায়ুন আজাদ নাম গ্রহণ করেন।
- তার সাহিত্যজীবনের শুরু হয় কাব্য রচনার মাধ্যমে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।
- মিউনিখ শহরে ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• কিশোরসাহিত্য-গ্রন্থ
- লাল নীল দীপাবলি (১৯৭৬),
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না (১৯৮৫),
- কতো নদী সরোবর (১৯৮৭),
- আববুকে মনে পড়ে (১৯৮৯),
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা (১৯৯৩),
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত (১৯৯৬),
- অন্ধকারে গন্ধরাজ (২০০৩) প্রভৃতি।

• কবিতা:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল, ইত্যাদি।

• উপন্যাসসমূহ:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৩২.
'দেবদাস' চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত উসমান
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ‘দেবদাস’ উপন্যাস ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। [সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,২৩৩.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. নীল লোহিত
  3. নীল উপাখ্যান
  4. সনাতন পাঠক
ব্যাখ্যা
• 'নীল উপাখ্যান' - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয়।  

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম: 
- নীল উপাধ্যায়,
- নীল লোহিত,
- সনাতন পাঠক।

⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছিলেন।
- তবে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতির চেয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে বেশি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- সমকালীন জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 
- কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'একটি চিঠি' প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ১৯৫১ সালে।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প 'খাঁচা' প্রথম প্রকাশিত হয় রমাপদ চৌধুরী সম্পাদিত 'ইন্দানীং' পত্রিকায়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- একা এবং কয়েকজন,
- হঠাৎ নীরার জন্য,
- ভোর বেলার উপহার,
- সেই মুহূর্তে নীরা,
- কায়দাটা শিখে নেবে' ইত্যাদি ।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হল:
- আত্মপ্রকাশ,
- ছায়া দর্শন,
- অন্য জীবনের স্বাদ,
- স্বপ্ন সম্ভব,
- সুনীলের সাতদিন,
- বাণী ও অবিনাশ,
- প্রথম আলো।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৪.
এক চরিত্রবিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. রূপান্তর
  2. নেমেসিস
  3. বহুরূপা
  4. নয়া খান্দান
ব্যাখ্যা
• "নেমেসিস" নাটক:
- নুরুল মোমেনের 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে। গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।

- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।

- সম্পূর্ণ‌ নাটকটি এক চরিত্র বিশিষ্ট। একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনি বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।

অন্যদিকে, 
--------------
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ সালে নুরুল মোমেনের 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।
- নুরুল মোমেনের 'নয়া খান্দান' নাটকটি ১৯৬১ সালে রচিত, ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। বংশমর্যাদা ও এ নিয়ে আভিজাত্যের প্রতি শ্লেষ ব্যক্ত হয়েছে এ নাটকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৩৫.
বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. হরপ্রসাদ রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্য ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর(১৮২০-৯১)। ভাব ও বিষয় অনুসারে বাক্যবিন্যাস এবং ইংরেজি ভাষার আদলে বিভিন্ন বিরাম-চিহ্নের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তাঁর৷

- বাংলা গদ্যের অবয়ব-নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে বিদ্যাসাগর সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতিবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন। সেজন্য বাংলা গদ্যশেলার উদ্ভবের পয়তাল্লিশ বৎসর পরে লেখ ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়ে থাকে। বস্তুতপক্ষে, বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- মাইকেল মধুসূদনের মতে, 'প্রাচীন ঋষির জ্ঞান ও প্রতিভা, ইংরেজের কর্মশক্তি এবং বাঙালি মায়ের হৃদয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠিত।' 
- রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করেছেন বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায়। তবে বিদ্যাসাগর সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি প্রধানত অনুবাদক, পাঠ্যগ্রন্থ প্রণেতা এবং শিক্ষা-সমাজ সাহিত্য বিষয়ের প্রবন্ধকার।

তাঁর অনুদিত ও রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে: 
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), 
- শকুন্তলা (১৮৫৪),
- সীতার বনবাস (১৮৬০),
- ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯),
- বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮),
- জীবনচরিত(১৮৪৯),
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য শান্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩),
- বিদ্যাসাগর চরিত (১৮৯১) ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

৩,২৩৬.
নিচের কোন কবি লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ছিলেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬)  কবি, শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
• জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
• স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে দীনেশচন্দ্র সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক এ কাজে তিনি নিযুক্ত হন।
• এমএ পাস করার পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে  রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী ছিলেন।
• ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন। এখানে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত চাকরি করার পর ১৯৪৪ সাল থেকে তিনি প্রথমে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. দেবেন্দ্রনাথ সেন
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. মৃণালিনী দেবী
  4. সৌদামিনী দেবী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি  সকবি দেবেন্দ্রনাথ সেনকে উৎসর্গ করেন। 
• 'সোনার তরী':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন। সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত কাব্য:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী - কাদম্বরী দেবী। 
- মানসী - মৃণালিনী দেবী ( 'উপহার' কবিতায় ইঙ্গিত আছে)। 
- সোনার তরী - কবি দেবেন্দ্রনাথ সেন। 
- কথা ও কাহিনী - জগদীশচন্দ্র বসু। 
- স্মরণ - মৃণালিনী দেবী। 
- পরিশেষ - অতুলপ্রসাদ সেন। 
- খাপছাড়া - রাজশেখর বসু। 
- আকাশ প্রদীপ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রভৃতি।
- পূরবী - আর্জেন্টাইন মহিলা ভিক্টোরিইয়া ওকাম্পো। 
- 'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাসটি উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,২৩৮.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কামিনী রায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৩৯.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রথম প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ভবিষ্যতের বাঙালী
  2. জীবনের শিল্প
  3. অতীতের বোঝা
  4. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি: 
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ: 
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস: 
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী: 
- পশ্চিম ভারত, 
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪০.
‘টেকচাঁদ’ ছদ্মনামটি কোন সাহিত্যিকের? 
  1. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘টেকচাঁদ’ ছদ্মনামটি- সৈয়দ মুজতবা আলীর। 
--------------------------------- 
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে পরিচিত ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- এই নামে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা-য় কলাম লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- এছাড়া তিনি ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী এবং মুসাফির সহ আরও অনেক ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন।

- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।
-------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - 'জরাসন্ধ'।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - ‘টেকচাঁদ ঠাকুর'।
• সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - 'সুবচনী'।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,২৪১.
খোয়াবনামা - উপন্যাসের বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. ক) ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ
  2. খ) তেভাগা আন্দোলন
  3. গ) আসামের ভূমিকম্প
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ উপন্যাসটির বিষষয়বস্তুগুলো হলোঃ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি।
এই ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৩,২৪২.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জসীমউদ্দীন
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇒ 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ:
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'রোকেয়া রচনাবলী' থেকে চয়ন করা হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে লেখক তৎকালীন সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতা ও অন্যদিকে দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার কথা ব্যক্ত করেছেন।
- কৃষকদের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তিনি শিক্ষা বিস্তারে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উপর এবং গ্রামীণ কুটির শিল্পের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৩.
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. গোবিন্দলাল
  2. তিলোত্তমা
  3. কাপালিক
  4. পশুপতি
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা,
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৪৪.
শিক্ষামূলক গ্রন্থ 'আখ্যান মঞ্জরী' এর রচয়িতা কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
শিক্ষামূলক গ্রন্থ 'আখ্যান মঞ্জরী' এর রচয়িতা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৫.
'ফিহা সমীকরণ' হুমায়ুন আহমেদ রচিত-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) সায়েন্স ফিকশন
  4. ঘ) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
'ফিহা সমীকরণ' হুমায়ুন আহমেদ রচিত- সায়েন্স ফিকশন। তোমাদের জন্য ভালোবাসা, দ্বিতীয় মানব, শূন্য এগুলোও তাঁর রচিত সায়েন্স ফিকশন।‌ উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৪৬.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. পদ্মবতী
  4. তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক- কৃষ্ণকুমারী।
- নাটকটির রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কৃষ্ণকুমারী নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ’রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- নাটকটি রচিত হয়-১৮৬০ সালে, প্রকাশিত হয়-১৮৬১ সালে।
- এই নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• পদ্মবতী বাংলা সাহিত্যের কেমেডি নাটক।
• ’তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত  কাব্যগ্রন্থ।
• ব্রজাঙ্গনা হলো রাধা কৃষ্ণ বিষয়ক গীতকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৭.
'আর্তনাদ' উপন্যাসের পটভূমি-
  1. স্বদেশি আন্দোলন
  2. কৃষক আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত — ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৮.
নবীনচন্দ্র সেন কোন মহাকাব্যের জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. খৃস্ট
  3. কুরুক্ষেত্র
  4. রৈবতক
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। 
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৪৯.
কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. ঝিলিমিলি
  2. আলেয়া
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. মেঘদূত
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক 'ঝিলিমিলি'।

• 'ঝিলিমিলি':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।যথা:
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম — তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

৩,২৫০.
বাংলা সাহিত্যের "দুঃখবাদী কবি” কে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. যতিন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত;
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
• রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
• দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী কবি, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
• প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা এবং
- কবিতা-সংকলন অনুপূর্বা।

[প্রথম তিনখানি কাব্যের নামকরণে অগ্নি, রুদ্র ও মরুর দহন এবং শেষের তিনটির নামকরণে রাত্রির অন্ধকারের প্রতীক-দ্যোতনা প্রকাশ পেয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,২৫১.
“নীল ময়ূরের যৌবন” উপন্যাসের রচয়িতার নাম কী?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রাজিয়া বেগম
  3. আমেনা খাতুন
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

 • 'নীল ময়ূরের যৌবন'- সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস। 
- ১৯৮৩ সালে 'নীল ময়ূরের যৌবন’ প্রকাশিত হয়।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- সাহিত্যভাবনা: তাঁর উপন্যাসে অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি প্রতিফলিত হয়েছে।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,২৫২.
‘একুশের গান' কবিতার রচয়িতা-
  1. ক) জসীম উদ্দীন
  2. খ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'একুশের গান' কবিতার রচয়িতা- আবদুল গাফ্ফা‌র চৌধুরী।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- গানটির রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি 'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনেও এটি প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৫৩.
"ঠকচাচা" চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. বউ ঠাকুরানীর হাট
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. চোখের বালি
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসে ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৫৪.
'অবসরের গান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ঝরা পালক
  2. রূপসী বাংলা
  3. ধূসর পাণ্ডলিপি
  4. বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
•'অবসরের গান' কবিতাটি 'ধূসর পাণ্ডলিপি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অবসরের গান,
জীবনানন্দ দাশ।
 
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার — চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয় —
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট করে দেবে তার সাধের সময়!
চারি দিকে এখন সকাল —
রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!
মাঠের ঘাসের পরে শৈশবের ঘ্রাণ —
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের পড়েছে আহ্বান!
- (ধূসর পাণ্ডলিপি)

 জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করে।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন।
 
• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা ইত্যাদি। 
  
উৎস: ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ ,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৫৫.
'প্রথম প্রতিশ্রুতি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আশাপূর্ণা দেবী
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) অনীলা দেবী
ব্যাখ্যা
'প্রথম প্রতিশ্রুতি' আশাপূর্ণা দেবীর অন্যতম শেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এর পরবর্তী খন্ডগুলো হল- 'সুবর্ণলতা' ও 'বকুল কথা'।
- উনিশ শতকের কলকাতার মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও গ্রাম ছিল তিতিরে। 
- সেই গ্রাম বদলাতে যারা এগিয়ে এসেছিলেন লেখিকা তাদের স্মরণ করেছেন এই গ্রন্থে। 

আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯ –৯৫) রচিত অন্যান্য উপন্যাস - 
- বলয়গ্রাস
- মিত্তির বাড়ি
- অগ্নি পরীক্ষা 
- কল্যানী 
- নির্জন পৃথিবী
- শশিবাবুর সংসার 
- উন্মোচন
- অতিক্রান্ত
- নেপথ্য নায়িকা
- জনম জনম কি সাথী 
- যোগ বিয়োগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,২৫৬.
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বঙ্গভাষা
  2. বঙ্গদেশ
  3. বঙ্গবাণী
  4. জন্মভূমি
ব্যাখ্যা
⇒ আলোচ্য পঙ্কতিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
• 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।

==============
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে ৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা, 
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী। 

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৩,২৫৭.
‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- বিখ্যাত সংলাপটি কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- বিখ্যাত সংলাপটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:

- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

-------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৮.
'গল্পকল্প' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হেমেন্দ্রকুমার রায়
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) রাজশেখর বসু
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
- রাজশেখর বসু 'পরশুরাম' ছদ্মনামে বাংলা সাহিত্যে হাসির গল্পের বিপুল সম্ভার আনয়ন করেন। 
- তিনি ছিলেন বিজ্ঞানে পণ্ডিত এবং কর্মসূত্রে বৈজ্ঞানিক শিল্পশালার পরিচালক।
- তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ শিল্পিত ভঙ্গিতে প্রকাশের অনাবিল ক্ষমতা ছিল তাঁর।
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
:
» গড্ডলিকা,
» কজ্জলী,
» হনুমানের স্বপ্ন,
» গল্পকল্প,
» গল্প কৃষ্ণকলি,
» আনন্দীবাঈ,
» প্রবন্ধ লঘুগুরু,
» ভারতের খনিজ,
» কুটিরশিল্প, 
» বিচিন্তা ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৫৯.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন-
  1. ক) আলমগীর কবির
  2. খ) সুভাষ দত্ত
  3. গ) মোরশেদুল ইসলাম
  4. ঘ) তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - এর কাহিনী নিয়ে বসুন্ধরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন পরিচালক সুভাষ দত্ত। উপন্যাসটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়েছে। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩,২৬০.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস?
  1. তারাবাঈ
  2. স্পেন বিজয় কাব্য
  3. অনল প্রবাহ
  4. উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস - তারাবাঈ

উল্লেখ্য, 'তারাবাঈ' নাটকের লেখক - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা, 
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা, 
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী, 
- প্রেমাঞ্জলি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী, 
- তারাবাঈ, 
- ফিরোজা বেগম, 
- নূরুদ্দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬১.
ইউনেস্কো কোনটিকে এশীয় সিরিজের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মের সম্মাননা দিয়েছে?
  1. বোবা কাহিনী
  2. কবর
  3. নকশী কাঁথার মাঠ
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদদীন: 
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত, দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে জসীম উদ্‌দীন কাজ করেন।
- তিনি পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও।
- জসীমউদ্দীন জারীগান ও মুর্শীদা গান নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।

♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।

♦ কবর: 
- ১৯২৫ সালে এই কবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি কবির ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

♦ নকশী কাঁথার মাঠ: 
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'The Field of Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
- ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় বাংলা সাহিত্যের এই অনবদ্য আখ্যানকাব্যটি।

♦ সোজন বাদিয়ার ঘাট: 
- এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাম্প্রদায়িকতার টানাপোড়ন এই কাব্যের উপজীব্য।
- ইউনেস্কো 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' -কে এশীয় সিরিজের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মের সম্মাননা দিয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটি ইংরিজেতে "জিপ্সি ওয়ার্ফ" শিরোনামে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র -
১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. Who's who in Bangladesh art, culture, literature, আবু ফজল শামসুজ্জামান।
৫. বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬২.
কোন পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) লাঙ্গল
  4. ঘ) দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
- কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন 'দৈনিক নবযুগ'।

- 'সাম্যবাদী' (১৯২৩) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 
- 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬৩.
‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামটি কার?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. মণীশ ঘটক
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়।
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি।

অন্যদিকে,
• 'সতীনাথ ভাদুড়ী' এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• 'মণীশ ঘটক' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৪.
'বাংলার কবি মধুসূদন' রচনা করেন-
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬৫.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ঝরাপালক
  2. রূপসী বাংলা
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. জাগ্রত ধরিণী
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়- জাগ্রত ধরিণী।

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- রূপসী বাংলা,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৩,২৬৬.
'আমআঁটির ভেঁপু' পর্বটি কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. চাঁদের পাহাড়
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়।  গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।

• উপন্যাসের তিনটি ভাগ:
- বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।

- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
 
উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।
 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৬৭.
'পোড়ামাটির কাজ' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) এসব ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, অ-তে অজগর, কলকাতা, কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, হে সংসার হে লতা। তাঁর রচিত ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি। প্রবন্ধ- বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা, দশ দিগন্তের দ্রষ্টা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, করতলে মহাদেশ, আমার বিশ্বাস। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৮.
‘দৈনিক আজাদ' পত্রিকার সম্পাদকের নাম কী?
  1. সিকানদার আবু জাফর
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. ওয়াজেদ আলী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'দৈনিক আজাদ' পত্রিকা:
- এটি একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা।
- ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকার সঙ্গে আরো যুক্ত ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও নজীর আহমদ চৌধুরী।
- ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর ১৯৪৮ সালের ১৯ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনে আজাদ সাহসী ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২৬৯.
‘প্রতাপ ও শৈবলিনী’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাজসিংহ
  2. মৃণালিনী
  3. চন্দ্রশেখর
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রশেখর:
- 'চন্দ্রশেখর' (১৮৭৫) প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি।
- প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

-----------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭০.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ না?
  1. ক) অনল প্রবাহ
  2. খ) উচ্ছ্বাস
  3. গ) স্বজাতি প্রেম
  4. ঘ) স্পেনবিজয় কাব্য
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজির কাব্যগ্রন্থঃ অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, স্পেনবিজয় কাব্য। উপন্যাসঃ তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম। স্বজাতি প্রেম তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,২৭১.
'লালসালু' উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. জহির রায়হান
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• লালসালু:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- উপন্যাসের মূলবিষয় ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- বহুমাত্রিক ও উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।
- উপন্যাসটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র পত্নী 'অ্যান মেরি' উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭২.
'হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান' কার লেখা?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. জয় গোস্বামী
ব্যাখ্যা
• 'হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান' কবিতাটির রচয়িতা: শক্তি চট্টোপাধ্যায়। 

'হেমন্তের অরণ‍্যে আমি পোস্টম‍্যান'- কবিতা,
শক্তি চট্টোপাধ‍্যায়

হেমন্তের অরণ‍্যে আমি পোস্টম‍্যান ঘুরতে দেখেছি অনেক
তাদের হলুদ ঝুলি ভ’রে গিয়েছিলো ঘাসে আবিল ভেড়ার পেটের মতন
কতকালের পুরানো নতুন চিঠি কুড়িয়ে পেয়েছে ওই হেমন্তের অরণ‍্যের পোস্টম‍্যানগুলি
আমি দেখেছি, কেবল অনবরত ওরা খুঁটে চলেছে বকের মতো নিভৃতে মাছ
এমন অসম্ভব রহস‍্যপূর্ণ সতর্ক ব‍্যস্ততা ওদের-
আমাদের পোস্টম‍্যানগুলির মতো নয় ওরা
যাদের হাত হতে অবিরাম বিলাসী ভালোবাসার চিঠি আমাদের হারিয়ে যেতে থাকে।

• শক্তি চট্টোপাধ্যায়:
- ১৯৩৪ সালে জীবনানন্দ-উত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি।
- পঞ্চাশের দশকে কবিদের মুখপত্র কৃত্তিবাস পত্রিকার অন্যতম কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
- তার উপন্যাস অবনী বাড়ি আছো? দাঁড়াবার জায়গা ইত্যাদি প্রকাশিত হয়।
- রূপচাঁদ পক্ষী ছদ্মনামে অনেক ফিচার লিখেছেন।
- তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'হে প্রেম, হে নৈশব্দ' ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় দেবকুমার বসুর চেষ্টায়।
- তিনি মার্চ ২৩, ১৯৯৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: হেমন্তের অরণ‍্যে আমি পোস্টম‍্যান- কবিতা, শক্তি চট্টোপাধ্যায়। 
৩,২৭৩.
'আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট' - উক্তিটি কার?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সমর সেন
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২. বাংলাপিডিয়া।

৩,২৭৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ 'সধবার একাদশী' প্রহসনে কোন চরিত্রে অভিনয় করেন?
  1. সৌদামিনী
  2. কাঞ্চন
  3. কেনারাম
  4. নিমচাঁদ
ব্যাখ্যা
• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৫.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩২ সালে
  3. ১৯৩৮ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্য:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি জসীম উদ্দীন তা অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

----------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির।
- হলদে পরীর দেশ।
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: ভাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের ভূমিক এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,২৭৬.
’বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসটি একটি-
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস
  4. রোমান্টিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
’বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসটি একটি- ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- উপন্যাসে হাসান হোসেনের করুণ মুত্যুকাহিনি বর্ননা করা হয়েছে।
- উপন্যাসটি তিন পর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
 - তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
-  তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা - বিষাদ-সিন্ধু্

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৭.
‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. শওকত আলী
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি বিখ্যাত উক্তি।
- উক্তিটি তাঁর ‘ছাড়পত্র’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

-----------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৭৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. মিছিল
  2. কুয়াশা
  3. প্রথমা
  4. পঞ্চশর
ব্যাখ্যা

• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ- পঞ্চশর।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা, ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,২৭৯.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) প্যারিচাঁদ মিত্র
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের রচয়িতা প্যারিচাঁদ মিত্র। তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে উপন্যাস রচনা করেন। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম- অভেদী, আধ্যাত্মিকা, যৎকিঞ্চিৎ, রামারঞ্জিকা, বামাতোষিণী, গীতাঙ্কুর ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,২৮০.
‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটের উপর রচিত?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালের গণুভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস এটি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
৩,২৮১.
পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যেকার স্বাতন্ত্র্য ছিলেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যেকার স্বাতন্ত্র্য ছিলেন- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ।
- অন্যচার জনের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য হলো, তিনি ক্লাসিক ভাষারীতির সঙ্গে পাশ্চত্য কাব্যরীতির সংমিশ্রণে কবিতায় বিশিষ্টতা এনেছেন।

• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন। 
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত। 
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। 
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন -
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ।

৩,২৮২.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' কে রচনা করেন?
  1. মুহম্মদ ইকবাল
  2. ওমর খৈয়াম
  3. মির্জা গালিব
  4. এদের কেউ নন
ব্যাখ্যা
• শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া:
- ‘শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া’এটি উপমহাদেশের একটি বহুল আলোচিত গ্রন্থ। আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগুলোর মধ্যে এটি একটি।

- শিকওয়া শব্দের অর্থ হলো অভিযোগ। আর জওয়াব-ই-শিকওয়া অর্থ হলো অভিযোগের উত্তর।বইটিতে আল্লামা ইকবাল মুসলমানদের বর্তমান দুঃখ এবং দুর্দশার জন্য আল্লাহকে দায়ী করেছেন। এককালে শক্তিশালী মুসলিম জাতির বর্তমান বেহাল দশার জন্য আল্লাহকে অভিযোগ করেছেন।

- আর জওয়াব-ই-শিকওয়াতে এই অভিযোগগুলোর কাল্পনিক উত্তর দিয়েছেন এবং দেখিয়েছেন যে মুসলমানদের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশার জন্য আল্লাহ তায়ালা কোন অংশে দায়ী নয় বরং মুসলমানরা নিজ কর্মকাণ্ডের জন্যই বর্তমান বেহাল দশায় নিমজ্জিত।

- শিকওয়া কাব্যটিতে ছয় লাইন ছয় লাইন করে মোট ৩১ স্তবক কবিতা রয়েছে। আর জওয়াব-ই-শিকওয়াতে ছয় লাইন ছয় লাইন করে মোট ৩৬ স্তবক কবিতা আছে।

উল্লেখ্য,
• ‘শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ’ অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া’ আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল।
৩,২৮৩.
'পল্লীবধূ' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গানের সংকলন
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'পল্লীবধূ' জসীমউদ্দীন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

• জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।

• জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 

• জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

• কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

• জসীমউদ্দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান। জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো: 
• কাব্যগ্রন্থ:
বালুচর, রূপবতী, রাখালী, নক্সী কাঁথার মাঠ, ধানখেত, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মাটির কান্না, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• নাটক:
পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
হাসু, এক পয়সার বাঁশী, ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।


৩,২৮৪.
'আরণ্যক' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’।
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

​বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,২৮৫.
'বন্দর থেকে বন্দরে' কোন দেশের ভ্রমণকাহিনি ভিত্তিক গ্রন্থ?
  1. আফগানিস্তান
  2. প্যারিস
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি ভিত্তিক গ্রন্থটি বেশ খ্যাতি লাভ করে।

-------------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,২৮৬.
‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থকে কোন সাহিত্যের অংশ বলা হয়?
  1. রোমান্টিক সাহিত্য
  2. নাট্য সাহিত্য
  3. রম্য সাহিত্য
  4. ট্র্যাজেডি সাহিত্য
ব্যাখ্যা

‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থকে রম্য সাহিত্যের অংশ বলা হয়। 

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২):
- দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অন্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ সংকলন:
- কালান্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে রচিত একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ সংকলন।
- শাশ্বত বঙ্গ: কাজী আবদুল ওদুদ রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস: অবিশ্বাস্য, শবনম।
রম্য-রচনা: পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী।
ছোটগল্পগ্রন্থ: চাচা-কাহিনী, টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,২৮৭.
শওকত আলীর প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. যাত্রা
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচিত উপন্যাস- 'জাহান্নম হইতে বিদায়'।
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
• শওকত ওসমানের জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।

------------------
• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
৩,২৮৮.
নিচের কোন লেখক 'কল্লোল' পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
কল্লোল:   
• ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
• এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
• রবীন্দ্র-রোম্যান্টিক সাহিত্যের বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেতনা, ইউরোপীয় সাহিত্যের প্রভাব এই পত্রিকার লেখকদের উপর কার্যকর ছিল। 
• এ পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন
→ অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত,
→ শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, 
→ বুদ্ধদেব বসু,
→ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,
→ প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রমুখ।  
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩,২৮৯.
শওকত ওসমান কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. কথাসাহিত্যিক
  2. কবি
  3. ঔপন্যাসিক
  4. সাংবাদিক
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। তবে তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে অধিক পরিচিত ছিলেন। 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বণী আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯০.
'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা-
  1. মামুনুর রশীদ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মমতাজ উদদীন আহমদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা-  'মমতাজ উদদীন আহমদ'।

• মমতাজউদদীন আহমদ:  
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক: 
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর
- বকুলপুরের স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,২৯১.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার"-পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রফিক আজাদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে

​------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,২৯২.
কাজী নজরুল ইসলাম এর কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জাহাঙ্গীর'?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
---------------
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’  ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।

- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,২৯৩.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র নয়?
  1. গেরিলা
  2. আবার তোরা মানুষ হ
  3. ওরা ১১ জন
  4. ঘেটুপত্র কমলা
ব্যাখ্যা
• ঘেটুপত্র কমলা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র নয়।
- হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' যা ২০১২ সালে নির্মিত হয়েছিল। 
-------------
- হুমায়ূন আহমেদের নির্মিত চলচ্চিত্র:
 • 'শ্রাবণ মেঘের দিন'। 
• আগুনের পরশমনি।
• দুই দুয়ারী।
• শ্যামল ছায়া।
• আমার আছে জল।
• ঘেটুপুত্র কমলা। 

- তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এরকম কিছু চলচ্চিত্র:
• শঙ্খনীল কারাগার।
• দারুচিনি দ্বীপ।
• নন্দিত নরকে।
-----------------------
আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩):
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।
----------------
ওরা ১১ জন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা ১১ জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত ‘ও আমার দেশের মাটি’ দিয়ে।

 • নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত সৈয়দ শামসুল হক'র নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত গেরিলা চলচ্চিত্র।

উৎস: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৩,২৯৪.
‘কুমুদিনী’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) গোরা
  2. খ) যোগাযোগ
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'। 'করুণা' উপন্যাসটি অসমাপ্ত তাই একে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় না।
তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।

৩,২৯৫.
'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কোন থিয়েটারে মঞ্চস্থ করার হয়েছিল?
  1. স্টার থিয়েটার
  2. বেলগাছিয়া থিয়েটার
  3. ন্যাশনাল থিয়েটার
  4. মিনার্ভা থিয়েটার
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,২৯৬.
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থে কতটি গানের সংকলন ঘটেছে?
  1. ক) ১০২
  2. খ) ১৪৩
  3. গ) ১৫৭
  4. ঘ) ২০৯
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন। 
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এগুলো সহজ ভাষায়, সাবলীল ছন্দে লিখিত। 
- 'গীতাঞ্জলি'র গানগুলো মূলত কবিতা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি অবলম্বনে Song Offerings গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বরে, ইংল্যান্ডে। 
- 'গীতাঞ্জলি'র সম্পূর্ণ অনুবাদ যদিও Song Offerings নয়, তবুও এই গ্রন্থের আধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতি, প্রেমযৌথধারায় ইংরেজি গ্রন্থে প্রবাহমান। 
-  Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,২৯৭.
'নবান্ন' নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. দেশভাগ
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. যৌতুক প্রথা
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- বিজন ভট্টাচার্য এর নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।

- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক।
- এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯৮.
‘আমি বিজয় দেখেছি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মঈদুল হাসান
  2. খ) এম. আর আখতার মুকুল
  3. গ) মুনতাসীর মামুন
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- মুকুল, এম. আর আখতার একজন সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল।
- তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
- এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০), রূপালী বাতাস (১৯৭২), রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩), মুজিবের রক্তলাল (১৯৭৬), ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪), পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫), চল্লিশ থেকে একাত্তর (১৯৮৫), আমি বিজয় দেখেছি (১৯৮৫), বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন (১৯৮৬), লন্ডনে ছক্কু মিয়া (১৯৮৬), ওরা চারজন (১৯৮৬), কোলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবি (১৯৮৭), বায়ান্নোর জবানবন্দী (১৯৮৭), বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, ১৯৮৭), লেছড়াগঞ্জের লড়াই (১৯৮৭), নকশালদের শেষ সূর্য (১৯৮৯), একাত্তরের বর্ণমালা (১৯৮৯), বিজয় ’৭১ (১৯৯০), আমিই খালেদ মোশাররফ (১৯৯০), মহাপুরুষ (১৯৯১), একুশের দলিল (১৯৯২), দুমুখী লড়াই: আমরাই বাঙালী (১৯৯২), আমাকে কথা বলতে দিন (১৯৯৩), বাংলা নাটকের গোড়ার কথা (১৯৯৪), কে ভারতের দালাল (১৯৯৫), খন্দকার থেকে খালেদা (১৯৯৬), একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা (১৯৯৭), বঙ্গবন্ধু (১৯৯৭), জিন্নাহ থেকে মুজিব (১৯৯৮) এবং ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা (১৯৯৯)।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ২০০৪ সালের ২৬ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,২৯৯.
'ভিখারিনী' ছোটগল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা

'ভিখারিনী' ছোটগল্প:
- 'ভিখারিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প।
- এটি বাংলা সাহিত্যেরও প্রথম ছোটগল্প।
- গল্পটি 'ভারতী' পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগুলো হলো:
- একরাত্রি,
- মহামায়া,
- সমাপ্তি,
- দৃষ্টিদান,
- মাল্যদান,
- মধ্যবর্তিনী,
- শাস্তি,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- মানভঞ্জন,
- দুরাশা,
- অধ্যাপক,
- নষ্টনীড়,
- স্ত্রীর পত্র,
- পাত্র ও পাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৩০০.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রংপুরে
  2. বরিশালে
  3. ঢাকায়
  4. কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।