বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা / ১৭৪ · ২০১৩০০ / ১৭,৪৩৭

২০১.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকটির রচয়িতা হলেন-
  1. সেলিম আল দীন
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. জিয়া হায়দার
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা।
তিনি ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ও মঞ্চস্থ নাটকগুলোর মধ্যে:
- সুবচন নির্বাসনে
- এখনও দুঃসময় 
- এবার ধরা দাও 
- শপথ 
- সেনাপতি 
- অরক্ষিত মতিঝিল
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার 
- শাহজাদীর কালো নেকাব 
- আয়নার বন্ধুর মুখ 
- এখনও ক্রীতদাস 
- তোমরাই 
- দূরপাল্লা 
- তৃতীয় পুরুষ 
- আমাদের সন্তানেরা 
- কোকিলারা 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
২০২.
‘আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) ছোটো গল্প
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
শামসুর রহমান রচিত উপন্যাস- অক্টোপাস, অদ্ভুত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়। তার প্রবন্ধঃ আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২০৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৪.
'হাজারি ঠাকুর' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. চাঁদের পাহাড়
ব্যাখ্যা
• "আদর্শ হিন্দু হোটেল" উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্ক্ষাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র হাজারি ঠাকুর নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
বাংলা সাহিত্যে 'পঞ্চপাণ্ডব' কাকে বলা হয়?
  1. ক) ৫ জন যোদ্ধাকে
  2. খ) ৫ জন সমালোচককে
  3. গ) ৫ জন নাট্যকারকে
  4. ঘ) ৫ জন কবিকে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের ৫ জন বিখ্যাত কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়।
- কিন্তু তারা রবীন্দ্র কাব্যধারার বিরোধী কাব্যচর্চা করলেও অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বহু দেশ ভ্রমণও করেছেন।
তাঁরা হলেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০৬.
'লৌহকপাট' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. জরাসন্ধ
  3. আবুল হোসেন
  4. মনোজ বসু
ব্যাখ্যা
• জরাসন্ধ: 
- জরাসন্ধের আসল নাম চারুচন্দ্র চক্রবর্তী (১৯০২-৮১)।
- তিনি কারাগারের কাহিনি লিখে একসময় পাঠক সমাজকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।
- কারাগারের জীবন, রাজনীতি, বাস্তুহারা সমস্যা, সমাজের দুর্বিষহ বেকারত্ব প্রভৃতি নিয়ে তাঁর সাহিত্য রূপায়িত হয়ে উঠেছে।
- জরাসন্ধের জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে।
- অর্থনীতি বিষয় নিয়ে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি এ অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৩০ সালে কারাবিভাগের চাকরিতে যোগদান করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হল :
- লৌহকপাট (৪খণ্ড),
- মসিরেখা,
- ন্যায়দণ্ড,
- মল্লিকা,
- মহাশ্বেতার ডায়েরি, 
- মানসকন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২০৭.
ফররুখ আহমদের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সিন্দাবাদ
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

সাত সাগরের মাঝি:
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।

- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে ফররুখ আহমদ ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্য‑সমৃদ্ধ কাব্য চেতনা তুলে ধরেন
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
• এর কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা- 
- সাত সাগরের মাঝি
- সিন্দবাদ
- বার দরিয়ায়
- দরিয়ার শেষ রাত্রি
- শাহরিয়ার আকাশ নাবিক
- বন্দরে সন্ধ্যা
- ডাহুক
- পাঞ্জেরী
- স্বর্ণমঙ্গল
- লাশ
- তুফান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০৮.
নিচের কোন কবি ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ অমিয় চক্রবর্তী:  
→ জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
→ অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে (ব্যক্তিগত সচিব) এসেছিলেন।
→ বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং;   
→ ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 

→ তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।  
→ অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে।  
→ তিনি ত্রিশের দশকের কবি হিসেবে পরিচিত।   

→ তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'।      
⇒ তাঁর বিশেষ কাব্যগ্রন্থগুলো:    
• খসড়া, 
• এক মুঠো, 
• মাটির দেয়াল, 
• পারাপার, 
• পালাবদল, 
• ঘরে ফেরার দিন, 
• পুষ্পিত ইমেজ, 
• অনিঃশেষ, 
• অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।  
→ ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৯.
বাংলায় সেন রাজত্বকাল ও তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের প্রেক্ষাপটে নিচের কোন উপন্যাসটি রচিত?
  1. পিঙ্গল আকাশ
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।
- অত্যাচারী সামন্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু ও বৌদ্ধের দল।
- বাংলার গণমানুষ এই উপন্যাসে সামষ্টিকভাবে নায়ক করা হয়েছে; কোনো একক নায়ক নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

২১০.
“সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি” - উক্তিটি নিচের কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”  উক্তিটি কবি জীবনানন্দ দাশের।
 
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’
 
জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
 
উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।
 
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা। 
 
তথ্যসূত্র:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২১১.
'দেশে বিদেশে' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনী
- কাবুল শহরে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তা এই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
-  তিনি ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল 'দেশে-বিদেশে' ভ্রমণকাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র।
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১২.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস?
  1. যাপিত জীবন
  2. অলাতচক্র
  3. আর্তনাদ
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'। এটি শওকত ওসমান রচনা করেন। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

অন্যদিকে, 
• সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-  'যাপিত জীবন' ও 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'।
• 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২১৩.
'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উল্লেখ্য, শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - যাত্রা। 

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
- তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১৪.
'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ', কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই কালজয়ী গান কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
 বিদ্রোহী নজরুল, সাম্যবাদী নজরুল
-বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’।
- পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

- ১৯১৭ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯২৬ সালে তিনি প্রথমবারের মত ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪২ সালে পিকস্ ডিজিজে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন। 

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। 

- একটি অগ্রন্থিত গানে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন, 
'মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই, 
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’

- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। 
- মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- কবিকে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

♦♦ সাহিত্যকর্ম
- ১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে সাড়া ফেলেন। 
- নজরুল ইসলাম তাঁর ‘সঞ্চিতা’ কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন তাঁর রবীন্দ্রনাথকে।

'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ'
- ঈদুল ফিতর নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩১ সালে রচনা করেন এই কালজয়ী গান।
- এই গানে ঈদের আনন্দ, সৌন্দর্য এবং আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। 
- গানটি প্রথম আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়।
- ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে গানটি প্রকাশ করা হয়।

- নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে।
- এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।  
- সাম্যবাদী কাব্যের  ১১ টি কবিতার সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

- অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২০ সালের ১২ জুলাই এ.কে ফজলুল হকের (শেরে-বাংলা) সম্পাদনায় সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ প্রকাশিত হয়। 
- 'নবযুগ' এর মাধ্যমেই নজরুলের সাংবাদিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা - ধূমকেতু, লাঙ্গল।  

♦ প্রথম সবকিছু
-  প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য বা প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী (সওগাত, মে ১৯১৯)।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্য - অগ্নিবীণা।

- প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় - ‘যুগবাণী’। ১৯২২ সালে। 
- প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - ব্যাথার দান।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধন হারা (পত্রোপন্যাস)।
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ - তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা।
- প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ - ঝিলিমিলি।

♦ অগ্নিবীণা 
- প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- এই গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা আছে।
- প্রথম কবিতা - প্রলয়োল্লাস।
- 'বিদ্রোহী' এই কাব্যের দ্বিতীয় কবিতা।
- এটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ-কে উৎসর্গ করে লেখা। 
- প্রকাশকাল - ২৫শে অক্টোবর, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ।

♦ বিদ্রোহী নজরুল 
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যের 'চল চল চল' কবিতার প্রথম ২১ চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত।
-  ধূমকেতু পত্রিকায় তাঁর প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে পত্রিকার ওই সংখ্যাটি (৮ নভেম্বর ১৯২২) নিষিদ্ধ করা হয়।
 - ২২ জানুয়ারি ১৯২৩, নজরুল যখন হুগলির আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'বসন্ত' গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন।
- এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।
- ১৯২৩ সালে জেলে বসেই নজরুল রচনা করেন ‘এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল’।
- সর্বহারা গ্রন্থের 'কাণ্ডারি হুশিয়ার' কবিতায় তিনি অসাম্প্রদায়িক সংগ্রামের আহ্বান করেছেন। 

- ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের ৫টি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়। 
- প্রথম গ্রন্থ হিসাবে যুগবাণী প্রবন্ধ বাজেয়াপ্ত হয় - ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- বিষের বাঁশী এবং ভাঙ্গার গান যথাক্রমে ২য় এবং ৩য়। (১৯২৪ সাল)।
- প্রলয়–শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু ৪র্থ এবং ৫ম গ্রন্থ হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত হয় ১৯৩১ সালে।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. প্রথম আলো,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. আনন্দবাজার, 
৫. বাংলাপিডিয়া,
৬. কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা, মুজাফফর আহমদ।
২১৫.
’মেঘনাদবধ’ কাব্যে সর্গের সংখ্যা কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য
- এ কাব্য গৃহীত হয়েছে রামায়ণ থেকে।
- ’মেঘনাদবধ’ কাব্যের ৯টি সর্গের  আখ্যানভাগ।
- প্রথম সর্গ মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম 'অভিষেক'। 
- দ্বিতীয় সর্গ> দ্বিতীয় সর্গের নাম 'অস্ত্রলাভ'। 
- তৃতীয় সর্গ >তৃতীয় সর্গের নাম 'সমাগম'। 
- চতুর্থ সর্গ >চতুর্থ সর্গের নাম 'অশোকবন'।
- পঞ্চম সর্গ >পঞ্চম সর্গের নাম 'উদ্যোগ'। 
- ষষ্ঠ সর্গ> ষষ্ঠ সর্গের নাম 'বধ'। 
- সপ্তম সর্গ> সপ্তম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- অষ্টম সর্গ> অষ্টম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- নবম সর্গ>নবম সর্গের নাম 'সংস্ক্রিয়া'। 
---------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:

• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১৬.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. সৈয়দ শহীদুল্লাহ মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আযহার শহীদুল্লাহ
  3. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৭.
‘অনিল বাগচীর একদিন’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক উপন্যাস
  3. সামাজ সমস্যামূলক নাটক
  4. মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

---------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)। [প্রথম রচিত উপন্যাস; কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত]

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) বেদান্ত সার
  2. খ) বেদান্ত চন্দ্রিকা
  3. গ) প্রবোধ চন্দ্রিকা
  4. ঘ) রাজাবলি
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম পন্ডিত হলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার । তার রচিত গ্রন্থ হলঃ বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা, বেদান্ত চন্দ্রিকা। রাজা রামমোহন রচিত গ্রন্থ বেদান্ত সার। রেফারেন্সঃ বাংলা পিডিয়া।
২১৯.
শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি কিসের পটভূমিতে রচিত? 
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. গোয়েন্দা কাহিনী 
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমানের “আর্তনাদ” উপন্যাসটি  ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• “আর্তনাদ”:
- ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের আর্তনাদ (১৯৮৫) উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। 
- এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনচেতা বাঙালি মধ্যবিত্ত ও পশ্চিম পাকিস্তানের ধর্মনির্ভর শাসকগোষ্ঠীর আদর্শিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে সমাজের ভাঙন ও নতুন চেতনার উদয় উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসের কাহিনী পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভিন্ন চিন্তাধারা, ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বনাম প্রগতিশীলতার দ্বন্দ্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন- 
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার,
- পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার,
- একুশে পদক,
- মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার,
- মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার,
- স্বাধীনতা দিবস।
- দীর্ঘ দিন সাহিত্যচর্চার পর তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক জনকন্ঠ;
বাংলাপিডিয়া। 

২২০.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বেগম রোকেয়া
  3. সুফিয়া কামাল
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির স্রষ্টা - আবু ইসহাক

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২২১.
'বাঁধন-হারা' উপন্যাসের নায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. রবিউল
  2. মাহাবুব
  3. জাহাঙ্গীর
  4. নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২২২.
'মানব-বন্দনা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) জীবন-বন্দনা
  2. খ) কনকাঞ্জলি
  3. গ) এষা
  4. ঘ) প্রদীপ
ব্যাখ্যা
'মানব-বন্দনা' কবিতাটি অক্ষয়কুমার বড়াল এর 'প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

বড়াল, অক্ষয়কুমার (১৮৬০-১৯১৯)  উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'রজনীর মৃত্যু' বঙ্গদর্শন কবিতায় প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রদীপ'।

অক্ষয়কুমার কাব্য ও নাটক মিলে অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁর মধ্যে প্রধান কয়েকটি:
- প্রদীপ (১৮৮৪),
- কনকাঞ্জলি (১৮৮৫),
- ভুল (১৮৮৭),
- শঙ্খ (১৯১০),
- এষা (১৯১২),
- চন্ডীদাস (১৯১৭) ইত্যাদি।
তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রাজকৃষ্ণ রায়ের কবিতা (১৮৮৭) এবং গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর অশ্রুমালা (১৮৮৭) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৩.
'কবর' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,

তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২৪.
'উটপাখি' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শঙ্খ ঘোষ
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত এবং একান্নবর্তী  পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থের রচিয়তা হাসান আজিজুল হক। এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
এই গ্রন্থে মোট আটটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন
 
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৫.
'আর্য্যগাথা' গীতসংকলনটি কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• 'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

• এ পর্বের একটি গান হলো:
‘গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।’

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও তাঁর সঙ্গীতশিক্ষা:
দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি পিতার নিকট। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতার নিকট থেকে। তারপর বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি পাশ্চাত্য  সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভাকে শানিত করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলা গানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবনে সহায়ক হয়।

উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম। রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার। নাটক রচনা ও পরিচালনায় তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও তিনি সঙ্গীতকার হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায় পাঁচশত গান রচনা করেন। প্রথমদিকে তাঁর গান ‘দ্বিজুবাবুর গান’ নামে পরিচিতি ছিল; পরবর্তীকালে তা ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২২৬.
সতীনাথ ভাদুড়ী কোন উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন?
  1. পালামৌ
  2. জাগরী
  3. ভোরের বিহঙ্গী
  4. ঢোঁড়াইচরিত মানস
ব্যাখ্যা
'জাগরী' উপন্যাস:
- এটি সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত জাগরী উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ১৯৫০ সালে এই উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস হিসেবে বাংলা সাহিত্যে এর একটি বিশেষ স্থান আছে।

সতীনাথ ভাদুড়ী:
- তিনি কথাশিল্পী, রাজনীতিক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘চিত্রগুপ্ত’।
- ১৯০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিহারে পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায় তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জাগরী,
- ঢোঁড়াইচরিত মানস।

অন্যদিকে,
- 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনিটি লিখছেন - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- 'ভোরের বিহঙ্গী' উপন্যাসটির রচয়িতা - সত্যেন সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৭.
নীলিমা ইব্রাহীমের বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম—
  1. ক) আমি বাঙ্গালি বলছি
  2. খ) আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. গ) বীরাঙ্গনার গাথা
  4. ঘ) বাঙ্গালি জীবনে রমনী
ব্যাখ্যা
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
- যাদের দুঃখ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনী কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
- বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৮.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় মীর মশাররফ হোসেনের কোন রচনায়?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২২৯.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই উক্তিতে পথিক কে?
  1. কাপালিক
  2. নবকুমার
  3. কপালকুন্ডলা
  4. অমিত
ব্যাখ্যা

- কপালকুন্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস৷
- এই উপন্যাসের 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি।

এ উপনাসের উল্লেখযোগ্য কথোপকথনঃ
“অনন্তর সমুদ্রের জনহীন তীরে, এইরূপে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া রহিলেন। অনেক্ষণ পরে তরুণীর কণ্ঠস্বর শুনা গেল।
তিনি অতি মৃদুস্বরে কহিলেন, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠিল।”

দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যে প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত কারণ এটি প্রথম আধুনিক উপন্যাস এবং রোমান্টিক উপাদান প্রবর্তন করে। তবে, কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস এবং এর ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ!’ উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি হিসেবে বিবেচিত কারণ এটি প্রকৃতি, প্রেম, এবং রহস্যের কাব্যিক সমন্বয় ঘটায়। এই উক্তিটি রোমান্টিক ভাবধারার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিসিজমের গভীর প্রকাশের সূচনা করে।

উৎস: কপালকুণ্ডলা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

২৩০.
শিশুতোষ গল্প 'ইতল বিতল' কে রচনা করেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. শামসুর রহমান
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল।
- তাঁর অপর শিশুতোষ গ্রন্থ- নওল কিশোরের দরবারে।

• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
কেয়ার কাঁটা।

• ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়েরী।

• আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩১.
শৈবাল দীঘিরে বলে উচ্চ করি শির: লিখে রেখ, এক ফোঁটা দিলেম শিশির' এ অংশটুকুর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়-
  1. ক) প্ৰতিদান
  2. খ) প্রত্যুপকার
  3. গ) অকৃতজ্ঞতা
  4. ঘ) অসহিঞ্চুতা
ব্যাখ্যা
"শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির লিখে রেখ এক ফোঁটা দিলেম শিশির"।
- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
২৩২.
"ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর লেখক "কাজী নজরুল ইসলাম"।
- এটা নজরুল গীতির অংশ এবং একটা দেশাত্মবোধক গান।

"ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি" গীতিটির অংশবিশেষ:
ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।।
এই দেশেরই মাটি জলে
এই দেশেরই ফুলে ফলে
তৃষ্ণা মিটাই মিটাই ক্ষুধা পিয়ে এরি দুধের বাটি।।
এই মায়েরই প্রসাদ পেতে
মন্দিরে এর এঁটো খেতে
তীর্থ ক’রে ধন্য হতে আসে কত জাতি।

উল্লেখ্য,
খাঁটি সোনা- কবিতা,
-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উৎস: নজরুল গীতি - কাজী নজরুল ইসলাম।

২৩৩.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী 
  2. সবুজপত্র
  3. পরিচয় 
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'চার-ইয়ারী কথা' গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী। এই কাহিনি সম্পর্কে অভিযোগ উঠেছিল, এটি আনাতোল ফ্রাঁসের গল্পের অনুকরণে গড়া।

- গল্প প্রকাশের সময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।
প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: "প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্ম-কথা-য় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে-কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

----------------
প্রমথ চৌধুরী রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

• গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: 'চার-ইয়ারী কথা' গল্প গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩৪.
'ছিন্নমুকুল' কার রচিত উপন্যাস?
  1. সোমেন চন্দ
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- ছিন্নমুকুল,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- কাহাকে,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিবাহ উৎসব,
- দেব কৌতুক,
- বসন্ত উৎসব।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৩৫.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তারা- বাঈ
  2. খ) অনল প্রবাহ
  3. গ) রায়নন্দিনী
  4. ঘ) স্বজাতি প্রেম
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ'- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'কাব্যগ্রন্থ'।  

'অনল প্রবাহ'
কাব্যগ্রন্থ
- এটি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য। 

তাছাড়া,
তারা- বাঈ, রায়নন্দিনী- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস।
স্বজাতি প্রেম-  সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত প্রবন্ধ। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
২৩৬.
'আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) দাউদ হায়দার
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
দাউদ হায়দার একজন বাংলাদেশী বাঙালী কবি, লেখক ও সাংবাদিক, যিনি ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দেশ থেকে নির্বাসনের পর বর্তমানে জার্মানীতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। তিনি একজন আধুনিক কবি যিনি সত্তর দশকের কবি হিসাবে চিহ্নিত। তার একটি বিখ্যাত কাব্যের নাম 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ- সংগস অব ডেস্পায়ার, এই শাওনে এই পরবাসে, বানিশম্যান্ট, আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে, এলোন ইন ডার্কনেস অ্যান্ড আদার পোয়েমস, অবসিডিয়ান।
২৩৭.
'রাজাবলি' গদ্য গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  4. গোলোকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা
• 'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৩৮.
'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. গল্পসল্প
  2. গল্পগুচ্ছ
  3. তিন সঙ্গী
  4. হিতবাদীর উপহার
ব্যাখ্যা

'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
- অনুকুলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রণাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

২৩৯.
কোন কবির প্রাপ্ত উপাধি - ‘গুণরাজ খান’?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. মালাধর বসু
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
গ) মালাধর বসু-র প্রাপ্ত উপাধি হলো - 'গুণরাজ খান'।

• মালাধর বসু ও তাঁর উপাধি: গুণরাজ খান।
মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই উপাধি কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাব্যরচনার সময় দুইজন গৌড়েশ্বর ছিলেন:

এরা হলেন - 
• রুকনুদ্দিন বরবক শাহ – কাব্য রচনার প্রথম পর্যায় গৌড়েশ্বর।
• শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – কাব্য রচনার শেষ পর্যায় গৌড়েশ্বর।

তবে কবির নিজ কাব্য থেকেই পাওয়া যায় এই উক্তি-
“গুণ নাই, অধম মুই, নাহি কোন জ্ঞান।
 গৌড়েশ্বর দিল নাম গুণরাজ খান।”

এই পদ থেকেই ধারণা করা হয়, মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন রুকনুদ্দিন বরবক শাহ।

উল্লেখ্য:
মালাধর বসু ছিলেন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি সংস্কৃতপটু, হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মুসলিম শাসকের কাছ থেকে এই সম্মান লাভ করেন, যা তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় সহনশীলতার নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২৪০.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী? 
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. বনফুল
  3. হাবু শর্মা
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ‘বনফুল’।

• অন্যদিকে,
​সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'নীল উপাধ্যায়'।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২৪১.
'রানার' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে ‘রানার’ কবিতাটি লিখেছেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। এ কবিতাটি মূলত ডাক হরকরাদের নিয়ে লেখা। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৪২.
‘কালান্তর’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গদ্যরচনা
  2. প্রবন্ধের সংকলন
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• কালান্তর:
- 'কালান্তর' (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
- রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মতের বিকাশের সামগ্রিক পরিচয় এই গ্রন্থে পাওয়া যায়।

----------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৩.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' উক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) রামপ্রাসাদ সেন
  2. খ) দাশরথি রায়
  3. গ) রামনিধি গুপ্ত
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' উক্তিটি রচনা করেছেন- রামপ্রাসাদ সেন। 

রামপ্রসাদ সেন
:
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা।"
- তার গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন ।
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
২৪৪.
'জোহরা' ও 'ইব্রাহীম কার্দী' চরিত্র দুটি নিচের কোন সাহিত্যে পাওয়া যায়?
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নীলদর্পণ
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

•‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- বিষাদসিন্ধু - ইমাম হোসেন এজিদ।
- নীলদর্পণ: নবীন মাধব, তোরাপ।
- দুর্গেশনন্দিনী: আয়েশা, তিলোত্তমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪৫.
কোন উপন্যাসের মাধ্যমে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. জ্বলো চিতাবাঘ
  3. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  4. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা

'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৪৬.
কায়কোবাদের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪৭.
'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের নায়ক?
  1. দেনাপাওনা
  2. রবিবার
  3. ল্যাবরেটরি
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৪৮.
বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার ঘটান কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
গজল গান ও নজরুল:
• বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার ঘটান - কাজী নজরুল ইসলাম। গণসঙ্গীত ও গজলে যৌবনের দুটি বিশিষ্ট দিক সংগ্রাম ও প্রেমের পরিচর্যাই ছিল মুখ্য। নজরুল গজল আঙ্গিক সংযোজনের মাধ্যমে বাংলা গানের প্রচলিত ধারায় বৈচিত্র্য আনয়ন করেন।

• তাঁর অধিকাংশ গজলের বাণীই উৎকৃষ্ট কবিতা এবং তার সুর রাগভিত্তিক। আঙ্গিকের দিক থেকে সেগুলি উর্দু গজলের মতো তালযুক্ত ও তালছাড়া গীত। নজরুলের বাংলা গজল গানের জনপ্রিয়তা সমকালীন বাংলা গানের ইতিহাসে ছিল তুলনাহীন।

• ১৯২৬-২৭ সালে কৃষ্ণনগর জীবনে নজরুল উভয় ধারায় বহুসংখ্যক গান রচনা করেন। ওই সময়ে তিনি নিজের গানের স্বরলিপি প্রকাশ করতে থাকেন। এসব গান থেকে স্পষ্ট হয় যে, নজরুলের সৃজনশীল মৌলিক সঙ্গীত প্রতিভার প্রথম স্ফুরণ ঘটে ১৯২৬-২৭ সালে কৃষ্ণনগরে। অথচ নজরুলের কৃষ্ণনগর জীবন ছিল অভাব-অনটন, রোগ-শোক ও দুঃখ-দারিদ্র্যক্লিষ্ট। তখনও পর্যন্ত নজরুল কোনো প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হননি, তবে দিলীপকুমার রায় ও সাহানা দেবীর মতো বড় মাপের শিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞ নজরুলের গানকে বিভিন্ন আসরে ও অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে জনপ্রিয় করে তোলেন।

অন্যদিকে, 
• গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) ছিলেন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।গোলাম মোস্তফা গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। 

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) ছিলেন কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি পিতার নিকট। তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতার নিকট থেকে। তারপর বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীত শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গীতপ্রতিভাকে শানিত করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলা গানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন ধারা উদ্ভাবনে সহায়ক হয়। উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম। 

• হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯) ছিলেন রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক। সাহিত্যক্ষেত্রে প্রথমত কবি হিসেবেই হুমায়ুন কবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪৯.
“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।।”
- বিখ্যাত পঙক্তি টি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পৌষপার্বণ
  2. পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. শূরসুন্দরী
  4. কাঞ্চীকাবেরী
ব্যাখ্যা

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক এক আখ্যায়িকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'স্বাধিনতা' কবিতা। 
- এ কবিতার বিখ্যাত পঙক্তি - “স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?”
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। 
- তিনি কাব্যের কাহিনী আরোহন করেছেন টডের রাজস্থান কাহিনী নামক বই থেকে। 

কবির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- পদ্মিনী উপাখ্যান (১৮৫৮)
- কর্মদেবী(১৮৬২)
- শূরসুন্দরী(১৮৬৮)
- কাঞ্চীকাবেরী(১৮৭৯)
- ভেক-মূষিকের যুদ্ধ(১৮৫৮),
- হোমারের কাব্যের অনুবাদ।[৩]
- নীতি কুসুমাঞ্জলি (১৮৭২)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

২৫০.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'অদ্বৈত মল্লবর্মণ'।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫১.
'অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।' - বিখ্যাত পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. মানুষ
  2. বিদ্রোহী
  3. সাম্যবাদী
  4. নারী
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
"অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
কবিতাটি নিম্নরূপ-

নারী,
কাজী নজরুল ইসলাম।

" সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।"

‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে।
গ্রন্থটিতে মোট কবিতা রয়েছে ১১টি।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২৫২.
'লালসালু' উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৩৮
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯২৮
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে, ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা। 
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী প্রতিবাদের প্রতীক।
- লালসালু একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো: মজিদ, খালেক, ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরে বাপ, হাসুনির মা।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) সালে খ্যাতি অর্জন করে।
---------------------- 
 সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
-  আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ (১৯৪৩) পাস করেন।
-  তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর।

নাটক: 
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ, 
- সুড়ঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
২৫৩.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসটি কোন জাতীয়?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
ব্যাখ্যা
 কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' মূলত ব্যঙ্গরসাত্মক সামাজিক উপন্যাস।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কলকাতাবাসী ধনীসমাজের ব্যঙ্গরসাত্মক চিত্র এই গ্রন্থে অঙ্কিত হয়েছে।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। । 
- নীলকরদের নিপীড়নমূলক আচরণ উদ্ঘাটনে অবদানের জন্য  রেভারেন্ড জেমস লং-কেও তাঁরা সংবর্ধিত করেন। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৪.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বেদেনী
  2. রসকলি
  3. ডাকহরকরা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প রসকলি।

• ‘রসকলি’:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসকলি’ গল্পটি বীরভূমের গ্রামীণ জীবনের প্রকৃতি, লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বাস্তব ছবি তুলে ধরে।
- গল্পের কেন্দ্রেই রয়েছে রসকলি নামের তরুণী, যার একাকিত্ব, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা ও সমাজের কঠোর রীতিনীতির সঙ্গে তার মানসিক টানাপোড়েন ফুটে ওঠে।
- সহজ-সরল গ্রামের জীবনের আড়ালে থাকা মানসিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক জটিলতাই গল্পের প্রধান শক্তি। 
---------------------------------------

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৫৫.
“চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত- 
  1. কবিতা
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ।

• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা)
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

২৫৬.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন 
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শেখ ফজলুল করীম 
ব্যাখ্যা

• ''আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।

- 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।

২৫৭.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
২৫৮.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য এর রচনা।
-----------------------------------------------
ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
---------------------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৫৯.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক- কাফেলা, আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, ভিস্তি বাদশা, ঋণ পরিশোধ। তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, পাকিস্তানের পথে ঘাটে, নয়া চীনে এক চক্কর। গল্পগ্রন্থ- সোনার শিকল, আলু বোখরা, দাদুর আসর। এবং উপন্যাস- বৌ বেগম।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২৬০.
জসীম উদ্‌দীন এর ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক ছিলেন। 
  2. তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  3. ‘সঞ্চয়ন’ তাঁর নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
  4. ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

অর্থ্যাৎ, ‘সঞ্চয়ন’ জসীমউদ্‌দীন নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ নয়। কাজী মোতাহার হোসেন রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন ‘সঞ্চয়ন’। এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬১.
মধুসূদন দত্ত কত বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২৮ বছর
  4. ২৯ বছর
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
-  হিন্দু কলেজে খ্রিস্টানদের অধ্যয়ন নিষিদ্ধ থাকায় মধুসূদন দত্তকে কলেজ ত্যাগ করতে হয়। তাই ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৬২.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয়-
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) দাদামাশয়ের ঝুলি
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।
• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা:
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৬৩.
'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেনে
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. শওকত ওসমান 
ব্যাখ্যা

• 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেনের 'কাটাতারে প্রজাপতি' [১৯৮৯] নাচোলের তেভাগা আন্দোলন ও তার কিংবদন্তিতুল্য সংগঠক ও নেত্রী ইলা মিত্রকে নিয়ে লেখা ইতিহাস-নির্ভর জীবনী-উপন্যাস।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু নাচোলের কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী ইলা মিত্র। সেলিনা হোসেনের 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'তে ঐতিহাসিক নায়িকাই উপন্যাসের আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছেন। জমিদার বাড়ির বউ ইলা মিত্রের তেভাগা আন্দোলনের নাচোল শাখার মুখ্য কর্তা রমেন মিত্রের সঙ্গে নাচোলের কৃষক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে সকলের ভালোবাসার রানিমা হয়ে ওঠার কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

- ২৭টি অধ্যায়ে বর্ণিত 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে সুতো উৎপাদক আজমলের চিন্তাস্রোত বর্ণনা করে। আর কাহিনি শেষ হয়েছে রাজশাহী জেল হাসপাতালে মরণাপন্ন অবস্থায় থেকে আজমলের ইলা মিত্রের জবানবন্দি পাঠ ও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনার মাধ্যমে।

--------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• 'কাকতাড়ুয়া' (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন।
• 'যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ। চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

উৎস: 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৪.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে নিচের কোনটি নাটক?
  1.  উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. বসন্তকুমারী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৬৫.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলা কোন চলচ্চিত্র টি নির্মিত?
  1. ক) মাটির ময়না
  2. খ) চিত্রা নদীর পাড়ে
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) বাঙলা
ব্যাখ্যা
• আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।

• ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস ওঙ্কার। এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে। 
- এটি মূলত ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘বাঙলা’ চলচ্চিত্র টি নির্মিত হয়েছে।

 তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
• সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, 
• মরণবিলাস, 
• গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস), 
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, 
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৬.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীমের এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।
- এদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।

রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মাহমুদুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

---------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উল্লেখ্য,
- মাহমুদুল হকের 'জীবন আমার বোন' মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস।
- ‘দুই সৈনিক’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৮.
সঙ্গীতজগতে ‘নিধু গুপ্ত’ নামে পরিচিত-
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা

রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২) 

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬৯.
‘জীবনপথে’ কামিনী রায় রচিত একটি-
  1. নাট্যকাব্য
  2. অনুবাদবাক্য
  3. গীতিকাব্য
  4. সনেট সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• ‘জীবনপথে’ কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

----------------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭০.
'ইব্রাহিম কার্দি' - চরিত্রের স্রষ্টা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭১.
বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগ করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক- এক পৃষ্ঠায় বাংলা , অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

================
উল্লেখ্য,
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 
২৭২.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।
২৭৩.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) মুক্তি
  2. খ) জাল
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) চৌচির
ব্যাখ্যা
জাল
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

• তাঁর রচিত সামাজিক উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী ও
- পদ্মার পলিদ্বীপ।

অন্যদিকে,
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলাপিডিয়া।
২৭৪.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) আগমনী
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) পারস্যে
  4. ঘ) লাল মেঘ
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেক্ষাপটে রচিত।

• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷


• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ 
- অমরাবতী
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭৫.
'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে' সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।'-কোন কবিতার অংশ?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  4. মানসসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• 'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।' - 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতার অংশবিশেষ। 

নিরুদ্দেশ যাত্রা- কবিতা, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে
হে সুন্দরী?
বলো  কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার
সোনার তরী।
যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী,
তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী--
বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে
তোমার মনে। (সংক্ষেপিত) 

• 'সোনার তরী':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
 
এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
২৭৬.
'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' অনবদ্য গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শহীদ কাদরী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭৭.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. মানুষের ধর্ম
  3. শিক্ষা
  4. কালান্তর
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট:
• ‘সভ্যতার সংকট’ ( ১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
• এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
• 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
• 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’

-------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ গ্রন্থগুলো হলো:
• সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ:
'প্রাচীন সাহিত্য', 'লোকসাহিত্য', 'আধুনিক সাহিত্য', 'সাহিত্য', 'সাহিত্যের পথে', 'সাহিত্যের স্বরূপ' প্রভৃতি।
[এসব প্রবন্ধ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যতত্ত্ব সাহিত্যবিচার ও বিভিন্ন কবিসাহিত্যিক সম্পর্কে মূল্যবান প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।]

• ভাষাতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ:
'শব্দতত্ত্ব', 'ছন্দ', 'বাংলা ভাষা পরিচয়' প্রভৃতি গ্রন্থে ভাষাতত্ত্বমূলক রসহীন বিষয়কে সাহিত্য-বিচারবুদ্ধি দ্বারা রমণীয় করে তুলেছেন।

• রাজনৈতিক প্রবন্ধ:
'আত্মশক্তি', 'ভারতবর্ষ', 'রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', 'সভ্যতার সংকট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক।
[দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।]

• 'শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।

• ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ:
'ধর্ম', 'শান্তিনিকেতন', 'মানুষের ধর্ম' প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।

• 'চারিত্র্যপূজা', 'পঞ্চভূত', 'লিপিকা' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বিচিত্র ব্যক্তিমানসের প্রকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২৭৮.
'মেঘনাদবধ কাব্য' এর কাহিনী কোথা থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৭৯.
‘ ভাষা ও সাহিত্য’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবদুল হাই
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪), বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮), তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০), ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২৮০.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. আকাল
  4. মিঠেকড়া
ব্যাখ্যা
• আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
------------------------------------

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮১.
"আঠারো শতকের বাংলা চিঠি" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান। এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮২.
‘সাত ভাই চম্পা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮৩.
'হে অরণ্য কথা কও' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
হে অরণ্য কথা কও, অভিযাত্রিক, বনে-পাহাড়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান, ইছামতি, অশনিসংকেত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২৮৪.
কোনটি আহসান হাবীবের রচিত উপন্যাস?
  1. অরণ্যের দিনরাত্রি 
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. অরণ্য নীলিমা
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা

• 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীবের রচিত 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
• 'অরণ্যের দিনরাত্রি' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। পরে সত্যজিৎ রায় এটির উপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
• "বিধ্বস্ত নীলিমা" হল শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'আরণ্যক' বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত চতুর্থ উপন্যাস। ১৯৩৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

এছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৮৫.
'বাংলার মিল্টন' কার অভিধা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টাপাধ্যায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন।
- মধুসূদনের পরবর্তী কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে ইনি সে সময় সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন।
- 'বাংলার মিল্টন' তার উপাধি / অভিধা।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, বাংলাভাষার প্রথম সনেট প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত। এবং পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায়বাহাদুর' উপাধি লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৬.
'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীটি কার রচনা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

--------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮৭.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি রচয়িতা-
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) মুহম্মদ কবীর
ব্যাখ্যা
পংক্তিটি আলাওল রচিত “পদ্মাবতী” কাব্য থেকে নেওয়া। পদ্মাবতীর রূপের বর্ণনা দেওয়ার সময় উল্লেখিত পক্তি ব্যক্ত হয়েছিলো। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২৮৮.
'বীরবল' কার ছদ্মনাম?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবনালেখ্য নিয়ে রচিত নাটক -
  1. শেখ মুজিব: তাকে যেমন দেখেছি
  2. কালবেলা
  3. মাইলপোষ্ট
  4. শেষ নবাব
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ
১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকঃ কালবেলা, মাইলপোস্ট, তৃষ্ণায়, প্রতিদিন একদিন, শেষ নবাব

- ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক হলো মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "লালসালু" (১৯৪৮)।

গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একজন বিশিষ্ট মুসলিম সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- মুসলিম জাগরণের সাহিত্য রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ঘ) সেলিনা হোসেন:
- বাংলাদেশের সমসাময়িক অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক।
- তাঁর উপন্যাসগুলোতে বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ, নারীজীবন ও সামাজিক বাস্তবতা উঠে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯১.
'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শামসুর রাহমান
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'রূপালি স্নান' কবিতা:
- রচয়িতা: শামসুর রাহমান।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- সংকলিত হয় প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে কাব্যগ্রন্থে।

রূপালি স্নান- কবিতা, 
- শামসুর রাহমান

শুধু দু’টুকরো শুকনো রুটির নিরিবিলি ভোজ
অথবা প্রখর ধু-ধু পিপাসার আঁজলা ভরানো পানীয়ের খোঁজ
শান্ত সোনালি আল্পনাময় অপরাহ্নের কাছে এসে রোজ
চাইনি তো আমি। দৈনন্দিন পৃথিবীর পথে চাইনি শুধুই
শুকনো রুটির টক স্বাদ আর তৃষ্ণার জল। এখনো যে শুই
ভীরু-খরগোশ-ব্যবহৃত ঘাসে, বিকেলবেলার কাঠবিড়ালিকে
দেখি ছায়া নিয়ে শরীরে ছড়ায়,- সন্ধ্যা নদীর আঁকাবাঁকা জলে (সংক্ষেপিত)।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট।

২৯২.
হুমায়ুন আজাদের রচনা কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. নুরজাহান
  3. লাল নীল দীপাবলি
  4. হিমু
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ- ‘লাল নীল দীপাবলি।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক- নূরজাহান
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন -এর সুদীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান'।

• 'হিমু সিরিজ এর রচয়িতা- হুমায়ূন আহমেদ।
- 'হিমু সিরিজ':
- ময়ূরাক্ষী, দরজার ওপাশে, হিমু , পারাপার, এবং হিমু , হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম, হিমুর দ্বিতীয় প্রহর, হিমুর রূপালী রাত্রি , একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা, তোমাদের এই নগরে, সে আসে ধীরে, চলে যায় বসন্তের দিন, হিমু মামা, আঙুল কাটা জগলু, হলুদ হিমু কালো র‌্যাব, আজ হিমুর বিয়ে, হিমু রিমান্ডে, হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য, হিমুর মধ্যদুপুর, হিমুর বাবার কথামালা , হিমুর নীল জোছনা, হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী, হিমুর আছে জল, হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচ.ডি বল্টু ভাই প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯৩.
'রুপজালাল' কোন প্রকার সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্য
  2. উপন্যাস
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'রুপজালাল' নবাব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনীমূলক রচনা।  

নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯৪.
'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়-
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

- 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- এটি ১৮৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৯৫.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৩ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮২৩ সালে
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। 
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৯৬.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের পটভুমি হচ্ছে?
  1. ক) পানিপথের যুদ্ধ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) কৃষক বিদ্রোহ
  4. ঘ) পলাশীর যুদ্ব
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ। উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর - মুনীর চৌধুরী
২৯৭.
"প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী আমায় নেবে সঙ্গে, বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।" কবিতাংশটি কোন কবিতার?
  1. প্রভাতফেরী
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. একুশের কবিতা
  4. জন্ম তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার বিখ্যাত কবিতা: একুশের কবিতা

একুশের কবিতা
আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?


পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও একুশে কবিতা।

২৯৮.
নির্মলেন্দু গুণকে বলা হয়-
  1. প্রাচীন কবি
  2. বাংলাদেশের কবিদের কবি
  3. গ্রামীণ কবি
  4. নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা
- নির্মলেন্দু গুণকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।

- নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠে যে, তরুণরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে থাকে। অনেকে তাঁর কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙ্ক্ষা বোধ করে।

- বাংলাদেশের আর কোন কবি অনুজ কবিদের উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি তাঁর প্রভাবেই কবি হয়েছেন। তাই নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৯.
'সোনার চেয়ে দামী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'সোনার চেয়ে দামী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- সহরতলী,
- অহিংসা,
- চতুষ্কোণ,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- সোনার চেয়ে দামী,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- চিহ্ন,
- জীয়ন্ত,
- মাশুল,
- হরফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০০.
'বিদ্যাভূষণ' কোন কবির উপাধি?
  1. কায়কোবাদ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।