বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ২৮ / ১৭৪ · ২,৭০১২,৮০০ / ১৭,৪৩৭

২,৭০১.
'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

ঝিলিমিলি:
- এটি নজরুলের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।
- প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে।
- এটি একটি নাটকের সংকলন।
- এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত তিনটি নাটক- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ, ও শিল্পী। 
- ঝিলিমিলি নাটকে বাস্তব জীবনের প্রেম ও বিরহের সংবেদনশীল রূপায়ণ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামপশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে ২৪ মে ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে তিনি ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• অন্যান্য নাটকগুলো হলো:
- আলেয়া (গীতিনাট্য, ১৯৩১)।
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক, ১৯৩৩)।
- মধুমালা (গীতিনাট্য, ১৯৫৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৭০২.
‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

‘ভাত দে হারামজাদা’ কবিতার রচয়িতা হচ্ছে রফিক আজাদ। 

ভাত দে হারামজাদা:
- 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এ কবিতার একটি বিখ্যাত পঙক্তি হচ্ছে- 'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'।
- 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদের জন্ম ১৯৪২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী নামক গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘জীবন’।
- কর্মজীবন: সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’ এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- মৃত্যু: ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- অসম্ভবের পায়ে,
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা,
- হাতুড়ির নিচে জীবন,
- অপর অরণ্যে,
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি,
- সশস্ত্র সুন্দর,
- অঙ্গীকারের কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৭০৩.
'কবিতায় আর নতুন কি লিখব।
যখন বুকের রক্তে
লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. গ) মাহবুব আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আসাদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'কবিতায় আর নতুন কি লিখব।
যখন বুকের রক্তে
লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা 'মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান'।
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

শহীদ স্মরণে
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।

কবিতায় কি লিখব?
যখন আসাদ
মনিরামপুরেরর প্রবল শ্যামল
হৃদয়ের তপ্ত রুধিরে করেছে রঞ্জিত
সারা বাংলায় আজ উড্ডীন
সেই রক্তাক্ত পতাকা।
আসাদের মৃত্যুতে আমি
অশ্রুহীন; অশোক; কেননা
নয়ন কেবল বজ্রবর্ষী; কেননা
আমার বৃদ্ধ পিতার শরীরে
এখন পশুদের প্রহারের
চিহ্ণ; কেননা আমার বৃদ্ধা মাতার
কণ্ঠে নেই আর্ত হাহাকার, নেই
অভিসম্পাত- কেবল
দুর্মর ঘৃণার আগুন; কোন
সান্ত্বনা বাক্য নয়, নয় কোন
বিমর্ষ বিলাপ; তাঁকে বলি নি
'তোমার ছেলে আসল ফিরে
হাজার ছেলে হয়ে
আর কেঁদো না মা'; কেননা
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

আসদের রক্তধারায় মহৎ
কবিতার, সব মহাকাব্যের,
আদি অনাদি আবেগ-
বাংলাদেশ-জাগ্রত।
আমি কবিতায় নতুন আর
কি বলব? যখন মতিউর
করাচীর খাঁচা ছিঁড়ে ছুটে গেল
মহাশূন্যে টি-৩৩ বিমানের দুর্দম পাখায় তার স্বপ্নের
স্বধীন স্বদেশ মনে করে-
ফেলে তার মাহিন তুহিন মিলি
সর্বস্ব সম্পদ; পরম আশ্চর্য এক
কবিতার ইন্দ্রজাল স্রষ্টা হল-
তার অধিক কবিতা আর
কোন বঙ্গভাষী কবে লিখেছে কোথায়?

আমি কোন শহীদের স্মরণে লিখব?
বয়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর;
বাংলার লক্ষ লক্ষ আসাদ মতিউর আজ
বুকের শোণিতে উর্বর করেছে এই
প্রগাঢ় শ্যামল।
শহীদের পূণ্য রক্তে সাত কোটি
বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ
পুষ্পিত সৌরভ। বাংলার নগর, বন্দর
গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম
ধ্বংস্তুপের থেকে সাত কোটি ফুল
হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা
আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে।
শব্দভূক পদ্যব্যবসায়ী ভীরু বঙ্গজ পুঙ্গব সব
এই মহাকাব্যের কাননে খোঁজে
নতুন বিস্ময়। কলমের সাথে আজ
কবির দুর্জয় হাতে নির্ভুল স্টেনগান কথা বলে।
কবিতায় আর নতুন কি লিখব।
যখন বুকের রক্তে
লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
২,৭০৪.
"বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• "বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" কবিতাটির রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
---------------------- 
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- কবিতা, 
কবি- মাইকেল মধূসূদন দত্ত।

“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, নিকষা সতী তােমার জননী,
সহােদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- কবিতা।
২,৭০৫.
'জাবালি' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিমল মিত্র
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. মণীশ ঘটক
  4. শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি।

অন্যদিকে, 
- সতীনাথ ভাদুড়ী চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন।
- শম্ভু মিত্রের ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭০৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক কে ছিলেন?
  1. মৈত্রেয়ী দেবী
  2. আশাপূর্ণা দেবী
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
--------------------------------------
 স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘
- ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তিনি সাহিত্য ও নারী জাগরণে অবদান রেখেছেন।
- ১৮৮৬ সালে তিনি ‘সখী সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলার প্রথম নারী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে বিধবা ও অনাথ মহিলাদের সাহায্য এবং নারী অধিকারের জন্য কাজ করেছেন।
 -তাঁর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- মৈত্রেয়ী দেবী -‘মঙ্গলা’ উপন্যাসের রচয়িতা।
- আশাপূর্ণা দেবী - ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’, ‘সুবর্ণলতা’, ‘বকুল কথা’-র লেখিকা।
- কুসুমকুমারী দাশ - তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,৭০৭.
কোনটি ঠিক নয়?
  1. অন্তিম শরের মতো (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  2. পল্লীবধূ  (নাটক)
  3. রোদে যাবো (গল্পগ্রন্থ)
  4. সশস্ত্র সুন্দর (কাব্যগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
অন্তিম শরের মতো:
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কবিতাগ্রন্থ
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
পল্লীবধূ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক
- এটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

রোদে যাবো:
- হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

সশস্ত্র সুন্দর:
- রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭০৮.
'চিত্রলেখা' নামে সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'চিত্রলেখা' নামে সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- ইছামতী
- দৃষ্টি প্রদীপ 
- বিপিনের সংসার 
- চাঁদের পাহাড় 
- দম্পতি ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার 
- মৌরীফুল 
- যাত্রাবদল 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৭০৯.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে প্রকাশ করেন। অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৭১০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. অগ্রদানী
  2. বেদেনী
  3. রসকলি
  4. রাধা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় - রাধা
- এটি তাঁর রচিত উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭১১.
"মৃন্ময়ী" কোন ছোট গল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. একরাত্রি
  4. শেষকথা
ব্যাখ্যা
•'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
- 'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৭১২.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয়?
  1. ক) বড়দিদি
  2. খ) বিরাজ বৌ
  3. গ) মেজদিদি
  4. ঘ) বামুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসঃ পরিণীতা, বিরাজ বৌ, বড়দিদি, দত্তা, বামুনের মেয়ে, দেনাপাওনা, গৃহদাহ, পথের দাবি, শেষ প্রশ্ন। তার রচিত সুখপাঠ্য গল্পঃ বিন্দুর ছেলে, ছবি, মেজদিদি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,৭১৩.
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) তত্ববোধিনী
  2. খ) সাধনা
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি প্রথম পত্রিকায় প্রকাশিত হয়- বঙ্গদর্শন। 

'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনী
 সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ্য ভ্রমণকাহিনি।
- এটি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। 

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- বঙ্গিমচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
-  এছাড়া তিনি 'ভ্রমর' নামের একটি মাসিক পত্রিকা (১২৮১-১২৮২) বঙ্গাব্দ সম্পাদনা করেন। 
- সঞ্জীবচন্দ্র Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে
বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। 

তাঁর রচিত গল্প: 
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- যাত্রা,

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কোন কাব্যগ্রন্থে ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. মানসী
  3. সোনার তরী
  4. প্রভাতসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের 'বর্ষাযাপন' কবিতায় ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।
- রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন-

"ছোটো প্রাণ, ছোট ব্যথা
ছোটো ছোটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা
ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,
সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।"

উল্লেখ্য,
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭১৫.
কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• মাসিক 'সওগাত':
- একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয় এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
- ১৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭১৬.
জসিমউদ্‌দীনের বিখ্যাত গাঁথাকাব্য কোনটি?
  1. ক) নকশীকাঁথার মাঠ
  2. খ) চলে মুসাফির
  3. গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  4. ঘ) জীবন কথা
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীন বিখ্যাত গাঁথাকাব্যগুলো হলো-
নকশীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে।
তার রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো- চলে মুসাফির, হলদে পরীর দেশ, যে দেশে মানুষ বড়।
‘জীবন কথা’ হলো তার আত্মজীবনী।
‘যাদের দেখেছি’, ‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়’ হলো তার রচিত স্মৃতিকথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭১৭.
'আমার প্রতিদিনের শব্দ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা

• 'আমার প্রতিদিনের শব্দ' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭১৮.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. যুগবাণী
  4. অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

‘যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘যুগবাণী' ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রবন্ধের বই।
• প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে (২৩শে নভেম্বর, ১৯২২) সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা ওঠে যায়।
• এই প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলো হলো: নবযুগ, ধর্মঘট, সত্য-শিক্ষা, ভাব ও কাজ, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাগরণী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ।
• প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে, 
-----------------
• ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস: 
- ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা। 
- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে।

• 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:
- কজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু হিন্দোল' হলো প্রেমের কাব্য।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো- গোপন প্রিয়া; অনামিকা; বিদায়-স্মরণে; পথের স্মৃতি; উন্মনা; দারিদ্র্য; বাসন্তী; ফাল্গুনী; বধূ-বরণ; রাখী-বন্ধন; চাঁদনী রাতে; মাধবী-প্ৰলাপ ইত্যাদি।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস। 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থ।

২,৭১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. পঞ্চভূত
  2. কালান্তর
  3. শিক্ষা
  4. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ নয়।
• 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ রচনা করেছেন - মোতাহের হোসেন চৌধুরী। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ:
- সভ্যতার সংকট
- কালান্তর
- পঞ্চভূত, 
- বিবিধ প্রবন্ধ, 
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- শিক্ষা
- মানুষের ধর্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭২০.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কোন ধরনের কবি হিসেবে খ্যাত?
  1. প্রতিবাদী কবি
  2. রোমান্টিক কবি
  3. প্রাকৃতিক কবি
  4. ধর্মীয় কবি
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে।
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।
- প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- মানুষের মানচিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,৭২১.
বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও সমর সেন কোন পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কালিকলম
  2. প্রগতি
  3. কবিতা
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
• কবিতা (সাহিত্য পত্রিকা):
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

অন্যদিকে,
• 'প্রগতি' একটি সাহিত্য পত্রিকা। ১৯২৭ সালে বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• ‘কালিকলম’ সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত হয়।

• ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭২২.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) সমাচার চন্দ্রিকা
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত-উল- আখবার
  4. ঘ) ব্রাহ্মণসেবধি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় সম্বাদ কৌমুদী।
- এর সম্পাদক ছিলেন - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক - তারাচাঁদ দত্ত।
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত অন্য দুটি পত্রিকা- 
- ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), 
- পারসি ভাষায় মিরাত-উল- আখবার। 

অন্যদিকে,
রাজা রামমোহন রায়ের মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে ১৮২২ সালের ৫ ই মার্চ ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত হয় পত্রিকা সমাচার চন্দ্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭২৩.
”সোনালী কাবিন”- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. আল মাহমুদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'।
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭২৪.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - উক্তিটি কোন নাটকের?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. চিঠি
  4. কবর
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭২৫.
‘মহররম শরীফ' মহাকাব্যোচিত কাহিনি কাব্যটি কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• ‘মহররম শরীফ' কবি কায়কোবাদের মহাকাব্যোচিত বিপুল আয়তনের একটি কাহিনি কাব্য।
- ‘মহররম শরীফ’ কাব্যটি (১৯৩৩) সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭২৬.
চলচ্চিত্র বিষয়ক সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল
  2. নবযুগ
  3. বিজলী
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

• 'বিজলী' পত্রিকা:
- বিজলী ১৯২০ সালে প্রথম প্রকাশিত চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা, যার উদ্যোক্তা নলিনীকান্ত সরকার, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, শচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত, অরুণ সিংহ এবং দীনেশ রঞ্জন দাস।
- এর সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন নলিনীকান্ত সরকার ও প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।
- এই পত্রিকায় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি, ২২ পৌষ ১৩২৮ বঙ্গাব্দ শুক্রবারে প্রথম কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতা প্রকাশিত হয়। সে সময় পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলো নলিনীকান্ত সরকার।
- ঐদিন বিজলী পত্রিকা দুই বার ছাপতে হয়েছিল, যার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজার মুজাফফর আহমদের কাছ থেকে জানা যায়, সেদিন কমপক্ষে দুই লাখ মানুষ বিদ্রোহী পড়েছিল।

অন্যদিকে, 
• 'লাঙল' পত্রিকা:
লাঙল (১৯২৫) বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কলকাতা থেকে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত একটি বিখ্যাত বামপন্থী-সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক সাপ্তাহিক পত্রিকা। এটি ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ পার্টির মুখপত্র হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫-এ আত্মপ্রকাশ করে।  

• 'নবযুগ' পত্রিকা:
নবযুগ ছিল কলকাতা থেকে ১৯২০ সালে প্রকাশিত একটি সান্ধ্য দৈনিক রাজনৈতিক পত্রিকা, যা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ যুগ্ম সম্পাদনা করেন, যা ব্রিটিশ বিরোধী লেখা ও গণজাগরণের জন্য বিখ্যাত ছিল, পরে ব্রিটিশ সরকার এটি বন্ধ করে দেয়। 

• 'বিচিত্রা' পত্রিকা:
সাপ্তাহিক বিচিত্রা বাংলাদেশের একটি অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক বাংলা পত্রিকার সহযোগী প্রকাশনা হিসাবে এটি আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের প্রধান জনপ্রিয় পত্রিকা হিসাবে চালু ছিল। আলমগীর রহমান, শাহরিয়ার কবির, শাহাদাত চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আতিকুর রহমান প্রমুখ সাংবাদিক এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন।

বিচিত্রা ও সচিত্র সন্ধানী বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রতি বছর ঈদ সংখ্যায় উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ করে। ঈদ সংখ্যায় ছয়-সাতটি উপন্যাস প্রকাশিত হতো। স্বল্পমূল্যে প্রকাশিত উপন্যাস পড়ার এই সুযোগ জনপ্রিয়তা পায়। তরুণ হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরেক’ উপন্যাস সাপ্তাহিক বিচিত্রার ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বিজলী' পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,৭২৭.
'শ্যামলী' - কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
- এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৭২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ- 
  1. কালান্তর
  2. পঞ্চভূত
  3. মানুষের ধর্ম
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর (১৯৩৭),
- পঞ্চভূত (১৮৯৭),
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম (১৯৩৩)।
--------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'হিন্দুমেলার উপহার'।
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- প্রথম প্রকাশিত নাটক 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরাণীর হাট’৷
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'৷
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধপ্রসঙ্গ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,৭২৯.
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গল্প কোনটি?
  1. পদ্মগোখরা
  2. পদ্মপুরাগ
  3. পদ্মাবতী
  4. পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।

• গল্পগ্রন্থ 'শিউলিমালা':
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান,
- শিউলিমালা, 
- রিক্তের বেদন।

অন্যদিকে,
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৩০.
'এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা -
  1. কায়কোবাদ
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীম উদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।

কবর,
- জসীম উদ্‌দীন

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
------------------------------------------
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে,
এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে
মজীদ হইছে আজান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুর,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দুর!
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর্, ‘আয় খোদা, রহমান,
ভেস্ত নাজেল করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত প্রাণ!’

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৩১.
সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘কালিকলম’ এর সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. মুরলীধর বসু
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭৩২.
“এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।”
পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

“সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।”

পঙ্‌ক্তিগুলো কবি জসীমউদ্দিনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। জসীমউদ্দিন কলেজজীবনেই ‘কবর’ কবিতাটি রচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২,৭৩৩.
‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি আশরাফ সিদ্দিকীর কোন সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) গুনীন
  2. খ) বিষকন্যা
  3. গ) আরশিনগর
  4. ঘ) গলির ধারের ছেলেটি
ব্যাখ্যা
আশরাফ সিদ্দিকী (১৯২৭-২০২০): বাঙালি সাহিত্যিক যিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম- কাব্যগ্রন্থ: তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা (১৯৫০), সাত ভাই চম্পা (১৯৫৩), বিষকন্যা (১৯৫৫), উত্তরের তারা, বৃক্ষ দাও, ছায়া দাও (১৯৮৪), দাঁড়াও পথিক বর (১৯৯০), সহস্র মুখের ভিড়ে (১৯৯৭) প্রভৃতি।
গল্পগ্রন্থ: রাবেয়া আপা (১৯৬৫), গলির ধারের ছেলেটি (১৯৮১), শেষ নালিশ (১৯৯২) প্রভৃতি।
লোকসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ: লোকসাহিত্য (১৯৬৪), কিংবদন্তীর বাংলা (১৯৭৫), শুভ নববর্ষ (১৯৭৭), লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮), আবহমান বাংলা (১৯৮৭) প্রভৃতি।
উপন্যাস: শেষ কথা কে বলবে (১৯৮০), আরশিনগর (১৯৮৮), গুনীন (১৯৮৯)।
‘গলির ধারের ছেলেটি’ গল্পের অবলম্বনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা]
২,৭৩৪.
নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম কী?
  1. সঙ্গীতসার
  2. রূপজালাল
  3. সঙ্গীতলহরী
  4. মুসলিম বন্ধু
ব্যাখ্যা

নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত আত্মজীবনীমূলক রূপক গ্রন্থের নাম হচ্ছে রূপজালাল। 

• রূপজালাল:
- রূপজালাল নওয়াব ফয়জুননেসা-র গদ্য ও পদ্য ছন্দে রচিত আত্মজীবনী ও কল্পকাহিনীমূলক একটি গ্রন্থ।
- এটি ১৮৭৬ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সম্ভবত বাংলার একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক প্রথম রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাহিত্যকর্ম।

নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩)
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারী পাওয়ার আগে থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ ও দীন-দরিদ্রের কল্যাণে নিবেদিত ছিলেন।
- নারী শিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি হিসেবেও পরিচিত।
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন, যা বাংলার প্রথম নারী হিসেবে এই উপাধি লাভের সম্মান।
- বাংলা পত্রপত্রিকা যেমন বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতির আর্থিক সহায়তা লাভ করেছেন।
- সাহিত্যিক হিসেবেও পরিচিত; তাঁর রচিত রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের মাধ্যমে আত্মজীবনীমূলক রচনা, যাতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী প্রকাশ পেয়েছে।
- এছাড়া তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭৩৫.
'নয়ন ঢুলি' ছোটগল্পের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েনউদ্দীন কথাসাহিত্যিক।
পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ন ঢুলি 
- খরস্রোত 
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্ঠপ্রহর 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৭৩৬.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল লতিফ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭৩৭.
'ধান্য তার বসুন্ধরা যার' এ উক্তিটি কার?
  1. ক) বেগম রোকেয়ার
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলামের
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া রচিত 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকেঃ

আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, -তবু চাষাদের উদরে অন্ন নাই কেন? 
ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, ''ধান্য তার বসুন্ধরা যার''। 
তাই তো, অভাগা চাষা কে? সে কেবল 'ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে''।

২,৭৩৮.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৬৮ সালে
  2. ১৮৭৮ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৪৮ সালে
ব্যাখ্যা

আলালের ঘরের দুলাল:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৩৯.
'সারা দুপুর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
অরণ্য নীলিমা, জাফরানী রং পায়রা ও রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৪০.
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী মানুষের অসহায় জীবনের চিত্র পাওয়া যায় কোন নাটকে?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) মেরাজ ফকিরের মা
  3. গ) এখনো ক্রীতদাস
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৪১.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রূপবতী
  2. নিমন্ত্রণ
  3. বালুচর
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭৪২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় বুদ্ধদেব বসু কোন পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. প্রগতি
  2. কবিতা
  3. বাসন্তিকা
  4. সাহিত্যপত্র
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭৪৩.
কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশু সাহিত্যের নাম কী?
  1. ক) ফণি-মনসা
  2. খ) কবিতা-মুকুল
  3. গ) পাখির বাসা
  4. ঘ) ইতল বিতল
ব্যাখ্যা

'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' - এই বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।'

- 'ফণি-মনসা' কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ।
- 'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- 'ইতল বিতল' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

২,৭৪৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাসিকা কোনটি?
  1. 'নয়নচারা'
  2. 'তরঙ্গভঙ্গ'
  3. 'সুড়ঙ্গ’
  4. 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়'
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক - 'সুড়ঙ্গ’; তরঙ্গভঙ্গ।
- 'নয়নচারা' - তাঁর গল্পগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়':
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন।

- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭৪৫.
'লালসালু' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কা, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৪৬.
বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল।
------------------------------------
বেগম’:
- বাংলা ভাষার প্রথম সচিত্র নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল ‘বেগম’।
-পত্রিকাটি ২০ জুলাই ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল;
- আর পরে এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন নূরজাহান বেগম।
- নারীদের সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য পত্রিকাটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।
------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল: 
- সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশালে একটি অভিজাত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, লেখিকা ও নারীবাদী আন্দোলনের নেত্রী।
- একই সঙ্গে তিনি ভাষা আন্দোলনের অগ্রগামী কর্মী হিসেবেও সুপরিচিত।
- ১৯৫০-এর দশকের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির যেকোনো সংকটে তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—একজন জননীর মতো।
- তিনি শুধু কবিতার স্রষ্টা নন, বরং বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও নারী মুক্তির সংগ্রামের এক আলোকবর্তিকা।
- তিনি তাঁর সাহিত্য ও কর্মের শক্তিতে সমাজকে নতুন পথে পরিচালিত করেছেন।

• সাহিত্যজীবনে সুফিয়া কামাল বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন:
- কেয়ার কাঁটা,
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- দিওয়ান,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ;
বাংলাপিডিয়া।

২,৭৪৭.
'অরণ্য নীলিমা' আহসান হাবীব রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
অরণ্য নীলিমা ও রানী খালের সাঁকো আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,৭৪৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম জীবনী সাহিত্য কোনটি?
  1. চৈতন্য-ভাগবত
  2. চৈতন্য-চরিতামৃত
  3. চৈতন্য-মঙ্গল
  4. চৈতন্য-সম্ভার
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করটিন
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৭৪৯.
'প্রাচ্য ও প্রতীচ্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. আহমদ শরীফ
  3. আহমদ ছফা
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• 'প্রাচ্য ও প্রতীচ্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা - এস ওয়াজেদ আলি।

এস ওয়াজেদ আলি:  
- প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯১৯ সালে 'Bulletin of the Indian Rationalistic Society' নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'গুলদাস্তা' (১৯২৭)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনি রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালি (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৫০.
'অপু', 'অপর্ণা' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) অশনি সংকেত
  2. খ) পথের পাঁচালী
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) অপরাজিত
ব্যাখ্যা
 'অপরাজিত' (১৯৩১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' এর পরিপূরক কথাশিল্প।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মাসিক 'প্রবাসি' তে।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোর সারথি'।
চরিত্র: অপু, অপর্ণা, লীলা, কাজল প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)
- অশনি সংকেত (১৯৫৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৫১.
‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা’-
চরণযুগল কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ থেকে চরণযুগল নেওয়া হয়েছে।
তাঁর বিখ্যাত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো :
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৭৫২.
নিচের কোনটি মেঘনাদবধ কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) মেঘনাদ
  2. খ) বিভীষণ
  3. গ) রাবণ
  4. ঘ) কাপালিক
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নে 'কাপালিক' চরিত্রটি মেঘনাদবধ কাব্যের নয়।
- মেঘনাদবধ কাব্যটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৫৩.
কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু তারিখ-
  1. ক) ১২ বৈশাখ
  2. খ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
  3. গ) ১১ আশ্বিন
  4. ঘ) ১২ ভাদ্র
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম ২৪ মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২,৭৫৪.
'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা কে?  
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. শওকত ওসমান
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• ‘আমলার মামলা’ — শওকত ওসমান রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক এবং নাট্যকার।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের নানা অসঙ্গতি এবং জীবনের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৫৫.
পূজারিণী কবিতার আখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক-
  1. শ্যামা
  2. চিরকুমার সভা
  3. রাজা ও রাণী
  4. নটীর পূজা
ব্যাখ্যা
• 'নটীর পূজা' নাটক:
- 'নটীর পূজা' কথা ও কাহিনী'র অন্তর্গত পূজারিণী কবিতার আখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 
- নাটকটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মূল কাহিনিটি বৌদ্ধগ্রন্থ থেকে গৃহীত। গান ও নৃত্য সমন্বিত নাটক 'নটীর পূজা'।এই ধারাটিই তাঁর জীবনের শেষ পর্বে "নৃত্যনাট্য” নামে পূর্ণ বিকাশ লাভকরে।

অন্যদিকে, 
• 'শ্যামা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নৃত্যনাট্য। এটি ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• শেকসপিয়রীয় পঞ্চাঙ্ক রীতিতে রচিত কাব্যনাট্য 'রাজা ও রাণী' (১৮৮৯)। 
• ১৯২৬ সালে তিনি প্রজাপতির নির্বন্ধ উপন্যাসটিকেও 'চিরকুমার সভা' নামে একটি প্রহসনমূলক নাটকের রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৭৫৬.
ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. জোশুয়া মার্শম্যান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা।

হেনরি লুই ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। 
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,৭৫৭.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা
  2. তিমিরান্তিক
  3. নবী কাহিনী
  4. প্রসন্ন শহর
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস হচ্ছে নবী কাহিনী। 

সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফরের পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখত সিকান্দার। 
- জন্ম: ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ, সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে। 
- মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০)
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। 
- ৫ই আগস্ট, ১৯৭৫ সালে তিত্নি মৃত্যু বরণ করেন। 

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন। 

নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল,
- শকুন্ত উপাখ্যান। 

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী, 
- পূরবী। 

অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

২,৭৫৮.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বনি আদম(নাটক)
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক)
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে(কবিতা)
  4. আমলার মামলা(উপন্যাস)
ব্যাখ্যা

• পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা(নাটক) এই অপশনটি সঠিক।

• শওকত ওসমান:
 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৫৯.
নিচের কোন সাহিত্যিক আততায়ীর হাতে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে।
- ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ।
- তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোট গল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরনা পেয়েছিলেন।
- তার রচিত অন্যান্য ছোটগল্প - দাঙ্গা, সংকেত, বনস্পতি, স্বপ্ন ইত্যাদি।
- ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।

উৎস: সাহিত্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৬০.
'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকুমার সেন
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'শব্দকল্পদ্রুম' এর রচয়িতা সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৭৬১.
‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন কে?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. ড. আনোয়ারুল কাদির
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৬২.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো।' -বিখ্যাত সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: 
- মুমিন,  
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৬৩.
কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ? 
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. পাখির বাসা
  3. শিশুশিক্ষা
  4. কবিতা মুকুল
ব্যাখ্যা

• "পাখির বাসা" ফররুখ আহমদের একটি জনপ্রিয় শিশুতোষ গ্রন্থ।
-----------------
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।  - তিনি তাঁর কবিতায় বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন বিধায় তাকে ইসলামী রেনেসার কবি বলা হয়ে থাকে।

- তিনি শিশুদের সুস্থ বিনোদনের জন্য 'পাখির বাসা' লিখেছিলেন।
- বইটিতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয়কে ছড়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন যা্তে শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও উপভোগের সঞ্চার ঘটাতে পারেন।
- তিনি অত্যন্ত  সাবলীল ও সহজ ভাষায় জাদুকারি ছন্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন, যা শিশুদের সহজেই পাঠপ্রক্রিয়ায় আকৃষ্ট করেছিল।
- 'পাখির বাসা' গ্রন্থের জন্য ফররুখ আহমদ ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
• 'শিশুশিক্ষা':
- এ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 
- এটি বাংলা ভাষায় শিক্ষার প্রসারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যার প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ সালে এবং দ্বিতীয় ভাগ ১৮৫০ সালে।
-  মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলকাতার বেথুন সাহেব প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়ের কথা ভেবে এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন এবং তিনি স্ত্রীশিক্ষার প্রসারেও আগ্রহী ছিলেন।
-‘শিশুশিক্ষা’ গ্রন্থটিকে বাংলা প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে একটি পথপ্রদর্শক এবং সমাজ ও শিক্ষা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- এবং বাংলা ভাষার বিকাশে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মদনমোহন তর্কালঙ্কার কে বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

• 'কবিতা মুকুল':
- কুসুমকুমারী দাশ রচিত শিশুতোষ সাহিত্য হচ্ছে কবিতা মুকুল। 
- কুসুমকুমারী দাশ (১৮৭৫-১৯৪৮) একজন বাঙালি কবি ছিলেন।
- তিনি তাঁর 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে' কবিতার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,৭৬৪.
বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন - গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৬৫.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস?
  1. শেষের কবিতা
  2. পথের পাঁচালী
  3. কুহেলিকা
  4. বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস - শেষের কবিতা।
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - পথের পাঁচালী।
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস - বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৭৬৬.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. মোহাম্মদ নজীবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

কাজী ইমদাদুল হক:
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী,
- নবীকাহিনী, 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৭৬৭.
কোন নাট্যকার বাংলা নাটকে ‘অ্যাবসার্ডধারা’র প্রবর্তন করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. নূরুল মোমেন
  3. সাঈদ আহমদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
​- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন। 
​• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।

​তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
২,৭৬৮.
‘বাদশা হারুন’ শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. বনি আদম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. রাজসাক্ষী
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------------
• শওকত ওসমান:  
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৬৯.
"সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতা হতে নেওয়া হয়েছে?
  1. মানব কল্যাণ
  2. সুখ
  3. শহীদ স্মরণে
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্ব কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।

'সুখ' কবিতার কিছু অংশ সংক্ষেপে দেয়া হলো-

সুখ
- কামিনী রায়
"সুখ" "সুখ" করি কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

২,৭৭০.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. ড. এনামুল হক
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৭৭১.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শামসুর রাহমান
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৭২.
আবুল মনসুর আহমেদ-এর 'আয়না' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমেদ: সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
উপন্যাসঃ
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবনক্ষুধা (১৯৫৫),
- আবে হায়াত (১৯৬৮)।
গল্পগ্রন্থ :
- আয়না (১৯৩৫),
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪),
- আসমানী পর্দা (১৯৬৪)।
রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ :
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।
শিশুসাহিত্য:
- ছােটদের কসাসুল আম্বিয়া (১৯৪৯),
- গালিভারের সফরনামা (১৯৫৯)।

কাজী নজরুল ইসলাম তার 'আয়না' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৭৭৩.
"রূপজালাল" কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
রূপজালাল:
- এটি ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকর্ম।
- এই গ্রন্থটির ধরণ হচ্ছে গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি ছিলেন।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- ফয়জুন্নেসার এরূপ জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৭৪.
এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা কোন প্রহসনের মূলকাহিনী?
  1. একেই কী বলে সভ্যতা 
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. গোড়ায় গলদ
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
 - প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল ‘ভগ্ন-শিবমন্দির’। 
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি,গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গোড়ায় গলদ' (১৮৯২) প্রহসনের মূল উপজীব্য হলো ভুল বোঝাবুঝি, ভুল পাত্রে কন্যাদান, এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দাম্পত্য সম্পর্কের হাস্যরসাত্মক জটিলতা

• 'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,৭৭৫.
The Blood Telegram গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. মার্কাস গ্রান্ডা
  2. গ্যারি জে ব্যাস
  3. পল ওয়ালেচ
  4. রিচার্ড সেশন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিক ও অধ্যাপক গ্যারি জে ব্যাস রচিত বিখ্যাত বই হলো 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন-কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগেটেবল জেনোসাইট'।
- এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়৷
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গণহত্যা বিষয়ে ঢাকায় কর্মরত তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিকট যে টেলিগ্রাম প্রেরণ করেন তা ব্লাড টেলিগ্রাম নামে পরিচিত।
- এই বিষয়ের আর্চার কে ব্লাড 'দ্য ক্রোয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ' নামে একটি বই লিখেন।

সূত্র: আমাজন এবং বিডিনিউজ২৪।
২,৭৭৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে
  2. অতুলপ্রসাদ সেনকে
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে
  4. সুভাষচন্দ্র বসুকে
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'পরিশেষ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের কাব্যের সর্বত্র যে বিষাদ গভীর অতীতচারিতা, পারিপার্শ্বিক খুঁটিনাটির প্রতি অনুরাগ, কাব্যদেহে প্রসাধনের প্রতি নির্মোহ ও জীবনের প্রতি আসক্তি নিরাসক্তির দ্বন্দ্ব, 'পরিশেষ' কাব্যেও তা ফুটে উঠেছে।
​- 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতুলপ্রসাদ সেনকে উৎসর্গ করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত সাহিত্যকর্ম-
- কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পরিশেষ' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭৭৭.
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত কে?
  1. ক) শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২,৭৭৮.
জসীম উদ্‌দীনের কোন কবিতাটি ‘রাখালী’ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. পল্লী-বর্ষা
  2. নিমন্ত্রণ
  3. কবর
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ এটি।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থ:
- রচয়িতা: জসীম উদ্‌দীন।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- পল্লী-বর্ষা; 'নিমন্ত্রণ; বালুচর কবিতাগুলো — 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

-------------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-

- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭৭৯.
'উত্তর বসন্ত' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত। তার কাব্যপ্রয়াসে মোহিতলাল মজুমদারের ধ্রুপদী সংগঠন এবং নজরুলের উদাত্ত আবেগের চমৎকার সমন্বয় প্রত্যক্ষ হয়। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬)-এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তার নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন।
২,৭৮০.
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৭৮১.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন-
  1. ফররুখ আহমদ 
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. আহসান হাবীব
  4. কায়কোবাদ 
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭৮২.
'কুমুদিনী' কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
যোগাযোগ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক উপন্যাস৷ প্রকাশকালে এর নাম ছিলো 'তিন পুরুষ'৷ এই উপন্যাসের নায়ক মধুসূদন এবং নায়িকা কুমুদিনী৷
Source: LiveMCQ Lecture
২,৭৮৩.
'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।’- উক্তিটির রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

----------------------------
• “শেষের কবিতা” উপন্যাস:

• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।  
 
•“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।
 
• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
 
• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
 
• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৮৪.
ভাষা আন্দোলকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস-
  1. একুশের গল্প
  2. আর্তনাদ
  3. স্মৃতির মিনার
  4. কবর
ব্যাখ্যা
•  ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস ’আর্তনাদ’ ।
• এটি ঔপন্যাসিক শওকত ওসমান রচিত।
• আর্তনাদ উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প ’একুশের গল্প’।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা, ’স্মৃতির মিনার’।
- মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক- ’কবর’।
-----------------------------------------------------------
উল্লেখ্য,

• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী;
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৮৫.
‘এ কোন্‌ পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়’- গানটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. লালন শাহ 
ব্যাখ্যা

• কুমিল্লা থেকে কবি নজরুল দৌলতপুর গ্রামে আলী আকবর খানের বাড়িতে গিয়ে কিছুকাল অবস্থান করেন। সেখান থেকে ১৯ জুন পুনরায় কুমিল্লায় ফিরে তিনি ১৭ দিন অবস্থান করেন। তখন অসহযোগ আন্দোলনে কুমিল্লা উদ্বেলিত।

কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লায় বিভিন্ন শোভাযাত্রা ও সভায় যোগ দিয়ে গাইলেন সদ্যোরচিত ও সুরারোপিত স্বদেশী গান: ‘এ কোন্‌ পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায়’, ‘আজি রক্ত-নিশি ভোরে/ একি এ শুনি ওরে/ মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে’ প্রভৃতি। এভাবেই কলকাতার সৌখিন গীতিকার ও গায়ক নজরুল কুমিল্লায় অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে জাগরণী গান রচনা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্বদেশী গান রচয়িতা ও রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত হন।

-------------------
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত আরো কিছু বিখ্যাত গান হলো-
• ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী।
• বাজাও প্রভু বাজাও ঘন।
• বন্দীর মন্দিরে জাগো দেবতা। 
• জাগো জাগো বধূ জাগো নব-বাসরে। 
• কে যাবি পারে আয় ত্বরা করি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ।

২,৭৮৬.
পাকিস্তানী শাসকদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. জলাঙ্গী
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- তাঁর ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। 
-  এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের জন্য তাকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়।
------------
 শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮):
কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়। তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। বিদেশি ভাষার অনেক উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক তিনি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। গ্রন্থ সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- জননী (১৯৫৮) (প্রথম উপন্যাস)
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২)
- সমাগম (১৯৬৭)
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮)
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১)
- জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১)
- দুই সৈনিক (১৯৭৩)
- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩)
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩)
- আর্তনাদ (১৯৮৫)
- রাজপুরুষ (১৯৯২)
- জলাঙ্গী (১৯৭৬)
- তোলপাড়

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
- জাহান্নম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী

তাঁর রচিত নাটক
- আমলার মামলা (১৯৪৯)
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা (১৯৯০)
- তস্কর ও লস্কর
- কাঁকর মনি
- বাগদাদের কবি(১৩৫৯)

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ
- ওটেন সাহেবের বাংলো (১৯৪৪)
- মস্কুইটো ফোন (১৯৫৭)
- ক্ষুদে সোশালিস্ট (১৯৭৩)
- পঞ্চসঙ্গী (১৯৮৭)

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।

অন্যদিকে,
চিলেকোঠার সেপাই - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি উপন্যাস। এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত।
জলাঙ্গী জাহান্নম হইতে বিদায় - শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
২,৭৮৭.
জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গাথাকাব্যের চরিত্র দুটির নাম কী?
  1. রহমত, খুকী
  2. রাধা, ছিদাম
  3. রামসুন্দর ও নিরূপমা
  4. রূপাই ও সাজু
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গাথাকাব্যের চরিত্র দুটির নাম - রূপাই  ও সাজু

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের চরিত্র দুটির নাম - রহমত, খুকী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'দেনা পাওনা' গল্পের চরিত্র দুটির নাম - রামসুন্দর ও নিরূপমা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শাস্তি' গল্পের চরিত্র দুটির নাম - রাধা, ছিদাম।

নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৮৮.
আবুল ফজল রচিত 'রেখাচিত্র' গ্রন্থটি কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. দিনিলিপি
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি - দিনলিপি।  
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

আবুল ফজল:

- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৮৯.
“বিদ্রোহ” উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
ব্যাখ্যা

“বিদ্রোহ” উপন্যাসটি স্বর্ণকুমারী দেবী লেখা। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ৩০ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, মালতী, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, স্বপ্নবাণী, মিলনরাত্রি। 
- কাব্যগ্রন্থ: গাঁথা, কবিতা ও গান। 
- নাটক: বসন্ত উৎসব, দেব কৌতুক। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

২,৭৯০.
'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. মধুসূদন দত্ত
  4.  আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো: Timothy Penpoem, দত্তকুলোদ্ভব কবি, এ নেটিভ।

-------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৭৯১.
'ইঁদুর' ছোটগল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৭৯২.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) জলাঙ্গী
  2. খ) চৌরসন্ধি
  3. গ) জননী
  4. ঘ) তস্কর নস্কর
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
 -ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাঙ্গী, 
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম, 
- জননী, 
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, 
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
 -ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, 
- পিঁজরাপোল, 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৯৩.
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুল্প্রাসাদ সেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।
মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশ ঝাড় যেন,
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে উঠে,
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফুটে।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া।
২,৭৯৪.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ' - উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. মানুষের ধর্ম
  2. পঞ্চভূত
  3. কালান্তর
  4. সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা

সভ্যতার সংকট: 
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ:
- সভ্যতার সংকট,
- কালান্তর, 
- পঞ্চভূত, 
- বিবিধ প্রবন্ধ, 
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- শিক্ষা, 
- মানুষের ধর্ম। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৭৯৫.
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যের কোন শাখায় চলিতরীতির প্রবর্তন করেন?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. গদ্য
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গদ্য রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। এটি তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৭৯৬.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জীবনচিত্র "বোবা কাহিনী" উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. বরিশাল 
  2. ফরিদপুর
  3. রংপুর 
  4. সিলেট 
ব্যাখ্যা

• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।

- এ উপন্যাসের নায়ক আজহার এক ছিন্নমূল কৃষকসন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

----------------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর, 
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে),
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৯৭.
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস-
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) ময়ূরীর মুখ
  3. গ) কাবিলের বোন
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
 
২,৭৯৮.
'বীরবল' ছদ্মনামটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. প্যারীচাদ মিত্র
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।

- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।
- রাজ শেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী 
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।
- 'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হুতোম পেঁচা।
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৭৯৯.
কোনটি বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নীলদর্পণ
  3. শেষ নবাব
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮০০.
'শেষের কবিতা' কী?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) কাব্যোপন্যাস
  3. গ) গীতিকবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

অধ্যাপক মাহবুবুল আলম রচিত “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস” বই অনুসারে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস। ‘মালঞ্চ’, ‘দুইবোন’ - উপন্যাস দুটিও একই ধরণের।
“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমন্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ঠ উৎকর্ষ লাভ করেছে।
কোন পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে অবিরোধে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে -- এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
এখানে লাবণ্য-অমিতরায়-কেতকী-শোভনলালের চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে। ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
- এছাড়াও বাংলাপিডিয়াতেও শেষের কবিতাকে কাব্যধর্মী উপন্যাস হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে,
শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এটি তার আগে "প্রবাসী" পত্রিকায় ১৯২৮ সালে ছাপা হয়।
উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমনঃ
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা বলা যায় যে,
১. প্রশ্নের অপশনে কাব্যোপন্যাস/গীতধর্মী থাকলে উত্তর হিসাবে এটিই বেশি যুক্তিযুক্ত।
২. অপশনে কাব্যোপন্যাস/গীতধর্মী না থাকলে “উপন্যাস” উত্তর করা যাবে।