বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ২৩ / ১৭৪ · ২,২০১২,৩০০ / ১৭,৪৩৭

২,২০১.
'অধ্যাপক রায়হান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. যাত্রা
  3. দুই সৈনিক
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে, 
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-  
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
২,২০২.
নিচের কোনটি আবুল মনসুর আহমেদ এর স্মৃতিকথা?
  1. ক) আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
  2. খ) ফুড কনফারেন্স
  3. গ) সত্যমিথ্যা
  4. ঘ) বাংলাদেশের কালচার
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমেদ (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮ – ১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
• তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা। 
• ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়। 

• ব্যঙ্গরচনা
- আয়না 
- ফুড কনফারেন্স 
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর 
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু 

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা 
- জীবন ক্ষুধা 
- আবে-হায়াৎ 

• অন্যান্য রচনা 
- বাংলাদেশের কালচার 
- আসমানী পর্দা 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
২,২০৩.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি আত্মজীবনী মূলক বই।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।
- আত্মজীবনী – আত্মকথা।
- শিশু সাহিত্যে: মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।

২,২০৪.
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রগতি' কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা হিসাবে প্রকাশিত হয়?
  1. অর্ধ-সাপ্তাহিক 
  2. সাময়িক 
  3. সাপ্তাহিক 
  4. মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২০৫.
'ফোকলোরচর্চা' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে 'ফোকলোরচর্চা'

• শামসুজ্জামান খান: 
- মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার নাম আব্দুর রহমান খান এবং মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম।
- তিনি জাতীয় যাদুঘর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ।
- মাটি থেকে মহীরূহ।
- ফোকলোরচর্চা।
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা।
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।
তিনি 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' নামে একটি শিশু সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০৬.
কে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয়‌ তর্কালঙ্কার
  4. ঘ) তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন- উইলিয়াম কেরী, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার, তারিণীচরণ মিত্র, রাজীবলােচন, চণ্ডীচরণ মুনশী ইত্যাদি। 
-  ফোর্ট উইলিয়মের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানই বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২০৭.
‘এ-গাঁর চাষীরা নিঝুম রাতে বাঁশের বাঁশীর সুরে,/ওইনা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে’- চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত-
  1. ক) নকশী কাঁথার মাঠ
  2. খ) মহুয়া
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা

- নক্সী কাঁথার মাঠ একটি কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ। রচয়িতা কবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬ ) রচনাকাল ১৯২৯।
- নক্সী কাঁথার মাঠ একটি শিল্পসফল কাহিনি কাব্য। কাব্যটি চোদ্দটি সর্গ বা ছোট ছোট দৃশ্যপটে বর্ণিত।
- ‘এ-গাঁর চাষীরা নিঝুম রাতে বাঁশের বাঁশীর সুরে,/ওইনা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে’- চরণ দুটি এই রচনার অন্তর্গত।

সোর্সঃ নকশী কাঁথার মাঠ এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২০৮.
'নীল দর্পণ'  নাটকটি 'The Indigo Planting Mirror' নামে  ইংরেজি অনুবাদ করেন কে? 
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

২,২০৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটোগল্প?
  1. শেষ লেখা
  2. শেষরক্ষা
  3. শেষ কথা
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শেষ কথা' ছোটোগল্প:
"শেষ কথা" হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটোগল্প, যা তাঁর 'তিনসঙ্গী' নামক গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে জীবন ও সম্পর্কের জটিলতাকে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষত সম্পর্কের গভীরে থাকা সত্যের অনুসন্ধান এবং একটি অসমাপ্ত প্রেমের আখ্যান নিয়ে এই গল্পটি রচিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু গল্প হলো-
• অতিপ্রাকৃতিক গল্প:  ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীতে, মণিহার, কঙ্কাল।
• আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।
• সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: দেনাপাওনা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, অনধিকার প্রবেশ।

অন্যদিকে, 
• 'শেষ লেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস।
• 'শেষরক্ষা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'শেষ কথা' ছোটগল্প।

২,২১০.
'আমার সোনার বাংলা' গানটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) সাধনা
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) বিশ্বভারতী
ব্যাখ্যা
'আমার সোনার বাংলা' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতানের স্বরবিতানের অন্তর্ভূক্ত।
- এটি স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

- এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি এই সঙ্গীতটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১১.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. নির্দিষ্ট কেউ বলে
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য
বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২১২.
আবুল হাসানের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল হোসাইন
  4. হুসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৩.
‘কাব্যসুধাকর’ কার উপাধি?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৪.
'কুলায় ও কালপুরুষ' সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কোন ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. কবিতা
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'কুলায় কালস্রোত' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।

-----------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
২,২১৫.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক কোনটি?
  1. গাথা
  2. বিচিত্রা
  3. বিদ্রোহ
  4. বসন্ত উৎসব
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক - বসন্ত উৎসব

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ
- বিচিত্রা
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২১৬.
রবীন্দ্রনাথ কোন কবিকে ‘ভোরের কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল  চক্রবর্তী, (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) উল্লেখযোগ্য।

• সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২১৭.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' -বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহার রঞ্জন রায়
  2. খ) সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আর সি মজুমদার
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭),
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯),
- Nationalism in India,
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২১৮.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমিকে জাতির মননের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠীত হয়।
- মওলানা আঁকরাম খাঁ প্রথম সভাপতি।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক হলেন আহমদ শরীফ
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধানের সম্পাদক হলেন জামিল চৌধুরী।
- বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষের সম্পাদক সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সম্পাদক হলে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১৯.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' এই চরণদ্বয়ের লেখক _____।
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কুসুমকুমারী দাস
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত।
 
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
-  তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।
 
মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী ও
- বাসবদত্তা। 

--------------------------
আমার পণ- কবিতা, 
মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 
 
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২২০.
'ইবলিশ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার ছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক- ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগি, সমতট, পাথর, লেবেদেফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২১.
'ঘনাদা' - চরিত্রটির সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. সুকুমার রায় 
ব্যাখ্যা

• ‘মশা’ গল্প ও ‘ঘনাদা’ চরিত্র:
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি — ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত — ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
- কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
- অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মশা’ গল্প।

২,২২২.
'ষোড়শী' ও 'জীবনানন্দ' শরৎচন্দ্র রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. বৈকুন্ঠের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা
• 'ষোড়শী' ও 'জীবনানন্দ' শরৎচন্দ্র রচিত 'দেনা পাওনা' উপন্যাসের চরিত্র।

অন্যদিকে,
- বৈকুন্ঠের উইল - বৈকুন্ঠ মজুমদার, বিনোদ, গোকুল
- পল্লীসমাজ - রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- গৃহদাহ - সুরেশ, অচলা, মহিম।

• শরৎচন্দ্রের উপন্যাস গুলো হলো:

- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস,
- পথের দাবী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,২২৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচনাকারী কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রামানারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচয়িতা:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- মূলত তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।
- প্রথমটিতে মধুসূদন উনিশ শতকের ইংরেজি শিক্ষাপ্রাপ্ত ইয়ংবেঙ্গলদের অতি আধুনিকতা, জীবন উপভোগের প্রবল বাসনা, অমিতাচার ও উগ্রতাকে তীব্র পরিহাসের রূপকে তুলে ধরেছেন।
- আর দ্বিতীয়টিতে তিনি সুতীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে রূপায়িত করেছেন কুলীন ব্রাহ্মণদের নারী উপভোগের বিকৃত বাসনাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২২৪.
‘মহামায়া’ ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘মহামায়া’ ছোটগল্প:
• গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অপূর্ব সৃষ্টি। একটি ব্যাতিক্রমী সৃষ্টিও বটে। কবি গুরু এই গল্পটি ভূতপূর্ব সমাজের পেক্ষাপটে লেখা, যখন সহমরণ অর্থাৎ সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। সতীদাহ প্রথা তৎকালীন হিন্দু সমাজের সর্বোচ্চ ভয়ংকর একটি প্রথা ছিল। যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীদেরও জীবন্ত দাহ করা হতো। ব্রাক্ষ্মন সমাজে এই সহমরণ প্রথার প্রচলন ছিলো সবচেয়ে বেশি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) বিপুল প্রতিভার যাদুস্পর্শে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা স্বল্প সময়ে সুসমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
- রবীন্দ্রনাথই বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার। বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত।
- তাঁর প্রথম গল্প 'ভিখারিণী' ভারতী পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি,
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২৫.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. খ) জসীম উদদীন
  3. গ) আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্য বিশারদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। তিনি ১৮৯৬ সালে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। তিনি ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,২২৬.
'স্বভাবকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন কোন পাঁচালিকার?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. দাশরথি রায়
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। 'দাশু রায়' নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা 'দাশুরায়ের পাঁচালি' নামে খ্যাত। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,২২৭.
"ওরা অন্ধকার বেচে।
বিক্রি হয় অন্ধকার
প্রকাশ্য ও গোপন বাজারে
নানান মোড়কে মোড়া রঙীন লোভন,
কত না লেবেল-এ। - কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সমর সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪-৮৮) আধুনিক জীবন কাব্যে রূপায়িত করেছেন।
- প্রথমা', সম্রাট’, ‘ফেরারি ফৌজ’, সাগর থেকে ফেরা’, হরিণ চিতা চিল’, কখন মেঘ’ ইত্যাদি কাব্য গ্রন্থে তাঁর বলিষ্ঠ প্রতিভার পরিচয় বিদ্যমান।
- কল্লোল গােষ্ঠীর লেখক হিসেবে প্রেমেন্দ্র মিত্র কবিতা ও কথাসাহিত্যে সব্যসাচী ছিলেন।
- তিনি আধুনিক কবিতার অন্যতম পথনির্মাতা ছিলেন, কিন্তু পরে গােত্র-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
- তাকে আবেগধর্মী কবি বলে বিবেচনা করা হয়। অথচ আবেগকে সংযত নিয়ন্ত্রিত প্রচ্ছন্ন করে রাখতে পারার সামর্থ্যেই তাঁর শিল্পধর্মের সফলতা প্রকাশ পেয়েছে।

- প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা ব্যক্তিগত জীবনাচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, তাঁর কবিতায় আপন পরিবেশ-পরিপার্শ্বজ ব্যাপক জীবনের পরিমণ্ডলে স্পন্দিত হয়েছে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র জীবনের রহস্যসন্ধানী—তাঁর এই প্রচেষ্টার স্বাতন্ত্রেই তিনি নতুন যুগের এক প্রতিনিধি কণ্ঠ, কেবল ভাবানুভবের নিবিষ্টতায় নয়, রূপনির্মিতির স্বতঃস্ফূর্তির বশেও। তাঁর কবিতার নমুনা :

"ওরা অন্ধকার বেচে।
বিক্রী হয় অন্ধকার
প্রকাশ্য ও গােপন বাজারে
নানান মােড়কে মােড়া রঙীন লােভন,
কত না লেবেল-এ।"

তথ্যসূত্র:- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস , মাহবুবুল আলম।
২,২২৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: 
- তিনি আনুমানিক ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। 
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন। 
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। 
- তিনি ১৮১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

তার রচিত গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন, 
- রাজাবলী, 
- হিতোপদেশ, 
- বেদান্তচন্দ্রিকা, 
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২২৯.
’সাধনা’ পত্রিকা প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

অন্যদিকে, 
------------------
• ‘ভারতী' পত্রিকা:
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৩০.
'তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ'- কে জানিয়েছেন এই অভিবাদন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) আসাদ চোধুরী
  3. গ) কামাল চৌধুরী
  4. ঘ) অসীম সাহা
ব্যাখ্যা
সেনাশাসিত বাংলাদেশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী রাজত্বের অবসান চেয়েছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। দেশে তখন স্বৈরাচার উৎখাতের আন্দোলন তুঙ্গে। ছাত্র-শিক্ষক-জনতা সবাই তখন রাজপথে। তুমুল আন্দোলনের মুখে যখন স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তখন দেশে গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত হয়। সৈয়দ শামসুল হক তখন লিখেছেন_ 'তোমাকে অভিবাদন বাংলাদেশ' কবিতাটি।
উৎসঃ দৈনিক সমকাল
২,২৩১.
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক-
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক অতুলপ্রসাদ সেন। বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। 'কয়েকটি গান' ও 'গীতিগুঞ্জ' অতুলপ্রসাদ সেনের গানের সংকলন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,২৩২.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. একুশের গল্প
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' - ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: 
- মুমিন,  
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

অন্যদিকে, 
• ‘কবর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সমালোচক ও বাগ্মী ছিলেন।
- তাঁর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত “কবর” একটি একাঙ্ক নাটক। 
- নাটকটি ১৯৫৩ সালে ঢাকা জেলে বসে তিনি রচনা করেন এবং রাজবন্দি দ্বারা অভিনীত হয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালে নাটকটি প্রথম প্রকাশ করা হয়।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw  রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে “কবর” নাটকটি লেখা হয়েছে।

• একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে ‘একুশের গল্প’ অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।
এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

 • 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের মনে উদয় হয়েছিল। 
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৩৩.
গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন-
  1. ক) এজরা পাউন্ড
  2. খ) টি.এস.এলিয়ট
  3. গ) ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
  4. ঘ) কীটস
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি উত্তর আসলে ভুল।
- গীতাঞ্জলি কাব্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- মুখবন্ধ লিখে দিয়েছেন - আইরিশ কবি ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।

তবে, এখানে অপশন বিবেচনায় আসলে সঠিক উত্তর - গ) ডব্লিউ. বি. ইয়েটস।
যদি অপশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থাকলে সেটিই উত্তর হবে।
২,২৩৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুন্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি ?
  1. ক) কাপালিক
  2. খ) গোবিন্দলাল
  3. গ) নিখিলেশ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

কপালকুণ্ডলা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে
- ১৮৭৩ সালে গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন।
-  এই উপন্যাসের চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি

- গোবিন্দলাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের চরিত্র।
- নিখিলেশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ;ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের চরিত্র।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

২,২৩৫.
'মার্কসবাদী' কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে- কে 'মার্কসবাদী' কবি বলা হয়। 
------------- 
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্পসম্মত করে রচনায় উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসুকে -নাগরিক কবি বলা হয়।
নির্মলেন্দু গুণ কে -কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৬.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অতসী মামী' গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. আনন্দবাজার
  2. বিচিত্রা
  3. সাহিত্য
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
'অতসী মামী' ছোটগল্প:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী'।
- প্রকাশিত হয় “বিচিত্রা” পত্রিকায়।
- ১৯৩৫ সালে অতসী মামী ও অন্যান্য নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- বিশ বছর বয়সের তাঁর প্রথম প্রকাশিত 'অতসী মামী' গল্পের মাধ্যমেই তিনি পাঠক ও সমালোচক সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যান।
- তাঁর যাবতীয় রচনাই তাঁর নিজস্ব সমাজবীক্ষণ ও মানবমনের জটিলতা প্রতিফলিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমত্র শেখর।
২,২৩৭.
‘মৃণালিনী' - উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. দুর্ভিক্ষ
  2. তুর্কি আক্রমণ
  3. ভারতীয় উপমহাদেশে মঙ্গোলদের আক্রমণ
  4. ত্রিমুখী প্রেম
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয়; ব্রিটিশ আন্দোলন এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের উইল, 
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৩৮.
শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পৈত্রিক নিবাস কোন জেলায়?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. বিক্রমপুর
  3. মানিকগঞ্জ
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পৈত্রিক নিবাস কিশোরগঞ্জ জেলার মসূয়া গ্রামে।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৯.
'নাগরিক কবি' বলা হয় কাকে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসুকে নাগরিক কবি বলা হয়৷ তার কাব্যে সমাজচেতনা বিশেষভাবে প্রকাশ না পেলেও বাস্তববাদিতা ও নাগরিক চেতনা প্রকাশে সর্বগ্রহণ্য৷ তার রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো~ কঙ্কাবতী, দময়ন্তী, মরচেপড়া পেরেকের গান, যে আঁধার আলোর অধিক, স্বাগত বিদায়, একদিন: চিরদিন, মর্মবাণী, বন্দীর বন্দনা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,২৪০.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রাপ্ত পুরস্কার বা উপাধি নয় কোনটি?
  1. জগত্তারিণী পদক
  2. পদ্মভূষণ
  3. একুশে পদক
  4. পদ্মশ্রী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রাপ্ত পুরস্কার বা উপাধি নয়:
খ) পদ্মশ্রী।

অন্যদিকে,
• ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জগত্তারিণী স্বর্ণপদকও নজরুলকে প্রদান করা হয়।
• ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে দেওয়া হয়। 
• ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪১.
"এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জহির রায়হান
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• "এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - বিখ্যাত সংলাপটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

উপন্যাসের অংশবিশেষ:
নাম ডাকতে ডাকতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব। এক সময়ে বিরক্তির সাথে বললেন, উহ্‌ এত ছেলেকে জায়গা দেবো কোথায়। জেলখানাতে এমনিতে ভর্তি হয়ে আছে।
ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠলো, জেলখানা আরো বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না।
আর একজন বললো, এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।
-------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪২.
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহাপৃথিবী
  2. মর্মবাণী
  3. তন্বী
  4. অর্কেষ্ট্রা
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ- মহাপৃথিবী।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- - তন্বী, অর্কেষ্ট্রা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৪৩.
আহমদ ছফা রচিত কবিতা গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) জল্লাদ সময়
  2. খ) গো হাকিম
  3. গ) গাভী বিত্তান্ত
  4. ঘ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা
-  প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত
- ওঙ্কার
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস 

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,২৪৪.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থাবলী - সাহিত্য ও সংস্কৃতি, বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন, তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, ভাষা ও সাহিত্য, এ ফোনেটিক এন্ড ফোনোলোজিক্যাল স্টাডি অব নেইজালস অ্যান্ড নেইজালাইজেশন ইন বেঙ্গলি, ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে)।
২,২৪৫.
মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবুল হাসান
  3. আবুল হোসেন
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল:
- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪৬.
প্রমথ চৌধুরীর মতে, যৌবনকে এদেশের মানুষ ভয় পায়, কারণ-
  1. যৌবন মানব জীবনে বিরাট এক ফাঁড়া
  2. যৌবন প্রকৃতি বিরুদ্ধ 
  3. যৌবনের অন্তরে শক্তি আছে 
  4. যৌবন শাসনযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর মতে,
যৌবনকে এদেশের মানুষ ভয় পায়, কারণ- তার অন্তরে শক্তি আছে।' 

'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
এদেশে লোকে যে যৌবনের কপালে রাজটিকার পরিবর্তে তার পঠে রাজদণ্ড প্রয়োগ করতে সদাই প্রস্তুত, সেবিষয়ে আর-কোনো সন্দেহ নেই। এর কারণ হচ্ছে যে, আমাদের বিশ্বাস মানবজীবনে যৌবন একটা মস্ত ফাঁড়া কোনোরকমে সেটি কাটিয়ে উঠতে পারলেই বাঁচা যায়। এ অবস্থায় কি জ্ঞানী, কি অজ্ঞানী সকলেই চান যে, একলম্ফে বাল্য হতে বার্ধক্যে উত্তীর্ণ হন। যৌবনের নামে আমরা ভয় পাই, কেননা তার অন্তরে শক্তি আছে। অপরপক্ষে বালকের মনে শক্তি নেই, বালকের জ্ঞান নেই, বন্ধের প্রাণ নেই। তাই আমাদের নিয়ত চেষ্টা হচ্ছে, দেহের জড়তার সঙ্গে মনের জড়তার মিলন করা, অজ্ঞতার সঙ্গে বিজ্ঞতার সন্ধিস্থাপন করা। তাই আমাদের শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে ইচড়ে পাকানো, আর আমাদের সমাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে জাগ দিয়ে পাকানো।
 
উৎস: 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রমথ চৌধুরী। 

২,২৪৭.
‘এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে, চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।’ - বিখ্যাত এই পঙক্তি দুটি নেয়া হয়েছে ‘পণ্ডশ্রম’ কবিতা থেকে যেটি রচনা করেন-
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত কয়েকটি কবিতা হলো উনিশ শ’উনপঞ্চাশ, হাতির শুঁড়, ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, আসাদের শার্ট, ‘স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, তিনশো টাকায় আমি, পণ্ডশ্রম ইত্যাদি। উৎসঃ LiveMCQ লেকচার
২,২৪৮.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থটির কবি হলেন-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
- 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৯.
'জীবন ঘষে আগুন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক রচিত 'জীবন ঘষে আগুন' গল্পগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫০.
'ব্যক্ত প্রেম' ও 'গুপ্ত প্রেম' কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. খেয়া
  2. মানসী
  3. কল্পনা
  4. সােনার তরী
ব্যাখ্যা
• 'ব্যক্ত প্রেম' ও 'গুপ্ত প্রেম' কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের "মানসী" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

• "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

• উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২,২৫১.
চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. চক্রবাক
  2. চিত্তনামা
  3. সর্বহারা
  4. প্রলয়-শিখা
ব্যাখ্যা
• 'চিত্তনামা':
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে, তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়।
- এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্য আরেকটি জীবনীকাব্য হচ্ছে মরু-ভাস্কর। এই কাব্যটি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ এর জীবনীকাব্য।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫২.
'অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেনো তারে তৃণ সম দহে' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) রজনীকান্ত সেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আলোচ্য উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ন্যায়দন্ড কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

ন্যায়দন্ড কবিতা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 তোমার ন্যায়ের দণ্ড প্রত্যেকের করে  
 অর্পণ করেছ নিজে। প্রত্যেকের ’পরে  
 দিয়েছ শাসনভার হে রাজাধিরাজ।  
 সে গুরু সম্মান তব সে দুরূহ কাজ  
 নমিয়া তোমারে যেন শিরোধার্য করি  
 সবিনয়ে। তব কার্যে যেন নাহি ডরি  
 কভু কারে।  

 ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,  
 হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা  
 তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম  
 সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়্গসম  
 তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান  
 তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্হান।  

 অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে  
 তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

উৎস: ন্যায়দন্ড কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২,২৫৩.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো - এই তিনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপন্যাস।
পক্ষান্তরে খোয়াবনাম আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,২৫৪.
'কুহেলিকা' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. লাঙ্গল 
  2. বিজলী 
  3. নওরোজ
  4. বিচিত্রা 
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন। কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৫৫.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - বিখ্যাত উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিঠি
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।


• মুনীর চৌধুরী:

- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৫৬.
সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক কোনটি?
  1. নীল শয়তান
  2. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. কিত্তনখোলা
  4. হাড় হাড্ডি
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন এর অসম্পূর্ন নাটক- হাড়-হাড্ডি।
- এই নাটকের পরিকল্পনার মাত্র এক তৃতীয়াংশ তিনি লিখেছিলেন। সেটাই সমাপ্ত করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান, তাহিতি’ ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৭.
স্বর্ণকুমারী দেবী'র কোন গ্রন্থটি 'The Unfinished Song' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়? 
  1. মালতী
  2. স্বপ্নবাণী
  3. বিদ্রোহ
  4. কাহাকে
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ 'কাহাকে' (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৫৮.
'নীললোহিত' প্রমথ চৌধুরীর কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নীললোহিত' প্রমথ চৌধুরী রচিত - গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত,
- গল্পসংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৯.
মুনীর চৌধুরীর 'মানুষ' নাটকের মূল উপজীব্য কী?
  1. সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
  4. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'মানুষ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত এক দৃশ্য বিশিষ্ট নাটক 'মানুষ'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত। 
- নাটকের চরিত্র: ফরিদ,জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, 'মানুষ' নাটক ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৬০.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  2. যুগবাণী
  3. কালান্তর
  4. শাশ্বত বঙ্গ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগ্রন্থ- কালান্তর।

• 'কালান্তর' প্রবন্ধ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ কালান্তর।
- এটি প্রথমে ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- পঞ্চভূত, 
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- মানুষের ধর্ম, 
- কালান্তর, 
- সভ্যতার সংকট। 

অন্যদিকে,
'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই। 
প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

কাজী আবদুল ওদুদের প্রবন্ধ শাশ্বত বঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬২.
'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
- 'ওরা কদম আলী' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৩.
"কালের ধুলোয় লেখা" কার স্মৃতিকথা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৬৪.
'সত্য মিথ্যা' ভাবানুবাদ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবু রুশদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহম্মেদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ:
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬৫.
'কেরি সাহেবের মুন্সী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রাজশেখর বসু
  2. খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস
  3. প্রমথনাথ বিশী
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• 'কেরী সাহেবের মুন্সী'- উপন্যাসটির রচয়িতা 'প্রমথনাথ বিশী'।

প্রমথনাথ বিশী: 
- ১৯০১ সালের ১১ জুন নাটোরের জোয়াড়ি গ্রামে জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রমথনাথ ১৯১০ সালে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
- ১৯৫০ সালে প্রমথনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগদান করেন।
- কেরী সাহেবের মুন্সী ও লালকেল্লা তাঁর দুটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালের ১০ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস ও গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- জোড়াদিঘির চৌধুরী পরিবার, 
- কেশবতী,
- গল্পের মতো গল্প,
- ডাকিনী,
- ব্রহ্মার হাসি,
- সিন্ধুদেশের প্রহরী,
- চলন বিল,
- অলৌকিক,
- কেরী সাহেবের মুন্সী।

উল্লেখ্য, 
রামরাম বসু উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান। রামরাম বসু ‘কেরী সাহেবের মুন্সি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,২৬৬.
নিচের কে নাগরিক কবি হিসাবে বিবেচিত নয়?
  1. সমর সেন
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- সমর সেন, বুদ্ধদেব বসু ও শামসুর রাহমানের কবিতায় নাগরিক জীবনের ক্লেদজ জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়। তাই তাদেরকে নাগরিক কবি বলা হয়।
- অন্যদিক সুকান্ত ভট্টাচার্য কিশোর কবি, তাঁর কাব্যে মার্কসবাদী রাজনীতি প্রবলভাবে দেখা যায়।
- মনে রাখা দরকার সমর সেনের কবিতাও মার্কসবাদী চেতনায় ভাস্বর।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,২৬৭.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অনিঃশেষ
  2. মাটির দেয়াল
  3. অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা

- মহাপৃথিবী জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
• অমিয় চক্রবর্তী:

- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- অমরাবতী,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৬৮.
কোনটি জসীমউদ্দীনের কাব্য নয়?
  1. ক) মাটির কান্না
  2. খ) হাসু
  3. গ) মাটির মায়া
  4. ঘ) এক পয়সার বাঁশি
ব্যাখ্যা

রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, গাঙ্গের পার ও জারিগান হলো কবি জসীম উদদীন রচিত গানের সংকলন। জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো নকসী কাঁথার মাঠ, রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, রূপবতী, মাটির কান্না ইত্যাদি। তার শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো হাসু, এক পয়সার বাঁশি ও ডালিম কুমার। তার রচিত নাটকগুলো হলো- বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধূ ও গ্রামের মায়া। তার একমাত্র উপন্যাস বোবা কাহিনী। (সৌমিত্র শেখরের বই অনুসারে)

তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।

২,২৬৯.
'পথে প্রবাসে' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়‌। অসমাপিকা, আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য এগুলো তার উপন্যাস।
Source: Live MCQ Lecture
২,২৭০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকুমারী 
  3. নীলদর্পণ
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত  (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। নাটকের দীনহীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিশ্বয়কর প্রতিভা বৈচিত্র্যমুখী হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রথম সার্থক নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। মধুসূদন পূর্ববর্তী প্রভাব কাটিয়ে বাংলা নাটককে উদ্দেশ্যহীন গতি থেকে মুক্তি দিয়ে কাহিনিবিন্যাস, ঘটনার সংস্থাপনা এবং কৌতুক-রসের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন জীবনদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

- সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,২৭১.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেন?
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্য 
  3. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার 
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।

----------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
- মধুমালা (গীতিনাট্য)

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৭২.
“নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. শোরী মিঞা
  3. কালী মীর্জা
  4. শ্রীধর কথক
ব্যাখ্যা

নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন- রামনিধি গুপ্ত।
---------------------------------
• টপ্পা:
- টপ্পা হলো ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের চারটি প্রধান ধারার একটি।
- অপর তিনটি হলো ধ্রুপদ, খেয়াল এবং ঠুম্রি।
- টপ্পা দুই প্রকারে বিভক্ত: হিন্দুস্থানি ও বাংলা।
- হিন্দুস্থানি টপ্পাকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল অযোধ্যার নবাব-দরবারের সঙ্গীতজ্ঞ গোলাম নবী বা শোরী মিঞার দ্বারা। 
- আর বাংলা টপ্পার সূচনাকারী হচ্ছে- রামনিধি গুপ্ত। 

- কলকাতা ও তার শহরতলীতে সমসাময়িক কালে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গান প্রচলিত ছিল।
- এই গান মূলত হিন্দি টপ্পার আদর্শ অনুসরণ করত।
- বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক নিধুবাবু চাকরির সময় একজন মুসলমান ওস্তাদের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা নেন।
- এবং শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কলকাতায় এসে বাংলা টপ্পা গানের সৃষ্টিশীল রূপ দেন।
- নিধুবাবুর টপ্পা সংকলনের নাম ছিল ‘গীতরত্ন'।

- বাংলা টপ্পার বৈশিষ্ট্য হলো—
- একেক স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কোমল কম্পন;
- যা গানের কথাগুলিকে স্বাভাবিকভাবে আবৃত্তি করে।
- তবে নিধুবাবু হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তাল প্রায় অপরিবর্তিত রেখেছিলেন।
- নিধুবাবুর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সময়ে বাংলা টপ্পা রচনায় কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

- নিধুবাবু রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
- “নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা” 

- নিধুবাবু শুধু প্রেমসঙ্গীতই নয়, ব্রহ্মসঙ্গীতও টপ্পার ছাঁচে রচনা করেছিলেন।
- যেমন:
- ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২,২৭৩.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করেন -
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯৪১ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৪.
সৈয়দ মুজতবা আলীর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেশে বিদেশে
  2. খ) পঞ্চতন্ত্র
  3. গ) অবিশ্বাস্য
  4. ঘ) জলে ডাঙ্গায়
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী।
তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে
ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০);
উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম;
রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. রাজসিংহ
  4. কৃষ্ণচরিত্র
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ

অন্যদিকে,
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ - কৃষ্ণচরিত্র

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,২৭৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প-
  1. গণদেবতা
  2. পঞ্চগ্রাম
  3. রসকলি
  4. চৈতালী
ব্যাখ্যা

• 'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়,
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। 
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।

- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 

- প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি।
- বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু


• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস -
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
- পঞ্চগ্রাম
- গণদেবতা 
- নাগিনী কন্যার কাহিনী 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস

- চৈতালি ঘূর্ণি
- ধাত্রী দেবতা
- কালিন্দী
- কবি
- গণদেবতা
- আরগ্য
- নিকেতন
- পঞ্চপুণ্ডলী
- রাধা ইত্যাদি

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প- 
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৭৭.
'সাত সাগরের মাঝি' গ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা পাওয়া যায়?
  1. ১১টি
  2. ১৫টি
  3. ১৭টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৭৮.
'আলোকিত গহ্বর' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কবিতাগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'আলোকিত গহ্বর' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত - প্রবন্ধগ্রন্থ
- গ্রন্থটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান হাফিজুর রহমান: 
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৯.
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. দিলারা হাসেম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'
• তাঁর প্রথম উপন্যাস 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• দিলারা হাসেম:
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮০.
'যাযাবর'- কার ছদ্মনাম?
  1. মণীশ ঘটক
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

অন্যদিকে,
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮১.
"সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস–
আকাশের ওপারে আকাশ।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'আকাশলীনা' কবিতাটির অংশ।
- কবিতাটি 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সুরঞ্জনা, অইখানে যেয়ো নাকে তুমি,
বোলো নাকো কথা অই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা:
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;

ফিরে এসো এই মাঠে ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূরে–আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়ো নাকে আর।

কী কথা তাহার সাথে?–তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।

সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস–
আকাশের ওপারে আকাশ।
-------------
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎস: আকাশলীনা, জীবনানন্দ দাশ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসে ‘নুরু’ চরিত্রটি বিদ্যমান?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. বাঁধন-হারা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে (১৯২৭) গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৩২৭ বঙ্গাব্দে (১৯২১) 'মোস্‌লেম ভারতে' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- 'বাঁধন- হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও হঠাৎ নুরু পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন গ্রহণ করে।
- সৈনিক জীবন গ্রহণের পেছনে দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালীন কোন তাগিদ ছিল না। 
- এ প্রসঙ্গে নার্গিসের সঙ্গে কবির প্রণয় ও আক্‌দ (মতান্তর আছে) প্রসঙ্গ মনে আসে।
- অনেকে মনে করেন নুরুই নজরুল। 
- এ উপন্যাসে রাবেয়া, মাহবুবা, সাহসিকা প্রমুখ নারী চরিত্রের উল্লেখ ও তাদের পত্র বিনিময় আছে। 
- সাহসিকা যথেষ্ট প্রতিবাদী; চিরকুমারী থেকে যে নারীদের উপর পতিত নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৩.
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' কোন প্রেক্ষাপটে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উক্তিটি করেছেন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দেশভাগ
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. বঙ্গভঙ্গ রদ
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

⇒ তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮৪.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. সঞ্চিতা
  2. সেঁজুতি
  3. সোনার তরী
  4. কবি কাহিনী
ব্যাখ্যা

 • 'সঞ্চিতা' কাব্য সংকলন: 
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ :

- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- শেষ সওগাত
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৫.
হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

------------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

• তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- অসীমান্তিক।
২,২৮৬.
'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. ক) আশরাফ আলী
  2. খ) সুবির নন্দী
  3. গ) আলতাফ আলী
  4. ঘ) সুরজিত নন্দী
ব্যাখ্যা
- 'নেমেসিস' নাটকটির রচয়িতা - নুরুল মোমেন।
- এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক নেমেসিস।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী।
- এ নাটকে নুরুল মোমেন দেখিয়েছেন যে, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সুরজিত নন্দী সাধারণ মানুষের জীবনে যে দুঃখ-দুর্দশার বয়ে এনেছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দেবী নেমেসিস (প্রতিহিংসার দেবী) তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে।

নুরুল মোমেনের অন্যান্য নাটক হলো :
- রূপান্তর
- যদি এমন হতো
- নয়া খান্দান
- আলোছায়া
- শতকরা আশি
- আইনের অন্তরালে
- যেমন ইচ্ছা তেমন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৮৭.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) হারানো অর্কিড
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. ঘ) পারাপার
ব্যাখ্যা

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৮.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা দুটির নাম কি? 
  1. সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. আজিজননেহার ও সংবাদ প্রভাকর 
  3. আজিজননেহার ও হিতকরী
  4. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা ও হিতকরী
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:   
- ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। 
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- ছদ্মনাম: গাজী মিয়াঁ। 

- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। 
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 


- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।
- এটি ‘মহরম পর্ব্ব’, ‘উদ্ধার পর্ব্ব’ ও ‘এজিদ-বধ পর্ব্ব’ নামে তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- এটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ঘটনাসমূহ।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:   
♣ উপন্যাস:
• রত্নবতী: বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম উপন্যাস;
• উদাসীন পথিকের মনের কথা:  আত্মজীবনীমূলক;
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী: আত্মজীবনীমূলক ব্যঙ্গরসাত্মক রচনা। 

♣ নাটক: 
• বসন্তকুমারী নাটক: বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম নাটক।
• জমিদার দর্পণ: জমিদার হায়ওয়ান আলী ও আবু মোল্লার স্ত্রী নূরন্নেহার কেন্দ্রীয় চরিত্র; 
• বেহুলা গীতাভিনয়, 
• টালা অভিনয়। 

♣ আত্মজীবনীমূলক:
• আমার জীবনী, 
• আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম।

♣ প্রবন্ধ: গো-জীবন।
♣ প্রহসন: এর উপায় কি। 

♣ অন্যান্য:
• গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু, 
• সঙ্গীত লহরী, 
• মদিনার গৌরব, 
• বাজীমাৎ। 

- ১৯১২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৮৯.
‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?' - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'উটপাখী' কবিতা:
- 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৯০.
'মা যে জননী কান্দে' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'মা যে জননী কান্দে' জসীম উদ্‌দীন রচিত - কাব্যগ্রন্থ।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৯১.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিকতম শাখা কোনটি?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়। 
---------------------
• 'ছোটগল্প':
- ছোটগল্প  কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:
ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি  প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা  ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে  সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• ছোটগল্প সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনা পাওনা'।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য।
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৯২.
'অনিলা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কঙ্কাল
  2. পয়লা নম্বর
  3. মণিহার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• 'অনিলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পয়লা নম্বর’ গল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ, 
- নিশীতে, 
- মণিহার, 
- কঙ্কাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘পয়লা নম্বর’ গল্প- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২,২৯৩.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. সাধের আসন
  2. নিসর্গ সন্দর্শন
  3. সঙ্গীত শতক
  4. বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৪.
'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জসীমউদ্দীন
  3. শামসুর রাহমান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' কবিতার রচয়িতা শামসুর রাহমান।

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায় ১৯৪৩ সালে।
- তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন মুক্তিযুদ্ধকালে।
- তার প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ: আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• শামসুর রাহমানের কবিতা সমূহ:
- প্রথম গান,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

২,২৯৫.
"রক্তকরবী" নাটকের প্রধান পুরুষ চরিত্র কে?
  1. রঞ্জন
  2. অমল
  3. অভিজিৎ
  4. জয়সিংহ
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
• প্রধান পুরুষ চরিত্র: রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

অন্যদিকে,
'বিসর্জন 'নাটকের চরিত্র অপর্ণা, জয়সিংহ, রঘুপতি, গুণবতী,  গোবিন্দমাণিক্য।
'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য  চরিত্র 'অভিজিৎ'।
'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র' অমল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ?
  1. ব্যাথার দান
  2. বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী
  3. যুগবাণী
  4. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ  ব্যাথার দান।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
-
ব্যাথার দান (প্রথম গল্পগ্রন্থ),  
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ - তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।

উল্লেখ্য,
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধনহারা।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৭.
'কল্লোল' যুগের লেখক নন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল যুগের লেখক নন- খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি রবীন্দ্র-পূর্ব বা রবীন্দ্র-সমসাময়িক কবি, কল্লোল যুগের নন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিষ্ণু দে কল্লোল যুগের প্রধান সাহিত্যিকদের অন্যতম।

'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
• যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
• কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
• মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।

• কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তারা হলেন- 
- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- বুদ্ধদেব বসু,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- জীবনানন্দ দাশ,
- বিষ্ণু দে

এই পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে একসাথে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব। এ পঞ্চপাণ্ডবই ছিলেন মূলত কল্লোল যুগের কাণ্ডারি।

• তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, সঞ্জয় ভট্টাচর্য, অবনীনাথ রায় প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি 'শ্রীমতী রানী মহলানবীশ'কে উৎসর্গ করেছেন?
  1. ক্ষণিকা
  2. শ্যামলী
  3. বলাকা
  4. পূরবী
ব্যাখ্যা

• 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ (আমি কবিতা)', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা', 'শেষ পহরে', 'সম্ভাষণ', 'চিরযাত্রী' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্‌ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ "শ্যামলী" কাব্যগ্রন্থটি শ্রীমতী রানী মহলানবীশকে উৎসর্গ করেছেন।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেছেন।

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৯৯.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) অভিযান
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য,মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
২,৩০০.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন ধরনের লোকনাট্যের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাউল ও পালা
  2. লেটোদল
  3. গম্ভীরা
  4. কবিগান
ব্যাখ্যা
• পালাগান রচয়িতা হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম: 
- মকতব, মাজার ও মসজিদ-জীবনের পর নজরুল রাঢ় বাংলার (পশ্চিম বাংলার বর্ধমান-বীরভূম অঞ্চল) কবিতা, গান আর নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক লোকনাট্য লেটোদলে যোগদান করেন।
- তখন তার বয়স ছিলো ১২ বছর।
- ঐসব লোকনাট্যের দলে বালক নজরুল ছিলেন একাধারে পালাগান রচয়িতা ও অভিনেতা।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।