বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ২০ / ১৭৪ · ১,৯০১২,০০০ / ১৭,৪৩৭

১,৯০১.
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• শিখা পত্রিকা:
- শিখা পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এটি বার্ষিক পত্রিকা ছিল।
- এর সর্বমোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রথম সংখ্যার (১৯২৭) সম্পাদক আবুল হোসেন,
- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো।

• ঢাকা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯০২.
প্রথম বাংলা ভাব অভিধান সংকলন করেছেন _
  1. ক) অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. খ) জগন্নাথ চক্রবর্তী
  3. গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার প্রথম ভাব-অভিধান যথাশব্দ
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
১,৯০৩.
'বিশ্বপরিচয়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. পত্রসংকলন
  4. শিল্প সভ্যতা বিষয়ক গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বপরিচয়':
- 'বিশ্বপরিচয়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ।
- ভাষারীতি এবংরবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানচিন্তার নিদর্শন হিসাবে গ্রন্থটি মূল্যবান।
- 'বিশ্বপরিচয়' ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
- জীবনস্মৃতি,
- চরিত্রপূজা,
- ছেলেবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯০৪.
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ কে বলেছেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ উক্তিটির রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
১,৯০৫.
'অগ্নি-গিরি’ গল্পটি কাজী নজরুলের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যথার দান
  3. ঝিলিমিলি
  4. রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান ,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯০৬.
‘চাচা কাহিনীর’ লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯০৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. তিলোত্তমাসম্ভব
  3. হেক্টরবধ
  4. ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যটি ১৮৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রিক পুরাণে হেক্টর একজন ট্রোজান রাজকুমার ছিলেন এবং ট্রয়ের যুদ্ধে ট্রয় সেনার প্রধান যোদ্ধা ছিলেন।
- তিনি ট্রয় রক্ষায় ট্রয় সেনা ও তাঁর মিত্রদের পক্ষে নেতৃস্থানীয় ছিলেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৯০৮.
'সূর্যাস্তের পর' নাটকটির রচয়িতা -
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. রিজিয়া খাতুন
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সূর্যাস্তের পর' নাটকটির রচয়িতা - নীলিমা ইব্রাহিম
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), জয়বাংলা পুরস্কার ভারত (১৯৭৩), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯), বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬) পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি

তাঁর রচিত গল্প:
- রমনা পার্কে

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯০৯.
"মতিলাল" চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. চোখের বালি
  3. বউ ঠাকুরানীর হাট
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসে ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১০.
কোনটি আল মাহমুদ এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা?
  1. একুশের কবিতা
  2. একুশের গান
  3. একুশের গল্প
  4. একুশে ফেব্রুয়ারী 
ব্যাখ্যা

- আল মাহমুদ এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা: একুশের কবিতা।

• “একুশের কবিতা”:

- আল মাহমুদের “একুশের কবিতা” ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য কবিতা।
- এতে ১৯৫২ সালের রক্তঝরা আন্দোলনের প্রতি গভীর সম্মান ও শোকগাথা ফুটে উঠেছে।
- এই কবিতার কিছু উল্লেখযোগ্য পংক্তি: 
- "প্রভাতফেরির মিছিল যাবে / ছড়াও ফুলের বন্যা,
বিষাদগীতি গাইছে পথে / তিতুমীরের কন্যা।
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়? বরকতের রক্ত।"
-----------------------------
আল মাহমুদ: 
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস - সব শাখাতেই তাঁর বিচরণ থাকলেও, আল মাহমুদ কবি হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত।
- তাকে বলা হয় সোনালী কাবিনের কবি।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থগুলো:
- লোক লোকান্তর (কাব্যগ্রন্থ);
- সোনালী কাবিন (কাব্যগ্রন্থ);
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (কাব্যগ্রন্থ);
- বখতিয়ারের ঘোড়া (কাব্যগ্রন্থ);
- কাবিলের বোন (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস)
- পানকৌড়ির রক্ত (গদ্যগ্রন্থ);
- একুশের কবিতা (ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা)।
--------------------------------
অন্যদিকে,
• 'একুশের গান' মহাদেব সাহা রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি কবিতা।
- মহাদেব সাহা একজন বিখ্যাত বাংলাদেশী কবি, যিনি তাঁর রোমান্টিক গীতিকবিতার জন্য পরিচিত।

• '
একুশের গল্প' হচ্ছে জহির রায়হান এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ছোটগল্প। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার। 
- তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে: 'জীবন থেকে নেওয়া' (চলচ্চিত্র), 'স্টপ জেনোসাইড' (তথ্যচিত্র) এবং 'হাজার বছর ধরে' (উপন্যাস)।

• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সংকলন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। 
- এই সংকলনে ভাষা আন্দোলনের আদর্শকে তুলে ধরতে প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, গান, নকশা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বিবরণসহ নানা ধরনের লেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১,৯১১.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) বাঙালি মুসলমানের মন
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের বাঙালি, বিচিত চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। বাঙালি মুসলমানের মন ও বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯১২.
বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমি বিজয় দেখেছি
  2. একাত্তরের বিজয়
  3. যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা
• ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’:
- ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ বদরুদ্দীন উমর রচিত ও সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- যে প্রবন্ধগুলি এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলি সবই ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক 'গণশক্তি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো।
- তখন 'গণশক্তি'র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে বদরুদ্দীন উমর পত্রিকাটি সম্পাদনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন।
- 'যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ' নামে মুজিব আমলে লিখিত রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলির যে সংকলন ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলির সাথে 'যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ' নামক এই সংকলনের প্রবন্ধগুলি মিলিয়ে পাঠ করলে চিন্তার ধারাবাহিকতা সহজেই বোঝা যাবে। 

অন্যদিকে,
• শামসুল হুদা চৌধুরী রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘একাত্তরের রণাঙ্গন’ ‘একাত্তরের বিজয়’।
• এম এ আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ  'আমি বিজয় দেখেছি'।

---------------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো: 
- সাম্প্রদায়িকতা।
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা।
- পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ।
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ।
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ প্রবন্ধগ্রন্থ।
১,৯১৩.
'কলমসৈনিক'— কার উপাধি?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল হক
  3. আবদুল করিম 
  4. শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা

• 'কলমসৈনিক' - আবদুল হকের উপাধি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯১৪.
ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কোন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির:

- বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা : ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। 
- প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (স্পেশাল অফিসার) : মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ।
- প্রথম পরিচালক : ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
- প্রথম মহাপরিচালক : অধ্যাপক মযহারুল ইসলাম।
- প্রথম সভাপতি : মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট
১,৯১৫.
কায়কোবাদের 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের মূল সুর কী?
  1. ধর্মীয় ভাবনা ও আবেগ
  2. দেশপ্রেম ও বিরহ
  3. প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ
  4. দার্শনিক চিন্তাধারা ও ধর্মীয় ভাবনা
ব্যাখ্যা

অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থের মূল সুর: প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ।
-----------------------------------------
অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদের অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত রোমান্টিক গীতিকবিতার সংকলন।
- এখানে প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের গভীর অনুভূতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। 
- কবি তাঁর কৈশোর ও যৌবনের ব্যক্তিগত আবেগ ও বেদনা এই কাব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
- অশ্রুমালা বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------------------
কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ এর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশি।
- কায়কোবাদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট মহাকবি।
- তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং তিনি ২১ জুলাই ১৯৫১ সালে প্রয়াত হন।
- কায়কোবাদ বাংলা সাহিত্যে আধুনিক মহাকাব্য ধারার শেষ কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেছেন, বিশেষভাবে নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁর প্রধান সাহিত্যিক আদর্শ।
- তার প্রধান মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’ (১৯০৪) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে লেখা হয়েছে।
- এই কাব্য থেকেই নাট্যকার মুনীর চৌধুরী অনুপ্রাণিত হয়ে রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি রচনা করেন।
- মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর বিরহ বিলাপ কাব্য প্রকাশ পায়।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- অশ্রুমালা: বিখ্যাত গীতিকাব্য;
- কুসুম কানন: কাব্যগ্রন্থ;
- বিরহ বিলাপ: প্রথম কাব্যগ্রন্থ;
- শিব-মন্দির: হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির চেতনা;
- অমিয়ধারা: উল্লেখযোগ্য কাব্য;
- মহররম শরীফ: বৃহৎ কাহিনী কাব্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৯১৬.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সহিষ্ণু প্রতীক্ষা
  2. খ) বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা
  3. গ) আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. ঘ) এখনও সময় আছে
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর 
- কমলের চোখ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা

- আবুল হেসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ: 'এখনও সময় আছে' 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১,৯১৭.
'ওসমান' চরিত্রটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
-'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
-চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯১৮.
কাজী মোতাহার হোসেনের প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন গ্রন্থ কোনটি?
  1. কালান্তর
  2. সঞ্চয়ন
  3. অব্যক্ত
  4. ভবিষ্যতের বাঙালি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ সংকলন হলো — 'সঞ্চয়ন'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে।  

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা। 
- শিখা প্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''। 

তাঁর উলে­খযোগ্য অন্যান্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
- 'অব্যক্ত' একটি পুস্তক যা আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রচিত কুড়িটি প্রবন্ধের সংকলন। প্রবন্ধগুলো বৈজ্ঞানিক চিন্তার ফল।
- ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধটি লিখেছেন এস ওয়াজেদ আলি।
- রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন 'কালান্তর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯১৯.
‘মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর’- এ পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর’- পঙ্‌ক্তিটি ফজলল করিম রচিত ‘স্বর্গ ও নরক’ কবিতার অন্তর্গত।

- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় 'বাসনা' পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
- হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন ‘স্বর্গ ও নরক’ শীর্ষক কবিতাটি।


কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপে দেয়া হলো:

স্বর্গ ও নরক
শেখ ফজলল করিম
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? 
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর! 
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়, 
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরষ্পরে, 
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

--------------
• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
১,৯২০.
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবির নাম কী?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- মধ্যযুগের তিনজন যে উল্লেখযোগ্য মহিলা কবি রয়েছে তাদের মধ্যে চন্দ্রাবতী (১৬শ শতক) অন্যতম।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের  কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাঁথা প্রচলিত আছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২১.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নূরুলদীনের সারাজীবন
  2. খ) শ্যামল ছায়া
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য- নূরুলদীনের সারাজীবন
- কাব্যনাট্যের পটভূমি- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ।
- অপশনের বাকি উপন্যাসগুলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং এর রচয়িতা- হুমায়ূন আহমেদ।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- হুমায়ূন আহমেদের অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া।
- আগুনের পরশমণি।
- অনিল বাগচীর একদিন।
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১,৯২২.
'সব্যসাচী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. পথের দাবী
  3. চরিত্রহীন
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

১,৯২৩.
'আমার পথ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'আমার পথ' প্রবন্ধ:
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে। গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়িা।
১,৯২৪.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকটি কোন উপন্যাসের নাট্যরূপ?
  1. মালঞ্চ
  2. যোগাযোগ 
  3. শেষের কবিতা 
  4. বউ-ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা

• ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ গল্পের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেন।
-----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর সম্ভ্রান্ত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতামহ ছিলেন- প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুরবাড়ির সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় অনুকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে শৈশবকালেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- পরবর্তীতে তিনি ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর শিক্ষাদর্শনের বাস্তব রূপ।
- ১৯১৩ সালে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত ‘গীতাঞ্জলি’ (১৯১১) কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন;
- যা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে গৌরবান্বিত করেছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ—
বিসর্জন,
রাজা, 
ডাকঘর, 
অচলায়তন, 
চিরকুমার সভা, 
রক্তকরবী, 
তাসের দেশ, 
চিত্রাঙ্গদা, 
বৈকুণ্ঠের খাতা, 
শারদোৎসব, 
প্রায়শ্চিত্ত, 
বসন্ত, 
চণ্ডালিকা,
নটীর পূজা। 
------------------------------- 
‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটক নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’। 
- এই উপন্যাসের কাহিনি ও চরিত্র অবলম্বনে তিনি ১৯০৯ সালে ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকটি রচনা করেন।

- নাটকের প্রধান চরিত্র প্রতাপাদিত্য, উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়।
- এটি একটি ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নাটক। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যকে কেন্দ্র করে উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়ের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকে অত্যাচারী শাসক প্রতাপাদিত্যের দম্ভ ও কঠোরতার বিপরীতে উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়ের মানবিকতা, ন্যায়বোধ ফুটে উঠেছে। 
- এছাড়া নাটকটিতে কবি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের মূল ভাবটি প্রকাশ করেছেন। 
--------------------
উৎস:
‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৯২৫.
বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. কালিন্দী
  2. হাসুলীবাঁকের উপকথা
  3. আরোগ্য নিকেতন
  4. গণদেবতা
ব্যাখ্যা
• 'হাসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস
- 'হাসুলীবাঁকের উপকথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- উপন্যাসে বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। 

-------------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৬.
'শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা -
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সুকুমার রায়
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
 
তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯২৭.
বাংলা গদ্যসাহিত্যের আদি নিদর্শন 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত এই গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা - রামরাম বসু।
- ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটি ১৮০১ সালে মুদ্রিত হয়।

-----------------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৯২৮.
''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়'' - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়'' - পঙ্‌ক্তিটি কবি জসীম উদ্‌দীনের "কবর" কবিতা থেকে নেওয়া।

"কবর" কবিতার কিছু অংশ:

আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ্ দাদু, ‘আয় খোদা, দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নাজেল হয়।

'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থ থেকে 'কবর' কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
-কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে।

জসীম উদ্দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯২৯.
কোনটি সানাউল হক রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  2. বন্দর থেকে বন্দরে
  3. পথে প্রবাসে
  4. পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
 
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।
 
তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

অন্যদিকে,
• ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি।
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• 'পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা শহীদুল্লাহ কায়সার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩০.
রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) সম্প্রদান কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে নাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
আমরা আগে জেনে এসেছি, কারক ৬ প্রকার।
যথা - কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, সম্প্রদান কারক ও অধিকরণ কারক।

তবে মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১) অনুসারে, সম্প্রদান কারককে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংস্করণ অনুসারে, কারক ছয় প্রকার।
যথা - কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, অধিকরণ কারক ও সমন্ধ কারক
ড. হায়াৎ মামুদ তার ভাষা শিক্ষা বইয়ে, নিমিত্ত কারক নামে একটি কারকের শ্রেণি অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

মাধ্যমিক ব্যাকরণের নতুন সংস্করণ এবং হায়াৎ মামুদ সহ অনেক বইয়ে সম্প্রদান কারক নেই।
কারণ, সম্প্রদান কারকের তাত্ত্বিক বৈধতা স্বীকার্য নয়।
বাংলায় সম্প্রদান কারকের দরকার নেই - এই কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেকেই বলে গেছেন।

নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (২০২১) অনুসারে,
- সম্প্রদান কারককে কর্ম কারকের মধ্যে দেখানো হয়েছে।
- আর সম্বন্ধ পদকে সম্বন্ধ কারক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
১,৯৩১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) জননী
  2. খ) চিলেকোঠার সেপাই
  3. গ) দি আগলি এশিয়ান
  4. ঘ) ময়ুরাক্ষী
ব্যাখ্যা
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাস টির রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌।

• দি আগলি এশিয়ান
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহর (নাম নেয়া হয় নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।
- আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে।
- উপন্যাসটি চরমভাবে দৃষ্টির গুণে উপন্যাসটি মার্কিনবিরোধী।

• উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপর পড়েছিল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৩২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কোথায় হয়েছিল?
  1. পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি
  2. বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা
  3. কলকাতা
  4. ঢাকার বিক্রমপুর
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৩৩.
বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন ও সহজবোধ্য করে তুলেছেন
- তার আগে গদ্য কঠিন ও শিলাময় ছিল।

- বিদ্যাসাগর গদ্যে সুন্দর শব্দবিন্যাস, বাক্যগঠন এবং যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার চালু করেন।
- তিনি প্রথম যে বাংলা গদ্যের ছন্দ, সুর এবং ধ্বনির নিয়ম বুঝতে পেরেছিলেন, যা পাঠ্যকে আরও সুরবদ্ধ ও শিল্পসমৃদ্ধ করেছে।

- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যথাযথ যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর এই অবদানের জন্যই বাংলা গদ্য এখন আরও সাহিত্যসম্মত ও ভাব প্রকাশে সক্ষম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৯৩৪.
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনীর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যে প্রথম 'আত্মজীবনী' রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত আত্মজীবনীর নাম  "আত্মচরিত"। 

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৫.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) ধূমকেতু
  3. গ) নবযুগ
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
- ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক) ,
- লাঙল (সাপ্তাহিক),
- নবযুগ (দৈনিক)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৯৩৬.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত - কাব্যগ্রন্থ
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাতনরী হার' (১৯৫৫)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা: 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি', কোন এক মাকে।
- তিনি ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'চাচা কাহিনী' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

 'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে প্রধানতম। প্রায় প্রতিটি গল্পই বিদেশের পটভূমিকা রচিত।
- বিদেশে বিশেষ করে বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ বয়স্ক ছাত্রদের নিয়েই রচিত। অনেক গল্প। স্বয়ং লেখক যৌবনে বার্লিন প্রবাসী ছাত্র ছিলেন। সে সময়কার নানা কাহিনী গল্পাকারে পরিবেশন করেচেন চাচা কাহিনীতে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কলমে খাঁটি দেশী যাদু সেরা বিদেশী পলিশে সারাক্ষণ ঝকঝক করছে। চাচা কাহিনীর মতো এমন বিশুদ্ধ উপাদেয় আন্তর্জাতিক রসিকতা বাংলা ভাষায় অন্তত আগে কখনও পড়া যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৩৮.
বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক'- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'।

ধ্রুপদ:
ধ্রুপদ রাগসঙ্গীত বা শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের এক প্রধান শৈলী।
‘ধ্রুপদ’ শব্দ ‘ধ্রুবপদ’ শব্দের অপভ্রংশ। ‘ধ্রুব’ অর্থ স্থির, নির্দিষ্ট ও সত্য এবং ‘পদ’ অর্থ কথাযুক্ত গীত।
তাই ‘ধ্রুবপদ’ বা ‘ধ্রুপদ’ বলতে এক প্রকার ধীর, স্থির, গম্ভীর ও বীরত্বব্যঞ্জক সঙ্গীতকে বোঝায়।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। 
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

বিশেষ তথ্য:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন। 
- এ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পত্রে লিখা ছিলো - 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।" 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
- 'প্রমথ চৌধুরী' ছিলেন বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক এবং বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯৩৯.
'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হ্যানা ক্যাথরিন ম্যালেন্স
  2. কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারিচাঁদ মিত্র
  4. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- এটি ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রন্থ।
- কলিকাতা কমলালয় প্রকাশিত হয় ১৮২৩ সালে।
- এ গ্রন্থে তিনি কলকাতার জীবনযাত্রার পরিচয় তুলে ধরেন বিশেষ করে নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা। 
-----------------------

ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৭৮৭-১৮৪৮):
- লেখক, সাংবাদিক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা।
- কলকাতার নিকট একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
-  ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ছাপাখানা কিনে ১৮২২ সালের মার্চ মাসে সমাচার চন্দ্রিকা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং এ পত্রিকা রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্রে পরিণত হয়। 
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ১৮২৫ সালে প্রকাশিত নববাবুবিলাস এবং ১৮৩১ সালে নববিবিবিলাস অন্যতম।
- নববাবুবিলাস গ্রন্থে তিনি নব্যধনীদের অসংযমী জীবনযাত্রাকে বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে দূতীবিলাস (১৮২৫), শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ (১৮৩১) এবং আশ্চর্য্য উপাখ্যান (১৮৩৫) উল্লেখযোগ্য।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪০.
সত্যেন সেন কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. শিল্পী সংসদ
  2. রবিরশ্মি
  3. ছায়ানট
  4. উদীচী
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪১.
'সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়  'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' রচনা করেন ১৯২৯ সালে।
বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে আছে,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অব মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৪২.
'অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ' চরণটির কবি-
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. ফররুফ আহমেদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ' চরণটির কবি - জীবনানন্দ দাশ

অদ্ভুত আঁধার এক,
--- জীবনানন্দ দাশ

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্‍‌ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'অদ্ভুত আঁধার এক' কবিতা, জীবনানন্দ দাশ।
১,৯৪৩.
সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হওয়া নজরুলের একটি কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) সর্বহারা
  2. খ) জিঞ্জির
  3. গ) প্রলয়শিখা
  4. ঘ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের ৫ টি গ্রন্থ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত ঘোষিত হয়।
সেগুলো হলোঃ
- যুগবাণী,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা,
- বিষের বাঁশি এবং
- চন্দ্রবিন্দু।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১,৯৪৪.
বিখ্যাত 'নীল-দর্পণ' নাটকটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র কতৃক ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- নীল দর্পণ নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশ স্থান, মুদ্রনকাল, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশে দীনবন্ধুর নাম ছিল না, গ্রন্থাকারে তা গুপ্ত রাখা হয়।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
- গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তা প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস্‌ লঙ।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্রগুলির স্বাভাবিকতার গুণের জন্য অনেকে একে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৫.
শামসুর রাহমান রচিত “বন্দী শিবির থেকে” একটি-
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- শামসুর রাহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তাঁর লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। কবি ১৯৭১ সালে শরনার্থী শিবিরে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে বন্দি হিসেবে ভাবেন।

----------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৬.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ কোনটি?
  1. হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব
  2. প্রতিধ্বনি
  3. হুইটম্যানের কবিতা
  4. মণি মঞ্জুষা
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ - হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

অন্যদিকে, 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্য - প্রতিধ্বনি।
- সৈয়দ আলী আহসান চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ - হুইটম্যানের কবিতা।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্য - মণি মঞ্জুষা।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব,
- ইবসেনের বুনো হাঁস,
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১,৯৪৭.
'বিদ্যোৎসাহিনী সভা'- কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- এখানে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- তাঁর পিতামহ শান্তিরাম সিংহ ছিলেন জোড়াসাঁকো জমিদারির দীউয়ান।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। 
সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৪৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ এর রচয়িতা  আনোয়ার পাশা।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।
- উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৯৪৯.
নিচের কোন কবি আধুনিক যুগের নন?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আধুনিক যুগের কবি নন।
- উল্লেখিত প্রশ্নে তিনি ছাড়া সকলে আধুনিক যুগের কবি।

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি হলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ও প্রথম নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তিনি হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে বাস করতেন।
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) জমিদার ছিলেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
- তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- এছাড়াও তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম- সত্য পীরের পাঁচালি।

• তাঁর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হল:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে- উক্তিটি তিনি ঈশ্বরী পাটনী’র( কাব্যের চরিত্র) মুখ দিয়ে একথা বলিয়েছেন। 
- এখানে হিন্দি শব্দ পাটনী এর অর্থ-খেয়ামাঝি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া
১,৯৫০.
‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন। এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মধুসূদন দত্তের নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫১.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কী ধরনের রচনা? 
  1. পত্রকাব্য
  2. গাথা কাব্য
  3. উপাখ্যান
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- মা যে জননী কান্দে 

তাঁর রচিত নাটক
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- হাসু
- এক পয়সার বাঁশী
- ডালিমকুমার

তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস: বোবা কাহিনী

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
১,৯৫২.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা?
  1. এস. ওয়াজেদ আলী
  2. আবুল হাসেম
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।

--------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না ও
- ফুড কনফারেন্স।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৩.
কোনটি শওকত ওসমানের নাটক?
  1. পিঁজরাপোল
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. রাজসাক্ষী
ব্যাখ্যা

- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত একটি নাটকঃ
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৯৫৪.
‘মুকুল' আবদুল্লাহ আল-মুতী’র কোন ধরনের সাহিত্য সম্পাদনা?
  1. প্রবন্ধ গবেষণা
  2. আত্মজীবনী
  3. দিনলিপি
  4. ছোটদের ম্যাগাজিন
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৫.
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জীবনানন্দদাশ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 
- পঙক্তিদ্বয় বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

- কবিতার কিছু অংশ-বিশেষ:

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

• বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা, 
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৫৬.
কোনটি 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ইন্দ্রনাথ
  2. অন্নদিদি
  3. রাজলক্ষ্মী
  4. রমেশ
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- ইন্দ্রনাথ,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদিদি

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৭.
"হাজার বছর ধরে" উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৬৬ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

হাজার বছর ধরে:
- জহির রায়হানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - 'হাজার বছর ধরে'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ ছিল উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।

জহির রায়হান:
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
-  ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনও আসেনি মুক্তি পায়। 
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- শেষ বিকালের মেয়ে;
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- আরেক ফাল্গুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৫৮.
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটি কে রচনা করেছেন?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটি আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেছেন। 

একুশের গান
- আবদুল গাফফার চৌধুরী এই গানটি রচনা করেন।
- তিনি একজন সাংবাদিক ও লেখক।
- প্রথমে আবদুল লতিফ গানটিতে সুর দেন, পরে আলতাফ মাহমুদের সুরই সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায়।
- আলতাফ মাহমুদের সুরে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটি প্রথম গাওয়া হয়; এটিই এখন প্রাতিষ্ঠানিক সুর।

আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচনা:
- উপন্যাস: চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম), নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রাত্রির চাঁদ। 
- গল্পগ্রন্থ: সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর। 
- সম্পাদনা গ্রন্থ: বাংলাদেশ কথা কয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৯৫৯.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মধুসূদন দত্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬০.
‘কাবিলের বোন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৬১.
‘অল্পদর্শী’ কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে আবু জাফর শামসুদ্দীন বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

• আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ছদ্মনাম: 
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম-'সুনন্দ'। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'হাবু শর্মা'।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন। 
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো - দৃষ্টিহীন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৬২.
‘তাপসমালা’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. জীবনচরিত
  4. কাহিনিকাব্য
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তাজকেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৬৩.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রজনীর চাঁদ, কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর, ডানপিটে শওকত, বাংলাদেশ কথা কয়, পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (২০০৭)- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী।
১,৯৬৪.
কোনটি গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. হাসনাহেনা
  2. আমার চিন্তাধারা
  3. ইসলাম ও জেহাদ
  4. বিশ্বনবী
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' গল্পের একটি বিখ্যাত চরিত্র-
  1. বিনোদিনী
  2. হৈমন্তী
  3. আশালতা
  4. চারুলতা
ব্যাখ্যা
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র 'চারুলতা'।

• এই গল্পের অন্য দুটি চরিত্র:
- অমল ও
- ভূপতি।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' উপন্যাসের চরিত্র-  আশালতা ও বিনোদিনী।
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'হৈমন্তী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প।
১,৯৬৬.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. মেঘমল্লার
  2. মৌরিফুল
  3. পথের পাঁচালী
  4. যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• ‘পথের পাঁচালী’ হলো লেখকের রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
-----------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল । 
--------------
• ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের উপজীব্য:  
- ‘পথের পাঁচালী ‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ইছামতি, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
১,৯৬৭.
”সাম্প্রদায়িকতা” প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
বদরুদ্দীন উমর:
- ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৯৬৮.
‘ব্যাকরণকৌমুদী’ কে রচনা করেন?
  1. ক) ড. হুমায়ন আজাদ
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সিদ্ধান্তকৌমুদী ও মুগ্ধবোধ প্রভৃতি ব্যাকরণের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৩ সালে ‘ব্যাকরণকৌমুদী’ রচনা করেন। এতে বাংলা ব্যাখ্যা সংযোজিত হওয়ায় এবং শব্দরূপ-ধাতুরূপাদির সহজ বিন্যাস থাকায় ব্যাকরণ চর্চা সহজ হয়।

• বাংলা বৈয়াকরণেরাও সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মগুলো ভালোভাবে জানবার সুযোগ পান। শব্দরূপ ও ক্রিয়ারূপের বিন্যাস, সন্ধি, সমাস, ধাতুর গণবিভাগ ইত্যাদি বহু বিষয়ে বাংলা ব্যাকরণ বিদ্যাসাগরের ‘ব্যাকরণকৌমুদী’র কাছে ঋণী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৯৬৯.
‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. তৌকির আহমেদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত আলী
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• ‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা - শওকত আলী

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
১,৯৭০.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস-
  1. ক) জলাঙ্গী
  2. খ) শ্যামল ছায়া
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস-জোসনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমনি, সূর্যের দিন ও অনিল বাগচীর একদিন।
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’।
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,৯৭১.
'আর্ত শব্দাবলী' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রফিক আজাদ 
  2. গোলাম মোস্তফা 
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমানের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:

- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক। তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৭২.
"মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে।"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. আবুল ফজল
  2. মাহাবুব উল আলম চৌধুরী
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• "মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে।"- পঙ্‌ক্তিটি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর লেখা "মাগো, ওরা বলে" কবিতার অংশ।  
- এই কবিতাটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। 
- কবিতাটিতে মায়ের কাছে সন্তানের আকুতি এবং ভাষার অধিকার কেড়ে নেবার চেষ্টার প্রতিবাদের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  

“মাগো, ওরা বলে" কবিতার অংশবিশেষ-

“মাগো, ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা,
তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জন্য
কথার ঝুরি নিয়ে
তবেই না বাড়ি ফিরবো।

অন্যদিকে, 
• 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং “মাগো, ওরা বলে" কবিতা।
১,৯৭৩.
হুমায়ূন আহমেদের পৈত্রিক বাড়ি কোথায়?
  1. কেন্দুয়া
  2. মোহনগঞ্জে
  3. পূর্বধলা
  4. খালিয়াজুড়ি
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৭৪.
‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।' - উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে করেছিলেন?
  1. বারীন্দ্রকুমার ঘোষের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম
  2. চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।'

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জাগোনিউজ২৪.কম
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ০২ মার্চ, ২০২৪।
১,৯৭৫.
'কাকাবাবু' সিরিজের লেখক কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) সমরেশ মজুমদার
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রফুল্ল রায়
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে 'কাকাবাবু' নামে একটি অনন্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। 
- এই চরিত্র অবলম্বনে অনেকগুলো উপন্যাস রচিত হয়েছে। 
- বাংলা সাহিত্যে 'কাকাবাবু' একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। 
- শিশু কিশোরদের কাছে 'কাকাবাবু' সিরিজের উপন্যাসগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। 
- এই সিরিজের কোন কোন উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। 
- 'কাকাবাবু' সিরিজের উপনাস: 'সবুজ দ্বীপের রাজা', 'কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য', 'কাকাবাবু ও বজ্রগামা', 'সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়', 'বিজয় নগরেরহীরে', 'জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল'  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৯৭৬.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. গ) বহিপীর (নাটক)
  4. ঘ) মহাশ্মশান (কাব্য)
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম।

এছাড়া,
- কবি জসীমউদদীনের কাহিনীকাব্য - সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশশ্মান (মহাকাব্য)
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৭.
মুনীর চৌধুরীর 'কবর' নাটকের পটভূমি-
  1. দেশভাগ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

---------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৭৮.
'চাঁদের আমাবস্যা' - উপন্যাসে স্কুল মাস্টার কে?
  1. ক) খতিব মিয়া
  2. খ) আরেফ আলী
  3. গ) আক্কাস আলী
  4. ঘ) আবদুল কাদের
ব্যাখ্যা
• চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন |
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |

- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। - একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

তার লিখিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু (১৯৪৮)
- কাঁদো নদী কাঁদো
- The Ugly Asian

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৭৯.
আহমদ শরীফের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আলাওলের ‘সিকান্দরনামা’
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ‘লায়লী-মজনু’
  3. গ) জয়েনউদ্দীনের ‘রসুলবিজয়’
  4. ঘ) আফজল আলীর ‘নসিহতনামা’
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফের সম্পাদনাগ্রন্থঃ ষোল শতকের কবি দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ‘লায়লী-মজনু’ (বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, ১৯৫৭),
পুথি পরিচিতি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, ১৯৫৮),
আলাওলের তোহফা (১৯৫৮) ও সিকান্দরনামা (১৯৭৭),
মুহম্মদ খানের সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ (১৯৫৯),
মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১),
জয়েনউদ্দীনের রসুলবিজয় (১৯৬৪),
মুজাম্মিলের নীতিশাস্ত্রবার্তা (১৯৬৫),
মধ্যযুগের রাগতালনামা (১৯৬৭), বাঙলার সূফীসাহিত্য (১৯৬৯),
আফজল আলীর নসিহতনামা (১৯৬৯), বাউলতত্ত্ব (১৯৭৩),
সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, রসুলচরিত (১৯৭৮) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
১,৯৮০.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. অতসীমামী
  2. জননী
  3. জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
  4. দিবারাত্রির কাব্য 
ব্যাখ্যা

- জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গ্রন্থ নয়।

• জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প: 

- হুমায়ুন আহমেদ এর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮–২০১২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
∗ নন্দিত নরকে,  
∗ শঙ্খনীল কারাগার, 
∗ দেবী, 
∗ বাদশাহ নামদার।

- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
∗ শ্যামল ছায়া, 
∗ আগুনের পরশমণি, 
∗ ১৯৭১ ও জোছনা ও জননী।
∗ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত উপন্যাস হলো দেয়াল।
--------------------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী (১৯২৮) প্রকাশিত হয়।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

∗ তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে: 
প্রাগৈতিহাসিক;
- এই ছোটগল্পের ঐতিহাসিক চরিত্র: পাচী, ভিখু ও পেহলাদ।

উৎস:
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৯৮১.
আলাউদ্দিন আল আজাদের কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. মানচিত্র
  2. কর্ণফুলী
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. ক্ষুধা ও আশা
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮২.
বাংলা আধুনিক উপন্যাস-এর প্রবর্তক ছিলেন- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা আধুনিক উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৩.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) সংবাদ প্রভাকর
  3. গ) সবুজ পত্র
  4. ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গদ্য গ্রন্থ। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ প্রবোধ চন্দ্রিকা।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১,৯৮৪.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের কত নম্বর কাব্য?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। এটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
কাহিনি : রামায়ণ থেকে নেওয়া হয়েছে। 
উৎসর্গ : রাজা দিগম্বর মিত্র, যিনি মুদ্রণের ব্যয় বহন করেছেন। 
স্থায়িত্বকাল : ৩ দিন ২ রাত। 
সর্গ : নয়টি সর্গ।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৯৮৫.
ফররুখ আহমেদ কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন?
  1. কল্লোল
  2. হাফেজ
  3. মিহির
  4. মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
- ফররুখ আহমেদ মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।

অন্যদিকে,
- হাফেজ পত্রিকার সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম।
- 'মিহির' পত্রিকার সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক দীনেশচন্দ্র দাস।

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮৬.
'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) জসীম উদ্‌দীন
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) দিলারা হাসেম
ব্যাখ্যা
- 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন- গোলাম মোস্তফা

• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ।
- খোশরোজ।
- কাব্য-কাহিনী।
- সাহারা।
- হাসনাহেনা।
- বুলবুলিস্তান।
- তারানা-ই-পাকিস্তান।
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৮৭.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' এই সংলাপটির স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৯৮৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম কী ছিলো?
  1. গৌরীশংকর
  2. অপু
  3. তপু
  4. বনমালী
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো — অপু। 

- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
• হৈমন্তী (শিশির),
• গৌরীশংকর,
• অপু,
• বনমালী প্রমুখ।

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি -
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি।
-------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৯৮৯.
"কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• "কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'অমিয় চক্রবর্তী'। 

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
------------- 
• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
• খসড়া,
• এক মুঠো,
• মাটির দেয়াল,
• অভিজ্ঞান বসন্ত,
• অনিঃশেষ ইত্যাদি।
----------------
কবিতাংশ:
কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে,আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তর্লীন
বাণী শোনো প্রাত্যহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে,পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে;পুন্যাহের সানাই রজ্ঞিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়,মাঝি
পাল তোলে,তাঁতি বোনে,খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে-শ্রমসঙ্গী নানাজাতি ধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ (সংক্ষেপিত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'বাংলাদেশ' কবিতা।
১,৯৯০.
নিচের কোনটি গোয়েন্দাভিত্তিক রচনা?
  1. ক) লাল ফুলকি
  2. খ) জাল
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) যাত্রা
ব্যাখ্যা
• গোয়েন্দাভিত্তিক রচনা জাল।
- উপন্যাসটির রচয়িতা আবু ইসহাক।  
- এটি তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস। 

• আবু ইসহাক ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯১.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. খ) সূর্য দীঘল বাড়ি
  3. গ) অরণ্য নীলিমা
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ি, পদ্মার পলিদ্বীপ ও জাল। অরণ্য নীলিমা আহসান হাবীবের উপন্যাস এবং সংকর সংকীর্তন উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন। সূর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
১,৯৯২.
নিচের কোন উপন্যাসের উপজীব্য ‘পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ’?
  1. ক) বোবা কাহিনী
  2. খ) বাঁধন হারা
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর কোনটিই নয়।

- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা।
- যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন।

বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের লেখা উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।

এবং, কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১,৯৯৩.
'দেশপ্রেমিক' ও 'বিশ্বকর্মা' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুকুমার রায়
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার
- তার প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা।
- তিনি একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। 
- শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা আন্দোলনে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে ১৯৫২ সালের ৩ জুন তিনি গ্রেফতার হন।
- তিনি ১৯৪৯ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন৷

- শহীদুল্লা কায়সার সংবাদ পত্রিকায় 'দেশপ্রেমিক' ছদ্মনামে রাজনৈতিক পরিক্রমা এবং 'বিশ্বকর্মা' ছদ্মনামে বিচিত্র কথা এই দুটি কলাম লিখতেন।

- তিনি ১৯৬৯ সালে উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক এবং সাহিত্যে ১৯৯৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- ১৪ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে তাঁকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে আইয়ুব সরকার। এরপর তিনি মুক্তি পেলেন ১৯৬২ সালের অক্টোবরে। 
- এই সময় কারাগারে বসেই তিনি লিখেন তাঁর অমর উপন্যাস 'সারেং বৌ', যা কারাগার মুক্তি হওয়ার এক মাস পরে ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে ছাপা হয়।  
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'সংশপ্তক'(১৯৬৫), স্মৃতিকথা 'রাজবন্দীর রোজনামচা'ও  কারাগারে বসেই লিখেছিলেন।  

♦ অন্যান্য উপন্যাস: 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ, 
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন, 
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

♦ স্মৃতিকথা: 
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

♦ ভ্রমণকাহিনী: 
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তথ্যসূত্র - প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ওয়েবসাইট।

১,৯৯৪.
মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতির সাথে সেলিম আল দীন কোন নাটক রচনার পর্বে পরিচিত হন?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. কিত্তনখােলা
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. কেরামতমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- ‘কিত্তনখোলা’ নাটক রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।

১,৯৯৫.
কারবালার যুদ্ধের করুণ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. ইতিহাসমালা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা
• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস: 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয়নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত। তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।

- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।

- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।

- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

--------------------
অন্যদিকে,
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।

• ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি ‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতায় পাওয়া যায়। তবে মূলত মুসলমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

• 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ। বাংলা ভাষায় এবং আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ। গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৬.
'মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষত (বইপড়া)।
- ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে (ভাষার কথা)।
- জীবনে জ্যাঠামি, সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতে পারতেন না-প্রমথ চৌধুরী (সাহিত্যে খেলা)।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন। 
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে (সাহিত্যে খেলা)।
- ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৯৯৭.
কোন লেখকের প্রকৃত নাম ‘মইনুদ্দিন আহমেদ’?
  1. শামসুর রহমান
  2. মনিরুজ্জামান
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে, 
- মুক্তিযুদ্ধকালে শামসুর রহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- ‘সত্যপীর’ - সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম।
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

সেলিম আল দীন: 
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়। 
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়। 
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৯৯৮.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস -
  1. তারাবাঈ
  2. স্পেন বিজয় কাব্য
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা ছিলেন।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৯৯৯.
‘অশীতিপর শর্মা’ ছদ্মনামে কে লেখেন?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• ‘অশীতিপর শর্মা’ ছদ্মনামে লিখতেন - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মরনাম - কালকূট।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,০০০.
'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. জহির রায়হান 
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

​তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।