বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা৪৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৭৪ / ১৭৪ · ১৭,৩০১১৭,৩৪৮ / ১৭,৪৩৭

১৭,৩০১.
“টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" - উক্তিটি কোন গল্পের?
  1. মহেশ
  2. সতী
  3. বিলাসী
  4. মন্দির
ব্যাখ্যা

বিলাসী:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,৩০২.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. শহরতলী
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. সার্বজনীন
  4. প্রাগৈতিহাসিক
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী'।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী (১৯৩৫),
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫),
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬),
- শহরতলী (১৯৪০-৪১),
- চিহ্ন (১৯৪৭),
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮),
- সার্বজনীন (১৯৫২),
- আরোগ্য (১৯৫৩)

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩০৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে কবে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রী প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
'১৯৭৪ সালে'-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রী প্রদান করা হয়। 

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু তত্ত্ব: 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩০৪.
"জাহাঙ্গীর" কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের নায়ক?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাঁধনহারা
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'
→ এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: কুহেলিকা, তাহমিনা, চম্পা, ফিরদৌস বেগম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩০৫.
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মহামানব মুহসীন
  2. মণিচয়নিকা
  3. মরুভাস্কর
  4. মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মরুভাস্কর' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি এ প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হযরত ছিলেন মানুষের নবি। তাই মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী:
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (১৮৯৬-১৯৫৪) সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৩০৩ বঙ্গাব্দের (১৮৯৬) ২৮ ভাদ্র সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- বিশ শতকের মধ্যভাগে প্রাঞ্জল ভাষায় প্রবন্ধ রচনা করে যাঁরা খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মরুভাস্কর,
- মহামানব মুহসীন,
- মোহাম্মদ আলী,
- মণিচয়নিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাএকাডেমি।
১৭,৩০৬.
মুক্তিযুদ্ধনির্ভর রচনা কোনটি?
  1. নূরলদীনের সারা জীবন
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. সূর্য দীঘল বাড়ি
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
- উপন্যাসটির প্রথম সংস্করণ একুশে বই মেলাতে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা কিছু জনপ্রিয় উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া
- অনিল বাগচির একদিন।

-----------------
অন্যদিকে, 
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য 'নূরলদীনের সারা জীবন'। রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
• আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' উপন্যাসটি বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশ বিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩০৭.
তোতা ইতিহাস কে রচনা করেন?
  1. ক) চণ্ডীচরণ মুন্সি
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৪ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন।
• তাদের মধ্যে অন্যতম হলো চণ্ডীচরণ মুন্সি
তোতা ইতিহাস -চণ্ডীচরণ মুন্সি।
• বাংলা ভাষায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ যা প্রকৃতপক্ষে কাদির বখশ রচিত ফার্সি গল্পগ্রন্থ তুতিনামা-এর বঙ্গানুবাদ।
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার শিক্ষক চণ্ডীচরণ মুনশী ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে এই অনুবাদ কর্ম সম্পাদন করেন।

- তাছাড়া--
• রামরাম বসু 
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
- লিপিমালা 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
- বত্রিশ সিংহাসন
- হিতোপদেশ 
- রাজাবলি 
- বেদান্তচন্দ্রিকা 
- প্রবোধচন্দ্রিকা 
• তারিণীচরণ মিত্র - ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট

সূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর ) ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩০৮.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১৪ সালে
  2. ১৮১৮ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা: 
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। 
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,৩০৯.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' - পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ- ভবানন্দ খণ্ড। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩১০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. লীলাময় রায়
  2. অনিলা দেবী
  3. ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ
  4. শ্রী চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩১১.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. নীলফামারী
  2. ঢাকা
  3. রংপুর
  4. কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কর্তৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩১২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদীর মাঝি:
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে এবং বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামাঞ্চল।
- এতে দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুবের নামে একজন মাঝি, কপিলা, মালা ও হোসেন মিয়া এবং তাদের জীবন সংগ্রাম।
- ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,৩১৩.
'সপ্তপদী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- সপ্তপদী,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- চাপাডাঙ্গার বউ,
- একটি কালো মেয়ের কথা (সর্বশেষ উপন্যাস ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস)।
• ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
• তাঁর রচিত গল্পঃ
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা,
- তারিণী মাঝি ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,৩১৪.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘আরোগ্য’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) একজন কথাসাহিত্যিক।
১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ: উপন্যাস- জননী (১৯৩৫), দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬), শহরতলী (১৯৪০-৪১), চিহ্ন (১৯৪৭), চতুষ্কোণ (১৯৪৮), সার্বজনীন (১৯৫২), আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি।
আর ছোটগল্প- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ (১৯৩৯), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া (১৯৪৫), আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০), ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৭,৩১৫.
ফজল ও এরফান মাতব্বর চরিত্র আবু ইসাহাক রচিত কোন উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. খ) জাল
  3. গ) মহাপতঙ্গ
  4. ঘ) পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
⇒ 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
• আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
• ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
• উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল ‘মধুর মাটি’।
• অনেক পরে আবু ইসাহাক উপন্যাসটি বত্রিশটি অধ্যায়ে সমাপ্ত করেন এবং এর নামবদল করে দেন ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’।
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। পদ্মা নদীকে বলা হয় 'কীর্তিনাশা'। কারণ চাঁদ রায় - কেদারায় - রাজবল্লভ প্রমুখ বারভুঁইয়া দের কীর্তি এ নদী ধ্বংস করেছে।
• এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রূপজান ইত্যাদি।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩) ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩১৬.
'নৌকাডুবি' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. দিগদর্শন
  3. বঙ্গদর্শন
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বৌঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি।

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৭,৩১৭.
কোন উপন্যাসে ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌?
  1. ক) রাঁচী যোগে মোটর সফর
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) গ্রানাডার শেষ বীর
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,৩১৮.
'আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত, ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত।' - কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• উক্ত উদ্ধৃতাংশটি:
"আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত,
ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত।"
— "কৃষাণের গান" কবিতার অংশ, যার রচয়িতা হলেন: কাজী নজরুল ইসলাম।

• প্রশ্নে উল্লিখিত পঙক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কৃষাণের গান’ থেকে নেওয়া। এই কবিতাটি নজরুলের বিদ্রোহী সুর ও শোষিত-বঞ্চিত কৃষক সমাজের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ। কবিতাটি কৃষকদের দুর্দশা, শোষণ, এবং তাদের প্রতিরোধের আহ্বানকে তুলে ধরে, যা নজরুলের বিপ্লবী ও সমাজচেতনামূলক কাব্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
-  আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া।
-----------------------
কৃষাণের গান- কবিতা;

ওঠ রে চাষি জগদ্‌বাসী ধর কষে লাঙল।
আমরা মরতে আছি – ভালো করেই মরব এবার চল॥
  
মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্য-ভরা দেশ
ওই বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ,
ও ভাই লক্ষ হাতে টানছে তারা লক্ষ্মী মায়ের কেশ,
আজ মা-র কাঁদনে লোনা হল সাত সাগরের জল॥
  
ও ভাই আমরা ছিলাম পরম সুখী, ছিলাম দেশের প্রাণ
তখন গলায় গলায় গান ছিল ভাই, গোলায় গোলায় ধান,
আজ কোথায় বা সে গান গেল ভাই কোথায় সে কৃষাণ?
ও ভাই মোদের রক্ত জল হয়ে আজ ভরতেছে বোতল।
  
আজ চারদিক হতে ধনিক বণিক শোষণকারীর জাত
ও ভাই জোঁকের মতন শুষছে রক্ত, কাড়ছে থালার ভাত,
মোর বুকের কাছে মরছে খোকা, নাইকো আমার হাত।
আর সতী মেয়ের বসন কেড়ে খেলছে খেলা খল॥

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩১৯.
‘পঞ্চতন্ত্র’ রম্যরচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪)  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন। প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন। এইসব প্রবন্ধ ‘বসুমতী’ ও ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে।
• গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায় ;

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহ্র-ইয়ার;

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩২০.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম  বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. সমকাল
  2. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  3. মোসলেম ভারত
  4. মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

• সমাচার সভারাজেন্দ্র: 
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,৩২১.
কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয়? 
  1. চতুষ্কোণ
  2. মহুয়া
  3. ক্ষণিকা
  4. উৎসর্গ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ - উৎসর্গ, ক্ষণিকা, মহুয়া

অন্যদিকে,
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - চতুষ্কোণ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩২২.
‘কিত্তনখোলা’ নাটকের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিম আল দীন কোন এলাকার লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি ও নিসর্গের সাথে পরিচিত হন?
  1. রাজশাহী
  2. ফরিদপুর
  3. মানিকগঞ্জ
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। - মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
১৭,৩২৩.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. ঘ) উইলিয়ম কেরী
ব্যাখ্যা

 ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০)  প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- গভর্নর Warren Hastings-এর অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড তাঁর দ্বিতীয় প্রকল্প বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনায় ব্যাপৃত হন। তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।

-  পর্তুগিজ ধর্মযাজক মানোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ (Manoel da Assumpcam) পর্তুগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। তিনি ১৭৩৪-৪২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন।
- উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ A Grammar of the Bengali Language (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

উল্লেখ্য,
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা - মানোএল দ্যা আসসুম্পসাও।
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা - নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচয়িতা - রাজা রামমোহন রায়।

১৭,৩২৪.
নিচের কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. রসকলি
  2. কালিন্দী
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
• 'রসকলি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- একটি কালো মেয়ের কথা

- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩২৫.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা কোনটি?
  1. সম্বাদ কৌমুদী
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. ভারতমিত্র
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা হচ্ছে সম্বাদ কৌমুদী। 

রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২/৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- তিনি ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), সম্বাদ কৌমুদী (১৮২১) এবং পারসি ভাষায় মিরাত-উল-আখবার নামক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- সম্বাদ কৌমুদীতে তিনি সামাজিক ও হিন্দুধর্মীয় রক্ষনশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এই পত্রিকাটি ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ। 

অন্যদিকে,
- সংবাদ প্রভাকর: এটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক সম্পাদিত ছিল।  
- ভারত মিত্র: এটি একটি পত্রিকা ছিল যা পরে বিনোদবিহারী দত্ত দ্বারা সম্পাদিত হয়।  
- তত্ত্ববোধিনী: এই পত্রিকাটি মূলত অক্ষয়কুমার দত্ত কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৭,৩২৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'নষ্টনীড়' এর নায়িকা -
  1. চারুলতা
  2. সুরবালা
  3. মৃন্ময়ী
  4. চন্দরা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'নষ্টনীড়' এর নায়িকা- চারুলতা।

অন্যদিকে, 
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'। সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর, তবে তীব্র ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী চরিত্র এই চন্দরা।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৭,৩২৭.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বসন্তকুমারী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. টালা অভিনয়
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
’উদাসীন পথিকের মনের কথা’ উপন্যাস:
- এটি মশাররফ হোসেনের রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
- ’উদাসীন পথিক’ ছদ্মনামে তিনি এটি রচনা করেন।
- গ্রন্থটিতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩২৮.
'বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য' গ্রন্থের সম্পাদক-
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আহমদ শরীফ
  3. গ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
'বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য' গ্রন্থের সম্পাদক - মুহম্মদ আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা।



সূত্র: 'বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য' গ্রন্থ
১৭,৩২৯.
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত 'পুঁই ডালিমের কাব্য' কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে রচিত? 
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ
  3. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দীন আবুল কালামের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ- পুঁই ডালিমের কাব্য।
-------------------------------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭) বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

- শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- কাশবনের কন্যা,
- ভাওয়াল গড়ের উপকথা,
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।
----------------------------------------------
পুঁই ডালিমের কাব্য সম্পর্কিত তথ্য:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ মূলত মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্রামীণ জীবন ও সাধারণ মানুষের সংগ্রাম নিয়ে লেখা একটি গ্রন্থ।
- এতে গ্রাম বাংলার জীবন-মৃত্যুর টানাপোড়েন, আদর্শের সংঘাত এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিত্রিত হয়েছে।
- এ গ্রন্থে দেখানো হয়েছে কীভাবে শান্তিপ্রিয় মানুষও যুদ্ধের নির্মমতার শিকার হয়।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের অত্যাচারও এতে বর্ণিত হয়েছে।
- অত্যাচারের মধ্যেও মানুষ মুক্তির স্বপ্ন দেখে এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়।
- এটি শুধু যুদ্ধের গল্প নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং সংগ্রাম ও সাহসের কাব্যিক আখ্যান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৭,৩৩০.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' —উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. খ) জোশুয়া মার্শম্যান
  3. গ) হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা

- হেনরি লুই ডিরোজিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে হিন্দু কলেজের শিক্ষানুরাগী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন ছাত্রদেরকে সমকালীন কলকাতার সমাজ ‘ইয়ং বেঙ্গল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।
- হেনরি লুই ডিরোজিও ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সূচনা করেন। এ জন্যে তিনি ১৮২৮ সালে ‘একাডেমি অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও৷ তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিলো-
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

সোর্সঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,৩৩১.
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. রশীদ করীম
  3. রাজিয়া খান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• রশীদ করীম:
- ১৯২৫ সালে ১৪ ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের, 
- সেলিনা, 
- অণিমা, 
- শেখর,
- সলিল,
- চন্দ্রা,
- শিশির প্রমুখ। 
---------------------------- 
রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৩২.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. নবীন তপস্বিনী
  2. কমলে কামিনী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৩৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'চাঁদের অমাবস্যা' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• চাঁদের অমাবস্যা:
- এটি মনঃসমীক্ষণমূলক অস্তিত্ববাদী উপন্যাস।
- আরেফ আলী নামের এক স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের চেতনাগত জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি এ উপন্যাসের মূল বিষয়।
- এক জ্যোৎস্না রাতে আরেফ আলী ঘর থেকে বের হয়ে দেখে বাঁশঝাড়ের ভেতর এক নগ্ন যুবতির লাশ পড়ে আছে।
- পাশে দণ্ডায়মান কাদের মিয়া (আরেফ আলী যে বাড়িতে আশ্রিত সেই বাড়ির মালিক)।
- এখানে আরেফ আলী কী করবে?
- সে কি সবাইকে জানিয়ে দিবে সত্য ঘটনা? 
- যদি জানায় তাহলে তার আশ্রয়চ্যুতি ঘটবে, নিজের উপর ও চেপে যেতে পারে সে অপরাধ।
- আর না বললে সে মনে মনে অস্থির হয়ে যায়।
 - উপন্যাসের চরিত্র: আরেফ আলী, কাদের (দরবেশ), আলফাজ উদ্দিন (দাদা সাহেব)।
-------------------------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো।

•  তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৩৪.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. লক্ষণ
  2. জয়গুন
  3. বাকের
  4. ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
-জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৩৫.
বাংলা কবিগান রচয়িতা এন্টনি ফিরঙ্গি জাতিতে কী ছিলেন?
  1. পর্তুগিজ
  2. ব্রিটিশ
  3. ডাচ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল। 
- তাঁর  প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। 
- তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৭,৩৩৬.
কোন লেখক 'সুনন্দ' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  2. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4.  নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'সুনন্দ' ছদ্মনামে লিখতেন - নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

অন্যদিকে,
‘দৃষ্টিহীন’ দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম। 
‘জরাসন্ধ’ চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম।
'দাদাভাই; বাণভট্ট' ছদ্মনামে লিখতেন - নীহাররঞ্জন গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,৩৩৭.
জসীমউদ্‌দীন কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৩৮.
’মোদের গরব, মোদের আশা/আ-মরি বাংলা ভাষা’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন, ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক।
- ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- বাল্যকালে পিতৃহীন হয়ে অতুলপ্রসাদ ভগবদ্ভক্ত, সুকণ্ঠ গায়ক ও ভক্তিগীতিরচয়িতা মাতামহ কালীনারায়ণ গুপ্তের আশ্রয়ে প্রতিপালিত হন।
- পরবর্তীকালে মাতামহের এসব গুণ তাঁর মধ্যেও সঞ্চারিত হয়।

- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন, তাতে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের সুর আছে: ‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে’।
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,৩৩৯.
কোনটি জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয়?
  1. গ্রামের মায়া
  2. বেদের মেয়ে
  3. পদ্মাপাড়
  4. সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক নয় - সাঁঝের মায়া
- এটি সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ।

জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৪০.
"আমার মন্দির যে শূন্য থাকবার জন্যেই তৈরি, ওর যে দরজা বন্ধ।" - উক্তিটি কোন সাহিত্যকর্মে পাওয়া যায়?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. মাল্যদান
  3. দেবদাস
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
"ভরা বাদর, মাহ ভাদর,
শূন্য মন্দির মাের!
- কবি বিদ্যাপতির লেখা এই পঙ্‌ক্তিটি উল্যেখ পূর্বক রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর "ঘরে-বাইরে" উপন্যাসে লিখেছেনঃ
"আমার মন্দির যে শূন্য থাকবার জন্যেই তৈরি, ওর যে দরজা বন্ধ। আমার যে দেবতা ছিল মন্দিরের বাইরেই বসে ছিল, এত কাল তা বুঝতে পারি নি। মনে করেছিলুম অর্ঘ্য সে নিয়েছে, বরও সে দিয়েছে। কিন্তু শূন্য মন্দির মাের, শূন্য মন্দির মাের!"
সূত্রঃ ঘরে-বাইরে উপন্যাস।
১৭,৩৪১.
নিচের কোন সাহিত্যিক চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

বিশেষ তথ্য: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
• বিহারীলাল চক্রবর্তী - কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• দীনবন্ধু মিত্র - পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,৩৪২.
'রাজলক্ষ্মী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বৈকুণ্ঠের উইল
  2. চরিত্রহীন
  3. দেবদাস
  4. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। তিনি এই উপন্যাসটি মোট চার খণ্ডে সমাপ্ত করেন। চারটি খণ্ড একসাথে লেখেন নি। যথাক্রমে ১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২৭ এবং ১৯৩৩ সালে চারটি খণ্ড লেখা শেষ করেন।

- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'। ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী।

অন্যদিকে, 
• বৈকুণ্ঠের উইল:
- 'বৈকুণ্ঠের উইল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি লোকপ্রিয় উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটি চলচ্চিত্রায়িত হয়, যাতে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যারাণী, সত্য ব্যানার্জি প্রমুখ।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- গোকুল ও বিনোদ।

• "চরিত্রহীন" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে । প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন ৷ গল্পটিতে চারটি
নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী ৷ ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী ৷ সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে
উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

• 'দেবদাস' উপন্যাস:
'দেবদাস' (১৯১৭) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
“ভারতবর্ষ। পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় । সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় দেবদাস তার বাল্যপ্রণয়ী পার্বতীকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতায় নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করার বেদনাময় কাহিনি। এই
উপন্যাস সমস্ত ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়। দেবদাস ও পার্বতী আধুনিক ভারতীয় জীবনে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার রূপকে পরিণত করেছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী (পারু), চন্দ্রমুখী, চুনিলাল, ধর্মদাস। চলচ্চিত্রে পার্বতী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৭,৩৪৩.
প্রমথ চৌধুরী কোন পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. সবুজপত্র
  3. কল্লোল
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৪৪.
'নেমেসিস' নাটকে প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. ওসমান
  2. বিমল সরকার
  3. সুরজিত নন্দী
  4. সুবল
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 
-------------------- 
• নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৪৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য নক্সী কাঁথার মাঠ এর ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Field of the Rural Embroidered Quilt
  2. The Field of the Embroidered Quilt
  3. Field for the Embroidered Quilt
  4. Embroidered Quilt of the the Field
ব্যাখ্যা

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,৩৪৬.
বিষ্ণু দে কোন কাব্যধারার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কবি ছিলেন?
  1. বিংশ শতাব্দীর প্রতীকবাদ
  2. ষাটের দশকের আধুনিকতা
  3. চল্লিশের দশকের রোমান্টিকতা
  4. ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারা
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,৩৪৭.
বিদ্যাসাগরের শোকগাথা মূলক রচনা নিম্নের কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. ব্রজবিলাস
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. প্রভাবতীসম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

বিদ্যাসাগরের “প্রভাবতী সম্ভাষণ”ও একটি আবেগপূর্ণ রচনা। তাঁহার প্রিয়পাত্র রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিশুকন্যা প্রভাবতীর মৃত্যুতে ইহা রচিত। তাই এই রচনা টি শোকগাথা মূলক রচনা বলা চলে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
-  ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী মূলক, বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনা 'আত্মচরিত'

তাঁর কিছু শিক্ষামূলক গ্রন্থ
- বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)
- ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ ; ১৮৫১-৫২)
- সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১)
- ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)

তাঁর রচিত মৌলিক গ্রন্থ
- সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩)
- বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৫)
- বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব (প্রথম খন্ড ১৮৭১, ২য় খন্ড ১৮৭৩)
- অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল দুখানা পুস্তক (১৮৭৩, বিধবা বিবাহ বিরোধী পণ্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে।)
- ব্রজবিলাস (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখিত হয়।
- রত্নপরীক্ষা (১৮৮৬)
- প্রভাবতী সম্ভাষণ (সম্ভবত ১৮৬৩)
- জীবন-চরিত (১৮৯১ ; মরণোত্তর প্রকাশিত)
- শব্দমঞ্জরী (১৮৬৪)
- নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস (১৮৮৮)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া ।

১৭,৩৪৮.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন কোন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সালের ৩ জানুয়ারি
  2. ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি
  3. ১৯০৩ সালের ১৪ মার্চ
  4. ১৯০৩ সালের ২৯ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি — ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।