বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৭২ / ১৭৪ · ১৭,১০১১৭,২০০ / ১৭,৪৩৭

১৭,১০১.
প্যারীচাঁদ মিত্র কী নামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. কালকূট
  2. দৃষ্টিহীন
  3. বনফুল
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি “টেকচাঁদ ঠাকুর” ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- সাংবাদিকতা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যই প্যারীচাঁদ বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় ,
- রামারঞ্জিকা ,
- কৃষিপাঠ 
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত 
- বামাতোষিণী।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare,
- The Spiritual Stray Leaves,
- Stray Thought of Spiritualism,
- Life of Dewan Ramkamal Sen;
- Life of Coles Worthy Grant ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলালের ঘরে দুলাল,

অন্যদিকে,
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম = কালকূট।
• বলাইচাদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম= বনফুল।
• মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম= দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৭,১০২.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

• "হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত। 

বঙ্গভাষা- কবিতা, 
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১০৩.
'বিশ শতকের বাঙালী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-
• বিশ শতকের বাঙালি,
• বিচিত্র চিন্তা,
• স্বদেশ চিন্তা,
• সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
• স্বদেশ অন্বেষা,
• কালের দর্পণের স্বদেশ,
• স্বদেশ চিন্তা,
• জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
• জীবনে সমাজে সাহিত্যে ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,১০৪.
'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের প্রধান চরিত্র-
  1. ভিখু, পাঁচি
  2. শশী, কুসুম
  3. কুবের, কপিলা
  4. সুপ্রিয়া,মালতি
ব্যাখ্যা
• প্রাগৈতিহাসিক:
- 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- ভিঁখু ও পাচি 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী। 
- 'প্রাগৈতিহাসিক' মূলত মানুষের জৈবিক ক্ষুধার ইতিহাস।
- জৈবিক ক্ষুধার জন্য মানুষ যে পশুতে পরিণত হতে পারে সে কথাই বর্ণিত হয়েছে 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পে।
- জৈব প্রেরণা মানুষের আদিম প্রবৃত্তি।
- 'ভিখু' ও 'পাঁচী' জন্মগতভাবে কামনা বাসনা ও জৈব তাড়না লাভ করেছে এবং এ প্রবৃত্তিকেই তারা আবার তাদের সন্তান সন্ততির মাঝে সঞ্চারিত করে যাবে।
- এ প্রবৃত্তি নিতান্তই প্রাগৈতিহাসিক।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য বিখ্যাত ছোটগল্প:
- অতসী মামী, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ
- হলুদ পোড়া
- ভেজাল, 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী, 
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শশী, কুসুম - পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসের চরিত্র।
- কুবের, কপিলা - পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের চরিত্র।
- সুপ্রিয়া,মালতি - দিবারাত্রির কাব্য উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থ।
১৭,১০৫.
ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৫
  2. ১৯৪০
  3. ১৯৪৪
  4. ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪৪ সাল।

• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 

- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
--------------------------- 

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৭,১০৬.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. মৃণালিনী
  4. রজনী
ব্যাখ্যা

'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- "পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।" কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১০৭.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী। কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে তাঁর জন্ম।

- খুব অল্প বয়সেই বহুগুণে গুণান্বিত কালীপ্রসন্নের বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’। উক্ত সভা বিধবাবিবাহ এবং অন্যান্য সংস্কার আন্দোলনের মতবাদ প্রচার করত।

- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 

- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক। তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- পুরাণসংগ্রহ (সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১০৮.
কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্যগ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. তিনটি খণ্ডে
  2. টারটি খণ্ডে
  3. পাঁচটি খণ্ডে
  4. দুইটি খণ্ডে
ব্যাখ্যা

⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
• কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
• প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

================
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১০৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. বেঙ্গল গেজেট
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

অন্যদিকে,
ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন'।
'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১১০.
"বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান,
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।" - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আল মাহমুদ 
  5. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
ব্যাখ্যা
• "বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান,
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।" - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
--------------
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

দিনের আলো নিবে এল,
সুয্যি ডোবে-ডোবে।
আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে
চাঁদের লোভে লোভে।
মেঘের উপর মেঘ করেছে-
রঙের উপর রঙ,
--------
বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে
    ছেলেবেলার গান--
"বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
    নদেয় এল বান।'

উৎস: বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর- কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
১৭,১১১.
'ঔরঙ্গজেব' কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. মৃণালিনী
  2. রাজসিংহ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল।
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৭,১১২.
'চিত্রলেখা' নামে সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. ফররুখ আহমদ
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভূতিভূষণ সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন। তিনি 'চিত্রলেখা' (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১১৩.
রাজা প্রতাপাদিত্যের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসে?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
  3. গ) চার অধ্যায়
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩):
- রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
- যশােরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ ‘প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নাটকটি রচনা করেন।
- ১৯২৯ সালে প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ 'পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১১৪.
'রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে ডিঙা বায়' কবিতার চরণে কোন রূপসার কথা বলেছেন-
  1. ক) রূপসী ডিঙ্গা
  2. খ) রূপসী বাংলা
  3. গ) রূপসা নদী
  4. ঘ) গ্রামবাংলার নদী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণঃ

- রূপচাঁদ সাহার কাটা খালটি আজ বিশাল রূপসা নদী।
- যা দেখে জীবনানন্দ দাশ মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন:
- ‘‘রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে  ডিঙ্গা  বায়;  রাঙা   মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে ’’

উৎস: খুলনা জেলা ওয়েবসাইট।
১৭,১১৫.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ছিলেন একজন-
  1. ক) রাজনীতিবিদ
  2. খ) কূটনৈতিক
  3. গ) ভাষাতত্ত্ববিদ
  4. ঘ) সাংবাদিক
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন একজন ইউরোপীয় ভাষাতত্ত্ববিদ। ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাঁর জন্ম।
১৯০৩ সালে গ্রিয়ারসন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ইংল্যান্ড যান এবং সংগৃহীত ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন। এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি 'Linguistic Survey of India'। তিনি ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানিত ফেলো মনোনীত হন।
গ্রিয়ারসন রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরী ভাষা সংক্রান্ত অভিধান, ব্যাকরণ ও প্রবন্ধসংগ্রহ, যেগুলি ১৯১৬-৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,১১৬.
আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. হারেম
  2. নিরুপায় হরিণী
  3. ল্যাংড়ী
  4. ময়ূরীর মুখ
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
তিনি শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।

- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

 তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
 - হারেম (১৯৬২) ও
 - মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।

তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

অন্যদিকে, 
আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ - নিরুপায় হরিণী 
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ - ল্যাংড়ী
আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ - ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১৭,১১৭.
'কল্লোল' পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- 
  1. অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. উপরের সবাই 
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১১৮.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি কোন পটভূমিকায় রচিত ?
  1. মন্বন্তর
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের(১৯৬৯) গণ অভ্যুত্তানের প্রেক্ষাপটে রচিত  আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই'(১৯৮৭)।
- এটি ছিলো লেখকের প্রথম উপন্যাস।
- আশির দশকের শুরুতে রোববার নামীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।

তাঁর অপর একটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- খোয়াবনামা (১৯৯৬)

ছোটগল্প সংকলন:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬)
- খোঁয়ারি (১৯৮২)
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫)
- দোজখের ওম (১৯৮৯)
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭)

প্রবন্ধ সংকলন:
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১১৯.
'তেল-নুন-লকড়ি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. প্রবোধচন্দ্র ঘোষ
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. প্রমথনাথ বিশি
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘তেল নুন লকড়ি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধগ্রন্থটি ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজ পত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১২০.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ছাড়পত্র
  2. হরতাল
  3. অভিযান
  4. ঘুম নেই
ব্যাখ্যা
•'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি'- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।

ছাড়পত্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, ন
তুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের-
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে।
চলে যেতে হবে আমাদের।
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক'রে যাব আমি-
অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ, তারপর হব ইতিহাস।।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালের  প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ।
১৭,১২১.
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটি ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কোন স্বর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চম
  2. খ) ষষ্ঠ
  3. গ) সপ্তম
  4. ঘ) নবম
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন কর্তৃক রচিত সার্থক মহাকাব্য হল মেঘনাদ বধ(১৮৬১। মেঘনাদ বধ কাব্যটি নয়টি স্বর্গে বিভক্ত। বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতাটি ষষ্ঠ সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছ। রেফারেন্সঃ বাংলা ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
১৭,১২২.
'হরগজ' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'হরগজ' নাটকটির রচয়িতা- সেলিম আল দীন

'হরগজ' নাটক
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি
ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ
শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ

সেলিম আল দীন 
- তিনি ১৯৪৯ সালে সীমান্তবর্তী ফেনি জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
- সংবাদ কার্টুন
- শকুন্তলা
- কীত্তনখোলা 
- কেরামতমঙ্গল
- যৈবতী কন্যার মন 
- চাকা 
- হরগজ
- প্রাচ্য
- হাতহদাই 
- নিমজ্জন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১২৩.
প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ'। 
• বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো 'দিগদর্শন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১২৪.
কল্লোলগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কোন সাহিত্যিক 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী  
ব্যাখ্যা

কল্লোলগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সুধীন্দ্রনাথ দত্ত- 'অর্কেস্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন। 
-------------------------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের একজন। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যধারার প্রভাব তার কবিতায় দেখা যায়।
- তার কবিতায় মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ফুটে উঠে। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বহুসংখ্যক কাব্যগ্রন্থ রচনা করলেও কোন উপন্যাস রচনা করেননি। 
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও পরিচিত।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- স্বগত,
- কুলায়,
- কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ হচ্ছে: প্রতিধ্বনি। 

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার। 
• বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- উর্বশী ও আর্টেমিস;
- চোরাবালি ইত্যাদি। 
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- অনিঃশেষ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৭,১২৫.
‘বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য’ শীর্ষক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর 'বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য' (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। 
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১৭,১২৬.
সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনী নিয়ে রচিত নাটক 'সধবার একাদশী' রচনা করেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
'সধবার একাদশী' নাটক:
- নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১২৭.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. মহাশ্মশান 
  2. পদ্মাবতী
  3. বসন্তকুমারী
  4. রত্নাবতী 
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'রত্মাবতী' গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৭,১২৮.
নিচের কোনটি 'হুমায়ূন আহমেদ' রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  3. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. একাত্তরের ডায়েরি
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- নন্দিত নরকে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস। 
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)। 
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল।
 
উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: শ্যামল ছায়া (১৯৭৪), আগুনের পরশমণি (১৯৮৬), অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২), ১৯৭১ (১৯৯৩), জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি। 
 
অন্যদিকে -
- 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতা।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।
- 'একাত্তরের ডায়েরি' সুফিয়া কামাল রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতিকথা।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৭,১২৯.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কোন কাব্য অবলম্বনে রচিত?
  1. ভাগবত
  2. কাদম্বরী
  3. রামায়ণ
  4. মহাভারত
ব্যাখ্যা
'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৩০.
’কর্ণফুলী’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• কর্ণফুলী:
- কর্ণফুলী আলাউদ্দিন আল আজাদের পাহাড় ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: দেওয়ান পুত্র, আদিবাসী রাঙামিলা, বাঙালি ইসমাঈল, জলি, রমজান, প্রমুখ।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ- জেগে আছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৩১.
‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শিশুতোষ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সেলিনা হোসেন
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ শিশুতোষ গ্রন্থটির লেখক হচ্ছে আহসান হাবীব। 

আহসান হাবীব
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: রাত্রিশেষ।
- ১৯৪৭ সালে প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ। 

শিশুতোষ গ্রন্থসমূহ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১৩২.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসকি উক্তির শূন্যস্থানটি পূরণ করুন : “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো তবুও এ দেশের মানুষকে ............।”
  1. ক) স্বাধীনতা দেব
  2. খ) মুক্ত করবো
  3. গ) মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ
  4. ঘ) মুক্তি সংগ্রাম শিখাব
ব্যাখ্যা
রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
উৎসঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
১৭,১৩৩.
আল মাহমুদের 'সোনালী কাবিন' একটি
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

--------------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৩৪.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কালীকলম
  2. বিচিত্রা
  3. প্রবাসী
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

বিচিত্রা পত্রিকায় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প অতসী মামী প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- ‘মানিক’ ছিল তাঁর পারিবারিক ডাকনাম।

- তাঁর পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করে জীবনের শেষদিকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- পিতার চাকরির কারণে তাঁকে জীবনের শুরুর দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুলে পড়াশোনা করতে হয়—দুমকা, আড়া, সাসারাম, কলকাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বারাসাত, টাঙ্গাইল ও মেদিনীপুরে।
- শেষ পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯২৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

- মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের প্রথম পর্যায়ে তিনি ফ্রয়েড, ইয়ুং ও অ্যাডলারের মনোবৈজ্ঞানিক চিন্তাধারায় প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তায় মার্কসবাদের প্রভাব গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।
----------------------------------------------------
‘অতসী মামী’ গল্প নিয়ে কিছু কথা:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছোটগল্প ‘অতসী মামী’।
- গল্পটি ১৯২৮ সালে কলকাতা থেকে খ্যাতনামা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা এই গল্পটি প্রকাশের পরই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিতি লাভ করেন।
- পরবর্তীকালে গল্পটি ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৩৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

গল্পটির মূলভাব হলো- জীবনের কঠোর বাস্তবতার ভেতরেও মানবিক সম্পর্কের গভীর টান, বিচ্ছেদের বেদনা এবং আত্মিক অনুভবের প্রকাশ। এখানে সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম, ভালোবাসার অনুরণন এবং রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানসিক ও আত্মিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সম্পর্কের নতুন ব্যাখ্যা, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা, হারিয়ে পাওয়ার আনন্দ–বেদনা—এসবই গল্পটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই গল্পে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গভীর জীবনদর্শন ও বাস্তবধর্মী সাহিত্যশৈলীর স্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।


উৎস:
‘অতসী মামী’ গল্প; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৭,১৩৫.
‘মেঘ বলেছে চৈত্রে যাব’ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আহসান হাবীব
  3. হুমায়ূন আহমদ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
- অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৩৬.
নাট্যরচয়িতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক।
- আবদুল কাদির ছিলেন মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- আবদুল্লাহ আল মুতী মূলত বিজ্ঞানলেখক হিসেবে পরিচিত।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৩৭.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। - উক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ছুটি
  2. হৈমন্তী
  3. দেনাপাওনা
  4. কাবুলিওয়ালা
ব্যাখ্যা
• "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। - উক্তিটি 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। এই গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৩৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গল্পের জন্যে ”কুন্তলীন সাহিত্য” পুরষ্কার লাভ করেন?
  1. মহেশ
  2. মন্দির
  3. বিলাসী
  4. সতী
ব্যাখ্যা
'মন্দির':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচতি প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
----------------------------------------------
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি ছোটগল্প।
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
-ছবি ইত্যাদি তার সুখপাঠ্য বড়গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৩৯.
‘মতিন ও কমল’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কে কথা কয়
  2. কোথাও কেউ নেই
  3. ছায়াসঙ্গী
  4. আমার আছে জল
ব্যাখ্যা
'কে কথা কয়' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের 'কে কথা কয়' উপন্যাসে মতিন ও কমল নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
- উপন্যাসে শিশু কমলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে চাকরি পাওয়া মতিন কমলের সঙ্গে কাহিনিসূত্রে একটি বৃহৎবৃত্তে অধিভুক্ত হয়। 
- উপন্যাসের শেষে কমল সত্যোন্বেষণে ব্যস্ত আর মতিন সত্যের জন্য প্রাণ দান করে।

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা “নন্দিত নরকে” শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৪০.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রচিত প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. জহির রায়হান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:  
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- সংগ্রামে, দ্রোহে অনুপ্রেরণাজাগানিয়া এই উপন্যাসের একটি উক্তি- ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব’
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
 
• জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনও আসেনি’ মুক্তি পায়।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।
 
তথ্যসূত্র:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭,১৪১.
'এখানে নোঙর' নাটকের রচয়িতা -
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'এখানে নোঙর' নাটকের রচয়িতা - মামুনুর রশীদ।

মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷
 
তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৪২.
’পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থে রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

• ’পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থে রচয়িতা- নবীনচন্দ্র সেন।

• নবীনচন্দ্র সেন:

- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। 
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৪৩.
'বঙ্গসুন্দরী' ও 'প্রেম প্রবাহিণী' কাব্যগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গসুন্দরী' ও 'প্রেম প্রবাহিণী' কাব্যগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৪৪.
আত্মকথা ১৯৭১ কার রচনা?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) দ্বিজেন শর্মা
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত আত্মকথা ১৯৭১ একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ। আমার একাত্তর ও অন্যান্য দ্বিজেন শর্মা রচিত, একাত্তরের নয় মাস রাবেয়া খাতুন এবং কালরাত্রির খণ্ডচিত্র এবং ১৯৭১ : স্মৃতিখণ্ড মুজিবনগর হলো শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৭,১৪৫.
কোন লেখক পঞ্চপাণ্ডবদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

• পঞ্চপাণ্ডবদের অন্তর্ভুক্ত নন - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন। 
- তাদের পঞ্চপান্ডব বলা হত। পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভূক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। 

আধুনিকতাবাদী পঞ্চপান্ডব লেখক হচ্ছেন -
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৪৬.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) ইবরাহীম খাঁ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১৭,১৪৭.
‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- জসীমউদ্‌দীন।

-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:

- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৪৮.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক কে?
  1. অধ্যাপক সুনীতি সেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
নীহাররঞ্জন রায়:
- তিনি ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। 
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art,
- বাঙ্গালীর ইতিহাস,
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East,
- An Approach to Indian Art।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৪৯.
‘মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়’- কে রচনা করেন এই কাব্যাংশ?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
মানুষের মৃত্যু হলে
- জীবনানন্দ দাশ

"মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব
থেকে যায়; অতীতের থেকে উঠে আজকের মানুষের কাছে
প্রথমত চেতনার পরিমাপ নিতে আসে।

আজকের আগে যেই জীবনের ভিড় জমেছিল
তারা মরে গেছে;
অন্ধকারে হারায়েছে;
তবু তারা আজকের আলর ভেতরে
সঞ্চারিত হয়ে উঠে আজকের মানুষের সুরে
যখন প্রেমের কথা বলে
অথবা জ্ঞানের কথা—
অনন্ত যাত্রার কথা মনে হয় সে-সময়
দীপংকর শ্ৰীজ্ঞানের;
চলেছে—চলেছে—"

- কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪) গ্রন্থে গৃহীত।

উৎস: বাংলা কবিতা সাময়িকী।
১৭,১৫০.
'গেরিলা ও বীরাঙ্গনা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্ম রাজশাহী শহরে এবং তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- জলোচ্ছ্বাস (প্রথম উপন্যাস),
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,১৫১.
বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক আভিধান' সম্পাদনা কে করেন?
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।
Source: Banglapedia
১৭,১৫২.
‘গাজী মিয়াঁ’ কার ছদ্মনাম?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. কায়কোবাদ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৫৩.
বাউল কবি লালন সাঁই এর গান সর্বপ্রথম সংগ্রহ করেছিলেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন। 
- তিনি বাঙালি সমাজে লালনকে পরিচিত করিয়ে দেন।   
-  রবীন্দ্রনাথ ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন
- ২০টি গান তৎকালীন 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।

লালন সাঁই: (১৭৭২-১৮৯০)
- বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
তাই তিনি গেয়েছেন:
- ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৫৪.
কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুরের কোন গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছিলেন?
  1. আয়না
  2. সত্যমিথ্যা
  3. আবে-হায়াৎ
  4. জীবন ক্ষুধা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ’আয়না ’গ্রন্থের মুখবন্ধ বা ভূমিকা লিখেছিলেন।

• আয়না: 
- হাস্যরসাত্মাক গল্পের সমাহরে আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ।
- আয়না গ্রন্থের লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- আয়না গল্পগ্রন্থটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আবুল মনসুর আহমেদ:

- আবুল মনসুর আহমেদ ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
 - তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা।
- তিনি খেলাফাত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি যুক্তফ্রন্ট এর ২১ দফা কর্মসূচির প্রণেতা ছিলেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- আসমানী পর্দা;
- আয়না;
- ফুড কনফারেন্স;
- গালিভারের সফরনামা;

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী);
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ( রাজনীতি বিষয়ক)।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা;
- জীবন ক্ষুধা;
- আবে-হায়াৎ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৫৫.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'জামাইবারিক' নাটকটি  প্রথম মঞ্চস্থ হয় -
  1. এথনিক থিয়েটার
  2. ঢাকা থিয়েটার
  3. বেঙ্গল থিয়েটার
  4. কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটার
ব্যাখ্যা

'জামাইবারিক' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত হাস্যরসাত্মক নাটক।
- ১৮৭২ সালে ১৪ ডিসেম্বর কলকাতার ন্যাশনাল থিয়েটারে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজবল্লভ, অভয়কুমার, কামিনী, বগলা, বিন্দুবাসিনী।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- নীলদর্পণ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
- দীনবন্ধুর দুখানি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২) ও সুরধুনী কাব্য (২ ভাগ ১৮৭১, ১৮৭৬)।

তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।
- জামাই বারিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৫৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. গণদেবতা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. পঞ্চপুণ্ডলী
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় - পঞ্চপুণ্ডলী
- এটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৫৭.
"Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. ভদ্রার্জুন
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------------
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রকাশিত প্রথম বাংলা নাটক। এর প্রকাশকাল ১৮৫৯। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসুদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়। নাটকটির রচয়িতা তারাচরণ শিকদার।
- এটি একটি কমেডি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৫৮.
বাংলায় কুরআন শরীফের প্রথম অনুবাদক কে?
  1. মাওলানা আকরাম খাঁ
  2. ভাই গিরিশচন্দ্র সেন
  3. মাওলানা মনিরুজ্জামান
  4. কেশবচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন।

• গিরিশচন্দ্র সেন:
-  নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৫৯.
'বদিউল আলম' হুমায়ূন আহমেদ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. শ্যামল ছায়া
  3. জোছনা ও জননীর গল্প
  4. অনীল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো-
- বদিউল আলম,
- মতিন সাহেব,
- ইদ্রিস মিয়া। 

-----------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৬০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমান কি ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন?
  1. ক) সনাতন পাঠক
  2. খ) অল্পদর্শী
  3. গ) বঙ্গের রঙ্গ দর্শক
  4. ঘ) মজলুম আদিব
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে কবি শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান।
- তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
- পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

• ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কবি শামসুর রাহমান ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবরুদ্ধ সময়ে রচিত।
- গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
- মোট ৩৮ টি কবিতা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৬১.
'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।' পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কবিতার বিখ্যাত চরণ- ''এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।''
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৭,১৬২.
'হরফের ছড়া' কার লেখা বর্ণশিক্ষার বই? 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ফররুখ আহমদ
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ফররুখ আহমদ।

---------------
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:
‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------
অন্য অপশন:

(ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।

(ক) বন্দে আলী মিয়া: তিনি একজন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে শিশুদের জন্য ছড়া ও কবিতা রয়েছে। যেমন- চোর জামাই, মেঘকুমারী, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, সোনার হরিণ, শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, কুঁচবরণ কন্যা, সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

১৭,১৬৩.
‘ওয়ারিশ’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. মাসুদ
  2. রঞ্জনা
  3. মেহেরুন্নিসা
  4. রনজু
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৬৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. নবকুমার
  2. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  3. অশীতিপর শর্মা
  4. শ্রীকান্ত শর্মা
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে,
• ‘শ্রীকান্ত শর্মা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৭,১৬৫.
'নীলদর্পণ' নাটক প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জেমস লং
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এই অনুবাদ Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। এই অনুবাদ প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে দেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং জেমস লং এর অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড হয়। জরিমানার টাকা আদালতেই দিয়ে দেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। 
- বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

------------------------
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১৬৬.
‘দেবদাস’ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু কী?
  1. একতরফা ভালোবাসা
  2. মধ্যবিত্তের প্রেম কাহিনি 
  3. একটি দম্পতির প্রেম
  4. প্রেমের ত্রয়ী সম্পর্ক 
ব্যাখ্যা

- দেবদাস, পার্বতী ও চন্দ্রমুখীর প্রেমকাহিনী 'দেবদাস' উপন্যাসের মূল কেন্দ্র।
-----------------------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘কালের যাত্রা’ নামক সাংকেতিক নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়কে উৎসর্গ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়ের ৭৫তম জন্মদিনে রবিঠাকুর এই নাটকটি তাকে উৎসর্গ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।
----------------------------------------
অন্যদিকে,
• 'দেবদাস' উপন্যাস সম্পর্কিত তথ্য:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবদাস’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালের ৩০ জুন।
- কলকাতার গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- যদিও এটি ১৯০১ সালে লেখা শেষ হয়।
- এটি লেখকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল অনূদিত রচনাগুলোর একটি।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস' একটি বিখ্যাত বাংলা প্রেমের উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প।
- দেবদাস'- উপন্যাসটি  দেবদাস, পার্বতী (পারু) এবং চন্দ্রমুখীর বিয়োগান্তক প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- দেবদাস হলো মূল চরিত্র।
- এই উপন্যাসে দেবদাস এর সাথে তার বাল্য কালের প্রেমিকা পার্বতীর সামাজিক কারণে মিলন সম্ভব হয় না।
- একজন ব্যর্থ প্রেমিকের প্রতিচ্ছবি হয়ে দেবদাস বিচ্ছেদ এবং দুঃখের ভার বইতে না পেরে মদ্যপানে আসক্ত হয়ে মারা যান।

উৎস: 
'দেবদাস' উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৭,১৬৭.
কোন বাংলা সাহিত্যিক 'টিমোথি পেনপোয়েম' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ক) সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম।
- মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে ।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।
 
• তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক
- একেই কি বলে সভ্যতা?
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ 
- পদ্মাবতী নাটক
- কৃষ্ণকুমারী নাটক
- মায়া-কানন 

• তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য 
- বীরাঙ্গনা কাব্য 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৬৮.
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘কুহেলিকা’ কী ধরনের উপন্যাস?
  1. প্রেমমূলক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘কুহেলিকা’ উপন্যাস একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 

কুহেলিকা উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘কুহেলিকা’ উপন্যাস প্রথমে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যেখানে সমাজ ও রাজনীতির বিষয়গুলোকে বড় আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসে একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—
  “ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।”
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বা নায়ক হলেন জাহাঙ্গীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৬৯.
'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'

সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৭০.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. যাত্রা
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. মেঘের পর মেঘ
  4. যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• নরকে লাল গোলাপ।
"নরকে লাল গোলাপ"মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
- বিখ্যাত নাট্যকার আলাউদ্দিন আল আজাদ নাটকটি রচনা করেন ।
- ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরের বছর নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

যাত্রা' :
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।

’যুদ্ধ :
• ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস- যুদ্ধ।
- উপন্যাসটির রচয়িতা- সেলিনা হোসেন।

• ’মেঘের পরে মেঘ’
- কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস 'মেঘের পর মেঘ'।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে ২০০৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৭১.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলে কোঠার সেপাই’ কোন প্রেক্ষাপটে লেখেছেন?
  1. ক) বায়ান্নর (১৯৫২) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) উনসত্তরের (১৯৬৯) গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)
  4. ঘ) স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন (১৯৯০)
ব্যাখ্যা

উনসত্তরের (১৯৬৯) গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলে কোঠার সেপাই’ (১৯৮৭)।
তাঁর রচিত আরেকটি উপন্যাস ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬)। উপন্যাসটির বিসষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্য সহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য রচনা (ছোট গল্প): অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭,১৭২.
কবি কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের মধ্যদিয়ে?
  1. অশ্রুমালা
  2. মহাশ্মশান
  3. অমিয়ধারা
  4. বিরহবিলাপ
ব্যাখ্যা

'বিরহবিলাপ' কাব্যগ্রন্থ:
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। 
- তবে অনেক সমালোচকই কাব্যটির নাম 'বিরহ বিলাস' বলেছেন।
- কবি অবশ্য বলেছেন, আমি যখন বার বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ বিলাপ নামক ক্ষুদ্র একখানা কাব্য প্রকাশিত হয়।
কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য।

-------------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মূল অধিবেশনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে। ১

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল (১৯৭০), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম-পারিজাত (১৯৭০), মন্দাকিনী-ধারা (১৯৭১) ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৭৩.
কোনটি সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস?
  1. ময়ূরীর মুখ
  2. পোকামাকড়ের ঘড়বসতি
  3. খোল করতাল
  4. কালো বরফ
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ - খোল করতাল।
সালেহা চৌধুরী রচিত উপন্যাস - ময়ূরীর মুখ।
মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস - কালো বরফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১৭৪.
জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. কাঁচের দেয়াল
  2. বেহুলা
  3. সঙ্গম 
  4. দুই দুয়ারী 
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয়- দুই দুয়ারী। 

• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।
• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।

উল্লেখ্য, 
• দুই দুয়ারী হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক সমকাল; 
বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৭৫.
জাহানারা ইমাম পেশায় কী ছিলেন?
  1. ডাক্তার
  2. শিক্ষিকা
  3. সাংবাদিক
  4. উকিল
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্ম জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৭৬.
‘ঢেউ’ - গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
‘ঢেউ’ - গল্পগ্রন্থটি শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত রচনা ।

• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম - 

- অনেক দিনের আশা
- পথ জানা নাই
- দুই হৃদয়ের তীর
- শাহের বানু
- পুঁই ডালিমের কাব্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৭,১৭৭.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর জীবনাবসান ঘটে -
  1. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬
  2. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৭
  3. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৮
  4. ২৯ আগস্ট, ১৯৭৯
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহী নজরুল, সাম্যবাদী নজরুল
-বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’।
- পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

- ১৯১৭ সালে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯২৬ সালে তিনি প্রথমবারের মত ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪২ সালে পিকস্ ডিজিজে অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি অসহনীয় নির্বাক জীবন কাটিয়েছেন।

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবি সপরিবারে বাংলাদেশে আসেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন।

- একটি অগ্রন্থিত গানে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন,
'মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই,
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’

- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- মৃত্যুর পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
- কবিকে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. প্রথম আলো,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা।
১৭,১৭৮.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিশ শতকের বাঙালি
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা
  4. বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় 'বিশ শতকের মেয়ে'।
- 'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। 

• আহমদ শরীফ: 

- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৭৯.
পথের পাঁচালী উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় কি?
  1. ক) প্রকৃতি ও মানুষ
  2. খ) পল্লি বাংলার জীবন
  3. গ) ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি
  4. ঘ) গ্রামীন সমাজের ধর্মীয় কুসংস্কার
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস- 'পথের পাচালী’ (১৯২৯)।
এটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়।
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
প্রকৃতি ও মানুষ এই উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৮০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. নবীকাহিনী- কাব্যগ্রন্থ
  2. আঁখিজল- উপন্যাস
  3. লতিকা- প্রবন্ধ
  4. আবদুল্লাহ্- উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের 'তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র' অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন। উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৮১.
'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. যোগাযোগ 
  3. গোরা
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- 'গোরা' উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: ইন্দ্রনারায়ন, পুরোহিত বিল্বন, হাসি ও তাতা।
- 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: নিখিলেস, বিমলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১৮২.
"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস কত সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৫ সালে
  4. ১৮৬৭ সালে
ব্যাখ্যা

"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল উপন্যাসও।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা'তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তৃত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভকরে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে রয়েছে- 

- বাবুরাম, 
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল, 
- ধূর্ত উকিল বটলর, 
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

----------------------------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন একজন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।

- প্যারীচাঁদ মিত্রের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পারিবারিক পরিমণ্ডলে। তিনি পণ্ডিত ও মুনশির নিকট যথাক্রমে বাংলা ও ফারসি শেখেন। ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।।

- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়। 

- বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণে এবং বিবর্তনের ইতিহাসে প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুরের (১৮৪১-৮৩) নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাতে বাংলা গদ্যের যে সাধুরূপ গড়ে উঠেছিল, প্যারীচাঁদ মিত্র তা অনুকরণ না করে বাংলা গদ্যের ধারায় এক অভিনব লঘু ভঙ্গির প্রবর্তন করেন।

প্যারীচাঁদ মিত্রের সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়' ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির মধ্যে তৎকালীন গোঁড়া শ্রেণির ব্যক্তিদের চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে। আলালের ঘরের দুলালের ভাষার মতই সহজ সরল এর ভাষা, কিন্তু কিছু পরিমাণে সাধুভাষা ঘেঁষা বলে বিশুদ্ধতর। সমসাময়িক কোন কোন লেখকের ওপর এই গ্রন্থ বেশ প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল।

 • প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ 'রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১), 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫), 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক। • 'অভেদী' (১৮৭১), 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক। 

•'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৮৩.
“বাড়ির কাছে আরশিনগর”- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসন রাজা
  2. খ) লালন শাহ্‌
  3. গ) পাগলা কানাই
  4. ঘ) রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাউল সম্রাট লালন শাহ ১৭৭২ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে অন্য একটি মতে তার জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে।
তিনি প্রায় দুইহাজার বাউল গান রচনা করেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে লালনের আখড়া অবস্থিত।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান-
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৮৪.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. প্রিয়দর্শী
  2. ওমর খৈয়াম
  3. মুসাফির
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১৮৫.
'জীবনস্মৃতি' আত্মজীবনীতে রবীন্দ্রনাথের কত বছর বয়স পর্যন্ত কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ২৫
  2. খ) ৩৫
  3. গ) ৪৫
  4. ঘ) ৫৫
ব্যাখ্যা
'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। 
- আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৮৬.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কবি নজরুলের নিষিদ্ধ হওয়া গ্রন্থগুলোর কোনটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. যুগবাণী
  3. প্রলয়শিখা
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা
• সাহিত্য সমালোচক শিশির কর 'নিষিদ্ধ নজরুল' গ্রন্থে কাজী নজরুলের ৫টি নিষিদ্ধ গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'যুগবাণী' প্রবন্ধটি ১৯২২ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিল। 

• 'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই। 
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। 
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। 
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত। 

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' (কাব্যগ্রন্থ) নিষিদ্ধ হয় ১৯২৪ সালে। 
• কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙ্গার গান' (কাব্যগ্রন্থ) নিষিদ্ধ হয় ১৯২৪ সালে। 
• কাজী নজরুল ইসলামের 'প্রলয়শিখা'  (কাব্যগ্রন্থ) নিষিদ্ধ হয় ১৯৩০ সালে। 
• কাজী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রবিন্দু’ (গানের সংকলন) নিষিদ্ধ হয় ১৯৩১ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৮৭.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. শ্যামল ছায়া
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
'নন্দিত নরকে' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস নয় - নন্দিত নরকে।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭,১৮৮.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি?
  1. এলো সে অবেলায়
  2. কালের ধুলোয় লেখা
  3. নিজ বাসভূমে
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

================
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১৭,১৮৯.
মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত 'গঙ্গা' উপন্যাসটি কার?
  1. সমরেশ বসু
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সরদার জয়েনউদ্দীন
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা

• 'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭,১৯০.
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. জসীম উদদীন
  3. আল মাহমুদ 
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
ব্যাখ্যা
• 'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা - পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে। 

•জসীমউদ্‌দীন রচিত অন্যান্য নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৯১.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর উপাধি কোনটি?
  1. কাব্যসুধাকর
  2. কাব্যকণ্ঠ
  3. কবিরত্ন
  4. স্বপ্নাতুর কবি
ব্যাখ্যা

•  মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
কাব্যসুধাকর - গোলাম মোস্তফা।
স্বপ্নাতুর কবি - সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী। 

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন,
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম:
- জোহরা
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর নাম:
- ফেরদৌসী-চরিত
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭,১৯২.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. বিষ্ণু দে
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।   

----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।

- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, 
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৯৩.
'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই'- চরণটির রচয়িতা-
  1. ক) মুকুন্দ দাস
  2. খ) বৃন্দাবন দাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
চন্ডীদাস (আনু.১৪শ শতক) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস ও চন্ডীদাস।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ।

বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের  পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- তাতে তিনি চন্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেন।
- এ কাব্যের ভাব ও ভাষা বিচারে চন্ডীদাসকে চৈতন্য-পূর্ববর্তী, সম্ভবত চৌদ্দ শতকের প্রথমার্ধের লোক বলে মনে করা হয়।
- চন্ডীদাসের নামযুক্ত পদসমূহ দীর্ঘকাল বাংলার ঘরে ঘরে গীত হয়েছে।
- তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ বাঙালির দর্শনচিন্তা এবং মানবতাবোধের অপূর্ব নিদর্শন।
- চন্ডীদাসের নামাঙ্কিত পদের সংখ্যা ন্যূনাধিক এগারশ।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৯৪.
‘আবু মোল্লা’, ‘নুরুন্নেহার’ নিচের কোন সাহিত্য কর্মের চরিত্র?
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. বসন্ত কুমারী
  4. গাজী মিয়ার বস্তানী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন রচিত ‘জমিদার দর্পণ’ একটি নাটক।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- বসন্তকুমারী, বেহুলা গীতাভিনয়, টালা অভিনয় তাঁর অন্যান্য নাটক।
- তবে তিনি বিষাদ-সিন্ধু গদ্য-রচনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাতি লাভ করেছেন।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ :
- গো-জীবন
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী
- আমার জীবনী
- কুলসুম জীবনী
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৭,১৯৫.
কায়কোবাদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) কুসুম কানন
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অমিয় ধারা
ব্যাখ্যা

• অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে।
• মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয় ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,১৯৬.
জীবনানন্দ দাশ 'ধূসর পান্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
• তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
• এছাড়া তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ধূসর পান্ডুলিপি (বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন),
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক (প্রথম প্রকাশিত),
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির (হুমায়ুন কবিরকে উৎসর্গ করেন),
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
• 'কবিতার কথা' তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৭,১৯৭.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র সম্পাদিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) ঠাকুরদাদার ঝুলি
  2. খ) টুনটুনির গল্প
  3. গ) দাদামশায়ের থলে
  4. ঘ) ঠাকুরমার ঝুলি
ব্যাখ্যা
'টুনটুনির বই' উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত গ্রন্থ। 

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

- বইগুলো বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট আছে।
- কারন এখানে পশুপাখির মুখদিয়েও কাহিনী বর্ণিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৯৮.
‘বং থেকে বাংলা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রাহাত খান
  2. মাহমুদুল হক
  3. রিজিয়া রহমান
  4. রাজিয়া খান
ব্যাখ্যা
রিজিয়া রহমান রচিত গ্রন্থ হলো:
- বং থেকে বাংলা,
- উত্তর পুরুষ,
- ঘর ভাঙা ঘর,
- ধবল জোসনা,
- প্রেম আমার প্রেম ইত্যাদি।
(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর)
১৭,১৯৯.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচিয়তা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫)

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

সমাজ ও সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবু জাফর বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৯৬৮ সালে এবং  একুশে পদক ১৯৮৩ সালে লাভ করেন। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১৭,২০০.
'বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- অবিরল জলাভূমি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়
- অদ্ভুত আঁধার এক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।