বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৭০ / ১৭৪ · ১৬,৯০১১৭,০০০ / ১৭,৪৩৭

১৬,৯০১.
“মরু-দুলাল" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ
  4. শাহাদত হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'মরু-দুলাল':
- 'মরুদুলাল' বইটি লিখেছেন বিখ্যাত বাঙালি কবি ও লেখক গোলাম মোস্তফা। এটি নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনীর উপর লেখা একটি জনপ্রিয় জীবনী গ্রন্থ। 

- “মরু-দুলাল” বইখানির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সর্বশেষ চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে। দীর্ঘ ৬৫ বৎসর পর বইখানির বর্তমান পঞ্চম সংস্করণ ২০১৬ সনে প্রকাশিত হয়েছে। 

- বইখানির প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় লেখক লিখেছিলেন “মরু- দুলাল" তাঁহার ঐতিহাসিক গ্রন্থ “বিশ্বনবীর” একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- রক্তরাগ,
- কাব্য-কাহিনী,
- খোশরোজ, 
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম,
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

----------------
অন্যদিকে, 
'মরুভাস্কর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- কাজী নজরুল ইসলাম। 
'মরুচন্দ্রিকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- কাজী কাদের নেওয়াজ।
'মরুকুসুম' উপন্যাসের রচয়িতা- শাহাদত হোসেন।

উৎস: 'মরু-দুলাল' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৯০২.
'পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকা আমার ভাসে, মেঘ-মুকুলের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে। -এই কবিতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- উপরোক্ত কবিতাংশটুকু আহসান হাবীবের 'মেঘনা পাড়ের ছেলে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

মেঘনা পাড়ের ছেলে
- আহসান হাবীব

আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
মেঘনা নদীর ঢেউয়ের বুকে
তালের নৌকা বেয়ে
আমি বেড়াই হেসে খেলে-
আমি মেঘনা পাড়ের ছেলে।
মেঘনা নদীর নেয়ে আমি মেঘনা পাড়ে বাড়ি
ইচ্ছে হ’লেই এপার থেকে ওপারে দেই পাড়ি।
তালে তালে তালের নৌকা
দু’হাতে যাই বেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
পাহাড় সমান ঢেউয়ের বুকে নৌকো আমার ভাসে
মেঘমুলুকের পাহাড় থেকে ঝড়ের ঝাপটা আসে-
মাথার ওপর মুচকি হাসে
বিজলি নামের মেয়ে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।
আমার ঢেউয়ের সঙ্গে গলাগলি ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা
ঝড়ের সঙ্গে লড়াই ক’রে কাটাই সারাবেলা।
দেশ থেকে যাই দেশান্তরে
মনের নৌকা বেয়ে-
আমি মেঘনা নদীর ছেলে
আমি মেঘনা নদীর নেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মেঘনা পাড়ের ছেলে- আহসান হাবীব।
১৬,৯০৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. টুনি মেম
  3. চাচা কাহিনী
  4. তুলনাহীনা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখতেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- সিলেটের শাজজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি ছাত্র-হলের নামকরণ করা হয়েছে।

♦♦ সাহিত্যকর্ম:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর রবীন্দ্র-সান্নিধ্য ও শান্তিনিকেতনের জীবনের সব কথা লিপিবদ্ধ আছে তাঁর ‘গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন’ বইয়ে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়্যাত-ই-ওমর খৈয়ম' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন।

♦ উপন্যাস
- অবিশ্বাস্য, 
- শবনম, 
- শহর-ইয়ার, 
- তুলনাহীনা।

♦ ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে বিদেশে।

♦ রম্যরচনা/ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী, 
- পঞ্চতন্ত্র, 
- টুনি মেম, 
- সত্যপীরের কলমে।

উৎস :
১. ডেইলি স্টার বাংলা।
২. দৈনিক জনকন্ঠ।
১৬,৯০৪.
বিলাসী গল্পের ন্যাড়া চরিত্রের মাঝে কার ছায়া ফুটে ওঠেছে?
  1. ক) অনীল বাগচির
  2. খ) শ্রীকান্তের
  3. গ) শরৎচন্দ্রের নিজের
  4. ঘ) কারোরই না
ব্যাখ্যা
বিলাসী গল্পের ন্যাড়া চরিত্রের মাঝে শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়া ফুটে ওঠেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,৯০৫.
'মোস্তফা চরিত' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মোঃ বরকতুল্লাহ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মাওলানা আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) - সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- সমস্যা ও সমাধান,
- মোস্তফা চরিত,
- আমপারার বঙ্গানুবাদ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯০৬.
‘কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ’ গানের সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) অতুলচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ’ গানের সংকলনের রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন

• অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯০৭.
'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,
লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. কামিনী রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,<br />লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা': 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। 

- কণিকা ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ছোটো ছোটো কবিতার সংকলন। তাই নাম দেওয়া হয়েছে কণিকা।
- নীতিকথা ধরনের কাব্য। অণুকাব্যও বলা যায়। ক্যাপশনের মতো, অন্তে মিল আছে।
- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।
- বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ। 
১৬,৯০৮.
'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- গ্রন্থটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দিনলিপি নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের আলোকে রচনা করেন 'ফেরারী ডায়েরী।''

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। 
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯০৯.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. শব্দকল্পদ্রুম
  2. খাই খাই
  3. টুনটুনির বই
  4. বহুরূপী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘টুনটুনির বই’ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯১০.
জর্জ কুম্বের "The Constitution of man" গ্রন্থের অবলম্বনে ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধবিচার’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান 
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. গিরিশচন্দ্র সেন 
ব্যাখ্যা

• 'বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ।
- ১৮৪৮ জানুয়ারি মাস থেকে এ পত্রিকায় অক্ষয়কুমার দত্তের দার্শনিক রচনা ‘বাহ্যবস্তুর সহিত মানবপ্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার’ প্রকাশ শুরু হয়।
- ব্রিটিশ Phrenologist জর্জ কুম্ব (George Combe, ১৭৮৮-১৮৫৮)- এর "The Constitution of man considered in relation to external object (1828)" গ্রন্থের ভাব অবলম্বনে ভারতবর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে অক্ষয়কুমার দত্ত এটা লিখেছেন।
- রচনাটি পরে ১৮৫১ ও ১৮৫৩ সালে দুই খণ্ডে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯১১.
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ গ্রন্থে কয়টি সনেট রয়েছে?
  1. ৯৯টি
  2. ১০৩টি
  3. ১০৪টি
  4. ১০২টি
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি।
- সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ।
- কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯১২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বউ-ঠাকুরাণীর হাট
  2. দেনাপাওনা
  3. চোখের বালি
  4. নৌকাডুবি
  5. গোরা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - 'বউ ঠাকুরাণীর হাট '।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা' (অসমাপ্ত উপন্যাস)। 'করুণা' উপন্যাসটি অসমাপ্ত তাই একে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় না।

• 'বউ ঠাকুরাণীর হাট ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাস হলো 'বৌ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস।
- ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫৩ সালে ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট' নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন নরেশ মিত্র।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ কয়া হয় সৌদামিনী দেবীকে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম উপন্যাস - 'বৌঠাকুরানীর হাট'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম ছোটগল্প - 'ভিখারিনী'।

• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা,
- গোরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বউ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৬,৯১৩.
'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নূরজাহান
  2. বঙ্গনারী
  3. সাজাহান
  4. সিংহল বিজয়
ব্যাখ্যা
• 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত 'সাজাহান' নাটকের অন্তর্ভুক্ত।
- মোগল সম্রাট সাজাহান এর জীবন অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- ঐতিহাসিক এই নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত, 
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৬,৯১৪.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আনোয়ারা 
  2. সূর্যদীঘল বাড়ি
  3.  আবদুল্লাহ
  4. জোহরা 
ব্যাখ্যা

 আবদুল্লাহ:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

অন্যদিকে,
• নজীবর রহমান রচিত উপন্যাস-  আনোয়ারা।
• আবু ইসহাক  রচিত উপন্যাস-  সূর্যদীঘল বাড়ি।
• মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস-  জোহরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯১৫.
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কামিনী রায়
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

আদর্শ ছেলে
– কুসুম কুমারী দাশ

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, 
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
‘মানুষ হইতে হবে‘ – এই যার পণ৷
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চায় বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখেজল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের কল্যাণ৷
----------------------

• কুসুমকুমারী দাশ:

- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়। -
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও কুসুমকুমারী দাসের কবিতা।
১৬,৯১৬.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে। 
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্টঙ্কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'।
- বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে আছে ৮ টি গল্প -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯১৭.
"অমল, ভূপতি" - কোনটি গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. শাস্তি
  4. একরাত্রি
ব্যাখ্যা

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।

- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

১৬,৯১৮.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) ওরা কদম আলী
  2. খ) কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
  3. গ) সন্দীপের চর
  4. ঘ) তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
ব্যাখ্যা
ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগ, সমতট, পাথর ইত্যাদি মামুনুর রশিদ রচিত নাটক।
সন্দীপের চর, উর্বশী ও আর্টেমিস, সাত ভাই চম্পা, চোরাবালি, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে।
উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া, কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও ইত্যাদি শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৬,৯১৯.
‘বাপের বাড়িতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।’ উক্তিটি কোন কবিতার?
  1. ক) সঞ্চয়িতা
  2. খ) অগ্রপথিক
  3. গ) রূপবতী
  4. ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
'বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।' - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬,৯২০.
'নগেন্দ্রনাথ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. বিষবৃক্ষ
  4. ইন্দিরা
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
কুন্দনন্দিনী,
নগেন্দ্রনাথ,
হীরা,
সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯২১.
হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. দারুচিনি দ্বীপ
  3. ঘেটুপুত্র কমলা
  4. শ্যামল ছায়া
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ ও তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র:
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র "আগুনের পরশমণি" (১৯৯৫) এবং শেষ চলচ্চিত্র "ঘেটুপুত্র কমলা" (২০১২)।

- ৮৫তম অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ৮৫তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) প্রতিযোগিতার জন্য ঘেটুপুত্র কমলা ছবিটি মনোনীত করে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মধ্যবিত্ত দর্শকদের হলমুখী করে তোলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র 'শ্যামল ছায়া' ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত। এটি 'অস্কার একাডেমী পুরস্কার'-এর জন্য 'সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র' বিভাগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়।

• অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০),
- দুই দুয়ারী (২০০১),
- চন্দ্রকথা (২০০৩),
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং
- আমার আছে জল (২০০৮)।

• তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত 'দূরত্ব' (২০০৬),
- সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'আবদার',
- বেলাল আহমেদ পরিচালিত 'নন্দিত নরকে',
- আবু সাইদ পরিচালিত 'নিরন্তর',
- শাহ আলম কিরণ পরিচালিত 'সাজঘর' (২০০৭) এবং
- তৌকির আহমেদ নির্মিত 'দারুচিনি দ্বীপ'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯২২.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) ইতিহাসমালা
  3. গ) প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এটি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

- 'লিপিমালা' (১৮০২) রামরাম বসু রচিত অপর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। 
- উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ 'ইতিহাসমালা' (১৮১২)
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থাবলি - প্রবোধচন্দ্রিকা(১৮৩৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯২৩.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মীর মোশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কিভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাঁর নিখুত বর্ণনা লাভ করেছে এই উপন্যাসে। 
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। 
- 'অশনি সংকেত' উপন্যাসটির পটভূমি বিভূতিভূষণের নিজ গ্রাম বরাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।
- এই উপন্যাসটি সত্যজিৎ রায় একই নামে চলচিত্রে রূপদান করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯২৪.
কোন লেখক 'সাহিত্য সম্রাট' নামে খ্যাত?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশ যুগ এ পর্বের শ্রেষ্ঠ লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা গদ্যকে সর্বপ্রকার ভাব প্রকাশের উপযোগী করে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি জীবনে অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেন।
- তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভাগুণে পন্ডিতি ও আলালি-হুতোমি রীতির মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে সরল ও সরস গদ্যের সৃষ্টি করেন।
- “বঙ্গদর্শন” (১৮৭২) নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেন। 
- সাহিত্য-সমালোচনা, ঐতিহাসিক গবেষণা, ধর্ম ও দার্শনিক আলোচনা, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সাহিত্য, ব্যঙ্গ-সাহিত্য এর সবই তিনি প্রবর্তন করেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভাবলে যে সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাঁরাই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবৎ বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য করেন। 
- বাংলায় তুলনামূলক সাহিত্যসমালোচনারও তিনিই পথিকৃৎ। 
- তবে তাঁর প্রধান পরিচয় ঔপন্যাসিক হিসেবে এবং এজন্য তিনি ‘সাহিত্য সম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত হন। 
- তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুন্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯২৫.
'স্বদেশ অন্বেষা' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি । 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৯২৬.
'হাসির গানের রাজা' নামে বাংলা সাহিত্যে খ্যাতি লাভ করেন-
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (১৮৬৩-১৯১৩) জন্ম কৃষ্ণনগরে। এম. এ. পাশ করে । বিলাত থেকে কষিবিদ্যা শিক্ষার জন্য সরকারি বৃত্তি নিয়ে তিনি বিলাত গমন করেন। ফিরে প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসার এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ করেন।

- নাট্যকার হিসেবে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতিষ্ঠা অধিক হলেও হালকা ছাঁদে রচিত কবিতা ও গানে তাঁর প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। ব্যঙ্গরসাত্মক কবিতা নিয়েই সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আগমন। 'আর্যগাথা', 'মন্ত্র', 'আলেখ্য', 'ত্রিবেণী', 'হাসির গান' ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ তাঁর রচিত। এই সব রচনায় কৌতুকরসের প্রাধান্য এবং ভাষা ও ছন্দের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম সমসাময়িক কবিগোষ্ঠীর চেয়ে তাঁকে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছিল।

- স্বদেশী গানের রচয়িতা হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচয় উল্লেখযোগ্য। 'হাসির গানের রাজা' হিসেবে তাঁর খ্যাতি নাটক রচনাকারীর চেয়েও বেশি। দ্বিজেন্দ্রলাল রায় জীবনের বহু বিচিত্র বিষয়কে তীব্র ব্যঙ্গবিদ্রূপের উপজীব্য করেছিলেন।

- তাঁর প্রতিভা ছিল প্রধানত গীতিকবির। ব্যঙ্গকবিতা ও হাসির গানের আকারে তাঁর এ ধরনের প্রতিভার সার্থক বিকাশ ঘটেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম।
১৬,৯২৭.
কবি জসীম উদ্‌দীন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৯৯ সালে
  2. ১৯০৩ সালে
  3. ১৯০৪ সালে
  4. ১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯২৮.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত রোমান্টিক পৌরাণিক নাটক কোনটি?
  1. চন্দ্রগুপ্ত
  2. প্রতাপসিংহ
  3. বঙ্গনারী
  4. মেবার পতন
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক - চন্দ্রগুপ্ত

চন্দ্রগুপ্ত:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৬,৯২৯.
বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে মানুষের মনের চিন্তার জটিলতা প্রকাশিত হয়েছে কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. মাটির দেয়াল
  2. এক মুঠো
  3. অনিঃশেষ
  4. খসড়া
ব্যাখ্যা
• ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

---------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৩০.
'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান'। এ চরণটি কে লিখেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 
                          মানুষ 

                      গাহি সাম্যের গান-
   মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান্‌ ।
   নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
   সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
              ‘পূজারী দুয়ার খোলো,
   ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হ’ল!’
   স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
   দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
   জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
   ডাকিল পান’, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি ক’ সাত দিন!’
   সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
   তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে! (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: মানুষ, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৬,৯৩১.
'জয়গুন' ও 'হাসু' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

•'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী।

আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯৩২.
শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন কোন সাহিত্যিক?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. রফিক আজাদ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৩৩.
কোনটি রবীন্দ্ররচনার অন্তর্গত নয়?
  1. "কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও?"
  2. "অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।"
  3. "প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?"
  4. "কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে।"
ব্যাখ্যা
• "অগ্নিগ্রাসী বিশ্বত্রাসি জাগুক আবার আত্মদান।"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্ররচনার অন্তর্গত নয়।

অন্যদিকে,
• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের একটি বিখ্যাত লাইন।
• "প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে?"- পঙ্‌ক্তি' রবীন্দ্রনাথের 'রাজা' নাটকের অন্তর্গত আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
• 'কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে নদীর কূলে - এ পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' কবিতার অন্তর্গত।

---------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬,৯৩৪.
'সাম্যবাদী' কবিতাটি কার রচনা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা

'সাম্যবাদী' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সাম্যবাদী কবিতাটিতে সাম্যবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
- লাঙল পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতে প্রকাশিত হয় 'সাম্যবাদী' কবিতাটি।
- সাম্যবাদী মূলত একটি কবিতা।
- সাম্যবাদী পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ কবিতা।
- যার চরণ সংখ্যা ৪৭৩।

সাম্যবাদী
 -কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রীশ্চান।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ।

১৬,৯৩৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত ছন্দের নাম কী?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank versel
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৩৬.
কোনটি আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র নির্ভর নাটক?
  1. এখনও ক্রীতদাস
  2. কোকিলারা
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. শপথ
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলো:
- শপথ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৩৭.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন গ্রন্থে?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2.  কুলসুম জীবনী
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'তে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

- এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম 'উদাসীন পথিক' মুদ্রিত হয়েছে।

- এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

- সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।

- গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

অন্যদিকে, 
--------------------
• উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা" (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

• কুলসুম জীবনী:
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

• 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাস:
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়। মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্রিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১৬,৯৩৮.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৩৯.
'বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...' গানটির গীতিকার কে?
  1. সলিল চৌধুরী
  2. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  3. গৌরি প্রসন্ন মজুমদার
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
• 'বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...' গানটির গীতিকার - সলিল চৌধুরী

সলিল চৌধুরী:
- তিনি ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর আসামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন গীতিকার ও সুরকার।
- স্নাতক পড়াকালীন ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন।
- পার্টির সাংস্কৃতিক সংগঠন 'ভারতীয় গণনাট্য সংঘ' (আইপিটিএ) যোগ দিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচুর কাজ করেন।

- মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি ‘গাঁয়ের বধূ’র মতো গান লিখে সুর করেন, যা এক বিস্ময়কর ব্যাপার বটে।
- সলিল চৌধুরী ৭৫টির বেশি হিন্দি সিনেমায় সংগীত পরিচালনা করেন। এ ছাড়া তাঁর ৪৫টি বাংলা সিনেমা, ২৬টি মালয়ালাম সিনেমা, কিছু তামিল, তেলেগু, কানাড়া, গুজরাটি, অসমিয়া ও উড়িয়া চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন।

- তাঁর কিছু কালজয়ী সংগীত সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’, ‘অবাক পৃথিবী’, মাইকেলের ‘রেখ মা দাসেরে মনে’, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘পাল্কির গান’, বিমল ঘোষের ‘উজ্জ্বল একঝাঁক পায়রা’ প্রভৃতি কবিতায় ও গানে সুর সংযোজন করেন।
- যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের পটভূমিকায় ‘বিচারপতি তোমার বিচার’, ‘ও আলোর পথযাত্রী’, ‘জন্মভূমি’, ‘হাতে মোদের কে দেবে’, ‘কোনো এক গাঁয়ের বধূ’, ‘কালো মেয়ে’, ‘তেলের শিশি ভাঙলো বলে’ ও ‘শান্তির গান’ প্রভৃতি অনবদ্য স্মরণীয় গান রচনা ও সুরকার হিসেবে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই বিস্ময়কর বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মানুষটির মহাপ্রয়াণ ঘটে। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ২০ নভেম্বর, ২০২৩।
১৬,৯৪০.
"ধনঞ্জয় বৈরাগী" চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ডাকঘর
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
-'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, অমল, সুধা।
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬,৯৪১.
দাদা ভাই কার ছদ্ম নাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হরিনাথ মজুমদার
  3. সোমেন চন্দ্র
  4. রোকনুজ্জামানখান
ব্যাখ্যা
• রোকনুজ্জামান খান এর ছদ্মনাম - দাদাভাই।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - ভানুসিংহ ঠাকুর৷
- সোমেন চন্দের ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম।
- 'হরিনাথ মজুমদার' এর ছদ্মনাম - কাঙাল হরিনাথ।

রোকনুজ্জামান খান:
- তিনি একজন সাংবাদিক, শিশুসংগঠক ছিলেন।
- ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলায় সাহিত্য-সংস্কৃতসমৃদ্ধ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
ছড়া:
- হাট্রিমাটিম।

অনুবাদ:
- আজব হলেও গুজব নয়।

সম্পাদনা:
- ঝিকিমিকি,
- আমার প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৪২.
কাজী নজরুল ইসলামকে তাঁর মা জাহেদা খাতুন কী নামে ডাকতেন?
  1. নজরুল
  2. নজু
  3. নজর আলি
  4. খোকা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে, বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'। 
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম তো সবারই জানা — দুখু মিয়া। তাঁর কিন্তু আরও নাম ছিল! কবিকে কেউ ডাকত ‘নুরু’, কেউ ‘তারাখ্যাপা’, ‘খুদে’, ‘ওস্তাদ’, ‘ব্যাঙাচি’ নামে। মা জাহেদা খাতুন নজরুলকে ডাকতেন ‘নজর আলি’। কারও যাতে নজর না লাগে, হয়তো সে কারণেই।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো।
১৬,৯৪৩.
'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' গ্রন্থটি লিখেছেন-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম ইংরেজি সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন। তাঁর The Captive Lady (1849), Vision of the Past ইংরেজিতে রচিত গ্রন্থ। ইংরেজিতে সফল না হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলায় সাহিত্যচর্চা করে সফলতা অর্জন করে বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় হয়ে আছেন। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৬,৯৪৪.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক?
  1. জীবন থেকে নেওয়া
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বর্ণচোরা
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস আরেক ফাল্গুন।
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সিনেমা: জীবন থেকে নেওয়া।
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক: কবর।
•  ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন: একুশে ফেব্রুয়ারি।

অন্যদিকে, 
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - বর্ণচোরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৪৫.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) মাটির কান্না
  2. খ) মাটির দেয়াল
  3. গ) ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  4. ঘ) রাখালী
ব্যাখ্যা
'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত স্মৃতিকথা৷
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ -
রাখালী
বালুচর
মাটির কান্না
সুচয়নী
ধানক্ষেত
'মাটির দেয়াল' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,৯৪৬.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি - 
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প 
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

- 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি - উপন্যাস। 

• আবদুল মান্নান সৈয়দ

- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, 

• তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৪৭.
’সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, লেখক।
- নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কুমিল্লা ইউসুফ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং  কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। 
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি - কথা।
- সভ্যতা,
- সুখ, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য’,
- আদেশপন্থী 
- অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৪৮.
‘কালিকলম’ কোন ধরনের সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. দৈনিক 
  4. বার্ষিক 
ব্যাখ্যা

‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৪৯.
'গিনিপিগ' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নুরুল মোমেন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৫০.
কত খ্রিস্টাব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'ডি. লিট' উপাধি লাভ করেন?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯৩৬ সালে
  3. ১৯৩৯ সালে
  4. ১৯8৮ সালে
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা কথা-সাহিত্যের দুর্লভ জনপ্রিয়তার অধিকারী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৩ সালে ভাগ্যের সন্ধানে তিনি বার্মা যান এবং রেঙ্গুনে অ্যাকাউন্ট্যাট অফিসে কেরানি পদে চাকরি করেন। প্রবাস জীবনেই তার সাহিত্য সাধনা শুরু হয় এবং তিনি খ্যাতি লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জগত্তারিণী পদক' এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা একাডেমি চরিতাবিধান এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৫১.
'কুহেলিকা' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. নওরোজ
  2. ধূমকেতু
  3. কল্লোল
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯৫২.
"শুনিলাম মানবের কত বাণী দলে দলে
অলক্ষিত পথে উড়ে চলে
অস্পষ্ট অতীত হতে অস্ফুট সুদূর যুগান্তরে।" - উদ্ধৃত কাব্যাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "শুনিলাম মানবের কত বাণী দলে দলে
অলক্ষিত পথে উড়ে চলে
অস্পষ্ট অতীত হতে অস্ফুট সুদূর যুগান্তরে।"- উদ্ধৃত কাব্যাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বলাকা' কাব্যের অন্তর্গত সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা' কবিতার অংশবিশেষ।

এখানে কবি মানুষের চলার গতিপ্রবাহ সম্পর্কে ব্যঞ্জনাময় উক্তি করছেন।
সন্ধ্যা ও রাত্রির সন্ধিক্ষণে এক ঝাঁক হংসপাখির আকস্মিক শব্দঝংকারে কবিচিত্তে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বসৃষ্টির চলার ধর্ম সম্পর্কিত বোধি। সচল ও অচল উভয় বস্তুতে তিনি প্রত্যক্ষ করেন অন্তবিহীন চলমানতা, সুদূর অতীত উৎস থেকে অনাগত ও অস্ফুট ভবিষ্যতের দিকে সবকিছুই নিরন্তর ধাবিত হচ্ছে। মানুষ সৃষ্টির চৈতন্যবান প্রাণী, তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, শ্রম-কর্ম ও বাণী রয়েছে। মানুষ সর্বদাই স্বপ্ন ও আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে চায়। এই অসংখ্য স্বপ্নাদর্শ বাণীরূপ ধারণ করে অতীত থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমান পার হয়ে তারা চলছে অপরিস্ফুট সুদূর ভবিষ্যতের দিকে। চলার ধর্মই জীবন ধর্ম, চৈতন্যেরও লক্ষ্য এই চলার মধ্য দিয়ে পূর্ণতায় পৌঁছানো; কিন্তু সেই পূর্ণতার স্বরূপ সে জানেনা, তাই কবি একে অস্ফুট বলছেন। তবে মানুষ তার সুন্দর, শুভ ও কল্যাণময় সত্তার দিকেই ছুটে চলছে।
মানুষের এই যাত্রাপথটিকে কবি দেখতে পাচ্ছেন, এক অর্থে রবীন্দ্রনাথ সর্বদাই পথিক মানুষের কথা বলেন- চলাই যার আনন্দ।

============ 
• 'বলাকা' কাবগ্রন্থ: 
- বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
- কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল।
- এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে।
- কাব্যটি রচনার পশ্চাতে তিনটি বিষয় কবিকে অনুপ্রাণিত করেছে;
ক. কবির ইউরোপ ভ্রমণ, খ. কবির নোবেল পুরস্কার লাভ, গ. সমকালীন বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রথম মহাযুদ্ধ। 
---------------------- 
সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা
আঁধারে মলিন হল--যেন খাপে-ঢাকা
বাঁকা তলোয়ার;
দিনের ভাঁটার শেষে রাত্রির জোয়ার
এল তার ভেসে-আসা তারাফুল নিয়ে কালো জলে;
অন্ধকার গিরিতটতলে
দেওদার তরু সারে সারে;
মনে হল সৃষ্টি যেন স্বপ্নে চায় কথা কহিবারে,
বলিতে না পারে স্পষ্ট করি,
অব্যক্ত ধ্বনির পুঞ্জ অন্ধকারে উঠিছে গুমরি।

উৎস: সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা, বলাকা- কাব্য, বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৫৩.
‘উজানে মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'উজানে মৃত্যু' নাটক:
- 'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬) একটি এবসার্ড নাটক।
- নাটকের মুখ্য বিষয় আধুনিক সভ্যতার অন্তঃশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়।
- এবসার্ড শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, জীবনের এলোমেলো ভাব প্রকাশিত হবে শিল্পের শরীরে। তাই এবসার্ড নাটকে থাকবে সংলাপ ও পাত্রপাত্রীর আপাত সমন্বয়হীনতা। কিন্তু এর গভীরে প্রবাহিত থাকবে পরিত্রাণের অন্তঃশীলা।

-----------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৫৪.
নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র রচিত সর্বশেষ নাটক কোনটি?
  1. ক) জামাইবরিক
  2. খ) নবীন তপস্বিনী
  3. গ) কমলেকামিনী
  4. ঘ) লীলাবতী
ব্যাখ্যা
নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্র রচিত সর্বশেষ নাটক 'কমলেকামিনী'। 
-  নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। 
- নাটকগুলির সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল। 
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৫৫.
হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা কোনটি?
  1. ক) শোকার্ত তরবারি
  2. খ) আলোকিত গহ্বর
  3. গ) আরো দুটি মৃত্যু
  4. ঘ) আধুনিক কবি ও কবিতা
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতাঃ শোকার্ত তরবারি, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শবের মত, যখন উদ্যত সঙ্গিন। তার প্রবন্ধঃ আলোকিত গহ্বর, আধুনিক কবি ও কবিতা,সাহিত্য প্রসঙ্গ। গল্পঃ আরো দুটি মৃত্যু।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,৯৫৬.
কোন লেখক 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. আবদুল হাই
  3. স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৫৭.
"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন
  2. দুঃখ বিনা সুখ হয় না
  3. সুখ
  4. সদ্ভাবশতক
ব্যাখ্যা

"কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:  
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৫৮.
"বিয়ে পাগলা বুড়ো" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
• ‘কিঞ্চিৎ জলযোগ’ প্রহসনটির রচয়িতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• ‘কল্কি অবতার’ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিক একটি প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৫৯.
'বদিউল আলম' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. অনীল বাগচীর
  2. শ্যামল ছায়া
  3. আগুনের পরশমণি
  4. শ্যামল ছায়া
ব্যাখ্যা
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৬০.
'গণদেবতা' উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. চৈতালি ঘূর্ণি
  3. নিকেতন
  4. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
• 'গণদেবতা' উপন্যাস:
- 'গণদেবতা' উপন্যাসটি "বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধের বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যেরই একটা যুগ-পরিচায়ক উপন্যাস।

- এই সুবৃহৎ উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় 'চণ্ডীমণ্ডপ' নামে ১৩৪৭ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাস থেকে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস সময়কালে প্রকাশিত হয়েছিল। "১৩৪৯ বঙ্গাব্দের ২০শে কার্ত্তিক গণদেবতা (চণ্ডীমণ্ডপ) নামাঙ্কিত হয়ে শক্তিরঞ্জন সোম কর্তৃক গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয়।” তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ অনুভূতির মাধ্যমে 'গণদেবতা' উপন্যাসটি রূপায়িত হয়েছে।

- তিনি গণদেবতা (চণ্ডীমণ্ডপ) উপন্যাসটিকে উৎসর্গ করেছিলেন সরোজ কুমার রায় চৌধুরী মহাশয়কে। উল্লেখ্য গণদেবতা উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড 'পঞ্চগ্রাম' অংশটি ১৩৫০ বঙ্গাব্দে মূল উপন্যাসের সহিত যুক্ত হয়ে ক্যাতায়নী বুক স্টল থেকে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি নতুন সংস্করণ প্রকাশনার সময় লেখক প্রয়োজন মতো পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করেছিলেন। সমগ্র 'গণদেবতা' উপন্যাসটিকে লেখক উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর পরম শ্রদ্ধাভাজন শ্রীযুক্ত কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাপঞ্জিতে 'গণদেবতা' ও 'পঞ্চগ্রাম' নামে দুটি উপন্যাস পাওয়া যায়। আসলে "গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম, একটি উপন্যাসের দুটো খণ্ড” একটি 'চণ্ডীমণ্ডপ' অন্যটি 'পঞ্চগ্রাম', এই দুই অংশের সাধারণ নাম 'গণদেবতা'।

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 'গণদেবতা' উপন্যাসে ১৯২০ এর দশকের বীরভূমের গণ জীবনের সার্বিক চিত্র এঁকেছেন, তা ঔপনৈবেশিক ভারতের প্রতিটি গ্রামেরই প্রতিচ্ছবি। 

----------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'গণদেবতা' উপন্যাস;  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৬১.
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. হুমায়ন আজাদ
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা

- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন।
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

• অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯৬২.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা -
  1. আব্দুল হাকিম
  2. আলাওল
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৬৩.
কায়কোবাদ রচিত ‘অশ্রুমালা’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গীতিকাব্য
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি -
• গীতকাব্য - অশ্রুমালা (১৮৯৫)
• মহাকাব্য - মহাশ্মশান (১৯০৫)
 
• কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ ‘অশ্রুমালা’ (১৮৯৬)।
- এই কাব্যের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।
 
- কায়কোবাদ হচ্ছেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- ‘মহাশ্মশান’ কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
 
উৎস: বাঙলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৬৪.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা?
  2. এর উপায় কি?
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কি?': 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' ও 'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন। 
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন - 'একেই কি বলে সভ্যতা?'

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৬৫.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মারা যান?
  1. ২৩ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ১৮ বছর
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- ২৯শে বৈশাখ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে মাত্র একুশ বছর বয়সে কবি মৃত্যুবরণ করেন। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৬,৯৬৬.
'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) বদরুদ্দিন ওমর
  4. ঘ) মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃতির কথা (প্রবন্ধ) প্রবন্ধটির লেখক মোতাহার হোসেন

অন্যদিকে,
• সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৬) (প্রবন্ধ) - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
• সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (প্রবন্ধ) - শওকত ওসমান।
• সংস্কৃতির রুপান্তর (প্রবন্ধ) - গোপাল হালদার।
• সংস্কৃতির সংকট (প্রবন্ধ) - বদরুদ্দিন ওমর।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৬৭.
বাংলা গীতি কবিতায় ভোরের পাখি কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ভোরের পাখি উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- সারদামঙ্গল, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্য।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)
১৬,৯৬৮.
'চাচা কাহিনী' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
চাচা কাহিনী ও টুনি মেম সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্প। পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল এগুলো তাঁর রচিত রম্যরচনা। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,৯৬৯.
'গণমানুষের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবুল ফজল
  3. দিলওয়ার
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• কবি 'দিলওয়ার' - 'গণমানুষের কবি' হিসেবে পরিচিত।

• 'গণমানুষের কবি' হিসেবে কবি দিলওয়ার:
১৯৭৭ সালের ৭ মার্চ সিলেটে কবি দিলওয়ারকে এক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনায় পড়া মানপত্রের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়, ‘গণমানুষের কবি’ দিলওয়ারকে সিলেটের মানুষ অভিনন্দন জানাচ্ছে ‘স্বদেশ, স্বজাতি ও বিশ্বমানবের মঙ্গল কামনাকে অঙ্গীকার করে’ তাঁর ‘আবাল্য কাব্যসাধনার’ জন্য। সেই থেকে ‘গণমানুষের কবি’ অভিধাটি তাঁর নামের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায়,

দিলওয়ার:
- ১৯৩৭ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম: দিলওয়ার খান।

দিলওয়ার রচিত কয়েকটি কবিতা গ্রন্থ:
- জিজ্ঞাসা,
- ঐকতান,
- উদ্ভিন্ন উল্লাস,
- রক্তে আমার অনাদি অস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট- ২৫ অক্টোবর, ২০১৩।
১৬,৯৭০.
'সব্যসাচী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) চরিত্রহীন
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) পথের দাবী
  4. ঘ) দেবদাস
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। এর কাহিনীর পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- নিঃসন্দেহে এই কাহিনীতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবের আন্তরিক সমর্থন আছে। গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৭১.
কোনটি জসীমউদ্‌দীনের রচনা নয়?
  1. ক) পদ্মাপার
  2. খ) হাসু
  3. গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. ঘ) সূচয়নী
ব্যাখ্যা
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' - জসীমউদ্‌দীনের রচনা নয়।

- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান - আবু জাফর শামসুদ্দীনের রচনা।

• ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা,  শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
গাঁথাকাব্য:
- নকশীকাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট
- মা যে জননী কান্দে

খণ্ড কবিতা:

- রাখালী বালুচর
- ধানক্ষেত
- রূপবতী
- মাটির কান্না
- সূচয়নী

নাটক:

- পদ্মাপাড়
- বেদের মেয়ে
- মধুমালা
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া

ভ্রমণকাহিনি:
চলে মুসাফির
হলদে পরীর দেশ
যে দেশে মানুষ বড়

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৭২.
'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. জহির রায়হান
  3. সেলিম আল দীন
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

• 'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা জহির রায়হান।

• জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭১):
- জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- তিনি ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।
-  'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেছেন ১৯৬৪ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে, 
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কতদিন, 
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯৭৩.
"যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"- উক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মানুষের ধর্ম' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ধর্মচিন্তা বিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ১৯৩২ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রদত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমলা স্মৃতি বক্তৃতাগুলোই এর মূল লেখা।
- তাঁর ধর্মচিন্তা, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বিষয়ে তাঁর বীতরাগ এবং উদার মানবিক-আধ্যাত্মিকতাবোধের কবিত্বময় প্রকাশ এই বক্তৃতা তথা লেখাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য।

প্রবন্ধটির বক্তৃতার কিছু অংশ হলো-
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শকে নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ। কোন্ দিকে নির্দেশ? যে দিকে সে বিচ্ছিন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব।" 

তাছাড়া এই প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন -"যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- কালান্তর
- সভ্যতার সংকট

সূত্র: মানুষের ধর্ম প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৭৪.
'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে সাপ্তাহিক কলাম লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন বাংলা ১৩১৭ সালের ২৮ ফাল্গুন (মার্চ, ১৯১১) তৎকালীন ঢাকা জেলার কালীগঞ্জ থানার দক্ষিণবাগ গ্রামে এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- আবু জাফর শামসুদ্দীনের সাহিত্য জীবনের শুরু হয় ১৯৩২ সালে। তিনি অসংখ্য গল্প, বেশকিছুসংখ্যক উপন্যাস, নাটক, মননশীল প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনি প্রভৃতি রচনা করেছেন। তাঁর রচিত এবং প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশটির অধিক। তাঁর হাজার পৃষ্ঠার সুবৃহৎ উপন্যাস 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। উভয় বাংলায় এ-গ্রন্থ উচ্চ প্রশংসা অর্জন করে।

- উপমহাদেশের একজন প্রথম সারির সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। 'দৈনিক সোলতান' পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি  খুলনা,  কলকাতা ও কটকে কিছুকাল সরকারি চাকরি করেন। এর পাশাপাশি তিনি  আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও  সংবাদ পত্রিকায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন।

- ১৯৭৫ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক 'সংবাদ'-এ 'অল্পদর্শী' এই ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।

- সাহিত্য এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, বেগম জেবুন্নিসা-কাজী মাহবুবুল্লাহ স্বর্ণপদক, জহুর হোসেন চৌধুরী স্মৃতি স্বর্ণপদক, সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রভৃতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• উপন্যাস:
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৯৭৫.
'মাটির দেয়াল' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী: 
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। 
- তাঁর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গে। 
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
-  তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
- উপহার, 
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- পারাপার, 
- পালাবদল, 
- ঘরে ফেরার দিন, 
- হারানো অর্কিড, 
- পুষ্পিত ইমেজ, 
- অমরাবতী, 
- অনিঃশেষ, 
- নতুন কবিতা, 
- চলো যাই, 
- সাম্প্রতিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৬,৯৭৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪১ সালে 
  2. ১৮৪২ সালে 
  3. ১৮৬১ সালে 
  4. ১৮৬২ সালে 
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
 - গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯৭৭.
বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম পত্রসংকলন রচনা করেন কে?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) স্বামী বিবেকানন্দ
ব্যাখ্যা
 রবীন্দ্রনাথের ‘য়ুরোপ যাত্রীর পত্র' সর্বপ্রথম পত্রসংকলন। 
- তাঁর ‘জাপানযাত্রী', 'জাভাযাত্রীর পত্র', 'রাশিয়ার চিঠি' ইত্যাদি পত্রসংকলন হিসেবেও বিবেচ্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পত্রসাহিত্য যেমন সুবিপুল তেমনি কল্পনা প্রসারতায় তা দিগন্ত বিস্তারী। তাঁর প্রত্যেকটি পত্রে একটি অপরূপ সৃজনশীল মন আত্মপ্রকাশ করেছে।
- ‘পথে ও পথের প্রান্তে' দেশভ্রমণের বৃত্তান্ত নয়, চলমান জীবনের পথ যাত্রার ক্ষীণাভ রেখাটুকু এই পত্রগুচ্ছে ফুটে উঠেছে। 

এছাড়াও- 

- বাংলা সাহিত্যে পত্রসাহিত্যের যথেষ্ট নিদর্শন বিদ্যমান।
- বাংলা গদ্যের সূচনালগ্নে রামরাম বসু পত্রাকারে 'লিপিমালা' (১৮০২) রচনা করেছিলেন।
- বাংলা পত্রসাহিত্য হিসেবে নবীনচন্দ্র সেনের 'প্রবাসের পত্র', দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘বিলাতের পত্র', রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্রাবলী' ও ‘চিঠিপত্র', স্বামী বিবেকানন্দের 'পত্রাবলী' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৬,৯৭৮.
"এর উপায় কি" মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. প্রহসন
  4. কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি' প্রহসন:
- 'এর উপায় কি' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

--------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৭৯.
বাংলা সঙ্গীতে প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. নিধু বাবু
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• ঠুমরি (ঠুম্রি/ঠুংরি): 
- ঠুমরি এক প্রকার লঘু রাগসঙ্গীত; খেয়ালের পরেই এর স্থান।
- এ গানের সুর অতি মিষ্টি, তাই এর নাম হয়েছে ঠুমরি।
- বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুংরি / ঠুমরি আমদানি করেন অতুল প্রসাদ সেন।  
------------------
অতুলপ্রসাদ সেন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক। 
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৮০.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি কোন প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. বই পড়া
  2. তেল-নুন লাকড়ী
  3. সভ্যতার সংকট
  4. বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা
• 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।

তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী
- বীরবলের হালখাতা
- নানাকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৮১.
'সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন' - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কামিনী রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৮২.
কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করে রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
  1. কালের কলস
  2. দশ দিগন্তে উড়াল 
  3. দিনযাপন
  4. বাংলার বল্‌শী
ব্যাখ্যা

'বাংলার বল্‌শী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ সংকলন 'বাংলার বল্‌শী'। 
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বল্‌শী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে। 

------------------
• আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
-  তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম: বাংলার বলশী, মুসলিম কালচার ও বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি 'কৃষকের আর্তনাদ', 'কৃষকের দুর্দশা' ও 'কৃষি বিপ্লবের সূচনা' নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন। তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৯৮৩.
কার অনুরোধে মুনীর চৌধুরী 'কবর' নাটকটি রচনা করেন?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৮৪.
''অলীক কুনাট্য রঙ্গে, মজে লোক রাঢ়ে ও বঙ্গে''- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
----------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী; 

- তাঁর প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা? ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

সূত্র: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 
১৬,৯৮৫.
"সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদ" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত সাহিত্যকর্ম:

- হুতোম প্যাঁচার নকশা
- পুরাণসংগ্রহ
- সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৮৬.
'বেতালপঞ্চবিংশতি' গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• বেতালপঞ্চবিংশতি:
বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। অনুবাদের সময় তিনি মূল গল্পের অশ্লীল অংশ বর্জন এবং কোনো কোনো দীর্ঘ কাহিনী সংক্ষিপ্ত করেন।

মৃত রাজা চন্দ্রভানুর প্রেতাত্মার নাম বেতাল। তৎকর্তৃক কথিত পঁচিশটি উপাখ্যানের সমাহার হচ্ছে বেতালপঞ্চবিংশতি। বেতাল ঘটনাচক্রে রাজা বিক্রমাদিত্যের স্কন্ধে ভর করে তাঁকে গল্পগুলি পরপর শোনায়। গল্পগুলির অধিকাংশ প্রাচীন রাজকাহিনী; দু-তিনটিতে ব্রাহ্মণ চরিত্র আছে। বাস্তব ও কল্পনা মিশ্রিত রোম্যান্টিক ধাঁচের এসব আখ্যানের মুখ্য আবেদন গল্পরস; তবে রাজবিধি, শাস্ত্রবিধি ও ন্যায়নীতির কথাও আছে। প্রতিটি গল্পের শেষে বেতাল ও বিক্রমাদিত্যের প্রশ্নোত্তরে এসব বিষয় আরও পরিস্ফুট হয়েছে। প্রাচীন ভারতের রাজ-পরিবারের ভোগ-বিলাস ও নৈতিক স্খলনের নানা চিত্র গল্পগুলিতে ফুটে উঠেছে।

সেকালে গল্পের মাধ্যমে নীতিকথা প্রচার করার জন্য পঞ্চতন্ত্র, দ্বাত্রিংশৎপুত্তলিকা, কথাসরিৎসাগর, হিতোপদেশ প্রভৃতি সংস্কৃত, কালিলা ও দিমনা ফারসি এবং ঈশপস্ ফেবলস্ ইংরেজি ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছাড়াও একজন অজ্ঞাতনামা লেখক ১৮৫২ সালে এবং জীবানন্দ বিদ্যাসাগর ১৮৭৩ সালে বেতালপঞ্চবিংশতি বাংলায় অনুবাদ করেন। তবে ঈশ্বরচন্দ্রের গ্রন্থখানি গদ্যরীতি ও রস-রুচির বিচারে উত্তম। দীর্ঘকাল এটি বিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৮৭.
শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) উত্তরাধিকার
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া
  3. গ) এই শীতে
  4. ঘ) ভয় নেই
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরীর রচিত প্রথম কবিতা ‘এই শীতে’ বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, ‘উত্তরাধিকার’ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
১৬,৯৮৮.
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. ভারতী
  3. বঙ্গদর্শন
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৮৯.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ নয়?
  1. নীতিবোধ
  2. কথামালা
  3. বোধদয়
  4. প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত অনুবাদ গ্রন্থ নয় ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’(১৮৬৩)।
‘বোধদয়’ – চেম্বার্সের Rudiments of knowledge অনুসরনে রচিত।
‘নীতিবোধ’ – রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের The Moral Class Book অবলম্বনে রচিত।
কথামালা – ঈশপের কাহিনী অবলম্বনে রচিত।

১৬,৯৯০.
'বেদান্তগ্রন্থ' ও 'বেদান্তসার' কার রচনা?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

‘বেদান্তগ্রন্থ’ এবং ‘বেদান্তসার’ রচনা করেছেন রাজা রামমোহন রায়।

রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একজন ভারতীয় সমাজ সংস্কারক।
- তিনি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, ভারতীয় শিক্ষার একজন পথিকৃৎ ছিলেন এবং
- বাংলা গদ্য ও ভারতীয় সংবাদপত্রের ধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালের ২২ মে, হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁকে ‘রাজা’ খেতাব প্রদান করেন।
- ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে কলকাতায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় তিনি ‘ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- রামমোহন রায় প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

- প্রধান রচনাসমূহ:
• বেদান্তগ্রন্থ,
• বেদান্তসার,
• ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
• গোস্বামীর সহিত বিচার,
• সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
• গৌড়ীয় ব্যাকরণ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৯৯১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করেপ্রাণদান করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- এর আগে তা ছিল প্রস্তরবৎ। 
- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ, ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করেসেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।  
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৯২.
'মাল্যবান' জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'মাল্যবান' উপন্যাস:
- 'মাল্যবান' (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। এটি উপন্যাসের চিরচেনা ছকে আবদ্ধ নয়।
- আধুনিক এবং অসুখী দাম্পত্য জীবনের আদি-অন্তহীন এক অনন্য জীবনানন্দীয় আখ্যান।
- মাল্যবান-এর পরতে পরতে কুয়াশা, হারিয়ে যাওয়া পথ, পথের ধারে খাদ। অসুখী ব্যক্তি মানুষের অসহায়ত্ব, জীবন নিয়ে খেলা, আপসের কৌশল। আছে সংঘাত, আছে গভীর জীবনবোধ।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৯৩.
'একুশের গান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আ ন ম গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
• 'একুশের গান' কবিতার রচয়িতা- আবদুল গাফফার চৌধুরী।

→ আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশিত লিফলেটে এটি 'একুশের গান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনেও এটি প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৯৪.
“আবে হায়াত ও জীবন ক্ষুধা” এ দুটি উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আহমদ শরীফ
  4. ড. লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৯৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম -
  1. ভানুমতি ঠাকুর
  2. বিস্যাসুন্দর 
  3. দিকশূণ্য ঠাকুর 
  4. বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ।

• 'ভানুমতি ঠাকুর', বিস্যাসুন্দর, দিকশূণ্য ঠাকুর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয়। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৯৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য কোনটি?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) নিষিদ্ধ লোবান
  3. গ) প্রলয় শিখা
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে ‘প্রলয় শিখা’।
• কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
• তাঁর প্রকাশিত প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
• গল্প-
- ‘হেনা’,
- ‘ব্যথার দান’,
- ‘মেহের নেগার’,
- ‘ঘুমের ঘোরে’;
- কবিতা ‘আশায়’,
- ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৯৭.
'অভিযাত্রিক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সেলিনা হোসেন
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• 'অভিযাত্রিক' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন। তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৯৮.
"হিরণবালা" মুনীর চৌধুরীর কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. কবর
  3. চিঠি
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৯৯৯.
'প্রেমাঞ্জলি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) নজিবুর রহমান
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলির প্রতিযোগী হিসেবে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখেন প্রেমাঞ্জলি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৭,০০০.
বিহারীলাল চক্রবর্তী'র উপাধি কোনটি?
  1. কাব্য সুধাকর
  2. ভোরের পাখি
  3. স্বভাব কবি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- গোলাম মোস্তফা'র উপাধি - কাব্য সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।