বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৬২ / ১৭৪ · ১৬,১০১১৬,২০০ / ১৭,৪৩৭

১৬,১০১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কবে বাংলা বিভাগ খোলা হয়?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৪ সালে 
ব্যাখ্যা

• ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

 • উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি ।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক ।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন ।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৬,১০২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. জননী
ব্যাখ্যা
'জননী' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী'।

- এটি নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস।
- চরিত্র ও কাহিনির নির্মোহ বাস্তব রূপায়ণ এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১০৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নয়নচারা
  2. দি আগলি এশিয়ান
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. উজান মৃত্যু
ব্যাখ্যা

'দি আগলি এশিয়ান' উপন্যাস:
'দি আগলি এশিয়ান' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন - জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১০৪.
নিচের কোনটি শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. জলাঙ্গী
  2. যাত্রা
  3. দক্ষিণায়নের দিন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে।
- এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে,
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- দক্ষিণায়নের দিন শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,১০৫.
লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার 'কাজী নজরুল ইসলাম'কে কোন নামে ডাকতেন?
  1. দুখু মিয়া
  2. নজর আলী
  3. তারা ক্ষ্যাপা
  4. ব্যাঙাচি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং কবি নজরুল জীবনী।

১৬,১০৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে কয়টি পুঁথি সংকলিত হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা':
• ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
• তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
• তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজবজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচার্য্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব। 

--------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'  নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- হরপ্রসাদ বহু বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন;
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই’ উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন এবং ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। 
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ এর আবিষ্কারক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,১০৭.
Who was the first editor of literary magazine 'Bangadarshan'?
  1. Pari Chad Mitra
  2. Bankim Chandra Chattopadhy
  3. Akshay Kumar Datta
  4. Promoth Chowdhury
ব্যাখ্যা
বঙ্গদর্শন:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১৬,১০৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. কালিকলম
  2. সাধনা
  3. মোসলেম ভারত
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,১০৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. স্টাডিজ ইন প্রাচীন বাংলা
  2. এনালাইসিস অফ সংস্কৃত রুটস
  3. দি হিস্ট্রি অব বেঙ্গল
  4. অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১১০.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. কাঙাল হরিনাথ মজুমদার
  4. মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
- উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে।
- এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,১১১.
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটি কোন স্থান থেকে প্রকাশিত?
  1. ঢাকার পল্টন
  2. নওগাঁর পরিসর
  3. কুষ্টিয়ার কুমারখালী
  4. ময়মনসিংহের ত্রিশাল
ব্যাখ্যা
• গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে কুমারখালী বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১১২.
বঙ্কিমচন্দ্রের 'কমলাকান্ত' গ্রন্থের তিনটি অংশের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. কমলাকান্তের পত্র
  3. কমলাকান্তের জবানবন্দি
  4. কমলাকান্তের চিঠি
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক। 
- তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন। 

'কমলাকান্ত' গ্রন্থ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্ত"। এটি নকশা জাতীয় রম্য রচনা।
 - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'কমলাকান্তের দপ্তর' ইংরেজ সাহিত্যিক ও সমালোচক ডি-কুইনসির Confession of an English Opium Eater-এর প্রেরণায় রচিত।

এর তিনটি অংশ রয়েছে।
যথা - 
১. কমলাকান্তের দপ্তর,
২. কমলাকান্তের পত্র ও
৩. কমলাকান্তের জবানবন্দি।

সুতরাং,
• "কমলাকান্তের চিঠি" - 'কমলাকান্ত' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬,১১৩.
জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষ বর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর! - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত এই চরণদুটি কাকে স্মরণ করে লিখেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. চিত্তরঞ্জন দাস
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- দেশ বন্ধুর মৃতু্যর পরে কবি নজরুল শোকগাথামূলক যে চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন সেটিও উৎসর্গ করেছিলেন বাসন্তী দেবীর নামে 'ইন্দ্র পতন' কবিতায় নজরুল চিত্তরঞ্জন দাসের মৃতু্যকে স্মরণ করে লিখেলেন-

জন্মিলে তুমি মোহাম্মদের আগে, হে পুরুষ বর!
কোরানে ঘোষিত তোমার মহিমা, হতে পয়গাম্বর!
যে জ্যোতি পারেনি সহিতে স্বয়ং মুসা ও কোহ-ই তুরে,
সেই জ্যোতিঃ তুমি রেখেছিলে তব নয়ন মণিতে পুরে

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১১৪.
ফররুখ আহমদ সম্পর্কে নিচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয়?
  1. তিনি যশোরের মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  2. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাঁর অবস্থান উর্দু ভাষার পক্ষে।
  3. পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে তিনি ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
  4. তিনি ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি ছিলেন।
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য নয় - পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাঁর অবস্থান উর্দু ভাষার পক্ষে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলার পক্ষে তাঁর অবস্থান ছিলেন।

• ফররুখ আহমদ, 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, শিশুসাহিত্যিক।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর।
- ফররুখ আহমদ ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন।
- পরে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
- তিনি ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি ছিলেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,১১৫.
'সুভাষিণী' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. সুভা
  3. বিলাসী
  4. ভিখারিনী
ব্যাখ্যা
• ‘সুভা’ ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোটগল্প 'সুভা'।
- ‘সুভা’ গল্পটিতে একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে।
- গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম 'সুভা'। সুভার বাবা তাঁর বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে ছোট বোনের নাম রেখেছিলেন 'সুভাষিণী'।
- তাঁর বড় দুই বোনের নাম- 'সুকেশিনী' ও 'সুহাসিনী'।

--------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- ভিখারিনী,
- ছুটি,
- কাবুলিওয়ালা,
- পোস্টমাস্টার,
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- অপরিচিতা,
- হৈমন্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,১১৬.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কায়কোবাদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• 'আলো ও ছায়া' - এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১১৭.
সাহিত্য পত্রিকা ’কবিতা’ এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শামসুর রহমান
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• কবিতা
- কবিতা  কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। 
- পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। 
- যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন।
- পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার প্রথম কবি ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- তাঁর কবিতার নাম ‘তামাসা’। 
- দ্বিতীয় বর্ষ থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্র পত্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাঁর জায়গায় সম্পাদক হিসেবে আসেন সমর সেন।
- কিন্তু এক বছর পরেই সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব এককভাবে চলে আসে বুদ্ধদেবের হাতে। 
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ পত্রে বুদ্ধদেবকে তাঁর সুখকর মতামত জানিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬,১১৮.
‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ কোন ভাষায় রচিত?
  1. প্রাকৃত
  2. মৈথিলী
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী" কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুহুঁ মম শ্যামসমান।"

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষ লেখা।

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

১৬,১১৯.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে কাকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১২০.
'সুধা' চরিত্রটি নিচের কোন নাটকের সঙ্গে যুক্ত?
  1. রক্তকরবী
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. বিসর্জন
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,১২১.
কোন উপন্যাসে চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. ক) মরণবিলাস
  2. খ) স্বপ্নশীলা
  3. গ) খসড়া কাগজ
  4. ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৬,১২২.
'অশান্ত পৃথিবী' কবিতাটি ফররুখ আহমদের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. নতুন লেখা
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'অশান্ত পৃথিবী' একটি সনেট কবিতা। আঠারো অক্ষরের চরণ মাত্রায় রচিত। “মূহূর্তের কবিতা” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা 'অশান্ত পৃথিবী'। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। 'অশান্ত পৃথিবী' কবিতায় মানবতার ক্লান্ত শ্রান্ত অবহেলিত জীবনের কথা স্থান পেয়েছে। কবির হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে লিখেছেন পৃথিবীর জন-মানবের কথা।

• 'মুহূর্তের কবিতা' কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ১৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

---------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
-নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১২৩.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নীলদর্পণ
  3. কবর
  4. লেবেদেফ
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটক- 'ঢাকা' থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
-------------------- 
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

• 'নীলদর্পণ' নাটক: 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,১২৪.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী
সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।
তার অন্যান্য উপন্যাস -
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ , ইত্যাদি 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,১২৫.
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- উক্তিটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. নয়া বসত
  3. দু রঙা প্রজাপতি
  4. শাদা হাওয়া
ব্যাখ্যা

"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,১২৬.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতায় 'কালাপাহাড়'-কে স্মরণ করেছেন কেন?
  1. ব্রাহ্মণ্যযুগে নব মুসলিম ছিলেন বলে
  2. ইসলামের গুণকীর্তন করেছিলেন বলে
  3. প্রাচীন বাংলার বিদ্রোহী ছিলেন বলে
  4. প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।
- এখানে কবি কালা পাহাড়কে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা
– কাজী নজরুল ইসলাম

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

--------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মানুষ’ কবিতা।
১৬,১২৭.
বিনয় ঘোষ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  2. বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  3. বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ
  4. বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ' গ্রন্থের রচয়িতা - বিনয় ঘোষ

অন্যদিকে,
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ - বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।

বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।

তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ,
- মেট্রোপলিটন মন,
- বাংলার নবজাগৃতি,
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ,
- বিদ্রোহী ডিরোজিও ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,১২৮.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয়?
  1. গোরা
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. নৌকাডুবি
  4. দুই বোন
ব্যাখ্যা
 রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'।

• প্রায়শ্চিত্ত:

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক, নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

• রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- চণ্ডালিকা,
- অচলায়তন,
- ডাকঘর।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২. বাংলাপিডিয়া।
১৬,১২৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিক্ষোভ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পূর্বাভাস
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) হরতাল
ব্যাখ্যা
‘বিক্ষোভ’ কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘ঘুম নেই’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা।

বিক্ষোভ
 সুকান্ত ভট্টাচার্য 

দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম।
জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠেছে কেঁপে
ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে
হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে?
যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী,
আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি।
ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি,
আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমি,
অনেকে বিরূপ, কানে দেয় হাত চাপা,
তাতেই কি হয় আসল নকল মাপা?

------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
• সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র , 
- পূর্বাভাস, 
- মিঠেকড়া, 
- অভিযান, 
- ঘুম নেই, 
- হরতাল, 
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

- পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

উৎস: ঘুম নেই কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৩০.
শামসুর রাহমান কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।  তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৩১.
শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. নরসিংদী
  2. গাইবান্ধা
  3. মানিকগঞ্জ
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ছদ্মনাম: মজলুম আদিব।
- তিনি 'নাগরিক কবি' হিসেবে খ্যাত।

• তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

তাঁর কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত এক আধার,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৩২.
'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে,
কানে কানে কহি তোরে।
  - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. বর্ষাযাপন
  2. বিম্ববতী
  3. বসুন্ধরা
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মহুয়া' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক।
- মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তরু অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত।

কবিতার নাম - মহুয়া
কবির নাম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।' 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস:
১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬,১৩৩.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. স্বগত
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. সংবর্ত
  4. তন্বী
ব্যাখ্যা
• 'স্বগত' সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ ভারতী ভবন, কলিকাতা থেকে ১৩৪৫ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। 

--------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৩৪.
'অনল প্রবাহ' কোন ধরনের কাব্য?
  1. শোষিত মানুষের জাগরণমূলক 
  2. মুসলিম জাগরণমূলক 
  3. বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ জাগরণমূলক 
  4. রোমান্সধর্মী
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

 তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,১৩৫.
বিখ্যাত ‘কর্ণফুলী ‘ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ (জন্ম : ৬ মে, ১৯৩২ - মৃত্যু : ৩ জুলাই, ২০০৯) বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক। 
• সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য আলাউদ্দিন আল আজাদ বেশসংখ্যক পুরস্কারে ভূষিত হন।তার মধ্যে--
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার 
- ইউনেস্কো পুরস্কার 
- একুশে পদক 
• তাঁর মৃত্যু ঢাকায়, ৩ জুলাই ২০০৯।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের কাবগ্রন্থগুলির মধ্যে -
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 
- লেলিহান পান্ডুলিপি 
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ 
- সাজঘর ও
- শ্রেষ্ঠ কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র 
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন 
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- ক্ষুধা ও আশা 
- খসড়া কাগজ 

• গল্প
- জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ)
- ধানকন্যা
- মৃগণাভি

• নাটক
- নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
- মরক্কোর যাদুকর 
- মায়াবী প্রহর 
- ধন্যবাদ 
- নিঃশব্দ যাত্রা 
• তাঁর দুটি কাব্যনাট্য, ইহুদির মেয়ে  ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৩৬.
কৃষক বিদ্রোহের কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নূরলদীনের সারাজীবন
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

------------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- এখানে এখন।
- নূরলদীনের সারাজীবন (কৃষক-বিদ্রোহ),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৩৭.
নীলদপর্ণ নাটকটির বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) নীলকরদের অত্যাচার
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) অসহযোগ আন্দোলন
  4. ঘ) তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র - গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,১৩৮.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক্ষুধা ও আশা
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. নির্জন মেঘ
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।  
- উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে। 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।
- কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান এর প্রকৃত নাম প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। 

শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস - 
- জাহান্নম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৩৯.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক-
  1. কালবেলা
  2. মাইলপোস্ট
  3. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  4. শেষ নবাব
ব্যাখ্যা
⇒ স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

⇒ সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার সাঈদ আহমদ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- শেষ নবাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৪০.
'শ্রীরামপুর মিশন' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮১০ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা

শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ,
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৪১.
‘অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  2. হেনরি ডিরোজিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. মনোএল দ্যা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৪২.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসে চিত্রিত হয়েছে-
  1. মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের স্বামী ভক্তি
  2. মুসলিম সমাজের নারী শিক্ষা
  3. গ্রামীণ মুসলিম সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
  4. গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- কাজী ইমদাদুল হকের শেষ রচনা 'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসের ৩০ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত তিনি লিখতে পেরেছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পরে আনোয়ারুল কাদীর বাকি ১১ পরিচ্ছেদ রচনা করেন মূল গ্রন্থকারের
খসড়া-অবলম্বনে। তবে আবদুল কাদির বলেছেন, তাঁদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ পার্থক্য ঘটেছে।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

- আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সমাজের যেসব সমস্যার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে, পিরবাদ তার মধ্যে প্রথম।


উপন্যাসে চিত্রিত সমস্যসমূহ ও কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসের নায়ক আবদুল্লাহ্ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ, কিন্তু কুসংস্কারবিরোধী। তার মতে, পির-মুরিদি ব্যবসাটা হিন্দুদের পুরুতগিরির অনুকরণ, ইসলামে তার স্থান নেই। কাসেম গোলদারের বাড়িতে নিজের পিতৃপুরুষের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প শুনে তার মনে বিস্ময় জাগে: 'পুত্রের পীরত্বে পিতার হৃদয়ে এরূপ সাংঘাতিক হিংসার উদ্রেক আরোপ করিয়া ইহারা পীর-মাহাত্ম্যের কি অদ্ভুত আদর্শই মনে মনে গড়িয়া তুলিয়াছে!' পির হওয়ার সহজ পথ ত্যাগ করে আবদুল্লাহ্ চাকরি করে উপার্জন করতে প্রবৃত্ত হয়েছে।

• আশরাফ-আতরাফভেদ আরেক সামাজিক সমস্যা। সৈয়দ সাহেবের মাদ্রাসায় এদের পাঠদানের বৈষম্য দেখে আবদুল্লাহ্ বিস্মিত হয় এবং মৌলভী সাহেবকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মৌলভী সাহেব জানান, আতরাফের সন্তানেরা তো মিয়াদের সমান চলতে পারে না, তাই সৈয়দ সাহেব এই বিষম শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছেন।
আবদুল্লাহ্ যখন বলে, একেবারেই যদি তাদের পড়ানো না হয়, তাহলে কি আরো ভালো হয় না?, মৌলভী সাহেব তখন বলেন, গরিবেরা যখন শিখতে চায়, তখন তাদের একেবারে নিরাশ করলে খোদার কাছে কী জবাব দেবেন, তাছাড়া গোম্বারে এলেমদান করলে অনেক সওয়াব হয়, একথা কেতাবে আছে। এই সমস্যার চরম অভিব্যক্তি দেখা যায় মসজিদের ইমাম জোলা বলে যখন সৈয়দ সাহেব তাঁর পিছনে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন, তখন। এমনকী, সুফী সাহেব পর্যন্ত সৈয়দ সাহেবের এমন বংশাভিমান সম্পর্কে কোনো কথা বলেন না। এই অশিষ্টতার বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ্ এক মূর্তিমান প্রতিবাদ-সে জোলা ইমামের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বংশমর্যাদা-প্রসঙ্গে মীর সাহেবের কথায় আবদুল্লাহ্‌র মনোভাবই প্রতিধ্বনিত হয়েছে: 'কবরের ওপারের দিকে তাকাবার আমি কোন দরকার দেখি নে।'

• পর্দাপ্রথার শ্বাসরুদ্ধকর কড়াকড়ির বিরুদ্ধেও আবদুল্লাহ্ সাহস করে দাঁড়িয়েছে। পল্লীসমাজের পরনিন্দা-প্রবৃত্তি এবং খাতকের প্রতি মহাজনের অত্যাচারের চিত্র-উদ্‌ঘাটনে কাজী ইমদাদুল হক অকুণ্ঠ। হিন্দু-মুসলমান-বিরোধের পর্যালোচনাও তিনি করেছেন, সেখানে তিনি দায়ী করেছেন সম্প্রদায়কে নয়, ব্যক্তিকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস। 
১৬,১৪৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. মোসলেম ভারত
  2. ভারতী
  3. নবযুগ
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
বউ ঠাকুরাণীর হাট:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- ' বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬,১৪৪.
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-এর 'পল্লীসাহিত্য' মূলত -
  1. ক) দিনপঞ্জি
  2. খ) গল্প
  3. গ) স্মৃতিকথা
  4. ঘ) অভিভাষণ
ব্যাখ্যা
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কিশােরগঞ্জ জেলায় পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সভাপতিত্ব করেন।
- এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে তিনি যে অভিভাষণ দেন, তারই পুনর্লিখিত রূপ এই পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধটি।
- আলােচ্য প্রবন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলার পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলােচনা করেছেন।
- লেখক এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশে ছিল, আজ উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলাে সংগ্রহ করা নিতান্ত প্রয়ােজন।
- বাংলাদেশের লােকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ বিশেষ যত্নের সঙ্গে আহরণ করা একান্ত আবশ্যক।
- প্রবন্ধটি আবহমান কালের বাঙালি, বাংলাদেশ, লােকসাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি সকলকে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)
১৬,১৪৫.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত-
  1. মোটরযোগে রাঁচী সফর
  2. ভ্রমি দেশে দেশে
  3. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বউ'। এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণবৃত্তান্তের রচয়িতা - শহীদুল্লা কায়সার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ, 
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

- শহীদুল্লা কায়সার  বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং  আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
- এস.ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনি হলো: পশ্চিম ভারত, মোটরযোগে রাঁচী সফর। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী রিচিত ভ্রমণ কাহিনি দেশে বিদেশে।
- ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৪৬.
কবিগানের আদি গুরু কে?
  1. ক) গোঁজলা গুঁই
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) নিধু বাবু
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
১৬,১৪৭.
কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করে ____ সালে।
  1. ক) ১৯৩৬
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৬
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিতষিত করে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,১৪৮.
'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।
- তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৪৯.
ভাষা ও ছন্দের ওপর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় কোন রচনায়?
  1. ক) বোধেন্দুবিকাশ
  2. খ) হিতপ্রভাকর
  3. গ) প্রবোধ প্রভাকর
  4. ঘ) কালীকীর্তন
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- স্বদেশ ও স্বসমাজের প্রতি ঈশ্বরচন্দ্রের অনুরাগ ছিল অত্যন্ত নিবিড়।
- তিনি বাংলা ভাষার উন্নয়নের জন্য যে আন্দোলন করেছেন তা আজ স্মরণীয় হয়ে আছে।
- তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন।
- ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) নাটকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৫০.
কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে তাঁর অসমাপ্ত 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটি কে সমাপ্ত করেন?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবুল ফজল
  3. কাজী আনোয়ারুল কাদির
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ্‌:
- 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আবদুল্লাহ্‌।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৫১.
‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্যটির রচয়িতা কে?’
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রেলাল রায়
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা; যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যে অনেকগুলি প্রণয়বৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে।
Source: Banglapedia
১৬,১৫২.
'কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পথের দাবি
  2. চরিত্রহীন
  3. গৃহদাহ
  4. দত্তা 
ব্যাখ্যা

- 'কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র রচিত চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র।
------------------------- 
 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রহীন (১৯১৭) উপন্যাসটি মূলত বিশ শতকের শুরুর বাঙালি সমাজের নিয়মকানুন, প্রেম ও নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে লেখা। উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র হলো- সাবিত্রী ও কিরণময়ী। সাবিত্রী একজন বিধবা, যিনি মনিব সতীশের প্রেমে পড়ে, সমাজ তাকে ‘চরিত্রহীন’ মনে করলেও তার মধ্যে ভালোবাসা ও সততা রয়েছে। কিরণময়ী একজন জটিল নারী চরিত্র, যিনি পঙ্গু স্বামীসহ জীবনের নানা কষ্টে পড়েছেন। উপন্যাসে দেখা যায় সমাজ যাকে ‘চরিত্রহীন’ মনে করে, তার আসল মানষিকতা অনেক ভিন্ন। প্রেম, সম্পর্ক ও নর-নারীর মানবিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তব চিত্র উপন্যাসে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের নাম ‘চরিত্রহীন’ রাখা হয়েছে সমাজের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানুষের প্রকৃত চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য দেখানোর জন্য।
----------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
- কর্মজীবনে বিভিন্ন চাকরি, সন্ন্যাসজীবন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাহিত্যই ছিল তাঁর প্রধান পরিচয়।

- ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয়।
- তাঁর লেখায় গ্রামীণ সমাজ, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং বিশেষভাবে নারীর প্রতি অবহেলা ও যন্ত্রণার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- সহজ ভাষা ও শক্তিশালী কাহিনির জন্য তাঁর সাহিত্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’—এর জন্য তিনি কুন্তলিন পুরস্কার লাভ করেন।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—
- মহেশ,
- অভাগীর স্বর্গ,
- বিলাসী। 

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’।
- অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস—
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়। 

- তাঁর বহু উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শুধু সাহিত্যেই নয়, চিত্রকলাতেও পারদর্শী ছিলেন।
- বার্মায় অবস্থানকালে তাঁর আঁকা ‘মহাশ্বেতা’ নামের অয়েল পেইন্টিংটি একটি উল্লেখযোগ্য ও বিখ্যাত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত।

- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব ও মর্যাদা আজও অম্লান।
--------------------------
অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল চরিত্র হলো- বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'গৃহদাহ'র কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে- অচলা, মহিম ও সুরেশ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দত্তা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- বিজয়া, নরেন্দ্রনাথ, বিলাসবিহারী, রাসবিহারী।  

উৎস:
'চরিত্রহীন' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৫৩.
"প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ" - কার রচনা?
  1. মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলাম
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
ইতিহাস সংবলিত সত্যেন সেনের রচনা: -
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামের কাহিনী,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।
তার বিখ্যাত উপন্যাস: -
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- পদচিহ্ন,
- আল বেরুনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৫৪.
'রাঢ়াঙ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) বিজন ভট্টাচার্য
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) সেলিম আল দ্বীন
ব্যাখ্যা

• মামুনুর রশিদ মূলত নাট্যকার ছিলেন।
• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- গিনিপিগ,
- রাঢ়াঙ
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- পাথর,
- সমতট,
- লেবেদফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

১৬,১৫৫.
‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে - তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বচে।’ -পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মোজাম্মেল হক
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• দুই বিঘা জমি:
- উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কাহিনী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা দুর্বলের মুখে নীতিকথা প্রকাশিত হয়েছে।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৫৬.
মুজিবনগর সরকারের প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র কোন পত্রিকা?
  1. ক) সৈনিক
  2. খ) পরিচয়
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র। পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভসাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৬,১৫৭.
সত্যেন সেন রচিত 'অভিযাত্রী' একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) শিশুসাহিত্য
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন রচিত 'অভিযাত্রী' একটি - শিশু সাহিত্য।

• ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃব্য  ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব আচার্য।

- সত্যেন সেন সাহিত্যচর্চা শুরু করেন পরিণত বয়সে এবং অতি অল্পসময়ের মধ্যে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।

সত্যেন সেন এর অন্যান্য গ্রন্থাবলী :
- ভোরের বিহঙ্গী
- আলবেরুণী
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ
- সাত নম্বর ওয়ার্ড

• ইতিহাস:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদশ
- বাংলাদেশেওর কৃষকের সংগ্রাম

• শিশু সাহিত্য:
- পাতাবাহার
- অভিযাত্রী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৫৮.
'আর্তনাদ' কোন প্রকার সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম-আর্তনাদ।
'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৫৯.
‘উর্বশী ও আর্টেমিস’- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে ?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা বিষ্ণু দে ।

• উর্বশী ও আর্টেমিস:

- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই কাব‍্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘পলায়ন’, যেখানে ফুটে উঠেছে বিষ্ণু দে-র স্বাতন্ত্র্য।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।
 
• বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
» তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

 তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৬০.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. সধবার একাদশী
  3. সীতার বনবাস
  4. একেই কি বলে সভ্যতা?
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীলদর্পণ,
 - নবীন তপস্বিনী,
 - লীলাবতী,
 - কমলে কামিনী। 

অন্যদিকে,
- আগমনী ও সীতার বনবাস গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক।
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন- একেই কি বলে সভ্যতা?
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ প্রহসনের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৬১.
অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. দশটি
  2. এগারোটি
  3. বারোটি
  4. তেরোটি
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস। 
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ,
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৬২.
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশ করেছিলেন?
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
- উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে।
- এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৬৩.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'– উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) জসীমউদ্দিন
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
“বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে” উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পালামৌ' রচনা থেকে গৃহীত৷
এটি তার শ্রেষ্ঠ রচনা।
তার অন্যান্য রচনা- উপন্যাসগ্রন্থ- কন্ঠমালা, মাধবীলতা।
গল্পগ্রন্থ- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।
প্রবন্ধগ্রন্থ- যাত্রা৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,১৬৪.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আবু ইসহাক
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসটির স্রষ্টা - আবু ইসহাক

আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৬৫.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আলো ও ছায়া
  2. গুঞ্জন
  3. জীবন পথে
  4. পৌরাণিক আখ্যায়িকা
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - পৌরাণিক আখ্যায়িকা
- এটি কুসুমকুমারী দাশ রচিত গদ্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৬৬.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত 'শাশ্বতবঙ্গ' - কি ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বতবঙ্গ’।
এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও চিন্তাবিদ।
মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,১৬৭.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ক) ব্রাহ্মণসেবধি
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত-উল- আখবার
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় 'সম্বাদ কৌমুদী'
- এর সম্পাদক ছিলেন - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক - তারাচাঁদ দত্ত।
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত অন্য দুটি পত্রিকা- 
- 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১), 
- পারসি ভাষায় 'মিরাত-উল- আখবার' (১৯২২)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৬৮.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) বিদ্রোহী - কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) শেষের কবিতা - নাট্যগ্রন্থ
  3. গ) বিষবৃক্ষ - উপন্যাস
  4. ঘ) নৌকাডুবি - গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বিষবৃক্ষ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
বিদ্রোহী - কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা।
শেষের কবিতা - রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস।
নৌকাডুবি - রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,১৬৯.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. শওকত ওসমান
  3. হুমায়ূন আহমদ
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• চিলেকোঠার সেপাই:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তাঁর রচিত একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি অঙ্কিত হয়েছে।

-----------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৭০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. রজনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

'রজনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস- রজনী।

- উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে।
- বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত।
- এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।
- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য।
- 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস- মৃণালিনী।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস- কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,১৭১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত 'পরিচয়' পত্রিকাটি কি ধরনের ছিল? 
  1. সাপ্তাহিক 
  2. মাসিক 
  3. ত্রৈমাসিক 
  4. বার্ষিক 
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- প্রসিদ্ধ গায়িকা রাজেশ্বরী বাসুদেব তাঁর স্ত্রী।
- তিনি পঞ্চপাণ্ডবদের মধ্যকার একজন। 
- তিনি ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী প্রধান কবিদের একজন ছিলেন।
- তিনি ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যদর্শন অনুসরণ করে তিনি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য কাব্যে ফুটিয়ে তুলতেন। 
- বাংলা কবিতায় তাঁর হাত ধরেই দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটে।
- বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের প্রবর্তক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

- সুধীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী ইত্যাদি। 

- তাঁর বিখ্যাত তিনটি গদ্যগ্রন্থ— 
 • স্বগত,
• কুলায় ও
• কালপুরুষ।

• এছাড়া তিনি 'প্রতিধ্বনি' নামে একটি অনুবাদগ্রন্থও রচনা করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৬,১৭২.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কলমগীর
  2. লেখরাজ সামন্ত
  3. মুসাফির
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম- লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬,১৭৩.
দীনবন্ধু মিত্র কার অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রাজনারায়ণ বসু
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীল-দর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৭৪.
‘গ্রানাডার শেষ বীর’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৭৫.
নির্মলেন্দু গুণ কত সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করে?
  1. ক) ১৯৮২ সালে
  2. খ) ১৯৭৪ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ  গুণ চৌধুরী।  নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী কে কবিদের কবি বলা হয়। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 
[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৬,১৭৬.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে কোন বিষয়টি প্রধানভাবে আছে?
  1. বাংলার প্রকৃতির কথা
  2. বাংলার মানুষের কথা
  3. বাংলার ইতিহাসের কথা
  4. বাংলার সাংস্কৃতির কথা
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সঙ্গীত:
- বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আমার সোনার বাংলা 'কবিতার প্রথম ১০ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তা গৃহীত  হয় ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি।
- জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের বিধান অনুযায়ী কণ্ঠে গাইতে গেলে দশ চরণ আর যন্ত্র সঙ্গীতে বাজাতে গেলে চার চরণ পর্যন্ত বাজাতে হবে।
-  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা" এর রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কবিতাটিতে মোট ২৫টি লাইন আছে।
- জাতীয় সংগীত সম্পর্কে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই গানে দেশের বন্দনা, ঋতু ও ভূ-প্রকৃতির বর্ণনা, দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়েছে’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১৬,১৭৭.
প্রমথ চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. যশোর
  2. কুষ্টিয়া
  3. ঢাকা
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তার পৈতৃক নিবাস পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর গ্রামে ।
- প্রমথ চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিবাহ করেন ।
- তিনি জীবনে জ্যাঠামি ও সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতেন না।

তার প্রবন্ধ গ্রন্থ গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বীরবলের হালখাতা
- তেল-নুন-লাকড়ি
- রায়তের কথা
- সাহিত্যের খেলা

তার কাব্যগ্রন্থ - সনেট পঞ্চাশৎ ও পদচারণ ।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

১৬,১৭৮.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ফিরোজা বেগম
  2. রায়নন্দিনী
  3. তারা-বাঈ
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৭৯.
‘হিতকরী’ পত্রিকা কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. ঢাকা
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৮০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সাংকেতিক নাটক- 
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. রাজা
  3. কালের যাত্রা
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথের কিছু সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের ঘর ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,১৮১.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. যাপিত জীবন
  3. উৎস থেকে নিরন্তর
  4. কাঠকয়লার ছবি
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।

- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।

- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কন্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

 সেলিনা হােসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• 'কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৬,১৮২.
"নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।"
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কুলি-মজুর 
  2. মধুমালা
  3. সাম্যবাদী
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• "নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।"
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত।
---------------
মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
 -------------
-------------      
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।

১৬,১৮৩.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. রমেশ
  2. পুতুল
  3. মালা
  4. রহমান মিঞা
ব্যাখ্যা
• ‘মালা’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।

----------------------
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৮৪.
'শকুন্তলা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'শকুন্তলা' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,১৮৫.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবর
  2. মুখরা রমণী বশীকরণ
  3. জমিদার দর্পণ
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৮৬.
'কুরুক্ষেত্র' নবীনচন্দ্র সেন রচিত কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

নবীনচন্দ্র সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬,১৮৭.
‘আজি রক্ত-নিশি-ভােরে একী এ শুনি ওরে,
মুক্তি-কোলাহল বন্দী-শৃঙ্খলে।’ - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত চরণ কাজী নজরুল ইসলামের 'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থের 'বন্দী-বন্দনা' কবিতার চরণ।

বিষের বাঁশি:
১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৮৮.
'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সানাউল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'বন্দর থেকে বন্দরে':
- এটি একটি সানাউল হক রচিত ভ্রমনকাহিনি।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৮৯.
কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. খ) হিতকরী
  3. গ) কালিকলম
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় 'হিতকরী' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে সম্পাদক হন - মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালী মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে। 

- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় তৎকালীন নদীয়া বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে।
- 'কালিকলম' ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৯০.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৪০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৪০৭ বঙ্গাব্দে 
  3. ১৩৯৯ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

•  কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান (প্রথম প্রকাশিত),
- শিউলিমালা ও
- রিক্তের বেদন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৯১.
'সনেট' এ কয়টি চরণ থাকে?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ২৪
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ২০
ব্যাখ্যা
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা।
- এতে ১৪টি চরণ থাকে।

• সনেট (Sonnet): 
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 
-  প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৯২.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা হয় কোন নাটক কে?
  1. বসন্তকুমারী
  2. পদ্মাবতী
  3. অশ্রুমতী
  4. মালতী-মাধব
ব্যাখ্যা

‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অশ্রুমতী’ এবং অনুবাদ নাটক ‘মালতী-মাধব’।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক ‘পদ্মাবতী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৯৩.
নিচের কোনটি আবুল ফজল এর রচিত দিনলিপি?
  1. চৌচির
  2. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  3. রেখাচিত্র
  4. সমকালীন চিন্তা
ব্যাখ্যা
- আবুল ফজল এর রচিত দিনলিপি- রেখাচিত্র।

• আবুল ফজল:

-  তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।,
- আবুল ফজল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বিচিত্র কথা;
- সাহিত্য সংস্কৃতি সাধনা;
- সাহিত্য সংস্কৃতি জীবন;
- সমকালীন চিন্তা;
- মানবতন্ত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,১৯৪.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমন কাহিনী কোনটি?
  1. পালামৌ
  2. স্মৃতির শহর
  3. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনী৷
- পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা৷ এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
- এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

সূত্রঃ পালামৌ : সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৬,১৯৫.
গোবিন্দচন্দ্র দাস বাংলা সাহিত্যে কোন নামে পরিচিত?
  1. মার্কসিস্ট কবি
  2. স্বভাব কবি
  3. নাগরিক কবি
  4. রোমান্টিক কবি
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,১৯৬.
'বিবি কুলসুম' কার রচনা?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) ফরুক আহমেদ
  4. ঘ) মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
বিবি কুলসুম মীর মশাররফ হোসেনের সর্বশেষ গ্রন্থ। বিবি কুলসুম মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। ১৮৭৩ সালে বিবি কুলসুমকে বিয়ে করেন। টাঙ্গাইলের শান্তিকুঞ্জে বিবি কুলসুমকে নিয়ে বসবাস করতেন। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৬,১৯৭.
'কৃষ্ণকুমারী' ট্র‍্যাজেডির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি 'কৃষ্ণকুমারী' রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।
এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৬,১৯৮.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতার অন্তর্গত?
  1. মরণ
  2. প্রভাত 
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. হিং টিং ছট
ব্যাখ্যা

•'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটির অংশ বিশেষ:

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,১৯৯.
'নুরুল দীনের সারাজীবন' কী?
  1. কাব্যনাট্য
  2. মহাকাব্য
  3. গল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,২০০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা' কাব্যে পত্র সংখ্যা কতটি?
  1. ৯ টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
• 'বীরাঙ্গনা কাব্য': 
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি 'পত্রকাব্য'। 
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। 
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি। 
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। 
--------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেটের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যগ্রন্থ: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য, 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।