বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৬০ / ১৭৪ · ১৫,৯০১১৬,০০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,৯০১.
'স্পেন বিজয় কাব্য' রচনা করেন-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) এয়াকুব আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'স্পেনবিজয় কাব্য'- রচনাটির রচয়িতা- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• তাঁর গদ্য বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সংস্কৃতবহুল, কবিতা মধুসূদনের মতো ক্লাসিক রীতির।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- স্পেনবিজয় কাব্য

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কিনারি জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা

ভ্রমন কাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯০২.
'পাঞ্জেরি' — কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. আহসান হাবীব
  2. কায়কোবাদ
  3. ফররুখ আহমদ 
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• 'পাঞ্জেরি' কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত — 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

পাঞ্জেরি- কবিতা;
ফররুখ আহমদ।

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯০৩.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর 'ইবসেনের বুনো হাঁস' একটি -
  1. ক) প্রবন্ধ গবেষণা
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'ইবসেনের বুনো হাঁস' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত একটি অনুবাদগ্রন্থ।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।

তাঁর প্রকাশিত প্রধান গ্রন্থগুলো:
প্রবন্ধ-গবেষণা:
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী 
- অনতিক্রান্ত বৃত্ত
-  শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ  
- বাঙালি কাকের বলি
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া
- নেতা জনতা ও রাজনীতি
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ
- গণতন্ত্রের সন্ধানে

গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ

ছোটদের উপন্যাস :
- বাবুলের বেড়ে ওঠা

ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো

অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব 
- ইবসেনের বুনো হাঁস
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৯০৪.
'কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে' - উক্তিটি কে করছেন ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর বিখ্যাত উক্তি -
"চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে।
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে ”
১৫,৯০৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ একটি?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ (জন্ম : ৬ মে, ১৯৩২ - মৃত্যু : ৩ জুলাই, ২০০৯) বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক। 
• ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ কবিতাটি রচনা করে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন। স্মৃতিস্তম্ভ কবিতাটি তাঁর ‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
⇒ উপন্যাস
• তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০)
• শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২)
• কর্ণফুলী (১৯৬২)
• ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪)
• খসড়া কাগজ (১৯৮৬)

⇒ গল্প
• জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ)
• ধানকন্যা
• মৃগণাভি
• উজান তরঙ্গে
• যখন সৈকত

⇒ কবিতা
• মানচিত্র
• লেলিহান পান্ডুলিপি
স্মৃতিস্তম্ভ

⇒ নাটক
• নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
• এহুদের মেয়ে
• মরোক্কোর জাদুকর
• মায়াবী প্রহর


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯০৬.
নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত প্রথম বাঙালি কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অমর্ত্য সেন
  3. গ) মুহাম্মদ ইউনুস
  4. ঘ) ফজলে হাসান আবিদ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রচলনের পর থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ৪ জন বাঙালি ব্যক্তিত্ত্ব এই পুরস্কার জয় করেছেন। সর্বপ্রথম বাঙালি হিসাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯১৩ সালে, সাহিত্যে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে অমর্ত্য সেন অর্থনীতিতে এবং ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে এই পুরস্কার জয় করেন। ২০১৯ সালে পুনরায় অর্থনীতিতে নোবেল পান অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৫,৯০৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অপরাজিত
  2. আরণ্যক
  3. ইছামতী
  4. যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

অন্যদিকে,

• তাঁর রচিত গল্পের বই:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- জন্ম ও মৃত্যু,
- কিন্নর দল,
- বিধু মাস্টার,
- রূপহলুদ,
- কুশল পাহাড়ী
- নবাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯০৮.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) নূরজাহান
  2. খ) আর্যগাথা
  3. গ) প্রতাপসিংহ
  4. ঘ) চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
'আর্যগাথা' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- আষাঢ়ে, হাসির গান, আলেখ্য, ত্রিবেণী, মন্দ্র ইত্যাদি। তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক- তারাবাঈ, রানা প্রতাপসিংহ, দুর্গাদাস, সোরাব রুস্তম, নূরজাহান, মেবার পতন, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৯০৯.
হুমায়ূন আহমেদ এর কোন উপন্যাসটি মুক্তিযোদ্ধ নিয়ে লেখা?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. দুই সৈনিক
  4. শঙ্খনীল কারাগার
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম। 

• তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, ’দুই সৈনিক’ এবং ’জাহান্নম হইতে বিদায়’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯১০.
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মহাদেব সাহা
  2. ভবানী দাস
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
এই গৃহ এই সন্ন্যাস:
-  কবি মহাদেব সাহা রচিত প্রথম কাব্য - এই গৃহ এই সন্ন্যাস
- এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৪২টি কবিতা রয়েছে।

মহাদেব সাহা:
- কবি সাংবাদিক মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো:
- মানব এসেছি কাছে।
- কী সুন্দর অন্ধ।
- তোমার পায়ের শব্দ।
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস।
- আমি ছিন্নভিন্ন।
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল।
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল।
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. হরপ্রসাদ রায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বিদ্যাসাগর গদ্যরীতির মধ্যে লালিত্যসঞ্চার ও নমনীয়তা আনয়নপূর্বক ভাষারীতি হিসেবে গদ্যের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে গৌরবময় অগ্রগতি সাধন করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত ধ্বনিপ্রবাহ অনুধাবন করে বাক্যে স্বাভাবিক শব্দানুবৃত্তির রূপ প্রদান পূর্বক গদ্যরীতিতে পরিমিতিবোধ সৃষ্টি করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৯১২.
"________ মাঝি চেয়ে দেখো দুয়ারে ডাকে জাহাজ, অচল ছবি সে, তসবির যেন দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ।" - কে মাঝিকে আহ্বান করছেন?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'মাঝি চেয়ে দেখো দুয়ারে ডাকে জাহাজ, অচল ছবি সে, তসবির যেন দাঁড়ায়ে রয়েছে আজ।' - মাঝিকে 'ফররুখ আহমদ' আহ্বান করছেন'।
- এই কবিতাংশটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'সাত সাগরের মাঝি' কবিতার অংশ। 

সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি, সাত সাগরের মাঝি ইত্যাদি।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- আজাদ কর পাকিস্তান,
- সিরাজাম মুনীরা,
- হে বন্য স্বপ্নেরা,
- ইকবালের নির্বাচিত কবিতা,
- কাফেলা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী,
- তসবির নামা,
- দিলরুবা,
- ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য,
- অনুস্বার,
- ধোলাই কাব্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. কালের কণ্ঠ পত্রিকা
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জুন, ২০১৯।
৪. সাত সাগরের মাঝি, ফররুখ আহমদ।
১৫,৯১৩.
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌ রচিত নাটক-
  1. নয়নচারা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. হরগজ
  4. কেরামতমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'। অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

অন্যদিকে, 
হরগজ ও কেরামতমঙ্গল সেলিম আল দীন রচিত নাটক। 

---------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-

• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯১৪.
মীর মশাররফ হোসেন কোন ছদ্মনামে তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ রচনা করেছিলেন?
  1. গৌড়তটবাসী মশা
  2. গাজী মিয়াঁ 
  3. উদাসীন পথিক
  4. ভেড়াকান্ত
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯১৫.
'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'- উক্তিটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলেছেন? 
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ১৯৪৭ এর দেশ ভাগ 
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯১৬.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেসটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. চার্লস উইলকিন্স
  4. উইলিয়াম হান্টার
ব্যাখ্যা
• শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- শ্রীরামপুর মিশন ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। 
- ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- এই মাসেই পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ মথী রচিত মঙ্গল সমাচার ছাপা হয় মিশন প্রেস থেকে।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।

- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মিশন থেকে 'দিগদর্শন' ও 'সমাচার দর্পণ' নামক পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়। 
- ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই ছাপা হয়।
- ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯১৭.
‘বাতাসে লাশের গন্ধ’- কবিতাটির রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতাটির রচয়িতা- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯১৮.
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি জীবনকে কোন উপমায় উপস্থাপন করেছেন?
  1. নিশার স্বপন
  2. সোনার দিন
  3. নদীর স্রোত
  4. পাহাড়ের চূড়া
ব্যাখ্যা

• 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি জীবনকে 'নিশার স্বপন' উপমায় উপস্থাপন করেছেন।
- কবিতাটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবিতাবলী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

জীবন-সঙ্গীত
  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

বলো না কাতর স্বরে
বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার,
তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্রন্দন;
মানব-জনম সার,
এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়,
জীবাত্মা অনিত্য নয়,
ওহে জীব কর আকিঞ্চন

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯১৯.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. তপু
  2. অপু
  3. মুনিম
  4. ওসমান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।

- প্রধান চরিত্র -মুনিম। 
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

• জহির রায়হান:

- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তাঁর 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯২০.
‘অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, পশ্চিমের যাত্রী, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ, ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৯২১.
'কবিতাবলী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবিতাবলী' কাব্যের রচয়িতা 'হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়'। 

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। 
-------------------
• 'কবিতাবলী': 
- হেমচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কবিতাবলী। 
- ২ খন্ড, ১৮৭০-৮০।
- এটি তাঁর খন্ডকবিতার সংকলন।
-------------------
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- বীরবাহু কাব্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৫,৯২২.
বিজন ভট্রাচার্য রচিত নাটক কোনটি?
  1. খেলাঘর
  2. বেনামী বন্দর
  3. নদী বক্ষে
  4. নবান্ন
ব্যাখ্যা
• নবান্ন:
• নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্রাচার্য রচিত একটি নাটক হচ্ছে - 'নবান্ন'।
- এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ  অবদান রাখেন।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- তাঁর রচিত নাটকের মূল উপজীব্য বিষয় ছিল - সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।
- তাঁর রচিত আরোও কিছু উল্লেখযোগ্য নাটকের মাঝে রয়েছে - জনপদ, কলঙ্ক, মরাচাঁদ, অবরোধ ইত্যাদি।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তাবিদ কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি উপন্যাস হচ্ছে - নদী বক্ষে।
- সাহিত্যিক ও সাংবাদিক প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ গুলির মাঝে উল্লেখযোগ্য - পঞ্চশর, বেনামী বন্দর, পুতুল ও প্রতিমা, জলপায়রা ইত্যাদি।
- মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'খেলাঘর' রচনা করেন মাহমুদুল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে দুঃখের কবি বলেছেন?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) আলাওল
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছেন। 

চন্ডীদাস (আনু.১৪শ শতক):
- চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস, দীন চন্ডীদাস ও চন্ডীদাস।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 
- তিনি জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চন্ডীদাস এর সাধনঙ্গিনী ছিলেন রামী নামের একজন রজকিনী। 
- চণ্ডীদাস সহজিয়াপন্থী কবি ছিলেন। 
- চিণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। তাঁর জাত-পাতমুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বানী- 
                    "শুনহ মানুষ   ভাই
                 সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯২৪.
'তিথিডোর' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

তিথিডোর:
- তিথিডোর উপন্যাসটির রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে।
- এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি। 
- প্রেম ও যৌবনের বন্দনা এই কাহিনির মূল উপজীব্য।

• উপন্যাসটি তিনখন্ডে বিভক্ত- 
- প্রথম শ্রাবণ,
- করুণ রঙিন পথ,
- যবনিকা কম্পমান । 

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯২৫.
কোনটি শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) রাজা উপাখ্যান
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি 
  4. ঘ) পতঙ্গ পিঞ্জর
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- ক্রীতদাসের হাসি,
- চৌরসন্ধি, 
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- পুরাতন খঞ্জর, 
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক 
- নেকড়ে অরণ্য 
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

• তাঁর রচিত নাটক:
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, 
- আমলার মামলা 
- কাঁকর মণি 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৯২৬.
‘নাটুকে নারায়ণ’ উপাধি কার?
  1. নারায়ণ দেব
  2. নারায়ণ পণ্ডিত
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় 
  4. রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- ১৮২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হরিনাভি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।

• 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল।
- সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

উল্লেখ্য,
• ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়। ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক কৃষ্ণকুমারী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।
-------------------------
অন্যদিকে,
• 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
- 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।

• নারায়ণ দেব:
- নারায়ণ দেব মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মপুরাণ'।

• হিতোপদেশ গ্রন্থটি নারায়ণ পণ্ডিতের রচনা, যা তিনি পঞ্চতন্ত্রের অনুকরণে রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫,৯২৭.
রাজা রামমোহন রায় রচিত 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি কোন পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদূত
  3. সমাচার দর্পণ
  4. জ্ঞানান্বেষণ
  5. কল্লোল
ব্যাখ্যা
-'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সমাচার দর্পণ পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়৷

- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- বঙ্গদূত পত্রিকার সম্পাদক - নীলমণি হালদার৷
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১৫,৯২৮.
মোহাম্মদ নজিবর রহমানের সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. ক) আনোয়ারা
  2. খ) গরীবের মেয়ে
  3. গ) পরিণাম
  4. ঘ) সাদা হাওয়া
ব্যাখ্যা
• সাদা হাওয়া মোহাম্মদ নজিবর রহমানের সাহিত্যকর্ম নয়। 
- এটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস। 

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন:

- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- নজিবর রহমান  ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,  
- পরিণাম,  
- গরীবের মেয়ে,  
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯২৯.
রবীন্দ্রনাথের যেমন 'সঞ্চয়িতা', নজরুলের যেমন 'সঞ্চিতা' জসীম উদ্‌দীনের তেমনি- 
  1. মধুমালা
  2. সূচয়নী
  3. সঞ্চয়ন 
  4. নক্সী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

• 'সুচয়নী':
- কবি 'জসীম উদ্‌দীন নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের যেমন 'সঞ্চয়িতা', নজরুলের যেমন 'সঞ্চিতা' জসীমউদ্দীনের তেমনি 'সুচয়নী' নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

'জসীম উদ্‌দীন:
- 'জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- 'জসীম উদ্‌দীন কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- 'জসীম উদ্‌দীন 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
- কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
 -রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
-সোজন বাদিয়ার ঘাট,

অন্যদিকে,
- 'মধুমালা' জসীমউদ্দীন রচিত নাটক।
- কাজী মোতাহার হোসেন রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন ‘সঞ্চয়ন’।
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য — নক্সী কাঁথার মাঠ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৩০.
'পঞ্চাঙ্ক' কথাটা কোন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. উপন্যাস
  2. গান
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "পঞ্চাঙ্ক" শব্দটি নাটক বা নাট্য সাহিত্যে ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ, যেখানে "পঞ্চ" অর্থ পাঁচ এবং "অঙ্ক" অর্থ অধ্যায় বা অংশ। নাটকে কাহিনিকে পাঁচটি অঙ্কে বিভক্ত করার রীতিকে "পঞ্চাঙ্ক" বলা হয় (যেমন: কালিদাসের "অভিজ্ঞানম শকুন্তলম")।

অন্যদিকে,
• উপন্যাস, গান, প্রবন্ধ-এ "পঞ্চাঙ্ক" বিভাজনের প্রচলন নেই। 

নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- একটি নাটকের গঠনকে প্রধানত পাঁচটি পর্বে বিভক্ত করা যায়। 
যথা- 
১। কাহিনীর আরম্ভ Exposition (মুখ), 
২। কাহিনীর ক্রমব্যাপ্তি Rising Action (প্রতিমুখ), 
৩। উৎকর্ষ বা চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব Climax (গর্ভ), 
৪। গ্রন্থিমোচন Falling Action (বিমর্ষ) এবং 
৫। যবনিকাপাত Conclusion Denouement (উপসংহতি)। 

- উপরের পাঁচটি পর্যায়কে অবলম্বন করে রচিত হয় পঞ্চাঙ্ক নাটক। 
- একটি পর্যায় নিয়ে লেখা হয় একটি অঙ্ক। 
- অ্যারিস্টটলের মতে, পঞ্চাঙ্ক নাটকই হচ্ছে আদর্শ নাটক। 
- বর্তমানকালে নাট্যকারেরা পাঁচের চেয়ে কম অঙ্কে নাটক রচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। 
- কখনো বা এক অঙ্কের পরিসরেই পাঁচটি পর্যায়কে ধারণ করে উৎকৃষ্ট নাটক লেখা হচ্ছে। 

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৯৩১.
'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধেদিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- একটি খুনের স্বপ্ন। 

হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- নারী,
- বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র,
- বাক্যতত্ত্ব,
- লাল নীল দীপাবলি,
- কতো নদী সরোবর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।
১৫,৯৩২.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পঞ্চতন্ত্র
  2. খ) কালান্তর
  3. গ) প্রবন্ধ সংগ্রহ
  4. ঘ) শাশ্বত বঙ্গ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলীর পঞ্চতন্ত্র(১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যাক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।গ্রন্থটি রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৯৩৩.
'মাটির তলার মাটি' গল্পের রচয়িতা হলে-
  1. সোমেন চন্দ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক রচিত ‘আমরা অপেক্ষা করছি' 'গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। 
এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প গুলো হলো-
- মিনি মাগনার,
- চুমকুড়ি হাওয়া নেই,
- মাটির তলার মাটি,
- সমুখে শান্তি পারাবার,
- পাব্লিক সার্ভেন্ট,
- অচিন পাখি

তাঁর রচিত গল্প :
- শীতের অরণ্য (১৯৬৪),
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭),
- জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩),
- নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫),
- পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১),
- আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৯),
- রোদে যাবো (১৯৯৫)।

তাঁর রচিত উপন্যাস :
- বৃত্তায়ন (১৯৯১),
- শিউলি (২০০৬),
- আগুনপাখি (২০০৬),
- সাবিত্রী উপাখ্যান (২০১৩)।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা (১৯৮১),
- অপ্রকাশের ভার (১৯৮৮),
- কথা লেখা কথা (২০০২)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক :
- একাত্তর— করতলে ছিন্নমাথা।

সম্পাদনা:
- অসীমান্তিক (১৯৯৮)।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১৫,৯৩৪.
‘The Story of Bengali Literature’ - কার লেখা গ্রন্থ?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) পঞ্চানন কর্মকার
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী, (১৮৬৮-১৯৪৬)  সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক ‘সবুজপত্র’ প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায়  প্রকাশিত হয়।  বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ত্ব অপরিসীম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি,
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- চার-ইয়ারি কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- The Story of Bengali Literature,
- পদচারণ, রায়তের কথা,
- নীললোহিত  ও
- আত্মকথা।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৫,৯৩৫.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলন -
  1. সুরসাকী
  2. কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  3. বেতালপঞ্চবিংশতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম - কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৩৬.
'সিংহল বিজয়' নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) হুমায়ুন কবির
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটকঃ
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- তারাবাঈ,
- রানা প্রতাপ সিংহ,
- সোরাব রুস্তম,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৯৩৭.
'রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী,
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?’
- কার উক্তি?
  1. ক) প্রমীলা
  2. খ) মন্দোদরী
  3. গ) মৃণালিনী
  4. ঘ) মেঘনাদ
ব্যাখ্যা
আলোচিত লাইনগুলো - মেঘনাদের স্ত্রী প্রমীলার উদ্ধৃতি। 

মেঘনাদবধ কাব্যটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের এবং বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার, মেঘনাদবধ কাব্যগ্রন্থ ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৩৮.
উইলিয়াম কেরি রচিত ব্যঙ্গপ্রধান গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. লিপিমালা
  3. ইতিহাসমালা
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
• 'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সংকলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ মর্যাদা লাভ করেছে।
- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান।

উল্লেখ্য,
• কথোপকথন উইলিয়াম কেরি রচিত বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। 

-----------------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:

• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৯৩৯.
‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত -
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• কঙ্কাবতী:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 
------------
• বুদ্ধদেব বসু:
-  বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৪০.
রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত-
  1. ক) ঘরে-বাইরে
  2. খ) নুরুলদীনের সারা জীবন
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।  
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য -
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি রচিত হয়।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'ঘরে-বাইরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৪১.
’মুনিম, আসাদ’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. হাজার বছর ধরে
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. আর কত দিন
ব্যাখ্যা

• আরেক ফাল্গুন :
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' (১৯৬৮) উপন্যাস রচনা করেন।
- উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: নায়ক মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা।
- ১৯৫৫ সালে বর্তমান শহিদ মিনারের স্থায়ী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম-প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূলবিষয়।
- তাদের বিশ্বাস, জনতার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আগামী ফাল্গুনে আরও প্রবল হবে। তাই তাদের উচ্চারণ: আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯৪২.
‘শেষলেখা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

• ‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'।
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা
- চৈতালী
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি
- বলাকা
- পূরবী
- পুনশ্চ
- পত্রপুট
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- প্রভাতসঙ্গীত
- বনফুল
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯৪৩.
কাজী ইমদাদুল হকের শিশুতোষ গ্রন্থের নাম কী?
  1. প্রবন্ধমালা
  2. শিক্ষক
  3. নবীকাহিনী
  4. আঁখিজল
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হকের শিশুতোষ গ্রন্থের নাম- 'নবীকাহিনী'।

কাজী ইমদাদুল হক:

- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধমালা।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৪৪.
‘নীলদর্পণ' নাটকে ‘শ্যামচাঁদ’ হলো-
  1. ক) একটি চরিত্র
  2. খ) কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ
  3. গ) চামড়ার তৈরি চাবুক
  4. ঘ) হাতে পাওয়া চাঁদ
ব্যাখ্যা
• বড়ো সাহেব উডের চাবুকের নাম " শ্যামচাঁদ "।
- স্বরপুর গ্রামের অদূরেই ছিলো বেগুনবাড়ির নীলের কুঠি।
- এই নীলকুঠির নীলকররা আশে পাশের গ্রাম গুলিতে কৃষকদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাতো।
- কেউ নীলচাষ করতে অসম্মত হলে তাদের নীলকুঠিতে ধরে এনে চামড়ার চাবুক "শ্যামচাঁদ" দিয়ে
প্রহার করতো।

উৎস: নীল দর্পণ নাটক।
১৫,৯৪৫.
কার কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

- বিষ্ণু দে এর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৪৬.
কোন কবি পঞ্চপাণ্ডবদের একজন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কবিতায় আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডবদের একজন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

--------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:

- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৪৭.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ইছামতি
  2. মেঘমল্লার
  3. মৌরিফুল
  4. যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- ‘ইছামতী’ ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু।
• ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ সালে বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন।


-------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৪৮.
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৪৯.
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি। হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে। আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
১৫,৯৫০.
'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কামিনী রায়ের 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত। 

- কামিনী রায়ের “সুখ” কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) থেকে সংকলিত। এই কবিতায় কবি মানুষের জীবনে সুখের প্রকৃত স্বরূপ ও তার অর্জনের পথ নিয়ে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯৫১.
'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকার সম্পাদক - 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকা:
- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালের ৫ মার্চ সমাচার চন্দ্রিকা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটি রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্রে পরিণত হয়।
- ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পত্রিকা টিকে ছিলো।

ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক, কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

তাঁর গ্রন্থ:
- দূতীবিলাস,
- শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ,
- আশ্চর্য্য উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৫২.
কোন লেখকের উপাধি 'চারণকবি'?
  1. মুকুন্দদাস
  2. মুকুন্দরাম
  3. আবদুল করিম
  4. নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে 'চারণকবির' মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল করিমকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।
- নজিবর রহমান এর উপাধি 'সাহিত্য রত্ন'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৫৩.
বেগম সুফিয়া কামাল সম্পাদিত পত্রিকার নাম কোনটি?
  1. কোহিনূর
  2. তত্ত্ববোধিনী 
  3. বেগম
  4. সওগত
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 
- সৈনিক বধূ।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

অন্যদিকে,
সওগাত (মাসিক) পত্রিকার সম্পাদক- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন।
তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক- অক্ষয়কুমার দত্ত।
কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক-  এর সম্পাদক ছিলেন এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৫৪.
'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. শওকত ওসমান
  4.  সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমানের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাংগী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী (এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান)।
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে (এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)।

অন্যদিকে, 
-----------------
• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক:
কী চাহ শঙ্খচিল, বর্ণচোরা, বকুলপুরের স্বাধীনতা, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। 

• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক: নরকে লাল লোলাপ, নিঃশব্দ যাত্রা

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৫৫.
সত্যেন সেন কোন সাংস্কৃতিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ছায়ানট 
  2. শিল্পী সংসদ
  3. উদীচী
  4. সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা

সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৫৬.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে বলা হয় -
  1. মুকুন্দচন্দ্র
  2. স্বভাব কবি
  3. কবি কঙ্কণ
  4. কবিরত্ন
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৫৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ইশারা
  2. রাখী
  3. কঙ্কাবতী
  4. কামিনী কাঞ্চন
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - কঙ্কাবতী।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৫৮.
‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- সত্যেন সেন।
-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৫৯.
চট্টল ধর্মমণ্ডলী কর্তৃক আবদুল করিমকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. সাহিত্য রত্ন
  2. সাহিত্য সুমুদ্র 
  3. সাহিত্য বিশাধ  
  4. সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা

আবদুল করিম চট্টল ধর্মমণ্ডলী কর্তৃক 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত হন। এবং নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন।

উল্লেখ্য, 
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি সাহিত্য- বিশারদ।

অন্যদিকে,
- 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্য রত্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৬০.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস কোনটি?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. কুলায় কালস্রোত 
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ‘দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন’:
- দক্ষিণায়নের দিনকুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন- গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলে স্বীকৃত।

- উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

- ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- এই ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে আলাদা করে শুধু পূর্বরাত্রি পূর্বদিন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, 'প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘দক্ষিণায়নের দিন’ উপন্যাসের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৬১.
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস' এই ত্রয়ী মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
⇒ নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের ত্রয়ী কাব্য এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদগীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৬২.
নিচের কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের উপন্যাস?
  1. ক) কুয়াশা
  2. খ) আগামীকাল
  3. গ) প্রতিশোধ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র মূলত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ছিলেন। তাঁর রচিত উপন্যাসগুলোর নাম- কুয়াশা, আগামীকাল, প্রতিশোধ, মিছিল, পাঁক, উপনয়ন, প্রতিধ্বনি ইত্যাদি।
কাব্যগ্রন্থ- প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৬৩.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. জমিলা
  2. জাহেদুল করিম
  3. রৌশনারা
  4. শফিক
ব্যাখ্যা

'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
- মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন।
রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)

অন্যদিকে,
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - জাহেদুল করিম।
- 'সৌরভ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - শফিক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৬৪.
শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয় কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. যুগবাণী
  2. সাপ্তাহিক ইত্তেফাক
  3. সমকাল
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
• শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৭-১৯৭১) কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

• ১৯৪৯ সালে ঢাকার 'সাপ্তাহিক ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন; এখানেই তাঁর সাংবাদিকতা ও সাহিত্যকর্মের গৌরবময় অধ্যায় রচিত হয়।

• শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। তাঁর কাম্য ছিল সুস্থ ও পরিশীলিত জীবনভিত্তিক একটি উন্নত সমাজ।সংশপ্তক (১৯৬৫), কৃষ্ণচূড়া মেঘ, তিমির বলয়, দিগন্তে ফুলের আগুন, সমুদ্র ও তৃষ্ণা, চন্দ্রভানের কন্যা, কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত) তাঁর অন্যান্য উপন্যাস।

• রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) ও পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) তাঁর স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত। সারেং বৌ-এর কাহিনী অবলম্বনে উন্নত মানের একটি চলচ্চিত্র এবং সংশপ্তক অবলম্বনে একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল নির্মিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৬৫.
কবি শামসুর রাহমানের জন্ম কত সালে?
  1. ক) ১৯২৭
  2. খ) ১৯২৯
  3. গ) ১৯২৮
  4. ঘ) ১৯৩০
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)।
• তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
• পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
• মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে।

তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অক্টোপাস,
- অদ্ভূত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১৫,৯৬৬.
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটির নাম কী?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. আগুনের পরশমণি
  3. গেরিলা
  4. মুক্তি
ব্যাখ্যা
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
- ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
- এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: ‘নিষিদ্ধ লোবান’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৬৭.
‘বৌঠাকুরাণীর হাট’ উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. বীণা
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা
⇒ বৌঠাকুরাণীর হাট:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।
- 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি ১৮৮১-১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়। ১৮৮৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এর উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি৷
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'। 'করুণা' উপন্যাসটি অসমাপ্ত তাই একে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় না।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৯৬৮.
‘মেহেরজান’ চরিত্রটি শওকত ওসমানের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. তস্কর লস্কর
  3. কাঁকর মণি
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

‘মেহেরজান’ চরিত্রটি শওকত ওসমান রচিত 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের চরিত্র। 
---------------------------------------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:  
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
------------------------------------ 
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস নিয়ে কিছু তথ্য:
- 'ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে শওকত ওসমান স্বৈরাচারী শাসকের অধীনে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, অধিকারহীনতা ও সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
- আইয়ুব খানের দমনমূলক শাসনব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করেই উপন্যাসটি নির্মিত।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- হাবসি ক্রীতদাস তাতারী, মেহেরজান, এবং আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ।
- এ উপন্যাসে লেখক তাতারীর হাসি এবং মেহেরজানের সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে সমাজের শোষণ ও বঞ্চনার প্রতীকী উপস্থাপন করেছেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৬৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. বেতালপঞ্চবিংশতি
  2. ভ্রান্তিবিলাস
  3. শকুন্তলা
  4. বোধোদয়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৭০.
নিচের কোনটি বন্দে আলি মিয়া কর্তৃক রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. কুঁচবরন কন্যা
  2. কামাল আতাতুর্ক
  3. মেঘকুমারী
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই, 
- মৃগপরী, 
- মেঘকুমারী, 
- ডাইনী বউ,
- কামাল আতাতুর্ক,
- রূপকথা,
-  ছোটদের নজরুল, 
-কুচঁবরণ কন্যা।
--------------------- 
• বন্দে আলী মিয়া: 
- ১৯০৬ সালে পাবনা জেলার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

 শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য যে সকল পুরস্কার লাভ করেন : 
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),
- প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং 
- উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম :
- কিশোর পরাগ,
- জ্ঞানের আলো,
- শিশুবার্ষিকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৭১.
'বিরহ বিলাপ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- কুসুম কানন, অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয় ধারা, শ্মশানভষ্ম, প্রেম পারিজাত, মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৯৭২.
পদ্মরাগ' উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৭৩.
নিচের কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নয়?
  1. ক) খেলারাম খেলে যা
  2. খ) এক মহিলার ছবি
  3. গ) নীল দংশন
  4. ঘ) এখানে এখন
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
তিনি মাত্র ২৯ বছর বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- নিষিদ্ধ লোবান ও নীল দংশন।
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- সীমানা ছাড়িয়ে, এক মহিলার ছবি, অনুমপ দিন, ত্রাহী, 'দেয়ালের দেশ', 'খেলারাম খেলে যা', তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য- গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৯৭৪.
’নিগ্রো সাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. সেলিম আল দীন
  3. আহমদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

-  'নিগ্রো সাহিত্য' সেলিম আল দীন রচিত বাংলা প্রবন্ধ।
-  আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে এটি তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' 
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

• সেলিম আল দীন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৭৫.
‘সব্যসাচী’ চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) অচলায়তন
  2. খ) পথের দাবী
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' (১৯২৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে 'সব্যসাচী' চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবানী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড: সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৭৬.
'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।'- পঙ্‌ক্তিগুলো কামিনী রায়ের 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত। 

- কামিনী রায়ের “সুখ” কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) থেকে সংকলিত। এই কবিতায় কবি মানুষের জীবনে সুখের প্রকৃত স্বরূপ ও তার অর্জনের পথ নিয়ে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

----------------
কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৫,৯৭৭.
তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যে?
  1. বীরঙ্গনা কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• "মেঘনাদবধ কাব্য":
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মধুসূদন রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: "মেঘনাদবধ কাব্য" এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৭৮.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের কবি -
  1. আল মাহমুদ
  2. রফিক আজাদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
-------------------------
◉ আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম ⎯ আবুল হোসেন মিয়া। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য ⎯ 'ওরা কয়েকজন'।

• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন ⎯ আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৭৯.
‘ধনঞ্জয়’ ও 'গণেশ' চরিত্র দুটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. চতুষ্কোণ
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. শহরতলী
ব্যাখ্যা
‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৮০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ পর্বের রচনা— 
  1. সোনার তরী
  2. চৈতালি
  3. ক এবং খ উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ পর্বের রচনা — 'সোনার তরী'; চৈতালি।
------------------
• বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণ ও সাহিত্য:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন। বিশেষত শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। এই ভ্রমণকালেই তিনি প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে যান। শিলাইদহে তাঁর অবস্থানকালে পদ্মানদী, বালুচর, কাশবন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা ইত্যাদি গভীরভাবে তাঁকে আলোড়িত করে। এগুলোই তাঁর গল্প, কবিতা ও চিঠিপত্রে প্রাণবন্ত রূপে ফুটে ওঠে। ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা চিঠিগুলি পরবর্তীতে ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়, যা রবীন্দ্র-সাহিত্যে বিশেষ সমাদৃত।

 শিলাইদহ পর্বে রচিত কাব্যগ্রন্থ:
• সোনার তরী;
• চিত্রা;
• চৈতালি;
• কল্পনা;
• ক্ষণিকা;
• কথা ও কাহিনী।
 
এ পর্বের কবিতার বৈশিষ্ট্য:
• প্রকৃতির সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবনের বাস্তবচিত্র ও সৌন্দর্যবোধ।
• বর্তমান জীবন ও প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের মিলন।
• সমকালীন সমাজ ও ইতিহাসের মহৎ আত্মত্যাগের চিত্রায়ণ।
-----------------
• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- ' এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।

• 'চৈতালি' কাব্যগ্রন্থ:
 - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ - চৈতালি।
- এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের কবিতাগুলো ছোট এবং সরল, এবং শিলাইদহের প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি এতে ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৮১.
'ময়নামতির চর' — কবিতাটির লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• 'ময়নামতির চর'- কবি বন্দে আলী মিয়া রচিত কবিতা।

• ‘ময়নামতীর চর’ কবিতার মূলভাব:
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোতে ভাঙা–গড়ার কারণে অনেক চর সৃষ্টি হয়। ‘ময়নামতীর চর’ তেমনি একটি চরের নাম। এই চরে যারা বাস করে তারা অনেক সংগ্রাম করে টিকে থাকে। চরের সেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিদিনকার জীবনচিত্র আর চরের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

--------------------
ময়নামতির চর - কবিতা,

– বন্দে আলী মিয়া।

এ-পারের এই বুনো ঝাউ আর ও পারের বুড়ো বট
মাঝখানে তার আগাছায় ভরা শুকনো গাঙের তট ;
এরি উঁচু পারে নিত্য বিহানে লাঙল দিয়েছে চাষী,
কুমীরেরা সেথা পোহাইছে রোদ শুয়ে শুয়ে পাশাপাশি |

------------------ 
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর, 
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, প্রথম আলো- পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৮২.
‘চাচা-কাহিনী ও টুনি মেম’ গল্পগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৮৩.
'বেহুলা গীতাভিনয়'- নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• 'বেহুলা গীতাভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯৮৪.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ধানখেত
  3. রূপসী বাংলা
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- ধানখেত।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ধানখেত'।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত

------------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস: 
- মাল্যবান,
- সতীর্থ, 

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৮৫.
'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন -
  1. আবুল হুসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. আবুল মনসুর
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৮৬.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৯৮৭.
আবুল মনসুর আহমদ জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৮ সালে আবুল মনসুর আহমদ ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচির ২১ দফা প্রণয়নের অন্যতম একজন নেতা ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৯৮৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী' কখন প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে 
  2. ১৯৫৩ সালে 
  3. ১৯৫৪ সালে 
  4. ১৯৫৫ সালে 
ব্যাখ্যা

১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন গ্রন্থ- 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
------------------------------
হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান একজন বাংলা সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন কমিউনিস্ট ছিলেন। 
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ।
- ১৯৫৩ সালে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে তিনি ১৬ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশ করেন।
- এই দলিলপত্রটি তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল মস্কোর সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হাসপাতালে জীবনাবসান ঘটান।

- তাঁর মৌলিক গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• বিমুখ প্রান্তর;
• আধুনিক কবি ও কবিতা;
• সীমান্ত শিবিরে;
• আর্ত শব্দাবলী;
• আরো দুটি মৃত্যু;
• মূল্যবোধের জন্যে;
• যখন উদ্যত সঙ্গীন;
• সাহিত্য প্রসঙ্গ; 
• দক্ষিণের জানালা;
• প্রতিবিম্ব; 
• শোকার্ত তরবারী; 
• আমার ভেতরের বাঘ।

• তাঁর বাংলায় অনুবাদকৃত গ্রন্থ- হোমারের ওডিসি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৫,৯৮৯.
'রেখাচিত্র' বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. দিনলিপি
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা - বুদ্ধদেব বসু।
- এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'রেখাচিত্র' নামে আবুল ফজলের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রয়েছে।

• বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯৯০.
নদীর পারের চর ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. কালিন্দী
  4. অরণ্য বহ্নি
ব্যাখ্যা
• 'কালিন্দী' উপন্যাস: 
- রচয়িতা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- প্রথম প্রকাশ – ১৯৪০।

• উপন্যাসের প্রথম পর্ব- 
- নদীর ও-পারে একটা চর দেখা দিয়াছে।
- রায়হাট গ্রামের প্রান্তেই ব্রাহ্মণী নদী–ব্রাহ্মণীর স্থানীয় নাম কালিন্দী, লোকে বলে কালী নদী; এই কালী নদীর ও-পারের চর জাগিয়াছে। এখন যেখানে চর উঠিয়াছে, পূর্বে ওইখানেই ছিল কালী নদীর গর্ভভূমি। এখন কালী রায়হাটের একাংশ গ্রাস করিয়া গ্রামের কোলে কোলে বহিয়া চলিয়াছে। গ্রামের লোককে এখন বিশ হাত উঁচু ভাঙন ভাঙ্গিয়া নদীগর্ভে নামিতে হয়।

অন্যদিকে, 
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
• আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন 'অরণ্য বহ্নি' উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, 'কালিন্দী' উপন্যাস।
১৫,৯৯১.
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ভূমিপুত্র
  2. মাটির জাহাজ
  3. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৯২.
বিষ্ণু দে রচিত 'উর্বশী ও আর্টেমিস' কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৩২
  2. খ) ১৯৩৫
  3. গ) ১৯৩৮
  4. ঘ) ১৯৪২
ব্যাখ্যা
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা বিষ্ণু দে
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

• উর্বশী ও আর্টেমিস:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

• বিষ্ণু দে
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৯৩.
কোনটি আবদুল কাদিরের উপাধি?
  1. ছান্দসিক কবি
  2. কলমসৈনিক
  3. সাহিত্যবিশারদ
  4. ছন্দের রাজা
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি

অন্যদিকে,
- আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
- 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
​- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৯৯৪.
কোনটি শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জলাঙ্গী
  3. গ) দুই সৈনিক
  4. ঘ) যাত্রা
ব্যাখ্যা

- 'যাত্রা' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।
- অপরদিকে, শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে। এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৯৯৫.
হুমায়ুন আজাদের ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অর্থবিজ্ঞান
  2. খ) ভাষাবিজ্ঞান
  3. গ) কতো নদী সরোবর
  4. ঘ) লাল নীল দীপাবলি
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদের ভাষাবিজ্ঞানবিষয়ক দুটি গ্রন্থ,
- তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান (১৯৮৮),
- অর্থবিজ্ঞান (১৯৯৯)।

সাহিত্যস্রষ্টা হিসেবে তাঁর প্রতিভা ও মননের এক অসাধারণ দিক উন্মোচিত হয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা কিছু গ্রন্থে, যেখানে তাঁর ব্যঞ্জনাধর্মী ভাষা সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
যেমন-
- লাল নীল দীপাবলি (১৯৭৬),
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না (১৯৮৫),
- কতো নদী সরোবর (১৯৮৭),
- আববুকে মনে পড়ে (১৯৮৯),
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা (১৯৯৩),
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত (১৯৯৬),
- অন্ধকারে গন্ধরাজ (২০০৩)
প্রভৃতি বইয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। 
সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৯৯৬.
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে রচিত উপন্যাস-
  1. হাসলী বাঁকের উপকথা
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ইতিকথার পরের কথা
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- এটিতে মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৯৯৭.
মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক নয় কোনটি?
  1. বর্ণচোরা
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. কী চাহ শঙ্খচিল
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক নয়- নরকে লাল গোলাপ।

- “নরকে লাল গোলাপ” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ।
-------------------
• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• মমতাজউদদীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোরা,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; যুগান্তর পত্রিকা,রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।
১৫,৯৯৮.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. আহসান হাবীব
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ'। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের গদ্যভাষ্যে লেখক বলেছেন- 'দারিদ্র্য, দুর্ভাবনা, উৎসাহ, পুরস্কার, ভালোবাসা আর স্বপ্ন এইসব নিয়ে আমার যে পিরোজপুর তাকে ছেড়ে এসেছি প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে। বেরিয়ে এসে সেই যে পা রাখলাম মহানগরী কোলকাতায় তারই নাম জীবনসংগ্রাম।' এই সংগ্রাম তাঁর এবং তাঁর কালের, তাঁর সমাজের।

-------------
আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'রাত্রিশেষ' কাব্যগ্রন্থ।
১৫,৯৯৯.
'নীলদর্পণ' নাটক প্রথম মঞ্চস্থ হয় কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,০০০.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাতনরী হার,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।