বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫৭ / ১৭৪ · ১৫,৬০১১৫,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,৬০১.
’তাহেরের বাপ' ও ‘হাসুনির মা' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. সুরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

- ’তাহেরের বাপ' ও ‘মজিদ' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের চরিত্র। 
--------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।
-----------------------------
লালসালু' উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। 


- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয়;
- এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।

- 'লালসালু'র উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা

- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক। 
- মজিদ কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ধর্মব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬০২.
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা, তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি?” অপেক্ষমাণ মায়ের আকুতিপূর্ণ এই পঙক্তি রচিত হয়েছিল-
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী দ্বারা
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ দ্বারা
  3. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শামসুর রাহমান দ্বারা
  4. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ দ্বারা
ব্যাখ্যা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা, 'মাগো ওরা বলে'।
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা, তুই কবে আসবি?
কবে ছুটি?”
চিঠিটা তার পকেটে ছিল
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।

“মাগো ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা
তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জন্যে
কথার ঝুড়ি নিয়ে
তবেই না বাড়ী ফিরবো।
লক্ষ্মী মা,
রাগ করো না,
মাত্রতো আর কটা দিন।”

কবিতাঃ মাগো ওরা বলে।
কবিঃ আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

১৫,৬০৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. ধুমকেতু
  3. সারদামঙ্গল
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’।

• সারদামঙ্গল কাব্য:

- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : 
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. সারদামঙ্গলকাব্য।
১৫,৬০৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. ক) ললিতা তথা মানস
  2. খ) Rajmohan’s Wife
  3. গ) দুর্গেশনন্দিনী
  4. ঘ) কপালকুন্ডলা
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম রচিত উপন্যাস - Rajmohan’s Wife যা ইংরেজীতে লেখা। এটি ১৮৬৪ সালে Indian Flield পত্রিকায় এবং ১৯৩৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- অন্যদিকে তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - দুর্গেশনন্দিনী যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৬০৫.
'জ্ঞানচৌতিশা' গ্রন্থটি কার?
  1. মুহম্মদ কবির
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শমসের আলী
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ সুলতান রচিত গ্রন্থঃ
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- শব-ই-মিরাজ ও
- জয়কুম রাজার লড়াই ইত্যাদি গ্রন্থের রচিয়তা সৈয়দ সুলতান।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৬০৬.
শেক্সপিয়রের ‘রোমিও জুলিয়েট’ এর কাহিনি অবলম্বনে অনুবাদকৃত নাটক-
  1. মুকুলমুঞ্জরা
  2. হীরার ফুল
  3. ভানুমতী-চিত্তবিলাস
  4. চারুমুখ চিত্তহারা
ব্যাখ্যা
• হরচন্দ্র ঘোষের (শেক্সপিয়র রচিত ‘রোমিও জুলিয়েটে’র) অনুবাদকৃত নাটক ‘চারুমুখ চিত্তহারা’।

------------------
• হরচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন নাট্যকার, অনুবাদক।
- একবার বেকনের প্রবন্ধ ‘ট্রুথ’-এর বাংলা অনুবাদ করার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের আদিপর্বের নাট্যকার এবং শেক্সপীয়রের নাটকের প্রথম অনুবাদক।
- তাঁর পুরাণ অবলম্বনে রচিত কৌরববিয়োগ (১৮৫৮) একটি উল্লেখযোগ্য মৌলিক নাটক।
১৮৮৪ সালের ২৪ নভেম্বর হুগলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক-
- ভানুমতী-চিত্তবিলাস (১৮৫৩),
- চারুমুখ-চিত্তহরা (১৮৬৪) ও
- রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪)।
[নাটকত্রয় যথাক্রমে শেক্সপিয়র মার্চেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট এবং দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।]

অন্যদিকে,
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত রোমান্টিক নাটক ‘মুকুলমুঞ্জরা’ এবং কৌতুক নাটক ‘হীরার ফুল’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬০৭.
'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি? 
  1. রতন 
  2. নিতাইচরণ
  3. কমল 
  4. ইন্দ্রনাথ 
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'কবি' উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা দ্বাদশ উপন্যাস। এ উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর লেখা একটি পূর্ব-প্রকাশিত ছোটগল্পের বিস্তৃত রূপ।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এর সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রবাসী মাসিকপত্রে গল্পটি ১৯৪১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে "কবি" উপন্যাসটি পাটনা থেকে প্রকাশিত প্রভাতী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ১৯৪২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। কবি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে।
- এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিতাইচরণ। 
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?' সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসসমুহ: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬০৮.
কে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
 জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"।
- "বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। "বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় "রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা" নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬০৯.
আল মাহমুদ রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. লোক লোকান্তর
  2. কাবিলের বোন
  3. উপমহাদেশ
  4. পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা

⇒ আল মাহমুদ রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ - পানকৌড়ির রক্ত।

• 
আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
আগুনের মেয়ে, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬১০.
‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) পেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
•'আরোগ্য নিকেতন' নামক উপন্যাসটি রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- উপন্যাসটি ১৯৫২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘সঞ্জীবন ফার্মাসী’ নামে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে প্রাধান্য পেয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক ভারতীয় দৃষ্টিতে পাশ্চাত্য চিকিৎসা ভাবনার সংঘাত।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
- তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫৬ সালে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’  লাভ করেন। 
- তাঁর ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর  মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো-
- ধাত্রীদেবতা।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ।
১৫,৬১১.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমালোচনা
  2. বিমল প্রভা
  3. ভ্রমর
  4. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬১২.
'গিনিপিগ' নাটকটি কার রচনা?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মামুনুর রশীদ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

⇒ মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬১৩.
‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ - উক্তিটি কার?
  1. ক) শশী
  2. খ) কুসুম
  3. গ) মতি
  4. ঘ) গোপাল
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'পুতুলনাচের ইতিকথা’র শশী ডাক্তার  কুসুমকে এই কথা বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- সহরতলী,
- অহিংসা।

উৎস : পুতুল নাচের ইতিকথা - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬১৪.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত কোন উপন্যাসে বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে ফুটে উঠেছে?
  1. সংশপ্তক
  2. দিগন্তে ফুলের আগুন
  3. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  4. সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক। সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে। একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লা কায়সার:

- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:

- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬১৫.
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - চরণগুলো রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. বিদ্যাপতি
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - চরণগুলো রচনা করেন - জসীম উদ্‌দীন। চরণগুলো জসীম উদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬১৬.
কথাসাহিত্যিক এবং অভিধান-প্রণেতা হিসেবে পরিচিত সাহিত্যিক- 
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল ফজল
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬১৭.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কায়কোবাদ
  3. কামিনী রায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া':
- এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬১৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয় তাঁর রচিত কোন গ্রন্থের জন্য?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সারদামঙ্গল
  3. সাধের আসন
  4. সঙ্গীত শতক
ব্যাখ্যা
• 'সারদামঙ্গল' কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)। এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।

- পাঁচটি সর্গে বিভক্ত এই কাব্যে বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

-----------------
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬১৯.
"কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।" - কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• "কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।" - কবিতাংশটির রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- এটি তাঁর রচিত 'অভ্র-আবীর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মানুষ জাতি' কবিতার অংশ।

মানুষ জাতি,
 ---সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
 
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; অভ্র-আবীর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
১৫,৬২০.
বাংলা সাহিত্যে ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত ছিলেন-
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।

- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি 'মধুকবি' নামে পরিচিত।

- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।

- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা একটি অমর মহাকাব্য। এটি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শ্রেষ্ঠ রচনাও বলা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬২১.
নিচের কোনটি গল্পগ্রন্থ?
  1. তেল-নুন-লকড়ী
  2. বীরবলের হালখাতা
  3. নানাকথা
  4. নীললোহিত
ব্যাখ্যা

• 'নীললোহিত' প্রমথ চৌধুরী রচিত - গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন সাহিত্যিক ও বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬২২.
“ছোট বকুলপুরের যাত্রী” মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত- 
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কবিতা সংকলন 
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• “ছোট বকুলপুরের যাত্রী” মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৪৯ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

------------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যা ১৯০৮ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন।
- কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
-'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- ভিখু ও পাঁচী তাঁর 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- বৌ,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬২৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন - গোলকনাথ শর্মা, রামরাম বসু, চণ্ডীচরণ মুনশী।

অন্যদিকে, 
- "হরপ্রসাদ শাস্ত্রী" ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬২৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. বউ ঠাকুরানীর হাট
  3. যোগাযোগ
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাস:
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- 'বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫,৬২৫.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. যাযাবর 
  2. প্রিয়দর্শী
  3. দৃষ্টিহীন
  4. হাবু শর্মা
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।
- সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।

------------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।

- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬২৬.
শরৎচন্দ্র রচিত 'পথের দাবী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মহিম
  2. সব্যসাচী
  3. রমেশ
  4. নরেন
ব্যাখ্যা
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
- গৃহদাহ - মহিম, সুরেশ,  অচলা।
- পল্লীসমাজ - রমা, রমেশ
- দত্তা - নরেন, বিজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬২৭.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।" এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কবিতার পঙ্‌ক্তি? 
  1. বাহু 
  2. শান্তি
  3. কাঙালিনী
  4. প্রাণ 
ব্যাখ্যা
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।" এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

প্রাণ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই!
ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত,
বিরহ মিলন কত হাসি-অশ্রুময়মানবের সুখে দুঃখে গাঁথিয়া সংগীত
যদি গো রচিতে পারি অমর-আলয়!
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংকলন)
১৫,৬২৮.
‘মিলির হাতে স্টেনগান’ - গল্পটির লেখক কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প- মিলির হাতে স্টেনগান, রেইনকোট।
তার উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা উপন্যাস- চিলেকোঠার সেপাই।
অন্যান্য গল্প- অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ।

১৫,৬২৯.
'বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো।' উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) প্রথম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যোপন্যাস।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমিত রায়,
- কেতকী,
- লাবণ্য,
- শোভনলাল ইত্যাদি।
• এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে অধিপত্য শুরু করবে।'
- বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো।
- ভালোবাসা খানিকটা অত্যাচার চাই অত্যাচার করেও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং শেষের কবিতা উপন্যাস।

১৫,৬৩০.
‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদনা
ব্যাখ্যা
• ‘আগুনপাখি’ উপন্যাস:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়। এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ  চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

--------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
১৫,৬৩১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতাঞ্জলি' কাব্য প্রকাশিত হয় কত সনে?
  1. ১৯১০
  2. ১৯১১
  3. ১৯১২
  4. ১৯১৩
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এগুলো সহজ ভাষায়, সাবলীল ছন্দে লিখিত।
- 'গীতাঞ্জলি'র গানগুলো মূলত কবিতা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি অবলম্বনে Song Offerings গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বরে, ইংল্যান্ডে।
- 'গীতাঞ্জলি'র সম্পূর্ণ অনুবাদ যদিও Song Offerings নয়, তবুও এই গ্রন্থের আধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতি, প্রেমযৌথধারায় ইংরেজি গ্রন্থে প্রবাহমান।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৩২.
‘হয়তো নারী মাত্রই এ দূর্বলতার শিকার। স্নেহকে শৃঙ্খলে পরিণত করে। ভালবাসাকে মোহে, বন্ধনকে শিকারে।’- মুনীর চৌধুরীর কোন রচনার অংশ?
  1. কবর
  2. মুখরা রমণী বশীকরণ
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

'হয়তো নারী মানেই এ দূর্বলতার শিকার।
স্নেহকে শৃঙ্খলে পরিণত করে। ভালবাসাকে মোহে, বন্ধনকে শিকারে।'- অংশ্তুকু মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের অংশ। 

রক্তাক্ত প্রান্তর মুনীর চৌধুরীর রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৬৩৩.
'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. সুরজিত নন্দী
  2. সিরাজ আলী
  3. সব্যসাচী
  4. নীল মাধব
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৩৪.
''উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। 
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• ''উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
ভয় নাই, ওরে ভয় নাই। 
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- কবিতাংশটুকু 'সুপ্রভাত' কবিতার অন্তর্গত।

সুপ্রভাত- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রুদ্র , তোমার দারুণ দীপ্তি
এসেছে দুয়ার ভেদিয়া ;
বক্ষে বেজেছে বিদ্যুৎবাণ
স্বপ্নের জাল ছেদিয়া ।
-----
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ,
‘ ভয় নাই , ওরে ভয় নাই —
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই । (সংক্ষেপিত) 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,'সুপ্রভাত' কবিতা। 
১৫,৬৩৫.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) গ্রাম্য কবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। 
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৩৬.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনা?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. সীতার বনবাস
  4. প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

• প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রভাবতী সম্ভাষণ একটি শোকগাঁথা।
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

-----------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'বিদ্যাসাগর-প্রসঙ্গ' থেকে বিদ্যাসাগরের “প্রভাবতী সম্ভাষণ” একটি আবেগপূর্ণ রচনা। তাহার পরম প্রিয়পাত্র রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিশুকন্যা প্রভাবতীর মৃত্যুতে ইহা রচিত।
- ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ)
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ এবং বাংল সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১৫,৬৩৭.
‘বিদায় দে মা ঘুরে আসি‘ শিশু সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
⇒ জাহানারা ইমাম:
• জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪)  শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
• অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য:
- গজকচ্ছপ, 
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

•অনুবাদ গ্রন্থ:
- জাগ্রত ধরিত্রী, 
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর, 
- নদীর তীরে ফুলের মেলা।

• মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ:
- বীরশ্রেষ্ঠ, 
- একাত্তরের দিনগুলি।

• অন্যান্য:
- জীবন মৃত্যু, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- বুকের ভিতরে আগুন, 
- নাটকের অবসান, 
- দুই মেরু, 
- প্রবাসের দিনগুলি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৩৮.
'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আহমদ ছফা
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

অন্যদিকে, 
• অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৩৯.
কোনটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত উপন্যাস?
  1. ক) মানচিত্র
  2. খ) ধানকন্যা
  3. গ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. ঘ) জীবনজমিন
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ
- ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক।
- ৬ মে ১৯৩২ সালে তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - জেগে আছি (১৯৫০)। যা একটি গল্পগ্রন্থ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
কাব্যগ্রন্থ্য:
- মানচিত্র
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ

গল্পগ্রন্থ:

- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন,

উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৪০.
‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসটির বিষয়বস্তু-
  1. ভাষা সংগ্রাম
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. আঞ্চলিক কাহিনী 
  4. সামাজিক কাহিনী
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:  
- তিরিশের দশকের প্রতিনিধি স্থানীয় কথাসাহিত্যিক। 
- তাঁর উপন্যাসগুলোতে রাঢ় অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

♣ তাঁর প্রতিনিধি স্থানীয় উপন্যাসগুলো: 
• চৈতালী ঘূর্ণি, 
• ধাত্রীদেবতা, 
• কালিন্দী, 
• গণদেবতা, 
• পঞ্চগ্রাম, 
•একটি কালো মেয়ের কথা,
• কবি, 
• হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
• আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি।

- তাঁর লিখা ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত। 

- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস নামে পরিচিত। 
- তাঁর রচিত ছোটগল্প: রসকলি, বেদেনী, ডাকহরকরা।
- তিনি ‘পদ্মশ্রী’ ও 'পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৪১.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত গদ্যগ্রন্থ-
  1. কুসুমাঞ্জলি
  2. অপূর্বদর্শন
  3. মহর্ষি - মনসুর
  4. জোহরা
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন,
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলোর নাম:
- ফেরদৌসী-চরিত;
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৪২.
‘হৃৎকলমের টানে’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘হৃৎকলমের টানে’ প্রবন্ধ:
• কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিবিশ্বের এক অনুপম নিদর্শন ‘হৃৎকলমের টানে’ তাঁর সাহিত্যকলামের সংকলন/ প্রবন্ধ।
• সাহিত্যের সূত্রে এসেছে সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমাজ-স্বদেশ ও বিশ্বভাবনা। জগৎ ও জীবনকে তাঁর দৃষ্টির নিজস্বতায় যেভাবে উপলব্ধি করেছিলেন তারই শিল্পভাষ্য ধরা হয়েছে এইসব খণ্ড রচনায়।
• পত্রিকায় প্রকাশের পরপরই এই বইভুক্ত লেখাগুলো যেমন আলোড়ন তুলেছিল তেমনি আজও পাঠক এইসব লেখায় খুঁজে পান সৈয়দ শামসুল হকের জগৎ ও জীবনদর্শনের সারবত্তা। বাংলা মননশীল সাহিত্যের ধারাও এই রচনা-সিরিজ যোগ করেছে নতুন মাত্রা। 

⇒ সৈয়দ শামসুল হক: 
- সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- গণনায়ক,
- নূরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

উৎস: ‘হৃৎকলমের টানে’ প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৪৩.
"কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, 
কালো তারেই বলে গাঁয়ের লোক। 
মেঘলা দিনে দেখেছিলাম মাঠে 
কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ।" কোন কাব্যগ্রন্থের অংশ?
  1. ক) ক্ষণিকা
  2. খ) প্রেমগীত
  3. গ) কৃষ্ণকলি
  4. ঘ) মানসী
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ক্ষণিকা' কাব্যগ্রন্থের 'কৃষ্ণকলি' কবিতার অংশ। 

কবিতাটি নিম্নরূপ -

কৃষ্ণকলি
        রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি,
       কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে
       কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে,
মুক্তবেণী পিঠের 'পরে লোটে।
        কালো? তা সে যতই কালো হোক
        দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।।
                                        (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: ক্ষণিকা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৫,৬৪৪.
বাংলা সাহিত্যে দাশরথি রায় কী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক
  2. বৈষ্ণব কবি
  3. পাঁচালিকার
  4. মর্সিয়া সাহিত্যের কবি
ব্যাখ্যা
• দাশরথি রায়:
- পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন- দাশরথি রায়।
- ১৮০৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। 'দাশু রায়' নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন। অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন। তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা 'দাশুরায়ের পাঁচালি' নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৬৪৫.
'ফিরোজা বেগম' - উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
'ফিরোজা বেগম' - উপন্যাসটির রচয়িতা - সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• তাঁর গদ্য বঙ্কিমচন্দ্রের মতো সংস্কৃতবহুল, কবিতা মধুসূদনের মতো ক্লাসিক রীতির।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- স্পেনবিজয় কাব্য

উপন্যাস:
- তারা-বাঈ
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম

প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কিনারি জীবন
স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা

ভ্রমন কাহিনি:

- তুরস্ক ভ্রমণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৬৪৬.
সেলিনা হোসেনের ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. বায়ান্নর দিনগুলো
  3. আর্তনাদ
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

অন্যদিকে,
• 'আরেক ফাল্গুন' জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।

• জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'বায়ান্নর দিনগুলো' তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

• ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১৫,৬৪৭.
চতুরঙ্গ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- 
  1. অমিত, লাবণ্য
  2. নিখিলেস, বিমলা
  3. নীরজা, আদিত্য
  4. শচীশ, দামিনী
ব্যাখ্যা

•'চতুরঙ্গ':
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র - শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।

অন্যদিকে,
- নিখিলেস, বিমলা ঘরে বাইরে উপন্যাসের চরিত্র।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসে অন্যান্য চরিত্র:
- অতীন, এলা চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- নীরজা, আদিত্য মালঞ্চ উপন্যাসের চরিত্র।
- গোরা, মসুচরিতা, পরেশবাবু গোরা উপন্যাসের চরিত্র।
- শর্মিলা, উর্মিলা দুইবোন উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন, কুমোদিনী যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া

১৫,৬৪৮.
'ফুড কনফারেন্স' কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ কনফারেন্স।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।
 
কাহিনি সংক্ষেপ:
ফুড কনফারেন্স গল্পগ্রন্থটি প্রকাশের পর আমাদের সাহিত্যজগতে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এ বইয়ের গল্পগুলোতে বিশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সংঘটিত ঘটনার চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে রঙ্গব্যঙ্গের সরসতায়। হাস্যরসের অন্তরালে নিহিত কঠোর সমাজবাস্তবতা আজও পাঠককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। লেখক প্রায় আশি বছর আগের নানা অসংগতিকে কেন্দ্র করে রসের চাবুকে যে আঘাত হেনেছিলেন, বর্তমানে পাঠক সেই আঘাতের প্রয়োজনীতা আরও
বেশি করে অনুভব করবেন।
 
আবুল মনসুর আহমদ:  
- তিনি একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে। 
- তিনি ১৯৪১ সালের অক্টোবর মাসে নবযুগ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে চাকরি লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।
 
আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৪৯.
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) নবকুমার
  2. খ) গোবিন্দলাল
  3. গ) কপালকুণ্ডলা
  4. ঘ) কাপালিক
ব্যাখ্যা
- গোবিন্দলাল 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৫০.
বদরুদ্দীন উমর সম্পাদিত সাময়িকী কোনটি?
  1. সংস্কৃতি
  2. ভোরের পাখি
  3. বাসন্তী
  4. সোনালিকা
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৫১.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সুফিয়া কামালের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মায়া কাজল
  2. সাঁঝের মায়া
  3. উদাত্ত পৃথিবী
  4. মন ও জীবন
ব্যাখ্যা
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা:
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি প্রথম ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

-----------------
সুফিয়া কামাল রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
১৫,৬৫২.
"আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।"- সংলাপটি কার রচনা?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"পথের দাবী" উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

 'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৫৩.
“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলই ওপারে"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুফিয়া কামাল 
  3. জীবনানন্দ দাশ 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

উদ্ধৃত পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
-----------------------------
মোহ 
  -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, 
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। 
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে; কহে, 
যাহা কিছু সুখ সকলই ওপারে।" 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘মোহ’ একটি বিখ্যাত ছোট কবিতা। 
- এই কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষের চিরন্তন অতৃপ্তি এবং দূরের জিনিসের প্রতি মোহ বা আকাঙ্ক্ষাকে নদীর দুই তীরের রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এখানে নদীর এপার এবং ওপার দুই তীরকে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখানো হয়েছে—যেখানে আমরা সবসময় অন্য তীরে থাকা সুখকেই শ্রেষ্ঠ মনে করি। মানুষ নিজের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট হয় না এবং সবসময় যা নেই তা পাওয়ার আশায় দৃষ্টি ঘুরিয়ে অন্যের জীবন বা দূরের অবস্থাকে ভালো মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের ছিলেন।
- তিনি আট বছর বয়স থেকে কবিতা রচনা শুরু করেন।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর 'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতাটি অমৃতবাজার পত্রিকা-তে প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা হলো—
• গীতাঞ্জলি (যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে নোবেল পান),
• সোনার তরী,
• ঐকতান,
• মোহ
• প্রাণ,
• বৃক্ষ,
• আষাঢ়,
• ১৪০০ সাল,
• যেতে নাহি দিব,
• দুই পাখি,
• নিরুদ্দেশ যাত্রা,
• মানষী,
• হঠাৎ দেখা,
• দান,
• দুই বিঘা জমি।
---------------------------
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া; 
'মোহ' কবিতা। 

১৫,৬৫৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন সাহিত্যকর্মের জন্য কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়াবনামা
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’  ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

---------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)
 
• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৫৫.
"বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।" - চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বলাকা
  2. গীতাঞ্জলি
  3. মানসী
  4. সেঁজুতি
ব্যাখ্যা
• বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়। - চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বিপদে মোরে রক্ষা করো' কবিতার 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৫৬.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
  3. হেক্টরবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৫৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বর্ধমান
  2. দিনাজপুর
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. বীরভূম
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬৫৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন বছরের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯২৭ সালের
  2. ১৯২৬ সালের
  3. ১৯২৩ সালের
  4. ১৯১৬ সালের
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৫৯.
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙ্‌ক্তি আছে।

কবর
- জসীম উদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কবর' (কবিতা)।
১৫,৬৬০.
'আবার আসিব ফিরে' বিখ্যাত কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বনলতা সেন
  3. রূপসী বাংলা
  4. ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

রূপসী বাংলা (কাব্যগ্রন্থ):
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৬১.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. মাল্যবান
  2. বনলতা সেন
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘মাল্যবান’ উপন্যাস:
-  ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩) জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল সম্ভবত ১৯৪৮ সালে, প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
-  বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
-  দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি। সম্পর্কের জটিলটা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বনলতা সেন ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাতটি তারার তিমির ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১)  ও রূপসী বাংলা(১৯৫৭) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৬২.
বেগম রোকেয়ার রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) সৈনিক বধু
  3. গ) মায়া কানন
  4. ঘ) পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্ম:
- তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায়।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন তাঁকে উৎসাহিত করেন স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য।
- সওগাতের সঙ্গে বেগম রোকেয়ার সম্পৃক্ততা ছিল নিবিড়।
- এ পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়।
- মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৬৩.
নিচের কোনটি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) উপমহাদেশ
  2. খ) চেহারার চতুরঙ্গ
  3. গ) ডাহুকী
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
সোনালী কাবিন আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
কাবিলের বোন, চেহারার চতুরঙ্গ, উপমহাদেশ, ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, ডাহুকী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস এবং
পানকৌড়ির রক্ত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ, সৌরভের কাছে পরাজিত তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৬৪.
সিকান্দার আবু জাফর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সমকাল
  2. নবযুগ
  3. কণ্ঠস্বর
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত 'কণ্ঠস্বর' কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।

---------------
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতেl
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাওল,
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৬৫.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন ?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতার জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন।

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী। 

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৬৬.
হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।

- হাসান হাফিজুর রহমানের পেশাগত জীবন খুবই বৈচিত্র্যময়। ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন।  

- হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।

- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বিমুখ প্রান্তর।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়। ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৬৭.
’মাসিক পত্রিকা’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৫,৬৬৮.
'যাত্রা' উপন্যাসে কোন ঐতিহাসিক কাহিনির পেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. ৪৭এর দেশভাগ
  2. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।  

--------------------
• 'যাত্রা' উপন্যাস:

- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
১৫,৬৬৯.
'তিনপুরুষ' কাব্য রচনা করেন কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সমর সেন
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন।
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর রচিত কাব্য:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৭০.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) শাহজাদীর কালো নেকাব
  2. খ) আয়নায় বন্ধুর মুখ
  3. গ) নিষুতি রাতের গাঁথা
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
নিষুতি রাতের গাঁথা আনোয়ার পাশার উপন্যাস। আর বাকিগুলো আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাটক। আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন অভিনেতা, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর রচিত নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শপথ, নিয়তির পরিহাস, বিন্দু বিন্দু রং, সেনাপতি, অরক্ষিত মতিঝিল, ক্রসরোড ক্রস ফায়ার, আয়নায় বন্ধুর মুখ, এখনও ক্রীতদাস, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, আমাদের সন্তানেরা, ঋতুরাজ, কোকিলারা, মাইক মাস্টার, মেরাজ ফকিরের মা, মেহেরজান আরেকবার।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৬৭১.
‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী'।

বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
-  রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী
- যে আধাঁর আলোর অধিক
- মরচেপড়া পেরেকের গান
- একদিন চিরদিন
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী 
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৭২.
'ব্যাঙের সমুদ্র দেখা' শিশুতোষ সাহিত্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
আবোলতাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই, ইত্যাদি সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৭৩.
'দরিয়া-বিবি ও আজহার' শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. দুই সৈনিক
  3. জননী
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
'জননী' উপন্যাস:
- এটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের 'জননী' (১৯৬১) উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা। দরিয়া-বিবি সেই পল্লি-জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলে ওই গর্ভস্থ সন্তানকেও দরিয়া অসীম মমতায় সকল ভ্রূকুটি সহ্য করে নিরাপদে জন্মদানের মাধ্যমে আদর্শ জননীর দৃষ্টান্ত স্থাপনকরেন।
- এই মূলকাহিনির পাশাপাশি উপন্যাসে এসেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- দরিয়া-বিবি,
- আজহার
,
- মোনাদি, ইয়াকুব,
-সচন্দ্রকোটাল প্রমুখ।

--------------------
শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৭৪.
"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;" লাইনটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;"-- লাইনটি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের কাব্য :
- ঝরা পালক
- ধূসর পান্ডুলিপি
- সাতটি তারার তিমির
- বনলতা সেন 
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা
- মহাপৃথিবী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বনলতা সেন কবিতা।
১৫,৬৭৫.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' — উক্তিটি কোন গ্রন্থের?
  1. বনলতা সেন
  2. কবিতার কথা
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ করেছেন।

• কবিতার কথা:
- জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’।
- গ্রন্থটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৭৬.
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে! - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে ?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!- পঙক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতার।


• 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- এটি কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা। 
- রাজবন্দি হিসেবে জেলে থাকা অবস্থায় কাজী নজরুল ইসলামের  'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থটি ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে প্রকাশিত হয়। 
- এতে হয়েছে ২১ টি কবিতার সংকলন। 
- মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই। 
- অন্যন্য কবিতার মধ্যে - বেলাশেষে, পূবের চাতক, অবেলার ডাক, পূজারিনী, কবি-রানী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৭৭.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অভাগীর স্বর্গ
  2. খ) প্রত্যুপকার
  3. গ) বনমানুষ
  4. ঘ) বাঙলা শব্দ
ব্যাখ্যা
• ‘প্রত্যুপকার’ গ্রন্থের রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি আখ্যানমঞ্জরী দ্বিতয়ি ভাগ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘প্রত্যুপকার’ আলী আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি।
- বস্তুত এ রচনায় আলী আব্বাস ও খলিফা মামুন এই দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তাদের একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। খলিফার মহত্ত্বও এ রচনায় প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- ‘বনমানুষ’ গ্রন্থের রচয়িতা আবু ইসহাক।
- ‘বাঙলা শব্দ’ হুমায়ুন আজাদ রচিত গ্রন্থ।
- ‘অভাগীর স্বর্গ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প।

-------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :-
- শকুন্তলা
- সীতার বনবাসের
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৭৮.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজেম আল কোরেশী
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। 
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 
- অশ্রুমালা
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা 
- শিবমন্দির 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৭৯.
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার মারা যান কবে?
  1. ক) ৮ মে, ২০২৩
  2. খ) ১৬ মে, ২০২৩
  3. গ) ২ মে, ২০২৩
  4. ঘ) ২০ মে, ২০২৩
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার:  
- বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় ১০ মার্চ ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস “দৌড়”। 
- তার প্রথম গল্প 'অন্যমাত্রা'। 
- তিনি ৮ মে, ২০২৩ সালে মারা যান।  

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে-
- উত্তরাধিকার,
- কালবেলা,
- কালপুরুষ, 
- সাতকাহন,
- তেরো পার্বণ,
- স্বপ্নের বাজার,
- উজান,
- গঙ্গা,
- ভিক্টোরিয়ার বাগান,
- আট কুঠুরি নয় দরজা,
- অনুরাগ, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুন ২০২৩ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৮০.
'বানভট্ট' কার ছদ্মনাম?
  1. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. নীহাররঞ্জ গুপ্ত
  4. নীহাররঞ্জ রায়
ব্যাখ্যা

 • 'বানভট্ট' — নীহাররঞ্জ গুপ্তের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি'।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৮১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মানুষ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. প্রলয়শিখা
  3. বিষের বাঁশি
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মানুষ’ কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১৫,৬৮২.
‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. মহাদেব সাহা
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

কবি মহাদেব সাহার প্রথম কাব্য এই গৃহ এই সন্ন্যাস। এটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- তোমার পায়ের শব্দ
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্নভিন্ন
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৫,৬৮৩.
অ্যাডগার এলেন পো-র কবিতার প্রভাব রয়েছে জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতায়?
  1. মৃত্যুর আগে
  2. হায় চিল
  3. বনলতা সেন
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমি
১৫,৬৮৪.
'সোহিনী' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে গল্পের-
  1. সুভা
  2. ল্যাবরেটরি
  3. হৈমন্তী
  4. নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুকেশিনী, সুহাসিনী, প্রতাপ, গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলি ইত্যাদি।
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৬৮৫.
‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- ‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি - উপন্যাস
- উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. পারস্য যাত্রী
  3. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  4. বুলগেরিয়া ভ্রমণ
ব্যাখ্যা
• পারস্য যাত্রী:
'পারস্য যাত্রী' রবীন্দ্রনাথের লেখা জনপ্রিয় গল্পের মধ্য একটি। এই গল্পটি মুলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ভ্রমণকাহিনী নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩২ সালে পারস্য ভ্রমণে যান এবং সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে তিনি এই বইটিতে আলোচনা করেছেন। এখানে পারস্য তথা ইরানের সফরের অভিজ্ঞতা লেখক তুলে ধরেছেন।

তিনি পারস্যের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করেন। এবং সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ইতিহাস সম্পর্কে এই বইয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেইসাথে তাঁর বর্ণনায় পারস্যের প্রকৃতি, স্থাপত্য এবং সেখানকার স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা তিনি বিশেষ ভাবে তুলে ধরেছেন। তার এই ভ্রমন কাহিনীর গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাঠকরা পারস্যের সৌন্দর্য এবং বিশেষত্ব খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারে।

• বিশ্বপরিভ্রমণ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর ভ্রমণকথার বই আটটি। যথা:
- 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’,
- ‘য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী’,
- ‘পথের সঞ্চয়’,
- ‘জাপান যাত্রী’,
- ‘পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী’,
- ‘জাভা যাত্রীর পত্র’,
- ‘রাশিয়ার চিঠি’,
- ‘পারস্য যাত্রী’।

--------------------
অন্যদিকে, 
• 'দেশে বিদেশে' গল্পে সৈয়দ মুজতবা আলীর ভ্রমন অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। 
• 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' বইটি লিখেছেন ইব্রাহিম খাঁ। ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র বইটি ১৯৬০-এর দশকে প্রকাশিত হয়।
• 'বুলগেরিয়া ভ্রমণ' ড. মোহাম্মদ এনামুল হকের একটি প্রখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী। ড. মোহাম্মদ এনামুল হক এখানে তার বুলগেরিয়া সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। 

উৎস: 'পারস্য যাত্রী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৮৭.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি?
  1. কালিকলম
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. হিতবাদী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।
-------------------------------
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

অন্যদিকে, 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম' 
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৮৮.
'মানুষ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৮৯.
'যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।' -এই অমর চরণ দুটি কে লিখেছেন?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) নির্মলেন্দুগুণ
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত কবিতাটি লিখেছেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, বিখ্যাত লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২)।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে গঙ্গা থেকে বুড়িগঙ্গা নামে কাব্যসংকলনে 'বঙ্গবন্ধু' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
 
ছড়াসমগ্র ও রচনাবলিতে তাঁর 'বঙ্গবন্ধু' ছড়াটি নিম্নরূপে মুদ্রিত হয়েছে :

তদিন রবে পদ্মা যমুনা
গৌরী মেঘনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার,
শেখ মুজিবুর রহমান!
দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
তবু নাই ভয়, হবে হবে জয়,
জয় মুজিবুর রহমান!

উৎস: সমকাল পত্রিকা।
১৫,৬৯০.
‘ফাঁস কাগজ’ প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
• ‘ফাঁস কাগজ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি প্রহসন।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৯১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - 
  1. অর্কেষ্ট্রা
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. ক্রন্দসী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - কুলায় ও কালপুরুষ

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৬৯২.
‘অভিশপ্ত নগরী’ উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. সানাউল হক
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• অভিশপ্ত নগরী:
- বাইবেলের 'বুক অব দ্য প্রফেট : যেরেমিয়া খণ্ড' অবলম্বনে অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭) রচিত। 
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেনই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনিকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা  করেন। 
- বাইবেলের কাহিনিকে আশ্রয় করে রাজতন্ত্র ও পুরোহিততন্ত্রের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সেই দ্বন্দ্বে মেহনতি মানুষের প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ রূপায়ণে সত্যেন সেন সফল।
- উপন্যাসে যেরেমিয়া, রাজা যিহোয়াকিম, নেবুকাডনাজার প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ আছে। 
- জীবনের প্রবহমাণ ধারা রূপ দিতে গিয়ে মহাকাব্যিক ভাষারীতি ও অলঙ্কার গৃহীত হয়েছে এই উপন্যাসে।

• সত্যেন সেন:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক। 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে 'দৈনিক সংবাদ' এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং 'উদীচী ' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।
- তিনি ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৮১ শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী
- পদচিহ্ন, 
- পাপের সন্তান, 
- আলবেরুনী, 
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৯৩.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. মাটির কান্না
  2. গ্রামের মায়া
  3. পল্লীবধূ
  4. বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবর্তী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৬৯৪.
’একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’-এই চরণটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রক্তে আমার অনাদি অস্থি
  2. আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  3. ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ’একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’-এই চরণটি কবি শামসুর রাহমানের 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা,
---------শামসুর রাহমান।   

আবার ফুটেছে দেখো কৃষ্ণচূড়া  থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ওরা
শহিদের  ঝলকিত রক্তের  বুদ্বদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশর কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
এ রংয়ে র বিপরীত আছে অন্য রং,
যে রং লাগে না ভালো চোখে, যে রং সন্ত্রাস আনে
প্রাত্যহিকতায় আমাদের মনে সকাল-সন্ধ্যা
 এখন সে রঙে  গেছে পথ- ঘাট সারা দেশ
ঘাতকের অশুভ আস্তানা।

'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতা সম্পর্কিত আলোচনা: 
- 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯’ কবিতাটি নেয়া হয়েছে কবি শামসুর রহমান এর ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
- এ কবিতার পটভূমি  পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ এ সূচিত পূর্ববঙ্গের মানুষের গণ আন্দোলন। 
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
- ১৯৫২ তে ভাষা শহিদ সালামের রক্তে অর্জিত বাংলা ভাষাই ৬৯ সালের আন্দোলনে প্রতিবাদীদের মুখে ধ্বনিত হয়েছে।
- কবি দেখেছেন যে, ১৯৫২ সালের সংগ্রামের অর্জন ১৯৬৯ সালের আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯' কবিতা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,৬৯৫.
'মহাশ্মশান' কার রচিত মহাকাব্য?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) কাজেম আল কোরেশী
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।
তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।

তার কাব্যগ্রন্থ হলো- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য) ইত্যাদি।
এছাড়াও তিনি -
কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৬৯৬.
শহীদ কাদরীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ডুমুরখেকো মানুষ
  2. খ) উত্তরাধিকার
  3. গ) ডলু নদীর হাওয়া
  4. ঘ) অভিশপ্ত নগরী
ব্যাখ্যা
বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার' এ। এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচেষ্টায়। বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা', 'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই', 'আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৬৯৭.
”সুচয়নী” কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. কবিতার সংকলন
  3. গল্পগুচ্ছ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• জসীমউদ্‌দীন-এর নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ- সুচয়নী।
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

- কবি তাঁর রচিত অন্যান্য জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,

তাঁর রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়;
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি; 
- জারিগান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৬৯৮.
'গ্রানাডার শেষ বীর' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
'গ্রানাডার শেষ বীর' উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলী। এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৬৯৯.
''সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি ------- , আমি দাঁড় টানি ভুলে;
'' - কবিতাংশটুকুর শূন্যস্থানে কী বসবে?
  1. দূরে
  2. মাস্তুলে
  3. কল্পনায়
  4. ওঠনি জেগে
ব্যাখ্যা
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি ------- , আমি দাঁড় টানি ভুলে; - কবিতাংশটুকুর শূন্যস্থানে মাস্তুলে বসবে।

• মাস্তুল শব্দের অর্থ- নৌকা, জাহাজের পাল লাগানোর দণ্ড।

পাঞ্জেরি- কবিতা,
– ফররুখ আহমেদ। 
 
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি  মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
 
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।

-------------------- 
• ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।
 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 
 
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)
 
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৭০০.
'পথে প্রবাসে' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়: 
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
-  অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন। 

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

 • উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে, 
- ইউরোপের চিঠি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।