বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫৫ / ১৭৪ · ১৫,৪০১১৫,৫০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,৪০১.
'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' অনুবাদ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. গোলাম মস্তফা
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• পারস্যের বিখ্যাত সাহিত্যিক ওমর খৈয়ামের মণিমুক্তা স্বরূপ রুবাইকে বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সহজ বাংলায় রূপান্তর করেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। ওমর খৈয়ামের অসংখ্য রুবাই থেকে সেরা ১৯৭ টি বাছাই করে অনুবাদ করেন তিনি।

• ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদকৃত 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয়। সৈয়দ মুজতবা আলী এর ভূমিকা লেখেন।

• আরও অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক রুবাইয়াতের অনুবাদ করলেও কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদই কেন সেরা সে নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলা সাহিত্যের আরেক বরপুত্র সৈয়দ মুজতবা আলী।

• রুবাইগুলোতে ওমরের দর্শন, আধ্যাত্মিকতা, তাঁর চিন্তা চেতনা, তৎকালীন সমাজ বাস্তবতা প্রভৃতি প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪০২.
জসীম উদ্‌দীনের জন্ম কোথায়?
  1. ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে
  2. মাদারীপুর জেলার শিবচর
  3. ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে
  4. কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪০৩.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়-
  1. সুবচন নির্বাসনে
  2. মেরাজ ফকিরের মা
  3. আমলার মামলা
  4. এখনো ক্রীতদাস
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- নিয়তির পরিহাস,
- বিন্দু বিন্দু রং,
- ঋতুরাজ,
- আয়নায় বন্ধুর মুখ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- সেনাপতি,
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- ক্রসরোড ক্রস ফায়ার,
- এখনও ক্রীতদাস,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- আমাদের সন্তানেরা,
- কোকিলারা,
- মাইক মাস্টার,
- মেরাজ ফকিরের মা,
- মেহেরজান আরেকবার ইত্যাদি।

• অন্যদিকে আমলার মামলা শওকত ওসমানের নাটক।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪০৪.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসের কুবের মাঝির গ্রামের নাম কী?
  1. দেবগঞ্জ
  2. ময়নাদ্বীপ
  3. কেতুপুর
  4. সুন্দরপুর
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসে কুবের মাঝির গ্রামের নাম কেতুপুর
 --------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬):
- জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস - ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অংশবিশেষ:
বর্ষার মাঝামাঝি।
পদ্মায় ইলিশ মাছ ধরার মরসুম চলিয়াছে।দিবারাত্রি কোন সময়েই মাছ ধরবার কামাই নাই।সন্ধ্যার সময় জাহাজঘাটে দাঁড়াইলে দেখা যায় নদীর বুকে শত শত আলো অনির্বাণ জোনাকির মত ঘুরিয়া বেড়াইতেছে।জেলে-নৌকার আলো ওগুলি।সমস্ত রাত্রি আলোগুলি এমনিভাবে নদীবক্ষের রহস্যময় ম্লান অন্ধকারে দুর্বোধ্য সঙ্কেতের মত সঞ্চালিত হয়।এক সময় মাঝরাত্রি পার হইয়া যায়।শহরে, গ্রামে, রেল-স্টেশনে ও জাহাজঘাটে শ্রান্ত মানুষ চোখ বুজিয়া ঘুমাইয়া পড়ে।শেষরাত্রে ভাঙা ভাঙা মেঘে ঢাকা আকাশে ক্ষীণ চাঁদটি উঠে।জেলে-নৌকার আলোগুলি তখনো নেভে না।নৌকার খোল ভরিয়া জমিতে থাকে মৃত সাদা ইলিশ মাছ।লন্ঠনের আলোয় মাছের আঁশ চকচক করে,মাছের নিষ্পলক চোখগুলিকে স্বচ্ছ নীলাভ মণির মত দেখায়।

কুবের মাঝি আজ মাছ ধরিতেছিল দেবগঞ্জের মাইল দেড়েক উজানে। নৌকায় আরও দুজন লোক আছে, ধনঞ্জয় এবং গণেশ। তিনজনেরই বাড়ি কেতুপুর গ্রামে। আরও দু-মাইল উজানে পদ্মার ধারেই কেতুপুর গ্রাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) পদ্মানদীর মাঝি।

১৫,৪০৫.
‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুফিয়া কামাল
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।’
- ‘পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

-------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি  'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪০৬.
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিশ্বনবী
  2. বুলবুলিস্তান
  3. বনি আদম 
  4. খোশরোজ
ব্যাখ্যা

• 'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থ:
-'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

--------------------
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪০৭.
"আত্মজা ও একটি করবী গাছ" গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. দেশ বিভাগ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা
"আত্মজা ও একটি করবী গাছ" হাসান আজিজুল হক এর দেশ বিভাগের পটভূমিকায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। 
- দেশ বিভাগ হলে সৃষ্ট ব্যক্তি চরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- শীতের অরণ্য (১৯৬৪)
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭)
- জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩)
- নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)
- পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১)
- আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৯)
- রোদে যাবো (১৯৯৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪০৮.
'কেয়ার কাঁটা' সুফিয়া কামাল রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ 
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

• 'কেয়ার কাঁটা' হলো বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিক বেগম সুফিয়া কামালের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ যা ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি পনেরোটি গদ্য নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রেম, সংকট, ও নারীদের বাস্তবতার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

---------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কেয়ার কাঁটা' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪০৯.
'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. সিকান্‌দার আবু জাফর
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
⇒ সাহিত্য পত্রিকা':
- 'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রথম সম্পাদক ছিলেন - মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারের লক্ষ্যে তিনি 'সাহিত্য পত্রিকা' প্রকাশ করেন।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উচ্চমানের জন্য খুব দ্রুত পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে।
- আবদুল হাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনার পাশাপাশি নিরলসভাবে নিজের গবেষণাও চালিয়ে যান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪১০.
'আবার আসিব ফিরে ধানসঁড়িটির তীরে'- চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর— ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;"
------------------------- 
•  জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪১১.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. চৈতালি
  2. লোক-লোকান্তর
  3. সর্বহারা
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

‘পূর্বাভাস’ হলো সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে সমাজের চিত্র এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্ট ও দুঃখের বিষয়গুলো গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট, ১৯২৬ সালে।
- পরিচিতি: কিশোর কবি, মার্কসবাদী কবি ও মানবতার কবি।
- কাব্যে ফুটে উঠেছে মানুষের, বিশেষ করে শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের বিষয়।
- নজরুলের পর সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের সুর লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪১২.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির মুখপত্র ছিল—
  1. নবযুগ
  2. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও পত্রিকা:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’ ও ‘সাহিত্যিক’ নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।

- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪১৩.
'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা-
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা

• 'ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

তাঁর রচিত অন্য একটি ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪১৪.
‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'উদাত্ত পৃথিবী' কাব্য গ্রন্থের রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- এটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪১৫.
'সুরবালা ও কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. দেনা-পাওনা
  3. বড়দিদি
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• "চরিত্রহীন" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

• 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী,
প্রমীলা। বড়দিদি 'মাধবী'র নাম।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪১৬.
কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুবাদকাব্য?
  1. অভ্র আবীর
  2. সবিতা
  3. মণি মঞ্জুষা
  4. বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা

মণি মঞ্জুষা হচ্ছে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুবাদকাব্য।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একজন কবি ও ছন্দবিদ ছিলেন।
- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে।
- পিতা: রজনীনাথ দত্ত (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী), পিতামহ: অক্ষয়কুমার দত্ত (তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক)।
- তিনি ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কবি ছিলেন।
- বাংলা ভাষার স্বতন্ত্র ছন্দ ও ধ্বনির মাধ্যমে নতুন ছন্দ সৃষ্টি করাই ছিল তার মূল কীর্তি, যার জন্য তিনি “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দোরাজ” নামে পরিচিত।
- তিনি বিভিন্ন ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ ও কলমগীর।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪১৭.
'নবশক্তি' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. আবু ইসহাক
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত ১৯৩৪ সালে কুমিল্লার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী নরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে কলকাতা যান। সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন। তিনি মোহাম্মদী, আজাদ, নবযুগ, কৃষক, যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

- ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে কিছুদিন উপার্জন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বভারতীর প্রকাশনা শাখায় খন্ডকালীন চাকরি করেন।

- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন। তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো-
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪১৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. চন্দ্রশেখর
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয়নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ। লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।

উপন্যাস উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুন্দনন্দিনী,
- নগেন্দ্রনাথ,
- হীরা,
- সূর্যমুখী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, চন্দ্রশেখর ও রাজসিংহ বঙ্কিমচন্দ্রের ইতিহাস আশ্রয়ী রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪১৯.
মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটক
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. শর্মিষ্ঠা নাটক
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ প্রহসন
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক: 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

-------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মগুলো-
• পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন।

• মধুসূদনের এ সময়কার অপর দুটি রচনা হলো 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) ও 'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১)। প্রথমটি রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক এবং দ্বিতীয়টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।

• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।

• তাঁর 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) পত্রকাব্যের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। এ কাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪২০.
কোনটি দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. নামহীন গোত্রহীন
  2. পাতালে হাসপাতালে
  3. আগুনপাখি
  4. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
ব্যাখ্যা

• হাসান আজিজুল হক একজন বাংলাদেশী ছোট গল্পকার এবং কথাসাহিত্যিক।
• দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা, দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ আত্মজা ও একটি করবী গাছ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থঃ
- পাতালে হাসপাতালে,
- নামহীন গোত্রহীন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি (দেশ বিভাগ নিয়ে রচিত),
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প- একাত্তরঃ করতলে ছিন্নমাথা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪২১.
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' একটি- 
  1. মহাকাব্য 
  2. উপন্যাস 
  3. নাটক 
  4. কবিতা 
ব্যাখ্যা

• 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,৪২২.
'নয়নচারা' কোন সাহিত্যিকের রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. আবুল ফজল
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নয়নচারা' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দুর্ভিক্ষ পীড়িত গ্রাম নয়নচারা। এই গ্রামের অধিবাসী আমু, ভুতো, ভুতনির গল্প রয়েছে এতে।
- গল্পগ্রন্থটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে।
- গ্রন্থটিতে বিন্যাস্ত রয়েছে আটটি গল্প। গল্পগুলো যথাক্রমে ‘নয়নচারা’, ‘জাহাজী’, ‘পরাজয়’, ‘মৃত্যুযাত্রা’, ‘খুনী’, ‘রক্ত’, ‘খণ্ড চাঁদের বক্রতায়’ ও ‘সেই পৃথিবী’। 
- নয়নচারা গ্রন্থটির প্রারম্ভেই রয়েছে নামগল্পটি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪২৩.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৫৯ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪২৪.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যসমূহের মুখ্য বিষয়বস্তু-
  1. নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম
  2. দুঃখের বর্ণনা
  3. দেবতার বন্দনা
  4. ব্যঙ্গবিদ্রূপ
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন। অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু:
- তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪২৫.
'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল? পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. ফররুখ আহমদ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

 • 'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'কোন দেশে' কবিতার অন্তর্গত।

কোন্ দেশে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কোন্ দেশেতে তরুলতা
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই
দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল,
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরই বাংলা রে!
(সংক্ষিপ্ত)

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
- ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার লাইনসমূহ:
- মুধুর চেয়ে আছে মধুর\ সে আমার এই দেশের মাটি\ আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি। (খাঁটি সোনা)
- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা,/ খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' /দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল/ ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
- পালকি চলে/ পালকি চলে... /দুলকি চালে/ নৃত্য তালে! (পালকির গান)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪২৬.
'বেদান্তগ্রন্থ' ও ‘বেদান্ত সার' কার রচনা?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ বেদান্তগ্রন্থ ও বেদান্ত সার।
 
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- পথ্য প্রদান
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১৫,৪২৭.
'বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন' ভ্রমণকাহিনীটির রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
- 'বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন' ভ্রমণকাহিনীটির রচয়িতামুহম্মদ আবদুল হাই।  

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা 
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali
- ভাষা ও সাহিত্য 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত 
ভ্রমণকাহিনী:
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৫,৪২৮.
‘জমিদার দর্পণ’ নাটকের পটভূমি কী?
  1. চট্টগ্রামের তেভাগা আন্দোলন
  2. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  3. কুষ্টিয়ার নীল বিদ্রোহ
  4. সিরাজগঞ্জের কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪২৯.
নীলদপর্ণ নাটকের কাহিনী কোন অঞ্চলের?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীলদপর্ণ নাটকের কাহিনী মেহেরপুর অঞ্চলের। নাটকটি প্রথম প্রকাশ করা হয় ঢাকার বাংলা প্রেস থেকে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৪৩০.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ক) তিলক
  2. খ) বাসন্তী
  3. গ) বনমালী
  4. ঘ) তিতাস নদী
ব্যাখ্যা
ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারন কাহিনীকে অবলম্বন করে 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি রচনা করেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৪৩১.
'পরানের গহীন ভেতর' সৈয়দ শামসুল হক রচিত- 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস 
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'পরানের গহীন ভেতর' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

​সৈয়দ শামসুল হক:

- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

​তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

​সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,৪৩২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৯০ সালে
  2. ১৯১৩ সালে
  3. ১৮৯৪ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

'সোনার তরী' কবিতা: 
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো :
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।

১৫,৪৩৩.
'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৩৪.
নিচের কোন উপন্যাসটি আবু ইসহাকের গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস?
  1. ক) পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. খ) জাল
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) ময়ূরীর মুখ
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),  ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৩৫.
Linguistic Survey of India গ্রন্থে ভারতের কতটি ভাষার বিবরণ রয়েছে?
  1. ক) ১৫৪ টি
  2. খ) ১৭৯ টি
  3. গ) ২৪৪ টি
  4. ঘ) ৫৪৪ টি
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় ভাষা সম্পর্কিত তথ্য ও উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা শুরু করেন।
- এ গবেষণার ফলই তাঁর জীবনের অমর কীর্তি Linguistic Survey of India।
- এতে তৎকালীন ভারতের প্রচলিত ১৭৯টি ভাষা ও ৫৪৪ টি উপভাষার বিবরণ রয়েছে। 
- ১৯০৩-২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ২০ খন্ডে ৮০০০ পৃষ্ঠায় এ মহাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি ভারতের ভাষা-জাত-কুল সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা করেছে, তেমনি ভারতের আধুনিক ভাষাতত্ত্বের সূতিকাগার হিসেবেও কাজ করেছে।
- তাঁর এ অসামান্য গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ Order of Merit উপাধিতে ভূষিত করে।
- ডাবলিন, অক্সফোর্ড, পাটনা ও Halle (জার্মানি) বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৩৬.
'চোখের বালি' উপন্যাসের বিধবা চরিত্রের নাম কী?
  1. আশালতা
  2. ললিতা
  3. রাজলক্ষ্মী
  4. বিনোদিনী
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৩৭.
বঙ্কিমচন্দ্রের একটি রোমান্সধর্মী উপন্যাসের নাম-
  1. ক) ইন্দিরা
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) কপালকুন্ডলা
  4. ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

- কপালকুন্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস৷
                • এই উপন্যাসের 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি। 
- সামাজিক সমস্যার আলোকে রচিত উপন্যাস হলো 'বিষবৃক্ষ', 'কৃষ্ণকান্তের উইল' ইত্যাদি৷
- ইন্দিরা অণু উপন্যাস বাঁ ছোট আখ্যান
Source: LiveMCQ Lecture.

১৫,৪৩৮.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প নয়?
  1. ক) রেখাচিত্র
  2. খ) হাওয়া বদল
  3. গ) অভিনয়, অভিনয় নয়
  4. ঘ) নীলাঞ্জনার খাতা
ব্যাখ্যা
'নীলাঞ্জনার খাতা' বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।

বুদ্ধদেব বসু
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৩৯.
'আমার পরিচয়' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আমার পরিচয়' কবিতাটি লিখেছেন- 'সৈয়দ শামসুল হক'। 

'আমার পরিচয়' কবিতা
---------- সৈয়দ শামসুল হক

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে ?’

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

উৎস: 'আমার পরিচয়' কবিতা- সৈয়দ শামসুল হক।
১৫,৪৪০.
বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক-
  1. ক) অক্ষয় কুমার বড়াল
  2. খ) অতুল প্রসাদ সেন
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কাজেম আল কুরাইশী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক। তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন। তার রচিত বাংলা গজলের সংখ্যা ৬-৭টি। তাঁর মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা! গানটি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অণুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁর গানগুলি দেবতা, প্রকৃতি, স্বদেশ, মানব ও বিবিধ নামে পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানের বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। অতুলপ্রসাদী গান নামে পরিচিত এই ধারার একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী হলেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়।
১৫,৪৪১.
কার চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সানাউল হক:
- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক
- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে।
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর, 
- বিচূর্ণ আর্শিতে, 
- পদ্মিনী শঙ্খিনী, 
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে। 

তাঁর রচিত রম্য-রচনা: 
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৪২.
'দুর্দিনের দিনলিপি' স্মৃতিগ্ৰন্থটি কার লেখা?
  1. আবুল ফজল
  2. আবদুল কাদির
  3. জাহানারা ইমাম
  4. মুশতারি শফী 
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' গ্রন্থটির রচয়িতা- আবুল ফজল।
- “দুর্দিনের দিনলিপি” - ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রোজনামচা।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক সেনাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মগোপন করেন এবং সে সময় তিনি এই ডায়রি লিখেন। 

----------------
• আবুল ফজল:
- ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলায় তাঁর জন্ম। 
- তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা।
- ‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- মাটির পৃথিবী, 
- বিচিত্র কথা, 
- রাঙ্গা প্রভাত,
- রেখাচিত্র, 
- দুর্দিনের দিনলিপি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৪৩.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. ময়ূরকণ্ঠী
  3. চাচা-কাহিনী
  4. শবনম
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ - চাচা-কাহিনী।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত রম্য রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র।
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৪৪.
বাংলা সাহিত্যের ‘প্রথম সার্থক ট্রাজেডি’ নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. নীল দর্পণ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।
- এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম- সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক।

১৫,৪৪৫.
"কুরুক্ষেত্র" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

নবীনচন্দ্র সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৪৬.
‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটি কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসিম উদ্দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
⇒ কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
• 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত একটি কবিতা।
•'কথা' (১৮৯৯) ও 'কাহিনী' (১৮৯৯) - দুটি আলাদা কাব্যগ্রন্থ ছিলো যা পরবর্তীতে 'কথা ও কাহিনী' নামে ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
• এই কাব্যগ্রন্থটি বাঙ্গালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হয়।
• 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত কবিতাগুলো হচ্ছে:
- কত কী যে আসে কত কী যে যায়,
- গানভঙ্গ,
- পুরাতন ভৃত্য,
- দুই বিঘা জমি,
- দেবতার গ্রাস,
- নিস্ফল উপহার,
- দীন দান,
- বিসর্জন,
- জুতা আবিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ।
১৫,৪৪৭.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ‘সাম্যবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৪৮.
স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে?
  1. রূপসী বাংলা
  2. বনলতা সেন
  3. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৪৯.
'সঞ্চয়ন' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তিনি বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।
- তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থসমূহঃ
• সঞ্চয়ন,
• সে পথ লক্ষ্য করে,
• সিম্পোজিয়াম,
• গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
• আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৫০.
'মানুষের মানচিত্র' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ গবেষণা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মানুষের মানচিত্র' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর 'মানুষের মানচিত্র' (১৯৮৪) কাব্যগ্রন্থে লক্ষ করা যায় নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে আকাঙ্ক্ষার সূদুঢ় অভিব্যক্তি। 

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- মানুষের মানচিত্র,
- ছোবল,
- মৌলিক মুখোশ।

• কাব্যনাট্য: বিষ বিরিক্ষের বীজ।
• ছোটগল্প: সোনালি শিশির।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত বিখ্যাত গান: ‘ভাল আছি ভাল থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।'
• বিখ্যাত কবিতা: ‘বাতাসে লাশের গন্ধ' (জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ।
১৫,৪৫১.
‘তোমার মার বাড়ি, তুমি যাও, আমি আমার বাড়িতে থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।’ উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  3. কারাগারের রোজনামচা
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

গ্রন্থটির কিছু অংশ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।
কারাগারের রোজনামচায় প্রসঙ্গক্রমে অনেকবার এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা। শেখ মুজিব তিনি নিজের সন্তান, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, বাবা-মা সবকিছু ফেলে দেশের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠকে বেছে নিয়েছিলেন। পরিবারের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণ দেখি তাঁর লেখায়: ‘৮ ফেব্রুয়ারি ২ বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, ‘আব্বা বালি চলো’। কি উত্তর ওকে আমি দিব। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম, ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দী। ওকে বললাম, ‘তোমার মার বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।’ ও কি বুঝতে চায়!..

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
১৫,৪৫২.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. খ) কোকিলারা
  3. গ) এখনও ক্রীতদাস
  4. ঘ) ফলাফল নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' সেলিম আল দীন রচিত নাটক। 
'ফলাফল নিম্নচাপ' মমতাজউদ্দিন আহমদ রচিত নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৫৩.
নিম্নের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) দেবী চৌধুরাণী
  4. ঘ) সীতারাম
ব্যাখ্যা
আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাস।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তাঁর রচিত দুর্গেশনন্দিনী ছিলো প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস। 

তাঁর রচিত উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডলা
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- যুগলাঙ্গুরীয়
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী
- রজনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরানী

আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিতা' ও 'কাজল'
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'
- সমরেশ মজুমদার: 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা' ও 'কালপুরুষ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া ।
১৫,৪৫৪.
"ভেড়াকান্ত" চরিত্রে কোন লেখকের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "ভেড়াকান্ত" চরিত্রে লেখক মীর মশাররফ হোসেনের ছায়াপাত ঘটেছে। 

-----------------------------
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়।

• গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি।

'ভেড়াকান্ত চরিত্রে' লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।

• এটি সেকালের একটি সামাজিক দর্পণস্বরূপ। মুসলমান জমিদারদের জীবনধারা, সমাজে নারীর স্থান, হিন্দু-মুসলিম পারস্পরিক সম্পর্ক, দেশের শাসনব্যবস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্নীতির কথা ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় এতে বর্ণনা করা হয়েছে। উপন্যাসটির চরিত্রের নামকরণে সংস্কৃত রূপকধর্মী নাটক বা প্রহসনের প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'বিলাসী' ছোটগল্পের ন্যাড়া চরিত্রের শধ্যে শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৫৫.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের লেখক হচ্ছে জহির রায়হান। 

হাজার বছর ধরে:
- 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসে আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ প্রতিপাদ্য।
- উপন্যাসে টুনি চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
- টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র; অন্য চরিত্রগুলো মৃত ও বিবর্ণ।
- উপন্যাসের জন্য জহির রায়হান আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- প্রধান চরিত্র: মন্ত, টুনি, বুড়ো মকবুল।

জহির রায়হান:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: সঙ্গম।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যা নিয়ে স্টপ জেনোসাইড নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন।
- ভাষা আন্দোলনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুর থেকে নিখোঁজ হন।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৫৬.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেয়ালের দেশ
  2. খ) সীমানা ছাড়িয়ে
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে৷
তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৯০) তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস৷
এই উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়৷
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস), সীমানা ছাড়িয়ে, নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ৷
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১৫,৪৫৭.
বাংলা সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র সেনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি-
  1. কুরআনের বঙ্গানুবাদ
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা
  3. আত্মজীবনী রচনা
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৫৮.
'পারাপার' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই "কবিতাবলী" (১৯২৪-২৫)।
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৫৯.
শওকত ওসমান তাঁর লিখিত কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার পেয়েছিলেন?
  1. জননী
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. বনী আদম
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৬০.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর ’- রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল মনসুর
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ হলোঃ ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’(১৯৬৮), ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)। আত্মজীবনী – আত্মকথা। শিশু সাহিত্যেঃ মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৪৬১.
নিচের কোনটি ‘খোয়াবনামা’ - উপন্যাসের প্রেক্ষাপট?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ফকির-সন্যাসী আন্দোলন
  3. ১৯৪৩ সালে মন্বন্তর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
উপন্যাসটির বিসষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্য সহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৪৬২.
রৈবতক, কুরুক্ষেত্র, প্রভাস কাব্যত্রয়ের নায়ক কে?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণ
  2. খ) রাম
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) শিব
ব্যাখ্যা
নবীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ী কাব্য-
- রৈবতক (১৮৮৭),
- কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩), এবং
- প্রভাস (১৮৯৬)

- এই তিনটি কাব্যের কাহিনি একই সুতোয় বাঁধা। 
- এই তিনটি কাব্যের নায়কই শ্রীকৃষ্ণ।
- রৈবতক- এ কৃষ্ণের আদি
- কুরুক্ষেত্র- এ তাঁর মধ্য
- প্রভাস- কৃষ্ণের অন্তর্লীলা বর্ণিত হয়েছে।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৬৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর প্রথম বক্তৃতা করেন?
  1. ১৯২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯২৮ সালের ১০ এপ্রিল
  3. ১৯৩০ সালের ১০ মে
  4. ১৯৩২ সালের ১০ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ তার জীবনে ঢাকায় এসেছেন দুবার।
- একবার ১৮৯৮ সালে, অন্যবার ১৯২৬ সালে।
- দ্বিতীয়বার রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় আসেন ১৯২৬ সালে ৯ দিনের সফরে।
- দ্বিতীয়বার রবীন্দ্রনাথের ঢাকা সফর নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় গোটা শহরে।
- রবীন্দ্রনাথ কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন গোয়ালন্দ, নারায়ণগঞ্জ হয়ে।
- রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় এসে পৌঁছেছিলেন ৭ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯২৬ সালে ঢাকা সফরে রবীন্দ্রনাথের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ছেলে রথীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রধান স্বরলিপিকার দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্র সহযোগী কালীমোহন ঘোষ, ইতালির খ্যাতনামা অধ্যাপক জিয়োসেপ্নে তুচ্চি। 
- সফরের চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৯২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কবিকে সংবর্ধনা দিয়েছিল কার্জন হলে।
- সেদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বক্তৃতা দেন।
- যেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  জর্জ হ্যারি ল্যাংলি।
- ১৩ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ "দ্যা রুল অব দ্যা জায়ান্ট" শিরোনামে কার্জন হলে একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

উৎস: দি ডেইলি স্টার বাংলা।  [লিঙ্ক]
১৫,৪৬৪.
"ভায়া লাফ দেয় তিন হাত, হেসে গান গায় দিন রাত” ছড়াটি কার সম্পর্কে?
  1. জসীম উদ্দিন
  2. পাগলা কানাই
  3. লালন শাহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কবি গোলাম মোস্তফা কর্তৃক রচিত 'ভায়া লাফ দেয় তিন হাত, হেসে গান গায় দিন রাত' ছড়াটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে।

• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৬৫.
কবি কায়কোবাদের আসল নাম কি?
  1. ক) কাজেম আল কোরায়েশী
  2. খ) কাসেম আল কোরায়েশী
  3. গ) কায়কোবাদ আল কোরায়েশী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন। তার কাব্যগ্রন্থ-- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৬৬.
জসীম উদ্‌দীনের অভিধা কোনটি?
  1. রূপসী বাংলার কবি
  2. গ্রাম বাংলার কবি
  3. নির্জনতার কবি
  4. পল্লীকবি
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

অন্যদিকে, 
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি বা অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৬৭.
'বড়াই' চরিত্রটি পাওয়া যায়-
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্যে
  2. সারদামঙ্গল কাব্যে
  3. মনসামঙ্গল কাব্যে
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।
• রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৪৬৮.
'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

• বুদ্ধদেব বসু ছিলেন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 

• ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
বন্দীর বন্দনা; কঙ্কাবতী; দ্রৌপদীর শাড়ী; শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর; যে আধার আলোর অধিক।

• উপন্যাস:
লাল মেঘ; রাতভর বৃষ্টি; পাতাল থেকে আলাপ; গোলাপ কেন কালো। 

• গল্পগ্রন্থ:
অভিনয়, অভিনয় নয়; রেখাচিত্র; ভাসো আমার ভেলা। 

• নাটক:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী; কলকাতার ইলেকট্রা; সত্যসন্ধ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৬৯.
কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে কোন দুই বিখ্যাত কবির ‘মধ্যবর্তী’ সময়ের প্রতিনিধি বলা হয়?
  1. চণ্ডীদাস ও মুকুন্দরাম
  2. আলাওল ও দৌলত কাজী
  3. ভারতচন্দ্র ও মাইকেল মধুসূদন
  4. রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়। তাকে 'গুপ্ত কবি' ও বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৭০.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রূপকথা
  2. কুঁচবরণ কন্যা
  3. ধরিত্রী
  4. মৃগপরী
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম 'ইসলাম দর্শন' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫); ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা;
- ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কৃচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৭১.
‘চৌচির’ উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবুল ফজল
  3. আল মাহমুদ
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ‘চৌচির’ উপন্যাসের লেখক: 'আবুল ফজল'।
- এটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------- 
কবি পরিচিতি:
আবুল ফজল ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৭২.
'না প্রেমিক না বিপ্লবী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণকে। প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অমীমাংসিত রমণী, বাংলার মাটি বাংলার জল, চাষাভুষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, শিয়রে বাংলাদেশ, মুঠোফোনের কাব্য, নিশিকাব্য ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৪৭৩.
সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. তাহারেই পড়ে মনে
  3. জন্মেছি এই দেশে
  4. বাসন্তী
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন। তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।

সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৭৪.
‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয় কোন কবিকে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' কে ‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয়। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২):
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন  তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন  ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- প্রথম জীবনে তিনি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন।
- পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।
- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।  
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম শিখা,
- ফুলের ফসল,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন,
- শিশু-কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৭৫.
'রাজলক্ষ্মী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনা পাওনা
  2. শ্রীকান্ত
  3. গৃহদাহ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি, অভয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৭৬.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  2. কালের ধুলোয় লেখা
  3. একাত্তরের দশ মাস
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
---------------------
• 'কালের ধুলোয় লেখা' আত্মস্মৃতি:
- 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
- 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
- এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
- বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

• 'একাত্তরের দশ মাস':
- 'একাত্তরের দশ মাস' রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী রচিত দিনলিপি। 
- লেখক রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদী তার নর্ব্যত্তিক দৃষ্টিভংগীতে নির্মোহ হয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি নির্মাণ করেছেন। তার এ গ্রন্থে ১৯৭১'এর মার্চ থেকে ১৯৭২ এর ১০ই জানুয়ারী পর্যন্ত ঘটনা কালানুক্রমিক বর্ণিত ।

• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাটক:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক। এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- কাব্যনাট্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং 'একাত্তরের দশ মাস'। 

১৫,৪৭৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আমার ছেলেবেলা
  2. খ) গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. গ) তৃণাঙ্কুর'
  4. ঘ) মৌরীফুল
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তৃণাঙ্কুর'।  
প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালি
- অপরাজিত
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- ইছামতী

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার
- মৌরীফুল
- যাত্রাবদল
- কিন্নরদল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৪৭৮.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পঞ্চপান্ডবের অন্যতম কবি ছিলেন।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'তন্বী'।
• কাব্যটি তিনি রবীন্দ্রনাথের শ্রীচরণে উৎসর্গ করেন।
• তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ক্রন্দসী,
- অর্কেস্ট্রা,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- প্রতিদিন,
- দশমী,
- প্রতিধ্বনি,
- সংবর্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৪৭৯.
'আব্দুল্লাহ্’ উপন্যাসটি কার?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

- কাজী ইমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'আব্দুল্লাহ্'।
- তাঁর রচিত কাব্য: আঁখিজল ও লতিকা।
- প্রবন্ধমালা তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
- নবীকাহিনী তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৪৮০.
'সূর্যমুখী' বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. রাজসিংহ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ। লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল। 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কুন্দনন্দিনী,
- নগেন্দ্রনাথ,
- হীরা,
- সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৫,৪৮১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় বই -
  1. ক) ভ্রান্তিবিলাস
  2. খ) কথোপকথন
  3. গ) পথ্যপ্রদান
  4. ঘ) হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
কলকাতা ও শ্রীরামপুর এলাকার নানা শ্রেণির মুখের ভাষা রচিত গ্রন্থ হচ্ছে কথোপকথন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় বই এটি। উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
১৫,৪৮২.
দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানালাম।- পঙক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন কবিতার?
  1. ক) বিক্ষোভ
  2. খ) পরিখা
  3. গ) বিদ্রোহের গান
  4. ঘ) সব্যসাচী
ব্যাখ্যা
‘বিক্ষোভ’ কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘ঘুম নেই’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা।

বিক্ষোভ
 সুকান্ত ভট্টাচার্য 

দৃঢ় সত্যের দিতে হবে খাঁটি দাম,
হে স্বদেশ, ফের সেই কথা জানলাম।
জানে না তো কেউ পৃথিবী উঠেছে কেঁপে
ধরেছে মিথ্যা সত্যের টুঁটি চেপে,
কখনো কেউ কি ভূমিকম্পের আগে
হাতে শাঁখ নেয়, হঠাৎ সবাই জাগে?
যারা আজ এত মিথ্যার দায়ভাগী,
আজকে তাদের ঘৃণার কামান দাগি।
ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি,
আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমি,
অনেকে বিরূপ, কানে দেয় হাত চাপা,
তাতেই কি হয় আসল নকল মাপা?

------------------
• ভট্টাচার্য, সুকান্ত (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
• সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র ,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

- পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

উৎস: ঘুম নেই কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৮৩.
‘স্বদেশ’ পত্রিকা কোন সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২৭ সালে
  2. খ) ১৯৬৫ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
‘স্বদেশ’ পত্রিকা সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। এর সম্পাদক ছিলেন আহমদ ছফা। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
১৫,৪৮৪.
আল মাহমুদ রচিত ‘মায়াবী পর্দা দুলে উঠে ’ – একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৪৮৫.
মানিকগঞ্জ জেলায় প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সেলিম আল দীনের রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মুনতাসির ফ্যান্টাসী 
  2. খ) হাতহদাই
  3. গ) হরগজ
  4. ঘ) কিত্তনখোলা
ব্যাখ্যা
মানিকগঞ্জ জেলায় প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সেলিম আল দীনের রচিত নাটক- 'হরগজ'। 

'হরগজ' নাটক:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি
ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ
শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিলে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মঈনুদ্দীন আহমেদ। 
- তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ল কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগ থেকে বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- তিনি ২০০৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  

তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
- বাসন
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী 
- শকুন্তলা 
- কেরামতমঙ্গল
- প্রাচ্য
- কিত্তনখোলা
- হাতহদাই
- যৈবতী কন্যার মন
- চাকা
- হরগজ
- একটি মারমা রূপকথা
- বনপাংশুল
- নিমজ্জন
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল
- ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ 
- পুত্র ইত্যাদি।
কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি। 
উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান।

তাছাড়া, 
- ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর চাকা নাটকের চলচ্চিত্রায়ন করেন চলচ্চিত্র পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম এবং
- ২০০১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর কিত্তনখোলা নাটক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন আবু সাইয়িদ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৮৬.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আসাদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

 • "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৮৭.
'পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল,
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।' - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া

১৫,৪৮৮.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' কার শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. আহসান হাবীব
  4. ডি. এল. রায়
ব্যাখ্যা

• বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর আহসান হাবীব রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ।

• আহসান হাবীব:

- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৪৮৯.
’’বিধাতা দেছেন প্রাণ থাকি সদা ম্রিয়মাণ; শক্তি মরে ভীতির কবলে, পাছে লোকে কিছু বলে’’। এই লাইনদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) কুসুম কুমারী দাশ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
’’বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ;
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে’’ এই লাইনদ্বয় নেওয়া হয়েছে কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে ’ কবিতা থেকে।

• কামিনী রায়, (১৮৬৪-১৯৩৩) কবি ও সমাজকর্মী।
• ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৯০.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রতিধ্বনি
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. এক মুঠো
  4. চলো যাই
ব্যাখ্যা

• 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়হত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধারার চেষ্টা করেছেন।

​--------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

​অন্যদিকে, 
​-----------------
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত-  অনুবাদগ্রন্থ: প্রতিধ্বনি; কাব্যগ্রন্থ: উত্তরফাল্গুনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৯১.
বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
- বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এর আগে তা ছিল প্রস্তরবৎ। 
- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ, ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন এবং বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করেসেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।  
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের জনক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৯২.
'অনল প্রবাহ' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য ’অনল প্রবাহ’।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।
--------------------------------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী
- প্রেমাঞ্জলি

তাঁর রচিত উপন্যাস
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৯৩.
কোন সাহিত্যিক কাজী নজরুল ইসলামকে যুগপ্রবর্তক কবি ও বাংলার জাতীয় কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. হবীবুল্লাহ বাহার
ব্যাখ্যা
• সওগাতে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে আবুল কালাম শামসুদ্দীন নজরুলকে যুগপ্রবর্তক কবি ও বাংলার জাতীয় কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
-----------
• যুগপ্রবর্তক কবি ও বাংলার জাতীয় কবি বলার কারণ:
১৯২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের প্রবক্তা মুসলিম সাহিত্য সমাজ-এর প্রথম বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান করেন।
- ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমাজ-এর দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য পুনরায় ঢাকা আসেন।
- এ সময় পরপর তিনবার ঢাকায় এসে নজরুল ঢাকার প্রগতিশীল অধ্যাপক, ছাত্র ও শিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
- ওদিকে ১৯২৮ সালে কলকাতায় মওলানা  আকরম খাঁ-র মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় নজরুল-বিরোধিতা শুরু হয়, কিন্তু মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সওগাত পত্রিকা বলিষ্ঠভাবে নজরুলকে সমর্থন করে।
- নজরুল সওগাতে যোগদান করে একটি রম্য বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- সওগাতে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে আবুল কালাম শামসুদ্দীন নজরুলকে যুগপ্রবর্তক কবি ও বাংলার জাতীয় কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
------------------- 
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা- লাঙ্গল, ধুমকেতু ও নবযুগ।
-----------------
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম। 
- ১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক  সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৯৪.
‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।  

• ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’:
- ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট মূলত তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ।
- রচনায় লেখক তাঁর ফেলে আসা শহর, মানুষ ও পরিবেশকে চিত্রিত করেছেন।
- প্রবন্ধে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে লেখকের শৈশব ও কৈশোরের পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ)-এর স্মৃতি ও দেশভাগের যন্ত্রণা।
- প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার দৃষ্টিকোণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক গদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------
বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক।
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর।
- তিনি কবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও সম্পাদক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি পঞ্চপান্ডব কবিদের মধ্যকার একজন। 
- তাকে কল্লোল গোষ্ঠীর কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি;
- কালের পুতুল;
- সাহিত্যচর্চা;
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি;
- সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি। 

উৎস: 
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,৪৯৫.
'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্ধ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা - তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়।

• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- কবি
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
- আরোগ্য নিকেতন

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৪৯৬.
মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে কাব্যগ্রন্থ 'স্পেন বিজয় কাব্য' এর রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা

• স্পেন বিজয় কাব্য: 
- স্পেন বিজয় কাব্যগ্রন্থে মুসলিম বীর তারেক ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের সংগ্রামের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন- ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
- এই কাব্যে মুসলিমদের অতীত বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরেছেন।
- তিনি মহাকাব্য লিখতে চেয়েছিলেন কিন্তু বৈশিষ্ট্যের বিচারে এটি মহাকাব্য হয়নি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ।
- আকাঙ্ক্ষা।
- উচ্ছ্বাস।
- উদ্বোধন।
- নব উদ্দীপনা।
- স্পেন বিজয় কাব্য।
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী।
- প্রেমাঞ্জলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী।
- তারাবাঈ।
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম।
- তুর্কিনারী জীবন।
- স্পেনীয় মুসলিম সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৪৯৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে কোন মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আমেরিকা
  3. গ) ইউরোপ
  4. ঘ) আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চাঁদের পাহাড়' উপন্যাসে আফ্রিকা মহাদেশের কাহিনী বর্ণিত আছে। এটি বাংলা রোমাঞ্চকর উপন্যাস। শঙ্কর নামক ভারতবর্ষের সাধারণ এক তরুণের আফ্রিকা মহাদেশ জয় করার কাহিনী এতে বর্ণিত আছে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৪৯৮.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. হারেম
  2. জাল
  3. মহাপতঙ্গ
  4. জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

-----------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
১৫,৪৯৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি নয় কোনটি?
  1. ক) পশ্চিমের যাত্রী
  2. খ) জাপানে পারস্যে
  3. গ) যাত্রী
  4. ঘ) রাশিয়ার চিঠি
ব্যাখ্যা
'পশ্চিমের যাত্রী' (১৯৩৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রিচিত ভ্রমণ কাহিনি:  
- জাপানে পারস্যে 
- যাত্রী 
- রাশিয়ার চিঠি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
১৫,৫০০.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি কোন শহরের প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ইসলামাবাদ
  2. কাবুল
  3. ইস্তাম্বুল
  4. বার্লিন
ব্যাখ্যা

'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো দেশে বিদেশে।
- এটি মূলত কাবুল ভ্রমণের প্রেক্ষাপটে রচিত। এটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন,
- কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম
- শত্রু-ইয়ার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।