বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫৩ / ১৭৪ · ১৫,২০১১৫,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,২০১.
'প্যাঁকালে' চরিত্রটি নিচের কোন উপন্যাসের?
  1. কুহেলিকা
  2. বাঁধনহারা
  3. জীবনসন্ধ্যা
  4. মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসটি ১৩৩৪ অগ্রহায়ণ থেকে ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন পর্যন্ত 'সওগাত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস হলো: 
- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা 
- কুহেলিকা

• 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস: 

- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে। 
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে। অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে। মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মৃত্যুক্ষুধা, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২০২.
'গঙ্গা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।

- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।

- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন। জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।

- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।

- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২০৩.
'ইন্দ্রনাথ' - কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. বড়দিদি
  3. শ্রীকান্ত
  4. দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২০৪.
মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা

 • হাঙর নদী গ্রেনেড:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাসটি
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় ছিল- অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৮৮ সালে ফিলিপস্‌ পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৪ সালে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
-  তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- যমুনা নদীর মুশায়রা ইত্যাদি।

উৎস: প্রথম আলো, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২০৫.
'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন-
  1. শওকত ওসমান
  2. সত্যেন সেন
  3. শওকত আলী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
শওকত আলী একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

 তাঁর রচিত  উপন্যাসঃ
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ 

তাঁর রচিত গল্প:
- উন্মুল বাসনা 
- লেলিহান স্বাদ 
- শুন হে লক্ষিন্দর 
- বাবা আপনে যান  

তিনি ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২০৬.
জহির রায়হান রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কয়েকটি মৃত্যু
  2. সূর্যগ্রহণ
  3. তৃষ্ণা
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ - সূর্যগ্রহণ
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,২০৭.
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) তোতা ইতিহাস
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ- কথোপকথন, ইতিহাসমালা। চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ তোতা ইতিহাস। রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ লিপিমালা এবং মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২০৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পণ্ডিতমশাই
  2. পথের দাবী
  3. বিরাজবৌ
  4. বড়দিদি
ব্যাখ্যা

'বড়দিদি' উপন্যাস: 
• 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ও প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
• এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত ‘ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল ‘শিশু’।
• শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি ‘মাধবী'র নাম।

----------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২০৯.
‘সত্যেন ও স্বাতী’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• ‘সত্যেন ও স্বাতী’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা- বুদ্ধদেব বসু।

• ‘তিথিডোর’ উপন্যাস:

- বুদ্ধদেব বসুর ঔপন্যাসিক-প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রকাশ ‘তিথিডোর’ (১৯৪৯) উপন্যাস।
- বিষয়াংশ, মৌল-জীবনার্থ এবং প্রকরণ-স্বাতন্ত্র্যের দৃষ্টিকোণে তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় প্রকৃত অর্থেই এক স্মরণীয় নির্মাণ। - আলোচ্য উপন্যাসে আমরা বুদ্ধদেব বসুর বাস্তব-জীবনপ্রীতি ও পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাই।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তমুখী সমাজমানসের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এ-উপন্যাস।
- সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের অন্তরালে এখানে প্রতিভাসিত হয়েছে চল্লিশের দশকের বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের নানামাত্রিক চিত্র।
- বুদ্ধবেদ বসু মূলত চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; কিন্তু তিথিডোর উপন্যাসে, অন্তঃবাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।

--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তিথিডোর’ উপন্যাসের ভূমিকা।
১৫,২১০.
জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত 'কবর' কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. বিজলী
  2. নবযুগ
  3. পরিচয়
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্‌দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থ থেকে 'কবর' কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। 
- জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কবর
জসীম উদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫,২১১.
'যাযাবর' ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. মণীশ ঘটক
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• খ) বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়-এর ছদ্মনাম হলো - 'যাযাবর'।

অন্যদিকে,
• মণীশ ঘটক - এর ছদ্মনাম ''যুবনাশ্ব''।
• 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।
• আবদুল মান্নান সৈয়দ এর ছদ্মনাম 'অশোক সৈয়দ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২১২.
‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’ ইব্রাহীম খাঁ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

----------------------------
• ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র:

- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইব্রাহীম খাঁ খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।
- তিনি ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন।
- সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি।
- তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন।
- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গেলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন।
- এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।
- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ইবরাহীম খাঁকে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

---------------------
• ইব্রাহীম খাঁ:
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
১৫,২১৩.
রুশ বিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে আবুল হুসেন কোন প্রবন্ধ রচনা করেন?
  1. কৃষকের আর্তনাদ
  2. কৃষকের দুর্দশা
  3. কৃষি বিপ্লবের সূচনা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রুশ বিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে আবুল হুসেন রচনা করেন- কৃষকের আর্তনাদ, কৃষকের দুর্দশা, কৃষি বিপ্লবের সূচনা।
--------------------- 
• আবুল হুসেন: 

- তিনি ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোরের কাউরিয়া গ্রামে। 
- তিনি প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২১৪.
‘আগুনপাখি’ কোন অঞ্চলের মানুষকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে?
  1. কলকাতা
  2. বর্ধমান
  3. ঢাকা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

‘আগুনপাখি’ উপন্যাসে হাসান আজিজুল হক বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন, রাজনীতির প্রভাব এবং সাম্প্রদায়িকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।

◊ ‘আগুনপাখি’:
- হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর ভারত বিভাগের প্রেক্ষাপটে বর্ধমান অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসে বিশেষভাবে একটি গ্রামীণ পরিবারের উত্থান-পতন এবং দেশভাগের সময়কার ভয়াবহ পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে।
- কাহিনীটি মূলত এক সাধারণ গ্রাম্য গৃহিণীর দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মন্বন্তর এবং মানুষের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার সংঘাত সুস্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে।
- এর মাধ্যমে হাসান আজিজুল হক সাধারণ মানুষের সংগ্রামী জীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত আশা ও দুঃখকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে বর্ধমান জেলয় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন;
- যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক।
- তিনি ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ;
- নামহীন গোত্রহীন;
- পাতালে হাসপাতালে;
- জীবন ঘষে আগুন;
- আমরা অপেক্ষা করছি;
- রোদে যাবো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- বৃত্তায়ন;
- সাবিত্রী উপাখ্যান;
- আগুনপাখি;
- শিউলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধসমূহ:
- অপ্রকাশের ভার;
- কথা লেখা কথা;
- কথাসাহিত্যের কথকতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

১৫,২১৫.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'টুনি মেম' একটি -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্পগ্রন্থ
  4. রম্য-রচনা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২১৬.
মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় যে ধরনের সাহিত্যকর্ম-
  1. প্রবন্ধ
  2. প্রহসন
  3. ছোটোগল্প
  4. আত্মজীবনীমূলক রচনা
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক সাহিত্যকর্ম নয়- ছোটোগল্প। 

------------------------
•  মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মীর মশাররফ হোসেন আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রকাশিত পঁচিশটি গ্রন্থের মধ্যে সপ্তম গ্রন্থ 'সংগীত লহরী- ১ম খণ্ড'। গ্রন্থটি তাঁর রসনন্দিত অনুভবের যত্নময় প্রকাশনা যেন! প্রাঞ্জল, মাধুরীমণ্ডিত এ গ্রন্থের সকল গান। কিন্তু, এগুলোর সুরারোপিত গীত-অবয়ব কালের গর্ভে নিঃশেষিত আজ!
- উদার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘গোকুল নির্মূল আশঙ্কা’ প্রবন্ধ লিখে তিনি স্বসমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• গানের সংকলন:
- 'সংগীত লহরী- ১ম খণ্ড'। 

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১৫,২১৭.
'যাত্রা' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

-------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।

১৫,২১৮.
'বন্দর থেকে বন্দরে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শরৎচন্দ্র
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
বন্দর থেকে বন্দরে সানাউল হক রচিত রম্যরচনা। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- পদ্মিনী শঙ্খিনী, প্রবাসে যখন, বিরাশির কবিতা, উত্তীর্ণ পঞ্চাশ, নদী ও মানুষের কবিতা, সম্ভবা অনন্যা, সূর্য অন্যতর, বিচূর্ণ আর্শিতে, একটি ইচ্ছা সহস্র পালে, কাল সমকাল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২১৯.
আহসান হাবীব কোন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন?
  1. কোহিনূর
  2. ইত্তেফাক
  3. দৈনিক বাংলা
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব 'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

• আহসান হাবিব: 
- ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

অন্যদিকে,
- কোহিনূর পত্রিকার সম্পাদক -  মো: ইয়াকুব আলি  চৌধুরী।
- ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক - তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া।
- কবিতা পত্রিকার সম্পাদক - বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৫,২২০.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র কোনটি?
  1. ক) করমালী
  2. খ) কিশোর
  3. গ) সুবল
  4. ঘ) অনন্ত
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম- 'কিশোর'

তিতাস একটি নদীর নাম
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২২১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাসগ্রন্থটির রচয়িতা কে?  
  1. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. মানোয়েল দা আসুম্পসাঁও
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাসগ্রন্থ- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'। 
- এই ইতিহাসগ্রন্থটির রচয়িতা- দীনেশচন্দ্র সেন। 
--------------------------- 
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার সুয়াপুর গ্রামে।
- কিশোর বয়স থেকেই দীনেশচন্দ্র সাহিত্যপ্রেমী ছিলেন।
- ১৮৯৬ সালে পুথিসংগ্রহ ও পুথিপাঠের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনে নতুন পর্বের সূচনা ঘটে।

- ১৯১১ সালে তাঁর রচিত 'History of Bengali Language and Literature' প্রকাশিত হয়। 
- 'History of Bengali Language and Literature' গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি পাশ্চাত্যের গবেষক ও সাহিত্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান।
- ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ’  লাভ করেন।
- ফেলোশিপ লাভের পর তিনি মৈমনসিংহ-গীতিসহ পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (চার খণ্ড, ১৯২৩-১৯৩২) সম্পাদনা করেন। 
- এছাড়া তিনি এর ইংরেজি অনুবাদ Eastern Bengal Ballads (চার খণ্ড, ১৯২৩-১৯৩২) ও সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২১ সালে ভারত সরকার তাকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি প্রদান করে। 
-------------------------- 
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থ নিয়ে কিছু কথা-
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের প্রথম যথার্থ ইতিহাসগ্রন্থ।
- এটি রচনা করেছেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- ১৮৯৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সঙ্গে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে। 
------------------------
অন্যদিকে,

• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড- 
- বাংলা ভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ গ্রন্থ হলো ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড-এর লেখা 'A Grammar of the Bengali Language'। 
- এটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ। 
- এর প্রকাশনার জন্য হ্যালহেড ভারতে প্রথম বাংলা মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। 

• মানোয়েল দা আসুম্পসাঁও-
-  ১৭৪৩ সালে মানোয়েল দা আসুম্পসাঁও পর্তুগিজ ভাষায় একটি ব্যাকরণ প্রকাশ করেছিলেন;
- তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না, বরং একটি অভিধানের অংশ ছিল।

• রাজা রামমোহন রায়-
- রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' নামে একটি বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশ করেন;
- যা ছিল তার লেখা ইংরেজি ব্যাকরণের বাংলা অনুবাদ এবং
- এটিই ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

১৫,২২২.
কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ____ তারিখে।
  1. ক) ১২ ভাদ্র
  2. খ) ২৯ আগস্ট
  3. গ) ২৫ মে
  4. ঘ) ১১ জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
২৪ মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ,১৩০৬ বঙ্গাব্দ) কাজী নজরুল ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,২২৩.
আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
  2. স্বপ্নশিলা
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২২৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথের লেখা -
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) বেলা-অবেলা
  3. গ) নবনী
  4. ঘ) সেঁজুতি
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সেঁজুতি,
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- শেষলেখা,
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল,
- কবি-কাহিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১৫,২২৫.
ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক বাংলা নাটক কোনটি?
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) লিপিমালা
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) কীর্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
ভদ্রার্জুন
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
-  ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,২২৬.
কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশিত হয়েছিল কত সালে?
  1. ক) ১৮৬৩ সালে
  2. খ) ১৮৮৫ সালে
  3. গ) ১৮৭৭ সালে
  4. ঘ) ১৮৭২ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে কুমারখালি বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]



 
১৫,২২৭.
'দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিজোরিও একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। তিনি ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস পড়াতেন এবং তাঁর পাঠদানের পদ্ধতি ছিল তাঁর ধ্যান-ধারণার মতোই গতানুগতিকতামুক্ত।

হেনরি লুই ভিভিয়ানের সহায়তায় ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে হিন্দু কলেজের ছাত্রদের নিজস্ব একটি সাহিত্য ও বিতর্ক সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ সংঘ শ্রেণীকক্ষের বাধানিষেধের বাইরে ডিরোজিও-এর পরিচালনায় তরুণদের মনোযোগ আকর্ষণকারী বিভিন্ন বিষয়ে স্বাধীনভাবে আলোচনা করার একটি সাধারণ মিলনস্থানের সংস্থান করে।

ডিরোজিওর শিক্ষা ছাত্রদের মধ্যে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয় এবং তারা বিদ্যমান অবস্থা সম্পর্কে সন্দেহ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে। ডেভিড হিউম ও জেরেমি বেনথামের যুক্তিবাদী দর্শন ও টমাস পেইনের মতো প্রগতিবাদী চিন্তাবিদদের প্রভাবে তারা সবকিছুই যুক্তির মাপকাঠিতে বিচার করতে শুরু করে। ধর্মের প্রতি তাদের মনোভাব ছিল ভল্টেয়ারের মতো। 

রাধাকান্ত দেব এর (১৭৮৪-১৮৬৭) নেতৃত্বে রক্ষণশীল হিন্দুদের কর্তৃত্ত্বাধীন হিন্দু কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের নজরে আনা হয়। ১৮৩১ সালের এপ্রিল মাসে ডিরোজিওকে হিন্দু কলেজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। 

ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ‘ ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান’ নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,২২৮.
‘কোকিলারা’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সাইদ আহমদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮): একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত ''কোকিলারা'' একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- প্রথম কোকিলা, দ্বিতীয় কোকিলা, তৃতীয় কোকিলা - ইত্যাদি নামে নাটকের চরিত্রগুলো চিত্রিত করা হয়েছে।
তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলোঃ
- শপথ (১৯৬৪),
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫),
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭),
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪),
- কোকিলারা (১৯৯০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাঃ ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২২৯.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচিত গল্প কোনটি?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. বনমানুষ
  3. জাল
  4. জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'বনমানুষ' গল্প:
- ভারত বিভাগের আগে ১৯৪৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল, এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে 'বনমানুষ' গল্পটি লিখিত। গল্পটি লেখকের 'হারেম' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• গল্পের মূলভাব:
এ গল্পের লেখক বনবিভাগে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন। তিনি দ্বিগুণ বেতনে কলকাতায় চাকরি করতে আসেন। কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর নিজেকে সভ্য মানুষ মনে হতে থাকে। কিন্তু তিনি তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির মুখোমুখি হতে থাকেন। তিনি দেখেন এ শহরের মানুষেরা ধর্মের নামে পরস্পরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। বনের পশুপাখিরাও এ রকম পরস্পরকে হত্যা করে না। তখন লেখক আবার বনবিভাগের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেখকের কাছে এ শহরের সভ্য মানুষের চেয়ে বনে বসবাসকারী অশিক্ষিত মূর্খ মানুষকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়। 'বনমানুষ' গল্পটি সংকীর্ণ ধর্ম-পরিচয়মুক্ত মানবিক বোধসম্পন্ন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করে; কারণ ধর্ম নিয়ে মানুষে সংঘাত মানুষ পরিচয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কেননা জীব হিসেবে মানুষ অন্য সব প্রাণীর তুলনায় জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতায় শ্রেষ্ঠ।

অন্যদিকে, 
• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫)।
• আবু ইসহাকের তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
• আবু ইসহাক রচিত একমাত্র নাটক 'জয়ধ্বনি'।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি সাহিত্য পাঠ এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৫,২৩০.
ধানসিঁড়ি কিসের নাম?
  1. ধানের
  2. গ্রামের
  3. শহরের
  4. নদীর
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণ-

আবার আসিব ফিরে
– জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়।
----------------
ঝালকাঠি শহরের অদূরে ধানসিঁড়ি নদীর অপার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় বারবার উল্লেখ করেছেন এর নাম। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ঝালকাঠির মোল্লাবাড়ি, বারৈবাড়ি এবং রাজাপুরের হাইলকাঠি, ইন্দ্রপাশা ও বাঁশতলা—এই গ্রামগুলোর বুকচিরে বয়ে চলা ধানসিঁড়ি এসে রাজাপুরের জলাঙ্গী (জাঙ্গালিয়া নদী) মোহনায় মিশেছে।

উৎস: রূপসী বাংলা' কাব্য ও 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১৫,২৩১.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আব্দুল গাফফর চৌধুরি
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত প্রথম বইয়ের নাম এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম- আবিষ্কারের নেশায়, বিজ্ঞান ও মানুষ, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি, বিজ্ঞানের বিস্ময়, শিক্ষা ও বিজ্ঞান: নতুন দিগন্ত, মহাকাশে কী ঘটছে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৩২.
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' শহীদুল জহির রচিত কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক বিষয়ক প্রবন্ধ
  3. সমাজ সমস্যামূলক গবেষণা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি তাঁর রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৮৫ সালে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাসিন্দা যুবক আব্দুল মজিদ রায়সাহেব বাজারে যাওয়ার পথে কারকুন বাড়ি লেন থেকে বের হয়ে নবাবপুর রোডে উঠলে তার ডান পায়ের স্পঞ্জের স্যান্ডেলের ফিতে ফট্ করে ছিঁড়ে যায়। এভাবে এই কাহিনির শুরু। ৬২ পৃষ্ঠা পরে কাহিনির শেষে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ দৈনিক ইত্তেফাকে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে তার বাড়িটি বিক্রি করে লক্ষ্মী লক্ষ্মীবাজার থেকে বসত উঠিয়ে চলে যায়, ফলে তার অস্তিত্বই যেন মুছে যায়।
কিন্তু শহীদুল জহির এইটুকু পরিসরে ফুটিয়ে তুলেছেন একাত্তরের নয় মাসে ঢাকা শহরের একটি মহল্লার সমগ্র জীবন। তখন কী ঘটেছিল, তারপর দেশ স্বাধীন হওয়ার দেড় দশক না পেরোতেই আব্দুল মজিদকে কেন তার বসতবাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যেতে হলো, এই নিদারুণ প্রশ্নের মধ্যে নিহিত রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নিষ্করুণ বাস্তবতা।

উৎস: 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস।
১৫,২৩৩.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,২৩৪.
''চন্ডীমঙ্গল'' কাব্যের চরিত্র-
  1. ক) সনকা
  2. খ) মুরারি শীল
  3. গ) লখিন্দর
  4. ঘ) মনসা
ব্যাখ্যা

-সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
-মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
-মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
-মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলোঃ
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

চন্ডীমঙ্গলও মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা।
চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহঃ
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ভাড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,২৩৫.
অক্ষয়কুমার অবসর নিলে 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক হন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৩৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকাটিতে অভিনন্দন বাণী দিয়েছিলেন?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ধুমকেতু
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
'ধুমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে। 
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধুমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধুমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- পত্রিকাটির 'দেওয়ালী সংখ্যায়' ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর তুরস্কনীতি ও রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক নমনীয়তার কঠোর সমালোচনা করা হয়।


[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
১৫,২৩৭.
'শিখা' পত্রিকার পঞ্চমতম সংখ্যা সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল ফজল
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। এরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য। নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল বুদ্ধির মুক্তি। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।

• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন। শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হত। শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৩৮.
‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন -
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. কায়কোবাদ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ‘কুরুক্ষেত্র’ কাব্য রচনা করেন - নবীনচন্দ্র সেন

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস,
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৩৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেয়াল
  2. জীবন
  3. সংকর সংকীর্তন
  4. পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে 'সংকর সংকীর্তন' উপন্যাসটি অন্তর্ভুক্ত।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৪০.
'শান্তিপুরের কবি’ - নামে খ্যাত কবি কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কায়কোবাদ
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান 
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,২৪১.
'একটি ফটোগ্রাফ' কবিতার লেখক কে ?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. আল-মাহমুদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
‘এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,
পাথরের টুকরোর মতন
ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে
বছর - তিনেক আগে কাক - ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে’। ___ পঙক্তিগুলো শামসুর রাহমানের 'একটি ফটোগ্রাফ' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী কোনটি?
  1. জীবনকথা
  2. আত্মস্মৃতি
  3. আমার ছেলেবেলা
  4. জীবনস্মৃতি
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত আত্মজীবনী হলো:
• জীবনস্মৃতি, (এতে রবীন্দ্রনাথের ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।)

• 'জীবনস্মৃতি':
- 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এখানে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল থেকে পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত কালের কাহিনি ও ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।
- আত্মজীবনী রচনার প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এ গ্রন্থে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন।

উল্লেখ্য,
- আমার ছেলেবেলা- হুমায়ুন আহমেদ এর আত্মজীবনী এবং অন্যান্য অনেক লেখক ই 'আমার ছেলেবেলা' নামে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- জীবন কথা জসীম উদ্‌দীন রচিত গ্রন্থ।
- আত্মস্মৃতি আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৪৩.
'স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের সংসার পরিপূর্ণ।' - এই উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের সংসার পরিপূর্ণ।' - এই উক্তিটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর
- এটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের উক্তি।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে ১৯০৩ সালে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- ১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; সংস্কৃতি কথা, মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
১৫,২৪৪.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শামুসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা'  উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'। 

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৪৫.
"মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে। " - উক্তিটি কার?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী মোতাহার হোসেন 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেনের 'আমাদের শিক্ষা 'প্রবন্ধ থেকে - 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

-----------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,২৪৬.
'রত্নপরীক্ষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাধানাথ শিকদার
ব্যাখ্যা
'রত্নপরীক্ষা':
- 'রত্নপরীক্ষা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচিত রচনাগুলোর মধ্যে একটি। এটি বেনামি লেখা ঈশ্বরচন্দ্রের পঞ্চম রচনা।
- তিনি 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য' ছদ্মনামে গ্রন্তটি রচনা করে।
- এতে ভাষা নির্মাণে বিদ্যাসাগর সাধুরীতিকে কথ্যরীতিতে নিয়ে এসেছেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার ‘সংস্কৃত কলেজ’ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৪৭.
'ডানপিটে শওকত' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৪৮.
’মৃত্তিকা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ‘মৃত্তিকা’ গল্পগ্রন্থ লিখেছেন- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

•  প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে। 
- ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা মাসিক 'কালিকলম' সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৪৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছিন্নপত্র' তে অধিকাংশ চিঠি কাকে উদ্দেশ্য করা লেখা?
  1. শ্রীশচন্দ্র মজুমদার
  2. ইন্দিরা দেবী
  3. কাদম্বরী দেবী
  4. মৃণালিনী দেবী
ব্যাখ্যা
• ছিন্নপত্র:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে।
- ১৫৩টি পত্র আছে।
- প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে লেখা।
- পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা৷
- উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৫০.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর
- কমলের চোখ
- সাত নরী হার
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৫১.
কোনটি জসীমউদদীনের আত্মকথা?
  1. রাখালী
  2. মাটির কান্না
  3. স্মৃতিপট
  4. বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি। তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পুরো নাম- মোঃ জসীমউদ্দীন মোল্লা।
• 'রাখালী' (১৯২৭) তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত আত্মকথাঃ
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায় ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।
• 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,২৫২.
‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।
 
------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা, সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  
 
• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৫৩.
‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ হুমায়ুন আজাদ রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ হচ্ছে হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে।
- এই উপন্যাসের প্রকাশের মাধ্যমে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে এই কাহিনীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল, বিক্রমপুরের রাড়িখালে।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘জ্বলো চিতাবাঘ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে।

উপন্যাসসমূহ:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত),
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন, ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৫,২৫৪.
“বাঙালিরা জেগে উঠেছে, তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ:
- ‘লাইব্রেরি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ। এটি তাঁর বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন।
- লাইব্রেরির মহত্ত্বের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন- জগতের উদ্দেশ্যে কি আমাদেরও কিছু বলার নেই? আমরা কি কেবল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ করে বেড়াবো।
- লেখক শেষে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন- ‘বাঙালিরা জেগে উঠেছে। তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে।’

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক সমূহ:
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ, 
- চণ্ডালিকা। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ।
১৫,২৫৫.
‘খাঁটি সোনা’ কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত বিখ্যাত দুটি কবিতা হলো ‘খাঁটি সোনা’ এবং ‘মেথর’।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
১৫,২৫৬.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সাজাহান
  2. নূরজাহান
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. সিংহলবিজয় 
ব্যাখ্যা

• 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটির ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম প্রথম নাটক রচনা করেন।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৫৭.
'পরিচয়' পত্রিকা বাংলা সাহিত্যের কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. ব্রাহ্ম আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৫,২৫৮.
'প্রিয়দর্শী' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন কোন সাহিত্যিক ?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। এগুলো হলো প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্বচিৎপ্রৌঢ়, সতীনাথ ভাদুড়ী চিত্রগুপ্ত এবং চারুচন্দ্র চক্রবর্তী জরাসন্ধ ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১৫,২৫৯.
'স্মৃতির নোটবুক' কোন সাহিত্যিকের স্মৃতিকথা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আব্দুল কাদির
  3. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন,

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৬০.
কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

-------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• নাটক:
- নরকে লাল গোলাপ, 
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৬১.
মুনীর চৌধুরী'র পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. নোয়াখালী
  3. কুমিল্লা
  4. লক্ষীপুর
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৬২.
সুফিয়া খাতুন রচিত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) প্রবাসের প্রাপ্তি
  2. খ) পথে প্রান্তরে
  3. গ) সােনা ঝরা দিন
  4. ঘ) জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ পুরস্কার প্রাপ্ত ভ্রমণকাহিণি ‘প্রবাসের প্রাপ্তি’ এর রচয়িতা সুফিয়া খাতুন

সুফিয়া খাতুন:
সুফিয়া খাতুন জন্ম মে ১৯২২ সালে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে। এই বিদুষী সংগ্রামী নারী সারাজীবন সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করেছেন।
- তারই প্রকাশ ঘটেছে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে' (২০০৫)-এ।
- শিশুদের জন্য রচনা করেছেন ‘সােনা ঝরা দিন’ (২০০৬)।
- দীর্ঘ তিন যুগ ধরে তাঁর পরিচিত পরিবেশ এবং নিকটজনদের নিয়ে কিছু সরস ও সহজবােধ্য কবিতা রচনা করেছেন। সেগুলাে মলাট বন্দি করেছেন ‘আপন ভুবন’ নামক কাব্যগ্রন্থে।
- জীবনের মনোরম দিনগুলি কাটিয়েছে প্রবাসী সন্তানদের সঙ্গে ইউকে ও ইউএসএ-তে।
- তারই দিনলিপির খসড়া প্রণয়ন ‘প্রবাসের প্রাপ্তি’।
- গ্রন্থটি ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। 
- ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ তিনি  মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে', সুফিয়া খাতুন এবং ।
১৫,২৬৩.
বাংলা সাহিত্যে দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ১৫০ বছর
  2. ১০০ বছর
  3. ৭০ বছর
  4. ৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য তৈরি হয়নি, যা হয়েছে তাতে রুচির দিকে থেকে মানের দিক থেকে নিম্নগামী। তাই এই ৭০ বছরকে দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ বলা হয়।

-------------------
• যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং লাল নীল দীপাবলি।
১৫,২৬৪.
'গাজী মিয়াঁ' কার ছদ্মনাম? 
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,২৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের কোন গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন?
  1. দাদামশায়ের থলে
  2. খোকাবাবুর খেলা
  3. ঠাকুরমার ঝুলি
  4. কিশোরদের মন
ব্যাখ্যা
"ঠাকুরমার ঝুলি":
• "ঠাকুরমার ঝুলি" বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন। এই গ্রন্থের সংকলক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।

• জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

•  প্রথম গ্রন্থে বালকদের উপযোগী রূপকথা, দ্বিতীয় গ্রন্থে নারীদের ব্রতকথা, তৃতীয় গ্রন্থে মালঞ্চমালা, পুষ্পমালা প্রভৃতি গীতিকথা এবং চতুর্থ গ্রন্থে বৈঠকি গল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থসমূহ পূর্ববঙ্গের পল্লী এলাকার কথাসাহিত্যকে বাংলা সাহিত্যে এক স্থায়ী আসন দান করেছে।

-----------------
দক্ষিণারঞ্জনের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- ঠানদিদির থলে,
- দাদামশায়ের থলে ইত্যাদি।  

তাঁর শিশুবিষয়ক গ্রন্থ:
- খোকাবাবুর খেলা,
- আমাল বই,
- কিশোরদের মন,
- চারু ও হারু,
- ফার্স্ট বয়,
- লাস্ট বয়,
- উৎপল ও রবি,
- বাংলার সোনার ছেলে,
- সবুজ লেখা,
- আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী প্রভৃতি তাঁর শিশুবিষয়ক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের আসল পদবি কী ছিল?
  1. ব্যানার্জী
  2. কুশারী
  3. শাস্ত্রী
  4. ঘোষ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- ঠাকুর পরিবারের আসল পদবি ছিলো কুশারী।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৬৭.
প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনা পত্রিকা কোনটি?
  1. স্বদেশ পত্রিকা
  2. মাসিক পত্রিকা
  3. ভারতী পত্রিকা
  4. কালিকলম পত্রিকা
ব্যাখ্যা
মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম'।
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'স্বদেশ'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,২৬৮.
‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’- ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাঙাল হরিনাথ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত।
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ গ্রন্থ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
 
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
 
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''
 
-----------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ২৫শে মে, ১৮৩৫ সালে কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 
 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৬৯.
'বাসমতীর উপাখ্যান‘ জীবনানন্দ দাশ রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'বাসমতীর উপাখ্যান':
- 'বাসমতীর উপাখ্যান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে চলেছে- অধ্যাপক প্রভাস সেনের ছেলে ও মেয়ের বাড়ি না ফেরার এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাম দপ্তরী ও কুড়ুনি এর।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
এই আখ্যানের শেষ দিকে এক মারাত্মক ঝড়জলের রাতে সন্ধের পরেও প্রভাস সেনের ছেলে দপ্তরী ও মেয়ে কুড়ুনি বাড়ি না ফেরাতে এক ভয়ঙ্কর সমবেত উদ্বেগের পরিস্থিতি আঁকা হয়। অথচ উপন্যাস শেষ হয়ে গেলেও কোথাও পাওয়া গেল না, দপ্তরী ও কুড়ুনি ফিরল কি ফিরল না! এমনই আনমনা, অপ্রত্যাশিত জীবনানন্দের এই কুহেলি-ভুবন।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- প্রভাস সেন,
- দপ্তরী,
- কুড়ুনি।

-------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পাণ্ডুলিপিতে।
- তাঁর রচিত গল্পের সংখ্যা প্রায় দুশতাধিক।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বাসমতীর উপাখ্যান' উপন্যাস।
১৫,২৭০.
'একাত্তরের যীশু' কে লিখেছেন?
  1. ক) শাহরিয়ার কবির
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহীম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
‘একাত্তরের ডায়েরি’ স্মৃতিকথাটির রচয়িতা সুফিয়া কামাল। অন্যদিকে জাহানারা ইমাম এর রচনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ এবং শাহরিয়ার কবির এর রচনা ‘একাত্তরের যীশু’। সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৭১.
রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা কোনটি?
  1. প্রকৃতির খেদ
  2. অভিলাষ
  3. বনফুল
  4. কবি-কাহিনী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর কবিতা:
রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

• তাঁর দ্বিতীয় মুদ্রিত কবিতা ‘প্রকৃতির খেদ’ (১৮৭৫)। এ দুটি কবিতা তিনি পড়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির বিদ্বজ্জন সভায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের গোড়ার দিকে ঠাকুরবাড়ির মনীষীরা বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক, সংবাদপত্র-সম্পাদকসহ বিদগ্ধজনদের আহবান করে ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ নামে এক সাহিত্য সম্মিলনীর আয়োজন করেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন সম্মিলনীর উদ্যোক্তা।

• জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর 'বনফুল' এবং ভারতী পত্রিকায় 'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮) কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। ভারতী পত্রিকা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত হতো।

• জ্ঞানাঙ্কুর সাহিত্যপত্রে সেকালের বিখ্যাত লেখকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছিলেন। এর অন্যতম কারণ হিন্দুমেলায় পঠিত তাঁর কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৭২.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কে রচনা করেন?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৭৩.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ?
  1. ক) ব্রজবিলাস
  2. খ) বেতালপঞ্চবিংশতি
  3. গ) সীতার বনবাস
  4. ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

• 'ব্রজবিলাস' (১৮৮৫) 'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত।
- নবদ্বীপের ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের বিধবাবিবাহ বিরোধী সংস্কৃ্ত বক্তৃতাবলির উত্তর।
-----------------------

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  (১৮২০-১৮৯১):
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
- ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী মূলক, বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনা 'আত্মচরিত'

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে),
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ),
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং বাংলাপিডিয়া ।
১৫,২৭৪.
'মজলুম আদিব' কার ছদ্মনাম?
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত। শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১৫,২৭৫.
কাজী নজরুল ইসলাম তার 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র বসু
  3. মধুসূদন দত্ত
  4. বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ)।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ্‌ 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,২৭৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৮০
  2. খ) ১৯৮১
  3. গ) ১৯৮২
  4. ঘ) ১৯৯৭
  5. ঙ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ চিলেকোঠার সেপাই, খোয়াবনামা এবং ছোটগল্পঃ অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজকের ওম।উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৭৭.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত অনুবাদ কাব্য?
  1. ক) হাওয়া বদল
  2. খ) সাহিত্য চর্চা 
  3. গ) সানন্দা
  4. ঘ) কালিদাসের মেঘদূত
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু। 

গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি। 

 প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি 
- কালের পুতুল 
- সাহিত্য চর্চা 

উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অনুবাদ কাব্য
- কালিদাসের মেঘদূত,
- বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা,
- রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা ইত্যাদি।
- হেন্ডালিনের কবিতা।

নাটক: 
- মায়ামালঞ্চ 
- তপস্বী তরঙ্গিণী 
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৭৮.
‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. প্রগতি
  2. বিচিত্রা
  3. স্বদেশ
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• পদ্মানদীর মাঝি:
•  'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬):
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৭৯.
'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয় কাকে?
  1. ঈম্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৮০.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. মানসিংহ
  2. ভবানন্দ
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৮১.
ইসলামী রেনসাঁর কবি বলা হয় কাকে?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. ফররুখ আহমদ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাকে বাংলাদেশের মুসলিম রেঁনেসার কবি বলা হয়।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগে ব্যাপক নৈপুণ্য দেখিয়েছেন।
- তিনি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা 
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী  
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৮২.
তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে শওকত ওসমানের কোন উপন্যাসে?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  3. জলাঙ্গী
  4. নেকড়ে অরণ্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
অন্যদিকে,
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,২৮৩.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৪ সালে
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- 'বিদ্রোহী' কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৮৪.
উইলিয়াম টডের 'Annals of Rajasthan' থেকে কাহিনীর অংশ নিয়ে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. পদ্মিনী উপাখ্যান
  3. নীতিকুসুমাঞ্জলি
  4. কনকাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর বিখ্যাত উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।
সেটি হচ্ছে - 
স্বাধীনতাহীনতায়     কে বাঁচিতে চায় হে,
             কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল       কে পরিবে পায় হে,
           কে পরিবে পায়?

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮২৭-১৮৮৭):
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।
- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ। তিনি ভেক-মুষিকের যুদ্ধ নামে হোমারের কাব্যেরও অনুবাদ করেন।
- তাঁর কলিকাতা কল্পলতা  গ্রন্থকে কলকাতা সম্পর্কে প্রথম ইতিহাসমূলক রচনা বলে মনে করা হয়। এতে কলকাতার ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
- তিনি মুকুন্দরামের কবিকঙ্কণ চন্ডী সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন (১৮৮২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৮৫.
'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) নির্মুলেন্দু গুণ
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কবিতাটি রচিত অক্ষরবৃত্ত ছন্দে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৮৬.
ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার ভাববস্তু ছিলো না ----
  1. ক) দেশাত্মবোধ
  2. খ) শক্তির সাধনা
  3. গ) প্রকৃতি প্রেম
  4. ঘ) মানবতার বন্দনা
ব্যাখ্যা
ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার ভাববস্তু ছিলো- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা ও মানবতার বন্দনা। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৮৭.
‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটির রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর - মাসিক “সমকাল” পত্রিকা সম্পাদনা করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার রচিত বিখ্যাত গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,২৮৮.
"নবীন মাধব" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. নীল-দর্পণ
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• নীল-দর্পণ: 
- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
-  নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে  Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোলক বসু, 
- নবীন মাধব,  
- রাইচরণ, 
- তোরাপ,
- সাবিত্রী।

অন্যদিকে,
• 'আলালের ঘরের দুলাল' এর চরিত্র- মোকাজান মিঞা, মতিলাল।
• 'চাঁদের অমাবস্যা' এর চরিত্র- আরেফ আলী, দাদা সাহেব।
• 'কপালকুণ্ডলা' এর চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৮৯.
'পাঁচালিকার' হিসাবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়।

দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।

-------------------
• পাঁচালি:
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা।
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ দাশরথি রায়।
- ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৯০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' ছোটগল্পের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. গ্রামীণ দারিদ্র্য
  3. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷ ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
- “রেইনকোট” গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৯১.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা?
  1. ক) নদীবক্ষে
  2. খ) মুক্তি
  3. গ) শাশ্বতবঙ্গ
  4. ঘ) নির্মাল্য
ব্যাখ্যা
মুক্তি কাজী নজরুল ইসলামের প্রকাশিত প্রথম কবিতা। নদীবক্ষে কাজী আব্দুল ওদুদ রচিত উপন্যাস এবং শাশ্বতবঙ্গ তাঁর প্রবন্ধের সংকলন। আর নির্মাল্য কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৯২.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা -
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা - গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
-   তাকে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়। 
- তিনি ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস ১৯১৮ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।


• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসুন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম, 
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য), 
- কস্তুরী, 
- চন্দন, 
- ফুলরেণু (সনেট), 
- বৈজয়ন্তী, 
- শোক ও সান্ত্বনা, 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৯৩.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জয়গুন
  2. খ) সূর্যমুখী
  3. গ) মৃন্ময়ী
  4. ঘ) সাবিত্রী
ব্যাখ্যা
• সূর্য-দীঘল বাড়ী: 
- 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থটি।  

- উপন্যাসের চরিত্র:
→ জয়গুন,
→ হাসু, 
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→ ডা. রামেশ,
→ মোড়ল গদু প্রমুখ 

অন্যদিকে: 
- সূর্যমুখী চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের চরিত্র। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র- 'মৃন্ময়ী'।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের চরিত্র- সাবিত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৯৪.
‘চোর জামাই’ শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৯৫.
শামসুজ্জামান খান কোন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ছিলেন?
  1. ক) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী
  2. খ) জাতীয় জাদুঘর
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য- 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ'। রম্যরচনা- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প। প্রবন্ধগ্রন্থ- নানা প্রসঙ্গ, গণসঙ্গতি, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, ফোকলোরচর্চা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,২৯৬.
নিচের কোনটি আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) আশায় বসতি
  2. খ) ছায়াহরিণ
  3. গ) সারা দুপুর
  4. ঘ) রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭), তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্য নীলিমা ও রানী খালের সাঁকো আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,২৯৭.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ডা. লুৎফর রহমান
  4. নুরজাহান বেগম
ব্যাখ্যা
• বেণের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক।
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,২৯৮.
’কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বেগম মাহবুবা
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জানাহারা ইমাম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• ’কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
- পঙ্‌ক্তিটি ’তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অন্তর্গত।

• তাহারেই পড়ে মনে:

- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। 
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়। 
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 
- সৈনিক বধূ।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,২৯৯.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. ক) মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন
  2. খ) ছাত্রদের যেকোনো অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিতেন।
  3. গ) সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা তার উপদেশ ছিল
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই সত্য
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় কবি, যুক্তিবাদী চিন্তাশীল ও শিক্ষক। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন। তাঁর ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'। ডিরোজিও-র প্রিয় ছিলেন হিন্দু কলেজের একদল বুদ্ধিদীপ্ত ছাত্র। এরাই হচ্ছে ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য। এদের মধ্যে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দক্ষিণরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৩০০.
পথের দাবী উপন্যাসের পটভূমি কি?
  1. মানবিক সম্পর্কের জটিলতা
  2. প্রেম কাহিনী
  3. নারীর অধিকার
  4. ব্রহ্মদেশে বিপ্লবী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পথের দাবী উপন্যাস ১৯২৬ প্রকাশিত হয় ।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যার পটভূমি ব্রহ্মদেশ ।
- এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ।
- এই উপন্যাসে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন দেয়া হয়েছে ।
- এজন্য গ্রন্থটি প্রকাশের সাথে সাথে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয় ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সারা জাগানো উপন্যাস গুলোর মধ্যে আছে:
- পরিণীতা
- বিরাজ বৌ
- পন্ডিত মশাই
- দেবদাস
- চরিত্রহীন
- গৃহদাহ
- দত্তা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।