বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫১ / ১৭৪ · ১৫,০০১১৫,১০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,০০১.
একুশের প্রথম কবিতা কোন শিরোনামে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না
  3. গ) একুশে
  4. ঘ) কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা
- কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক  মাহবুব উল আলম চৌধুরী (১৯২৭-২০০৭) ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
-----------------
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক হলো - মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর'৷
- প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন (জহির রায়হান)৷
- প্রথম চলচ্চিত্র - জীবন থেকে নেয়া (জহির রায়হান)৷
------------------
- মাহবুব উল আলমের কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ ঢাকার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর তাঁর ৮০তম জন্মদিন পালন করে।
- এ উপলক্ষে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সম্পাদনায় ‘মাহবুব উল আলম চৌধুরীঃ এক অবিম্মরণীয় কবিতার জনক’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাঁকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,০০২.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের মূল চরিত্র-
  1. মধুদূদন, কুমোদিনী
  2. মহেন্দ্র, বিনোদিনী
  3. নিখিলেশ, বিমলা
  4. অমিত, লাবণ্য
ব্যাখ্যা
ঘরে-বাইরে উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

অন্যদিকে,
- মধুদূদন, কুমোদিনী -যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।
- মহেন্দ্র, বিনোদিনী - চোখেরবালি  উপন্যাসের চরিত্র।
- অমিত, লাবণ্য - শেষের কবিতা  উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০০৩.
কোন কবিতা প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম গ্রেফতার হন?
  1. ক) আনন্দময়ীর আগমনে
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) আগমনী
  4. ঘ) ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ২৩ নভেম্বর, ১৯২২ গ্রেফতার হন।
এই কবিতার প্রথম দুই লাইন -
'আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল'৷
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং আনন্দময়ীর আগমনে - কাজী নজরুল ইসলাম৷

১৫,০০৪.
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. সেলিনা হোসেন
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধ:
- শীর্ষক প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল রচনাবলি (জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, প্রথম খণ্ড) থেকে সংকলন করা হয়েছে। - অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে লেখা প্রবন্ধটি সম্পাদনা করে পাঠ্যভুক্ত করা হয়েছে।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের যুগবাণী নামক প্রবন্ধ-গ্রন্থের একটি রচনা।

কাহিনি সংক্ষেপ:
আলোচ্য প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে। একটি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছোটো-বড়ো, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা আবশ্যক। বিশ্বের বুকে মর্যাদাবান জাতি ও রাষ্ট্র গঠন করতে প্রতিটি দেশের মনীষীগণ আমরণ সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁদের নির্দেশিত পথে যদি আমরা পরিভ্রমণ করতে পারি তবে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। প্রবন্ধটিতে জাতি, ধর্ম, সমাজভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। এ প্রবন্ধ শ্রেণি, ধর্ম, জাতি ও সমাজভেদমুক্ত বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫,০০৫.
‘ছন্দসমীক্ষণ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. আবদুল কাদির
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির বাংলা ছন্দ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও সামগ্রিক বিশ্লেষণ করেছেন, যা তাঁর ‘ছন্দসমীক্ষণ’ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।
- এই গ্রন্থে বাংলাছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণ করার প্রয়াস আছে।

----------------------
• আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

প্রবন্ধ:
- লোকায়ত সাহিত্য,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- কবি নজরুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০০৬.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পঞ্চশর
  2. কুয়াশা
  3. বেনামী বন্দর
  4. পুতুল ও প্রতিমা
ব্যাখ্যা

• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত উপন্যাস - 'কুয়াশা'।

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০০৭.
'রায়নন্দিনী' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

•  'রায়নন্দিনী' গ্রন্থের লেখক- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন, আর এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
-  তাঁর লেখা ও বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্ত্ত ছিল বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলা।
- বাগ্মী হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন।
= তাঁর অধিকাংশ লেখাতেই ইসলামী ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারকে উদ্দীপ্ত করে তোলার প্রয়াস ছিল।
- তিনি আধুনিক শিক্ষা ও সত্যিকার ইসলামী শিক্ষার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ 
- আকাঙ্ক্ষা 
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন 
- নব উদ্দীপনা 
- স্পেন বিজয় কাব্য 
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি ইত্যাদি। 
উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী 
- তারাবাঈ 
- ফিরোজা বেগম 
- নুরুদ্দীন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৫,০০৮.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. বহিপীর
  2. কিত্তনখােলা
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. আমলার মামলা
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখােলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

তাছাড়া,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক- বহিপীর । 
-  শওকত ওসমান রচিত নাটক- 'আমলার মামলা'।
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক- সুবচন নির্বাসনে। 

উৎস: বাংলা  ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০০৯.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প 'অতসী মামী' প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিচিত্রা 
  2. পূর্বাশা 
  3. পরিচয় 
  4. স্বদেশ 
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী' বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১৫,০১০.
'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গোরা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল 
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. চোখের বালি 
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের বাংলায় দ্বিতীয় উপন্যাস। এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।

- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।

- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তিগুলো হলো:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস।

১৫,০১১.
মেঘনাদবধ মহাকাব্যের সর্গ সংখ্যা কতটি?
  1. ৬টি
  2. ৯টি
  3. ৭টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে:

- প্রথম সর্গ > অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ > অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ > সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ > অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ > উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ > বধ।
- সপ্তম সর্গ > শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ > প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ > সংস্ক্রিয়া।
---------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,০১২.
'সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়’ কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. শামসুর রাহমান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- “অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুদ্ধ স্বদেশ ভূমি”,
- “এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নব্জাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার” (ছাড়পত্র);
- “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”;
- “সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়” ( দুর্মর);
- “হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে উঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে” ইত্যাদি।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০১৩.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'অতসী মামী' কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. পূর্বাশা
  2. প্রগতি
  3. বিচিত্রা
  4. স্বদেশ
ব্যাখ্যা
• 'অতসী মামী' গল্প:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় "বিচিত্রা” পত্রিকায়।
- ১৯৩৫ সালে অতসী মামী ও অন্যান্য নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- বিশ বছর বয়সের তাঁর প্রথম প্রকাশিত 'অতসী মামী' গল্পের মাধ্যমেই তিনি পাঠক ও সমালোচক সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যান।
- তাঁর যাবতীয় রচনাই তাঁর নিজস্ব সমাজবীক্ষণ ও মানবমনের জটিলতা প্রতিফলিত করে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য গল্প:
- অতসী মামী,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- বৌ,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৫,০১৪.
'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,০১৫.
'তিনপুরুষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সোমেন চন্দ
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
• 'তিনপুরুষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সমর সেন।

সমর সেন:

- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন।
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০১৬.
শামসুর রহমান রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'বন্দি শিবির থেকে' কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

শামসুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- অন্ধকার থেকে আলোয়, 
- হরিণের হাড়, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,০১৭.
'আঁখিজল' কাব্যের রচয়িতা?
  1. ক) কাজী এমদাদুল হক
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উপন্যাস আব্দুল্লাহ। আঁখিজল ও লতিকা তাঁর রচিত কাব্য। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,০১৮.
রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি কোন উপন্যাসটি?
  1. মালঞ্চ
  2. ঘরে-বাইরে
  3. চোখের বালি
  4. করুণা
ব্যাখ্যা
‘করুণা’ উপন্যাস:
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
• রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’।
• মাসিক ‘ভারতী’ পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) ‘করণা’ উপন্যাসটি ছাপা হয়।
• তবে ‘করুণা’ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলি’তে (১৯৬১) ‘করুণা’ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০১৯.
বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,০২০.
‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ ছদ্মনামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ-
  1. বিসর্জন
  2. বৈকুণ্ঠের খাতা
  3. জীবনস্মৃতি
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চভূত' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুররচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- পত্রিকায় প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভূতনাথ বাবু'।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় পত্রিকার কিছু অংশ বর্জিত হওয়ায় এর অন্তরঙ্গতা কমেছে। এই গ্রন্থের 'গদ্য ও পদ্য' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ পদ্যচ্ছন্দের উৎপত্তি বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান এখন সে কথাই বলছে।
- আসলে পঞ্চভূতের 'ডায়েরি'র মধ্যে সহজ সরল ভাষায় মনোহর ভঙ্গিতে অনেক গভীর কথা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০২১.
"পথের দাবী" উপন্যাসটি ধারাবাহিকরূপে প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. পরিচয়
  3. মোসলেম ভারত
  4. বঙ্গবাণী
ব্যাখ্যা
"পথের দাবী" উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০২২.
আবুল হাসান এর সাহিত্যিক নাম কী?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. হোসেন মিয়া
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০২৩.
কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কি?
  1. ক) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ
  2. খ) মীর আল মাহমুদুল হক
  3. গ) মীর আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ
  4. ঘ) আল মাহমুদ আল সাবা
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম ‘মীর আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ’
• আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস
- সোনালী কাবিন
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
-দোয়েল ও দয়িতা
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০২৪.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি’ — উক্তিটি কোথা থেকে নেওয়া?
  1. কবিতার ভাবনা
  2. বনলতা সেন
  3. রূপসী বাংলা
  4. কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,০২৫.
'বসন্তকুমারী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০২৬.
'গেরিলা' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. সামসুদ্দিন আবুল কালাম
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'গেরিলা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি' এবং 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

গেরিলা,
- শামসুর রাহমান

দেখতে কেমন তুমি?কী রকম পোশাক-আশাক
প'রে করো চলাফেরা? মাথায় আছে কি জটাজাল?
পেছনে দেখাতে পারো জ্যোতিশ্চক্র সন্তের মতন?
টুপিতে পালক গুঁজে অথবা জবরজং, ঢোলা
পাজামা কামিজ গায়ে মগডালে এক শিস দাও
পাখির মতোই; কিংবা চা-খানায় বসো ছায়াচ্ছন্ন?

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।  তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,০২৭.
"সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,০২৮.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন''
- কোন কবি রচিত কবিতার অংশ?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বাংলা কাব্যের 'ভোরের পাখি' বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গীতিকবিতা রচনা শিখিয়েছিলেন।
তার রচিত কিছু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেম বাহিনী
- সঙ্গীত শতক
- বঙ্গসুন্দরী
- নিসর্গ সন্দর্শন
- সারদামঙ্গল (শ্রেষ্ঠ কাব্য)

বিহারীলালের কবিতার কয়েকটি চরণ -
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১৫,০২৯.
‘বর্ণপরিচয়’ শিক্ষামূলক গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ‘বর্ণপরিচয়’ শিক্ষামূলক গ্রন্থটির রচয়িতা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যানমঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৩০.
দেনা-পাওনা রবীন্দ্রনাথ রচিত ছোটগল্প হলে শরৎচন্দ্র রচিত-
  1. বড়গল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

দেনা-পাওনা রবীন্দ্রনাথ রচিত ছোটগল্প হলে শরৎচন্দ্র রচিত- উপন্যাস। 
---------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো- অপরাজেয় কথাশিল্পী এবং সাহিত্য সম্রাট।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডিলিট' উপাধি লাভ করেন, যা তাঁর একাডেমিক অর্জনকেও তুলে ধরে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধ উপন্যাস:
- বড়দিদি (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- পথের দাবী (যা রাজনৈতিক কারণে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল),
- দেনা-পাওনা,
- পল্লীসমাজ,
- পরিণীতা,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- শেষের পরিচয়।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৩১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক রচনা নয় কোনটি? 
  1. অতি অল্প হইল
  2. অল্প হইল
  3. ব্রজবিলাস
  4. রত্ন পরীক্ষা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৩২.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থের নাম কী?
  1. কপাল কুন্ডলা
  2. নীলদর্পন
  3. মরুশিখা
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
--------------------
• ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ দুখণ্ড ও নয় সর্গে রচিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য। প্রথম খণ্ড ১৮৬১ সালের জানুয়ারি মাসে এবং দ্বিতীয় খণ্ড একই বছরের আগস্ট মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 

• কপালকুণ্ডলা: বাংলা সাহিত্যের রোমাঞ্চধর্মী ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'৷ এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে। বষ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত কাব্য- মরুশিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,০৩৩.
‘দুরন্ত পথিক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কবিতা
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• ‘দুরন্ত পথিক’ রিক্তের বেদন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি গল্প।

---------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা

• ‘রিক্তের বেদন’ গল্পগ্রন্থ:
• ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম।

• এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- সালেক,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৩৪.
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কী?
  1. হুতোম প্যাঁচা 
  2. বনফুল 
  3. নীললোহিত 
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম হলো টেকচাঁদ ঠাকুর।  

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব হলো 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- প্যারীচাঁদের উদ্যোগে অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের জন্য বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়, যার নাম 'মাসিক পত্রিকা' এবং প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।
- ১৯৭৭ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী। 

অন্য দিকে, 
- হুতোম প্যাঁচা হলো কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম।  
- বনফুল হলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম।  
- নীললোহিত হলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৩৫.
‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসু রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. কবিতাগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কঙ্কাবতী’ কবিতাগ্রন্থ:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৩৬.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৪ সালে 
  2. ১৯৪৪ সালে 
  3. ১৯৪৩ সালে 
  4. ১৯৪৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভকরেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৩৭.
হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন শুরু হয় কোথায়?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- তিনি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ছাত্রজীবনে রচিত নন্দিত নরকে নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব ঘটে।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলো হলো-
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৩৮.
'ইব্রাহিম কার্দি' কোন কাব্যগ্রন্থের চরিত্র?
  1. ক) অনল প্রবাহ
  2. খ) বিষাদ সিন্ধু
  3. গ) মেঘনাধ কাব্য
  4. ঘ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' (১৯০৫) কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি ধারাবাহিকভাবে 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
- এর চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৩৯.
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।" - কে লিখেছেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকুমার রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে।" - জীবনানন্দ দাশের আবার আসিব ফিরে- কবিতা থেকে সংকলিত।

আবার আসিব ফিরে- কবিতা;
- জীবনানন্দ দাশ।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৪০.
কোন যুগে বাংলা সাহিত্যে মানবতাই একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. বৈষ্ণব যুগ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।

• আর আধুনিক যুগে— মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৪১.
'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ চরণগুলো 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. আগমণী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. মুক্তি
  4. জীবন-বন্দনা
ব্যাখ্যা
• 'তবুও থামে না যৌবন-বেগ, জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র-মঙ্গল-গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে।'
-এ চরণগুলোর 'কাজী নজরুল ইসলাম' এর 'জীবন-বন্দনা' কবিতার অংশবিশেষ।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি ,
- ভাঙার গান ,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সন্ধ্যা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা ,
- জিঞ্জিরা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

• 'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত “চল চল চল, উর্ধ গগণে বাঝে মাদল” এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবন-বন্দনা- কবিতা,
............... কাজী নজরুল ইসলাম।

গাহি তাহাদের গান –
ধরণির হাতে দিল যারা আনি ফসলের ফরমান।
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে
ত্রস্তা ধরণি নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফলে।
বন্য-শ্বাপদ-সংকুল জরা-মৃত্যু-ভীষণা ধরা
যাদের শাসনে হল সুন্দর কুসুমিতা মনোহরা।
যারা বর্বর হেথা বাঁধে ঘর পরম অকুতোভয়ে
বনের ব্যাঘ্র মরুর সিংহ বিবরের ফণী লয়ে।
এল দুর্জয় গতিবেগ সম যারা যাযাবর-শিশু
– তারাই গাহিল নব প্রেমগান ধরণি-মেরির জিশু –
যাহাদের চলা লেগে
উল্কার মতো ঘুরিছে ধরণি শূন্যে অমিত বেগে !
-----------
-------------
তবুও থামে না যৌবন বেগ জীবনের উল্লাসে
চলেছে চন্দ্র মঙ্গল গ্রহে স্বর্গে অসীমাকাশে। (সংক্ষেপিত)।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জীবন-বন্দনা- কবিতা।
১৫,০৪২.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি
তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৪৩.
নিচের কোনটি শওকত আলীর উপন্যাস নয়?
  1. ক) যেতে চাই
  2. খ) ওয়ারিশ
  3. গ) উত্তরের ক্ষেপ
  4. ঘ) উন্মুল বাসনা
ব্যাখ্যা
শওকত আলীর উপন্যাসঃ প্রদোষে প্রাকৃতজন, পিঙ্গল আকাশ, যেতে চাই, ওয়ারিশ, উত্তরের ক্ষেপ, যাত্রা। গল্পঃ উন্মুল বাসনা, লেলিহান স্বাদ, শুন হে লক্ষিন্দর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,০৪৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গল্পগুচ্ছ
  2. গীতিগুচ্ছ
  3. গীতি সঞ্চয়ন
  4. বনগীতি
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থ - গীতিগুচ্ছ

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ - গল্পগুচ্ছ।
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ - গীতি সঞ্চয়ন।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ - বনগীতি।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৪৫.
তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কোন কবি?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আহসান হাবীব
  3. মোজাম্মেল হক
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
-  তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
-  ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- ছাত্র থাকা অবস্থায় তার কবর কবিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
- তাকে আধুনি কবি বলে অনেকে মনে করেন।
- তিনি ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তাঁর রচিত কবিতায় গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়।
-  তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর প্রথম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৪৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপ দেন কে?
  1. ক) ঋত্বিক ঘটক
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) গৌতম ঘোষ
  4. ঘ) ঋতুপর্ণ ঘোষ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন  সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
তিনি  ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১৫,০৪৭.
'তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষাগরু'- এই কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত "নীলকর" নামক বিখ্যাত কবিতায় মহারানী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে বলেছেন: 

"তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাঁকানো
কেবল খাবো খোল বিচিলি ঘাষ॥ ...
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব 
ঘুষি খেলে বাঁচব না।"

----------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, ঈশ্বর গুপ্ত রচনাবলী-ড.  শ্রীশান্তিকুমার দাশগুপ্ত। 
১৫,০৪৮.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো - যার যেথা দেশ, অজ্ঞাতবাস, কঙ্কাবতী, দুঃখমোচন, মর্তের স্বর্গ, অপসরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৪৯.
জসীম উদ্দীনের রচনা কোনটি? 
  1. যাদের দেখেছি
  2. পথে-প্রবাসে
  3. কাল নিরবধি
  4. ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা
• ‘যাঁদের দেখেছি’ গ্রন্থ:
- জসীমউদ্‌দীন রচিত স্মৃতিকথামূলক সুখপাঠ্য গদ্যগ্রন্থ।
- গদ্যগ্রন্থটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

• এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গদ্যগুলো হলো:
- নজরুল,
- পরিশিষ্ট,
- শরৎ-সন্নিধানে,
- দীনেশচন্দ্র,
- সিরাজী-স্মৃতি,
- আমার বন্ধু কুদরতউল্লাহ্ সাহাব।

অন্যদিকে,
- 'পথে প্রবাসে' আন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি। এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'। 
- আনিসুজ্জামান স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনটি: ১. আমার একাত্তর (১৯৯৭) ; ২. কাল নিরবধি (২০০৩) ; ৩. বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)।
'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।

'ভবিষ্যতের বাঙালি' (১৯৪৩) এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ৷
----------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি  জসীমউদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘যাঁদের দেখেছি’ গদ্যগ্রন্থ।
১৫,০৫০.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থটি কী ধরনের রচনা?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক উপাখ্যান
  3. সামাজিক নাটক
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৫১.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. গ) বহিপীর(নাটক)
  4. ঘ) মহাশ্মশান (নাটক)
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- 'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত সামাজিক নাটক।  
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত 
- নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশ সরকারের ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর, ১৯৮৩) লাভ করেন। 
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক: 
তরঙ্গভঙ্গ 
সুড়ঙ্গ 
উজানের মৃত 

অন্যদিকে,
কবি জসীম উদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো,
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৫,০৫২.
কে বাংলা গদ্যে চলিত রীতি প্রবর্তন করেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- চলিত রীতিতে তার প্রথম গদ্যরচনা: বীরবলের হালখাতা।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৫৩.
”মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ” কোন গ্রন্থের উক্তি?
  1. বিশ্বপরিচয়
  2. সভ্যতার সংকট
  3. কালান্তর
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট: 
১৯৪১ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- 'সভ্যতার সংকট' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্য রচনা।
- 'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ' কথাটি এই গ্রন্থে আছে।
- এই গ্রন্থে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ইংরেজ শাসন শোষণের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন।
- রবীন্দ্রনাথকে বুঝবার জন্য এ প্রবন্ধ্রটি অবশ্য-পাঠ্য।

তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধ গুলো হচ্ছে:

- আধুনিক সাহিত্য,
- কালান্তর,
- সাহিত্যের স্বরূপ,
- বিবিধ প্ৰবন্ধ,
- সাহিত্য,
- বিচিত্ৰপ্ৰবন্ধ,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৫৪.
“রাত্রিশেষ” কী ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা

কবি আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১৫,০৫৫.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. যুগবাণী
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২(প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ), নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত গীতাঞ্জলি কাব্য কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯১০ সালে 
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১২ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
ব্যাখ্যা

• 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত। 
- 'গীতাঞ্জলি’ ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,০৫৭.
’শেষের পরিচয়’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ইন্দিরা দেবী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• শেষের পরিচয়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচতি শেষ উপন্যাস।
- তিনি এ উপন্যাসটি মৃত্যু পূর্বে শেষ করে যেতে পারেননি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের ’রাখাল এ প্রশ্নে নীরব বহিরে হইয়া গেল’ পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত।
- বাকি অংশটুকু রাধারানি দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে ’ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৫৮.
”অসমাপিকা” উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৫৯.
সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে কোন উপন্যাসটি রচিত?
  1. পুরবী
  2. বসন্ত
  3. কালের যাত্রা
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷ 
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো,
'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। 
- গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৬০.
কোন বিশ্ববিদ্যালয় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে ডি.লিট উপাধি প্রদান করেন?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভকরেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৬১.
পদাবলী লিখেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী":
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ ও  প্রশ্ন।

'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুই মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
১৫,০৬২.
কে 'যুবনাশ্ব' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. মণীশ ঘটক
  2. শম্ভু মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'যুবনাশ্ব' ছদ্মনামে লিখতেন - মণীশ ঘটক

অন্যদিকে,
• 'প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়' ছদ্মনামে লিখতেন - শম্ভু মিত্র।
• 'চিত্রগুপ্ত' ছদ্মনামে লিখতেন - সতীনাথ ভাদুড়ী।
• 'সুবচনী' ছদ্মনামে লিখতেন - সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৬৩.
'নীলাম্বর ও পীতাম্বর' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস বিরাজবৌ। এই উপন্যাসের চরিত্র নীলাম্বর ও পীতাম্বর দুই ভাই। নীলাম্বর বুদ্ধিহীন অথচ পরোপকারী। উপার্জন করেন না শুধু প্রচুর গাঁজা খান। পীতাম্বর সংসারী মানুষ। তিনি নিজের উপার্জন নষ্ট না করে পৈতৃক সম্পত্তি দুভাগ করে বাড়ির মাঝে পাঁচিল তুলে দিলেন। এই দুই ভাইয়ের কাহিনী নিয়ে উপন্যাসটি রচনা করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,০৬৪.
‘কবর’ জসীমউদ্‌দীন রচিত কোন কাব্যভুক্ত কবিতা?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. ধানক্ষেত
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১ লা জানুয়ারি, ১৯০৩ সালে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস গোবিন্দপুর গ্রাম, ফরিদপুর।
- তাকে পল্লিকবি বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
-তাঁর ছাত্রাবস্থায় ‘কবর’ কবিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭)। ‘কবর’ এই কাব্যভুক্ত কবিতা।
- ১৯৭৬ সালে ফরিদপুরের আম্বিকাপুরে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগুলো:
- নকশীকাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননি কান্দে,
- রাখালী,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- রূপবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৬৫.
'শর্মিলা ও শশাঙ্ক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুইবোন
  2. চার অধ্যায়
  3. রাজর্ষি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
'দুইবোন' উপন্যাস:
- ‘দুইবোন’ (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস।
- ১৯৩২-১৯৩৩ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় বের হয়।
- শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শর্মিলা,
- ঊর্মিলা,
- শশাঙ্ক

----------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৬৬.
প্রথম কোন বৈয়াকরণিক বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  3. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০) ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক। তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন। এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

- তিনি শেরিডনের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় The Love Epistles of Aristaenetus শীর্ষক গ্রন্থটি গ্রিক ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে বেশ খ্যাতি ও সুনাম অর্জন করেন। অনুবাদ এমনই অনবদ্য ও জনপ্রিয় ছিল যে, চার বছরে গ্রন্থটির তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

- তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় রচিত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ বই। এটি বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ।

- হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৬৭.
"নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?" - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. খনা
ব্যাখ্যা

• "নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?" পঙ্‌ক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্গত।

• ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি এই কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৬৮.
নিচের কোনটি মাইকেল মদুসূদনের প্রহসন?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. এর উপায় কি?
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,

- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'একেই কি বলে সভ্যতা':

- প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
- বেলগাছিয়া নাট্যশালায় অভিনয়ের জন্য মধুসূদন যে দুটো প্রহসন রচনা করেন ‘একেই কি বলে সভ্যতা' তার একটি।
- প্রকাশিত হয়েছে ১৮৬০ সালে।
- এতে উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নবকুমার, কালীনাথ, তীয় বাবাজী, নিতম্বিনী, কর্তামশাই, প্রসন্নময়ী, পয়োধরী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- এর উপায় কি? প্রহসনটি মীর মশাররফ হোসেন রচনা করেন।
- “বিয়ে পাগলা বুড়ো”, “সধবার একাদশী” প্রহসনটির রচয়িতা- দীনবন্ধু মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৬৯.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১১ ভাদ্র, ১৩৮২ বঙ্গাব্দ
  2. ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৮১ বঙ্গাব্দ
  3. ১২ ভাদ্র, ১৩৮৪ বঙ্গাব্দ
  4. ১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
- কাজী নজরুল ইসলাম ১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ ( ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৭০.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা কাব্যগ্রন্থ- 
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন শামসুর রহমান।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধের কাব্যনাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,০৭১.
'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে আত্মজীবনী রচনা করেন-
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জসীমউদ্দীন
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
⇒ মীর মশাররফ হোসেন:
• গাজী মিয়াঁ এবং 'উদাসীন পথিক' উভয় ছদ্মনামেই মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন। 

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়। 
 
- মীর মশাররফ হোসেনের আরও দুটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ- 
- আমার জীবন (১৯১০),
- কুলসুম জীবনী (১৯১০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৭২.
‘লালসালু’ উপন্যাসে অশীতিপর বৃদ্ধ কে?
  1. আক্কাসের বাপ
  2. সলেমনের বাপ
  3. তাহের-কাদেরের বাপ
  4. পির সাহেব 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: সলেমনের বাপ।

• 'লালসালু' উপন্যাসের অংশবিশেষ:

শীর্ণ লোকটি চীৎকার করে গালাগাল করে লোকদের। খালেক ব্যাপারী ও মাতব্বর রেহান আলী ছিল। জোয়ান মদ্দ কালু মতি, তারাও ছিল। কিন্তু লজ্জায় তাদের মাথা হেঁট। নবাগত লোকটির কোটরাগত চোখে আগুন। 
–আপনারা জাহেল, বেএলেম, আনপাড়হ। মোদচ্ছের পীরের মাজারকে আপনারা এমন করি ফেলি রাখছেন?

গ্ৰাম থেকে একটু বাইরে একটা বৃহৎ বাঁশঝাড়। মোটাসোটা হলদে তার গুঁড়ি। সেই বাঁশঝাড়ের ক-গজ ওধারে একটা পরিত্যক্ত পুকুরের পাশে ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে আছে গাছপালা। যেন একদিন কার বাগান ছিল সেখানে। তারই একাধারে টালখাওয়া ভাঙা এক প্ৰাচীন কবর। ছোট ছোট ইটগুলো বিবৰ্ণ শ্যাওলায় সবুজ, যুগযুগের হাওয়ায় কালচে। ভেতরে সুড়ঙ্গের মতো। শেয়ালের বাসা হয়তো। ওরা কী করে জানবে যে, ওটা মোদাচ্ছের পীরের মাজার?

সভায় অশীতিপর বৃদ্ধ — সলেমনের বাপও ছিল। হাঁপানির রোগী। সে দম খিঁচে লজ্জায় নত করে রাখে চোখ।
----------------

 "লালসালু" উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। সাধারণ মানুষের সরলতাকে কিভাবে ধর্ম ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয় তা লালসালু উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 

• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে। ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  "লালসালু" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৭৩.
কোন কবিকে স্বভাব কবি নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মনোজ বসু
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস  ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

• কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কে গণমানুষের কবি বলা হয়।
• আবদুল করিম কে সাহিত্যবিশারদ বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৭৪.
'ছিন্নমুকুল' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- ছিন্নমুকুল,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- কাহাকে,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিবাহ উৎসব,
- দেব কৌতুক,
- বসন্ত উৎসব।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,০৭৫.
ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. দিল্লি
  2. চেন্নাই
  3. মুম্বাই
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৭৬.
'জাহান্নাম হইতে বিদায়' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুর হক
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

'জাহান্নাম হইতে বিদায়' (১৯৭১) শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস
এ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কলকাতায় বসে লেখা হয় এবং আনন্দ পাবলিশার্স তা প্রকাশ করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ক্রীতদাসের হাসি 
- সমাগম 
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- দুই সৈনিক 
-  নেকড়ে অরণ্য 
- পতঙ্গ পিঞ্জর 
- রাজসাক্ষী 
- জলাংগী 
-পুরাতন খঞ্জর 

তাঁর রচিত গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প 
- প্রস্তর ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
- শ্রেষ্ঠ গল্প 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে 
-  ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী 

তাঁর রচিত নাটক 
- আমলার মামলা 
-তস্কর ও লস্কর 
- বাগদাদের কবি 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা 

শিশুতোষ: 
- ওটেন সাহেবের বাংলো
- তারা দুই জন 
- ক্ষুদে সোশালিস্ট 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৭৭.
'পঞ্চগ্রাম' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৭৮.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন' উক্তিটি কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মহাকবি আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৭৯.
'এইসব দিনরাত্রি' নাটকটির লেখক—
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) কল্যাণ মিত্র
  4. ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ: 
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- 'নন্দিত নরকে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক - "এইসব দিনরাত্রি" বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
- বহুব্রীহি (কমেডি),
- অয়োময় (সামাজিক-ঐতিহাসিক),
- কোথাও কেউ নেই (নাগরিক জীবনভিত্তিক),
- আজ রবিবার (পারিবারিক-সামাজিক),
- নক্ষত্রের রাত (আধুনিক জীবনসমস্যা) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৮০.
বাংলা সাহিত্যে পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত সাহিত্যিক কে ছিলেন?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব:
- বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব বলে পরিচিত কবিরা রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় রবীন্দ্র বলয়ের বাইরে গিয়ে কবিতা রচনা করেছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের পাঁচজন কবি হচ্ছেন - 
অমিয় চক্রবর্তী
• বুদ্ধদেব বসু, 
• জীবনানন্দ দাস, 
• বিষ্ণু দে এবং 
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

- তারা সবাই কল্লোল পত্রিকায় লিখতেন।
- এই পঞ্চপাণ্ডবেআই আধুনিক বাংলা কবিতার সূচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৫,০৮১.
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম কী?
  1. ক) দিলারা হাশেম
  2. খ) রাজিয়া খান
  3. গ) রিজিয়া রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
রাজিয়া খান আমিন মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করলেও সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর সমান পদচারণা ছিল।
- সাহিত্যকর্মে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে।
- তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘বটতলার উপন্যাস’।
- উপন্যাস, গল্প, নাটক ও কবিতাসহ সাহিত্যের সবগুলো শাখায় তার সমান পদচারণা ছিল।
- রাজিয়া খান আমিনের ছাত্র এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলছিলেন বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করে সেটি প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল।
- অধ্যাপক ইসলাম মনে করেন রাজিয়া খান আমিন তাঁর ‘বটতলার উপন্যাস’–এর মাধ্যমে সাহিত্যে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বিবিসি নিউজ।
১৫,০৮২.
সমরেশ বসুর ছদ্মনাম-
  1. পরশুরাম
  2. কালকূট
  3. নীল লোহিত
  4. অবধূত
ব্যাখ্যা

- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম-  ‘নীল লোহিত’।
- স্বামী কালিকানন্দ - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৮৩.
'রামেশ্বরের অদৃষ্ট' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা

- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর।
- 'পালামৌ' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।

তাঁর রচিত গল্পঃ
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
- দামিনী।


তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- যাত্রা,
- বৈজিকতত্ত্ব,
- বাল্যবিবাহ,
- সৎকার,
- বৃত্রসংহার।

তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জালপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,০৮৪.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. বিদ্রোহী
  3. আগমণী
  4. প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই নজরুলকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- কাব্যের প্রথম কবিতা হলো 'প্রলয়োল্লাস'।
- বইটি নজরুল উৎসর্গ করেছেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

অগ্নিবীণা গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৮৫.
‘ভ্রান্তিবিলাস’ কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মূল নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়। ‘বিদ্যাসাগর’ তাঁর উপাধি। 
- তিনি একাধারে পন্ডিত, শিক্ষাবিদ, সমাজ-সংস্কারক এবং খ্যাতমান লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন।
- বাংলা বর্ণমালাকে নতুন বিন্যাসে সাজিয়ে ১৮৫৫সালে বিদ্যাসাগর প্রকাশ করেন শিশুপাঠ্য বই বর্ণপরিচয়। ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এ বই আজও পথপ্রদর্শক বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রধান গ্রন্থসমূহ হলো: সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫,০৮৬.
'সোনালী শিশির' কোন ধরনের রচনা? 
  1. নাটক
  2. গল্প
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "সোনালী শিশির" একটি ছোটগল্প। এটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর লেখা একটি গল্প।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৮৭.
'নওল কিশোরের দরবারে' শিশুতোষ গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. সুফিয়া কামাল
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'নওল কিশোরের দরবারে' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,০৮৮.
শহীদুল্লা কায়সার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কোন পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ইত্তেফাক
  2. সংবাদ
  3. সমকাল
  4. স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৮৯.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. আল মাহমুদ
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

হেলাল হাফিজ:

- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৯০.
'নূরজাহান ও সাজাহান' ঐতিহাসিক নাটকদ্বয় কার রচনা?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'নুরজাহান' নাটক:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত 'নুরজাহান' নাটক ১৩১৪ সাল ১লা চৈত্র শনিবার প্রথম মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশকালে এর মূল্য ছিল দ্বি টাকা আট আনা। 

- নাটকের উৎসর্গপত্রে লিখা ছিল: বঙ্গসাহিত্যের গুরুহিন্দুর হিন্দুত্বের প্রতিষ্ঠাতা প্রাজ্ঞ, মনীষী, দেশভক্ত, স্বধৰ্ম্মব্রত ভারতের গৌরব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সি, আই, ই-র পুণ্যস্মৃতি উদ্দেশে এই সুরজাহান নাটক উৎসর্গীকৃত হইল। 

-----------------
• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। 
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------
তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: 'নুরজাহান' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৯১.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত - 
  1. হুমায়ুন আহমেদ 
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে 'জগত্তারিণী পুরস্কার' লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর ছদ্মনাম সমূহ:
- অনিলা দেবী
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৯২.
বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু' এর চরিত্র কোনটি?
  1. ক) মোতালেব
  2. খ) মজিদ
  3. গ) ইয়াজিদ
  4. ঘ) ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের বিখ্যাত উপন্যাস 'বিষাদ-সিন্ধু'। 
- তাঁর খ্যাতি মূলত এই গ্রন্থটির জন্যই। 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ৩ টি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে:
- মহরম পর্ব্ব (১৮৮৫)
- উদ্ধার পর্ব্ব (১৮৮৭)
- এজিদ-বধ পর্ব্ব (১৮৯১)
- বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।

- মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র ইব্রাহিম কার্দি ।
- 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -  মজিদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৯৩.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. মেঘনাধবধ
  2. বিষাদ সিন্ধু
  3. মহাশ্মশান
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা, আহমদ শাহ আবদালি, নজীবউদ্দৌলা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
 
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৯৪.
জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  2. ডালিমকুমার
  3. পদ্মাপাড়
  4. মধুবালা
ব্যাখ্যা

 • জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদদীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন: 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি।
- গাঙ্গের পাড়।
- জারিগান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,০৯৫.
নীলিমা ইব্রাহিম কত সালে বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন ?
  1. ক) ১৯৬৯ সালে
  2. খ) ১৯৯৬ সালে
  3. গ) ২০০০ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
নীলিমা ইব্রাহিম সমাজকর্ম ও সাহিত্যে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।
সেগুলি হলো:
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯),
- জয়বাংলা পুরস্কার (১৯৭৩),
- মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭),
- লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯),
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্মৃতিপদক (১৯৯০),
- অনন্য সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬),
- বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬),
- বঙ্গবন্ধু পুরস্কার (১৯৯৭),
- শেরে-বাংলা পুরস্কার (১৯৯৭),
- থিয়েটার সম্মাননা পদক (১৯৯৮) ও
- একুশে পদক (২০০০)।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১৫,০৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিত্রা
  2. মানসী
  3. গীতাঞ্জলি
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতাটি 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। পুরীতীর্থযাত্রী তরণীর নিমজ্জন উপলক্ষ্যে লিখেছেন 'সিন্ধুতরঙ্গ' কবিতা।

কবিতাংশ,

দোলে রে প্রলয় দোলে অকূল সমুদ্র-কোলে,
উৎসব ভীষণ।
শত পক্ষ ঝাপটিয়া বেড়াইছে
দাপটিয়া
দুর্দম পবন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,০৯৭.
'হিতপ্রভাকর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত 'হিতপ্রভাকর' ও 'বোধেন্দুবিকাশ' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৯৮.
কবি জসীমউদ্দীনের জন্ম সাল কত? 
  1. ১৯০০
  2. ১৯০৩
  3. ১৮৯৯
  4. ১৯০৭
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,০৯৯.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) মানব তোমার সারা জীবন
  3. গ) হায় পার্বতী
  4. ঘ) খলনায়ক
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস হলোঃ’ মানব তোমার সারা জীবন’, ‘হায় পার্বতী’, ‘খলনায়ক’। ‘এখনও ক্রীতদাস’ হলো নাটক।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৫,১০০.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের নাম কী?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং দীনবন্ধু মিত্রের লেখক জীবনের প্রথম পর্যায়ের অনেক রচনাই সংবাদ প্রভাকরে প্রকাশিত হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।