বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫০ / ১৭৪ · ১৪,৯০১১৫,০০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,৯০১.
৯৬ জন সাধকের জীবনচরিত নিয়ে রচিত গ্রন্থ ‘তাপসমালা’ এর রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. ভাই গিরিশ্চন্দ্র সেন
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কুরআন শরীফের প্রথম সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেন।
- তাঁর জন্ম নারায়ণগঞ্জের পাঁচদোনা গ্রামে । 
- ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন। গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইসলামি সাহিত্য-সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত গ্রন্থ 'তাপসমালা'।
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা (১৯০৭)। এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- তিনি মূল ফারসি গ্রন্থ থেকে গুলিস্তাঁ ও বুস্তাঁর হিতোপাখ্যানমালা, হাদিস বা মেসকাত্ মসাবিহ (১৮৯২-৯৮), দীউয়ান-ই-হাফিজ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ, মহাপুরুষচরিত (১৮৮২-১৮৮৭), মহাপুরুষ মোহাম্মদ ও তৎপ্রবর্তিত এসলাম ধর্ম, এমাম হাসান ও হোসায়নের জীবনী (১৯১১), চারিজন ধর্মনেতা, চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী, খলিফাবর্গ, সবমিলিয়ে ৪২টি পুস্তক বাংলা ভাষায় রচনা ও প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯০২.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কোন কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. কায়কোবাদ
  2. আলাওল
  3. ফররুখ আহমদ
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯০৩.
‘ঘনাদা’ চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. কাঙাল হরিনাথ
  4. গোবিন্দ চন্দ্র
ব্যাখ্যা
‘মশা’ গল্প ও ‘ঘনাদা’ চরিত্র:
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
- কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
- অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর; ‘মশা’ গল্প।
১৪,৯০৪.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্রনির্ভর নাটক কোনটি?
  1. এখনও ক্রীতদাস
  2. কোকিলারা
  3. মেরাজ ফকিরের মা
  4. সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯০৫.
'খেলাঘর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস 
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

• 'খেলাঘর' উপন্যাস:
- 'খেলাঘর' (১৯৮৮) মাহমুদুল হক রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
-  ‘খেলাঘর’ অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম ২০০৬ সালে  একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
 চরিত্র: রেহানা, মুকল ও ইয়াকুব।

--------------------
• মাহমুদুল হক:
- মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে। তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে),
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত),
- খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: 'খেলাঘর' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯০৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- 
  1. সমাচার দর্পণ
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাই ছিল এর উদ্দেশ্যে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। 
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ:
- নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,
- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- অযোধ্যানাথ পাকড়াশী,
- হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন,
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও
- ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উল্লেখ্য,
- সমাচার দর্পণ পত্রিকার প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯০৭.
'পথে প্রবাসে' কার রচনা?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাসঃ
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

 উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে ( ১৯৩১)
- ইউরোপের চিঠি ( ১৯৪২) 


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১৪,৯০৮.
'মাটির দেয়াল' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

​তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯০৯.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. মতিচূর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
• 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 

------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯১০.
নিচের কোনটি প্রেমের গল্প নয়?
  1. একরাত্রি
  2. সমাপ্তি
  3. মাল্যদান
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
একরাত্রি, সমাপ্তি ও মাল্যবান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত প্রেমের গল্প।
- কিন্তু পোস্টমাস্টার গল্পে মানবীয় সম্পর্ক ও প্রকৃতির নিবিড় সম্বন্ধ দার্শনিকতা পেয়েছে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম
১৪,৯১১.
'জ্যাঠামশায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গোরা
  2. নৌকাডুবি 
  3. চতুরঙ্গ
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস - চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ। 
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। 
-  ‘সবুজপত্র’র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন।
- বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়
- শচীশ, 
- দামিনী, 
- শ্রীবিলাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং চতুরঙ্গ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৪,৯১২.
'দুই হৃদয়ের তীর' - গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'দুই হৃদয়ের তীর' - গল্পগ্রন্থটি 'শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম' রচিত।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
- শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম:
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯১৩.
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই 
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওঙ্কার
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা

• 'দুই সৈনিক' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
- উপন্যাসটি প্রকাশ হয় — ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস-
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' — নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি — নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

 • পায়ের আওয়াজ পাওয়ার যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি — কাব্যনাট্য। 
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়— ওঙ্কার।
- এটি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফার — উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯১৪.
'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা কে?
  1. সুরবালা
  2. চন্দরা
  3. নিরূপমা
  4. মৃন্ময়ী
ব্যাখ্যা
•''দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- ''দেনাপাওনা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
- 'নিরূপমা' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- সমাপ্তি ছোটগল্পের চরিত্র- 'মৃন্ময়ী'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪,৯১৫.
কোন পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের সাথে ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে?
  1. টলস্টয় – ওয়ার অ্যান্ড পিস
  2. স্টিভেনসন – প্রিন্স অটো
  3. ডিকেন্স – গ্রেট এক্সপেকটেশনস
  4. হার্ডি – টেস অব দি ডি’আর্বারভিলস
ব্যাখ্যা

"ঘরে-বাইরে" উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিখিলেশ,
- বিমলা,
- সন্দীপ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯১৬.
'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০
  2. ১২
  3. ১৪
  4. ১৬
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নিবীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব : প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ : কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আ।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য : মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য : রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৪।

১৪,৯১৭.
কাজী নজরুল ইসলাম 'মানুষ' কবিতায় কোন তিন ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম স্মরণ করেছেন?
  1. আকবর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব
  2. গজনি মামুদ, চেঙ্গিস, কালাপাহাড়
  3. নেপোলিয়ন, সিকান্দার, চেঙ্গিস
  4. তৈমুর লং, বাবর, হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম — 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।
- এখানে কবি কালা পাহাড়কে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কার-বিদ্বেষী ছিলেন বলে স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা,
– কাজী নজরুল ইসলাম।

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

--------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুলের কাব্যগ্রন্থ -
- অগ্নিবীণা
- সঞ্চিতা
- চিত্তনামা
- মরুভাস্কর
- প্রলয় শিখা
- নির্ঝর
- ভাঙার গান
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক
- সাম্যবাদী
- ছায়ানট
- পুবের হাওয়া
- জিঞ্জির
- বিষের বাঁশি
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ‘মানুষ’ কবিতা।

১৪,৯১৮.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলীলপত্র' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'- এর প্রধান নিযুক্ত হন। তার সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলীলপত্র' প্রকাশিত (১৯৮২-৮৩) হয়।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৯১৯.
আল মাহমুদের 'পানকৌড়ির রক্ত' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ:
- 'পানকৌড়ির রক্ত' কবি আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ।
- আল মাহমুদ কবি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন কিন্তু ১৯৭৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশ হওয়ার পরপরই বাংলা সাহিত্য আরেকটি ঝাঁকুনি খায়। সমকালীন লেখক, পাঠক ও সমালোকরা নড়েচড়ে বসেন।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থের পানকৌড়ির রক্ত ও জলবেশ্যা তো আজতক বাংলা সাহিত্যে এক ও অদ্বিতীয়ম। অনুভূতির এমন উত্তুঙ্গতা, ঘটনার এমন অভিনবত্ব, নির্মিতির এমন চমৎকারিত্ব বাংলা সাহিত্য আর দেখেনি।

-----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ।
১৪,৯২০.
হুমায়ূন আহমেদ মারা যান কবে?
  1. ক) ২০১০ সালে
  2. খ) ২০১৪ সালে
  3. গ) ২০১২ সালে
  4. ঘ) ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
২০১২ সালের ১৯ জুলাই হুমায়ূন আহমেদ মারা যান। তিনি ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। আগুনের পরশমনি, শ্যমাল ছায়া, জোসনা ও জননীর গল্প ইত্যাদি তার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস। দেয়াল তার রাজনৈতিক উপন্যাস। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৪,৯২১.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন কাব্যটি বাজেয়াপ্ত হয় এবং এর জন্য কারাদন্ড ভোগ করেন?
  1. ক) অনল প্রবাহ
  2. খ) রায়নন্দিনী
  3. গ) স্পেনবিজয় কাব্য
  4. ঘ) উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
অনল প্রবাহ (১৯০০) - ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রথম কাব্য। এর দ্বিতীয় সংস্করণ (১৯০৯) সালে প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে তা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে এবং এর জন্য দু বছরের কারাদন্ড প্রদান করে। তার অন্যান্য কাব্যঃ আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, নব উদ্দীপনা, স্পেনবিজয় কাব্য, মহাশিক্ষা ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১৪,৯২২.
কত সালে 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯২৩.
‘তিনটি প্রশ্ন’ গল্পটি কার রচনা?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আবু ইসহাক
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় ও তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• অন্নদাশঙ্কর রায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে টলস্টয়ের গল্প ‘তিনটি প্রশ্ন’ নামে বাংলায় অনুবাদ করেন এবং তা প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২০ সালে। বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা, যা ভারতী পত্রিকায় ছাপা হয়। এ ধরনের বিষয় নিয়ে তিনি ওড়িয়া ভাষায়ও লেখেন।

• এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবী নাটকের ওপর যে প্রবন্ধ লেখেন, তা রবীন্দ্রনাথকেও আলোড়িত করে। অন্নদাশঙ্করের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ 'তারুণ্য' ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়।

• তবে তাঁর ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনির মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের স্থান করে নেন। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দুই বছর উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘পথে প্রবাসে’। একই সময় মৌচাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর ‘ইউরোপের চিঠি’। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯২৪.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. কালিন্দী
  3. কবি
  4. ডাক-হরকরা
ব্যাখ্যা

• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমটি স্মরণীয় গল্প ‘ডাক-হরকরা’।  
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। 
- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প।
- এই গল্পে  দীনু ডাক-হরকরার মাথার মাথালী দড়ি দিয়ে চিবুকের সঙ্গে বাঁধা, শক্ত হাতে ধরা বল্লম, অন্য হাতে হারিকেনের কম্পমান শিখার ধোঁয়ার চিমনি কালো রঙ ধরেছে, ডাক-হরকরা তার অভ্যস্ত নির্দিষ্ট গতিতে ছুটে চলছে।

---------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চগ্রাম,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯২৫.
"আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা

আমার দেশের পথের ধূলা,
খাটি সোনার চাইতে খাঁটি। - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'খাঁটি সোনা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া ও 'খাঁটি সোনা কবিতা।

১৪,৯২৬.
উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত সাহিত্য কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) রেইনকোর্ট
  3. গ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিলো উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান

অন্যদিকে, 
- 'রেইনকোর্ট' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি গল্প।
- 'অন্য ঘরে অন্য স্বর' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'এখনও ক্রীতদাস' আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী নিম্নবর্গের মানুষের জীবন নিয়ে নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
১৪,৯২৭.
​'কুহেলিকা' উপন্যাসটি কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ধর্মীয় উপন্যাস
  2. প্রেমমূলক
  3. রাজনৈতিক
  4. বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯২৮.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' গ্রন্থের উপজীব্য কী?
  1. সামাজিক বৈষম্য
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. নারীর আত্মজাগরণ
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯২৯.
সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. জাবালি
  2. ভ্রমর
  3. যুবনাশ্ব
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।

অন্যদিকে, 
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম চলিত ভাষারীতির প্রয়োগ করেন কোন উপন্যাসে?
  1. করুণা
  2. বৌঠাকুরাণীর হাট
  3. চোখের বালি
  4. ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস - ঘরে বাইরে; এটি ১৯১৬ সালে ''সবুজপত্র'' পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
এটি ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে রচিত।
উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নিখিলেশ, বিমলা, সন্দীপ প্রমুখ।

তার রচিত প্রথম উপন্যাস - করুণা (১৮৭৭)
প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বৌঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১৪,৯৩১.
'নিঃসঙ্গ পাইন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত। তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাহানারা ইমাম লেখালেখিতে ব্যস্ত সময় কাটান এবং তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি এ সময়ে প্রকাশ পায়। গল্প, উপন্যাস ও দিনপঞ্জি জাতীয় রচনা মিলিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অন্য জীবন, বীরশ্রেষ্ঠ, জীবন মৃত্যু, চিরায়ত সাহিত্য, বুকের ভিতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, নিঃসঙ্গ পাইন, নয় এ মধুর খেলা, ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস ও প্রবাসের দিনলিপি‌।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৩২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. শকুন্তলা
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা
• "প্রভাবতী সম্ভাষণ":
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা ভাষায় রচিত প্রথন মৌলিক গদ্য রচনা "প্রভাবতী সম্ভাষণ"।  
- "প্রভাবতী সম্ভাষণ" নামে স্বর্গীয় বিদ্যাসাগর মহাশয় যে প্রবন্ধটি লিখেছেন, তা পড়লে হৃদয় করুণায় ভরে যায়। রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের কন্যা প্রভাবতীকে তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রভাবতীর অকালমৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। সেই শোক থেকেই তিনি প্রভাবতীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি ছিল তাঁর প্রকাশিত অনুবাদমূলক রচনাগুলো। এগুলো হলো:

• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'। 
•কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা'। 
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ)। 
• ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ এবং বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত 'সীতার বনবাস'। 
• সেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং "প্রভাবতী সম্ভাষণ" প্রবন্ধটি।
১৪,৯৩৩.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. মায়া কাজল
  4. সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা
• কেয়ার কাঁটা: 
- সুফিয়া কামালের শ্রেষ্ঠ একটি গল্পগ্রন্থ- কেয়ার কাঁটা।
--------------------- 
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৩৪.
নোবেল প্রাপ্ত কাব্যগ্রন্থ 'গীতাঞ্জলি' এর ইংরেজি অনুবাদক কে?
  1. ক) ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
  2. খ) টি.এস.এলিয়ট
  3. গ) এল্যান জিন্সবার্গ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন - ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৩৫.
'দিকশূণ্য ভট্টাচার্য' কার ছদ্মনাম?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. বঙ্কিম বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
দিকশূন্য ভট্টাচার্য'- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' এর ছদ্মনাম।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৩৬.
সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনি ফুটে উঠেছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) পাঞ্জেরী
  3. গ) পারাপার
  4. ঘ) সারেং বউ
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বউ' উপন্যাসটির রচয়িতা শহীদুল্লাহ কায়সার।
'সারেং বউ' (১৯৬২) উপন্যাসে সমুদ্র উপকূলের নাবিকদের জীবন কাহিনি রূপ দেয়া হয়েছে। 
- বাস্তব চিত্র হিসেবে এর মর্যাদা অনেক। 
- 'সংশপ্তক' শহীদুল্লাহ কায়সাররচিত অপর একটি উপন্যাস। 

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

 তাঁর অন্যান্য উপন্যাস-
- সংশপ্তক (১৯৬৫),
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৩৭.
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. কিশোর পরাগ
  2. শিশুবার্ষিকী
  3. জ্ঞানের আলো
  4. মিহির
ব্যাখ্যা
‘মিহির’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম।

অন্যদিকে, 
বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো।

-------------------
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৩৮.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. অগ্নিবীণা
  2. দোলন-চাঁপা 
  3. বিষের বাঁশী 
  4. সাম্যবাদী 
ব্যাখ্যা

‘অগ্নিবীণা’ গ্রন্থটি নজরুল তার বিপ্লবী বন্ধু বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন।
------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- সন্ধ্যা, 
- জিঞ্জির, 
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।
-------------------------------------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
• বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৯৩৯.
'কাল নিরবধি' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবুল ফজল
  2. ড. আনিসুজ্জামান
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'। 
- আনিসুজ্জামান স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনটি: ১. আমার একাত্তর (১৯৯৭) ; ২. কাল নিরবধি (২০০৩) ; ৩. বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)।
- 'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। 
----------------------- 
• আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৪০.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট উপাধি লাভ করেন? 
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৪১.
আনসার কোন গ্রন্থের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. ব্যথার দান
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. জিনের বাদশা
  4. বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- নারী জীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র এই উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- দারিদ্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবারে মেজ-বৌয়ের মুসলিম থেকে খ্রিষ্ট ধর্মান্তর গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হয়ে ওঠে গল্পে।
- অন্যদিকে গল্পের নায়কা রুবি আনসারকে ভালোবাসালেও রুবির পিতা তাকে বিয়ে দেয় আইসিএস পরীক্ষার্থী মোয়াজ্জেমের সঙ্গে।
- মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর পর বিধবা রুবির জীবনে নেমে আসে সমাজের বিধিনিষেধ।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৪২.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটি এর কোন নাটকে পাওয়া যায়?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) প্রতাপসিংহ
  3. গ) দেবী চৌধুরানী
  4. ঘ) চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটির ১৯০৯ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম প্রথম নাটক রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৪৩.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- এটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯৪৪.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  2. পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর':
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
 - নাটকটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা 'মুনীর অপটিমা' নামে পরিচিত।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস
- তুলনামূলক সমালোচনা, বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৪৫.
দেশবিভাগের ঘটনা ফুটে উঠেছে কোন গল্পে?
  1. ক) আহ্বান
  2. খ) একটি তুলসী গাছের কাহিনী
  3. গ) প্রাগৈতিহাসিক
  4. ঘ) উত্তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’তে দেশভাগের সময়কার ঘটনা ফুটিয়ে তুলা হয়েছে। এ গল্পে দেখা যায় দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৯৪৬.
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের শহিদ বুদ্ধিজীবী কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মামুনুর রশীদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের শহিদ বুদ্ধিজীবী।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। 
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন

তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৪৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি? 
  1. আরণ্যক
  2. দৃষ্টি প্রদীপ
  3. ইছামতী
  4. কিন্নরদল
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৪,৯৪৮.
দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে বিষ্ণু দে রচিত কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. সাত ভাই চম্পা
  2. রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ
  3. চোরাবালি
  4. উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
• 'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

-------------------------
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৪৯.
হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. শ্রাবণ মেঘের দিন,
  2. গৌরীপুর জংশন
  3. এই সব দিনরাত্রি
  4. অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

• হুমায়ূন আহমেদ:
 - তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন, শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৫০.
'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. সেলিনা হোসেন
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'শেষ বিকেলের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা জহির রায়হান।

• জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭১):
- জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- তিনি ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।
-  'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেছেন ১৯৬৪ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ
- শেষ বিকেলের মেয়ে, 
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কতদিন, 
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৫১.
‘‘মহাজ্ঞানী মহাজন,
যে পথে করে গমন হয়েছেন
প্রাতঃস্মরনীয়।” - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
‘‘মহাজ্ঞানী মহাজন,
যে পথে ক’রে গমন হয়েছেন
প্রাতঃস্মরনীয়।” - পঙক্তিটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জীবন সঙ্গীত' কবিতার অংশ।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বীরবাহু, 
- আশাকানন, 
- ছায়াময়ী, 
- দশমহাবিদ্যা, 
- চিত্তবিকাশ, 
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৫২.
'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি কয়টি পর্বে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫ টি
  4. ৯ টি
ব্যাখ্যা
• বিষাদ সিন্ধু:
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- ৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-
- হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
১৪,৯৫৩.
’বঙ্গীয় শব্দকোষ’ এর প্রণেতা কে?
  1. জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস
  2. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ’বঙ্গীয় শব্দকোষ’ এর প্রণেতা - হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বঙ্গীয় শব্দকোষ:
- হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৬৭-১৯৫৭) ১৩০৯ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে রবীন্দ্রনাথের জমিদারির অন্তর্গত পতিসরের কাচারিতে সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগদান করেন।
- পতিসরে জমিদারি পরিদর্শনে এসে রবীন্দ্রনাথ হরিচরণের জ্ঞানচর্চায় আগ্রহ লক্ষ করে উক্ত সনের শেষে তাঁকে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালয়ে সংস্কৃতের শিক্ষক নিযুক্ত করেন।
- এ স্কুলে তিনি তিরিশ বছর (১৩০৯-১৩৩৯) শিক্ষকতা করেন।
- শিক্ষকতায় নিষ্ঠা এবং বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় দক্ষতার কারণে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে অভিধান রচনায় অনুপ্রাণিত করেন।
- তাঁর অভিপ্রায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কোষগ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। এরই ফসল বিখ্যাত 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'

- বাংলা অভিধানের গুরুত্ব বিবেচনায় জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস ও হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিধান দুটিই সর্বাপেক্ষা পরিচিত।
- তবে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিধান শব্দার্থের গভীর ও ব্যাপকতর অর্থ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে অধিকতর উপযোগী।
- বাংলা, সংস্কৃত, আরবি, ফারসি প্রভৃতি ভাষার শব্দ ছাড়াও এ অভিধানে আছে ইংরেজি, পর্তুগিজ, হিন্দি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষার শব্দ।
- তিনি শব্দার্থ স্পষ্ট করতে বাংলা সাহিত্য থেকে প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতির সাহায্য নিয়েছেন; আবার একটি শব্দের পূর্ণ পরিচিতির জন্য সংস্কৃত থেকেও আবশ্যকীয় উদ্ধৃতির সমাবেশ ঘটিয়েছেন।

- এ অভিধান প্রথমে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয় (১৯৩২-১৯৫১), পরে দুখণ্ডে।
- 'বঙ্গীয় শব্দকোষ' ছাড়াও হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন -
→ রবীন্দ্রনাথের কথা,
→ সংস্কৃত-প্রবেশ,
→ ব্যাকরণ-কৌমুদী,
→ Hints on Sanskrit Composition & Translation,
→ পালিপ্রবেশ,
→ শব্দানুশাসন,
→ কবির কথা প্রভৃতি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৫৪.
‘কবর’ কবিতায় কয়টি পঙক্তি রয়েছে?
  1. ১১৯টি
  2. ৯৬টি
  3. ১৩২টি
  4. ১১৮টি
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
  জসীম উদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৫৫.
'সোনালী কাবিন' -এর রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা

• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'। সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালি কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

-----------------
• আল মাহমুদ:
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৫৬.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা — আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ।
------------------------------ 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন: 

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৫৭.
'বুকপকেটে জোনাকি পোকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস। লাল নীল দীপাবলি, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, কতো নদী সরোবর, বুকপকেটে জোনাকি পোকা, আওয়ার বিউটিফুল বাংলাদেশ ইত্যাদি তাঁর কিশোর সাহিত্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৯৫৮.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রজনী
  2. সীতারাম
  3. মৃণালিনী
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৫৯.
হাসান আজিজুল হক রচিত 'নামহীন গ্রোত্রহীন' একটি -
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্য
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৬০.
"আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?" পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
“আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?” পঙ্‌ক্তিদ্বয়  "মেঘনাদবধ" কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে।

• মেঘনাদবধ কাব্য:

- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

• উদ্ধৃতাংশটি আরো কিছু অংশ:
‘কি কহিলি বাসন্তি? পর্বতগৃহ ছাড়ি,
বাহিরায় যবে নদী সিন্ধুর উদ্দেশ্যে,
কার হেন সাধ্য যে সে রোধে তার গতি?
দানবনন্দিনী আমি, রক্ষঃকুলবধূ
রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?’
— প্রমীলার এই উক্তি বাংলা সাহিত্যে ইতিহাস হয়ে আছে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৯৬১.
’নয়া পত্তন’ গল্পের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. জহির রায়হান
  3. সত্যজিৎ রায়
  4. ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• নয়া পত্তন:
’নয়া পত্তন’ গল্পের লেখক: জহির রায়হান।
- গল্পটি পাকিস্তানি শাসনামলের পটভূমিতে রচিত।
- গল্পে দেখা যায়, এনট্রান্স পাশ শনু পণ্ডিত গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য জমিদারের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে গেলে শনু পণ্ডিতসহ গ্রামবাসী সংকটে পড়েন।
- গ্রামের সম্পন্ন ব্যক্তি জুলু চৌধুরী কোনো সাহায্য করতে রাজি হন না। আশেপাশের গ্রামেও আর স্কুল নেই।
- এ অবস্থায় সবাই সিদ্ধান্ত নেন একসঙ্গে পরিশ্রম করে নিজেদের স্কুল নিজেরাই পুনর্নির্মাণ করবেন এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁরা স্কুল ঘর তৈরি করতে সক্ষম হন।
- আবার তাঁদেরই উৎসাহে চাষি তোরাব আলী স্কুলের নাম ফলকে আগের নামের পরিবর্তে লেখেন 'শনু পণ্ডিতের ইস্কুল'।
- সবাই মিলে মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে চাইলে যে কোনো বাধা সহজে অতিক্রম করা সম্ভব। আর সে কাজের সফলতায় বাড়ে মনের উদারতাও। 
--------------------------------------------------------------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং ৮ম শ্রেণি আনন্দপাঠ।
১৪,৯৬২.
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।' - উক্তিটির কোন লেখকের উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবু ইসহাক
  3. আনিসুজ্জামান
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা

"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাস:
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ৪ খণ্ডে বিন্যাস্ত এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন। 

উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
'মনের মত মানুস পাইলাম না।' উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।
'তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।'- করমালীর উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪,৯৬৩.
'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
সত্যমিথ্যা, জীবনক্ষুধা ও আবে হায়াত উপন্যাস ত্রয়ের রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
আয়না, ফুড কনফারেন্স, আসমানী পর্দা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ এবং তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।
তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৬৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈত্রিক পদবি কী?
  1. ভট্টাচার্য
  2. শর্মা 
  3. বিদ্যাসাগর 
  4. বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি - 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
• তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
• তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
• ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম- 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৬৫.
'তোতা ইতিহাস' চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত একটি-
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. প্রবন্ধ 
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'তোতা ইতিহাস':
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

-----------------
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন।
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১৪,৯৬৬.
সুফিয়া কামাল তাঁর কোন সংকলনটি বেগম রোকেয়াকে উৎসর্গ করেন?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. মৃত্তিকার ঘ্রাণ
  3. মায়া কাজল
  4. মন ও জীবন
ব্যাখ্যা
• ১৯২৯ সালে সুফিয়া কামাল বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত মুসলিম মহিলা সংগঠন ‘আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলাম’-এ যোগ দেন। এখানে নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারসহ নারীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।

• বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন। তিনি ‘রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি’ গঠনে সহায়তা করেন, যার প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হল ‘রোকেয়া’ তাঁর নামে করা হয়।

অন্যদিকে, 
- সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'। ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে।

• গল্প:
- কেয়ার কাঁটা।

• স্মৃতিকথা/ ডায়েরী:
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৬৭.
প্যারীচাঁদ মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

'মাসিক পত্রিকা': 
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে:
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪,৯৬৮.
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) ঝরাপালক
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) সাতটি তারার তিমির
  4. ঘ) রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা। ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় ‘আবহমান বাংলা, বাঙালী’কে।
• ‘রূপসী বাংলা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদের বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত পঙক্তি হলো-

‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৬৯.
'পদচিহ্ন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- 'পদচিহ্ন' উপন্যাসটি সত্যেন সেন রচিত।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৪,৯৭০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথের নাটক নয়?
  1. বাশঁরী
  2. শোধবোধ
  3. রাজা
  4. বরুণা
ব্যাখ্যা

শোধবোধ, বাশঁরী, রাজা রবীন্দ্রনাথের নাটক।
রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো,
- শারদোৎসব
- অচলায়তন
- ডাকঘর
- ফাল্গুনী
- মুক্তধারা
- রক্তকরবী
- কালের যাত্রা
- চিরকুমার সভা
- তাসের দেশ ইত্যাদি।

'বরুণা' ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের নাটক।


উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১৪,৯৭১.
সমরেশ বসুর জেলে জীবন নিয়ে রচিত উপন্যাস-
  1. গঙ্গা
  2. পদ্মার পলিদ্বীপ
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
⇒ 'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি।
- গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

সমরেশ বসু রচিত অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- উত্তরঙ্গ,
- জগদ্দল,
- বিবর,
- অমৃত কুম্ভের সন্ধানে,
- প্রজাপতি।

অন্যদিকে,
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' একটি উপন্যাস।
- কবি জসীমউদদীনের কাহিনীকাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
১৪,৯৭২.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. চিত্তনামা
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. পুবের হাওয়া
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ( ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৭৩.
বাংলাদেশের রণসংগীত নেওয়া হয়েছে কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে?
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• চল্ চল্ চল্:
- বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 
- এটি ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'নতুনের গান' শিরোনামে ১৯২৮ সালে।
- পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতার প্রথম ২১টি চরণ।

চল্ চল্ চল্
- কাজী নজরুল ইসলাম

চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্।
চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ।
১৪,৯৭৪.
‘বুলবুলিস্তান' - কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৭৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নয় কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন: উইলিয়াম কেরী, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার, তারিণীচরণ মিত্র, রাজীবলােচন, চণ্ডীচরণ মুনশী, হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৭৬.
ওঙ্কার উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৭৭.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পরিত্যক্ত স্বামী
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৭৮.
নিচের কোনটিকে লৌকিক ছন্দ বলা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  4. পয়ার ছন্দ
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রকার ছন্দ:
১. স্বরবৃত্ত ছন্দকে লৌকিক ছন্দ বলে। রবীন্দ্রনাথ এটিকে 'ছড়ার ছন্দ' বলেছেন।
২. মাত্রাবৃত্ত ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান ছন্দ বলে।
৩. অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান বলে।
৪. পয়ার ছন্দে অন্তমিল থাকে।
৫. অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯৭৯.
বাংলা সাহিত্যে কাকে 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'যুগসন্ধিক্ষণের কবি' বলা হয়।
- ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সূচিত হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা আরম্ভ হয় নি।
- এই ষাট বছর (১৮০১-১৮৬১) কাব্যে আধুনিকতায় পৌঁছার চেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনকাল ১৮১২ থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি বড় হয়েছেন কলকাতার নাগরিক পরিবেশে।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাচর্চায় তিনি এ সময় মধ্যযুগের দেবদেবীর কথা বা কাহিনি নির্ভর কাব্যরচনা বর্জন করে ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় সমাজসচেতনতা বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি দরদ অর্থাৎ দেশাত্মবোধ স্পষ্ট দেখা যায়।
- আবার কবিওয়ালাদের কাব্য ঢং, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও তাঁর কবিতায় ব্যাপকভাবে লক্ষযোগ্য।
- আসলে মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন- এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য-বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য দেখে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৯৮০.
'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত-
  1. জসীমউদ্দীন
  2. আহসান হাবীব
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
⇒ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস  রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন। 
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' ,  'মোসলেম ভারত'মও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৮১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. শেষপ্রশ্ন
  2. শেষলেখা 
  3. শেষকথা
  4. শেষদিন 
ব্যাখ্যা
‘শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'। 
- 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি। 
- এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা। 
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি। 

অন্যদিকে, 
- 'শেষপ্রশ্ন' (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কপ্রধান ও সমস্যামূলক উপন্যাস। 
- 'শেষকথা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি- ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৮২.
'গৌড়তটবাসী মশা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক ছদ্মনামেই মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী, সত্যপীর।
• মধুসূদন মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৮৩.
কোনটি গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) খোঁয়ারি
  2. খ) নীললোহিত
  3. গ) রমনা পার্কে
  4. ঘ) ইছামতি
  5. ঙ) সরীসৃপ
ব্যাখ্যা
খোঁয়ারি, নীললোহিত, রমনা পার্কে ও সরীসৃপ এগুলো হলো গল্পগ্রন্থ। এগুলো রচয়িতা যথাক্রমে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, প্রমথ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে ইছামতী হলো একটি উপন্যাস যা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১৪,৯৮৪.
ড. আনিসুজ্জামান এর লেখা গ্রন্থ কোনটি?
  1. গণদেবতা
  2. বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
  3. শিখা
  4. মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 
 
অন্যদিকে, 
• 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস'- প্রবন্ধটির রচয়িতা: আহমদ ছফা।
• 'গণদেবতা' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
• ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র ছিল 'শিখা' পত্রিকাটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৮৫.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

'বেনের মেয়ে' উপন্যাস
- 'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।
'আগুনের মেয়ে' নামক উপন্যাসটির রচয়িতা আল মাহমুদ। 
'একটি কালো মেয়ের কথা' নামে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৮৬.
'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সুকুমার সেন
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' গ্রন্থের রচয়িতা -  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৮৭.
'পঞ্চপান্ডব' এর অন্তর্ভূক্ত নন কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) জসীমউদ্দিন
ব্যাখ্যা
তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন। 
- তাদের পঞ্চপান্ডব বলা হত। 
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। 

তাঁরা হলেন:
- অমিয় চক্রবর্তী,
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৪,৯৮৮.
'ঘর মন জানালা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল জহির
  2. আহসান হাবিব
  3. রশীদ করীম
  4. দিলারা হাসেম
ব্যাখ্যা
• 'ঘর মন জানালা':
- 'ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'। 

- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস।
- 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• দিলারা হাসেম:
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- মুরাল,
- শঙ্খ করাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৮৯.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক কে? 
  1. কামিনী রায় 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
 - স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'। তাঁর দীপ নির্বাণ (১৮৭০) উপন্যাসটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৭৯ সালে গীতিনাটক বসন্ত উৎসব প্রকাশ করেন। সম্ভবত এটি ছিল বাংলায় (বাংলাদেশে) লিখিত প্রথম অপেরা।
- তিনি বাংলায় সর্বমোট ২৫টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৯০.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. পুরবাসী
  2. পথ অন্তহীন
  3. সাম্প্রতিক
  4. এক মুঠো
ব্যাখ্যা
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়হত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধারার চেষ্টা করেছেন।

অমিয় চক্রবর্তী:

- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৯১.
কামিনী রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মাল্য ও নির্মাল্য
  2. আলো ও ছায়া
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. পৌরাণিকী
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
- তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
- 'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪,৯৯২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাসটি কত বছর বয়সে রচনা করেন?
  1. ক) ১৯
  2. খ) ২০
  3. গ) ২১
  4. ঘ) ২২
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ বছর বয়সে ‘দিবারাত্রির কাব্য’ উপন্যাসটি রচনা করেন। বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে ‘অতসীমামী’ নামক গল্প বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে লেখক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
১৪,৯৯৩.
কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) শেষের কবিতা
  2. খ) শেষপ্রশ্ন
  3. গ) শেষলেখা
  4. ঘ) শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
'শেষপ্রশ্ন' ও 'শেষের পরিচয়' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৯৪.
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু/ এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! - ধূমকেতু কবিতায় এই লাইনটি কতবার এসেছে?
  1. ৩ বার
  2. ৫ বার
  3. ৪ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু! - ধূমকেতু কবিতায় উদ্ধৃত লাইনটি ৪ বার উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ ‘ধূমকেতু’ কবিতা:
‘ধূমকেতু’ নজরুলের আরেকটি বিখ্যাত কবিতা। এ কবিতায় নজরুলের ‘কবিসত্তার স্বরূপ প্রতিবিম্বিত’। ‘রাজনৈতিক চেতনার একটি বিশেষ উত্তেজনাময় অধ্যায়ে ‘ধূমকেতু’ কবিতাটির জন্ম।
- নজরুলের ‘ধূমকেতু’র সূচনা হয় ১৯২২ সালে।
- ‘ধুমকেতু’ অগ্নিবীনা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

⇒ ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা।
• এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
• এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

ধূমকেতু কবিতার কিছু পঙক্তি হলো:

 ধূমকেতু
- কাজী নজরুল ইসলাম

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব
হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার-
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ, আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ! (সংক্ষিপ্ত)

উৎস:  ধূমকেতু কবিতা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; কালের কণ্ঠ রিপোর্ট।

১৪,৯৯৫.
গদ্য সাহিত্য কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. উত্তরাধুনিক যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• গদ্য সাহিত্য রচনার সূচনা:
- উনিশ শতকের (১৮০০-১৮৯৯) শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। 
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রকাশক্ষম করার প্রধান কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
- এজন্য তাকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
- বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৯৬.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রানিখালের সাঁকো
  2. দুহাতে দু আদিম পাথ
  3. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  4. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
ব্যাখ্যা
• ‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস ‘রানিখালের সাঁকো’। উপন্যাসটি চিরায়ত কিশোর সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে কয়েক প্রজন্মের পাঠপ্রিয়তার কারণেই।

কাহিনি সংক্ষেপ:

রানিখালের সাঁকো সবার সাঁকো। সে সাঁকো পারাপারের অধিকার সবারই সমান। তবু স্কুল ছুটির পরে জয়নালের জন্য অপেক্ষা করে এপারেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সব ছেলের। কিন্তু কেন, কেন এমন হবে? এই প্রশ্ন আজীজের মনে একদিন আগুন ছড়িয়ে দিলো।
এই প্রশ্নই এতিম ছেলে আজীজকে গ্রাম ছাড়িয়ে টেনে নিয়ে এলো বিচিত্র মানুষের মেলা রাজধানী শহরে। একটি মাত্র প্রতিজ্ঞায় অটল তার অন্তরকে কোন বাধাই বুঝি টলাতে পারবে না।

---------------
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৯৯৭.
‘আগুনের পরশমণি’ কোন বিষয়ের উপর রচিত উপন্যাস?
  1. রাজনীতি
  2. প্রেম ও বিচ্ছেদ
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৯৯৮.
'বুলবুলিস্তান' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) আসকার ইবনে শাইখ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৪,৯৯৯.
'বন্দর থেকে বন্দরে' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুজতবা আলী
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত রম্যরচনা। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- পদ্মিনী শঙ্খিনী, প্রবাসে যখন, বিরাশির কবিতা, উত্তীর্ণ পঞ্চাশ, নদী ও মানুষের কবিতা, সম্ভবা অনন্যা, সূর্য অন্যতর, বিচূর্ণ আর্শিতে, একটি ইচ্ছা সহস্র পালে, কাল সমকাল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,০০০.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থটি রচনা করেন -
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 

- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।