বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪৯ / ১৭৪ · ১৪,৮০১১৪,৯০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,৮০১.
বেগম রোকেয়া কখন এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৮৭০ সালে গাইবান্ধা জেলায়
  2. খ) ১৮৮১ সালে রংপুর জেলায়
  3. গ) ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায়
  4. ঘ) ১৮৭৯ সালে রংপুর জেলায়
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।
এছাড়া তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারের নিকট নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
তার জন্ম ও মৃত্যু তারিখ ৯ ডিসেম্বর।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮০২.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।' - এই উক্তিটি কার?
  1. রঙ্গলাল বন্দোপ্যাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি:

- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮০৩.
'বজ্রস্বত্ব সাধন' কার রচনা?
  1. ক) শবরপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) লুইপা
  4. ঘ) তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন লুইপা 
- লুইপা চর্যাপদে ২টি পদ রচনা করেন।
- লুইপা পদ ৫টি সংস্কৃতগ্রন্থ রচনা করেন।  
সংস্কৃতগ্রন্থ গুলো হলো:
- অভিসময় বিভঙ্গ 
- বজ্রস্বত্ব সাধন 
- বুদ্ধোদয় 
- ভগবদাভসার 
- তত্ত্ব সভাব 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৪,৮০৪.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) উপন্যাসের লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এটি তাঁর প্রথম ও অনেকের মতে শেষ্ঠ উপন্যাস। প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়৷
উল্লেখযোগ্য চরিত্র - অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া ইত্যাদি৷
এই উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৮০৫.
'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাস:
কবিতার মতোই বুদ্ধদেব বসুর একটি উপন্যাস নির্জন স্বাক্ষর। নির্জন স্বাক্ষর নামে জীবনানন্দ দাশের একটি মায়াবী কবিতাও আছে। বুদ্ধদেব বসু শুধুমাত্র নামটিই নয়, উপন্যাসটির বিষয়বস্তুও জীবনানন্দের কাছ থেকে ধার করেছেন। উপন্যাসটির বিষয়বস্তু তিনি নিয়েছেন জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতা থেকে।

- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র- সোমেন।

কাহিনি সংক্ষেপ:
উপন্যাসের নায়ক সোমেন মূলত একজন লেখক। সোমেন প্রথমে অধ্যাপক হিশেবে কলকাতার একটি কলেজে চাকরি নেয়; কিন্তু ঐ চাকরির টাকায় সংসার চালাতে ব্যর্থ হয়ে সে একটি বেসরকারি বিজ্ঞাপন কোম্পানিতে চাকরি নেয়। ফলে সোমেন লেখা বাদ দিয়ে প্রথাগত জীবনে ঢুকে পড়ে। এভাবেই সোমেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে প্রথাগত জীবন চালাতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। চারদিকের জীবন যখন সমুদ্র-স্রোতের মতো ফুলে ফুলে উঠছিলো, সোমেনের জীবন তখন ক্লান্ত হয়ে ভেঙে পড়ছিলো।

সোমেনের এক বন্ধু ঢাকায় থাকতো। সে মারা যাওয়ায়, তার স্ত্রী ও তার দুই সন্তান দেশ-ভাগের সময় ঢাকা ছেড়ে কলকাতা চলে আসে। তারা কলকাতায় আসায় সোমেন তাদের দেখতে যায়। সোমেনের ক্লান্ত, অসহায়, ভেঙে পড়া জীবন যখন আর চলছিলো না, তখন মালতি সেনের শ্রাবস্তীর কারুকার্যময় মুখটি তাকে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিলো। সোমেন একবার নয়, কয়েকবার গিয়েছিলো দু-দন্ড শান্তি পেতে, কিন্তু প্রতিবারই সে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলো দুঃখের গাঁথা মালা এক বিশাল নদী। অবশেষে, প্রতিদিনের টুকরো টুকরো মৃত্যুর বদলে সোমেন গ্রহন করলো এক মুহূর্তের পরম দুঃখ (নাকি পরম শান্তি?)!

--------------------
বুদ্ধদেব বসু রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  'নির্জন স্বাক্ষর' উপন্যাস।
১৪,৮০৬.
'সংস্কৃতির রূপান্তর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. গোপাল হালদার
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির রূপান্তর':
- 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার রচিত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
-  ১৯৪১ সালে সংস্কৃতির রূপান্তর এথম রচিত হয়। বিশ্ব-সংস্কৃতির ধারার একটি বাস্তব অবতরণিকা রচনাই ছিল লেখকের উদ্দেশ্য।
- সেদিকে বোধ হয় সংস্কৃতির রূপান্তরই প্রাথমিক প্রয়াস। তারপর নতুন নতুন সংস্করণে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন-পরিবর্ধনের দ্বারা যথাসাধ্য এ গ্রন্থকে পাঠকের সহায়ক করতেও চেষ্টা করা হয়েছে।

উৎস: 'সংস্কৃতির রূপান্তর' গোপাল হালদার।
১৪,৮০৭.
'অবক্ষয় যুগ' এর স্থায়ীকাল ছিল কত বছর?
  1. ১৫০ বছর
  2. ২০০ বছর
  3. ১০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮০৮.
সংস্কৃত কলেজ কর্তৃক ঈশ্বরচন্দ্রকে কোন উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. গদ্যের জনক
  3. বিদ্যানসাগর
  4. বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ্ন বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮০৯.
'বিচিত্র চিন্তা' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,(১৯৯৮)
- বিচিত্র চিন্তা,(১৯৮৬)
- ষ্বদেশ অন্বেষা,(১৯৭০)
- স্বদেশ চিন্তা,(১৯৯৭)
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা(১৯৬৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮১০.
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ভূমিপুত্র
  2. খ) মাটির জাহাজ
  3. গ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
- এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।
- খোয়াবনামা - তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৮১১.
'তাহমিনা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮১২.
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি কে রচনা করেছেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 
  2. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা
• পল্লিসাহিত্য:
- বিশিষ্ট ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত একটি প্রবন্ধ হচ্ছে - ‘পল্লিসাহিত্য’। 
- ১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলায় পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনীর একাদশ অধিবেশনে ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ সভাপতি হিসেবে যে অভিভাষণ দেন তারই পুনর্লিখিত রূপ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে - 

- অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস হচ্ছে - ‘পল্লিসমাজ’।
- পল্লিকবি জসীম উদদীনের উল্লেখযোগ্য কিছু নাটকের মাঝে রয়েছে - পল্লীবধূ, বেদেরমেয়ে, পদ্মাপাড় ইত্যাদি।
- আবু ইসহাক  বাংলা সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত জনপ্রিয় উপন্যাস গুলির মাঝে রয়েছে - সূর্য দিঘল বাড়ী, পদ্মার পলিদ্বীপ, জাল ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮১৩.
অতুলপ্রসাদ সেন বাংলা কোন গানের প্রবর্তক?
  1. টপ্পা
  2. ঠুমরি 
  3. কবি গান
  4. গজল 
ব্যাখ্যা

• অতুলপ্রসাদ সেন:
-​ বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুলপ্রসাদ সেন।
- ঠুমরি একপ্রকার রাগসঙ্গিত, যার সুর অতি মিষ্টি। সুরের মিষ্টতার কারনেই এর এই নামকরন।
- অতুপ্রসাদ বাংলায় ঠুমরি গানের প্রবর্তক এবং সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীতভুবনে তিনি প্রসিদ্ধতা লাভ করেন।
- মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা - তার অতি বিখ্যাত সৃষ্টি।
- স্বদেশি, ভক্তিগীতি এবং প্রেমে গানে বিভক্ত প্রায় ২০০টি গান তিনি রচনা করেছেন।
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ, ১৯৩১ সালে প্রকাশিত তার গানের সংকলন।

​অন্যদিকে, 
- নিধুবাবু হচ্ছেন বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক।
- গোঁহলা গুঁই, হারু ঠাকুর এবং এন্টানি ফিরিঙ্গি কবিগানের প্রাচীনতম কবি।
- বাংলা গজলের স্রষ্টা কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৮১৪.
'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' শওকত ওসমান রচিত -
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী, চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।
শওকত ওসমান রচিত নাটক -
তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা।
শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৮১৫.
সৈয়দ মুজতবা আলী'র ছদ্মনাম কী?
  1. কাব্য সুধাকর
  2. ওমর খৈয়াম
  3. সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
গোলাম মোস্তফা'র ছদ্মনাম - সিতারা-ই-ইমতিয়াজ, কাব্য সুধাকর।
'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪,৮১৬.
"জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে, মরি যেন ______।"
  1. এই মাটিতে
  2. এই দেশে
  3. তোমার পাশে
  4. এই বাতাসে
ব্যাখ্যা
• "জন্মেছি এই দেশে"- কবিতার রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।
--------------------------
জন্মেছি এই দেশে- কবিতা, 
- সুফিয়া কামাল---সংকলিত (সুফিয়া কামাল)

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।
আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।
----------------------
• সুফিয়া কামাল: 
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, জন্মেছি এই দেশে- কবিতা।
১৪,৮১৭.
‘ইব্রাহিম কার্দি’ মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) চিঠি
  4. ঘ) দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮১৮.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত ব্যঙ্গকাব্য কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. মগের মুলুক
  3. বন্দর থেকে বন্দরে
  4. শোকোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
-   তাকে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়। 
- তিনি ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস ১৯১৮ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসুন,
- প্রেম ও ফুল,
কুঙ্কুম, 
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য), 
- কস্তুরী, 
- চন্দন, 
- ফুলরেণু (সনেট), 
- বৈজয়ন্তী, 
- শোক ও সান্ত্বনা, 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী।
• ‘বন্দর থেকে বন্দরে’ সানাউল হক রচিত একটি রম্যরচনা (ভ্রমণমূলক)।
• 'শোকোচ্ছ্বাস' - গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮১৯.
কোনটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. বীরবাহু কাব্য
  2. চিন্তাতরঙ্গিণী
  3. চিত্তবিকাশ
  4. আশাকানন 
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর 'ভারতসঙ্গীত' কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮২০.
সামাজিক নাটক কোনটি?
  1. ডাকঘর
  2. সধবার একাদশী
  3. নূরজাহান
  4. রাবন বধ
ব্যাখ্যা
'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে। 
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীল দর্পন,
 - নবীন তপস্বিন,
 - লীলাবত,
 - কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
- 'ডাকঘর' রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- 'নূরজাহান'  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত নাটক।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮২১.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দাউদ হায়দার
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• কবি দাউদ হায়দার ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলাতে জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৭৪ সালে নির্বাসিত হন তিনি।
• দাউদ হায়দার সত্তর দশকের একজন আধুনিক কবি।  
• বর্তমানে জার্মানিতে বসবাস করছেন।
• প্রকাশিত গ্রন্থ
- সংগস অব ডেস্পায়ার
- এই শাওনে এই পরবাসে
- বানিশম্যান্ট
- আমি পুড়েছি জ্বালা ও আগুনে 
- অবসিডিয়ান
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ

সূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর )
১৪,৮২২.
‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. শীতলবাবু
  2. ধনঞ্জয়
  3. মোকাজান মিঞা
  4. কুবের
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয়- মোকাজান মিঞা।
- ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।

-------------------------
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮২৩.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. হরিণের হাড়
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা
• 'এলো সে অবেলায়' শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
-
অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- অদ্ভুত আঁধার এক।

• শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তাঁর ডাক নাম বাচ্চু।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
-  প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮২৪.
‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬০ সাল
  2. ১৯৬৫ সাল
  3. ১৯৫৭ সাল
  4. ১৯৫৯ সাল
ব্যাখ্যা

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮২৫.
রফিক আজাদের বিখ্যাত 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. কোনো খেদ নেই
  3. হৃদয়ের কী বা দোষ
  4. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা

• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতা:
- 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
- এ কবিতার একটি বিখ্যাত পঙক্তি হচ্ছে- 'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'।
- 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

--------------------
• রফিক আজাদ:

- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
-তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮২৬.
'আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম' - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী
  2. অপরিচিতা
  3. পোস্টমাস্টার
  4. ছুটি
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' গল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। - আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৮২৭.
'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. মানুষ
  2. দারিদ্র্য
  3. জীবন-বন্দনা
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
ব্যাখ্যা
• 'হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
--- কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সর্বহারা, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৪,৮২৮.
মহাকাব্যের কবি বলা হয় কাকে?
  1. দাউদ হায়দার
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কবি ও আইনজীবী। তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি। বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮২৯.
‘এ নেটিভ’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. রাজশেখর বসু
  2. মধুসূদন মজুমদার
  3. সমরেশ বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
​রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।​

উৎস: বাংলাভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৩০.
জহির রায়হান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. হাজার বছর ধরে
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. বরফ গলা নদী
ব্যাখ্যা

• 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাস:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

"হাজার বছর ধরে" উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো: মন্ত্র, টুনি, এবং বুড়ো মকবুল।

---------------------
• জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৩১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য কোন যুগে প্রবেশ করে?
  1. চৈতন্য যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. উত্তরাধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

১. আদি যুগ :
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

২. মধ্যযুগ :  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

৩.আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৪,৮৩২.
স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন -
  1. ক) নিমজ্জন
  2. খ) হরগজ
  3. গ) মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী
  4. ঘ) স্বর্ণবোয়াল
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।

স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী’ নাটকটি।
- হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷

তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটকঃ
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- ধাবমান ইত্যাদি।

ঊষা উৎসব ও স্বপ্নরমণীগণ ২০০৭ সালে প্রকাশিত নৃত্যনাট্য

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া

১৪,৮৩৩.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি মৌলিক কাব্য-
  1. ক) অভ্র-আবির
  2. খ) তীর্থ-সলিল
  3. গ) তীর্থ-রেণু
  4. ঘ) অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো: সবিতা (১৯০০), সন্ধিক্ষণ (১৯০৫), বেণু ও বীণা (১৯০৬), হোম শিখা (১৯০৭), ফুলের ফসল (১৯১১), কুহু ও কেকা (১৯১২), তুলির লিখন (১৯১৪), অভ্র-আবীর (১৯১৬), হসন্তিকা (১৯১৯), বেলা শেষের গান (১৯২৩), বিদায়-আরতি (১৯২৪), কাব্যসঞ্চয়ন (১৯৩০), শিশু-কবিতা (১৯৪৫) ইত্যাদি। তাঁর অনুবাদ কাব্যগুলি হলো: তীর্থরেণু (১৯১০), তীর্থ-সলিল (১৯১৮), মণিমঞ্জুষা (১৯১৫)।
১৪,৮৩৪.
‘রাজাবলী’ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
‘রাজাবলী’ গ্রন্থের রচিয়তা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলো হলো:
• বত্রিশ সিংহাসন
• হিতোপদেশ
• রাজাবলী
• প্রবোধচন্দ্রিকা 
• বেদান্তচন্দ্রিকা। 

তিনি সংস্কৃত পন্ডিত ছিলেন বলে অনেকেই তাঁকে সামাজিক বিষয়ে রক্ষণশীল বলে বিবেচনা করতেন। বাংলা গদ্যের সূচনা পর্বে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৩৫.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. কালের ধুলোয় লেখা (আত্মস্মৃতি)
  2. কৃষ্ণকুমারী (উপন্যাস)
  3. গো-জীবন (নাটক)
  4. বৃত্তায়ন (গল্পগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
কালের ধুলোয় লেখা:
- শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতি।
- এটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
কৃষ্ণকুমারী:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

গো-জীবন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।

বৃত্তায়ন:
- হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৩৬.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতে, আঠারো বছর বয়স কীসের প্রতীক?
  1. ক) ভীরুতার
  2. খ) আত্মপ্রত্যয়ের
  3. গ) ভয়ের
  4. ঘ) ঝুঁকির
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- আঠারো বছর বয়স যৌবনের, প্রতিবাদের, আত্মপ্রত্যয়ের প্রতীক।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৮৩৭.
১৯৮৫ সালে নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক কে পান?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান:
- সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একজন অধ্যাপক ও লেখক
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি কবিতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭), সুফী মোতাহের হোসেন স্বর্ণপদক (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩), মধুসূদন স্বর্ণপদক (১৯৮৫) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৩৮.
হুমায়ূন আহমেদের পৈত্রিক বাড়ি কোথায়?
  1. নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে
  2. সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে
  3. নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়
  4. গাজীপুরের কালীগঞ্জে
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৩৯.
'হিতকরী' পত্রিকা'র সম্পাদক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. শেখ আবদুর রহিম
  3. আহমদ ছফা
  4. কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে, 
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম সুধাকর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - স্বদেশ। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৪০.
বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের -
  1. প্রথম কবিতা
  2. দ্বিতীয় কবিতা
  3. তৃতীয় কবিতা
  4. সর্বশেষ কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৪১.
মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1.  রূপার কৌটা
  2. কবর 
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নষ্ট ছেলে
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
- ‘মানুষ’ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- ‘নষ্ট ছেলে’ রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- ‘দণ্ডকারণ্য’ তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৪২.
আবদুল্লাহ আল মামুন এর প্রকাশিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) শপথ
  3. গ) শেষ নবাব
  4. ঘ) কালবেলা
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক

• তার রচিত অন্যান্য নাটক
- শপথ (১৯৬৪),
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- চারদিকে যুদ্ধ (১৯৮৩),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪) ইত্যাদি।

উৎসঃ ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪,৮৪৩.
কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. অর্কেষ্ট্রা
  2. সংবর্ত
  3. উত্তরফাল্গুনী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৪৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. পথের দাবী
  2. পথের পাঁচালী
  3. পরিণীতা
  4. পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় - পথের পাঁচালী
- এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৪৫.
'আত্মহত্যার অধিকার' কে লিখেছেন?
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল ফজল
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আত্মহত্যার অধিকার:
- আত্মহত্যার অধিকার - গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত একটি অন্যতম বিখ্যাত গল্প।
- একটি দরিদ্র পরিবারের লাঞ্ছিত জীবন কাহিনি নিয়ের রচিত গল্পটি।
- গরিব নীলমণির যে কষ্টের কাহিনি এবং সেই সাথে তাঁর মেয়ে শ্যামা কষ্টকে দলিত করে যেভাবে তার জীবনের রস আস্বাদনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, গল্পে সে আসক্তিকেই বড় করে দেখানো হয়েছে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম ‘অতসী মামী’ বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘প্রাগৈতিহাসিক’। এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।,

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- অতসী মামা 
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- বৌ,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৪৬.
'বিমুখ প্রান্তর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর (প্রথম প্রকাশিত),
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন ও
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৮৪৭.
‘নবকুমার’ ও ‘কাপালিক’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

=============
⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

•  বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও 
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৪৮.
বেগম রোকেয়া রচিত 'অবরোধবাসিনী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. ছোটগল্পের সংকলন
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৪৯.
‘কবি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ।
- এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে? ' সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 'কবি' নামে হুমায়ূন আহমেদেরও একটি উপন্যাস রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৫০.
"অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
"অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- পঙক্তিটি 'উটপাখি' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ক্লাসিক কবি হিসেবে বিখ্যাত।
- তিনি পঞ্চপান্ডের একজন।
- তিনি 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

বিখ্যাত কাব্য গ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেস্ট্রা, 
- ক্রন্দসী( বিখ্যাত কবিতা 'উটপাখি'),
- প্রতিধ্বনি, 
- দশমী, প্রভৃতি।

প্রবন্ধ:
- কাব্যের মুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৫১.
'হিতকরী' পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. রাজশাহী
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৫২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. তরুণের বিদ্রোহ
  2. পরিণীতা
  3. বিধু মাস্টার
  4. সতী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর সাহিত্যকর্ম নয় - বিধু মাস্টার
- এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট. উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৫৩.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা কোনটি?
  1. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ওঙ্কার
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- ১৯৭৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন শিল্পী তাঁর উপন্যাসে।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
এছাড়া,
- 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'ওঙ্কার' আহমদ ছফার উপন্যাস।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ। [লিঙ্ক]
১৪,৮৫৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশের কোথায়?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) নওগাঁ
ব্যাখ্যা
খুলনার ফুলতলা উপজেলার একটি গ্রাম দক্ষিণডিহি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী এই গ্রামের মেয়ে। তাদের বিয়েও হয়েছিল এই গ্রামে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৮৫৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম -
  1. দিকশূন্য ঠাকুর
  2. টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  4. কিশোর পাকড়াশী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - দিকশূন্য ভট্টাচার্য।
------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।
------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'। 
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৫৬.
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৪০ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
-'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য। তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে। পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

 - ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমিদারদের সহায়তার কারণে পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ততটা জোরালোভাবে সমালোচনা না করে বরং শাসকদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তবে, নীলচাষের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সংবাদ প্রভাকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৫৭.
"মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব" - উক্তিটি কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. রক্তকরবী
  2. কালান্তর
  3. সভ্যতার সংকট
  4. মুক্তধারা
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ কালান্তর। এটি প্রথমে ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৪১ সালে নতুন প্রবন্ধ যুক্ত হয়। ‘সভ্যতার সংকট’ তার অন্যতম।
- সভ্যতার সংকট প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উল্লিখিত উক্তিটি করেছেন।

সুতরাং, প্রশ্নে প্রবন্ধের কথা উল্লেখ থাকলে উত্তর হবে ‘সভ্যতার সংকট’ আর গ্রন্থের কথা বললে উত্তর হবে ‘কালান্তর’।
----------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- মানুষের ধর্ম
- কালান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৫৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন কোনটি?
  1. সোনালী কাবিন
  2. সনেট-পঞ্চাশৎ
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা

• ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

অন্যদিকে, 
• আল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত সনেট-সম্পর্কিত গ্রন্থ হলো "সোনালী কাবিন" (১৯৭৩), যেখানে ১৪টি সনেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তাকে ব্যাপক পরিচিতি দেয়। 
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' হলো বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক ও প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ১৯১৩ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। 
• 'অশোকসঙ্গীত' হলো কবি কামিনী রায়ের লেখা একটি উল্লেখযোগ্য সনেট সংগ্রহ। 

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৫৯.
‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার লেখক কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. শামসুর রাহমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুল হক 
ব্যাখ্যা

 ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার লেখক হচ্ছেন শামসুর রাহমান। 

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈত্রিক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল ‘বাচ্চু’।
- মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো "স্বাধীনতা তুমি" এবং "তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা"।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তিনি প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ: আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার।
- শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

কবিতা সমূহ:
- প্রথম গান,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৮৬০.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. নবান্ন
  2. নুরলদীনের সারা জীবন
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ। 
• নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক - কুলীনকুলসর্বস্ব।
• ‘সুবচন নির্বাসনে’ আবদুল্লাহ আল মামুনের একটি বিখ্যাত নাটক। নাটকের পটভূমি দেশের একটি মধ্যবিত্ত পরিবার।

------------------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত অপরাপর নাটকগুলো হলো:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৬১.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গোরা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) ঘরে বাইরে
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চোখের বালি হলো বাংলা সাহিত্যে প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো - মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী প্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৮৬২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. চোখের বালি
  3. ঘরে-বাইরে
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রোমান্টিক মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো: অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল।

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৮৬৩.
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' ভ্রমণকাহিনি রচনা করেছেন -
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন:
- 'বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন' মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৬৪.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ
  2. অনুবাদগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' একটি - কাব্যগ্রন্থ।
কবির অসংখ্য গ্রন্থের মধ্যে ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত’কে সেরা সংকলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সৈয়দ আলী আহসান:
-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য,
উপমা ব্যবহারে জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে তার পার্থক্য এই যে জীবনানন্দে আছে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপমা আর সৈয়দ আলী আহসান প্রধানত ব্যবহার করেছেন বিমূর্ত উপমা। তার ‘একশ সন্ধ্যায় বসন্ত’ কাব্য সংকলনের শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘প্রার্থনা’ ও ‘আমার পূর্ববাংলা’ কবিতাদ্বয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৬৫.
'বিশ শতকে বাঙালী' প্রবন্ধ গবেষণাটি কার?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯): শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।

প্রবন্ধ গবেষণা:
- বিচিত চিন্তা (১৯৬৮),
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা (১৯৬৯),
- স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০),
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে (১৯৭০),
- প্রত্যয় ও প্রত্যাশা (১৯৭১),
- যুগ যন্ত্রণা (১৯৭৪),
- কালের দর্পণে স্বদেশ (১৯৮৫),
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা (১৯৮৭),
- বাঙলার বিপ­বী পটভূমি (১৯৮৯),
- বাঙলাদেশের সাম্প্রতিক চালচিত্র (১৯৯০),
- মানবতা ও গণমুক্তি (১৯৯০),
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব (১৯৯২),
- প্রগতির বাধা ও পন্থা (১৯৯৪),
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা (১৯৯৪),
- স্বদেশ চিন্তা (১৯৯৭),
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা (১৯৯৭),
- বিশ শতকে বাঙালী (১৯৯৮),
- বিশ্বাসবাদ, বিজ্ঞানবাদ, যুক্তিবাদ, মৌলবাদ (২০০০) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৬৬.
মুনির চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. মেঘনাদবধ
  2. রাঙা জবা
  3. মহাশ্মশান
  4. বারি দ্য ডেড
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।

• রক্তাক্ত প্রান্তর:
- এটি মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।
- নাটকে ইব্রাহীম কার্দির স্ত্রী জোহরা বেগম।
- নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:

- কবর
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৬৭.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'সৌরভ' উপন্যাসটির পটভূমি-   
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. গ্রামীণ জীবন 
  4. ১৯৪৭ এর দেশভাগ 
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- সৌরভ।

• সৌরভ:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক প্রথম উপন্যাস ‘সৌরভ’।

- উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকা শহরের সাধারণ মানুষের ভয়, আতঙ্ক ও দৈনন্দিন বেঁচে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে কাহিনি গড়ে উঠেছে। 
------------------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• আজ রবিবার;
• কোথাও কেউ নেই।

- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• সৌরভ;
• জোছনা ও জননীর গল্প;
• শ্যামল ছায়া;
• ১৯৭১;
• অনীল বাগচীর একদিন;
• আগুনের পরশমনি।

- এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে:
• নন্দিত নরকে;
• শঙ্খনীল কারাগার;
• লীলাবালি;
• বাদশা নামদার।

- দেয়াল হুমায়ূন আহমেদ রচিত সর্বশেষ উপন্যাস।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
• আগুনের পরশমণি;
• শ্রাবণ মেঘের দিন এবং
• শ্যামল ছায়া, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৬৮.
'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৬৯.
বাংলা সাহিত্যে কোন কবি 'ছান্দসিক' হিসেবে পরিচিত?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৭০.
নুরুল মোমেন রচিত কমেডি নাটক কোনটি?
  1. আলোছায়া
  2. নেমেসিস
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. রূপার কৌটা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আলোছায়া’ নাটক:
- আলোছায়া’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত একটি কমেডি।
- নাটকটি ভালোমন্দের প্রতীক।
- নাটকের মূল বক্তব্য হচ্ছে- ‘ভালো বা আলোর প্রভাব যার মধ্যে সে-ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কালো বা ছায়ার প্রাধান্যধারীরা স্মরণযোগ্য হবেন না।’
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো: হাম্মাদ, জামিল, জাহানারা, সুলতান, পারভীন।

==============
⇒ নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

অন্যদিকে,
মুনীর চৌধূরী রচিত নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৭১.
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. হারেম
  3. সূর্য দীঘল বাড়ি 
  4. জাল
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৭২.
রোমান কবি ওভিদের 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুকরণে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'বীরাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বীরাঙ্গনা কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য, যা ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কবি ওভিদের 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুকরণে এই কাব্যটি রচিত।

- এই কাব্যে পুরাণের এগারো জন বীরাঙ্গনা নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের স্বামী বা প্রেমাস্পদদের লেখা পত্রের মাধ্যমে নিজের মনের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৭৩.
'পদ্মানদীর মাঝি' - এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি?
  1. মজিদ
  2. কুবের
  3. মালেক
  4. গোরা 
ব্যাখ্যা

'পদ্মানদীর মাঝি'-এর উল্লেখযোগ্য চরিত্রটি হচ্ছে কুবের। 

পদ্মানদীর মাঝি:

- ‘পদ্মানদীর মাঝি’ নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে পূর্বাশা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসের মূল কাহিনি পদ্মা নদীর তীরে বসবাসরত ধীবরদের জীবন ও তাঁদের দৈনন্দিন সংগ্রাম নিয়ে গঠিত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু ও হোসেন মিঞা।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৮ সালের ২৯ মে, পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়; ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী (১৯৩৫),
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫),
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬),
- শহরতলী (১৯৪০-৪১),
- চিহ্ন (১৯৪৭),
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮),
- সার্বজনীন (১৯৫২),
- আরোগ্য (১৯৫৩)।

উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭),
- সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩),
- হলুদ পোড়া (১৯৪৫),
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০),
- ফেরিওয়ালা (১৯৫৩)।

অন্যদিকে,
- মজিদ চরিত্রটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু উপন্যাসের একটি চরিত্র। 
- মালেক চরিত্রটি সেলিনা হোসেনের পোকামাকড়ের ঘরবসতি উপন্যাসের একটি চরিত্র। 
- গোরা চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথেরব গোরা উপন্যাসের একটি চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৭৪.
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত 'কীর্তিবিলাস' হচ্ছে একটি-
  1. হাস্যরসাত্মক নাটক
  2. মধুরান্তিক নাটক
  3. ঐতিহাসিক নাটক
  4. বিয়োগান্ত নাটক
ব্যাখ্যা
বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে। যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস', তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বছরেই প্রকাশিত নাটক।

• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে কীর্তিবিলাস নাটকটি রচিত। বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য। পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

• ভদ্রার্জুন ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক। ভদ্রার্জুন নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৪,৮৭৫.
"জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?" অবিস্মরণীয় আহবানটি কোন লেখকের রচনা?
  1. হুমায়ূন আহমেদ 
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান 
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• "জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?"- বিখ্যাত সংলাপটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারাজীবন' নাটকে উধৃত হয়েছে।

• 'নুরুলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- "নুরুলদীনের সারাজীবন" (১৯৮২) ১৪টি দৃশ্যে সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। 'নূরলদীনের সারাজীবন' তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচিত।
- এই নাটকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোন্‌ঠে সবাই'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৭৬.
'জীবনে সমাজে সাহিত্যে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আহমদ শরীফ
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'জীবনে সমাজে সাহিত্যে' গ্রন্থটির রচয়িতা - আহমদ শরীফ
- এটি তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৭৭.
‘আগুনের পরশমণি’ উপন্যাসে কোন শহরের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৭৮.
'বন্ধু-বিয়োগ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

•  বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ 'বন্ধু-বিয়োগ'। 

-------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো: পূর্ণিমা, সাহিত্য সংক্রান্তি ও অবোধ বন্ধু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৭৯.
কোনটি কবি জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. নজর মিয়াঁ 
  2. ভুগঙ্গর আলী
  3. জমীরউদ্দীন মোল্লা
  4. মৈনাক
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন 'জমীরউদ্দীন মোল্লা' ছদ্মনামে লিখতেন। 

 উল্লেখ্য, 
• "তুজম্বর আলি" জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম।

• ১৯৭১ সালে বাঙলার দুর্দিনের সময় বেঁচে ছিলেন মহান কবি জসীম উদ্‌দীন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' নামে একটি কবিতা সংকলন ছাপিয়েছিলেন। সংকলনের 'লেখকের কথা' অংশে জসীম উদ্‌দীন জানান- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই সংকলনের কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠান হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
• বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
• মৈনাক, নেপথ্যে প্রভৃতি ছদ্মনামে কবি শামসুর রহমান কবিতা লিখতেন।

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৮০.
কোন দুটি রচনা একই শ্রেণির?
  1. ক) গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
  2. খ) ডাকঘর ও শ্রীকান্ত
  3. গ) নীলদর্পণ ও বিষাদ-সিন্ধু
  4. ঘ) লালসালু ও বলাকা
ব্যাখ্যা

অপশন-(ক):
গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ।
অগ্নিবীণা কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
অর্থ্যাৎ উল্লেখিত দুটি গ্রন্থই কাব্যগ্রন্থ।

অপশন-(খ):
ডাকঘর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক।
শ্রীকান্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জীবনচরিত মূলক উপন্যাস।

অপশন-(গ):
নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা নাটক।
বিষাদ-সিন্ধু মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক উপন্যাস।

অপশন-(ঘ):
লালসালু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস।
বলাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া

১৪,৮৮১.
মামাগো! নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আসাদ চৌধুরী
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
মামাগো! নাটকটির রচয়িতা সুকুমার রায়।

• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল (১৯২৩),
- হ-য-ব-র-ল (১৯২৪),
- পাগলা দাশু (১৯৪০),
- বহুরূপী (১৯৪৪),
- খাইখাই (১৯৫০),
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৮২.
ব্যঙ্গ-রসাত্মক রচনা কোনটি?
  1. নেমেসিস
  2. যদি এমন হত
  3. ফুড্ কনফারেন্স
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
• ‘ফুড কনফারেন্স’ গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।
- এ বইয়ের গল্পগুলোতে বিশ শতকের ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সংঘটিত ঘটনার চালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে রঙ্গব্যঙ্গের সরসতায়। হাস্যরসের অন্তরালে নিহিত কঠোর সমাজবাস্তবতা আজও পাঠককে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। লেখক প্রায় আশি বছর আগের নানা অসংগতিকে কেন্দ্র করে রসের চাবুকে যে আঘাত হেনেছিলেন, বর্তমানে পাঠক সেই আঘাতের প্রয়োজনীতা আরও বেশি করে অনুভব করবেন।

---------------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৭৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ফুড কনফারেন্স’ গল্পগ্রন্থ।
১৪,৮৮৩.
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
  2. বন্দী শিবির থেকে 
  3. বিধ্বস্ত নীলিমা
  4. রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা

‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’ কবিতাটি বন্দী শিবির থেকে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রতি।
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ৩৮ টি কবিতা এ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে।

• শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘বন্দী শিবির থেকে’ এর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে, ইত্যাদি। 

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈত্রিক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল ‘বাচ্চু’।
- মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো "স্বাধীনতা তুমি" এবং "তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা"।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তিনি প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ: আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার।
- শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৮৮৪.
ফররুখ আহমদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. মাগুরা
  3. বারাসত
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৮৫.
কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে কোন রীতির প্রবর্তক ছিলেন?
  1. নাট্যরীতি
  2. চলিত রীতি
  3. ছদ্মনামী রীতি
  4. হুতোমী বাংলা রীতি
ব্যাখ্যা

কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে হুতোমী বাংলা রীতির প্রবর্তক ছিলেন। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মী।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘হুতোমী বাংলা’ রীতির প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সভার সদস্যরা সাপ্তাহিক মিলিত হয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।
- তিনি ‘হুতোম প্যাঁচা’ ছদ্মনামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৮৬.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'- এর রচয়িতা-
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৮৭.
"অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) নৌফেল ও হাতেম
  2. খ) সিরাজাম মুনীরা
  3. গ) মুহূর্তের কবিতা
  4. ঘ) সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি ফররুখ আহমদ রচিত ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের 'পাঞ্জেরি' কবিতার অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৮৮.
‘ছায়াহরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব, (১৯১৭-১৯৮৫) কবি ও সাংবাদিক।
• ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি
- ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১),
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১),
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪),
- নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭),
- একুশে পদক (১৯৭৮), 
• ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।  

• কাব্যগ্রন্থ
- রাত্রিশেষ 
- ছায়াহরিণ 
- সারা দুপুর 
- আশায় বসতি 
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো 
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর 

• উপন্যাস
- রাণী খালের সাঁকো 
- আরণ্য নীলিমা 
- জাফরানী রং পায়রা

• শিশু সাহিত্য
- জোছনা রাতের গল্প
- ছুটির দিন দুপুরে
- বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
- রেলগাড়ি ঝমামমে
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প
- ছোট মামা দি গ্রেট
- পাখিরা ফিরে আসে

• সম্পাদিত গ্রন্থ
- কাব্যলোক
- বিদেশের সেরা গল্প

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৮৯.
ইতিহাস-আশ্রিত নাটক কোনটি?
  1. নীলদর্পণ
  2. বিষাদ সিন্ধু
  3. কীর্তিবিলাস
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- "মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।"- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটভিত্তিক প্রতিবাদমূলক নাটক।
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের বাংলা মৌলিক/সামাজিক নাটক 'কীর্তিবিলাস'। 
• 'বিষাদ সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৯০.
কোনটি আবুল ফজল রচিত দিনলিপি?
  1. চৌচির
  2. রেখাচিত্র
  3. মাটির পৃথিবী
  4. প্রদীপ ও পতঙ্গ
ব্যাখ্যা

• রেখাচিত্র:
- ​"রেখাচিত্র" আবুল ফজল রচিত একটি দিনলিপি, যেখানে তিনি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। 
​- এটি তার আত্মজীবনীমূলক রচনার একটি অংশ।

​--------------------
​• আবুল ফজল:

- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।

​তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৯১.
সুফিয়া কামালের কবিতা কোনটি?
  1. ঝরাপাতা
  2. কবর
  3. হেমন্ত সন্ধ্যায়
  4. তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে:
- শীর্ষক কবিতাটি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়া থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এই কবিতাটি প্রথম ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি একটি সংলাপ নির্ভর রচনা।

সুফিয়া কামাল:
-
তিনি একাধারে কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী ছিলেন।
-  জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি পেশায় ছিলেন উকিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৯২.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’ — বিখ্যাত উক্তিটি ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের কোন চরিত্রের?
  1. জোহরা
  2. হিরণবালা
  3. ইব্রাহিম কার্দি
  4. নবাব সুজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৮৯৩.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. শওকত আলী
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- পঞ্চগ্রাম,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা ,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৯৪.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. খোয়াবনামা
  2. কি চাহ শঙ্খচিল
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
• 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।

- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন। যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি। যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক। নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস 'খোয়াবনামা' (১৯৯৬)।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।
• সরদার জয়েনউদ্দিনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপাদানে রচিত একটি বৃহৎ উপন্যাস 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ'।

উৎস: 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৯৫.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো।' এই উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. হুমায়ুন আহমেদ
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন,
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন 
 -আসাদ 
- রসুল 
- সালমা

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৮৯৬.
"সমৃদ্ধির সার্থকতা শুধু প্রাচুর্যে নয়, সেই সঙ্গে চাই ত্যাগের নিরাসক্তি"- মর্মকথাটি রবীন্দ্রনাথের কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নটীর পূজা
  2. চণ্ডালিকা
  3. বসন্ত
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্ত' নাটক: 
- ‘বসন্ত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য। এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকের বিষয় যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান। 
- কাজী নজরুল ইসলাম যখন জেলে বসে অনশন করেন তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৯২৩) উৎসর্গ করে অনশন ভঙ্গ করার আহ্বান জানান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন।কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।
- বসন্ত ঋতুনাট্যে রয়েছে গানের প্রাধান্য, গল্প বলতে আছে অতি সামান্য কিছু।
- "সমৃদ্ধির সার্থকতা শুধু প্রাচুর্যে নয়, সেই সঙ্গে চাই ত্যাগের নিরাসক্তি"- বসন্তের মর্মকথা এটাই।

অন্যদিকে,
• চণ্ডালিকা (১৯৩৩) সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক। এর কথাবস্তু পালি শার্দুল-কর্ণাবদলা থেকে গৃহীত। ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ এই নাটকটিকে নৃত্যনাট্যে রূপ দেন। কথা সুরের সমন্বয়ে এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি।

• ‘নটীর পূজা' (১৯২৬) একটি নাটক। কথা ও কাহিনী'র অন্তর্গত পূজারিণী কবিতাটির আখ্যান অবলম্বনে রবীন্দ্রনাথ এই নাটক রচনা করেন। মূল কাহিনিটি বৌদ্ধগ্রন্থ থেকে গৃহীত। গান ও নৃত্য সমন্বিত নাটক 'নটীর 'পূজা'।

• ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক। রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৮৯৭.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. চৈতালী ঘূর্ণি
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. অরণ্যবহ্নি
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
-  ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
-  ১৯৭১ সালেরই ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় লেখকের।

সাহিত্যকর্ম
- তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনি। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। 
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

 তাঁর রচিত উপন্যাস:

- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।


তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি
- বেদেনী
- ডাকহরকরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৮৯৮.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীনের প্রধান গ্রন্থগুলো হলো- পোড়াজমি বা অনাবাদি জমি, কচিপাতা, দৃষ্টিকোণ, ত্রিস্রোতা, নতুন দেশ নতুন চীন, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত জীবনের স্মৃতি (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৮৯৯.
রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক বলা হয় কাকে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক বলা হয় বুদ্ধদেব বসুকে। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।
Source: LiveMCQ Lecture
১৪,৯০০.
স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক গণকণ্ঠ
  2. দৈনিক আজাদ
  3. দৈনিক মুক্তবাণী
  4. দৈনিক গণকণ্ঠস্বর
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।