বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪৭ / ১৭৪ · ১৪,৬০১১৪,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,৬০১.
September on Jessore Road- কবিতার রচয়িতা অ্যালেন গিন্সবার্গ কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) কানাডা
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।

- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
১৪,৬০২.
বাংলা সাহিত্যে আবু সায়ীদ আইয়ূব এর অবদানের প্রধান ক্ষেত্র কোনটি?
  1. কাব্য সাহিত্য
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• আবু সয়ীদ আইয়ুব:
- আবু সয়ীদ আইয়ুব (১৯০৬-১৯৮২)  বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক।
- কলকাতায় ওয়েলেসলি স্ট্রিটে পিতামহের বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- বাংলা সাহিত্যে আবু সায়ীদ আইয়ুবের অবদানের প্রধান ক্ষেত্র হল প্রবন্ধ।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধকে একটি গভীর ও পরিপূর্ণ রচনা রূপ দেন।
- তাঁর প্রবন্ধগুলিতে দার্শনিক চিন্তা, সমাজ-রাজনীতির বিশ্লেষণ এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির গভীর পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়।
- রবীন্দ্রনাথ, গালিব প্রভৃতি কবিদের কাজ সম্পর্কে তাঁর গভীর বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সাহিত্য চর্চাকে তিনি উন্নীত করে তুলেছেন তাঁর সূক্ষ্ম প্রবন্ধরচনার মাধ্যমে

তাঁর প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবিভ্রাট ও অপরোক্ষানুভূতি,
- সুন্দর ও বাস্তব,
- পথের শেষ কোথায়।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ।

- আবু সয়ীদ আইয়ুব ১৯৬৯ সালে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে দিল্লির ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’ এবং ১৯৭১ সালে বিশ্বভারতীর ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি লাভ করেন।
-  ১৯৮০ সালে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে ‘রবীন্দ্র তত্ত্বনিধি’ উপাধি প্রদান করে। - ১৯৮২ সালের ২১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬০৩.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কাকে ‘সাহিত্যরত্ন ও বিদ্যাভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. কালিদাস রায়
  2. কায়কোবাদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ’  ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬০৪.
কবি কায়কোবাদের জন্ম কোথায়?
  1. রংপুর
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার  নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন ,
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য)  
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য)
- শিব-মন্দির 
- অমিয়ধারা 
- শ্মশান-ভস্ম 
- মহরম শরীফ 

- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সোমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৪,৬০৫.
'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• 'সাজাহান' নাটক:
- 'সাজাহান' মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

-------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী, 
- পুনর্জন্ম,
- এ্যহস্পর্শ,
- আনন্দ বিদায়,
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই,
- রানা প্রতাপসিংহ,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬০৬.
নিম্নের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) শিউলিমালা
  3. গ) ব্যাথার দান
  4. ঘ) রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ- 
- ব্যাথার দান 
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে- মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী।
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬০৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'চাচা কাহিনী' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে প্রধানতম। প্রায় প্রতিটি গল্পই বিদেশের পটভূমিকা রচিত।
- বিদেশে বিশেষ করে বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ বয়স্ক ছাত্রদের নিয়েই রচিত। অনেক গল্প। স্বয়ং লেখক যৌবনে বার্লিন প্রবাসী ছাত্র ছিলেন। সে সময়কার নানা কাহিনী গল্পাকারে পরিবেশন করেচেন চাচা কাহিনীতে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কলমে খাঁটি দেশী যাদু সেরা বিদেশী পলিশে সারাক্ষণ ঝকঝক করছে। চাচা কাহিনীর মতো এমন বিশুদ্ধ উপাদেয় আন্তর্জাতিক রসিকতা বাংলা ভাষায় অন্তত আগে কখনও পড়া যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:

- তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬০৮.
'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সেলিম আল-দীন
ব্যাখ্যা
'হাজার বছর ধরে':
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র।
- আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 
 
তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬০৯.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প কোনটি?
  1. পথ জানা নাই
  2. ভালো মানুষের জগৎ
  3. প্রস্তর ফলক
  4. বাবা আপনে যান
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প - ভালো মানুষের জগৎ

অন্যদিকে, 
- শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত গল্প - পথ জানা নাই।
- শওকত ওসমান রচিত গল্প - প্রস্তর ফলক।
- শওকত আলী রচিত গল্প - বাবা আপনে যান।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা, 
- দ্বিতীয় ভুবন, 
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী, 
- অনতিক্রান্তবৃত্ত, 
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক, 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ, 
- বাঙালি কাকে বলি, 
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে, 
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া, 
- নেতা জনতা ও রাজনীতি, 
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি, 
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ, 
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ

• তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৪,৬১০.
"প্রবাসের দিনলিপি" গ্রন্থের লেখিকা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• "প্রবাসের দিনলিপি":
- ঘাতক ক্যান্সার ব্যাধির সঙ্গে লড়তে গিয়ে জাহানারা ইমামকে প্রায় প্রতি বছরই যেতে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে। যখনি কোন উপসর্গ দেখা দেয় তখনি ডাক্তারের নির্দেশে তাকে ছুটে যেতে হয় সেখানে। এর আগে ক্যান্সারের সাথে বসবাস' বইতে জাহানারা ইমাম লিখেছেন কিভাবে এই ঘাতকের সঙ্গে তিনি যুদ্ধের সূচনা করেছেন। 'প্রবাসের দিনলিপি' সেই যুদ্ধেরই সম্প্রসারিত প্রেক্ষাপট।

- তবে এ বইতে তিনি শুধু নিজের কথাই লেখেন নি, লক্ষ লক্ষ আমেরিকান তরুণ তরুণী, শিশু-কিশাের কিভাবে লড়ছে। অন্য সব ঘাতক ব্যাধির সঙ্গে তারও অন্তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ এতে পাওয়া যাবে। যদিও দিনলিপির আঙ্গিকেই লেখা হয়েছে পুরাে বই, শুধুমাত্র দৈনন্দিন জীবনের কর্মপ্রবাহের বিবরণের ভেতর লেখক সীমাবদ্ধ থাকেন নি।

- একজন অনুসন্ধিৎসু লেখকের পক্ষে তা সম্ভবও নয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই গ্রন্থে পরিবেশিত হয়েছে আমেরিকান সমাজ, নর-নারীর বিচিত্র সম্পর্ক, প্রবাসী বাঙালীদের জীবন এবং আরাে বহু কিছু। এসবই বর্ণিত হয়েছে উপন্যাসের মতাে চিত্তাকর্ষক এবং দিনলিপির নৈর্ব্যক্তিক ভঙ্গিতে যা এই গ্রন্থের আবেদনকে বহুমাত্রিক করেছে।

উৎস: "প্রবাসের দিনলিপি"।
১৪,৬১১.
কাজী নজরুল ইসলামের লেখা উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) চক্রবাক
  2. খ) মৃত্যুক্ষুধা
  3. গ) বাধনহারা
  4. ঘ) কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
মৃত্যুক্ষুধা, বাধনহারা ও কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৬১২.
'তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'তিলোত্তমাসম্ভ' কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪,৬১৩.
‘সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা’ – গ্রন্থের রচয়িতা –
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) এস. ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত গ্রন্থ হলোঃ সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, বিচিত্র চিন্তা, একালে নজরুল, স্বদেশ চিন্তা, বিশ শতকের বাঙালী, বাংলার পটভূমি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৬১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. খেয়া
  2. আকাশ-প্রদীপ
  3. বসন্ত
  4. তন্বী
ব্যাখ্যা
⇒ 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের শেষ পর্বের রচনাগুলোর একটি।
- খেয়া কাব্যগ্রন্থটি ৫৫টি কবিতার সংকলন।
- এ সংকলনের কবিতাগুলির মধ্যে ক্লান্তি ও বিষাদের সুর প্রাধান্য পেয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছেন। 
- কবিতাগুলোতে জীবনের ব্যথাবেদনার ও বিচিত্র অনুভবের মধ্যে চরম শ্রেয়োলাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত।
 
অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেছেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বসন্ত' গীতিনাট্যটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন। 

---------------------
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- খেয়া, 
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬১৫.
বাংলা সাহিত্যের কোন কবি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) দ্বিজেন্দ্র লাল রায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের জাতীয় সঙ্গীত Jana Gana Mana' এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'র রচয়িতা। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া
১৪,৬১৬.
“মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।” - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আহমদ ছফা
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬১৭.
নাটকে ‘গৈরিশ ছন্দের’ প্রবর্তন করেন কে?
  1. রামায়ণ তর্করত্ন
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম। যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন।
- গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষের কোন কোন নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।
- গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৬১৮.
'Making of a Nation Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কামাল হোসেন
  2. খ) এস. এ. করিম
  3. গ) নুরুল ইসলাম
  4. ঘ) আনিসুর রহমান
ব্যাখ্যা
Making of a Nation, Bangladesh: An Economist's Tale - বইটির রচয়িতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।

১৪,৬১৯.
নিচের কোনটি বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কুচঁবরণ কন্যা
  2. খ) অনুরাগ
  3. গ) জ্ঞানের আলো
  4. ঘ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
‘অনুরাগ’ হলো বন্দে আলী মিয়া রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম :
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ।

- জ্ঞানের আলো বন্দে আলী মিয়া রচিত একটি পত্রিকা।
তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম :
- কিশোর পরাগ,
- জ্ঞানের আলো,
- শিশুবার্ষিকী।

- কুচঁবরণ কন্যা ও রূপকথা বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম :
- চোর জামাই, 
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ,
- রুপকথা।

 শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য যে সকল পুরস্কার লাভ করেন : 
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),
- প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং 
- উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬২০.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মতিচূর
  2. খ) সুলতানার স্বপ্ন
  3. গ) পদ্মগোখরা
  4. ঘ) অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত - বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
- রোকেয়ার তার নারীবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন মতিচূর প্রবন্ধসংগ্রহের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে।
তার সৃজনশীল রচনার মধ্যে অন্যতম - সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি।
'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্প।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬২১.
জীবনানন্দ দাশের 'হায় চিল' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) সাতটি তারার তিমির
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

'হায় চিল' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- এই কবিতার সঙ্গে ইয়েটস এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল আছে। 
কবিতাটি হলো -
"হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে-উড়ে ধানসিড়ি নদীটির পাশে!"
========
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪):
- কবি, শিক্ষাবিদ জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রবিরোধী বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি।
- ড. হুমায়ূন আজাদের মতে, পঞ্চপাণ্ডব বাংলা কবিতায় আধুনিকতা আনায়ন করেন।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - ঝরাপালক; যা প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬),
- বনলতা সেন (১৯৪২),
- মহাপৃথিবী (১৯৪৪),
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮),
- রূপসী বাংলা (রচনাকাল ১৯৩৪, প্রকাশকাল ১৯৫৭),
- বেলা অবেলা কালবেলা (১৯৬১)। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ এবং বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ।

দ্রষ্টব্য:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বইয়ে "হায় চিল" কবিতাটি "মহাপৃথিবী" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বলা হয়েছে, যা ভুল

১৪,৬২২.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাখালী
  2. খ) আর্যগাথা
  3. গ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪): কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। এই কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলো। জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি। বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের রচিত জনপ্রিয় কবিতা।
‘আর্যগাথা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। ‘সোনালী কাবিন’ আল মাহমুদ রচিত কাব্য গ্রন্থ। ‘রাখালী’ পল্লীকবি জসীম উদ্দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১৪,৬২৩.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. কালান্তর 
  2. সভ্যতার সংকট
  3. মানুষের ধর্ম
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা

• 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ উক্তিটি 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে বলেছেন।

• 'সভ্যতার' সংকট:
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ রচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'।

উল্লেখ্য,
• 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধ গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কালান্তর' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৬২৪.
কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) মহাকাব্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) গীতিকাব্য
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দুটি- 
গীতিকাব্য - অশ্রুমালা
মহাকাব্য - মহাশ্মশান। 

কায়কোবাদের খণ্ড কবিতাগ্রন্থ 'অশ্রুমালা'। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়। 

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬২৫.
’গোলাম মোস্তফা’ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিশ্বনবী
  2. বুলবুলিস্তান
  3. উত্তর বসন্ত
  4. দিলরুবা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
• আবদুল কাদির রচিত কাব্যগ্রন্থ- ‘দিলরুবা’, ‘উত্তর বসন্ত'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬২৬.
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী একজন বিশিষ্ট গদ্য শিল্পী।  
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- তার দ্বিতীয় প্রবন্ধ গ্রন্থ - সুখ এবং  তৃতীয় গ্রন্থ - সভ্যতা। 
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- এই প্রবন্ধে লেখক অন্নচিন্তার নিগড় থেকে মানুষের মুক্তি দেওয়ার চেষ্টাকে অভিনন্দনযোগ্য মনে করেছেন।
 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬২৭.
"আমার পরিচয়" কবিতাটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা:
- ছোটদের জন্যে সৈয়দ শামসুল হকের নির্বাচিত ছড়াকবিতা নিয়ে প্রকাশিত গ্রন্থ 'শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা'।
- 'আমার পরিচয়' কবিতাটি এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার পরিচয়

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে ।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে কোথা থেকে তুমি এলে?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে।
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৬২৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. দেবী চৌধুরানী
  2. সীতারাম
  3. চন্দ্রশেখর
  4. যুগলাঙ্গুরীয়
ব্যাখ্যা
• 'সীতারাম' উপন্যাস:
- 'সীতারাম' (১৮৮৭) বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস। ঐতিহাসিক এই উপন্যাসে সীতারাম একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। উপন্যাসে ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাও আছে।

- মূলত এটি এক ব্যক্তির পারিবারিক জীবনের এবং আদর্শের ট্র্যাজেডি।
- বঙ্কিমের ধর্মচিন্তা এই উপন্যাসের গঠনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে। তবে চরিত্রসৃষ্টির নৈপুণ্য এবং কাহিনির বর্ণনা কুশলতায় বঙ্কিমের প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট।
- তাঁর 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরাণী' ও 'সীতারাম'কে 'ত্রয়ী' উপন্যাস বলা হয়। 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬২৯.
'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাহিনিকাব্য 
  2. গীতিকবিতা 
  3. সনেট সংকলন
  4. কাব্যনাট্য 
ব্যাখ্যা

• ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।

• মুহূর্তের কবিতা:
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ১৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. কালের কণ্ঠ।

১৪,৬৩০.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ: এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৩১.
‘কবীন্দ্র’ মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. গোবিন্দদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. মালধর বসু
ব্যাখ্যা
⇒ গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদেও অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৩২.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যনাট্য হলো-
  1. ক) কর্ণফুলী
  2. খ) শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
  3. গ) শ্যামল ছায়ার সংবাদ
  4. ঘ) ইহুদির মেয়ে
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের রচিত দুটি কাব্যনাট্য হলো- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।
ষাটের দশকে রচিত উপন্যাস, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) ও কর্ণফুলী (১৯৬২) ব্যাপক সাড়া জাগায়।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২), ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৩৩.
'বিত্ত নাই বেসাতি নাই' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শহিদ কাদরী
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) ফজল শাহাবুদ্দিন
ব্যাখ্যা
অনলাইন বই বিক্রির ওয়েবসাইট রকমারির তথ্য অনুসারে 'বিত্ত নাই বেসাতি নাই' এর রচয়িতা কবি আসাদ চৌধুরী৷
১৪,৬৩৪.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামটি কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনাম - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম - কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - ভানুসিংহ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৬৩৫.
মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- 
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. সর্বসাচী
  3. শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬৩৬.
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।- পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।- পঙক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ হরিশচন্দ্র মিত্র:

- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশচন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক  কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশচন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
১৪,৬৩৭.
মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ -
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৬৩৮.
'আইনের অন্তরালে' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. সাঈদ আহমেদ
  3. সানাউল হক
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• 'আইনের অন্তরালে' নাটকটির নাট্যকার - নুরুল মোমেন
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন: 
- তিনি ২৫ নভেম্বর, ১৯০৬ সালে ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৩৯.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ কৌমুদী
  2. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  3. ব্যাকরণ মঞ্জরী
  4. ব্যবহারিক বাঙ্গালা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ। এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- গৌড়ীয় ব্যাকরণের প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

অন্যদিকে, 
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ। তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন। প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।

• 'ব্যাকরণ মঞ্জরী' মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ। এটি রাজশাহী থেকে ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। 
•  বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের 'ব্যবহারিক বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটি কলকাতা থেকে ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৪০.
'ভিখু ও পাঁচী' চরিত্র দুটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. সরীসৃপ
  2. সমুদ্রের স্বাদ
  3. প্রাগৈতিহাসিক
  4. অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
ব্যাখ্যা
• প্রাগৈতিহাসিক:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থের নাম 'প্রাগৈতিহাসিক'।
- গল্পগ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভিখু ও পাঁচী এই গল্পের চরিত্র।
---------------------------------

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৪১.
বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  3. গ) কোচবিহার রাজ্যের লেখা চিঠি
  4. ঘ) নরোত্তম দাসের দেহ কড়চা
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যের তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, বই, কড়চা ও বিদেশী খ্রিস্টান কর্তৃক লিখিত ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থের সংকীর্ণ সীমানায় আবোধ্য ছিল।

১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে আসামের রাজাকে লেখা কোচবিহারের রাজের একটি চিঠি বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

১৪,৬৪২.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৮২০
  2. ১৮৫৪
  3. ১৮২৪
  4. ১৮২৩
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৪৩.
গোবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু কী ছিল?
  1. নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম
  2. দুঃখ-দৈন্যের বর্ণনা 
  3. ঈশ্বরে প্রেম
  4. মানবতার জয়গান 
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিল একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন। অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু; তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৪৪.
মহাভারতের কাহিনী অবলম্বন করে রচিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যের নাম কি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. তিলোত্তমাসম্ভব
  3. মেঘনাদবধ
  4. বীরাঙ্গনা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনী অবলম্বনে রচিত ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ও প্রকাশিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য - ব্রজাঙ্গনা কাব্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৪৫.
'বকুলপুরের স্বাধীনতা' কী ধরণের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• 'বকুলপুরের স্বাধীনতা' মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• মমতাজউদদীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- এবারের সংগ্রাম,
- স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

• মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে।
- এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে 'বিবাহ' ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৪৬.
ইউনেস্কোর 'আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার' লাভ করেন-
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন (১ জানুয়ারি ১৯৩০ - ৩০ নভেম্বর ১৯৯৮) বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।
- তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত।
- বিজ্ঞান জনপ্রিয়করার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কার (১৯৮৩)।
- এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

• শিশু ও বিজ্ঞান-বিষয়ক গল্প
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে,
- অবাক পৃথিবী, 
- আবিষ্কারের নেশায়, 
- রহস্যের শেষ নেই, 
- বিজ্ঞান ও মানুষ, 
- জানা-অজানার দেশে, 
- সাগরের রহস্যপুরী, 
- এ যুগের বিজ্ঞান, 
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা, 
- আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ, 
- মহাকাশে কী ঘটছে, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৪৭.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয় কবে?
  1. ক) ২৫ মে, ২০২৩
  2. খ) ৮ মে, ২০২৩
  3. গ) ২৯ মে, ২০২৩
  4. ঘ) ৭ মে, ২০২৩
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
==============
উল্লেখ্য,
২৫ বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দে কবিগুরুর ১৬২তম জন্মদিন পালন করা হয়।
ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনটি ছিলো - ২০২৩ সালের ৮ মে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন (৮ মে, ২০২৩)।
১৪,৬৪৮.
জসীমউদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. ক) নকশী কাঁথার মাঠ
  2. খ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. গ) ধানক্ষেত
  4. ঘ) রাখালী
ব্যাখ্যা

কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।

এর মধ্যে - নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে - এগুলো গাথাকাব্য।

শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- হাসু
- এক পয়সার বাঁশী
- ডালিমকুমার

উৎসঃ ‌লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর


উল্লেখ্য যে প্রশ্ন দেখে বুঝা যাচ্ছে যে প্রশ্নকর্তা 'নকশী কাঁথার মাঠ' কে উত্তর হিসেবে প্রশ্ন করেছেন, তাই এটাই উত্তর হিসেবে নেওয়া হলো। তাছাড়া তার গাথা কাব্যগুলোকে বাংলাপিডিয়ায় কাহিনীকাব্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৪,৬৪৯.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) সমুদ্রের স্বাদ
  2. খ) জননী
  3. গ) দিবারাত্রির কাব্য
  4. ঘ) পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের স্বাদ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬):
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী (১৯৩৫),
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫),
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬),
- শহরতলী (১৯৪১),
- অহিংসা (১৯৪১)
- স্বাধীনতার স্বাদ (১৯৫১)
- আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি

ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭),
- সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩),
- হলুদ পোড়া (১৯৪৫),
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০),
- ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৫০.
'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।' বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) মোতাহার হোসেন
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'সংস্কৃতির কথা'। 'সংস্কৃতির কথা' গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি- 'মানুষের বৃদ্ধি দিয়ে কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।', 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৬৫১.
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরতাল
  2. ঘুম নেই
  3. পূর্বাভাস
  4. ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়: 
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন'কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

----------------------
• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে। মাত্র একুশ বছর বয়সে সুকান্ত মারা যাবার কিছুদিন পূর্বে এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

"ছাড়পত্র" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- ছাড়পত্র,
- আগামী, 
- চারাগাছ, 
- খবর, 
- আঠারাে বছর বয়স, 
- হে মহাজীবন, 
- দেশলাই কাঠি, 
- কৃষকের গান, 
- মধ্যবিত্ত। 

-----------------------
হে মহাজীবন

ছাড়পত্র (সুকান্ত ভট্টাচার্য)

হে-মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥

--------------------

• কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• 'হরতাল' কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি গদ্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ।

১৪,৬৫২.
বাংলা সাহিত্যে কোন শতকে গদ্যের সূচনা হয়?
  1. অষ্টাদশ
  2. উনিশ
  3. ষোড়শ
  4. সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৬৫৩.
কৃষ্ণকান্তের উইল - কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) মনস্তাত্বিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কৃষ্ণকান্তের উইল' ও 'বিষবৃক্ষ' হচ্ছে সামাজিক উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- উপন্যাসের প্লট,চরিত্রের গঠন ,বিবর্তন, পরিবর্তন ও পরিব্যাপ্তিতে অনুসরণ করতেন তিনি।

কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ  উপন্যাসগুলো হল-
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- বিষবৃক্ষ,
- মৃণালিণী,
- রজনী,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

• তাঁর রচিত গুরুত্বপূর্ণ  প্রবন্ধগুলো হল-
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১৪,৬৫৪.
'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. শহীদ কাদরী
  3. সুকুমার রায়
  4. নির্মেলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৫৫.
‘বিশ শতকের মেয়ে' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- 'বিশ শতকের মেয়ে' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস। 

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৫৬.
নিম্নের কোন গ্রন্থটি জর্জ গ্রিয়ারসনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. পদুমাবৎ
  3. দোহাকোষ
  4. মণিমঞ্জরী
ব্যাখ্যা
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক। ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৫৭.
'দৃষ্টিহীন' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - 'দৃষ্টিহীন'।

উল্লেখ্য 
• মধুসূদন মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনামও  'দৃষ্টিহীন'।

অন্যদিকে, 
• শামসুর রাহমান মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম হাবু শর্মা।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:  অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায়; অনুরূপা দেবী; পরশুরাম; শ্রীকান্ত শর্মা ও সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৫৮.
কোন গ্রন্থটি ঢাকা হতে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ক) মেঘনাদবধ কাব্য
  2. খ) দুর্গেশ নন্দিনী
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৬৫৯.
'যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান'- চরণটি কোন কবিতার?
  1. বিদ্রোহী
  2. কুলিমুজুর 
  3. সাম্যবাদী
  4. প্রলয়-শিখা
ব্যাখ্যা

• 'যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান'- চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কবিতার অন্তর্গত।
-----------------
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ ও 'সাম্যবাদী' কবিতা পরিচিত:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- নজরুলের সাম্যবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে- সাম্যবাদী, ভাঙার গান, সর্বহারা গ্রন্থগুলোেতে।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

সাম্যবাদী- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রীশ্চান।

গাহি সাম্যের গান।
কে তুমি?- পার্সি? জৈন? ইহুদি? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কনফুসিয়াস্? চার্বাক-চেলা? বলে যাও, বল আরও! (সংক্ষেপিত)

উল্লেখ্য,
- বিদ্রোহী, প্রলয়-শিখা, ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
• কাজী নজরুল ইসলামের 'কুলি-মজুর' কবিতাটি- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ।

১৪,৬৬০.
কল্লোল যুগের কবি কে ছিলেন ?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
- ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। 
- এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
-   অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ ছিলেন এই পত্রিকার নিয়মিত লেখক। 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১৪,৬৬১.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সাঁঝের মায়া:
- সুফিয়া কামালের লেখা সাঁঝের মায়া একটি কাব্যগ্রন্থটি।
- এটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়
- সাঁঝের মায়া কাব্যগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য,
- সুফিয়া কামাল, যাঁকে 'জননী সাহসিকা' নামে খ্যাতি প্রাপ্ত, মূলত একজন কবি ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের একজন কীর্তিসম্পন্ন কবি, লেখিকা এবং নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ' ১৯২৩ সালে রচিত এবং বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬৬২.
"যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
"যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।


'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত-'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা। 

• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্য:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা।  

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৬৩.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
১৪,৬৬৪.
'হিতকরী' পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কুমিল্লার লাহিনীপাড়া
  2. কলকাতার লাহিনীপাড়া
  3. কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া
  4. কুুড়িগ্রামের লাহিনীপাড়া
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-------------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৬৫.
বাংলা গদ্য সাহিত্যে কোন লেখকের রচনা রীতিকে ‘আলালি ভাষা’ আখ্যা দেয়া হয়?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) রাজনারায়ণ বসু
  3. গ) কালী প্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্যরীতিতে গদ্য-পদ্য রচনা, প্রচুর তদ্ভব এবং চলিত ফারসী শব্দের ব্যবহার এবং ক্রিয়া পদে সাধু ও কথ্য ভাষার মিশ্রণ তার গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর লেখা বই আলালের ঘরে দুলাল এই গদ্যের ব্যবহার করা হয়েছিল যার জন্য এর নাম হয়ে যায় ‘আলালী ভাষা’। টেকচাঁদ ঠাকুর যেমন ‘আলালী’ ভাষায় ক্রিয়া পদের সাধু ও চলিত রূপের ব্যবহার করেছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রায় একই সময়ে লেখা হুতোম প্যাঁচার নকশায় তা করেন নি।
Source: bdnews24.com
১৪,৬৬৬.
হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত?
  1. ক) বঙ্গভঙ্গ
  2. খ) দেশ বিভাগ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হকের “আগুনপাখি” (২০০৬) উপন্যাসটি দেশ বিভাগের পটভূমিতে লেখা। উপন্যাসের কাহিনী বর্ধমান জেলার বাঁকুড়া অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারের ও পরিবারের আশেপাশের হিন্দু মুসলমানদের জীবন থেকে নেয়া। লেখকের অন্যান্য উপন্যাসঃ বৃত্তায়ন, শিউলি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১৪,৬৬৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. নেমেসিস
  2. বহিপীর
  3. পদ্মাবতী
  4. পল্লী বধূ
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
-  তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
-  ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
-  তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ, ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
”নেমেসিস” নাটকের রচিয়তা- নুরুল মোমেন।
”বহিপীর” নাটকের রচিয়তা- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
”পদ্মাবতী” নাটকের রচিয়তা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬৬৮.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) দেশ বিভাগ
  2. খ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  3. গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে। 
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৬৯.
সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. দশমী
  2. উত্তর ফাল্গুনী
  3. ক্রন্দসী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- দশমী ইত্যাদি। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী বাসুদেব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন।

তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৭০.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নাটক ---
  1. ক) সুবচন নির্বাসনে
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) নূরলদীনের সারা জীবন
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় -- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
- নুরুলদীনের সারা জীবন -- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
১৪,৬৭১.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৭২.
জসীম উদ্‌দীন কোন সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৮৯৯ সালে
  3. ১৯০৩ সালে
  4. ১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬৭৩.
বুদ্ধদেব বসু রচিত “হঠাৎ আলোর ঝলকানি” কোন জাতীয় রচনা ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসুর রচিত “হঠাৎ আলোর ঝলকানি” একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লা জন্মগ্রহণ করেন ।
- ''প্রগতি'' ও ''কবিতা'' নামে তিনি দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

বুদ্ধদেব বসুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী

উপন্যাস:
- তিথিডোর
- সানন্দা 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।

১৪,৬৭৪.
কোনটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. গভর্নমেন্ট গেজেট
  2. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  3. দিগদর্শন
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় - ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
- এটি হেনরি ডিরোজিও সম্পাদিত পত্রিকা।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৭৫.
'রাজর্ষি' উপন্যাস অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. বিসর্জন
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. তাসের দেশ
  4. রক্তকরবী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।

অন্যদিকে, 
--------------------
• 'চিত্রাঙ্গদা' নাটক:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক। এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

• 'তাসের দেশ' নাটক:
- 'তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য। রবীন্দ্রনাথের নিজেরই 'এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ। এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- প্রধান চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৭৬.
'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।' কে বলেছিলেন?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বিনুর বই। তিনি এই গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন- 'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।' তাঁর রচিত উপন্যাস- অসমাপিকা, আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৬৭৭.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - নক্সী কাঁথার মাঠ।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৭৮.
'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- কুসুম কানন, অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয় ধারা, শ্মশানভষ্ম, প্রেম পারিজাত, মন্দাকিনী ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৬৭৯.
'অমিত ও কেতকী' চরিত্রগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. চার অধ্যায়
  2. গোরা
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
‘শেষের কবিতা’ উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু হচ্ছে 'কোন পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দু জনকে অবিরোধে ভালবাসা সম্ভব না এবং সে ভালবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত ( স্বামী বা স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে'।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৮০.
'নেমেসিস' নাটকটি কয় চরিত্র বিশিষ্ট?
  1. এক
  2. দুই
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নাটক :
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৬৮১.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসের শেষ লাইন কোন কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ হয়েছে?
  1. 'আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদলদিনে'
  2. 'আমার সোনার বাংলা'
  3. 'চিরদিন তুমি যে আমার'
  4. 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,৬৮২.
‘সুলতানার স্বপ্ন’– গ্রন্থটি কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. ক) কবি সুফিয়া কামাল
  2. খ) রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
  3. গ) রাবেয়া খাতুন
  4. ঘ) সেলিনা হােসেন
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সৃজনশীল রচনার মধ্যে অন্যতম সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ভারতী
  2. সবুজপত্র
  3. জ্ঞানাঙ্কুর
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস 'চতুরঙ্গ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলোর মধ্যে সমালোচকদের সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিতে ফেলেছে চতুরঙ্গ।
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক 'সবুজপত্রে' এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল
- 'সবুজপত্র'র তৎকালীন পাঠকরা ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে আলাদা আলাদা গল্প উপহার পাচ্ছেন।
- বস্তুত পত্রিকায় প্রকাশিত হবার সময় উপন্যাসের অধ্যায়গুলোকে আলাদা আলাদা গল্পের শিরোনাম দিয়ে ছাপা হচ্ছিল।
গল্পগুলোর নাম ছিল যথাক্রমে- জ্যাঠামশায়, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস। এই বইখানির নাম একত্রে 'চতুরঙ্গ'। 'জ্যাঠামশায়', 'শচীশ', 'দামিনী' ও 'শ্রীবিলাস' ইহার চারটি অংশ।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়,
- শচীশ,
- দামিনী,
- শ্রীবিলাস

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৪,৬৮৪.
'প্রথমা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য- প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, হরিণ চিতা চিল, কখনো মেঘ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৮৫.
কোনটি ইব্রাহিম খাঁর গ্রন্থ নয়? 
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3.  কুচবরণের কন্যে
  4.  সোনার শিকল
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহিম খাঁ রচিত গ্রন্থ নয়- কুচবরণের কন্যে।
• ‘কূচবরণ কন্যা’ বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গল্প।

অন্যদিকে,
• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা।
• ভ্রমণকাহিনি - ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র।
• গল্প - সোনার শিকল।

--------------------------
• ইব্রাহীম খাঁ:

- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৮৬.
”পদ্মানদীর মাঝি” উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৩৬
  2. ১৯২৯
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯২৭
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। এবং  গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:

- জননী (১৯৩৫),
- দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫),
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬),
- শহরতলী (১৯৪০-৪১),
- চিহ্ন (১৯৪৭),
- চতুষ্কোণ (১৯৪৮),
- সার্বজনীন (১৯৫২),
- আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি

ছোটগল্প
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫),
- প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ (১৯৩৯),
- সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া (১৯৪৫),
- আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬),
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০),
- ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৬৮৭.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- তিনি এই মহাকাব্যের রচয়িতা।
- এর কাহিনী 'রামায়ণ' থেকে সংগৃহীত।
- কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- 'রামায়ণ' এর রাবণের সীতা হরণ, রাম রাবণের লঙ্কাযুদ্ধ এবং যুদ্ধে রাবণের পরাজয়ের কাহিনী নিয়ে এ মহাকাব্য রচিত হয়েছে।
- সর্গ সংখ্যা: ৯টি।
- চরিত্র: মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, বিভীষণ, রাবণ, রাম প্রভৃতি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) যশোর জেলার সাগরদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি 'মধুকবি' নামে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি (তাঁর রচিত প্রথম মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য')।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- তিনি প্রথম বাঙালি সনেটকার।
- তিনি বাংলা নাটকের পথিকৃৎ।
- ছদ্মনাম: টিমোথি পেনপয়েম।
- উপাধি: দত্তকুলোদ্ভব।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ-
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গণা কাব্য,
- হেক্টরবধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৮৮.
‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনগ্রন্থ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. এটির প্রকাশকাল ১৯৫২
  2. এটি কবিতা সংকলন
  3. এটির সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী
  4. এটির প্রকাশক মোহাম্মদ সুলতান
ব্যাখ্যা

• একুশে ফেব্রুয়ারি:
- একুশের প্রথম সংকলন টির নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উপরের তথ্যের ভিত্তিতে অপশন বিশ্লেষণ:
ক) প্রকাশকাল ১৯৫২: ভুল। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে (ভাষা আন্দোলনের এক বছর পর)।
খ) এটি কবিতা সংকলন: আংশিক সত্য কিন্তু অসম্পূর্ণ। এটি মূলত কবিতা, গান ও প্রবন্ধের সংকলন; শুধু কবিতা নয়।
গ) সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী: ভুল। সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান (প্রথম সংস্করণ)।
ঘ) প্রকাশক মোহাম্মদ সুলতান: সঠিক। প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।

সুতরাং, সঠিক উত্তরটি হলো: ঘ) এটির প্রকাশক মোহাম্মদ সুলতান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা আন্দোলনের দলিলপত্র।

১৪,৬৮৯.
‘কালিকলম’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. মুরলীধর বসু
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম। যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৯০.
"সতত হে নদ তুমি পড়ো মোর মনে।" - এখানে কোন নদের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) তিতাস
  2. খ) কপোতাক্ষ
  3. গ) মধুমতি
  4. ঘ) ধানসিঁড়ি
ব্যাখ্যা
"সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে!
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।"
- পঙক্তিদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্যগ্রন্থের 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অন্তর্গত। 

- এ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। 
- 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি রচনাকালে তিনি ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন।

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৯১.
‘শ্যামল ছায়া’ উপন্যাসের পটভূমি হচ্ছে -
  1. সামাজিক কুসংস্কার
  2. গ্রামীণ সামাজিক জীবন
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. নদী পাড়ের মানুষের সংগ্রামী জীবন
ব্যাখ্যা
• 'শ্যামল ছায়া':
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তিতে এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ:
- জন্ম: ১৯৪৮ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলায়। 
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে।'
- তাঁর উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি: 'আগুনের পরশমণি','শ্রাবণ মেঘের দিন', 'দুই দুয়ারী'
- লজিক ও এন্টি লজিক নিয়ে কাজ করা তাঁর দুটি চরিত্র: মিসির আলী ও হিমু। 
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা'।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৯২.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট পত্রিকা 'কল্লোল' কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
• কল্লোল পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৯৩.
'কবর' নাটক কার রচনা?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক।

কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না।লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।


----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৯৪.
'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত' রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. তন্বী
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. ক্রন্দসী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী ইত্যাদি।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কুলায় ও কালপুরুষ।
 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৯৫.
প্রমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম ছিলো-
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. কালকূট
  3. কৃত্তিবাস ভদ্র
  4. জরাসন্ধ
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- তিনি একজন কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক। 
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে। পৈতৃক নিবাস দক্ষিণ চবিবশ পরগণার বৈকুণ্ঠপুরে। 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। 
-১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে।
- ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম ছিলো - জরাসন্ধ।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- হরিনাথ মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিলো- কাঙাল হরিনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৬৯৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) নরেন
  2. খ) সতীশ
  3. গ) সুরেশ
  4. ঘ) রমেশ
ব্যাখ্যা
• পল্লীসমাজ (১৯১৬)
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাঙলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• শরৎচন্দ্রের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ও তার চরিত্র:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী। 
-  চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র।
- নরেন ও রমা - দত্তা উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৬৯৭.
বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী 
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
---------------------------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ও বহুভাষী জ্ঞানী ব্যক্তি।
- তৎকালীন সমাজে মুসলিম নারীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানীর উৎসাহে তিনি শিক্ষা অর্জনের পথ খুঁজে পান।
- পরবর্তীতে তিনি সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত হোসেন মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।
- নারীদের সংগঠিত করার জন্য ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাকে বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬৯৮.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়াবনামা
  3. খোয়ারি
  4. দুধভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা

• ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাস:
- ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক নানা উপাদান নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

----------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক। পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

১৪,৬৯৯.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন' এর লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।

• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

অন্যদিকে,
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা।

------------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য উপন্যাস-
- আগুনের পরশমণি,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৭০০.
বাংলা ভাষার প্রথম ও সম্পূর্ণ ব্যাকরণগ্রন্থ রচয়িতা?
  1. মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম ও সম্পূর্ণ ব্যাকরণগ্রন্থের রচয়িতা - নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
---------------- 
• ব্যাকরণ:
- ভাষা ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম, যা ওই ভাষাকে অশুদ্ধির সীমানায় প্রবেশ করতে দেয় না, শুদ্ধির পরিকাঠামো তৈরি করে তাকে ব্যাকরণ বলে।
 
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণের ইতিবৃত্ত:
• পর্তুগিজ পাদ্রি মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত ও 'ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ' গ্রন্থের ব্যাকরণ অংশই বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ, কিন্তু প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নয়।
- এটি ১৭৩৪ খ্রিষ্টাব্দে রচিত, ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
 
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- এই গ্রন্থটি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রধানত ইংরেজি, অংশত বাংলায় রচিত এবং ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।
 
• এরপর উইলিয়াম কেরি ১৮০১ সালে, গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ১৮১৬ সালে, কিথ সাহেব ১৮২০ সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রয়াস পান। কিন্তু এই সবগুলোই ইংরেজি ভাষায় লেখা।
 
• ১৮২৬ সালে রাজা রামমোহন রায় ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। সে বিচারে এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।