বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪৬ / ১৭৪ · ১৪,৫০১১৪,৬০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,৫০১.
‘নেমেসিস’ নাটকটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদী
  2. শনিবারের চিঠি 
  3. সওগাত
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নাটক 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯–৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি রচনা করেন
 - ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়।

- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

• 'সওগাত' পত্রিকা: 
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

• '
পূর্বাশা' পত্রিকা
- পত্রিকাটির সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন:
- তাঁর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তিনি মূলত নাট্যকার ছিলেন।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক নেমসিস।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫০২.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) আর্তনাদ
  3. গ) স্মৃতিস্মম্ভ
  4. ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
•‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস।
– ‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা  আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
– ‘স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা  আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।
– ‘কবর’ মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা  আন্দোলনভিত্তিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫০৩.
“ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের” জয়গান গাওয়া হয়েছে কোন নাটকে?
  1. রক্তকরবী
  2. কালান্তর
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. চণ্ডালিকা
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন। 
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫০৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা রচনা করেন কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. মমতাজউদ্দীন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- প্রকাশকালের বিবেচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা’।
- 'সুতপার তপস্যা' ও 'একটি কালো মেয়ের কথা' এই দুইটি রচনা মিলে প্রকাশিত হয় তার বই '১৯৭১'।
- প্রকাশিত  হয় ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোলের উল্টোরথের পুজো সংখ্যায়।
- ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর জবানীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতা বর্ণনা অনুষঙ্গে উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপটের সূচনা ঘটেছে।
- জীবনের সায়াহ্নে লেখকের দায়বোধ থেকে রোগশয্যাতে জর্জরিত অশান্ত ও উদ্বিগ্ন তারাশঙ্কর নাজমা নামক এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীকরূপে উপস্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বের পাক হানাদারদের রিরংসাকে চিত্রিত করেছেন।

উৎস: দৈনিক যুগান্তর [লিঙ্ক]
১৪,৫০৫.
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫০৬.
রূপকথার গল্পের বই 'ক্ষীরের পুতুল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  4. ঘ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমর হয়ে আছেন তাঁর অনন্য গদ্যশিল্পের জন্য। 
- অবনীন্দ্রনাথ আধুনিক কালের একজন প্রধান চিত্রকর। 
- ছবি আঁকতে আঁকতে তিনি প্রবেশ করেছিলেন সাহিত্যে, এবং সাহিত্যে একে গেছেন চিত্রের পর চিত্র। 
- ১৮৯৫ সালে বের হয় তাঁর 'ক্ষীরের পুতুল' ও 'শকুন্তলা'।
- রূপকথার রূপে ভরে আছে বই দুটি। 
- তাঁর অন্যান্য বই - 
- বাংলার ব্রত 
- রাজকাহিনী 
- ভুত্‌ পেতনীর দেশ
- খাতাঞ্চির কথা
- আলোর ফুলকি
- বুড়ো আংলা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১৪,৫০৭.
'কুহেলিকা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ফিরোজা বেগম
  2. জাহাঙ্গীর
  3. রহমান
  4. আলেয়া বানু
ব্যাখ্যা

 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫০৮.
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪১
  2. ১৯৩৮
  3. ১৯৩২
  4. ১৯৩৫
ব্যাখ্যা
উর্বশী ও আর্টেমিস:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে: 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর একজন ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্প,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫০৯.
নিচের কোনটি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প?
  1. ক) অন্বেষা
  2. খ) ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
  3. গ) দ্বিতীয় ভুবন
  4. ঘ) ভালো মানুষের জগৎ
ব্যাখ্যা
• 'ভালো মানুষের জগৎ' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প। প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে।

•  সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি।

• 'বাবুলের বেড়ে ওঠা' তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।

• দরজাটা খোলো তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫১০.
পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ করে সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন?
  1. আকাল
  2. ঘুম নেই
  3. অভিযান
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা
⇒ আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

⇒ সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫১১.
‘হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছ মহান তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান কণ্টক মুকুট শোভা’।- কবিতাংশটুকু কোন্ কবির কবিতার অংশ?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
- লাইনদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।
- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।

এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

উৎস:
১) 'দারিদ্র্য' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫১২.
সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য-রচনা কোনটি?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. টুনি মেম
  3. পঞ্চতন্ত্র
  4. শবনম
ব্যাখ্যা

পঞ্চতন্ত্র সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি রম্য-রচনা। 

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- ১৯২৬ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থের মাধ্যমে, যা কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফল।
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন।
- মৃত্যু: ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায়।

উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম। 

রম্য রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫১৩.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবু শহীদুল্লাহ মোহাম্মদ নাঈম
  2. নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আবু নাঈম শহীদুল্লাহ
  4. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা।

• ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫১৪.
কোন লেখকের উপাধি 'স্বভাব কবি'?
  1. হাসন রাজা
  2. অহিদুর রেজা
  3. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।

অন্যদিকে,
- হাসন রাজার উপাধি - মরমি কবি। হাসন রাজা এর প্রকৃত নাম অহিদুর রেজা।
- গোলাম মোস্তফার উপাধি - কাব্য সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫১৫.
"তোমাদের যা বলার ছিল/ বলছে কি তা বাংলাদেশ?" - কে লিখেছেন?
  1. আসাদ চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান 
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• "তোমাদের যা বলার ছিল/ বলছে কি তা বাংলাদেশ?" - কবিতাংশটুকু  লিখেছেন - আসাদ চৌধুরী।
--------------------

'শহীদদের প্রতি' কবিতা,
– আসাদ চৌধুরী।

তোমাদের যা বলার ছিলো
বলছে কি তা বাংলাদেশ?
শেষ কথাটি সুরের ছিলো?
ঘৃণার ছিলো
নাকি ক্রোধের,
প্রতিশোধের,
কোনটা ছিলো?
নাকি কোনো সুখের
নাকি মনে তৃপ্তি ছিল,
দীপ্তি ছিল-
এই যাওয়াটাই সুখের। (সংক্ষেপিত)

কবি আসাদ চৌধুরী:
- ১৯৪৩ সালে বরিশালে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান এবং ২০১৩ সালে একুশে পদক পান।
- ১৯৮৩ সালে তার রচিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- তিনি কবি আল মাহমুদ পরিষদের সভাপতি ছিলেন।

উৎস: শহীদদের প্রতি – আসাদ চৌধুরী; বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট।

১৪,৫১৬.
'আরণ্যক' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বিষ্ণু দে
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫১৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম নাট্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ঝিলিমিলি 
  2. আলেয়া
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. মধুমালা 
ব্যাখ্যা
• ঝিলিমিলি:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য নাটক:
- আলেয়া
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক)
- মধুমালা (গীতিনাট্য)
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫১৮.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. কঙ্কাবতী
  2. অসমাপিকা
  3. মর্তের স্বর্গ
  4. অপসরণ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫১৯.
”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ -পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

পংক্তিদ্বয়ের রচয়িতা- কাজী নজরুল ইসলাম। 
-----------------------------------
নারী
    —কাজী নজরুল ইসলাম

"সাম্যের গান গাই -
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা' করে নারী হেয়-জ্ঞান?
তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।
অথবা পাপ যে - শয়তান যে নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।
তাজমহলের পাথর দেখেছে, দেখিয়াছ তার প্রাণ?
অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।
---------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
'নারী' কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 

”বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। 
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি 
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।“ 

- কাজী নজরুল ইসলামের নারী কবিতা সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অংশ।
- কবিতাটিতে মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে নারী ও পুরুষের সমান অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- কবি সমতার বাণী প্রচার করেছেন, দেখিয়েছেন যে মহান সৃষ্টি, কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষ দু’পক্ষেরই সমঅংশী অবদান রয়েছে।
- একইভাবে, পৃথিবীর পাপ, বেদনা ও দুর্দশার দায়ভারও সমানভাবে তাদের ওপর বর্তায়।
- নজরুল নারীদের অবহেলা না করে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- সমগ্র কবিতাটি নারী-পুরুষ সমমর্যাদা এবং নারীর স্বাধীনতার শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

উৎস:
'নারী' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৪,৫২০.
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।'- বিখ্যাত গানটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. লালন শাহ্
  3. হাসন রাজা
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'
- "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- লালন শাহ্ রচিত বিখ্যাত একটি গান।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫২১.
'নষ্টনীড়' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

- 'নষ্টনীড়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র 'চারুলতা'।
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্পঃ
• শাস্তি,
• একরাত্রি,
• মধ্যবর্তিনী,
• দৃষ্টিদান,
• ল্যাবরেটরী,
• সমাপ্তি,
• পোস্টমাস্টার,
• হৈমন্তী,
• ছুটি,
• দেনা পাওনা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫২২.
'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তী। তাঁর কবিতায় প্রথম বিশুদ্ধভাবে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস প্রকাশিত হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে ভোরের পাখি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম- স্বপ্নদর্শন, সংগীত শতক, বঙ্গসুন্দরী, নিসর্গ সন্দর্শন, বন্ধু বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিনী, সারদামঙ্গল, সাধের আসন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫২৩.
শহীদ কাদরীর 'সঙ্গতি' কবিতাটি কোন কবির সংগতি কবিতার প্যারোডি?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরীর 'সঙ্গতি' কবিতাটি কোন অমিয় চক্রবর্তীর 'সংগতি' কবিতার প্যারোডি।

সঙ্গতি
  - শহীদ কাদরীর
বন্য শূকর খুঁজে পাবে প্রিয় কাদা
মাছরাঙা পাবে অন্বেষণের মাছ,
কালো রাতগুলো বৃষ্টিতে হবে শাদা
ঘন জঙ্গলে ময়ূর দেখাবে নাচ
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না…
একাকী পথিক ফিরে যাবে তার ঘরে
শূন্য হাঁড়ির গহ্বরে অবিরত
শাদা ভাত ঠিক উঠবেই ফুটে তারাপুঞ্জের মতো,
পুরোনো গানের বিস্মৃত-কথা ফিরবে তোমার স্বরে
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না…
ব্যারাকে-ব্যারাকে থামবে কুচকাওয়াজ
ক্ষুধার্ত বাঘ পেয়ে যাবে নীলগাই,
গ্রামান্তরের বাতাস আনবে স্বাদু আওয়াজ
মেয়েলি গানের- তোমরা দু’জন একঘরে পাবে ঠাঁই
প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিক-ই
কিন্তু শান্তি পাবে না, পাবে না, পাবে না… (সংক্ষিপ্ত)


সংগতি
~ অমিয় চক্রবর্তী

মেলাবেন তিনি ঝোড়ো হাওয়া আর
পোড়ো বাড়িটার
ঐ ভাঙ্গা দরজাটা ।
মেলাবেন ।

পাগল দাপটে দেবে না গায়েতে কাঁটা ।
আকাশে আগুনে তৃষ্ণার মাঠ ফাটা
মারী-কুকুরের জিভ দিয়ে খেত চাটা,-
বন্যার জল, তবু ঝরে জল,
প্রলয় কাঁদনে ভাসে ধরাতল-
মেলাবেন । (সংক্ষিপ্ত)
১৪,৫২৪.
কবি কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বুলবুলিস্তান
  2. বনি আদম
  3. অমিয়ধারা
  4. রক্তরাগ
ব্যাখ্যা
• 'অমিয়ধারা' কবি কায়কোবাদের একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

এছাড়াও,
- এস এম মোজাম্মেল হকও "অমিয়ধারা" নামে একটি বই লিখেছেন। 

অন্যদিকে, 
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ: রক্তরাগ, বুলবুলিস্তান, বনি আদম।  

-----------------
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে- প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়।
- সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫২৫.
১৯৭১ সালের শহিদদের উৎসর্গ করে শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. বন্দী শিবির থেকে
  4. আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের খ্যাতি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রাহমানের ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পূর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা; স্বাধীনতা তুমি; মধুস্মৃতি, রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫২৬.
"দুঃখবাদী কবি" কার উপাধি?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. মুকুন্দদাস
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
- দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন "দুঃখবাদী কবি" আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
- প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

অন্যদিকে,
- মোজাম্মেল হক - শান্তিপুরের কবি।
- মুকুন্দদাস - চারণকবি। 
- গোবিন্দচন্দ্র দাস - স্বভাব কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫২৭.
'সত্যাসত্য' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'এর  রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। 

'সত্যাসত্য' ছয় খন্ডে ছয়টি নামে প্রকাশিত হয়। 
যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কলঙ্কবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্ত্যের স্বর্গ,
- অপসরণ।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫২৮.
'নীরজা' ও 'আদিত্য' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মালঞ্চ
  2. চার অধ্যায়
  3. যোগাযোগ
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• মালঞ্চ:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।
- চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

অন্যদিকে,
- অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ- চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- শচীশ, দামিনী- চতুরঙ্গ উপন্যাসের চরিত্র।
- নিখিলেশ, বিমলা- ঘরে বাইরে।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫২৯.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কিসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে
  2. উপন্যাস রচয়িতা হিসেবে
  3. ছন্দের জাদুকর হিসেবে
  4. নাট্যকার হিসেবে
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৩০.
সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নবান্ন 
  3. নুরুলদীনের সারা জীবন
  4. গোত্রান্তর
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি 'জমিদার দর্পণ' (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।

- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।

- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা- বিজন ভট্টাচার্য। পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।

• বিজন ভট্টাচার্যের গোত্রান্তর (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়। 

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৩১.
"প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।" - উক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মনসামঙ্গল কাব্য
  2. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  3. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
ব্যাখ্যা
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।। - উক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৩২.
'অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাহি তার কপালে আগুন।' উক্তিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের বিখ্যাত কয়েকটি উক্তিঃ
- অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ, কোন গুণ নাই তার কপালে আগুন।
- না রবে প্রসাদগুণ না হবে রসাল। অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,৫৩৩.
অধ্যাপক আহমদ শরীফের মৃত্যু সন কোনটি?
  1. ১৯৯৭
  2. ১৯৯৮
  3. ১৯৯৯
  4. ২০০০
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৩৪.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. দিনিলিপি 
  2. রাজনৈতিক নাটক 
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

--------------------
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন ইত্যাদি।

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৫৩৫.
'বৃহৎবঙ্গ' কে রচনা করেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
‘বৃহৎবঙ্গ’:
- এটি দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ।
- এটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত ১৯৩৬ সালে।
- সুপ্রাচীনকাল হতে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের বাংলাদেশের ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলের প্রিয় রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে লিখিত গ্রন্থ।
- ‘বৃহৎবঙ্গ’ বহু তথ্যের জন্য সম্বলিত এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ রচনা।
- নিরপেক্ষভাবে তথ্য প্রদানের জন্য গ্রন্থটি সর্বমহলে বিশেষভাবে সমাদৃহ হয়।

দীনেশচন্দ্র সেন:

- তিনি ১৮৬৬ সালে মাতুলালয় বগজুড়ি গ্রামে, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল সুয়াপুর গ্রাম, ঢাকায়। 

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য,
- বৃহৎবঙ্গ,
- বঙ্গসাহিত্য পরিচয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাএর, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৩৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. আর্তনাদ
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা
‘আর্তনাদ’ শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস। এছাড়া, 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। ‘নীল দংশন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৫৩৭.
‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসটির বিষয়বস্তু -
  1. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৩৮.
বাঙালি সম্পাদিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বাঙ্গাল গেজেট
  4. সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গাল গেজেট':
- 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

অন্যদিকে,
• জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন। এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। এটি ভারতের প্রথম সংবাদপত্র। 

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগ্দর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 'দিগ্দর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।

• রাজা রামমোহন রায় 'ব্রাহ্মণসেবধি' ও 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৩৯.
'শিক্ষক ও শিক্ষার্থী' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৪০.
জহির রায়হান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আরেক ফাল্গুন
  2. খ) আর কতদিন
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান ছিলেন কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ৷
তার রচিত উপন্যাসগুলো হলো -
- আর কতদিন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- তৃষ্ণা
- শেষ বিকেলের মেয়ে
- হাজার বছর ধরে
- আরেক ফাল্গুন (ভাষা আন্দোলনভিত্তিক)
- বরফ গলা নদী
- কয়েকটি মৃত্যু
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৫৪১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান কোথায়? 
  1. খুলনা 
  2. যশোর 
  3. বরিশাল 
  4. সাতক্ষীরা 
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৪২.
'অ-তে-অজগর' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আহসান হাবীব
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• 'অ-তে-অজগর' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রন্থ। 

--------------------
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৪৩.
'পূজারিণী' কবিতাটির লেখক কে?
  1. ক) কবি শামসুর রাহমান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'পূজারিণী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। দোলন-চাঁপা কবির প্রেম-প্রধান কবিতার বই। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৫৪৪.
'বীরাঙ্গনা কাব্য'-এ মোট কতটি পত্র বা চিঠির সংকলন রয়েছে?
  1. ৯টি
  2. ২১টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

 বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদ্স’ কাব্যের অনুসরণে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৪৫.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৩ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৮৯৯ সালে
  4. ১৮৯৮ সালে
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৪৬.
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) গরীবের মেয়ে
  2. খ) মরুভাস্কর
  3. গ) উন্নত জীবন
  4. ঘ) আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত গ্রন্থ - মরুভাস্কর, মহামানুষ মুহসীন, স্মার্ণা-নন্দিনী, মণিচয়নিকা ইত্যাদি।
- আনোয়ারা ও গরীবের মেয়ে উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমান।
- উন্নত জীবন প্রবন্ধের রচয়িতা মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৪৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  2. ১৩০৭ বঙ্গাব্দ
  3. ১৩০৮ বঙ্গাব্দ
  4. ১৩০৯ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৪৮.
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি।" - কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. জসীম উদ্‌দীন 
  4. আবদুল হাকিম 
ব্যাখ্যা

• ‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি। - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা- কবিতা;
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি


মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বঙ্গভাষা- কবিতা।
১৪,৫৪৯.
একই সনে জন্মগ্রহণ করেছেন যে দুই কবি-
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এছাড়াও তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৫৫০.
'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'- উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী 
  2. পোস্টমাস্টার 
  3. দেনাপাওনা
  4. সমাপ্তি
ব্যাখ্যা

• 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'-উক্তিটি সমাপ্তি গল্পে 'মৃন্ময়ী' চরিত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।

• 'সমাপ্তি' ছোটগল্প:
'সমাপ্তি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি ছোটগল্প।
তাঁর সৃষ্ট 'মৃন্ময়ী' এই ছোটগল্পের চরিত্র।
এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি- 'শিশুরাজ্যে এই মেয়েটি একটি ছোটখাট বর্গির উপদ্রব বলিলেই হয়।'

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং সমাপ্তি ছোটগল্প।

১৪,৫৫১.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ‘দেয়াল’ একটি-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির বিবোমিশাকর নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:

• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল
[আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।]

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

অন্যদিকে,
- হুমায়ূন আহমেদ রচিতে একটি উপন্যাস রয়েছে‘দেয়াল’ (২০১২) নামে।
- উপন্যাসের একটি আখ্যানে তিনি পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলি বর্ণনা করে ইতিহাসের নানা পরিবর্তনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় আখ্যানে তিনি কিছু চেনা চরিত্র সৃষ্টি করে এর সমন্বয় সাধন করেছেন। তবে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এ উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের ‘ব্যক্তিগত পটভূমি’ দ্বারা ‘প্রভাবান্বিত’ হওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
১৪,৫৫২.
‘গ্রামের মায়া’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

• ‘গ্রামের মায়া’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক।

----------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক:
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া,
- পদ্মাপাড় ও
- মধুমালা।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৫৩.
বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৫৪.
আল মাহমুদ রচিত ও প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - 
  1. বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. কাবিলের বোন
  3. পানকৌড়ির রক্ত
  4. সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা

'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ রচিত প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৫৫.
নিচের কোনটি নজরুলের রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. রিক্তের বেদন
  2. কুহেলিকা
  3. শিউলীমালা
  4. মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শেষ উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায়  উপন্যাসটির প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে বড় ক্যানভাসে। 
- কলকাতার এক মেসের পরিবেশকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাসসমূহ- 
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে,
• রিক্তের বেদন ও শিউলীমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৫৬.
কোনটি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস?
  1. সোনালী কাবিন
  2. ডাহুকী
  3. পানকৌড়ির রক্ত
  4. বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস - ডাহুকী।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৫৭.
‘ ধুমকেতু’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ হল ‘ধুমকেতু’। তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘সারদামঙ্গল’ উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ স্বপ্নদর্শ, নিসর্গ সন্দর্শন, মায়াদেবী, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি । রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৫৮.
‘কবিরত্ন’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সমরেশ বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে,
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মরনাম - কালকূট। 
- মোহিতলাল মজুমদার ‘সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৪,৫৫৯.
'সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে' কার উক্তি?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) রজনীকান্ত সেন
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
"করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে –
পাছে লোকে কিছু বলে।" এই লাইনদ্বয় হচ্ছে কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে ’ কবিতা থেকে। 

• কামিনী রায়
- কামিনী রায় একজন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।  
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত (সনেট সংগ্রহ) 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৬০.
আধুনিক বাংলা গানের জগতে কাজী নজরুল ইসলাম কী নামে খ্যাত? 
  1. কোকিল
  2. সুরের রাজা
  3. বুলবুল
  4. গানের পাখি
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৬১.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. শবনম
  2. চাচা-কাহিনী
  3. অবিশ্বাস্য
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

 • 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 

- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৬২.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন?
  1. অপরাজিতা রায় 
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় — 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

---------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক।
- বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'নীহারিকা দেবী'- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম।
• 'অপরাজিতা দেবী'- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৬৩.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসে ‘নুরুল হুদা’ চরিত্রটি বিদ্যমান?
  1. সাম্যবাদী
  2. সর্বহারা
  3. বাঁধন-হারা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা

 বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৬৪.
’রূপ-নারানের কূলে জেগে উঠিলাম; জানিলাম এজগৎ স্বপ্ন নয়।’ চরণদ্বয়ের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধূসুদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

⇒ ’রূপ-নারানের কূলে জেগে উঠিলাম; জানিলাম এজগৎ স্বপ্ন নয়।’ চরণদ্বয়ের লেখক -  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- চরণদ্বয় ’শেষলেখা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
 শেষলেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটির নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেন নি।
- অধিকাংশ রচনা তাঁর জীবনের শেষ কয়েকদিনে রচনা।
- কয়েকটি কবিতা মুখে মুখে রচিত। 

 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
"রূপ-নারানের কূলে,
জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- মানসী
- সোনার তরী
- চিত্রা
- চৈতালী
- কল্পনা
- গীতাঞ্জলি
- বলাকা 
- শেখলেখা
- সেঁজুতি
- পত্রপুট
- ক্ষণিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৬৫.
জাহানারা ইমাম কোন রোগে মারা যান?
  1. ক) কিডনি জটিলতায়
  2. খ) মুখের ক্যান্সার
  3. গ) দূরারোগ্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৬৬.
‘কাঞ্চন মালা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• ‘কাঞ্চন মালা’ উপন্যাসটির রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
-------------------- 
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৬৭.
'শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।'- উদ্ধৃতাংশটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. গ) আমি কোনো আগন্তুক নই
  4. ঘ) তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।'- নির্মলেন্দু গুণ রচিত 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার অংশ।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাকে কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর ডাকনাম হচ্ছে রতন। প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকতেন।
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুঠোফোনের কাব্য,
- কামকানন ইত্যাদি।

• অনুবাদ কবিতা :
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- রাজনৈতিক কবিতা,
- কাব্যসমগ্র।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

অন্যান্য অপশন:
'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' - কবিতাটির লেখক ' রফিক আজাদ'।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' - কবিতাটির লেখক 'আহসান হাবীব'।
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' - কবিতাটির লেখক 'শামসুর রাহমান'।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪,৫৬৮.
কোনটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. খ) আনন্দের মৃত্যু
  3. গ) আমি জন্মগ্রহন করিনি
  4. ঘ) হৃৎকলমের টানে
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচী লেখক, সৈয়দ শামসুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালে।
তিনি সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন বলে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
'হৃৎকলমের টানে' ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সৈয়দ শামসুল হক রচিত প্রবন্ধ। 
'আমি জন্মগ্রহণ করিনি, শামসুল হকের কবিতা।
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
'আনন্দের মৃত্যু' শামসুল হকের গল্প।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিতয জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

১৪,৫৬৯.
মোতাহের হোসেন চৌধুরী  রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু
  2. সাম্প্রদায়িকতা
  3. সংস্কৃতি- কথা
  4. স্বদেশ চিন্তা’
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃতি- কথা :
- সংস্কৃতি- কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):

- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

অন্যদিকে,
• বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ - সাম্প্রদায়িকতা।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস  রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ -‘সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু'।
• ড. আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- স্বদেশ চিন্তা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৭০.
'সাত ভাই চম্পা' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
ব্যাখ্যা
• বাংলা শিশুসাহিত্যে রূপকথার যাদুকর আখ্যায় ভূষিত দক্ষিণারঞ্জনের জন্ম ১৫ ই এপ্রিল ১৮৭৭ ঢাকার উলাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ।
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ছিলেন বাংলার খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও লোককথার সংগ্রাহক, যাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রূপকথাগুলিকে যথাসম্ভব অবিকৃত রেখে সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করা।
• তিনি বাংলা ১৩৬৩ সালের ১৬ই চৈত্র (১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে মার্চ) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্য:
- ঠাকুরমার ঝুলি 
- ঠাকুরদাদার ঝুলি 
- ঠানদিদির থলে 
- দাদামশায়ের থলে 
- খোকাবাবুর খেলা
- উৎপল ও রবি 
- সাত ভাই চম্পা

• চলচ্চিত্র
- তাঁর 'সাত ভাই চম্পা' গল্প অনুসারে ১৯৭৮ সালে চিত্রসাথী পরিচালিত ভারতীয় বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র 'সাত ভাই চম্পা' মুক্তি পায়।
- তাঁর 'কিরণমালা' গল্প অনুসারে ১৯৭৯ সালে বরুন কাবাসি পরিচালিত ভারতীয় ফ্যান্টাসি ফিল্ম 'অরুণ বরুণ ও কিরণমালা' মুক্তি পায়।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৭১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ-
  1. ল্যাবরেটরি
  2. কঙ্কাল
  3. বিশ্বপরিচয়
  4. পুনশ্চ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য। 
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। 

অন্যদিকে, 
- 'ল্যাবরেটরি' নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের বুদ্ধিদীপ্ত ছোটগল্প।
- 'কঙ্কাল' রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রাকৃত রসে রচিত গল্প।
- 'পুনশ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্য ছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
১৪,৫৭২.
রবীন্দ্রনাথ সৃষ্ট কোন চরিত্রটি বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে?
  1. রতন
  2. অমল
  3. সব্যসাচী
  4. রঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- প্রধান চরিত্র: নন্দিনী ও রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। এবং ‘রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

অন্যদিকে,
• পোস্টমাস্টার:
- 'পোস্টমাস্টার' 'হিতবাদী' পত্রিকায় ১২৯৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশ পায়।
- গল্পে চরিত্র তিনটি- পোস্টমাস্টার, রতন ও প্রকৃতি।
- গল্পটিতে প্রকৃতি কেবল স্থানিক ও ভৌগোলিক পরিচয় বহন করে নি, গল্পের প্রধান দুটি চরিত্রের আবেগকে নিয়ন্ত্রিত করেছে এবং গল্পের অগ্রগতি ও পরিণতিতে অমোঘ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
- পোস্টমাস্টার আর রতন- এ দুটি চরিত্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিরাট ফারাক।
- আবার বয়সেও পোস্টমাস্টার ছিল পূর্ণ যুবক আর রতন নিতান্তই বালিকা। তবে, গল্পের মধ্যেই রতনের মনোগত পরিবর্তনটি হয় এবং সে বালিকার কোঠা অতিক্রম করে।
- নারীর ভালোবাসার যে ধীরে ধীরে অগ্নিশলাকার মতো প্রজ্বলিত হয়0

----------------------
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------------
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- ‘পথের দাবী’ (১৯২৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।কাহিনির পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৭৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কোন লেখক?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৭৪.
অতুলপ্রসাদ সেনের গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) আফতাব সঙ্গীত
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) ভাটির চিঠি
  4. ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে। 

• অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 

- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৭৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. অনিলা দেবী
  2. অপরাজিতা দেবী
  3. অনুরূপা দেবী
  4. নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লিখতেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৭৬.
সেলিম আল দীন রচিত কোন নাটকটি ডাকসু মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয় এবং সেইসাথে নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে?
  1. কিত্তনখোলা
  2. এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. হরগজ
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন রচিত ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ নাটকটি ডাকসু মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
-----------------------------------
জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ নাটক:

‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ একটি নাটক, যা সেলিম আল দীন রচনা করেছেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে নাটকটি ডাকসু মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয় এবং সেইসাথে নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। নাটকটি প্রকাশ করে সেলিম আল দীনের নাট্যরচনার প্রতিভা সমাজের সামনে উন্মোচিত হয়।
 -------------
সেলিম আল দীনের সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জন্ম: ১৮ নভেম্বর ১৯৪৮, নোয়াখালির সোনাগাজি উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে।
প্রাথমিক পরিচয়: কবি হিসেবে খ্যাত।
নাট্যরচনার প্রসার: ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর নাটক 'নীল শয়তান, তাহিতি' টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত হলে নাট্যরচনার কথা সমাজে পরিচিত হয়।
নাটক: ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ প্রথম মঞ্চস্থ নাটক ও প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৭৭.
নিচের কোনটি প্রহসন?
  1. ক) জমিদার দর্পণ
  2. খ) বসন্তকুমারী
  3. গ) এর উপায় কি?
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন : ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷

- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'৷

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী

তাছাড়া,
- তার রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?'

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৪,৫৭৮.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহীম
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
তার রচিত কয়েকটি উপন্যাসঃ
আলমগড়ের উপকথা, কাশবনের কন্যা, কাঞ্চনমালা, জায়জঙ্গল, সমুদ্র বাসর, কাঞ্চনগ্রাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,৫৭৯.
‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ - কার রচনা?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

• ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’:
‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প, যা — উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচনা করেন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত শিশু-সাহিত্য পত্রিকা ‘সন্দেশ’-এ ১৯১৫ সালে। এই গল্পটি পরবর্তীতে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ (১৯৬৯) এর মাধ্যমে আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

• তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৮০.
"দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥
 পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত। কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত।"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা? 
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. আলাওল 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. বিদ্যাপতি 
ব্যাখ্যা
• "দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র। যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥
 পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত। কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত।"- পঙ্‌ক্তিটি -শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জোলেখা কাব্যের 'বন্দনা' পর্ব থেকে গৃহীত।

• শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জোলেখা কাব্যের 'বন্দনা' পর্ব থেকে গৃহীত এই কবিতাংশ 'বন্দনা' নামে সংকলিত হয়েছে।

- 'বন্দনা' পর্ব যথেষ্ট বড়, এখানে শুধু গুরুজনদের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে।
- কবি তাঁর মূল কাব্যের প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। সংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
- পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন।
- শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। 
- কবি তাঁর কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। 
- শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম।
- কবিতাংশে তা-ই প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংকলন)।
১৪,৫৮১.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাসের কাহিনী অবলম্বনে 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচনা করেন মহাকবি কায়কোবাদ।
- মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী সাহিত্যক্ষেত্রে কায়কোবাদ নামে পরচিত। 
 - তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’।
- এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর গীতিকবিতায় প্রেম, প্রকৃতি, স্বদেশ ও আধ্যাত্মিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। 
- কায়কোবাদ বাংলার অপর দুই মহাকবি  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন (১৮৭৩),
- অশ্রুমালা (১৮৯৫),  
- মহাশ্মশান (১৯০৪),
- শিব-মন্দির (১৯২২),
- অমিয়ধারা (১৯২৩),
- শ্মশান-ভস্ম (১৯২৪) ও
- মহরম শরীফ (১৯৩২)।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৮২.
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. হরিণের হাড়
  2. ছায়াহরিণ
  3. সারা দুপুর
  4. রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- অরণ্য নীলিমা ও
- রানী খালের সাঁকো।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,৫৮৩.
'অরণ্য গোধূলি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মীর মশাররফ
ব্যাখ্যা
বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি, নীড়ভ্রষ্ট ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া। মসনদ তাঁর রচিত নাটক।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,৫৮৪.
‘একুশে পদক’ ও ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ উভয় পুরস্কার লাভ করেছেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সানাউল হক
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ, 
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর, 
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৮৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. ফেরারী সূর্য
  3. আর্তনাদ
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। 
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।
• 'ফেরারী সূর্য’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা - স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

১৪,৫৮৬.
‘অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নীলা চৌধুরী
  2. শেখ রেহেনা
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' - একটি প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ।
তার আরো কয়েকটি প্রবন্ধ হচ্ছে -
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি ইত্যাদি।

উপন্যাস :
- বিশ শতকের মেয়ে
- এক পথ দুই বাঁক
- কেয়া বন সঞ্চারিণী
- বহ্নিবলয়

'বিন্দু বিসর্গ' তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উৎসঃ ড. সৌমিত্র শেখরের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,৫৮৭.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
প্রদোষে প্রাকৃতজন, দক্ষিণায়নের দিন, পিঙ্গল আকাশ, কুলায় কালস্রোত, যাত্রা, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, যেতে চাই, ওয়ারিশ, বাসর মধুচন্দ্রিমা, উত্তরের ক্ষেপ, দলিল, হিসাবনিকাশ, উপরে ছাপ ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৮৮.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) শহীদ কাদরী
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
শহীদ কাদরী (১৯৪২-২০১৬) ছিলেন বাংলাদেশী কবি ও লেখক। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ চারটি। ১৯৭৩ সালে বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১১ সালে ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বাংলাদেশের ২য় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- উত্তরাধিকার, 'তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা', কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
১৪,৫৮৯.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না।
- বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের - কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৯০.
'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে এ মন্তব্য কে করেছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন।

কৃত্তিবাস ওঝা: 
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'। 
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খন্ডে মুদ্রিত হয়।
 তার এ রামায়ণকে শ্রীরাম পাঁচালিও বলা হয়।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়।
- ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- কৃত্তিবাসের পদবি ছিল মুখোপাধ্যায়।
-  বাংলা রামায়ণের আদি কবির নাম কৃত্তিবাস ওঝা।
- কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৯১.
'বাংলার স্কট' কার উপাধি?
  1. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামেও পরিচিত।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। 
- পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায়বাহাদুর' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি, বাংলাভাষার প্রথম সনেট প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ: ধুসরতার কবি, তিমির হননের কবি, রূপসী বাংলার কবি ও নির্জনতার কবি।
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের উপাধি 'বাংলার মিল্টন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,৫৯২.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে কোন পত্রিকার সঙ্গে লেখক ও সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. বালক
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।

- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে 'সখী সমিতি' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে' ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৯৩.
‘কমলে কামিনী' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘কমলে কামিনী' নাটক:
- ‘কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।
- উল্লেখযােগ্য চরিত্র : রাজা, সমরকেতু, শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীলদর্পণ,
 - নবীন তপস্বিনী,
 - লীলাবতী,
 - কমলে কামিনী। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৯৪.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’ - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. গ) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. ঘ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী
- বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’ (১৯৫৫)।

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- তারার দেশের হাতছানি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৯৫.
"মহেন্দ্র এবং আশালতা" - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. যোগাযোগ
  3.  চার অধ্যায়
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,৫৯৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. নরসিংদী
  3. গাজীপুর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,৫৯৭.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) লাইলি মজনু
  4. ঘ) ইউসুফ জুলেখা
ব্যাখ্যা
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 
- পদ্মাবতী - মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যে
- পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী।

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৯৮.
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কাপালিক
  2. নবকুমার
  3. কুমুদিনী
  4. কুপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র নয় 'কুমুদিনী'। 'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র।

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,৫৯৯.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. ধূমকেতু
  2. মোসলেম ভারত
  3. বিজলী
  4. দৈনিক নবযুগ
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ও 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) — সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতার মূলে রয়েছে- বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'। এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

---------------
'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,৬০০.
"প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ" - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. চার অধ্যায়
  2. নৌকাডুবি
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।

- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।

- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি - "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

উৎস: 'চার অধ্যায়' উপন্যাস; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।