বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪২ / ১৭৪ · ১৪,১০১১৪,২০০ / ১৭,৪৩৭

১৪,১০১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. আগুনের পরশমণি
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা 'চিলেকোঠার সেপাই' একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল
ওসমান। এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

অন্যদিকে,
--------------------- 
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
১৯৮৬ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'। 'আগুনের পরশমণি'তে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের দুঃসাহসিক বর্ণনা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী কিছু চরিত্র উপস্থাপন করে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ রচনা করলেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে। বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতা প্রকাশিত যুদ্ধকালীন পরিবেশে।

• 'জাহান্নম হইতে বিদায়' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন। প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১৪,১০২.
'কিন্তু মানুষ্য কখনো পাষাণ হয় না'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের? 
  1. রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি'
  2. শরৎচন্দ্রের 'পথের দাবী'
  3. শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি'
  4. বঙ্কিমচন্দ্রের 'রাজসিংহ'
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে      মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 
• ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।
 
• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস।
১৪,১০৩.
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় কোন সালে?
  1. ২০১০
  2. ২০১২
  3. ২০১১
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে

অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।
১৪,১০৪.
সত্যেন সেন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. আবোলতাবোল
  2. পাতাবাহার
  3. বহুরূপী
  4. খাইখাই
ব্যাখ্যা
• সত্যেন সেন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ  হলো- পাতাবাহার।

-----------------
• সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো
- আবোলতাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা,
- খাইখাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১০৫.
"রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্যকাহিনী" - গ্রন্থগুলো কে লিখেছেন?
  1. কায়কোবাদ 
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. নীলিমা ইব্রাহীম 
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১০৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস নয়?
  1. ক) বাঁধনহারা
  2. খ) কুহেলিকা
  3. গ) মৃত্যুক্ষুধা
  4. ঘ) নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা 
- কুহেলিকা
- অপরদিকে 'নদীবক্ষে' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস। 

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা ।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১০৭.
আহসান হাবীবের উপন্যাস কোনটি?
  1. আশায় বসতি
  2. অরণ্য নীলিমা
  3. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. মেঘ বলে চৈত্র যাবো
ব্যাখ্যা
'অরণ্য নীলিমা' আহসান হাবীবের উপন্যাস।

• আহসান হাবিব:
- ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
-তিনি  'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর উপন্যাস: 
- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) 
- রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)।
- জাফরানি রিং পায়রা।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ :
- রাত্রিশেষ
- ছায়াহরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪),
- আশায় বসতি (১৯৭৪),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬),
- দুহাতে দু আদিম পাথর (১৯৮০),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১),
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১৪,১০৮.
“হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের কোন চরিত্রের বক্তব্য?
  1. লক্ষ্মী
  2. শিব
  3. সীতা
  4. উমা 
ব্যাখ্যা

- “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়” উক্তিটি মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- এটি মূলত একটি প্রবাদ বাক্য,লক্ষ্মী শিবকে উদ্দেশ্য করে এই উক্তি করেছে। 
- এখানে দেবী লক্ষ্মী শিবকে জানান যে তাদের ঘরে কোনো অন্ন নেই এবং তিনি নিজেই ‘লক্ষ্মীছাড়া’ হয়ে গেছেন।
- এই আক্ষেপের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যার ভাগ্যে অন্ন বা সমৃদ্ধি নেই, সে যেদিকে হাত দেয়, সব কিছুতেই অসফলতা বা ধ্বংস আসে। 
-------------------
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

• প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

১৪,১০৯.
কোন উপন্যাস ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল?
  1. বৈকুন্ঠের উইল
  2. শ্রীকান্ত
  3. দেবদাস
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে। 
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,১১০.
বন্দে আলী মিয়া কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেননি?
  1. কিশোর পরাগ
  2. শিক্ষার আলো
  3. জ্ঞানের আলো
  4. শিশুবার্ষিকী
ব্যাখ্যা

বন্দে আলী মিয়া 'শিক্ষার আলো' নামের কোনো পত্রিকা সম্পাদনা করেননি। 

বন্দে আলী মিয়া:
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনার রাধানগর গ্রামে জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশুসাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির সৌন্দর্যের পরিচয় দিয়েছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো।

রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর, 
- অনুরাগ। 

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- কুঁচবরণ কন্যা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১১১.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী 
  2. মোসলেম ভারত
  3. তত্ববোধিনী 
  4. বঙ্গদর্শন 
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- কাজী ইমদাদুল হকের শেষ রচনা 'আবদুল্লাহ্' উপন্যাসের ৩০ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত তিনি লিখতে পেরেছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুর পরে আনোয়ারুল কাদীর বাকি ১১ পরিচ্ছেদ রচনা করেন মূল গ্রন্থকারের
খসড়া-অবলম্বনে। তবে আবদুল কাদির বলেছেন, তাঁদের দুজনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশেষ পার্থক্য ঘটেছে।

- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

- আবদুল্লাহ্ (১৯৩৩) উপন্যাসে বাঙালি মুসলমান সমাজের যেসব সমস্যার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে, পিরবাদ তার মধ্যে প্রথম।


উপন্যাসে চিত্রিত সমস্যসমূহ ও কাহিনি সংক্ষেপ-
• উপন্যাসের নায়ক আবদুল্লাহ্ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মপ্রাণ, কিন্তু কুসংস্কারবিরোধী। তার মতে, পির-মুরিদি ব্যবসাটা হিন্দুদের পুরুতগিরির অনুকরণ, ইসলামে তার স্থান নেই। কাসেম গোলদারের বাড়িতে নিজের পিতৃপুরুষের অলৌকিক ক্ষমতার গল্প শুনে তার মনে বিস্ময় জাগে: 'পুত্রের পীরত্বে পিতার হৃদয়ে এরূপ সাংঘাতিক হিংসার উদ্রেক আরোপ করিয়া ইহারা পীর-মাহাত্ম্যের কি অদ্ভুত আদর্শই মনে মনে গড়িয়া তুলিয়াছে!' পির হওয়ার সহজ পথ ত্যাগ করে আবদুল্লাহ্ চাকরি করে উপার্জন করতে প্রবৃত্ত হয়েছে।

• আশরাফ-আতরাফভেদ আরেক সামাজিক সমস্যা। সৈয়দ সাহেবের মাদ্রাসায় এদের পাঠদানের বৈষম্য দেখে আবদুল্লাহ্ বিস্মিত হয় এবং মৌলভী সাহেবকে তার কারণ জিজ্ঞাসা করে। মৌলভী সাহেব জানান, আতরাফের সন্তানেরা তো মিয়াদের সমান চলতে পারে না, তাই সৈয়দ সাহেব এই বিষম শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছেন।
আবদুল্লাহ্ যখন বলে, একেবারেই যদি তাদের পড়ানো না হয়, তাহলে কি আরো ভালো হয় না?, মৌলভী সাহেব তখন বলেন, গরিবেরা যখন শিখতে চায়, তখন তাদের একেবারে নিরাশ করলে খোদার কাছে কী জবাব দেবেন, তাছাড়া গোম্বারে এলেমদান করলে অনেক সওয়াব হয়, একথা কেতাবে আছে। এই সমস্যার চরম অভিব্যক্তি দেখা যায় মসজিদের ইমাম জোলা বলে যখন সৈয়দ সাহেব তাঁর পিছনে নামাজ পড়তে অস্বীকার করেন, তখন। এমনকী, সুফী সাহেব পর্যন্ত সৈয়দ সাহেবের এমন বংশাভিমান সম্পর্কে কোনো কথা বলেন না। এই অশিষ্টতার বিরুদ্ধে আবদুল্লাহ্ এক মূর্তিমান প্রতিবাদ-সে জোলা ইমামের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। বংশমর্যাদা-প্রসঙ্গে মীর সাহেবের কথায় আবদুল্লাহ্‌র মনোভাবই প্রতিধ্বনিত হয়েছে: 'কবরের ওপারের দিকে তাকাবার আমি কোন দরকার দেখি নে।'

• পর্দাপ্রথার শ্বাসরুদ্ধকর কড়াকড়ির বিরুদ্ধেও আবদুল্লাহ্ সাহস করে দাঁড়িয়েছে। পল্লীসমাজের পরনিন্দা-প্রবৃত্তি এবং খাতকের প্রতি মহাজনের অত্যাচারের চিত্র-উদ্‌ঘাটনে কাজী ইমদাদুল হক অকুণ্ঠ। হিন্দু-মুসলমান-বিরোধের পর্যালোচনাও তিনি করেছেন, সেখানে তিনি দায়ী করেছেন সম্প্রদায়কে নয়, ব্যক্তিকে। 

---------------------
কাজী ইমদাদুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস। 

১৪,১১২.
'কাঁটা-কুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা, দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা!' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
• 'কাঁটা-কুঞ্জে বসি তুই গাঁথিবি মালিকা, দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টীকা!' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম
- এটি তাঁর 'দারিদ্র্য' কবিতার পঙ্‌ক্তি।
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৪,১১৩.
‘বৃষ্টি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ রচিত কবিতা হলো ‘বৃষ্টি’। তাঁর রচিত বিখ্যাত আরো কবিতা ‘হলো সাত সাগরের মাঝি’, ‘পাঞ্জেরী’। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১৪,১১৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ - 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১১৫.
সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গল্প কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. ইতল বিতল
  3. একালে আমাদের কাল
  4. সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গল্প হচ্ছে ইতল বিতল। 

সুফিয়া কামাল
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 

শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল, 
- নওল কিশোরের দরবারে। 

ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১১৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. উপমহাদেশ
  3. সাদা কফিন
  4. পরীবানুর কাহিনী
ব্যাখ্যা

• "উপমহাদেশ" উপন্যাস:
- "উপমহাদেশ" কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক।

অন্যদিকে, 
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৪) কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রস্থ।
• বিপ্রদাশ বড়ুয়া রচিত ‘সাদা কফিন ও মুক্তিযোদ্ধা’ ( ২০১৭) গল্পগ্রন্থের অন্যতম নামগল্প ‘সাদা কফিন’। এই গল্পের প্রেক্ষাপট মুক্তিযুদ্ধ।

• ‘পরীবানুর কাহিনী’ হলো সত্যেন সেন রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পটভূমি করে লেখা, যেখানে এক সাধারণ মেয়ে পরীবানুর জীবন ও অসাধারণ ত্যাগ ও সাহসিকতার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর মানবিক আবেদনের গল্প বলে।

উৎস: "উপমহাদেশ" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪,১১৭.
‘করুণা’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. নীরজা
  2. রজনী
  3. শর্মিলা
  4. রাজলক্ষী
ব্যাখ্যা
• ‘করুণা’ উপন্যাস:
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
• রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’।
• মাসিক ‘ভারতী’ পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) ‘করণা’ উপন্যাসটি ছাপা হয়।
• তবে ‘করুণা’ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলি’তে (১৯৬১) ‘করুণা’ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে,
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- শর্মিলা ও উর্মিলা।
• ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,১১৮.
“পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” একুশের গল্পে কার অশ্রুর কথা বলা হয়েছে?
  1. রেণুর
  2. রাহাতের
  3. তপুর মায়ের
  4. নাজিমের
ব্যাখ্যা
⇒ একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

গল্পটিতে ব্যবহৃত কিছু সংলাপ হলো:
• 'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি একুশের গল্পের অন্তর্গত।
• ‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে। - সংলাপটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” - গল্পে রেণু সম্পর্কে উক্তিটি বলা হয়েছে।

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।
১৪,১১৯.
'মহাকবি আলাওল' - নাটকটি কে রচনা করেন ?
  1. সানাউল হক
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন- সিকান্‌দার আবু জাফর।

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন তেঁতুলিয়া গ্রাম, খুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। 
- তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক 'মিল্লাত' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' এই বিখ্যাত গানটি তিনি রচনা করেন। 
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- কবিতা,
- বৃশ্চিকলগ্ন।

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মহাকবি আলাওল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১২০.
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কালিদাস রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - হাঁসুলী বাঁকের উপকথা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসে বীরভুমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ,
লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি।
- পঞ্চগ্রাম।
- ধাত্রীদেবতা।
- কালিন্দী।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,১২১.
কায়কোবাদের ‘মহাশশ্মান’ কোন ধরণের রচনা?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) মহাকাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) গীতিকার
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
- মহাশ্মশান কাব্যে মোট তিনটি খন্ড রয়েছে।
- প্রথম খন্ড ১৯ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ড ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খন্ড ৭ সর্গে সমাপ্ত। 

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায়, কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া।

প্রধান চরিত্র: 
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,১২২.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কী ধরনের কাব্য?
  1. মহাকাব্য
  2. পত্রকাব্য
  3. কাব্যনাট্য
  4. গাথাকাব্য
ব্যাখ্যা

'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্য:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীম উদ্দীন তাকে অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,১২৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১২৪.
‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ এই উক্তিটি করেন কে?
  1. সমর সেন
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. শামসুর রহমান
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
সমর সেন:
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১২৫.
'ছিন্নপত্রে'র অধিকাংশ পত্র কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা?
  1. ইন্দিরা দেবী
  2. কাদম্বরী দেবী
  3. মৃণালিনী দেবী
  4. মৈত্রেয়ী দেবী
ব্যাখ্যা
• 'ছিন্নপত্রে'র অধিকাংশ পত্র ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা।

• ‘ছিন্নপত্র’ চিঠির সংকলন:

- 'ছিন্নপত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠির সংকলন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে।
- এতে মোট ১৫৩টি পত্র আছে।
- প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে লেখা।
- পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা৷
- উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১২৬.
’শ্যামলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ’শ্যামলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেওয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে।
- এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
- এ কাব্যের কবিতাগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ।
-----------------------------------------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি- কাহিনী'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১২৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আরোগ্য নিকেতন
  2. কালিন্দী
  3. ডাক-হরকরা
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত ল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়।
- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

-----------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১২৮.
‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
  2. চাষাভুষার কাব্য
  3. না প্রেমিক না বিপ্লবী
  4. প্রেমাংশুর রক্ত চাই
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো' কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
- কবিতাটি 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

- কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে-
"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা।
কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।"।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো' কবিতা।
১৪,১২৯.
'অনল প্রবাহ' — কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন
  1. কায়কোবাদ
  2. আহসান হাবীব
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য ’অনল প্রবাহ’।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।
--------------------------------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৩০.
'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ও জীবন পথের যাত্রী উপন্যাসগুলোর রচয়িতা আবুল ফজল। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,১৩১.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. দুই সৈনিক
  3. আগুনের পরশমনি
  4. যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'দুই সৈনিক':
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

"দুই সৈনিক"
গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক।
বেতারের সংবাদই তখন জীবন সঞ্জীবনী। কলকাতা বেতার শুনছে সাহেলী ও চামেলী। বাবা মখদুম মৃধা; তিনি মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলেন, উনসত্তরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাজাও পেয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি দ্বিধায় আছেন। একটি গ্রামীণ প্রতিবেশে উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ, ইতিহাসের সভ্যতা তার পরিপূরক হয়ে আসে। প্রথম দুপর্বে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক কথোপকথনে জানা যায় একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দেশের স্বাধীনতা, শেখ মুজিব কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন, নির্বাচনে জিতেছেন। মখদুম মৃধার দুই মেয়ে সারাক্ষণ ট্রানজিস্টার নিয়ে দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ শুনছেন। রণেশদাশ গুপ্তের মতে, দুই সৈনিক হচ্ছে হানাদার বাহিনীর দুই মদমত্ত অফিসার। ৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী সারাদেশে যে হামলা চালায় তার দুই মূর্তিমন্ত প্রতীক। তাদের পাশবিক ক্রিয়াকলাপ উপন্যাসটির ঘটনা তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই জন্যই সম্ভবত উপন্যাসের নাম দুই সৈনিক। কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে সচেতন লেখক শওকত ওসমান সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিবেশ বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা বলতে ভোলেননি।

শওকত ওসমান:
-  শওকত ওসমান, একজন  কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
-  ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য

অন্যদিকে,
- ’সৈয়দ শামসুল হক’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “নিষিদ্ধ লোবান”।
- ’হুমায়ূন আহমেদ’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “আগুনের পরশমনি”।
- ’সেলিনা হোসেন’ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- “যুদ্ধ”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দুই সৈনিক উপন্যাস ।

১৪,১৩২.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. সবুজপত্র 
  3. ধূমকেতু 
  4. তত্ত্ববোধিনী 
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- 'বিদ্রোহী' কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
এর মূলে রয়েছে- বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

---------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'। কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত। 
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৩৩.
"জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী? পৃথিবীতে কে কাহার।" - উক্তিটি কোন সাহিত্যের?
  1. হৈমন্তী
  2. পোস্টমাস্টার
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প 'পোস্টমাস্টার'।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের একটি বিখ্যাত উক্তি- 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী? পৃথিবীতে কে কাহার।'

---------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা
- পোস্টমাস্টার,
- একরাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী
- মুসলমানীর গল্প।

উৎস: 'পোস্টমাস্টার' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১৩৪.
"দিবারাত্রির কাব্য" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• "দিবারাত্রির কাব্য" উপন্যাস:
- "দিবারাত্রির কাব্য" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম লেখা উপন্যাস, প্রকাশক্রমের দিক থেকে দ্বিতীয়।

- এর প্রথমাংশ ('দিনের কবিতা') গল্পাকারে ('একটি দিন') প্রথম মুদ্রিত হলেও এর ঔপন্যাসিক সম্ভাবনা টের পান সম্পাদক সজনীকান্ত দাস এবং তাঁর অনুরোধে ঐ বীজময় ছোটোগল্পটি একটি দীর্ঘ উপন্যাসে রূপান্তরিত হয়। বীজ-আকারে যাই থাক, "দিবারাত্রির কাব্য"কে একটি সম্পূর্ণ ও অখণ্ড উপন্যাস হিসেবে দ্বিধাহীনভাবে গ্রহণ করা যায়।

- এ উপন্যাসে অনেক নাটকীয় ও ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে- আনন্দের আত্মহত্যা, সুপ্রিয়াকে ছাদ থেকে অশোকের ফেলে দেবার চেষ্টা, অনাথ ও পরে মালতীর নিরুদ্দেশ যাত্রা। কিন্তু সবার পিছনে আছে মনস্তত্ত্বের গভীর সমর্থন। 

------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: "দিবারাত্রির কাব্য" উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৩৫.
প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল' মঞ্চস্থ হয় -
  1. ক) বেঙ্গলি থিয়েটারে
  2. খ) ওরিয়েন্টাল থিয়েটারে
  3. গ) জোড়াসাঁকো নাট্যশালায়
  4. ঘ) মিনার্ভা থিয়েটারে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ
- খ্রিস্টপূর্ব কাল থেকেই গ্রিসে নাট্যচর্চার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের শুরু হয়। 
- পেরিক্লিসের গ্রিসে এবং পরবর্তীকালে এলিজাবেথের ইংল্যান্ডে নাট্যচর্চায় ব্যাপক সমৃদ্ধি এসেছিল। 
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার 'বেঙ্গলি থিয়েটারে' মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক 'কাল্পনিক সংবদল'
- রুশদেশীয় যুবক হেরাসিম লেবেডফ ইংরেজি নাটক 'দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে মঞ্চস্থ করেন। 
- 'দ্য ডিসগাইজ' এর বাংলায় রূপান্তরিত নাম 'কাল্পনিক সংবদল'। 
- নাটকটি বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেডফ পণ্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন।

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪,১৩৬.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'প্রথম আলো' কোন জাতীয় উপন্যাস?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. মন্বস্তাত্বিক
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত  বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রথম আলো'। 
- এই উপন্যাসটি দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
- দীর্ঘ প্রবাহিত এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার এক রাজপরিবারের কাহিনী দিয়ে। তারপরে তা ক্রমে ক্রমে এসে দাড়ায় কলকাতার ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র গুলি সবই প্রায় বাস্তব বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ, নরেন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নটী বিনােদিনী, গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি চরিত্রের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
- লেখক প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
- এছাড়াও উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র “ভরত ও ভূমিসুতা”।
- উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- একা এবং কয়েকজন

উৎস: প্রথম আলো উপন্যাস ও সাহিত্য বিষয়ক ব্লগ।
১৪,১৩৭.
ইয়ং বেঙ্গল - এর অনুসারীদের ব্যঙ্গ করা হয়েছে কোনটিতে?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. ভগ্ন শিবমন্দির
  3. এর উপায় কী
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত দুটি প্রহসন রচনা করেন।
১. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
২. একেই কি বলে সভ্যতা

দ্বিতীয় প্রহসনটি 'একেই কি বলে সভ্যতা' ১৮৬০ সালে প্রকাশিত।
- এতে মাইকেল নবলব্ধ ইংরেজি শিক্ষাভিমানী যুবকদের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের কথা বর্ণনা করেছেন।
- এই নাটক/প্রহসনটিতে মূলত ইয়ং বেঙ্গলদের মন্দ দিকটি তুলে ধরে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নবকুমার, কালীনাথ, বাবাজী, নিতম্বীনি, কর্তামশাই, প্রসন্নময়ী, পয়োধরী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ - প্রহসনটি এক লম্পট জমিদারের আচার ব্যবহার, লোভ এবং তার প্রজা কর্তৃক শিক্ষা দেওয়া নিয়ে রচিত।
- এই প্রহসনের প্রথম নাম - ভগ্ন শিবমন্দির। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - ভক্তপ্রসাদ, পঞ্চানন, বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফাতেমা, ভগী, হানিফ গাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৩৮.
’এর উপায় কি?’-প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

•”এর উপায় কি?”
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে নারীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে যে অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল একশ্রেণির লোক -লেখক এই প্রহসনে তা তুলে ধরেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এ প্রহসনের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র ।
- গ্রন্থটির প্রকাশ ঘটে, ১৮৭৫ সালে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা - ’বিষাদ-সিন্ধু” (উপন্যাস)

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১৩৯.
'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।'- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিক্ষার মিলন
  2. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  3. সংস্কৃতি কথা
  4. সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা
• 'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।' - মোতাহার হোসেন চৌধুরী 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে এ উক্তিটি করেন।

⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর (১৯০৩-১৯৫৬) জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী ও
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সংস্কৃতি কথা,
- সভ্যতা ও,
- সুখ।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ ‘শিক্ষার মিলন’ ও ‘সভ্যতার সংকট’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৪০.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' স্মৃতিকথার রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জহির রায়হান
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

• শহীদুল্লা কায়সার:
• শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
- তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সংশপ্তক' তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

অপরদিকে,
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ।
- 'শয়তানের জবানবন্দি' হলো আরজ আলী মাতুব্বরের রচনা।
- 'কারাগারের রোজনামোচা' হলো শেখ মুজিবর রহমানের দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১৪১.
দৌলত উজির বাহরাম খান কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ফরিদপুর
  3. সিলেট
  4. কৃষ্ণনগর
ব্যাখ্যা

• দৌলত উজির বাহরাম খান ষােড়শ শতাব্দীতে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ বা জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আসা উদ্দিন।
• তাঁর রাজকীয় উপাধি দৌলত উজির বা অর্থ সচিব।
• তাঁর রচিত কাব্যঃ
- ‘জঙ্গনামা’ বা ‘মক্তুল হােসেন',
- 'লায়লী-মজনু'।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৪২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ কোনটি?
  1. তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
  2. পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।
  3. ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।
  4. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
• এই উপন্যাসের 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি।

=============
⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

•  বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও 
- সীতারাম উপন্যাস।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৪৩.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) ইতিহাসমালা
  2. খ) রাজা প্রদাপাদিত্য চরিত্র
  3. গ) ফুলমণি ও করুনার বিবরণ
  4. ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এটি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

- 'লিপিমালা' (১৮০২) রামরাম বসু রচিত অপর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। 
- উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গদ্য গ্রন্থ। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাসের প্রয়াস হেনা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত ফুলমণি ও করুণার বিবরণ ( ১৮৫২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৪৪.
জহির রায়হান নির্মিত প্রথম সিনেমাস্কোপ কোনটি?
  1. কাঁচের দেয়াল
  2. সোনার কাজল
  3. বাহানা
  4. স্টোপ জেনোসাইড
ব্যাখ্যা
• বাহানা:
- এটি হলো একটি উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র।
- পূর্ব পাকিস্তান আমলে জহির রায়হান ছবিটি নির্মাণ করেন।
- এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৫ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তি পায়।
- পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র।
----------------------------------------

• জাহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
-  'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ভিখারিনী’ ছোটগল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয়- রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৪৬.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা?
  1. ক) আহমদ শরিফ
  2. খ) মুহম্মদ এনামুল হক
  3. গ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- ভবিষ্যতের বাঙালী তার বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে। 

এস ওয়াজেদ আলি
- তিনি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম- গল্পগ্রন্থ 'গুলদাস্তা' 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য 
- ভবিষ্যতের বাঙালী 
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

তাঁর রচিত গল্প
- গুলদাস্তা
- মাশুকের দরবার 
- বাদশাহী গল্প 
- গল্পের মজলিশ 

তাঁর রচিত উপন্যাস
- গ্রানাডার শেষ বীর 

ভ্রমণকাহিনী
- পশ্চিম ভারত
- মোটর যোগে রাঁচী সফর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৪৭.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় বুদ্ধদেব বসু কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) শতদল
  3. গ) বাসন্তিকা
  4. ঘ) অবদূত
ব্যাখ্যা
পতিদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র থাকা অবস্থায় জগন্নাথ হলের বার্ষিকী 'বাসন্তিকা' (১৯২৭-২৮) পত্রিকা সম্পাদনা করে প্রশংসিত হন। পত্রিকাটি আজও প্রকাশিত হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪,১৪৮.
'বাংলার কাব্য' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা
- 'বাংলার কাব্য' হুমায়ুন কবির রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

হুমায়ুন কবির: 
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক। 
- ১৯৪৬ সালে হুমায়ুন কবির কংগ্রেস সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আমন্ত্রণে তাঁর একান্ত সচিব হিসেবে যোগদান করেন। 
- ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। 
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের বশির হাট থেকে লোকসভার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:  
• কাব্যগ্রন্থ: 
- স্বপ্নসাধ, 
- সাথী, 
- অষ্টাদশী। 

• উপন্যাস: 
- নদী ও নারী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- ইমানুয়েল কান্ট, 
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- নয়া ভারতের শিক্ষা, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, 
- মিরজা আবু তালিব খান, 
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৪৯.
'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. কাজী কাদের নেওয়াজ
  4. কাজী মোতাহের হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটির রচয়িতা: কাজী কাদের নেওয়াজ। 


'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা'
- কাজী কাদের নেওয়াজ।

বাদশাহ আলমগীর-
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি
ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি।

------------------- 
• কাজী কাদের নেওয়াজ:

- ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বিকাশ, শিশুসাথী, ভারতবর্ষ, বসুমতী, শুকতারা, পাঠশালা, রামধনু, শীশমহল, মৌচাক, প্রবাসী, সওগাত প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি রবীন্দ্রভাব-বলয়ের কবি হলেও বিষয়ে, বিন্যাসে, আঙ্গিকে ও প্রকাশনৈপুণ্যে তাঁর কাব্য স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল।
- ছান্দসিক কবি হিসেবে তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন।
- প্রেম, প্রকৃতি ও স্বদেশ তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু।
- ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি স্বগ্রামে তাঁর মত্যু হয়।

• কাজী কাদের নেওয়াজের গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি হলো:
- মরাল,
- দাদুর বৈঠক,
- নীল কুমুদী,
- মণিদীপ,
- কালের হাওয়া,
- মরুচন্দ্রিকা,
- দুটি পাখি দুটি তারা,
- উতলা সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৫০.
‘যে তুমি ফোটাও ফুল’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
‘• ‘আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে’ হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে। এটি তাঁর পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ।
কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতা হলো:
- কথা দিয়েছিলাম তোমাকে,
- যদি একবার তাকাও,
- তরুণী সন্তু,
- যে তুমি ফোটাও ফুল,
- পর্বত,
- শিশু ও যুবতী ইত্যাদি।

---------------
• হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য উপন্যাস গুলো হলো:
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, 
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি

কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৫১.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'নবান্ন' নাটক:
- নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্যের বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১৫২.
'রক্তকরবী' - নাটকে কোন চরিত্রটি 'বিদ্রোহের বাণী' বহন করে এনেছে?
  1. রাজা
  2. রঞ্জন
  3. অধ্যাপক
  4. মোড়ল
ব্যাখ্যা

'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১৫৩.
নিচের কোনটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ বলা হয়?
  1. ক) পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
  2. খ) এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।
  3. গ) বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।
  4. ঘ) তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা'
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
উপন্যাসের চরিত্র: 
- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি। 

গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
• তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
• পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ - বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ।

অন্যদিকে,
• "এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।" - উক্তিটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি' এর অন্তর্গত।
• “বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না- দূরেও ঠেলিয়া ফেলে।” - উক্তিটি শরৎচন্দ্রের “শ্রীকান্ত” উপন্যাসের প্রথম খন্ড থেকে নেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৫৪.
'ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. সুকুমার সেন
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন - সুকুমার সেন। 

সুকুমার সেন:

-  জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 
- তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- বাংলা স্থান নাম,
- বাংলায় নারীর ভাষা,
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
- রামকথার প্রাক ইতিহাস,
- বটতলার ছাপা ও ছবি,
- বনফুলের ফুলবন,
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,১৫৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. আশালতা
  2. চারুলতা
  3. বিনোদিনী
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র 'চারুলতা'।

এই গল্পের অন্য দুটি চরিত্র:
- অমল ও
- ভূপতি।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" উপন্যাসের চরিত্র- আশালতা ও বিনোদিনী।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'হৈমন্তী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প।

১৪,১৫৬.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' উক্তিটি কার?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
• তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
• এছাড়া তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
- 'কবিতার কথা' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তিঃ 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি'।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ধূসর পান্ডুলিপি (বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন),
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক (প্রথম প্রকাশিত),
- মহাপৃথিবী,
- রূপসী বাংলা,
- সাতটি তারার তিমির (হুমায়ুন কবিরকে উৎসর্গ করেন),
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,১৫৭.
আহসান হাবীব এর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. খ) রাত্রিশেষে
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৫৮.
বাংলা সাহিত্যে ‘নাগরিক কবি’ হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) সিকান্দর আবু জাফর
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক নাগরিক কবি - সমর সেন
নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী চেতনা ইত্যাদি - তার রচিত কবিতায় বলিষ্টভাবে রূপায়িত হয়েছে।
এই কারণে তাকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
সমর সেন রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কাব্য রচনা করতেন এবং রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয় - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে।

- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের ও বাংলাদেশের আধুনিক কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করেছিলেন।
শামসুর রাহমানের কাব্যে আধুনিকতার যথার্থ প্রকাশ ঘটেছে এবং কাব্যের সাম্প্রতিকতম বিবর্তনের সঙ্গেও তিনি সংযোগ সাধন করে আছেন। তার মূল্যবোধ প্রধানত ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিন্তু এর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সূত্রে জড়িত হয়েছে পরিপার্শ্ব, সমাজ ও সময়জ্ঞানতা। উপমা ও চিত্রকল্পে তিনি প্রকৃতি নির্ভর এবং বিষয় ও উপাদানে শহরকেন্দ্রিক।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৪,১৫৯.
"লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা" - কোন রচনার প্রেক্ষাপট?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. সধবার একাদশী
  3. এর উপায় কি?
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৬০.
অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৬১.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  3. মিশন সমাচার
  4. মঙ্গল সমাচার
ব্যাখ্যা
• ‘মঙ্গল সমাচার’:
- বাংলা গদ্যের অনুশীলনের ক্ষেত্রে প্রথম সার্থকতা লক্ষ করা যায় খ্রিষ্টান মিশনারিদের প্রচেষ্টার মধ্যে। শ্রীরামপুরের মিশনারিদের প্রচেষ্টার সার্থকতার নিদর্শনস্বরূপ ১৮০০ সালে বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টের Gospel of St. Mathews অংশের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মথীয়ের রচিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- কলকাতায় চার্লস উইকিন্সের নির্দেশানুযায়ী পঞ্চানন কর্মকার মুদ্রণোপযোগী বাংলা অক্ষর তৈরি করেছিলেন বাইবেলের অনুবাদ ‘মঙ্গল সমাচার’ মুদ্রণে তা ব্যবহৃত হয়। এই ভাষার মধ্যেই বাংলা গদ্যের ভবিষ্যৎ মুক্তির সম্ভাবনা নিহিত ছিল। অর্থাৎ গদ্যের ইতিহাস অনুযায়ী ‘মঙ্গল সমাচার’ বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর লিপি ছিল রোমান।

• উইলিয়াম কেরি রচিত ‘কথোপকথন’ গ্রন্থে বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন বিধৃত। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক-এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

• ১৮১২ সালে ‘ইতিহাসমালা’ নামক একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়র যোগ্য।

[ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও এর ভাষা/লিপি ছিল রোমান। এতএব প্রশ্নে চাওয়া বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ হিসেবে অপশন (ঘ) ‘মঙ্গল সমাচার’ অধিক গ্রহণযোগ্য।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,১৬২.
‘সমাচার দর্পন’ পত্রিকাটির প্রকাশকাল কোনটি?
  1. ১৮০১ সাল
  2. ১৮২০ সাল
  3. ১৮১৮ সাল
  4. ১৮২৮ সাল
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৬৩.
'নীলদর্পণ' নাটকটি কত সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৬ সালে
  2. ১৮৬০ সালে
  3. ১৮৫০ সালে
  4. ১৮৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম নাটক এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৪,১৬৪.
‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) মানসী
  2. খ) গীতাঞ্জলি
  3. গ) চিত্রা
  4. ঘ) শেষলেখা
ব্যাখ্যা

চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। 
কবিতাগুলো হচ্ছে -
- চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ,
- পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়,
- দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার,  বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা,
- রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।


দুই বিঘা জমি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত একটি কবিতা।
'কথা' (১৮৯৯) ও 'কাহিনী' (১৮৯৯) - দুটি আলাদা কাব্যগ্রন্থ ছিলো যা পরবর্তীতে 'কথা ও কাহিনী' নামে ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটি বাঙ্গালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হয়।
'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত কবিতাগুলো হচ্ছে -
- কত কী যে আসে কত কী যে যায়
- গানভঙ্গ
- পুরাতন ভৃত্য
- দুই বিঘা জমি
- দেবতার গ্রাস
- নিস্ফল উপহার
- দীন দান
- বিসর্জন
- জুতা আবিষ্কার

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, পুরাতন ভৃত্য এবং দুই বিঘা জমি দুটি কবিতাই চিত্রা এবং কবি ও কাহিনী - দুটি কাব্যগ্রন্থেরই অন্তর্ভূক্ত কবিতা।

যেহেতু অপশনে কবি ও কাহিনী নেই, তাই সঠিক উত্তর হবে - গ) চিত্রা


উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ।

১৪,১৬৫.
“নীল দংশন” কার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান ও
- নীল দংশন

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- ত্রাহী,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যঃ
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন (ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত),
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,১৬৬.
শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা' কোন সময়ের ঘটনার শিল্পরূপ?
  1. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
  2. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ
  3. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে'র প্রথম সপ্তাহ
  4. মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে'র দ্বিতীয় সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
যাত্রা:
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই 'যাত্রা'।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনার শিল্পরূপ।
- 'যাত্রা' উপন্যাস মূলত যুদ্ধে আক্রান্ত নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন এবং আশ্রয়ের শেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তারা প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
১৪,১৬৭.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ফরিদ
  2. ওসমান
  3. আজাদ
  4. রায়হান
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৬৮.
'ইন্দ্রনাথ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেবদাস
  2. শ্রীকান্ত 
  3. পথের দাবী
  4.  রমা  
ব্যাখ্যা

- ইন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রীকান্ত উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল।
---------------------------------------------- 
• 
'শ্রীকান্ত':
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি মূলত শ্রীকান্তের ভবঘুরে জীবনের উপ ভিত্তি করে রচিত।
- বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটি।
- এটি চারটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র হল শ্রীকান্ত।
- ইন্দ্রনাথ এই উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল।
- উপন্যাসে ইন্দ্রনাথকে শ্রীকান্তের এক নির্ভীক ও দুঃসাহসপ্রবণ সঙ্গী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
------------------------------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পল্লীসমাজ,
- পরিণীতা,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- দেনা পাওনা, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৬৯.
‘কয়েকটি মৃত্যু’ উপন্যাসটি রচনা করেছেন-
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। তার রচিত উপন্যাসগুলো হলো -
- তৃষ্ণা
- শেষ বিকেলের মেয়ে
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন (ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম উপন্যাস)
- বরফ গলা নদী
- আর কত দিন
- কয়েকটি মৃত্যু।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৪,১৭০.
'মৃত্যুঞ্জয়' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. সতী
  2. বিলাসী
  3. মামলার ফল
  4. মেজদিদি
ব্যাখ্যা
• “বিলাসী” গল্প:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “বিলাসী” গল্পটি প্রথমে প্রকাশিত হয় ‘ভারতী' পত্রিকায় ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ) বৈশাখ সংখ্যায়। “ন্যাড়া” নামের এক যুবকের নিজের জবানিতে বিবৃত হয়েছে এ গল্প। এই গল্পের কাহিনিতে শরৎচন্দ্রের প্রথম জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে।

- “বিলাসী” গল্পে বর্ণিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মানব-মানবীর চরিত্রের অসাধারণ প্রেমের মহিমা, যা ছাপিয়ে উঠেছে জাতিগত বিভেদের সংকীর্ণ সীমা। গল্পে সংঘটিত একের পর এক ঘটনা এবং বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে সংঘাতের মাধ্যমেই কাহিনি অগ্রসর হয়। ঘটনার দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্য দিয়ে কাহিনিতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। 

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পটি বলা হয়েছে 'ন্যাড়া'র জবানবন্দিতে। ন্যাড়ার সাথে পড়ত মৃত্যুঞ্জয়। মৃত্যুঞ্জয়কে আজীবন সবাই থার্ড ক্লাসে পড়তে দেখেছে। তাকে কেউ ফোর্থ ক্লাসে উঠতে দেখে নি। তার আপন বলতে কেউ ছিল না, শুধু এক খুড়ো (জ্যাঠা) ছাড়া। খুড়োর কাজ ছিল ভাইপোর বিরুদ্ধে হরেক রকম দুর্নাম রটানো।

মৃত্যুঞ্জয় নিজে রান্না করে খেত। তার বাড়ি সংলগ্ন আমবাগান থেকে আয়কৃত অর্থে দিন গুজরান হত তার। মৃত্যুঞ্জয় ছিল উদার প্রকৃতির, এতিম, ব্রাহ্মণ,উঁচুজাতের,নির্ভীক,দৃঢ়চেতা,ধৈর্যশীল ও প্রণয়নিষ্ঠ।

গ্রামের ভিতরে মৃত্যুঞ্জয়ের নামে হরেক রকম দুর্নাম শোনা গেলেও, সে ছিল দিলদরিয়া। সে দোকান থেকে এটা ওটা কিনে খাওয়াত সবাইকে। দরিদ্রকে সাহায্য করত সে। কিন্তু, তার থেকে সাহায্য পাবার কথা কেউ স্বীকার করত না, গ্রামের মাঝে মৃত্যুঞ্জয়ের এমন ছিল সুনাম।

একসময় মৃত্যুঞ্জয় রোগে শয্যাশায়ী হয়। সে সময় সাপুড়ে কন্যা বিলাসী তাকে সেবা করে সুস্থ করে থাকে। মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে যমের দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনে সে। একসময় তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।

এতদিন মৃত্যুঞ্জয়ের সেবায় এগিয়ে না আসলেও কায়স্থ সন্তান মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর বিবাহের দরুন সৃষ্টি হওয়া সামাজিক অনাচার-এর বিরুদ্ধে এগিয়ে আসে তার খুড়ো। অন্নপাপী মৃত্যুঞ্জয়ের বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী বিলাসীর উপর অকথ্য নির্যাতন চালায় সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গ। ন্যাড়া রোগাক্রান্ত দুর্বল মৃত্যুঞ্জয়ের তা প্রতিরোধের কোন ক্ষমতা ছিল না। এরপর তারা ঐ বাড়ি ছেড়ে মালপাড়ায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে।

এর বহুদিন পর ন্যাড়ার সাথে দেখা হয় মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর। মৃত্যুঞ্জয়কে দেখে অবাক হয় ন্যাড়া। সাত পুরুষের কায়স্থ যে সাপুড়েতে রূপান্তর হয়ে গিয়েছে! এরপর, বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে থাকা শুরু করে সে। তাদের সাথে থেকে মন্ত্রসিদ্ধ হয় ন্যাড়া।

একদিন, এক গোয়ালার বাড়িতে এক খরিশ গোখরোর কামড়ে মৃত্যু ঘটে মৃত্যুঞ্জয়ের। তাবিজ-মন্ত্র কোনটাই তার 'মৃত্যুঞ্জয়' নামটির সার্থকতা বজায় রাখতে পারে নি। তার মৃত্যুর পর বিলাসীর বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করে। আর ন্যাড়ার সাপুড়ে জীবনের ইতি ঘটে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মৃত্যুঞ্জয়,
- ন্যাড়া,
- বিলাসী,
- খুড়ো। 

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলা সাহিত্যপাঠ এবং “বিলাসী” গল্প।
১৪,১৭১.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. ডানপিটে শওকত
  3. এলাটিং বেলাটিং
  4. টুনি মেম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘এলাটিং বেলাটিং’ শামসুর রাহমান রচিত একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো,
- স্মৃতির শহর,
- লাল ফুলকির ছড়া। 

অন্যদিকে,
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি ‘চাচা-কাহিনী’ ও ‘টুনি মেম’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৭২.
'বৈরাগ্য সাধনে - সে আমার নয়।' শূন্যস্থান পূরণ করুন।
  1. আনন্দ
  2. মুক্তি
  3. বিশ্বাস
  4. আশ্বাস
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতা- বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়।

কবিতাটি সংক্ষেপে-

বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়।
অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময়
লভিব মুক্তির স্বাদ। এই বসুধার
মৃত্তিকার পাত্রখানি ভরি বারম্বার
তোমার অমৃত ঢালি দিবে অবিরত
নানাবর্ণগন্ধময়। প্রদীপের মতো
সমস্ত সংসার মোর লক্ষ বর্তিকায়
জ্বালায়ে তুলিবে আলো তোমারি শিখায়
তোমার মন্দির-মাঝে।

-------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়’ কবিতা।
১৪,১৭৩.
‘নূরলদীনের সারাজীবন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যনাট্য
  3. উপন্যাস
  4. অনুবাদ নাটক
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৭৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচনা নয় কোনটি?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর  রচনা নয়। 
- মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’- ঐতিহাসিক রচনা।
----------------------- 
 ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
=============== 
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৭৫.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত 'ত্রয়ী' উপন্যাসের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. সংকর সংকীর্তন
  3. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  4. দেয়াল
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় - দেয়াল।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
---------------------------- 
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন, 
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৭৬.
'পুঁই ডালিমের কাব্য' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'পুঁই ডালিমের কাব্য' (১৯৮৭) গল্পগ্রন্থের রচয়িতা - শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৭৭.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. পশ্চিমের যাত্রী
  2. দুয়ার হতে অদূরে
  3. মস্কোতে কয়েকদিন
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
ব্যাখ্যা
• ‘মস্কোতে কয়েকদিন’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।

অন্যদিকে,
- ‘দুয়ার হতে অদূরে’ বিভূতিভূষণ মুখোপধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- 'পশ্চিমের যাত্রী' (১৯৩৮) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৭৮.
'সংশপ্তক' উপন্যাসে ফুটে উঠেছে-
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ 
  4. শ্রেণিসংগ্রাম
ব্যাখ্যা

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

• শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪,১৭৯.
'দিয়েছিলে সকল আকাশ' - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'দিয়েছিলে সকল আকাশ' - এর রচয়িতা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। এটি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে একটি।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৮০.
শওকত আলী তাঁর রচিত কোন গ্রন্থটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. পিঙ্গল আকাশ
  2. ওয়ারিশ
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা
• 'দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' ত্রয়ী উপন্যাস:
- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত ও পূর্বরাত্রি পূর্বদিন গ্রন্থ তিনটি শওকত আলীর 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলে স্বীকৃত।

- উপন্যাস তিনটিই বিশ শতকের সত্তর দশকের শেষদিকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বিচিত্রার পর পর কয়েক বছরের (১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮) ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আরো অনেক পরে।

- ঢাকার এশিয়া পাবলিকেশন্স থেকে যে শওকত আলীর উপন্যাস শিরোনামে তিনটি খণ্ড (২০০০, ২০০১, ২০০৭ সালে) প্রকাশিত হয়েছে, তাতে রচনাকালের দিক বিবেচনায়ও এই তিন উপন্যাস সেখানে স্থান পায়নি। আবার তিনটি উপন্যাসই শুধু দক্ষিণায়নের দিন শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ঢাকার প্রকাশনা সংস্থা বিদ্যাপ্রকাশ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে।

- এই ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে আলাদা করে শুধু "পূর্বরাত্রি পূর্বদিন" প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তধারা (ঢাকা) থেকে ১৯৮৬ সালে। লেখক গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে। উৎসর্গপত্রে শওকত আলী লিখেন, 'প্রিয় লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আপনাকে'।

------------------
• শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দক্ষিণায়নের দিন' উপন্যাসের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৮১.
"মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী।
- সুফিয়া কামালের সপ্তম কবিতাগ্রন্থ মোর যাদুদের সমাধি পরে এবং দিনলিপি একাত্তরের ডায়েরী ধারণ করে আছে অগ্নিঝরা একাত্তরে এক সংবেদী কবি ও সাহসী জননীর স্বর।

---------------------- 
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৮২.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আবু ইসহাক
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
ব্যাখ্যা

• 'বিশ শতকের বাঙালী' গ্রন্থের রচয়িতা আহমদ শরীফ।
- এটি একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

--------------------
• আহমদ শরীফ:

- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৮৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০৪ সালে
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু, 
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৮৪.
"দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. আয়েশা
  2. তিলোত্তমা
  3. বিমলা
  4. আশালতা
ব্যাখ্যা

দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
'আশালতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের একটি চরিত্র।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৮৫.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. কামিনী রায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া':
- এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। 

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৮৬.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শওকত আলী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৮৭.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থের অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কারবালার প্রান্তরে
  2. খ) মুখরা রমনী বশীকরণ
  3. গ) বিষাদসিন্ধু
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর— নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৮৮.
'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  2. খ) কালিদাস রায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - কাজী নজরুল ইসলাম। 
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে(অক্টোবর ১৯২৩) এটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই। 
-এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো ;
-বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক 
- পূজারিণী 
- কবি-রানী 
- অবেলার ডাক 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৮৯.
'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নিজ বাসভূমে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতাটি ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থ:
- এ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহীদদের প্রতি।
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ৩৮ টি কবিতা এ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে।

• শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ ‘বন্দী শিবির থেকে’ এর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- কাঁটা তার,
- প্রবেশাধিকার নেই।
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।


'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা'
- শামসুর রাহমান।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

 শামসুর রহমান:
- শামসুর রহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,, 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা- শামসুর রাহমান।

১৪,১৯০.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া ছিলেন মূলত কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশুসাহিত্যিক। তিনি কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম- কুঁচবরণ কন্যা, চোর জামাই, মৃগপরী, ডাইনি বউ, রূপকথা। কাব্যগ্রন্থ- অনুরাগ ও ময়নামতির চর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৯১.
'ঐ মহামানব আসে' গানটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানুষের ধর্ম
  2. পঞ্চভূত
  3. কালান্তর
  4. সভ্যতার সংকট
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধ:
- সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত
- 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ:
- সভ্যতার সংকট,
- কালান্তর, 
- পঞ্চভূত, 
- বিবিধ প্রবন্ধ, 
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- শিক্ষা, 
- মানুষের ধর্ম। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৪,১৯২.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. ক) স্বরবৃত্ত
  2. খ) অক্ষরবৃত্ত
  3. গ) মাত্রাবৃত্ত
  4. ঘ) অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তীর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতা।
• কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত (৮+১০ মাত্রা)।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- কবিতাবলী,
- উপহার,
- পারাপার,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪,১৯৩.
'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম' - কে বলেছেন?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল প্রকাশনী কতৃক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধগুলো নিয়ে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা'।
- ত্রিশটি প্রবন্ধ একত্রিত করে 'সংস্কৃতি কথা' শিরোনামে তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে বাংলা একাডেমি ১৯৭০ সালে।

'সংস্কৃতির কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি:
- 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।',
- 'ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'

-----------------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সংস্কৃতি কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৯৪.
'পথের দাবী' উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

- এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হল:
- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড: সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৪,১৯৫.
'সন্দীপ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. ঘরে-বাইরে
  3. নৌকাডুবি
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
• 'সন্দীপ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র।

ঘরে-বাইরে:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।
- স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত।
- একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস।
- 'ঘরে-বাইরে'র সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক; আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।
- এর উপসংহার ট্র্যাজিক ও অধিকতর শিল্পসম্মত। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪,১৯৬.
মীর মোশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আমার জীবনী
  2. খ) আমার ছেলেবেলা
  3. গ) স্মৃতিতে গাজী মিঞা
  4. ঘ) কাসেম জীবনী
ব্যাখ্যা
প্রথম মুসলিম গদ্য সাহিত্য রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিঞার বস্তানী
- আমার জীবনী
- বিবি কুলসুম জীবনী

আমার জীবনী বার খণ্ডে ১৯০৮ থেকে ১৯১০  খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়। 
- গ্রন্থটিতে তাঁর পরিপূর্ণ জীবন কাহিনি বর্ণিত হয়নি। 
- লেখকের জীবনের মাত্র আঠার বছরের ঘটনা ও কার্যক্রম এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- সে বিচারে আত্মজীবনীটি অসমাপ্ত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল এবং আলম বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৯৭.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) ধূমকেতু
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।
• উপন্যাসের প্রধানি নারী চরিত্র “বাসন্তী” এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র হচ্ছে “কিশোর”।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থের নাম:
- নয়াবসত
- রামধনু
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪,১৯৮.
বিদ্যাপতি কোথাকার কবি?
  1. ক) বৃন্দাবন
  2. খ) নবদ্বীপের
  3. গ) মিথিলার
  4. ঘ) বর্ধমানের
ব্যাখ্যা

মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
তবে সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে - কীর্তিলতা, গঙ্গাবাক্যাবলী, বিভাগসার।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

১৪,১৯৯.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু 
  2. বিজলী
  3. বিচিত্রা 
  4. লাঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- 'বিদ্রোহী' কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

------------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নিবীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আ।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

উৎস: 'বিদ্রোহী কবিতা' কাজী নজরুল ইসলাম এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

১৪,২০০.
’ধূমকেতু’ পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. দীনেশরঞ্জন দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
’ধূমকেতু’ পত্রিকা:
 - ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- ধূমকেতু পত্রিকায় ’আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার পত্রিকা নিষিদ্ধ করে।
- এজন্যে নজরুলকে একবছরের জন্যে কারাবাস ভোগ করতে হয়।
 - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যা পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং অমৃতবাজার পত্রিকা ধূমকেতুর আবির্ভাবকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
- শরৎচন্দ্রের কিছু নিবন্ধও এতে প্রকাশিত হয়।
- বিপ্লব, কৃষক-মজদুর ও মধ্যবিত্তের জাগৃতি ছিল এর মূল লক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।