বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৪০ / ১৭৪ · ১৩,৯০১১৪,০০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৯০১.
বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. রাজসিংহ
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৯০২.
বাংলা গদ্যের প্রথম আত্মজীবনী কোনটি?
  1. আত্মচরিত
  2. আত্মকথা
  3. স্ব-চরিত
  4. জীবনস্মৃতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯০৩.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. দুই সৈনিক
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাঙ্গী,
- দুই সৈনিক।

• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ - জন্ম যদি তব বঙ্গে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯০৪.
‘ফুড কনফারেন্স’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

তার রচিত আরো দুটি বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ -
- আয়না (ব্যঙ্গ গল্পের সংকলন)
- আসমানী পর্দা

-----------------
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১৩,৯০৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ‘ভোরের পাখি’ উপাধি কে দিয়েছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- ১৮৩৫ সালে তিনি কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পথপ্রদর্শক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবেও তিনি খ্যাত। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সারদা মঙ্গল’ কাব্য পাঠের পরে তাঁকে ‘ভোরের পাখি’ নামে অভিহিত করেন।
- ১৮৯৪ সালের ২৪ মে বিহারীলাল চক্রবর্তী মৃত্যুবরণ করেন। 

• তার প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য সংক্রান্তি,
- অবোধ বন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯০৬.
প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন-
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. উইলিয়ম কেরী
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• জোশুয়া মার্শম্যান:
- জোশুয়া মার্শম্যান (১৭৬৮-১৮৩৭) পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর জন্ম ১৭৬৮ সালের ২০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ওয়াল্টশায়ারের ওয়েস্টবারি লিফ-এ।
- জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম।
- তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- এ ছাড়া তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এটির প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান।
- মার্শম্যান সংস্কৃত এবং বাংলা ভাষায় ব্যাপক দক্ষতা অর্জন করেন। এর পরে তিনি ধ্রুপদী ভারতীয় সাহিত্য ইংরেজিতে এবং বাইবেল ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ শুরু করেন।
- ১৮০৬ সালে মার্শম্যান উইলিয়ম কেরী সহযোগে বাল্মিকী রচিত রামায়ণ -এর ইংরেজি অনুবাদ শ্রীরামপুর প্রেস থেকে প্রকাশ করেন। ১৮০৮ সালে এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়
- ১৮২১ সালে তিনি শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষামূলক গ্রন্থ School Dialogues; or Lessons on the commandments and the way of Salvation প্রকাশ করেন।
- মার্শম্যান প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। এটি ১৮২১ সালে শ্রীরামপর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি কিছু খ্রিস্টীয় প্রার্থনা সঙ্গীতও রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯০৭.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছিলেন? 
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. দোলনচাঁপা
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

• কবি কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'সঞ্চিতা' কাব্যটি উৎসর্গ করেছিলেন।

'সঞ্চিতা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।

​উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত 'বসন্ত' নাটকটি কাজী নজরুল ইসলাম কে উৎসর্গ করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৯০৮.
'গীতি সঞ্চয়ন' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'গীতি সঞ্চয়ন' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - গোলাম মোস্তফা
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯০৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের 'পরমাত্মা' হিসাবে বিবেচিত চরিত্র কোনটি?
  1. ক) রাধা
  2. খ) বড়াই
  3. গ) অর্জুন
  4. ঘ) কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগে  রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু 
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি
 - কৃষ্ণ (পরমাত্মা)
- রাধা (জীবাত্মা)  
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১৩,৯১০.
'মজিদ ও জমিলা' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. বহিপীর
  4. লালসালু
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কা, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯১১.
“আলোছায়া” নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
- নুরুল মোমেন "আলোছায়া" নামক কমেডি নাটকটি রচনা করেন।
- এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র: হাম্মাদ জামিল, জাহানারা, সুলতান।

নুরুল মোমেন
- জন্ম ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় ২৫ নভেম্বর ১৯০৬।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি রম্যসাহিত্য রচয়িতা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
- তিনি সিতারা-ই–ইমতিয়াজ ও ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- সামাজিক সংকটের পটভূমিকায় অন্তর্দ্বন্দমূলক নাট্যচরিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য কিছু নাটক-
 » রূপান্তর,
 » নেমেসিস,
 » যদি এমন হতো,
 » আইনের অন্তরালে,
 » যেমন ইচ্ছা তেমন,
 » আলছায়া।

তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো
 » বহুরূপ,
 » নরসুন্দর,
 » হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯১২.
'কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যাবেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো' - বাক্যদ্বয় কোন রচনা থেকে উদ্ধৃত? 
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• “কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো”
বাক্যদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “যোগাযোগ” উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্য অপশন, 
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

• 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
------------------- 
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯১৩.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) বাসন
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) দ্যাশের মানুষ
  4. ঘ) বনপাংশুল
ব্যাখ্যা
'হাতহদাই' হলো সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, বাসন, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৯১৪.
আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. সমর সেন 
  2. বিষ্ণু দে
  3. শামসুর রাহমান
  4. ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক। শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।

- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়। কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।

আবার, 
• সমর সেন:
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন। তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• মার্ক্সবাদী কবি- বলা হয় বিষ্ণু দে'কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার।

১৩,৯১৫.
'সব পেয়েছির দেশে' ভ্রমণকাহিনীর তাকে রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সব পেয়েছির দেশে, জাপানি জার্নাল, দেশান্তর ইত্যাদি ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৯১৬.
এই ছিলো মোর ঘটে -
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!
- কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) দুই বিঘা জমি
  2. খ) কুলি
  3. গ) আমি চঞ্চল হে
  4. ঘ) নৈবেদ্য
ব্যাখ্যা

এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি৷
------------------------------------------------------------
এই ছিলো মোর ঘটে -
তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!

উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণি সাহিত্য কণিকা।

১৩,৯১৭.
'রূপালি স্নান' কবিতাটি কার রচনা?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  2. শামসুর রাহমান
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ,
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯১৮.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) মোহাম্মদ নজীবর রহমান
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ: 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হতো। 
- রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- কাহিনির নায়কের নামে গ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে।  
--------------------
• কাজী ইমদাদুল হক: 
- কাজী ইমদাদুল হক শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর  খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল,
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ, ১৯১৩, ১৯১৬),
- নবীকাহিনী,
- প্রবন্ধমালা,
- কামারের কান্ড ও
- আবদুল্লাহ।

- আবদুল্লাহ উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।

- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,৯১৯.
সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যাঙ্গ করে লেখা প্রহসন কোনটি?
  1. ক) জামাই বরিক
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) কমলেকামিনী
ব্যাখ্যা
সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যাঙ্গ করে দীনবন্ধু মিত্রের রচিত প্রহসন ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’। ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৯২০.
“উত্তরের ক্ষেপ” কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4.  প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

“উত্তরের ক্ষেপ” শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস। 

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)।
- জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস "পিঙ্গল আকাশ" (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।            

শওকত আলী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৯২১.
'অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ভোরের বিহঙ্গী
  2. পদচিহ্ন
  3. পাপের সন্তান
  4. বিদ্রোহী কৈবর্ত
ব্যাখ্যা
•পাপের সন্তান: 
- অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত ‘পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনেরই সেরা সৃষ্টি নয়, বাংলা ভাষায় লিখিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার (১৯৭০) লাভ করেন ।
- ‘পাপের সন্তানে’ সেই পতনের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত।
- এই দীর্ঘ সময়ে ইহুদিদের সঙ্গে অন্য ধর্ম-জাতির অনেকেরই বিয়ে এবং সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটে।
- পরজাতি স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী ইহুদি সন্তানদের পাপের সন্তান আখ্যা দিয়ে তাদের ধ্বংস কামনা করা হয়।
--------------------------- 
• সত্যেন সেন: 

 - সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক।
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে দৈনিক  সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং উদীচী (১৯৬৯) সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী, 
- পদচিহ্ন,
- পাপের সন্তান, 
- কুমারজীব,  
- বিদ্রোহী কৈবর্ত, 
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯২২.
'বিজয়া' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দত্তা
  2. দেবদাস
  3. নিষ্কৃতি
  4. বিপ্রদাস
ব্যাখ্যা
দত্তা:
- 'দত্তা' (১৯১৮) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- ১৩২৪-২৫ বঙ্গাব্দে 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি 'বিজয়া' (১৯৪৩) নামে নাট্যায়িত হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- নিষ্কৃতি,
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী (পারু), চন্দ্রমুখী, চুনিলাল, ধর্মদাস প্রভৃতি।
• 'নিষ্কৃতি' উপন্যাসের চরিত্র: গিরিশ, রমেশ, সিদ্ধেশ্বরী, শৈলজা প্রমুখ।
• 'বিপ্রদাস' উপন্যাসের চরিত্র: বিপ্রদাস, দ্বিজদাস, বন্দনা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯২৩.
‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 - ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতাটি চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 

⇒ চিত্রা কাব্যগ্রন্থ:
- চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। 
-  কবিতাগুলো হচ্ছে: 
চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ, পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়, দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার,  বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা, রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।

পুরাতন ভৃত্য কবিতার কিছু অংশ-

পুরাতন ভৃত্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -
ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর-
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।”
উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে।
যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে।
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীৎকার করি “কেষ্টা”—
যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।

উৎস: ‘পুরাতন ভৃত্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থ।
১৩,৯২৪.
শহীদুল্লাহ কায়সারের রচিত স্মৃতিকথা হচ্ছে - 
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ 
  2. একদা এক রাজ্যে 
  3. রাজবন্দির রোজনামচা
  4. সীমানা ছাড়িয়ে 
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লাহ কায়সারের রচিত স্মৃতিকথা হচ্ছে রাজবন্দির রোজনামচা।    

শহীদুল্লাহ কায়সার
- শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তাঁর পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি সংবাদ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।
- সাহিত্যকর্মে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সারেং বৌ উপন্যাসের জন্য ১৯৬২ সালে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে তাঁকে ঢাকার বাসভবন থেকে অপহরণ করা হয় এবং তিনি আর ফিরে আসেননি।

প্রধান রচনা
- উপন্যাস: সারেং বৌ, সংশপ্তক, কৃষ্ণচূড়া মেঘ, তিমির বলয়, দিগন্তে ফুলের আগুন, সমুদ্র ও তৃষ্ণা, চন্দ্রভানের কন্যা, কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।
- ভ্রমণবৃত্তান্ত: পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
- স্মৃতিকথা: রাজবন্দির রোজনামচা।

অন্যদিকে, 
- একদা এক রাজ্যে হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হক এর কবিতা। 
- সীমানা ছাড়িয়ে হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হক এর উপন্যাস।  

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২. বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৯২৫.
‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ কী ধরনের রচনা?
  1. রোমান্স উপন্যাস
  2. আত্মজীবনীমূলক রচনা 
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ একটি আত্মজীবনীমূলক। 

গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা, যা ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্বহীন ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন।
- লেখক নিজেকে এখানে ‘ভেড়াকান্ত’ নামে উল্লেখ করেছেন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকার মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী এবং উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

প্রকাশিত রচনা:
- প্রথম উপন্যাস: রত্নবর্তী (১৮৬৯)
- উল্লেখযোগ্য নাটক: বসন্তকুমারী, জমিদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়
- উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু
- আত্মজীবনীমূলক রচনা: উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়াঁর বস্তানী
- অন্যান্য সাহিত্যকর্ম: গোরাই-ব্রিজ বা গৌরী-সেতু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৯২৬.
'কায়কোবাদ' কতসালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৩২ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- তিনি ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯২৭.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. জাফর
  2. খোকা
  3. জাহেদুল কবির খোকা
  4. বদিউল আলম
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- 'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি লেখকের তৃতীয় উপন্যাস।
- 'জীবন আমার বোন' দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে মানবজাতির স্বাধীনতা ও জীবনদর্শনের এক গভীর আলেখ্য। এটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হলেও, এর দার্শনিক গভীরতা এটিকে একটি সর্বজনীন সাহিত্যকর্মে রূপান্তরিত করে।
- জাহেদুল কবির খোকা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ,
- জীবন আমার বোন,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- চিক্কোর কাবুল,
- খেলাঘর,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।

১৩,৯২৮.
'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদক কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. হেরাসিম লেবেডেফ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• 'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেছেন- 'হেরাসিম লেবেডেফ'। 

• বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ: 
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৯২৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি ছিলেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি। কারণ সাহিত্যিক ও সামাজিক বিদ্রোহ তিনিই প্রথম করেন। 

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তাঁর কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

• উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
• জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৩০.
‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি। - কবিতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. জসীমউদ্দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি। - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।
 
বঙ্গভাষা
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি
 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৩১.
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) ১৭ই মে, ১৮৯৯
  2. খ) ২৪ মে, ১৮৯৯
  3. গ) ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
  4. ঘ) ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯
ব্যাখ্যা
কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।
- তিনি ২২শে অক্টোবর ১৯৫৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৩২.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. কুষ্টিয়া
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৩৩.
'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত- 
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হরিনাথ মজুমদার 
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ- জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত নকশা জাতীয় রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৩৪.
‘কখনো রং কখনো সুর’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ সাতনরী হার, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, সহিষ্ণু প্রতীক্ষা, আমার সময়, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৯৩৫.
“তাহারেই পরে মনে” কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে কোনটি তুলনীয়?
  1. ক) প্রকৃতির সৌন্দর্য
  2. খ) প্রকৃতির বিরূপতা
  3. গ) বসন্তের আমেজ
  4. ঘ) শীতের রিক্ততা
ব্যাখ্যা

কবি সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা - তাহারেই পড়ে মনে।
উক্ত কবিতায় কবি শীতের রিক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন, বস্তুত এর মাধ্যমে তিনি তার প্রয়াত স্বামীকে স্মরণ করেছেন।

বেগম সুফিয়া কামালের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উদাত্ত পৃথিবী,
- মায়া কাজল,
- অভিযাত্রিক।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

১৩,৯৩৬.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত ভ্রমণকাহিনী কোনটি?
  1. ভলগার তীরে
  2. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  3. য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে পথে প্রবাসে।  

অন্নদাশঙ্কর রায়
- তিনি একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং ছড়াকার।
- তিনি ‘লীলাময় রায়’ ছদ্মনামে লিখতেন।

ভ্রমণ কাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি। 

উপন্যাসসমূহ:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস, ১৯৩০), 
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস। 

অন্যদিকে,
- "ভলগার তীরে" (Volgar Teere) মূলত বাংলাদেশী কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর একটি ভ্রমণকাহিনী।
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী "বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন"
-'য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৯৩৭.
জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয় কোনটি?
  1. নির্জনতার কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. পল্লী বংলার কবি
  4. ধূসরতার কবি
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের অভিধা নয়- পল্লী বংলার কবি। 

• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”। ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৩৮.
‘গিরিশ ও রমেশ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. গৃহদাহ
  3. বড়দিদি
  4. নিষ্কৃতি
ব্যাখ্যা
• 'নিষ্কৃতি' উপন্যাস:
- 'নিষ্কৃতি' (১৯১৭) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ক্ষুদ্র উপন্যাস।
- এর প্রথমাংশ 'ঘরভাঙা' নামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও শেষ পর্যন্ত সম্প্রীতি এই কাহিনির উপজীব্য।
- ১৯৪৪ সালে Deliverance নামে দিলীপকুমার রায়ের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

 উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গিরিশ,
- রমেশ,
- সিদ্ধেশ্বরী,
- শৈলজা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
• ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
• ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা।

-----------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনাপাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৩৯.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বঙ্গদূত
  3. দিগদর্শন
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- 'সমাচার দর্পণ' (১৮১৮-১৮৫২)  শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

- পত্রিকাটির সম্পাদনার ভার মূলত দেশিয় পন্ডিতগণের ওপর পুরোপুরিভাবে ন্যস্ত ছিল। পন্ডিতগণ অনুপস্থিত থাকলে পত্রিকাটিতে নতুন সংবাদ প্রকাশ বন্ধ থাকতো। সমাচার দর্পণের প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। ১৮২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপক পদে যোগদান করলে পন্ডিত তারিণীচরণ চার বৎসর সমাচার দর্পণ সম্পাদনে সহায়তা করেন। যারা বাংলা ভাষা জ্ঞাত নন তাদের জন্য  ৬ মে ১৮২৬ তারিখে শ্রীরামপুর হতে সমাচার দর্পণের ফার্সি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। উক্ত ফার্সি সাপ্তাহিক সংস্করণের নাম আত্থবারে শ্রীরামপুর যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

- ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু  কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই এদেশের লোকদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা শিখবার সাড়া পড়ে যায় একারণে শ্রীরামপুর মিশন ১৮২৯ সাল হতে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করার ব্যবস্থা করে। ১৮৩২ সাল হতে সপ্তাহে দুবার প্রকাশ আবশ্যকবোধ হলে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১১ জানুয়ারি বুধবার। ১৮৪০ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পাদকের ওপর নতুন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র গবর্ণমেন্ট গেজেট সম্পাদনার ভার ন্যস্ত হওয়ার কারণে ২৫ ডিসেম্বর ১৮৪১ তারিখে সমাচার দর্পণের শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- দ্বিতীয় পর্যায় (১৮৪২-৪৩) এ পর্যায়ে পত্রিকাটি ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় ১৮৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে  কলকাতার দেশিয় সম্পাদক ভগবতীচরণ চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে পত্রিকাটি অল্পদিন চলেছিল।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'বেঙ্গল গেজেট' ভারতের তথা এশিয়ার প্রথম মুদ্রিত ইংরেজি সংবাদপত্র, যা ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি জেমস অগাস্টাস হিকি কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন। এটি একটি স্বাধীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল যা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। 

• 'বঙ্গদূত' ১৮২৯ সালের ১০ই মে (মতান্তরে ৯ই মে) প্রকাশিত একটি প্রভাবশালী সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা। নীলরতন হালদারের সম্পাদনায় শুরু হওয়া এই পত্রিকাটির সাথে রাজা রামমোহন রায়, দ্বারকানাথ ঠাকুর ও প্রসন্নকুমার ঠাকুর ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। 

• 'দিকদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকী বা মাসিক পত্রিকা। শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত এই পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৯৪০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মৌরীফুল
  2. মেঘমল্লার
  3. যাত্রাবদল
  4. অপরাজিত
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৪১.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. ওরা ১১ জন
  2. ওরা কদম আলী
  3. ওরা কয়েকজন
  4. পৃথক পালঙ্ক
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ওরা কয়েকজন

আবুল হাসান: 
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
অন্যদিকে,
• চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত চলচ্চিত্র - ওরা ১১ জন।
• মামুনুর রশীদ রচিত নাটক - ওরা কদম আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৪২.
নিচের কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. বাংলা সাহিত্যের কথা
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ নয়।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত রচনা করেছেন - মুহম্মদ আবদুল হাই ও  সৈয়দ আলী আহসান।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৪৩.
'মা, তোর বদন খানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি' কে লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মোহাম্মদ মনির ছামাদ
ব্যাখ্যা
‘মা, তোর বদন খানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি’
চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত থেকে নেওয়া হয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১৩,৯৪৪.
'সত্য পীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কায়কোবাদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম ছিল- কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত। 
• কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রকৃত নাম- জসীম উদ্দীন মোল্লা।
• কাজেম আল কোরেশীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- কায়কোবাদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৪৫.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৯৪ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি: 
- এটি বাঙালি মুসলমানদের একটি সাহিত্য সংগঠন।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের (১৮৯৩) অনুপ্রেরণায় কয়েকজন উদীয়মান মুসলিম লেখক ১৯১১ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁরা হলেন  মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সমিতির সম্পাদক মনোনীত হন।
- একটি পরিচালক পরিষদ দ্বারা সমিতি পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৪৬.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কাজেম আল কোরেশী
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৪৭.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থঃ
• আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
• নামহীন গোত্রহীন,
• পাতালে হাসপাতালে,
• সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
• জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
• আগুনপাখি,
• সাবিত্রী উপাখ্যান,
• শামুক,
• শিউলি,
• বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৯৪৮.
এস ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) বিলেতে সাড়ে সাত’শ দিন
  2. খ) পশ্চিম ভারত
  3. গ) বাতায়ন
  4. ঘ) ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা

এস ওয়াজেদ আলী: প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;
গল্প:
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);
উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);
ভ্রমণকাহিনী:
-পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৪৯.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৷
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৫০.
দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো-

- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিইয়া।
১৩,৯৫১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. পুতুল নিয়ে খেলা (গল্প)- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. পুতুল নিয়ে খেলা (উপন্যাস)- হাসান আজুজুল হক 
  3. পুতুল নিয়ে খেলা (প্রবন্ধ) বুদ্ধদেব বসু 
  4. পুতুল নিয়ে খেলা (উপন্যাস)- অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নিয়ে খেলা':
- 'পুতুল নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে পাঠক প্রেমিকার বিভিন্ন রূপ দেখতে পান। লেখক অবশ্য সেটা দেখান সিরিও-কমিক ভঙ্গিতে।

-----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)। তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'পুতুল নিয়ে খেলা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৫২.
'ক্রীতদাসের হাসি' শওকত ওসমান রচিত একটি-
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান এর প্রকৃত নাম প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। 
- শওকত ওসমানের 'ক্রিতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৫৩.
সোমেন চন্দের লেখা 'ইঁদুর' একটি -
  1. কাব্য
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দের লেখা 'ইঁদুর' একটি ছোট গল্প।

• 'ইঁদুর' ছোটগল্প:
- জীবনের পরতে পরতে বাস্তবতার অনুশীলন যে আমরা প্রতিনিয়ত করে চলেছি , আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌড়ে সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম  মানুষের বিরুদ্ধে।
- এই পটভূমিতে ইঁদুর একটি অসাধারন গল্প যার থেকে কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
-------------------
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৫৪.
কোন গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. কিশোর সঞ্চয়ন
  2. রবিবারের আসর
  3. মানুষের মন
  4. মাস্টারমশায়
ব্যাখ্যা
• ‘মাস্টারমশায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গল্পগুচ্ছ' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত একটি ছোটগল্প।

অন্যদিকে,
কিশোর সঞ্চয়ন, রবিবারের আসর ও মানুষের মন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহার,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (ছোটগল্প সংগ্রহ)।
১৩,৯৫৫.
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্পটি কোন লেখকের উপন্যাস থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্প:
- ‘আম আঁটির ভেঁপু' শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পের চরিত্রগুলো হলো: অপু, দুর্গা, সর্বজয়া।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৫৬.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর রচয়িতা কে?
  1. নীলমণি হালদার
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।

• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 
-------
অন্যদিকে,
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৫৭.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশি
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৯৫৮.
নিচের কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস?
  1. ক) প্রেমাঞ্জলি
  2. খ) তারাবাঈ
  3. গ) অনল প্রবাহ
  4. ঘ) স্পেন বিজয় কাব্য
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস হচ্ছে- তারাবাঈ। 

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্য গ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা 
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন 
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- মহাশিক্ষা ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ 
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন
- জাহানারা ইত্যাদি। 
প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম 
- সুচিন্তা
- তুর্কী নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা 
- আদব কায়দা শিক্ষা ইত্যাদি। 
সঙ্গীতগ্রন্থ:
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী
- প্রেমাঞ্জলি। 
ভ্রমণ কাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৩,৯৫৯.
"ইহারা মায়াবিনীর জাত।" - এই উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কুহেলিকা
  2. বাঁধনহারা
  3. চিত্তনামা
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৬০.
জসীম উদ্‌দীনের ‘রঙিলা নায়ের মাঝি’ গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক সংকলন
  3. গানের সংকলন
  4. গল্পের সংকলন
ব্যাখ্যা
• 'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- রচয়িতা- 'জসীম উদ্‌দীন'।
- এটি একটি গানের সংকলন। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলনের নাম:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।
------------------- 
• রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন এর অন্তর্গত গানগুলো হলো: 
- আজ আমার মনে ত না মানেরে।
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে।
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি।
- উজান গাঙের নাইয়া।
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া।
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে।
- ও মোহন বাঁশী।
- নদীর নাই-কিনার নাইরে।
- নিশিতে যাইও ফুলবনে। 
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে।
- সিন্দুরের বেসাতি।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে কাব্য রচনা করে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন, তার নাম কি?
  1. ক) মানসী
  2. খ) সোনারতরী
  3. গ) গীতাঞ্জলি
  4. ঘ) বলাকা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি: 
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন। 
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত  এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এগুলো সহজ ভাষায়, সাবলীল ছন্দে লিখিত। 
- 'গীতাঞ্জলি'র গানগুলো মূলত কবিতা। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি অবলম্বনে Song Offerings গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বরে, ইংল্যান্ডে। 
- 'গীতাঞ্জলি'র সম্পূর্ণ অনুবাদ যদিও Song Offerings নয়, তবুও এই গ্রন্থের আধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতি, প্রেমযৌথধারায় ইংরেজি গ্রন্থে প্রবাহমান। 
-  Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৬২.
'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যের রচয়িতা -
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- 'চিন্তাতরঙ্গিণী' কাব্যের রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম কাব্য 'চিন্তাতরঙ্গিণী' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যটি প্রতিবেশী এক বন্ধুর আত্মহত্যার ঘটনা অবলম্বনে রচিত।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বৃত্রসংহার।
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৬৩.
কোন উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল?
  1. গোরা 
  2. পথের দাবী
  3. কুহেলিকা 
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• "পথের দাবী" উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

- আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

--------------------
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বৈকুণ্ঠের উইল, 
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- নিষ্কৃতি
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।  

১৩,৯৬৪.
ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা কে?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা

• ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা- 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- এটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।

• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার।
- তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলালও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর কাব্য 'আর্য্যগাথা' এবং বিলেতে থাকাকালে কাব্য 'Lyrics of Ind' প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণজাগরণমূলক গান রচনায় তাঁর অবদান ছিল।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই।
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৬৫.
 অমিয় চক্রবর্তী রচিত গদ্যরচনা কোনটি?
  1. খসড়া
  2. এক মুঠো
  3. পুরবাসী
  4. অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৬৬.
জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) সমাচার দর্পন
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
- জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদিত পত্রিকা নয়- বেঙ্গল গেজেট
- 'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক জেম্স অগাস্টাস-হিকি। 

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়
- সদ্গুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ
- Murray's Grammar
- Outline of the History of Bengal 
- The History of India
- How Wars Arrive in India

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।  
১৩,৯৬৭.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:

- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৬৮.
‘সুড়ঙ্গ’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'সুড়ঙ্গ' নাটক:
• 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।
• এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।

• ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই।

-----------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৬৯.
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্পটি কোন লেখকের উপন্যাস থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্প:
- ‘আম আঁটির ভেঁপু' শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পের চরিত্রগুলো হলো: অপু, দুর্গা, সর্বজয়া।
 
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।
 
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৭০.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বনফুল
  2. দৃষ্টিহীন
  3. যাযাবর
  4. যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

অন্যদিকে,
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সুধা নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৭১.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসুর গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) কালের পুতুল
  2. খ) নদীর স্বপ্ন
  3. গ) হঠাৎ আলোর ঝলকানি
  4. ঘ) হাওয়া বদল
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসুর রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো- অভিনয় নয় (১৯৩০), রেখাচিত্র (১৯৩১), হাওয়া বদল (১৯৪৩) ইত্যাদি। কালের পুতুল এবং হঠাৎ আলোর ঝলকানি তার রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ। নদীর স্বপ্ন হলো তার রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৯৭২.
বিধবাবিবাহ রহিতকরণ বিষয়ে কে কলমযুদ্ধ শুরু করেন?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. গ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ রচনা করেন, যা ১৮৫৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৮৫৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয় ‘বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না, এই বিষয়ক প্রস্তাব’।
- বিধবাবিবাহ রহিতকরণ বিষয়ে তিনি কলমযুদ্ধ শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবাবিবাহের সপক্ষ জনমত গঠন ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান লেখক, ব্রাহ্মসমাজের প্রথম আচার্য রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ বিধবাবিবাহের পক্ষে প্রথম সমর্থন দান করেন। আইনের মাধ্যমে বিধবাবিবাহকে বৈধ করার লক্ষ্য নিয়ে ৯৮৭ জনের সই সংগ্রহ করে বিদ্যাসাগর আবেদনপত্র জমা দেন তৎকালীন ভারত সরকারের কাছে।
- সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিধবাবিবাহ আইন পাস হয়।
উৎসঃ প্রথম আলো, আনন্দবাজার পত্রিকা

১৩,৯৭৩.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্য থেকে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কে বিস্তারিত: ১. রচয়িতা ও সময়কাল:
  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭৫২-৫৩ সালে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
  • এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ বিদ্যাসুন্দর, যা প্রেম-কাহিনিভিত্তিক।
২. বৈশিষ্ট্য:
  • ছন্দ ও অলঙ্কারের নিপুণ ব্যবহার: ভারতচন্দ্র সংস্কৃত ও চলিত ভাষার মিশ্রণে কাব্যশৈলী তৈরি করেন।
  • ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক সংমিশ্রণ: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, ঈশ্বরী পাটনী প্রভৃতি চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
  • বিখ্যাত পংক্তি:
    • "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"।
    • "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন"
    • "হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" (অতিরঞ্জিত ভাবোক্তি)।
৩. মূল্যায়ন
  • অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি ১৮শ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং বাংলা সাহিত্যের মাইলফলক।
  • সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র, রসবোধ ও নীতিকথা এতে সুসংহত।
৪. অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের সাথে তুলনা:
  • মনসামঙ্গল: আদি কবি কানা হরিদত্ত; পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
  • চণ্ডীমঙ্গল: অপর নাম অভয়ামঙ্গল; চণ্ডীদেবীর মাহাত্ম্য কাহিনি।
  • ধর্মমঙ্গল: ধর্মঠাকুরের উপাসনা নিয়ে রচিত।
উৎসসূত্র:
  • লাল নীল দীপাবলি- হুমায়ুন আজাদ;
  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
  • বাংলাপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ।
১৩,৯৭৪.
'মর্মবাণী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মরিচে পড়া পেরেকের গান,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- স্বাগত বিদায়,
- একদিন: চিরদিন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৭৫.
"অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না" - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৩,৯৭৬.
শওকত ওসমান রচিত 'জাহান্নম হইতে বিদায়' উপন্যাসের নায়ক কে?
  1. কিরণ রায়
  2. গাজী রহমান
  3. যুদ্ধকাল
  4. মহাকাল
ব্যাখ্যা
জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন।
- অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- কী অসীম সাহস শিল্পীর! ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানও তাই করলেন।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- এডভোকেট রেজা আলী, বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৭৭.
'৬৯ এর পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসের নাম কী?
  1. ক) জল্লাদ সময়
  2. খ) গাভী বৃত্তান্ত
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) নিহত নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
'৬৯ এর পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফা রচিত উপন্যাসের নাম 'ওঙ্কার'।
- এ উপন্যাসের নায়ক আবু নাসের।
-------------------
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১):
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়। সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- উদ্ধার (১৯৭৫),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- অলাতচক্র (১৯৯০),
- ওঙ্কার (১৯৯৩),
- গাভীবৃত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) 

তাঁর গল্পগ্রন্থ:
নক্ষত্র (১৯৬৯)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৭৮.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধূসর পাণ্ডু লিপি
  2. বনলতা সেন
  3. ঝরাপালক
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

১৩,৯৭৯.
বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক - 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৮০.
'চুনিলাল' - চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) দেবদাস
ব্যাখ্যা
'চুনিলাল' - চরিত্রটি দেবদাস উপন্যাসের।

• দেবদাস শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।' ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় দেবদাস তার বাল্যপ্রণয়ী পার্বতীকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতায় নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় ক বেদনাময় কাহিনি । এই উপন্যাস সমস্ত ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়। দেবদাস ও পার্বতী আধুনিক ভারতীয় জীবনে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার রূপকে পরিণত করেছে । বাংলায় বহুবার এর চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে।

- ২০০৪ সালে হিন্দি ভাষায় চলচ্চিত্রায়িত হয়ে বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগায়। এর পরিচালক ছিলেন সঞ্জয় টাপাধ্যায় লীলা বংশালী।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র :
দেবদাস, পার্বতী (পারু), চন্দ্ৰমুখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- বিরাজ বৌ
- পন্ডিত মশাই
- পরিণীতা
- দত্তা
- চরিত্রহীন
- বামুনের মেয়ে
- দেনা পাওনা
- পথের দাবী
- শেষ প্রশ্ন
- বিপ্রদাস

উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৮১.
চম্পুকাব্যের নিদর্শন হলো-
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. শূন্যপুরাণ
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চম্পুকাব্যের নিদর্শন হলো- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ'- অন্ধকার যুগের সাহিত্য।

• চম্পুকাব্য:
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে। 
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- সুকমার সেনের মতে, 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্ভূক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৮২.
'সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'- কার রচিত পংক্তি?
  1. রজনীকান্ত সেন
  2. ইসমাইল হােসেন সিরাজী
  3. কামিনী রায়
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- কামিনী রায়।

সুখ - কবিতা
কামিনী রায়
"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

----------------
• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: 'সুখ' কবিতা; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৯৮৩.
‘সুলতানার স্বপ্ন’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী উপন্যাস রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৮৪.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৮৫.
"শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঝরাপালক
  2. বনলতা সেন
  3. মহাপৃথিবী
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

• "শঙ্খমালা" কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।এটি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কবিতা হিসেবে বিবেচিত। 
• এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে। কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
• তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ- প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো- রোমান্টিক কবিকল্পনা।

'শঙ্খমালা' কবিতার অংশবিশেষ- 

শঙ্খমালা
- জীবনানন্দ দাশ
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে
সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,
বলিল, তোমারে চাই:
বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ
খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি- কুয়াশার পাখনায়-

--------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়" কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ
কেউ কবি"
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং "বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; 'শঙ্খমালা- কবিতা'।

১৩,৯৮৬.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. দুধভাতে উৎপাত
  2. খোয়ারি
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৮৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের নারী নির্যাতনের করুণ বাস্তবতা নিয়ে রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. আবদুল্লাহ আল মামু
  4. মমতাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার  মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
-  মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।

রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব(৬০)। 

অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- আয়নায় বন্ধুর মুখ। 
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক- নরকে লাল গোলাপ। 
• নীলিমা ইব্রাহীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - যে অরণ্যে আলো নেই। 

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৮৮.
রবীন্দ্রনাথের "রক্তকরবী" নাটকের প্রধান পুরুষ চরিত্র কে?
  1. রঘুপতি
  2. রঞ্জন
  3. অমল
  4. গোবিন্দমাণিক্য 
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
• প্রধান পুরুষ চরিত্র: রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য রচনার চরিত্র:
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা - 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র- 'সুরবালা'।
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।
- 'বিসর্জন 'নাটকের চরিত্র - অপর্ণা, জয়সিংহ, রঘুপতি, গুণবতী,  গোবিন্দমাণিক্য
- 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - 'অমল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯৮৯.
বনফুলের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অগ্নি
  2. খ) চার অধ্যায়
  3. গ) মুক্তধারা
  4. ঘ) আগুনপাখি
ব্যাখ্যা
• প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
- বনফুল রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস 'অগ্নি' ।
- উপন্যাসটি ভারতের ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলনের  পটভূমিতে রচিত।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে। 
- উপন্যাসের নায়ক উক্ত আন্দোলনের নেতা অংশুমান। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখন্ড,
- স্থাবর ,
- বৈতরণীর তীরে, 
- দ্বৈরথ,
- নির্মোক,
- সে ও আমি 
- জঙ্গম
- নবদিগন্ত প্রভৃতি।

- 'চার অধ্যায়' (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'আগুনপাখি' 
- 'মুক্তধারা' নাটকটি  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৯৯০.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) কয়েকটি গান
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) আফতাব সঙ্গীত
  4. ঘ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে।
- অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪) ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি।
- “মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা” বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৯১.
‘পুতুল নিয়ে খেলা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
• লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
• তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

• এছাড়াও তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস), আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য ইত্যাদি।

।উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৯২.
আল-মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' একটি -
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. মহাকাব্য
  5. উপকথা
ব্যাখ্যা

‘সোনালী কাবিন’ আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।
তার রচিত আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো - মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, বখতিয়ারের ঘোড়া, লোক লোকান্তর, কালের কলস ইত্যাদি।
সূত্র: LiveMCQ লেকচার।

১৩,৯৯৩.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি কোন লিপিতে লেখা হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. রোমান
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থের রচয়িতা মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। 
- গুরুশিষ্যের কথপোকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য। 
- তিনি ছিলেন একজন ধর্মযাজক।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৯৯৪.
কোন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্মে 'নবকুমার' চরিত্রটি পাওয়া যায়?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কপালকুন্ডলা' উপন্যাসে 'নবকুমার' চরিত্রটি পাওয়া যায়
- এই উপন্যাসটি ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে ও কপালকুণ্ডলার সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনীর মূল ঘটনা। 
- তাঁর রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের চরিত্র হলো:
• কপালকুণ্ডলা,
• নবকুমার,
• কাপালিক প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৩,৯৯৫.
পরে মাস-দেড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে— করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে । -পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন্ কবিতার অংশ?
  1. পুরাতন ভৃত্য
  2. চিত্রা
  3. দুই বিঘা জমি
  4. দিন শেষে
ব্যাখ্যা
পরে মাস-দেড়ে ভিটেমাটি ছেড়ে বাহির হইনু পথে—
করিল ডিক্রি, সকলই বিক্রি মিথ্যা দেনার খতে । -পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'দুই বিঘা জমি' কবিতার অংশ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৯৯৬.
কল্লোল যুগের ব্যাপ্তিকাল -
  1. ক) ১৯২০-১৯৩২
  2. খ) ১৯২৩ - ১৯৩৫
  3. গ) ১৯২৭ - ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৩০ - ১৯৩৯
ব্যাখ্যা

- কল্লোল যুগকে বলতে বাংলা সাহিত্যের একটি ক্রান্তিলগ্নকে বোঝায় যখন বাংলা কবিতা ও কথাসাহিত্যে আধুনিকতার বীজ অঙ্গুরিত হয়েছিল।
- কল্লোল পত্রিকাকে (১৯২৩-১৯৩৫) ঘিরে একটি গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছিল।
- এ গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে সাহিত্যের একটি জগত সৃষ্টি করা।
- তারা বাংলা সাহিত্যে প্রথম আধুনিক নবজাগরণের সূচনা করেন।
- কল্লোল নব্য লেখকদের প্রধান মুখপাত্র। যাদের মধ্যে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ প্রমুখ।

১৩,৯৯৭.
কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাঁকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

• জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৯৯৮.
শ্রীমতি ক্যাফে উপন্যাসটি কার?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সমরেশ বসু
  5. ঙ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শ্রীমতি ক্যাফে উপন্যাসটি সমরেশ বসু রচিত। তার আরো কয়েকটি উপন্যাস হলো- গঙ্গা, বিবর ও প্রজাপতি। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১৩,৯৯৯.
‘ভাষাচার্য’ উপাধিটি কার?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৪,০০০.
নিচের কোনটি বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনী?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. মতিচূর
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা

‘সুলতানার স্বপ্ন’ বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনি।
---------------------------------------------
সুলতানার স্বপ্ন’:
- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি নারীবাদী ইউটোপিয়ান কল্পকাহিনী।
- এখানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজকে ব্যঙ্গ করে নারীমুক্তির এক আদর্শ ভবিষ্যৎ তুলে ধরা হয়েছে।
- এতে কবি একটি সম্পূর্ণ উল্টো সমাজব্যবস্থা কল্পনা করতে চেয়েছেন।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় নারীরা গড়ে তুলবে শান্তিপূর্ণ, পরিবেশবান্ধব এক উন্নত দেশ—Land of Ladies.
- গল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারী-পুরুষ সমতা, শিক্ষার গুরুত্ব এবং প্রচলিত পর্দাপ্রথা ও সামাজিক নিয়ম উল্টে নারীর ক্ষমতায়নকে সামনে আনা।
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ এমন এক ভবিষ্যৎ সমাজের চিত্র তুলে ধরে - যেখানে নারী নিজের যোগ্যতা, যুক্তি এবং বিজ্ঞানের শক্তিতে শোষণহীন, শান্ত এবং উন্নত এক পৃথিবী নির্মাণ করবে।
-----------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
-  বাংলার নারী জাগরণে বেগম রোকেয়ার অবদান অসাধারণ।
- নারীশিক্ষা, লিঙ্গসমতা ও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তিনি সারাজীবন নারীদের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন।
- বাংলাদেশে নারীশিক্ষা আন্দোলনের প্রকৃত অগ্রদূত হিসেবে তিনি নিজের লেখনী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিলেন।
- বলা যায়, তাঁর উদ্যোগেই বাংলার নারীরা মুক্তির পথে আলোকিত হতে পেরেছে।
- বাংলাদেশে সরকারিভাবে বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।
- বাঙালি লেখক, শিক্ষাবিদ এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন - ৯ ডিসেম্বর - কে "রোকেয়া দিবস" হিসেবে উদযাপন করা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।