বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৯ / ১৭৪ · ১৩,৮০১১৩,৯০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৮০১.
কত শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত হয়?
  1. অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  2. বিংশ শতাব্দীতে
  3. সপ্তদশ শতাব্দীতে
  4. ঊনবিংশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
• ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত হয়।

• বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়।
বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে-
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
• মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
• আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)। অর্থাৎ ঊনবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক পর্ব শুরু হয়।

• দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ-সম্পর্কিত অভিমত উল্লিখিত যুগবিভাগকে সমর্থন করে।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মধ্য ও আধুনিক যুগের এই সময় মেনে নিলেও, তাঁর মতে, প্রাচীন যুগের সময়সীমা - ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ।
• যুগের এই তিনটি ভাগের মধ্যে আবার ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে অন্ধকার যুগ বলে।

• ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ-বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮০২.
'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৩টি 
  2. ১৫টি 
  3. ১৭টি 
  4. ১৯টি 
ব্যাখ্যা

• 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

​------------------
বেগম রোকেয়া রচিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮০৩.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬৪
  2. ১৯৬৫
  3. ১৯৬৬
  4. ১৯৬৭
ব্যাখ্যা
পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ:
- এটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত।
- এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ, 
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন, 
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮০৪.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  2. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. মানচিত্র
  4. ধানকন্যা
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস: 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮০৫.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো হলো:
- Stop Genocide (প্রামাণ্যচিত্র),
- লেট দেয়ার বি লাইট (ইংরেজী),
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- সঙ্গম এবং
- জীবন থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮০৬.
'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি কার রচনা?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) মধুসূদন দত্ত
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'বাংলার মাটি, বাংলার জল' সনেটটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে এটি রচনা করেন। উল্লেখ্য নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্য 'বাংলার মাটি বাংলার জল'।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৮০৭.
দীনেশরঞ্জন দাশ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল 
  2. কবিতা
  3. কল্লোল
  4. কালিকলম
ব্যাখ্যা

'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন- 'দীনেশরঞ্জন দাশ'।

'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা 'কবিতা' ও 'প্রগতি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা 'লাঙল’ এবং
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকা কালিকলম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮০৮.
'নরেন' ও 'বিজয়া' চরিত্র দুটি পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. পল্লী সমাজ
  2. চার অধ্যায়
  3. গৃহদাহ
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
• দত্তা :
- 'দত্তা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- এটি ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি 'বিজয়া' নামে ১৯৪৩ সালে নাট্যায়িত হয়।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বিজয়া,
- নরেন ইত্যাদি

•  শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮০৯.
'বঙ্গনারী' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
বঙ্গনারী ও পরপারে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক। পাষাণী, সীতা, ভীষ্ম তাঁর রচিত কাব্যনাট্য। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৮১০.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন নয় কোনটি?
  1. সধবার একাদশী
  2. এর উপায় কি
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. জামাই বারিক
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র: 
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

অন্যদিকে,
- 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮১১.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন - 
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮১২.
“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল রক্ষঃপুরে!" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• “এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল রক্ষঃপুরে!" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ' কাব্যের 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
 মাইকেল মধূসূদন দত্ত।

“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, নিকষা সতী তােমার জননী,
সহােদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!

---------------------
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মেঘনাদবধ কাব্য দুখণ্ড ও নয় সর্গে রচিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-৭৩) মহাকাব্য।
- প্রথম খণ্ড ১৮৬১ সালের জানুয়ারি মাসে এবং দ্বিতীয় খণ্ড একই বছরের আগস্ট মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- মহাকাব্য রচনার জন্যে মধুসূদন অমিত্রাক্ষর ছন্দ নামে এক নতুন বাংলা ছন্দ নির্মাণ করেন।
- তাঁর এ মহাকাব্যে গ্রিক প্রভাব আরো লক্ষ করা যায় উপমা ব্যবহারে এবং দেবতাদের বিভিন্ন ভূমিকা থেকে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৮১৩.
বিখ্যাত “শেষের কবিতা” উপন্যাসে কোন ভাষাবিদের নাম পাওয়া যায়?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত একটি উপন্যাস 'শেষের কবিতা'। 
এই উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র অমিত।
সে যখন নির্জনতা ভোগের জন্যে শিলং গিয়েছিলো। তখন সে গল্পের বই না পড়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের 'বাংলা ভাষার শব্দতত্ত্ব' পড়ছিলো লেখকের সঙ্গে মতান্তর ঘটবে এই একান্ত আশা মনে নিয়ে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্রঃ
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮১৪.
‘Song Offerings’ গ্রন্থটির ভূমিকা কে লেখেন?
  1. W.B. Yeats
  2. Bertrand Russell
  3. Michael Madhusudan Dutt
  4. Ernest Hemingway
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮১৫.
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস 
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাস:
- আহমদ ছফার দুই খণ্ডে সমাপ্ত আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' একটি অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস। উপন্যাসটি ‘প্রাণপূর্ণিমার চান’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী'। 

- নর-নারীর প্রেম হলো সবচাইতে জটিলতম শিল্পকর্ম। প্রেমজ একটি অঙ্গীকার না থাকলে প্রেমের কাহিনি বয়ান করা যায় না। আহমদ ছফা 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসের প্রথম খণ্ডটিতে প্রেমজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন।

- লেখক একেকটি নারী চরিত্রকে এমন জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন, নারীদের মনো-জগতের এমন উন্মোচন ঘটিয়েছেন; গ্রন্থটি পাঠ করলে মনে হবে জীবনের করুণতম অভিজ্ঞতার উৎস থেকেই জন্ম লাভ করেছে এই সমস্ত চরিত্র।

- প্রেমে পড়ার জন্য যেমন সৎ, একনিষ্ঠ হৃদয়বৃত্তির প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রেমের কথা বয়ান করার জন্য আরেক ধরনের নিষ্ঠা এবং সততার। শক্তির সঙ্গে সততার সম্মিলন সচরাচর ঘটে না। আহমদ ছফা এই অনুপম রচনাটিতে সেই আপাত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন।

-----------------------
আহমদ ছফা রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস। 

১৩,৮১৬.
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৩
  2. ১৯৪৪
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৪৬
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮১৭.
'একটি পতাকা পেলে' কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) হেলাল হাফিজ
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
'একটি পতাকা পেলে' কবিতাটি হেলাল হাফিজ রচিত 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা। 

একটি পতাকা পেলে
- হেলাল হাফিজ---যে জলে আগুন জ্বলে 

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমি আর লিখবো না বেদনার অঙ্কুরিত কষ্টের কবিতা

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভজন গায়িকা সেই সন্ন্যাসিনী সবিতা মিস্ট্রেস
ব্যর্থ চল্লিশে বসে বলবেন,–’পেয়েছি, পেয়েছি’।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
পাতা কুড়োনির মেয়ে শীতের সকালে
ওম নেবে জাতীয় সংগীত শুনে পাতার মর্মরে

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
ভূমিহীন মনুমিয়া গাইবে তৃপ্তির গান জ্যৈষ্ঠে-বোশেখে,
বাঁচবে যুদ্ধের শিশু সসন্মানে সাদা দুতে-ভাতে।

কথা ছিলো একটি পতাকা পেলে
আমাদের সব দুঃখ জমা দেবো যৌথ-খামারে,
সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক চাষাবাদে সমান সুখের ভাগ
সকলেই নিয়ে যাবো নিজের সংসারে।

তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে
- কবিতা ৭১
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা 

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
১৩,৮১৮.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. রিজিয়া রহমান
  2. শওকত আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. বিষ্ণ দে
ব্যাখ্যা
• 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসটির রচয়িতা: শওকত আলী। 

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮১৯.
'ইসলামি বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) রামগতি ন্যায়রত্ন
  3. গ) ড. সুকুমার সেন
  4. ঘ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ইসলামি বাংলা সাহিত্য' (১৩৫৮) বইটি রচনা করেন।
- বইটিতে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
- ড. সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা' (১৯৩৯) এবং চার খন্ডে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' (১৯৪০) রচনা করেছেন। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৮২০.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. সেলিনা হোসেন
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

----------------
• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুভিত্তিক),
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- অপেক্ষা,
- টানাপোড়েন,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা।

• তাঁর রচিত গল্প:
- মতিজানের মেয়েরা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,
- মানুষটি,
- অনুড়া পূর্ণিমা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস।

১৩,৮২১.
'একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) উপজাতি সমাজ
  2. খ) স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. গ) গ্রামীণ সমাজ
  4. ঘ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮২২.
নীলিমা ইব্রাহিম কোন গ্রন্থটি রচনা করেননি?
  1. বাংলার কবি মধুসূদন
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. বহ্নিবলয়
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• "ওরা কদম আলী" - মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।
-------------------- 
• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮২৩.
নিচের কোনটি আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ রচনা?
  1. ক) গাভী বিত্তান্ত
  2. খ) জল্লাদ সময়
  3. গ) দোলো আমার কনকচাঁপা
  4. ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা
- একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮২৪.
পঞ্চাশের মনন্ত্বরের প্রেরণায় সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন কাব্য সংকলনটি রচনা করে?
  1. পূর্বাভাস
  2. অভিযান
  3. হরতাল
  4. আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮২৫.
'বিজ্ঞান ও মানুষ' —গ্রন্থটি রচনা কে করেছেন?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী (১৯৩০-১৯৯৮): জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছেঃ
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৩,৮২৬.
‘এ নেটিভ’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।

---------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮২৭.
অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. উপহার
  2. অনিঃশেষ
  3. কবিতাবলী
  4. এক মুঠো
ব্যাখ্যা

‘বাংলাদেশ’ কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা 'বাংলাদেশ'।
-  এই কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮২৮.
'প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে ;
নাহি খেদ তাহে।'- এই পঙক্তির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,
নাহি খেদ তাহে।- এই পঙক্তির রচয়িতা: 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'। 

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা-
------মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।
সাধিতে মনের সাদ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,— নাহি খেদ তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা।
১৩,৮২৯.
"নিঃশেষে নিশাচর, গ্রাসে মহাবিশ্বে, ত্রাশে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" -কবিতাংশটি কোন কবির লেখা?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

"যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।"

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।

১৩,৮৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. চার অধ্যায়
  2. মালঞ্চ
  3. চোখের বালি
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
⇒ চার অধ্যায়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত সর্বশেষ উপন্যাস চার অধ্যায় (১৯৩৪)।
- এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 

• তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য উপন্যাস:
- বৌঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- চতুরঙ্গ,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৩১.
'প্রফুল্ল' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সংগীতস্রষ্টা, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যপরিচালক ও নট। বাংলা থিয়েটারের স্বর্ণযুগ মূলত তাঁরই অবদান। তিনি অনেক নাটক রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো- সামাজিক নাটক- প্রফুল্ল, মায়াবসান, বলিদান। পৌরানিক নাটক- রাবণবধ, অভিমন্যুবধ, সীতার বনবাস, লক্ষ্ণণ বর্জন, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, জনা। চরিত্র নাটক - চৈতন্যলীলা, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর, শঙ্করাচার্য। রোমান্টিক নাটক- মুকুলমুঞ্জরা, আবু হোসেন। ঐতিহাসিক নাটক- সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী।
১৩,৮৩২.
কোনটি আবুল হাসানের কাব্যগ্রন্থ?
  1. কালের কলস
  2. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  3. মায়াবী পর্দা দুলে উঠে
  4. পৃথক পালঙ্ক
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• আবুল হাসান: 
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজস সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
​অন্যদিকে,
​আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে।
​আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ - মেঘ বলে চৈত্রে যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৩৩.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদক -
  1. জশুয়া মার্শম্যান
  2. ডেভিড হেয়ার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

♦ নীলদর্পণ নাটক:
- ‘নীলদর্পণ’ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাটক এবং তাঁর সাহিত্যজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
- নাটকের মূল বিষয় হল সে সময়ের নীলচাষ ব্যবস্থা, নীলকর সাহেবদের নির্যাতন, এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষপাতমূলক আচরণ।
- প্রকাশের পর এই নাটক তৎকালীন সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে উৎসাহ জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- পাদ্রি জেমস লং অনুবাদটি প্রকাশ করায় আদালত তাঁকে অর্থদণ্ড দেয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র এই নাটকটিকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’—এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
- রচনার পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি জাতীয় চেতনার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
- এটি বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে প্রথম ঢাকায় নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর সাধারণ রঙ্গালয়-এর অভিনয় শুরু হয় এই নাটক দিয়েই।

♦ দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৩৪.
'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. অনুরূপা দেবী
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত লিখতেন।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবী - অনুপমা দেবী।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত - দাদাভাই; বানভট্ট।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম — ‘অনিলা দেবী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৮৩৫.
কোন নাটকের অনুসরণে মুনীর চৌধুরী 'কবর' নাটকটি রচনা করেন?
  1. Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead'
  2. John Milton রচিত 'Lycidas'
  3. Percy Bysshe Shelley রচিত 'Adonais'
  4. Thomas Gray রচিত 'Elegy Written in Country Churchyard'
ব্যাখ্যা
Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' নাটকের অনুসরণে মুনীর চৌধুরী 'কবর' নাটকটি রচনা করেন।

কবর:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্র মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়। বলে - 'এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না'। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে - 'আমরা কবরে যাবো না'। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৩৬.
রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কুমুদিনী
  2. দামিনী
  3. বিনোদিনী
  4. হেমাঙ্গিনী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্র সাহিত্যের চরিত্র নয় - হেমাঙ্গিনী
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মেজদিদি' (১৯১৫) গল্পগ্রন্থের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র - দামিনী।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৮৩৭.
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. পদ্মিনী উপাখ্যান
  2. বঙ্গদেশ
  3. আনন্দমঠ
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
 ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক দেশাত্মবোধক কাব্যের অন্তর্ভূক্ত।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৭): 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৩৮.
'রাজলক্ষ্মী' চরিত্রের স্রষ্টা ঔপন্যাসিক-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র
  2. শরৎচন্দ্র
  3. তারাশংকর
  4. নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'রাজলক্ষ্মী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
১৩,৮৩৯.
‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. হরিচরণ ঘোষাল
  3. রাজা নবকৃষ্ণ দেব
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৮৪০.
জোশুয়া মার্শম্যান নিচের কোন পত্রিকাটির সাথে জড়িত ছিলেন না?
  1. ক) সমাচার দর্পন
  2. খ) দিগদর্শন
  3. গ) ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
জোশুয়া মার্শম্যান, (১৭৬৮-১৮৩৭)  পন্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 
জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। 

তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পন,
- দিগদর্শন, 
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া। 

⇒ বিঃদ্রঃ ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৪১.
'মানচিত্র' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. আনিস চৌধুরী
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. সাঈদ আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘মানচিত্র’ আনিস চৌধুরী রচিত বিখ্যাত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• আনিস চৌধুরী:
- আনিস চৌধুরী (১৯২৯-১৯৯০) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম আনিসুজ্জামান কামরুদ্দীন। ছাত্রাবস্থায় তিনি আনিসুজ্জামান চৌধুরী নাম ধারণ করেন; ‘আনিস চৌধুরী’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- কলকাতার তালতলা লেনে নানার বাড়িতে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস কুমিল্লা জেলায়।
- আনিস চৌধুরী ছাত্রাবস্থায় (১৯৪৬-৪৭) কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইত্তেহাদ পত্রিকার সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তিনি টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য অনেকগুলি নাটক রচনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত দুটি নাটক হচ্ছে:
- মানচিত্র ও
- অ্যালবাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৪২.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. অপঘাত
  2. মিলির হাতে স্টেনগান
  3. রেইনকোট 
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

- চিলেকোঠার সেপাই আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি উপন্যাস; ছোটগল্প নয়।

• চিলেকোঠার সেপাই:
- আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস রচিত ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, যেখানে তিনি সেই সময়ের গণ-আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সংগ্রামকে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি রনজু দেশভাগের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- এই উপন্যাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল হাড্ডি খিজির।
- এটি ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
-----------------------------------
আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস (১৯৪৩–১৯৯৭) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 

∗ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত রচনার মধ্যে রয়েছে:
- ‘দুধভাতে উৎপাত’ (ছোটগল্পের সংকলন);
- ‘দোজখের ওম’ (ছোটগল্প সংকলন);
- চিলেকোঠার সেপাই’ (উপন্যাস);
- ‘খোয়াবনামা’ (উপন্যাস);
- আর সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ হলো ২২টি প্রবন্ধ নিয়ে গঠিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

∗ দুধভাতে উৎপাত’ গল্পগ্রন্থে চারটি গল্প সংকলিত হয়েছে - ‘মিলির হাতে স্টেনগান’, ‘দুধভাতে উৎপাত’, 'পায়ের নিচে জল' এবং 'দখল'।

অন্যদিকে,
∗ ‘মিলির হাতে স্টেনগান’:
- এটি লেখা হয়েছে এমন এক সময়কে কেন্দ্র করে, যখন যুদ্ধশেষে অর্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে।
- মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা অস্ত্রের লড়াইয়ের মাধ্যমে পাওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে দেশপ্রেমহীন লুটপাট, স্বার্থসর্বস্বতা ও অবক্ষয়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে থাকে - গল্পটিতে এই অবক্ষয়ের বাস্তবতাই উঠে এসেছে। 
- এখানে ‘স্টেনগান’ শুধু একটি অস্ত্র নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা এবং সেই চেতনার বিপথে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- এই হতাশার মাঝেও মিলিকে আশা, প্রতিরোধ ও নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- গল্পের আরেক চরিত্র আব্বাস পাগলা যুদ্ধোত্তর সমাজের সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরে প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করে।

∗ ‘অপঘাত’:
- এই গল্পের পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ।
-
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র: মোবারক আলি যে ছিল একজন কেরানি এবং তাঁর ছেলে বুলু, যে ছিল এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধা।
- যুদ্ধে একটি ব্রিজে আক্রমণ চালানোর সময় বুলু শহীদ হয়। 
- গল্পটি মূলত পিতার শোক, অসহায়তা ও মানসিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।

∗ ‘রেইনকোট’:
- গল্পটিও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত এবং ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত।
- গল্পে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের বর্বরতা, যুদ্ধাবস্থায় শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনযাপন, সাধারণ মানুষের অসহায়তা এবং প্রধান চরিত্র নুরুল হুদার মানসিক টানাপোড়েন গভীরভাবে চিত্রিত হয়েছে।
- এটি ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয় এবং ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৪৩.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. উত্থানপর্ব
  2. শনিবারের চিঠি
  3. মোসলেম ভারত
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
⇒ 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাসটির।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির, ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

⇒ কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ),
- নবীকাহিনি (প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কাণ্ড,  
- আবদুল্লাহ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৪৪.
বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. রাজসিংহ
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্রসমূহ:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের চরিত্র: আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- 'রাজসিংহ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউনিসা, উদিপুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৮৪৫.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয়?
  1. আগুনের পরশমনি
  2. আগুন পাখি
  3. উপমহাদেশ
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
- 'আগুনের পরশমনি' এবং 'জোছনা ও জননীর গল্প' হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- ''উপমহাদেশ'' কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
অপরদিকে,
- 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হক এর পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা মানুষের সংগ্রামী জীবন, বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা এই উপন্যাসের উপজীব্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৪৬.
লালসালু উপন্যাস এর ফরাসি অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) ল্য অরবরে সামস মায়েমেঁ
  2. খ) ট্রি উইথ আউট রুটস্‌
  3. গ) নাইট অফ নো মুন
  4. ঘ) ক্রাই রিভার ক্রাই
ব্যাখ্যা
- লালসালু উপন্যাস এর ফরাসি অনুবাদ হচ্ছে ল্য অরবরে সামস মায়েমেঁ
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পত্নী অ্যান মেরি 'লালসালু' এর ফরাসি ভাষার অনুবাদক।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৪৭.
''বিশ শতকের মেয়ে'' কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহীম
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহীম এর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস - বিশ শতকের মেয়ে (১৯৫৮), এক পথ দুই বাঁক (১৯৫৮), কেয়াবন সঞ্চারিণী (১৯৬২), বহ্নিবলয় (১৯৮৫)।
নাটক - দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪), যে অরণ্যে আলো নেই (১৯৭৪), রোদ জ্বলা বিকেল (১৯৭৪), সূর্যাস্তের পর (১৯৭৪)।
আত্মজীবনী - বিন্দু-বিসর্গ (১৯৯১) ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৩,৮৪৮.
'দনুবানু' চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৪৯.
'সিতারা-এ-খেদমত' ও 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি পান কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. আবুল কালাম আজাদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
- ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত (১৯৬১) এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৭) উপাধিতে ভূষিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে উভয় খেতাব বর্জন করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশু সাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (তুর্গেনিঙের তিনটি গল্পের অনুবাদ),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস),
- অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৫০.
মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় কোনটি?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কুলসুম জীবনী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের রচনা নয় - একেই কি বলে সভ্যতা
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৫১.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলাদেশ
  2. অনিঃশেষ
  3. অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. খসড়া
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কবিতা।
- 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

--------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৫২.
জহির রায়হান একজন বিখ্যাত _____ ছিলেন?
  1. ক) অভিনেতা
  2. খ) গায়ক
  3. গ) চলচিত্রকার
  4. ঘ) চিত্রকর
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার। বাংলা সাহিত্যের গল্প শাখায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৭৭ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক এবং সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৫৩.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত শিশু সাহিত্য কোনটি?
  1. কচি কাঁচা
  2. কচি পাতা
  3. কচি রোদ
  4. কাঁচামিঠা
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন।
- ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি দৈনিক 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৯৭৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশু সাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (তুর্গেনিঙের তিনটি গল্পের অনুবাদ),
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস)
- অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৫৪.
'দেয়াল' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন উপন্যাস- পরিত্যক্ত স্বামী (প্রথম প্রকাশিত), ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৫৫.
'রক্তকরবী' নাটকটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. প্রবাসী
  3. কল্লোল
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
'রক্তকরবী' নাটক:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক:
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৫৬.
রাজা রামমোহন রায় প্রণীত বাংলা ব্যাকরণের নাম কী?
  1. মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. বাংলা ব্যাকরণ
  3. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ভাষা ব্যাকরণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম: গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- উল্লেখ্য,
রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)।
-------
আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ " - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৫৭.
'মরুশিখা' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1.  যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. গোলাম মোস্তফা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪):
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি (১৯১১) লাভ করে প্রথমে নদীয়া জেলাবোর্ড ও পরে কাসিমবাজার রাজ-এস্টেটের ওভারসিয়ার হন।
- চাকরির পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চাও শুরু করেন এবং অল্পকালের মধ্যেই কবি হিসেবে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।

উপাধি : দুঃখবাদী কবি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- কাব্য পরিমিতি,
- সায়ম,
- অনুপূর্বা,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৫৮.
'কামাল পাশা' কবিতা কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশী
  3. অগ্নিবীণা
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তর।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয় ।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী শেষ কবিতা মোহররম।
- রক্তাম্বরধারিণী মা কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
১৩,৮৫৯.
পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর কোন জেলার লোক ছিলেন?
  1. ক) টাঙ্গাইল
  2. খ) ফরিদপুর
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলেন একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত যিনি পাল সাম্রজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধধর্মপ্রচারক ছিলেন। ঐতিহাসিকের মতে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
Source:munshiganj.gov.bd
১৩,৮৬০.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ঝরাপালক
  2. নিমন্ত্রণ
  3. বর্ষ-আবাহন
  4. সেইদিন এই মাঠ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- মহাপৃথিবী, 
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৬১.
রাজা রামমোহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কি?
  1. ক) মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. খ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  3. গ) মাতৃভাষা ব্যাকরণ
  4. ঘ) ভাষা ও ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৮৬২.
”কেয়া বন সঞ্চারিণী” উপন্যাসের রচিতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৬৩.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. চতুষ্কোণ
  2. সার্বজনীন
  3. তৈলচিত্রের ভূত
  4. আরোগ্য
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর এই গল্পের একটি চরিত্র।

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৬৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধঃ দলিলপত্র' কে সম্পাদনা করেন?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) ড. আনোয়ার হসেন
  4. ঘ) মোহাম্মদ সুলতান
ব্যাখ্যা

১৫ খণ্ডে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র’ সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
তিনি ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ নামে সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
তার প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থঃ বিমুখ প্রান্তর
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ আর্ত শব্দাবলী, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৩,৮৬৫.
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় 'সবুজপত্র' প্রথম প্রকাশিত হয় - 
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২৪ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৮৬৬.
'সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।' উদ্ধৃতিটি কার?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মদনমোহন তর্কালংকার
  3. রাজিয়া খাতুন
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।'- উদ্ধৃতিটির রাজিয়া খাতুন। 

চাষী- কবিতা, 
রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী। 

সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।
দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?
পুণ্য অত হবে নাক সব করিলে জড়।
মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।
ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,
রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।
আমার দেশের মাটির ছেলে, নমি বারংবার
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার।

উৎস: চাষী- কবিতা। 
১৩,৮৬৭.
‘বৈতালিক’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গোলাম কুদ্দুস
  4. আকবর হোসেন
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

• তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ: 
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

• উপন্যাস:
- উপনিবেশ (৩ খন্ড),
- সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী,
- মন্দ্রমুখর,
- শিলালিপি,
- লালমাটি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- বৈতালিক,
- অসিধারা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৬৮.
উপন্যাস আকারে নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনিপূর্ণ রচনা কোনটি?
  1. টালা অভিনয়
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. জমীদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেনের গ্রন্থের বিজ্ঞাপনে 'অতি আশ্চর্য্য উপন্যাস' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।'
- 'ভারতী ও বালক' (বৈশাখ ১২৯৮) পত্রিকায় মন্তব্য করা হয়, 'সমালোচ্য পুস্তকখানি ঠিক উপন্যাস নহে, ইহা উপন্যাসাকারে নীল অত্যাচারের কাহিনীপূর্ণ'।

- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একে 'উপন্যাস' হিসেবেই উল্লেখ করেছেন। মুনীর চৌধুরীর বিবেচনায় এটি মশাররফের 'আত্মজীবনীমূলক রচনা'। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমতও অভিন্ন। গ্রন্থটি যে উপন্যাসই সে-সম্পর্কে বক্তব্য পেশ করেছেন ক্ষেত্র গুপ্তও। তবে 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'কে যথার্থ উপন্যাস বা নিছক আত্মকথা না বলে একে উপন্যাসের আদলে মশাররফের শ্রুতি ও স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনার আলেখ্য হিসেবে চিহ্নিত করা চলে।

- 'উদাসীন পথিকের মনের কথা'র কাহিনি দুইটি স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত। এই কাহিনির একদিকে রয়েছে কুষ্টিয়ার নীলকর টি. আই. কেনীর সঙ্গে সুন্দরপুরের মহিলা জমিদার প্যারীসুন্দরীর দ্বন্দ্ব, নীলচাষের কারণে রায়ত-প্রজার উপর কেনীর অত্যাচার-নিপীড়ন, নীলবিদ্রোহ ও কেনীর পরিণতি। কাহিনির দ্বিতীয় ধারাটি গড়ে উঠেছে মশাররফ-জনক মীর মোয়াজ্জম হোসেনের সঙ্গে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী-পতি সা গোলামের তিক্ত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এবং এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোয়াজ্জম হোসেনের দাম্পত্যজীবনের ঘটনা।

অন্যদিকে,
• 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৬৯.
'সোনালি কাবিন' কবিতাটি কোন ধরনের?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. চতুর্দশপদী
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালি কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের/ চতুর্দশপদীর সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ।
১৩,৮৭০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘শাশ্বতী’ কবিতাটি তার কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক্রন্দসী
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. সংবর্ত
  4. আর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা

বাঙলার অধিকাংশ কবি সাধারনত স্বভাবকবি। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পরিহার করেছিলেন স্বভাবকবিত্ব। তাই তাঁর কবিতা দুরূহ বলে মনে হয়। 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। কবিতা ছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধের বই রয়েছে। তাঁর গদ্যও বাংলা ভাষায় দুরূহতম।
- আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন। 

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি :
- তন্বী (১৯৩০)
- অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫)
- ক্রন্দসী (১৯৩৭)
- উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০)
- সংবর্ত (১৯৫৩)
- দশমী (১৯৫৬)

তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ :
- স্বগত (১৯৩৮)
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)

তাঁর একমাত্র অনুবাদগ্রন্থ :
- প্রতিধ্বনি (১৯৫৪)

> তাঁর শাশ্বতী কবিতাটি রয়েছে 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৭১.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. কামিনী রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে'। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া 

১৩,৮৭২.
'ভানুমতী' - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ইছামতী
  2. অশনি সংকেত
  3. অপরাজিত
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা

‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৭৩.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি? 
  1. নবশক্তি
  2. পরিচয়
  3. অরণি
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা

• 'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপাত্র।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।

অন্যদিকে,
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'অরণি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার।
- এটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'পরিচয়' পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৮৭৪.
"কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও। তারি রথ নিত্যই উধাও জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন, চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।"
- কোন গ্রন্থের অন্তগর্ত?
  1. ক) শেষ লেখা
  2. খ) শেষের পরিচয়
  3. গ) শেষ সপ্তক
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙ্কতিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) উপন্যাসে অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ - 

      কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।
             তারি রথ নিত্যই উধাও
         জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন,
      চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।
                 ওগো বন্ধু,
             সেই ধাবমান কাল
      জড়ায়ে ধরিল মোরে ফেরি তার জাল--
             তুলে নিল দ্রুতরথে
      দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে
         তোমা হতে বহু দূরে।
             মনে হয়, অজস্র মৃত্যুরে
         পার হয়ে আসিলাম
      আজি নবপ্রভাতের শিখরচূড়ায়--
         রথের চঞ্চল বেগ হাওয়ায় উড়ায়
             আমার পুরানো নাম।
         ফিরিবার পথ নাহি;
             দূর হতে যদি দেখ চাহি
                 পারিবে না চিনিতে আমায়।
                         হে বন্ধু, বিদায়। (সংক্ষেপিত) 

- এ কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে। 
- উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে। 
- চরিত্র - অমিত, লাবণ্য, শোভনলাল ইত্যাদি। 
- এ উপন্যাসের প্রবাদ- 
" ফ্যাশন টা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী" 

উৎস: শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৭৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. ক) নরকে লাল গোলাপ
  2. খ) কী চাহ শঙ্খচিল
  3. গ) বর্ণচোর
  4. ঘ) বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- মায়াবী প্রহর,
- মরক্কোর জাদুঘর,
- সংবাদ শেষাংশ,
- ধন্যবাদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ,
- সূর্য জ্বালার স্বপ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে
- 'বর্ণচোর', ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’ ও ‘কী চাহ শঙ্খচিল’- মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৭৬.
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) লালন শাহ
  3. গ) হাছন রাজা
  4. ঘ) পাগলা কানাই
ব্যাখ্যা
'আমার ঘরের চাবি পরের হাতে' গানটির রচয়িতা লালন শাহ।

লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৭৭.
'সোনার তরী' কবিতায় 'সোনার ধান' বলতে বোঝায় -
  1. সোনালি ধান
  2. দামি ধান
  3. মূল্যবান অর্জন 
  4. জীবনের সৃষ্টিকর্ম
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় 'সোনার ধান' বলতে আসলে — মানুষের মহৎ সৃষ্টিকর্ম, স্বপ্ন ও শ্রমকে বোঝানো হয়েছে। 

• 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
- সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- ' এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থ।

১৩,৮৭৮.
”কপালকুণ্ডলা” কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রোমান্সধর্মী
  3. মনস্তাত্বিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• কপালকুণ্ডলা :
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস ।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪) ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১৩,৮৭৯.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৮০.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শামসুল হক
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক শওকত আলী জন্মগ্রহণ করেন দিনাজপুরে।
তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস-
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৮১.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন -
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৮২.
নীরচন্দ্র বসু ও পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ক) ভারতবর্ষ
  2. খ) জন্মভূমি
  3. গ) বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
  4. ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
'জন্মভূমি' পত্রিকার  সম্পাদক ছিলেন- নীরচন্দ্র বসু ও পঞ্চানন তর্করত্ন।

অন্যদিকে,
• 'নবযুগ' পত্রিকার সম্পাদক - কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফফর আহমদ।
• 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা' এর সম্পাদক -মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও মোজাম্মেল হক।
• 'ভারতবর্ষ' পত্রিকার সম্পাদক - জলধর সেন ও অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৮৩.
'খসড়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেওয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, ঘরে ফেরার দিন, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অমরাবতী, অনিঃশেষ, নতুন কবিতা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৮৮৪.
'ভাঙার গান' কবিতাটি কার রচনা?
  1. ক) মোহিত লাল মজুমদার
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
১৩,৮৮৫.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আমার পথ- প্রবন্ধ:
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। 
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

--------------------------- 
• ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

----------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
১৩,৮৮৬.
রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার’ ছোটগল্পটি কোন গল্পেগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গল্পগুচ্ছ
  2. লিপিকা
  3. সে
  4. তিন সঙ্গী
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

⇒ তিন সঙ্গী: 
রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় ‘তিনসঙ্গী’ (১৯৪০) নামের গ্রন্থে।
রবীন্দ্রনাথের তিন সঙ্গী গল্পসংকলনে তিনটি গল্প আছে। এগুলো হলো:
- রবিবার, 
- শেষকথা ও
- ল্যাবরেটরি।

=============
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৮৭.
আবু ইসহাকের কোন উপন্যাসটি গোয়েন্দা কাহিনী নির্ভর?
  1. ক) জাল
  2. খ) সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. গ) মহাপতঙ্গ 
  4. ঘ) হারেম
ব্যাখ্যা
 আবু ইসহাক একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
 তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভম্বরজন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৫৫)।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা কাহিনী নির্ভর উপন্যাস।

 - কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা 'স্মৃতিবিচিত্রা' প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি
- হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপতঙ্গ  (১৯৬৩)।

তিনি ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।  

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১৩,৮৮৮.
'বসন্তকুমারী' একটি প্রখ্যাত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• 'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক অন্যতম।
- এ্টি মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র' পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের - মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু, 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৮৯.
'কুন্দনন্দিনী' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. খ) আনন্দমঠ
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) কপালকুন্ডলা
ব্যাখ্যা
'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্য বিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৯০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ সর্বপ্রথম কোন প্রত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. লাঙল
  2. অমৃতবাজার
  3. সাধনা
  4. সমাচার সভারাজেন্দ্র
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’ সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।

• হিন্দুমেলার উপহার:

- বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা, সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও একাধারে ছোট গল্পের জনক কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতাটির নাম হচ্ছে - ‘হিন্দুমেলার উপহার’।
- তাঁর কবিতাটি ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

 তার সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

• নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• লাঙল:
- ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত দ্বিতীয় পত্রিকা।

• সাধনা
- ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১) প্রকাশিত হয়।
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।

• সমাচার সভারাজেন্দ্র:
-  শেখ আলীমুল্লাহ সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র'।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৯১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ছাড়া আর কোন ভাষায় গান লিখেছেন?
  1. সাখ্যভাষা
  2. ব্রজবুলি ভাষা
  3. নেপালি ভাষা
  4. সিনহালি ভাষা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ছাড়া ব্রজবুলি ভাষায় গান ও পদাবলি রচনা করেছেন। 
 
• রবীন্দ্রসঙ্গীত: 
- কারও মতে ১২ বছর বয়সে তিনি প্রথম গান রচনা করেন; আবার কেউ কেউ বলেন, ১৮৭৫ সালে ১৪ বছর বয়সে তাঁর গান রচনার সূচনা।
- এ সময়ে তিনি অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সরোজিনী নাটকের জন্য ‘জ্বল্ জ্বল্ চিতা দ্বিগুণ দ্বিগুণ’ গানটি রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।
- তাঁর গানের সংখ্যা ২২৩২ এবং সেগুলি অখন্ড গীতবিতান  গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রসঙ্গীতে বাউলের সুর পাওয়া যায় ১৯০৫ সাল থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৩,৮৯২.
বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. দিগদর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
'বাঙ্গাল গেজেট':
- 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

অন্যদিকে,
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 'দিগদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়। 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।

• জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন। এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৯৩.
‘বত্রিশ সিংহাসন’ - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) হরপ্রসাদ রায়
  4. ঘ) গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা

'বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন। বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযােগ্য।
[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

১৩,৮৯৪.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মাঝে কে সর্বপ্রথম মহাকাব্য রচনা করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কায়কোবাদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটিই বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৯৫.
নিচের কোনটি হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. শ্রাবণ মেঘের দিন
  2. দুই দুয়ারী
  3. কোথাও কেউ নেই
  4. অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

অনিল বাগচীর একদিন:
- 'অনিল বাগচীর একদিন' হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি অনিলের একদিনের জীবন ও তার অভিজ্ঞতা ঘিরে আবর্তিত।
- নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায়।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত ছিলেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

• হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র:
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৮৯৬.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের বিখ্যাত উপন্যাস -
  1. সংশপ্তক
  2. আনোয়ারা
  3. কবি
  4. আবদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- 'সংশপ্তক’ (১৯৬৫) উপন্যাসের রচয়িতা শহীদল্লা কায়সার।
- ‘কবি’ উপন্যাসটি লিখেছেন - তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়। 
- কাজী ইমদাদুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস 'আবদুল্লাহ্'।

----------------------

মোহাম্মদ নজিবর রহমান ও তাঁর সাহিত্য:


• জন্ম: পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে।
• সাহিত্যিক জীবনের শুরু: ইসমাইল হোসেন সিরাজীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
• প্রথম উপন্যাস: আনোয়ারা (১৯১৪), যা তাঁর জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

অন্যান্য উপন্যাস: 
• প্রেমের সমাধি, 
• পরিণাম, 
• গরীবের মেয়ে, 
• দুনিয়া আর চাইনা, 
• মেহেরুন্নিসা।

সাহিত্যিক অবদান: 
• নজিবর রহমান গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ জীবনকে তাঁর লেখায় চিত্রিত করেছেন।
• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: 
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
• বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৯৭.
'পঞ্চভূত' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
পঞ্চভূত:
- ১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনি, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্যের মধ্যেও কেউ কেউ ফেলেন ।
- আসলে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ৫ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত হয়েছে।
- এটি ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ লেখক নামে সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি' নামে ছাপা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৮৯৮.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) কাকজ্যোৎস্না
  2. খ) কোকিলারা
  3. গ) এখন দুঃখসময়
  4. ঘ) প্রথম যৌবন
ব্যাখ্যা
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত(১৯০৩-১৯৭৬)
- কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে। দ
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
- তিনি  উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে (১৯২৮)।
- অচিন্ত্যকুমারের গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় সত্তর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-

উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না,
- বিবাহের চেয়ে বড়,
- প্রাচীর ও প্রান্তর,
- প্রথম কদমফুল;

কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা,
- আমরা,
- প্রিয়া ও পৃথিবী,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম,
- উত্তরায়ণ;

নাটক:
একাঙ্ক নাট্য-সংকলন;

গল্পগ্রন্থ:
- টুটাফুটা,
- কাঠ-খড় কেরোসিন,
- চাষাভূষা ,
- একরাত্রি  ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৮৯৯.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্য রচনাটির রচয়িতা-
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
• তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
• তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে,
- জলে ডাঙ্গায়।
• তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৯০০.
'নবীন মাধব' চরিত্রটি কোন নাটকের?
  1. ক) পদ্মাপার
  2. খ) সিরাজদ্দৌলা
  3. গ) প্রফুল্ল
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
• গোলক বসু,
• নবীন মাধব,
• রাইচরণ,
• তোরপ,
• সাবিত্রী,
• সরলতা,
• ক্ষেত্রমণি প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।