বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৮ / ১৭৪ · ১৩,৭০১১৩,৮০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৭০১.
কোনটি জহির রায়হানের রচনা?
  1.  সারেং বৌ
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. বরফ গলা নদী
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা

•  জহির রায়হানের 'বরফ গলা নদী' একটি উপন্যাস। 

অন্যদিকে,
- সারেং বৌ- শহীদুল্লাহ কায়সার।
- ক্রীতদাসের হাসি- শওকত ওসমান।
- কাঁদো নদী কাঁদো- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
• জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 

জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭০২.
'ফুড কনফারেন্স' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আতাউর রহমান
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭০৩.
'মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর' এই পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শেখ ফজলল করিম
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর।’
- কবিতাংশটি শেখ ফজলল করিমের রচনা।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ: 
- তৃষ্ণা, 
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি, 
- গাঁথা, 
- ভগ্নবীণা,
- প্রেমের স্মৃতি, 
- পথ পাথেয় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭০৪.
নূরনামা কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) আব্দুল হাকিম
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) নওয়াজিশ খান
ব্যাখ্যা
আব্দুল হাকিম মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান ধারার বিখ্যাত কবি‌। তাঁর আটটি কাব্যগ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলো- ইউসুফ-জোলেখা, লালমতী সয়ফুলমূলক, শিহাবুদ্দীন নামা, নূরনামা, নসিহতনামা, দুররে মজলিশ, কারবালা, শহরনামা।
শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৭০৫.
'রায়বাহাদুর' উপাধি পান কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান

দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য - স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭০৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. বাল্মীকি
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. মহাশ্মশান
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

'মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭০৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কী নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা 
  4. শর্মা বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭০৮.
'নয়া সড়ক' পত্রিকার সম্পাদক -
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭০৯.
‘রায়বাহাদুর’ কার উপাধি?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন(১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, 
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড,
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭১০.
‘যুগলাঙ্গুরীয়’ উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান।
- এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনী।
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১৩,৭১১.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন পত্রিকাটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিনন্দন বাণী ছাপানো হতো?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।
- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক দেশবরেণ্য ব্যক্তি এবং অমৃতবাজার পত্রিকা ধূমকেতুর আবির্ভাবকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭১২.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?" - উক্ত সংলাপটি কে কাকে করে?
  1. ক) মালা, কুবের কে
  2. খ) মালা, ধনঞ্জয়কে
  3. গ) কপিলা, কুবের কে
  4. ঘ) কপিলা, ধনঞ্জয়কে
ব্যাখ্যা
 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। 
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি। 
উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে  উদ্দেশ্য করে বলে।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং পদ্মানদীর মাঝি।
১৩,৭১৩.
''যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা গৌরী বহমান, ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।''- বিখ্যাত পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২)।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে গঙ্গা থেকে 'বুড়িগঙ্গা' নামে কাব্যসংকলনে এ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন শিশির ভট্টাচার্য এবং অন্যদিন, ৫৮/১২৮ লেক গার্ডেনস, কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

এতে কবিতাটি ছিল নিম্নরূপে:
যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।
-----------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে বিভিন্ন কবিতা- 
নির্মলেন্দু গুণ - স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
সৈয়দ শামসুল হক - পনেরো আগস্ট
রফিক আজাদ - এই সিঁড়ি
শামসুর রাহমান - ধন্য সেই পুরুষ

উৎস: দৈনিক সমকাল।
১৩,৭১৪.
'প্রগতি লেখক সংঘ' এর সাথে জড়িত ছিলেন -
  1. সোমেন চন্দ
  2. জ্যোতির্ময় সেন
  3. সত্যেন সেন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- 'প্রগতি লেখক সংঘ' সঙ্গে প্রথম থেকে জড়িত ছিলেন সোমেন চন্দ, সতীশ পাকড়াশী, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, রণেশ দাশগুপ্ত, অমৃতকুমার দত্ত, জ্যোতির্ময় সেন প্রমুখ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭১৫.
‘আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়……’ পঙক্তিটি কার?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) তুলসী দাস
ব্যাখ্যা

কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত। এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।''

 - পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।

১৩,৭১৬.
‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

 ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের লেখক হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

'চরিত্রহীন' উপন্যাস
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে, যার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- জন্ম: ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর।
- প্রথম উপন্যাস: বড়দিদি। 
- প্রথম প্রকাশিত গল্প: মন্দির, যার জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- রাজনৈতিক উপন্যাস: পথের দাবী (১৯২৬), যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

প্রধান রচিত উপন্যাসসমূহ:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭১৭.
'হুরমতি' ও 'রাবেয়া খাতুন' শহীদুল্লাহ কায়সারের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চন্দ্রভানের কন্যা
  2. সারেং বৌ
  3. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস - সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭১৮.
'ডাকঘর' নাটকের প্রধান চরিত্র 'অমল' কীসের প্রতীক?
  1. সামাজিক সংস্কারের 
  2. প্রেমের
  3. মুক্তির আকাঙ্ক্ষার 
  4. বিদ্রোহের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো - গ) মুক্তির আকাঙ্ক্ষার।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের প্রধান চরিত্র অমল জীবনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি এবং অসীমের সঙ্গে মিলনের প্রতীক।

• ডাকঘর:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- মৃত্যুপথযাত্রী অমল মুক্তি ও বাইরের জগৎকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।


নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ডাকঘর নাটক।

১৩,৭১৯.
শহীদুল্লা কায়সারের পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ গ্রন্থে কোন দেশের জীবনচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. পাকিস্তান
  2. আফগানিস্তান
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. তুরস্ক 
ব্যাখ্যা

শহীদুল্লা কায়সারের পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ গ্রন্থে সোভিয়েত ইউনিয়নের জীবনচিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
------------------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
--------------------------------------------- 
‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’- ভ্রমণকাহিনির কিছু তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটি ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে শহীদুল্লা কায়সারের— ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’।
- এই ভ্রমণকাহিনী তৎকালীন মধ্য এশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের (উজবেকিস্তান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের) রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার একটি প্রত্যক্ষদর্শী চিত্র।

- বইটিতে ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তি এবং এর পটভূমি বর্ণিত হয়েছে।
- সেই সঙ্গে চুক্তির পর ১৯৬৬ সালে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ঘটনাবলীও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে।
- এই গ্রন্থে শহীদুল্লা কায়সার সোভিয়েত ইউনিয়নের জীবনধারা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও আধুনিকতার মিশ্রণ পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- পাশাপাশি, পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ পর্যন্ত তার যাত্রাপথের অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭২০.
সুনন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) রাজশেখর বসু
  2. খ) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  3. গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য রচনায় সুনন্দ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। রাজশেখর বসু, নীহাররঞ্জন গুপ্ত এবং বিমল মিত্র যথাক্রমে পরশুরাম, বাণভট্ট এবং জাবালি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৩,৭২১.
সুফিয়া কামাল রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সাঁঝের মায়া
  2. খ) মায়া কাজল
  3. গ) কেয়ার কাঁটা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামাল কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া 
- মায়া কাজল 
- মন ও জীবন
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক  ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭২২.
'লালসালু' উপন্যাসের রচনাকাল কোনটি?
  1. ক) ১৯৪৩ সালে
  2. খ) ১৯৪৮ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।' 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭২৩.
উইলিয়াম কেরি নিচের কোন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন?
  1. ক) হিন্দু কলেজ
  2. খ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. গ) লর্ড রিপন কলেজ
  4. ঘ) প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭২৪.
'বাংলাদেশ কথা কয়' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. সম্পাদনা গ্রন্থ
  2. নাটক 
  3. প্রবন্ধের সংকলন
  4. উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ কথা কয়':
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

​-----------------
 • আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
-  আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'বাংলাদেশ কথা কয়' সম্পাদনা।

১৩,৭২৫.
'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ 
  4. বন্দে আলী মিয়া 
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক।
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭২৬.
“বর্ণচোর” - নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
বর্ণচোর - মমতাজ উদ্দিন আহমদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
তার রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- বকুলপুরের স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- আমাদের শহর
- রাক্ষুসী
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া
১৩,৭২৭.
'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চন্ডীদাস
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা। জ্ঞানদাস চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''
'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।',
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।'

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৭২৮.
‘ভ্রান্তিবিলাস’ গ্রন্থটি কোন নাটক অবলম্বনে রচিত?
  1. টেম্পেস্ট
  2. কমেডি অব এররস
  3. হ্যামলেট
  4. ম্যাকবেথ
ব্যাখ্যা

‘ভ্রান্তিবিলাস’:
- ভ্রান্তিবিলাস রচিত হয় ১৮৬৯ সালে, বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা বেতালপঞ্চবিংশতির বাইশ বছর পরে। 
- ভ্রান্তিবিলাস বিশ্বখ্যাত নাট্যকার শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটক অবলম্বনে রচিত।
- বইয়ের 'বিজ্ঞাপন' শিরোনাম অংশে তিনি লিখেছেন:
'কিছু দিন পূর্বে, ইংলন্ডের অদ্বিতীয় কবি শেক্সপীয়রের প্রণীত ভ্রান্তিপ্রহসন পড়িয়া আমার বোধ হইয়াছিল, এতদীয় উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত হইলে লোকের চিত্তরঞ্জন হইতে পারে। তদনুসারে ঐ প্রহসনের উপাখ্যানভাগ বাঙ্গালাভাষায় সঙ্কলিত ও ভ্রান্তিবিলাস নামে প্রচারিত হইল।'
- এরপরে তিনি বলেছেন যে এই নাটকের কাব্য-অংশ শেক্সপীয়রের অন্যান্য নাটকের চেয়ে 'নিকৃষ্ট', কিন্তু এর কাহিনী-অংশ কৌতুকপূর্ণ। সেজন্য তিনি এই নাটকটি বাংলাভাষায় রূপান্তরের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘ভ্রান্তিবিলাস’ গ্রন্থ।

১৩,৭২৯.
‘জেবউন্নিসা ও ঔরঙ্গজেব’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. আনন্দমঠ
  2. চন্দ্রশেখর
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 

----------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- আনন্দমঠ,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৩,৭৩০.
"এ দেশের লোক যারা,
সকলেই তো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "এ দেশের লোক যারা, সকলেই তো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - কায়কোবাদ। কবিতাংশটুকু কবির 'দেশের বাণী' কবিতার অংশবিশেষ।

দেশের বাণী
  কায়কোবাদ

কে আর বুঝিবে হায় এ দেশের বাণী?
এ দেশের লোক যারা, সকলইতো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি!

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,৭৩১.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রূপকথার সংকলন টি কয়টি খন্ডে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনটি চারটি খন্ড প্রকাশিত হয়। এগুলো হলো- ঠাকুরমার ঝুলি, ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠানদিদির থলে, দাদামশায়ের থলে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৭৩২.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত ছিলেন-
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. ফররুখ আহমদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৩৩.
নিচের কোন কাব্য কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার ধারক?
  1. বিষের বাঁশী
  2. অগ্নি-বীণা
  3. সিন্ধু-হিন্দোল
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনা সম্পর্কিত আলোচনা:
-  উদারতাবাদের ইংরেজি Liberalism উদ্ভব হয়েছে লাতিন শব্দ liberalis থেকে। 
- উদারনীতিবাদের সাধারণ অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় কতৃত্ববাদ এর বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বাধীনতা নীতি প্রতিষ্ঠা করা।

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উদারনৈতিক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন বিশেষভাবে দেখা যায় 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে। 
- 'অগ্নিবীণা' তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং এটি মূলত সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্রোহ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিক সাম্য ও উদারনৈতিক মানবতাবোধের স্বর তুলে ধরে। 
- এই কাব্যগ্রন্থে তার বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী' ও 'আগমনী' সহ বিভিন্ন কবিতা রয়েছে যেগুলি মানবতাবাদী ও উদারনৈতিক চেতনার সুস্পষ্ট নিদর্শন।
- এ কাব্যের ১২টি কবিতার মধ্যে সাতটি ইসলামী ঐতিহ্য, তিনটি বিশুদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য এবং দুটি কবিতা হিন্দু-মুসলিম উভয় ঐতিহ্যের মিশ্রণে রচিত। 
- কবিতায় মুসলিম ঐতিহ্য ও জীবনবােধের প্রসঙ্গে খোদার আসন, আরশ ছেদিয়া, বোররাক, জিব্রাইল, হাবিয়া-দোযখ, প্রভৃতি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। 
- অন্যদিকে, এই কাব্যের কবিতায় নটরাজ ধূর্জটি, হােমশিখা, জমদগ্নি, ইন্দ্রানী, কৃষ্ণ-কন্ঠ, ব্যোমকেশ, ইশান, শ্যাম, বিষ্ণু, পরশুরাম, বলরাম, ভৃগু প্রভৃতি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজী নজরুলের সচেতন প্রয়াস লক্ষ করা যায়।  

• অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী। 
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।

----------------------- 
• বিষের বাঁশী:
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই। সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- বন্দী-বন্দনা,
- উদ্‌বোধন,
- উৎসর্গ,
- চরকার গান,
- জাতের বজ্জাতি,
- বন্দনা-গান,
- বিদ্রোহীর বাণী,
- মুক্ত-পিঞ্জর,
- যুগান্তরের গান,
- শিকল-পরার গান।
-----------------------

পরিশেষে বলা যায়, 
• 'বিষের বাঁশী' কাব্যগ্রন্থও উদার নৈতিক ঐতিহ্য ও মানবতাবাদের চিন্তাধারা বহন করে, তবে এটি বেশি প্রকাশিত হয়েছে সামাজিক দ্রোহ ও বিপ্লবী চেতনার মাধ্যমে।
• অন্যদিকে, 'অগ্নিবীণা' তাঁর উদারনৈতিক ও মানবতাবাদী ভাবনার আরও গভীর ও ব্যাপক প্রকাশ ঘটায়।
তাই, কাজী নজরুল ইসলামের উদার নৈতিক ঐতিহ্য ভাবনার ধারক হিসেবে 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থকে অধিক উল্লেখযোগ্য বলা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।
১৩,৭৩৪.
'রামের সুমতি' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'রামের সুমতি' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি গল্প। 

• “বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প” গল্পের সংকলন:
- বিন্দুর ছেলে, রামের সুমতি, পথনির্দেশ এই তিনটি গল্পের সংকলন এই গ্রন্থ।
- এই গল্পগুলি 'যমুনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রত্যেকটি গল্পে শরৎচন্দ্রের আখ্যান রচনার স্বাভাবিক নৈপুণ্য আছে। গল্পগুলি শরৎচন্দ্রের জনপ্রিয় রচনার অন্যতম।

--------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত সুখপাঠ্য বড়গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৩৫.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খোয়ারি
  2. খোয়াবনামা
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৩৬.
‘ললিতা তথা মানস’ কাব্যগ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 'ললিতা তথা মানস':
• 'ললিতা তথা মানস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

-  কাব্যগ্রন্থটি ১৮৫৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৩৭.
মুকুন্দদাসের উপাধি ছিল-
  1. স্বভাব কবি
  2. দুঃখ বর্ণনার কবি
  3. কবি কন্ঠহার
  4. চারণকবি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

• মুকুন্দদাস: 
- মুকুন্দদাস ছিলেন একজন চারণকবি। ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। 
-  তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস। পরে গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত হন।
- তিনি বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত 'ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা' জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।

অন্যদিকে, 
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।
• কবি কন্ঠহার বিদ্যাপতির উপাধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৩৮.
উপক্রমণিকা, চিন্তায়সি ও বক্তব্য - এই তিনটি প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
  2. পরিমল গোস্বামী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. গোপাল হালদার
ব্যাখ্যা
• ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
- ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিশিষ্ট প্রবন্ধকার হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন।
- বহু বিষয়ে তিনি প্রবন্ধ রচনা করে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রতিভার পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অনেক প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থগুলো হল—
- 'আমরা ও তাঁহারা',
- 'চিন্তায়সি',
- 'বক্তব্য',
- ‘উপক্রমণিকা',
- 'কথা ও সুর',
- 'মনে এল' ইত্যাদি।

- 'আমরা ও তাঁহারা' তাঁর সমাজ ও সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ।
- তিনি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ ও সংস্কৃতির ব্যাখ্যা করেছেন চিন্তায়সি প্রবন্ধ সংকলনে।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম।
১৩,৭৩৯.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. ফররুখ আহমেদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মীর মশাররফ হোসেন 
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' কাব্যের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়া’।
- তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩), পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।

- তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• 'বসন্তকুমারী' ও
• 'জমিদার দর্পণ'। 

মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

- তার রচিত প্রহসন হচ্ছে:
• ফাঁস কাগজ', 
•'ভাই ভাই এইতো চাই', 
• 'এর উপায় কি'।

- তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিন খণ্ড হলো:
• মহররম পর্ব,
• উদ্ধার পর্ব ও
• ইয়াজিদ বধ পর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৩,৭৪০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. পদ্মাপার
  2. সুচয়নী
  3. পল্লীবধূ
  4. মধুমালা
ব্যাখ্যা
• কবি জসীম উদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ- সুচয়নী।
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউ দদীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- 'সুচয়নী' জসীম উদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের সংকলন:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

• তাঁর রচিত আত্মকথা:
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ:
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৪১.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কবিতাগ্রন্থ কোনটি?
  1. অন্তিম শরের মতো
  2. আধুনিক কবি ও কবিতা
  3. আরো দুটি মৃত্যু
  4. আলোকিত গহ্বর
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কবিতাগ্রন্থ - অন্তিম শরের মতো
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান হাফিজুর রহমান: 
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ: 
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৪২.
সেলিনা হোসেন রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি ?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উল্লেখ্য ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বাংলাদেশী জাহানারা ইমাম রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর]
১৩,৭৪৩.
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি'- কবিতা কে লিখেছেন?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত-'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা। 

• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্য:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতা।  

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা, 
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৪৪.
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. আবুল হাসান
  3. হেলাল হাফিজ
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা — হেলাল হাফিজ।

• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- যে জলে আগুন জ্বলে, 
- কবিতা ৭১, 
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর, যে জলে আগুন জ্বলে- হেলাল হাফিজ।
১৩,৭৪৫.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. আগুনপাখি
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়'  ও দুই সৈনিক শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৪৬.
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেনে? এই ভুবনে।' - সংলাপটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. খ) কবি
  3. গ) পঞ্চগ্রাম
  4. ঘ) গণদেবতা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেনে? এই ভুবনে।' 

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- চৈতালী ঘূণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৪৭.
বেগম রোকেয়ার প্রথম রচনা কোনটি?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) পদ্মরাগ
  3. গ) মতিচূর
  4. ঘ) পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়। 

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর 
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৪৮.
বাউল গানকে কী সাহিত্য বলে?
  1. ক) ব্রজযান সাহিত্য
  2. খ) তত্ত্ব সাহিত্য
  3. গ) মৌল সাহিত্য
  4. ঘ) গৌণ সাহিত্য
ব্যাখ্যা

বাউল গান বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক গান। বাউল একটি ধর্মীয় লোক-সম্প্রদায়।
তাঁরা দেহতত্ত্বাশ্রিত ও অধ্যাত্মমুখী এক প্রকার লৌকিক ধর্মমত পোষণ করেন; একে বাউল ধর্মমত বলা হয়। এর লিখিত কোনো সাহিত্য বা শাস্ত্র নেই।
বাউলরা ধর্মীয় তত্ত্ব ও দর্শন, জীবনবোধ ও আদর্শের কথা গানের ভাষায় প্রকাশ করে সাহিত্যে। মৌখিক ধারার এ গানই বাউল সংগীত হিসেবে পরিচিত।
বাউলরা তাঁদের গানকে ধর্মের অঙ্গ বলে মনে করেন। ধর্মীয় আসর, ওরস উৎসব, ভিক্ষোপজীবিকা ইত্যাদি আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক উপলক্ষে গান করে তারা ধর্মকর্ম পালন করে থাকেন। তাঁরা ‘দেহতত্ত্বে’র সাধনা দ্বারা পরমাত্মার সন্ধান করেন।

সুতরাং বলা যায়, বাউল গান এক ধরনের তত্ত্ব সাহিত্য। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া 

১৩,৭৪৯.
‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. ইব্রাহিম খাঁ 
ব্যাখ্যা

- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি - বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ১৯৫৬ 'সাহিত্য পত্রিকার'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' (১৯৬৪) রচনার জন্য স্মরণীয়।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ৩রা জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি, 
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৫০.
'একটি কাফি' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) চোরাবালি
  2. খ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. গ) স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ
  4. ঘ) তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ
ব্যাখ্যা
•  'একটি কাফি' কবিতাটি বিষ্ণূ দে রচিত 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী বিষ্ণু দের জন্ম ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় ।
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় সাহিত্যপত্র প্রকাশ করেন।

• বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত ভাই চম্পা (১৯৪৪)
- উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩)
- চোরাবালি (১৯৩৭)
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮)
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ (১৯৬৩)
- সেই অন্ধকার চাই (১৩৩৭) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৫১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটকটি লিখেছেন -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'সাজাহান' নাটক:
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. ব্যাথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী:
- 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী।
- ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’। এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম।

রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৫৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র -
  1. আমেনা
  2. জরিনা
  3. মোমেনা
  4. সখিনা
ব্যাখ্যা
মহেশ:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'মহেশ' গল্প।
১৩,৭৫৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. চট্টগ্রাম
  3. যশোর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৫৫.
'পাতাল থেকে আলাপ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) জীবনান্দ দাশ
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'মৌলিনাথ' উপন্যাসের রচয়িতা - বুদ্ধদেব বসু

• ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। জন্মের অল্প পরেই ধনুষ্টংকারে তাঁর মাতৃবিয়োগ ঘটে এবং পিতা ঢাকা বারের উকিল ভূদেবচন্দ্র বসু পরিব্রজ্যা গ্রহণ করে নিরুদ্দেশ হন। এমতাবস্থায় বুদ্ধদেব মাতুলালয়ে লালিত-পালিত হন। তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের প্রথমভাগ কাটে কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ঢাকায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লাল মেঘ
- রাতভর বৃষ্টি
- পাতাল থেকে আলাপ
- গোলাপ কেন কালো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।


১৩,৭৫৬.
'গোলাম মোস্তফা’- এর উপাধি কী?
  1. কবিকন্ঠহার
  2. স্বপ্নাতুর কবি
  3. কাব্য সুধাকর
  4. কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা  উপাধি ছিলো- কাব্য সুধাকর।
--------------------------------------
অন্যদিকে,
- 'কবিকন্ঠহার’ মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো।
- ’সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী’ উপাধি ছিলো-  স্বপ্নাতুর কবি।
- 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

উল্লেখ্য,
• গোলাম মোস্তফা:
১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৫৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. বামুনের মেয়ে
  2. বিপ্রদাস
  3. পণ্ডিত মশাই
  4. নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
• 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ:
- 'নারীর মূল্য' মূলত নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি প্রবন্ধ।
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে যমুনা পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড়দিদির নাম।

-----------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- নারীর মূল্য,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  'নারীর মূল্য' প্রবন্ধ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৫৮.
‘অবকাশরঞ্জিকা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
  4. হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশচন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশচন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় ‘মাসিক পত্রিকা’ নামে সাহিত্য পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

• 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। এটি ১৮৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৫৯.
কত সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট. উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯৩২ সালে
  3. ১৯৩৪ সালে
  4. ১৯৩৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৩৬ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট. উপাধি প্রদান করা হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট. উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৬০.
'কঙ্কাবতী' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. গল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্কাবতী' কবিতাগ্রন্থ:
- 'কঙ্কাবতী' বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

---------------
• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৬১.
আমার চেতনা যেন একটি শাদা সত্যিকার পাখি,
বসে আছে সবুজ অরণ্যে এক চন্দনের ডালে;
-কোন কবির কবিতা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আহম্মদ ছফা
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটি কবি আল মাহমুদের 'লোক লোকান্তর' কবিতার অন্তর্গত।

কবিতাটি আল মাহমুদের ‘লোক-লোকান্তর‘ কাব্যের নাম-কবিতা। এটি কবির আত্মপরিচয়মূলক কবিতা। কবির চেতনা যেন সত্যিকারের সপ্রাণ এক অস্তিত্ব-পাখিতুল্য সেই কবিসত্তা সুন্দরের ও রহস্যময়তার স্বপ্নসৌধে বিরাজমান। প্রাণের মধ্যে, প্রকৃতির মধ্যে সৃষ্টির মধ্যে তার বসবাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

১৩,৭৬২.
'শিখা' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন।
- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো।

- এর সর্বমোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রথম সংখ্যার (১৯২৭) সম্পাদক আবুল হোসেন,
- দ্বিতীয় (১৯২৮) ও তৃতীয় সংখ্যার (১৯২৯) সম্পাদক কাজী মোতাহার হোসেন,
- চতুর্থ সংখ্যার (১৯৩০) সম্পাদক আবদুর রশিদ এবং
- পঞ্চম সংখ্যার (১৯৩১) আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,৭৬৩.
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। 

-----------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি, ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৬৪.
বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
  1. হিতোপদেশ
  2. কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ
  3. বত্রিশ সিংহাসন
  4. রাজাবলী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

⇒ মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ: 
• মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক। জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।
• মনােএলের আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি। ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহরে রােমান লিপিতে মনােএল দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলাে :
১. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ এবং
২. ভােকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পােরতুগিজ।

⇒ এর মধ্যে দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ভােকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পােরতুগিজ মূলত অভিধান গ্রন্থ। তবুও এই গ্রন্থেই মনােএল অতি সংক্ষেপে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ একটি অধ্যায়ে সংযােজন করেন। এটাকেই মনােএলের ব্যাকরণ বলে এবং এ কারণেই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অন্যদিকে,
বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ ও রাজাবলী মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৭৬৫.
'দীপ ও ধূপ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- নির্মাল্য, মাল্য ও নির্মাল্য, পৌরাণিকী, অশোক সঙ্গীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবন পথে, গুঞ্জন ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৭৬৬.
মোহাম্মদ নজিবর রহমানের সাহিত্যিক উপাধি -
  1. সাহিত্যরত্ন
  2. সাহিত্য বিশারদ
  3. সাহিত্য সমালোচক
  4. সাহিত্য ভূষণ
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 

- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি।
- পরিণাম
- গরীবের মেয়ে
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৬৭.
জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. বালুচর
  2. রাখালী
  3. ধানক্ষেত
  4. মা যে জননী কান্দে
ব্যাখ্যা

• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি  জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

- 'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

কবর
-জসীম উদ্‌দীন 
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।

-------------------
• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

----------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একাধারে করি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহু পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তার জন্ম।
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

• তাঁর রচিত নাটক:
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• তার রচিত আত্মকথা:
যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, জীবন কথা ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনি:
চলে মুসাফির, হলদে পরির দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৭৬৮.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি-
  1. যে দেশে মানুষ বড় 
  2. অবিশ্বাস্য
  3. দেশে বিদেশে
  4. চলে মুসাফির 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি- দেশে বিদেশে। 
----------------------------------------------
‘দেশে বিদেশে’:
- ‘দেশে বিদেশে’ সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ এবং বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের এক অসাধারণ উদাহরণ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনীটি মূলত ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে তার আফগানিস্তানের কাবুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর লেখা।
- এই গ্রন্থে তিনি আফগান সমাজের দৈনন্দিন জীবন, মানুষের চলাফেরা, ভাষা, পোশাক, খাদ্য ও সংস্কৃতির নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছেন।
- লেখক তার সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে কাবুলের জীবন এবং মানুষের চিন্তাভাবনা বর্ণনা করেছেন।
- গ্রন্থটিতে রাজা আমানুল্লাহ খানের আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা যেমন—নারী শিক্ষা, বোরকা প্রথা বাতিল ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।।
- এবং এর কারণে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াও স্থান পেয়েছে; যা পরবর্তীতে তার ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়। 
- লেখক কেবল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেননি;
- বরং তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, রসবোধ এবং ভাষার জাদুর মাধ্যমে গ্রন্থটিকে সাহিত্যিক মানও দিয়েছেন। 
-------------------------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।
----------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- যে দেশে মানুষ বড় ও চলে মুসাফির- গ্রন্থ দুইটি জসীমউদ্দীনের রচিত ভ্রমনকাহিনি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৬৯.
কোনটি আধুনিক যুগের কাব্য?
  1. ক) মনসা মঙ্গল
  2. খ) অন্নদা মঙ্গল
  3. গ) কালিকা মঙ্গল
  4. ঘ) সারদা মঙ্গল
ব্যাখ্যা

- বাংলা গীতিকবিতার ভোরের পাখি হিসাবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি গীতিকবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুরু এবং আধুনিক গীতিকবিতার জনক।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - সারদা মঙ্গল, যা ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত। এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।

অন্নদামঙ্গল, কালিকা মঙ্গল, মনসা মঙ্গল কাব্য মধ্যযুগের কাব্য। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৭৭০.
'কিরণময়ী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. দেনা পাওনা
  2. চরিত্রহীন
  3. পথের দাবী
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

• 'দেনা পাওনা' উপন্যাসটি রচনা করেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে। কাহিনির নায়ক, জীবনানন্দ। এই নাটক 'ষোড়শী' নামে নাট্যায়িত হয়।

-------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৭১.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. সওগাত
  4. ভারতবর্ষ
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ও সাহিত্য কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৭২.
কোন গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নয়?
  1. ক্ষণিকা
  2. পত্রপূট
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. কল্পনা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ নয় - রাজবন্দীর জবানবন্দী।

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধ:

- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে। তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা
- ক্ষণিকা
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৭৩.
‘লোকরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• ‘লোকরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘লোকরহস্য' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

- এই গ্রন্থে বঙ্কিমচন্দ্র সমকালীন সমাজ, শিক্ষাদীক্ষা ও চারিত্রনীতির অসঙ্গতি কৌতুকরসের মধ্য দিয়ে চমৎকারভাবে ফুটিয়েছেন।
- এতে গুরুতর তত্ত্বকথাও সরল ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে পড়েছে।
- 'ব্যাঘ্রাচার্য্য বৃহল্লাঙ্গুল', 'ইংরাজস্তোত্র', 'বাবু', 'গর্দ্দভ', ‘দাম্পত্য দণ্ডবিধির আইন' ইত্যাদি কতকগুলো ব্যঙ্গরচনা এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'লোকরহস্য-প্রবন্ধগ্রন্থ।

১৩,৭৭৪.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. উসমান
  2. জয়গুন
  3. ফজল
  4. কদম সারেং
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী':
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

• তার অন্যান্য সাহ্যিতকর্ম:
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৭৫.
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন কোন লেখক?
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- শুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৭৬.
'জন্ডিস' একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্প সংকলন
ব্যাখ্যা
• জন্ডিস কোন রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষ্মণমাত্র।
- রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়।

• যেহেতু অপশনে সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, ধারনা করা যায় যে, এটি ’জন্ডিস’ এর পরিবর্তে ''জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন'' বুঝানো হয়েছে।

• 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক।
সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।

সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৭৭.
'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।


তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৭৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি' কার রচনা?
  1. আমজাদ হোসেন
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

--------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৭৯.
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান, তোমরা 'মানুষ' হলে দেশের কল্যাণ।- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) কুসুমকুমারী দাশ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের কল্যাণ।- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ

        'আদর্শ ছেলে'
  -- কুসুম কুমারী দাশ

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ৷
বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান
নাই কি শরীরে তব রক্ত, মাংস, প্রাণ?
হাত পা সবারই আছে, মিছে কেন ভয়?
চেতনা রয়েছে যার, সে কি পড়ে রয়?
সে ছেলে কে চায় বল, কথায় কথায়
আসে যার চোখেজল, মাথা ঘুরে যায়?
মনে প্রাণে খাট সবে, শক্তি কর দান,
তোমরা ‘মানুষ’ হলে দেশের কল্যাণ৷

• কুসুমকুমারী দাশ:
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা। 
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল'।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৮০.
বিয়োগান্তক নাটক 'কীর্তিবিলাস' রচনা করেন কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. পঞ্চানন চক্রবর্তী
  3. গোপাল দাস
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা
'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা। এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৭৮১.
সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের মূল পটভূমি কী? 
  1. প্রকৃতির বিষণ্ণ চিত্র ও মানুষের বেদনা 
  2. রোমান্টিক প্রেমের গল্প 
  3. প্রকৃতির কল্পিত রূপ ও কল্পনা
  4. কবির বৃদ্ধকালের অনুভূতি 
ব্যাখ্যা

• ‘সাঁঝের মায়া’:
- সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের মূল পটভূমি হলো প্রকৃতির বিষণ্ণ চিত্র ও মানুষের বেদনা।
- কবিতায় বিরহ, নিঃসঙ্গতা এবং নারী জীবনের দুঃখ গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।
- বিশেষ করে পর্দার আড়ালে বেড়ে ওঠা নারীর দৃষ্টিতে সমাজ ও জীবনের সীমাবদ্ধতা এই কাব্যতে প্রকাশ পেয়েছে।
- ‘সাঁঝের মায়া’ হলো সুফিয়া কামালের কৈশোর ও প্রারম্ভিক যৌবনের অনুভূতি, প্রকৃতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ।
- এই কাব্যটি সমাজ-সংস্কৃতির প্রতিফলন, যা কবিকে একজন স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
- এছাড়া, নারীর অধিকার ও সামাজিক সচেতনতার বীজ এই কাব্যগ্রন্থে নিহিত রয়েছে।
------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর গল্প ও স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৭৮২.
'সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা' প্রবন্ধ কার রচনা?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. আবুল ফজল
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• আবুল ফজল:
- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।
প্রবন্ধ:
- বিচিত্র কথা
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন
- সমকালীন চিন্তা
- মানবতন্ত্র

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৮৩.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কোনটি?
  1. শিখা
  2. ক্রান্তি
  3. ঢাকা প্রকাশ
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৮৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. সীতারাম
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. রাজমোহনস ওয়াইফ
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)। আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৮৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প কোনটি?
  1. ছুটি
  2. দেনাপাওনা
  3. পোস্ট মাস্টার
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
'দেনাপাওনা' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৭৮৬.
'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।  

অন্যদিকে, 
• 'চাষার ছেলে' নামে জসীম উদ্‌দীনের একটি কবিতা রয়েছে। 
• 'চাষার দুক্ষু' নামক প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত।  

উৎস: 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,৭৮৭.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক স্বরাজ
  2. ব্রহ্মবাদী
  3. প্রগতি
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
⇒ জীবনানন্দ দাশ:  
• তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
•  তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
• তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
• মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 

⇒ তিনি 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
⇒ তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।
⇒ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।    

⇒ অন্যদিকে, কবি বুদ্ধদেব বসু ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৩,৭৮৮.
'সীমান্ত গান্ধী’ নামে পরিচিত কে?
  1. ক) রাজীব গান্ধী
  2. খ) ইন্দিরা গান্ধী
  3. গ) মহাত্মা গান্ধী
  4. ঘ) খান আব্দুল গাফফার খান
ব্যাখ্যা
- খান আব্দুল গাফফার খান মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
- ভারতের উত্তর - পশ্চিম সীমান্তে বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রোধে মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি প্রচার ও ধারণ করায় তাকে 'সীমান্ত গান্ধী' উপাধীতে ভূষিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- ডেইলি স্টার।
১৩,৭৮৯.
'অ-তে অজগর' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি -
  1. স্মৃতিকথা
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস - অ-তে অজগর।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন,

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৯০.
'মাটি আর অশ্রু' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
পূরবী, মাটি আর অশ্রু, জয়ের পথে, নবী কাহিনী, নতুন সকাল ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা সিকান্দার আবু জাফর। সিরাজউদ্দৌলা, শকুন্ত উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল, মাকড়সা তাঁর রচিত নাটক এবং প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে, তিমিরান্তক, বৃশ্চিকলগ্ন, কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৯১.
‘কুবের’ ও ‘ধনঞ্জয়’ চরিত্র দুটি কার রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

----------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৭৯২.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কোন গোষ্ঠীর প্রবক্তা ছিলেন?
  1. ব্রাহ্ম সমাজ
  2. ইয়ংবেঙ্গল
  3. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  4. ভারতীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।

- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ছিলো - ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

উল্লেখ্য, 
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৯৩.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. ক্রান্তি
  3. কণ্ঠস্বর
  4. অগত্যা
ব্যাখ্যা

'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

​অন্যদিকে,
- ​'ক্রান্তি' পত্রিকা ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপাত্র। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
​- "কণ্ঠস্বর" পত্রিকার সম্পাদক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। 
- ফজলে লোহানী সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় উন্নতমানের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক অগত্যা পত্রিকা

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৭৯৪.
'আট কুঠুরি নয় দরজা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. সমরেশ মজুমদার
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'আট কুঠুরি নয় দরজা':
• সমরেশ মজুমদারের রহস্য-রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ভরপুর গ্রন্থ 'আট কুঠুরি নয় দরজা'।
• সম্পূর্ণ মৌলিক, তবু যে কোনো রুদ্ধশ্বাস বিদেশি থ্রিলারকেও হার মানায় সমরেশ মজুমদারের কীর্তিময় কলমের এই কাহিনি।

• গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
- এ কাহিনি ভারতবর্ষের কাছাকাছি এক পাহাড়ী রাজ্যের।
- থ্রিলারের একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থাধীন এই রাজ্যের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তলে-তলে চলতে থাকে বিপ্লব সংগঠনের প্রয়াস।
- আকাশলাল ছিল এই বিপ্লববাহিনীরই নেতা।
- প্রশাসনিক তৎপরতায় বিদ্রোহ দমিত হল; গা ঢাকা দিল আকাশলাল ও তার প্রধান সঙ্গীরা। পুলিশের জাল কেটে বেরুতে গিয়ে একে-একে নিহত হল আকাশলালের সঙ্গীরা। অবশেষে একদিন আকাশলালও হলো বন্দী।
- পুলিশী হেফাজতে আকস্মিক মৃত্যু ঘটে গেল আকাশলালের। সম্ভাব্য জনরোষ ও উত্তেজনা এড়াতে চুপিচুপি কবর দেওয়া হলো তাকে।
- আশ্চর্য, কীভাবে যেন আবার একদিন ফিরে এল অমর বিপ্লবী আকাশলাল।

===========
⇒ সমরেশ মজুমদার:
- সমরেশ মজুমদারের জন্ম ২৬ ফাল্গুন, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ।
-  প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প 'দেশ' পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে।
- প্রথম উপন্যাস 'দৌড়'। প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে 'দেশ' পত্রিকায়।
- 'দৌড়' চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার লাভ করেন।
- এছাড়াও ১৯৮৪ সালে 'কালবেলা' উপন্যাস রচনার জন্য পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
- দৌড়,
- এই আমি রেণু,
- উত্তরাধিকার, 
- বন্দীনিবাস,
- বড় পাপ হে,
- উজান গঙ্গা,
- বাসভূমি,
- লক্ষ্মীর পাঁচালি,
- উনিশ বিশ,
- সওয়ার,
- কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: 'আট কুঠুরি নয় দরজা' সমরেশ মজুমদার এবং ‘অনেকেই একা’ সমরেশ মজুমদার।
১৩,৭৯৫.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) কোকিলারা
  3. গ) চারিদিকে যুদ্ধ
  4. ঘ) সুবচন নির্বাসনে
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকামিত প্রথম নাটক

• তার রচিত অন্যান্য নাটক
- শপথ (১৯৬৪),
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- চারদিকে যুদ্ধ (১৯৮৩),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪) ইত্যাদি।

উৎসঃ ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,৭৯৬.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯২৯ সালে
  4. ১৯৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি জসীম উদ্‌দীন তা অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৭৯৭.
কোন কাব্যটি শামসুর রাহমানের রচনা নয়?
  1. ক) রৌদ্র করোটিতে
  2. খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. গ) বন্দী শিবির থেকে
  4. ঘ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমানের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০), রৌদ্র করোটিতে (১৯৬৩), বিধ্বস্ত নিলীমা (১৯৬৭), নিরালোকে দিব্যরথ (১৯৬৮), নিজ বাসভূমে (১৯৭০), বন্দী শিবির থেকে (১৯৭২), দুঃসময়ে মুখোমুখি (১৯৭৩), ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাটা (১৯৭৪), আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি (১৯৭৪), এক ধরনের অহংকার (১৯৭৫), আমি অনাহারী (১৯৭৬), শূন্যতায় তুমি শোকসভা (১৯৭৭), বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে (১৯৭৭), প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে (১৯৭৮), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), ইকারুসের আকাশ (১৯৮২), উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে (১৯৮৩), কবিতার সঙ্গে গেরস্থালি (১৯৮৩), নায়কের ছায়া (১৯৮৩)।
১৩,৭৯৮.
বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
‘দিগদর্শন’ পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৭৯৯.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -
  1. হলুদ পোড়া
  2. সরীসৃপ
  3. চতুষ্কোণ
  4. সমুদ্রের স্বাদ
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৮০০.
“Tree without roots” উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. জহির রায়হান
  4. আবূ ইসহাক
ব্যাখ্যা

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

> ১৯৪৮ সালে রচিত এবং প্রকাশিত লালসালু উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী সৃষ্টিকর্ম হিসেবে বিবেচিত। এর পটভূমি ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ হলেও এর প্রভাব বা বিস্তার কালোত্তীর্ণ। মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র উপন্যাসটির মূল বিষয়।

> লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন অ্যান-মারি-থিবো, জেফ্রি ডিবিয়ান, কায়সার সাঈদ এবং মালিক খৈয়াম। তবে ওয়ালীউল্লাহ নিজে এতে সম্প্রসারণের কাজ করেন। ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের Chatto অ্যান্ড Windus লিমিটেড থেকে Tree Without Roots শিরোনামে প্রকাশিত হয়।পরবর্তীতে উপন্যাসটি জার্মান ও চেক ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস:  সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া