বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৬ / ১৭৪ · ১৩,৫০১১৩,৬০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৫০১.
'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮)
- ওরা আছে বলেই(১৯৮০)
- ইবলিশ(১৯৮২)
- এখানে নোঙর(১৯৮৬)
- গিনিপিগ(১৯৮৫)
- পাথর(১৯৯৩)
- লেবেদেফ(১৯৯৭) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫০২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতার নাম কী?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) বাংলা ছাড়ো
  3. গ) রিপোর্ট ১৯৭১
  4. ঘ) উচ্চারণগুলি শোকের
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতার নাম 'বাংলাদেশ'। 
- ত্রিশের দশকের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি অমিয় চক্রবর্তী। 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
-  অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

 কল্যাণীর ধারাবাহী যে-মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী, যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রূপোলি জলের ধারে, আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তলীন
বাণী শোনো প্রাত্যাহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে, পালা-পার্বণের ঢাকে-ঢোলে
আউল বাউল নাচে; পুণ্যাহের সানাই রঞ্জিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়, মাঝি
পাল তোলে, তাঁতি বোনে, খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে- শ্রমসঙ্গী নানাজাতিধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ- (সংক্ষিপ্ত)
                     

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫০৩.
'গীতাঞ্জলি'তে সংকলিত প্রথম গান কোনটি?
  1. আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার.......
  2. অন্তর মম বিকশিত করো.......
  3. বিপদে মোরে রক্ষা করো......
  4. আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায়......
ব্যাখ্যা
• 'গীতাঞ্জলি' ও  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ (মূলত গানের সংকল)।
- এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা গীতাঞ্জলি (রচনাকাল, ১৯০৮-১৯০৯) কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Song Offerings।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয়ী Gitanjali (গীতাঞ্জলী) কাব্য গ্রন্থের ইংরেজি ভার্সনের ভূমিকা লিখেছিলেন আরেক নোবেল বিজয়ী কবি ডব্লিউ WB Yeats.
- বাংলা গীতাঞ্জলি হলো ১৫৭টি গীতিকবিতার সংকলন আর ইংরেজি গীতাঞ্জলী হলো ১০৩ টি গীতি কবিতার সংকলন।
- বাংলা গীতাঞ্জলী থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে ৫৩টি কবিতা/গানকে স্থান দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০টি কবিতা/গান নিয়েছেন ৯টি কাব্যগ্রন্থ থেকে, যেমন-গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।

গীতাঞ্জলিতে সংকলিত প্রথম গান হলো -

"আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার
চরণধুলার তলে।

সকল অহংকার হে আমার
ডুবাও চোখের জলে।

নিজেরে করিতে গৌরব দান
নিজেরে কেবলই করি অপমান,
আপনারে শুধু ঘেরিয়া ঘেরিয়া
ঘুরে মরি পলে পলে।

সকল অহংকার হে আমার
ডুবাও চোখের জলে।
-----------
----------"



রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী, 
- চিত্রা ,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা। 

সূত্র: গীতাঞ্জলি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫০৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. দেবী চৌধুরানী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. সীতারাম
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫০৫.
সৈয়দ মুজতবা আলীর 'জলে-ডাঙায়' গ্রন্থটি কোন ধারার?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. ভ্রমণকাহিনি
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'জলে-ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত - ভ্রমণকাহিনি।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়;

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহর-ইয়ার;

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫০৬.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৩৪ সালে
  3. ১৯৩৭ সালে
  4. ১৯৩৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
---------------------

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
 
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা, 
- আরোগ্য। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস।
১৩,৫০৭.
'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।' উক্তিটি কার রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।

১৩,৫০৮.
'দুধভাতে উৎপাত' কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

‘দুধভাতে উৎপাত’ গল্পগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পগ্রন্থ 'দুধভাতে উৎপাত'। এটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'দুধভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত।

এই গল্পগ্রন্থে মোট চারটি গল্প রয়েছে। 
যথা -
মিলির হাতে স্টেনগান,
দুধভাতে উৎপাত,
পায়ের নিচে জল,
দখল।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:

- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা; ‘দুধভাতে উৎপাত’ গল্পগ্রন্থ ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫০৯.
বঙ্কিমচন্দ্রচট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায় ?
  1. ক) চবিবশ পরগনায়
  2. খ) কলকাতায়
  3. গ) বর্ধমান
  4. ঘ) চুরুলিয়া
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্রচট্টোপাধ্যায় ছিলেন ঔপন্যাসিক,বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- বঙ্কিমচন্দ্রচট্টোপাধ্যায় চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি লাভ করেন ।
[উৎস : বাংলাপিডিয়া]

১৩,৫১০.
বিশ শতকের পত্রিকা কোনটি?
  1. নওরোজ
  2. নবনূর
  3. পূর্বাশা
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• 'নওরোজ' পত্রিকা ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোহাম্মদ আফজাল-উল হক এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।

উপরের সবগুলোই বিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫১১.
"আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?"
- চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. কান্ডারী হুশিয়ার
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. সংকল্প
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

''আর কতকাল থাকবি বেটী মাটির ঢেলার মূর্তি আড়াল?
স্বর্গ যে আজ জয় করেছে অত্যাচারী শক্তি চাঁড়াল।
দেব-শিশুদের মারছে চাবুক, বীর যুবকদের দিচ্ছে ফাঁসি,
ভূ-ভারত আজ কসাইখানা, আসবি কখন সর্বনাশী?''
- আনন্দময়ীর আগমনে,
কাজী নজরুল ইসলাম

উল্লেখ্য, 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ২৩ নভেম্বর, ১৯২২ গ্রেফতার হন এবং প্রায় ১ বছর কারাভোগ করেন।

তার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - অগ্নিবীণা।

উৎস: বাংলা কবিতা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫১২.
'গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন’ স্মৃতিকথার রচয়িতা -
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
সাহিত্যকর্ম: 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর রবীন্দ্র-সান্নিধ্য ও শান্তিনিকেতনের জীবনের সব কথা লিপিবদ্ধ আছে তাঁর ‘গুরুদেব ও শান্তিনিকেতন’ বইয়ে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়্যাত-ই-ওমর খৈয়ম' গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন। 
--------------------- 
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ডেইলি স্টার বাংলা, দৈনিক জনকন্ঠ।
১৩,৫১৩.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. কল্যাণী
  3. বিলাসী
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা
• ‘কল্যাণী’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি দেশ পত্রিকায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• বিন্দুর ছেলে, বিলাসী ও মহেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

---------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫১৪.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধ কে রচনা করেছেন?
  1. নীহাররঞ্জন রায়
  2. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. মুহাম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায়:
- ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫১৫.
রফিক আজাদ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. শিল্পকলা 
  2. দোয়েল 
  3. ধানশালিকের দেশ
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫১৬.
নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ কাব্য?
  1. ক) বেলা শেষের গান
  2. খ) সবিতা
  3. গ) তীর্থরেণু
  4. ঘ) কুহ ও কেকা
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ কাব্য হচ্ছে তীর্থরেণু।

তাঁর রচিত আরো একটি অনুবাদ কাব্য হচ্ছে মণি-মঞ্জুষা।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত বিখ্যাত কাব্যগুলো হল - 
- বেলা শেষের গান
- সবিতা
- কুহ ও কেকা
- বিদায় আরতি
- সন্ধিক্ষন
- বেণু ও বীণা
- হসন্তিকা
- অভ্র আবীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫১৭.
'বেলা শেষের গান' কাব্যটির রচয়িতা-
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর, 
- হসন্তিকা,  
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫১৮.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত হন কোন সাহিত্যিক?
  1. দাউদ হায়দার
  2. কায়কোবাদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫১৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নন কে?
  1. তারিণীচরণ মিত্র
  2. রাজীবলােচন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. হরপ্রসাদ রায়
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত নন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫২০.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. লিপিকা
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. সে
  4. তিন সঙ্গী
ব্যাখ্যা
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
লিপিকা,
• সে,
তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫২১.
'ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে' কার রচনা?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিম আল দীন
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৯ সালে সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন তিনি।
- জলোচ্ছ্বাস তাঁর ১ম উপন্যাস।

♦ শিশু-কিশোর সাহিত্য: 
- কুড়কুড়ির মুক্তিযুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- ফুলকলি প্রধানমন্ত্রী হবে,
- যখন বৃষ্টি নামে।

♦ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: 
- জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা,
- হাঙর নদী গ্রেনেড ,
- যুদ্ধ,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা।

♦ ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস: 
- যাপিত জীবন , 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি।

♦ অন্যান্য উপন্যাস: 
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা।

উৎস : বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫২২.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' একটি - 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

- ১৯২৯ সালে প্রকাশিত তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।
------------

• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস। 
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫২৩.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. চাঁদের অমাবস্যা
  4. তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' ১৯৬৪ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত একটি উপন্যাস।
- চাঁদের অমাবস্যায় যুবক শিক্ষকের ভয় ও আত্ম-প্রবঞ্চনার প্রতিফলনের সমাচার আঁকতে গিয়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মানবিক অস্তিত্ব-সংকট এবং ব্যক্তির দায় ও ভারবোধের প্রসঙ্গাদি পরিবেশন করেছেন।
- এই গ্রন্থে প্রকৃতি, রাত, চাঁদ, অন্ধকার, আলো, কুয়াশা, নদী, বাঁশির শব্দ, বাতাসের আওয়াজ; ব্যক্তির সংশয়, সারল্য, আত্মনিমগ্নতা- এইসব বিষয় ও অনুভব সারিবদ্ধভাবে হাজির হয়েছে পাঠকের সামনে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫২৪.
''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।'' - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ উক্তিটি কোন প্রেক্ষাপটে করেছেন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষানীতি সংস্কার প্রসঙ্গে
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ধর্মীয় উৎসব উদযাপন উপলক্ষে
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫২৫.
'লোকরহস্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• 'লোকরহস্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৫২৬.
'ওরা আছে বলেই' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) মামুন রশিদ
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ওরা আছে বলেই, গিনিপিগি, ওরা কদম আলী, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙর, পাথর, সমতট, লেবেদফ ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশিদ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৫২৭.
কোন পত্রিকা 'কল্লোল' পত্রিকার মত একই চেতনা ও সাহিত্যবোধ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. কালিকলম
  2. পরিচয়
  3. পূর্বাশা
  4. চিত্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা:
- কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক ‘কালিকলম' সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র ।
- যে চেতনা ও সাহিত্যবোধ থেকে ‘কল্লোল' প্রকাশিত হয়েছিল, ‘কালিকলম’ও একই বোধ সম্পন্ন পত্রিকা ছিল। তবে পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু হতে পারে নি। 'কল্লোল' ও ‘কালিকলমে'র লেখককুল ছিল মূলত একই।

⇒ প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
 - প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে, 
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা 'চিত্রদর্শন'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫২৮.
"প্রমীলা এবং বিভীষণ" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫২৯.
কত সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্য প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১০ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৫ সালে
ব্যাখ্যা
• গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশ করে লন্ডনের ইন্ডিয়া সোসাইটি।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৩০.
শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) অমিত
  2. খ) লাবণ্য
  3. গ) কেতকী রায়
  4. ঘ) মোহনলাল
ব্যাখ্যা

'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে-
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল।

সোর্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৫৩১.
'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
সমর সেন ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী স্বাধীনতা-উত্তর কালের ভারতীয় কবি এবং সাংবাদিক।তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেনের পৌত্র। তাঁর পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে কয়েকটি কবিতা, গ্রহণ, নানা কথা, খোলা চিঠি, এবং তিন পুরুষ। তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ- বাবু বৃত্তান্ত।
১৩,৫৩২.
ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন?
  1. বলাকা কাব্য
  2. নৈবেদ্য কাব্য
  3. আকাশ প্রদীপ কাব্য
  4. পূরবী কাব্য
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক উৎসর্গকৃত গ্রন্থ: 
- আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পূরবী কাব্য' গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। 
- তখন ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ 'বিজয়া' উপাধি দেন এবং তার পূরবী কাব্যটি তাকে উৎসর্গ করেন।
- আকাশ প্রদীপ ও বলাকা কাব্যদ্বয় যথাক্রমে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
- স্মরণ কাব্যটি কবি তার স্ত্রীর মৃত্যু উপলক্ষ করে রচনা করেন।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৩৩.
কাল নিরবধি - গ্রন্থটি যার আত্মজীবনী -
  1. ক) মুস্তফা নুরুল ইসলাম
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  4. ঘ) ড. মাহবুল হক
ব্যাখ্যা

"কাল নিরবধি" - অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এর আত্মজীবনী।
এতে তিনি নিজের জীবনের কথা, পরিপার্শ্বের সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় তাঁর বেড়ে-ওঠা, শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদান-পর্বের কাহিনী, ব্যক্তিজীবন, পরিবার, বন্ধুবৃত্ত, শিক্ষকমণ্ডলীর কথা বর্ণনা করেছেন।
এগুলো ছাপিয়ে বইয়ের কাহিনী পৌঁছে যায় বৃহত্তর সামাজকি-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ভূমিতে।
এই সুবাদে ফুটে ওঠে সময় ও সমাজের পরিবর্তনময়তার ছবি, কেবল ঋদ্ধবান এক অবলোকনকারীর দৃষ্টিতে নয়, মহত্বতর এক অংশীর বয়ানে, যিনি ইতহাসকে প্রত্যক্ষ করেছেন নিবিড়ভাবে তার চেয়েও গভীরভাবে চেয়েছেন ইতিহাস পাল্টে দিতে। দেশভাগপর্ব-কাল থেকে এই স্মৃতিভাস্যের শুরু, কিংবা বলা যায় তারও আগে, বঙ্গীয় মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজে আধুনিক শিক্ষার অভিঘাতে সৃষ্টি আলোড়ন থেকে জন্ম নেয়া আপন পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকে কথকতার সূচনা।

১৩,৫৩৪.
'শতকরা আশি' নাটকটির রচয়িতা?  
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) দ্বিজেন্দলাল রায়
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
• 'শতকরা আশি' নাটকটির রচয়িতা- 'নুরুল মোমেন'। 

• নুরুল মোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো, 
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া, 
- আইনের অন্তরালে,  
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৩৫.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধ গ্রন্থ?
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. কবিতার কথা
  3. ঝরা পালক
  4. দুর্দিনের যাত্রী
ব্যাখ্যা
• 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন বরিশাল শহরে।
- তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ হলো - 'কবিতার কথা'। এই প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি হলো— 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাকে বলেছেন চিত্ররূপময়।

• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ -
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৩৬.
'চয়নিকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - 
  1. নাটক 
  2. কাব্য সংকলন
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

'চয়নিকা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য সংকলন - চয়নিকা।
- প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
- প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল।
- ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলির জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৩৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. পিঙ্গল আকাশ
  2. যাত্রা
  3. কুলায় কালস্রোেত
  4. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই 'যাত্রা'।
প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।

- 'যাত্রা' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

-----------------
শওকত আলী রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোেত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৩৮.
‘লালসালু’ উপন্যাসের কূটচরিত্র কোনটি?
  1. ক) মজিদ
  2. খ) হাসু
  3. গ) আক্কাস
  4. ঘ) গণেষ
ব্যাখ্যা
• 'লালসালু' উপন্যাসে কুটচরিত্র - মজিদ
• 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মজিদ নামের এক কূটচরিত্র গারোপাহারি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে শোষণ করে। সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৩৯.
'বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি শখের বোটে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা -
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি শখের বোটে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকুমার রায়
- এটি তাঁর 'জীবনের হিসাব' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

জীবনের হিসাব,
---সুকুমার রায়
   
বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন, "বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে?
চাঁদটা কেন বাড়ে কমে ? জোয়ার কেন আসে?"
বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফ্যাল্‌ফেলিয়ে হাসে।
বাবু বলেন, "সারা জনম মরলিরে তুই খাটি,
জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি।

সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়  তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'জীবনের হিসাব' কবিতা, সুকুমার রায়।
১৩,৫৪০.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. রায়পিথোরা
  2. কল্যাণশঙ্কু
  3. শংকর
  4. কালপেঁচা
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী-  সত্যপীর, রায়পিথোরা, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ, শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাবহৃত ছদ্মনাম - কল্যাণশঙ্কু। 
• মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় ব্যাবহৃত ছদ্মনাম - শংকর। 
• বিনয় ঘোষ ব্যাবহৃত ছদ্মনাম - কালপেঁচা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৪১.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন উপন্যাসের জন্য ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন?
  1. ইছামতী
  2. অপরাজিত
  3. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  4. দেবযান
ব্যাখ্যা
• ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ সালে বিভূতিভূষণ মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ লাভ করেন।

• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- ‘ইছামতী’ ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু।

--------------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৪২.
'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' গ্রন্থটি কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
• "আঞ্চলিক ভাষার অভিধান":
- 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের একটি সংকলন প্রকাশ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং এ উদ্দেশ্যে বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে তিন খণ্ডে সমাপ্য একটি অভিধান প্রণয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

- ১৯৫৮ সালের প্রথম দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, সাময়িক পত্রিকা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদনপত্র প্রেরণের মাধ্যমে শব্দ সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা, পাবনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর, বাখেরগঞ্জ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, নোয়াখালী, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও করাচি অঞ্চল থেকে ৪৫৩ জন সংগ্রাহকের মাধ্যমে মোট ১,৬৬,২৪৬টি আঞ্চলিক শব্দ সংগৃহীত হয়। সংশোধন ও বিচার-বিবেচনার পর এ থেকে প্রায় পঁচাত্তর হাজারের মতো শব্দ সংকলনের জন্য গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৪৩.
‘মধুসূদন’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2.  দুইবোন
  3. মালঞ্চ
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
• ‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।


অন্যদিকে,
• ‘দুইবোন’ উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র:
- শর্মিলা ও
- উর্মিলা।

----------------------
• ‘মালঞ্চ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- নীরজা,
- আদিত্য,
- সরলা।

----------------------
• ‘গেরা’ (১৯১০) উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে।

• এই উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোরা,
- পরেশবাবু,
- সুচরিতা,
- ললিতা,
- বিনয়,
- বরদাসুন্দরী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে কয়টি অধ্যায় রয়েছে?
  1. একটি
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে চারটি অধ্যায় রয়েছে।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ৷

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৪৫.
'আশায় বসতি' কোন কবির রচনা ?
  1. ক) ফররুখ আহমদ
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীব ছিলেন পেশায় সাংবাদিক। তার রচিত উপন্যাস- অরন্য নীলিমা, রাণী খালের সাঁকো। কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়া হরিন, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দু’হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ। তার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর, ছুটির দিন দুপুরে, ছোটদের পাকিস্তান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৫৪৬.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. সাজাহান 
ব্যাখ্যা

সাজাহান দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি ঐতিহাসিক নাটক। 

সাজাহান:
- সাজাহান নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 
- এর প্রকাশকাল ১৯০৯ সালে। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে গণ্য।
- সাজাহান নাটকের বিষয়বস্তু ছিলো মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি। 
- উল্লেখযোগ্য গান: ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’, যা নাটকের অংশ।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
- জন্ম: ১৯ জুলাই ১৮৬৩, নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে।
- বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।

নাটকসমূহ:
- ঐতিহাসিক নাটক: সাজাহান, মেবার পতন, নূরজাহান, প্রতাপসিংহ, তারাবাঈ, সিংহল বিজয়, তাপসী
- রোমান্টিক নাটক: সীতা, ভীষ্ম, সোহরাব-রুস্তম
- সামাজিক নাটক: পরপারে, বঙ্গনারী।

অন্যদিকে,
- প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ঐতিহাসিক নাটক। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক ও ট্রাজেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কৃষ্ণকুমারী।
- রক্তাক্ত প্রান্তর হচ্ছে মুনীর চৌধুরী রচিত একটি বিখ্যাত নাটক। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫৪৭.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্পের নাম কী?
  1. ক) পিপাসা
  2. খ) কেয়ার কাঁটা
  3. গ) পদ্মরাগ
  4. ঘ) সৈনিক বধূ
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯):
- কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন।
-  সওগাত সম্পাদক  মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
-  বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়াকে আজীবন প্রভাবিত করেছে।
- তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন।
 
তার রচিত:
- প্রথম কবিতা - বাসন্তী; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাঁঝের মায়া; এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- প্রথম গল্প - সৈনিক বধূ ; এটি বরিশালের 'তরুণ ' পত্রিকায় ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

এছাড়া,
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১)
- মন ও জীবন (১৯৫৭)
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা (১৯৫৮)
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪)
- দিওয়ান (১৯৬৬)
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯)
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০)
- মোর জাদুদের সমাধি পরে (১৯৭২)

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা (১৯৩৭)

ভ্রমনকাহিনী:
- সোভিয়েতে দিনগুলি (১৯৬৮)

স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের ডায়েরি (১৯৮৯)

--------------------
অন্যদিকে, 
- বেগম রোকেয়ার প্রথম লেখা ‘পিপাসা’। 
- বেগম রোকেয়ার লেখা একমাত্র উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৪৮.
'ওরা আছে বলেই' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশিদ মূলত নাট্যকার ছিলেন।
তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি নাটক-
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- গিনিপিগি,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- পাথর,
- সমতট,
- লেবেদফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৪৯.
হুমায়ুন কবীর সম্পাদিত পত্রিকা- 
  1. সংগ্রাম
  2. ধূমকেতু
  3. চতুরঙ্গ
  4. বঙ্গদূত 
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- হুমায়ুন কবিরের একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তিনি মারা যান।

• ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকা সম্পর্কিত তথ্য:
- তিনি ‘চতুরঙ্গ’ নামের একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে তিনি সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে লেখা প্রকাশ করতেন।
- চতুরঙ্গ পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নারী’ কবিতা প্রকাশিত হয়।

• তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।

• তার কয়েকটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো-
- ‘স্বপ্নসাধ’,
- ‘সাথী’,
- ‘অষ্টাদশ’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৫০.
"আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!"
- উল্লিখিত কবিতাংশটুকু কোন কবির কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. কাজেম আল কোরায়শী
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!"
- উল্লিখিত কবিতাংশটুকু — কাজী নজরুল ইসলামের — খেয়া পারের তরণী- কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

খেয়া পারের তরণী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

আবুবকর উস্‌মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারি-গান –লা-শরিক আল্লাহ!

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
--------------
• খেয়া পারের তরণী:
- এটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; খেয়া পারের তরণী- কবিতা।

১৩,৫৫১.
'বিমলা-কুমুদিনী' কোন দুটি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. ক) ঘরে-বাইরে, যোগাযোগ
  2. খ) চতুরঙ্গ, যোগাযোগ
  3. গ) ঘরে-বাইরে, শেষের কবিতা
  4. ঘ) চোখের বালি, শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো -
'ঘরে-বাইরে' - নিখিলেস ও বিমলা
'যোগাযোগ'
- মধুসূদন ও কুমুদিনী।
'শেষের কবিতা' - অমিত ও লাবণ্য।
'চোখের বালি' - বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৫৫২.
"একটি ধানের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
"একটি ধানের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু" -পঙ্‌ক্তিটির  রবীন্দ্রনাথের 'স্ফুলিঙ্গ' গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।

একটি শিশির বিন্দু
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বহু দিন ধরে' বহু ক্রোশ দূরে
      বহু ব্যয় করি,বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
            দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।

      দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
      ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
            একটি শিশিরবিন্দু।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কবি-কাহিনী
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং স্ফুলিঙ্গ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৩,৫৫৩.
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘নন্দিত নরকে' হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় স্বপ্রণোদিত হয়ে এর ভূমিকা লিখে দেন অধ্যাপক আহমদ ছফা।
------------------------
হুমায়ূন আহমেদ:
• হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।

• বাংলা কথাসাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ একজন ব্যতিক্রমী লেখক। রচনার ব্যাপ্তি, বিষয়ের বৈচিত্র্য, চরিত্র নির্মাণ, রচনাশৈলী, সংলাপ প্রভৃতি মিলিয়ে তিনি এক অভিনব ধারা সৃষ্টি করেন, যা একান্তই তাঁর নিজস্ব শৈলী হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিজাত প্রকাশ ও রসবোধের কারণে তাঁর রচনা সহজেই পাঠকের চিত্ত স্পর্শ করে।

• বাংলাদেশের কথাসাহিত্যের গতানুগতিক ধারাকে অতিক্রম করে হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন এক স্বতন্ত্র ভুবন। একজন সফল লেখক হিসেবে সাহিত্য-শিল্পের বিভিন্ন শাখায় স্বচ্ছন্দ বিচরণ তাঁকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা। বহুমাত্রিকতা তাঁর রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

• ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৫৪.
নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো-
  1. নির্মল
  2. রতন
  3. মানিক
  4. নিধু
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'। নির্মলেন্দু গুণের ডাকনাম ছিলো রতন। প্রিয়জনেরা 'রতু' বলে ডাকতেন।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৫৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম-মৃত্যু সাল - 
  1. ১৮৩৮ – ১৯৩৮
  2. ১৯২৯ – ২০০৩
  3. ১৮৭৬ – ১৯৩৮
  4. ১৮৮২ – ১৯৫০
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম-মৃত্যু সাল হচ্ছে ১৮৭৬ – ১৯৩৮। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৫৫৬.
'নিতাই' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. কবি
  3. চার অধ্যায়
  4. আরগ্য নিকেতন
ব্যাখ্যা

'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৫৫৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ছদ্মনামে লিখেছেন?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. শ্রীমতি মধ্যমা
  3. অনুপমা দেবী
  4. অনুরূপা দেবী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে, 
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী। 
• অনুরূপা দেবীের ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, পরশুরাম, শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৫৮.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় কবে? 
  1. ১৭০০ সাল থেকে
  2. ১৮০০ সাল থেকে
  3. ১৮৫৭ সাল থেকে
  4. ১৯০১ সাল থেকে
ব্যাখ্যা

• আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫৫৯.
স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বলাকা 
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদর্শন 
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব, 
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা, 
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৬০.
হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. নক্ষত্রের রাত
  2. সূর্যের দিন
  3. কোথাও কেউ নেই
  4. শঙ্খনীল কারাগার
ব্যাখ্যা

• কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,৫৬১.
‘বিজয়া’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালে হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ।
- তাঁর 'পথের দাবী' উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য, 
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উই, 
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত (৪ খন্ড),
- দত্তা,
- গৃহদাহ, 
-  রামের সুমতি,
- বিরাজবৌ,
- দেনা-পাওনা, 
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত নাটক: 
- ষোড়শী,
- রমা,
- বিজয়া ইত্যাদি। 

ছোটগল্প:
- কাশীনাথ,
- মন্দির,
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- মেজদিদি ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৬২.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ কী ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. গণমানুষের কবি
  2. প্রতিবাদী কবি
  3. নাগরিক কবি
  4. মার্কসবাদী কবি
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- জন্ম: ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর, বরিশাল।
- পৈতৃক নিবাস: বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- প্রকৃত নাম: শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; পরে নিজেই ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নাম গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১)।
- কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবাদের সুর প্রতিফলিত হওয়ায় তিনি একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- গল্প,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার। 

অন্যদিকে,
ক) দিলওয়ারকে গণমানুষের কবি বলা হয়। 
গ) শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়। 
ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারার প্রতিবাদী ও প্রগতিশীল চেতনার কবি বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৫৬৩.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. দিলওয়ারা হোসেন
  2. দাউদ হায়দার
  3. দিলওয়ারা জাহান
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' গ্রন্থের রচয়িতা - দাউদ হায়দার। 

দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৬৪.
'কমলের চোখ' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার (১৯৫৫) এবং পরবর্তীকালের কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০) ও কমলের চোখ (১৯৭৪) এ ধরনের গীতিমুখ্য সুললিত কবিতার সংকলন৷

এছাড়াও তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৩,৫৬৫.
‘মোদের গরব মোদের আশা’ আ-মরি বাংলা ভাষা’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আসা আ মরি বাংলা ভাষা’- গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন।
- বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে।

অতুলপ্রসাদ সেন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 
- তাঁর রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,৫৬৬.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!' - গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!' - গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন। গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৬৭.
'অভিযান' কাব্য গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
• মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৫৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করেন?
  1. ক) ১৯১৩
  2. খ) ১৯২৬
  3. গ) ১৯৩৬
  4. ঘ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৪০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করেন। রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৬৯.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য-
  1. রাজা যায় রাজা আসে
  2. যে তুমি হরণ করো
  3. পৃথক পালঙ্ক
  4. ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসান: 
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজস সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৭০.
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যে রাধাকে কী বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. Braja Sundari
  2. Poor Old Mrs. Radha of Braja
  3. Queen of Vrindavan
  4. Radiant Radha
ব্যাখ্যা
'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যে:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।'
- রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৭১.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  2. সমাচার দর্পণ
  3. দিগদর্শন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র। 
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা 'Friend of India' (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে 'Government Gazette' এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: 
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫৭২.
'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' - পঙ্‌ক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. কামিনী রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

পাখি-সব করে রব-
মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৭৩.
নিচের কোন কবি রবীন্দ্র কাব্য ধারার বিপরীতে কবিতা লিখেছেন?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগের নাগরিক কবি সমর সেন  রবীন্দ্র কাব্য ধারার বিপরীতে কবিতা লিখেছেন। 

তাঁর  কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংশয় , সংকট, নিতিহীনতা, আত্নকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা রূপায়িত হয়েছে।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গুলো - 
- কয়েকটি কবিতা
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা
- নানাকথা
- খোলা চিঠি
- তিন পুরুষ
- সনর সেনের কবিতা ইত্যাদি

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৭৪.
কোনটি আহসান হাবীব রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) ছুটির দিন দুপুরে
  3. গ) সারা দুপুর
  4. ঘ) ছায়া হরিণ
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৭৫.
'কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই' প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই'- প্রবাদ বাক্যটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়।
- 'কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কই'- প্রবাদ বাক্যটির অর্থ হচ্ছে - কেউ কষ্ট করে কেউ কষ্ট না করেই তাঁর ফল ভোগ করে।
- প্রবাদটি বঙ্কিমচন্দ্রের 'বিড়াল' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- অনিলাদেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ:

- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৫৭৬.
“ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. অসম্ভবের পায়ে
  3. সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
  4. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
ব্যাখ্যা

• “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” কবিতাটি সীমাবদ্ধ জলে` সীমিত সবুজে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ (১৯৪১-২০১৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি, লেখক ও সম্পাদক।
- তিনি তার স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত, যা প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। 
- ভাত দে হারামজাদা কবিতাটি কবির 'সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• ‘অসম্ভবের পায়ে’,
• ‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’,
• ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’,
• ‘পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি’, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৭৭.
কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি পাঠকের মনে কোন ধরনের আচরণের উদ্রেক ঘটায়?
  1. পরোপকারিতা
  2. সাহসিকতা
  3. সংকোচহীনতা
  4. ভয়হীনতা
ব্যাখ্যা
• 'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা: 
- কবিতাটি কামিনী রায় রচিত ‘আলাে ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।
- অর্থাৎ এই কবিতা পাঠে মানুষের মনে অন্যের সমালোচনার কারণে "সংকোচ" ঘটে।
- দৃঢ় মনােবল নিয়ে লােকলজ্জা ও সমালােচনাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে হলে সংকোচ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে। 
- কবিতাটি পাঠকের মনে 'সংকোচহীনতা'র অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। 
------------------ 
• কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা, সাহিত্য কণিকা- অষ্টম শ্রেণি।
১৩,৫৭৮.
শহীদুল্লা কায়সার তাঁর কোন সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণবৃত্তান্ত
  2. 'রাজবন্দীর রোজনামচা' স্মৃতিকথা
  3. 'সারেং বৌ' উপন্যাস
  4. 'সংশপ্তক' উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৭৯.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাবো' আহসান হাবীবের একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. শিশুতোষ গ্রন্থ
  4. ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব 
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মধ্যবিত্তের সংকট ও জীবনযন্ত্রণা আহসান হাবীবের কবিতার মুখ্য বিষয়। 
- সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬১), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), একুশে পদক (১৯৭৮) লাভ করেন।
- ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই রাত্রিশেষ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, ইতাদি।

- তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো - অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো।

- এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস - বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৮০.
'সারেং বৌ'- উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. জোহরা
  2. জমিলা
  3. নবিতুন
  4. জয়গুন
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বৌ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।

---------------------
শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)। 

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৮১.
'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থটি কার সাহিত্যকর্ম?
  1. শওকত ওসমান
  2. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• ‘দুধভাতে উৎপাত’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত গল্পসংকলন।

• ‘দুধেভাতে উৎপাত’:
- ‘দুধেভাতে উৎপাত’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্পের সংকলন
- ‘দুধেভাতে উৎপাত’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। 
- সংকলনটিতে মোট চারটি গল্প অন্তর্ভুক্ত :
∗ মিলির হাতে স্টেনগান,
∗ দুধেভাতে উৎপাত,
∗ পায়ের নিচে জল এবং
∗ দখল।
- সংকলনের গল্পগুলোতে বাস্তবধর্মী বর্ণনা, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং গ্রাম-শহরের জীবনের টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- এই গল্পগুলোতে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্য থেকে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন সমস্যা বা ‘উৎপাত’ সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে—তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
- বিশেষ করে ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ লেখা হয়েছে এমন এক সময়কে কেন্দ্র করে, যখন যুদ্ধশেষে অর্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে।
- এখানে ‘স্টেনগান’ শুধু একটি অস্ত্র নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা এবং সেই চেতনার বিপথে যাওয়ার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
----------------------------------
• আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস (১৯৪৩–১৯৯৭) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত রচনার মধ্যে রয়েছে:
‘রেইনকোট’:
- গল্পটি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত এবং ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত। 
- গল্পে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের বর্বরতা, যুদ্ধাবস্থায় শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনযাপন, সাধারণ মানুষের অসহায়তা দেখান হয়েছে;
- পাশাপাশি প্রধান চরিত্র নুরুল হুদার মানসিক টানাপোড়েন গভীরভাবে চিত্রিত হয়েছে।
 - এটি ‘জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল’ গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয় এবং ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'চিলেকোঠার সেপাই':
- আখতারুজ্জামান এর রচিত ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান;
- যেখানে তিনি সেই সময়ের গণ-আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সংগ্রামকে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন।
- এটি ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।

- তাঁর আরও কিছু রচনার মধ্যে রয়েছে:
•‘দোজখের ওম’ (ছোটগল্প সংকলন);
•‘চিলেকোঠার সেপাই’ (উপন্যাস);
•‘খোয়াবনামা’ (উপন্যাস);
• আর ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ হলো ২২টি প্রবন্ধ নিয়ে গঠিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৮২.
'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই'। - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. প্রাণ
  2. বসুন্ধরা
  3. দুই বিঘা জমি
  4. ঐকতান
ব্যাখ্যা
- 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে৷
এই কবিতার দুটি লাইন হলো -

কবিতার নাম - প্রাণ
কবির নাম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,৫৮৩.
পঞ্চপাণ্ডবের কোন কবি কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী 
  4. বিষ্ণু দে 
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

 উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

 কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

অন্যদিকে,
• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 

• অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। 
• বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৮৪.
কোন কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমূখী হয়?
  1. ক) কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
  2. খ) মৌলিক মুখোশ
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তরে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমূখী হয় শহীদ কাদরির ‘উত্তরাধিকার’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৫৮৫.
সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. বরিশাল
  2. কুষ্টিয়া
  3. রংপুর
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৮৬.
’সাম্প্রদায়িকতা’ প্রবন্ধ-গবেষণাটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি একজন অধ্যাপক ও রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর  এর জন্ম ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে।
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬);
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭);
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮);
- পূর্ববাঙালার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (১৯৭০);
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ (১৯৭৪);
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৬);
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৪);
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (১৯৮০);
- বাঙলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি (১৯৮৯);
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ (২০০৬) ইত্যাদি।

উল্লেখ,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- সংস্কৃতি কথা'।
• 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই'  শওকত ওসমান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

• ড. আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গ্রন্থ:
- ‘বিচিত চিন্তা;
- ‘সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা’,
- ‘বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য;
- ‘স্বদেশ চিন্তা’,
- ‘বিশ শতকের বাঙালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৮৭.
জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বনলতা সেন
  3. মাল্যবান
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের রচিত উপন্যাস হচ্ছে মাল্যবান। 

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃনিবাস বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক ছিলেন, এবং মাতা কুসুমকুমারী দাশ একজন কবি ছিলেন।
- তিনি ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উপাধি:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি। 

সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডু লিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
উপন্যাস: মাল্যবান, সুতীর্থ।
প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫৮৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছিলো?
  1. পথের দাবী
  2. পল্লী সমাজ
  3. গোড়া
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
পথের দাবী(১৯২৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উপন্যাস। 
- কাহিনীর পটভূমিকায় ছিলো ব্রহ্মদেশ।
- এক বিপ্লবী  দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- প্রকাশিত হবার সাথে সাথে এটি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। 
- পরবর্তীতে 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯ এর ফাল্গুন মাসে এটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 

শরৎচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
- বড়দিদি
- বিরাজবৌ
- বিন্দুর ছেলে
- পরিণীতা
- মেজ দিদি
- পল্লী-সমাজ
- বৈকুন্ঠের উইল
- শ্রীকান্ত
- দেবদাস
- চরিত্রহীন
- দত্তা
- গৃহদাহ
- বামুনের মেয়ে
- দেনা পাওনা
- পথের দাবী
- শেষ প্রশ্ন
- বিপ্রদাস
- শুভদা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৮৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) দুর্গেশনন্দিনী
  2. খ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বলা হয়।
- তিনি বাংলা উপন্যাসের জনক।
- তাঁকে 'বাংলার স্কট' বলা হয়।
- 'কমলাকান্ত' ছিল তার ছদ্মনাম।
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' তাঁর সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত।
- এই উপন্যাসে রোহিনী, ভ্রমর ও গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৫৯০.
প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং প্রেমের করুণ পরিণতি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের প্রধান কাহিনি?
  1. রাজসিংহ
  2. চন্দ্রশেখর
  3. মৃণালিনী
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

অন্যদিকে,
-----------------------------
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• ‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।

• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৯১.
'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বরফ গলা নদী:
- নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ, বেদনা, পাওয়া-না পাওয়াগুলোকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে ‘বরফ গলা নদী’।
- ১৯৬৯ সালের একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা কেমন ছিল সেই ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে উপন্যাসটি থেকে।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- 'শহীদুল্লা কায়সার' তাঁর ভাই ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:

• উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে
- হাজার বছর ধরে
- আরেক ফাল্গুন
- বরফ গলা নদী
- আর কত দিন
- তৃষ্ণা
- কয়েকটি মৃত্যু।

• গল্পগ্রন্থ:
- সূর্যগ্রহণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৯২.
সুকুমার সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে কাব্যোপন্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন?
  1. কবিকাহিনি
  2. বনফুল
  3. মানসী
  4. কল্পনা 
ব্যাখ্যা

সুকুমার সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বনফুল' কাব্যকে কাব্যোপন্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন। 
----------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- তাঁরা পনের ভাইবোন ছিলেন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কবিকাহিনী (১ম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৭৮); 
- বনফুল (২য় কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮০); 
- গীতাঞ্জলি; 
- প্রভাতসঙ্গীত; 
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- বলাকা;
- পুনশ্চ। 
-------------------------
• বনফুল কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- রবিঠাকুর রচিত বনফুল কাব্য প্রথম প্রকাশিত হয়- ১৮৭৬ সালে।
- কিন্তু বনফুল গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৮৮০ সালে।

- সুকুমার সেন ‘বনফুল’-কে সরাসরি কাব্য না বলে কাব্যোপন্যাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- তিনি মন্তব্য করেছেন যে- বনফুলের মূল প্লটের আরম্ভে ‘অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী’র উদাসিনীর অনুসরণ রয়েছে।
- তাঁর মতে কাব্যে কমলা ভূমিকায় শকুন্তলার ছাপ রয়েছে।
- এছাড়া, ভাব, ভাষা ও অলঙ্কারে মাঝে মাঝে দিজেন্দ্রনাথ, বিহারিলাল ও মধুসূদনের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়।

- গ্রন্থটি ৮টি সর্গে বিভক্ত।
- মিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

- বনফুল কাব্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ: 
- বিজয়, কমলা, নীরদ, নীরজা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,৫৯৩.
'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৮  সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ':
- দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ (ওডিবিএল)  বাংলা ভাষা সংক্রান্ত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় The Origin and Development of the Bengali Language নামে ইংরেজিতে গ্রন্থটি রচনা করেন। সংক্ষেপে এটি ODBL নামেই সমধিক পরিচিত।

- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিষয়ক যে মৌলিক গবেষণার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থখানি প্রণীত এবং ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে 'ভাষাচার্য' উপাধিতে ভূষিত করেন।

- প্রকাশের পর থেকেই এটি ভারতীয় ও ইউরোপীয় পণ্ডিতবর্গের উচ্চ প্রশংসা ও অনুমোদন লাভ করে আসছে। এখনও ইন্দো-আর্য ভাষার বিজ্ঞানসম্মত পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে এটি বিশিষ্ট গবেষণা কর্মরূপে বিবেচিত হয়।

- সুবৃহৎ এ গ্রন্থের প্রধানত দুটি অংশ: Part-I: Introduction, Phonology এবং Part-II: Morphology, Bengali Index। পরবর্তী সংস্করণে (১৯৭১) সংযোজিত হয় Part-III: Supplementary, Additions, Correction etc. বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের স্বরূপ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে এ গ্রন্থে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

--------------
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)'।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে 'ভাষাচার্য' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৯৪.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যেগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আল মাহমুদ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবিব
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদের কবি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল ‘সোনালী কাবিন’ (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থটি।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
- কালের কলস (১৯৬৬)
- সোনালী কাবিন (১৯৭৩)
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬)
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না
- দিনযাপন
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৫৯৫.
'আলোক বিজ্ঞান' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা পত্রিকার মুখবাণী ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।
- কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- সঞ্চয়ন, 
- নজরুল কাব্য পরিচিতি ;
- সে পথ লক্ষ্য করে;
- সিম্পোজিয়াম, 
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস; 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৫৯৬.
"এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।"
- কার রচিত পংক্তি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

''সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর অর্ধেক তার নারী।
নরক কুন্ড বলিয়া তোমা’ করে নারী হেয় জ্ঞান?

তারে বল, আদি-পাপ নারী নহে, সে যে নর শয়তান।
অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,
ক্লীব সে, তাই নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।
এ বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-সূধা-গন্ধ সুনির্মল।''

- নারী (সাম্যবাদী)
- কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলালের কাব্যগুলো হলো :
- অগ্নি-বীণা
- বিষের বাঁশী
- সাম্যবাদী
- চক্রবাক
- সিন্ধু-হিন্দোল
- ভাঙার গান
- প্রলয় শিখা
- চিত্তনামা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা কবিতা।

১৩,৫৯৭.
কোন লেখকের উপাধি 'সাহিত্যরত্ন'?
  1. আবদুল করিম
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
 মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি।
- পরিণাম
- গরীবের মেয়ে
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,৫৯৮.
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) অলৌকিক স্টিমার
  2. খ) আর্ত শব্দাবলী
  3. গ) জীবন ঘষে আগুন
  4. ঘ) আরো দুটি মৃত্যু
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ- বিমুখ প্রান্তর, প্রতিবিম্ব, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শহরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন ও শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
'জীবন ঘষে আগুন' হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ।
অলৌকিক ইস্টিমার হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
আরো দুটি মৃত্যু হাসান হাফিজুর রহমানের গল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৫৯৯.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. রাইফেল রোটি আওরাত
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,৬০০.
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সমুদ্রের স্বপ্ন
  2. খ) আগুনপাখি
  3. গ) কালিন্দী
  4. ঘ) গণদেবতা
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ-
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে, - শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর