বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৪ / ১৭৪ · ১৩,৩০১১৩,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,৩০১.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে প্রধান নারী চরিত্রের নাম কি?
  1. ক) বাসন্তী
  2. খ) কাজলা
  3. গ) হৈমন্তী
  4. ঘ) সীতারাণী
ব্যাখ্যা

অদ্বৈত মল্লবর্মণের বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'।
এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম সংস্কার ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম কিশোর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৩০২.
কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পরিদর্শক
  2. খ) নব্যভারত
  3. গ) আহমদী
  4. ঘ) কোহিনূর
ব্যাখ্যা
⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩০৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের' কোন বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন?
  1. ইতিহাস
  2. বাংলা ও সংস্কৃত
  3. দর্শন
  4. ভাষাবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩০৪.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়-
  1. বিচিত চিন্তা
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. স্বদেশ অন্বেষা
  4. বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় 'কেয়াবন সঞ্চারিণী'।
- 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।

• আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:

- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩০৫.
ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব
  3. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক মুহম্মদ আব্দুল হাই এবং শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক সৈয়দ আলী আহসান যুগ্মভাবে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)' গবেষণা গ্রন্থটি রচনা করেন।

----------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা (২ খণ্ড) - গোপাল হালদার।
• ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য- ড. দীনেশচন্দ্র সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩০৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিত থাকাকালীন প্রকাশিত একমাত্র সাহিত্য সংকলন/কাব্য কোনটি?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) আকাল
  4. ঘ) ঘুম নেই
ব্যাখ্যা
ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের পক্ষে “আকাল” (১৯৪৩/৪৪) নামক সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন। এর কবিতাগুলো পঞ্চাশের মন্বন্তর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ। মৃত্যুর ৩ মাস পর প্রকাশিত হয় - ছাড়পত্র। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩০৭.
"সিন্দাবাদ" কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. হাতেমতায়ী
  3. নতুন লেখা
  4. সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩০৮.
‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি কোন সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৫
  3. ১৯২৬
  4. ১৯২৮
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

১৩,৩০৯.
‘সনাতন পাঠক’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- নীললোহিত,
- সনাতন পাঠক,
- নীল উপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• সৈয়দ মুজতবা আলী ছদ্মনাম: সত্য পীর, মুসাফির, ওমর খৈয়াম, প্রিয়দর্শী।
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছদ্মনাম: কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সামন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩১০.
'ভাষার ইতিবৃত্ত' কার রচনা?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• 'ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন - সুকুমার সেন।

সুকুমার সেন:
- জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
- বাংলা স্থান নাম,
- বাংলায় নারীর ভাষা,
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
- রামকথার প্রাক ইতিহাস,
- বটতলার ছাপা ও ছবি,
- বনফুলের ফুলবন,
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,৩১১.
"বাংলা মায়ের স্নিগ্ধ কোলে,
ঘুমিয়ে রব আমি!
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি!" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কায়কোবাদ
  3. অতুল প্রসাদ সেন
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• "বাংলা মায়ের স্নিগ্ধ কোলে,
ঘুমিয়ে রব আমি!
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি!" 

- পঙ্‌ক্তিগুলো কায়কোবাদ রচিত ‘বঙ্গভূমি ও বঙ্গভাষা’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।
-----------------------

'বঙ্গভূমি ও বঙ্গভাষা' কবিতা – কায়কোবাদ',

কবিতার কিছু অংশ -
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি।
গঙ্গা পদ্মা যাচ্ছে ব’য়ে,
যাহার চরণ চুমি।
ব্রহ্মপুত্র গেয়ে বেড়ায়,
যাহার পূণ্য-গাথা!
সেই-সে আমার জন্মভূমি,
সেই সে আমার মাতা!
------ 
বাংলা মায়ের স্নিগ্ধ কোলে,
ঘুমিয়ে রব আমি!
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা জন্মভূমি!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩১২.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. খোয়াবনামা
  2. খোঁয়ারি
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা

"খোয়াবনামা" উপন্যাস:
- "খোয়াবনামা" কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি সর্বপ্রথম মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়।
- একই বছরের এপ্রিলে বইটি পশ্চিমবঙ্গের নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। সে বছরই উপন্যাসটি সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার এবং আনন্দ পুরস্কার লাভ করে।

- উপন্যাসটি গন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৯৪ সালে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাহিত্য পাতায় ধারাবাহিকভাবে কিছুকাল প্রকাশিত হয়। তবে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এর ছাপা বন্ধ করে দেয়।

- এই উপন্যাসটি মূলত বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭)-এর কিয়ৎকাল পূর্ব এবং পরবর্তী সময়কাল নিয়ে রচিত। এর কাহিনি বিস্তৃতিলাভ করেছে বগুড়া জেলার একটি ক্ষুদ্রাকার ও প্রত্যন্ত জনপদে। অঞ্চলটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিল, যার নাম কাৎলাহার; এবং কাৎলাহার ঘিরে গড়ে উঠেছে গিরিরডাঙা, নিজগিরির ডাঙা, গোলাবাড়ি হাট ইত্যাদি পল্লীসমূহ।

- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বস্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাপ্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ: 

- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রস্থটে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'খোঁয়ারি'। এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন - নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু।
- তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

• 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ:
- দোজখের ওম' আখতারুজ্জমান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'দোজখের ওম'।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প। এগুলো হচ্ছে- কীটনাশকের কীর্তি, যুগলবন্দি, অপঘাত ও দোজখের ওম নামক গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩১৩.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-
  1. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  2. যাপিত জীবন
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

----------------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন ।

• ‘যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ । চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি' (১৯৮৯): নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• ‘কাকতাড়ুয়া’ (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি ।

• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।

• ‘কাঠকয়লার ছবি' (২০০১): এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস।

১৩,৩১৪.
ইসমাঈল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অমিয়ধারা
  2. খ) কুসুমকানন
  3. গ) গীতাঞ্জলী
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- ইসমাঈল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'অনল প্রবাহ'।
ইসমাঈল হোসেন সিরাজী
- তিনি ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)। 
- সমসাময়িক পত্রিকা আল-এসলাম, ইসলাম প্রচারক,  প্রবাসী, প্রচারক, কোহিনূর, সোলতান, মোহাম্মদী,  সওগাত,  নবযুগ ও নবনূর প্রভৃতিতে সিরাজীর লেখা প্রকাশিত হতো।
তাঁর কাব্য গ্রন্থগুলি হলো- অনল প্রবাহ, আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছ্বাস , উদ্বোধন, নব উদ্দীপনা, স্পেন বিজয় কাব্য, সঙ্গীত সঞ্জীবনী, প্রেমাঞ্জলি ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-  রায়নন্দিনী , তারাবাঈ , ফিরোজা বেগম ও নূরুদ্দীন । 

অনল প্রবাহ কাব্যের পরিচয়-
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩১৫.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু" পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) মানচিত্র
  3. গ) স্মৃতিস্তম্ভ
  4. ঘ) স্মৃতিশৌধ
ব্যাখ্যা
 
আলোচ্য পঙক্তিটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩১৬.
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- 
  1. যাযাবর
  2. বনফুল
  3.  ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  4. চিত্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

 • বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল ক্বচিৎ প্রৌঢ়।   
 
অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।  
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম বনফুল।   
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম চিত্রগুপ্ত।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৩১৭.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. পূরবী
  2. উপদ্রুত উপকূল
  3. জয়ের পথে
  4. নতুন সকাল
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল।
- গ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো: অভিমানের খেয়া, আজীবন জন্মের ঘ্রানে, বাতাসে লাশের গন্ধ, অবরোধ চারিদিকে, প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি, জানালায় জেগে আছি, আমি সেই অভিমান, বিষবৃক্ষ ভালোবাসা, কৃষ্ণপক্ষে ফেরা ইত্যাদি।

-----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- পূরবী, জয়ের পথে ও নতুন সকাল সিকান্দার আবু জাফর উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩১৮.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচনা করেন। 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে। গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩১৯.
মীর মশাররফ হোসেনের কোন গ্রন্থের উপজীব্য হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ?
  1. গো-জীবন 
  2. ইসলামের জয়
  3. এর উপায় কী
  4. বসন্তকুমারী নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘গো জীবন’ গ্রন্থের উপজীব্য হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ। 

• ‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:

- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩২০.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কোন উপন্যাসের মূল উপজীব্য?
  1. অলাতচক্র
  2. নূরলদীনের সারাজীবন
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস — চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।
----------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

অন্যদিকে,
অন্যদিকে,
• 'অলাতচক্র' উপন্যাস: 
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।

• নূরলদীনের সারাজীবন:
• “নূরুলদীনের সারাজীবন” সৈয়দ শামসুল হক রচিত  কাব্যনাট্য থেকে।
- ১৭৮৩ সালে রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩২১.
বিমল মিত্রের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বীরবল
  2. যাযাবর
  3. দাদাভাই
  4. জাবালি
ব্যাখ্যা

• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি

অন্যদিকে,
• বীরবল- প্রমথ চৌধুরী।
• যাযাবর - বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।
• দাদাভাই- রোকনুজ্জামান খান।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৩২২.
'এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাই তুমি করে গেলে দান।' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো লিখেছিলেন?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
• দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।'
--------------------
• বিশেষ তথ্য: 
কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ১৯২৫ সালের ১৬ জুন মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে মারা যান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্দেশ্যে দুইটি পঙক্তি লিখে দেন, যা আর্ট কাগজে ছাপা প্রয়াত চিত্তরঞ্জন দাসের ছবির নিচে রবীন্দ্র-হস্তাক্ষর লিখিত কবিতা হিসেবে স্থান পায়- 'এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাই তুমি করে গেলে দান।'
-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
------------------- 
চিত্তরঞ্জন দাস:
- ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি সি.আর দাশ নামে সমধিক পরিচিত এবং সাধারণ্যে দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি সম্পাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।
- ১৯২৩ সালে তিনি স্বরাজ্য দলের মুখপত্র হিসেবে সাপ্তাহিকী দ্য ফরওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২৪ সালে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের মুখপত্র মিউনিসিপ্যাল গেজেটও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- মাত্র পঞ্চান্ন বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে দেশবন্ধুর  মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩২৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. পণ্ডিত মশাই
  2. জাগরণ
  3. পরিণীতা
  4. বিপ্রদাস
ব্যাখ্যা
• ‘জাগরণ’ উপন্যাস:
- ‘জাগরণ’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি অসমাপ্ত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি বসুমতী পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল। তবে লেখন মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি।
- মহাত্মাজীর অসহযোগিতা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত। আন্দোলনের পক্ষের শিক্ষিত অধ্যাপক অমরনাথ, বিপক্ষের জমিদারকন্যা আলেখ্য, সহজ সরল আলেখ্যর আত্মীয় ইন্দুকে নিয়ে চলে গল্প। বেশ ভালই আগাচ্ছিল, কিন্তু সমাপ্ত করেননি লেখক।

উল্লেখ্য,
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষের পরিচয়’ ও ‘আগামীকাল’ নামেও দুটি অসমাপ্ত উপন্যাস রয়েছে। 

অন্যদিকে,
- ‘পণ্ডিত মশাই’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।
- 'বিপ্রদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত (১৯৩৫) জনপ্রিয় এবং সুখপাঠ্য উপন্যাস। এটি শরৎচন্দ্রের জীবদ্দশায় প্রকাশিত সর্বশেষ উপন্যাসগ্রন্থ।
- ‘পরিণীতা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।

----------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- বিপ্রদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: ‘জাগরণ’ উপন্যাস শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩২৪.
'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩২৫.
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক কোনটি?
  1. দন্ডকারণ্য
  2. বশীকরণ
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
- মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'মানুষ' নাটক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩২৬.
'ধূমকেতু' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলাল রচিত উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩২৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) সোনালী কাবিন
  2. খ) উপমহাদেশ
  3. গ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
  4. ঘ) সৌরভের কাছে পরাজিত
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। 
তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- সোনালী কাবিন
- পাখির কাছে ফুলের কাছে
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী, 
- উপমহাদেশ
- আগুনের মেয়ে, 
- চেহারার চতুরঙ্গ, 
- কাবিলের বোন ইত্যাদি 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১৩,৩২৮.
'একালে আমাদের কাল' আত্মজীবনীর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'একালে আমাদের কাল' আত্মজীবনীটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩২৯.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. নির্জন স্বাক্ষর
  3. রূপসী বাংলা
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• 'নির্জন স্বাক্ষর' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা। কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থ ও জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গুচ্ছে সংকলিত করা হয়েছে। 

নির্জন স্বাক্ষর
 - জীবনানন্দ দাশ

তুমি তা জানো না কিছু-না জানিলে,
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে;
যখন ঝরিয়া যাবো হেমন্তের ঝড়ে’—
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার!

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৩০.
’জন ক্লার্ক মার্শম্যান’ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. বেঙ্গল গেজেট
  3. গভর্নমেন্ট গেজেট
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• জন ক্লাক মার্শম্যান:
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।
- ১৮১৮ সালে তিনি  শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর সমাচার দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
- ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা Friend of India (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,

অন্যদিকে,
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা ‘বাঙ্গাল গেজেট'।  
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর'। 
- জেমস্ অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত পত্রিকা ‘বেঙ্গল গেজেট'।  

উৎস:. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরএবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৩১.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক রচনা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৩২.
বাংলাদেশের রণসংগীতটি নজরুলের কোন গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) সন্ধ্যা
  3. গ) প্রলোয়োল্লাস
  4. ঘ) সাত-ইল-আরব
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা। মূল কবিতার ২১ চরণ রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- 'নতুনের গান' শিরােনামে ঢাকার ‘শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় ‘চল্ চল্ চল্'। যা নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

১৩,৩৩৩.
নিচের কোনটি ভ্রমন কাহিনী নয়?
  1. ক) বন্দর থেকে বন্দরে
  2. খ) পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. গ) চার ইয়ারি কথা
  4. ঘ) দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ
বন্দর থেকে বন্দরে (১৯৬৪)- সানাউল হক। (অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ নিয়ে রচিত রম্য ধরনের কাহিনী)
পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)- শহীদুল্লাহ কায়সার।
পালামৌ (১৮৮০-১৮৮২)- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী।
দেশে বিদেশে (১৯৪৯)- সৈয়দ মুজতবা আলী।

চার ইয়ারি কথা
- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৩৩৪.
"বিরহবিলাপ" গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

"বিরহবিলাপ" কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০)।
- তবে অনেক সমালোচকই কাব্যটির নাম 'বিরহ বিলাস' বলেছেন।
- কবি অবশ্য বলেছেন, আমি যখন তেরো বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার 'বিরহবিলাপ' নামক ক্ষুদ্র একখানা কাব্য প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য।

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৩৩৫.
কালি ও কলম কী?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) পত্রিকা
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• কালি ও কলম সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৩৬.
"মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে।"- উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. দত্তা
  2. শ্রীকান্ত
  3. গৃহদাহ 
  4. বৈকুন্ঠের উইল 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উক্তি: “মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে”— তার বিখ্যাত উপন্যাস শ্রীকান্ত (প্রথম পর্ব) থেকে নেওয়া।
---------------------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘সাহিত্য সম্রাট’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।
- তিনি মূলত পল্লী জীবন ও সমাজকে তাঁর উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।
----------------------------------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি মূলত শ্রীকান্তের ভবঘুরে জীবন, তার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র হল- শ্রীকান্ত।

- “মানুষের মরণ আমাকে বড় আঘাত করে না, করে মনুষ্যত্বের মরণ দেখিলে”-
- এই উক্তিটি লেখক শ্রীকান্তর মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।
- এখানে শ্রীকান্ত চরিত্রের মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের সাধারণ মৃত্যু তাকে ততটা ব্যথিত করে না যতটা ব্যথিত হয় মনুষ্যত্বের বা মানবিকতার অবক্ষয় দেখলে।
- শ্রীকান্ত চারপাশের মানুষের আচরণ ও সমাজের অবক্ষয়কে লক্ষ্য করে এই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
- এই উক্তি মানুষের শারীরিক মৃত্যুর চেয়ে নৈতিক ও মানবিক পতনের গুরুত্ব এবং লেখকের গভীর মানবিক মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তোলে।

উৎস:
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৩,৩৩৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অবিশ্বাস্য
  2. টুনি মেম
  3. দেশে বিদেশে
  4. ময়ূরকণ্ঠী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৩৮.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সত্য পীর
  2. মুসাফির
  3. প্রিয়দর্শী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৩৯.
লিপিকা যে ধরনের গ্রন্থ-
  1. ক) কাব্য
  2. খ) গদ্য
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
'লিপিকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ৷ এই বইতে তার লেখা ৩৮টি ছোটগল্পের সংগ্রহ রয়েছে৷
শেষ জীবনে রবীন্দ্রনাথ লিপিকা, সে ও তিনসঙ্গী গল্পগ্রন্থে নতুন আঙ্গিকে গল্পরচনা করেছিলেন।
১৩,৩৪০.
'মাটির পৃথিবী' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দিন
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩)  
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।
গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,

- মৃতের আত্মহত্যা।
দিনলিপি:
- রেখাচিত্র (১৯৬৬),
- দুর্দিনের দিনলিপি (১৯৭২) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৪১.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. কল্লোল
  3. হিতকরী
  4. সমকাল
ব্যাখ্যা
‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেননি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'পূর্বাশা' সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। পত্রিকাটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
• 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৪২.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. চন্দ্রভানের কন্যা
  3. তিমির বলয়
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
সংশপ্তক:
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারতের।
- এর অর্থে বোঝায়, যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে। পালিয়ে আসে না।
- শহীদুল্লা কায়সার এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি  বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর উপন্যাস 'সংশপ্তকে' (১৯৬৫) ধারণ করেছেন। 'সংশপ্তক'কে তাই মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের অন্যতম বর্ণিত বিষয়।
- এখানে ঢাকা ও কলকাতার নাগরিক পরিবেশের সঙ্গে বাকুলিয়া ও তালতলি গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশের প্রতীকে সমগ্র বাংলাদেশের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবেই উপন্যাসে এসেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।
- এ উপন্যাসে বাংলার জনগণ সংশপ্তকের মতো সর্বদা সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও মনুষ্যত্ব রক্ষায় সংগ্রামশীল।

শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার 'সারেং বৌ' উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৪৩.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন?
  1. নারীশক্তি 
  2. বেগম
  3. মুক্তি 
  4. কাড়নটি 
ব্যাখ্যা

• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৪৪.
জসীম উদ্‌দীনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. চলে মুসাফির
  2. মা যে জননী কান্দে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. জীবনকথা
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন :
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসিমউদ্দিনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ। 
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে ,
- মাটির কান্না,
- সকিনা ,

• তাঁর রচিত নাটক :
- বেদের মেয়ে 
- পদ্মাপাড়,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী :
- চলে মুসাফির ,
- হলদে পীরের দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড় ,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে ,

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- বোবাকাহিনী। 

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ :
-  হাসু ,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• আত্মজীবনী : জীবনকথা (১৯৬৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৪৫.
কলকাতার নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত 'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কলিকাতা কমলালয়': 
- গ্রন্থটির রচয়িতা — ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।  
- এটি ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রন্থ।
- কলিকাতা কমলালয় প্রকাশিত হয় ১৮২৩ সালে।
- এ গ্রন্থে তিনি কলকাতার জীবনযাত্রার পরিচয় তুলে ধরেন বিশেষ করে নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা। 

-----------------------
• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- লেখক, সাংবাদিক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ১৮২৫ সালে প্রকাশিত নববাবুবিলাস এবং ১৮৩১ সালে নববিবিবিলাস অন্যতম।
- নববাবুবিলাস গ্রন্থে তিনি নব্যধনীদের অসংযমী জীবনযাত্রাকে বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে- 
- দূতীবিলাস,
- শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ,
- আশ্চর্য্য উপাখ্যান (১৮৩৫) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৪৬.
সবচেয়ে কম বয়সে কোন লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) সেলিনা হােসেন
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লেখিত লেখক-সাহিত্যিকদের মধ্যে -
• শওকত আলীঃ
জন্ম - ১৯৩৬ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৬৮ সালে (৩২ বছর বয়সে)

• সেলিনা হােসেন
জন্ম - ১৯৪৭ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৮০ সালে (৩৩ বছর বয়সে)

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
জন্ম - ১৯৪৩ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৮২ সালে (৩৯ বছর বয়সে)

• সৈয়দ শামসুল হক
জন্ম - ১৯৩৫ সালে
বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ - ১৯৬৬ সালে (৩১ বছর বয়সে)

সুতরাং, সৈয়দ শামসুল হক সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট।

১৩,৩৪৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে কোন অঞ্চলের জীবনচিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৪৮.
কবিতার জন্য ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি লাভ করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

• কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কারগুলো হলো:
- ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০),
- ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার।
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং
- ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৪৯.
‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ - দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. দেশাত্মবোধক গান
  4. অভিভাষণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৫০.
'মেঘের পর মেঘ' মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. জাহানারা ইমাম
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. রামেন্দ্রসুন্দর
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেঘের পর মেঘ’।
• এই উপন্যাস অবলম্বনে একই নামে ২০০৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
• ২০১১ সালে তাঁর আরেক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মধুমতি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী।
• ২০০৩ সালে তাঁর লেখা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ অবলম্বনে এই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন অভিনেত্রী মৌসুমী।
• তাঁর লেখা বিভিন্ন উপন্যাসের মধ্যে আছেঃ
- ‘মধুমতি’,
- ‘সাহেব বাজার’,
- ‘অনন্ত অন্বেষা’,
- ‘রাজারবাগ শালিমারবাগ’,
- ‘মন এক শ্বেত কপোতী’,
- ‘ফেরারী সূর্য’,
- ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’,
- ‘পাখি সব করে রব’,
- ‘হোটেল গ্রীন বাটন’,
- ‘বাগানের নাম মালনিছড়া’,
- ‘প্রিয় গুলশানা’,
- ‘ছায়া রমণী’, ‘
- ‘হৃদয়ের কাছের বিষয়’, ‘
- ‘রঙিন কাচের জানালা’ ইত্যাদি।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো।

১৩,৩৫১.
‘ছোটদের পাকিস্তান’ শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• ‘ছোটদের পাকিস্তান’ আহসান হাবীব রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৫২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চিতা
  2. সঞ্চয়িতা
  3. সুচয়নী
  4. সঞ্চয়ন
ব্যাখ্যা
• সঞ্চয়িতা:
- ‘সঞ্চয়িতা’ (১৯৩১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নিজ কবিতার সংকলন।
- ‘সঞ্চয়িতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সংকলিত গ্রন্থ।
- কবিতাগুলি কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত। ‘সান্ধ্যসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতাগুলি এতে সংকলিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন - ‘সঞ্চিতা'।
• 'সুচয়নী' জসীম উদদীনের কাব্য সংকলন।
• কাজী মোতাহার হোসেন রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন ‘সঞ্চয়ন’।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৫৩.
হুমায়ূন আহমেদের 'সৌরভ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন 
  2. সামাজিক সমস্যা
  3. ত্রিভূজ প্রেমের গল্প 
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• 'সৌরভ' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস 'সৌরভ'।
- উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শফিক উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্রসমূহ হলো-
- শফিক,
- রফিক,
- কাদের,
- নেজাম,
- আজিজ সাহেব,
- শীলা,
- লুনা। 

----------------------
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ হলো-
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচির একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১।

উৎস: সৌরভ' উপন্যাস হুমায়ূন আহমেদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৩৫৪.
'রক্তকরবী' নাটকের অন্যতম চরিত্র কোনটি?
  1. অভয়া
  2. নন্দিনী
  3. সুদর্শনা
  4. অর্জুন
ব্যাখ্যা
• রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
• প্রধান চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,  
- রাজা,  
- ডাকঘর,  
- অচলায়তন, 
- ফাল্গুনী, 
- গুরু,  
- অরূপরতন,  
- মুক্তধারা,  
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা, 
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৫৫.
'দুখিরাম ও চন্দরা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'দুখিরাম ও চন্দরা' দুটি চরিত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের — শাস্তি ছোটগল্পের অন্তর্গত।  

• 'শাস্তি' ছোটগল্প কাহিনি সংক্ষেপ:
‘শাস্তি’ গল্পের চন্দরা একটি বিপ্লবী চরিত্র। এ গল্পে রাগের বশে বড় ভাই তার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এবং সেই দায় চাপিয়ে দেয়া হয় ছোট ভাইয়ের বউয়ের উপরে। কিন্তু স্বামীর এ কথা শোনার পরে স্ত্রী চন্দরা স্তব্ধ হয়ে যায়। যদিও দেখানো হয় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকেই মেনে নিতে হয় চন্দরাকে। সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর, তবে তীব্র ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী চরিত্র এই চন্দরা।

• গল্পে চন্দরার স্বামীর একটা সংলাপ ছিল- “ঠাকুর, বউ গেলে বউ পাইব কিন্তু আমার ভাই ফাঁসি গেলে আর তো ভাই পাইব না।”

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- দুখিরাম, 
- চন্দরা,
- ছিরাম।

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার,
- ল্যাবরেটরি
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'শাস্তি' ছোটগল্প।
১৩,৩৫৬.
কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহসান হাবীব
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) কবি ও সাংবাদিক। ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৫৭.
কোনটি আল মাহমুদের রচিত উপন্যাস?
  1. সোনালী কাবিন
  2. উপমহাদেশ
  3. লোক লোকান্তর
  4. কালের কলস
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশ হচ্ছে আল মাহমুদের রচিত একটি উপন্যাস। 

আল মাহমুদ
- জন্ম: ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সোনালী কাবিন।
- ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৮৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস: উপমহাদেশ।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- প্রেমের কবিতা,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন। 

উপন্যাস:
- উপমহাদেশ,
- ডাহুক,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,৩৫৮.
"দুই সৈনিক" মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শওকত ওসমান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
"দুই সৈনিক" উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

"দুই সৈনিক" উপন্যাসের কাহিনি সম্পর্কে কিছু কথা:
গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক। বেতারের সংবাদই তখন জীবন সঞ্জীবনী। কলকাতা বেতার শুনছে সাহেলী ও চামেলী। বাবা মখদুম মৃধা; তিনি মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলেন, উনসত্তরে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাজাও পেয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তিনি দ্বিধায় আছেন। একটি গ্রামীণ প্রতিবেশে উপন্যাসের কাঠামো নির্মাণ, ইতিহাসের সভ্যতা তার পরিপূরক হয়ে আসে। প্রথম দুপর্বে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক কথোপকথনে জানা যায় একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে দেশের স্বাধীনতা, শেখ মুজিব কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন, নির্বাচনে জিতেছেন। মখদুম মৃধার দুই মেয়ে সারাক্ষণ ট্রানজিস্টার নিয়ে দেব দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠ শুনছেন। রণেশদাশ গুপ্তের মতে, দুই সৈনিক হচ্ছে হানাদার বাহিনীর দুই মদমত্ত অফিসার। ৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী সারাদেশে যে হামলা চালায় তার দুই মূর্তিমন্ত প্রতীক। তাদের পাশবিক ক্রিয়াকলাপ উপন্যাসটির ঘটনা তরঙ্গ সৃষ্টি করে। এই জন্যই সম্ভবত উপন্যাসের নাম দুই সৈনিক। কাহিনি বর্ণনা করতে গিয়ে সচেতন লেখক শওকত ওসমান সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক পরিবেশ বিশেষ করে সাম্প্রদায়িকতা এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা বলতে ভোলেননি।

উৎস: "দুই সৈনিক" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৫৯.
দীনবন্ধু মিত্রের কোন প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত?
  1. সধবার একাদশী
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. জামাই বারিক
  4. নবীন তপস্বিনী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী'। প্রহসনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৬০.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. গ) বহিপীর (নাটক)
  4. ঘ) মহাশ্মশান (নাটক)
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ দুটি গল্পগ্রন্থ-  নয়নচারা (১৯৫১), দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটক:
- বহিপীর (১৯৬০),
- তরঙ্গভঙ্গ (১৯৬৪) ও
- সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)

সোজন বাদিয়ার ঘাট ও মহাশ্মশান কাব্যগ্রন্থ এবং কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৩,৩৬১.
'কৃষ্ণকুমারী' হচ্ছে-
  1. ক) বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্য
  2. খ) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক গল্প
  3. গ) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'।
- এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।

- এই নাটকের উল্লেখযােগ্য চরিত্রঃ
- কৃষ্ণকুমারী,
- মনিকা,
- ভীম-সিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৬২.
'প্রতিদান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে? 
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. ধানখেত
  3. বালুচর
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা
• ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের — ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলােকপাত করেছেন।

কবিতাটির অংশবিশেষ:

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
------------------ 
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩,৩৬৩.
'ময়নামতির চর' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বিহারীলাল
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য- ময়নামতির চর, অনুরাগ, পদ্মা নদীর চর, মধুমতির চর, ধরিত্রী ইত্যাদি। বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, শেষ লগ্ন, অরণ্য গোধূলি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৩৬৪.
বাংলাদেশের বিজয়ের পূর্বেই রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) নিষিদ্ধ লোবান
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) আগুনের পরশমনি
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার। 
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা প্রথম কয়েকটি উপন্যাসের মধ্যে এটি অন্যতম।  
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৬৫.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড কোনটি?
  1. নীল অপরাজিতা
  2. অপরাজিতা
  3. অপরাজিত
  4. দৃষ্টি প্রদীপ
ব্যাখ্যা
⇒ 'অপরাজিত' উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
- ‘অপরাজিত’ (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালী উপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়। পুস্তকাকারে উপন্যাসটি দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল 'অলোক সারথী'। 

অন্যদিকে,
• ‘নীল অপরাজিতা' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
• ‘অপরাজিতা’ নামক কাব্যের রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী।

=============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২১) প্রবাসী পত্রিকায় প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অপরাজিত' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৬৬.
জসীম উদ্‌দীন সম্পাদিত লোকসঙ্গীত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. লালন গান
  3. জারীগান
  4. ভাটিয়ালি গান
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন 'জারীগান' (১৯৬৮) ও 'মুর্শীদা গান' (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

• জসীম উদ্‌দীনের সম্পাদনায় এবং বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় জারীগান বইটি ১৯৬৭ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়। বইটির মুদ্রণ অবিকৃত রাখার উদ্দেশ্যে প্রথম মুদ্রিত বইটি 'ফিল্ম' করে দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশ করা হয়েছে।

• জারী গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারী গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীম উদ্‌দীন জারী গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লিখেন-
জারীগান, বিষাদের গান। এই গান স্বাধীনতাপূর্ব বঙ্গদেশের মুসলিম সংস্কৃতির একটি সাফল্যজনক নিদর্শন। মুসলমানেরাই এদেশে জারীগানের প্রথম প্রবর্তন করেন। এই গানের বিষয়বস্তু মুসলমানী পৌরাণিক ঘটনাবলী হইলেও মুহব্রমের করুণ কাহিনি ইহাতে প্রধান অংশ গ্রহণ করিয়াছে। কোন কোন জারীগানের দলে চণ্ডীদাস-রজকিনী, নিমাই-সন্ন্যাস প্রভৃতি কাহিনিও জারীর সুরে গাওয়া হয়। ইহা হয়ত আসরের হিন্দু-শ্রোতাদের মনোরঞ্জনের জন্য।
এখানে একটি কথা বলিয়া রাখি। স্বাধীনতাপূর্ব বালা দেশে হিন্দু-মুসলমানের সংখ্যা প্রায় সমান সমান ছিল। যে কোন গানের আসরে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের শ্রোতাই থাকিত। সেই জন্য এ দেশের ধর্মকাহিনিকে কতকটা সার্বজনীন করিয়া লইতে না পারিলে শ্রোতাদের মন পাওয়া যাইত না। তাই এদেশের উভয় সম্প্রদায়ের পৌরাণিক কাহিনিগুলি অনেকটা মানবীয় ধর্মে অনুরঞ্জিত হইয়া উঠিয়াছে। এ কথা আমরা অন্যত্র বিশদভাবে আলোচনা করিব।
পূর্বেই বলিয়াছি, জারীগানে নানারকম কাহিনি বর্ণিত হইলেও মুহরমের করুণ গাথা এই গানের প্রধান বিষয়বস্তু। প্রথমে মুহরমের কাহিনি লইয়াই জারীগানের আরম্ভ হইয়াছে। পরবর্তীকালে অন্যান্য শ্রোতার চাহিদা অনুসারে অন্যান্য কাহিনি এই গানে প্রবেশ করিয়াছে। সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক মিঃ খোদা-বশের একটি প্রবন্ধ হইতে মুহৱম কাহিনির ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর উল্লেখ করি।

উল্লেখ্য, 
• জসীম উদ্‌দীনের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে গবেষণার ফসল মুর্শীদা গান বইটি। যা বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ১৯৬৬ সালে প্রকাশনার জন্য হাতে নিয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের বিলুপ্তির পর বাংলা একাডেমি প্রচণ্ড অবহেলার সাথে কবির মৃত্যুর পর "মুর্শীদা গান" বইটি প্রকাশ করে।

উৎস: 'জারীগান' গ্রন্থের ভূমিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৬৭.
'ক্বচিৎ প্রৌঢ়' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- টিমোথি পেনপয়েম, এ নেটিভ  
• মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম-গৌড়তটবাসী মশা; উদাসীন পথিক; গাজী মিয়াঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৬৮.
"আমি কিংবদন্তির কথা বলছি" - কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. সিকান্দার আবু জাফর 
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল ফজল 
ব্যাখ্যা

'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে: ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৬৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যাইয়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আরণ্যক
  2. খ) অপরাজিত
  3. গ) অশনি সংকেত
  4. ঘ) পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যাইয়ের প্রথম উপন্যাস-পথের পাঁচালী। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টম্বর পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তিনি চিত্রলেখা (১৯৩০) নামে একটি সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- ইছামতী
- দৃষ্টি প্রদীপ 
- বিপিনের সংসার 
- চাঁদের পাহাড় 
- দম্পতি ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার 
- মৌরীফুল 
- যাত্রাবদল 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৩,৩৭০.
সেলিম আল দীনের নাটকে অনুসৃত শিল্পতত্ত্ব -
  1. অস্তিত্ববাদ
  2. অভিব্যক্তিবাদ
  3. পরাবাস্তববাদ
  4. দ্বৈতাদ্বৈতবাদ
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীনের নাটকে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পতত্ত্ব / সাহিত্যরীতি অনুসৃত হয়েছে।

-------------------
• সেলিম আল দীন
- সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- ১৯৯৫ সালে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ‘মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

- ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করার পর ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবি, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।

- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। মূলত ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

- জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন রচনায় লিখেছেন-শিল্পাদর্শে তিনি ছিলেন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী।
পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বৎসরের নন্দতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার পূর্বক তিনি বাংলা সাহিত্যে এক নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেছেন, যার নাম দেন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’।

- তিনি শুধু নাটক রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা পূর্বক বাঙলা নাটকের সহস্র বৎসরের ইতিহাস এবং তার একটি সুস্পষ্ট আঙ্গিক নির্মাণেও সমর্থ হন, রচনা করেন মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য (১৯৯৬)।

- বাঙলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ বাঙলা নাট্যকোষ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদন করে বাঙলা নাট্যের কোষগ্রন্থের অভাব পূরণ করতেও সক্ষম হয়েছেন তিনি।

- নাট্য বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা থিয়েটার স্টাডিজ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছা্ড়া, নাট্যশিক্ষার্থীদের জন্য তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ (১৯৮২)।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
• কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি,

• উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত সব সৃজনকর্ম নিয়ে ৫ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে সেলিম আল দীন রচনাসমগ্র [১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ (২০০৫-২০০৯)]।

উৎস: বাংলাপডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,৩৭১.
‘চিলেকোঠার সেপাই’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হায়াৎ মাহমুদ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মাজহারুল ইসলাম
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- কথাসাহিত্যিক। 

♠ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
উপন্যাস:
চিলেকোঠার সেপাই; 
• খোয়াবনামা।

ছোটগল্প:
• অন্য ঘরে অন্য স্বর;
• খোঁয়ারি;
• দুধভাতে উৎপাত;
• জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল;
• দোজখের ওম। 

- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলেকোঠার সেপাই’। কেন্দ্রীয় চরিত্র: ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৭২.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের রচনা কোনটি?
  1. বাঙালি মুসলমানের মন
  2. যে তুমি হরণ করাে
  3. অবরোধবাসিনী
  4. স্বদেশ চিন্তা
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বেগম রোকেয়ার জীবনকাল ছিল মাত্র বায়ান্ন বছর। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

বেগম রোকেয়া রচিত  গ্রন্থ -
- মতিচুর,
- অবরোধবাসিনী,
- Sultana's Dream ইত্যাদি।

উপন্যাস:
-পদ্মরাগ

উল্লেখ্য 
'বাঙালি মুসলমানের মন' প্রবন্ধটির রচিয়তা আহমদ ছফা
'যে তুমি হরণ করাে' গ্রন্থটির রচিয়তা আবুল হাসান
'স্বদেশ চিন্তা' গ্রন্থটির রচিয়তা আহমদ শরীফ

[উৎস: ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া ]
১৩,৩৭৩.
'উৎস থেকে নিরন্তর' কী জাতীয় সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) গল্প
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৭৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম কি?
  1. ক) স্মরনে মধুসূদন
  2. খ) মধুসূদনজীবনী
  3. গ) মধুসূদনচরিত
  4. ঘ) শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - শ্রীমধুসূদন।
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।
- উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ-
বনফুলের গল্প (১৯৩৬),
বিন্দুবিসর্গ (১৯৪৪),
অদৃশ্যলোকে (১৯৪৬),
তন্বী (১৯৪৯),
অনুগামিনী (১৯৫৮),
দূরবীণ (১৯৬১),
মণিহারী (১৯৬৩),
বহুবর্ণ (১৯৭৬),
বনফুলের নতুন গল্প (১৯৭৬) প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৭৫.
'ভগ্ন শিবমন্দির' কোন প্রহসনের প্রথম নাম ছিল?
  1. ক) একেই কি বলে সভ্যতা
  2. খ) সধবার একাদশী
  3. গ) বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. ঘ) চিরকুমার সভা
ব্যাখ্যা
'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ' (১৮৬০) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি প্রহসনমূলক রচনা।
- প্রথমে এ প্রসনের নাম ছিলো 'ভগ্ন শিবমন্দির'
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূল কাহিনি।
- এ প্রহসনের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- ভক্তপ্রসাদ, পঞ্চানন, বাচস্পতি, পুঁটি, ফাতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অপর একটি প্রহসন 'একেই কি বলে সভ্যতা' (১৮৬০) ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৭৬.
'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আনোয়ার হোসেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) তোফাজ্জল হোসেন
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব একজন খ্যাতিমান কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯৬৪ সালে দৈনিক পাকিস্তান (পরের দৈনিক বাংলায় রূপান্তরিত হয়) পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘ ২১ বছর অর্থাৎ আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,৩৭৭.
কোন পত্রিকা কাজী  নজরুল ইসলামের কবিপ্রতিভা বিকাশে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে?
  1. সওগাত 
  2. পূর্বাশা
  3. মোসলেম ভারত
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

• ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
• কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
• প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
• রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
• ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
• নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৭৮.
'যৈবতী কন্যার মন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' (১৯৯২) সেলিম আল দীন রচিত নাটক।
- সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।

তাঁর অন্যান্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক (১৯৭৩),
- বাসন (১৯৮২),
- কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮),
- কীর্তন খোলা (১৯৮৩),
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি (১৯৮৫),
- চাকা (১৯৯০),
- বনপাংশুল (১৯৯১),
- হরগজ (১৯৯২),
- একটি মারমা রূপকথা (১৯৯৫),
- হাতহদাই (১৯৯৭) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৭৯.
‘আঁখিজল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. মোজাম্মেল হক
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালে ঢাকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ে ভূগোলের অধ্যাপক, ১৯১৪ সালে ঢাকা বিভাগের মুসলিম শিক্ষার সহকারী স্কুল-পরিদর্শক এবং ১৯১৭ সালে কলকাতা ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- ১৯২১ সালে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রথম কর্মাধ্যক্ষ হয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল ছিলেন।
- অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আবদুল্লাহ।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধমালা।

• তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৮০.
‘বঙ্গনারী’ নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
ব্যাখ্যা
‘বঙ্গনারী’ নাটকটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। এটি একটি সামাজিক নাটক।
তার রচিত আরেকটি সামাজিক নাটক হলো ‘পরপারে’।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১৩,৩৮১.
'মাকড়সা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দিন
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন বাঙালি কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তিনি ভারত বিভাগোত্তর কালে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সমকাল সম্পাদনার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। তাঁর রচনাবলি কাব্যগ্রন্থ- প্রসন্ন প্রহর, বৈরী বৃষ্টিতে, তিমিরান্তিক, বৃশ্চিক লগ্ন, বাংলা ছাড়। তাঁর রচিত নাটক - সিরাজউদ্দৌলা, মহাকবি আলাওল, শকুন্ত উপাখ্যান, মাকড়সা। তাঁর রচিত উপন্যাস- মাটি আর অশ্রু, পূরবী, নতুন সকাল এবং কিশোর উপন্যাস- জয়ের পথে, নবী কাহিনী।
১৩,৩৮২.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কার লেখা?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) দিলারা হাসেম
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) পেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা
- সম্ভবা অনন্য
- সূর্য অন্যতর
- বিচূর্ণ আর্শিতে
- পদ্মিনী শঙ্খিনী
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৩৮৩.
কবিতাকেন্দ্রিক পাঠ ও গবেষণার জন্য 'কবিতাকুঞ্জ' নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• কবিতাকেন্দ্রিক পাঠ ও গবেষণার জন্য 'কবিতাকুঞ্জ' নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন - নির্মলেন্দু গুণ। 
------------------- 
নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 
 
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
 
তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,৩৮৪.
ঐতিহাসিক নাটক রচনায় কোন সাহিত্যিক খ্যাতি লাভ করেছেন?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) দীনবন্ধু মিত্র
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, (১৮৬৩-১৯১৩) ছিলেন একজন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। 
- এর মধ্যে প্রহসন, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক কবিতাও রয়েছে।
- জীবনের শেষ দশ বছর তিনি প্রধানত নাটক রচনা করেন। পৌরাণিক, সামাজিক, ঐতিহাসিক সব ধরনের নাটক রচনায়ই তিনি অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। স্বদেশী আন্দোলনের ফলে তাঁর মধ্যে যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়েছিল, ঐতিহাসিক নাটকগুলিতে তার প্রতিফলন ঘটেছে।
- তিনি ষোলোটি নাটক রচনা করেন। 

• তাঁর ঐতিহাসিক নাটক
- তারাবাই (১৯০৩),
- রানা প্রতাপসিংহ (১৯০৫), 
- মেবার-পতন (১৯০৮),
- নূরজাহান (১৯০৮),
- সাজাহান (১৯০৯),
- চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১);

- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন।
- তাঁর অধিকাংশ নাটক  কলকাতা ও তার বাইরে সফলভাবে মঞ্চস্থ হয়।
- সাহিত্যকর্ম হিসেবে তাঁর অনেক নাটক উচ্চশিক্ষার পাঠ্যতালিকাভুক্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৮৫.
‘বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব‘ কার লেখা?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আহম্মদ ছফা
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ, (১৯২১-১৯৯৯)  শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
• ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য। 
• অধ্যাপক শরীফের চাচা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ছয়শ পুথি দান করেন। 

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম: 

- বিচিত চিন্তা 
- স্বদেশ অন্বেষা 
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে 
- যুগ যন্ত্রণা 
- মানবতা ও গণমুক্তি 
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব (১৯৯২),
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা 
- স্বদেশ চিন্তা 
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা 
- বিশ শতকে বাঙালী 
- বিশ্বাসবাদ, বিজ্ঞানবাদ, যুক্তিবাদ, মৌলবাদ ইত্যাদি।

• সম্পাদনা
একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৮৬.
"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর _______ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে -
শূ্ন্যস্থানে নিচের কোনটি হবে?
  1. প্রাণ
  2. চোখ
  3. মন
  4. হৃদ
ব্যাখ্যা
• 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
-------------------------------- 
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন-চাঁপা'। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। 
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম- প্রধান কবিতার বই।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক।
-------------------- 
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ -

"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৮৭.
"রাধাকান্ত এবং নয়নতারা" - কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. সধবার একাদশী
  2. এর উপায় কী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়োঁ
  4. মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কী' প্রহসন:
- 'এর উপায় কী' প্রহসনটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৮৯২ সালে।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহস্নে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
'সধবার একাদশী' গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নসিরাম, রতা, রাজীব, রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৮৮.
'দিবারাত্রির কাব্য' গ্রন্থের রচয়িতা ⎯
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম ⎯ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৮৯.
Timothy Penpoem ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) The Captive Ladie
  2. খ) Visions of the Past
  3. গ) ব্রজাঙ্গনা
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়। 

মহাকবি, নাট্যকার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯)
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০)
- কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১)
- মায়া-কানন (১৮৭৪)

তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৯০.
কোন বাঙালি কবি প্রথম গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।

-  ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।


- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন। বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন। গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ।

- বিবিসির বাংলা বিভাগ পরিচালিত জরিপে (২০০৪) সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় রবীন্দ্রনাথের স্থান ছিল দ্বিতীয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরি বাঙালি হিসেবে প্রথম গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন। এর জন্য তিনি পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমেরিকার আরবানায় ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান কৃষি ও পশুপালন বিদ্যায় প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো:
• কবিতা: মানসী, সোনারতরী, চিত্রা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, শেষলেখা।

• উপন্যাস: চোখের বালি, গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা।

• নাটক: বিসর্জন, রাজা, অচলায়তন, ডাকঘর, রক্তকরবী।

• প্রবন্ধ: আধুনিক সাহিত্য, মানুষের ধর্ম, কালান্তর, সাহিত্যের স্বরূপ।

• আত্মজীবনী: জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,৩৯১.
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ গ্রন্থটি কোন শ্রেণির?
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব':
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
-  ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি- ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,৩৯২.
বাংলা গদ্যে প্রথম বিরতিচিহ্ন ব্যবহারের কৃতিত্ব কার?
  1. অক্ষয় কুমার
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. চন্ডীচরণ মুনশী
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- তিনিই প্রথম বাংলা গদ্যে বিরাম-চিহ্নের সুষ্ঠু ব্যবহার করেন। ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' গ্রন্থে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম যতিচিহ্নের / বিরামচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান। এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।

- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি 'উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ' ও 'অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত' সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩,৩৯৩.
'পুতুল নাচের ইতিকথা' কে লিখেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৯৪.
‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধাটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
⇒ জীবন ও বৃক্ষ:
- ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘সংস্কৃতি - কথা’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে তিনি জীবনের সার্থকতা বৃক্ষের মাঝে খুজেছেন।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৯৫.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প?
  1. ক) সানন্দা
  2. খ) রেখাচিত্র
  3. গ) লালমেঘ
  4. ঘ) সাড়া
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,(১৯৩০)
- রেখাচিত্র,(১৯৩১)
- হাওয়া বদল (১৯৪৩) ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।
                                                                                                                                                                                                 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কোন গ্রন্থটি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল?
  1. যুগবাণী
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. প্রলয় শিখা
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।

• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়। এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

• যুগবাণী:
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘যুগবাণী’কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।
- ‘ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।
- ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন ‘যুগবাণী’।

• ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো হচ্ছে-
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,৩৯৭.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. উজানে মৃত্যু
  3. জমীদার দর্পণ
  4. বহিপীর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তারাচরণ শিকদার রচিত নাটক- ভদ্রার্জুন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক- ‘উজানে মৃত্যু’. ‘বহিপীর’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,৩৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক হচ্ছে-
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. জামাই বারিক
  3. বিবাহ-বিভ্রাট
  4. হিতে বিপরীত
ব্যাখ্যা
• 'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- 'বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।
- সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে।
- নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়-বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

অন্যদিকে,
• ‘জামাই বারিক’ দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
• ‘বিবাহ-বিভ্রাট’ নওরীন জাহান রচিত গ্রন্থ।
• সুকুমার রায়ের কবিতা ‘হিতে বিপরীত’।

----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কিছু নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩৯৯.
'শতকরা আশি' নাটকটির রচয়িতা কে?  
  1. হুমায়ুন আহমেদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. নুরুল মোমেন
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'শতকরা আশি' নাটকটির রচয়িতা- 'নুরুল মোমেন'

• নুরুলমোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো, 
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া, 
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,৪০০.
'কাশবনের কন্যা' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. আবুল ফজল
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• কাশবনের কন্যা:
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

-------------------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।