বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩৩ / ১৭৪ · ১৩,২০১১৩,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,২০১.
‘অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২৯
  2. খ) ১৯২৮
  3. গ) ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯৩১
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯২৬),
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,২০২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেটগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ
  2. চতুর্দশপদী কবিতাবলি
  3. বীরাঙ্গনা
  4. ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৩.
‘ধূসরতার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. কামিনী রায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- জীবনানন্দ দাশকে 'ধূসরতার কবি' বলা হয়।
- ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৪.
‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) রম্য রচনা
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ি:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
• উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৫.
‘সরলা’ সরদার জয়েনউদ্‌দীনের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. অনেক সূর্যের আশা
  2. আদিগন্ত
  3. বেগম শেফালী  মির্জা
  4. রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
• আদিগন্ত:
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণনার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত ‘আদিগন্ত’ উপন্যাসে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। 
- গ্রামের পির খোরশেদ আলি, বৈষ্ণব কন্যা সরলার সঙ্গে মুসলমান মেহেরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। 
- সরলার দেহ ভোগ করার জন্য কৌশলে কুণ্ডুল বোরেগির সঙ্গে সরলার বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। 
- এই উপন্যাসে গ্রামে বসবাসরত হিন্দুদের দুরবস্থা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার দিকটি ফুটে উঠেছে। 
- অন্যদিকে পির খোরশেদ আলির মতো কামপীড়িত দুর্জনদের স্বরূপ উদ্‌ঘাটিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সরলা, মেহের বয়াতি, খোরশেদ আলি, কুণ্ডুল বোরেগি।

• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস
- সরদার জয়েনউদ্দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী। 
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। 
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। 
- ১৯৮৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী  মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৬.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. রহিমুদ্দিন
  2. আজহার
  3. বছির
  4. রূপাই
ব্যাখ্যা
• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্য:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীম উদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

অন্যদিকে, 
• জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৭.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) ঝলাপালক
  2. খ) বেলা অবেলা কালবেলা
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• কবিতার কথা জীবনানন্দ দাশের প্রবন্ধগ্রন্থ। 

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• এছাড়াও,
- ঝলাপালক, বেলা অবেলা কালবেলা, বনলতা সেন হলো জীননানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. মৃত্তিকা 
  2. প্রতিধ্বনি
  3. প্রতিশোধ
  4. কুয়াশা
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৩,২০৯.
'বাংলাদেশ' - কবিতার রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী।
- এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কবিতাটি রচিত অক্ষরবৃত্ত ছন্দে।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
• খসড়া,
• এক মুঠো,
• মাটির দেয়াল,
• অভিজ্ঞান বসন্ত,
• অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২১০.
'ভিখু ও পাচি' চরিত্র দুটি পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) পুতুলনাচের ইতিকথা
  2. খ) দিবারাত্রির কাব্য
  3. গ) সোনার চেয়ে দামি
  4. ঘ) প্রাগৈতিহাসিক
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ প্রাগৈতিহাসিক।
• এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬),
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,২১১.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য _______ বয়সে মারা যান।
  1. ক) ১৮ বছর
  2. খ) ১৯ বছর ৬ মাস
  3. গ) ২০ বছর ৯ মাস
  4. ঘ) ২১ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর ২০ বছর ৯ মাস। অপশনে ২০ বছর ৯ মাস না থাকলে সঠিক উত্তর হতো ২১ বছর।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালিঘাটে মাতুতালয়ে জন্মগ্রহণ করেন৷ তবে তার পৈতিৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলায়। তিনি মাত্র ২১ বছর (২০ বছর ৯ মাস) বয়সে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মারা যান। তার রচিত গ্রন্থসমূহ হলো হরতাল, ছাড়পত্র, অভিযান, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া ইত্যাদি।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,২১২.
'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা -
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
- 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা - 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা'

• বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্য:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২১৩.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সাহিত্য পত্রিকা
  2. মোহাম্মদী
  3. হিতকরী
  4. কোহিনূর
ব্যাখ্যা

 মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
কোহিনূর - মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৩,২১৪.
সেলিনা হোসেন রচিত গল্প হচ্ছে-
  1. ক) মানুষটি
  2. খ) সীমানা
  3. গ) আসন্ন
  4. ঘ) জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। তার রচিত একটি গল্পের নাম “মানুষটি”। অন্যদিকে “মানুষ” নামে মুনীর চৌধুরীর একটি নাটক আছে। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১৩,২১৫.
'জীবনপথে' সনেট সংগ্রহটি কোন কবির রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

'জীবনপথে' কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

-----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,২১৬.
‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাতি লাভ হয়েছেন-
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দ দাশ:
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দ দাশের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়। বিশেষত, রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থে যেভাবে আবহমান বাংলার চিত্ররূপ ও অনুসূক্ষ্ম সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত হয়েছেন।

তবে প্রকৃতির পাশাপাশি জীবনানন্দের শিল্পজগতে মূর্ত হয়েছে বিপন্ন মানবতার ছবি এবং আধুনিক নগরজীবনের অবক্ষয়, হতাশা, নিঃসঙ্গতা ও সংশয়বোধ।

------------------
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে-
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৩,২১৭.
'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. দেবদাস
  3. গৃহদাহ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ-বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।

------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র:
- ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের চরিত্র: মাধবী (বড়দিদি), প্রমীলা, ব্রজরাজ, সুরেন্দ্রনাথ।
- ‘দেবদাস’ উপন্যাসের চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র: সতীশ ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২১৮.
'মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী' নাটকটির লেখক কে?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী’ নাটকটি।
হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,২১৯.
শহীদুল্লা কায়সারের স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজবন্দীর রোজনামচা
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. দিগন্তে ফুলের আগুন
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারের আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ 'রাজবন্দীর রোজনামচা'।গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন- আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই। এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

--------------
• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

• ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২২০.
আবু ইসহাক এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্র কোনটি?
  1. গেরিলা
  2. সূর্যগ্রহণ 
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. সূর্যদীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা

- আবু ইসহাক এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচিত্র - সূর্যদীঘল বাড়ি।

• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক ছিলেন একজন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ও অভিধান প্রণেতা।
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় তাঁর “অভিশাপ” গল্পটি প্রকাশিত হয়।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি বিখ্যাত উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ি রচনা করেন (১৯৪৬), যা পরে ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়গুন- যে একজন সংগ্রামী নারী এবং যার জীবনের মাধ্যমে গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭৯ সালে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
- এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেন শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ। 

অন্যদিকে, 
নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত সৈয়দ শামসুল হক'র নিষিদ্ধ লোবান উপন্যাস অবলম্বনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত গেরিলা চলচ্চিত্র। 
- সূর্যগ্রহন হচ্ছে জহির রায়হান এর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ।
- এবং জীবন থেকে নেয়া জহির রায়হান নির্মিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম চলচিত্র। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,২২১.
'লালসালু' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. ক) মুনির চৌধুরী
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,২২২.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
শিশুতোষগ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া (১৯০৬-১৯৭৯)  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য
- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২২৩.
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম কী?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. জাবালি
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - 'জাবালি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২২৪.
সেলিনা হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রংপুর
  2. রাজবাড়ী
  3. রাজশাহী
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২২৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল 
  2. সঙ্গীতশতক
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,২২৬.
'চার ইয়ারী কথা' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

'চার ইয়ারী কথা' গল্পগ্রন্থ:
- এটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনী। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।
 
প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,২২৭.
বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. গাইবান্ধা
  2. রাজশাহী
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রাগে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা);
- পদ্মরাগ (উপন্যাস);
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২২৮.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. সনাতন পাঠক
  2. নীল লোহিত
  3. অবধূত
  4. নীল উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন। এগুলো হলো:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

উল্লেখ্য,
'কালিকানন্দের' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২২৯.
"আমার কাব্য, আমার গান, আমার জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে।" - কথাটি কে বলেছেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য উক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'যদি আর বাঁশি না বাজে' থেকে নেয়া হয়েছে।

আমার বেশ মনে পড়ছে একদিনের আমার জীবনের মহা অনুভূতির কথা- আমার ছেলে মারা গেছে, আমার মন যখন তীব্র পুত্রশোকে ভেঙ্গে পড়েছে ঠিক সেই দিনে সেই সময়ে আমার বাড়ীতে হাস্নাহেনা ফুটেছে। আমি প্রাণ ভরে সেই হাস্নাহেনার গন্ধ উপভোগ করেছিলাম। আমার কাব্য, আমার গান, আমার জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে। যদি কোনদিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকীত্বের পরম শুন্য থেকে অসময়ে নামতে হয়, তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না আমি সেই নজরুল; সেই নজরুল অনেকদিন আগে মৃত্যুর খিড়কি দুয়ার দিয়ে পালিয়ে গেছে। মনে করবেন পূর্ণত্বের তৃষ্ঞা নিয়ে যে একটি অশান্ত তরুন এই ধরায় এসেছিল অপূর্ণতার বেদনায় তারই বিগত আত্না যেন স্বপ্নে আমাদের মাঝে কেঁদে গেল।

সূত্র: যদি আর বাঁশি না বাজে, কাজী নজরুল ইসলাম।
১৩,২৩০.
শওকত আলী কোন উপন্যাসের জন্য ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন 
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
শওকত আলী
- ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শওকত আলী দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিটি সাহিত্যে পরম মমতায় তুলে এনেছেন নিম্নবর্গের মানুষের উপাখ্যান।
- 'পিঙ্গল আকাশ' তাঁর প্রথম উপন্যাস।
- শওকত আলীর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'যাত্রা'। 
- ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস :
- ১.দক্ষিণায়নের দিন,
- ২.কুলায় কালস্রোত,
- ৩.পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- এই ত্রয়ী উপন্যাসের জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।

♦ অন্যান্য উপন্যাস :
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- অপেক্ষা,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- ভালোবাসা কারে কয়,
- ওয়ারিশ,
- উত্তরের খেপ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. ডেইলি স্টার বাংলা।  
১৩,২৩১.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধ সংকলনটি কে লিখেছেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী 
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী 
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়  ধূসরতার কবি; তিমির হননের কবি; নির্জনতার কবি; রূপসী বাংলার কবি;  
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পঞ্চকবি অর্থাৎ পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
- তার বিখ্যাত কবিতা 'বনলতা সেন'।

• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।
- ‘কবিতার কথা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- ‘কবিতার কথা’ পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা’ শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৩২.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সানাউল হক
  3. সরদার জয়েন উদ্‌দীন
  4. শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

• 'গণতন্ত্রের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচয়িতা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা, 
- দ্বিতীয় ভুবন, 
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী, 
- অনতিক্রান্তবৃত্ত, 
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক, 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ, 
- বাঙালি কাকে বলি, 
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে, 
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া, 
- নেতা জনতা ও রাজনীতি, 
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি, 
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ, 
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৩৩.
’বেলা অবেলা কালবেলা’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৩৬৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৩৪.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমণকাহিনী?
  1. ক) কালের শাসন
  2. খ) দেশে বিদেশে
  3. গ) জার্নাল ক্রীডো
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী। দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচনা ভ্রমণকাহিনী। জার্নাল ক্রীডো ও কালের শাসন অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৩৫.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নাম না জানা ভোর
  2. খ) দিলরুবা
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) উত্তর বসন্ত
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস হলোঃকলকাতা। আবদুল্লাহ গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস ‘নাম না জানা ভোর’ (১৯৬২) এতে ভাগ্যান্বেষী এক গ্রাম্য যুবকের শহুরে উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে উত্তরণের ইতিকথা বর্ণিত হয়েছে। ‘ দিলরুবা’ ও ‘ উত্তর বসন্ত’ হলো আবদুল কাদির রচিত কাব্য। । রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৩,২৩৬.
'স্বদেশী আন্দোলন' পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) ঘরে বাইরে
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) দুই বোন
ব্যাখ্যা
- 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলন' পটভূমিকায় রচিত।
- চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী।
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- এই উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৩৭.
'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত সাম্য বিষয়ক  তিনটি এবং 'বঙ্গদেশের কৃষক' প্রবন্ধের কিছু অংশ নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশিত। 
- এই প্রবন্ধে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা কামনা এবং কৃষকদের দুঃখের কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক শোষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রবন্ধ গ্রন্থসমূহ:
- কমলাকান্তের দপ্তর
- লোকরহস্য
- কৃষ্ণ চরিত্র
- বিজ্ঞানরহস্য
- বিবিধ সমালোচনা
- প্রবন্ধ-পুস্তক
- সাম্য
- কৃষ্ণ চরিত্র
 -বিবিধ প্রবন্ধ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৩৮.
'শোভনলাল’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) গৃহদাহ
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এ উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো- অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল ইত্যাদি। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত সামাজিক উপন্যাস কৃষ্ণকান্তের উইল প্রধান চরিত্র রোহিনী, গোবিন্দলাল এবং ভ্রমরের ত্রিভূজ প্রেমকাহিনী নিয়ে রচিত। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,২৩৯.
'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬
  2. ১৯৫৪
  3. ১৯৫৩
  4. ১৯৫২
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ - ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী"। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী, 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৪০.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা কোনটি?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. সীতার বনবাস
  3. শকুন্তলা
  4. প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা
প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' একটি শোকগাঁথা। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)।
- ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৪১.
‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’ বাক্যটি কার রচনা?
  1. শাহাদাৎ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’ বাক্যটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত ‘মানুষ কে?’ কবিতার অন্তর্গত।

মানুষ কবিতার কিছু অংশ হলো--

মানুষ কে?

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

চেষ্টা যত্ন অনুরাগ মনের বান্ধব।
আলস্য তাদের কাছে রণে পরাভব।।
ভক্তিমতে কুশলগণে আয় আয় ডাকে।।
পরিশ্রম প্রতিজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা।
যতনে হৃদয়েতে সমুদয় বাসা।।
স্মরণ স্মরণ মাত্রে আজ্ঞাকারী যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

===========
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার: ‘মানুষ কে‘ কবিতা।
১৩,২৪২.
হুমায়ুন কবির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ধারাবাহিক
  2. অষ্টাদশী
  3. সাথী
  4. স্বপ্নসাধ
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব,
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী, 
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৪৩.
সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে 'কুন্তলীন পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে 'কুন্তলীন পুরস্কার' লাভ করেন।
- মূলত তাঁর বিখ্যাত "মন্দির" গল্পটি রচনার মাধ্যমে তিনি 'কুন্তলীন পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর অন্যান্য অর্জনগুলো-
-  জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন। 

-----------------------
• "মন্দির" গল্প:
- "মন্দির" এই গল্পটি  ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ একটি সাহিত্য স্মরণিকা "কুন্তলীন পুস্তিকামালা"য় প্রকাশ পায়। গল্পটি ১৩০৯ বঙ্গাব্দে (১৯০৩ খ্রিস্টাব্দ) "কুন্তলীন পুরস্কার"-প্রাপ্ত।
- গল্পটি তাঁর সম্পর্কীয় মাতুল (মামা) ও বাল্যবন্ধু শ্রীসুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে প্রকাশিত। "বসুমতী" পত্রিকার সম্পাদক দেড়শ'টি গল্পের মধ্যে "মন্দির" গল্পটিকে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করেন।

গল্পের বিষয়বস্তু:
অমরনাথ অপর্ণাকে বিবাহ করেও দাম্পত্য জীবনে শান্তিলাভ করতে পারেনি। অপর্ণা পিতৃগৃহে স্থাপিত রাধাকৃষ্ণের চরণে নিজেকে উৎসর্গীকৃত করেছেন অনেক আগে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 'অমরনাথ', 'অপর্ণা' প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং "মন্দির" গল্প।

১৩,২৪৪.
’হাবু শর্মা’ কার সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
- শরৎচন্দ্রের পরে কথাসাহিত্যে যাঁরা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তারাশঙ্কর ছিলেন তাঁদের একজন।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৪৫.
''ইলেক্ট্রার গান'' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. কবিতা
  3. গীতিকাব্য
  4. ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
- কবি শামসুর রহমান রচিত ''ইলেক্ট্রার গান'' হলো কবিতা। 
- 'ইলেক্ট্রার গান'' কবিতায় ফুটে উঠেছে পিতৃহারা বঙ্গবন্ধুকন্যার আবেগ।

কবিতার নিম্নোক্ত চরণগুলো হলো:
''নিহত জনক, ত্র্যাগামেমনন্‌, কবরে শায়িত আজ।
সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহান
বিজয়ী সে বীর দূর দেশ থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে।
শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস;
পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত।

নন্দিত সেই নায়ক অমোঘ নিয়তির টানে
গরীয়ান এক প্রাসাদের মতো বিপুল গেলেন ধ্বসে।
বিদেশী মাটিতে ঝরেনি রক্ত; নিজ বাসভূমে,
নিজ বাসগৃহে নিরস্ত্র তাঁকে সহসা হেনেছে ওরা।''
----------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে শামসুর রাহমানের কবিতাগুলো হলো:
-‘ইলেক্ট্রার গান’, 
- ‘ধন্য সেই পুরুষ’, 
- ‘বাইবেলের কালো অক্ষরগুলো’। ‘
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট 
১৩,২৪৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি নজরুলকে কোন সাহিত্য কর্মটি উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. ক) সেঁজুতি
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) বসন্ত
  4. ঘ) পূরবী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তরুণ কবি নজরুলকে তার রচিত ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি উৎসর্গ করেছিলেন।
• কবি নজরুলকে ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি উৎসর্গ করলে অনেকেই তা মেনে নিতে পারেন নি। এর প্রত্যুত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন--

“নজরুল ইসলাম সম্পর্কে তোমাদের মনে
যেন কিছু সন্দেহ রয়েছে। নজরুলকে
আমি ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য উৎসর্গ করেছি
এবং উৎসর্গপত্রে তাকে ‘কবি’ বলে
অভিহিত করেছি। জানি তোমাদের মধ্যে
কেউ কেউ এটা অনুমোদন করতে পারো
নি। আমার বিশ্বাস, তোমরা নজরুলের
কবিতা না পড়েই এই মনোভাব পোষণ করেছো।
আর পড়ে থাকলেও রূপ ও রসের সন্ধান করো নি,
অবজ্ঞাভরে চোখ বুলিয়েছো মাত্র।
কাব্যে অসির ঝনঝনা থাকতে পারে না
এসব তোমাদের অবদান বটে।
সমস্ত জাতির অন্তর যখন সে সুরে বাঁধা,
অসির ঝনঝনায় যখন সেখানে ঝংকার তোলে,
ঐকাতন সৃষ্টি হয়, তখন কাব্যে তাকে প্রকাশ করবে বৈকি।
আমি যদি আজ তরুণ হতাম, তাহলে আমার কলমেও ঐ সুর বাজতো।”

• রবীন্দ্রনাথ তার রচিত ‘পূরবী’ কাব্যটি উৎসর্গ করেছিলে আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৪৭.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মহাকবি আলাওল
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান'।
- এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি ধারাবাহিকভাবে 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খণ্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ ইত্যাদি।

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৪৮.
'পরিচয়' পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন কোন কবি?
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

উল্লেখ্য,
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৪৯.
‘পুবের চাতক’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দোলন-চাঁপা
  2. প্রলয় শিখা
  3. সাম্যবাদী
  4. সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- দোলন চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক,
- পূজারিণী,
- কবি-রানী,
- অবেলার ডাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৫০.
'শচীশ' ও 'দামিনী' নিচের কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. চার অধ্যায়
  2. চতুরঙ্গ
  3. যোগাযোগ
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা
• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র- শচীশ ,দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।
- তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস এবং প্রধান চরিত্রসমূহ:
- ঘরে-বাইরে: বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ। 
- চোখের বালি: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী। 
- শেষের কবিতা: অমিত রায়, লাবণ্য, কেতকী। 
- যোগাযোগ: কুমুদিনী, মধুসূদন, শচীশ। 
- নৌকাডুবি: রমা রমেশ। 
- দুই বোন: উর্মিলা, শর্মিলা।
- মালঞ্চ: আদিত্য, নীরজা।
- চতুরঙ্গ: শচীশ দামিনী। 
- গোরা: গোরা। 
- রাজর্ষি: রাজা গোবিন্দমানিক্য, জয়সিংহ। 
- চার অধ্যায়: অতীন, ইলা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস।
১৩,২৫১.
শহীদুল্লা কায়সার রচিত কোনটিতে মানুষ ও তাঁর অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. সারেং বৌ
  3. মাটি থেকে মহীরুহ
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• সারেং বৌ:
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস সারেং বৌ (১৯৬২)- এ মানুষ ও তাঁর অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। 
- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। 
- কদম সারেং সৎ বলে সহকর্মীদের মতো বাড়ি ও দালান করতে পারে নি। স্ত্রী নবিতুনকে নিয়ে আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সুখে থাকে সে।
-  প্রকৃতির বিরুদ্ধতায় সারেং যখন দীর্ঘ দিন নিখোঁজ, সেই সময় যুবতী নবিতুনের উপর দারিদ্র্য ও লোলুপ সমাজপতিদের লোলুপতা নেমে আসে। 
- এই উপন্যাসে সব সংস্কার তুচ্ছ করে মানুষকে জয়ী দেখানো হয়েছে।

• শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক  জহির রায়হান  তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৫২.
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. জিঞ্জির-কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সাত সাগরের মাঝি-ফররুখ আহমদ
  3. দিলরুবা-আবদুল কাদির
  4. নূরনামা-আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

---------------------------------
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।
- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।

- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৫৩.
'রণভেরী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. অগ্নিবীণা
  3. সঞ্চিতা
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা
• 'রণভেরী' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী, মহররম।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৫৪.
‘আমার পথ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. প্রবন্ধ
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• আমার পথ- প্রবন্ধ,
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। 
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

--------------------------- 
• ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

----------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
১৩,২৫৫.
যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পে?
  1. একরাত্রি
  2. মাল্যদান
  3. নষ্টনীড়
  4. দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা
• "দেনাপাওনা" গল্প:
- 'দেনাপাওনা' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' গল্পগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এ গল্পে তৎকালীন হিন্দু সমাজে পণপ্রথার কুফল সম্পর্কে জানা যায় এবং পণপ্রথার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস উপলব্ধি করা যায়।
- লেখক গল্পটিতে যৌতুক নামক সামাজিক ব্যাধির এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন, যা যৌতুক গ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণার জন্ম দেয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গল্পের নায়কা: নিরূপমা, 
- রায়বাহাদ,
- রামসুন্দর। 

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের রামসুন্দর পাঁচ পুত্র ও এক কন্যার জনক। আদরের কন্যার প্রতাপশালী রায়বাহাদুরের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের সময় পাত্রের পিতা দশ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য সামগ্রী যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। কন্যার বাপ রাজি হন এবং বিয়ের সময় নগদ অর্থ বাকি পড়ে। শুরু হয় পিতা কন্যার ওপর মানসিক নির্যাতন। গল্পের নায়কা নিরূপমার আত্ম বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আমাদের সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাধির কাহিনি।

অন্যদিকে, 
একরাত্রি, মাল্যদান ও নষ্টনীড় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের গল্প। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'দেনাপাওনা' ছোটগল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৩,২৫৬.
বিখ্যাত 'নীলকর' কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হরিশচন্দ্র মুখার্জী
ব্যাখ্যা

• 'নীলকর' কবিতা:
'সংবাদ প্রভাকর’ এ মহারাণী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে ‘নীলকর’ নামে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এই কবিতাটির মাধ্যমে তিনি সে সময়কার নীলকরদের শোষণ ও অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একটি প্রকাশ।

কবিতার কিছু অংশ হলো-

নীলকর
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাকানো ,
কেবল খাব খোল বিচালী ঘাস।
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
গামলা ভাঙ্গে না;
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না।।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা
প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'নীলকর' কবিতা।

১৩,২৫৭.
বন্দে আলী মিয়া রচিত 'কুঁচবরণ কন্যা' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থ
- এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- মৃগপরী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৫৮.
'দরিয়া বিবি' শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. ক্রীতদাসের হাসি  
  2. জননী
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. দুই সৈনিক
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

'দরিয়া বিবি' শওকত ওসমান রচিত জননী উপন্যাসের চরিত্র। 
---------------------
• 'জননী' উপন্যাসের মূলকথা:

- শওকত ওসমানের জননী (১৯৫৮) উপন্যাসের মূলকথা আবর্তিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক জননীর আত্মত্যাগকে ঘিরে। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র দরিয়া বিবি একজন প্রান্তিক কৃষিজীবী সমাজভুক্ত দরিদ্র মা, যিনি চরম অভাব, ক্ষুধা ও সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরন্তর লড়াই করেন। তাঁর জীবন দিয়ে লেখক গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক অবক্ষয় এবং নারীদের নিঃশব্দ সহনশীলতাকে বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন। দরিয়া বিবির মাতৃত্ব এখানে কেবল জৈবিক নয়, বরং তা আত্মোৎসর্গ, দৃঢ়তা ও মানবিক শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে জননী উপন্যাসটি একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পের সীমা ছাড়িয়ে গ্রামীণ বাংলার নিপীড়িত মানুষের সামষ্টিক জীবনযন্ত্রণার গভীর দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
--------------------------  
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস: আর্তনাদ।

উৎস:
'জননী' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৫৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায় বাহাদুর' উপাধি পান কেন?
  1. ক) সাহসি লেখালেখির জন্য
  2. খ) সামাজিক আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে
  3. গ) উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ
  4. ঘ) ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী ভূমিকার জন্য
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৩,২৬০.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনী কোনটি?
  1. ক) দেশে বিদেশে
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) দেশান্তর
  4. ঘ) জলে ডাঙ্গায়
ব্যাখ্যা
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ' প্রকাশিত হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

পালামৌ:
'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা
- মাধবীলতা
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,২৬১.
অলাতচক্র একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
''অলাতচক্র'' আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস।
১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। পরে তিনি সেটি পরিমার্জন করে ১৯৯৩ সালে প্রায় নতুন করেই লেখেন৷
এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস৷ এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচনার দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন৷ মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনকারী দেশসমূহের স্বার্থের দিকটি তিনি দেখতে চেয়েছেন।
এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্রঃ তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।
উৎসঃবাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷
১৩,২৬২.
’কালিকলম’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
- মোসলেম ভারত পত্রিকার  সম্পাদক ছিলেন- মোজাম্মেল হক।
- সাধনা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৬৩.
বাংলা সাহিত্যে বিকাশের যুগের ব্যাপ্তিকাল -
  1. ১৮০০ - ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৬০ - ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৯০০ - ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৯৩০ - ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০ - ১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০ - বর্তমান)।

• আধুনিক যুগও কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. প্রস্তুতিপর্ব (১৮০০ - ১৮৬০),
২. বিকাশের যুগ (১৮৬০ - ১৯০০),
৩. রবীন্দ্রপর্ব (১৯০০ - ১৯৩০),
৪. রবীন্দ্রোত্তর পর্ব (১৯৩০ - ১৯৪৭) ও
৫. বাংলাদেশ পর্ব (১৯৪৭ -)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৬৪.
‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী এমদাদুল হক
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. শাহাদত হোসেন
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- আবদুল্লাহ - উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

কাজী ইমদাদুল হক:
 - ১৮৮২ সালে  খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
-  আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল, 
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা,  
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ,
- নবীকাহিনী ( প্রবন্ধমালা), 
- কামারের কান্ড,  
- আবদুল্লাহ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৬৫.
'কীর্তিবিলাস' নাটক রচনা করেন?
  1. যোগেনমণ্ডল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  4. তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা
'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- নাটকটির রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,২৬৬.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয় কোনটিতে?  
  1. শর্মিষ্ঠা নাটকে 
  2. পদ্মাবতী নাটকে 
  3. কৃষ্ণকুমারী নাটকে 
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন পদ্মাবতী নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখ্য,
 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৬৭.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. আহুতি
  2. পদচারণ 
  3. নানাকথা
  4. চার-ইয়ারি কথা
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থ- পদচারণ ।

• প্রমথ চৌধুরী:

- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৬৮.
রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত বিয়োগান্তক নাটক কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. মায়াকানন
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক।

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ। 

অন্নদিকে, 
------------------
• ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

• তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন (১৮৭৩) নাটক। 

• তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৬৯.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শওকত আলী
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
• 'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।

- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস।
১৩,২৭০.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. সমুদ্রের স্বাদ
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. হলুদ পোড়া
  4. সহরতলী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সহরতলী' উপন্যাস: 
• ‘সহরতলী' (১৯৪১ সালে) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।  
• নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের জীবনের কাহিনি ও সেইসঙ্গে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশের উপন্যাস, মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও কপটতা, ঈর্ষা ও ইন্দ্রিয়ালুতার রূপায়ণ এখানে আছে। 
• 'যশোদা' চরিত্রটির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্ভ্রম বাংলাসাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে স্বীকৃত।  

⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:   
⇒ উপন্যাস: 
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য, 
• পদ্মানদীর মাঝি, 
• পুতুলনাচের ইতিকথা, 
• সহরবাসের ইতিকথা,
• সহরতলী,    
• সার্বজনীন,
• অহিংসা, 
• আরোগ্য ইত্যাদি।

⇒ গল্প: 
• অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
• প্রাগৈতিহাসিক,   
• সরীসৃপ,  
• আত্মহত্যার অধিকার, 
• মিহি ও মোটা কাহিনী, 
• সমুদ্রের স্বাদ, 
• বৌ,  
• হলুদ পোড়া, 
• আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৭১.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. পাখির বাসা
  2. হাতেমতায়ী
  3. নৌফেল ও হাতেম
  4. সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

• ‘নৌফেল ও হাতেম’ কাব্যনাট্য:
- আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত কাহিনি থেকে কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নামে একটি কাব্যনাট্য রচনা করেছেন। ১৯৬১ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটি মঞ্চস্থ করেন এবং নাট্যমোদীদের দ্বারা তা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

- ইতিপূর্বে ‘মাহে নও’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান লেখক সংঘের পক্ষে ড. কাজী মোতাহার হোসেন তা প্রকাশ করেন।

- ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ ‘নৌফেল ও হাতেম’ নাটকটিতে ইয়েমেনের শাহজাদা হাতেমকে মানবতাবাদী চরিত্র ও প্রতীকরূপে গ্রহণ করেছেন। হাতেমকে আদর্শবাদী ‘ন্যায়পরায়ণ’, পরোপকারী, সেবাব্রতী, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ও মহৎ মানবতাবাদীরূপে চিত্রিত করেছেন। অন্যদিকে নৌফেল ঈর্ষাপরায়ণ, অত্যাচারী, অহংকারী বাদশাহর প্রতীকে চিত্রিত করেছেন। বিজয় দেখিয়েছেন মানবতার। মুক্তি দেখিয়েছেন ইনসাফের।

নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
নৌফেল, হাতেম, উজীর, আমীর, শায়ের, মুর্শিদ, কোতোয়াল, গুপ্তচর, ভাঁড়, মোসাহেব, বেগম, কাঠুরিয়া, কাঠুরিয়ার স্ত্রী, কাঠুরিয়ার সন্তান ও অন্যান্য।

-----------------
ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি (শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ),
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী (কাহিনিকাব্য),
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি তাঁর শিশুতোষ রচনা।

উৎস: 'নৌফেল ও হাতেম' কাব্যনাট্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৭২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গকৃত সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তন্বী
  2. খ) আর্কেস্ট্রা
  3. গ) আকাশ-প্রদীপ
  4. ঘ) কুলায় কালপুরুষ
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী'(১৯৩০) কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
এ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পত্রে লিখা ছিলো - ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।" 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ‘আকাশ-প্রদীপ’  সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।

সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৭৩.
কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ- নরক- মানুষেতে সুরাসুর; পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) শাহ আবদুল করিম
  3. গ) শেখ ফজলুল করিম
  4. ঘ) রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ- নরক- মানুষেতে সুরাসুর।- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শেখ ফজলুল করিম। 

শেখ ফজলুল করিম:
- রংপুর জেলায় ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবিনীকাহিনি অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- তৃষ্ণা 
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি
- গাঁথা

তাঁর উপন্যাস:
- লায়লী মজনু 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৩,২৭৪.
"কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।" - পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• "কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।"

- এই পঙ্‌ক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত। 
- 'নারী' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিদ্বারা নজরুল বুঝিয়েছেন-
ইতিহাস যেহেতু পুরুষের রচনা সেহেতু ইতিহাস রচনায় পুরুষ কার্পণ্য করেছে। নারীকে অবজ্ঞার চোখে দেখে তারা নিজেদের পাশে সমান মর্যাদায় নারীদের স্থান' দেয় নি। যুদ্ধে একজন পুরুষের আত্মত্যাগের পেছনে একজন নারীরও যে সহায়-সম্বল ও আশ্রয় হারার ব্যাপারটি জড়িত- পুরুষ ইতিহাসকারগণ সে কথা মনে রাখেন নি।

-------------------
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৭৫.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের উপজীব্য কী?
  1. পানিপথের ২য় যুদ্ধ
  2. পলাশীর যুদ্ধ
  3. কারবালার যুদ্ধ
  4. পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের উপজীব্য পানিপথের ৩য় যুদ্ধ।

•রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

• মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- মানুষ, 
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৭৬.
চেতনাপ্রবাহ রীতিতে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো
  2. লালসালু
  3. উজানে মৃত্যু
  4. তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- বিষয় ও শিল্প বিচারে বাংলা উপন্যাসের ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র এক ব্যতিক্রমধর্মী, অভিনব ও গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো'।

- 'কাঁদো নদী কাঁদো' মূলত চেতনাপ্রবাহ রীতিতে (stream of consciousness) রচিত। এতে চেতনায় প্রবহমান ধারার মাধ্যমে চরিত্র, আখ্যান ও তার অন্তর্গত বাণী রূপায়িত হতে থাকে। ভাবনার প্রবাহ (ইনটেরিয়র মনোলগ), ফ্ল্যাশব্যাক, ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড তথা চেতনাপ্রবাহরীতির মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে গিয়ে যে-কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে তা উপন্যাসটিকে জটিল করে তুলেছে।

- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। এইসকল চরিত্রের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ও কুমুরডাঙার শাহরিক পরিবেশ এর বর্ণনা।

উপন্যাসে কুমুরডাঙ্গা নামের দরিদ্র মহকুমা শহরের জনজীবন, স্টিমারঘাট উদ্বোধনকালে স্থানীয় হিন্দু জমিদারকে আমন্ত্রণ না জানানোর ফলে তার লেলানো লাঠিয়ালদের দৌরাত্ম্য তথা প্রতিশোধস্পৃহা বা পেশিশক্তির আধিপত্য, বাকাল নদীতে চর পড়ায় অনিশ্চিতকালের জন্য তার স্টিমারঘাট বন্ধ হওয়া, তাতে চাকরি হারানো কর্মচারী খতিব মিঞার অসহায়ত্ব, বন্ধ ঘাট নিয়ে উকিল কফিল উদ্দিনের ধারণা, তা চালুর জন্য তাঁর তথাকথিত সংগ্রাম বা প্রচেষ্টা, নতুন হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফা ও তাঁর বাগদত্তা খোদেজার মৃত্যু বা আত্মহত্যা রহস্য, তাৎপর্যপূর্ণ এক নির্মোহতায় আক্রান্ত ডাক্তার বোরহানউদ্দিন- সমাজের রোগগ্রস্ত মানুষ সম্পর্কে তার ধারণা-বিশ্বাস, মানুষের নদীর কান্না শোনা প্রভৃতি বিষয় যে শুধু এক নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নয়, এসব এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশেস্নষণ করে তাতে অভিনব মাত্রা দেওয়া হয়েছে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস।

১৩,২৭৭.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো!" - চরণগুলো রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

স্মৃতিস্তম্ভ
- আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো!
যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৭৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' একটি-
  1. ট্র‍্যাজেডি নাটক
  2. রাজনৈতিক নাটক
  3. রূপক নাটক
  4. সার্থক কমেডি নাটক
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি নাটক - 'পদ্মাবতী'।

• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১৩,২৭৯.
কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম মহাযুদ্ধের সময় কত নং বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?
  1. ৪২
  2. ৪৫
  3. ৪৭
  4. ৪৯
ব্যাখ্যা
নজরুলের সামরিক জীবনের পরিধি ১৯১৭ সালের শেষদিক থেকে ১৯২০ সালের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় আড়াই বছর ।
- এ সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গলি রেজিমেন্টের একজন সাধারণ সৈনিক থেকে ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন।
- রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি মৌলবির নিকট তিনি ফারসি ভাষা শেখেন, সঙ্গীতানুরাগী সহসৈনিকদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি  বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতচর্চা করেন এবং একই সঙ্গে সমভাবে গদ্যে-পদ্যে সাহিত্যচর্চা করেন।
- করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা,
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য রচনা:
⇒ গল্প → ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’;
⇒ কবিতা → ‘আশায়’, ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি।
- উল্লেখযোগ্য যে, করাচি সেনানিবাসে থেকেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকা, যেমন:  প্রবাসী,  ভারতবর্ষ,  ভারতী,  মানসী, মর্ম্মবাণী,  সবুজপত্র, সওগাত ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন। তাছাড়া তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, এমনকি ফারসি কবি হাফিজেরও কিছু গ্রন্থ ছিল।
- প্রকৃতপক্ষে নজরুলের আনুষ্ঠানিক সাহিত্যচর্চার শুরু করাচির সেনানিবাসে থাকাবস্থায়ই।
- প্রথম মহাযুদ্ধ শেষে ১৯২০ সালের মার্চ মাসে নজরুল দেশে ফিরে কলকাতায় সাহিত্যিক-সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৮০.
চতুর্দশপদী কবিতা রচনায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত কার দ্বারা প্রভাবিত হন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. পেত্রাক
  3. মিলটন
  4. হোডার
ব্যাখ্যা
• তিনি ইতালীয় কবি পেত্রাক ও ইংলিশ কবি শেকসপিয়রের অনুকরনে সনেট রচনা করেন।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা ভাষার সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৮১.
"মানুষ" নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মামুনুর রশিদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

"মানুষ" নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে।সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

• নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৮২.
'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর' - এ পঙ্‌ক্তিটি কার লেখা?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর'- কবিতাংশটুকু জীবনানন্দ দাশের 'বাংলার মুখ'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

বাংলার মুখ - কবিতা, 
- জীবনানন্দ দাশ।
               
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতো ব্ড় পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দয়েলপাখি – চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ; (সংক্ষেপিত)
-------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত বিখ্যাত কইয়েকটি উক্তি:
- আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে
-পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন
- কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে
- বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাইনা আর।

উৎস: বাংলার মুখ কবিতা- জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৮৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. নীল দংশন
  3. বিবাহ
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
- ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। 
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে ১৯৬০ সালে মমতাজউদদীন আহমেদ এর লেখা প্রথম নাটক ‘বিবাহ’।
 
অন্যদিকে,
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক। 
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নীল দংশন' এবং 'নিষিদ্ধ লোবান'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৮৪.
আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) মতিলাল
  2. খ) বাবুরাম
  3. গ) নবকুমার
  4. ঘ) ঠকচাচা
ব্যাখ্যা
- 'নবকুমার' আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে 'নবকুমার'।

• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৮৫.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত 'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. নুরুল মােমেন
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা হলেন বিজন ভট্টাচার্য। 

• নবান্ন নাটক: 
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
• তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে। অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন। তখন থেকেই 'নবান্ন' নতুন বাংলা নাটকের অগ্রদূত রূপে গণ্য হয়। পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুদর্শা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা-ব্যর্থতা ইত্যাদি এই নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক, 
- মরাচাঁদ, 
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর। 

• তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৮৬.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
  1. ৭১ এর বিজয়ের ঘটনা
  2. ৩ মার্চের পরের ঘটনা
  3. ৭ মার্চের ঘটনা
  4. ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের ঘটনা
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও,
- রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,২৮৭.
'অবরোধ' নাটকটি রচনা করেন -
  1. ক) বন্দে আলী মিয়া
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
- বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'অবরোধ' হচ্ছে নাটক।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন। এই আন্দোলনকে 'থার্ড থিয়েটার' নামেও অভিহিত করা হয়।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- কলকাতার আশুতোষ কলেজ ও রিপন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি জাতীয় আন্দোলনে (১৯৩১-৩২) যোগ দেন এবং মহিষবাথানে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন জীয়নকন্যা নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৮৮.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত অনূদিত গ্রন্থ-
  1. প্রসন্ন শহর
  2. যাদুর কলস
  3. তিমিরান্তিক
  4. বৈরী বৃষ্টিতে
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত অনূদিত গ্রন্থ 'যাদুর কলস'।

• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর
- তিমিরান্তিক
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- নবী কাহিনী।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৮৯.
‘উটপাখি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘উটপাখি’ কবিতাটির রচয়িতা: 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'। 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'উটপাখি' কবিতাটি 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: 
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর। 

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ :
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- দশমী,  

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে: 
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

‘উটপাখি’ কবিতা,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 

আমার কথা কি শুনতে পাও না তুমি?
কেন মুখ গুঁজে আছো তবে মিছে ছলে?
কোথায় লুকোবে? ধু-ধু করে মরুভূমি;
ক্ষ’য়ে-ক্ষ’য়ে ছায়া ম’রে গেছে পদতলে।
আজ দিগন্তে মরীচিকাও যে নেই;
নির্বাক, নীল, নির্মম মহাকাশ।
নিষাদের মন মায়ামৃগে ম’জে নেই;
তুমি বিনা তার সমূহ সর্বনাশ।
কোথায় পলাবে? ছুটবে বা আর কত?
উদাসীন বালি ঢাকবে না পদরেখা।
প্রাকপুরাণিক বাল্যবন্ধু যত
বিগত সবাই, তুমি অসহায় একা।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ‘উটপাখি’ কবিতা। 
১৩,২৯০.
বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে স্বর্ণকুমারী দেবী কোন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. নারী শক্তি
  2. মহিলা সমাজ
  3. সখী সমিতি
  4. জোড়াসাঁকো সমিতি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ, 
- বিচিত্রা, 
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৯১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পারস্যে
  2. জাপান যাত্রী
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. জাভা যাত্রার পত্র
ব্যাখ্যা

'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৯২.
'নীল দর্পণ' নাটকটি ইংরেজি অনুবাদ এর নাম কী
  1. The Indigo Planting Mirror
  2. Indigo Planting Mirror
  3. Indigo Planting Tree
  4. The Indigo Planting Tree
ব্যাখ্যা
• 'নীল দর্পণ':
- 'নীল দর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror (1861) নামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং
- পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্রগুলির স্বাভাবিকতার গুণের জন্য অনেকে একে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।

• দীনবন্ধু মিত্রের অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- জামাই বারিক,
- কমলে কামিনী প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৯৩.
নিচের কোনটি দিলারা হাসেম রচিত উপন্যাস?
  1. ক) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  2. খ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  3. গ) ঘর মন জানালা
  4. ঘ) সাজাহান
ব্যাখ্যা
• ঘর মন জানালা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'দিলারা হাসেম'
- 'ঘর মন জানালা' ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• দিলারা হাসেম: 
- দিলারা হাসেম একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী লেখক এবং বিখ্যাত ঔপন্যাসিক।
- ১৯৩৬ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘর মন জানালা,
- একদা এবং অনন্ত,
- স্তব্ধতার কানে কানে,
- আমলকির মৌ,
- বাদামী বিকেলের গল্প,
- কাকতালীয়,
- শঙ্খকরাত,
- অনুক্ত পদাবলী। 


• অন্যদিকে: 
- 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্য।
- 'বাংলার মাটি বাংলার জল' বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'সাজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৩,২৯৪.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদি (প্রথম) পর্বের রচনা কোনটি?
  1. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. চর্যাপদ
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ: 
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয়েছে ১৮০০ সাল থেকে।
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে বর্তমান যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীমুক্তি ইত্যাদি আধুনিক যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য হলেও মানবতাবাদ প্রধান।
---------------------- 
• বত্রিশ সিংহাসন:

বত্রিশ সিংহাসন হলো মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, যা ১৮০২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি কাহিনি সংকলন যা বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য - প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- প্রকাশিত হয় ১৮৯২ খ্রিষ্টাব্দে।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- ড. শহীদুল্লাহর মতে - ৬৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।

• ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ যা দীনেশচন্দ্র সেনগুপ্ত রচনা করেন ১৮৯৬ সালে।

সুতরাং,
দেখা যাচ্ছে যে - বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদিপর্বের রচনা - বত্রিশ সিংহাসন।
------------------------------ 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: 
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ ও লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে ১৮০১ সালের ৪ মে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন। এছাড়াও, তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবেও কাজ করেছেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• বত্রিশ সিংহাসন, 
• রাজাবলী, 
• হিতোপদেশ, 
• বেদান্তচন্দ্রিকা, 
• প্রবোধচন্দ্রিকা।

উৎস: 
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 
- বাংলাপিডিয়া।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,২৯৫.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. শওকত আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. আখতারুজামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,২৯৬.
নিচের কোনটি শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) আমলার মামলা
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) নেকড়ে অরণ্য
  4. ঘ) রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান একজন বাংলাদেশি চিন্তক, লেখক ও কথা সাহিত্যিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, পতঙ্গ পিঞ্জর, আর্তনাদ, রাজপুরুষ, বনি আদম, রাজসাক্ষী।
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলঙ্গী।
তাঁর রচিত নাটক- আমলার মামলা, তস্কর ও লস্কর, কাঁকরমণি, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, বাগদাদের কবি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,২৯৭.
কোনটি হাসান আজিজুল হকের রচনা নয়?
  1. জীবন ঘষে আগুন
  2. আগুন পাখি
  3. নামহীন গোত্রহীন 
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘যোগাযোগ’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসে কুমোদিনীর স্বামীর নাম হলো মধুসূদন। এই উপন্যাসে কুমোদিনী ও মধুসূদনের সম্পর্কের মাধ্যমে পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব, শ্রেণিগত পার্থক্য এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,২৯৮.
পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
  1. ক) দাশরথি রায়
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

- কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরণের গান প্রচলিত ছিল। 
- পাঁচালী গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী ও বিখ্যাত কবি ছিলেন দাশরথি রায়
- তিনি খ্যাত ছিলেন দাশুরায় নামে। তিনি নিজেই পাঁচালীর দল বেঁধে গান গাইতেন।
তার একটি বিখ্যাত রচনা -
''হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।
মুক্তি-কামনা আমারি, হবে, বৃন্দে গোপনারী,
দেহ হবে নন্দের পুরী, স্নেহ হবে মা যশোমতী।।''

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩,২৯৯.
কোন যুগে সাহিত্যের বিষয়বস্তু হিসাবে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতা হয়ে ওঠে একমাত্র কাম্য?
  1. আধুনিক যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. প্রাচীনযুগ
  4. অন্ধকারযুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীনযুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য হয়ে ওঠে, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,৩০০.
হাসান আজিজুল হক রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. অতলের আঁধি
  2. অসীমান্তিক
  3. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  4. আমরা অপেক্ষা করছি
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- ফিরে যাই ফিরে আসি (১ম অংশ)।

 • তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

তাঁর রচিত নাটক:
- চন্দর কোথায় (ভাষান্তরিত)।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।