বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩১ / ১৭৪ · ১৩,০০১১৩,১০০ / ১৭,৪৩৭

১৩,০০১.
‘বাঁধন-হারা' পত্রোপন্যাসে মোট কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. ১৩টি
  2. ১৫টি
  3. ১৮টি
  4. ২০টি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,০০২.
জন্মপঞ্জিকা অনুযায়ী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কী?
  1. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. প্রবোধ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. অসুরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇔ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম। 
- জন্মপঞ্জিকায় তাঁর নাম 'অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।
 
⇔ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাসগন্থ:    
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য, 
• পদ্মানদীর মাঝি,  
• পুতুলনাচের ইতিকথা,   
• সহরবাসের ইতিকথা, 
• সার্বজনীন,
• অহিংসা, 
• আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০০৩.
'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবদুল হাই
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

​তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,০০৪.
'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. রফিক আজাদ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল:
- 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ।
- এই সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই গল্পগ্রন্থে ৫টি গল্প সংকলিত হয়েছে।
• এগুলো হলো:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• তাঁর রচিত গল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।

১৩,০০৫.
কোন সাহিত্যিকের রচিত গ্রন্থ "The Field of the Embroidered Quilt" নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছিলো?
  1. আল মাহমুদ 
  2. আহসান হাবীব 
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য — নক্সী কাঁথার মাঠ।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- কবর কবিতাটি কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে ,
- মাটির কান্না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০০৬.
বাংলা সাহিত্যে 'নটগুরু' হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছেন-
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র 
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল 'নটগুরু' হিসেবে। রঙ্গমঞ্চের অভিনয় ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তিনি নাট্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অভিনয়-সাফল্য তাঁর নাট্যরচনা প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল।

• গিরিশচন্দ্র তাঁর নাটক রচনায় সাহিত্যের প্রয়োজনের চেয়ে মঞ্চের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তাই শেষ বয়সে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, 'একখানি নাটকও তিনি নিজের ইচ্ছামত লিখে যেতে পারেন নি।' এই আক্ষেপে নটের কাছে নাট্যকারের পরাভবই ব্যক্ত হয়েছে। গিরিশচন্দ্র ছিলেন প্রথমে নট ও মঞ্চাধ্যক্ষ, পরে নাট্যকার।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• রামনারায়ণ তর্করত্ন 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার করে 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিগুরু হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।  

১৩,০০৭.
মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক কত অঙ্কবিশিষ্ট?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত নাটক-
- কবর (তাঁর 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষ্যে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- রাজার জন্মদিনে,
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
অপরদিকে, জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- আরেক ফাল্গুন
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৩,০০৮.
‘আমি জন্মগ্রহণ করিনি’ কী ধরনের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'আমি জন্মগ্রহণ করিনি' ১৯৯০ সালে প্রকাশিত সৈয়দ শামসুল রচিত কাব্যগ্রন্থ।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- একদা এক রাজ্যে,-
- পরানের গহীন ভিতর,
- বিরতিহীন উৎসব,
- বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা, প্রতিধ্বনিগণ,
- ধ্বংসস্তূপে কবি ও নগর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যগুলো হলো'
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

তার রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- মৃগয়ার কালখেপ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩,০০৯.
নিচের কোনটি রম্যরচনা?
  1. ক) জলে ডাঙ্গায়
  2. খ) পাদটীকা
  3. গ) চাচা কাহিনী
  4. ঘ) পঞ্চতন্ত্র
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল তাঁর রচিত রম্যরচনা।
- 'চাচা কাহিনী' ও 'টুনি মেম' তাঁর রচিত ছোটগল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,০১০.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) কবিতা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি প্রবন্ধ সংকলন। 
- ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে এটি সংকলন করা হয়। 
- প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত। 

• কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদীবক্ষে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বত বঙ্গ।

• সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ: 
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ 
- নজরুল প্রতিভা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০১১.
‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ' নূরন্নেসা খাতুনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছে?
  1. সাহিত্য নন্দিনী 
  2. সাহিত্য সরস্বতী
  3. বিদ্যার ঝুড়ি 
  4. বিদ্যাবিনোদিনী 
ব্যাখ্যা

নূরন্নেসা খাতুনকে ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ’ তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ 'সাহিত্য সরস্বতী' উপাধিতে ভূষিত করেছিল। 
----------------------------------------
নূরন্নেসা খাতুন:
- নূরন্নেসা খাতুন ছিলেন প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা খোন্দকার হাবিবুস সোবহান সরকারি চাকুরে ছিলেন।
- ১৯২৩ সালে শ্রীরামপুর (হুগলী) থেকে তাঁর প্রথম উপন্যাস স্বপ্নদৃষ্টা প্রকাশিত হয়। 
- স্বপ্নদৃষ্টা উপন্যাসটি বেগম রোকেয়ার পদ্মরাগের (১৯২৪) চেয়ে এক বছর আগে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জানকী বাঈ বা ভারতে মোসলেম বীরত্ব, আত্মদান, ভাগ্যচক্র, বিধিলিপি, নিয়তি প্রভৃতি উপন্যাস ও উপন্যাসধর্মী রচনা প্রকাশ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি’ তাঁকে বিদ্যাবিনোদিনী উপাধিতে অভিহিত করে। 
- এবং ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ’ তাঁকে সাহিত্য সরস্বতী উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৫ সালের ৬ই এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

১৩,০১২.
“হে কবি! নীরব কেন—ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” - পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অংশ?  
  1. হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল
  2. স্বাধীনতা তুমি
  3. তাহারেই পড়ে মনে
  4. অঙ্গুরি এসেছ তুমি
ব্যাখ্যা

• তাহারেই পড়ে মনে।
     — সুফিয়া কামাল।

"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল? ”

 “ হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়? ”
------------------------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী।  
- বেগম সুফিয়া কামাল ২০ জুন ১৯১১ সালে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আবদুল বারী এবং মা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- ১৯২৫ সালে তিনি মাতৃমঙ্গল নামক সংগঠনের একমাত্র মুসলিম সদস্য ছিলেন।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- তিনি বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা (প্রথম গল্পগ্রন্থ),
- সাঁঝের মায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), 
- মায়া কাজল (কাব্যগ্রন্থ), 
- উদাত্ত পৃথিবী (কাব্যগ্রন্থ), 
- অভিযাত্রিক (কাব্যগ্রন্থ), 
- সোভিয়েতের দিনগুলি (ভ্রমণ কাহিনী),
- একালে আমাদের কাল (আত্মজীবনীমূলক রচনা),
- একাত্তরের ডায়েরী (স্মৃতিকথা)।

- তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ-
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে। 
----------------------------------------- 
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার খুঁটিনাটি:
- ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামালের রচিত একটি নাটকীয় সংলাপনির্ভর কবিতা।
- কবিতায় কবি ও কবি-ভক্তের মধ্যে সংলাপ বিনিময় হয়েছে।
- এটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- কবিতার মূলভাব হলো—প্রকৃতির পালাবদলের (বসন্তের আগমন) মধ্যেও প্রিয়জনের (স্বামীর) বিয়োগে কবির জীবনে নেমে আসা গভীর শূন্যতা ও বিষাদ।
- কবিতায় দেখা যায় যে, কবি বসন্তের সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে কেবল অন্তর্নিহিত দুঃখ ও প্রিয়জন বিয়োগের বেদনা স্মরণ করেছেন।
---------------------------------- 
উল্লেখ্য, 
হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল, স্বাধীনতা তুমি, অঙ্গুরি এসেছ তুমি- শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া;
তাহারেই পড়ে মনে কবিতা। 

১৩,০১৩.
সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসটির কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসটি  তিনটি খণ্ডে রচিত।

- এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় - ১৯৯৪ সালে
- এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় - ১৯৯৫ সালে
- এর তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় - ২০০৬ সালে

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:

প্রবন্ধ: 
- স্বদেশে পরবাসী
- একাত্তরের ঢাকা
- নির্ভয় করো হে
- মুক্তো করো ভয়
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি

গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা। 

উপন্যাস : 
- জলোচ্ছ্বাস
- হাঙর নদী গ্রেনেড
-মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০১৪.
 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. আরেফ আলী 
  2. মোবাশ্বের
  3. শশী
  4. আলিফ
ব্যাখ্যা

 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী  নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,০১৫.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'এই বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'-এই সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি 'পালামৌ' গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।

• 'পালামৌ':

- পালামৌ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি।
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা।
- এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
- এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

•তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা
- মাধবীলতা
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

•তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

উৎস: ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০১৬.
'নূরন্নেহার' মীর মশাররফ হোসেনের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. জমীদার দর্পণ
  2. টালা অভিনয়
  3. বসন্তকুমারী
  4. বেহুলা গীতাভিনয়
ব্যাখ্যা
জমীদার দর্পণ:
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি 'জমীদার দর্পণ' (১৮৭৩)- এর মূল ঘটনা।
- মীর মশাররফ হোসেন লিখেছেন, নাটকটির 'কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।
- ওই সময় মুসলিমগণ বাংলা চর্চায় এগিয়ে এসেছে কমই।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় নাটকটির প্রশংসা করে লিখেছেন, 'অনেক হিন্দুর প্রণীত বাঙ্গালার অপেক্ষা এই মুসলমান লেখকের বাঙ্গালা পরিশুদ্ধ'।
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণে'র প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনাবিন্যাসেও এর কম ছায়া পড়ে নি।

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০১৭.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) সনকা
  2. খ) বেহুলা
  3. গ) চাঁদ সওদাগর
  4. ঘ) ধনপতি
ব্যাখ্যা
'বনিক ধনপতি' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
 
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

- আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।
- বিপ্রদাসের গ্রন্থ মনসাবিজয় পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে রচিত বলে গবেষকদের অনুমান। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০১৮.
দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক কোনটি?
  1. কমলে কামিনী
  2. নবীন তপস্বিনী
  3. লীলাবতী
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'কমলে কামিনী' নাটক:
- 'কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কমলে কামিনী' নাটক এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০১৯.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ-
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশী
  3. প্রলয় শিখা
  4. চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা
• 'যুগবাণী':
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০২০.
'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- স্বপ্নদর্শন, সংগীত শতক, বঙ্গসুন্দরী, নিসর্গ সন্দর্শন, বন্ধু বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিনী, সারদামঙ্গল, সাধের আসন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০২১.
বেগম রোকেয়া রচিত "পদ্মরাগ" কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়া:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০২২.
কোনটি এস ওয়াজেদ আলি রচিত উপন্যাস?
  1. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. গ্রানাডার শেষ বীর
  4. মোটর যোগে রাঁচী সফর
ব্যাখ্যা
• 'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

--------------
• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০২৩.
‘বাঙলা’ চলচ্চিত্রটি কোন উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
• যাত্রা- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০২৪.
'শিবমন্দির' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরাশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- মহাশ্মশান (মহাকাব্য), কুসুম কানন, অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, শ্মশানভষ্ম, মহররম শরীফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,০২৫.
'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ'- পঙ্‌ক্তি কার রচনা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ'- পঙ্‌ক্তি জীবনানন্দ দাশের রচনা। 
- কবিতাটি "রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 


এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে,
সব চেয়ে সুন্দর করুণ- জীবনানন্দ দাশ

এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে—সব চেয়ে সুন্দর কর‍ুণ:
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অর‍ুণ;
সেখানে বার‍ুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে,—সেখানে বর‍ুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,
সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তর‍ুণ। 

------------------------
• "রূপসী বাংলা" কাব্যগ্রন্থ:

- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'। 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০২৬.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
  2. খ) ৪৭ এর দেশভাগ
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) ফরায়েজি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১): প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। আহমদ ছফা ‘উত্থানপর্ব’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর রচিত উপন্যাস ওঙ্কার (১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত, প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে), এই উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' নামক একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
তাছাড়া সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭), উদ্ধার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯), মরণবিলাস (১৯৯০), গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪), অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) ইত্যাদি তার অন্যান্য উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,০২৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ব্যঙ্গাত্মক ও রম্য গ্রন্থ কোনটি? 
  1. যুগলাঙ্গুরীয় 
  2. লোকরহস্য
  3. কমলাকান্তের দপ্তর 
  4. মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ব্যঙ্গাত্মক ও রম্য গ্রন্থ- 'কমলাকান্তের দপ্তর'। 
------------
• ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ নিয়ে কিছু কথা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ব্যঙ্গাত্মক ও রম্য গ্রন্থ ‘কমলাকান্ত’-এর অংশ ‘কমলাকান্তের দপ্তর’।  
- এই প্রবন্ধতে প্রধান চরিত্র হিসেবে রয়েছে আফিঙখোর বাঙালি ব্রাহ্মণ কমলাকান্ত।
- তিনি একজন নেশাগ্রস্ত, দার্শনিক ও সমাজ-সচেতন চরিত্র। 
- তার জবানবন্দিতে সমাজের অসঙ্গতি, কপটতা ও রাজনৈতিক কূটকৌশল প্রকাশিত হয়েছে।
- ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত ‘কমলাকান্ত’ গ্রন্থটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত—‘কমলাকান্তের দপ্তর’, ‘কমলাকান্তের পত্র’ এবং ‘কমলাকান্তের জবানবন্দী’।
- এর মধ্যে ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ প্রথম ভাগ হিসেবে ১৮৭৫ সালে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়।

- ভীষ্মদেব খোশনবীশ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কমলাকান্তের দপ্তর গ্রন্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- তিনি ছিলেন কমলাকান্তের একজন প্রিয় বন্ধু, যিনি অকালপ্রয়াত হন। 
- ভীষ্মদেবের ডায়রি বা খাতা কমলাকান্তের হাতে পৌঁছায়, এবং সেই খাতাটিই পরে কমলাকান্তের দপ্তর নামে প্রকাশিত হয়। 
----------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- চাকরিজীবনে তিনি প্রথম প্রশাসনিক চাকরিতে যোগ দেন।
-  এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
- এর স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ উপাধি লাভ করেন। 

- ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়না। 
- তাঁর মুল পরিচয় হচ্ছে- তিনি একজন প্রভাবশালী লেখক ও হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তাবিদ। 
- তার পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ-
- ‘লোকরহস্য’,
- ‘কমলাকান্তের দপ্তর’,
 ‘বিবিধ সমালোচনা’,
- ‘সাম্য’,
- ‘কৃষ্ণচরিত্র’,
- ‘ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন’,
- ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’, 
- 'বিজ্ঞান রহস্য'।
------------------------

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৩,০২৮.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকার নাম কী?
  1. মোসলেম ভারত
  2. হিতকরী
  3. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• সমাচার সভারাজেন্দ্র:
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০২৯.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৩০.
‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৩১.
ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী ছিলেন?
  1. বিজয়নগর
  2. সিংহল
  3. আরাকান
  4. উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চন্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র - ধনপতি সওদাগর।
- ধনপতি সওদাগর উজানী নগরের অধিবাসী ছিলেন |
- ভাড়ুদত্ত, ফুল্লরা, ধনপতি সওদাগর প্রভৃতি চন্ডীমঙ্গলের প্রধান চরিত্র |
- চন্ডী দেবীর কাহিনী অবলম্বনে রচিত চন্ডীমঙ্গল কাব্য দেশে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল |
- মানিক দত্ত চন্ডীমঙ্গলের আদি কবি |

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

১৩,০৩২.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) মোহাম্মদ আবদুর রশিদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে বা ১৯২৭ সালে।
শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
শিখার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
১৩,০৩৩.
"নীল দর্পন" নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- দীনবন্ধু মিত্র নাটকটিতে বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
-  A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর "নীল দর্পন" নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় "নীল দর্পন" নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র- গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

-----------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন। তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন। 
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩,০৩৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা নয় কোনটি?
  1. চন্দ্রশেখর
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. সাম্য
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা নয়: 'সাম্যবাদী'। 
- 'সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
-------------
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'সাম্যবাদী'।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত সাম্য বিষয়ক তিনটি এবং 'বঙ্গদেশের কৃষক' প্রবন্ধের কিছু অংশ নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশিত। 
- এই প্রবন্ধে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা কামনা এবং কৃষকদের দুঃখের কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক শোষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 
----------------------- 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।  
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৩৫.
'অভিনয়, অভিনয় নয়' গল্পগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম 
  2. আবু ইসহাক 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'অভিনয়, অভিনয় নয়' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। 

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৩৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রয়াণ দিবস কবে?
  1. ২৫ বৈশাখ
  2. ২২ শ্রাবণ
  3. ২৫ শ্রাবণ
  4. ২২ বৈশাখ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৮ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের এ মহান রূপকার। 
- কবির পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৮৮৩ সালে কন্যা মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
- ৭ আগস্ট ১৯৪১; (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৭৩ সালে লিখেছিলেন তাঁর প্রথম গান "গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বালে"।
- মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ছোট গল্প লিখতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম ছোট গল্প ছিল 'ভিখারিনী'।
- ‘কবি-কাহিনী’ রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪. বিবিসি বাংলা।
১৩,০৩৭.
‘গীতাঞ্জলি’____সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
  1. ক) ১৯০৮
  2. খ) ১৯১০
  3. গ) ১৯১৩
  4. ঘ) ১৯২০
ব্যাখ্যা
‘গীতাঞ্জলি’ ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। এর ইংরেজী অনুবাদ - Song Offerings প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বরে ইংল্যান্ড থেকে। অনুবাদ করেন কবি নিজেই এবং এর ভূমিকা লিখেন আইরিশ কবি W. B Yeats। এই গ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ প্রথম ভারতীয় হিসাবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,০৩৮.
‘যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।’ উক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী মোতাহের হোসেন
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

⇒ মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৩৯.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক- 
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. চাকা
  3. অবরোধ
  4. রাণী পালঙ্ক
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।

- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।

- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে, 
• 'দণ্ডকারণ্য' (১৯৬৬) নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। এই নাটকে তিনটি পর্ব আছে। যথা-দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য।  
• মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে 'অবরোধ' (১৯৪৭) বিজন ভট্টাচার্য রচিত একটি নাটক।
• দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক ‘রাণী পালঙ্ক’।

--------------------
• সেলিম আল দীন রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো-
- ঘুম নেই,
- সর্প বিষয়ক গল্প,
- মুনতাসির’ 
- কীত্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- ধাবমান‘সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- পুত্র,
- জুলান,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- যৈবতী কন্যার মন,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘চাকা’ নাটক । 

১৩,০৪০.
নিচের কোনটি একটি সার্থক ট্রাজেটি?
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. বিসর্জন
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কৃষ্ণকুমারী নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
অপশনে উল্লিখিত নাটকগুলোতে ট্রাজেডির উপাদান থাকলেও কোনোটিই সার্থক ট্রাজেডি নয়।
১৩,০৪১.
'নীল-দর্পণ' নাটকটি কোন ইংরেজি সাহিত্যের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. Taming of the Shrew
  2. Apple of Discord
  3. Uncle Tom's Cabin
  4. You never can tell
ব্যাখ্যা
নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাত আচরণমূলক নাটক নীলদর্পণ (১৮৬০) এর রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- অনেকেই এই নাটকটিকে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। 
- নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশস্থান, মুদ্রনালয়, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশের সময়  ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে তা প্রকাশিত হয়। 
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরন, তোরাপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী (১৮৬৩),
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬),
- লীলাবতী (১৮৬৭),
- জামাই বারিক (১৮৭২),
- কমলে কামিনী (১৮৭৩) প্রভৃতি।

সামাজিক নাটক:
- সধবার একাদশী
- লীলাবতী 

প্রহসন:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো
- জামাই বারিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৩,০৪২.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন প্রতিষ্ঠানে বাঙালা ভাষার অধ্যাপক ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. প্রেসিডেন্সি কলেজ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী:
চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,০৪৩.
অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন পেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেক্ষাপটে রচিত
 
• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ 
- অমরাবতী
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৪৪.
'কলমসৈনিক' কার উপাধি?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল করিম
  3. আবদুল হক
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

আবদুল হক-এর উপাধি হলো 'কলমসৈনিক'।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে 'কলমসৈনিক' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি ছান্দসিক কবি।
• আবদুল হাকিম মধ্যযুগের বিখ্যাত একজন বাঙালি কবি। তিনি তার রচিত নূরনামা কাব্যের জন্য অধিক পরিচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; প্রথম আলো পত্রিকা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,০৪৫.
বাংলা আধুনিক সাহিত্যে আধুনিকতার জনক কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য হলো মানবতাবাদ, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, নারীমুক্তি ইত্যাদি।
- মাইকেল মুধুসূদন দত্তের কাব্যের মধ্যে সর্বপ্রথম এই বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়।
- ফলে মাইকেল মুধুসূদন দত্তকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার জনক বলা হয়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি।
১৩,০৪৬.
চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. দুই বোন
  3. বউ ঠাকুরানীর হাট
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।
- স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত।
- একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩,০৪৭.
‘অশনি সংকেত’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘অশনি সংকেত’ উপন্যাস: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘অশনি সংকেত’ উপন্যাসের পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘মাতৃভূমি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে বিভূতিভূষণ তাঁর স্বগ্রাম বারাকপুর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহাকুমা শহরে দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- এই উপন্যাসটি সত্যজিৎ রায় একই নামে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন।

----------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর নাম:
- পথের পাঁচালি,
- অপরাজিত,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতি,
- অশনি সংকেত।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।
১৩,০৪৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি কোন জেলা থেকে আবিষ্কার করেন?
  1. কাঁকিল্যা
  2. হুগলি
  3. বর্ধমান
  4. বাঁকুড়া
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে।
- রাধা ও কৃষ্ণের প্রেম নিয়ে এই কাব্যটি রচিত হয়েছে। এটি ১৩ খণ্ডে বিভক্ত।
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৪৯.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা - আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
 
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৫০.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৫১.
‘তিন সঙ্গী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পসংকলন
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• তিন সঙ্গী:
- রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় ‘তিনসঙ্গী’ (১৯৪০) নামের গ্রন্থে।
- রবীন্দ্রনাথের তিন সঙ্গী গল্পসংকলনে তিনটি গল্প আছে।

এই সংকলনের গল্পগুলো হলো:
- রবিবার,
- শেষকথা ও
- ল্যাবরেটরি।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৫২.
সুফিয়া কামাল রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. মায়া কাজল
  3. কেয়ার কাঁটা
  4. উদাত্ত পৃথিবী
ব্যাখ্যা
• "কেয়ার কাঁটা" সুফিয়া কামাল রচিত একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

----------------
• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন। তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম মহিলা সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৫৩.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে” কোন কবিতার চরণ?
  1. ক) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  2. খ) লোক লোকান্তর
  3. গ) রক্তে আমার অনাদি অস্থি
  4. ঘ) কবিতা, তোমার দরজায়
ব্যাখ্যা
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে”- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা,
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা। 
১৩,০৫৪.
'আর কতদিন' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
•  'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখ প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল।
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৫৫.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) সতেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দের রাজা' ও 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ-
- কুহু ও কেকা,
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম-শিখা,
- ফুলের ফসল,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতী,
- কাব্য সঞ্চয়ন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৫৬.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

ভাত দে হারামজাদা:
- রফিক আজাদের বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'।
- এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষকালে খ্যাতি পাওয়া রফিক আজাদের কবিতা।

ভাত দে হারামজাদা
রফিক আজাদ

ভীষণ ক্ষুধার্ত আছি, উদরে, শরীরজুড়ে বেপর
অনুভূত হতে থাকে-প্রতিপলে-সর্বগ্রাসী ক্ষুধা
অনাবৃষ্টি যেমন চৈত্রের শস্যক্ষেতে জ্বেলে দেয়
প্রচণ্ড দাবানল-তেমনি ক্ষুধার জ্বালা, জ্বলে দেহ
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে মোটে নেই অন্য কোনো দাবি
অনেকে অনেককিছু চেয়ে নিচ্ছে, সকলেই চায়;
বাড়ি, গাড়ি, টাকা কড়ি-কারো বা খ্যাতির লোভ আছে
আমার সামান্য দাবি পুড়ে যাচ্ছে পেটের আগুনে-
ভাত চাই-এই চাওয়া সামান্য দাবি বা গরিব
সরু বা দারুণ মোটা রেশনের লাল চাল হলে
কোন ক্ষতি নেই-মাত্র খানিক ভাত চাই;
দু’বেলা দু’মুঠো পেলে ছেড়ে দেবো অন্য-সব দাবি।

উল্লেখ্য,
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- রফিক আজাদ মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,০৫৭.
'হিতকরী' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৫৮.
'যে অরণ্যে আলো নেই' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'যে অরণ্যে আলো নেই' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
-নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
- তিনি ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি খুলনার বাগেরহাটে জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
এক পথ দুই বাক,
কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৫৯.
‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. শিশুতোষ প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প: 
- ‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মৌচাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এ গল্পটি।
- ভূত-বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরাজমান কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে তা তুলে ধরেছেন।
- এ গল্পে তিনি দেখিয়েছেন বিজ্ঞানবুদ্ধির জয়। কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে মানুষ নানা অশরীরী শক্তির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে বিভ্রামত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষকে যদি বিজ্ঞান চেতনা দিয়ে ঘটনা বিশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে ঐসব বিশ্বাসের অমতঃসারশূন্যতা ধরা পড়ে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে নগেন-চরিত্রের মধ্যে ভূত-বিশ্বাসের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তারের মধ্যকার বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে স্পষ্ট করে তুলেছেন নগেনের বিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভিত্তিহীনতাকে।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
 - চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 
 
• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প।
১৩,০৬০.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. দক্ষীণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- দীনেশচন্দ্র সেন। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৬১.
শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে লেখা কবিতা কোনটি?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. স্মৃতিস্তম্ভ
  3. বর্ণমালা, আমার দুঃখীনি বর্ণমালা
  4. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি ৫২ এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকায় নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার ভাঙার প্রতিবাদে লেখা।
- মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

কবিতার কিছু অংশ নিম্নরূপ-

স্মৃতিস্তম্ভ,
আলাউদ্দিন আল আজাদ।
স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে। (সংক্ষেপিত)

----------------------
অন্যদিকে,
• একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

• 'বর্ণমালা, আমার দুঃখীনি বর্ণমালা' কবিতাটি শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের অন্তুর্গত।

• ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আলাউদ্দিন আল আজাদ জীবন সাহিত্য, সম্পাদনা সিকদার আবুল বাশার।
১৩,০৬২.
'রংপুর বার্তাবহ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ
  4. গুরুচরণ শর্মা রায়
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র 'রংপুর বার্তাবহ'।
- এর সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
- এটি ১৮৪৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ঢাকা প্রকাশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,০৬৩.
কোনটি কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  2. জীবন আমার বোন
  3. একটি কালো মেয়ের কথা
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'উপমহাদেশ' উপন্যাস: 
- 'উপমহাদেশ’ কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জীবনচিত্রকে আশ্রয় করে লেখা উপন্যাসটিকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা না গেলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা, হিংস্রতা, যুদ্ধের মাঝে প্রেম, দেশপ্রেম সব কিছুরই প্রতিচ্ছবি সত্যনিষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন লেখক।

-----------------------
• কবি আল মাহমুদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

অন্যদিকে, 
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।
• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে -কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টকে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'উপমহাদেশ' উপন্যাস।

১৩,০৬৪.
মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকা -
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. হিতকরী
  3. সাধনা
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে,
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- ’সাধনা’ পত্রিকা জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মোসলেম ভারত‘।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৬৫.
”কাঁদো নদী কাঁদো” উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

'কাঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮) উপন্যাসটির রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
---------------------------------------
কাঁদো নদী কাঁদো:
- কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত।
- উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাঁকাল নদীর তীরে অবস্থিত কুমুরডাঙ্গা শহরের মানুষের জীবন ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।
- নদীটি পলি জমে মৃতপ্রায় হওয়ায় স্টিমারঘাট সরানো হয়, যা শহরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সংকট সৃষ্টি করে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মুহাম্মদ মুস্তাফা।
- তার বাবা খেদমতউল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন ছেলে উকিল হোক।
- বাবার মৃত্যুর পর মুস্তাফা বহু কষ্টের মধ্য দিয়ে শিক্ষালাভ করে সেই স্বপ্ন পূরণ করে।
- উপন্যাসটি চেতনাপ্রবাহ রীতিতে লেখা, যেখানে মুস্তাফার জীবন ও অবচেতন মন তবারক ভুঁইয়া নামের স্টিমারযাত্রীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে নদীর মৃত্যু, শহরের সংকট, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও চেতনাপ্রবাহের মাধ্যমে মানুষের জীবনের করুণতা ও বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল।
----------------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
 - সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৬৬.
'কলমসৈনিক'— কার উপাধি?
  1. আবদুল হক
  2. আবদুল করিম 
  3. মালাধর বসু
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• 'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,০৬৭.
‘রবীন্দ্রনাথ’ নামক গবেষণামূলক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. এম মতিউর রহমান মামুন
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা

- 'রবীন্দ্রনাথ' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত গবেষণামূলকগ্রন্থ।
 -তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

গবেষণামূলক প্রবন্ধ:
- জীবনানন্দ দাশের কবিতা (১৯৭৪).
- নজরুর ইসলাম: কবি ও কবিতা,
- করতলে মহাদেশ (১৯৭৯),
- ছন্দ (১৯৮৫),
- রবীন্দ্রনাথ (২০০১),
- আবদুল গনি হাজারী (১৯৮৯),
- সৈয়দ মুর্তজা আলী (১৯৯০),
- প্রবোধচন্দ্র সেন ((১৯৯৪)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৬৮.
কোন গবেষক সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন?
  1. ক) বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. খ) ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
Source: Banglapedia

১৩,০৬৯.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. দেনা-পাওনা
  3. গৃহদাহ
  4. পথের দাবী
  5. কোনোটিই
ব্যাখ্যা
"চরিত্রহীন" উপন্যাস:
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।

• গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

• সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৭০.
'শ্রীকান্ত শর্মা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
• 'কমলাকান্ত' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৭১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. ক্ষিতিমোহন সেন
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'কবিগুরু':
ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন, যা তাঁর কাব্যিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই দেওয়া হয়েছিল।  

উল্লেখ্য,
------------------
• 'গুরুদেব':
মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বৌদ্ধিক নেতৃত্ব ও প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

• 'বিশ্বকবি': 
"বিশ্বকবি" পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• 'ভারতের মহাকবি':
'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চীনের কবি চি লিজন দিয়েছিলেন। এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'আমর ছেলেবেলা' বুদ্ধদেব বসু।

১৩,০৭২.
'আজ রবিবার' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জিয়া হায়দার
  2. খ) মাসুম রেজা
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'আজ রবিবার' নাটকটির রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ। 

হুমায়ুন আহমেদের প্রথম টেলিভিশন নাটক - প্রথম প্রহর (১৯৮৩, পরিচালনা- নওয়াজেস আলী খান)।
তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক - "এইসব দিনরাত্রি" বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
- বহুব্রীহি (কমেডি),
- অয়োময় (সামাজিক-ঐতিহাসিক),
- কোথাও কেউ নেই (নাগরিক জীবনভিত্তিক),
- আজ রবিবার (পারিবারিক-সামাজিক),
- নক্ষত্রের রাত (আধুনিক জীবনসমস্যা) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৭৩.
উপন্যাস কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. ক) সর্বযুগের
  2. খ) আধুনিক যুগের
  3. গ) প্রাচীন যুগের
  4. ঘ) মধ্যযুগের
ব্যাখ্যা
• উপন্যাস আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

প্রাচীন ও মধ্যযুগে মহাকাব্য লেখা হত। কিন্তু আধুনিক যুগে গদ্যের প্রচলন হলে মহাকাব্যের স্থান দখল করে উপন্যাস।
- তাই উপন্যাসকে বলা হয় আধুনিক যুগের মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৭৪.
‘নীলাঞ্জনার খাতা’ ও ‘লালমেঘ’ উপন্যাসসমূহ কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. শওকত আলী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• ‘নীলাঞ্জনার খাতা’ ও ‘লালমেঘ’ বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।
 
• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।
 
• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।
 
• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘তিথিডোর’ উপন্যাসের ভূমিকা।
১৩,০৭৫.
পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসীদের চরদখল ও জীবন-সংগ্রাম নিয়ে আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. পদ্মাপাড়
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি'। 
• "পদ্মা মেঘনা যমুনা" আবু জাফর শামসুদ্দীনের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
• "পদ্মাপাড়" জসীমউদ্‌দীনের লেখা একটি জনপ্রিয় নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৭৬.
'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' কে লিখেছেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) রামমোহন রায়
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৫৩ সালের ৬ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদ্রবারগ্নথাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়
- মেঘদূত
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
- বেণের মেয়ে
- কাঞ্চনমালা 
- প্রাচীন বাংলার গৌরব
- বৌদ্ধধর্ম 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১৩,০৭৭.
"হায়ওয়ান আলী" চরিত্রটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন সাহিত্যকর্মের?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৭৮.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
কচিপাতা, ত্রিস্রোতা, দৃষ্টিকোণ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস), অতীত দিনের স্মৃতি (আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ) ইত্যাদি গ্রন্থাবলীর রচয়িতা আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৭৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস কোনটি?
  1. দুইবোন
  2. যোগাযোগ
  3. চোখের বালি
  4. গোরা
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,০৮০.
কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র "জাহেদুল করিম"?
  1. কালো বরফ
  2. অশরীরী
  3. জীবন আমার বোন
  4. মাটির জাহাজ
ব্যাখ্যা

জীবন আমার বোন:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- কালো বরফ, 
- জীবন আমার বোন, 
- অনুর পাঠশালা, 
- নিরাপদ তন্দ্রা, 
- অশরীরী, 
- চিক্কোর কাবুল, 
- খেলাঘর, 
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩,০৮১.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কি ধরনের রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্যনাটক
  4. ঘ) পত্রোপন্যা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যঃ
- গণনায়ক,
- নুরুলদীনের সারাজীবন (ফকির বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত),
- এখানে এখন,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,০৮২.
'প্রফুল্ল' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল‌।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীর কাসিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- মায়াবসান,
- বলিদান,
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- লক্ষ্ণণ বর্জন,
- সীতাহরণ,
- জনা, 
- শঙ্করাচার্য,
- মুকুলমুঞ্জরা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৮৩.
“আরো দুটি মৃত্যু” - কার রচিত গল্প?
  1. ক) সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমান অমর হয়ে আছেন ভাষা আন্দোলনের পর প্রথম প্রকাশিত সাহিত্য সংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারী” ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ( ১৯৮২-৮৩) সম্পাদনা করে। তার রচিত কবিতাঃ আর্ত শব্দাবলী, বিমুখ প্রান্তর, অন্তিম শরের মত, শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৮৪.
বাংলা সাহিত্যের 'অবক্ষয় যুগ' এর সময়কাল-
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
⇒ যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৩,০৮৫.
‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. সাদা হাওয়া
  3. নক্সী কাাঁথার মাঠ
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
• উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।
• উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।
• ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসের কিছু উক্তি হলো:
• ‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- করমালীর উক্তি।
• ‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’-করমালীর উক্তি।
• ‘হেই পুলা, তুই আমার নাওয়ে যাইবি? আমি খালে-বিলে জাল লইয়া ঘুরি, মাছ ধরি- মাছ বেচি, নাওয়ে রান্ধি-নাওয়ে খাই।’ উক্তিটি কিশোরের।
• ‘মনের মত মানুস পাইলাম না।’ উপন্যাসে উক্তি বলেছেন জনৈক মালো যুবক।

------------------------------
• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি নয় কোনটি?
  1. ক) যাত্রী
  2. খ) জাপান যাত্রী
  3. গ) পথে ও পথের প্রান্তে
  4. ঘ) পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি 
- ইউরোপপ্রবাসীর পত্র
- ইউরোপযাত্রীর ডায়রি
- জাপান যাত্রী 
- যাত্রী 
- রাশিয়ার চিঠি 
- জাপানে পারস্যে
- পথে ও পথের প্রান্তে 
- পথের সঞ্চার। 

অন্যদিকে
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত - পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ যা ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৮৭.
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) হলদে পরীর দেশ
  3. গ) যে দেশে মানুষ বড়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন রচিত কয়েকটি ভ্রমণকাহিনী:
- যে দেশে মানুষ বড়,
- হলদে পরীর দেশ ও
- চলে মুসাফির

আত্মজীবনী
- জীবন কথা

স্মৃতিকথা
- যাঁদের দেখেছি ও ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়

জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৮৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বিলাসিনী
  2. বিধুমাস্টার
  3. অভাগীর স্বর্গ
  4. মাস্টারমশায়
ব্যাখ্যা
• "বিধুমাস্টার" বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প। 
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র পিন্টু  ও তার গৃহশিক্ষক বিধুমাস্টার। 

"বিধুমাস্টার" গল্পের সারসংক্ষেপ:
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পিন্টু ও তার ভাই-বোনদের পড়ানোর জন্য বিধুভূষণ চট্টোপাধ্যায় নামে এক গৃহশিক্ষক (বিধুমাস্টার) আসেন। প্রথমে পিন্টু মাস্টারমশাইকে অপছন্দ করত, কারণ তিনি খুবই সাধারণ, লাজুক ও অল্পশিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে মাস্টারমশাই শিশুদের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে তাদের মন জয় করে নেন। তিনি নিজের সামান্য উপার্জন থেকেও ছাত্রদের ঘুড়ি, লাটাই ও কুলফি কিনে দিতেন।

একদিন পিন্টু মাস্টারমশাইয়ের ছোট, জরাজীর্ণ ঘর দেখে তাঁর প্রতি সহানুভূতি বোধ করে এবং ঠিক করে যে মাস্টারমশাই যাতে অযথা খরচ না করেন, তা দেখবে। কিন্তু তার আগেই মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষাগত অযোগ্যতা মেজোকাকার চোখে পড়ে। মেজোকাকা বুঝতে পারেন যে তিনি ভালোভাবে পড়াতে পারেন না, তাই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। পিন্টু বুঝতে পারে যে সে-ই মাস্টারমশাইয়ের ভুলত্রুটি খুঁজে কাকার কাছে বলে বলে তাঁর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ফলে সে তীব্র অপরাধবোধে ভুগতে থাকে

অন্যদিকে, 
• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প 'বিলাসিনী'।
• 'অভাগীর স্বর্গ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছোটগল্প।
• 'মাস্টারমশায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।

উৎস: "বিধুমাস্টার" ছোটগল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৮৯.
'চল্ চল্ চল্' কবিতার কয়টি চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে?
  1. ১৯টি 
  2. ২০টি
  3. ২১টি 
  4. ২৩টি 
ব্যাখ্যা

• রণসংগীত (চল্ চল্ চল্):
- বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এটি ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'নতুনের গান' শিরোনামে ১৯২৮ সালে। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে মূল কবিতার প্রথম ২১টি চরণ গৃহীত হয়েছে।

চল্ চল্ চল্
-কাজী নজরুল ইসলাম
চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্।
চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ।

১৩,০৯০.
'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. আব্দুল গণি হাজারী
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নক্শা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।
- প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,০৯১.
কোনটি বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ?
  1. সংস্কৃতি কথা
  2. সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা।
• শওকত ওসমান রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৯২.
শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসে ‘সব্যসাচী’ চরিত্রটি আছে? 
  1. চরিত্রহীন
  2. বড়দিদি
  3. গৃহদাহ
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

১৩,০৯৩.
'নবনাটক' নাট্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্রে
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. মনোমোহন বসু 
ব্যাখ্যা

• 'নবনাটক':
- সমকালীন সামাজিক দুর্নীতির প্রতি কটাক্ষপাত করে যে সমস্ত নাটক সে সময়ে রচিত হয়েছিল তাদের মধ্যে রামনারায়ণ তর্করত্নের 'নবনাটক' (১৮৬৬) শ্রেষ্ঠ। তাঁর সমস্ত নাটকের মধ্যে একেই পূর্ণ নাট্যমর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।

- ‘বহুবিবাহ প্রভৃতি কুপ্রথা বিষয়ক 'নবনাটক' এই নামকরণের মাধ্যমেই নাটকটির পরিচয় ফুটে উঠেছে। এই নাটকটিও পুরস্কার প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে পর-নির্দেশিত বিষয়ে রচিত। জোড়াসাঁকো নাট্যশালার পক্ষ থেকে গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর এ পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।

- রামনারায়ণ এই নাটক রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। অবশ্য 'নবনাটক’ প্রকাশের আগেই মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও দীনবন্ধু মিত্রের নাটক প্রকাশিত হয়েছিল। রামনারায়ণ তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। নাটকের ভাষা-বিন্যাস ও পরিণতিতে দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণের' প্রভাব লক্ষ করা চলে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩,০৯৪.
আব্দুল কাদির রচিত কবিতা কোনটি?
  1. ক)  উত্তর বসন্ত
  2. খ) আকাশনীলা
  3. গ) রূপালি স্নান
  4. ঘ) শোকার্ত তরবারি
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির, কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দোবিশারদ, সম্পাদক।
১৯০৬ সালের ১ জুন কুমিল্লা জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭), ও

প্রবন্ধগ্রন্থ
- কবি নজরুল (১৯৭০
- লোকায়িত সাহিত্য
- কাজী আব্দুল ওদুদ

- 'আকাশনীলা' কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ। 
- 'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
- 'শোকার্ত তরবারি' কবিতার রচয়িতা  হাসান হাফিজুর রহমান। 
 
১৩,০৯৫.
'প্রদীপ নিবিয়া গেল।' উক্তিটি কার?
  1. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’
  2. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ'
  3. বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা'
  4. রবীন্দ্রনাথের ‘যোগাযোগ'
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
• এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে নবকুমার ও কপালকুণ্ডলা।
• এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তিঃ
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।’ (কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে)
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) য়ুরােপ প্রবাসীর পত্র
  2. খ) জাভাযাত্রীর পত্র
  3. গ) য়ুরােপ যাত্রীর ডায়রী
  4. ঘ) জাপানযাত্রীর পত্র
ব্যাখ্যা
১৮৭৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান ইংরেজি সাহিত্য পড়তে। সেই ইংল্যান্ড বাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা পত্রগুলাের সংকলন হচ্ছে- য়ুরােপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনী। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গদ্যগ্রন্থ তথা চলিত ভাষায় লেখা প্রথম গ্রন্থ। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৩,০৯৭.
একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি ?
  1. ক) ওরা কদম আলী
  2. খ) নেমেসিস
  3. গ) রক্তকরবী
  4. ঘ) চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস'।
- ১৯৩৯-'৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লিখেন। 
- 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়। 
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। 
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের একক চরিত্র বিশিষ্ট
- অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর সুলতা, ম্যানাজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তবচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

উল্লেখ্য,
- নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটকে এক বোবা চরিত্রের মাধ্যমে গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্যে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান পাধান্য পেয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সাংকেতিক নাটকে' ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের এবং মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩,০৯৮.
‘দত্তা’ উপন্যাসটি কি নামে নাট্যায়িত হয়?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) বিজয়া
  3. গ) রমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসঃ দেনা পাওনা (১৯২৩): ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নারীদের প্রতি অবিচার ও পণপ্রথার কদর্যরূপ দর্শিত হয়েছে। জীবনানন্দ ও ষোড়শী উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “ষোড়শী” নামে নাট্যায়িত হয়। দত্তা (১৯১৮): উপন্যাসটি “বিজয়া” নামে নাট্যায়িত হয়। বনমালী, রাসবিহারী, বিজয়া, নরেন্দ্র ইত্যাদি প্রধান চরিত্র। পল্লী সমাজ (১৯১৬): রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম ইত্যাদি প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “রমা” নামে নাট্যায়িত হয়।
১৩,০৯৯.
বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন কোন গল্পে?
  1. অপরিচিতা 
  2. ল্যাবরেটরি
  3. শেষকথা
  4. রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
ব্যাখ্যা

• ল্যাবরেটরি:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৩,১০০.
'অশোকসঙ্গীত' কে রচনা করেছেন? 
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কামিনী রায়
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।