বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৭৪ · ১,২০১১,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১,২০১.
সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে দক্ষশিল্পী ছিলেন-
  1. আহমদ ছফা
  2. আবুল ফজল
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন এবং আমৃত্যু এই দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী। শহরের পাশাপাশি গ্রামজীবনের দ্বন্দ্বসঙ্কুল পটভূমিও তাঁর উপন্যাস ও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।

অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
• উপন্যাস:
জননী (১৯৩৫), দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬), শহরতলী (১৯৪০-৪১), চিহ্ন (১৯৪৭), চতুষ্কোণ (১৯৪৮), সার্বজনীন (১৯৫২), আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি। 

• ছোটগল্প:
অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ (১৯৩৯), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া (১৯৪৫), আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০), ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২০২.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কত সালে এবং কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে কলকাতা থেকে
  2. ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে
  3. ১৮৫৯ সালে কলকাতা থেকে
  4. ১৮৬১ সালে ঢাকা থেকে
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২০৩.
কোন কবি মুকুন্দদাস'কে চারণকবির মর্যাদা দেন?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. আলাওল
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৪.
নিচের কোনটি সরদার জয়েন উদ্‌দীন এর ছোটগল্প?
  1. ক) রোদের ঢেউ
  2. খ) নয়ন ঢুলি
  3. গ) বেগম শেফালী মীর্জা
  4. ঘ) সূর্যের আশা
ব্যাখ্যা
নয়ন ঢুলি - সরদার জয়েনউদ্‌দীন এর ছোটগল্প।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ২২শে ডিসেম্বর ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ

ছোটগল্প:
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্টপ্রহর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৫.
কোন কাহিনী অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত “পদ্মাবতী” নাটক রচনা করেন?
  1. হিন্দু পুরাণ
  2. মহাভারতের কাহিনী
  3. গ্রীক পুরাণ
  4. রামায়ণের কাহিনী
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' - নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়।
- ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প ''Apple of Discord'' এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১,২০৬.
'ললিতা তথা মানস' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৭.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচনা কোনটি?
  1. ক) নয়নচারা
  2. খ) স্বজাতি প্রেম 
  3. গ) অনেক আকাশ
  4. ঘ) নির্ভয় করো হে
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২০৮.
‘ভারতী’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন —
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সরলা দেবী
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৯.
কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত?
  1. ক) ছাড় নেই
  2. খ) পালাবদল
  3. গ) পূর্ব বাংলা
  4. ঘ) পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
• মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,২১০.
'কবিতার কথা' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা সংকলন
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'কবিতার কথা' প্রবন্ধসংকলন।
-----------------------------------------
কবিতার কথা:
- কবিতার কথা জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই প্রবন্ধগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এতে তাঁর জীবদ্দশায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত পনেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- গ্রন্থটি গদ্যরূপে রচিত।
- এই প্রবন্ধে তিনি কবিতা, কবির দায়িত্ব, আধুনিক কবিতা, চিত্রকল্প ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর মৌলিক চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে চেয়েছেন। 
- এটি কোনো সৃজনশীল কবিতা নয়, এই প্রবন্ধসংকলনে তিনি কবিতার তত্ত্ব ও রূপ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন।
---------------------------------------------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- জীবনানন্দ দাশের কাব্যচর্চা শুরু হয় অল্পবয়স থেকেই।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা বর্ষ-আবাহন ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় ১৯১৯ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর কবিতায় নিঃসঙ্গতার এক স্বতন্ত্র জগৎ ফুটে ওঠে।
- জীবনানন্দ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি, যিনি অতীত ও বর্তমানকে ইতিহাসচেতনার মাধ্যমে সংযুক্ত করেছেন। - তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার লাইনগুলিতে প্রকৃতি, মানবিক অনুভূতি এবং ইতিহাসচেতনার গভীরতা ফুটে উঠেছে।
- যেমন:
• বনলতা সেন–এর "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা"।
• আবার আসিব ফিরে–এর "ধানক্ষেতের আঁধার-মাঝি, চিল"।
• ধূসর পাণ্ডুলিপি–এর "অনেক ফেনার গন্ধ পৃথিবীর পুরোনো ভাঁড়ার ভরে গেছে"।
- যদিও জীবদ্দশায় তিনি খুব পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু মৃত্যুর পর বিশেষত ১৯৯৯ সালে জন্মশতবার্ষিকী পালনের পর তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,২১১.
কোনটি 'জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

 'যে দেশে মানুষ বড়'
- 'জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে পল্লীকবি জসীম উদদীনের ভ্রমণ কাহিনী ‘যে দেশে মানুষ বড়’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- বইটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহর, লেনিন স্মৃতি মিউজিয়াম, পায়নিয়ার সেন্টার, কৃষিখামার, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও এলাকার বর্ণনা রয়েছে। 
- এছাড়াও, তিনি সেখানে তাজিকিস্তান, সমরকন্দ, দুম্বার মতো স্থানগুলো ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর চিত্র তুলে ধরেন।
- বইটি মূলত একটি ভ্রমণকাহিনী যেখানে কবি তাঁর দেখা ও অনুভবের কথা তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে,
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি 'বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন'। বইটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

-'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়।

- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত একটি ভ্রমণকাহিনি।এটি ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে লেখকের আফগানিস্তানে ভ্রমণ ও অবস্থানের প্রেক্ষিতে রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২১২.
কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রাজসিংহ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘পলাশির যুদ্ধ’ এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
• ‘শর্মিষ্ঠা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।

---------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' কে লিখেছেন?
  1. ক) রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) লিখেছেন রামরাম বসু।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য এই গ্রন্থটি লিখেন৷
তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে আমৃত্যু জড়িত ছিলেন।
তিনি কেরী সাহেবের মুনসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,২১৪.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. আবার আসিব ফিরে
  3. বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
• 'আবার আসিব ফিরে' জীবনানন্দের কাব্যগ্রন্থ নয়। 
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- কবিতায় মানুষের শিশু ও কিশোর-কালের উল্লেখ আছে।

---------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' উপন্যাস:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১,২১৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম কী?
  1. ক) কিশোরী
  2. খ) মালা
  3. গ) বাসন্তী
  4. ঘ) রাখী
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম- 'বাসন্তী'। 

‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৭.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি?
  1. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. পূজারিণী
  3. অবেলার ডাক
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা

•'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কবিতা:
- এই কবিতার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
- কবিতাটি 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়ছে।

• 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, 
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও দোলনচাঁপা ও সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ।

১,২১৮.
'অধ্যাপক রায়হান' চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. ক) বসত
  2. খ) যাত্রা
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) দলিল
ব্যাখ্যা
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান

-----------------------

শওকত আলী
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। 

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন 
- কুলায় কালস্রোত
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
- যেতে চাই
- ওয়ারিশ
- বাসর মধুচন্দ্রিমা
- উওরের খেপ
- বসত
- হিসাবনিকাশ
- দলিল
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: যাত্রা শওকত আলী; কালি ও কলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২১৯.
রবীন্দ্রনাথের বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গের ঘটনায় কবি নজরুল উল্লসিত হয়ে কোন কবিতাটি রচনা করেন?
  1. পূজারিণী
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  4. সালাম অস্তরবি
ব্যাখ্যা
• নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্যটি কবি নজরুলকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

• সমকালীন অনেক রবীন্দ্রভক্ত ও অনুরাগী কবি-সাহিত্যিক বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন নি। এ ব্যাপারে কেউ কেউ অভিযোগ করলে রবীন্দ্রনাথ তাঁদের নজরুল-কাব্যপাঠের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ‘...যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।’

• পরবর্তীতে 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ-

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

----------------
অন্যদিকে,
• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।
১,২২০.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস
  2. দিনলিপি
  3. সম্পাদনা গ্রন্থ
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।

• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
১,২২১.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-
  1. উৎস থেকে নিরন্তর
  2. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  3. যাপিত জীবন
  4. খোলকরতাল
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

----------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১,২২২.
’বিধ্বস্ত নীলিমা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. আব্দুল কাদির খান
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২৩.
‘বাঁশরী আমার হারিয়ে গেছে বালুর চরে, কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া গাঁয়ের ঘরে।’ এটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) ইদ্রিস আলী
  2. খ) গোবিন্দ চন্দ্র দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
‘বাঁশরী আমার হারিয়ে গেছে বালুর চরে, কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া গাঁয়ের ঘরে। উক্তিটি ’জসীমউদ্দীন' এর রচনা। 
--------------------
উল্লেখ্য,
'বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে' কবিতাটি কবির 'রঙিলা নায়ের মাঝি' গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।

রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন এর অন্তর্গত সংগীত গুলো: 
- আজ আমার মনে ত না মানেরে।
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে।
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি।
- উজান গাঙের নাইয়া।
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া।
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে।
- ও মোহন বাঁশী।
- নদীর নাই-কিনার নাইরে।
-নিশিতে যাইও ফুলবনে। 
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে।
- সিন্দুরের বেসাতি।

বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
- জসীম উদ্‌দীন

বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
বালুর চরে,
কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া
গাঁয়ের ঘরে।
কোমল তৃণের পরশ লাগিয়া,
পায়ের নুপুর পড়িয়াছে খসিয়া।
চলিতে চরণ ওঠে না বাজিয়া
তেমন করে।
কোথায় খেলার সাথীরা আমার
কোথায় ধেনু,
সাঝেঁর হিয়ায় রাঙিয়া উঠিছে
গোখুর-রেণু।
ফোটা সরিষার পাঁপড়ির ভরে
চরো মাঠখানি কাঁপে থরে থরে।
সাঁঝের শিশির দুচরণ ধরে
কাঁদিয়া ঝরে।

উৎস: 
রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন।
১,২২৪.
আবদুল কাদিরের উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কলমসৈনিক
  2. ছান্দসিক কবি
  3. শৈল্পিক কবি
  4. কলমগীর
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• 'কলমগীর' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এর উপাধি।

আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,২২৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'বহিপীর' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৫ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।
-----------------------

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বহিপীর উজানে মৃত্যু,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,২২৬.
'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস':
• মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত গ্রন্থ 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস'। 

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' দৈনিক বাংলা কাগজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি -এই নয় মাস দেশের বাইরে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে অনুপ্রেরণা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন। মুজিবনগর সরকারের সাপ্তাহিক মুখপত্র 'জয় বাংলার' নির্বাহী সম্পাদক এবং স্বাধীন বাংলা বেতারে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে তাঁর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হয়েছে এই বই। এটা শুধু তাঁর দেশ ত্যাগের পরের কাহিনিই নয়। আগের চারমাসের কাহিনিও এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।

• ১৯৭২ সালে 'দৈনিক বাংলা' প্রত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। মুক্তিযুদ্ধ সফল হওয়ার পর আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী দেশে ফিরে এসে, একদিন দৈনিক বাংলা অফিসে যেতেই তোয়াব খান বললেন, আপনি যে নয়মাসের মতো মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হয়ে দেশের বাইরে কাটিয়ে এলেন সে সম্পর্কে একটা ধারাবাহিক লেখা আমাদের দিন। তাঁর অনুরধেই গ্রন্থটি রচনা করা হয়। 

উৎস: 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
১,২২৭.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. যাত্রা
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় 'যাত্রা'।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: 

- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

------------------
• শওকত আলী:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
১,২২৮.
‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজলের কী ধরণের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. দিনলিপি
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ‘রেখাচিত্র’ — আবুল ফজল রচিত একটি — দিনলিপি।  
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, 
- ‘রেখাচিত্র’ গল্পের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২২৯.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- তাঁর রচনার বিশেষত্ব ছিল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৩০.
'পঞ্চগ্রাম' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- আরোগ্য নিকেতন, চাপাডাঙ্গার বউ, একটি কালো মেয়ের কথা, সপ্তপদী, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, কবি, কালিন্দী, চৈতালি ঘূর্ণি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২৩১.
বাল্যকালে 'তারা ক্ষ্যাপা' নামে ডাকা হতো কোন লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।

- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। 

উৎস: কবি নজরুল জীবনী; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩২.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ভ্রমণ কাহিনী
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস -
  1. উজানে মৃত্যু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. সুড়ঙ্গ
  4. তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। এইসকল চরিত্রের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ও কুমুরডাঙার শাহরিক পরিবেশ এর বর্ণনা।
- এই উপন্যাসে ধর্মের নামে আচার-সর্বস্বতা, বিজ্ঞানের নামে অদৃষ্টবাদিতা এবং বাস্তবতার নামে স্বপ্ন -কল্পনা ইত্যাদির বিরুদ্ধচারণ দেখা যায়।
- উপন্যাসে ব্যক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুখ দুঃখ নিয়ে সামষ্টিক অভিজ্ঞান রচিত হয়েছে। এবং নদী হয়ে উঠেছে সামূহিক জীবনবাদী চেতনার প্রতীক।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৪.
নিচের কোনটি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) হযরত মুহাম্মদ
  2. খ) জাতীয় ফোয়ারা
  3. গ) অপূর্ব দর্শন
  4. ঘ) জোহরা
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের জোহরা কাব্যগ্রন্থ নয় এটি উপন্যাস।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক : 
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন , 
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম : 
- জোহরা
- দরাফ খান গাজী।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর নাম : 
- ফেরদৌসী-চরিত
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক -
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. এক পয়সার বাঁশি
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মাপাড়’ জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়।
---------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি - জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ।
- পুতুলের বিয়ে - কাজী নজরুল ইসলামের নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়।
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ - নয়নচারা।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - উজানে মৃত্যু এবং সুড়ঙ্গ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর কোন গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন?
  1. শকুন্তলা
  2. বর্ণপরিচয়
  3. আখ্যান মঞ্জরী
  4. বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- বাংলায় যতি/ছেদ চিহ্নের প্রবর্তক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার দেখান।

- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৮.
"মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. বিদ্যাপতি 
ব্যাখ্যা

• "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মরণ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

----------------------------
• 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্য:

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ।

১,২৩৯.
প্রমথ চৌধুরীর সাথে 'ইন্দ্রাদেবী' কীভাবে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. ভাইয়ের মেয়ে
  2. কন্যা
  3. ভগ্নী
  4. সহধর্মিণী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারি কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,২৪০.
'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।' উক্তিটির স্রষ্টা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি, 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।'

উৎস: পোস্টমাস্টার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,২৪১.
"দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• "দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের 'সম্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতার অন্তর্গত।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সদ্ভাবশতক' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

দুঃখ বিনা সুখ হয় না
কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪২.
ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান 
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান

• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৪ জুন ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল ‘বিমুখ প্রান্তর’।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” (১৯৫৩)–এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” (১৯৮২–৮৩) সম্পাদনার কাজও পরিচালনা করেন।

- তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• আধুনিক কবি ও কবিতা,
• মূল্যবোধের জন্য, 
• সাহিত্য প্রসঙ্গ, এবং 
• আলোকিত গহ্বর। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
• বিমুখ প্রান্তর, 
• প্রতিবিম্ব, 
• অন্তিম শহরের মতো, 
• যখন উদ্যত সঙ্গীন, 
• আর্ত শব্দাবলী, 
• ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী, ও
 • শোকার্ত তরবারি।

- আরো দুটি মৃত্যু তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,২৪৩.
নিচের কোনটি সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প?
  1. ওটেন সাহেবের বাংলো
  2. গো হাকিম
  3. নওল কিশোরের দরবারে
  4. পাগলা দাশু
ব্যাখ্যা

• 'নওল কিশোরের দরবারে' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প।
- গ্রন্থটে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

• সুফিয়া কামাল:

-'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

অন্যদিকে, 
• 'ওটেন সাহেবের বাংলো'- শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
• 'গো হাকিম' আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষগ্রন্থ 'পাগলা দাশু'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৪৪.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচনা করেন কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আব্দুল হাকিম
  3. কায়কোবাদ
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৫.
দাদা ভাই'র আসল নাম কি ছিল?
  1. আল-মুতী শরফুদ্দিন
  2. শওকত ওসমান
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন গুপ্ত ও রোকনুজ্জামান খান উভয়ই 'দাদা ভাই' নামে পরিচিত ছিলেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম হলো:
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - বনফুল।
• সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - সুবচনী।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৬.
হুমায়ুন কবির রচিত 'নদী ও নারী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং
- একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৭.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. পঞ্চপুণ্ডলী
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওঙ্কার
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা
-  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• আহমদ ছফার ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস - ওঙ্কার।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য - পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৯.
‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শাহেদ আলী
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা


• ‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থ: 

- রচয়িতা: শাহেদ আলী। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্প: 
- ঐ যে নীল আকাশ,
- ফসল তোলার কাহিনী,
- জিবরাইলের ডানা, 
- এলোমেলো।
-------------------- 
• শাহেদ আলী:

- তিনি ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও লেখক ।
- শাহেদ আলী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাহমুদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২৫ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শাহেদ আলী পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন।
- ৯৪০ সালে তিনি যখন মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত, তখন তাঁর প্রথম গল্প ‘অশ্রু’ মাসিক সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থের জন্য তাঁর অনেক খ্যাতি রয়েছে।
- তাঁর একমাত্র নাটিকা বিচার (১৯৮৭) নাট্যমহলে সমাদৃত হয়।
- ১৯৪৮ সাল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সৈনিক (ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শাহেদ আলী ঢাকা ও কলকাতার সাময়িকীতে লিখতেন। 

তাঁর রচিত ছয়টি গল্পগ্রন্থ:
- জিবরাইলের ডানা,
- একই সমতলে,
- শা’নযর,
- অতীত রাতের কাহিনী,
- অমর কাহিনী এবং
- নতুন জমিদার।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫০.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছর নিযুক্ত ছিলেন কোন পঞ্চপাণ্ডব?
  1. বিষ্ণু দে
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য। 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫১.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) কাশবনের কন্যা
  3. গ) কুচবরণ কন্যা
  4. ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
'ধানকন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ।

- আলাউদ্দিন আল আজাদ শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা 
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত আমার স্বপ্ন,
জীবন জমিন প্রভৃতি।

কাবগ্রন্থগুলি:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- কর্ণফুলী
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
- ক্ষুধা ও আশা 
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫২.
অচলা ও সুরেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পল্লীসমাজ
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) দত্তা
  4. ঘ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের রচিত্র।
নরেন ও রমা দত্তা উপন্যাস,
সতীশ ও কিরণময়ী চরিত্রহীন উপন্যাস এবং
রমেশ ও রমা পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

১,২৫৩.
'একটি তুলসী গাছের কাহিনি' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• একটি তুলসী গাছের কাহিনি:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই গল্পটি ‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- দেশভাগের সময় কলকাতা থেকে কিছু সংখ্যালঘু মুসলমান এদেশে এসে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
- কদিনের মধ্যেই তারা জানতে পারে বাড়িটি এদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিত্যক্ত। এ বাড়ির লোকেরাও প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।
- বাড়িতে একটি তুলসী গাছ আবিষ্কার হয়। এরকম কাহিনি নিয়েই গল্পটি সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।
- গল্পটির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানুষের নিজস্ব জীবন যখন বিপন্ন ও অর্থহীন, তখন তার পারিপার্শ্বিক অনুষঙ্গসমূহও হয়ে পড়ে গুরুত্বহীন।
- দেখা যায় দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৪.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত প্রথম সার্থক গীতিকবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত
  3. সারদা মঙ্গল
  4. নিসর্গ
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-  রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. রাবণবধ
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক 'শর্মিষ্ঠা'।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়। মধুসূদন পরে 'শর্মিষ্ঠা'র ইংরেজি অনুবাদও করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- যযাতি,
- দেবযানি,
- শর্মিষ্ঠা,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- শকুন্তলা (১৮৫৪)। এটি সংস্কৃত কবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটকের 'আভজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের উপখ্যান ভাগের অনুবাদ।

• তারাচরণ শিকদার রচিত 'ভদ্রার্জুন' নামক মৌলিক নাটকটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়। 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত পৌরাণিক নাটক 'রাবণবধ'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা অ সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫৬.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়?
  1. ছায়ানট
  2. চক্রবাক
  3. রন্দ্রমঙ্গল
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের রচনা নয়- বালুচর।

• ‘বালুচর’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি খণ্ড কবিতার সংকলন।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা
- কুহেলিকা

• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফনিমনসা,
- চক্রবাক,
- নতুন চাঁদ,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পূবের হাওয়া,
- বিষের বাঁশি,
- ঝিঙে ফুল,
- দোলনচাঁপা,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

•  ‘রন্দ্রমঙ্গল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৭.
'সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন। হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।' - চরণ দুটি কার লেখা? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
• সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্গত।


সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন
– কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা,

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন’ কবিতা।
১,২৫৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনকাল ছিল-
  1. ১৮৭৬ - ১৯৩৮ সাল
  2. ১৮৮৬ - ১৯৪৮ সাল
  3. ১৮৭৬ - ১৯৪৮ সাল
  4. ১৮৭৮ - ১৯৩৯ সাল
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ “আকাল” কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ক) ফরাসী বিপ্লব
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  4. ঘ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

- সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ হচ্ছে ‘আকাল’ (১৯৪৩)।
- তিনি এটি ফ্যাসীবিরোধী শিল্পী সংঘের পক্ষে রচনা করেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ করে এটি রচনা করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,২৬০.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) জনপদ
  2. খ) অবরোধ
  3. গ) নবান্ন
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নবান্ন, জনপদ, মরাচাঁদ, কলঙ্ক, অবরোধ, গোত্রান্তর ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,২৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. অচলায়তন
  2. তাসের দেশ
  3. কালের যাত্রা
  4. প্রকৃতির প্রতিশোধ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত:
কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

অন্যদিকে,
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬২.
'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত কোন দেশের ভ্রমণকাহিনি ভিত্তিক গ্রন্থ?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. প্যারিস 
  3. লন্ডন
  4. আফগানিস্তান 
ব্যাখ্যা

• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত (১৯৬৪) অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ-কাহিনিটি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

-----------------------
• সানাউল হক:

- সানাউল হক ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ। জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- চল্লিশের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সানাউল হক পরিচিতি লাভ করেন। 
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।

সানাউল হকের সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নদী ও মানুষের কবিতা (১৯৫৬), সম্ভবা অনন্য (১৯৬২), সূর্য অন্যতর (১৯৬৩), বিচূর্ণ আর্শিতে (১৯৬৮), একটি ইচ্ছা সহস্র পালে (১৯৭৩), কাল সমকাল (১৯৭৫) প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে সানাউল হক মানবজীবন ও জগতের ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন। 

• তাঁর কবিতায় তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রত্যক্ষ করা যায়, যেখানে তিনি সমস্যা ও সম্ভাবনায় কখনও আশাহত, কখনও আনন্দিত। এরূপ কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো- মধ্যে পদ্মিনী শঙ্খিনী (১৯৭৬), প্রবাসে যখন (১৯৮১), বিরাশির কবিতা (১৯৮২), উত্তীর্ণ পঞ্চাশ (১৯৮৪ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,২৬৩.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?
  1. কৃষ্ণপক্ষ
  2. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. ডানপিটে শওকত
  4. সম্রাটের ছবি
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৪.
কোন সাহিত্যিক কখনও উপন্যাস রচনা করেননি?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত' - কখনও উপন্যাস লেখেননি।
অপশনের অন্য সাহিত্যিকদের উপন্যাস রয়েছে।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ :
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী,

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ :
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,

• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান;
- সতীর্থ;
- কল্যাণী।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৫.
'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা

• 'জমিদার দর্পণ':
- 'জমিদার দর্পণ' নাটকের লেখক- মীর মশাররফ হোসেন।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

• মীর মোশাররফ হোসেন:
- জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো -
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমিদার দর্পণ,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৬.
'ইয়ংবেঙ্গল' প্রতিষ্ঠানটি কার দ্বারা প্রভাবিত?
  1. ক) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. খ) জোশুয়া মার্শম্যান
  3. গ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯-১৯৩১) হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুন ছাত্রগোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে  প্রধান ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র ও তারা চাঁদ চক্রবর্তী।
- ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী।
- প্রথম জীবনে হিন্দুধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাপরায়ণ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সমালোচনা-মুখর। 
- প্রচলিত হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তাদের ঐক্যসূত্র। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য, ধর্ম, নীতি গঠনে তাদের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৭.
'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মাহমুদুল হক
  4. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আনিসুজ্জামান

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৮.
আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. অরণ্য নীলিমা
  3. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  4. ছায়াহরিণ
ব্যাখ্যা

‘অরণ্য নীলিমা' :   
- 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটির রচয়িতা আহসান হাবীব ।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। 
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়। 

আহসান হাবীব,
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। 
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি পিরোজপুর থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৫) পাস করে কিছুদিন বিএম কলেজে আইএ ক্লাসে অধ্যয়ন করেন, 
- আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে  কলকাতা গিয়ে সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করেন
- কলকাতায় তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও  সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- কয়েক বছর (১৯৪৩-৪৮) তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। 
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি বিভিন্ন সময়ে  আজাদ,  মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫৭-৬৪ পর্যন্ত তিনি ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনস-এর প্রডাকশন অ্যাডভাইজার ছিলেন।
- তিনি কিছুদিন দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:

- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ, ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৯.
ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল-
  1. ক) লোকায়ত
  2. খ) প্রগতি
  3. গ) ক্রান্তি
  4. ঘ) নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল-- নয়া সড়ক। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১,২৭০.
'গ্রানাডার শেষ বীর' কী ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. ঐতিহাসিক কাব্যগ্রন্থ 
  3. কাহিনিকাব্য 
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,২৭১.
'রুপজালাল' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. নুরুল মোমেন
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• রূপজালাল:
- এটি নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকর্ম।
- এই গ্রন্থটির ধরণ হচ্ছে গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি ছিলেন। পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- ফয়জুন্নেসার এরূপ জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৭২.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৩.
বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. হাবিবুর রহমান
  2. জামিল চৌধুরী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. মাযহারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৪.
‘কল্যাণী’ নিচের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) অপরিচিতা
  2. খ) দেনাপাওনা
  3. গ) সমাপ্তি
  4. ঘ) অতিথি
ব্যাখ্যা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘অপরিচিতা’ গল্পটি মনস্তাপে ভেঙে পড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের আত্ম-স্বীকারোক্তি গল্প। উক্ত গল্পের প্রধান চরিত্রঃ কল্যাণী ওঅনুপম। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
১,২৭৫.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক - হেলাল হাফিজ।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭৬.
'নদী ও নারী' উপন্যাসের লেখক -
  1. বন্দে আলী মিয়া 
  2. হুমায়ুন কবির
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

• 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা - হুমায়ুন কবির।

-----------------
• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

• নদী ও নারী:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৭.
'পুতুলনাচের ইতিকথা' উপন্যাসে 'পুতুল' কিসের প্রতীক?
  1. রাজনীতি
  2. দারিদ্র্য
  3. চারিত্রিক দুর্বলতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতা
  4. ভালোবাসা
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। লেখক নিজে বলেছেন, "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায়।

এখানে, ‘পুতুল’ বলতে বোঝানো হয়েছে সেইসব মানুষকে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখাতে পারে না এবং অন্যের অল্প প্রভাবেই পরিচালিত হয়। উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?”, যা চরিত্রগুলোর মানসিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

-----------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালের ২৯ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ ছিল তাঁর ডাকনাম। তিনি ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭৮.
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা কে?
  1. আ ন ম গাজীউল হক
  2. আবদুল লতিফ
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'
- এক জনপ্রিয় হিন্দী গান থেকে নেয়া হয়েছে এর সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটি ছিল তখনকার দিনের রাজপথের গান।

একুশের প্রথম
- নাটক: কবর
- উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন
- কবিতা:কাঁদতে আসিনি ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

১,২৭৯.
অমিয় চক্রবর্তীকে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ডি.লিট.
  2. পদ্মভূষণ
  3. দেশিকোত্তম
  4. নাইটহুড
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮০.
কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. মাল্য ও নির্মাল্য
  2. আলো ও ছায়া
  3. অশোকসঙ্গীত
  4. গুঞ্জন
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮১.
কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন সম্পাদিত গ্রন্থ?
  1. পদুমাবৎ
  2. পদ্মাবতী
  3. মহাভারত
  4. মধুমালতী
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- তিনি ১৯৪১ সালে মৃত্যবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana,
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta,
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮২.
'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা- 'মামুনুর রশীদ'

'ওরা কদম আলী' নাটক
- ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী
নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৩.
হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  2. এক যুবকের ছায়াপথ
  3. সৌরভ
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা

• 'সৌরভ' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস 'সৌরভ'।
- উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শফিক উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 

উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্রসমূহ হলো-
- শফিক,
- রফিক,
- কাদের,
- নেজাম,
- আজিজ সাহেব,
- শীলা,
- লুনা। 

অন্যদিকে, 
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।  
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'এক যুবকের ছায়াপথ'।
• সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ'। 

উৎস: সৌরভ' উপন্যাস হুমায়ূন আহমেদ।

১,২৮৪.
'নদী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. রমেশচন্দ্র দত্ত 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 
  3. ইমদাদুল হক মিলন 
  4. মাহমুদুল হক 
ব্যাখ্যা
• 'নদী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা ইমদাদুল হক মিলন ।

• ইমদাদুল হক মিলন:

- ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম।
- তবে পাঠকের নজরে পড়েছিলেন 'সজনী' নামের ছোট গল্প লিখে।
- খুব অল্প বয়সে তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
 - দুই বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী তার বহুল পঠিত উপন্যাস হলো 'নূরজাহান'।
- এছাড়াও ইমদাদুল হক মিলন এর উপন্যাস সমগ্র বিভিন্ন পাঠকপ্রিয় উপন্যাসে ঠাসা।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- নূরজাহান,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ কী ধরনের গ্রন্থ? 
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

একটি কালো মেয়ের কথা:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে প্রকাশকালের বিচারে প্রথম দিককার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা’
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোল পত্রিকার উল্টোরথ পূজাসংখ্যা।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর বর্ণনায়, যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতার কথা বলেছেন।
- জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারাশঙ্কর নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা বাস্তব চিত্রের মতো ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র/নাম চরিত্র: নাজমা।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক।
- জন্ম: পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের এক জমিদার পরিবারে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- একটি কালো মেয়ের কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৬.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মোহনলাল, লাবণ্য - শেষের কবিতা
  2. খ) জয়গুন , হাসু - সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. গ) হেমঙ্গিনী, কাদম্বিনী - মেজদিদি
  4. ঘ) রাইচরণ - খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তন
ব্যাখ্যা
‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এ উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো- অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল ইত্যাদি। মোহনলাল নামে কোন চরিত্র নেই। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,২৮৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. মানবজমিন
  2. গো-জীবন
  3. মানবজীবন
  4. আমলার মামলা
ব্যাখ্যা
• ‘মানবজমিন’ উপন্যাস:
- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এ-যাবৎকাল প্রকাশিত যাবতীয় প্রধান রচনার প্রবল এক প্রতিস্পর্ধী মহান উপন্যাস ‘মানবজমিন’।
- আকারেই শুধু বড়-মাপের উপন্যাস নয় ‘মানবজমিন’ প্রকারেও ব্যাপ্ত, বিশাল বৈচিত্র্যময়। এ-যুগের অন্যতম শক্তিমান কথাকার
- ঐতিহ্যের সঙ্গে শিকড়ের যোগ এই দুর্লভ সৃষ্টির, সাম্প্রতিকের সঙ্গে আত্মার, আগামীর দিকে বাড়ানো এর কুঁড়ি-ধরানো ডালপালা।
- অসংখ্য ঘটনা, অজস্র চরিত্র, অফুরান সমস্যা এই উপন্যাসে। তবু কোথাও জট পাকায়নি।
- পরিণত লেখকের দক্ষ হাতের সুঠাম নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি চরিত্র ও কাহিনী সুস্থির, স্বতন্ত্র, লক্ষ্যাভিমুখী।
- লোভ, ঘৃণা, প্রেম, রিপুর তাড়না, বাঁচার ইচ্ছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা-এমন যে-সব কিছুর দ্বারা কুম্ভীপাকে নিয়ত সিদ্ধ হচ্ছে মানুষ, তারই উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- 'গো-জীবন' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধ। 
- 'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- ‘মানবজীবন’ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মানবজমিন’ উপন্যাস।
১,২৮৮.
নিম্নলিখিত কোনটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নয়?
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  3. নদীর গান
  4. চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয় 
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নয়- “নদীর গান”।
- “নদীর গান” কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর ছাত্রজীবনেই দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন—
- ‘উপদ্রুত উপকূল’ এবং ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’। 
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ অর্জন করেন। 
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
বাতাসে লাশের গন্ধ, 
চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, 
আমি সেই অভিমান, 
অভিমানের খেয়া, 
খুব কাছে এসো না, 
কথা ছিলো সুবিনয়, 
হে আমার বিষণ্ণ সুন্দর, 
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে (গীতি কবিতা), 
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প,
পরাজিত নই, পলাতক নই। 

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবদ্দশায় প্রকাশিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- মানুষের মানচিত্র,
- ছোবল,
- গল্প, দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে:
- এক গ্লাস অন্ধকার (কাব্যগ্রন্থ),
- বিষ বিরিক্ষের বীজ (কাব্যনাট্য),
- সোনালী শিশির (গল্পগ্রন্থ)।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো' গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- এবং এই গানটিসহ তিনি অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।

উৎস:
বাংলা কবিতা [ লিঙ্ক]; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,২৮৯.
'সুরধুনী কাব্য' - কে লিখেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. বিষ্ণু দে 
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিলো — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।

দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

• 'সুরধুনী কাব্য':
- 'সুরধুনী কাব্য' গ্রন্থটির লেখক- দীনবন্ধু মিত্র।
- সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা।
- এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- নীলদর্পণ;
- কমলে কামিনী।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।

১,২৯০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্প কোনটি
  1. চাচা-কাহিনী
  2. শবনম
  3. টুনি মেম
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্প - চাচা-কাহিনীটুনি মেম

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৯১.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যে ব্যবহৃত ‘শঙ্খমালা’ হলো
  1. কবির জীবনদেবতা
  2. পূর্বপরিচিতা নারী
  3. রোমান্টিক কবিকল্পনা
  4. রুপকথার চরিত্র
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙখমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

শঙ্খমালা- কবিতার কিছু অংশ-

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।

চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

===========
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯২.
আবদুল কাদির রচিত কবিতাগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. উত্তর বসন্ত
  3. উত্তর ফাল্গুনী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির রচিত কবিতাগ্রন্থ - উত্তর বসন্ত
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: বসন্ত-উৎসব, রাত্রির রহস্য, পৃথিবীর প্রেম, চতুর্দশপদী, প্রেমের আরতি, সনেট, উত্তর বসন্ত ইত্যাদি।

আবদুল কাদির: 
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।
- তাঁর 'ছন্দ-সমীক্ষণ' গ্রন্থে বাংলাছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণ করার প্রয়াস আছে।
- তিনি ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত

অন্যদিকে,
• রশীদ করীম রচিত উপন্যাস - উত্তম পুরুষ।
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৩.
'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২৯৪.
'পঞ্চতন্ত্র' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,

ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৯৫.
"বন্ধু বিয়োগ" কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রহমান
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৬.
হুমায়ূন আহমেদের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আনন্দ বেদনার কাব্য
  2. খ) আমার ছেলেবেলা
  3. গ) এই সব দিনরাত্রি
  4. ঘ) শ্রাবণ মেঘের দিন
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অধ্যাপনা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক সাহিত্যর্চ্চায় মনোনিবেশ করেন।

- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প।
- হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ বলা যায়।
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন তোমাদের জন্য ভালোবাসা।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার। 

• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- ১৯৭১ (১৯৯৩),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি।

 • স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩),
- আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪),
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ (১৯৮৪),
- আমার আছে জল (১৯৮৫), 
- নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭),
- এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০),
- বহুব্রীহি (১৯৯০),
- অয়োময় (১৯৯০), 
- শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০),
- আশাবরী (১৯৯১),
- কোথাও কেউ নেই (১৯৯২), 
- কবি (১৯৯৬), 

• সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা (১৯৭৩),
- তারা তিনজন। 

• আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন (১৯৮৯),
- আমার ছেলেবেলা। 

- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৭.
'লালসালু' উপন্যাসে কোন চরিত্রটি নারী প্রতিবাদের প্রতীক?
  1. আমেনা 
  2. জমিলা
  3. ফাতেমা 
  4. রহিমা
ব্যাখ্যা

• লালসালু:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনি রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- উপন্যাসের মূলবিষয় ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- এদেশে মজিদের মতো চরিত্র আজো গ্রামে ও শহরে প্রচুর।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক সে লাঞ্ছিত হয়, মাজারের গায়ে পা লেগে থাকে জমিলার।
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- বহুমাত্রিক ও উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ্য করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।
- উপন্যাসটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম - ল্য অরবরে সামস মায়েমেঁ (১৯৬১)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পত্নী 'অ্যান মেরি' উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লালসালু উপন্যাস। 

১,২৯৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘লোকরহস্য’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা

‘লোকরহস্য’ একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
---------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

- চাকরিজীবনে তিনি প্রথম প্রশাসনিক চাকরিতে যোগ দেন;
- এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন। 
- এর স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ উপাধি লাভ করেন। 

- ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়না। 
- তাঁর মুল পরিচয় হচ্ছে- তিনি একজন প্রভাবশালী লেখক ও হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তাবিদ। 
- তার পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্য ও চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ-
- ‘লোকরহস্য’,
- ‘কমলাকান্তের দপ্তর’,
- ‘বিবিধ সমালোচনা’,
- ‘সাম্য’,
- ‘কৃষ্ণচরিত্র’,
- ‘ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন’,
- ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’, 
- 'বিজ্ঞান রহস্য'। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১,২৯৯.
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন তাদের মুখপত্র হিসেবে কোন পত্রিকা প্রকাশ করত?
  1. প্রগতি
  2. পরিচয়
  3. শিখা
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন:
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন।
- বাংলার মুসলমান সমাজের যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা বিরাজমান ছিল, সেসব দূরীকরণই ছিল এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কাজী আবদুল ওয়াদুদ, আবুল ফজল, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম এবং আবদুল কাদির।
- এই সমাজ তাদের মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে।
- তাঁদের মধ্যে ছিলেন: মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩০০.
‘‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’’- এটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুদার
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  5. ঙ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
‘‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’’- এটির রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। তার অপব্যয়ের ফল নামক কবিতার অংশ এটি।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)