বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২৮ / ১৭৪ · ১২,৭০১১২,৮০০ / ১৭,৪৩৭

১২,৭০১.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য কী?
  1. প্রেম ও বিরহের কাহিনি
  2. মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র
  3. গ্রামীণ জীবনের হাস্যরস
  4. রাজনীতির কূটচাল
ব্যাখ্যা
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭০২.
মানুষের ভাষাকে ''সাধু ভাষা'' হিসেবে প্রথম অভিহিত করেন কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
সাধু ভাষারীতি : যে ভাষারীতি অধিকতর গাম্ভীর্যপূর্ণ, তৎসম শব্দবহুল, ক্রিয়াপদের এবং আঞ্চলিকতামুক্ত তা-ই সাধু ভাষারীতি।
যেমন: ‘এক ব্যক্তির দুইটি পুত্র ছিল।'

সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
- ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়ােজন দেখা দেয়। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে তারা মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।
- এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন - রাজা রামমোহন রায়।

সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'
'সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।'ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
'বাংলা ভাষার সংস্কৃত শব্দ-সম্পদ ক্রিয়া ও সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ এবং ব্যাকরণসিদ্ধ উপাদান ব্যবহার করিয়া ইংরেজি গদ্য-সাহিত্যের পদবিন্যাস প্রণালির অনুসরণে পরিকল্পিত যে নতুন সর্বজনীন গদ্যরীতি বাংলা সাহিত্যে প্রবর্তিত হয়, তাহাকে বাংলা সাধু ভাষা বলে।ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক

বস্তুত বাংলা গদ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, রাজা রামমােহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত প্রমুখ পণ্ডিত সংস্কৃত ভাষার অনুসরণে তৎসম শব্দবহুল যে সাহিত্যিক গদ্যরীতি গড়ে তােলেন, তা-ই সাধু ভাষা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১২,৭০৩.
কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. কুহেলিকা
  2. বিষবৃক্ষ
  3. নৌকাডুবি
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
• 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
• 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর রচিত সামাজিক উপন্যাস- 'কৃষ্ণকান্তের উইল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭০৪.
ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও পরিভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ 'শব্দকথা'র রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী: 
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ রচনার পথিকৃৎ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৮৬৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জেমোকান্দিতে তাঁর জন্ম। 
- সাধনা, নবজীবন ও  ভারতী পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্য দিয়ে রামেন্দ্রসুন্দরের সাহিত্যিক জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯১৯ সালের ৬ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের  মধ্যে রয়েছে:
- প্রকৃতি,
- জিজ্ঞাসা,
- কর্মকথা,
- চরিতকথা,
- শব্দকথা,
- বিচিত্র জগৎ, 
- নানাকথা প্রভৃতি।

• 'শব্দকথা'য় বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও পরিভাষা সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে।

• আর 'নানাকথা'য় স্থান পেয়েছে যুগ ও জীবন, ব্যক্তি ও সমাজ, শিক্ষানীতি ও সমাজধর্মের কতিপয় প্রচলিত সমস্যা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মতামত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৭০৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. চতুষ্পদী
  2. চতুরঙ্গ
  3. চতুস্কোণ
  4. চতুষ্ঠা
ব্যাখ্যা

•'চতুরঙ্গ':
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র-শচীশ ,দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।
- তাই এর নামকরণ করা হয়েছে চতুরঙ্গ, যার সংস্কৃত অর্থ "চারটি অংশ", "চতুর্ভুজ"।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,

১২,৭০৬.
আবুল মনসুর আহমদের কোন গ্রন্থের ভূমিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন?
  1. ফুড কনফারেন্স
  2. আয়না
  3. জীবনক্ষুধা
  4. সত্য মিথ্যা
ব্যাখ্যা

• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।.’..... 

• এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগ্রন্থসমূহ:
- হুযুর কেবলা,
- গো - দেওতা - কা দেশ,
- নায়েবে নবী,
- লীডরে কওম,
- মুজাহেদীন,
- বিদ্রোহী সংঘ,
- ধর্মরাজ্য।


• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১২,৭০৭.
গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় নিচের কোন নাটকে?
  1. ডাকঘর
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
-'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, অমল, সুধা।
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা ।
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী,
রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২,৭০৮.
‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
- বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
- চলচ্চিত্রটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

⇒ আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
১২,৭০৯.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসে বাদশাহ হারুন কার প্রতীক?
  1. সম্রাট আকবর
  2. হুমায়ুন
  3. আইয়ুব খান
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক; তাতারির হাসি বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭১০.
'ময়নামতির চর' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ - ময়নামতির চর। ১৯৩২ সালে এটি প্রকাশিত হয়। এতে পদ্মানদীর চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।

বন্দে আলী মিয়া:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭১১.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. লহরী
  3. হিতকরী
  4. নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা

• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

• 'লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।' - পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

• 'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৭১২.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়' উক্তিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দৌলত কাজী
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলোঃ
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,৭১৩.
"দেখো যতীন, চেনা বামুনের পৈতের দরকার হয় না" - লাইনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন রচনার?
  1. মাল্যদান
  2. মণিহারা
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. নিশীথে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মাল্যদান' গল্পের অংশবিশেষ:
আত্মীয়সমাজে 'পটল' নামে খ্যাত এই মেয়েটি বলিয়া উঠিল,'আর মিথ্যা বড়াই করিতে হইবে না। তোমার ইহজন্মের সব খবরই তো রাখি, মশায়। ছি ছি, এত বয়স হইল, তবু একটা সামান্য বউও ঘরে আনিতে পারিলে না। আমাদের ঐ-যে ধনা মালীটা, ওরও একটা বউ আছে-- তার সঙ্গে দুইবেলা ঝগড়া করিয়া সে পাড়াসুদ্ধলোককে জানাইয়া দেয় যে, বউ আছে বটে। আর তুমি যে মাঠের দিকে তাকাইয়া ভান করিতেছ, যেন কার চাঁদমুখ ধ্যান করিতে বসিয়াছ, এ-সমস্ত চালাকি আমি কি বুঝি না-- ও কেবল লোক দেখাইবার ভড়ং মাত্র। দেখো যতীন, চেনা বামুনের পৈতের দরকার হয় না-- আমাদের ঐ ধনাটা তো কোনোদিন বিরহের ছুতা করিয়া মাঠের দিকে অমন তাকাইয়া থাকে না; অতিবড়ো বিচ্ছেদের দিনেও গাছের তলায় নিড়ানি হাতে উহাকে দিন কাটাইতে দেখিয়াছি-- কিন্তু উহার চোখে তো অমন ঘোর-ঘোর ভাব দেখি নাই। আর তুমি মশায়, সাতজন্ম বউয়ের মুখ দেখিলে না-- কেবল হাসপাতালে মড়া কাটিয়া ও পড়া মুখস্থ করিয়া বয়স পার করিয়া দিলে, তুমি অমনতরো দুপুরবেলা আকাশের দিকে গদ্‌গদ হইয়া তাকাইয়া থাক কেন। না, এ-সমস্ত বাজে চালাকি আমার ভালো লাগে না। আমার গা জ্বালা করে।'

যতীন হাতজোড় করিয়া কহিল,'থাক্‌ থাক্‌, আর নয়। আমাকে আর লজ্জা দিয়ো না। তোমাদের ধনাই ধন্য। উহারই আদর্শে আমি চলিতে চেষ্টা করিব। আর কথা নয়, কাল সকালে উঠিয়াই যে কাঠকুড়ানি মেয়ের মুখ দেখিব, তাহারই গলায় মালা দিব-- ধিক্কার আমার আর সহ্য হইতেছে না।'

উৎস: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মাল্যদান' গল্প।
১২,৭১৪.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১২,৭১৫.
'সত্যসুন্দর দাস' কার ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যসুন্দর দাস' মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম।

মোহিতলাল মজুমদার:
- তিনি ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।
- তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন পসারী,
- বিস্মরণী,
- স্মরগরল, 
- হেমন্ত গোধূলি।

• তাঁর প্রবন্ধ সমালোচনা :
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধুসূদন।

অন্যদিকে,
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের উপাধি: দুঃখবাদী কবি।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় চিত্ররূপময়, রুপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭১৬.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  2. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
  3. বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
ব্যাখ্যা

• "বাংলা সাহিত্যের কথা":
- "বাংলা সাহিত্যের কথা" ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত গ্রন্থইতিহাস গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের (যেমন: ১ম খণ্ড ও ২য় খণ্ড) ইতিহাস আলোচনা রয়েছে। 

গ্রন্থটি একাধিক সংস্করণে প্রকাশিত হয়:
- প্রথম সংস্করণ-এপ্রিল, ১৯৫৩।
- দ্বিতীয় নতুন সংস্করণ-এপ্রিল, ১৯৬৩
- তৃতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ-কার্তিক ১৩৭৩ (অক্টোবর ১৯৬৬)
- চতুর্থ পরিবর্ধিত নূতন সংস্করণ-শ্রাবণ ১৩৭৫ (জুলাই ১৯৬৮)

-------------------
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- দীওয়ানে হাফিজ,
- রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম,
- নবী করিম মুহাম্মাদ,
- ইসলাম প্রসঙ্গ,
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,
- ব্যাকরণ পরিচয়,
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান,
- মহররম শরীফ,
- টেইল ফ্রম দি কুরআন,
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০),
- Hundred Sayings of the Holy Prophet.

অন্যদিকে, 
• দীনেশচন্দ্র সেনের গ্রন্থ "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য"। 
• ড. সুকুমার সেনের গ্রন্থ "বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস"।
• গোপাল হালদার রচিত গ্রন্থ ‘বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের কথা (প্রথম খণ্ড)

১২,৭১৭.
’অবাক সূর্যোদয়’ কবিতার লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
’অবাক সূর্যোদয়’
হাসান হাফিজুর রহমান

কিশোর তোমার দুই
হাতের তালুতে আকুল সূর্যোদয়
রক্তভীষণ মুখমণ্ডলে চমকায় বরাভয়।
বুকের অধীর ফিনকির ক্ষুরধার
শহিদের খুন লেগে
কিশোর তোমার দুই হাতে
দুই সূর্য উঠেছে জেগে।
------------------------------------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
 - হাসান হাফিজুর রহমান ১৪ই জুন ১৯৩২ সালে জামালপুর জেলার কুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ভাষা-আন্দোলনের একজন অসাধারণ সংগঠক।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদিত একুশে ফেব্রুয়ারি গ্রন্থটি বিস্ময়কর আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- ১৯৭৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর তিনি ছিলেন প্রধান।
- তাঁর সম্পাদনায় ষোলো খণ্ডে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র' প্রকাশিত হয়।
- তিনি কবি, সমালোচক ও গল্পকার হিসেবে খ্যাতিমান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- আর্ত-শব্দাবলি,
- অন্তিম শরের মতো ইত্যাদি।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,

• গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্য নবম ও দশম শ্রেণি।
১২,৭১৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়াবনামা
  3. খোঁয়ারি
  4. অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭১৯.
বুদ্ধদেব বসু রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মর্মবাণী
  2. মর্ত্যের স্বর্গ
  3. তিথিডোর
  4. বন্দীর বন্দনা
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস - মর্ত্যের স্বর্গ ।

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭২০.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. মহাপৃথিবী (কাব্যগ্রন্থ)
  2. মাল্যবান (নাটক)
  3. শেষ লেখা (উপন্যাস)
  4. সুড়ঙ্গ (গল্প)
ব্যাখ্যা
মহাপৃথিবী:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
মাল্যবান:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস
- এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

শেষ লেখা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ
- এটি ১৯৪১ সালে প্রকাশিত হয়।

সুড়ঙ্গ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক
- এটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭২১.
আবু ইসহাক রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. উত্তরাধিকার
  2. ক্রান্তি
  3. প্রগতি
  4. ধান শালিকের দেশ
ব্যাখ্যা
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল ‘মধুর মাটি’।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রূপজান ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:

- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। তাঁর পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'। তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭২২.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. মোসলেম ভারত
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• "ধূমকেতু" পত্রিকা:
'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২)
আত্মপ্রকাশ করে।

এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।

ধূমকেতুতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কবিতার মাধ্যমে নজরুল অকুতোভয়ে স্বরাজ ও স্বাধীনতার দাবি ঘোষণা করেন। তাঁর অগ্নিঝরা ভাষা ও নির্ভীক বক্তব্যের জন্য পত্রিকাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিক্রয়ের দিক থেকে সেকালের সকল পত্রিকাকে ছাড়িয়ে যায়। পত্রিকায় বিপ্লবী বক্তব্য প্রচারের কারণে নজরুল রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং ১৯২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি এক বছরের জন্য কারারুদ্ধ হন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি সংখ্যাটি ‘নজরুল সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরে কিছুদিনের জন্য বন্ধ থেকে পত্রিকাটি বীরেন সেনগুপ্ত ও অমরেশ কাঞ্জিলালের সম্পাদনায় পুনরায় প্রকাশিত হয়, কিন্তু অনিয়মিতভাবে চলে এবং এ বছরেরই মার্চ মাসে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, 
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা। কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 

• 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে শান্তিপুরের কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নাম মুদ্রিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হতো তাঁর পুত্র এবং নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক কর্তৃক।

• 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৭২৩.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. ক) তারেক মাসুদ
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) আলমগীর কবির
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালের বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- এই চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ
- ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ক্যাথরিন মাসুদ।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১২,৭২৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাহিত্যিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. রামরাম বসু
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি আনুমানিক ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা
- তিনি ১৮১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭২৫.
'আমার পূর্ববাংলা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) রৌদ্র করোটিতে
  2. খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. গ) নিরালোকে দিব্যরথ
  4. ঘ) একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা। এটা বাংলা সাহিত্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। কবিতাটি ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
১২,৭২৬.
বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা 
  2. ভদ্রার্জুন
  3. কৃষ্ণকুমারী 
  4. কীর্তিবিলাস
ব্যাখ্যা

• 'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে। কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক 'শর্মিষ্ঠা'। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী'। এর রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এই নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগ্রহীত।

• ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' নামক নাটক প্রকাশিত হয়। 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭২৭.
নিম্নের কোন কবি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

সাংবাদিক আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) পেশাগত জীবনে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন।
- পঞ্চাশ দশকের ক্যারিয়ারিস্ট জেনারেশনের চলতি রীতি ধরে তিনি ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সকল পরীক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পদে কাজ করেন।
১৯৮২ সালে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন।
- ১৯৮৪ সালে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন।
- ১৯৯১ সালে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাংককস্থ FAO কার্যালয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৭ সালে FAO থেকে অবসর গ্রহণের সময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো
- সাত নরীর হার (১৯৫৫),
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।

১২,৭২৮.
‘কুলায় ও কালপুরুষ’ - প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বিষ্ণু দে
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৭২৯.
'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র 'নিতাই' কোন সম্প্রদায়ের ছিলেন?
  1. সাঁওতাল
  2. বাগদি
  3. বোষ্টম
  4. ডোম
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।

তারাশঙ্করের বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন লেখায় বিশেষভাবে পাওয়া যায় বীরভূম-র্বধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম,  গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। কবি উপন্যাসেও অন্ত্যজ শ্রেণির এমনই একজন কবিয়ালের কথা উপজীব্য হয়ে উঠেছে।

এই উপন্যাসটিতে নিম্নবর্গের দুধর্ষ ডাকাত বংশীয় একজন মানুষের কবি হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর ও চিত্তাকর্ষক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র নিতাইচরণের কবিপ্রতিভা এবং প্রণয়-আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।

• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১২,৭৩০.
'দশমী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) শামসুল হক
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- দশমী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- উত্তর ফাল্গুনী।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,৭৩১.
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) উপকথা
ব্যাখ্যা
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস
- বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির লোকেরা বাস করত। কাহারদের পুরানো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তন নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।

 তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- অরণ্যবহ্নি (সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে রচিত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস),
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা; উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে  রচিত।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৭৩২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কালো ঘোড়া
  2. খ) যাত্রা
  3. গ) ফেরারী সূর্য
  4. ঘ) নীলদংশন
  5. ঙ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
কালো ঘোড়া, যাত্রা, ফেরারী সূর্য ও নীল দংশন যথাক্রমে ইমদাদুল হক মিলন, শওকত আলী, রাবেয়া খাতুন ও সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ। অন্যদিকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত চিলেকোঠার সেপাই ১৯৬৯ সালের প্রেক্ষাপট নিয়ে আবর্তিত। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১২,৭৩৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন নাটকটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. তাসের দেশ
  2. বসন্ত
  3. কালের যাত্রা
  4. মুক্তধারা
ব্যাখ্যা
• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘কালের যাত্রা’ নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৩৪.
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উপজাতীয় জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- উপন্যাসে চাকমা ভাষারও ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা,
- প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা),
- বাঙালি ইসমাইল,
- জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

• তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

• নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

• কাব্যগ্রন্থগুলো মধ্যে:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, 
- সাজঘর,
- শ্রেষ্ঠ কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

১২,৭৩৫.
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?" - কার রচনা?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) নিধুবাবু
ব্যাখ্যা
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"-  লাইনগুলোর রচয়িতা রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু। 
--------------

নিধুবাবু (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।

- নিধু বাবু বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন। ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- বর্ধমানের মহারাজা তেজেশচন্দ্র রায়বাহাদুর তাঁর গানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৩৬.
কোনটি বিষ্ণু দে - এর কাব্যগ্রন্থ?
  1. তিথিডোর
  2. কঙ্কাবতী
  3. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
  4. অনি:শেষ
ব্যাখ্যা
'নাম রেখেছি কোমল গান্ধার' বিষ্ণু দে - এর কাব্যগ্রন্থ।

• বিষ্ণু দে-এর উপন্যাস:
- চোরাবালি,
- সাতভাই চম্পা,
- স্বন্দীপের চর,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তিথিডোর- বুদ্ধদেব বসু।
- কঙ্কাবতী - বুদ্ধদেব বসু।
- অনি:শেষ - অমিয় চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৩৭.
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দোরাজ' নামে পরিচিত ছিলেন- 
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. সুকুমার রায় 
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৩৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. লাঙ্গল
  2. মোসলেম ভারত
  3. সমকাল
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্‌ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা ‘দৈনিক নবযুগ’। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

তাছাড়া,
- সিকান্‌দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা 'সমকাল' 
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯),  'মোসলেম ভারত' (১৯২০) ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৩৯.
"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কুলি মজুর
  2. রাজা-প্রজা
  3. মানুষ
  4. বারাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের "রাজা-প্রজা" কবিতার অন্তর্গত। "রাজা-প্রজা" কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রাজা-প্রজা
  কাজী নজরুল ইসলামে

সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।
এ প্রশ্ন অতি সোজা,
এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা?
অদ্ভুত দর্শন –
এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন!
প্রজা হয় শুধু রাজ-বিদ্রোহী, কিন্তু কাহারে কহি,
অন্যায় করে কেন হয় নাকো রাজাও প্রজাদ্রোহী!
প্রজারা সৃজন করেছে রাজায়, রাজা তো সৃজেনি প্রজা,
কৃতজ্ঞ রাজা তাই কি প্রজায় ধরে করে দিল খোজা?

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৪০.
ছন্দের জাদুকর ছিলেন কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
-  বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের হিসেবে খ্যাত ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'।
- তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর অপর কৃতিত্ব বিদেশি কবিতার সফল অনুবাদ। আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার বহু কবিতা অনুবাদ করে তিনি  বাংলা সাহিত্যএর বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি সাধন করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
সবিতা,
সন্ধিক্ষণ,
বেণু ও বীণা,
কুহু ও কেকা,
তুলির লিখন,
হোমশিখা,
অভ্র-আবীর,
হসন্তিকা,
বেলা শেষের গান,
বিদায় আরতি।

অনুবাদকাব্য:
তীর্থ সলীল,
তীর্থ রেণু,
ফুলের ফসল,
মণি মঞ্জুষা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৪১.
শহীদুল জহির রচিত ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ
  3. স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা
  4. পাকিস্তান শাসনের সময় গ্রামীণ সমাজের অবস্থা
ব্যাখ্যা

‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস:
- ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী সমাজের জটিল বাস্তবতা তুলে ধরে। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, স্বাধীনতার পর মানুষের জীবন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, আদর্শগত ভাঙন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম কিভাবে প্রতিফলিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নময় মানবিক ও নৈতিক রাষ্ট্রগঠনের আশা কীভাবে বাস্তব রাজনীতির চাপের মুখে বিকৃত হয়েছে, তা সূক্ষ্ম ও প্রতীকী ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে শুধু ঐতিহাসিক ঘটনার সরল বর্ণনা নেই; বরং যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতা, ব্যক্তিগত জীবন ও নৈতিক সংকটের সংঘর্ষকে শিল্পময়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
----------------
শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহির  (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ – ২৩ মার্চ ২০০৮) ছিলেন বাংলাদেশী গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও সরকারি কর্মকর্তা।
- শহীদুল জহির তাঁর লেখায় জাদুবাস্তবতার কৌশল এবং নিম্নবর্গের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তাঁর জন্মস্থান পুরান ঢাকার নারিন্দার ৩৬ ভূতের গলিতে।
- তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ শহীদুল হক। 
- ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।। 
- তাঁর রচনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কাল্পনিক উপাদানের মিলন ঘটে, যা “শহীদুল জহিরীয়” ধারার জন্ম দেয়। 
- জীবদ্দশায় তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার ও প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেছেন।

- শহীদুল জহির বাংলা সাহিত্যের ব্যতিক্রমী কথাশিল্পী।
- তিনি ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রয়োগে সমগ্র বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
- তাঁর গল্পে বাস্তব ও পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটি জায়গায় চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়ায়, যেখানে বিমূর্ত ভাষা ব্যবহার করেও জীবনের অন্তর্নিহিত সত্য ও মানুষের দৈনন্দিন অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হয়।
- তিনি নিম্নবর্গের মানুষের অকৃত্রিম ভাষাকে সাহিত্যিক পুঁজি হিসেবে নিয়েছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-

• গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার,
- ডুমুরখেকো,
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। 

• উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি। 

উৎস:
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালি ও কলম।

১২,৭৪২.
‘পালামৌ’ কার রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৪৩.
একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'র সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকার সাথে সম্পর্কিত ছিলেন না?
  1. ক) তত্ত্ববোধিনী
  2. খ) ভারতমিহির
  3. গ) সাধনা
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ হচ্ছে - 
- সাধনা (১৮৯৪) 
- ভারতী (১৮৯৮) 
- বঙ্গদর্শন (১৯০১) 
- তত্ত্ববোধিনী (১৯১১) 

অন্যদিকে ভারতমিহির (১৮৭৫) অনাথবন্ধু সম্পাদিত পত্রিকা। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৪৫.
আল মাহমুদের লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পাখির কাছে ফুলের কাছে
  2. খ) ডাহুকী
  3. গ) গন্ধবণিক
  4. ঘ) ময়ূরীর মুখ
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, পাখির কাছে ফুলের কাছে, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
ডাহুকী, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, চেহারার চতুরঙ্গ, কাবিলের বোন ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
এবং পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৪৬.
'শাহী এলাকার পথে পথে' ভ্রমণকাহিনিটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
'শাহী এলাকার পথে পথে'  নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ভ্রমণকাহিনি বিষয়ক গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি নালন্দা প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত হয়। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা বিষয়ে এম.এ (১৯৪৩) পাস করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম ‘বিহারীলাল মিত্র গবেষণা’ বৃত্তি লাভ করেন। 
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। 


• ভ্রমণকাহিনি- শাহী এলাকার পথে পথে (১৯৬৩)। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শাহী এলাকার পথে পথে'  নীলিমা ইব্রাহিম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৪৭.
কাজী নজরুল ইসলামের 'চল চল চল' কবিতার প্রথম কত চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত ?
  1. প্রথম ১৩ চরণ
  2. প্রথম ৫ চরণ
  3. প্রথম ৯ চরণ
  4. প্রথম ২১ চরণ
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- নজরুল বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে 'চল্ চল্‌ চল্‌' কবিতার ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'। 
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ -

‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল—’

------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
১২,৭৪৮.
বাংলাদেশে বাইবেল থেকে কাহিনী নিয়ে রচিত সর্বপ্রথম উপন্যাস কোন দুটি?
  1. ক) ভোরের বিহঙ্গ, অভিশপ্ত নগরী
  2. খ) পদচিহ্ন, পাপের সন্তান
  3. গ) রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ, অভিযাত্রী
  4. ঘ) অভিশপ্ত নগরী, পাপের সন্তান
ব্যাখ্যা
সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ সত্যেন সেন বাইবেলের কাহিনী অবলম্বন করে বাংলাদেশে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন। প্রথম উপন্যাস ‘অভিশপ্ত নগরী’ এবং এর দ্বিতীয় খন্ড ‘পাপের সন্তান’। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৪৯.
”সংস্কৃতির সংকট” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. শওকত ওসমান
  4. ড. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর:
- ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২,৭৫০.
"কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!' চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) প্রলয়শিখা
  4. ঘ) সর্বহারা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের 'কামাল পাশা' কবিতার অন্তর্গত 

কবিতাটি শুরু হয়েছে এভাবে- 

" ঐ খেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল সামাল তাই।
            কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো   কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

• 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়ােল্লাস'।
- এ কাব্যে মােট ১২টি কবিতা আছে। 

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- 
- অগ্নিবীণা
- বিষের বাঁশি 
- ভাঙার গান 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ঝিঙে ফুল
- ফণি-মনসা 
- জিঞ্জিরা
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৫১.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের তিন যুগ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের সূচনা থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সাধারণভাবে প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিকএই তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রাচীন যুগ ৬৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত, মধ্যযুগ ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত এবং আধুনিক যুগ ১৮০০ সাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
- কারও কারও মতে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত এই দেড় শ বছর ‘অন্ধকার যুগ'।
- আধুনিক যুগকে দু ভাগে ভাগ করা যায়: ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায় এবং ১৮৬০ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়।
- বাংলা সাহিত্যে প্রাচীন যুগ বা আদি যুগের নিদর্শন চর্যাপদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১২,৭৫২.
'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ গ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) শেখ ফজলুল করিম
  4. ঘ) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী।
• তিনি 'বীরবল' ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনেক রচনা প্রকাশ করেন।
• তাঁকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
• 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
• তিনি মাসিক সবুজপত্র (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি 
- বীরবলের হালখাতা,
- নানা কথা,
- রায়তের কথা, 
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ। 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৫৩.
‘সাজাহান’ নাটকের প্রধান রচিয়তা কে?
  1. ক) ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
  2. খ) তুলসী লাহিড়ি
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) বলাইচাঁদ মুখোপধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ‘সাজাহান’ নাটকটি রচনা করেছেন ‘হাসির গানের রাজা’ নামে খ্যাত দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ই প্রথম নাটক লেখেন।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হল:
 - তারাবাঈ
 - প্রতাপ-সিংহ
 - দুর্গাদাস
 - নূরজাহান
 - মেবার পতন
 - সাজাহান
 - চন্দ্রগুপ্ত
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হল:
 - পরপারে
 - বঙ্গনারী
তাঁর একটি জনপ্রিয় দেশাত্নবোধক গান-
“ধনধান্য পুষ্পভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা”

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৫৪.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘জিনের বাদশা’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যাথার দান
  3. রুদ্র মঙ্গল
  4. রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ-
- ব্যাথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৫৫.
'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. ক) সুরজিত নন্দী
  2. খ) সব্যসাচী
  3. গ) নীল মাধব
  4. ঘ) সীরাজ আলী
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- নেমেসিস গ্রিক দেবী। এই দেবী প্রতিহিংসার, মানব নিয়তি তাঁর হাতে।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৫৬.
'সম্বাদ কৌমুদী' কোন ধরনের পত্রিকা ছিলো?
  1. সাপ্তাহিক
  2. বার্ষিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৭৫৭.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৭৫৮.
"ব্যাকরণ কৌমুদী" - কে রচনা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ " - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন - 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৫৯.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. ধ্বনিবিজ্ঞান ও আরবি ধ্বনিতত্ত্ব
  4. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• "ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব":
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব'। বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিশেষণ রয়েছে এই গ্রন্থে।

- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে। ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

- ধ্বনিবিজ্ঞান ও ধ্বনিতত্ত্বের মত এক কঠিন বিষয়কে লেখক সহজ, সরল এবং তথ্যভিত্তিক করে লিখেছেন। দশটি অধ্যায়ে স্তরে স্তরে সাজানো হয়েছে বইটি। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য পাঠ্যতালিকাভুক্ত এই বিষয়ের উপর এখন পর্যন্ত এ মানের দ্বিতীয় বই রচিত হয়নি।

- গ্রন্থের প্রথম সংস্করণে আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালার (International Phonetic Alphabet) কোনো আলোচনা ছিল না। দ্বিতীয় সংস্করণে IPA-র একটি চার্ট এবং উদাহরণসহ কিছু আলোচনা যোগ করা হয়েছে।

- প্রথম সংস্করণ বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল। এ সংস্করণ প্রকাশের ভার নিয়েছিলেন ষ্টুডেন্ট ওয়েজ।

অন্যদিকে, 
•  'ধ্বনিবিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। 
• 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও আরবি ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা এ কিউ এম আবদুস শাকুর খন্দকার 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং "ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব" গ্রন্থ।
১২,৭৬০.
প্রতিষ্ঠাকালে 'সংবাদ প্রভাকর' - কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. দৈনিক
  2. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা

• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।

প্রথম দৈনিক পত্রিকা: 
- ১৮৩৯ সালে সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
 
পত্রিকাটি সম্পর্কে বিশেষ তথ্য:
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৬১.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. হরিচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৬২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ‘একুশের গান’ কবিতার রচয়িতা কে? 
  1. শামসুর রাহমান
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ 
  4. মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

"একুশের গান" কবিতাটির রচয়িতা বাংলাদেশের প্রখ্যাত কবি মহাদেব সাহা।
- এই কবিতায় তিনি ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির অস্তিত্বের সংগ্রামের ভাবকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

------------------------
মহাদেব সাহা:
- মহাদেব সাহা বাংলাদেশের আধুনিক কবিতায় একজন বিশিষ্ট কবি।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃত।
- মহাদেব সাহা ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বগুড়া ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।
- পেশাগত জীবনে দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা করেছেন।
- তিনি দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৩), একুশে পদক (২০০১) এবং স্বাধীনতা পুরস্কার (২০২১) সহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন। 

• মহাদেব সাহার কবিতা-
- একুশের গান, 
- ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস,
- ইচ্ছা,
- ছন্দরীতি,
- কে চায় তোমাকে পেলে,
- কাছে আসো সম্মুখে দাঁড়াও,
- কবিতা বাঁচে ভালোবাসায়,
- একবার ভালোবেসে দেখো,
- আর কোনোদিন হইনি এমন মর্মাহত,
- তোমাকে ভুলতে চেয়ে আরো বেশী ভালোবেসে ফেলি,
- এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না।

 • মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ:
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস,
- চাই বিষ অমরতা।
- কী সুন্দর অন্ধ,
- তোমার পায়ের শব্দ,
- আমি ছিন্ন ভিন্ন,
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল,
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া।

• মহাদেব সাহার প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আনন্দের মৃত্যু নাই,
- মহাদেব সাহার কলাম,
- কবির দেশ ও অন্যান্য ভাবনা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা কবিতা।  

১২,৭৬৩.
'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৬৪.
কোন যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না?
  1. অন্ধকার যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. মধ্য যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৭৬৫.
“সমাচার দর্পণ” সংবাদপত্রের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জেমস অগাস্টাস হিকি
  2. জেমস সিল্ক বাকিংহাম
  3. ভবানীচরণ ব্যানার্জি
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
সমাচার দর্পণ:
- এটি ছিল বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণ (১৮১৮-১৮৫২)  শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত  জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত ।
- প্রথম পর্যায় ১৮১৮ সালের ২৩ মে (১০ জ্যৈষ্ঠ, ১২২৫) শনিবার সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়। 
- পত্রিকাটির মূল্য ছিল মাসিক দেড় টাকা।
-  শ্রীরামপুর মিশন ১৮২৯ সাল হতে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করার ব্যবস্থা করে।
- ১৮৩২ সাল হতে সপ্তাহে দুবার প্রকাশ আবশ্যকবোধ হলে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১১ জানুয়ারি বুধবার।
- ১৮৪০ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পাদকের ওপর নতুন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র গবর্ণমেন্ট গেজেট সম্পাদনার ভার ন্যস্ত হওয়ার কারণে ২৫ ডিসেম্বর ১৮৪১ তারিখে সমাচার দর্পণের শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৬৬.
''পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'' - উদ্ধৃতাংশের পথিক কে?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কাপালিক
  3. নবকুমার
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
• “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?"  উক্তিটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস। 
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও 
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২,৭৬৭.
'পূর্বাশা' কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ক) দৈনিক
  2. খ) মাসিক
  3. গ) ষান্মাসিক
  4. ঘ) ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৬৮.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা?
  1. মরুশিখা
  2. আসমানী
  3. কাব্য আমপারা
  4. চলে মুসাফির
  5. সূচয়নী
ব্যাখ্যা

• ‘কাব্য আমপারা’ (১৯৩৩) কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ গ্রন্থ।।

• পবিত্র কোরআনের আটত্রিশটি সুরার বাংলা অনুবাদ অসামান্য দক্ষতার সাথে কবিতার ছন্দে ফুটিয়ে তুলেছেন নজরুল কাব্য-আমপারা’ গ্রন্থে। নজরুল অত্যন্ত সফল অনুবাদক। আরবি ভাষায় লিখিত কোরআনের মূল আৰু অক্ষুন্ন রেখে কবিতার ছন্দে অনুবাদ করা কবির আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তির পাশাপাশি বাংলা ভাষার সরল ও যথাযথ শব্দ ব্যবহারে সহজ ও সাবলীল দখল তার অসামান্য কাব্য প্রতিভার পরিচয় বহন করে।

অন্যদিকে,
-  যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত কাব্য- মরুশিখা।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতা - 'আসমানী'।
- 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা- জসীমউদ্‌দীন।
- জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ 'সূচয়নী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৬৯.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. শহরতলী
  2. চতুষ্কোণ
  3. আরোগ্য
  4. সমুদ্রের স্বাদ
ব্যাখ্যা

• 'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত - ছোটগল্প। এটি 'সমুদ্রের স্বাদ' গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্প।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৭০.
জসীম উদ্‌দীনের ‘কবর’ কবিতায় দাদু শাপলার হাটে কী বেচাকেনা করতেন?
  1. শাপলা
  2. সবজি
  3. তরমুজ
  4. ধান
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত 'কবর' কবিতায় দাদু শাপলার হাটে তরমুজ বেচাকেনা করতেন।
-----------------
• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- এটি কবি জসীম উদ্‌দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা।
- এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।

'কবিতা' কবিতার অংশবিশেষ, 
লেখক: জসীম উদ্‌দীন।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু’পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'কবিতা' কবিতা; এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৭১.
'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বালুচর
  3. রাখালী
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা

• কবি  জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানক্ষেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

নিমন্ত্রণ
  জসীম উদ্‌দীন

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৭২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক নয়?
  1. সেতুবন্ধ
  2. মধুমালা
  3. আলেয়া
  4. পুবের চাতক
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
• ঝিলিমিলি,
• সেতুবন্ধ,
• শিল্পী।
['ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।]

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য নাটক: 
- আলেয়া;
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক);
- মধুমালা (গীতিনাট্য);
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক);
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)।

অন্যদিকে,
‘পুবের চাতক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দোলন-চাঁপা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৭৩.
'আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না'। - উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গল্পের?
  1. বিলাসী
  2. দেনাপাওনা
  3. হৈমন্তী
  4. জীবন ও মৃত
ব্যাখ্যা
- 'আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না'। - উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিলাসী গল্পের।
- 'বিলাসী' গল্পটি মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি 'ছবি' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৭৪.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' কোন লেখকের নকশা জাতীয় রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. প্রমথনাথ বিশী
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী 
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত নকশা জাতীয় রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৭৭৫.
‘ রৈবতক’, ‘কুরুক্ষেত্র’ ও ‘প্রভাস’ ত্রয়ী কাব্যের রচিয়তা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘রৈবতক’, ‘কুরুক্ষেত্র’ ও ‘প্রভাস’:
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
-  এ গুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে।
- নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত।
- কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

⇒ নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।
১২,৭৭৬.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি 
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা

• 'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'এর উপায় কি ?' ও 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হােসেন রচিত প্রহসন।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন 'একেই কি বলে সভ্যতা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২,৭৭৭.
নিচের কোনটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয়? 
  1. রক্তাম্বরধারিণী মা
  2. খেয়া পারের তরণী
  3. ধূমকেতু
  4. আনন্দময়ীর আগমনে 
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
এতে মোট ১২টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
কবিতাগুলো যথাক্রমে:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- শাত- ইল- আরব,
- খেয়া পারের তরণী,
- কোরবানি
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৭৮.
'অতি অল্প হইল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।
• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।

-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৭৯.
''এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।''
এই পঙক্তির রচয়িতা -
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব - তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
- ছাড়পত্র
- সুকান্ত ভট্টাচার্য 

১২,৭৮০.
নিচের কোন পত্রিকার সাথে অক্ষয়কুমার দত্তের নামটি জড়িত?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা  ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া]
১২,৭৮১.
দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূবাল হাওয়া
  2. জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  3. পদ্মাপাড়
  4. পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
• দাউদ হায়দার রচিত গ্রন্থ - জন্মই আমার আজন্ম পাপ।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - পঞ্চগ্রাম।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক - পদ্মাপাড়।
- দিলওয়ার রচিত গানের বই - পূবাল হাওয়া।

দাউদ হায়দার:

- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৮২.
নিচের কোনটি উপন্যাস ?
  1. ক) নদীবক্ষে
  2. খ) শাশ্বত বঙ্গ
  3. গ) মানব বন্ধু
  4. ঘ) বাংলার জাগরণ
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নাটক ‘পথ ও বিপথ', ‘মানব বন্ধু’। ‘ নদীবক্ষে’ – উপন্যাস। ‘শাশ্বত বঙ্গ' ও ‘বাংলার জাগরণ' – প্রবন্ধ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১২,৭৮৩.
আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসের প্রকাশ কাল -
  1. ১৯৮১ সাল
  2. ১৯৭১ সাল
  3. ১৯৮৩ সাল
  4. ১৯৭৩ সাল
ব্যাখ্যা

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, কালের কণ্ঠ ]

১২,৭৮৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্মস্থান-
  1. হুগলি
  2. নদীয়া
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. মেদিনীপুর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৮৫.
'হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো'
- কার রচিত কবিতার লাইন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
- আঠারো বছর বয়স (ছাড়পত্র), রানার, এক যে ছিল, হে মহাজীবন (ছাড়পত্র) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।

তাঁর 'হে মহাজীবন' কবিতাটি হলো-
''হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'হে মহাজীবন' কবিতা।
১২,৭৮৬.
'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রহমান
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাতাসে লাশের গন্ধ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৭৭ সালে রচনা করেন 'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতাটি।

বাতাসে লাশের গন্ধ
 - রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়। (সংক্ষিপ্ত)

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবে পরিচিত।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার সাহেবের মেঠ গ্রামে।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- এই বাসর এ লগন,
- আলোছায়া,
- নির্লিপ্তা,
- মালা বদল,
- মন-মানসী,
- মায়াডোর,
- প্রেয়সী,
- আত্ম তৃপ্তি প্রভৃতি।

• উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- মানুষের মানচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৮৭.
'বিচিত চিন্তা' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবুল মনসুর আহমদ 
  3. শহীদ কাদরী 
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

'বিচিত চিন্তা' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'বিচিত চিন্তা' ড. আহমদ শরীফ রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই এবং এর প্রথম প্রকাশ ১৯৬৮ সনে এবং দ্বিতীয়
মুদ্রণ হয় ১৯৭৫ সনে।

- এই গ্রন্থে সংকলিত রচনাগুলো পনেরো বছরের পরিসরে বিভিন্নমুখী অনুভব চিন্তার ফসল। আলোচ্য গ্রন্থে মোট বায়ান্নটি প্রবন্ধ সংকোলিত হয়েছে-যা আগেই বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল।

--------------------
• আহমদ শরীফ:

- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- ১৯৯৯ সালের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'বিচিত চিন্তা' প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৮৮.
হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ - 
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• ‘আগুনপাখি’ উপন্যাস:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়।এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

--------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

১২,৭৮৯.
সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে কোন পত্রিকাটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সবুজপত্র
  3. ধূমকেতু
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা - 'ধূমকেতু'।
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ‘চতুরঙ্গ'- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হুমায়ুন কবির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৯০.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত - নাটক।

• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৯১.
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) আগামী
  2. খ) গীতিগুচ্ছ
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
'আগামী' সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য,মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর কবিতায় শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের হুঙ্কার বলিষ্ঠভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে যক্ষা রোগে তিনি মারা যান। 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র 
- পূর্বাভাস
- অভিযান
- ঘুম নেই
- হরতাল 
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৯২.
'ধূমকেতু' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. সাম্যবাদী
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

--------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য:

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে উৎসর্গ করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস' এবং এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী' 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম

------------------
'ধূমকেতু' কবিতা
- কাজী নজরুল ইসলাম।

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত- সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার-
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ,
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ! (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
১২,৭৯৩.
"আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!” -এই লাইনগুলো কোন কবিতার অংশ?   
  1. আঠারো বছর বয়স 
  2. বিদ্রোহী 
  3. সাম্যবাদী
  4. প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

• "নিপীড়নের শৃঙ্খল কখনও স্বাধীনতার চেতনাকে বেঁধে রাখতে পারে না।”-
 এই উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অংশ। 
------------------
বিদ্রোহী
 – কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর -
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
-------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন। 
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।
-------------------------------- 
• 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাব:
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি নিপীড়ন, স্বাধীনতা ও চেতনার প্রতীক।
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি।
- সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়। 

- কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা মূলত শোষণ, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করে। 
- কবিতায় কবি নিজেকে নির্যাতিত মানুষের মুখপাত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। 
- কবি বলেছেন, শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। 
- কবিতায় কবি সকল শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে সাম্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।
- এটি পরাধীনতা ভাঙার, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মুক্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার চিরন্তন আহ্বান।

উৎস: 
'বিদ্রোহী' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১২,৭৯৪.
ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন-
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সুকুমার রায়
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- ১৯২০ সালের ২৪ মে বালিয়া গ্রাম, পলাশ, নরসিংদীতে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৭৯৫.
নিচের কোনটি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ? 
  1. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত "ভাষা-প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" (১৯৩৯) আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রামাণ্য গ্রন্থ, যা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সরল ভাষায় রচিত।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী। ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে, 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত, ভাষা ও সাহিত্য, বাঙ্গালা ব্যাকরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৯৬.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. সমাপ্তি
  2. বিলাসী
  3. বিড়াল
  4. ফুলের বিবাহ
ব্যাখ্যা

• 'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত — ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

• বিলাসী গল্পের মূলভাব (সংক্ষিপ্ত):
‘বিলাসী’ গল্প ভারতীয় বাঙালি সমাজের পিছিয়ে থাকা এবং কুসংস্কারাচ্ছন্নতার চিত্র তুলে ধরে। বিংশ শতাব্দীতেও প্রগতি, সুশিক্ষা বা সামাজিক জাগরণের অভাবকে গল্পটি প্রদর্শন করেছে। সমাজে জাতিভেদ, অন্নপাপের প্রাধান্য এবং অজ্ঞতা থাকলেও অন্য দেশে তখন জাতীয় জাগরণ ও শ্রমিক শ্রেণির উজ্জীবনের সূচনা হয়েছে। মূল চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামের মোড়ল বা প্রভাবশালীদের মূর্খতা এবং পরিবর্তনহীনতার ছবি ফুটে ওঠেছে।

-----------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:

- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• সমাপ্তি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।
• বিড়াল; ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৯৭.
'রায়বাহাদুর' উপাধি পান কে?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সমর সেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান

দীনেশচন্দ্র সেন: 
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,৭৯৮.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. কবর
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৭৯৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
  2. খ) বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
  3. গ) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ - বঙ্গভাষা ও সাহিত্য।

- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্য বিশারদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ১৮৯৬ সালে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- উল্লেখ্য, তিনি ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৮০০.
"কাঁচা ধানের পাতার মত কচি মুখের মায়া"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
"কাঁচা ধানের পাতার মত কচি মুখের মায়া।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জসীমউদ্‌দীন।
এটি জসীমউদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'নক্সী কাথার মাঠ' এর পঙক্তি।

• নক্সী কাথার মাঠ:
- নক্সী কাথার মাঠ"- কাব্য গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ "The Field of The Embroidered Quilt".
- অনুবাদটি করেছেন,-E.M. Milford.
- 'নকশী কাঁথার মাঠ' কবি জসীমউদ্‌দীনের এক অনবদ্য সৃষ্টি।
- 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি মূলত বাংলাদেশের পল্লীজীবনের কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত।
- এর মূল চরিত্র সাজু এবং রূপাই -এর প্রেম কাহিনী।
- তাদের জীবনসংগ্রাম এবং সামাজিক বাধা-বিপত্তির প্রতিফলন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটে উঠেছে এ কাব্যে।
- সাজুর মৃত্যু এবং রূপবান তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে নকশী কাঁথার সেলাইয়ে মগ্ন থাকে- এ ব্যথাতুর কাহিনিই আখ্যানকাব্যের কেন্দ্রবিন্দু।
- পুরো কাহিনীতে গ্রামীণ সমাজের সরল জীবনযাপন, প্রেমের ব্যর্থতা ও করুণ দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষায়।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।