বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২৭ / ১৭৪ · ১২,৬০১১২,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১২,৬০১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম তারিখ কোনটি?
  1. ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  2. ১৮৭৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
  3. ১৮৭৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর
  4. ১৮৭৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৬০২.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির কবি কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা। এটা বাংলা সাহিত্যেরও একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। কবিতাটি ‘একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং প্রথম আলো।
১২,৬০৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কৃষ্ণকান্ত
  2. শ্রীকান্ত 
  3. কমলাকান্ত 
  4. ভেড়াকান্ত 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম- কমলাকান্ত।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬০৪.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কার বুকের ‘ক্রন্দন-শ্বাস’ বুঝিয়েছেন?
  1. বিধবার
  2. বঞ্চিতের 
  3. পরশুরামের 
  4. ইস্রাফিলের
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণু, তন্বী-নয়নে বহ্ণি
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,

কবিতার চরণে স্পষ্ট লেখা আছে: "আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।"

এখানে নজরুল বিধবা নারীদের হৃদয়ের গভীর বেদনা ও আর্তনাদের কথা বলেছেন। বিধবা নারীরা সমাজে যে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেন, সেই যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি কবি নিজের মধ্যে অনুভব করেন।

অর্থ্যাৎ, সঠিক উত্তর - ক) বিধবার।
------------------------
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতার রচনাকাল: ১৯২১ সাল;  প্রকাশিত হয় ⎯ ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
 

১২,৬০৫.
’দোজখের ওম’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. হুমায়ুন আহমেদ
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরি
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ ’দোজখের ওম’।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- অন্যঘরে অন্যস্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- চিলেকোঠার সেপাই,
- দোজখের ওম,
- খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬০৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদের কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. স্বপ্নশিলা
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬০৭.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬০৮.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান- 
  1. ঢাকা 
  2. বিক্রমপুর 
  3. কুষ্টিয়া 
  4. যশোর 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৬০৯.
'লেলিহান পান্ডুলিপি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, লেলিহান পান্ডুলিপি, সাজঘর ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থগুলোর রচয়িতা কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১২,৬১০.
ত্রিশের দশকের বিখ্যাত পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

বাংলা কবিতার পঞ্চপাণ্ডব হলেন : জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে।
- কিন্তু তারা রবীন্দ্র কাব্যধারার বিরোধী কাব্যচর্চা করলেও অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সচিব ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বহু দেশ ভ্রমণও করেছেন।
অমিয় চক্রবর্তীর কাব্য হলো :
- খসড়া
- এক মুঠে
- মাটির দেয়াল
- অভিজ্ঞান বসন্ত
- অনিঃশেষ
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১২,৬১১.
'খোয়াবনামা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।
 
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৬১২.
'লালসালু' উপন্যাসের বিদ্রোহিণী চরিত্র কোনটি?
  1. সকিনা
  2. আমিনা
  3. কপিলা
  4. জমিলা
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• উপন্যাসে রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'লালসালু' উপন্যাস।
১২,৬১৩.
'দনুবানু' চরিত্রটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. সেলিম আল দীন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১২,৬১৪.
'রনজু' শওকত আলীর কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ওয়ারিশ
  2. উত্তরের খেপ
  3. পিঙ্গল আকাশ
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬১৫.
'ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।' কার উক্তি?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তিঃ
- 'ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।'
- 'জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।'
- 'মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।'
- 'মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।'
- 'যে জাতি মানে বড় নয় সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৬১৬.
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. দেয়াল
  3. নন্দিত নরকে
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।

♦ হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার। তবে এটি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস নয়। এটি তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত উপন্যাস। “শঙ্খনীল কারাগার” প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।

♦ ছাত্রজীবনে লেখা “নন্দিত নরকে” শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

♦ উল্লেখ্য, প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো সাহিত্য লেখক পরিচিতি তৈরি করে না। এবং ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব হয়। সুতরাং হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস হিসেবে ‘নন্দিত নরকে’ সঠিক উত্তর গ্রহণ করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬১৭.
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত বই কোনটি?
  1. অতলের আঁধি
  2. অপ্রকাশের ভার
  3. অসীমান্তিক
  4. আমরা অপেক্ষা করছি
ব্যাখ্যা
অসীমান্তিক:
- বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপূর্ব ভারতের মোট একষট্টি গল্পের সমাহারে হাসান আজিজুল হকের সম্পাদনায় 'অসীমান্তিক' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।
- এই গ্রন্থে প্রকাশিত গল্প থেকে উঠে আসে তিনটি অঞ্চলের জীবনের পরিপূর্ণ দিক, যা পাঠকের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের উৎস।
- এই গ্রন্থে ওই তিন অঞ্চলের গল্পের সমকালীন ধারাও স্পষ্ট হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
১২,৬১৮.
'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত-
  1. রম্য-রচনা
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকাই রঙ্গরসিকতা' শামসুজ্জামান খান রচিত 'রম্য-রচনা'।

• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
- তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা,
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬১৯.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।

১২,৬২০.
“ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন” ত্রয়ী উপন্যাসর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আবুল ফজল
  4.  আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো “ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন”। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

----------------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
• তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া।
১২,৬২১.
‘কল্যাণী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. শেষকথা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
'অপরিচিতা' ছোটগল্প:
- 'অপরিচিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী।
- অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২,৬২২.
কোন সাহিত্যাদর্শের মর্মে নৈরাশ্যবাদ আছে?
  1. ক) রোমান্টিসিজম
  2. খ) আধুনিকতাবাদ
  3. গ) উত্তরাধুনিকতাবাদ
  4. ঘ) বাস্তববাদ
ব্যাখ্যা
উত্তরাধুনিকতাবাদ প্রধানত আধুনিকতাবাদ ও আলোকপর্বের মিথ্যে আশাবাদের বিপরীতে সৃষ্ট নৈরাশ্য ও অনিশ্চয়তার একাডেমিক আলোচনা। তাই উত্তরাধুনিকতাবাদের দর্শন ও উত্তরাধুনিক ভাবুকেরা জীবন ও জগতের ব্যাখ্যা করবার চেষ্টা করবে মহান আখ্যান থেকে ক্ষুদ্র উপাখ্যানে অবতরনের মাধ্যমে।
১২,৬২৩.
নিচের কোন কবির সৃষ্টিকর্মে হিন্দু-মুসলিম মিশ্র ঐতিহ্যে পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) নজরুল ইসলাম
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান 
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল তাঁর সৃষ্টিকর্মে হিন্দু-মুসলিম মিশ্র ঐতিহ্যের পরিচর্যা করেন।
– কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
– বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা
- বিষের বাঁশী
- ভাঙ্গার গান
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি-মণসা

– আবুল মনসুর আহমদ একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন এবং ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট এর মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির যে প্রচেষ্টা চলে সে ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। 
– মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ (১৯১৮-১৯৭৪) ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। 
– শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) এর কাব্যগ্রন্থের বিষয়বস্তু সকল সঙ্কীর্ণতামুক্ত উদার মানবিক মূল্যবোধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১২,৬২৪.
'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'নিশুতি রাতের গাথা' উপনাসের রচয়িতা - আনোয়ার পাশা

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৬২৫.
কোন নাটকের বাস্তবতা ও চরিত্রের স্বাভাবিকতার কারণে একে Uncle Tom's Cabin-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. নীল-দর্পণ
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পণ' নাটক: 
- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীল-দর্পণ,
 - নবীন তপস্বিন,
 - কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৬২৬.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস কোনটি?
  1. আমার বন্ধু রাশেদ
  2. নীল পাহাড়ের গান
  3. কালো মেলা
  4. চিক্কোর কাবুক
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার  কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা।
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- পৃথিবীজোড়া গান
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভুষার কাব্য,
- নিশি কাব্য;
- কামকানন;

অন্যদিকে,
•মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত কিশোর উপন্যাস = আমার বন্ধু রাশেদ।
• শওকত আলী রচিত কিশোর উপন্যাস =নীল পাহাড়ের গান।
• মাহমুদুল হক রচিত কিশোর উপন্যাস = চিক্কোর কাবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬২৭.
‘পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

পলাশির যুদ্ধ:
- এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
- পলাশি যুদ্ধ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে নবীনচন্দ্র সেন ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।

নবীনচন্দ্র সেন:
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি চট্টগ্রাম স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৮৬৩), কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ (১৮৬৫) এবং জেনারেল অ্যাসেমবি­জ ইনস্টিটিউশন থেকে বিএ (১৮৬৮) পাস করেন।
- ১৯০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। 

তার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য:
- অবকাশরঞ্জিনী,
- পলাশীর যুদ্ধ,
- রৈবতক,
- কুরুক্ষেত্র,
- প্রভাস, 
- অমৃতাভ ইত্যাদি।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৬২৮.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাস কয়টি ভাগে বিভক্ত? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

​উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১২,৬২৯.
বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক-
  1. নীলদর্পণ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. কবর
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

----------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৩০.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প কোনটি? 
  1. স্বাধীনতার স্বাদ
  2. রসকলি 
  3. মন্দির
  4. সমুদ্রের স্বাদ
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'মন্দির' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প।
- 'রসকলি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৩১.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও।
- এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন।
- তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৩২.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই পঙ্‌ক্তিগুলো রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই পঙ্ক্তির রচয়িতা হচ্ছে কুসুমকুমারী দাশ।
কুসুমকুমারী দাশের লেখা কবিতাটির নাম "আদর্শ ছেলে" এবং এর প্রথম পঙক্তিটি হলো "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"।

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মাতা ছিলেন।
- তার গদ্যগ্রন্থের নাম ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন।
- বিভিন্ন পত্রিকা যেমন: ‘প্রবাসী’, ‘ব্রহ্মবাদী’, ‘মুকুল’ তে তার কবিতা প্রকাশিত হত। 
- তার বিখ্যাত কবিতার একটি পঙ্ক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৩৩.
বুদ্ধদেব বসুর নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) মায়া মালঞ্চ
  3. গ) কালসন্ধ্যা
  4. ঘ) তপস্বী ও তরঙ্গিনী
  5. ঙ) গোত্রান্তর
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটকগুলো হলো পুনর্মিলন, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, কলকাতার ইলেক্ট্রা, কালসন্ধ্যা, মালঞ্চ ও প্রথম পার্থ। গোত্রান্তর নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য। তার আরেকটি বিখ্যাত নাটক হলো নবান্ন। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১২,৬৩৪.
'পদ্মরাগ' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে। 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৩৫.
সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. তোতা ইতিহাস
  2. রাজাবলি 
  3. হিতোপদেশ
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (১৭৬২-১৮১৯) বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)-এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

- তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী। প্রয়োজনানুসারী ভাষারীতির প্রবর্তনে তিনি যুগোপযোগী সার্থকতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাক্যগঠনে ত্রুটি থাকলেও বাক্যের প্রাঞ্জলতা ও গাল্পিক কৌতূহল অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

- সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত 'হিতোপদেশ' গ্রন্থের ভাষা সংস্কৃতানুগ। কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

- 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের নামপত্রে মৃত্যুঞ্জয়ের নামোল্লেখ না থাকলেও তা তাঁর নিজের রচনা বলে অনুমিত। এর মধ্যে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের এবং বেদান্ত সূত্র-ভাষ্যাদির অংশবিশেষ অনূদিত হওয়ায় তাকে স্বাধীন রচনা বলে মনে করা যায় না। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৩৬.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৮ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের। তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৩৭.
'কবি শ্রীমধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'কবি শ্রীমধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা মোহিতলাল মজুমদার।

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৬৩৮.
কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) বাংলার কাব্য
  3. গ) বৃত্রসংহার কাব্য
  4. ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যা ১৯০৮ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৩৯.
মুনীর চৈধুরীর 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো-
  1. ক) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) দেশভাগ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৈধুরীর 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন 

'কবর' নাটক
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে
মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৪০.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকনাম কী ছিল?
  1. প্রবোধ
  2. বাচ্চু
  3. মানিক
  4. কুমার
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য।

অন্যদিকে,
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল -বাচ্চু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৪১.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় মূলক দার্শনিক নিবন্ধ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. নীতিকথা
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা':
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

অন্যদিকে,
‘নীতিকথা’ মুনশী তারিণীচরণ মিত্র রচিত গ্রন্থ।
'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।  

• কিংবদন্তিও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত ‘রাজাবলি’ গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠরূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১২,৬৪২.
‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার রচিত গ্রন্থে ধ্বনিত হয়েছে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত আলী
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই।'
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৪৩.
গোলাম মোস্তফা কোন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাংলা কবি সংঘ
  2. সাহিত্য সমিতি বোর্ড
  3. পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটি
  4. বাংলা একাডেমি পরিচালনা কমিটি
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৪৪.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. কবিতার কথা
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. জলপাইহাটি
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• 'জলপাইহাটি' উপন্যাস:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত 'জলপাইহাটি' উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৪৮ খ্রি.।
- উপন্যাসের মূল বিষয় দেশভাগের মর্মন্তুদ পরিণতি। যেখানে কাহিনির ভিতর দিয়ে চিত্রিত হয়েছে উপমহাদেশের বৃহত্তম ট্রাজিক ঘটনার দহন ও বীভৎসতা।

- জলপাইহাটি উপন্যাসের প্লট নিবিড় হয়েছে দুটি স্থানের ঘটনাকে নিয়ে। উল্লিখিত জায়গার একটি স্বাধীন ভারতের কলকাতা এবং অন্যটি হলো পূর্ব-পাকিস্তানের জলপাইহাটি গ্রাম। কাহিনিতে প্রতিফলিত হয়েছে দেশভাগের পরের পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ, বস্ত্রসংকট, কালোবাজারি কারবার এবং দেশভাগের কারণে মানুষের উদ্বাস্তু জীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে আসে। লেখক শৈল্পিক দক্ষতায় সমসাময়িক সময়কে নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়।

---------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'জলপাইহাটি' উপন্যাস।
১২,৬৪৫.
ইংরেজি ভাষায় জীবনানন্দ দাশের ওপর গ্রন্থ লিখেছেন কে?
  1. ডব্লিউ বি ইয়েটস
  2. ক্লিনটন বি সিলি
  3. অরুন্ধতী রায়
  4. অমিতাভ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• ক্লিনটন বি সিলি:
- ক্লিনটন বি সিলি যুক্তরাষ্ট্রের একজন স্বনামধন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাহিত্যের অধ্যাপক, বাংলা ভাষা ও ও সাহিত্যের অনুবাদক।
- তার জন্ম ১৯৪১ সালের ২১ জুন। বর্তমানে তিনি শিকাগো ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক।
- তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে গবেষণা করেছেন।
- জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন ক্লিনটন বি সিলি।
- গ্রন্থটির নাম - A Poet Apart যা ১৯৯০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন। বাংলা অনুবাদ গ্রন্থটি 'অনন্য জীবনানন্দ’ নামে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট (প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪)।
১২,৬৪৬.
'চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি' - পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীনের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. কিশোরী
  2. পল্লী জননী
  3. মা
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা
• 'চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি' - পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীনের 'পল্লী জননী' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

পল্লী জননী,
- জসীম উদ্‌দীন
রাত থম থম স্তব্ধ, ঘোর-ঘোর-আন্ধার,
নিশ্বাস ফেলি, তাও শোনা যায়, নাই কোথা সাড়া কার।
রুগ্ন ছেলের শিয়রে বিসয়া একেলা জাগিছে মাতা,
করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা।
শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে,
তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে।

ভন্ ভন্ ভন্ জমাট বেঁধেছে বুনো মশকের গান,
এঁদো ডোবা হতে বহিছে কঠোর পচান পাতার ঘ্রাণ?
ছোট কুঁড়ে ঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু,
শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু।

ছেলে কয়, “মারে, কত রাত আছে? কখন সকাল হবে,
ভাল যে লাগে না, এমনি করিয়া কেবা শুয়ে থাকে কবে?”
মা কয়“বাছারে ! চুপটি করিয়া ঘুমা ত একটি বার, ”
ছেলে রেগে কয় “ঘুম যে আসে না কি করিব আমি তার ?”
পান্ডুর গালে চুমো খায় মাতা, সারা গায়ে দেয় হাত,
পারে যদি বুকে যত স্নেহ আছে ঢেলে দেয় তারি সাথ।
নামাজের ঘরে মোমবাতি মানে, দরগায় মানে দান,
ছেলেরে তাহার ভাল কোরে দাও, কাঁদে জননীর প্রাণ।
ভাল করে দাও আল্লা রছুল। ভাল কোরে দাও পীর।
কহিতে কহিতে মুখখানি ভাসে বহিয়া নয়ন নীর।

বাঁশবনে বসি ডাকে কানা কুয়ো, রাতের আঁধার ঠেলি,
বাদুড় পাখার বাতাসেতে পড়ে সুপারীর বন হেলি।
চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি,
দুর ছাই। কিবা শঙ্কায় মার পরাণ উঠিছে ভরি।
যে কথা ভাবিতে পরাণ শিহরে তাই ভাসে হিয়া কোণে,
বালাই, বালাই, ভালো হবে যাদু মনে মনে জাল বোনে।
ছেলে কয়, “মাগো! পায়ে পড়ি বলো ভাল যদি হই কাল,
করিমের সাথে খেলিবারে গেলে দিবে না ত তুমি গাল?
আচ্ছা মা বলো, এমন হয় না রহিম চাচার ঝাড়া
এখনি আমারে এত রোগ হোতে করিতে পারি ত খাড়া ?”
মা কেবল বসি রুগ্ন ছেলের মুখ পানে আঁখি মেলে,
ভাসা ভাসা তার যত কথা যেন সারা প্রাণ দিয়ে গেলে।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; রাখালী, জসীম উদ্‌দীন।
১২,৬৪৭.
আল মাহমুদের কোন কবিতাটি একটি সনেট?
  1. ক) সোনালী কাবিন
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) অন্তরভেদী অবলোকন
  4. ঘ) অবগাহনের শব্দ।
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিলো 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। 
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। 
- এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। 
- 'সোনালী কাবিন' এর কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৪৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) রশীদ করিম
  3. গ) ড. মযহারুল ইসলাম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

গ্রন্থঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
লেখকঃ ড. মযহারুল ইসলাম
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায় রচিত জীবনী।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের একটি প্রামাণ্য দলিল। এখানে ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে সত্যকে উদ্ধার ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গ্রন্থটি একটি অমূল্য ইতিহাস।

Source: liberationwarbangladesh.org

১২,৬৪৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চার্যাপদের রচনাকাল কত?
  1. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০-১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনাকাল
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌র মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ এবং
- ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৫০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস -
  1. টুনি মেম
  2. চাচা-কাহিনী
  3. অবিশ্বাস্য
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস - অবিশ্বাস্য।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 

- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৬৫১.
জহির রায়হানের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জীবন থেকে নেয়া​
  2. বাহানা
  3. কখনো আসে নি
  4. সঙ্গম
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তার সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। এবং পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’। তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৫২.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খােয়াবনামা
  3. দুধেভাতে উৎপাত
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

​আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ​উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ:
- খোয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

​উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৫৩.
‘একুশের গান’ শিরোনামে প্রকাশিত হয় একুশের কোন গানটি?
  1. ক) ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
  2. খ) মা গো ওরা বলে
  3. গ) আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের  গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
• ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৫৪.
‘তুরস্ক ভ্রমণ’ ভ্রমণ-কাহিনিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি - তুরস্ক ভ্রমণ।

-------------------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৫৫.
মীর মশাররফ হোসেন কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. তাম্বুলখানা
  2. মাঝাইল
  3. কুমারখালি
  4. লাহিনীপাড়া
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
 
তাছাড়া,
- জসীম উদ্দীন তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফররুখ আহমদ মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৫৬.
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাসটির লেখক- 
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. মুনীর চোধুরী 
  4. সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা

'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাস:
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৫৭.
’মুখরা রমণী বশীকরণ’ উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের কোন নাটকের অনুবাদ?
  1. As You Like It.
  2. The Taming of The Shrew.
  3. All's Well That Ends Well.
  4. Antony and Cleopatra.
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের The Taming of The Shrew অনুবাদ করেন  ’মুখরা রমণী বশীকরণ’  নামে।

• মুনীর চৌধুরীর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক : 
- কবর,
- দন্ডকারণ্য 
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য,
- চিঠি,

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য অনুবাদ নাটক: 
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৫৮.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে 
  2. ১৯২২ সালে 
  3. ১৯২৪ সালে 
  4. ১৯৩২ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।


-----------------------
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত-
- প্রথম  গ্রন্থ ও গল্পগ্রন্থ-  'ব্যথার দান'।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ-  'অগ্নি-বীণা'।
- প্রথম কবিতা-  'মুক্তি'।
- প্রথম প্রবন্ধ-  'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'।
- প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ- 'যুগবাণী'।
- প্রথম উপন্যাস-  'বাঁধন-হারা'।
- প্রথম নাটক ও নাট্যগ্রন্থ-  'ঝিলিমিলি'।
- প্রথম নিষিদ্ধকৃত গ্রন্থ -'যুগবাণী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৫৯.
'কালো বরফ' উপন্যাসটির বিষয়:
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:

• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
১২,৬৬০.
'শিল্পী' নাটকটি কাজী নজরুলের কোন নাট্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) শিউলিমালা
  3. গ) রিক্তের বেদন
  4. ঘ) পাতালপুরী
ব্যাখ্যা
• 'শিল্পী' নাটকটি কাজী নজরুলের 'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।

• তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ ঝিলিমিলি। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের অগ্রাহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থে গ্রন্থভুক্ত:
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী

অন্যদিকে,
- ‘শিউলিমালা’  নজরুলের গল্পগ্রন্থ।
- ‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল প্রকাশিত দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ।
- ‘যুগবাণী’ নজরুলের প্রবন্ধের গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৬১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম গদ্য রচনা কোনটি?
  1. বিলাসী
  2. বড়দিদি
  3. মেজদিদি
  4. মন্দির
ব্যাখ্যা
• মন্দির:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- 'মন্দির' গল্পের জন্য তিনি ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি ছোটগল্প।

- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
-ছবি ইত্যাদি তার সুখপাঠ্য বড়গল্প।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ছদ্মনাম: অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৬২.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প?
  1. ফেরিওয়ালা
  2. মণিহারা
  3. কঙ্কাল
  4. অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা

'ফেরিওয়ালা' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্প। গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ফেরিওয়ালা' নামক গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়ে গন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প- মণিহারা, কঙ্কাল এবং অনধিকার প্রবেশ।

-------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৬৩.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) ইবরাহিম খাঁ
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধঃ
- ভবিষ্যতের বাঙালি,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- জীবনের শিল্প,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- মোটর যোগে রাঁচী সফর,
- পশ্চিম ভারত।
• 'গ্রানাডার শেষ বীর' তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৬৪.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. ক) চাচা-কাহিনী
  2. খ) শবনম
  3. গ) পঞ্চতন্ত্র
  4. ঘ) ময়ূরকণ্ঠী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলীর ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন পঞ্চতন্ত্র

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন। প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।

উল্লেখযোগ্য রচনা - বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্‌- রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ ‘বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে । তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়। গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।

• চাচা-কাহিনী -
তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ
• শবনম - তাঁর রচিত উপন্যাস
• ময়ূরকণ্ঠী -
তাঁর রচিত রম্য-রচনা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৬৫.
ছন্দের যাদুকর বলা হয়- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত কবি।
- তাঁর বহুল প্রচলিত কবিতা 'মেথর'।
- দেশাত্মবোধ, শক্তির সাধনা, মানবতাবোধ তাঁর কবিতার ভাববস্তু।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৬৬.
নিচের কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-গ্রন্থ?
  1. প্রতিধ্বনি
  2. অর্কেস্ট্র
  3. হারানো অর্কিড
  4. মাটির দেওয়াল
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-গ্রন্থ :প্রতিধ্বনি।
------------------------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

অন্যদিকে,
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- মাটির দেওয়াল,
- হারানো অর্কিড,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৬৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কোন পণ্ডিত সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৬৮.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক?
  1. কালীকীর্তন
  2. বোধেন্দুবিকাশ
  3. প্রবোধ প্রভাকর
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবনী:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া চড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়।

- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

- তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন। ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর 'বোধেন্দুবিকাশ' (১৮৬৩) নাটকে। নাটকটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। 

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
- কালীকীর্তন ও
- প্রবোধ প্রভাকর।

• তাঁর রচিত নাটক:
- হিতপ্রভাকর ও
- বোধেন্দুবিকাশ।

অন্যদিকে, 
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৬৯.
'গাভী বিত্তান্ত' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সলিমুল্লাহ খান
  3. আহমদ ছফা
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত' গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৭০.
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। ------ একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
  1. কূলে
  2. খেতে
  3. তরীতে
  4. মাঠে
ব্যাখ্যা
• সোনার তরী:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

'সোনার তরী' কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
  (সংক্ষিপ্ত)।  

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৭১.
‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত-
  1. বেগম রোকেয়া
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামালকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
--------------------------------------
সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর গল্প ও স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১২,৬৭২.
মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' কোন শ্রেনীর নাটক?
  1. ক) পৌরাণিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) ঐতিহাসিক
  4. ঘ) রূপক
ব্যাখ্যা

রক্তাক্ত প্রান্তর মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,৬৭৩.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. মালাধর বসু 
  2. বিদ্যপতি 
  3. মুকুন্দদাস
  4. রামপ্রসাদ সেন 
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস 'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত।

• মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের (১৮৭৮-১৯৩৪) জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৭৪.
বিষ্ণু দে রচিত ‘সাত ভাই চম্পা’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৭৫.
সরদার জয়েনউদ্‌দীন কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. কথাসাহিত্যিক
  2. নাট্যকার
  3. প্রবন্ধিক
  4. ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম।
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে।
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৭৬.
নিচের কোনটি জসিম উদ্দীন রচিত ভ্রমণ কাহিনী ?
  1. জার্মানীর শহরে বন্দরে
  2. হলদে পরীর দেশ
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

- জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- জসিম উদ্দীন রচিত ভ্রমণ কাহিনী
- জার্মানীর শহরে বন্দরে
- হলদে পরীর দেশ 
- যে দেশে মানুষ বড় 
- চলে মুসাফির 
তাঁর বিখ্যাত কাব্য 
- নকশী কাঁথার মাঠ 
[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১২,৬৭৭.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) নিষিদ্ধ লোবান
  2. খ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  3. গ) উপমহাদেশ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

উপরের সবগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সৈয়দ শামসুল হক ''নিষিদ্ধ লোবান'' উপন্যাসটি রচনা করেন,এই উপন্যাস অবলম্বনে গেরিলা নামক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে ।
- জাহান্নাম হইতে বিদায় শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপমহাদেশ আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৬৭৮.
'গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা' রম্য রচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। তাঁর রম্যরচনা- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।
শিশু সাহিত্য- 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ'। প্রবন্ধগ্রন্থ- নানা প্রসঙ্গ, গণসঙ্গতি, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, ফোকলোরচর্চা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৭৯.
দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯২৩
  3. ১৯২২
  4. ১৯২০
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

------------------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:

- দীনেশচন্দ্র সেন(১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য,
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড,
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৮০.
মামুনুর রশীদ মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
  1. নাট্যকার
  2. কথাসাহিত্যিক
  3. কবি
  4. ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
⇒ মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷ 

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৮১.
'ঠাকুরমার ঝুলি'র' সংগ্রাহক কে? 
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'ঠাকুরমার ঝুলি'র' সংগ্রাহক ও সংকলক - 'দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার'।

• ঠাকুরমার ঝুলি:
- বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। 
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত কাহিনী নিয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে
- খোকা বাবুর খেলা
- আমাল বই 
- কিশোরদের মন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৮২.
'দ্বৈরথ' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
'দ্বৈরথ' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস,
-নন্দিত নরকে,
-শঙ্খনীল কারাগার,
-নিশীথিনি,
-অরণ্য,
-ইরিনা,
-সাজঘর,
-আমাদের শাদা বাড়ি
-নীল অপরাজিতা
-জলপদ্ম,
-কুহুরানী ইত্যাদি।।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৬৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নৌকাডুবি
  2. ডাকঘর
  3. চতুরঙ্গ
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৬৮৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. পথের পাঁচালী
  2. মেঘমল্লার
  3. চাঁদের পাহাড়
  4. আদর্শ হিন্দু হোটেল
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
• ভাগলপুরে চাকরি করার সময় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে 'পথের পাঁচালী' রচনা শুরু করেন এবং শেষ করেন ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে। 
• 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ রচনা। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
• অপরাজিত পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ। উভয়গ্রন্থে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে।

• প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় পথের পাঁচালীকে চলচ্চিত্রে রূপদানের মাধ্যমে তাঁর পরিচালক জীবন শুরু করেন এবং এর জন্য তিনি দেশিবিদেশী বহু পুরস্কার লাভ করেন।তিনি অপরাজিত এবং অশনি সংকেত উপন্যাস দুটি অবলম্বনেও অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। পথের পাঁচালী উপন্যাসটি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাসহ ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

---------------
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- অপরাজিত,
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- চাঁদের পাহাড়,
- কিন্নরদল,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- মরণের ডঙ্কা বাজে,
- স্মৃতির রেখা,
- দেবযান,
- হীরামানিক জ্বলে,
- উৎকর্ণ,
- হে অরণ্য কথা কও,
- ইছামতী,
- অশনি সংকেত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৮৫.
কোন রচনার মধ্য দিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার” দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. চারিদিকে যুদ্ধ
  2. এখনও ক্রীতদাস
  3. সূর্য দীঘল বাড়ি
  4. এবার ধরা দাও
ব্যাখ্যা

এখনও ক্রীতদাস রচনার মধ্য দিয়ে “মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার” দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠেছে ।
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকের ঢাকা শহরে গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার যুদ্ধপরবর্তী অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরা হয়েছে।
- আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮) নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ অনার্স ও এমএ (১৯৬৪) ডিগ্রি অর্জন করেন।
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪)
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫)
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭)
- শপথ (১৯৭৮)
- সেনাপতি (১৯৮০)
- অরক্ষিত মতিঝিল (১৯৮০)
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার (১৯৮১)
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪)।
- তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র-
- সারেং বউ
- সখী তুমি কার
- এখনই সময়
- দুই জীবন।
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস:
-মানব তোমার সারাজীবন (১৯৮৮)
- আহ্ দেবদাস (১৯৮৯)
- তাহাদের যৌবনকাল (১৯৯১)।

সূত্র:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

১২,৬৮৬.
'লাল নীল দীপাবলি' কার রচনা?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,পাক সার জমিন সাদ বাদ, যাদুকরের মৃত্যু। তার লেখা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক বই হলো লাল নীল দীপাবলি বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী,কতো নদী সরোবরে বা বাংলা ভাষার জীবনী, বাক্যতত্ত্ব।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
১২,৬৮৭.
উইলিয়াম টডের 'রাজস্থানে'র আখ্যান অবলম্বনে রচিত কবিতা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. কড়ি ও কোমল
  2. কথা ও কাহিনী
  3. সোনারতরী
  4. বলাকা
ব্যাখ্যা
'কথা ও কাহিনী' (১৯০০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- 'কথা' (১৮৯৯) ও 'কাহিনী' (১৮৯৯) নামে দুটি স্বতন্ত্র কাব্য থেকে এই নতুন কাব্য গঠিত হয়েছে।
- 'কাথা ও কাহিনী'র প্রথম অংশ এ বৌদ্ধ অবদান এবং উইলিয়াম টডের 'রাজস্থানে'র কয়েকটি আখ্যান অবলম্বনে কবিতা রচিত হয়েছে
- 'কাহিনী' অংশে আছে লেখকের মৌলিক কাহিনি-কবিতা। 
- দেবতার গ্রাস, গান্ধারীর আবেদন, কর্ণ-কুন্তী সংবাদ, বিসর্জন প্রভৃতি কাহিনী এই অংশে অন্তর্ভূক্ত।
--------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ সমূহ-
- মানসী (১৮৯০)
- সোনার তরী (১৮৯৪)
- চিত্রা (১৮৯৬)
- চৈতালি (১৮৯৭)
- গীতাঞ্জলি (১৯১০)
- ক্ষণিকা (১৯০০)
- কথা ও কাহিনী (১৯০০)
- বলাকা (১৯১৬)
- পূরবী (১৯২৫)
- পুনশ্চ (১৯৩২)
- শেষলেখা (১৯৪১)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৮৮.
কাজী নজরুল ইসলামের শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নতুন চাঁদ
  2. খ) ঝিঙ্গে-ফুল
  3. গ) ফনিমনসা
  4. ঘ) প্রলয়-শিখা
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,৬৮৯.
'কীর্তিবিলাস' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২,৬৯০.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী আবদুল ওদুদ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, কর্ণফুলী, ক্ষুধা ও আশা, খসড়া কাগজ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৬৯১.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' উপাধি দেয়া হয়েছে-  
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 
  4. রাজশেখর বসুকে 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' উপাধিটি বিহারীলাল চক্রবর্তীর।
-------------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার 'ভোরের পাখি' বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 

- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ- 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। 
- তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

• বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।
• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১২,৬৯২.
'একটি স্নেহের কথা প্রশমিতে পারে ব্যাথা' - পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) হরতাল
  2. খ) কবিতা মুকুল
  3. গ) অমিয়ধারা
  4. ঘ) পাছে লোকে কিছু বলে
ব্যাখ্যা
'একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যাথা' - পঙক্তিদ্বয়  কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩)
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য,
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৯৩.
রাজা রামমােহন রচিত বাংলা ব্যাকরণের নাম কি?
  1. ক) মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. খ) মাতৃভাষা ব্যাকরণ
  3. গ) ভাষা ও ব্যাকরণ
  4. ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচনা করেন।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর]
১২,৬৯৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত লালসালু উপন্যাসটি কী নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়?
  1. Night of no moon
  2. How to cook beans
  3. Tree without roots
  4. Cry river cry
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু। 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
উৎস : বাংলা পিডিয়া।
১২,৬৯৫.
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) স্বয়ম্বরা
  2. খ) মাটির পৃথিবী
  3. গ) মৃতের আত্মহত্যা
  4. ঘ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
ব্যাখ্যা

আবুল ফজল: তিনি মূলত সাহিত্যিক৷ তিনি সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
উপন্যাস :
- চৌচির (১৯৩৪),
- প্রদীপ ও পতঙ্গ (১৩৪৭),
- রাঙ্গা প্রভাত (১৩৬৪)।
গল্পগ্রন্থ :
- মাটির পৃথিবী (১৩৪৭),
- মৃতের আত্মহত্যা (১৯৭৮);
নাটক :
- কায়েদে আজম (১৯৪৬),
- প্রগতি (১৯৪৮),
- স্বয়ম্বরা (১৯৬৬);
আত্মকাহিনী ও দিনলিপি :
- রেখাচিত্র (১৯৬৬)।
প্রবন্ধ :
- বিচিত্র কথা (১৩৪৭),
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা (১৯৬১),
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন (১৯৬৫),
- সমকালীন চিন্তা (১৯৭০),
- মানবতন্ত্র ((১৩৭৯)
- শুভবুদ্ধি (১৯৭৪),
- শেখ মুজিব তাঁকে যেমন দেখেছি (১৯৭৮),
- রবীন্দ্র প্রসঙ্গ (১৯৭৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১২,৬৯৬.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. রাত্রিশেষ
  2. সারাদুপুর
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২,৬৯৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. দোলনচাঁপা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস নয়- দোলনচাঁপা। 
• 'দোলনচাঁপা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৬৯৮.
'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1.  যুগ-বাণী 
  2.  দুর্দিনের যাত্রী
  3. রাজবন্দির জবানবন্দি
  4. রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রুদ্রমঙ্গল প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ক্ষুদিরামের মা প্রবন্ধে দেশপ্রেমিক মায়েদেরকে উজ্জীবিত করার প্রকৃত আবেদনই উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।

- ক্ষুদিরামের অনন্য দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের সূত্র ধরে ভারতীয় যুব সম্প্রদায়কে আত্মোৎসর্গে উজ্জীবিত হতে বলেছেন। পরাধীন ভারতমাতা বা ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আহ্বানই জানানো হয়েছে আলোচ্য প্রবন্ধের মাধ্যমে।

- প্রবন্ধ পাঠে জানা যায় ক্ষুদিরাম পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে স্বাধীনতাকামী এক বিপ্লবীর সাথে যোগ দেন। ব্রিটিশ শষণের পক্ষের লোক ম্যাজিস্ট্রেট কিংস ফোর্ড সাহেবকে হত্যার জন্য ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি মুজফ্ফরপুর গ্রামে যান। সেখানে ভুলবশত কিংস ফোর্ডের গাড়ির পরিবর্তে অন্য এক সরকারি কর্মচারির গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেন। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের পরে গাড়িতে অবস্থানকারী রাজকর্মচারী ও তার মেয়ের মৃত্যু হয়। গাড়িতে বোমা নিক্ষেপের অপরাধে শাস্তি স্বরূপ ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয়া হয়। আঠারো বছরের ক্ষুদিরাম দেশের শৃঙ্খল-মুক্তি ও বন্ধন মুক্তির জন্যই গাড়িতে বোমা মেরেছিলো। দেশের শৃঙ্খল মুক্তির জন্য যারা নির্ভয়ে জীবন দিতে চান, যারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে মৃত্যুকে সাদরে বরণ করে নিতে চান, ক্ষুদিরাম ছিলেন তাদেরই একজন পথ প্রদর্শক প্রতিনিধি।

- স্বাধীনতাকামী ও মুক্তকামী দেশমাতৃকার কবি নজরুল ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে প্রবন্ধটি রচনা করেছেন। 

উৎস: 'ক্ষুদিরামের মা' প্রবন্ধ এবং 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ। 

১২,৬৯৯.
‘জীবনক্ষুধা’ - উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'জীবনক্ষুধা' উপন্যাসের রচয়িতা - আবুল মনসুর আহমদ।

আবুল মনসুর আহমদ:

- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স,
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৭০০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বছর বয়সে ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. তেরো
  2. চৌদ্দ
  3. পনেরো
  4. ষোলো
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের ভিখারিনী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

অন্যদিকে,
• আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'হিন্দুমেলার উপহার'। ২৫/২/১৮৭৪ সালে অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মাত্র তের বছর বয়সে তিনি এটি রচনা করেন। 

• ১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর। বনফুল ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে তথা কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়, তখন বয়স ছিল ১৯ বছর। এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।