• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৯১৭ সালের শেষের দিকে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- তিনি মাধ্যমিকের প্রি-টেস্ট পরীক্ষা না দিয়েই সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন।
- নজরুল ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তাঁর কর্মস্থল ছিল করাচি সেনানিবাস।
- প্রায় আড়াই বছর তিনি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।
- এই সময়ে তাঁর পদোন্নতি ঘটে; তিনি কর্পোরাল পদে উন্নীত হন এবং পরবর্তীতে কোয়ার্টার মাস্টার (হাবিলদার) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- অবশেষে ১৯২০ সালে তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন।
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।
• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।
• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।
• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।
• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা [লিঙ্ক];
জাতীয় তথ্য বাতায়ন।