বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২৪ / ১৭৪ · ১২,৩০১১২,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১২,৩০১.
শওকত ওসমান রচিত কোন উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. রাজসাক্ষী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. চৌরসন্ধি
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শওকত ওসমান:

- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩০২.
‘কলমসৈনিক’ - উপাধিটি কোন সাহিত্যিকের?
  1. আবদুল করিম
  2. আবদুল হক
  3. আবদুল কাদির
  4. মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
খ) আবদুল হক-এর উপাধি হল 'কলমসৈনিক'।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• মোজাম্মেল হক - কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা। 
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩০৩.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'প্রথম আলো' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রাজনৈতিক
  2. রোম্যান্টিক
  3. ঐতিহাসিক
  4. মন্বস্তাত্বিক
ব্যাখ্যা
♦ 'প্রথম আলো' উপন্যাস:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রথম আলো'।
- এই উপন্যাসটি ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
- দীর্ঘ প্রবাহিত এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার এক রাজপরিবারের কাহিনি দিয়ে। তারপরে তা ক্রমে ক্রমে এসে দাড়ায় কলকাতার ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলি সবই প্রায় বাস্তব বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ, নরেন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নটী বিনােদিনী, গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি চরিত্রের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
- লেখক প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
- এছাড়াও উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র “ভরত ও ভূমিসুতা”।
- উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসসমূহ:
- পূর্ব-পশ্চিম,
- সেই সময়,
- প্রথম আলো,
- একা এবং কয়েকজন।

উৎস: ‘প্রথম আলো’ উপন্যাস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
১২,৩০৪.
'পথের শেষ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সেঁজুতি
  2. সোনার তরী
  3. খেয়া
  4. মানসী
ব্যাখ্যা

'খেয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের শেষ পর্বের রচনাগুলোর একটি। খেয়া কাব্যগ্রন্থটি ৫৫টি কবিতার সংকলন।
- এ সংকলনের কবিতাগুলির মধ্যে ক্লান্তি ও বিষাদের সুর প্রাধান্য পেয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেছেন। 
- কবিতাগুলোতে জীবনের ব্যথাবেদনার ও বিচিত্র অনুভবের মধ্যে চরম শ্রেয়োলাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: পথের শেষ, শেষ খেয়া, ঘাটেরপথ, বিদায়, দীঘি, আগমন, বৈশাখে, জাগরণ ইত্যাদি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- খেয়া, 
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৩০৫.
'ফেরদৌসি চরিত' গদ্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. মীর মশাররফ
  2. লুৎফর রহমান
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'ফেরদৌসি চরিত' গদ্যগ্রন্থের লেখক - মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,৩০৬.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. গভর্নমেন্ট গেজেট
  3. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় - বাঙ্গাল গেজেট
- এটি ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদনা করেন।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩০৭.
বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. নতুন কবিতা
  2. কবিতা
  3. নয়া সড়ক
  4. মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেননি।

অন্যদিকে,
'নতুন কবিতা':
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।

'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।

মাসিক পত্রিকা: 
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩০৮.
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম কী?
  1. জরাসন্ধ
  2. দৃষ্টিহীন
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ

অন্যদিকে,
- মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩০৯.
ছান্দসিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আব্দুল কাদির
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সুকুমার রায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরকে ছান্দসিক কবি বলা হয়।

• আবদুল কাদির:
- কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।

অন্যদিকে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৩১০.
"আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - চরণগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শেষলেখা
  2. মানসী
  3. চিত্রা
  4. সেঁজুতি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• "আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' রচনা করেন। কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
১৪০০ সাল
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 
আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
 
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৩১১.
'নরকে লাল গোলাপ' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) স্মৃতিচারণ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক। অনুরূপ তার আরেকটি নাটক হলো নিঃশব্দ যাত্রা। সৈয়দ শামসুল হক রচিত পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি বিখ্যাত কাব্যনাট্য। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১২,৩১২.
'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত' হলো একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত'- হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক ও সরস প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের ব্যঙ্গাত্মক রচনাগুলো বাংলা সাহিত্যের গৌরবময় সংযোজন।

• লেখক তিন ধরনের প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন।
সেগুলো হলো-
- ব্যঙ্গাত্মক ও সরস, যেমন-  কমলাকান্তের দপ্তর, লোকরহস্য এবং মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত।
- জ্ঞান বিজ্ঞান ও সমালোচনাবিষয়ক, যেমন- বিজ্ঞানরহস্য, বিবিধ সমালোচনা, সাম্য এবং বিবিধ প্রবন্ধ।
- দর্শন ও শাস্ত্রচর্চাবিষয়ক, যেমন- কৃষ্ণ চরিত্র ও ধর্মতত্ত্ব।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২,৩১৩.
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে?
  1. ক) ৫ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৭ নং
  4. ঘ) ৮ নং
ব্যাখ্যা
• মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর:
 - ১৯৪৯ সালের ৭ মার্চ, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তখন তাঁর পদবি ছিল ক্যাপ্টেন।
- ৭ নম্বর সেক্টরের মাহদীপুর সাব-সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন।
- ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের যুদ্ধে শহীদ হন।
- ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের মরদেহ ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো।
১২,৩১৪.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস কোনটি?
  1. আবদুল্লাহ
  2. আনোয়ারা
  3. জোহরা
  4. রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত চিরায়ত উপন্যাস। 
• 'জোহরা' উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
• ‘রত্নবতী’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম উপন্যাস। 

-----------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:

- মোহাম্মদ নজিবর রহমান (১৮৬০-১৯২৩) ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক। পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩১৫.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. অপঘাত
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'দুধভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের মিলির হাতে স্টেনগান গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত।
source: ভোরের কাগজ।

তার অন্যান্য বিখ্যাত গল্পঃ
- প্রতিশোধ,
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- অপঘাত,
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল,
- রেইনকোট,
- মিলির হাতে স্টেনগান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২,৩১৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের নায়িকা "অচলা"?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. গৃহদাহ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ - বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।

অন্যদিকে,
- বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - গােবিন্দলাল, রােহিনী, ভ্রমর।
- চরিত্রহীন উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ ও কিরণময়ী। 

​উৎস:  বাংলা ভাষা সাহিত্য সাহিত্য।

১২,৩১৭.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. প্রমথ চোধুরী
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 

প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১২,৩১৮.
আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। উক্তিটি করেন -
  1. কায়কোবাদ
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩১৯.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সওগাত
  2. জননী
  3. বেগম
  4. বাসন্তী
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩২০.
'নেমেসিস' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) মাহবুব আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১২,৩২১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. পরিচয়
  3. পয়গাম
  4. পরিদর্শক
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা - পরিচয়

অন্যদিকে,
• সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা।
• আবু লোহানী সম্পাদিত পত্রিকা - পয়গাম।
• বিপিনচন্দ্র পাল সম্পাদিত পত্রিকা - পরিদর্শক।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩২২.
''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।'' - কবিতাংশটুকু জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কাল সে আসিবে
  2. দুরাশা
  3. পরাজয়
  4. প্রতিদান
ব্যাখ্যা
• ''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।'' - কবিতাংশটুকু জসীম উদ্‌দীন রচিত 'প্রতিদান' কবিতার অন্তর্গত। কবিতাটি 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রতিদান
  জসীম উদ্‌দীন

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী, -
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীনএকজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীন এর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, প্রতিদান কবিতা- জসীমউদ্‌দীন, বাংলাপিডিয়া।
১২,৩২৩.
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত গানেরগ্রন্থ কোনটি?
  1. দোলনচাঁপা
  2. বুলবুল
  3. প্রলয়শিখা
  4. জিঞ্জীর
ব্যাখ্যা

• 'বুলবুল' গীতিগ্রন্থ:
- ‘বুলবুল’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিগ্রন্থ, এটিই তাঁর প্রথম গ্রন্থ যাতে শুধু গান প্রকাশিত হয়েছিল। 

- 'বুলবুল' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মুতাবিক নভেম্বর ১৯২৮, প্রকাশক গোপালদাস মজুমদার, ডি. এম. লাইব্রেরি, ৬১ কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
- তাতে মোট ৪২টি গান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই বঙ্গাব্দের চৈত্রে গ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হলে তাতে ‘নূতন গান’ বিভাগে সাতটি গান সংযোজিত হয়েছিল। 

তথ্যসূত্র: 'বুলবুল' গীতিগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩২৪.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস?
  1. ক) স্বর্ণলতা
  2. খ) রিক্তের বেদন
  3. গ) ইন্দিরা
  4. ঘ) রাজহংস
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাংলায় রচিত প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী।
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো- কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, ইন্দিরা, যুগলাঙ্গুরীয়, চন্দ্রশেখর, রাধারানী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১২,৩২৫.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য হলো-
  1. ক) হসন্তিকা
  2. খ) মাটির দেয়াল
  3. গ) সাঁঝের মায়া
  4. ঘ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
ব্যাখ্যা
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য হলো হসন্তিকা। 

- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্য: 
- সবিতা
- সন্ধিক্ষণ
- বেণু ও বীণা
- কুহু ও কেকা
- তুলির লিখন
- হোমশিখা
- অভ্র-আবীর
- হসন্তিকা
- বেলা শেষের গান
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু
- মণি মঞ্জুষা
- অন্যদিকে 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩২৬.
বিখ্যাত 'নবকুমার' চরিত্রটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩২৭.
‘জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১২,৩২৮.
'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলাম কয় মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন?
  1. ক) ৩ মাস
  2. খ) ৬ মাস
  3. গ) ৯ মাস
  4. ঘ) ১২ মাস
ব্যাখ্যা
আনন্দময়ীর আগমনে কবিতার কারণে কবির ১২ মাস বা একবছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৩২৯.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য কোনটি?
  1. নওল কিশোরের দরবারে
  2. বহুরূপী
  3. বনপাংশু
  4. উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য - বহুরূপী

অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ সাহিত্য - নওল কিশোরের দরবারে।
- সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ - বনপাংশু।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ - উচ্ছ্বাস।

• সুকুমার রায়:

- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়  তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৩০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. যোগীন্দ্রনাথ বসু
  2. যোগীন্দ্রনাথ সরকার
  3. যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত
  4. যোগেন্দ্রনাথ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থের রচয়িতা - যোগীন্দ্রনাথ বসু
- তাঁর রচিত গ্রন্থটির নাম 'মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনচরিত'।
- এটি ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৩১.
নিচের কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) ধাত্রীদেবতা
  2. খ) গণদেবতা
  3. গ) পথের ডাক
  4. ঘ) পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা
ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। আর পথের ডাক, দ্বীপান্তর ও দুই পুরুষ তাঁর রচিত নাটক। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,৩৩২.
বাংলা গদ্যের নবযাত্রা শুরু হয়েছিল কোন শতকে?
  1. উনিশ শতকের শুরুতে
  2. আঠারো শতকের শেষ দিকে
  3. বিশ শতকের শুরুতে
  4. উনিশ শতকের মাঝামাঝি
ব্যাখ্যা
- ইংরেজ শাসনের সূত্রপাতে বাংলা গদ্যের ধারাবাহিক চর্চার পূর্বে পুরানো গদ্য যে নিতান্ত অবহেলার ব্যাপার ছিল না তা উক্ত মন্তব্য থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায়। 
- আর সে পটভূমিকায় ড. আনিসুজ্জামান বলেছেন, 'তিন শ বছরের সচল ধারা ফেলে রেখে নতুন অভিভাবকতায় এভাবে বাংলা গদ্যের নবযাত্রা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শুরুতে।  এ যাত্রার অনেক বিত্ত সংগৃহীত হয়েছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু ঘরের অনেকদিনের সঞ্চয়ও হারিয়ে গিয়েছিল।
- ড. গোলাম মুরশিদ প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা গদ্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন তাঁর 'আঠারো শতকের গদ্য: ইতিহাস ও সংকলন' গ্রন্থে। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বেশ আগে থেকে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৩৩৩.
রম্যরচনার জন্য খ্যাত লেখক হলেন-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আব্দুল কাদের
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৩৪.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
 - আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৩৫.
খনার বচন কী সংক্রান্ত?
  1. ক) ব্যবসায়
  2. খ) কৃষি
  3. গ) রাজনীতি
  4. ঘ) শিল্প
ব্যাখ্যা

খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া
আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত। অনেকের মতে, খনা নাম্নী জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী বাঙালি নারীর রচনা এই ছড়াগুলো। তবে এ নিয়ে মতভেদ আছে।
অজস্র খনার বচন যুগ-যুগান্তর ধরে গ্রাম বাংলার জন-জীবনের সাথে মিশে আছে। জনশ্রুতি আছে যে, খনার নিবাস ছিল অধুনা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসত সদর মহকুমার দেউলিয়া গ্রামে (বর্তমানে চন্দ্রকেতুগড় প্রত্নস্থল, যেটি খনামিহিরের ঢিবি নামে পরিচিত)।
এমনকি, তিনি রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার নবরত্নের দশম সদস্য ছিলেন বলে কথিত। বরাহমিহির বা বররুচি-এর পুত্র মিহির তার স্বামী ছিল বলেও কিংবদন্তি কথিত আছে।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো কৃষি

তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মাহমুদ

১২,৩৩৬.
'রসকলি' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
'রসকলি' ছোটগল্পের রচয়িতা- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
 
১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় জন্ম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্য়য়ের উপন্যাস:  
- চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২),
- ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
- কালিন্দী (১৯৪০),
- গণদেবতা (১৯৪৩),
- পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
- কবি (১৯৪৪),
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
- আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ডাকহরকরা 

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১২,৩৩৭.
"দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" - পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কৃষাণের গান
  2. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  3. প্রার্থনা
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা

• "দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের 'কাণ্ডারী হুশিয়ার' কবিতার অংশ।
কাণ্ডারী হুশিয়ার!

সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ' কাজী নজরুল ইসলাম।

১২,৩৩৮.
আবদুল্লাহ আল মামুন এর প্রথম প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. শপথ
  2. এখনও ক্রীতদাস
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. কোকিলারা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। এবং তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৩৯.
কোন গ্রন্থটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা?
  1. চৌচির
  2. নদী ও নারী
  3. আগুনের পরশমণি
  4. সারেং বৌ
ব্যাখ্যা
• 'আগুনের পরশমণি' গ্রন্থটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে,
• আবুল ফজল রচিত উপন্যাস - চৌচির।
• হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস - নদী ও নারী।
• শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস - সারেং বৌ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৪০.
১৯ শতকের মহিলা কবির নাম-
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
  2. রহিমুন্নেসা
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নুরুন্নেসা খাতুন
ব্যাখ্যা
• ১৯ শতকের মহিলা কবির নাম- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী। 

অন্যদিকে,
• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

- বেগম রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালে। কিন্তু তিনি সাহিত্য রচনা শুরু করেছেন বিংশ শতাব্দীতে। তিনি ১৯ শতকের কবি নন।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্যচর্চার শুরু ১৯০২ সালে প্রকাশিত ‘পিপাসা’ শিরোনামে মহররমবিষয়ক একটি প্রবন্ধ দিয়ে। আর সাহিত্যচর্চার শেষ হয়েছে ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর রাতে মৃত্যুর আগে অসমাপ্ত লেখা ‘নারীর অধিকার’—প্রবন্ধ দিয়ে।

• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) -
প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।
----------------------
----------------------
নবাব ফয়জুন্নেসা:

- ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক। 
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন।
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৪১.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. বিপিন
  2. হরি
  3. অপু
  4. সত্যচরণ
ব্যাখ্যা

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন। এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
 • আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের চরিত্র- হরি।  
 • আরণ্যক উপন্যাসের চরিত্র - সত্যচরণ।
 • বিপিনের সংসার উপন্যাসের চরিত্র - বিপিন। 

উৎস: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৪২.
‘ঢোঁড়াই চরিত মানস’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. সমরেশ বসু
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সতীনাথ ভাদুড়ী (১৯০৬-১৯৫০) রচিত ঢোড়াই চরিতমানস উপন্যাসটি দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খন্ড ১৯৪৯, দ্বিতীয় খন্ড ১৯৫১ সালে।
- বিহারের শহর জিরানিয়া, তার থেকে কিছু দূরে তাৎমাটুলিদের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি।

- ভারত ছাড় আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘জাগরী’ নামে তার আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস রয়েছে।
- তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস : ঢোঁড়াই চরিতমানস উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১২,৩৪৩.
'বিন্দু বিসর্গ' গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
বিন্দু বিসর্গ:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'বিন্দু বিসর্গ' নামে নীলিমা ইব্রাহিমের আত্মজীবনী রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৪৪.
'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ কী নামে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. The Planting Mirror
  2. Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
  3. The Indigo Mirror
  4. The Indigo Nil Darpan
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১২,৩৪৫.
কোনটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নয়?
  1. ক) নরকে লাল গোলাপ‌
  2. খ) আর্তনাদ
  3. গ) কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. ঘ) আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

'নরকে লাল গোলাপ‌' - আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - মাহবুব উল আলম চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম কবিতা।
আরেক ফাল্গুন’ - জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম উপন্যাস।
‘আর্তনাদ’ - শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর ছোটগল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,৩৪৬.
'ব্রাক্ষ্মণ সেবধি’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামমোহন রায়
  3. অক্ষয়কুমার বড়াল
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধের অন্যতম নায়ক রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালে, হুগলির রাধানগর নামক স্থানে।
- ব্রাক্ষ্মণ সেবধি (১৮২১) রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা।
-পত্রিকাটি দুই ভাষায়(ইংরেজী+ বাংলা) প্রকাশিত হতো।
- বাংলায় সম্বাদ কৌমুদি (১৮২১), পারসি ভাষায় মিরাৎ-উল-আখবার (১৮১৫) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৪৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ
  2. কাঁঠালপাড়া গ্রাম, চব্বিশ পরগনা
  3. দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি
  4. আসানসোল, চুরুলিয়া
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৪৮.
ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. নিঃশব্দে যাত্রা
  2. নরকে লাল গোলাপ 
  3. কবর
  4. একুশের গান 
ব্যাখ্যা

ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক হচ্ছে- কবর। 

• ‘কবর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটকের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- নাটকে দেখানো হয়েছে কিভাবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভাষাশহীদদের লাশ গুম করার ষড়যন্ত্র করে।
- নাটকের ঘটনাগুলো একটি কবরস্থানের আশেপাশকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
- একজন অসৎ নেতা ও তার দলবল শহীদদের মরদেহ লুকানোর পরিকল্পনা করলে একটি পাগল ভাষাশহীদদের আত্মার প্রতিরূপ হিসেবে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
- এটি শুধু ভাষা আন্দোলনের গল্প নয়, বরং অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালির চিরন্তন প্রতিরোধের চিত্র।
- এই নাটকটি মুনীর চৌধুরী জেলে বসে লিখে আর জেলেই নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। 
--------------------------------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে, 
- নিঃশব্দে যাত্রা ও নরকে লাল গোলাপ হচ্ছে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 
- একুশের গান মহাদেব সাহা রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১২,৩৪৯.
'চিত্রাঙ্গদা' - কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যনাট্য
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

"চিত্রাঙ্গদা" নাটক:
- এটি মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রনয় কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি নাটক
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে পৃথক।
- এই নাটকের নারী মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে উঠেছে।
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন।

রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- চিত্রাঙ্গদা,
- অচলায়তন,
- ডাকঘর ,
- রক্তকরবী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৫০.
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মতী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) রচিত বিখ্যাত কবিতা হলো কোন এক মাকে। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। তার রচিত কালজয়ী কবিতা ‘ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' এবং ‘মাগো, ওরা বলে'। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১২,৩৫১.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মস্থান-
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) মুর্শিদাবাদ
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) কলকাতা
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম - ৩০ শে শ্রাবণ, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ। তাঁর জন্মস্থান - কালীঘাট, কলকাতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১২,৩৫২.
"রাজবন্দীর রোজনামচা" কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

 • রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

বি.দ্র. 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৫৩.
কোন সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালিত হয়?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। সে হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত অর্থাৎ ১৫০তম জন্মবার্ষিকী ২০১১ সালে পালিত হয়।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৫৪.
‘জলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়’ - কবিতাংশ কার লেখা?
  1. আহসান হাবীব
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• কবিতাংশটি তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পূর্বাভাস কাব্যগ্রন্থের ‘দুর্মর’ কবিতার অন্তর্গত।

দুর্মর
- সুকান্ত ভট্টাচার্য

সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- ২৯শে বৈশাখ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে মাত্র একুশ বছর বয়সে কবি মৃত্যুবরণ করেন। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২,৩৫৫.
'তুরস্ক-ভ্রমণ' কার লেখা?
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

• ‘তুরস্ক ভ্রমণ’ গ্রন্থ পরিচিতি: 
‘তুরস্ক ভ্রমণ’ গ্রন্থটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। তিনি ১৯১০ সালে বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এটি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে একটি, যা তৎকালীন তুরস্কের সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
--------------------------
সাহিত্যিক সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
-নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

-------------------
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(খ) সৈয়দ মুজতবা আলী: তিনি ‘দেশে বিদেশে’ নামে বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনিটি লিখেছেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধি নিয়ে লিখিত এই গ্রন্থখানি।

(গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন: মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।  ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন - নামক উপন্যাস লিখেছেন।

(ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম: শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে। তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: গল্পগ্রন্থ অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, শাহের বানু, পুঁই ডালিমের কাব্য এবং উপন্যাস আলমনগরের উপকথা, কাশবনের কন্যা, কাঞ্চনমালা, কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৫৬.
”ঝিঙেফুল” কবিতার লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আহসান হাবিব
ব্যাখ্যা

”ঝিঙে ফুল” কবিতার রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি ঝিঙে ফুল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা।

ঝিঙে ফুল"বইটির প্রথমের কিছু অংশ:
ঝিঙে ফুল
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল।
সবুজ পাতার দেশে ফিরােজিয়া ফিঙে-কুল ঝিঙে ফুল।
গুল্মে পর্ণে।
লতিকার কর্ণে
ঢলঢল স্বর্ণে
ঝলমল দোলাে দুল
ঝিঙে ফুল ॥

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি।

১২,৩৫৭.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক।
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৫৮.
সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আদিগন্ত
  2. অনেক সূর্যের আশা
  3. নয়ন ঢুলি
  4. রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
• সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্‌দীন বিশ্বাস ।
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। 
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী  মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৫৯.
যত চাও তত লও তরণী-‘পরে।
আর আছে?– আর নাই, দিয়েছি ভরে।- কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) শেষলেখা
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) সোনার তরী
  4. ঘ) বলাকা
ব্যাখ্যা
- যত চাও তত লও তরণী-‘পরে।
আর আছে?– আর নাই, দিয়েছি ভরে।- 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের 'সোনার তরী' কবিতার অন্তর্গত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, গীতাঞ্জলি, বলাকা, পূরবী, পুনশ্চ, পত্রপূট, সেঁজুতি, শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৬০.
চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম ছিল- 
  1. মৌমাছি
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. জরাসন্ধ
ব্যাখ্যা

• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।

অন্যদিকে, 
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম- মৌমাছি।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৬১.
নুরু এবং মাহবুবার প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. যুগবাণী
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধনহারা
  4. ব্যথার দান
ব্যাখ্যা

বাঁধনহারা উপন্যাসে নুরু এবং মাহবুবার প্রেম কাহিনী রচিত হয়েছে ।
- নুরুর সাথে মাহবুবার প্রেম এবং পরে বিয়ের উদ্যোগ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন গ্রহণ করে ।
- বাঁধন হারা উপন্যাস ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত । এটি লেখকের প্রথম পত্র উপন্যাস।

কাজী নজরুল ইসলামের অন্যান্য উপন্যাস গুলো হল :
- মৃত্যুক্ষুধা (উপন্যাসটি কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়কের দারিদ্র হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানদের দুঃখ কষ্ট ভরা জীবন নিয়ে গড়ে উঠেছে ।)
- কুহেলিকা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।

১২,৩৬২.
"সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে পড়ে আছে জমিনের পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. হেলাল হাফিজ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

"লাশ" কবিতা ও পটভূমি:
• ফররুখ আহমদের "লাশ" কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতায় কবি দুর্ভিক্ষের কারণে সৃষ্ট দুর্দশা ও অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লাশ' কবিতাটি লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

লাশ
ফররুখ আহমদ

যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোেড়,

কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৬৩.
'যাত্রা' শওকত আলী রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

 যাত্রা:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

---------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ। ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৬৪.
কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে 'মহাশ্মশান' কাব্য রচিত হয়েছে?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. পলাশীর যুদ্ধ
  3. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. কারবালার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

•'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৬৫.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক - প্যারীচাঁদ মিত্র।

প্যারীচাঁদ মিত্র:

- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছদ্মনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৬৬.
জহির রায়হানের সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি কোনটি?
  1. ক) সঙ্গম
  2. খ) কাচের দেয়াল
  3. গ) বাহানা
  4. ঘ) আরেক ফাল্গুন
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে প্রথম রঙিন ছবি সঙ্গম। জহির রায়হানের নিগার পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি কাঁচের দেয়াল। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৬৭.
"কবিতা" পত্রিকার সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন না কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) রাজশেখর বসু
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
"কবিতা" পত্রিকার সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন না রাজশেখর বসু। 

- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি ‘কবিতা' পত্রিকায় সূচনা পর্বে সম্পাদনাসূত্রে জড়িত থাকলেও পরবর্তী দীর্ঘকাল বুদ্ধদেব বসুই ‘কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ‘কবিতা' ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে (আশ্বিন, ১৩৪২) প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: শুধু কবিতা ও কবিতা- বিষয়ক গদ্য এখানে ছাপা হতো।
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লেখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর। 
১২,৩৬৮.
নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদকাব্য?
  1. ক) বিদায় আরতি
  2. খ) কাব্য সঞ্চয়ণ
  3. গ) তীর্থরেণু
  4. ঘ) হসন্তিকা
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ রচিত অনুবাদকাব্য হচ্ছে - তীর্থরেণু
- তাঁর অন্য একটি অনুবাদ কাব্য - মণি মঞ্জুষা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে কলকাতার নিমতাগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত ছিলেন কবি। ‘ছন্দের রাজা’ ও ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে তিনি খ্যাত ছিলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগুলো: 
- সবিতা
- সন্ধিক্ষণ
- বেণু ও বীণা
- কুহ ও কেকা
- অভ্র আবীর
- হসন্তিকা
- বেলা শেষের গান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৬৯.
জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নজু মিয়া 
  2. নজর আলী 
  3. তুজম্বর আলি
  4. জসুউদ্দীন মোল্লা
ব্যাখ্যা

"তুজম্বর আলি" জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম।

• ১৯৭১ সালে বাঙলার দুর্দিনের সময় বেঁচে ছিলেন মহান কবি জসীম উদ্‌দীন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' নামে একটি কবিতা সংকলন ছাপিয়েছিলেন। সংকলনের 'লেখকের কথা' অংশে জসীম উদ্‌দীন জানান- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই সংকলনের কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠান হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
• জসীম উদ্‌দীন 'জমীরউদ্দীন মোল্লা' ছদ্মনামেও লিখাছেন। 

অন্যদিকে, 
• বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৭০.
“এই গৃহ এই সন্যাস” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা

''এই গৃহ এই সন্যাস'' - মহাদেব সাহা রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এতে মোট ৪১টি কাব্য রয়েছে।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- মানব এসেছি কাছে
- কী সুন্দর অন্ধ
- তোমার পায়ের শব্দ
- ফুল কই শুধু অস্ত্রের উল্লাস
- আমি ছিন্ন ভিন্ন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে রচিত তার প্রবন্ধগ্রন্থ - আনন্দের মৃত্যু নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৭১.
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?
  1. রাজা উপাখ্যান
  2. ছবি
  3. শরৎ সাহিত্যসমগ্র
  4. মেজদিদি
ব্যাখ্যা
'অভাগীর স্বর্গ' গল্প:
- সুকুমার সেন সম্পাদিত 'শরৎ সাহিত্যসমগ্র' গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে 'অভাগীর স্বর্গ' নামক গল্পটি সংকলন করা হয়েছে। 
- 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অমানবিক জাতিভেদ প্রথা এবং জমিদারি ব্যবস্থার শোষণ-নির্যাতনের ছবি এঁকেছেন।
 
কাহিনী সংক্ষেপ:
গরিব-দুখী নীচু শ্রেণির ছেলে কাঙালী। তার মা অভাগী। প্রতিবেশী উঁচু জাতের বাড়ির গৃহকর্ত্রীর মৃত্যুর পর সৎকারের দৃশ্য দেখে অভাগীর ভেতরকার ভাবানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হয় এ গল্প। মৃতের শবযাত্রার আড়ম্বরতা ও সৎকারের ব্যাপকতা দেখে অভাগীও নিজের মৃত্যু মুহূর্তের স্বপ্ন দেখে। চন্দন, সিঁদুর, আলতা, মালা, ঘৃত, মধু, ধূপ, ধুনা, অগ্নির ধোঁয়ায় মুখুয্যে বাড়ির গিন্নি স্বর্গে গমন করেছেন। দুখিনী অভাগীও ভাবে তার মৃত্যুর সময় স্বামীর পায়ের ধূলি নিয়ে মৃত্যু শেষে পুত্র মুখাগ্নি করলে সেও স্বর্গে যাবে। মৃত্যুর সময় কাঙালী তার বাবাকে হাজির করতে পারলেও পারেনি কাঠের অভাবে মায়ের সৎকার করতে। 'এ গল্প জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নিবিশেষে মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়।
 
শরৎচন্দ্র রচিত গল্পসমূহ:
- বিলাসী, 
- মেজদিদি, 
- মহেশ, 
- বিন্দুর ছেলে, 
- অভাগীর স্বর্গ, 
- স্বামী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৭২.
বাংলা 'ঠুমরি' গানের প্রবর্তক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• ঠুমরি (ঠুম্রি/ঠুংরি):
- ঠুমরি একপ্রকার রাগসঙ্গিত, যার সুর অতি মিষ্টি। সুরের মিষ্টতার কারনেই এর এই নামকরন।
- অতুলপ্রসাদ সেন বাংলা 'ঠুমরি' গানের প্রবর্তক। 
- অতুপ্রসাদ বাংলায় ঠুমরি গানের সুরকার ও গীতিকার হিসাবে ও সঙ্গীতভুবনে তিনি প্রসিদ্ধতা লাভ করেন।

--------------------
• অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন। তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।' গান ষাটের - দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৭৩.
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন -
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন - 'হেনরি লুই ডিরোজিও'। 
============
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

ইয়ং বেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ং বেঙ্গলদের নিয়ে মদুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।  
- হেনরি ডিরোজিওর অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী। 
- হেনরি ডিরোজিও ১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন:
কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৭৪.
অমিয় চক্রবর্তীর বাংলাদেশ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মাটির দেয়াল
  2. এক মুঠো
  3. অনিঃশেষ
  4. অভিজ্ঞান বসন্ত
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতাটি 'অনিঃশেষ' কাব্যের 'বাংলাদেশ' নামের সুদীর্ঘ কবিতা থেকে নির্বাচিত। 
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ১৮ মাত্র বিশিষ্ট ; প্রতি চরণে দুটি পর্ব- ১০ + ৮ মাত্রা করে। 

--------------------
অমিয় চক্রবর্তী
বাংলাদেশ- কবিতা 

যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রূপোলি জলের ধারে, আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে
সেই বাংলাদেশের ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে, পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে; পূণ্যাহের সানাই রঞ্জিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়, মাঝি
পাল তোলে, তাঁতি বোনে,
রা কারা বুনো দল ঢোকে/ এরি মধ্যে (পাকসেনাদের কথা বলা হয়েছে।)

উৎস: 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থ এবং 'বাংলাদেশ' কবিতা।
১২,৩৭৫.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' -উপন্যাসে উক্তিটি কাদের সম্পর্কে করা হয়েছে?
  1. নবাগত যৌবন 
  2. দেশপ্রেমিক
  3. নারী
  4. বিপ্লবী
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'কুহেলিকা' ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো- জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
-উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: 'কুহেলিকা' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১২,৩৭৬.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি
সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দাউদ হায়দার
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- "মিছিলে তোমার মুখ, মায়ের চোখে, আমরা যেন খাঁচায় পোষা পাখি, কবিতার এলোমেলো ভেলা" ইত্যাদি এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।

জন্মই আমার আজন্ম পাপ
দাউদ হায়দার

জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি
সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই
পালাই পালাই সুদূরে
চৌদিকে রৌদ্রের ঝলক
বাসের দোতলায় ফুটপাতে রুটির দোকানে দ্রুতগামী
নতুন মডেলের
চকচকে বনেটে রাত্রির জমকালো আলো
ভাংগাচোরা চেহারার হদিস
ক্লান্ত নিঃশব্দে আমি হেঁটে যাই
পিছনে ঝাঁকড়া চুলওয়ালা যুবক।

------------------
• দাউদ হায়দার:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত লেখক।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কবিতা।

১২,৩৭৭.
বাংলা গদ্যে প্রথম যতিচিহ্নের স্থাপনকারী কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. পঞ্চানন কর্মকার
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।

যতিচিহ্নের প্রয়োগ:
তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম বিরাম-চিহ্নের সুষ্ঠু ব্যবহার করেন। ১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ গ্রন্থে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম যতিচিহ্নের / বিরামচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটান।

- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,৩৭৮.
শাহপরি দ্বীপের মাঝিদের সংগ্রামী জীবনকাহিনি অবলম্বনে রচিত উপন্যাস- 
  1. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. যাপিত জীবন
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
--------------------
• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

• ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• 'যাপিত জীবন'  উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন। নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনীর পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৭৯.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস নয়?
  1. শেষের কবিতা
  2. রাজর্ষি
  3. মালঞ্চ
  4. রক্তকবরী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- উনিশ শতকের বাঙালির নবজাগরণ এবং ধর্ম ও সমাজ-সংস্কার আন্দোলনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।
- এ যুগের অন্যতম সমাজ-সংস্কারক এবং একেশ্বরবাদের প্রবক্তা  রামমোহন রায় ছিলেন দ্বারকানাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
- রামমোহন রায়ের আদর্শ দ্বারকানাথ, তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ এবং দৌহিত্র রবীন্দ্রনাথের ওপর এক অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকবরী
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৮০.
জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৮১.
’নূরুল হুদা ও মাহবুবা’ চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. বাঁধন-হারা
  2. কুহেলিকা
  3. রাজবন্দীর চিঠি
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম :
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুলের রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ৩টি।
- যথা:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।
- উপন্যাসগুলোকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা যায়।

• বাঁধন-হারা :
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এ রচনাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩২৭ সালের মোসলেম ভারত-এ প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - নূরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকাদি।

• মৃত্যু-ক্ষুধা :
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাস টি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৮২.
আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. রাত্রিশেষে
  3. সারাদুপুর
  4. ছায়া হরিণ
ব্যাখ্যা
'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি।

-----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৮৩.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশি
  3. ভাঙার গান
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশি: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৮৪.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ হলো -
  1. ক) ইহুদীর মেয়ে
  2. খ) রঙিন মুদ্রারাক্ষস
  3. গ) ধানকন্যা
  4. ঘ) গন্ধবণিক
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯): শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ - জেগে আছি (১৯৫০), ধানকন্যা (১৯৫১), জীবন জমিন (১৯৮৮) প্রভৃতি।
তাঁর দুটি কাব্যনাট্য হলো- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।
'গন্ধবণিক' আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৮৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ কোন গল্পগ্রন্থ রচনা করেন?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. সুড়ঙ্গ 
  3. বহিপীর
  4. নয়নচারা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৮৬.
শামসুর রাহমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রামপুরা, ঢাকা
  2. টাঙ্গাইল সদর
  3. মাহুতটুলী, ঢাকা
  4. রায়পুর, নরসিংদী
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৮৭.
'বিদ্রোহী কবি' কাজী নজরুল ইসলাম কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বীরভূম
  3. আসানসোল
  4. বর্ধমান
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের — বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত কবিতা রচনায় তাঁর অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী কবিতার জন্যই ‘ত্রিশোত্তর আধুনিক কবিতা’র সৃষ্টি সহজতর হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা ইত্যাদি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৮৮.
বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ-
  1. ক) রত্নবতী
  2. খ) বসন্তকুমারী
  3. গ) বিষাদ-সিন্ধু
  4. ঘ) উদাসীন পথিকের মনের কথা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ- রত্নবতী।

- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ।
- এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে, কলিকাতা থেকে।
- লেখক নাম-পৃষ্ঠায় গ্রন্থটিকে ‘কৌতুকাবহ উপন্যাস' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে ‘ধন বড় না বিদ্যা বড়’-এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই ‘রত্নবতী’র মূল বিষয়।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু
- বসন্তকুমারী নাটক
- এর উপায় কি
- বিষাদ-সিন্ধু
- সঙ্গীত লহরী
- গো-জীবন
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- তহমিনা
- টালা অভিনয়
- নিয়তি কি অবনতি
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৮৯.
জেলেজীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. খেলাঘর
  3. জাল
  4. গঙ্গা
ব্যাখ্যা
• 'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস ‘খেলাঘর’।
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন ও তাদের সংস্কৃতির তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত “হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসে।

উৎস: 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
১২,৩৯০.
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. ভ্রমণ কাহিনি
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- নীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
২. বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৯১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক কোনটি?
  1. মানসী
  2. রক্তকরবী
  3. রাজর্ষি
  4. পত্রপূট
ব্যাখ্যা

'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। 
- নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:

- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৯২.
ধুমকেতু কার ছদ্মনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. জীবনানন্দ দাস
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনাম।

• এছাড়াও,
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেকগুলো ছদ্মনাম রয়েছে।
যেমন:
- ধূমকেতু,
- নুরু,
- ব্যাঙাচি,
- নজর আলী ইতাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
-  তিনি ধূমকেতু ছদ্মনামে লিখতেন।                       
-  করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
-  তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
-  ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,৩৯৩.
'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' প্রবন্ধটি কে লিখেছেন?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শওকত ওসমান
  3. সিকান্‌দার আবু জাফর
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই' প্রবন্ধটির লেখক শওকত ওসমান।
----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- চাকরি জীবনের প্রথমদিকে স্বল্পসময় তিনি কৃষক পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- উপন্যাস: 
→ জননী,
→ ক্রীতদাসের হাসি,
→ সমাগম,
→ চৌরসন্ধি, 
→  রাজা উপাখ্যান,
→ জাহান্নাম হইতে বিদায়,
→ দুই সৈনিক,
→ নেকড়ে অরণ্য,
→ পতঙ্গ পিঞ্জর,
→ আর্তনাদ,
→ রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
→ জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
→ মনিব ও তাহার কুকুর,
→ ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী;

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
→ ভাব ভাষা ভাবনা,
→ সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
→ মুসলিম মানসের রূপান্তর;

• নাটক:
→ আমলার মামলা,
→ পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;

- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে।
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।

অন্যদিকে,
কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের রচয়িতা: 
• সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৬) (প্রবন্ধ) - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
• সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (প্রবন্ধ) - শওকত ওসমান।
• সংস্কৃতির রুপান্তর (প্রবন্ধ) - গোপাল হালদার।
• সংস্কৃতির সংকট (প্রবন্ধ) - বদরুদ্দিন ওমর।
• 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা। 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,৩৯৪.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ শামসুল হক 
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. বিষ্ণু দে 
  4. জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা
• ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগ্রন্থে সাহিত্যের ভবিষ্যৎ নামে একটি প্রবন্ধও রয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ প্রবন্ধগ্রন্থ।
 
১২,৩৯৫.
নিচের কোন কবি সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কাব্য সুধাকর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. শেখ ফজলুল করিম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. মোজাম্মেল হক
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- তিনি একজন কবি ও লেখক ছিলেন।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম। 
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা, 
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম, 
- ইসলাম ও জেহাদ, 
- আমার চিন্তাধারা, 
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৩৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পটি উপন্যাসধর্মী?
  1. নষ্টনীড়
  2. ছুটি
  3. একরাত্রি
  4. দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

• 'নষ্টনীড়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসধর্মী ছোটগল্প।

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।

- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'নষ্টনীড়' গল্প।

১২,৩৯৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. মহেশ
  2. বিলাসী
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. মামলার ফল
ব্যাখ্যা

• 'পণ্ডিত মশাই' উপন্যাস:
- ১৯১৪ সালের প্রাক্কালে, যখন বঙ্গের সন্তানেরা মোটামুটি পড়ালেখা শিখে আধুনিক জীবনের সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছে, সেই সময়ের গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পণ্ডিত মশাই’ উপন্যাস।

- ১৩২১ বঙ্গাব্দের বৈশাখ ও শ্রাবণ সংখ্যা ‘ভারতবর্ষ’ মাসিক পত্রে ‘পণ্ডিত মশাই’ প্রথম প্রকাশিত হয়। অতঃপর, একই অব্দের ভাদ্রের শেষ বা আশ্বিনের শুরুতে (১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ খৃষ্টাব্দ) গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। 

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বৃন্দাবন অধিকারী, বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের বৃন্দাবন মূলত সমাজের নীচু শ্রেণীর মানুষের পড়ালেখার নিমিত্তে তার নিজের খরচে নিজ গৃহে একটি পাঠশালা খুলে বসে। এই পাঠশালার বাচ্চাদের লেখাপড়ার সরঞ্জামাদির টাকাও যোগাত বৃন্দাবন নিজে। দেশমাতৃকার জন্যে গভীর দায়িত্ববোধসম্পন্ন এই স্ব-প্রণোদিত ‘পণ্ডিতমশাই’য়ের নামেই উপন্যাসের নাম।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র, কার্যত উপন্যাসেরও প্রধান চরিত্র পঞ্চদশী কিশোরী কুসুম।

-----------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী। ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- রামের সুমতি,
- মামলার ফল,
- ছবি,
- বিন্দুর ছেলে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৯৮.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তী কর্তৃক রচিত গ্রন্থ?
  1. মানচিত্র
  2. শেষবেলা
  3. উপহার
  4. বিষকন্যা
ব্যাখ্যা

• 'উপহার' অমিয় চক্রবর্তী কর্তৃক রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ 
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মানচিত্র আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- বিষকন্যা আশারাফ সিদ্দিকী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,৩৯৯.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) শাশ্বতবঙ্গ
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. ঘ) গুলদাস্তা
ব্যাখ্যা
'নদীবক্ষে' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস। 'শাশ্বতবঙ্গ' তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ এবং তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,৪০০.
‘জলপাইহাটি’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. কাহিনি কাব্য
ব্যাখ্যা
• ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাস:
- ‘জলপাইহাটি’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাসের মূল দুই চরিত্র পিতা নিশিথ ও পুত্র হারীত।
- জলপাইহাটি কে ঘিরে যাদের বেড়ে ওঠা, উপার্জনের খোঁজে দূরে যাওয়া, হারীতের সাথে অর্চনার পরিচয়ের মধ্য দিয়ে জীবন যৌবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতি, প্রেমের উজ্জীবন পরিলক্ষিত হয়। 

---------------------
• জীবনানন্দ দাশ:

• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।