বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২৩ / ১৭৪ · ১২,২০১১২,৩০০ / ১৭,৪৩৭

১২,২০১.
নিচের কোন ব্যাকরণগ্রন্থে প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়?
  1. Bengali Grammar in the English Language
  2. A Grammar of the Bengali Language
  3. Vocabolario em idioma Bengalla e Potuguez
  4. A Grammar of the Bengal Language
ব্যাখ্যা
• 'A Grammar of the Bengal Language':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেডের 'A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় রচিত আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ বই। এটি বাংলা ভাষার সর্বপ্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ।

- হ্যালহেডের ব্যাকরণ সম্পূর্ণ ইংরেজিতে রচিত হলেও এতেই প্রথম বাংলা হরফ মুদ্রিত হয়, এ কারণে বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে গ্রন্থটি মূল্যবান। চার্লস উইলকিনসন এবং পঞ্চানন কর্মকার যৌথ প্রচেষ্টায় ছাপাখানার জন্য যে বাংলা হরফ (font) প্রবর্তন করেন, তার সাহায্যেই হ্যালহেডের গ্রন্থে বাংলা উদাহরণগুলি মুদ্রিত হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু দীর্ঘ কবিতার উদাহরণও বাংলা হরফে মুদ্রিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• রামমোহন রায়ের ইংরেজিতে রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ "Bengali Grammar in the English Language" প্রকাশিত হয় ১৮২৬ সালে, কলকাতার ইউনিটারিয়েন প্রেস থেকে। রামমোহন কেরী বা হটনের মতো সংস্কৃতের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ককে বড় করে দেখেননি। তিনি বাংলা ভাষার একটি মূল প্রবণতা লক্ষ্য করেছিলেন। তাই তিনিই প্রথম ব্যাকরণের বিভিন্ন প্রকরণ (বিশেষ্য, বিশেষণ, কারক ইত্যাদি) সম্পর্কে শুধু দৃষ্টান্ত নয়, খানিকটা তাত্ত্বিক আলোচনাও পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করেছেন। 

• উনিশ শতকের প্রথমেই রচিত হয় উইলিয়ম কেরীর বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)। হ্যালহেডের ব্যাকরণের অনুকরণে কেরীর গ্রন্থটি প্রণীত, তবে হ্যালহেড যেসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেননি, যেমন বিশেষ্য, ক্রিয়াপদ বা পার্টিকেল ব্যবহারের ক্ষেত্র, কেরী তাঁর রচনায় ওই সব ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

• মনোএল ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনকালে ১৭৩৪-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে "Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes" শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন। গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথম অংশ বাংলা ব্যাকরণের একটি সংক্ষিপ্তসার এবং দ্বিতীয় অংশ বাংলা-পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দাভিধান। গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২০২.
'যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো' কে লিখছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব' কবিতা -  শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভাল...
এত কালো মেখেছি দু হাতে
এত কাল ধরে।
কখনো তোমার করে, তোমাকে ভাবিনি।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ্ ডাকে আয়, আয়, আয়।
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতা কাঠ ডাকে আয়, আয়, আয়।

ত্রিশের কবিদের পর বাংলা কবিতায় সবচেয়ে জনপ্রিয় চার কবি হলেন, শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আল মাহমুদ এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: শক্তি চট্টোপাধ্যায় রচনাবলী।
১২,২০৩.
'মাহবুবা’ চরিত্রটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের?
  1. বাঁধন-হারা
  2. কুহেলিকা
  3. রাজবন্দীর চিঠি
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম :
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুলের রচিত উপন্যাস সমূহ:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ৩টি।
- যথা:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• বাঁধন-হারা :
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস বাঁধন-হারা।
- এ রচনাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩২৭ সালের মোসলেম ভারত-এ প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যা থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - নূরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকাদি।

• মৃত্যু-ক্ষুধা :
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা :
- কুহেলিকা উপন্যাস টি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১২,২০৪.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. পঞ্চভূত
  2. বিচিত্রপ্রবন্ধ
  3. সাহিত্য
  4. বিসর্জন
ব্যাখ্যা
• বিসর্জন:
- 'বিসর্জন' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।
- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে  রচিত।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ নিয়ে বিসর্জনের আখ্যানবস্তু পরিকল্পিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র : রঘুপতি, জয়সিংহ, অপর্ণা, গুণবতী, গোবিন্দমাণিক্য।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২০৫.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) পুতুল নাচের ইতিকথা
  2. খ) হলুদ পোড়া
  3. গ) শহরতলী
  4. ঘ) সরিসৃপ
ব্যাখ্যা
• পুতুল নাচের ইতিকথা:
- ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাসে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটেছে।
- উপন্যাসটি শুরু হয় বজ্রাহতে নিহতের বর্ণনা দিয়ে। 
- নানা অনুচিত ও কুসংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই উপন্যাসে। 

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৯০৮-১৯৫৬):
- কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ (১৯২৮) প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। 
- তিনি অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চবিবশটি গল্প রচনা করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্যপ্রভৃতি;
ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২০৬.
‘কবর’ কবিতায় কতটি পঙ্‌ ক্তি রয়েছে?
  1. ১০২টি
  2. ৯৬টি
  3. ১৩২টি
  4. ১১৮টি
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে

কবর
  জসীম উদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

জসীম উদ্‌দীন: 
- কবি জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২০৭.
মোতাহার হোসেন চৌধুরী মানব জীবনের সাথে কোনটির তুলনা করেছেন?
  1. ক) বৃক্ষ
  2. খ) পাহাড়
  3. গ) পথ
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
বৃক্ষের সাথে মানব জীবনের তুলনা করেছেন মোতাহার হোসেন চৌধুরী। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানব জীবনের সাথে নদীর তুলনা করেছেন। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১২,২০৮.
রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল -
  1. রফিক
  2. বাবু
  3. দুলাল
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল - জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২০৯.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামটি কার?
  1. মধুসূদন মজুমদার
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

কবি, সাহিত্যিক শামসুর রহমান 'মজলুম আদিব ' ছদ্মনামটি ব্যবহার করেন। 

অন্যদিকে, 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
- কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনামগুলি হল: ধূমকেতু, নুরু, নরুল ইসলাম, ব্যাঙাচি ইতাদি।

শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬):
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২১০.
"আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল উপন্যাস। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা’তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্ত্ত। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। ‘ঠকচাচা’ এর অন্য একটি প্রধান চরিত্র।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২১১.
কোনটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়? 
  1. পারাপার
  2. উপহার
  3. মাটির দেয়াল
  4. কঙ্কাবতী 
ব্যাখ্যা

- 'কঙ্কাবতী' বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ
- এটি বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

উল্লেখ্য,
- 'কঙ্কাবতী' উপন্যাসের রচয়িতা - অন্নদাশংকর রায়।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্ম জন্মগ্রহণ করেন।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

• কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
- উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার।
- বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২১২.
'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. মোসলেম ভারত
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক। এটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়

কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২১৩.
ঐতিহাসিক 'মৃণালিনী' উপন্যাসের একটি কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম -
  1. হেমচন্দ্র
  2. নবকুমার
  3. কুন্দনন্দিনী
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা
• মৃণালীনি:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস হচ্ছে - মৃণালীনি।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমি এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।
- এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে - হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, মনোরমা।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -  

- 'নবকুমার' চরিত্রটি বঙ্কিম চন্দ্র এর 'কপালকুন্ডলা' নামক একটি রোমান্সমূলক উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- 'কুন্দনন্দিনী' চরিত্রটি বঙ্কিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায় এর 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস থেকে নেয়া হয়েছে।
- 'ভ্রমর' চরিত্রের স্রষ্টা বঙ্কিম চন্দ্র চট্রোপাধ্যায়।
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের একটি চরিত্র 'ভ্রমর'।
- এ উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র গুলো হলো - গোবিন্দলাল, রোহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২১৪.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস- 
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. নিরালোকে দিব্যরথ
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. নিজ বাসভূমে 
ব্যাখ্যা

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’:
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২. বাংলাপিডিয়া।

১২,২১৫.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা
  2. প্রবন্ধ
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
উদাসীন পথিকের মনের কথা:
• ‘উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
• “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
• এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

--------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- নিয়তি কি অবনতি,
- এসলামের জয়,
- রাজিয়া খাতুন,
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসোপম রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১২,২১৬.
'পানকৌড়ির রক্ত'গল্প গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) তারাপদ রায়
ব্যাখ্যা
সোনালী কাবিন আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
কাবিলের বোন, চেহারার চতুরঙ্গ, উপমহাদেশ, ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, ডাহুকী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস এবং পানকৌড়ির রক্ত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ, সৌরভের কাছে পরাজিত তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২১৭.
১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক কোনটি?
  1. মরাচাঁদ
  2. জীয়নকন্যা
  3. গোত্রান্তর
  4. অবরোধ
ব্যাখ্যা

 'জীয়নকন্যা' নাটক:
• ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় বিজন ভট্টাচার্য রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক। 

• গণনাট্য আন্দোলনের ধারায় বিজন ভট্টাচার্যের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে জীয়ন কন্যা (১৯৪৮) গীতিনাট্যটি। এতে বেদে সমাজের নানা সংস্কার, ঐতিহ্য-লালিত প্রথা-পদ্ধতি, জাতিগত বিশ্বাস প্রভৃতির সঙ্গে দেশবিভাগের আশঙ্কায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা-বিদ্বেষের চিত্রও প্রতিফলিত হয়েছে।

• তিনটি দৃশ্যের এ গীতিনাট্যটিতে দেখা যায় যে, বেদে-সর্দার প্রবীরের কন্যা উলুপীকে সর্প-দংশন করে, তাকে বাঁচানোর জন্যে নানা ওঝা-গুণীনের আনাগোনা, কিছুতেই কিছু হয় না। অবশেষে সমস্ত ওঝা-গুণীনের তন্ত্র-মন্ত্র একত্রে চালান করলে সর্প হাজির হয়। কিন্তু সর্প শোনায় নিরাশার বাণী।  তবু উলুপীকে বাঁচানোর জন্য গুণীনের দল বাণে বাণে সর্পকে অস্থির করে তোলে। শেষপর্যন্ত বিষমুক্ত করে উলুপীর মহাজাগরণ ঘটায় 'ভারত মাতার মতো'। আসলে এই প্রয়াস সর্পের বিরুদ্ধে নয়, এ তৎকালীন 'ক্যালাস সরকারের' বিরুদ্ধে এক বিশেষ প্রতিবাদ। 

অন্যদিকে, 
-------------------
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'মরাচাঁদ' নাটকে নাট্যকার পবন বাউলের গানের মধ্য দিয়ে সমাজের একেবারে নিম্নশ্রেণির মানুষের জীবন-সংগ্রামকেই চিত্রিত করেছেন।

• বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'গোত্রান্তর' (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়।

• মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক 'অবরোধ' (১৯৪৭)। অবরোধ নাটকটি কমিউনিজমের আদর্শে কারখানার মালিক-শ্রমিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রচিত, তবু কারখানার মালিকের পুঁজিবাদী স্বরূপ সম্পর্কে নাট্যকারের অনভিজ্ঞতার কারণে গণনাট্য সংঘ এ নাটকটিকে গ্রহণ করতে পারেনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'Jagannath University Journal of Arts'। 

১২,২১৮.
'পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল' পঙ্‌ক্তির রচয়িতা_
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. বিহারী লাল
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।'- চরণটির রচয়িতা 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার'।

---------------------------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।
- কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পাণ্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

তাঁর রচিত কবিতা সংক্ষেপ-

পাখী সব করে রব,
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার।
পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।

উৎস: পাখি সব করে রব- কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২১৯.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' কার রচিত উপন্যাস?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসটির রচয়িতা: শওকত আলী। 

• শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২২০.
কাজী নজরুল রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) বাঁধন-হারা
  2. খ) কুহেলিকা
  3. গ) পদ্মগোখরা
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা
পদ্মগোখরা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প। 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ- ব্যথার দান
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
রিক্তের বেদন,
শিউলিমালা,
পদ্মগোখরা ইত্যাদি। 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:

- বাঁধন-হারা
- মৃত্যুক্ষুধা 
- কুহেলিকা

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যাথার দান।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা মুক্তি
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নী-বীণা
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস বাঁধন হারা
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তুর্কি মহিলার ঘোমটা খোলা
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২২১.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সবুজপত্র
  2. বিশ্বভারতী
  3. রূপ ও রীতি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ও তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।

- ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২২২.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের রচনা?
  1. ক) চোরাবালি
  2. খ) উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) সাত ভাই চম্পা
ব্যাখ্যা
'আরণ্যক' বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাস। উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ, সেই অন্ধকার চাই, রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ ইত্যাদি বিষ্ণু দের কাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২২৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আহম্মেদ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস হলো  ‘রাইফেল রোটি আওরাত‘ এবং এই উপন্যাসটির লেখক আনোয়ার পাশা।

• আনোয়ার পাশা, (১৯২৮-১৯৭১)  বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
• জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
• ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল বদরদের একটি দল তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে হত্যা করে।
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
• উপন্যাস
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮)
- নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮)
- রাইফেল রোটি আওরাত (১৯৭৩)

• কাব্য
- নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩)
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী (১৯৭৪)
- অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪)
• গল্পগ্রন্থ
- নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২২৪.
'মোস্তফা চরিত' গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. খ) মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ
  3. গ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লহ
  4. ঘ) মাওলানা আকরাম খাঁ
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) - সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- সমস্যা ও সমাধান,
- মোস্তফা চরিত,
- আমপারার বঙ্গানুবাদ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১২,২২৫.
'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যনাট্য 
  2. গীতিনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. সাংকেতিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'বসন্ত':
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিনাট্য।
- 'বসন্ত' কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটকসূমুহ:
• রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

• কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।

• প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

• নৃত্যনাট্য:
- চিত্রাঙ্গদা, 
- নটীর পূজা, 
- চণ্ডালিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২২৬.
‘কুমুদিনী’ - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চার অধ্যায়
  2. যোগাযোগ
  3. রাজর্ষি
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।

১২,২২৭.
বাংলা সাহিত্যে কখন গদ্যের সূচনা হয়?
  1. নবম শতকে
  2. ত্রয়োদশ শতকে
  3. ষোড়শ শতকে
  4. উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তকে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,২২৮.
মার্কসবাদী চেতনায় উদ্‌বুদ্ধ ছিলেন কোন কবি?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. বিষ্ণু দে
  3. নুরুল মোমেন
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্‌বুদ্ধ ছিলেন
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২২৯.
“চেহারায় চতুরঙ্গ” কোন শ্রেণীর রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) রূপকথা
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।
উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা
১২,২৩০.
'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের?
  1. ঘরে বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. গোরা
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
• 'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের।

শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যোপন্যাস।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমিত রায়,
- কেতকী,
- লাবণ্য,
- শোভনলাল ইত্যাদি।

• এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে।
- বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো।
- ভালোবাসা খানিকটা অত্যাচার চাই অত্যাচার করেও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং শেষের কবিতা উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১২,২৩১.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত 'সীতার বনবাস' কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৩২.
'গৃহদাহ' উপন্যাসের নায়িকা-
  1. নন্দিনী
  2. অচলা
  3. সাবিত্রী
  4. কিরণময়ী
ব্যাখ্যা

গৃহদাহ:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২৩৩.
‘History of Bengali Language and Literature’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ব্রাসি হ্যালহ্যাড
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার দীনেশচন্দ্র সেনের জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলার সুয়াপুর গ্রামে। 
- তিনি গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে প্রাচীন বাংলার পুঁথি সংগ্রহ করেন এবং সেসব উপকরণের সাহায্যে ১৮৯৬-এ ''বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। ১৯০৫ সালে বিনোদবিহারী কাব্যতীর্থের সহযোগিতায় শ্রীকর নন্দীর লেখা ‘ছুটিখানের মহাভারত’-এর পুঁথি এবং হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সহায়তায় মানিক গাঙ্গুলীর লেখা ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’ পুঁথি দুটি দীনেশচন্দ্র সেন প্রথম প্রকাশ করেন।
- ১৯১১ সালে তার সুবিখ্যাত গ্রন্থ History of Bengali Language and Literature’ প্রকাশিত হলে তা সর্বমহলের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ''রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোসিপ'' প্রদান করে এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
- সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খন্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- The Vaisnava Literature of Medieval Bengal (১৯১৭),
- Chaitanya and his Companions (১৯১৭)
- The Folk Literature of Bengal (১৯২০),
- The Bengali Ramayana (১৯২০),
- Bengali Prose Style : ১৮০০-১৮৫৭ (১৯২১),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- Glimpses of Bengal Life (১৯২৫),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১২,২৩৪.
"বাংলাদেশ" কবিতা কার লেখা?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তীর লেখা। 

অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালের ১০ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে।
- তিনি ছিলেন একজন কবি, গবেষক এবং শিক্ষাবিদ।
- পঞ্চকবির মধ্যে তিনি বিশেষভাবে খ্যাত।
- তিনি ১৯২১ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. পাস করেন এবং এরপর শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে তিনি ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি রচনা করেন।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন, যেমন: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- ভারত সরকার ১৯৭০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- অমিয় চক্রবর্তী ১৯৮৬ সালের ১২ জুন শান্তিনিকেতনে মারা যান।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

গদ্য রচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক 
- পুরবাসী 
- পথ অন্তহীন, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১২,২৩৫.
'বেগম’ পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন কে?
  1. নূরজাহান বেগম
  2. শামসুন্নাহার বেগম
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- বেগম বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৩৬.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. নকশী কাঁথার মাঠ
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. রাখালী
  4. ধানখেত
ব্যাখ্যা
• 'রাখালী':
- 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• জসীমউদ্‌দীন:
- পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৩৭.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক?
  1. তরঙ্গভঙ্গ
  2. তারানা ই পাকিস্তান
  3. তৃণখণ্ড
  4. তৃষ্ণা
ব্যাখ্যা
তরঙ্গভঙ্গ:
- 'তরঙ্গভঙ্গ' (১৯৬৬) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক।
- মৌলবি আবদুস সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু ও স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে।
- বিচারক এর বিচার করতে বসেন। কিন্তু এ নাটকের একটি সংলাপ: ‘ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমায় না। তার চোখে ঘুম নেই।' এ সংলাপের মধ্য দিয়েই বিচারের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়।
- আসলে অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত মানুষের অন্তর্গত আর্তনাদ শব্দরূপ পেয়েছে এই নাটকে।
- কাঠগড়ায় অবনত দৃষ্টের আমেনা, জাগ্রতচেতনার প্রতীক হয়ে ওঠা ভাঙাপাত্র নিয়ে বসে থাকা ভিখারিণী, জীবন সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত না থাকা এক যুবক, বাদি মৌলবি আবদুস সাত্তার নেওলাপুরীসহ আদালতের উকিল, সাক্ষী মতলুব আলী, বিচারক ইত্যাদি এই নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

অন্যদিকে,
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ - তারানা ই পাকিস্তান।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - তৃণখণ্ড।
• জহির রায়হান রচিত উপন্যাস - তৃষ্ণা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৩৮.
‘যার যেথা দেশ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• ‘যার যেথা দেশ’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৩২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৩৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস- দুর্গেশনন্দিনী। 
-------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তিমি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়। 
- তাঁর ছদ্মনাম- কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- তার মৃত্যু ঘটে ১৮৯৪ সালে।

- বঙ্কিমের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
- বঙ্কিমের বিষবৃক্ষ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক উপন্যাস।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাসগুলি হলো:
- কৃষ্ণকান্তের উইল, 
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- রাধারাণী,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা।
-----------------
• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসটি ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- এটি ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার মুঘল ও পাঠান দ্বন্দ্বের পটভূমিতে রচিত রোমান্টিক আখ্যান।
- উপন্যাসের মূল কাহিনী জগৎসিংহ, তিলোত্তমা ও আয়েশার ত্রিভুজ প্রেমকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক জীবনও আংশিকভাবে ফুটে উঠেছে।
---------------------------------------------------
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া

১২,২৪০.
নিম্নের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. গৃহদাহ
  2. চরিত্রহীন
  3. পথের দাবী
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

- 'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
• প্রথাবর্হিভূত সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস হলো চরিত্রহীন।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস 'দত্তা' (১৯১৮)। ১৯৩৪ সালে দত্তার নাট্যরূপ 'বিজয়া' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৪১.
'তিথিডোর' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'তিথিডোর':
- তিথিডোর বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 
- এ কাহিনির গীতল ভাষা ও কাব্যময়তা এবং এর শেষাংশে প্রযুক্ত 'চৈতন্যপ্রবাহ' -ধর্মী বর্ণনাভঙ্গির দেখা পাওয়া যায়।

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা থেকে মাসিক 'প্রগতি' ও কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
- জগন্নাথ হলের ছাত্র থাকা অবস্থায় 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৪২.
'কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।'- অংশটুকু কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. স্বাধীনতা তুমি
  2. শহীদ স্মরণে
  3. একুশে ফেব্রুয়ারি
  4. আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা

• ''কবিতায় আর কি লিখব?/ যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। 
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
- ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।

১২,২৪৩.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।  তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৪৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত প্রথম মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. ক) আগমনী
  2. খ) সীতাহরণ
  3. গ) সিরাজদ্দৌলা
  4. ঘ) সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ(১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। 
১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।

- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক 'আগমনী' (১৮৭৭)
- পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে রচিত তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০।
- সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো:
- অভিমন্যুবধ (১৮৮১),
- সীতার বনবাস (১৮৮১),
- সীতাহরণ (১৮৮২),
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২),
- প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪),
- আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪),
- সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫),
- মীরকাশিম (১৯০৬),
- ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭),
- শঙ্করাচার্য (১৯১০),
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি।

প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৪৫.
'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
'হাসনাহেনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।

• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রব্বানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।
- ১৯৫২ সালে 'যশোর সাহিত্য সংঘ' তাকে 'কাব্যসুধাকর' উপাধিতে ভূষিত করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৪৬.
কোনটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. কাবিলের বোন
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. রেইনকোট
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে প্রকাশকালের বিচারে প্রথম দিককার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোল পত্রিকার উল্টোরথ পূজাসংখ্যা।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর বর্ণনায়, যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতার কথা বলেছেন।
-জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারাশঙ্কর নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা বাস্তব চিত্রের মতো ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র: নাজমা।

অন্যদিকে, 
• 'কাবিলের বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা লিখেছেন আল মাহমুদ। এটি 'উপমহাদেশ' উপন্যাসের সাথে একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• 'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই। উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৪৭.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মুসলিম বাঙলা সাহিত্য
  2. বাংলা সাহিত্যের কথা
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. ভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ‘মুসলিম বাঙলা সাহিত্য' এর রচয়িতা মুহম্মদ এনামুল হক।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে।

--------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।-
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন।
- তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন।
- তিনি ১৩ জুলাই ১৯৬৯ সালে মৃতুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১),
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬),
- দীওয়ান-ই-হাফিজ (১৯৩৮),
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ (১৯৪২),
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম (১৯৪২),
- আমাদের সমস্যা (১৯৪৯),
- পদ্মাবতী (১৯৫০),
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড ১৯৫৩, ১৯৬৫),
- বিদ্যাপতি শতক (১৯৫৪), বাংলা আদব কী তারিখ (১৯৫৭),
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত (১৯৫৯), কুরআন শরীফ (১৯৬৩)।

- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।

- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৪৮.
'কড়ি ও কোমল' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ:
- 'কড়ি ও কোমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত -কাব্যগ্রন্থ। কড়ি ও কোমল ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারী দেহের প্রতি আকর্ষণ ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ এই তিনটি লক্ষণে কাব্যাটি বিশিষ্ট।
- রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্রমনে যে বিরাগ সৃষ্টি করেছিল তার প্রভাব এই কাব্যগ্রন্থে লক্ষ্য করা যায়।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা, 
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- জন্মদিনে,
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,২৪৯.
'রাজ শেখর বসু' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম -
  1.  লীলাময় রায়
  2. পরশুরাম
  3. কালকূট
  4. নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অন্যদিকে,
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
- 'সমরেশ বসু' এর ছদ্মনাম - কালকূট।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

• রাজশেখর বসু,
- তিনি লেখক, বিজ্ঞানী, অভিধান প্রণেতা।
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম;
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নদীয়া জেলার উলা গ্রামে।
- পিতা দার্শনিক পন্ডিত চন্দ্রশেখর বসু ছিলেন দ্বারভাঙ্গা রাজ এস্টেটের ম্যানেজার।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ।

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রম্য-রচনা; 
- গড্ডলিকা ;
- কজ্জলী;
- হনুমানের স্বপ্ন; 
- গল্পকল্প;
- গল্প কৃষ্ণকলি ;
- আনন্দীবাঈ;

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৫০.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. কমলে কামিনী
  2. নবীন তপস্বিনী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক নয় - বিয়ে পাগলা বুড়ো
- এটি তাঁর রচিত প্রহসন।
- প্রহসনটি ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫১.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. জননী
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'জননী’ উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।
- চরিত্র ও কাহিনির নির্মোহ বাস্তব রূপায়ণ এই উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য।
-------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা ইত্যাদি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫২.
'চিরকুমার সভা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত -
  1. সাংকেতিক নাটক
  2. কৌতুক নাটক
  3. গীতনাট্য
  4. হাস্যরসাত্মক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'চিরকুমার সভা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুক নাটক।
- পরিহাস-উচ্ছল গীতবহুল মঞ্চসফল নাটক।
- একদল যুবকের বিয়ে না-করার প্রতিজ্ঞা এবং পরে প্রতিজ্ঞাভঙ্গের কৌতুককর কাহিনি নিয়ে এ নাটক রচিত।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫৩.
ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'শব্দতত্ত্ব' কে লিখেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. আহমদ শরীফ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থ:
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২৫৪.
১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ফররুখ আহমেদ রচিত 'লাশ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. হাবেদা মরুরকাহিনী
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'লাশ' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫৫.
'কামিনী কাঞ্চন' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. শওকত আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ছোটগল্প - কামিনী কাঞ্চন।

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫৬.
"খাঁচার পাখি ছিল     সোনার খাঁচাটিতে
               বনের পাখি ছিল বনে।
একদা কী করিয়া     মিলন হল দোঁহে," আলোচ্য পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) মানসী
  3. গ) ক্ষণিকা
  4. ঘ) শেষলেখা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

দুই পাখি 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খাঁচার পাখি ছিল     সোনার খাঁচাটিতে
               বনের পাখি ছিল বনে।
একদা কী করিয়া     মিলন হল দোঁহে,
        কী ছিল বিধাতার মনে।
বনের পাখি বলে,  খাঁচার পাখি ভাই,
       বনেতে যাই দোঁহে মিলে।
খাঁচার পাখি বলে-- বনের পাখি, আয়
        খাঁচায় থাকি নিরিবিলে।'

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো :
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

উৎস: সোনার তরী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১২,২৫৭.
নিচের কোনটি জসীম উদ্‌দীনের রচিত গানের সংকলন নয়?
  1. গাঙের পাড়
  2. জারিগান
  3. রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। এবং 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'রাখালী' - জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় - ১৯২৭ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৫৮.
প্যারীচাঁদ মিত্র কার তত্ত্বাবধানে হিন্দু কলেজে শিক্ষা লাভ করেন?
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত। রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে। তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৫৯.
"হারানো অর্কিড" কবিতাগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• "হারানো অর্কিড" কবিতাগ্রন্থটি কবি অমিয় চক্রবর্তীর লেখা।

-----------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- 'বাংলাদেশ' কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৬০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘রেইনকোট’ গল্পটি রচিত হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই।
১২,২৬১.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'যে অরণ্যে আলো নেই' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। 

নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম হলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- নীলিমা ইব্রাহিমের পুরো নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
- তিনি ১৯২১ সালের ১১ জানুয়ারি খুলনার বাগেরহাটে জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৬২.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি কোনটি?
  1. ক) রাশিয়ার চিঠি
  2. খ) পথে প্রবাসে
  3. গ) পশ্চিমের যাত্রী
  4. ঘ) দুয়ার হতে অদূরে
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি 'পশ্চিমের যাত্রী' । 

রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি
পথে প্রবাসে - অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 
দুয়ার হতে অদূরে - বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২,২৬৩.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস?
  1. বাঁধন-হারা
  2. শিউলিমালা
  3. ব্যথার দান
  4. পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা

‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস - বাঁধন-হারা। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'ব্যথার দান' এবং শিউলিমালা কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটকের নাম। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১২,২৬৪.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভ্রমনকাহিনী?
  1. ক) বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  2. খ) পথে প্রবাসে
  3. গ) য়ুরোপের চিঠি
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১) ও ইউরোপের চিঠি।
তার প্রধান কবিতাগুলো হলোঃ রাখী, কালের শাসন, কামনা পঞ্চবিংশতি, নূতনা রাধা, লিপি, জার্নাল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন - মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,২৬৫.
মীর মশাররফ হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. যশোর
  2. বরিশাল
  3. কুষ্টিয়া
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৬৬.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাঙাল হরিণাথ
  2. নীলমণি হালদার
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৬৭.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটিতে কোন ঘটনার পেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  2. ভাষা আন্দোলনের
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
  4. জমিদারি শোষণের
ব্যাখ্যা
• 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা মমতাজউদ্দীন আহমদ।

- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, হারানোর বেদনার মূর্তি নির্মাণ করেছেন। আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।

- মুক্তিযুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র "রৌশনারা"।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ-
মতাজউদ্দীন আহমেদের 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একাত্তরে পাকসেনা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার রৌশনারাকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের সাথে সাথে পাকিস্তানিদের বাংকার থেকে মুক্ত হয়ে রৌশনারা ঘরে ফিরে আসেন। রৌশনারার এই প্রত্যাবর্তনে পরিবারের সবাই আপাত খুশি হলেও তার পিছনে ছিল তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার লোভ।
রৌশনারার জীবনের বিষাদময় আখ্যানকে পুঁজি করে তার স্বামী-শ্বশুর সবাই সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি লাভ করেছে। স্বার্থসিদ্ধির পর রৌশনারার স্বামী-শ্বশুর অচিরেই শুরু করে তার গর্ভের সন্তান 'লালন' কে নিয়ে সন্দেহ। ৬ বছরের শিশু সন্তান লালনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রৌশনারার স্বামী। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য রৌশনারাকে মানসিক হাসপাতালে পাগল চিহ্নিত করে ভর্তি করিয়ে দেন তার শ্বশুর জনাব আলী সাহেব (৬০)।

উৎস: 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৬৮.
হাসন রাজার উপাধি ছিল-
  1. ক) চারণ কবি
  2. খ) মরমি কবি
  3. গ) কবি কঙ্কণ
  4. ঘ) লৌকিক কবি
ব্যাখ্যা
• হাসন রাজা এর প্রকৃত নাম অহিদুর রেজা।
- তাঁর উপাধি মরমি কবি।
- তিনি সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়ই ছিল অযোধ্যাবাসী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁরা সুনামগঞ্জ আসেন এবং সেখানেই স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গান হলো
- 'লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার'
- 'মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে',
- 'আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপরে',
- 'সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল',
- 'মরণ কথা স্মরণ হইল না হাছন রাজা তোর',
- 'আমি যাইমুরে যাইমুরে আল্লার সঙ্গে',
- 'কানাই তুমি খেইর খেলাও কেনে',
- 'একদিন তোর হইব রে মরন রে হাসন রাজা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৬৯.
কার পৃষ্ঠপোষকতায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,২৭০.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) বিনয় ঘোষ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) রাধারমণ মিত্র
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৬) (প্রবন্ধ) - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই (প্রবন্ধ) - শওকত ওসমান
- সংস্কৃতির রুপান্তর (প্রবন্ধ) - গোপাল হালদার
- সংস্কৃতির কথা (প্রবন্ধ) - মোতাহার হোসেন
- সংস্কৃতির সংকট (প্রবন্ধ) - বদরুদ্দিন ওমর
১২,২৭১.
'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।' উক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;"-- লাইনটি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 
------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
------------------------------- 
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কবিতা: বনলতা সেন
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বনলতা সেন কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৭২.
'কালকূট' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. বিমল ঘোষ
  4. রাজনারায়ণ বসু
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর জন্মনাম সুরথনাথ বসু; কিন্তু সমরেশ বসু নামেই লেখক পরিচিতি সমধিক।
সমরেশ বসু কালকূট ও ভ্রমর ছদ্মনামে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। 

অন্যদিকে, 
• কবি বিমল ঘোষের ছদ্মনাম- 'মৌমাছি'। 
• রাজশেখর বসু 'পরশুরাম' ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৭৩.
কুন্তলীন পুরস্কার প্রাপ্ত শরৎচন্দ্রের গল্প কোনটি?
  1. ক) মেজদিদি
  2. খ) বড়দিদি
  3. গ) মহেশ
  4. ঘ) মন্দির
ব্যাখ্যা
[লাইভ পরীক্ষায় প্রশ্নে ভুলক্রমে গল্পের জায়গায় উপন্যাস দেয়া ছিল যা সংশোধন করা হয়েছে।]

‘মন্দির' শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত রচনা ও গল্প।
- লেখক এর জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।
- তার সার্থক ছোটগল্প - মহেশ।
- এছাড়া বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম স্বার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।

- লেখকের অন্যান্য গল্প:

»কাশীনাথ
»রামের সুমতি
»মেজদিদি
»মামলার ফল
»সতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৭৪.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করতেন?
  1. কল্লোল
  2. স্বরাজ
  3. সঞ্চয়নী
  4. নতুন দিগন্ত
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পান্ডুলিপিতে।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- তিনি দৈনিক 'স্বরাজ' পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৭৫.
‘ভ্রমি দেশে দেশে’ ভ্রমণ কাহিনিটি কার রচনা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।

⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
১২,২৭৬.
নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সেকাল
  2. মোহ
  3. খেয়া
  4. প্রার্থনা
ব্যাখ্যা

⇒ নদীর এ পার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,<br />ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।- পঙক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত মোহ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• কণিকা কাব্যগ্রন্থ:
- ‘মোহ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কবিতার সংকলন ‘কণিকা’র অন্তর্ভুক্ত একটি ছোট কবিতা। 
- ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৯ সালে। ছোট ছোট কবিতার সংকলন তাই নাম দেওয়া হয়েছে কণিকা।
- নীতিকথা ধরনের কাব্য এটি। কণিকাকে অণুকাব্যও বলা যায়। কাব্যের নামের সাথে অন্তে মিল আছে।

কবিতাটি নিম্নরূপে বর্ণিত----

মোহ 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।

উৎস: ‘মোহ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,২৭৭.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. মোহাম্মদ আবদুল হাই
  3. আবু ইসহাক
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন: 
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৭৮.
কোনটি আবু ইসহাকের রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) জোঁক
  2. খ) জাল
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
উপন্যাসঃ
- সূর্য দীঘল বাড়ি’(একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।),
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।
গল্পগ্রন্থঃ হারেম, মহাপতঙ্গ ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ জোঁক।
তাঁর রচিত একমাত্র নাটক - ‘জয়ধ্বনি’।
তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘স্মৃতিবিচিত্রা’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া]
১২,২৭৯.
‘কবর’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীমউদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিত।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।

• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- তাঁকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
- তাঁর রচিত কবিতাগুলোতে কুশলতার সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) গাথাকাব্যটি E.M. Millford কর্তৃক ' The Field of the Embroidered Quilt' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- সুচয়নী,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- মাটির কান্না,
- রূপবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮০.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র কবিতা সংকলন কোনটি?
  1. ছাড়পত্র
  2. ঘুম নেই
  3. আকাল
  4.  পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• আকাল:
- 'আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন। পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

---------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) 'কিশোর সভা' বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২৮১.
‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনিটি কার রচিত?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।

তাঁর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো: 
• ভ্রমণকাহিনি:  
- জলে-ডাঙায়,
- দেশে-বিদেশে।

• রম্যরচনা: 
- পঞ্চতন্ত্র, 
- ময়ূরকণ্ঠী। 
 
• উপন্যাস: 
- অবিশ্বাস্য,  
- শবনম।

• ছোটগল্প: 
- চাচা-কাহিনী, 
- টুনি মেম। 

- ‘দেশে বিদেশে’ ভ্রমণকাহিনিটি তাঁর  রচিত প্রথম গ্রন্থ।  
- তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। 
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২৮২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. লর্ড মেকলে
  2. লর্ড ওয়েলেসলী
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,২৮৩.
মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন যিনি-
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সেলিম আল দীন
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ (১৯২২-১৯৭১): আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার৷
প্রধান সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

নাটক:
- বহিপীর
- সুড়ঙ্গ
- তরঙ্গভঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

পুরস্কার:

- বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬১, লালসালু' উপন্যাসের জন্য
একুশে পদক (মরণােত্তর), ১৯৮৩
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০১ (শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার, ‘লালসালু' উপন্যাসের
চলচ্চিত্ররূপের জন্য)

সৈয়দ আলী আহসান, সেলিম আল দীন এবং সেলিনা হোসেন যথাক্রমে ১৯৮২, ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১২,২৮৪.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?" উক্তির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ 
  3. সৈয়দ অলিউল্লাহ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।

- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২৮৫.
‘আমি কি দুঃখেরে ডরাই'- কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. আলাউদ্দিন খাঁ
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. লালন শাহ
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'

- বিখ্যাত গান
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮৬.
”সনাতন পাঠক” কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমেন্দ্র মিত্র
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ”সনাতন পাঠক”।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন।
- নীল লোহিত
- নীল উপাধ্যায়
- সনাতন পাঠক

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমালাকান্ত।
- প্রমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম ছিলো - কৃত্তিবাস ভদ্র
- হরিনাথ মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিলো- কাঙাল হরিনাথ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১২,২৮৭.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী'র কবি কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সমর সেন
  3. সানাউল হক
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মিনী শঙ্খিনী'র কবি - সানাউল হক

সানাউল হক:
- তিনি ১৯২৪ সালের ২৩ মে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- সানাউল হকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় পারিবারিক আবহে।
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।
- মোতাহের হোসেন চৌধুরীর চিন্তাভাবনা সানাউল হকের সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত করে। এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় সানাউল হকের কবিতায়, ভ্রমণবৃত্তান্তে, অনুবাদে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর, 
- বিচূর্ণ আর্শিতে, 
- পদ্মিনী শঙ্খিনী
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮৮.
'আলালের ঘরে দুলাল' কার লেখা?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. কালীপ্রসাদ সিংহ
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- তিনি ২৩শে নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষিপাঠ,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
- আধ্যাত্মিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,২৮৯.
'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• 'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলারকবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৯০.
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)। 
- তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার -বিশ্লেষণের উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে। 

- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯১.
'তোতা ইতিহাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যানগ্রন্থ যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন। ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে চণ্ডীচরণ মুনশী মূল ফার্সি থেকে বাঙালায ভাষায় গ্রন্থটি অনুবাদ করেন। পরবর্তী বৎসর অর্থাৎ ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

----------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২৯২.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ?
  1. রক্তকরবী
  2. গীতিমাল্য
  3. জীবনস্মৃতি
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা
• 'গীতিমাল্য '- রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'রক্তকরবী' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
• 'জীবনস্মৃতি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
• 'রাজর্ষি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯৩.
'সংশপ্তক' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. রম্যরচনা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

• শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- ‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ - তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তমূলক গ্রন্থ।
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - রাজবন্দীর রোজনমাচা।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২৯৪.
'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবুল হোসেন
  3. আবুল কালাম
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা আবদুল কাদির। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- আব্দুল কাদিরের মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় 'লোকায়িত সাহিত্য’।

আবদুল কাদির: 
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।
- তাঁর 'ছন্দ-সমীক্ষণ' গ্রন্থে বাংলাছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণ করার প্রয়াস আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,  
- কবি নজরুল, 
- কাজী আবদুল ওদুদ, 
- লোকায়ত সাহিত্য।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২৯৫.
’নীল-দর্পণ’ নাটক কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৩ সালে 
  2. ১৮৬০ সালে 
  3. ১৮৬৫ সালে 
  4. ১৮৬৭ সালে 
ব্যাখ্যা

• নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- দীনবন্ধু মিত্রের জনপ্রিয় কবিতা: সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড), দ্বাদশ কবিতা।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে 'নীল- দর্পণ' নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নীল দর্পন' নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৯৬.
আমি কোন আগন্তুক নই কবিতাটির রচনাকারী কে?
  1. ক) হুমায়ূন আজাদ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
“আমি কোন আগন্তুক নই'' কবিতাটি রচনা করেন আহসান হাবীব। তার দুহাতে দুই আদিম পাথর কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি যা ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। এই কবিতায় শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বাতাসে লাশের গন্ধ রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১২,২৯৭.
‘মুকুল’ নামে ছোটদের জন্য প্রকাশিত ম্যাগাজিনের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) লুৎফর রহমান
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন।
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন। 

জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন এর জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে।
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।

উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯৮.
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. যাত্রা
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

অন্যদিকে,
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯৯.
‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) আহসান হবীব
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ নামে বিখ্যাত কবিতা লিখেন তিনি। 

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’- কবিতা, 
-------------- শামসুর রাহমান। 
নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।
মমতা নামের প্রুত  প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়
ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে
শিউলিশৈশবে ‘পাখী সব করে রব’ ব’লে মদনমোহন
তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,
অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন,
ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই
ফোটে, জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’- কবিতা ও বাংলাপিডিয়া।
১২,৩০০.
'লহনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) শিবমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতুর কাহিনি, এতে রয়েছে কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি বণিক ধনপতির কাহিনি, এতে রয়েছে ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।