বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২২ / ১৭৪ · ১২,১০১১২,২০০ / ১৭,৪৩৭

১২,১০১.
রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস -
  1. ওঙ্কার
  2. খাচাঁয়
  3. অলাতচক্র
  4. খেলাঘর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - 'খাচাঁয়'।
- এটি রশীদ হায়দার রচনা করেন।
- নগরীর জীবনে আটকে-পড়া মধ্যবিত্ত বলয়ে মুক্তিযুদ্ধের অভিঘাত অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তােলা হয়েছে উপন্যাসটিতে।

অন্যদিকে,
• 'ওঙ্কার'- এটি '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা আহমদ ছফার উপন্যাস।
• আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - অলাতচক্র।
• মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - খেলাঘর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১০২.
‘ইছামতী’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) হুমায়ূন আজাদ
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল ।

উৎস:- বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১২,১০৩.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাংবাদিক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

----------------------
• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
-আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ,
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১০৪.
বাংলাদেশের কোন ঐতিহাসিক আন্দোলনে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন?
  1. কৃষক আন্দোলনে
  2. বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে
  3. ভাষা আন্দোলনে
  4. তেভাগা আন্দোলনে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি পাকিস্তানে উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি প্রথম উত্থাপন করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

---------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বৈদিক ভাষা, বৌদ্ধ সংস্কৃত, তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব, তিববতি ও প্রাচীন পারসিক ভাষা এবং জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন খোতনি, প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা শেখেন। 
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস রচনাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বহু জটিল সমস্যার সমাধান করেন। বাংলা লোকসাহিত্যের প্রতিও তিনি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

• সম্পাদনা ও প্রকাশনা:
- শিশুপত্রিকা ‘আঙুর’ (১৯২০), 
- ইংরেজি মাসিক ‘দি পীস’ (১৯২৩), 
- বাংলা মাসিক ‘বঙ্গভূমি’ (১৯৩৭), 
- পাক্ষিক ‘তকবীর’ (১৯৪৭)। 

গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি: প্রমাণ – গৌড়ী/মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা (১৯২৫)। 

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প (১৯২২), 
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৩১), 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৩৬), 
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১৯৫৭),
- Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১),
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১০৫.
‘আত্মহত্যার অধিকার' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমুদ্রের স্বাদ
  2. অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
  3. সরীসৃপ
  4. মিহি ও মোটা কাহিনী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আত্মহত্যার অধিকার' গল্প:
• 'আত্মহত্যার অধিকার' গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' গল্পগ্রন্থের অন্যতম বিখ্যাত গল্প।  
• একটি দরিদ্র পরিবারের লাঞ্ছিত জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত।  
• এখানে গরিব 'নীলমণি'র যে কষ্টের কাহিনি বিবৃত হয়েছে;   
• এবং সেই সঙ্গে তার যুবতী মেয়ে 'শ্যামা' কষ্টকে দলিত করে, যেভাবে তার জীবনের রস আস্বাদনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, গল্পে সেই আসক্তিকেই বড় করে দেখানো হয়েছে। 
• লেখকের ভাব পরিকল্পনায় প্রতিভাত হয়েছে যে, এই অসমবিন্যস্ত জগৎ ও জীবনে সবাই অসুস্থ ও বিকারগ্রস্ত। 
• স্রষ্টার সৃষ্টির অসমতার প্রতি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্ধানী দৃষ্টি এখানে বক্রও ব্যঙ্গাত্মক শিল্পরীতিতে বিশ্লেষিত হয়েছে। 
• স্রষ্টা নিজে কেন সমাজে এমন অসাম্য সৃজন করলেন, সেই প্রশ্নও করেছেন তিনি। 

⇔ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।
- 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। 
- প্রগতি লেখক সংঘের নির্বাচিত যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন।    

⇔ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ: 
⇒ গল্পগ্রন্থ:  
• অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
• মিহি ও মোটা কাহিনী,  
• সরীসৃপ,  
• সমুদ্রের স্বাদ, 
• বৌ ইত্যাদি। 

⇒ ছোটগল্প: 
• প্রাগৈতিহাসিক,   
• সরীসৃপ,  
• আত্মহত্যার অধিকার, 
• সমুদ্রের স্বাদ, 
• হলুদ পোড়া, 
• আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি। 

⇒ উপন্যাস:   
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য, 
• পদ্মানদীর মাঝি,
• পুতুলনাচের ইতিকথা,   
• সহরবাসের ইতিকথা, 
• সহরতলী,    
• সার্বজনীন,
• অহিংসা, 
• আরোগ্য ইত্যাদি।
⇒ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১০৬.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কার কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১০৭.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
⇒ 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।...... 

⇒ আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আয়না' গল্পগ্রন্থ।
১২,১০৮.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'নব উদ্দীপনা' হলো-
  1. ক) প্রবন্ধ 
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১২,১০৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত-
  1. ভাষাতত্ত্ববিদ
  2. সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা
  3. ইসলাম প্রচারক
  4. সমাজ সংস্কারক
ব্যাখ্যা
• ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে ভাষাবিজ্ঞানী ও ভাষাতাত্ত্বিক, গবেষক, অনুবাদক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। তবে তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে বহুল পরিচিত।

-----------------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১১০.
'অপর্ণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ডাকঘর
  2. মুক্তধারা
  3. বিসর্জন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।

- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র রঘুপতি ও জয়সিংহের ভূমিকায় বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করেন।

- উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনই বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে। নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রঘুপতি,
- জয়সিংহ,
- অপর্ণা,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য।

অন্যদিকে, 
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটকের চরিত্রগুলো: ধনঞ্জয়, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

-------------------
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১১১.
'সবুজপত্র' প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯০৯
  2. ১৯১৪
  3. ১৯১০
  4. ১৯২১
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১১২.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হকের 'নুরুলদীনের সারা জীবন' একটি কাব্যনাট্য। 

• নুরুলদীনের সারাজীবন
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১১৩.
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. আগুনের পরশমণি
  3. জোছনা ও জননীর গল্প
  4. নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায়।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- তাঁর প্রথম নির্মিত চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি (১৯৯৫)।
- তাঁর শেষ নির্মিত চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- শ্যামল ছায়া চলচ্চিত্রটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

• হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলো হলো-
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১১৪.
কবি কায়বোবাদকে নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক ভূষিত উপাধি নয় কোনটি?
  1. কাব্যভূষণ
  2. সাহিত্যসাগর 
  3. বিদ্যাভূষণ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে- কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে, 
• আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১১৫.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. মাটির দেওয়াল
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. হারানো অর্কিড
  4. উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে:
- তাঁর জন্ম ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায়।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অন্যদিকে,
- মাটির দেওয়াল ও হারানো অর্কিড- অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- অর্কেষ্ট্রা- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১১৬.
‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. সুবোধ চন্দ্র মিত্র
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস:
- ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন।
- এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
- স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- প্রফুল্ল, 
- জমিদার হরবল্লভ রায়,
- ব্রজেসর,
- সাগর,
- নয়ন
- ডাকাত সর্দার ভবানি পাঠক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিভিন্ন উপন্যাসে মুসলমানের বিরুদ্ধে হিন্দুর বিজয় দেখানো হয়েছে, যেমন: রাজসিংহ (১৮৮২) এবং সীতারাম (১৮৮৮)।
• বঙ্কিমচন্দ্রে কোন কোন উপন্যাসে আবার ব্রিটিশশক্তির বিরুদ্ধেও হিন্দুজাতির বিজয় দেখানো হয়েছে, যেমন: দেবী চৌধুরাণী এবং আনন্দমঠ।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ আলী আহসান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

উৎস: ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১১৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) নাটোর
  2. খ) গাইবান্ধা
  3. গ) পাবনা
  4. ঘ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিল মঞ্জু।
তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বগুড়া জেলায়। তিনি ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১২,১১৮.
'বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ'- পর্বগুলো কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. অপরাজিত
  2. পথের পাঁচালী
  3. আরণ্যক
  4. বিপিনের সংসার
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

• উপন্যাসের তিনটি ভাগ।
- বল্লালী বালাই,
- আমআঁটির ভেঁপু,
- অক্রূর সংবাদ।

--------------------------------- 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়িা।
১২,১১৯.
’চিত্তনামা’-কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা'
-  কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কাজী নজরুল ইসলাম।

- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।
 
• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত অন্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, 

১২,১২০.
'সাহিত্য সংক্রান্তি' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'সাহিত্য সংক্রান্তি' পত্রিকার সম্পাদক - বিহারীলাল চক্রবর্তী।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- সাধের আসন।

তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
- পূর্ণিমা
- অবোধ বন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১২১.
'সিরাজাম মুনিরা' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১২২.
'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাস:
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) একটি উপন্যাস যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১২৩.
'নীলদর্পণ' নাটকটির রচয়িতা -
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীলদর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১২৪.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ এর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।
- 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছিলেন।

---------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি 'রূপসী বাংলার কবি' হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন। এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১২৫.
‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হায়
  2. শওকত ওসমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান।

• জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক। ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১২৬.
'লোকায়ত সমাজ ও বাঙালী সংস্কৃতি' - আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত একটি-
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) নাট্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮)
- এর জন্ম ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে। 
- উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি গল্প এবং প্রবন্ধও রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫);

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮),
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১২৭.
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বানানের নিয়ম প্রবর্তিত হয়-
  1. ক) ১৯৩৫ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৩৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৯ সালে‌
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের গোড়া থেকে বাংলা গদ্যরচনা আরম্ভ হলে বাংলা বানানে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারটি অনুধাবন করে একটি বানান-রীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানান।
এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 'কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি' গঠন করে এবং ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে প্রথম বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে৷
উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)
১২,১২৮.
'ছন্দোরাজ' নামে পরিচিত কে?  
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১২৯.
'কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে।
সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো' - বাক্যদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে।
সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো' - বাক্যদ্বয় 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের' 'যোগাযোগ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৩০.
“পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ”?” -উদ্ধৃতাংশের পথিক কে?
  1. ক) কাপালিক
  2. খ) নবকুমার
  3. গ) অধিকারী
  4. ঘ) সেলিম
ব্যাখ্যা

- কপালকুন্ডলা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস৷
- এই উপন্যাসের 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছো?' উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি।

এ উপনাসের উল্লেখযোগ্য কথোপকথনঃ
“অনন্তর সমুদ্রের জনহীন তীরে, এইরূপে বহুক্ষণ দুইজনে চাহিয়া রহিলেন। অনেক্ষণ পরে তরুণীর কণ্ঠস্বর শুনা গেল।
তিনি অতি মৃদুস্বরে কহিলেন, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?” এই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে নবকুমারের হৃদয়বীণা বাজিয়া উঠিল।”

দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) বাংলা সাহিত্যে প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃত কারণ এটি প্রথম আধুনিক উপন্যাস এবং রোমান্টিক উপাদান প্রবর্তন করে। তবে, কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) প্রথম সার্থক রোমান্টিক উপন্যাস এবং এর ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ!’ উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উক্তি হিসেবে বিবেচিত কারণ এটি প্রকৃতি, প্রেম, এবং রহস্যের কাব্যিক সমন্বয় ঘটায়। এই উক্তিটি রোমান্টিক ভাবধারার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিসিজমের গভীর প্রকাশের সূচনা করে।

উৎসঃ কপালকুণ্ডলা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,১৩১.
রূপা ও সাজু চরিত্র দুটি জসীমউদ্দিনের কোন কাহিনিকাব্যের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. নকশি কাঁথার মাঠ
  4. ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন: 
- ১লা জানুয়ারি, ১৯০৩ সালে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় “কবর” কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অনর্গত।

- তাঁর বিখ্যাত গাথা কাব্যগুলো হলো: নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

- “সুচয়িনী” জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- জসীমউদ্দীন “জারীগান” ও “মুর্শীদা গান” নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford; ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি গুলো হলো: 
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

 উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১২,১৩২.
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের পটভূমি কি?
  1. ক) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।

- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা তাঁর মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২)-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- নাটকটির জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,১৩৩.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাসে কোন সময়ের মানুষের কথা বলা হয়েছে?
  1. ষাটের দশকের
  2. সত্তরের দশকের
  3. আশির দশকের
  4. নব্বইয়ের দশকের
ব্যাখ্যা
ত্রয়ী উপন্যাস:
- 'দক্ষিণায়নের দিন', 'কুলায় কালস্রোত' এবং 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' এই ত্রয়ী উপন্যাস শওকত আলীকে অনন্য করে তুলেছিল। 
- এই ত্রয়ী উপন্যাস সর্ম্পকে শওকত আলী এক সাক্ষাৎকারে উন্মোচন করেছিলেন তার পীড়িত ভাষ্য।
- শওকত আলী অবলীলায় বলেছিলেন, 'ষাটের দশকের মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার যে পরিবর্তন আসছে, সেটাই 'দক্ষিণায়নের দিন' যার মানে হচ্ছে শীতকাল আসছে। 'কুলায় কাল স্রোত' হচ্ছে পরিবর্তন যেখানে আঘাত করছে। আর 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' হচ্ছে নতুন সময়টি আসার একেবারে আগের সময়টি। মূলত ষাটের দশকে আমাদের মধ্যবিত্ত এবং সমগ্র সমাজব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আসে। নতুন একটা চিন্তা-চেতনা দ্বারা আলোড়িত হয় পুরো সমাজ। ধ্যান-ধারণা চাল-চলন জীবনব্যবস্থায় একটা পরিবর্তনের সুর বেজে ওঠে। সেসবই উপন্যাসে আনতে চেয়েছি।'

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. The Daily Star বাংলা রিপোর্ট প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৩।
১২,১৩৪.
'বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

• 'বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা' গ্রন্থের রচয়িতা আবুল হুসেন।

 আবুল হুসেন: 
- তিনি ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোরের কাউরিয়া গ্রামে। 
- তিনি প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,১৩৫.
‘শশী, কুসুম’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা
  2. জননী
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২,১৩৬.
'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধ সংকলনটির লেখক কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীম উদ্‌দীন
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহের হোসেন ছিলেন একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী। 
তিনি ৩০শে জুলাই ১৮৯৭ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।  
পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম।

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন (১৯৩৭),
- নজরুল কাব্য পরিচিতি (১৯৫৫),
- সে পথ লক্ষ্য করে (১৯৫৮),
- সিম্পোজিয়াম (১৯৬৫),
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস (১৯৭০) এবং
- আলোক বিজ্ঞান (১৯৭৪)।
 
- তাঁর প্রথম প্রবন্ধ সংকলন 'সঞ্চয়ন'।

- ১৯৭৫ সালে কাজী মোতাহার হোসেন ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন
- ১৯৭৪ সালে কাজী মোতাহার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।

- কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমি 'পুরষ্কার’ লাভ করেন 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,১৩৭.
'হাসু, মায়মুন' চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. আবু ইসহাক
  4. হুমায়ূন আজাদ
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস: 
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,১৩৮.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. কালের পুতুল
  2. তিথিডোর
  3. হঠাৎ আলোর ঝলকানি
  4. যে আঁধারআলোর অধিক
ব্যাখ্যা
⇒ 'তিথিডোর' উপন্যাস:
• বুদ্ধদেব বসুর লেখা, এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।   
• প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখণ্ডে বিভক্ত। 
• বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর-নারীর জীবনযাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
• কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা।  
• এই কাহিনির গীতল ভাষা ও কাব্যময়তা এবং এর শেষাংশে প্রযুক্ত ‘চৈতন্যপ্রবাহ’-ধৰ্মী বর্ণনাভঙ্গি দেখা যায় ।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:   
• তাকে রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যের সব্যসাচি লেখক বলা হয়। 
• ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। 
• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকাটি তিনি হুমায়ুন কবিরের সাথে সম্পাদনা করেন।  

⇒  তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:   
• সানন্দা, 
• পরিক্রমা, 
• কালো হাওয়া, 
তিথিডোর, 
• নির্জন স্বাক্ষর ইত্যাদি।  

⇒ কবিতাগ্রন্থ:  
• বন্দীর বন্দনা,
• স্বাগত বিদায়, 
• দ্রৌপদীর শাড়ী, 
• যে আঁধারআলোর অধিক।   

⇒ প্রবন্ধগ্রন্থ:
• কালের পুতুল,
• সাহিত্যচর্চা,
• স্বদেশ ও সংস্কৃতি।  

⇒ ভ্রমণ ও স্মৃতিকথা:   
• হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
• দেশান্তর, 
• আমার ছেলেবেলা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৩৯.
'অন্নদাশঙ্কর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. লীলাময় রায়
  2. কালকূট
  3. পরশুরাম
  4. নীহারিকা দেবী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'অন্নদাশঙ্কর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়

অন্যদিকে,
- 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- 'সমরেশ বসু' এর ছদ্মনাম - কালকূট।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২,১৪০.
বৃহত্তর খুলনা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) আজাদ
  2. খ) ইত্তেফাক
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) সমাজ দর্পণ
ব্যাখ্যা
'সমাজ দর্পণ' বৃহত্তর খুলনা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। ১৮৭১ সালে এটি প্রকাশিত হয়। উৎস: শীকর, বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
১২,১৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক -
  1. বিবিধপ্রসঙ্গ
  2. ভিখারিণী
  3. বাল্মীকি প্রতিভা
  4. বউ ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮১ সালে।

অন্যদিকে,
- প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'বউ ঠাকুরাণীর হাট’৷
- প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'৷
- প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'বিবিধপ্রসঙ্গ'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন;
- রাজা;
- ডাকঘর;
- অচলায়তন;
- চিরকুমার সভা;
- রক্তকবরী;
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১২,১৪২.
বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা কে?
  1. শরদিন্দু চট্টোপাধ্যায়
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। 

- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। - নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা।
১২,১৪৩.
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন কে সম্পাদনা করেন?
  1. শহীদ কাদরী
  2. আবদুর রশীদ খান
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৪৪.
বাংলাদেশের রণসংগীত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নি-বীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. সন্ধ্যা
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

- এটি ঢাকার 'নতুনের গান' শিরোনামে 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৮ সালে।
- পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত
- বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতার প্রথম ২১টি চরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৪৫.
'হোসেন মিয়া' কোন ঔপন্যাসিকের সৃষ্ট চরিত্র?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১২,১৪৬.
"কুমুদিনী" - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে,
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের চরিত্র - রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র - অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৪৭.
"ধকধক জ্বলে জ্বলজ্বল,
বুকে ​​​​ মুখে চোখে রোষ-হুতাশন!
রোস্ কোথা শোন্!"
- কোন কবিতার অংশ?
  1. আগমণী
  2. রণভেরী
  3. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  4. কামাল পাশা
ব্যাখ্যা
অগ্নি-বীণা কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এবং দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ। 
এতে মোট ১২ টি কবিতা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে 
- প্রলয়োল্লাস
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানী
- মোহররম


আগমনী
কাজী নজরুল ইসলাম
একি  ​​ ​​ ​​​​ রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন  ​​ ​​ ​​ ​​​​ রনরন রন ঝনঝন!
সেকি  ​​ ​​​​ দমকি দমকি
 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধমকি ধমকি

.
.
তাতা  ​​​​ থৈথৈ তাতা থৈথৈ খল খল খল
নাচে  ​​​​ রণ-রঙ্গিণী সঙ্গিনী সাথে,
 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধকধক জ্বলে জ্বলজ্বল
বুকে  ​​​​ মুখে চোখে রোষ-হুতাশন!
 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ রোস্ কোথা শোন্!


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা কবিতা সাময়িকী।
১২,১৪৮.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. শহরতলী
  3. কন্যাকুমারী
  4. গায়ত্রী সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

সেলিনা হোসেন:

- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- রাজসিংহ।
- মানিক বন্দোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শহরতলী।
- 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৪৯.
রামনারায়ণ তর্করত্নের বিখ্যাত সামাজিক নাটক কোনটি?
  1. ক) কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. খ) বেণীসংহার
  3. গ) রত্নাবলী
  4. ঘ) মালতীমাধব
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’  নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,১৫০.
"সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন- 
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।

১২,১৫১.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. দুর্ভিক্ষের 
  2. দেশভাগের  
  3. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার  
  4. মুক্তিযুদ্ধের 
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

-----------------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১৫২.
'মোকাজান মিয়া' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা' তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।

- এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৫৩.
'সারেং বৌ' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বৌ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।

------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

• স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা।

• ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১৫৪.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) পূরবী
  2. খ) কল্পনা
  3. গ) চৈতালি
  4. ঘ) ললিতা তথা মানস
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী
- সোনারতরী
- চিত্রা
- কল্পনা
- বলাকা
- পুনশ্চ
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- পূরবী
- চৈতালি

- ‘ললিতা তথা মানস’ বঙ্কিমচন্দ্র রচিত কাব্যগ্রন্থ।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১২,১৫৫.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৫৬.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. চতুষ্কোণ
  2. শহরতলী
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. হলুদ পোড়া
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৫৭.
আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. বর্ণচোরা
  2. নরকে লাল গোলাপ
  3. কী চাহ শঙ্খচিল
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

'নরকে লাল গোলাপ' গ্রন্থটি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক

অন্যদিকে,
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - কী চাহ শঙ্খচিল।
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক - বর্ণচোরা।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১৫৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত "How to Cook Beans" গ্রন্থটির সাহিত্যিক প্রকৃতি কী?
  1. প্রবন্ধ 
  2. উপন্যাসিকা
  3. ছোটোগল্প
  4. ব্যঙ্গ-রচনা 
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।
- আবু শরিয়া ছদ্মনামে তিনি ইংরেজিতেও উপন্যাস/গল্প লিখেছেন। তাঁর এমন একটি উপন্যাস কদর্য এশীয় আর একটি উপন্যাসিকা শিম কীভাবে রান্না করতে হয়। দুটিরই অনুবাদক শিবব্রত বর্মন।

• 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়':
- "হাউ টু কুক বিনস" (How to Cook Beans) - একটি উপন্যাসিকা যা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লিখেছেন।
- তিনি আবু শারিয়া (Abu Sharya) ছদ্মনামে লিখেন ''How to Cook Beans''.
- এর মূল চরিত্র এক প্রাচ্যবাসী, গল্পের কথকও তিনি।

এক আলিশান এশিয়ান হোটেলের ডাইনিং রুমে বসে প্রাচ্যবাসী দেখলেন, এক ফরাসি ভদ্রলোক ওয়েটারকে ধমকে বলছেন, শিম এভাবে রাঁধতে হয় না, শেফকে ডাকুন। হন্তদন্ত হয়ে হোটেলের শেফ এলেন।ফরাসি ভদ্রলোক তাঁকে শিম রান্নার কৌশল বাতলে দিলেন। প্রাচ্যবাসী এর কিছু বুঝতে পারলেন না। তিনি আকস্মিকভাবে ঠিক করলেন, যে দেশের মানুষ নিখুঁতভাবে শিম রাঁধতে জানে, তাঁকে সেই দেশে যেতে হবে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর ফরাসি দেশে অভিযাত্রার কৌতুককর বর্ণনা দিয়েছেন লেখক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শিম কীভাবে রান্না করতে হয়' উপন্যাসিকা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১৫৯.
কোনটি সেলিনা হোসেনের উপন্যাস নয়?
  1. ক) হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. খ) যাপিত জীবন
  3. গ) নারীর রূপকথা
  4. ঘ) অপেক্ষা
ব্যাখ্যা
'নারীর রূপকথা' সেলিনা হাসানের উপন্যাস নয়।
এটি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

তাঁর অন্যান্য গল্প সমূহ:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম 
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৬০.
'রামারঞ্জিকা' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম। 
- আলালের ঘরের দুলাল প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
→ আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
→ মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
→ কৃষিপাঠ (১৮৬১),
→ ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮)
→ এবং বামাতোষিণী (১৮৮১)।

- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- আলালের ঘরের উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র মতিলাল। 
• অন্যান্য চরিত্র-
- বাবুরাম,
- ঠকচাচা। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১৬১.
'বাংলা সাহিত্যের কথা' - গ্রন্থটি রচয়িতা কে?
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র লেখা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থের নাম: বাংলা সাহিত্যের কথা।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

--------------
উল্লেখ্য,
সুকুমার সেন রচিত গ্রন্থ- 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস।
মুহম্মদ এনামুল হক ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে রচনা করেন- ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (১৯৬৮)।
বাঙালি ও বাঙলা সাহিত্য - আহমদ শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৬২.
প্যারীচাঁদ মিত্রের সাথে নিচের কোনটি জড়িত?
  1. ওয়েস্ট বেঙ্গল টি কোম্পানি
  2. বেঙ্গল টি কোম্পানি
  3. মিত্র পেপার কোম্পানি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্যারীচাঁদ মিত্র কলকাতায় ১৮১৪ সালের ২২শে জুলাই এক বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ মিত্র। তিনি কাগজ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী ছিলেন।
- প্যারীচাঁদ বেঙ্গল টি কোম্পানি এবং ডারাং টি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন ।
- এছাড়া প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

প্যারীচাঁদ মিত্র বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। আলালের ঘরের দুলাল বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রধান সাহিত্যকর্ম হলো - অভেদী, আধ্যাত্মিকা, যৎকিঞ্চিৎ, রামারঞ্জিকা, বামাতোষিণী, গীতাঙ্কুর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

১২,১৬৩.
বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা কোনটি?
  1. শিখা
  2. প্রগতি
  3. ক্রান্তি
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা — 'ক্রান্তি।'
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় 'প্রগতি' লেখক শিল্পী সংঘ।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'ক্রান্তি' পত্রিকা। 
 - এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- প্রথম প্রকাশক ছিলেন- সোমেন চন্দ। 

অন্যদিকে,
• ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
•  'প্রগতি' পত্রিকা ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন হুমায়ুন কবির। এটি ১৯৩৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১২,১৬৪.
কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?
  1. ক) শর্মিষ্ঠা
  2. খ) রাজসিংহ
  3. গ) পলাশীর যুদ্ধ
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
জব সল্যূশনের অন্যান্য অপশনের বিবেচনায়, নিকটতম উত্তর হিসেবে 'রক্তাক্ত প্রান্তর' গ্রহণযোগ্য হয়েছে। 

• মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা।
এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
শর্মিষ্ঠা নাটকের কাহিনী 'মহাভারত' থেকে সংগৃহীত।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ‘রাজসিংহ’ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
এখানে রাজপুত রাজা রাজসিংহের সঙ্গে মোঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের যুদ্ধ দেখানো হয়।

• নবীনচন্দ্র সেন রচিত তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পলাশীর যুদ্ধ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৬৫.
হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস -
  1. ক) অষ্টাদশী
  2. খ) স্বপ্নসাধ
  3. গ) সাথী
  4. ঘ) নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন কবির ছিলেন মূলত লেখক ও রাজনীতিবিদ৷ 'নদী ও নারী' (১৯৪৫) তার রচিত উপন্যাস৷
তার অন্যন্য রচনা -
কাব্য -
- অষ্টাদশী,
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
প্রবন্ধ -
- মার্কসবাদ,
- ধারাবাহিক
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১২,১৬৬.
নিচের কোনটি মাসিক পত্রিকা?
  1. শিখা
  2. পূর্বাশা
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে,
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- সংবাদ প্রভাকর - ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৬৭.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক বলা হয় কাকে?
  1. ক) বিষ্ণূ দে
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সব্যসাচী লেখক বলা হয় বুদ্ধদেব বসু কে। 
- বুদ্ধদেব বসু একজন কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক। 
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম। 
- তিনি ছিলেন বিখ্যাত 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক। 

বুদ্ধদেব ব উপন্যাস: -
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম তারিখ ১৮৬১ সালের মে মাসের কোন তারিখ?
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১৬৯.
'The Spirit of Islam' বইটির লেখক-
  1. সৈয়দ আমির আলী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমির আলী:
- তিনি আইনজীবী, ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে উদ্যোগী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সমাজ বিষয়ক লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৮৪৯ সালের ৬ এপ্রিল উড়িষ্যার কটকে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৬৭ সালে স্নাতক ও ১৮৬৮ সালে ইতিহাসে সম্মানসহ এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগুলির মধ্যে:
 
- এ ক্রাই ফ্রম দি ইন্ডিয়ান মোহামেডানস,
- দি রিয়েল স্ট্যাটাস অব উইমেন ইন ইসলাম।

গ্রন্থপঞ্জি:
- American Journal of Islamic Social Sciences,
- The Failure of Islamic Modernism?,
- Syed Ameer Ali’s Interpretation of Islam,
- The Spirit of Islam.

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৭০.
'অনল প্রবাহ' রচনা করেন-
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মোজাম্মেল হক
  3. এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৭১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “সেঁজুতি” কাব্যগ্রন্থে কতটি কবিতা রয়েছে?
  1. ক) ২০টি
  2. খ) ২২ টি
  3. গ) ২১ টি
  4. ঘ) ২৩ টি
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের অধিকাংশ কবিতাই কবির মৃত্যু সম্পর্কে ভাবনা এবং পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থে ২২টি কবিতা রয়েছে।
এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- জন্মদিন
- পত্রোত্তর
- যাবার মুখে
- অমর্ত
- পলায়নী
- স্মরণ
- সন্ধ্যা
- ভাগীরথী ইত্যাদি

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও সেঁজুতি কাব্যগ্রন্থ]

১২,১৭২.
'সত্যপীর' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো হলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং  উদাসীন পথিক।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাস্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১৭৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে ''বিসর্জন'' নাটকটি রচিত হয়?
  1. মালঞ্চ
  2. নৌকাডুবি
  3. রাজর্ষি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা

'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- রাজর্ষি (১৮৮৭): ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি মানবতা পক্ষে ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে ''বিসর্জন'' নাটকটি রচিত হয়

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোবিন্দমাণিক্য,
- পুরোহিত রঘুপতি,
- হাসি ও তাতা,
- জয়সিংহ,
- নক্ষত্ররায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: 'রাজর্ষি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৭৪.
"আনন্দময়ী" - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. শেষের কবিতা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. গোরা
ব্যাখ্যা

'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৭৫.
নিচের কোনটি মীর মোশাররফ এর উপন্যাস নয়?
  1. ক) বিষাদসিন্ধু
  2. খ) উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. গ) তাহমিনা
  4. ঘ) বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

'বসন্তকুমারী' নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
জমিদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়, নিয়তি কি অবনতি তাঁর রচিত নাটক।
রত্নবতী, বিষাদসিন্ধু, উদাসীন পথিকের মনের কথা, তাহমিনা, গাজী মিয়ার বস্তানী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২,১৭৬.
'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।

'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে 
- কবিতা ৭১ 
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা ,

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
১২,১৭৭.
কোনটি হুমায়ূন আহমেদের লেখা সায়েন্স ফিকশন?
  1. বহুব্রীহি
  2. তারা তিনজন
  3. নক্ষত্রের রাত
  4. কোথাও কেউ নেই
ব্যাখ্যা
• 'তারা তিনজন':
- 'তারা তিনজন' হুমায়ূন আহমেদের লেখা একটি সায়েন্স ফিকশন।
- এই কাহিনির মূল চরিত্র তিনজন, আয়ু, লী ও নীম। এরা তিনজনেই ভিনগ্রহের অত্যান্ত বুদ্ধিমান প্রাণী।
- এরা নিজেদের শক্তি আলো থেকে গ্রহন করে।

--------------------
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

• স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- আশাবরী, 
- কোথাও কেউ নেই। 

• সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা,
- তারা তিনজন।

• আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন,
- আমার ছেলেবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৭৮.
সুধীসমাজ কর্তৃক 'রসরাজ' উপাধিতে ভূষিত হন- 
  1. অমৃতলাল বসু
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক 'রসরাজ' উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ। তিনি প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ,
- বিবাহ বিভ্রাট,
- তরুবালা,
- কালাপানি,
- বাবু,
- বিমাতা,
- আদর্শ বন্ধু,
- অবতার,
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১৭৯.
'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
•  শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' নামে বিখ্যাত কবিতা লিখেন তিনি। "বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা" ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।

•  শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা:
- "হাতির শুড়" স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রূপ করে লেখা। 
- "টেলেমেকাস" ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। 
- "আসাদের শার্ট" গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে লেখা। 
- "স্বাধীনতা তুমি", "তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা" ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: শামসুর রাহমান এর কবিতা সংকলন; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৮০.
শকুন্তলার পুত্রের নাম কি?
  1. নারায়ণ চন্দ্র
  2. দুষ্মন্ত
  3. মুনির
  4. ভরত
ব্যাখ্যা

শকুন্তলার পুত্রের নাম ভারত এবং স্বামীর নাম রাজা দুষ্মন্ত।
- শকুন্তলা ছিল মুনির পালিত কন্যা।
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান কাহিনী লিখে তার নাম দেন শকুন্তলা

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- বোধোদয় (১৮৫১)
- কথামালা (১৮৫৬)
- চরিতাবলী (১৮৫৬) এবং
- জীবনচরিত (১৮৫৯)।
- ব্যাকরণ-কৌমুদীও (১৮৫৩-৬৩) তাঁর ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অবদান।

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেতাল পঞ্চবিংশতি,
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস।

সূত্র: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)

১২,১৮১.
“গায়ত্রী সন্ধ্যা” - কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) দিলারা হাশেম
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

• এই আটাশ বছর সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে নানা ঘটনা।যেমন-
⇒ ১৯৪৭ সালে বৃটিশ ভারত দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে লাভ করেছিল স্বাধীনতা। ধোপে টেকেনি এ স্বাধীনতার আদর্শগত ভিত্তি।
⇒ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়ী হয়ে বাঙালি অর্জন করে একটি পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং স্বাধীন ভূখণ্ড। এ জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে অনুপ্রাণিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
⇒ ১৯৭৫ সালে তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পট-পরিবর্তন হয় ইতিহাসের। শুরু হয় বাঙালির - উল্টো যাত্রা। 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস এই সময়ের শিল্পিত শব্দরূপ। 

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উপন্যাসের ভূমিকায় লেখেন-
একটি স্বপ্নের ঘোরে আমি 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' ত্রয়ী উপন্যাসটি লিখি। এর অখণ্ড প্রকাশের প্রুফ দেখার সময় বারবারই মনে হয়েছে কীভাবে লিখলাম।
স্বপ্ন ছিল একটি ট্রিলজি লেখার। বড় পটভূমি নিয়ে কাজ করব এমন তাগিদ ছিল নিজের ভেতরে। কতটা হয়েছে সেটা সময় বিচার করবে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, এটুকু আমার সান্ত্বনা। 

♦ সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১২,১৮২.
নিচের কোনটি মঙ্গলকাব্যের ব্যক্তিত্বময়ী নারীচরিত্র?
  1. ক) বেহুলা
  2. খ) সনকা
  3. গ) ফুল্লরা
  4. ঘ) লহনা
ব্যাখ্যা
• বেহুলা
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র, যাঁকে কেন্দ্র করে বাংলার লোকসমাজে প্রচলিত আছে এক জনপ্রিয় কাহিনী।
- পুরাণ কাহিনীতে বেহুলা স্বর্গের অনিরুদ্ধের স্ত্রী ঊষা, আর লোককাহিনী অনুযায়ী তিনি ছিলেন উজানীনগরের সায়বেনের কন্যা এবং চম্পকনগরের চাঁদ সওদাগরের কনিষ্ঠ পুত্র  মনসামঙ্গল কাব্যের নায়ক লখিন্দরের (লক্ষীন্দর/ লক্ষ্মীন্দর) স্ত্রী।
- শবানুগামিনী এই যুবতী পত্নীর প্রবাস-জীবন ছিল পবিত্র।
- সতীত্ব রক্ষায় তিনি অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
- সতীত্ববলেই স্বামীর পুনর্জীবন লাভের আশায় বেহুলা অনেক দুর্জনের পাপ-অভিলাষ ব্যর্থ করে নিজের গন্তব্যে পৌঁছতে সমর্থ হন।
- বাল্য-বৈধব্যের প্রতি উদাসীন থেকে পরিস্ফুট যৌবনে মৃত স্বামীর সঙ্গিনী হয়ে সুদূর প্রবাস থেকে স্বামীর পুনর্জীবন নিয়ে ফিরে আসায় বেহুলা চরিত্রটি বিশেষভাবে গৌরবান্বিত।
- বেহুলার দুঃখ-সহনশীলতার চেয়ে তাঁর এই নির্ভীক তেজস্বিতাই সবাইকে মুগ্ধ করে। আত্মশক্তিতে বলীয়ান বেহুলার একাগ্র সাধনার নিকট অত্যাচারী দৈব শক্তিও মাথা নত করেছে, এখানেই বেহুলা চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব।
- নারীত্বের মহিমায় বেহুলা সীতা-সাবিত্রী-দময়ন্তীর মতোই বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল চরিত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গতিবাদ তত্ত্ব’ প্রকাশিত হয়েছে কোন কাব্যে?
  1. ক) বলাকা
  2. খ) চৈতালি
  3. গ) নৈবেদ্য
  4. ঘ) কণিকা
ব্যাখ্যা
বলাকা ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য। কাব্যটি রবীন্দ্র কবি মানসের বিবর্তন ধারাপথে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ কাব্যের ভাষা তীক্ষ্ণ, দীপ্ত, শাণিত ও উজ্জ্বল। এ কাব্যের ছন্দের গতিময়তা ও ভাষার সংহতি এবং নবতর বক্তব্যকে রূপ দেওয়ার কারণে এর আঙ্গিক একটি বিশিষ্টরূপ লাভ করেছে। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১২,১৮৪.
‘নিশুতি রাতের গাথা’ গ্রন্থটির কোন ঔপন্যাসিকের লেখা?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস - নিশুতি রাতের গাথা।

• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী, 
- অন্যান্য কবিতা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৮৫.
'আমি বিজয় দেখেছি' বইটির রচয়িতা -
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ‘আমি বিজয় দেখেছি’ এর রচয়িতা হলেন — এম আর আখতার মুকুল।

• এম. আর আখতার মুকুল(১৯২৯-২০০৪):
- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।
- পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
- ২০০৪ সালের ২৬ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

- বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন,
- চল্লিশ থেকে একাত্তর,
- আমি বিজয় দেখেছি,
- বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন,
- বায়ান্নোর জবানবন্দী,
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ, ১৯৮৭),
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- বিজয় ’৭১,
- আমিই খালেদ মোশাররফ,
- একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবিদের ভূমিকা,
- বঙ্গবন্ধু,
- জিন্নাহ থেকে মুজিব,  
- ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,১৮৬.
মালাধর বসু রচিত কাব্যের নাম কী?
  1. রাগতালনামা
  2. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  3. শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  4. গীতগোবিন্দম্
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'রাগতালনামা' লিখেছেন মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি আলাওল।
- "সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী" কাব্যটি লিখেছেন দৌলত কাজী।
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৮৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম নাটক কোনটি?
  1. মানচিত্র
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা
• 'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১২,১৮৮.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।'- উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফটিক 
  2. মৃন্ময়ী
  3. সমাপ্তি 
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,১৮৯.
সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে পরিচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লিপিমালা
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) রাজাবলি
  4. ঘ) কথোপকথন
ব্যাখ্যা
• কথোপকথন: 
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগ করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক- এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

• প্রায় দেড়শ ইতিহাসশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে উইলিয়াম কেরি রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘ইতিহাসমালা। এ দেশের  সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথ গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য। সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গ প্রধান।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন। 'কথোপকথন' গদ্যপুস্তুকগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- রামরাম বসু রচিত: লিপিমালা।
- গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: রাজাবলি, বত্রিশ সিংহাসন।
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত: তোতা ইতিহাস।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২,১৯০.
' বনপাংশুল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশিদ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. সেলিম আল দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
'যৈবতী কন্যার মন' নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।

সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য নাটক 
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন 
- বাসন 
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী
- শকুন্তলা
- কীত্তনখোলা 
- কেরামতমঙ্গল 
- যৈবতী কন্যার মন
- চাকা
- হরগজ
- হাতহদাই 
- নিমজ্জন 
- ধাবমান
- বনপাংশুল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১২,১৯১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) তারাবাঈ
  3. গ) ওরা কদম আলী
  4. ঘ) কী চাহ হে শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা
মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫ - ২০১৯:
তার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটকঃ
- বর্ণচোর
- বকুলপুরের স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

'কি চাহ শঙ্খচিল’ নাটকে তিনি মুক্তিযুদ্ধপরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে মানুষের পাওয়া না পাওয়ার বেদনা , হারানোর বেদনা মূর্তি নির্মাণ করেছেন।
- আজকাল যে বীরাঙ্গনাদের ( বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীদের জন্য একটি খেতাব) নিয়ে কথা হয় তাঁরই একটি চিত্র চিত্রিত হয়েছে এই নাটকে।
- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাস্তবে বীরাঙ্গনার অবস্থার নাটকীয় উপস্থাপনা দেখা যায় - নাটকটিতে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট।
১২,১৯২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'বন্দি শিবির থেকে' কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. আগরতলা
  2. কলকাতা
  3. ঢাকা
  4. মুর্শিদাবাদ 
ব্যাখ্যা

• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ: 
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

শামসুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- অন্ধকার থেকে আলোয়, 
- হরিণের হাড়, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,১৯৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ এর রচয়িতা কে?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।
- যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়।
- আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

মমতাজউদদীন আহমদ:
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কি চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; কি চাহ শঙ্খচিল, মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৯৪.
‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত টি প্রবন্ধ।
- এই প্রবন্ধের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২,১৯৫.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন -
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,১৯৬.
'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বিনুর বই।
• তিনি এই গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন- 'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।'
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বিনুর বই।

১২,১৯৭.
"কালি ও কলম" কোন ধরনের প্রকাশনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কবিতা
  4. পত্রিকা
ব্যাখ্যা

• "কালি ও কলম" - এক ধরনের পত্রিকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
----------
• "কালি ও কলম" পত্রিকা:
- সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন - সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদক - সুব্রত বড়ুয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১২,১৯৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪০
  3. ১৯৪১
  4. ১৯৪২
ব্যাখ্যা
ইসলাম, কাজী নজরুল (১৮৯৯-১৯৭৬)  
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে, বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী (প্রথম গদ্য রচনা), মুক্তি (প্রথম প্রকাশিত কবিতা)। - ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয়। এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ৮ নভেম্বর পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর বছরখানেকের মধ্যেই ১৯৪২ সালের ১০ ই অক্টোবর নজরুল নিজেও অসুস্থ এবং ক্রমশ নির্বাক ও সম্বিতহারা হয়ে যান। দেশে ও বিদেশে কবির চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় বটে, কিন্তু কোনো সুফল পাওয়া যায় নি।
- ১৯৪২ সালের জুলাই থেকে ১৯৭৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৪টি বছর কবির এ অসহনীয় নির্বাক জীবনকাল অতিবাহিত হয়।
-  ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফনীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি (নাটক) 
- আলেয়া (গীতিনাট্য) 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) 
- মধুমালা (গীতিনাট্য) 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
১২,১৯৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' কোন নাটকের গদ্য অনুবাদ ? 
  1. এ মিড সামার নাইটস্ ড্রিম
  2. কমেডি অব এররস
  3. ম্যাকবেথ
  4. মার্চেন্ট অব ভেনিস
ব্যাখ্যা

শেকসপিয়ার রচিত কমেডি অব এররস এর অনুবাদ ভ্রান্তিবিলাস।
----------------------------------------
• ভ্রান্তিবিলাস:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভ্রান্তিবিলাস গ্রন্থটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভ্রান্তিবিলাস উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক The Comedy of Errors অবলম্বনে রচিত একটি গদ্য অনুবাদ। 
- বিদ্যাসাগর তাঁর নিজস্ব লিখার আদলে এই নাটকটি অনুবাদ করেন।
- নাটকটি মূলত ভুল বোঝাবুঝি, দ্বৈত চরিত্র এবং হাস্যরসাত্মক ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- গল্পে দুই যমজ ভাই এবং তাদের ভৃত্যদের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দেখানো হয়েছে।
- সবশেষে এই ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে মিলনান্তক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে নাটকটির সমাপ্তি ঘটে।
--------------------------------------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক।
- তিনি বাংলা গদ্যের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম ছিল কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উপাধি ছিল  আধুনিক বাংলা গদ্যর জনক।
- মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি সংস্কৃত  কলেজ থেকে ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ:
- বেতাল পঞ্চবিংশতি: সংস্কৃত থেকে অনুবাদ।
- শকুন্তলা: কালিদাসের সংস্কৃত নাটকের অনুবাদ।
- সীতার বনবাস: বাল্মীকির রামায়ণ থেকে নেওয়া অংশ।
- ভ্রান্তিবিলাস: উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Comedy of Errors' নাটকের অনুবাদ।
- কথামালা: ঈশপের গল্পের অনুবাদ।
- অখ্যানমঞ্জরী: সংস্কৃত নীতিগল্পের অনুবাদ।
- বোধোদয়: শিশুদের উপযোগী পাঠ্যপুস্তকের অনুবাদ, ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১২,২০০.
'সুখ' নামে বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেছেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।