বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১২০ / ১৭৪ · ১১,৯০১১২,০০০ / ১৭,৪৩৭

১১,৯০১.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) ধূসর পাণ্ডলিপি
  3. গ) সতীর্থ
  4. ঘ) বেলা অবেলা ও কালবেলা
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস হচ্ছে 'সতীর্থ'
- তাঁর অন্য একটি উপন্যাসের নাম- মাল্যবান।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়।
- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১১,৯০২.
'আমার সোনার বাংলা' রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রথম কত পঙ্‌ক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৮
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১২
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রথম ১০ চরণ। তবে এর ৪ চরণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যন্ত্রসঙ্গীত হিসাবে পরিবেশন করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহারে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গানটি গৃহীত হয়।
সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত সম্পর্কে বলা হয়েছে।

১১,৯০৩.
’দৃষ্টিপ্রদীপ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী;
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ;
- অনুবর্তন;
- আদর্শ হিন্দু হোটেল;
- দেবযান;
- অশনি সংকেত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯০৪.
কারাগারের রোজনামচা
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. দিনলিপি
ব্যাখ্যা
• কারাগারের রোজনামচা - দিনলিপি

কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো 'কারাগারের রোজনামচা'।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়েরি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা

উৎস: কারাগারের রোজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান।
১১,৯০৫.
'অশ্রুমালা' কবি কায়কোবাদ রচিত কোন ধরনের কাব্য রচনা?
  1. মহাকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. নাট্যকাব্য
  4. চতুর্দশপদী কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

---------------
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯০৬.
'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (৩০ অক্টোবর ১৯০১ - ২৫ জুন ১৯৬০) বাংলা ভাষার একজন প্রধান আধুনিক কবি। বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম। তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়। সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ছয়টি- তন্বী (১৯৩০), অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫৩), দশমী (১৯৫৬)। এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ আছে- স্বগত (১৯৩৮), কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)। তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি( ১৯৫৪)।
১১,৯০৭.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) বনী আদম
  2. খ) জননী
  3. গ) চৌরসন্ধি
  4. ঘ) ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' ও 'আমলার মামলা' তাঁর রচিত নাটক।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী (প্রথম প্রকাশিত) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৯০৮.
‘জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।’- পঙ্‌ক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্গত?
  1. সমাপ্তি
  2. হৈমন্তী
  3. অপরিচিতা
  4. সুভা
ব্যাখ্যা
⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূন্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯০৯.
“পড়েছে তোমার ‘পরে প্রদীপ্ত বাসনা –
অর্ধেক মানবী তুমি, অর্ধেক কল্পনা।।”
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) মানসী
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা
  3. গ) নারী
  4. ঘ) গুপ্ত প্রেম
ব্যাখ্যা

মানসী
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী!
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি
আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ
সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।
সঁপিয়া তোমার ‘পরে নূতন মহিমা
অমর করেছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।
কত বর্ণ, কত গন্ধ, ভূষণ কত-না –
সিন্ধু হতে মুক্তা আসে, খনি হতে সোনা,
বসন্তের বন হতে আসে পুষ্পভার,
চরণ রাঙাতে কীট দেয় প্রাণ তার।
লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে, দিয়ে আবরণ,
তোমারে দুর্লভ করি করেছে গোপন।
পড়েছে তোমার ‘পরে প্রদীপ্ত বাসনা –
অর্ধেক মানবী তুমি, অর্ধেক কল্পনা।।

১১,৯১০.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন?
  1. কল্লোল
  2. স্বরাজ
  3. প্রগতি
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:  
-  তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
-  তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।    

- অন্যদিকে,
- কবি বুদ্ধদেব বসু ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। 
-  কল্লোল পত্রিকার সম্পাদক দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১১,৯১১.
'সঞ্চিতা' সংকলন গ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলামের কয়টি কবিতা ও গান রয়েছে?
  1. ৫৭টি
  2. ৭৮টি
  3. ১৮টি
  4. ৯৩টি
ব্যাখ্যা

• 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
• এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
• এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
• নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।
• কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যসৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৯১২.
দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা সাহিত্যের দুঃখবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. যতীন্দ্রমোহন বাগচী 
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. রামনিধি গুপ্ত 
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।

- যতীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন যুক্তিবাদী ও মননশীল লেখক; সমাজ ও সমকাল তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তু। ভাষার মধ্যে তর্ক, কটাক্ষ ও প্রচ্ছন্ন পরিহাস তাঁর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর। প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন। 

- যতীন্দ্রনাথের ভাষা আবেগমুক্ত ও যুক্তিসিদ্ধ; তিনি সরাসরি বিষয়ের প্রকাশ ঘটান। তবে অন্ত্যপর্বের কাব্যগুলিতে তাঁর রোম্যান্টিক বিহবলতা ও চাঞ্চল্য প্রকাশ পেয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন ও রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর জীবনদৃষ্টিতে মানবতাবাদ ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর মমতা লক্ষণীয়। 

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা এবং
- কবিতা-সংকলন অনুপূর্বা।

[প্রথম তিনখানি কাব্যের নামকরণে অগ্নি, রুদ্র ও মরুর দহন এবং শেষের তিনটির নামকরণে রাত্রির অন্ধকারের প্রতীক-দ্যোতনা প্রকাশ পেয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৯১৩.
আবুল ফজল তাঁর রচিত কোন গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. চৌচির
  2. মাটির পৃথিবী
  3. রাঙ্গা প্রভাত
  4. রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল:
- তিনি ১লা জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
- তিনি 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৩ সালের ৪ঠা মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

তাঁর রচিত আত্মকাহিনি ও দিনলিপি:
- রেখাচিত্র

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯১৪.
কার পৃষ্টপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনূদিত করেন?
  1. ক) পরাগল খান
  2. খ) ছুটি খান
  3. গ) রুকনুদ্দীন বারবক শাহ
  4. ঘ) জালালুদ্দিন মুহম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা

ষোল শতকের কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
তার পৃষ্ঠপোষকতা করেন সুলতান হোসেন শাহের সেনাপতি চট্টগ্রামের পরাগল খান
পৃষ্ঠপোষকতার নামানুসারে কবীন্দ্র পরমেশ্বরের মহাভারতের নাম 'পরাগলী মহাভারত'

পরাগল খান এর ছেলে ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীকর নন্দী মহাভারতের অশ্বমেধপর্ব অনুবাদ করেন।
যার নাম 'ছুটিখানী মহাভারত।

কবি কীর্তিবাস তাঁর আত্মপরিচিতিতে যে-রাজার ইঙ্গিত করেছেন, তাঁর নাম রুকনুদ্দিন বারবক শাহ। - লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ, পৃষ্ঠা - ৪৪।

অন্যদিকে, ড.মুহম্মদ শহীদুল্লা জালালুদ্দিন মুহম্মদ শাহ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ূন আজাদ।

১১,৯১৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. রাজনৈতিক আন্দোলন
  2. প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক
  3. সামাজিক কুসংস্কার ও নারীস্বাধীনতা
  4. ধর্মীয় রীতিনীতি ও প্রতারণা
ব্যাখ্যা
'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত।
- উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।
- তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও শরৎ রচনাবলী।
১১,৯১৬.
'বাংলা গদ্যরীতি' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা গদ্যরীতি' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা - মুনীর চৌধুরী।

মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯১৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে ডি.লিট উপাধি প্রদান করে? 
  1. ১৯২৩ সালে 
  2. ১৯৩৪ সালে 
  3. ১৯৩৬ সালে 
  4. ১৯৪১ সালে 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
- কর্মজীবনে বিভিন্ন চাকরি, সন্ন্যাসজীবন ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাহিত্যই ছিল তাঁর প্রধান পরিচয়।

- ‘বড়দিদি’ উপন্যাসের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয়।
- তাঁর লেখায় গ্রামীণ সমাজ, সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং বিশেষভাবে নারীর প্রতি অবহেলা ও যন্ত্রণার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- সহজ ভাষা ও শক্তিশালী কাহিনির জন্য তাঁর সাহিত্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’—এর জন্য তিনি কুন্তলিন পুরস্কার লাভ করেন।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—
- মহেশ,
- অভাগীর স্বর্গ,
- বিলাসী। 

- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’।
- অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস—
- শ্রীকান্ত,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়। 

- তাঁর বহু উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শুধু সাহিত্যেই নয়, চিত্রকলাতেও পারদর্শী ছিলেন।
- বার্মায় অবস্থানকালে তাঁর আঁকা ‘মহাশ্বেতা’ নামের অয়েল পেইন্টিংটি একটি উল্লেখযোগ্য ও বিখ্যাত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত।

- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব ও মর্যাদা আজও অম্লান।

১১,৯১৮.
'দুঃখবাদের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গ) যতীন্দ্রনাথ বাগচী
  4. ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ বাগচী দুঃখবাদের কবি হিসেবে পরিচিত। মোজাম্মেল হক শান্তিপুরের কবি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী স্বপ্নাতুর কবি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় পদাতিকের কবি হিসেবে পরিচিত। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১১,৯১৯.
দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত 'পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা'র কোন খণ্ড 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' নামে প্রকাশিত?
  1. ক) প্রথম খণ্ড
  2. খ) দ্বিতীয় খণ্ড
  3. গ) তৃতীয় খণ্ড
  4. ঘ) চতুর্থ খণ্ড
ব্যাখ্যা
‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা’র চারটি খণ্ডে মোট ৫৫টি পালা আছে। 

‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা’র প্রথম খণ্ডটি ‘মৈমনসিংহ গীতিকা' নামে ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
এতে ১০টি পালা আছে :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ানা ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা। 

সূত্র: পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা, (১ম ও ২য় খন্ড এর মুখবন্ধ থেকে নেয়া)
১১,৯২০.
''এ জগতে হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি'' কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. ক) ক্ষণিকা
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) দুই বিঘা জমি
  4. ঘ) কথা ও কাহিনী
ব্যাখ্যা
দুই বিঘা জমি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত একটি কবিতা।
'কথা' (১৮৯৯) ও 'কাহিনী' (১৮৯৯) - দুটি আলাদা কাব্যগ্রন্থ ছিলো যা পরবর্তীতে 'কথা ও কাহিনী' নামে ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটি বাঙ্গালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হয়।
'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত কবিতাগুলো হচ্ছে -
- কত কী যে আসে কত কী যে যায়
- গানভঙ্গ
- পুরাতন ভৃত্য
- দুই বিঘা জমি
- দেবতার গ্রাস
- নিস্ফল উপহার
- দীন দান
- বিসর্জন
- জুতা আবিষ্কার

চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। 
কবিতাগুলো হচ্ছে -
- চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ,
- পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়,
- দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার,  বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা,
- রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।


সুতরাং, দেখা যাচ্ছে, পুরাতন ভৃত্য এবং দুই বিঘা জমি দুটি কবিতাই চিত্রা এবং কথা ও কাহিনী - দুটি কাব্যগ্রন্থেরই অন্তর্ভূক্ত কবিতা।

যেহেতু অপশনে চিত্রা নেই, তাই সঠিক উত্তর হবে - ঘ) কথা ও কাহিনী


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ।
১১,৯২১.
কোন গল্পকারের গল্পে ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  2. রিজিয়া রহমান
  3. শহীদুল জহির
  4. দিলারা হাশেম
ব্যাখ্যা
• জাদুবাস্তবতার রচনাভঙ্গি / ম্যাজিক রিয়েলিজমের প্রতিফলন ঘটেছে শহীদুল জহিরের রচনায়।

-  তাঁর প্রতিটি রচনায় জীবনবোধ খুব ঘনিষ্ঠভাবে ফুটে উঠেছে। বাস্তব-পরাবাস্তবের মাঝখানে অনিশ্চিত একটা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে তিনি পছন্দ করতেন।
- চরিত্রদের একই সঙ্গে অন্তরঙ্গ ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারেন, বিমূর্ত একটা ভাষায়, কিন্তু ঘনিষ্ঠ একটা বয়ানে তিনি বাস্তবের পর্দাপরা মানুষ ও প্রকৃতির জীবনের ভেতরের খবরটি বর্ণনা করতে পারেন। তাঁর ভাষায় বিমূর্ততা একটা স্তরে ছিল গভীর দ্যোতনা ও নিহিতার্থের একটা অবয়ব রচনার প্রয়াস।

-----------------
শহীদুল জহির:
- শহীদুল জহিরের জন্ম ঢাকায় নারিন্দার ভূতের গলিতে। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- বাংলা সাহিত্যে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত কথাশিল্পী শহীদুল জহির। পরিচিত এ অর্থে যে তিনি সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে লাতিন আমেরিকার জাদুবাস্তবরীতির একনিষ্ঠ সাধনা করে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

- তার রচনায় প্রথম এ রীতির প্রয়োগ ঘটেছে, না কি তার পূর্বেও কেউ কেউ এ রীতিতে লেখার চেষ্টা করেছেন, লিখেছেন, তা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও একবাক্যে শহীদুল জহির ও জাদুবাস্তবতা সমার্থক।

- উত্তর-আধুনিক প্রগতিবাদী লেখক হিসেবেও শহীদুল জহিরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শহীদুল জহির তাঁর রচিত সাহিত্যে ভাষা ব্যবহারে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করেছেন, হয়তো সফলও হয়েছেন। সাধারণভাবে বলা যায়, তিনি নিম্নবর্গের মানুষের মুখের অকৃত্রিম ভাষাকে পুঁজি হিসেবে নিয়েছিলেন।

- বাংলা সাহিত্য জগতের ব্যতিক্রমী স্রষ্টা শহীদুল জহির অকালপ্রয়াত। বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশকে সৃজনশীল সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর আগমন ঘটেছিল।
- শহীদুল জহির জীবদ্দশায় আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, 'আজকের কাগজ সাহিত্য পুরস্কার' এবং 'প্রথম আলো বর্ষসেরা সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) অর্জন করেছেন।

◉ তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার,
- ডুমুরখেকো,
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প। 

উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা,
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল,
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি।

উৎস: শহীদুল জহির ‘গল্পসমগ্র’; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কালি কলম।
১১,৯২২.
'হায়ওয়ান আলী' - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক-মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত:
- বিষাদ-সিন্ধু।
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৯২৩.
রবীন্দ্রনাথের কোন নাটকে 'ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে'?
  1. রক্তকরবী
  2. রাজা
  3. চণ্ডালিকা
  4. বসন্ত
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন
- রাজা
- অচলায়তন
- চিরকুমার সভা
- তাসের দেশ
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত
- ডাকঘর
- বসন্ত
- চণ্ডালিকা
- নটীর পূজা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯২৪.
নিচের কোনটি কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) আলো ও ছায়া
  2. খ) অশোক সংগীত
  3. গ) কুসুমকানন
  4. ঘ) মাল্য ও নির্মাল্য
ব্যাখ্যা
কুসুমকানন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কায়কোবাদ। বাকিগুলোর রচয়িতা কামিনী রায়। কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো- আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সংগীত, অম্বা, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯২৫.
'জিজ্ঞাসা' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. অতুলচন্দ্র গুপ্ত
  3. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  4. মনোজ গুপ্ত
ব্যাখ্যা
রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী: 
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ রচনার পথিকৃৎ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৮৬৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জেমোকান্দিতে তাঁর জন্ম। 
- সাধনা, নবজীবন ও  ভারতী পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্য দিয়ে রামেন্দ্রসুন্দরের সাহিত্যিক জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯১৯ সালের ৬ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের  মধ্যে রয়েছে:
- প্রকৃতি,
- জিজ্ঞাসা,
- কর্মকথা,
- চরিতকথা,
- শব্দকথা,
- বিচিত্র জগৎ, 
- নানাকথা প্রভৃতি।

• 'শব্দকথা'য় বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও পরিভাষা সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে।

• আর 'নানাকথা'য় স্থান পেয়েছে যুগ ও জীবন, ব্যক্তি ও সমাজ, শিক্ষানীতি ও সমাজধর্মের কতিপয় প্রচলিত সমস্যা সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব মতামত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৯২৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
 - আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।
- এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে।
- বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ, 
- প্রেমপ্রবাহিণী, 
- নিসর্গসন্দর্শন, 
- বঙ্গসুন্দরী, 
- সারদামঙ্গল, 
- নিসর্গসঙ্গীত, 
- মায়াদেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯২৭.
জীবনানন্দ দাশ কোন বইটি বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. খ) রূপসী বাংলা
  3. গ) মহাপৃথিবী
  4. ঘ) সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ ধূসর পান্ডুলিপির কাব্যগ্রন্থটি কবি বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন। রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থটি তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ।
সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন হুমায়ুন কবির কে। ঝরা পালক তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৯২৮.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. আহমদ ছফা
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'বেনের মেয়ে' উপন্যাস:
- 'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:

- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯২৯.
'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আল মাহমুদ
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ 'সোনালি কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ 'সোনালী কাবিন'
- সোনালী কাবিন কাব্য গ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালি কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত আছে।  এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
-------------------------- 
⇒ আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস, 
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো ,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- দিনযাপন,
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন,
- একটি পাখি লেজ ঝোলা,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৩০.
রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. খাঁচায়
  2. দ্রৌপদী
  3. আমার যত গ্লানি
  4. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
- রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
- ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুট লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে, 
• 'খাচায়' রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• 'আমার যত গ্লানি' রশীদ করীম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• 'বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৩১.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ- 
  1. রাজাবলী
  2. হিতোপদেশ
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা

• বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৩২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. অলাতচক্র 
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

• 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস:
-'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
'নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
-'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: 'নিষিদ্ধ লোবান' বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৩৩.
’নীল দর্পণ’ নাটকের উপজীব্য কী?
  1. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. নীল চাষিদের দুরবস্থা
  3. দেশভাগ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
নীল দর্পণ:
- নীলকর সাহেবদের বীভৎস অত্যাচারে লাঞ্ছিত নীল চাষিদের দুরবস্থা অবলম্বনে রচিত নাটক।
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
------------------------------------
দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১১,৯৩৪.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা- 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়' 

• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৩৫.
আল মাহমুদের কাব্য কোনটি?
  1. ক) বন্দী শিবির থেকে
  2. খ) তবক দেওয়া পান
  3. গ) সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
  4. ঘ) কালের কলস
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।
সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।

১১,৯৩৬.
আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অরণ্য নীলিমা
  2. রাত্রিশেষে
  3. ছায়া হরিণ
  4. আশায় বাসতি
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-  ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
-  তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ”রাত্রিশেষে” (১৯৪৭)।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো:
- অরণ্য নীলিমা ;
- রাণী খালের সাঁকো। 

• আহসান হাবীব রচিত  কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- আশায় বাসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯৩৭.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• ‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।
----------------------------------------
আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
-----------------সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া। 
১১,৯৩৮.
'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোসলেম ভারত
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. বিজলী
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
• অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ও 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- 'বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক 'বিজলী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে- বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'। এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

---------------
'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৩৯.
ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলনের সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আবদুল লতিফ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৪০.
আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. পূর্বাশা
  2. কল্লোল
  3. প্রগতি
  4. হিতকরী 
ব্যাখ্যা

'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাস।
- রবীন্দ্র-রোমান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- সাত বছর এই পত্রিকা টিকে ছিলো।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রমুখ ছিলেন এই পত্রিকার সম্পাদক।

অন্য অপশন,
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।
- বাংলাদেশে সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

• 'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মূলত এই পত্রিকাগুলো কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯৪১.
কবি কাজী নজরুল ইসলাম কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. রাখাকুড়া
  2. মাধবপুর
  3. আঁধারিয়া
  4. চুরুলিয়া
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমাল।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৪২.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. গৌতম ঘোষ
  3. ঋত্বিক ঘটক
  4. মৃণাল সেন
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণের বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'।
- এ উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর (জেলে) সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে, মোহাম্মদী পত্রিকায়। গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৪৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম কোন উপন্যাসটি লিখেছেন?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. দেবদাস
  4. পরিণীতা
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম ছোটগল্প 'মন্দির'। এর জন্য তিনি কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।
- প্রথম উপন্যাস বড়দিদি ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- বড়দিদি (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস।

- তিনি 'নারীর মূল্য' প্রবন্ধটি অনিলা দেবী ছদ্মনামে লিখেন।
- ৪ খন্ডের 'শ্রীকান্ত' তাঁর আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- পথের দাবী একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।

♦ উপন্যাস
- বড়দিদি
- বিরাজবৌ
- পরিণীতা
- পল্লী-সমাজ
- বৈকুন্ঠের উইল
- শ্রীকান্ত
- দেবদাস
- চরিত্রহীন
- দত্তা
- গৃহদাহ
- বামুনের মেয়ে
- দেনা পাওনা
- পথের দাবী
- শেষ প্রশ্ন
- শুভদা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
২.বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৪৪.
‘ওরা কয়েকজন’ আবুল হাসান রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া
- আবুল হাসান তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করাে (১৯৪৭),
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।
- তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮);
- গল্প সংকলন: আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
১১,৯৪৫.
‘এর উপায় কি’ প্রহসনে কোন গ্রন্থের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে,
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন - বিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী।
- মধুসূদন দত্তের প্রহসন - বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৯৪৬.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থটি কার রচিত?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

• কবিতার কথা:
- ‘কবিতার কথা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থটি বই আকারে বাজারে আসে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর- ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে;
- কিন্তু প্রবন্ধগুলো কবির জীবদ্দশায়ই বিভিন্ন কাগজে মুদ্রণ হয়েছিল।
- ‘কবিতার কথা’ পনেরোটি প্রবন্ধের সংকলন।
- কবিতার কথা’ শিরোনামীয় প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয় ১৩৩৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়।
- এই প্রবন্ধের প্রথম বাক্যাংশই ‘সকলেই কবি নয়। কেউ কেউ কবি’।
- অর্থাৎ জীবনানন্দ দাশের মতে, কবিতা লিখলেই কাউকে কবি হিসেবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

» জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
উল্লেখ্য,
‘কবিতার কথা’ সৈয়দ আলী আহসানের প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৪৭.
'রঙিলা নায়ের মাঝি' এর রচয়িতা -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' এর রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন
- এটি একটি গানের সংকলন।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলনের নাম:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৪৮.
'ছায়া হরিণ' কাব্যগ্রন্থটির কার লেখা?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
Source: Live MCQ Lecture
১১,৯৪৯.
'ঘরগেরস্থির রাজনীতি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
ঘরগেরস্থির রাজনীতি:
- সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'ঘরগেরস্থির রাজনীতি'। গ্রন্থটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে মোট সতেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- প্রতিটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের সমাজ প্রেক্ষিতে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- নারীবাদী প্রেক্ষিত থেকে সমাজ-ভাবনার চিত্রটি উঠে এসেছে প্রবন্ধগুলোতে।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঘরগেরস্থির রাজনীতি, সেলিনা হোসেন।
১১,৯৫০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ডি-লিট উপাধি দেয়?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯৩৬ সালে 'ডি-লিট' ডিগ্রি দেয়া হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর 'ডি-লিট' ডিগ্রি দেয়া হয়।
- ১৯৪০ সালের ৭-ই আগস্ট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে 'ডি-লিট' ডিগ্রি প্রদান করেন।
- ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- ১৯১৫ সালের ৩রা জুন ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইটহুড বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৫১.
'অবসরের গান' কবিতাটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. শামসুর রাহমান
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'অবসরের গান' কবিতাটির রচয়িতা - 'জীবনানন্দ দাশ'।  
- কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 

অবসরের গান- কবিতা,
-----------------জীবনানন্দ দাশ।

শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার — চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয় —
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট করে দেবে তার সাধের সময়!
চারি দিকে এখন সকাল —
রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!
মাঠের ঘাসের পরে শৈশবের ঘ্রাণ —
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের পড়েছে আহ্বান!

চারিদিকে নুয়ে প’ড়ে ফলেছে ফসল,
তাদের স্তনের থেকে ফোঁটা-ফোঁটা পড়িতেছে শিশিরের জল;
প্রচুর শস্যের গন্ধ থেকে-থেকে আসিতেছে ভেসে
পেঁচা আর ইঁদুরের ঘ্রাণে ভরা আমাদের ভাঁড়ারের দেশে!
শরীর এলায়ে আসে এইখানে ফলন্ত ধানের মতো ক’রে,
যেই রোদ একবার এসে শুধু চ’লে যায় তাহার ঠোঁটের চুমো ধ’রে
আহ্লাদের অবসাদে ভ’রে আসে আমার শরীর,
চারিদিকে ছায়া-রোদ-খুদ-কুঁড়ো-কার্তিকের ভিড়;
চোখের সকল ক্ষুধা মিটে যায় এইখানে, এখানে, হতেছে স্নিগ্ধ কান,
পাড়াগাঁর গায় আজ লেগে আছে রুপশালি-ধানভানা রুপসীর
শরীরের ঘ্রাণ।"

উৎস: অবসরের গান- কবিতা, জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৫২.
'মাগো ওরা বলে' কবিতাটি কার রচনা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা, 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা, তুই কবে আসবি?

-----------------------------
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:

- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৫৩.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সুধাকর
  2. আঙুর
  3. সবুজপত্র
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন একাধারে বহুভাষাবিদ, পণ্ডিত, সাহিত্যিক, ধর্মবেত্তা ও শিক্ষাবিদ।
 - ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬ সালে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কর্তৃক আয়োজিত প্রতিষ্ঠা সভার সভাপতি ছিলেন ।

- তিনি ‘আঙুর’ ‘দি পিস' ,বঙ্গভূমিক’ “তকবীর’পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ'
- মহানবী’ (১৯৪০),
- ‘অমিয়শতক' (১৯৪০),
- ‘বাণী শিকওয়াহ’,
- ‘জওয়াব-ই-শিকওয়াহ'
- ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম'

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী;
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।

অন্যদিকে,
- ’সুধাকর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আব্দুর রহিম।
- ’সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- ’পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৫৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ 'শকুন্তলা' কোন কবির রচনা অবলম্বনে অনুবাদ করা হয়েছিল?
  1. বাল্মীকি
  2. কালিদাস
  3. মার্শম্যান
  4. মৈনাসত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  (১৮২০-১৮৯১):
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
- ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী মূলক, বর্ণনাধর্মী অসমাপ্ত রচনা 'আত্মচরিত'

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে), 
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ), 
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৫৫.
শওকত ওসমান রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. বনি আদম
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. আমলার মামলা
ব্যাখ্যা

'আমলার মামলা' শওকত ওসমান রচিত নাটক।

শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- রাজা উপাখ্যান
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- রাজসাক্ষী
- জলাঙ্গী
- পুরাতন খঞ্জর
- বনি আদম
- জননী
- চৌরসন্ধি

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯৫৬.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থে কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. জেলে জীবন
  2. গ্রামীণ জীবন
  3. নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র
  4. পথিকদের জীবন
ব্যাখ্যা
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০) গ্রন্থে নীলকর অত্যাচারের কাহিনী রূপায়নের সঙ্গে উপন্যাসের বৈশিষ্ঠ্য বিদ্যমান।
- আত্মজীবনীমূলক এই গ্রন্থে সে আমলের নীলকরদের অত্যাচারের চিত্র এবং পরিনতি প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ গ্রন্থে মীর মশাররফ 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনাম অবলম্বন করেছিলেন।
- সামাজিক শ্রেণি-সংঘাতের বিষয়টি এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


অন্যান্য উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু (ঐতিহাসিক নাটক);
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (আত্মজৈবনিক উপন্যাস)।

নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ

তাছাড়া,
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী' (বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস)৷
- তার রচিত একমাত্র প্রহসন : 'এর উপায় কি?'

তথ্যসূত্র:- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস , মাহবুবুল আলম।
১১,৯৫৭.
রামমোহন রায় কত সালে 'রাজা' উপাধি লাভ করেন?
  1. ক) ১৮২৩ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সমাজসংস্কারক, ধর্ম সংস্কারক, চিন্তাবিদ ও ভাষাবিদ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ সমাজের নেতৃবৃন্দ কর্তৃক তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত হন।
- ১৮৩২ সালে ফরাসি সম্রাট লুই ফিলিপ কর্তৃক সংবর্ধিত হন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৫৮.
'জলে-ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত -
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. ভ্রমণকাহিনি
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'জলে-ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত - ভ্রমণকাহিনি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:

- সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহ্র-ইয়ার;

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৫৯.
'আমারও পরাণ যাহা চায়' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কবি শামসুর রাহমান
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'আমারও পরাণ যাহা চায়' গানটির রচয়িতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১১,৯৬০.
'সুচরিতা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শেষের কবিতা
  2. চোখের বালি
  3. গোরা
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:

- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৬১.
কবি 'আলাউদ্দিন আল আজাদ' জন্মগ্রহণ করেন-
  1. ক) কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ
  2. খ) রায়পুরা, নরসিংদী
  3. গ) নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) তিতাস, কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
‌কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক। ৬ মে ১৯৩২ সালে তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ৩ জুলাই, ২০০৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১১,৯৬২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার স্ত্রীর মৃত্যু উপলক্ষ করে রচনা করেন -
  1. বলাকা কাব্য
  2. স্মরণ কাব্য
  3. আকাশ প্রদীপ কাব্য
  4. পূরবী কাব্য
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক উৎসর্গকৃত গ্রন্থ: 
- আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পূরবী কাব্য' গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। 
- তখন ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ 'বিজয়া' উপাধি দেন এবং তার পূরবী কাব্যটি তাকে উৎসর্গ করেন।
- আকাশ প্রদীপ ও বলাকা কাব্যদ্বয় যথাক্রমে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
- ১৩০৯ সালের ৭ই অগ্রহায়ণ তারিখে রবীন্দ্রনাথের সহধর্মিণী মৃণালিনী দেবী পরলোকগমন করেন।
- তাঁহার স্মৃতির উদ্দেশে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন 'স্মরণ' কাব্য। স্মরণ প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে।

[লাইভ পরীক্ষার প্রশ্ন ভুল ছিল, পরবর্তীতে প্রশ্নটি সংশোধন করা হয়েছে ]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও  'স্মরণ' কাব্য।
১১,৯৬৩.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' - কোন শতকের পত্রিকা?
  1. আঠারো শতকের
  2. উনিশ শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
ব্যাখ্যা

• 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- এটি উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- যদিও প্রকাশের পরের বছর থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালি থেকে প্রকাশ হয়।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।
- আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনা করার পর সাংবাদিকতা ত্যাগ করে হরিনাথ ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৬৪.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে?
  1. প্রলয়
  2. বিজলি
  3. শিখা
  4. ধুমকেতু
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) বর্ধমান জেলার আসানসােল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি। দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্কুল ছেড়ে বাঙালি পল্টনে যােগদান করেন।
যুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়। নজরুল কলকাতায় ফিরে এসে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়ােগ করেন। এ সময় সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় তার 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রকাশিত হলে চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে
তাঁর কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। অবিচার ও শশাষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেন। এজন্য তাঁকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। তাঁর রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উৎসঃ সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি

১১,৯৬৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস?
  1. দুইবোন
  2. চার অধ্যায়
  3. মালঞ্চ
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• চতুরঙ্গ:
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- চতুরঙ্গ ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস।
- এটি একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- এটিকে রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে বিবেচিত হয়।
- চতুরঙ্গ উপন্যাসের চারটি অঙ্গ, যথা: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৯৬৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ”গল্পগুচ্ছ” এর অন্তর্ভুক্ত গল্প কোনটি?
  1. রবিবার
  2. শেষকথা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

তিনসঙ্গী:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।
- গল্প তিনটি: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।

অন্যদিকে,
• 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি, 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।'
- ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ”গল্পগুচ্ছ” সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১,৯৬৭.
'নতুন কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আবদুর রশীদ খান
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯৬৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস কোনটি?
  1. কাঁদো নদী কাঁদো
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. সুড়ঙ্গ
  4. লালসালু
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 

লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ,
- জমিল,
- আমেন,
- খালেক ব্যাপার,
- রহিম,
- আক্কা,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:  
- তিনি একজন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালে, ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস: 
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৬৯.
'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. শামসুর রাহমান
  3. আহসান হাবীব
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
•'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
• আহসান হাবীবের রচিত উপন্যাস 'অরণ্য নীলিমা'।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য।

• আহসান হাবীব:
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- জাফরানী রং পায়রা ও
- রানী খালের সাঁকো।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৭০.
‘অন্নদাদিদি, ইন্দ্রনাথ ও রাজলক্ষ্মী’- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বৈকুণ্ঠের উইল
  2. গৃহদাহ
  3. শ্রীকান্ত
  4. দত্তা
ব্যাখ্যা
• শ্রীকান্ত: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি।

-------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উইল, 
- পল্লীসমাজ, 
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- দেনা-পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৭১.
'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র প্রাঙ্গণে জহির রায়হান:
• ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনও আসেনি' মুক্তি পায়। তারপর একের পর এক তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকে। এসব চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

• ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর তিনি কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

• জহির রায়হানের উর্দু চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং ১৯৬৮ সালে অপর চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচন্দাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

• জহির রায়হান 'লেট দেয়ার বি লাইট' নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৭২.
বাংলা গদ্যে ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৯৭৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

• গোলকনাথ শর্মা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক না হয়েও মিশনারিদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
- তার রচিত হিতোপদেশ গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৭৪.
'বায়ান্ন গলির এক গলি' কার রচনা-
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ) রাবেয়া খাতুন
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) রিজিয়া খান
ব্যাখ্যা
'বায়ান্ন গলির এক গলি' উপন্যাসের রচয়িতা রাবেয়া খাতুন। তিনি পেশায় শিক্ষক ও সাংবাদিক। তার অন্যান্য উপন্যাস : অনন্ত অন্বেষা, মধুমতি, সাহেব বাজার, ফেরারী সূর্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১১,৯৭৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. দশমী
  2. ক্রন্দসী
  3. সংবর্ত
  4. স্বগত
ব্যাখ্যা
• ‘স্বগত’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৩৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৭৬.
'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থটি কোন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
- 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি সাহিত্যকর্ম। 
- কাজী নজরুল ইসলামের সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
-  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা
- বিষের বাঁশি
- ভাঙার গান 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা
-জিঞ্জির 
- সন্ধ্যা
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা 
- মৃত্যু-ক্ষুধা 
- কুহেলিকা। 
গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলিমালা। 
সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক 
- নজরুল গীতিকা 
- সুর সাকী 
- বনগীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১১,৯৭৭.
‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. শিখা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. বঙ্গদর্শন
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে এবং 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১১,৯৭৮.
কাজী নজরুল ইসলামের 'দুর্দিনের যাত্রী' কোন জাতীয় রচনা?
  1. কবিতা
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'দুর্দিনের যাত্রী' কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উল্লেখ্য,
• 'দুর্দিনের দিনলিপি' আবুল ফজল রচিত দিনলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
১১,৯৭৯.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বলা হয় কাকে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৮০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক?
  1. ক) নন্দিত নরকে
  2. খ) নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ
  3. গ) মায়াবী প্রহর
  4. ঘ) নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
'নরকে লাল গোলাপ‌' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- মরোক্কোর জাদুঘর, ধন্যবাদ, মায়াবী প্রহর, সংবাদ শেষাংশ ইত্যাদি। নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ এবং নন্দিত নরকে হুমায়ুন আহমেদ এর উপন্যাস। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১১,৯৮১.
'মরু-ভাস্কর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আজাদ
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নে 'মরু-ভাস্কর' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মোহাম্মদ (স.) জীবনী কাব্য

• মরু-ভাস্কর:
- এটি হযরত মোহাম্মদ (স.) জীবনী কাব্য।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়।
- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে(১৯৫০) গ্রন্থাকারে ছাপা হয়।
- এ কাব্যের চারটি সর্গ।
- মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস)।
- মৃত্যুক্ষুধা।
- কুহেলিকা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান।
- রিক্তের বেদন।
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৮২.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কত সালে একুশে পদক লাভ করেন?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।  
তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।  

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৮৩.
'টুনটুনির বই' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. গ্রাম্যগীতিকা
  2. ছোটগল্প
  3. রূপকথা
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
রূপকথা শিশুতোষ কল্পকাহিনী এবং লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা।
- বাংলায় সাহিত্যিক রূপকথার স্রষ্টা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর রূপকথার সংগ্রহের নাম 'টুনটুনির বই'
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রূপকথার সংগ্রহের নাম 
- ঠাকুরমার ঝুলি 
- ঠাকুর দাদারঝুলি 


[উৎস : লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া]
১১,৯৮৪.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) তোতা কাহিনী
  2. খ) তোতা ইতিহাস
  3. গ) ইতিহাস মালা
  4. ঘ) পুরুষ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

• অন্যদিকে:
- ‘তোতা কাহিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'লিপিকা' নামের সংকলনের একটা লেখা।
- ইতিহাস মালা গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম কেরি। 
- হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষ পরীক্ষা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১১,৯৮৫.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা -----
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) হরপ্রসাদ রায়
ব্যাখ্যা
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এটি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ।
- লিপিমালা - নামে তাঁর আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৮৬.
‘পরিচয়’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৮৭.
'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. রামরাম বসু
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। 

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি আনুমানিক ১৭৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- বাংলা গদ্যের সূচনা পর্বে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
- তিনি ১৮১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৯৮৮.
‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে কাকে ভূষিত করা হয়েছিল?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে কাজী মোতাহার হোসেনকে ভূষিত করা হয়েছিল।

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭–১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক। 
- তিনি সাহিত্যচর্চা ও জ্ঞানচর্চা—উভয় ক্ষেত্রেই নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
- ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি শিখা’ পত্রিকায় মুখপত্র ‘হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- এছাড়া, তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’–এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, যা তৎকালীন সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার ঘটায়।
- ১৯২৬ সালে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি কিছুদিন ‘শিখা’ পত্রিকাটি সম্পাদনাও করেছিলেন।
- শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ১৯৬০ সালে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।
- ‘সঞ্চয়ন’ কাজী মোতাহার হোসেন রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধসংকলন।
- এই গ্রন্থে তাঁর সাহিত্যবোধ ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নির্বাচিত প্রবন্ধ,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, এবং 
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১,৯৮৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. দেয়াল
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস নয়- 'দেয়াল'।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
-------------------
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে।
সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 
------------------- 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

তাঁর অনুবাদগ্রন্থ: 
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৯০.
মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. রাখালী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
• "বোবা কাহিনী" উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। 

- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।

- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের এক ছিন্নমূল কৃষকসন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

-----------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৯৯১.
‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী?
  1. সরলা
  2. রোহিণী
  3. কুসুম
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৯৯২.
”তাহেরা, মজিদ” চরিত্রদ্বয় কোন নাটকের?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. বহিপীর
  3. উজানের মৃত্যু
  4. তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
-'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
-  এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।


উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর মজিদ,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,৯৯৩.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. আলেয়া
  2. পুতুলের বিয়ে
  3. ঝিলিমিলি
  4. মধুমালা
ব্যাখ্যা

• 'ঝিলিমিলি' নাটক:
- তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ হচ্ছে 'ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধন, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম রচনাগুলো নিম্নরূপ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'। -
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ 'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'। -
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান'।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা'। -
-  কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'যুগবাণী'।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি'।

 কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি, 
- আলেয়া, 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক), 
- মধুমালা (গীতিনাট্য), 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক), 
- পিলে পটকা (কিশোর কাব্য-নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১১,৯৯৪.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক?
  1. ত্রিবেণী
  2. আলেখ্য
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. আর্য্যগাথা
ব্যাখ্যা

‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। 
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৯৯৫.
‘ধান্য তার বসুন্ধরা যার’ - এ বাণীটি নিচের কোন রচনায় উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. বিড়াল
  2. সাম্যবাদী
  3. অপরিচিতা
  4. চাষার দুক্ষু
ব্যাখ্যা
চাষার দুক্ষু:
- 'চাষার দুক্ষু' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় 'চাষার দারিদ্র্য'।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে 'ধান ভানতে শিবের গীত' বাগ্‌ধারার উল্লেখ আছে।
- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ থেকে,
আমাদের বঙ্গভূমি সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা,-তবু চাষার উদরে অন্য নাই কেন? ইহার উত্তর শ্রদ্ধাস্পদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়াছেন, “ধান্য তার বসুন্ধরা যার”। তাইতো অভাগা চাষা কে? সে কেবল “ক্ষেতে ক্ষেতে পুইড়া মরিবে”, হাল বহন করিবে, আর পাট উৎপাদন করিবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
১১,৯৯৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থটিতে 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও' কবিতাটি রয়েছে?
  1. চিত্রা
  2. বলাকা
  3. শেষের কবিতা
  4. কালান্তর
ব্যাখ্যা
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'বলাকা' ১৯১৬ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গতিচেতনা বিষয়ক কাব্য।
• 'চিত্রা' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্য।  
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক প্রবন্ধের গ্রন্থ কালান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৯৯৭.
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।’- সংলাপটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।

- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ-
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '
-------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 
 
• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১১,৯৯৮.
"বউ কথা কও, বউ কথা কও কও কথা অভিমানিনী সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী"- এই কবিতাংশটুকুর কবি কে? 
  1. বেনজীর আহমেদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মহুয়ার গান’ নজরুলগীতির অন্তর্ভুক্ত একটি গান।

----------------------
• মহুয়ার গান:
- ১৫ টি গানে সমৃদ্ধ এই মহুয়ার গান নামীয় নজরুলগীতি গ্রন্থটি ডি এম লাইব্রেরি থেকে ১ জানুয়ারি ১৯৩০ প্রকাশিত হয়।
- মোট পৃষ্ঠা ছিল ১৩টি।
- মূল্য ছিল দুই আনা।

এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গানগুলো হলো:
• কে দিল খোঁপাতে ধুতুরা ফুল লো,
• একডালি ফুলে ওরে সাজাব কেমন করে,
• বউ কথা কও,
• কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে,
• কোথা চাঁদ আমার,
• ফণীর ফণায় জ্বলে মণি,
• মহুল গাছে ফুল ফুটেছে,
• আজি ঘুম নহে, নিশি জাগরণ,
• খোলো খোলো গো দুয়ার,
• ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান,
• (ওগো) নতুন নেশার আমার এ মদ,
• মোরা ছিনু একেলা, হইনু দুজন,
• ও ভাই আমার এ নাও যাত্রী না লয়,
• আমার গহীন জলে নদী,
• তোমায় কুলে তুলে বন্ধু আমি নামলাম জলে।

----------------------------

বউ কথা কও, বউ কথা কও
- কাজী নজরুল ইসলাম
বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানিনী
সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী।।
সে কাঁদন শুনি হের নামিল নভে বাদল
এলো পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলী কামিনী।।
আমার প্রাণের ভাষা শিখে ডাকে পাখি পিউ কাঁহা
খোঁজে তোমায় মেঘে মেঘে আঁখি মোর সৌদামিনী।।

উৎস: ‘মহুয়ার গান’ কাজী নজরুল ইসলাম এবং ‘বউ কথা কও, বউ কথা কও’ গান।

১১,৯৯৯.
কোনটি আবুল ফজল রচিত উপন্যাস?
  1. মৃতের আত্মহত্যা
  2. মাটির পৃথিবী
  3. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

আবুল ফজল রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২,০০০.
সেলিম আল দীন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. চট্টগ্রাম 
  2. নেত্রকোনা 
  3. ফেনী
  4. ঢাকা 
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন:
- বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের অন্যতম। জন্ম: ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট, ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।
প্রকৃত নাম: মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে 'দৈনিক পাকিস্তান' পত্রিকায় প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত।
- প্রথম রেডিও নাটক: 'বিপরীত তমসায়' (১৯৬৯)।
- প্রথম টেলিভিশন নাটক: 'লিব্রিয়াম' (পরবর্তীতে 'ঘুম নেই', ১৯৭০)।
- নাটকে বাংলাদেশের শ্রমজীবী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং গ্রামের মানুষের জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে।
- তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষকার, ইত্যাদি পদক পান।

রচিত নাট্যগ্রন্থসমূহ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- নিমজ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।