ব্যাখ্যা
এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ। তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১২ / ১৭৪ · ১,১০১–১,২০০ / ১৭,৪৩৭
• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট।
• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।
• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা।
• শওকত ওসমান রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটিতে বাঁকাল নদীর কথা উল্লেখ আছে।
---------------------
• ‘কাঁদো নদী কাঁদো’:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হলো মৃতপ্রায় বাঁকাল নদী এবং নদীর তীরবর্তী ছোট শহর কুমুড়ডাঙ্গার জীবন।
- এখানে ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবন ও তার অন্তর্জীবনের জটিলতা চেতনাপ্রবাহ রীতিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসে নদীর পলি জমে নাব্যতা হারানো এবং স্টিমারঘাট সরিয়ে যাওয়ার ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও দুর্ভোগ দেখানো হয়েছে।
- মুস্তফার মনোজগৎ, তার অবচেতন মনের দ্বন্দ্ব ও সংকট তবারক ভুঁইয়া নামক স্টিমারযাত্রীর বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।
- এতে চরিত্রদের অন্তর্মনের ভাবনা এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নের মাধ্যমে গল্পের প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়েছে।
----------------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা (মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস);
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু (সামাজিক উপন্যাস)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।
'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস। এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
‘লালসালু’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।
-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।
উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্দীন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে মোটামুটিভাবে প্রায় ৮টি গল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। এগুলো হল:
১. দুরাশা,
২. রীতিমত নভেল,
৩. দলিয়া,
৪. কাবুলিওয়ালা,
৫. সমস্যাপূরণ,
৬. ক্ষুধিত পাষাণ,
৭. মুকুট,
৮. মুসলমানীর গল্প।
'ক্ষুধিত পাষাণ':
'ক্ষুধিত পাষাণ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি রহস্য, রোমাঞ্চ, প্রেম ও বিষাদের এক মনস্তাত্ত্বিক গল্প, যেখানে একজন সরকারি কর্মচারী এক পরিত্যক্ত প্রাসাদে থাকতে গিয়ে অতীতের প্রেতাত্মা ও এক রহস্যময়ী পারস্য বালিকার দ্বারা আবিষ্ট হন, যা বাস্তব ও কল্পনার সীমানাকে ঝাপসা করে তোলে এবং অবশেষে অতৃপ্ত বাসনার ফাঁদে পড়ে সেই প্রাসাদেই হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
'ক্ষুধিত পাষাণ' গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো গল্পকথক (ট্যাক্স কালেক্টর) যিনি ঐতিহাসিক প্রাসাদে অলৌকিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, রাজকুমারী (মুঘল আমলের নারী) যার স্মৃতি প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায়, এবং মেহের আলি নামের এক পাগলাটে ব্যক্তি, যিনি সেই প্রাসাদের রহস্যময় পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠেন, এছাড়া করিম খান ও অন্যান্য কর্মচারীরাও প্রাসাদের পটভূমি তৈরি করে।
------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।
• প্রেমের গল্প হিসেবে,
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।
• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে,
শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।
• অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্প এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ।
• 'বিশ্বপরিচয়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য।
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
উল্লেখ্য,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
• দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
• "দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - পঙ্ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের "কুলি মজুর" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
কুলি মজুর
- কাজী নজরুল ইসলাম
দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা'ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্?
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
প্রহসনের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।
দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।
অন্যদিকে,
- 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- 'কিঞ্চিৎ জলযোগ' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন।
- 'লীলাবতী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক। নাটকটি ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী, দেশবরেণ্য গবেষক, খ্যাতনামা সাহিত্যিক প্রফেসর মযহারুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহত্তর পাবনা (বর্তমান সিরাজগঞ্জ) জেলার চর নবীপুর গ্রামে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলোঃ
১) মাটির ফসল (১৯৫৫)
২) বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি (১৯৭০)
৩) আর্তনাদে বিবর্ণ (১৯৭০)
৪) দুঃসময়ের ছড়া (১৯৮৮)
৫) উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি (১৯৮৮)
৬) সন্তরণে নিরন্তর (২০০৬)
তিনি ১৫ নভেম্বর, ২০০৩ সালে মারা যান।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।
• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।
গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।
গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।
অন্যদিকে,
• 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা সংকলন হচ্ছে সঞ্চিতা।
সঞ্চিতা:
- ‘সঞ্চিতা’ কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান অন্তর্ভুক্ত আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বোঝার জন্য সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য,
- ‘সঞ্চয়িতা’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।
- 'সুচয়নী' হচ্ছে কবি জসীমউদ্দীনের নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ।
- 'ললিতা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিণীতা উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ফরুক আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলোঃ
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- চাঁদের আসর,
- ছড়ার আসর,
- ফুলের জলসা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
সিকান্দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
• শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
• তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
• তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'সংশপ্তক'।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- রাজবন্দীর রোজনামচা।
• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
• চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে শেষ ছয় চরণে থাকে- ভাবের পরিণতি।
-------------------
• সনেট (Sonnet):
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে।
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্ঠকে ভাবের পরিণতি থাকে।
উল্লেখ্য,
- বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতার জনক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
-'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়। এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।
- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
-'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে,
------------------
• ঘরে-বাইরে, গোরা ও চার অধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রইত উপন্যাস।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত দাঙ্গাবিরোধী গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান।
------------------------
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।
• কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
• গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিবিধ প্রবন্ধ গ্রন্থের একটি প্রবন্ধ হলো ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবদেন’।
- এই প্রবন্ধে নতুন লেখকদের প্রতি ১৩ টি নির্দেশনা বা পরামর্শ দিয়েছেন।
- এটি একটি উপদেশমূলক রচনা।
- তাঁর এ উপদেশ শুধু তাঁর কালের জন্যই প্রযোজ্য নয়, অনাগতকালের লেখকদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রবন্ধে লেখকের এসব উপদেশের সর্বজনীনতা প্রবন্ধের আবেদনকে কালোত্তীর্ণ করেছে।
উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই ও যুগান্তর রিপোর্ট।
'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।
দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।
দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।
উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• রাজপুতদের অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত 'দীপনির্বাণ' উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে।
-------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘
• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
---------------------------------------------
• 'দীপনির্বাণ' নিয়ে কিছু কথা:
- দীপনির্বাণ উপন্যাসটি দ্বাদশ শতকের ভারতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এখানে রাজপুত রাজাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ তুলে ধরা হয়েছে।
- এটি স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত।
------------------------------------
অন্যদিকে,
• নীল রং রক্ত- সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত নীল বিদ্রোহের কাহিনী।
• রাজসিংহ- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস
• বাদশাহ নামদার- হুমায়ূন আহমেদ রচিত হুমায়ুন ও শেরশাহের আমলের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা উপন্যাস।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।
‘ব্যথার দান’ গল্পগ্রন্থ:
- ‘ব্যথার দান’ কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- এটি ৬টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- একই সঙ্গে এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।
• এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো-
- ব্যথার দান
- হেনা
- অতৃপ্ত কামনা
- বাদল-বরিষণে
- ঘুমের ঘোরে
- রাজবন্দীর চিঠি
অন্যদিকে,
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।
- 'দোলনচাঁপা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- 'বিষের বাঁশী' কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
আনোয়ার পাশা:
কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালােচক, শিক্ষাবিদ। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
উপন্যাস :
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিষুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- রাইফেল রােটি আওরাত (১৯৭৩)।
তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
গল্পগ্রন্থ : নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)।
কাব্য :
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷
তার সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলাে হলো:
পদ্মাবতী (১৯৫০), প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী (১৯৫২), গল্প সংকলন, দুই খণ্ড প্রকাশিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
'তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'
- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে-
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য হচ্ছে বৃত্রসংহার।
বৃত্রসংহার:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো ‘বৃত্রসংহার’, যা ২ খণ্ডে, ১৮৭৫-৭ সালে প্রকাশিত।
- এটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত জনপ্রিয় আখ্যান কাব্য। মহাকাব্য হিসেবে রচিত।
- এটি মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত, যেখানে সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় প্রতিপাদ্য করা হয়েছে।
- এক সময় বাংলাদেশে এই কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের খ্যাতি মূলত এ কাব্যের জন্য।
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন হুগলির গুলিটা গ্রামে, ১৮৩৮ সালে।
- কর্মজীবনে তিনি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হন।
- তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে দেশপ্রেম তাঁর রচনায় ফুটিয়ে তোলেন।
কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (১৮৬৪ সালে প্রকাশিত আখ্যানকাব্য)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।
ছোটগল্প:
- অতসী মামী
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' প্রবন্ধটি "কমলাকান্তের দপ্তর" রচনা থেকে গৃহীত হয়েছে।
• 'বিড়াল' প্রবন্ধ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
- প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, ঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।
--------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• "ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।"- আলোচ্য পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।
বঙ্গভাষা-
মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"
উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• সঠিক উত্তর: গ) ছড়া।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত ছড়াকার হিসেবে। তিনি মূলত শিশুসাহিত্য ও ছড়ার জগতে স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর ছড়ায়—
- শিশুমনের স্বাভাবিক কৌতুক ও কল্পনা;
- সহজ, সাবলীল ও সুরেলা ভাষা;
- ছন্দের নিপুণ ব্যবহার;
- শিক্ষামূলক অথচ আনন্দমুখর ভাব;
—স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
তিনি ছোটোগল্প বা উপন্যাস রচনায় পরিচিত নন, নাটক রচনাতেও তাঁর প্রধান খ্যাতি নেই। বরং ছড়ার মাধ্যমেই তিনি পাঠকসমাজে সুপরিচিত ও স্বীকৃত।
-----------------
• সুকুমার বড়ুয়া:
- জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানায়।
- ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া 'ছড়ারাজ', 'ছড়াশিল্পী', 'ছড়াসম্রাট' ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
- মৃত্যু: ২ জানুয়ারি ২০২৬ সালে।
উল্লেখ্য,
সুকুমার বড়ুয়ার প্রথম বই - "পাগলা ঘোড়া" প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ছড়ার বই - ভিজে বেড়াল।
আর ওই দুটি বইয়ের জন্যই তিনি ১৯৭৭ সালে অর্জন করেন ‘বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’।
তাঁর ১৮টি বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -
- পাগলা ঘোড়া,
- ভিজে বেড়াল,
- চন্দনা রঞ্জনার ছড়া,
- সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া;
- এলোপাতাড়ি,
- নানা রঙের দিন,
- চিচিং ফাঁক ।
উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
• বিরহবিলাপ:
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০)।
- তবে অনেক সমালোচকই কাব্যটির নাম 'বিরহ বিলাস' বলেছেন।
- কবি অবশ্য বলেছেন, আমি যখন তেরো বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার 'বিরহবিলাপ' নামক ক্ষুদ্র একখানা কাব্য প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য।
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।