বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১৭ / ১৭৪ · ১১,৬০১১১,৭০০ / ১৭,৪৩৭

১১,৬০১.
প্রমথ চৌধুরী কর্তৃক চলিত রীতিতে লিখিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. আহুতি
  2. চার ইয়ারী কথা
  3. তেল নুন লাকড়ি
  4. বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা

'বীরবলের হালখাতা':
- এটি প্রমথ চোধুরী রচিত প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৬০২.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন- “একুশে ফেব্রুয়ারি” (মার্চ, ১৯৫৩) সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- তাঁর সম্পাদনায় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” প্রকাশিত (১৯৮২-৮৩) হয়।      
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর। 

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,  
- মূল্যবোধের জন্য,  
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,  
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬০৩.
বেগম রোকেয়ার 'মতিচুর' প্রবন্ধগ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
'মতিচুর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচুর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচুর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই। 'মতিচুর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে ১০টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬০৪.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদের শিশুতোষ গ্রন্থ নয়?
  1. ক) পাখির বাসা
  2. খ) ছড়ার আসর
  3. গ) কাফেলা
  4. ঘ) ফুলের জলসা
ব্যাখ্যা
ফরুক আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত। তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো- পাখির বাসা, হরফের ছড়া, চাঁদের আসর, ছড়ার আসর, ফুলের জলসা ইত্যাদি। আর কাফেলা তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৬০৫.
কোনটি তিনটি ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. ক) আনন্দমঠ - দেবী চৌধুরাণী - সীতারাম
  2. খ) ধাত্রীদেবতা – গণদেবতা - পঞ্চগ্রাম
  3. গ) চৌরসন্ধি – জলাঙ্গী - পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান - পদ্মা মেঘনা যমুনা - সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
আনন্দমঠ - দেবী চৌধুরাণী - সীতারাম হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। ধাত্রীদেবতা – গণদেবতা - পঞ্চগ্রাম হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান - পদ্মা মেঘনা যমুনা - সংকর সংকীর্তন হলো আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস। অন্যদিকে শওকত ওসমান রচিত চৌরসন্ধি - জলাঙ্গী - পতঙ্গ পিঞ্জর ত্রয়ী উপন্যাস নয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১১,৬০৬.
'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস। প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী।
- পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬০৭.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনার বিশেষত্ব কী ছিল?
  1. প্রেম ও বিপ্লব
  2. প্রকৃতি প্রেম
  3. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
  4. ধর্মীয়নীতি
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
-  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ব্যবহৃত ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। 

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬০৮.
পূরবী কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

'পূরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।

------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬০৯.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন কে?
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা  ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬১০.
'একাত্তরের দিনগুলি' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. দিনপঞ্জি
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের দিনগুলি':
- জাহানারা ইমাম রচিত 'একাত্তরের দিনগুলি' শীর্ষক দিনপঞ্জির আকারে রচিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন দিনগুলিতে হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার কথা এবং জনজীবনের আতঙ্ক, দুর্ভোগ, আত্মত্যাগের কথা লেখক তাঁর এই রচনাটিতে অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন।

--------------
জাহানারা ইমাম রচিত উল্লেখযোগ্য রচনা:
• শিশুসাহিত্য:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

• অনুবাদ:
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর,
- নদীর তীরে ফুলের মালা। 

• স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের দিনগুলি,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৬১১.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) কাজী ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রজনীর চাঁদ, কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর, ডানপিটে শওকত, বাংলাদেশ কথা কয়, পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী)। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১১,৬১২.
'এলাটিং বেলাটিং' গ্রন্থের প্রণেতা কে?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) হুমায়ূন আজাদ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল
  5. ঙ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্যঃ
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেব,
- গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে,
- আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৬১৩.
'আনন্দের মৃত্যু' সৈয়দ শামসুল হক রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আনন্দের মৃত্যু:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ 'আনন্দের মৃত্যু'।
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাদা পাহাড়ের মতো, তৃষ্ণা, কবি, নাম, আনন্দের মৃত্যু, বন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যে ও শেষ বাস, পরাজয়ের পর, কালামাঝির চড়নদার, ঘরে ফেরা, যদি জানতে চান, শিকার এই গ্রন্থভুক্ত গল্প।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬১৪.
"আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।" - কোন কবির রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত কবিতা 'প্রতিদান' -এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি কবির 'বালুচর' কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে।
- এ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ  ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

জসীমউদ্‌দীনের কবিতার প্রধান উপজীব্য পল্লিজীবন।
তাঁর বিখ্যাত 'নকসী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১,৬১৫.
'হিতকরী' পত্রিকা কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'হিতকরী' পত্রিকা:
-'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬১৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. সংস্কৃতির সংকট
  3. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  4. প্রবন্ধ সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু'।
-------------- 
⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।
----------------------- 
অন্য অপশনে,
• সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
• প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,৬১৭.
পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন জন্মগ্রহণ করেন-
  1. মজুপুর গ্রাম, ফেনি
  2. গোবিন্দপুর গ্রাম, ফরিদপুর
  3. কাশবন গ্রাম, নেত্রকোনা
  4. তাম্বুলখানা গ্রাম, ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীম উদদীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,৬১৮.
'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে।'- এটি রবীন্দ্রনাথের কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. সোনার তরী
  2. দুই বিঘা জমি
  3. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  4. বসুন্ধরা
ব্যাখ্যা
'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে'!
- উপরের পঙক্তিজোড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা দুর্বলের মুখে নীতিকথা প্রকাশিত হয়েছে।

- 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬১৯.
বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের প্রচলন:
- বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬২০.
ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন গ্রন্থটির নাম কী?
  1. ক) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. খ) একেই কি বলে সভ্যতা?
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন গ্রন্থটির নাম- একেই কি বলে সভ্যতা?
এই প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ প্রহসনের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
বিয়ে পাগলা বুড়ো ও সধবার একাদশী প্রহসন দুটির রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬২১.
'হুতোম প্যাঁচার নক্সা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. রম্যরচনা
  2. উপন্যাস
  3. চিত্রকর্ম
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ 'হুতোম প্যাঁচার নকশা'য় (১৮৬২) অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে সে যুগের সমাজজীবনের ক্ষত চিহ্নের যথার্থ ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।
- 'আলালের ঘরের দুলালে'র চার বছর পরে প্রকাশিত এ গ্রন্থে বাচনভঙ্গি, রচনারীতি, আঙ্গিক প্রভৃতি দিক থেকে লেখক নতুনত্ব সৃষ্টি করেছেন।
- নকশা উপন্যাস নয়, তা সামাজিক সমস্যামূলক ব্যক্তিগত রচনা।
- তারপরও 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসের মতোই আশ্চর্যরকম সুখপাঠ্য।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু।

------------------------
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক।
- তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে পরিচিত।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা।
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬২২.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) রূপসী বাংলা
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) ধূসর পান্ডুলিপি
  4. ঘ) ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৬২৩.
কবি জসীম উদ্​দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর কোন কবিতা বিশেষ প্রশংসা পায়?
  1. রুপাই
  2. আমার বাড়ি
  3. নিমন্ত্রণ
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• কবি জসীম উদ্​দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর 'কবর' কবিতাটি বিশেষ প্রশংসা পায়। 
-----------------
কবর কবিতা: 
- কবর কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- 'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে।
- এটি কবি জসীম উদ্দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা।
- এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।
--------------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬২৪.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মালতী
  2. স্বপ্নবাণী
  3. দীপনির্বাণ
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

• দীপনির্বাণ:
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ‘দীপনির্বাণ’।
- এই উপন্যাস ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি ইতিহাসভিত্তিক রচনা।
- দীপনির্বাণ ছিল জাতীয়তাবাদী ভাবে অনুপ্রাণিত এক উপন্যাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬২৫.
'ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. রফিক আজাদ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা' শামসুর রাহমান রচিত কাব্যের গ্রন্থ।

-----------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬২৬.
কোন কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল থানাটি?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

চা-রুটির দোকানে চাকরি করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লার সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয় এবং তাঁর সুবাদেই নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
এক বছর পর তিনি পুনরায় নিজের গ্রামে ফিরে যান এবং ১৯১৫ সালে আবার রানীগঞ্জ সিয়ারসোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এ স্কুলে নজরুল ১৯১৫-১৭ সালে একটানা অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। প্রিটেস্ট পরীক্ষার সময় ১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১১,৬২৭.
'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. কাজী আবদুল ওদুদ 
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• 'জীবন বিনিময়' কবিতাটির লেখক  'গোলাম মোস্তফা'।
- কবিতাটি 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

জীবন বিনিময়- কবিতা,
– গোলাম মোস্তফা।

বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর-
পুত্র তাঁহার হুনায়ন বুঝি বাঁচে না এবার আর!
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরন-অন্ধকার।

রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ দরবেশ
এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ,
সেবাযত্নের বিধিবিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ।
------------------------ 
• গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

তাঁর সম্মাননা ও উপাধি:
‘কাব্য সুধাকর’ — যশোর সংঘ কর্তৃক (১৯৫২)।
‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ — পাকিস্তান সরকার কর্তৃক (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; জীবন বিনিময়- কবিতা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৬২৮.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস নয়?
  1. আনন্দমঠ
  2. সীতারাম
  3. দেবী চৌধুরানী
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা

• 'চন্দ্রশেখর' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস হচ্ছে আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬২৯.
“কোহিনূর” - পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) শেখ আবদুর রহিম
  2. খ) রওশন আলী
  3. গ) সৈয়দ এমদাদ আলী
  4. ঘ) শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
কোহিনূর:
- মাসিক পত্রিকা।
- ১৩০৫ বঙ্গাব্দের আষাঢ় (জুলাই ১৮৯৮) মাসে কুষ্টিয়া থেকে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়; পরে ফরিদপুরের পাংশা এবং শেষে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতো।
- এর সম্পাদক ছিলেন পাংশানিবাসী এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৩০.
'নেমেসিস' কোন জাতীয় রচনা?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. গীতি কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

-----------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৩১.
'তপু এবং রেণু' চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. আনোয়ার পাশা
  3. জহির রায়হান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

একুশের গল্প:
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।
এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ, বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৩২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির নাম কী?
  1. চৈতালী ঘূর্ণি
  2. রক্তের অক্ষর
  3. বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
  4. ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ‘১৯৭১’ উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জীবনের শেষবেলায় কলম ধরেন বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- আবেগ ও বাস্তবতার শব্দ মিশেলে তিনি উপস্থাপন করেন ‘১৯৭১’ উপন্যাসটি।
- তারাশঙ্কর তাঁর ‘১৯৭১’ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন একাত্তরের গ্রামীণ জীবনের চিত্র। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে এই উপন্যাসে হয়ে উঠেছে একাত্তরে হাজার নারীর প্রতীক। সেই সঙ্গে সহচরিত্র— রহিম, মি. সেন ও ছায়ার মাধ্যমে সময়ের মুখ খুলে দিয়েছে এ কথাশিল্পী। যার পরতে পরতে রয়েছে হৃদয়ছোঁয়া মা-মাটি-মানুষের ভালোবাসা।

- '১৯৭১' উপন্যাসের দুটি অংশ- ‘সুতপার তপস্যা’ ও  ‘একটি কালো মেয়ের কথা’।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পূর্বে যখন ‘সুতপার তপস্যা’ এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ বই দুটি প্রকাশের আলোচনা হচ্ছিল তখন তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থার মধ্যেই বলেন, ‘দুটো বই এক হয়ে বেরোবে, তার নাম হবে- ১৯৭১’।

অন্যদিকে,
• 'চৈতালী ঘূর্ণি' (১৯৩২) উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
• ‘রক্তের অক্ষর’ রিজিয়া রহমান রচিত উপন্যাস।
• রাবেয়া খাতুনের উপস্থাপনায় এক বিশ্বস্ত দলিল উপন্যাস ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’।
- ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ নামের ন্যায় এমন প্রেক্ষাপটেই এ উপন্যাসের পটভূমি বিস্তারিত হয়েছে। ’৪৭-পূর্ব ঢাকার সমাজ জীবন, রাজনীতি, দাঙ্গা এসেছে এ উপন্যাসে।

উৎস: ‘১৯৭১’ উপন্যাস তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৩৩.
“গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায় --।” - কার রচনা?
  1. ক) জীবনান্দ দাশ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''
----------------
'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৩৪.
কবি বন্দে আলী মিয়া কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পাবনা
  2. যশোর
  3. রংপুর
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ দুটি:
- চাচা-কাহিনী, 
- টুনি মেম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৩৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মাল্যদান
  2. খ) কবিতার কথা
  3. গ) সতীর্থ
  4. ঘ) বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
'সতীর্থ' উপন্যাসের রচয়িতা রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। 
- তিনি মূলত কবি হলেও উপন্যাস এবং প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন। 

তাঁর দুইটি উপন্যাস- 
- মাল্যবান (১৯৭৩)
- সতীর্থ (১৯৭৪) 
- জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'
এর বিখ্যাত উক্তি - 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' 

'বোবা কাহিনী' - পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত একমাত্র উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৩৬.
'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা- মুনীর চৌধুরী । 

দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
যথা:
- দণ্ড
- দণ্ডধর
- দন্ডকারণ্য

মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক, নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): রূপকাশ্রয়ী নাটক।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)।
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৩৭.
‘পাঞ্জেরি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. সিন্দাবাদ
  4. নৌফেল ও হাতেম
ব্যাখ্যা
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৩৮.
’আরেক ফাল্গুন’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে ?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন নিয়ে জহির রায়হান রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস- ‘আরেক ফাল্গুন’
• উপন্যাস টি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
• এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা উপন্যাস। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে- ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো’। তাদের বিশ্বাস জনতার প্রতিবাদ আগামী ফাল্গুনে আরও প্রবল হবে।

• জহির রায়হান রচিত আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘হাজার বছর ধরে’ প্রকাশকাল ১৯৬৪।
• জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি রচনার জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
• এছাড়াও উপন্রাসের জন্য বাংলা একাডেমি থেকে মরণোত্তর সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন (১৯৭২)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৩৯.
'বোবা কাহিনী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. জসীম উদ্‌দীন 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘বোবা কাহিনী’ - জসীম উদ্‌দীন  রচিত উপন্যাস।

বোবা কাহিনী:
- 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই; নিছক সরল ও সাদামাটা গল্প আছে।

জসীম উদ্দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' (১৯২৯) একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

জসীম উদ্দীনের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ (E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন),
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে,
- রাখালী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৪০.
শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস  রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন। 
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৪১.
'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'জলোচ্ছ্বাস' উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

• সেলিনা হোসেন: 
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

• তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৪২.
সাহিত্যের কোন বিশেষ শাখাটি জীবনের কোন বিশেষ মুহুর্তের রূপায়ণ? 
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ছোটগল্প।

কারণ:
ছোটগল্প সাহিত্যের সেই বিশেষ শাখা যা জীবনের কোনো একটি বিশেষ মুহূর্ত, ঘটনা বা অনুভূতির রূপায়ণ করে।
এটি সংক্ষিপ্ত আকারের হওয়ায় গল্পকার একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তকে কেন্দ্র করে চরিত্র, পরিবেশ ও আবেগের গভীর চিত্রণ করেন। ফলে পাঠকের মনে একটি তীব্র, স্থায়ী ছাপ পড়ে।
রবীন্দ্রনাথ, প্রেমচাঁদ, পরশুরাম, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের ছোটগল্পে এই বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট।

• 'ছোটগল্প' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- ছোটগল্প বিশেষ গদ্যরচনা, যা কথা সাহিত্যের অন্তর্গত। 
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সোনার তরী' 'বর্ষাযাপন' নামক কবিতায় ছোটগল্প সম্পর্কে মনোভাব প্রকাশ করেছেন। 

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) উপন্যাস → জীবনের বিস্তৃত ক্যানভাস, দীর্ঘ সময়কাল, একাধিক চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহের রূপায়ণ করে। একটি বিশেষ মুহূর্ত নয়।
গ) নাটক → মঞ্চে অভিনয়ের জন্য রচিত, সংলাপ-নির্ভর। জীবনের বিভিন্ন পর্যায় বা সংঘাত দেখায়, কোনো একটি মুহূর্তের ওপর কেন্দ্রীভূত নয়।
ঘ) প্রবন্ধ → চিন্তা, বিশ্লেষণ, যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে কোনো বিষয় আলোচনা করে। এটি সাহিত্যের কল্পনাশ্রয়ী শাখা নয়, বরং গদ্যের তথ্যভিত্তিক/বিশ্লেষণাত্মক ধারা।

সুতরাং সাহিত্যের যে শাখা জীবনের বিশেষ মুহূর্তের রূপায়ণ করে তা হলো ছোটগল্প।

উৎস: বি.এড প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১,৬৪৩.
কোন লেখকের উপাধি 'তিমির হননের কবি'?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৪৪.
'মেঘনাদবধ কাব্য' কোন ছন্দে রচিত? 
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'মেঘনাদবধ কাব্য':
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মেঘনাদবধ কাব্য অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত সিপাহী বিপ্লবের স্বাধীনতা মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করেন এই স্বাধীনতাভিলাষী কাব্য। মেঘনাদবধ কাব্যে বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে। কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

----------------------
তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১,৬৪৫.
মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সবুজপত্র পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন প্রমথ চৌধুরীর।
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশেও এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন এবং পরে তা চর্চা করেন।
- 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয় এই পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় ১৯২৭ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৬৪৬.
“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে”- এই উদ্ধৃতাংশটুকু কোন কবির রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
“বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই চড়ি সখের বোটে
মাঝিরে কন , বলতে পারিস সূর্যি কেন ওঠে- এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের ''ষোল আনাই মিছে'' কবিতা থেকে নেয়া।

লোকে বলে, কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে-এই উদ্ধৃতাংশটুকু সুকুমার রায়ের ''পাকাপাকি'' কবিতা থেকে নেয়া।

এছাড়াও, তিনি শিশুদের জন্য হ- য- ব- র- ল এবং আবোল-তাবোল গ্রন্থগুলো রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) ও বাংলা কবিতা।

১১,৬৪৭.
ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম কবি ছিলেন -
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৪৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. বোধোদয়
  3. রত্ন পরীক্ষা
  4. ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ - বোধোদয়

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৪৯.
'অলাতচক্র' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. ক) মনন্ত্বর
  2. খ) ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান
  3. গ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা
'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস। 
১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়। 
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন 
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ। 

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস :
- গাভি বিত্তান্ত
- ওঙ্কার
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
- সূর্য তুমি সাথী,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস
- বিহঙ্গপুরাণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৫০.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত ‘নিষিদ্ধ লোবান’ কী ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

“নিষিদ্ধ লোবান" সৈয়দ শামসুল হক এর লিখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
---------------------------------------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা:
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলে যা।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৫১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মূলত কী ছিলেন? 
  1. কবি ও সাংবাদিক 
  2. ঔপন্যাসিক ও চিত্রকার 
  3. নাট্যকার ও চিন্তাবিদ 
  4. ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক 
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- তিনি একজন খ্যাতনামা কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি যুগসন্ধির কবি (অর্থাৎ মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সংযোগসেতু) হিসেবে পরিচিত।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা সংবাদ প্রভাকর সম্পাদনা করেন।
- তিনি শুধু সংবাদ প্রভাকর নয়, বরং সংবাদ রত্নাবলী, সংবাদ সাধুরঞ্জন নামের পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৫২.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন-
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা

• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।
• বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
• মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
• রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৬৫৩.
'আমার সাক্ষ্য' আত্মজীবনী গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সানাউল হক
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আলী আহসান এর আত্মজীবনী - আমার সাক্ষ্য।

---------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৫৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. অচলায়তন
  2. তাসের দেশ
  3. কালের যাত্রা
  4. মায়ার খেলা
ব্যাখ্যা

• 'মায়ার খেলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যনাট্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।
 
প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য :
- চিত্রাঙ্গদা 
- নটীর পূজা 
- চণ্ডালিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬৫৫.
'আমাকে কি মাল্য দেবে দাও' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. মোঃ মনিরুজ্জামান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. ফজল-এ-খোদা
ব্যাখ্যা

⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

• নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

কবিতাটির সংক্ষিপ্তরূপ-

আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও
- নির্মলেন্দু গুণ
তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও।
এই নাও আমার যৌতুক, এক-বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাব পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ কবিতার সমাহার।

১১,৬৫৬.
নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি? 
  1. সাজু 
  2. রুপাই 
  3. দুলী 
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৫৭.
'হায় চিল' কবিতাটির রচয়িতা -
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'হায় চিল' কবিতাটির রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৫৮.
'মগের মুলুক' কাব্যটি কে লিখেছেন?
  1. ক) গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস
  2. খ) নবীন চন্দ্র দাস
  3. গ) মনোজ বসু
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুলুক' কাব্যটি গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস লিখেছেন। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস হচ্ছেন স্বভাবকবি।
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসূন 
- প্রেম ও ফুল 
- মগের মুলুক 
- কস্তুরী 
- চন্দন 
- শোক ও সান্ত্বনা 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৫৯.
শহীদুল্লা কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয় কোনটিকে?
  1. সমুদ্র ও তৃষ্ণা
  2. দিগন্তে ফুলের আগুন
  3. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেয়া। এর অর্থ বোঝায়, যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে, পালিয়ে আসে না। শহীদুল্লা কায়সার এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর উপন্যাস 'সংশপ্তক'কে (১৯৬৫) ধারণ করেছেন। 'সংশপ্তক'কে তাই মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।

- হিন্দু- মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের অন্যতম বর্ণিত বিষয়। এখানে ঢাকা ও কলকাতার নাগরিক পরিবেশের সঙ্গে বাকুলিয়া ও তালতলি গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশের প্রতীকে সমগ্র বাংলাদেশের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।

- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাবেয়া খাতুন (রাবু),
- জাহেদ,
- সেকেন্দার,
- মালু,
- হুরমতি,
- লেকু,
- রমজান,
- রামদয়াল ইত্যাদি।

----------------
• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৬০.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. দিগদর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

অন্যদিকে,
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা: ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
'দিগদর্শন' পত্রিকা: বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা: ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৬১.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শাহেদ আলী
  3. আল মাহমুদ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
•'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা আল মাহমুদ। 

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

- কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
-আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থ আল মাহমুদ।
১১,৬৬২.
আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) নীলিমা ইব্রাহিম
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।- পঙক্তিগুলো কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার।

• 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়' 
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

কামিনী রায়: 
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- আলো ও ছায়া, 
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

পাছে লোকে কিছু বলে
        কামিনী রায় 

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,-
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

হৃদয়ে বুদবুদ মত
উঠে চিন্তা শুভ্র কত,
মিশে যায় হৃদয়ের তলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি
সযতনে শুকায়ে রাখি;
নিরমল নয়নের জলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৬৩.
বাংলা সাহিত্যে 'সুবচনী' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন -
  1. ক) রোকনুজ্জামান খান
  2. খ) সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. গ) অহিদুর রেজা
  4. ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'সুবচনী' হচ্ছে সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম। 

এছাড়া,
- 'রোকনুজ্জামান খান' এর ছদ্মনাম- 'দাদাভাই'।
- 'সতীনাথ ভাদুড়ী' এর ছদ্মনাম- 'চিত্রগুপ্ত'।
- 'অহিদুর রেজা' এর ছদ্মনাম- 'হাসান রেজা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৬৪.
কবি নজরুল ইসলামের কোন কবিতা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেন?
  1. ক) বিদ্রোহী
  2. খ) আনন্দময়ীর আগমনে
  3. গ) দারিদ্র
  4. ঘ) নতুন চাঁদ
ব্যাখ্যা
ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়। নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২। একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১১,৬৬৫.
ফররুখ আহমেদ রচিত কাহিনিকাব্য কোনটি?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. সিন্দাবাদ
  3. মুহূর্তের কবিতা
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
- ফররুখ আহমদ রচিত কাহিনিকাব্য 'হাতেমতায়ী'।
- কাব্যগ্রন্থটি রচনার জন্যে ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত অন্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনি।

• 
তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৬৬.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো
  2. বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  3. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি
  4. একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা

কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি:
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন এই কবিতা।

উল্লেখ্য,
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী একজন কবি, সাংবাদিক, লেখক ও ভাষা সৈনিক।
- আহমাদুর রহমান চৌধুরী এবং রওশন আরা চৌধুরীর সন্তান মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- তার জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।

অন্যদিকে,
- হাসান হাফিজুর রহমানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা - একুশে ফেব্রুয়ারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৬৭.
মুনীর চৌধুরী অনূদিত উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘The Taming of The Shrew’-এর অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) কেউ কিছু বলতে পারে না
  3. গ) রূপার কৌটা
  4. ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনূদিত নাটকও রয়েছে।
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' অনুবাদ করেন, 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে।
রূপার কৌটা, কেউ কিছু বলতে পারে না তাঁর অনুবাদ নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৬৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন সাহিত্যকর্মে প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আছে?
  1. ‘মানসী’
  2. ‘যোগাযোগ’
  3. ‘ছিন্নপত্র’
  4. ‘কালান্তর’
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) ছিন্নপত্র।

ব্যাখ্যা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকর্মে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ বা পূর্ব বাংলা) প্রায়শই প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি শান্তিনিকেতনে থাকলেও পূর্ববঙ্গের পারিবারিক জমিদারি পরিচালনার জন্য নদীপথে বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেছিলেন, যা তার সাহিত্যে প্রভাব ফেলেছে।

ছিন্নপত্র:
ছিন্নপত্র (১৯১২) রবীন্দ্রনাথের একটি পত্রসাহিত্য, যা তিনি পূর্ববঙ্গের জমিদারি পরিচালনার সময় শিলাইদহ, পতিসর, এবং কালিগ্রামে থাকাকালীন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে লিখিত চিঠির সংকলন। এই চিঠিগুলোতে পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ জীবন, নদী, প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা, এবং সামাজিক অবস্থার প্রত্যক্ষ বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি শিলাইদহ ও পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষকদের জীবন, এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
তাই এটি বাংলাদেশ প্রসঙ্গের প্রত্যক্ষ উদাহরণ।


ছিন্নপত্র-এর একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন পদ্মা নদীর সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনের বিষয়ে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

শিলাইদহ থেকে ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে তিনি লিখেছিলেন- 
'পৃথিবী যে কী আশ্চর্য সুন্দরী এবং কী প্রশস্ত প্রাণ এবং গভীরভাবে পরিপূর্ণ তা এইখানে না এলে মনে পড়ে না।' শিলাইদহ থেকে যখন-তখন পদ্মা নদীতে বোট ভাসিয়ে দেন কবি। বোটের নাম দিয়েছেন পদ্মা। আপন মনে বুঝি গেয়ে ওঠেন, "এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে, 'জয় মা' বলে ভাসা তরী।" পদ্মা নদী থেকে বোটে করে চলে যান ইছামতীতে, ইছামতী থেকে বড়লে, হুড়োসাগরে, চল বিলে, কখনওবা আত্রাইয়ে, নাগর নদীতে, যমুনা পার হয়ে খাল বেয়ে চলে যান শাহজাদপুরে। এই চলাচলের পথ জুড়ে থাকা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও দারিদ্র্যক্লিষ্ট জনজীবন তাঁকে আলোড়িত করে। পদ্মা নদীর বিপুল বিস্তার, প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্য ও জনমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয় কবির হৃদয়। তাঁর 'হৃদয়ের একুল ওকুল দুকুল ভেসে যায়'।
--------------------- 
অন্য অপশনে,
ক) মানসী:
মানসী (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথের একটি কাব্যগ্রন্থ। এতে বিভিন্ন ধরনের কবিতা রয়েছে, যেমন প্রেম, প্রকৃতি, এবং দার্শনিক ভাবনা। তবে, এই কাব্যগ্রন্থে বাংলাদেশের (পূর্ববঙ্গের) সুনির্দিষ্ট বা প্রত্যক্ষ প্রসঙ্গ পাওয়া যায় না।

খ) যোগাযোগ:
যোগাযোগ (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথের একটি উপন্যাস, যা মধুসূদন ও কুমুদিনীর সম্পর্ক এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের উপর কেন্দ্রীভূত। এটি কলকাতার শহুরে জীবন ও বাঙালি সমাজের প্রেক্ষাপটে লেখা। বাংলাদেশ বা পূর্ববঙ্গের কোনো প্রত্যক্ষ প্রসঙ্গ এই উপন্যাসে উল্লেখযোগ্য নয়।

ঘ) কালান্তর:
কালান্তর (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথের একটি প্রবন্ধ সংকলন, যেখানে তিনি সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, এবং দর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে বাংলাদেশ বা পূর্ববঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রত্যক্ষ প্রসঙ্গ পাওয়া যায় না।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিন্নপত্র সাহিত্যকর্মে বাংলাদেশ (পূর্ববঙ্গ) প্রসঙ্গ প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত, কারণ এতে পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ, পতিসর, এবং পদ্মা নদীর আশপাশের গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির বর্ণনা রয়েছে। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) ছিন্নপত্র।

উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, সুকুমার সেন;
- রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র, বাংলাপিডিয়া।
- সমকাল পত্রিকা রিপোর্ট;
- রবীন্দ্রনাথের পূর্ববঙ্গ ভ্রমণ ও সাহিত্য, বিভিন্ন সমালোচনামূলক প্রবন্ধ।
১১,৬৬৯.
'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের কবি কী হিসেবে পরিচিত?
  1. পল্লি কবি
  2. নবজাগরণের কবি
  3. ধূসরতার কবি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের  রচয়িতা- জীবনানন্দ দাশ।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ।
- জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।

- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৭০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. ক) মণিহার
  2. খ) পঞ্চভূত
  3. গ) নিশীতে
  4. ঘ) কঙ্কাল
ব্যাখ্যা
'পঞ্চভূত' (১৮৯৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়রি' নামে ছাপা হয়। 
- ক্ষিতি, স্রোতস্বিনী, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে দিয়ে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ। 
- পত্রিকায় ছাপা হবার সময় লেখকের নাম ছাপা হতো: 'লেখক ভুতনাথ বাবু' 

তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৭১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রচিত শামসুর রাহমানের কবিতা কোনটি?
  1. এক ফোঁটা কেমন অনল
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
  4. শূন্যতায় তুমি শোকসভা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে কবিতা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রচিত 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' চিত্রকল্পের ঔজ্জ্বল্যে, প্রচুরতায় ও জটিলতায় একটি প্রতিনিধিস্থানীয় কবিতা।
- সমকাল ও সমকালীন ঘটনা কী রহস্যময় পথে কবিতার পরোক্ষতায় ও প্রতীকতায় উতচে যায়, কবিতা কীভাবে দৃশ্যকে আড়াল করে, অব্যক্তকে ব্যক্ত করে, প্রতীকের ঘন অরণ্যে কবির পথ রেখা অনুসরণ কীভাবে একই সঙ্গে উচ্চকিত ও বিমূঢ় করে পাঠককে এবং আরও অনেক প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এ কবিতায়।
- এ কবিতায় অসুস্থ নৃপতি ও তৃতীয় রাজকুমার এসেছে দেশীয় রূপকথার জগৎ থেকে।
- কিন্তু দেশীয় রূপকথা বা পুরাণ কাহিনীর মধ্যে আবদ্ধ থাকেননি কবি। ইউরোপীয় সাহিত্যের ইলেকট্রা, হ্যামলেট, অ্যাগামেমনন, টেলিমেকাস, ইউরোপীয় পুরাণের ইকারুস ডিডেলাস প্রতীকে রূপান্তরিত হয় তাঁর কবিতার উপজীব্য।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- সাহিত্য রসযোদ্ধা ও সমালোচক শামসুর রাহমানের পরিচয় বিধৃত আছে তাঁর 'আমৃত্যু তার জীবনানন্দ' (১৯৮৬) ও 'কবিতা এক ধরনের আশ্রয়' (২০০২) গ্রন্থ দুটিতে।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৭২.
‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনাবলির ‘নানা-কবিতা’ শিরোনামের সংগৃহ থেকে গৃহীত।
- তিনি কবিতাটি লর্ড বায়রনের “My native Land, Good Night!” কবিতা থেকে উদ্ভূদ্ধ হয়ে রচনা করেন।

বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে? (সংকলিত)

------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা।
১১,৬৭৩.
শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. যাত্রা
  3. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  4. মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী রচিত — 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

• 'যাত্রা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

• শওকত আলী:
- শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস: দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- শওকত আলী রচিত বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

অন্যদিকে,
ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: এটি সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
খ) জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা : এটি শহিদুল জহির রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
ঘ) মানচিত্র: এই কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
১১,৬৭৪.
মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি - 
  1. আল মাহমুদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬৭৫.
’শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• শেষের কবিতা: 
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৭৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে শান্তি নিকেতনে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) ১৯০৫
  2. খ) ১৯০৩
  3. গ) ১৯০১
  4. ঘ) ১৯০০
ব্যাখ্যা

- ১৮৬৩ সালে আশ্রম হিসেবে শান্তিনিকেতনের যাত্রা শুরু।
- রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহন সিনহার কাছ থেকে বিশ বিঘা জমি কিনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পশ্চিম বাংলার বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরের কাছে এই আশ্রম অবস্থিত। জাগতিক করণীয় কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে প্রার্থনায় সময় কাটানোর জন্য গৃহী ব্যক্তিদের নির্জন আশ্রয় দান করা ছিল এই আশ্রমের উদ্দেশ্য।
- ১৮৮৮ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট- একটি অতিথিভবন, প্রার্থনা কক্ষ এবং ধর্মীয় সাহিত্যের জন্য নিবেদিত গ্রন্থাগারের সংস্থান করেছিলেন।
- ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রমে শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১১,৬৭৭.
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - কোন কবিতার পঙ্‌ক্তি?
  1. নারী
  2. সাম্যবাদী
  3. মানুষ
  4. কুলিমজুর
ব্যাখ্যা
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - 
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা ‘সাম্যবাদী’র শেষ পঙ্‌ক্তি এটি।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

সাম্যবাদী - কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম---সাম্যবাদী।

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
------------
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১১,৬৭৮.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী কোন কাব্যগ্রন্থ রচনার কারণে কারাবরণ করেছিলেন?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. অনল-প্রবাহ
  3. উচ্ছ্বাস
  4. প্রেমাঞ্জলি
ব্যাখ্যা

- ইসমাইল হোসেন সিরাজী কারাবরণ করেছিলেন 'অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থের কারণে।
-------------------------------------------
• ‘অনল প্রবাহ’:
- অনল প্রবাহ হলো সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি গীতিকাব্য, যা তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- সাহিত্য ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘অনল-প্রবাহ’ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- এ কারণে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের কবিদের মধ্যে একজন হিসেবে কারাবরণ করেন।
-------------------------------------
• ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০–১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি লেখক, কবি, বাগ্মী ও কৃষক নেতা।
- তাঁর জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- জন্মস্থানের সঙ্গে পরিচয় বজায় রাখতেই তিনি নিজের নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সমাজে নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি পরিচিত।
- তাকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়।
- সাহিত্যকর্মের দিক থেকেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অনল-প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী ও
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৭৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প নয়?
  1. একরাত্রি
  2. নষ্টনীড়
  3. সমাপ্তি
  4. অনির্বাণ
ব্যাখ্যা
• ‘অনির্বাণ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প নয়। 
-  এটি শচীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের একটি সাহিত্যকর্ম। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প: 
- একরাত্রি, 
- মহামায়া,
- সমাপ্তি, 
- দৃষ্টিদান,
- মাল্যদান,
- মধ্যবর্তিনী,
- শাস্তি,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- মানভঞ্জন,
- দুরাশা',
- অধ্যাপক,
- নষ্টনীড়,
- স্ত্রীর পত্র,
- পাত্র ও পাত্রী,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- 'ল্যাবরেটরি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
১১,৬৮০.
‘আমারে নিবা মাঝি লগে?’- এই বিখ্যাত সংলাপটি কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়?
  1. মালা
  2. কুবের
  3. কপিলা
  4. ধনঞ্জয়
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
-----------------------

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৮১.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. দুই সৈনিক
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়- ‘ক্রীতদাসের হাসি’।

• ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাস:

- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।

------------------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৮২.
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না' বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না' বিখ্যাত উক্তিটি সৈয়দ মুজতবা আলীর। তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী- দেশে বিদেশে, জলেডাঙ্গা। পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল এগুলো তাঁর রম্যরচনা। চাচা কাহিনী ও টুনি মেম তাঁর ছোটগল্প। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১১,৬৮৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি কে?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী:
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী উপন্যাস রচয়িতা বা ঔপন্যাসিক - স্বর্ণকুমারী দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬৮৪.
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সানাউল হক। 

সানাউল হক ছিলেন একজন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক। 
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে  
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা
- সূর্য অন্যতর
- বিচূর্ণ আর্শিতে
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৮৫.
'চিত্রাঙ্গদা' কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'চিত্রাঙ্গদা' নাটক:
- ‘চিত্রাঙ্গদা' (১৮৯২) মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় - কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে  রচিত। 
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। 
- এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে হয়ে উঠেছে। 
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন। 
- চিত্রাঙ্গদায় নাম-চরিত্রের মাধ্যমে নারীর আত্মজাগরণের যে প্রকাশ ঘটেছে তা আধুনিক নারীবাদীদের কথিত তাত্ত্বিকতার চেয়েও ব্যাপক।
- উভয় ক্ষেত্রে নারীর আত্মসম্মান ও বীরত্ব উভয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৮৬.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত- 'কাব্যগ্রন্থ'।

আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,৬৮৭.
‘মানচিত্র’ কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. নির্মেলেন্দু গুণ
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

উল্লেখ্য,
'মানচিত্র' - নাটকটির রচয়িতা- আনিস চৌধুরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৬৮৮.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'কাবিলের বোন' এর রচয়িতা কে? 
  1. আহমদ ছফা
  2. আল মাহমুদ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন'- কবি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল-মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্যখ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম।
১১,৬৮৯.
বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সুলতানার স্বপ্ন
  2. মতিচূর
  3. পদ্মাবতী
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা

• বেগম রোকেয়ার লিখিত গ্রন্থ নয় — পদ্মাবতী। 

উল্লেখ্য, 
- ‘পদ্মাবতী’ — কবি আলাওল রচিত গ্রন্থ।
আবার, 
- 'পদ্মাবতী'  — মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি নাটক৷
--------------------------------- 
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- সুলতানার স্বপ্ন, 
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৯০.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. তুমি সেই তরবারী
  2. পরানের গহীন ভিতর
  3. আলোর জন্য
  4. নীল দংশন 
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  

তাঁর রচিত কবিতা: 
- একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকমলের টানে 

তাঁর রচিত গল্প: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
১১,৬৯১.
আধুনিক যুগের সূচনাকালে কোন লেখকগণ সক্রিয় ছিলেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রামরাম বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলাম
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী ও বেগম রোকেয়া
  4. আল মাহমুদ ও জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা লেখক:
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে, যা মূলত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার সময়কাল।
এই সময়ের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকদের মধ্যে মুন্সি রামরাম বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

- রামরাম বসু লিখেছিলেন ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ — বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক গদ্যরচনা।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের সংস্কারক ও বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।

অন্য অপশনগুলো —
• রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল: আধুনিক যুগের পরবর্তী পর্যায়ের কবি।
• সৈয়দ মুজতবা আলী ও বেগম রোকেয়া: বিংশ শতাব্দীর লেখক।
• আল মাহমুদ ও জীবনানন্দ দাশ: উত্তর-আধুনিক বা আধুনিক কবি হলেও যুগের সূচনাকালের নন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৬৯২.
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রামের সুমতি
  2. মেজদিদি
  3. দত্তা
  4. মামলার ফল
ব্যাখ্যা
• 'দত্তা' উপন্যাস:
- 'দত্তা' শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়ের মধুরতম প্রেমের উপন্যাস।
- ১৯১৮ সালে এটি রচনা করা হয়।
- ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত হয় দত্তার নাট্যরূপ বিজয়া। 
- নরেন এবং বিজয়া উপন্যাসের প্রধান দুই চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো- চরিত্র
- জগদীশ, 
- বনমালী, 
- রাসবিহারী, 
- নলিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,  
রামের সুমতি, মেজদিদি ও মামলার ফল গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'দত্তা' উপন্যাস।
১১,৬৯৩.
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নীলকণ্ঠ পাখির খোজে
  2. খ) মানুষের ঘরবাড়ি
  3. গ) ঈশ্বরের বাগান
  4. ঘ) অলৌকিক জলযান
  5. ঙ) ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় খ্যাতিমান ভারতীয় লেখক। তার রচিত উপন্যাসবলীর মধ্যে নীলকণ্ঠ পাখির খোজে, ঈশ্বরের বাগান, মানুষের ঘরবাড়ি, অলৌকিক জলযান অন্যতম। তিনি সম্প্রতি মারা যান। ওয়ারিশ উপন্যাসটি শওকত আলী রচিত। (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
১১,৬৯৪.
"বিন্দু বিসর্গ" গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে? 
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

"বিন্দু বিসর্গ" গল্পগ্রন্থ:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'বিন্দু বিসর্গ' নামে নীলিমা ইব্রাহিমের আত্মজীবনী রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৯৫.
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ক) বর্ষ-আবাহন
  2. খ) ঝরাপালক
  3. গ) রূপসীবাংলা
  4. ঘ) আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
জীবনানন্দ দাশের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই । ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' প্রকাশিত হয়। কবিতাটি ১৯১৯ সালে 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১১,৬৯৬.
নিচের কোনটি একটি প্রহসন?
  1. ক) হুতুম পেঁচার নকশা
  2. খ) রাবণবধ
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

'নূরজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটক,
'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন,
'রাবণবধ' গিরিশচন্দ্র ঘোষের পৌরাণিক নাটক
এবং 'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৬৯৭.
‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. যোগানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

- উল্লেখ্য, যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। এছাড়াও, নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক। 
• ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
• 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।
১১,৬৯৮.
স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার / ভয় কি বন্ধু—পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) কোন এক মা'কে
  3. গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. ঘ) লোক লোকান্তর
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ :
পেশায় মূলত অধ্যাপক। তবে মূলত পরিচিতি কবি হিসেবে। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০); গল্পগ্রন্থ।

কাব্যগ্রন্থ :
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ (১৯৬২)।

স্মৃতিস্তম্ভ (স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার / ভয় কি বন্ধু-) কবিতাটি লিখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। কবিতাটি মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- মৃগনাভি (১৯৫৩),
- অন্ধকার সিড়ি (১৯৫৬),
- যখন সৈকত (১৯৬৭),
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার (১৯৭৫),
- জীবনজমিন (১৯৮৮)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১,৬৯৯.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. রত্নাকুমারী
ব্যাখ্যা
• "আলালের ঘরের দুলাল" উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস। প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুর (১৮১৪-১৮৮৩) ১৮৫৭ সালে এটি রচনা করেন।

- কলকাতার সমকালীন সমাজ এর প্রধান বিষয়বস্তু। উচ্চবিত্ত ঘরের আদুরে সন্তান মতিলালের উচ্ছৃঙ্খল জীবনাচার এতে বর্ণিত হয়েছে। 'ঠকচাচা' এর অন্যতম  একটি প্রধান চরিত্র।

- কাহিনি ও চরিত্রের যথাযথ পরিস্ফুটনের উদ্দেশ্যে লেখক এতে প্রচুর তদ্ভব, চলিত এবং বিদেশি শব্দও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসটি প্রথমে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকায় (১৮৫৪) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে হীরালাল মিত্রকৃত এর নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় (জানুয়ারি ১৮৭৫)। গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে।

- কথ্যভঙ্গির গদ্য ব্যবহার করে লেখক উপন্যাসকে বাস্তবধর্মী করে তুলেছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার নতুন সম্ভাবনাও আবিষ্কৃত হয়েছে। প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো এতে যে কথ্য চলিত ভাষা ব্যবহার করেছেন, পরবর্তীকালে তা 'আলালী ভাষা' নামে পরিচিতি লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• প্যারীচাঁদ মিত্রের দ্বিতীয় গ্রন্থ 'মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়' ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির মধ্যে তৎকালীন গোঁড়া শ্রেণির ব্যক্তিদের চিত্রাঙ্কন করা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত ও প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।

• কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের রোমান্সমূলক উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৭০০.
’অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯১৯ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (অক্টোবর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা আছে।

•কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতাগুলো হলো: 
- ‘প্রলয়োল্লাস (কবিতা),
- বিদ্রোহী;
- রক্তাম্বর
- ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানী’ ও মোহররম’।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।