বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১৬ / ১৭৪ · ১১,৫০১১১,৬০০ / ১৭,৪৩৭

১১,৫০১.
'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' - চরণটি রচনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' চরণটি রচনা করেন - মদনমোহন তর্কালঙ্কার

পাখি-সব করে রব
 মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- তিনি কবি, সমাজসেবক ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৫০২.
'সওগাত' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- 'মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন'।

• 'সওগাত' পত্রিকা:
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান।
- এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।
- সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৫০৩.
চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম কী?
  1. জরাসন্ধ
  2. বাণভট্ট
  3. সুনন্দ
  4. চিত্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ

অন্যদিকে
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - বাণভট্ট।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।
সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৫০৪.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত 'মুক্তি' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সওগাত
  2. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য
  3. বিজলী
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

মুক্তি:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রথম প্রকাশিত এই ‘মুক্তি’ কবিতাটি নির্ঝর কাব্যগ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে।
- এটি নজরুলের দ্বিতীয় প্রকাশিত রচনা ও প্রথম প্রকাশিত কবিতা। 

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত:
- 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'বাঁধন-হারা' কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম- তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৫০৫.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা

• জীবন আমার বোন উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

- তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

১১,৫০৬.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. দেবদাস
  2. কালান্তর
  3. পরিণীতা
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
• 'কালান্তর' প্রবন্ধের সংকলন:
- 'কালান্তর' (১৯৩৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
- রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মতের বিকাশের সামগ্রিক পরিচয় এই গ্রন্থে পাওয়া যায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

অন্যদিকে, 
- 'দেবদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম দিকের উপন্যাস। 
- 'পরিণীতা শরৎচন্দ্র' চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা উপন্যাস। 
- 'গৃহদাহ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫০৭.
“কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা / পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা”- আলোচ্য অংশের রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. চন্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়৷
- চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎস:- লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১১,৫০৮.
রবীন্দ্রনাথের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ -এর একটি চরিত্র-
  1. প্রত্যুষ
  2. মহিম
  3. মেহের আলি
  4. নবীন মাধব
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র:
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার,
- ল্যাবরেটরি
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫০৯.
‘কবি শ্রীমধুসূদন’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. খ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
⇒ মোহিতলাল মজুমদার রচিত প্রবন্ধ ‘কবি শ্রীমধুসূদন’। প্রবন্ধটি ১৩৫৪ খ্রিষাটাব্দে প্রকাশিত হয়।

• মোহিতলাল মজুমদার:

- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৫১০.
“ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়” কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) আত্মজীবনী
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

জসীমউদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬) : পল্লীকবি হিসেবে খ্যাত। তবে অনেকে মনে করেন তিনি আধুনিক কবি।

তার কাব্যগ্রন্থ -
- বালুচর,
- রাখালী,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

বিখ্যাত গাথাকাব্যগুলো হলো-
- নকশীকাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে।

তার রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো-
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

নাট্যগ্রন্থ -
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধূমালা,
-পল্লীবধূ।

‘জীবন কথা’ হলো তার আত্মজীবনী।
‘যাদের দেখেছি’, ‘ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়’ হলো তার রচিত স্মৃতিকথা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১১,৫১১.
বেগম রোকেয়ার 'অবরোধবাসিনী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্য
  2. গদ্যগ্রন্থ
  3. ছোটগল্পের সংকলন
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

------------
তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৫১২.
'শ্রীরামপুর মিশন' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮০২ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮০০ সালে
  4. ১৮১০ সালে
ব্যাখ্যা

শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরি ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরি ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ,
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৫১৩.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. জননী
  2. বনি আদম
  3. জাহান্নাম হতে বিদায়
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের জন্য 'আদমজী সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

• ক্রীতদাসের হাসি:
- ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি আরব্য রজনী আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা-এর শেষ গল্প 'জাহাকুল আবদ'- এর অনুবাদ।
- রচনা এবং প্রকাশকাল অনুযায়ী ধারণা করা হয় এ উপন্যাসে রূপকারের আইয়ুবি স্বৈরশাসনের স্বরূপ এবং পূর্ব বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তর্সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি যেন মানব জীবনের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হাবশি গোলাম তাতরী, আব্বাসীয় খলিফা হারুণ অর রশিদ, মেহেরজান। 

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- বনি আদম, 
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- আর্তনাদ,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫১৪.
'পঞ্চতন্ত্র' ও 'ময়ুরকন্ঠী' গ্রন্থদ্বয়ের লেখক কে?
  1. সৈয়দ আহমদ
  2. সৈয়স আলী আহসান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'পঞ্চতন্ত্র' 'ময়ুরকন্ঠী' গ্রন্থদ্বয়ের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী। 

- শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে।
- তিনি সত্যপীর, রায়পিথোরা, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ,  শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন। এছাড়া  মোহাম্মদী, চতুরঙ্গ, মাতৃভূমি,  কালান্তর, আল-ইসলাহ্  প্রভৃতি সাময়িক পত্রেরও তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন।

- গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী
- দেশে-বিদেশে (১৯৪৯),
- জলে-ডাঙায় (১৯৬০);
- উপন্যাস
- অবিশ্বাস্য (১৯৫৪),
- শবনম (১৯৬০),
- শহ্র-ইয়ার (১৯৬৯);

রম্যরচনা
- পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২),
 -ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২) 

ছোটগল্প
- চাচা-কাহিনী (১৯৫২),
- টুনি মেম (১৯৬৪)।

- মুজতবা আলীর ডি.ফিল অভিসন্দর্ভ The Origin of Khojahs and Their Religious Life Today (১৯৩৬) বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫১৫.
'আমরা অপেক্ষা করছি' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
'আমরা অপেক্ষা করছি' গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত 'আমরা অপেক্ষা করছি' একটি গল্পগ্রন্থ।
- গল্পগ্রন্থটি মিনি মাগনার, চুমকুড়ি হাওয়া নেই, মাটির তলার মাটি, সমুখে শান্তি পারাবার, পাব্লিক সার্ভেন্ট, অচিন পাখি, এই কয়েকটি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে।
- নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র, দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিবর্ণ নর-নারীর প্রেমহীনতা, অসুস্থ রাজনীতির ছোবলে সন্তানহারা পিতার শোক ইত্যাদি বিষয় গল্পগুলোতে ফুটে উঠেছে।

---------------------
হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক।
১১,৫১৬.
'অবকাশরঞ্জনী' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- নবীনচন্দ্র সেনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'অবকাশরঞ্জনী'।
- এটি তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মচিন্তামূলক ভাবধারার কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত ঐতিহাসিক আখ্যানকাব্য পলাশীর যুদ্ধ।
- তাঁর রচিত ত্রয়ীকাব্য হলোঃ
• রৈবতক,
• কুরুক্ষেত্র ও
• প্রভাস।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম 'আমার জীবন'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৫১৭.
'বছির ও আজহার' চরিত্র দুটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) বোবা কাহিনি
  3. গ) মধুমালা
  4. ঘ) পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
'বছির ও আজহার' চরিত্র দুটি জসিম উদ্‌দীন  এর ‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাসের অন্তর্গত।

‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাস
- জসীম উদ্দীন রচিত ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।। 
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই । নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।
• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র :
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

• ‘মধুমালা’, ‘বেদের মেয়ে’, ‘পদ্মাপাড়’ তাঁর রচিত নাটক সমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫১৮.
আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানচিত্র
  2. সন্ধ্যা
  3. অন্ধকার সিঁড়ি
  4. স্মৃতির মিনার
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দীন আল আজাদের 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি  'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

• তার রচিতঁ গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫১৯.
নিচের কোনটি কায়কোবাদ  রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়? 
  1. শ্মশান-ভস্ম
  2. অশ্রুমালা
  3. কুসুম-কোমল 
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ  রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- কুসুম-কোমল। 
- কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম- কুসুম -কানন। 

​• কায়কোবাদ:

- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

​• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,৫২০.
‘ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল’ গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা এবং রচয়িতার নাম কী?
  1. নাটক - মুনীর চৌধুরী
  2. উপন্যাস - হুমায়ুন আজাদ
  3. প্রবন্ধ - আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  4. উপন্যাস - শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধেদিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- একটি খুনের স্বপ্ন। 

হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:

- নারী,
- বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র,
- বাক্যতত্ত্ব,
- লাল নীল দীপাবলি,
- কতো নদী সরোবর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।
১১,৫২১.
‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মস্মৃতি
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

⇒ শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১১,৫২২.
‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কে বলেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। 

নারী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
 
• সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
 
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘নারী’ কবিতা।
১১,৫২৩.
"মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো" - কোন ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. শিশুতোষ গল্প 
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. আত্মজীবনী 
ব্যাখ্যা

• "মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো" - কবি আল মাহমুদ-এর লেখা একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
-----------------

• আল মাহমুদ:

- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• 'মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো' কাব্য:
'মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো' হলো বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কবি আল মাহমুদ-এর লেখা একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা তার কবিতায় গ্রামীণ জীবন ও নারীবাদী চেতনার পাশাপাশি রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়বস্তুর প্রতিফলন ঘটায় এবং এটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। 

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৫২৪.
'নীলদর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. পাদ্রি জেমস লং
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক 'নীলদর্পণ' বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ পরিচিত নাটক। ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।

- বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।

- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৫২৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
  2. ক্ষুধা ও আশা
  3. কর্ণফুলী
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত প্রথম উপন্যাস
- ১৯৬০ সালে 'পদক্ষেপ' পত্রিকার ঈদসংখ্যায় এ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- একে তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। একজন চিত্রশিল্পীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং তার জীবন ও প্রেমকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাসের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। এ সময়ে যাঁরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
- ছাত্রাবস্থায় আলাউদ্দিন আল আজাদ সংবাদপত্রে খন্ডকালীন চাকরি করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস।
১১,৫২৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) আরেক ফাল্গুন
  2. খ) আগুনের পরশমনি
  3. গ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আগুনের পরশমনি' এবং 'জোছনা ও জননীর গল্প' হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- সেলিনা হােসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬)।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচিত ও তার অব্যবহিত পরেই প্রকাশিত অন্যতম উপন্যাস - 'রাইফেল রোটি আওরাত'।
- উপন্যাসটি ১৯৭১ সালে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রচিত এবং এটিই মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম রচিত উপন্যাস।
- কিন্তু এটি প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।

১১,৫২৭.
‘কুমুদ’, ‘মতি’ চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) পদ্মানদীর মাঝি
  2. খ) পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. গ) অহিংসা
  4. ঘ) জননী
ব্যাখ্যা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
পুতুলনাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো :
- শশী,
- কুসুম,
- কুমুদ,
- মতি
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]

১১,৫২৮.
বাংলাদেশে নতুনধারার নাটকের পথিকৃৎ কে?
  1. সেলিম আল দীন 
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন রচনায় লিখেছেন-শিল্পাদর্শে তিনি ছিলেন দ্বৈতাদ্বৈতবাদী। আসলে, পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বৎসরের নন্দতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার পূর্বক তিনি বাংলা সাহিত্যে এক নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেছেন।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

উল্লেখ্য, 
"সেলিম আল দীন তাঁর নাটকে নিজের গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বাংলার লোকজ উপাদানকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চের পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর শিল্পচিন্তার নাম ছিল 'কথানাট্য'। প্রতিটি নাটকে কবিতা, গান, গল্প ও নাট্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন সেলিম আল দীন। তিনি লোকজ উপাদানের সঙ্গে মিথ বা পুরাণকেও অসাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন।"
সুতারাং বলা যায় যে, সেলিম আল দীন বাংলাদেশে নতুনধারার নাটকের পথিকৃৎ।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা। 

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১১,৫২৯.
'দিবারাত্রির কাব্য' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৩০.
'ব্যোমকেশের ডায়েরি' কার রচনা?
  1. শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ঐতিহাসিক উপন্যাস, ইতিহাশ্রয়ী গল্প, সামাজিক গল্প, কবিতা সাহিত্যের প্রায় শাখাতেই বিচরণ করছেন।
- তার জন্ম উত্তর প্রদেশের জৌনপুর শহরে।
- তিনি কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে আইন নিয়তে পড়াশোনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- ব্যোমকেশের ডায়েরি,
- ব্যোমকেশের কাহিনি,
- ব্যোমকেশের গল্প,
- দুর্গরহস্য,
- রিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৫৩১.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নাগরিক উপন্যাস কোনটি?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. আরণ্যক
  3. শাদা হাওয়া
  4. দৃষ্টি প্রদীপ
ব্যাখ্যা
• 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অন্যদিক, 
• অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রভৃতি আঞ্চলিক উপন্যাস হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
• 'আরণ্যক' ও 'দৃষ্টি প্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৩২.
বিষ্ণু দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চোরাবালি
  2. রুচি ও প্রগতি
  3. উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. বন্ধু বিয়োগ
ব্যাখ্যা
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থে:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

তাছাড়া,
• ‘বন্ধু বিয়োগ’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৩৩.
‘প্রবোধ প্রভাকর' – গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত গ্রন্থ সমূহঃ রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (সম্পাদনা, ১৮৩৩), প্রবোধ প্রভাকর, হিতপ্রভাকর, বোধেন্দুবিকাশ। তার সম্পাদিত পত্রিকা সংবাদ প্রভাকর। (১৮৩১)। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১১,৫৩৪.
মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1.  বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
• বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা। তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী ও ব্যবসায়ী। ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৩৫.
ইমদাদুল হকের উপন্যাস নিচের কোনটি?
  1. জোহরা
  2. মানবজমিন
  3. সারাবেলা
  4. উত্তম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত উপন্যাস ‘সারাবেলা’।

• ইমদাদুল হক মিলন:

-  জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য। 

•তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি, 
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জোহরা উপন্যাসটি মোজাম্মেল হক রচনা করেন। 
- 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৩৬.
সিকান্‌দার আবু জাফর রচিত বিখ্যাত গান কোনটি?
  1. পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল
  2. মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি
  3. আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই
  4. নোঙর তোল তোল
ব্যাখ্যা
• সিকান্‌দার আবু জাফর রচিত বিখ্যাত গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই

অন্যদিকে,
- ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল’ গানটির রচয়িতা - গোবিন্দ হালদার।
- ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটির রচয়িতা - গোবিন্দ হালদার।
- ‘নোঙর তোল তোল’ গানটির রচয়িতা - নঈম গহর।

• সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
-  তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর, 
- বৈরীবৃষ্টিতে, 
- তিমিরান্তক, 
- কবিতা, 
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান, 
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মহাকবি আলাওল।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে, 
- পূরবী, 
- নবী কাহিনী।

উৎস: 
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম রিপোর্ট।
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮।
১১,৫৩৭.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সরদার জয়েন উদ্দীন
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

- সিরাজুল ইসলাম মূলত অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- 'গণতন্ত্রের সন্ধানে' তাঁর রচিত প্রবন্ধ।
- তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ অন্বেষা, দ্বিতীয় ভুবন, নিরাশ্রয় গৃহী, আরণ্যক দৃশ্যাবলী, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, বাঙালিকে কে বাঁচাবে, নেতা জনতা ও রাজনীতি, ভয় পেয়ো না বেঁচে আছি ইত্যাদি।
- 'বাবুলের বেড়ে ওঠা' তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।
- 'দরজাটা খোলো' তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৫৩৮.
'বাদশাহ নামদার' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
বাদশাহ নামদার হুমায়ূন আহমেদ রচিত বাংলা ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ২০১১ সালে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়।
- বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সেরা সৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
- হুমায়ূন আহমেদ বাদশাহ নামদার বইটি লেখার সময় গুলবদন বেগম রচিত হুমায়ুন-নামা এবং জওহর আফতাবচির তাজকিরাতুল ওয়াকিয়াত গ্রন্থ থেকে ইতিহাসের ঘটনাবলি নিয়েছেন। আফতাবচি সম্রাট হুমায়ুনকে পানি পান করাতেন।
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক এর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা প্রভৃতি মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (অপ্রকাশিত-পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৩৯.
"নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার" চরিত্র দুটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. রেইনকোট
  3. মিলির হাতে স্টেনগান
  4. খােয়াবনামা
ব্যাখ্যা
'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- রেইনকোট' গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। পরে এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। এ গল্পের পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনাসমগ্র ১ থেকে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে গল্পটি রচিত।
- নুরুল হুদার জবানিতে গল্পের অধিকাংশ ঘটনা বিবৃত হয়েছে। বিবৃত হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র।
- ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কলেজের শিক্ষকদের তলব করে এবং তাদের মধ্য থেকে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৪০.
শিশির ও বনমালী কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) হৈমন্তী
  2. খ) বনফুল
  3. গ) মানসী
  4. ঘ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ। 

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। - আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

• রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ হলো:
- বনফুল
- মানসী
- চিত্রা


উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১১,৫৪১.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি -
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. কায়কোবাদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে সনেট রচনা করেন। এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন, 
- অশ্রুমালা, 
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির, 
- অমিয়ধারা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৪২.
’বহ্নিবলয়’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• ’বহ্নিবলয়’ উপন্যাসটির রচয়িতা- নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

 তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৫৪৩.
'মরণ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. বলাকা
  3. সোনার তরী
  4. ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
ব্যাখ্যা

"ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী" কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্ক্তি: "মরণ রে, তুহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৫৪৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী’র উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) পঞ্চতন্ত্র
  2. খ) অবিশ্বাস্য
  3. গ) চাচা কাহিনী
  4. ঘ) জলে-ডাঙায়
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০); উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম; রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৪৫.
'ছত্রপতি শিবাজী' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সংগীতস্রষ্টা, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যপরিচালক ও নট। বাংলা থিয়েটারের স্বর্ণযুগ মূলত তাঁরই অবদান। তিনি অনেক নাটক রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো- ঐতিহাসিক নাটক- সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী। সামাজিক নাটক- প্রফুল্ল, মায়াবসান, বলিদান। পৌরানিক নাটক- রাবণবধ, অভিমন্যুবধ, সীতার বনবাস, লক্ষ্ণণ বর্জন, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, জনা। চরিত্র নাটক-্ চৈতন্যলীলা, বিল্বমঙ্গল ঠাকুর, শঙ্করাচার্য। রোমান্টিক নাটক- মুকুলমুঞ্জরা, আবু হোসেন।
১১,৫৪৬.
জহির রায়হান তাঁর রচিত কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. হাজার বছর ধরে
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. বরফ গলা নদী
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাস:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৪৭.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. জার্মানির শহরে বন্দরে
  3. রাশিয়ার চিঠি
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
• ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- জার্মানীর শহরে বন্দরে -  জসীম উদদীন।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৪৮.
নিচের কোন লেখকের সাহিত্যিক নাম 'আবুল হাসান'?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল হোসাইন
  4. আবুল হাসান মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া।
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৪৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ-
  1. সেঁজুতি
  2. পুনশ্চ
  3. কণিকা
  4. খেয়া
ব্যাখ্যা
⇒ 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'পুনশ্চ' (১৯৩২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'অসংকুচিত গদ্যরীতিতে কাব্যের অধিকারকে অনেকদূর বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব এই আমার বিশ্বাস এবং সেই দিকে লক্ষ্য রেখে এই গ্রন্থে প্রকাশিত কবিতাগুলি লিখেছি।'
- এই কাব্যের অর্ধপৃষ্ঠা বিশিষ্ট একটি ভূমিকা লেখেন কবি।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্যকবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি ইত্যাদি।

---------------------
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৫০.
তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত সেলিনা হোসেনের উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  2. খ) পোকা মাকড়ের ঘরবসতি
  3. গ) যাপিত জীবন
  4. ঘ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত), যাপিত জীবন (৪৭ থেকে ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত), পোকামাকড়ের ঘরবসতি (শাহ পরীর দ্বীপের মানুষদের নিয়ে লেখা) ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১১,৫৫১.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কার লেখা?
  1. ইব্রাহীম খাঁ
  2. ডি. এল. রায়
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ': 
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৫৫২.
নিচের কোন কবিকে ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী্র  উল্লেখযোগ্য পুরস্কার:- ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৯৭০ সালে ভারত সরকার বুদ্ধদেব বসুকেও ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

 
১১,৫৫৩.
নিচের কোন সাহিত্যিককে ধূসরতার কবি বলা হয়?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
ধূসরতার কবি বলা হয়।
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের।
- কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে।
- তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার ।
১১,৫৫৪.
মহাকাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত -
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তাঁকে বলা হয় মহাকাব্যের কবি।
- 'বাংলার মিল্টন' তাঁর উপাধি।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী, 
- দশমহাবিদ্যা, 
- চিত্তবিকাশ, 
- চিন্তাতরঙ্গিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৫৫.
কত সালে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন?
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০২ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮০৫ সালে
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৫৬.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
•  উপন্যাসটি জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত। 
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থের নাম:
- নয়াবসত
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৫৭.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কবিতা কোনটি?
  1. ক) আবার আসিব ফিরে
  2. খ) বনলতা সেন
  3. গ) বর্ষ-আবাহন
  4. ঘ) হায় চিল
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বর্ষ-আবাহন

ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে
দীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগে
প্রভাত রবি উঠল জেগে
দিব্য পরশ পেয়ে,
নাই গগনে মেঘের ছায়া
যেন স্বচ্ছ স্বৰ্গকায়া
ভুবন ভরা মুক্ত মায়া
মুগ্ধ-হৃদয় চেয়ে।
অতীত নিশি গেছে চলে
চিরবিদায় বার্তা ব’লে,
কোন্‌ আঁধারের গভীর তলে
রেখে স্মৃতিলেখা,
এসো এসো ওগো নবীন,
চলে গেছে। জীৰ্ণ মলিন–
আজকে তুমি মৃত্যুবিহীন
মুক্ত সীমারেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৫৮.
কোনটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত স্মৃতি চারণমূলক রচনা?
  1. ক) কণ্ঠমালা
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) মাধবীলতা
  4. ঘ) রামেশ্বরের অদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
- ‘পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত স্মৃতি চারণমূলক রচনা। 
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য হলো 'বন্যেরা বনে সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'
- লেখক চাকরিসূত্রে বিহারে থাকা অবস্থায় এই ভ্রমন-অভিজ্ঞতা নিয়ে এটি রচনা করেন।
- কথিত হয় যে,  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পাঠ করে ভ্রমণে উৎসাহিত হয়েছিলেন।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- ১৮৩৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- প্রথমে তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ভ্রমর (১৮৭৪) সম্পাদনা করেন।
- সঞ্জীবচন্দ্র Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities (১৮৬৪) গ্রন্থে উপনিবেশিক শাসনের অধীনে বাংলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ধারাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
- ১৮৮৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য রচনাসমূহ:
 » কণ্ঠমালা
 » মাধবীলতা
 » রামেশ্বরের অদৃষ্ট
 » দামিনী
 » সৎকার
 » বাল্যবিবাহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৫৯.
বাংলা ভাষায় চলিত রীতির উদ্ভাবক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধিক হিসেবে পরিচিত।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- চলিত রীতিতে তার প্রথম গদ্যরচনা: বীরবলের হালখাতা।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১১,৫৬০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পথের দাবী' একটি -
  1. ক) সামাজিক উপন্যাস
  2. খ) রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
পথের দাবী' (১৯২৬) রাজনৈতিক উপন্যাস।

• কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ।  কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৬১.
'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা -
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'উজানে মৃত্যু' নাটকের রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৬২.
জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত 'কবর' কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
  1. মুক্তাক্ষর
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. অক্ষরবৃত্ত
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্‌দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থ থেকে 'কবর' কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে।
- জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কবর
জসীম উদ্‌দীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। এবং দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৫৬৩.
জসিমউদ্দিন রচিত ভ্রমণকাহিনী নয় নিম্নের কোনটি?
  1. ক) চলে মুসাফির
  2. খ) জলে-ডাঙায়
  3. গ) হলদে পরীর দেশে
  4. ঘ) যে দেশে মানুষ বড়
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন:
- কবি, শিক্ষাবিদ জসীমউদ্দীন এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে । তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। 
- ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯২১), রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই.এ (১৯২৪) ও বি.এ (১৯২৯) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তিনি এম.এ (১৯৩১) পাস করেন।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী
- চলে মুসাফির (১৯৫২)
- হলদে পরীর দেশে ( ১৯৬৭)
- যে দেশে মানুষ বড় (১৯৬৮)
- জার্মানীর শহরে বন্দরে (১৯৭৫)

উল্লেখ, 'জলে-ডাঙায়' সৈয়দ মুজতয়া আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৬৪.
'সিন্দাবাদ' ফররুখ আহমেদ রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. নৌফেল ও হাতেম
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
• 'সিন্দাবাদ' কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- সিন্দাবাদ,
- পাঞ্জেরি,
- লাশ,
- আউলাদ,
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

-------------
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৬৫.
'আগুনপাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
আগুনপাখি:
- 'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
- এর মধ্য দিয়েই লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসটিতে প্রথাগত চরিত্র-নাম নেই। তবে সব চরিত্রই বোঝা যায়। এগুলো ত্রিমাত্রিক এবং দ্বন্দ্বসংকুল।
- মেঝ বউ  চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
১১,৫৬৬.
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাসের নায়ক কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. নুরুল হুদা
  3. আনাস
  4. হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা

বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 
- করাচীতে অবস্থানকালে কাজী নজরুল এই উপন্যাসটির রচনা শুরু করেন।
- এই উপন্যাসটি প্রথমে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- বাঁধন-হারা উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো 
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সোফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি পরিচিত ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে,
- মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আনাস।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক - জাহাঙ্গীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১১,৫৬৭.
আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পশ্চিমের যাত্রী
ব্যাখ্যা

• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

------------------------
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছিলেন। তাঁর আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

অন্যদিকে,
• পল্লিকবি জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি- 'যে দেশে মানুষ বড়'। তিনি ভ্রমণ করেছিলেন রুশদেশে। লিখেছেন বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।

• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - শহীদুল্লাহ কায়সার।  বইটি ককেশাস পাদদেশ থেকে শুরু করে পামীর মালভূমি, হিন্দুকুশ ও হিমালয়ের মধ্য দিয়ে হরপ্পা-মহেনজোদাড়োর পূর্বসূরিদের সাথে মিলিত হওয়া এক ঐতিহাসিক পথকে তুলে ধরে, যা সভ্যতার দীর্ঘ যাত্রাপথের সাক্ষী। 

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি 'পশ্চিমের যাত্রী'। এটি ইউরোপের ভ্রমণকাহিনি।

------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৫৬৮.
মধুসূদন দত্ত রচিত 'বীরাঙ্গনা'-
  1. মহাকাব্য
  2. পত্রকাব্য
  3. গীতিকাব্য
  4. আখ্যানকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদ্স’ কাব্যের অনুসরণে ‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

- ‘হেক্টরবধ’ গদ্যে রচিত অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৬৯.
নিম্নের কোন সাহিত্যিক ‘পঞ্চকবি’র অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শওকত ওসমান 
  3. নজরুল ইসলাম
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান ‘পঞ্চকবি’র অন্তর্ভুক্ত নন।

পঞ্চকবি: 
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও রজনীকান্ত সেন— এ পাঁচজন কবি ও গীতিকারকে ‘পঞ্চকবি’ বলা হয়।
- শওকত ওসমান এদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 
- এদের প্রত্যেকেই দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিক ভাবনায় অনুপ্রাণিত সঙ্গীত রচনা করেছেন।
- রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে দার্শনিকতা;
- নজরুলের গানে পাওয়া যায় বিদ্রোহের ছোঁয়া;
- দ্বিজেন্দ্রলালের গানে বিরাজমান ঐতিহাসিক চেতনা;
- অতুলপ্রসাদের গানে রয়েছে ভক্তি ও প্রেমের অপূর্ব সংমিশ্রণ ;
- আর রজনীকান্তের গানে ছিল গভীর আধ্যাত্মিকতা ও আত্মসমর্পণবোধ।
- এদের সম্মিলিত অবদানই বাংলা কাব্যসঙ্গীতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। 
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১১,৫৭০.
কোনটি আনোয়ার পাশার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত 
  2. চিলে কোঠার সেপাই
  3. আরেক ফাল্গুন 
  4. নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত হচ্ছে আনোয়ার পাশার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

রাইফেল রোটি আওরাত
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- অন্যান্য চরিত্র: ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত।
- ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- তিনি বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম: ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

সাহিত্যকর্ম:

উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী,
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)। 

কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী,
- অন্যান্য কবিতা। 

অন্যদিকে, 
-  উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'চিলে কোঠার সেপাই' (১৯৮৭)।
- জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন এবং এর পরবর্তীকালের ঢাকা শহরের পরিস্থিতি।

উৎস:
1) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
2) বাংলাপিডিয়া। 

১১,৫৭১.
'সাবিত্রী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতার নাম -
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
‘সাবিত্রী উপাখ্যান’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি। উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৭২.
বাংলা চলিতরীতির মুখপত্র বলা হয় কোন পত্রিকা কে?
  1. প্রগতি
  2. ভারতী
  3. সবুজপত্র
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
- সবুজপত্র  বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
-এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন। 
- মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়  ও সুরেশ চক্রবর্তী সম্পাদনার কাজে সাহায্য করেন।  
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে এক নতুন সাহিত্যগোষ্ঠী এবং সাকহিত্যিক আদর্শ গড়ে উঠে। 
- এই পত্রিকাকে অবলম্বন করে চলিতরীতি বাংলাগদ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 
- সবুজপত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তা ও ভাষা রীতির আধুনিকতার বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়েছিলো। 
- এরপর থেকে রবীন্দ্রনাথ চলিত রীতির গদ্য লেখায় অধিক উৎসাহী হন।  

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া] 
১১,৫৭৩.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একজন বাঙালি কবি ও ছড়াকার। তার কবিতায় ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য তাকে ছন্দের যাদুকর নামে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, ফুলের ফসল, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, মনিমঞ্জুষা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদ সম্পাদনা- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল।
১১,৫৭৪.
'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2.  মীর মশাররফ হোসেন
  3. আবুল হোসেন
  4. শেখ আলিমুল্লাহ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকা:
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'। এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। ১২৩৭ বঙ্গাব্দের ২৫শে ফাল্গুন অর্থাৎ ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ হলেও খুব অল্প দিন পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ, প্রকাশিত হতো কলকাতার কলিঙ্গা নামক স্থান থেকে। পত্রিকাটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না।

অন্যদিকে,
• ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

------------------------
• 'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- ‘হিতকরী’র প্রথম প্রকাশ ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১৫ই বৈশাখ।‘হিতকরী’ প্রথমে পাক্ষিক হিসাবে প্রকাশিত হলেও চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে ‘দাশাহিকে’ (দশ দিন অন্তর) রূপান্তরিত হয়। ‘হিতকরী স্থায়ী হয়েছিল পাঁচ বছর, প্রকাশ ছিল অনিয়মিত। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

---------------------
• ‘শিখা’ পত্রিকা
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র ‘শিখা’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন। 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৭৫.
’শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নীরদ চন্দ্র চৌধুরী
  3. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. রামানন্দ চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে - তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন - যোগানন্দ দাস।
- এছাড়াও, নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৫৭৬.
বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. সীতারাম
  3. বিষবৃক্ষ
  4. ইন্দিরা
ব্যাখ্যা
• সীতারাম:
- 'সীতারাম' (১৮৮৭) বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস।
- সীতারাম একটি ঐতিহাসিক চরিত্র।
- উপন্যাসে ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাও আছে।
- মূলত এটি এক ব্যক্তির পারিবারিক জীবনের এবং আদর্শের ট্র্যাজেডি।
- বঙ্কিমের ধর্মচিন্তা এই উপন্যাসের গঠনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে।
- তবে চরিত্রসৃষ্টির নৈপুণ্য এবং কাহিনির বর্ণনা কুশলতায় বঙ্কিমের প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট।
- তাঁর 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরাণী' ও 'সীতারাম'কে 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলা হয়।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা।

উৎস: 'সীতারাম' উপন্যাস।
১১,৫৭৭.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫২ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৫৩ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে কুমারখালি বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৭৮.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসুর উপন্যাস নয়?
  1. তিথিডোর
  2. কালো হাওয়া
  3. নির্জন স্বাক্ষর
  4. রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি প্রকাশনা।

১১,৫৭৯.
‘শ্যামলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- ‘শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
- এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিত পক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৮০.
কোন পত্রিকার মাধ্যমে রবীন্দ্রযুগের সূত্রপাত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. কল্লোল 
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত ১৮৭৭ সালে প্রথম প্রকাশিত ‘ভারতী’ পত্রিকার মাধ্যমে রবীন্দ্রযুগের সূত্রপাত।
- বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণকুমারী দেবী, হিরন্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ, সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ও মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
-  পত্রিকাটিকে কেন্দ্ৰ করে ‘ভারতী গোষ্ঠী' নামে সাহিত্যিক চক্র গড়ে ওঠে—সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ অনেক কবিসাহিত্যিক এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এই পর্যায়ের লেখকগণ চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে মৌলিকতার তেমন পরিচয় দিতে পারেন নি, রবীন্দ্র ছায়াতেই তাঁদের বিকাশ ঘটেছিল।

- জীবেন্দ্র সিংহ রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ভারতী নিঃসন্দেহে উঁচু জাতের পত্রিকা; দীর্ঘদিন তা বাঙালি পাঠকের সেবা করেছে, বহু নবীন লেখক সৃষ্টি করেছে, অপরিমিত সাহিত্যসম্ভার পরিবেশন করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে, ফলে বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিহাসে ভারতী বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১,৫৮১.
কোনটি কাব্যনাট্য?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বীরাঙ্গনা
  3. বিসর্জন
  4. নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
- নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' একটি সার্থক কাব্যনাট্য।
--------------
• কৃষ্ণকুমারী: 

- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন। 

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস্স' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠিত নয়।

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক — নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৫৮২.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল সুর হচ্ছে -
  1. ক) বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ
  2. খ) স্বরাজ প্রতিষ্ঠা
  3. গ) প্রেম
  4. ঘ) প্রকৃতি বন্দনা
ব্যাখ্যা
বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২১ সালে রচিত কবিতাটি ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতার মূল সুর হলো বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ। এই কবিতায় নজরুল তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, যেখানে তিনি অত্যাচার, শোষণ, ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালে, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির মনোবলকে উজ্জীবিত করতে বিশাল প্রভাব ফেলে।

কাজী নজরুলের "বিদ্রোহী" কবিতা এই আন্দোলনের মানসিকতাকে প্রেরণা দিয়েছিল, যদিও এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বরাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নিয়ে রচিত নয়। কবিতাটি মূলত মুক্তি, সাম্য, এবং শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা।
১১,৫৮৩.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন কোন উপাধি পান?
  1. পণ্ডিতরাজ
  2. রায়বাহাদুর
  3. কবিরাজ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার ছিলেন।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৮৪.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে? 
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- এটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।

•  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৮৫.
'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. কামিনী রায়
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. কুসুম কুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর তাঁর জন্ম।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৮৬.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- 'বাংলা সাহিত্যের কথা' প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত প্রবন্ধের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা সুকুমার সেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,৫৮৭.
হাসান আজিজুল হক রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বৃত্তায়ন
  2. আগুনপাখি
  3. শিউলি
  4. শামুক
ব্যাখ্যা

• ‘শামুক’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হক রচিত প্রথম উপন্যাস ‘শামুক’ রচনা করেন ১৯৫৭ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর।

এই উপন্যাস লেখার একটি নেপথ্য কাহিনি আছে, যা লেখন গ্রন্থের ভূমিকায় বিবৃত করেছেন-
১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বরে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরে ‘উল্টোরথ’ পত্রিকার তরফ থেকে ‘মানিক স্মৃতি উপন্যাস’ প্রতিযোগিতার জন্যে নবীন লেখকদের কাছে উপন্যাস জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। হাসান আজিজুল হক তখন সেই ১৯৫৭ সালে একটি উপন্যাস লিখে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেন, যার নাম ‘শামুক’। দপ্তরে জমা পড়া ৩০০ পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথম দফায় ১০০টি রচনা বাছাই করা হয়। মনে রাখতে হবে, বিচারকমণ্ডলীতে তখনকার বিখ্যাত সব কথাসাহিত্যিকেরা ছিলেন। যা হোক ওই ১০০টা উপন্যাস থেকে প্রথম দফায় ২৮টা এবং পরে ৭টা বাছাই করা হয়। ওই সাতটা উপন্যাসের মধ্যে হাসান আজিজুল হকের লেখাটি ছিল।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি তখন তিনি আজিজুল হক। ওই নামে আরেকজন লেখক ছিলেন বলে ষাট দশকের গোড়ায় নামের আগে 'হাসান' শব্দটি বসান ।
 
যথাসময়ে 'মানিক স্মৃতি পুরস্কার'-এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথম হন মতি নন্দী। তাঁর উপন্যাসের নাম ‘নক্ষত্রের রাত’, দ্বিতীয় হন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উপন্যাসের নাম ছিল ‘সমুদ্র মানুষ’। তৃতীয় হন পূর্ণেন্দু পত্রী তাঁর ‘তিন নম্বর ছাগলছানার গল্প’-র জন্যে। চতুর্থ হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক। কিন্তু পুরস্কার না পেলে যা হয়, তাই হল;  অর্থাৎ তাঁর নাম কেউ জানল না, অচিরেই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেলেন তিনি।

১৯৬০ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত ‘শকুন’ গল্পের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হকের লেখক হিসেবে নতুন করে অভিযাত্রা শুরু হলে তিনি রাজশাহীর পূর্বমেঘ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতে থাকেন। ওই পত্রিকার সম্পাদকদ্বয় মুস্তাফা নূর উল ইসলাম ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর প্রবল চাপের মুখে ওই ‘শামুক’ উপন্যাসটিকে পুনর্লিখন করে পত্রিকা দপ্তরে জমা দেন যা ওই পত্রিকার পরপর তিনটি সংখ্যায় ছাপা হয়।

এরপরেই ওটা ক্রমশ বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে থাকে। অনেকদিন পরে লেখকের ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও উপন্যাস আকারে 'শামুক' গ্রন্থাকারে ২০১৫ সালে প্রকাশিক হয়। উপন্যাস লেখার আটান্ন বছর পরে সেটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যটি অভিনব এবং কৌতূহলোদ্দীপক। বইয়ের ভূমিকায় অকপটে লেখক ওই লেখাটির জন্মকাহিনি বিবৃত করেন।

-------------------
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাসসূমুহ হলো:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘শামুক’ উপন্যাস।

১১,৫৮৮.
'নিতাই' কোন রচনার প্রধান চরিত্র?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. কালিন্দী
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

------------------------
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৮৯.
কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. আগমণী
  2. বিদ্রোহী
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা : প্রলয়োল্লাস। 

• কাজী নজরুল ইসলাম: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
১১,৫৯০.
কোনটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা
- ১৯৮৭ সালে সেলিনা হোসেন ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' রচনা করেন। 

সেলিনা হোসেন: 
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 

অন্যদিকে, 
- 'জীবন থেকে নেয়া' জহির রায়হানের রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র। 
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান' রচনা করেন সৈয়দ শামসুল হক। 
- 'আবার তোরা মানুষ হ' খান আতাউর রহমান পরিচালিত চলচ্চিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৯১.
'আমার জীবনী' কার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন ওমর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'আমার জীবনী' মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৫৯২.
নিচের কোনটি রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. একাত্তরের ঢাকা 
  2. ফেরারী সূর্য
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. নীল দংশন 
ব্যাখ্যা

• 'ফেরারী সূর্য' উপন্যাস:
- "ফেরারী সূর্য" হলো বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখিকা রাবেয়া খাতুন রচিত একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। যা ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল.
- ফেরারী সূর্য বইয়ের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, উপন্যাসের ব্যাপ্তিঃ '১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত'। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের পুরো নয় মাসের অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের যাপিত জীবনের প্রতিচিত্র তুলে ধরেছেন রাবেয়া খাতুন।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
কাহিনির পুরোভাগ আবর্তিত হয়েছে করিম সাহেব নামক এক সরকারি চাকুরিজীবীর পরিবারকে ঘিরে। তাঁর বড় ছেলেও সরকারি চাকরিজীবী। শুরুতে যে থাকে পাকিস্তানের অন্ধভক্ত। একসময় তার চক্ষু খুলে যায়। পরিবারের ছোট ছেলে আবেদ, সারাদিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যস্ত। বড়ভাইয়ের সাথে প্রায়শই তার কথা কাটাকাটি হয়। আবেদের বোন জাকিয়ার স্বামী রকীব, ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার। গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করায় তাকে অনেক বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের প্রাক্কালে অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের মত তাকেও বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্য করে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসররা। পরিবারের মেঝোছেলে মুক্তিযোদ্ধা আশেক, উপন্যাসের নায়ক সে-ই। শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলোতে আশেক-রাশার প্রেমের উপাখ্যান দিয়েই সাজানো হয়েছে ফেরারী সূর্যের আপাদমস্তক কাহিনি।

অন্যদিকে, 
• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'নীল দংশন' লিখেছেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।

উৎস: 'ফেরারী সূর্য' উপন্যাস রাবেয়া খাতুন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,৫৯৩.
'আমাকে কি মাল্য দেবে দাও'- পঙ্‌ক্তিটি কে লিখেছেন??  
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  2. আল মাহমুদ 
  3. মহাদেব সাহা 
  4. নির্মলেন্দু গুণ 
ব্যাখ্যা

• কবিতা- আমাকে কি মাল্য দেবে দাও।
• কবি- নির্মলেন্দু গুণ।

"তোমার পায়ের নিচে আমিও অমর হব,
 আমাকে কী মাল্য দেবে দাও।
এই নাও আমার যৌতুক, এক বুক রক্তের প্রতিজ্ঞা।
ধুয়েছি অস্থির আত্মা শ্রাবণের জলে, আমিও প্লাবন হব,
শুধু চন্দনচর্চিত হাত একবার বোলাও কপালে।
আমি জলে
স্থলে
অন্তরীক্ষে উড়াব গাণ্ডীব,
তোমার পায়ের কাছে নামাবো পাহাড়।
আমিও অমর হব, আমাকে কী মাল্য দেবে দাও"।
---------------------------------------
‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’:
- ‘আমাকে কি মাল্য দেবে দাও’ কবিতাটি নির্মলেন্দু গুণের রচনা।
- এটি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতায় শহীদদের আত্মত্যাগ, বীরত্ব ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতায় “মাল্য” প্রদানের মাধ্যমে শহীদদের বীরত্বকে সম্মান জানানো হয়েছে। 
-------------------------
নির্মলেন্দু গুন:
-  নির্মলেন্দু গুন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- নিশিকাব্য।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।
---------------------------------
উল্লেখ্য, 
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ লিখিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা হচ্ছে- চিঠি।
- আল মাহমুদ লিখিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা হচ্ছে- একুশের কবিতা।
- মহাদেব সাহা লিখিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা হচ্ছে- একুশের গান। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক ইনকিলাব;
বাংলাপিডিয়া। 

১১,৫৯৪.
‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রলয় শিখা
  2. সর্বাহারা
  3. অগ্নিবীণা
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' কবিতা: 
- ‘নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হচ্ছে ‘সাম্যবাদী’।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। 

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।

================
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১১,৫৯৫.
'জীবন কথা' স্মৃতিগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ জসীমউদ্দীন:  
- পল্লিকবি বলা হয়।   
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- এমএ পাস করার পর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে  রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী ছিলেন। 
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।

⇒ তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:   
• রাখালী (প্রথম),  
• নক্সী কাঁথার মাঠ,
• সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
• মা যে জননী কান্দে,
• বালুচর,
• ধানক্ষেত,
• মাটির কান্না,
• সুচয়নী ইত্যাদি। 

⇒ তাঁর স্মৃতিকথা: 

• যাঁদের দেখেছি,
• ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়,  
• জীবন কথা।   

⇒ ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।    

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৯৬.
‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।’- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসন রাজা
  2. খ) লালন শাহ্‌
  3. গ) পাগলা কানাই
  4. ঘ) রাধারমণ দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাউল সম্রাট লালন শাহ ১৭৭২ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে অন্য একটি মতে তার জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে।
তিনি প্রায় দুইহাজার বাউল গান রচনা করেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে লালনের আখড়া অবস্থিত।

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান-
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৫৯৭.
“ঝরাপালক” কাব্যের কবির নাম-
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। এই কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যর পর প্রকাশিত হয়েছিলো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৫৯৮.
নিচের কোনটি জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয়?
  1. ক) কখনো আসেনি
  2. খ) দেবদাস
  3. গ) সঙ্গম
  4. ঘ) জীবন থেকে নেয়া
ব্যাখ্যা
'দেবদাস'- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 
---------------------------
• জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম রঙিন ছবি সঙ্গম।
- জহির রায়হান পরিচালিত “জীবন থেকে নেয়া” চলচ্চিত্রটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

• জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭১) ছিলেন কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জহির রায়হান নামে পরিচিত হন।
- তিনি ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে
- আরেক ফাল্গুন 
- বরফ গলা নদী
- আর কতদিন 
- কয়েকটি মৃত্যু
- তৃষ্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৫৯৯.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক কোনটি?
  1. ক) সুচন নির্বাসনে
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) নুরলদীনের সারা জীবন
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে, 
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক - রক্তাক্ত প্রান্তর
রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিকায় সৈয়দ সামসুল হক রচিত নাটক - নুরুলদীনের সারা জীবন 
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক - সুবচন নির্বাসনে 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৬০০.
'ঘরে বাইরে’ - উপন্যাসের নারী চরিত্রের নাম কী?

  1. কুমোদিনী
  2. উর্মিলা
  3. লাবণ্য
  4. বিমলা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের নারী চরিত্রের নাম - বিমলা।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।
- স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত।
- একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস।
- 'ঘরে-বাইরে'র সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক; আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।
- এর উপসংহার ট্র্যাজিক ও অধিকতর শিল্পসম্মত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসে অন্যান্য চরিত্র:
- অতীন, এলা - চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- নীরজা, আদিত্য - মালঞ্চ উপন্যাসের চরিত্র।
- গোরা, মসুচরিতা, পরেশবাবু - গোরা উপন্যাসের চরিত্র।
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র- অমিত ও লাবণ্য
- শর্মিলা, উর্মিলা - দুইবোন উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন, কুমোদিনী - যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।