বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১৪ / ১৭৪ · ১১,৩০১১১,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১১,৩০১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাহিত্য সংকলন-
  1. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
  2. পিপাসা
  3. শহীদ মিনার
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে  প্রকাশিত হয় অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি ’।
- সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান ।
- প্রকাশক ছিলেন অন্যতম ভাষা সৈনিক মুহাম্মদ সুলতান।
- সংকলনটিতে স্থান পেয়েছিল প্রবন্ধ , গল্প,কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস

অন্যদিকে,
- বশীর আল হেলালের রচিত গ্রন্থ 'ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস,
- রফিকুল ইসলামের রচিত গ্রন্থ 'শহীদ মিনার' 
--------------------------------------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭৮ সালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের অধীন 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর পরিচালক নিযুক্ত হন।
১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প 'অশ্রুভেজা পথ চলতে' সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

•  তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর
- সীমান্ত শিবিরে
- আর্ত শব্দাবলী
- যখন উদ্যত সঙ্গীন
- দক্ষিণের জানালা
- শোকার্ত তরবারী
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩০২.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ছাড়পত্র
  2. খ) পূর্বাভাস
  3. গ) মিঠেকড়া
  4. ঘ) কয়েকটি কবিতা
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী একজন তরুণ কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা :
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- মিঠেকড়া (১৯৫১),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

• "কয়েকটি কবিতা" (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থটির লেখক সমর সেন (১৯১৬-৮৭)।
• তিনি মার্কসবাদী কবি হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৩০৩.
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ে লিখা হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) শ্যামল ছায়া
  2. খ) নন্দিত নরকে
  3. গ) শঙ্খনীল কারাগার
  4. ঘ) দেয়াল
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি অধ্যাপনা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক সাহিত্যর্চ্চায় মনোনিবেশ করেন।

- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

- তাঁর শেষ উপন্যাস দেয়াল (পটভূমি- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প।
- হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ বলা যায়।
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন তোমাদের জন্য ভালোবাসা।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার। 

• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- ১৯৭১ (১৯৯৩),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি।

 • স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩),
- আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪),
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ (১৯৮৪),
- আমার আছে জল (১৯৮৫), 
- নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭),
- এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০),
- বহুব্রীহি (১৯৯০),
- অয়োময় (১৯৯০), 
- শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০),
- আশাবরী (১৯৯১),
- কোথাও কেউ নেই (১৯৯২), 
- কবি (১৯৯৬), 

• সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা (১৯৭৩),
- তারা তিনজন। 

• আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন (১৯৮৯),
- আমার ছেলেবেলা। 

- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১১,৩০৪.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি কোন সাহিত্য সংকলনে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. নতুন কবিতা
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. সুন্দরম
  4. কণ্ঠস্বর
ব্যাখ্যা
• ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’- গানটির রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
- 'একুশের গান' শিরোনামে গানটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন গ্রন্থে। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উপর প্রকাশিত প্রথম সংকলন।
- এটির প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ এবং বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩০৫.
'কাব্যভূষণ ও বিদ্যাভূষণ' কার উপাধি?
  1. শেখ ফজলুল করিম
  2. কাজেম আল কোরায়েশী
  3. মালাধর বসু
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
- 'কাজেম আল কোরেশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি   - 'কাব্যভূষণ ও বিদ্যাভূষণ'। 

• অন্যদিকে: 
- 'মোহাম্মদ নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।  
- 'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান।  
-------------------------------- 
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৩০৬.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলি
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. মোহাম্মহ লুৎফর রহমান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি।
- এই বইটির জন্য তিনি বিখ্যাত হন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ সালে।
- এই বইতে অসাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে। 
-----------------

এস ওয়াজেদ আলি(১৮৯০-১৯৫১)  
প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এস ওয়াজেদ আলী ১৯১৯ সালে Bulletin of the Indian Rationalistic Society নামে একটি ইংরেজি জার্নাল এবং ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৯২৫ সালে তাঁর ছোটোগল্প ’রাজা’ ইসলাম দর্শন এ প্রকাশিত হয়। 
- লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;
গল্প
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);
উপন্যাস
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);
ভ্রমণকাহিনী
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩০৭.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ করেছেন কে?
  1. কবি আব্দুস সাত্তার
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান:
-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা, 
- নজরুল ইসলাম, 
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা, 
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩০৮.
‘নিখিলেশ' রবীন্দ্রনাথ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. ঘরে বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. চিত্রাঙ্গদা
  4. গোরা
ব্যাখ্যা

‘নিখিলেশ' রবীন্দ্রনাথ রচিত 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র। 
---------------------------------------------
• 'ঘরে বাইরে':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরে বাইরে উপন্যাসের মূল বিষয় হলো স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে ব্যক্তিগত প্রেম ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে- নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।
- উপন্যাসে নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপের জীবনকাহিনী দিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক, নারী-পুরুষের স্বাধীনতা, প্রেম ও আদর্শের সংঘাত তুলে ধরা হয়েছে।
- পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ও উদার রাজনীতির টানাপোড়েনের চিত্র ও তুলে ধরা হয়েছে।
---------------------------------  

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- বউঠাকুরানির হাট (প্রথম উপন্যাস);
- করুণা (অগ্রন্থিত উপন্যাস);
- শেষের কবিতা (কাব্যধর্মী উপন্যাস);
- গোরা (রাজনৈতিক উপন্যাস);
- চোখের বালি (মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস);
- ঘরে বাইরে (মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক উপন্যাস)।
---------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি- অমিত রায় ও লাবণ্য, কেতকী ও শোভনলাল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নৃত্যনাট্য 'চিত্রাঙ্গদা'-র চরিত্র- রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা এবং পাণ্ডব অর্জুন।
- 'গোরা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো- গোরা, সুচরিতা, বিনয়, ললিতা, আনন্দময়ী, পরেশবাবু, কৃষ্ণদয়াল, হরিমোহিনী ও মহিম। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১,৩০৯.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন কাব্যটি বাজেয়াপ্ত হয়?
  1. 'অনল প্রবাহ'
  2. 'আকাঙ্ক্ষা'
  3. 'উদ্বোধন'
  4. 'নব উদ্দীপনা'
ব্যাখ্যা
• ইসমাইল হোসেন সিরাজীর 'অনল প্রবাহ' গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যের পরিচয়:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
-----------------------

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন, 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা। 

• ভ্রমণ কাহিনী: 
 - তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৩১০.
তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) মোহম্মদী
  4. ঘ) ত্রিপুরা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
তিতাস একটি নদীর নাম - উপন্যাসটি মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫২ সাল মোতাবেক ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে, তা ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এর চারটি খন্ড। ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মান করেন। লেখকের অন্যান্য উপন্যাস- নয়া বসত, রামধনু, সাদা হাওয়া। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩১১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় কোনটিকে?
  1. নূরজাহান
  2. প্রতাপসিংহ
  3. মেবার পতন
  4. সাজাহান
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় - সাজাহান

সাজাহান:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।  
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত, 
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩১২.
'মজিদ' 'আমেনা' ও 'জমিলা' চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসের?
  1. ক) সারেং বৌ
  2. খ) লালসালু
  3. গ) পল্লীসমাজ
  4. ঘ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'লালসালু'।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৩১৩.
কোনটি গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত সনেট সংকলন?
  1. অশোক সংগীত
  2. সনেট পঞ্চশৎ
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. ফুলরেণু
ব্যাখ্যা
• ‘ফুলরেণু’ গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত সনেট সংকলন/কাব্যগ্রন্থ।

---------------------
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:

- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেট এর সংকলন।
• প্রমথ চৌধুীর মূলত গদ্যশিল্পী হলেও সনেট লেখায় পারদর্শিতা দেখিয়েছে। ‘সনেট পঞ্চশৎ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য সনেট কাব্যগ্রন্থ।
• কামিনী রায়ের সনেট সংগ্রহ ‘অশোক সংগীত’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১১,৩১৪.
নিচের যেটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রাপ্ত পুরস্কার বা উপাধি নয় -
  1. ক) পদ্মভূষণ
  2. খ) জগত্তারিণী পদক
  3. গ) একুশে পদক
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক
ব্যাখ্যা

১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জগত্তারিণী স্বর্ণপদকও নজরুলকে প্রদান করা হয়।
১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে দেওয়া হয়। 
এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। 


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩১৫.
'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  3. মুন্সি আহমদ আলী
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৩১৬.
বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র':
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।

অন্যদিকে,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ - রাজাবলি, হিতোপদেশ এবং প্রবোধচন্দ্রিকা।

রামরাম বসু:
- তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক। 
- কেরী সাহেবের মুন্শি‌ হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- লিপিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩১৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের নায়কের নাম 'জাহাঙ্গীর'?
  1. কুহেলিকা
  2. রিক্তের বেদন
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩১৮.
'পারস্য প্রতিভা' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. এস ওয়াজেদ আলী
  2. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• 'পারস্য প্রতিভা' গ্রন্থের রচয়িতা - 'মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ'।
- এই বইয়ের প্রবন্ধগুলো ১৯১৮ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে লেখা হয়েছিল।
- ১৯২৪ সালে এর প্রথম খণ্ড এবং ১৯৩২ সালে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়।

• মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ: 
- ১৮৯৮ সালের ২ মার্চ পাবনা জেলার শাহজাদপুরের ঘোড়াশালে তাঁর জন্ম। ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- আধুনিক বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম দার্শনিক ভাবনাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- দর্শনের বিভিন্ন দুরূহ বিষয় সাবলীল বাংলা গদ্যে প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন

তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পারস্য প্রতিভা (২ খণ্ড ১৯২৪, ১৯৩২),
- মানুষের ধর্ম্ম,
- কারবালা ও ইমামবংশের ইতিবৃত্ত,
- নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৩১৯.
নাটক ও প্রহসনে পার্থক্য -
  1. উপাখ্যান
  2. ব্যঙ্গ বিদ্রপ
  3. সংলাপ
  4. চরিত্র
ব্যাখ্যা
• নাটক অর্থ: সংলাপের আকারে রচিত এবং অভিনয়ের ‍উপযোগী দৃশ্যকাব্য।
• প্রহসন অর্থ: হাস্য রসাত্মক নাটক ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ নাটক।

⇒ প্রহসন:
প্রহসন হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা। এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়। পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত। বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

⇒ নাটক:
মঞ্চে অভিনেতা অভিনেত্রীদের সাহায্যে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তা হয় নাটক। মঞ্চে অভিনেতা-অভিনেত্রী কর্তৃক অভিনীত হবে এ উদ্দেশ্য নিয়েই নাট্যকার নাটক রচনা করেন। 'নাটক' শব্দটির মধ্যেই রয়েছে এ সত্যের ইঙ্গিত।

তাই বলা যায়, নাটক ও প্রহসনে পার্থক্য হলো ব্যঙ্গবিদ্রূপ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৩২০.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আহমদ ছফা
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি, প্রাচ্য ও প্রতিষ্ঠিত, জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গ্রানাডার শেষ বীর। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩২১.
’পরিচয়’ পত্রিকা কে সম্পাদনা করেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৩২২.
'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন কালীপ্রসন্ন সিংহ৷
অন্নদাশঙ্কর রায় - লীলাময় রায়;
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো;
কামিনী রায় - জনৈক বঙ্গমহিলা।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১১,৩২৩.
‘একুশের গান’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. সুকান্ত
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত (একুশের গান) শিরোনামের গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
→ হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
→ গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
→ ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩২৪.
'কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই' কাব্যগ্রন্থটি কার?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• শহীদ কাদরী স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
• বাংলা কবিতার পঞ্চাশের দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকারে।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ
- উত্তরাধিকার (প্রথম প্রকাশিত),
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৩২৫.
’বাকের ভাই’ চরিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের কোন নাটকে পাওয়া যায়?
  1. ক) আজ রবিবার
  2. খ) নক্ষত্রের রাত
  3. গ) কোথাও কেউ নেই
  4. ঘ) এইসব দিনরাত্রি
ব্যাখ্যা
আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে হুমায়ূন আহমেদ আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
• হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক প্রথম প্রহর (১৯৮৩, পরিচালনা- নওয়াজেস আলী খান)।
• তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক এইসব দিনরাত্রি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
- বহুব্রীহি (কমেডি),
- অয়োময় (সামাজিক-ঐতিহাসিক),
- কোথাও কেউ নেই (নাগরিক জীবনভিত্তিক),
- আজ রবিবার (পারিবারিক-সামাজিক),
- নক্ষত্রের রাত (আধুনিক জীবনসমস্যা) এবং অসংখ্য একক ও ধারাবাহিক নাটক।

কোথাও কেউ নেই নাটকের ’বাকের ভাই’ চরিত্রটি প্রবল  জনপ্রিয়তা লাভ করে । একটি নাটক ও তার চরিত্র কতটা বস্ত্তনিষ্ঠ ও জীবনধর্মী হলে দর্শক এ ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে, তা একমাত্র হুমায়ূন আহমেদের নাটকেই প্রতীয়মান হয়ে ওঠে।

• তাঁর কল্পনাশক্তি এক একটি চরিত্রকে পাঠকের অন্তরে ঠাঁই করে দেয়। হিমু, মিসির আলি, শুভ্র, বাকের ভাই - এরা এই শ্রেণির চরিত্র। এদের মধ্যে আছে প্রগাঢ় মানবিক মূল্যবোধ ও বৈশিষ্ট্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
১১,৩২৬.
বাপের বাড়ীতে যাইবার কালে কহিত ধরিয়া পা “আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।” পংক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. ক) জসীম উদ্দীন
  2. খ) আবদুল কাদির
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
'বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।' ____পঙক্তিটি কবি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতা থেকে নেওয়া।
 
'কবর' কবিতা
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে

কবর- কবিতা 
জসীমউদ্দীন
 
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, কবর- কবিতা: জসীমউদ্দীন। 
১১,৩২৭.
পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. ভোলা
  2. বরিশাল
  3. ফরিদপুর
  4. মাদারীপুর
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
-তার পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- এম. এ.  অধ্যয়নকালে তিনি ড. দীনেশ্চন্দ্র সেনের আনুকূল্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লিগীতি সংগ্রাহক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ই মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ ( E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন),
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১১,৩২৮.
আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক নন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- প্রেমেন্দ্র মিত্র।
-----------------------
• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩২৯.
বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা 'বার্তাবহ যন্ত্র' ছাপাখানা কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. রংপুর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'বার্তাবহ যন্ত্র' ছাপাখানা:
- বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৪৭ সাল।
- স্থান: রংপুর।
- এই ছাপাখানা হতে প্রকাশিত হতো বাংলাদেশের প্রথম সাময়িক পত্রিকা 'রঙ্গপুর বার্তাবহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৩০.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আনন্দের মৃত্যু
  2. তাস
  3. শীত বিকেল
  4. সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ নয় - সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য।
- এটি হাসান আজিজুল হক রচিত গল্পগ্রন্থ।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৩১.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন ইত্যাদি ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দোজখের ওম
  2. খোয়ারি
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

​- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার 'আনন্দ পুরস্কার' লাভ করেন।

​-----------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৩২.
কায়কোবাদ কোন কাব্য রচনার মাধ্যমে মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. বিরহবিলাপ
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ ও তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• কায়কোবাদ ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কায়কোবাদের কাব্যসাধনার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চাৎপদ মুসলমান সম্প্রদায়কে তার অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং তা পুনরুদ্ধারে উদ্বুদ্ধ করা।

• তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' হচ্ছে মহাকাব্য। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে জয়-পরাজয় অপেক্ষা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রকট হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘মহাশ্মশান’। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এবং এর দ্বারাই তিনি মহাকবিরূপে খ্যাতি অর্জন করেন। 

• বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৩৩.
পৃথিবীর প্রথম দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় ____ থেকে।
  1. ক) জার্মান
  2. খ) ইংল্যান্ড
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) গ্রীস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম দৈনিক পত্রিকা ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১১,৩৩৪.
‘একালের পান্তাবুড়ি’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) রূপকথা
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড (মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত), যাপিত জীবন, নীল ময়ূরের যৌবন, নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি, পোকামাকড়ের ঘরবসতি ইত্যাদি। গল্পঃ উৎস থেকে নিরন্তর, পরজন্ম, মানুষটি, মতিজানের মেয়েরা, অনূঢ়া পুর্ণিমা, একালের পান্তাবুড়ি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৩৩৫.
ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. নৌফেল ও হাতেম
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৩৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প কোনটি? 
  1. মহেশ 
  2. দত্তা
  3. বড়দিদি
  4. দেবদাস
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প হচ্ছে মহেশ। 

মহেশ
- মহেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি ছোটগল্প। 
- গল্পে ‘মহেশ’ একটি ষাঁড়ের নাম।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- গল্পের প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছেন গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন এবং জমিদার শিববাবু।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত 'মহাশ্বেতা' অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪), এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি.লিট. উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উপন্যাসসমূহ:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ। 

ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৩৭.
কোনটি আনিসুজ্জামান রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  2. কাল নিরবধি
  3. সত্যের সন্ধান
  4. স্বরূপের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান রচিত গ্রন্থ নয় - সত্যের সন্ধান
- এটি আরজ আলী মাতুব্বর রচিত গ্রন্থ।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৩৮.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' চরিত্রের দেখা মিলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. চরিত্রহীন
  3. পরিণীতা 
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

"চরিত্রহীন" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রের (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষ পর্যন্ত সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলো সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শ্বাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'শেষ প্রশ্ন' উপন্যাসের চরিত্র- কমল, শিবনাথ। 
• 'পরিণীতা' উপন্যাসের চরিত্র- ললিতা, চারুবালা, শেখর রায়। 
• 'গৃহদাহ উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- শেষ প্রশ্ন,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৩৯.
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. ডি. এল রায়
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' গানের সংকলনের রচয়িতা - অতুলপ্রসাদ সেন। 

অতুলপ্রসাদ সেন:

- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’ গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৪০.
'কবর‘- নাটকের রচিয়তা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৪১.
'দময়ন্তী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
'দময়ন্তী' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'দয়মন্তী' (১৯৪৩) কাব্যগ্রন্থে সংকলিত কবিতাগুলি ১৯৩৫-৪২ সালের মধ্যে রচিত হয়।
- এই কাব্যের মধ্যে বুদ্ধদেবের কবিতায় একটি পালাবদল লক্ষ করা যায়।
- দীপ্তি ত্রিপাঠীর মতে, এ কাব্যে বাৎসল্য ও শৃঙ্গার রসের যৌক্তিক মিলন ঘটেছে।

বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৪২.
"যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• "যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা"- চরণটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই চরণটি তাঁর 'আট বছর আগের একদিন'  কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- কল্যাণী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৪৩.
'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন

• জসীম উদ্‌দীন:

- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৪৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকটি কোন বালককে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. রতন
  2. মেহের আলি
  3. মধুসূদন
  4. অমল
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'।
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র 'কুমুদিনী, মধুসূদন' প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৪৫.
'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা, প্রেম যেখানে সর্বস্ব ইত্যাদি সৈয়দ আলী আহসানের কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৩৪৬.
‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই,
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’- কোন কবি তাঁর লেখায় এই আবেদন করেছিলেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কায়কোবাদ
  3. ফররুখ আহামেদ
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই,
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’- কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর রচিত একটি গীতিকায় ইচ্ছাটি প্রকাশ করেন।

--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৪৭.
অস্তিত্ববাদী দর্শন আছে কোন উপন্যাসে?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. চোখের বালি
  3. গৃহদাহ
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত চাঁদের অমাবস্যা একজন গৃহশিক্ষকের অস্তিত্ব সংকট ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার আখ্যান।
এই উপন্যাসের মৌল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে আরেফ আলীর মনোগত ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। অর্থাৎ, এটি একটি মনোসমীক্ষামূলক উপন্যাস।

উৎস : চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১,৩৪৮.
'ব্যাকরণ মঞ্জরি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাকরণ মঞ্জরি' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক
- এটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

মুহম্মদ এনামুল হক: 
- ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পণ্ডিত ব্যক্তি।  
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন। 
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্ত্ত ছিল ‘History of Sufism in Bengal’। 
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে ‘মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক’ প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য,
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব,
- ব্যাকরণ মঞ্জরি

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- গ্যাব্রোভোবাসীর রস-রসিকতা (এই ভ্রমণকাহিনিতে তিনি বুলগেরিয়ার 'গ্যাব্রোভো' অঞ্চলের অধিবাসীদের হাস্যপরিহাস বর্ণনা করেছেন),
- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৪৯.
নিম্নের কোন সাহিত্যিক মহাকাব্য রচনা করেছেন?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) দ্বীজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকব্যের কবি ছিলেন।
তার রচিত মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- কাব্যটি ১৮৭৫-১৮৭৭ সময়ে রচিত হয় যা দুই খন্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে সর্গ রয়েছে, ১-১১ পর্যন্ত। দ্বিতীয় খণ্ডে সর্গ সংখ্যা ১২-১৫।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। একসময় বাংলাদেশে কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের যা খ্যাতি তা মূলত এ কাব্যের জন্যই।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- চিন্তাতরঙ্গিণী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৫০.
'তত্ত্বরত্নমালা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) গিরিশ চন্দ্র সেন
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
কোরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশচন্দ্র সেন। প্রকাশিত গ্রন্থ তাপসমালা, তত্ত্বরত্নমালা, মহাপুরুষ চরিত, জীবনচরিতমালা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৩৫১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাজী নজরুল ইসলামকে কোন প্রকার সাহিত্য উৎসর্গ করেন?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গীতিনাট্য
  3. নৃত্যনাট্য
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'বসন্ত' গীতিনাট্য:
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য। এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত বসন্ত নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং কাজী নজরুল ইসলাম তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৫২.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. সুরেশ
  2. অচলা
  3. মহিম
  4. সতীশ
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বিখ্যাত 'গৃহদাহ' (১৯২০) উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
• মহিম ও সুরেশ এই দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ-বিকর্ষণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় উপকরণ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- চরিত্রহীন,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- দত্তা,
- বড়দিদি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,৩৫৩.
"একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!" - কোন কবিতার অংশ?
  1. বিদ্রোহী
  2. আগমণী
  3. রণভেরী
  4. কামাল পাশা
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে দ্বিতীয়।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- মোট বারটি কবিতার সমাহারে কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম।
-------------------------- 
আগমনী- কবিতা, 
- কাজী নজরুল ইসলাম,

একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!
সেকি দমকি দমকি
ধমকি ধমকি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা কবিতা সাময়িকী।
১১,৩৫৪.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আর্তনাদ
  2. খ) হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) নিরন্তর ঘন্টা ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সাহিত্য-সমালোচক।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৫৫.
উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন নাটকের প্রধান উপকরণ?
  1. ডাকঘর
  2. রাজা
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকবরী
ব্যাখ্যা

• 'বিসর্জন' নাটক: 
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৫৬.
'উত্তরের খেপ' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

- শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
- উত্তরের খেপ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৩৫৭.
স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. শনিবারের চিঠি
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।

- পত্রিকাটি ১৯৩০-৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।

- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
---------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা। আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৫৮.
'রুপাই' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'রুপাই' কবিতাটির রচয়িতা - কবি জসীমউদ্‌দীন।

মূলত পৃথক ভাবে রুপাই নামে কোন কবিতা নেই। 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে 'রুপাই' শিরোনামে খানিকটা কবিতা সংকলিত হয়েছে।

• ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা,  শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:
• গাঁথাকাব্য:
- নকশীকাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট
- মা যে জননী কান্দে

• খণ্ড কবিতা:

- রাখালীবালুচর
- ধানক্ষেত
- রূপবতী 
- মাটির কান্না
- সূচয়নী

• নাটক:

- পদ্মাপাড়
- বেদের মেয়ে
- মধুমালা
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির
- হলদে পরীর দেশ
- যে দেশে মানুষ বড়

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৫৯.
'সবুজপত্র' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯১৮ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৬০.
'জার্মানির শহরে ও বন্দরে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সানাউল হক
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'জার্মানির শহরে বন্দরে' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 

গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি লেখেন-
অবশেষে 'জার্মানির শহরে বন্দরে' পুস্তকাকারে প্রকাশিত হইল। এই পুস্তক প্রকাশে পলাশ মুদ্রণের মালিক সোদরপ্রতিম মোঃ রুহুল আমীন যেভাবে আমাকে সাহায্য করিয়াছে কৃতজ্ঞতা জানাইয়া আমার প্রতি তাহার সম্পর্ককে ম্লান করিতে চাহি না।

উল্লেখ্য, 
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
• দুয়ার হতে অদূরে - বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি।

------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- বেদের মেয়ে, 
- পদ্মাপাড়,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ। 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বোবাকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৬১.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং 
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। 

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

১১,৩৬২.
‘কেয়ার কাঁটা’ সুফিয়া কামাল রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. ভ্রমণ কাহিনী
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

'কেয়ার কাঁটা' - সুফিয়া কামালের একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৬৩.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্য নয়?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) সাতটি তারার তিমির
  3. গ) অর্কেস্ট্রা
  4. ঘ) মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
- 'অর্কেষ্ট্রা' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচনা করেন।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।
- তাঁর স্ত্রী রাজেশ্বরী বাসুদেব প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী।
- অর্কেস্ট্রা।
- ক্রন্দসী।
- উত্তরফাল্গুনী।
- সংবর্ত।
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত।
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়াও 'প্রতিধ্বনি' নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৬৪.
কাকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. চন্দ্রকুমার দে 
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
 
তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৬৫.
'পুতুল নাচের ইতিকথা' কে লিখেছেন?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আবু ইসহাক
  5. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৬৬.
‘তাসের দেশ’ নাটকটি কোন ধরনের নাটক?
  1. রূপক নাটক
  2. রাজনৈতিক নাটক
  3. সামাজিক নাটক
  4. ঐতিহাসিক নাটক
ব্যাখ্যা
‘তাসের দেশ’:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক নাটক।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ। এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৬৭.
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় কী ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. বনফুল
  2. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  3. মৌমাছি
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল-  ক্বচিৎ প্রৌঢ়।

অন্যদিকে,
• বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- বনফুল।
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম ছিল- মৌমাছি।
• সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম ছিল- কালকূট।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম: 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- নীল ‍উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় - হাবু শর্মা।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত - নীহারিকা দেবী। 
• বিমল মিত্র - জাবালি।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৬৮.
কোনটি হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গ্রন্থ?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  3. শোকার্ত তরবারী
  4. কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ
ব্যাখ্যা
• 'শোকার্ত তরবারী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• হাসান হাফিজুর রহমান:

- হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২ - ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- ১৯৩২ সালের ১লা জুন জামালপুর শহরে তাঁর জন্ম।
- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ: বিমুখ প্রান্তর।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী"।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী, 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অলৌকিক ইস্টিমার' ও 'কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ' হুমায়ুন আজাদের যথাক্রমে কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাস।
- 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৬৯.
কবি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ নয়-
  1. লোক লোকান্তর
  2. একচক্ষু হরিণ
  3. দোয়েল ও দয়িতা
  4. আগুনের মেয়ে
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।


• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।


• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৩৭০.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. হারানো অর্কিড
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. ছায়া হরিণ
  4. রাত্রিশেষ 
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
• আহসান হাবীব রচিত  কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ , ছায়া হরিণ।
• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- হারানো অর্কিড।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৩৭১.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্য-
  1. বেলা অবেলা কালবেলা
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. সেইদিন এই মাঠ
  4. আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
⇒ 'বেলা অবেলা কালবেলা' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা এই কাব্য দুটি কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলো।

⇒ জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৭২.
মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম কোথায়?
  1. ফরিদপুর
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. নড়াইল 
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৭৩.
ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' কত সালে রচিত হয়?
  1.  ১৭৫২ সালে 
  2.  ১৮৫২ সালে 
  3.  ১৮৫৪ সালে 
  4.  ১৮৫৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে রচিত তারাচাঁদ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' কেই বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- ‘ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন' নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১১,৩৭৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।
- ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন।
- পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯)  সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর অন্য বাঙালি সহকর্মীদের তুলনায় বেশি সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। 

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।

- এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৭৫.
পঞ্চাশের মনন্ত্বরের প্রেরণায় রচিত কাব্য সংকলন---
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) হরতাল
  4. ঘ) পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা
• কবি সুকান্তের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ 'আকাল'।
- 'আকাল' (১৯৪৭) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মনন্ত্বর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা। 
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতা গুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা রাখেন কবি সুকান্ত। 
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপধ্যায় এর ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান, 
- হরতাল ও
- গীতিগুচ্ছ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৭৬.
'সবুজের অভিযান' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের?
  1. ক) বলাকা
  2. খ) আকাশ প্রদীপ
  3. গ) চৈতালি
  4. ঘ) চিত্রা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলাকা কাব্য গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছিলেন উইলিয়াম পিয়ারসনকে। এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা সবুজের অভিযান, শাহজাহান। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৩৭৭.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. অগ্নিবীণা
  2. শিউলি-মালা
  3. যুগবাণী
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরেতাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলি-মালা।


• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর তিনটি উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১১,৩৭৮.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত উপন্যাস- পরিত্যক্ত স্বামী, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, প্রপঞ্চ ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,৩৭৯.
‘ক্ষুধিত পাষাণ’- ছোট গল্পের রচিয়তা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্রোপধ্যায়
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে। 
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- স্ত্রীর পত্র,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী,
- মুসলমানীর গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৮০.
“পুঁই ডালিমের কাব্য” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

পুঁই ডালিমের কাব্য - শামসুদ্দিন আবুল কালাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ

লেখকের অন্যান্য গ্রন্থ :
উপন্যাস:
- আলমগড়ের কথা
- কাঞ্চনমালা
- জায়জঙ্গল
- সমুদ্রবাসর
- কাঞ্চনগ্রাম

গল্পগ্রন্থ :
- অনেক দিনের আশা
- ঢেউ
- পথ জানা নাই
- দুই হৃদয়ের তীর
- শাহের বানু

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৮১.
‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. অক্ষমা
  2. এইক্ষণে
  3. পুরাতন ভৃত্য
  4. আত্মসমর্পণ
ব্যাখ্যা

⇒ ‘যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর’- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 - ‘পুরাতন ভৃত্য’ কবিতাটি চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 

• চিত্রা কাব্যগ্রন্থ:
- চিত্রা কাব্যগ্রন্থটি ১৩০২ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা রয়েছে। 

• কবিতাগুলো হচ্ছে: 
- চিত্রা, সুখ, জ্যোৎস্না রাত্রে, প্রেমের অভিষেক, সন্ধ্যা, এবার ফিরাও মোরে, মৃত্যুর পরে, অন্তর্যামী, সাধনা, ব্রাহ্মণ, পুরাতন ভৃত্য, দুই বিঘা জমি, শীতে ও বসন্তে, নগর-সংগীত, পূর্ণিমা, আবেদন, উর্ব্বশী, স্বর্গ হইতে বিদায়, দিনশেষে, সান্ত্বনা, শেষ উপহার,  বিজয়িনী, গৃহ-শত্রু, মরিচীকা, উৎসব, প্রস্তর মূর্তি, নারীর দান, জীবন দেবতা, রাত্রে ও প্রভাতে, ১৪০০ সাল, নীরব তন্ত্রী, দুরাকাঙ্ক্ষা, প্রৌঢ়, ধূলি, সিন্ধু পাড়ে।

পুরাতন ভৃত্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -

ভূতের মতন চেহারা যেমন, নির্বোধ অতি ঘোর-
যা-কিছু হারায়, গিন্নি বলেন, “কেষ্টা বেটাই চোর।”
উঠিতে বসিতে করি বাপান্ত, শুনেও শোনে না কানে।
যত পায় বেত না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে।
বড়ো প্রয়োজন, ডাকি প্রাণপণ চীৎকার করি “কেষ্টা”—
যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা।
তিনখানা দিলে একখানা রাখে, বাকি কোথা নাহি জানে;
একখানা দিলে নিমেষ ফেলিতে তিনখানা করে আনে।
যেখানে সেখানে দিবসে দুপুরে নিদ্রাটি আছে সাধা;
মহাকলরবে গালি দেই যবে “পাজি হতভাগা গাধা”—
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সে হাসে, দেখে জ্বলে যায় পিত্ত।
তবু মায়া তার ত্যাগ করা ভার- বড়ো পুরাতন ভৃত্য।

অন্যদিকে,
‘অক্ষমা’ ও ‘আত্মসমর্পণ’ কবিতা সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
‘এইক্ষণে’ কবিতাটি বলাকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ‘পুরাতন ভৃত্য’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ‘চিত্রা’ কাব্যগ্রন্থ।

১১,৩৮২.
'বাবুলের বেড়ে ওঠা' - কী ধরণের রচনা?
  1. ক) গল্প
  2. খ) ছোটদের গল্প
  3. গ) ছোটদের উপন্যাস
  4. ঘ) অনুবাদ
ব্যাখ্যা
'বাবুলের বেড়ে ওঠা'- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত ছোটদের উপন্যাস।

• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৩৬ সালের ২৩ জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।

তাঁর প্রকাশিত প্রধান গ্রন্থগুলো:

প্রবন্ধ-গবেষণা:
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী 
- অনতিক্রান্ত বৃত্ত
-  শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক 
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ  
- বাঙালি কাকের বলি
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া
- নেতা জনতা ও রাজনীতি
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ
- গণতন্ত্রের সন্ধানে

গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ

ছোটদের উপন্যাস :
- বাবুলের বেড়ে ওঠা

ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো

অনুবাদ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব 
- ইবসেনের বুনো হাঁস
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১১,৩৮৩.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক কোনটি?
  1. তিমিরান্তিক
  2. জয়ের পথে
  3. মহাকবি আলাউল
  4. মাটি আর অশ্রু
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক- 'মহাকবি আলাউল'।

সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস;
- সেন্ট লুইয়ের সেতু;
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৮৪.
“আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ”- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্যামলী
  2. বলাকা
  3. পূরবী
  4. কল্পনা
ব্যাখ্যা
• “আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ”- পঙক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত শ্যামলী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ‘আমি’ কবিতার পঙক্তি।

⇒ ‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:

• ‘শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ কাব্যগ্রন্থ।
• এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। 
• এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
• ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
• রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

আমি 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-----
আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ,
চুনি উঠল রাঙা হয়ে।
আমি চোখ মেললুম আকাশে,
জ্বলে উঠল আলো
পুবে পশ্চিমে।
গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম "সুন্দর',
 সুন্দর হল সে।

==============
⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- আকাশ প্রদীপ, 
- শেষ সপ্তক,  
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি,
- পরিশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, ‘শ্যামলী’ কাব্যগ্রন্থ।
১১,৩৮৫.
'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো -
  1. শিশির
  2. অপু
  3. দিপু
  4. আশালতা
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' গল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। - আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্ট মাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৩৮৬.
রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করে কোন নাটকটি রচনা করে?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) কুলীনকুলসর্বস্ব
  3. গ) মালতীমাধব
  4. ঘ) রত্নবতী
ব্যাখ্যা
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা
- মালতীমাধব
- রত্নাবলী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৩৮৭.
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. বিচিত্রা
  2. কল্লোল
  3. প্রবাসী
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'বিচিত্রা' পত্রিকায়। গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,৩৮৮.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত নয়?
  1. অমৃতস্য পুত্রা
  2. মতিচূর
  3. আরোগ্য
  4. স্বাধীনতার স্বাদ
ব্যাখ্যা

মতিচূর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত নয়। 
- এটি রোকেয়া বেগমের রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,৩৮৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. বেতালপঞ্চবিংশতি
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. বর্ণপরিচয়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি।

​বেতালপঞ্চবিংশতি:
বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। 

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৯০.
‘নটগুরু’ হিসেবে পরিচিত-
  1. সেলিম আল দীন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় 'গৈরিশ ছন্দ'।
- গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।
- ১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) এ মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• তাঁর রচিত পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ, সীতার বনবাস, সীতার বিদ্রোহ, লক্ষ্মণ বর্জন, রামের বনবাস, সীতাহরণ, পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, পাণ্ডব গৌরব।

• তাঁর রচিত রোম্যান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, আবু হোসেন।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, মীরকাশিম, ছত্রপতি শিবাজী, অশোক।

• তাঁর রচিত কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, সপ্তমীতে বিসর্জন, বড়দিনের বখশিশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,৩৯১.
‘রাজাকাহিনী’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আাল মাহমুদ
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ ‘নববসন্ত’, বিরস সংলাপ, হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস, দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে, এখনও সময় আছে, রাজ-রাজড়া, আর কিসের অপেক্ষা, রাজাকাহিনী। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১১,৩৯২.
মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় কোন পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. আজিজননেহার
  3. হিতকরী
  4. সুধাকর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় ‘সংবাদ প্রভাকর’ ও ‘কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল’ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৯৩.
কোন সাহিত্যিক 'হুতোম প্যাঁচা' নামে পরিচিত?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) কালিপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
- 'কালিপ্রসন্ন সিংহ' বাংলা সাহিত্যে 'হুতোম প্যাঁচা' নামে পরিচিত

অপরদিকে,
- 'কমলাকান্ত' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- 'অনিলাদেবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- 'টেকচাঁদ ঠাকুর' প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,৩৯৪.
"লাশ" কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. সিন্দাবাদ
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,৩৯৫.
''জন্মিলে মরিতে হবে, / অমর কে কোথা
কবে,''— চরণদ্বয় কোন কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ঐকতান
  2. সাম্যবাদী
  3. বঙ্গভূমির প্রতি
  4. দুই বিঘা জমি
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'নানা-কবিতা' শিরোনামের সংগ্রহ থেকে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতাটি গ্রহণ করা হয়েছে৷

“My native Land, Good night!”—Byron.
রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।
সাধিতে মনের সাদ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে, দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে,— নাহি খেদ তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
—বঙ্গভূমির প্রতি: মাইকেল মধুসূদন দত্ত

১১,৩৯৬.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র -
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' — বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা: 
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। 
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

• পত্রিকাটিতে যেসব সংবাদ ছাপানো হতো:
ক. জজ, কালেক্টর ও অন্য রাজকর্মচারীদের নিয়োগ।
খ. ইংল্যান্ড ও ইউরোপ থেকে আগত সংবাদ এবং দেশের নানা সমাচার।
গ. বাণিজ্যবিষয়ক নতুন সংবাদ।
ঘ. জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যুবিষয়ক সংবাদ।
ঙ. ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস, পণ্ডিতলোক এবং বইয়ের বিবরণ।
চ. গভর্নর কর্তৃক জারিকৃত আইন ও হুকুম প্রভৃতির বিবরণ।
ছ. ইউরোপীয়দের রচিত বই থেকে এবং ইংল্যান্ড হতে আসা বইয়ের শিল্প ও কলকারখানার বিবরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৯৭.
রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘতম উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. গোরা
  3. যোগাযোগ
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে।
- 'গোরা'য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।
- এটি রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘতম উপন্যাস।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোরা,
- পরেশবাবু, 
- সুচরিতা,
- পানুবাবু,
- ললিতা,
- বিনয়,
- বরদাসুন্দরী,
- কৃষ্ণদয়াল,
- আনন্দময়ী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১,৩৯৮.
'মৌলিক মুখোশ' কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য - উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৩৯৯.
'অক্টোপাস' শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'অক্টোপাস':
- শামসুর রাহমান রচিত 'অক্টোপাস' একটি উপন্যাস।
- ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফুরণ।

-----------------
• শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা'।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে 'বন্দী শিবির থেকে' নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে 'বন্দী শিবির থেকে'র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪০০.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  3. আশুতোষ চৌধুরী
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।