বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১২ / ১৭৪ · ১১,১০১১১,২০০ / ১৭,৪৩৭

১১,১০১.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত ‘বেনের মেয়ে’ উপন্যাসের পটভূমি কিরূপ?
  1. ঐতিহাসিক
  2. রাজনৈতিক
  3. রোমান্টিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

‘বেনের মেয়ে’ (১৯১৯) উপন্যাসটি ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত।
- উপন্যাসের চতিত্রগুলি কাল্পনিক কিন্তু পটভূমি ঐতিহাসিক।
- দশম - একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশে, বৌদ্ধ ধর্মের অবসান আর হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান এর সময়কালে সপ্তগ্রামের এক বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনীটি রচিত হয়েছে।

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
- বাল্মীকি জয়
- মেঘদূত
- কাঞ্চনমালা
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা।
- প্রাচীন বাংলার গৌরব
- বৌদ্ধধর্ম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

১১,১০২.
‘মহেন্দ্র’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন দুটি উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চোখের বালি ও দুইবোন
  2. চোখের বালি ও করুণা
  3. চতুরঙ্গ ও চোখের বালি
  4. করুণা ও মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

-------------------
• ‘করুণা’ উপন্যাস:
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
• রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’।
• মাসিক ‘ভারতী’ পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) ‘করণা’ উপন্যাসটি ছাপা হয়।
• তবে ‘করুণা’ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলি’তে (১৯৬১) ‘করুণা’ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে, 
• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- শর্মিলা ও উর্মিলা। 
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।
• চতুরঙ্গ উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র- জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
• ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,১০৩.
যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- তবে, অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম গ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১০৪.
'কাব্যকন্ঠ' - কোন কবির উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বিদ্যাপতি
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মোসলেম ভারত‘।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অপূর্বদর্শন ,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- কুসুমাঞ্জলি,
- হজরত মহাম্মদ ইত্যাদি।  
 
উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী  ইত্যাদি।  
 
গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি-মনসুর,
- ফেরদৌসী-চরিত ইত্যাদি।  
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,১০৫.
'নীল দর্পণ' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি? 
  1. গোলক মাধব
  2. আবুল হোসেন 
  3. নুরুল হক 
  4. নবীন মাধব
ব্যাখ্যা

 • 'নীল দর্পণ':
- 'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে Uncle Tom's Cabin - এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু
- নবীন মাধব
- রাইচরণ
- তোরাপ
- সাবিত্রী
- সরলতা
- ক্ষেত্রমণি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,১০৬.
‘ব্যথার দান’ গ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামের জন্য কী কারণে উল্লেখযোগ্য?
  1. প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ
  2. প্রথম কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রথম উপন্যাস
  4. জীবনীগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১০৭.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বেহুলা গীতাভিনয়
  2. এর উপায় কি?
  3. সধবার একাদশী
  4. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ:
• 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি।

• 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে। প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, 
• 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন। 
• 'বেহুলা গীতাভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক এবং 'এর উপায় কি?' একটি প্রহসন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১০৮.
'নীলদর্পণ' নাটক প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. বর্ধমান
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,১০৯.
সর্বপ্রথম কে হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রস্তাব সমর্থন এবং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে নিজমত দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেন?
  1. অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  4. হরিচরণ দে
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রস্তাব সমর্থন এবং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে নিজমত দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেন।

 • রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ:
- তিনি ১৭৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আদি নিবাস নদীয়ার পালপাড়ায়। 
- তিনি ছিলেন একজন আভিধানিক এবং পণ্ডিত। 
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান সংকলন করেন।
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রামমোহনের বিপক্ষে যোগ দিলেও পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগে হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রস্তাব সমর্থন এবং বহুবিবাহের বিরুদ্ধে নিজমত নীতিদর্শন বক্তৃতামালায় দৃঢ়তার সাথে প্রকাশ করেন
- তিনি ব্রাহ্মসমাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে রামমোহন রায় বিলেত গেলে দীর্ঘ ১০ বছর তার অসাধারণ পাণ্ডিত্য এবং বিষ্ণু চক্রবর্তীর সঙ্গীতের জন্যই ব্রাহ্মসমাজের অস্তিত্ব বজায় ছিল।
- তিনি ২ মার্চ, ১৮৪৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: শিক্ষক বাতায়ন (বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইট)।
১১,১১০.
‘প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য'- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) রানার
  2. খ) আঠারো বছর বয়স
  3. গ) প্রার্থী
  4. ঘ) ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
এই পংক্তিটি 'আঠারো বছর বয়স' - কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

-'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
'ছাড়পত্র' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পুর্বাবাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ - শামসুর রাহমান রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১১,১১১.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন,
ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,১১২.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) যখন উদ্যত সঙ্গীন
  2. খ) আগুনপাখি
  3. গ) জীবন ঘষে আগুন
  4. ঘ) আশাকানন
ব্যাখ্যা

• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• 'আশাকানন' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ।
• 'যখন উদ্যত সঙ্গীন' হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,১১৩.
অমিয় চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অমরাবতী
  2. অনিঃশেষ
  3. এক মুঠো
  4. মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অমিয় চক্রবর্তী রচিত কবিতা ‘বাংলাদেশ’।
- এটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
---------------------------------------------
 
অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
• কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
 
• অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার, 
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলাদেশ কবিতা।
১১,১১৪.
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে-
  1. মহিম
  2. নরেন
  3. রমেশ
  4. ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
- গৃহদাহ - মহিম, সুরেশ,  অচলা।
- পল্লীসমাজ - রমা, রমেশ।
- দত্তা - নরেন, বিজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১১৫.
‘পঞ্চভূত’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. রম্য ও ব্যঙ্গ
  2. গল্প
  3. প্রহসন
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'পঞ্চভূত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। 
এখানে পাঁচটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে রম্য ও ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে দার্শনিকতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই গ্রন্থটিকে রম্য ও ব্যঙ্গ সাহিত্য প্রবন্ধও বলা যায়।
- তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিবিধ প্রসঙ্গ,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- পঞ্চভূত,
- স্বদেশ,
- বৃহত্তর ভারত,
- হিন্দু মুসলমান,
- হিজলী ও চট্টগ্রাম,
- নারী,
- নবযুগ,
- আরোগ্য মানুষের ধর্ম,
- সভ্যতার সংকট ইত্যাদি।

• তাঁর প্রবন্ধ সংকলন- কালান্তর।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,১১৬.
উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ কে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১১৭.
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. রশীদ হায়দার
  2. শহীদুল জহির
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা- শহীদুল জহির। 

- শহীদুল জহির রচিত জীবন ও রাজনৈতি বাস্তবতা বাংলাদেমের মুক্তিযুদ্ধের একটি ভিন্নমাত্রিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি টানাগদ্যে লেখা। প্রবন্ধের বই বলে অনেকে ভুলও করতে পারেন।
- এতে গতানুগতিক উপন্যাসের স্বাদ নেই। নিরীক্ষা আছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাবাদসহ উত্তরাধুনিক চেতনার সংমিশ্রণ রয়েছে।
------------- 
শহীদুল জহির:
- ১৯৫৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম: মো. শহীদুল হক।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার ,
- ডুমুরখেকো, 
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প,
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা; 
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল;
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১১৮.
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত- গল্পগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, আমরা অপেক্ষা করছি, রাঢ়বঙ্গের গল্প, রোদে যাবো ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১১৯.
‘কমলে কামিনী' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. তারাচরণ শিকদার
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
‘কমলে কামিনী' নাটক:
- ‘কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।

তাঁর উল্লেখযােগ্য চরিত্র:
- রাজা,
- সমরকেতু,
- শশাঙ্কশেখর,
- গান্ধারী,
- সুশীলা,
- সুরবালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১২০.
'আরেফ আলী' কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. বহিপীর
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. লালসালু
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১২১.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।
• ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
• প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
• 'বীরবলের হালখাতা' গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
• বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
• তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লাকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বাংলা সনেটের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তাঁর রচিত সনেটের সংকলন ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ইতালীয় কবি পেত্রাক ও ইংলিশ কবি শেকসপিয়রের অনুকরনে বাংলা সনেট রচনা করেন। তিনি বাংলা অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টাও। 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১২২.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. পরিত্যক্ত স্বামী
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. আমি অনাহারী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ পূর্বতন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থও।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১২৩.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ 
  2. সেলিম আল দীন 
  3. হাসান আজিজুল হক 
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• 'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক।
 
• 'সুবচন নির্বাসনে' নাটক:
‘সুবচন নির্বাসনে’ নাটকে তিনটি সুবচন মিথ্যা প্রমাণিত হয়। নাটকটিতে স্কুল মাস্টারের বড় ছেলে খোকন পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস করার পর একটি অফিসে চাকরিপ্রার্থী হয়। অন্যদিকে তারই সহপাঠী তৃতীয় শ্রেণিতে পাস করে ওই একই অফিসে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়ে যায়। এভাবেই মিথ্যে প্রমাণিত হয় ‘সততাই মহৎ গুণ’ সুবচনটি স্কুল মাস্টারের ছোট ছেলে তপন মেধাবী ছাত্র। কিন্তু বড় ভাইয়ের অবস্থা দেখে পড়াশোনা ছেড়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়। ‘লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে’ সুবচনটিকে আর সত্য বলতে পারে না সে। একমাত্র মেয়ে রানু চরিত্রহীন স্বামীর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে ‘সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’ সুবচনটি মিথ্যে প্রমাণিত হয়। এখানে নাটকের শেষদিকে স্কুল মাস্টারকে তিন সন্তান কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলে, তাদের করুণ পরিণতির জন্য পিতাই দায়ী। বৃদ্ধ পিতা দায় স্বীকার করেন। নাট্যকার বিচারের ভার অর্পণ করেন দর্শকের হাতে। 

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১১,১২৪.
'মেঘমল্লার' ছোটগল্পগ্রন্থটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বদরুদ্দীন উমর
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ তিনি মূলত ঔপন্যাসিক ছিলেন।
তার রচিত উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯),
- অশনি সংকেত।

তার রচিত ছােটগল্পগ্রন্থগুলাের নাম:
মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২),
যাত্রাবদল (১৯৩৪), কিন্নরদল (১৯৩৮)।
তার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম:
তৃণাঙ্কুর (১৯৪৩)।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১,১২৫.
'A Native' ছদ্মনামে 'নীল-দর্পণ' নাটকটি ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. পাদ্রি জেমস লং
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• 'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।

- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৬.
'সংবাদ প্রভাকর' কত সালে 'দৈনিক' পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,১২৭.
সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’ উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. মীর মশররাফ হোসেন
ব্যাখ্যা
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর।
- এটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লকড়ী।
- বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)। 
- নানাকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৮.
বিহারিলালকে ‘ভোরের পাখি’ নামে কে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে বিহারীলাল চক্রবর্তী পরিচিত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা হলো 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হলো 'সারদা মঙ্গল'।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১২৯.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।' - উক্তিটি কার?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. রফিক আজাদ
  4. হেনরি ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।' - উক্তিটি হেনরি ডিরোজিওর

হেনরি ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।

- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও৷ তাঁর পুনরাবৃত্ত উপদেশ ছিলো -
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।'

- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১৩০.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কিছু অনুবাদগ্রন্থ:
- দীওআন-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খইয়ম,
- মহানবী,
- বাইআত নামা,
- বিদ্যাপতি শতক,
- অমর কাব্য কোরান শরীফ (অনুবাদ ও ভাষাসহ প্রকাশিত),
- বুখারী শরীফ,
- ঈদুল আযহা
- কোরবানির আহকাম।
উৎসঃ বিভিন্ন পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৩১.
‘মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী’ নামে আখ্যায়িত হন-
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) আনোয়ারুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩): শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার শেষ/পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন।
তিনি মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী নামে আখ্যায়িত হন।
আবুল ফজল রচিত উপন্যাসঃ ‘চৌচির’ (১৯৩৪),’ প্রদীপ ও পতঙ্গ’ (১৯৪০), জীবন পথের যাত্রী (১৯৪৮), রাঙ্গাপ্রভাত (১৯৫৭) প্রভৃতি।
প্রবন্ধঃ বিচিত্র কথা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি।
আত্মকাহিনী ও দিনলিপিঃ রেখাচিত্র (১৯৬৬)।
গল্পগ্রন্থঃ মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১১,১৩২.
"হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, 
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?" - কবিতাংশটুকু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অভিযাত্রিক
  2. সাঁঝের মায়া
  3. ঝরা পালক
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, 
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'সুফিয়া কামাল'। এটি তাঁর "তাহারেই পড়ে মনে" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। "তাহারেই মনে পড়ে" কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে,
- 'ঝরা পালক' জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'রূপসী বাংলা' বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১১,১৩৩.
কাজী নজরুল ইসলামের 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসে কোন অঞ্চলের ঘটনার বর্ণনা রয়েছে?
  1. নোয়াখালীর জেলে পল্লীর জীবন সংগ্রাম
  2. ময়মনসিংহের ত্রিশাল গ্রামের সাধারণ মানুষের জনজীবন
  3. কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়ক অঞ্চলের জনজীবন
  4. পদ্মাপাড়ের ধীবরদের জীবন কাহিনী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস: 
- ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের রাজনৈতিক উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১৩৪.
'জীবনে জ্যাঠামি ও সাহিত্যে ন্যাকামি' সহ্য করতে পারতেন না-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. প্রমথনাথ বিশী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’ (বইপড়া)।
- ‘ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে'-(ভাষার কথা)।
- ‘জীবনে জ্যাঠামি, সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতে পারতেন না।’- প্রমথ চৌধুরী (সাহিত্যের খেলা)।
- ‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’- (সাহিত্যের খেলা)।
- ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে’- (সাহিত্যে খেলা)।

---------------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘সাহিত্যের খেলা’ প্রবন্ধ ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৫.
'নীল দর্পণ' নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন কে?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) রেভারেন্ড জেমস লং
  3. গ) কালিপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
নীলদর্পণ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
----------
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  
- কালিপ্রসন্ন সিংহ বিচারালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজে সে অর্থ পরিশোধ করেন।
-----------
- বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৬.
'বিশ শতকের বাঙালী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ- বিচিত্র চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, বিশ শতকের বাঙালি, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, একালে নজরুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. চার অধ্যায়
  2. গোরা
  3. ঘরে বাইরে
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। 
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- 'ঘরে বাইরে' রাজনৈতিক ও সামাজিক উপন্যাস, এটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী। 
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন। 
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৮.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত অনুবাদগ্রন্থ কোনটি?
  1. নজরুল ইসলাম
  2. কবি মধুসূদন
  3. ইডিপাস
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবি মধুসূদন,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৯.
'কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন -
  1. মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
  2. নাথালিয়েন ব্রাসি হ্যালহেড
  3. উইলিয়াম কেরী
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৪০.
'হাতেম তায়ী' ফররুখ আহমেদ রচিত-
  1. কাহিনী কাব্য
  2. কাব্যনাট্য
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'হাতেম তায়ী' ফররুখ আহমেদ রচিত একটি কাহিনী কাব্য ।

• ​ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৪১.
‘বইপড়া’ প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. হায়াৎ মামুদ
ব্যাখ্যা
• 'বই পরা' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থ থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। 

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- তেল নুন লকড়ী, 
- বীরবলের হালখাতা, 
- নানাকথা, 
- ভাষার কথা, 
- আমাদের শিক্ষা, 
- রায়তের কথা, 
- নানাচর্চা, 
- প্রবন্ধ সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- চার ইয়ারী কথা, 
- আহুতি, 
- নীললোহিত, 
- অনুকথা সপ্তক, 
- ঘোষালে ত্রিকথা। 

• কাব্যগ্রন্থ: 
- সনেট পঞ্চাশৎ, 
- পদচারণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৪২.
‘আত্মঘাতী বাঙালী’ কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অশোক মিত্র
  2. খ) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) অতুল সুর
  4. ঘ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 
- আহমদ শরীফ রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ - বিচিত চিন্তা (১৯৮৬), স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০), বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি।
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- 'বাঙালির বাংলা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১১,১৪৩.
“মুখরা রমণী বশীকরণ” নাটকটি কোন নাটকের অনুবাদ?
  1. The Silver Box
  2. The Taming of the Shrew
  3. You Never Can Tell
  4. The Tempest
ব্যাখ্যা

• "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "The Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
------------------------

মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

• জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
• ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:
• "কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
• "রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
• "মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
• "নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
• "পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
• "দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
• "রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:
• "কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
• "মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "The Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

১১,১৪৪.
“ছবির দেশে কবিতার দেশে” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
ব্যাখ্যা
⇒ “ছবির দেশে কবিতার দেশে” ভ্রমণকাহিনি:
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ফ্রান্সে পাঁচবারের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এই “ছবির দেশে কবিতার দেশে” ভ্রমণকাহিনিটি রচনা করেছেন।
• সাধারণ ভ্রমণকাহিনির থেকে এ-রচনার স্বাদ একেবারে আলাদা। নিছক ঘোরাফেরা আর দেখাশোনার মামুলী বৃত্তান্ত নয় এই বই ।
• পুরো ফরাসীদেশটাকেই যেন খুঁড়ে খুঁড়ে দেখা । 

⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছিলেন।
- তবে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতির চেয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে বেশি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- সমকালীন জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 
- কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'একটি চিঠি' প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ১৯৫১ সালে।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প 'খাঁচা' প্রথম প্রকাশিত হয় রমাপদ চৌধুরী সম্পাদিত 'ইন্দানীং' পত্রিকায়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- একা এবং কয়েকজন,
- 'হঠাৎ নীরার জন্য,
- 'ভোর বেলার উপহার,
- 'সেই মুহূর্তে নীরা,
- 'কায়দাটা শিখে নেবে' ইত্যাদি ।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হল:
- আত্মপ্রকাশ,
- ছায়া দর্শন,
- অন্য জীবনের স্বাদ,
- স্বপ্ন সম্ভব,
- সুনীলের সাতদিন,
- বাণী ও অবিনাশ,
- প্রথম আলো।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং “ছবির দেশে কবিতার দেশে” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। 
১১,১৪৫.
'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. চন্দরা
  2. চারুলতা
  3. রতন
  4. সুরবালা
ব্যাখ্যা
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- সুরবালা, একরাত্রি ছোটগল্পের চরিত্র।
- রতন, পোস্টমাস্টার ছোটগল্পের চরিত্র।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- শাস্তি,
- একরাত্রি।
- মধ্যবর্তিনী
- ল্যাবরেটরী,
- সমাপ্তি,
- পোস্টমাস্টার,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- দেনা পাওনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; রবীন্দ্র রচনাবলী।
১১,১৪৬.
নিচের কোনটি নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) পৃথিবীজোড়া গান
  2. খ) দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
  3. গ) তার আগে চাই সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) গোলাপ কেন কালো
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ  গুণ চৌধুরী।
- নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী কে কবিদের কবি বলা হয়। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগুলো হলো :
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই, 
- না প্রেমিক না বিপ্লবী, 
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
- ও বন্ধু আমার, 
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, 
- চাষাভূষার কাব্য, 
- পৃথিবীজোড়া গান
- দূর হ দুঃশাসন। 

⇒ বি:দ্র: গোলাপ কেন কালো' উপন্যাসের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১১,১৪৭.
'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'চন্দ্রগুপ্ত' নাটক:
- 'চন্দ্রগুপ্ত' (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে 'চন্দ্রগুপ্ত' বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

--------------
দ্বিজেন্দ্রলালের উলেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- এ্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৪৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' প্রকাশিত হয়-
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৭৪ সালে
  3. ১৮৯৬ সালে
  4. ১৮৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।
- এটি রচয়িতা করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,১৪৯.
অনুসন্ধিৎসু হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে কতবার নেপাল যান?
  1. ক) ৩ বার
  2. খ) ৪ বার
  3. গ) ৫ বার
  4. ঘ) ৭ বার
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে চারবার নেপাল যান ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০৭ এবং ১৯২২ সালে। ১৯০৭ সালে তিনি আবিষ্কার করেন চর্যাগীতি বা চর্যাপদের পুঁথি। দীর্ঘ ৭/৮ বৎসর পুঁথিগুলো গবেষণা করে তিনি আবিষ্কার করেন যে, এগুলোর ভাষা প্রাচীন বাংলা এবং এগুলোই বাংলা সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন। ১৯১৬ সালে চর্যাপদের পুঁথি নিয়ে রচিত তাঁর গবেষণাপত্র ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়। উৎসঃ LiveMCQ লেকচার
১১,১৫০.
চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন কে?
  1. ক) এম আখতার মুকুল
  2. খ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) মনি সিং
  4. ঘ) আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে।
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়।
স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’। জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।
চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। চরমপত্র পাঠ করতেন এম আখতার মুকুল।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-নবম-দশম শ্রেণি

১১,১৫১.
'ভারতী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রমেশচন্দ্র দত্ত
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  4. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ভারতী পত্রিকা:
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)।
- ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)।
- তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ভারতী-র প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর তিনটি রচনা প্রদান করেন।
- ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ।
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।
- পরে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- ভারতীর লেখকদের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন 
- অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, অনুরূপা দেবী,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ,  অমৃতলাল বসু,  অসিতকুমার হালদার, ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী,  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, কালিদাস রায়, গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী,  দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার,  দীনেশচন্দ্র সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, নিরূপমা দেবী,  প্রমথ চৌধুরী,  যদুনাথ সরকার,  শিবনাথ শাস্ত্রী,  রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী এবং  রমেশচন্দ্র দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫২.
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতিতে লিখিত প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়___সালে।
  1. ক) ১৯০৯
  2. খ) ১৯১০
  3. গ) ১৯১৪
  4. ঘ) ১৯১৬
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল। তার ১৯১৬ সালে প্রকাশিত 'বীরবলের হালখাতা' প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে। বাংলা সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও প্রমথ চৌধুরী।
Source: LiveMCQ Lecture
১১,১৫৩.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' ----কবিতাটি কার লেখা?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ১৯৩৪ সালে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার।
এছাড়াও,
- কখনো রং কখনো সুখ, কোমলের চোখ ও আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি তাঁর রচিত অন্যতম কাব্যগ্রন্থ।
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি কাব্যগ্রন্থের অন্যতম কবিতা হল আমি কিংবদন্তির কথা বলছি।

তার অন্যতম কবিতা : মাগো ওরা বলে, কোন এক মাকে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)
১১,১৫৪.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দৃষ্টিহীন
  2. দিকশূন্য
  3. প্রিয়দর্শী
  4. অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন। 

অন্যদিকে,
- সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর।
- 'দিকশূন্য ভট্টাচার্য'- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' এর ছদ্মনাম।
- আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

---------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৫৫.
'রেইনকোট' গল্পটি কে লিখেছেন?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'রেইনকোট' গল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কথক 'নুরুল হুদা'।  
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫৬.
'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. জেমস অগাস্টাস হিকি
  3. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
 • 'বাঙ্গাল গেজেট':
- 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

অন্যদিকে,
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ।
- 'দিগদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।

- জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন ।
- এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫৭.
কাজী নজরুল ইসলামকে ‘যুগ-প্রবর্তক’ হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন(১৮৯৭-১৯৭৮):
বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাহিত্যিক। তিনি বাংলা সাহিত্যের মুসলিম ধারার এবং নজরুল কাব্যের বিচার-বিশ্লেষণ ও নবমূল্যায়নে কৃতিত্বের পরিচয় প্রদান করেন। কাজী নজরুল ইসলামকে প্রথম ‘যুগ-প্রবর্তক’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১১,১৫৮.
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের কাছে জনপ্রিয় উদ্দীপক "বন্দে মাতরম্‌" গানটি কোন উপন্যাসে প্রথম পাওয়া যায়?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) আনন্দমঠ
  3. গ) গোড়া
  4. ঘ) দেবী চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডলা
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- যুগলাঙ্গুরীয়
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী
- রজনী
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৫৯.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন-
  1. আবুল হুসেন
  2. আবু ইসহাক
  3. আবুল হাসান
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
⇒ আবুল হুসেন: 
• আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
• আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
• ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
• তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
• কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৬০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. গণদেবতা
  4. নিকেতন
ব্যাখ্যা

'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস - 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- জলসাঘর, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৬১.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) চতুষ্কোণ
  3. গ) চতুর্দশী
  4. ঘ) চতুষ্পাঠী
ব্যাখ্যা
- 'চতুষ্কোণ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস।  

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী 
- দিবারাত্রির কাব্য
- পদ্মানদীর মাঝি 
- পুতুলনাচের ইতিকথা 
- শহরতলী 
 - চিহ্ন 
- চতুষ্কোণ 
- সার্বজনীন 
 -আরোগ্য ইত্যাদি। 
ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প 
- প্রাগৈতিহাসিক 
- সরীসৃপ 
- সমুদ্রের স্বাদ 
- হলুদ পোড়া 
- আজ কাল পরশুর গল্প 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬২.
জাহানারা ইমাম রচিত অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. গজকচ্ছপ
  2. নদীর তীরে ফুলের মেলা
  3. বিদায় দে মা ঘুরে আসি
  4. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত অনুবাদ গ্রন্থ - নদীর তীরে ফুলের মেলা
- এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।

জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি

তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- নদীর তীরে ফুলের মেলা,
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬৩.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) বৌ-বেগম
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) বাতায়ন
  4. ঘ) উস্তাদ
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম খাঁ রচিত নাটক ‘ আনোয়ার পাশা’, বৌ-বেগম' – উপন্যাস, ‘উস্তাদ’- গল্পগ্রন্থ, , ‘বাতায়ন’ হলো স্মৃতিকথা।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১১,১৬৪.
নুরুল মোমেন একজন ________।
  1. ক) কবি
  2. খ) অভিনেতা
  3. গ) ঔপন্যাসিক
  4. ঘ) নাট্যকার
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন  (১৯০৬-১৯৮৯)  শিক্ষাবিদ, নাট্যকার। জন্ম ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় ২৫ নভেম্বর ১৯০৬।
তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১১,১৬৫.
'এখানে নোঙর' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মামুনুর রশিদ
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ রচিত বিখ্যাত নাটক- এখানে নোঙর, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, গিনিপিগি, সমতট, পাথর, লেবেদফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৬৬.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র -
  1. দৈনিক সমকাল
  2. ঢাকা প্রকাশ
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন- 'কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার'।
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

অন্যদিকে,
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।

সংবাদ প্রভাকর: 
- সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন

- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬৭.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) সিকানদার আবু জাফর
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ৩৯টি কবিতা সম্বলিত 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
• সাতনরী হার আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত প্ৰথম কাব্যগ্রন্থ ৷
•মসৃন কৃষ্ণ গোলাপ তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬৮.
'দৃষ্টিহীন' কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. দিজেন্দ্রলাল রায় 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

- বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন-শেষে পিতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদে গিয়ে সেখানে ৫ বছর বাস করেন। এই সময় থেকেই 'সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকা', 'প্রদীপ' প্রভৃতি পত্রিকাতে প্রবন্ধাবলী প্রকাশ করতে থাকেন এবং নিজেও 'সুধা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

- এরপর পিতৃম্বসার জমিদারী তত্ত্বাবধানের ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। সেই সময় থেকে দশ বছর ধরে বাঙলার লুপ্তপ্রায় 'কথাসাহিত্যে'র সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। পরে এই সংগৃহীত উপদানসমূহ ড. দীনেশচন্দ্র সেনের উপদেশানুযায়ী রূপকথা, গীতিকথা, রসকথা ও ব্রতকথা-এই চারভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গের পল্লী-অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় বিপুল কথাসাহিত্যকে 'ঠাকুরমার ঝুলি', 'ঠাকুরদাদার ঝুলি', 'দাদামশায়ের থলে', 'ঠানদিদির থলে' প্রভৃতি গল্পগ্রন্থে স্থায়ী রূপদান করেছেন।

- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

অন্যদিকে, 
---------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কোনো সুপরিচিত ছদ্মনাম নেই, তবে তিনি 'ডি. এল. রায়' নামেও পরিচিত ছিলেন, যা তাঁর নামের আদ্যক্ষর। 

• আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৬৯.
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) তিথিডোর
  2. খ) নীলাঞ্জনের খাতা
  3. গ) কঙ্কাবতী
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসঃ
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমণ,
- কালো হাওয়া,
- তিথিডোর,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,১৭০.
জহির রায়হান কোন আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) অসহযোগ আন্দোলন
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) স্বাধীনতা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান ছিলেন বাংলাদেশের বিখ্যাত কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। 
- ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি যে  ১০ জন প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন তিনি তাঁদের অন্যতম।
- অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁকে মিছিল থেকে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি  তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা প্রখ্যাত লেখক  শহীদুল্লা কায়সার কে উদ্ধারের জন্য গিয়ে আর ফিরে আসেননি।
- ঐ দিনটি জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭১.
পল্লীকবি জসীম উদদীন এর 'ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়' একটি -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. আত্মকথা
  4. ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদদীন: 
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত, দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে জসীম উদ্‌দীন কাজ করেন।
- তিনি পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও।
- জসীমউদ্দীন জারীগান ও মুর্শীদা গান নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।

♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

♦ নাটক: 
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

♦ আত্মকথা: 
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

♦ গান:
- আমার সোনার ময়না,
- আমার হাড় কালা করলাম রে,
- আমায় ভাসাইলি রে,
- আমায় এতো রাতে,
- নদীর কূল নাই কিনার নাই,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে, রে ভোমরা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র -
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. Who's who in Bangladesh art, culture, literature, আবু ফজল শামসুজ্জামান।
৫. বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭২.
'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্ম হল 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
১১,১৭৩.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্প কোনটি?
  1. কেয়ার কাঁটা
  2. অভিযাত্রিক
  3. সৈনিক বধূ
  4. মৃত্তিকার ঘ্রাণ
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়াকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে মৃত্তিকার ঘ্রাণ (১৯৭০) শীর্ষক একটি সঙ্কলন উৎসর্গ করেন।

তাঁর প্রথম রচনাগুলো-
- প্রথম কবিতা বাসন্তী; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ- সাঁঝের মায়া; এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- প্রথম গল্প- সৈনিক বধূ; এটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• এছাড়াও, তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাঁঝের মায়া, 
- মায়া কাজল, 
- মন ও জীবন, 
- প্রশস্তি ও প্রার্থনা, 
- উদাত্ত পৃথিবী, 
- দিওয়ান,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে। 

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা। 

• ভ্রমনকাহিনি:
- সোভিয়েতে দিনগুলি। 

• স্মৃতিকথা:
- একাত্তরের ডায়েরি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭৪.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মহাশ্মশান
  2. বিষাদসিন্ধু
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘মহাশ্মশান’ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
• ‘বিষাদসিন্ধু’ মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিষাদসিন্ধু। কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনাই এর মূল উপজীব্য।
• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।

--------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭৫.
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজাবলি
  2. তোতা ইতিহাস
  3. বেদান্তচন্দ্রিকা
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• 'লিপিমালা':
- রামরাম বসু রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।

- গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান।

----------------
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু (১৭৫৭-১৮১৩) ছিলেন উইলিয়াম কেরির সহযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনাকারীদের অন্যতম অগ্রণী। আ জীবন ছিল বৈচিত্র্যধর্মী।

- প্রথমে তিনি ফারসি-নবিস মুনশী এবং পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সহকারী পণ্ডিত ছিলেন। তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রতি বাহ্যিক অনুরাগ দেখিয়ে পাদ্রিদের বিভ্রান্ত করলেও খ্রিস্টধর্ম প্রচারে প্রভূত সাহায্য করেছেন, কিন্তু নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করেন নি। নৈতিক অধঃপতনের জন্য বিতাড়িত হলেও উইলিয়াম কেরি তাঁর বদান্যতা দয়াধর্ম শাস্ত্রীয় বিচারবুদ্ধির বারংবার প্রশংসা করেছেন এবং ধর্মপ্রচারে ও গ্রন্থরচনায় বিশেষ সাহায্য নিয়েছেন।

- রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি-  রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)।

- ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল। বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, 
• চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
• ‘রাজাবলি’ ও ‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ। 
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১১,১৭৬.
‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গানটির গীতিকার কে?
  1. নজরুল ইসলাম বাবু
  2. নাঈম গহর
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটি দারুণভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের।
- ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- গানটির শিল্পী আপেল মাহমুদ। 
- ‘জয়বাংলার গান’ রূপে পরিচিত গোবিন্দ হালদারের সঙ্গীতগুলো  'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে প্রচারিত হত। 
 
উৎস: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, প্রথম আলো।
১১,১৭৭.
মহাকবি কায়কোবাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) শিবমন্দির
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭৮.
আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নিষুতি রাতের গাথা
  2. সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী
  3. নদী নিঃশেষিত হলে
  4. নিরুপায় হরিণী
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও,
- রাইফেল রোটি আওরাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১৭৯.
বাংলা সাহিত্যের 'প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস' কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. শেষের কবিতা
  3. যোগাযোগ
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্র:
- বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,১৮০.
কাবুলিওয়ালা গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র-
  1. ক) আনোয়ার
  2. খ) আবুল
  3. গ) মফিজ
  4. ঘ) রহমত
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোট গল্প - কাবুলিওয়ালা। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র - রহমত, খুকী প্রমুখ। গল্পটিতে রহমতের চরিত্র তিনি এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন, বাংলা সাহিত্যে কেউ এমন একটি মুসলিম চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি।
উৎসঃ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

১১,১৮১.
"কি পাপে হারানু আমি তোমা হেন ধনে?
কি পাপ দেখিয়া মোর, রে দারুন বিধি,
হরিলি এ ধন তুই? হায় রে, কেমনে
সহি এ যাতনা আমি?"
- উক্ত পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
উপরোক্ত পঙ্‌ক্তিগুলোর মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ কাব্য থেকে চয়নকৃত।

মেঘনাদবধ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য। মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
মেঘনাদবধ কাব্য মধুসূদনের অসাধারণ আবেগঘন, উচ্ছ্বাসপূর্ণ, রসোজ্জ্বল, মননশীল এবং শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী ব্যক্তিত্বের অনুকরণীয় প্রতিফলন।
মেঘনাথ বধ কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো :--
- রাবণ
- মেঘনাদ
- লক্ষণ
- রাম
- প্রমীলা
- বিভীষণ
- সীতা
- সরমা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং মেঘনাদবধ কাব্যে, মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১১,১৮২.
'বরফ গলা নদী" উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী, 
- আর কত দিন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৮৩.
শহীদুল্লাহ কায়সার এর মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) সারেং বউ
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ - যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন৷
- তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ 
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮৪.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,১৮৫.
'পদ্মা নদীর দেশে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- জসীমউদ্‌দীন কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী, 
- নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- মাটির কান্না, 
- সুচয়নী, 
- পদ্মা নদীর দেশে
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, 
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে, 
- স্মরণের সরণী বাহি, 
- ডালিম কুমার, 
- পদ্মাপার, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বোবাকাহিনী। 

গল্পগ্রন্থ: 
- বাঙ্গালীর হাসির গল্প। 

গানের সংকলন: 
- জারীগান ও 
- মুর্শীদা গান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৮৬.
গীতিকবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের গুরু ছিলেন কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) অক্ষয়কুমার বড়াল
ব্যাখ্যা
গীতিকবিতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের গুরু ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী। 
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- সারদামঙ্গল, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্য।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮৭.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. তপু
  2. অপু
  3. হাসান
  4. মুনিম
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' এই উপন্যাসের সাড়া জাগানো সংলাপ।
- 'মুমিন' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

• জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮৮.
সামন্তবাদ ও পুজিবাদের দ্বন্দ্ব দেখা যায় কোন গল্পে?
  1. ক) রাইকমল
  2. খ) জলসাঘর
  3. গ) কালিন্দী
  4. ঘ) অগ্রদানী
ব্যাখ্যা
সামন্তবাদ ও পুজিবাদের দ্বন্দ্ব দেখা যায় কোন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'জলসাঘর' গল্পে। 
'জলসাঘর' ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত ১১টি গল্পের সংকলন। 
- প্রতিটি গল্পের পটভূমি গ্রামবাংলার জমিদারের প্রতাপ ও তার অবক্ষয়ের শোচনীয় রূপ। 
- 'জলসাঘর' গল্পের প্রধান বিষয় হলো একটা সামন্ততান্ত্রিক জমিদার পরিবারের পতনের চিত্র।
- জমিদারতন্ত্রের সমৃদ্ধি ও অবসানের রূপ এই গল্পগুলিতে লক্ষ করা যায়। 
- জমিদার বাড়ির ধ্বংসসম্মুখ অবস্থার মধ্যেও সামন্ততান্ত্রিক ঐতিহ্যের কিছু নমুনা গল্পে দেখানো হয়েছে । 

অন্যদিকে, 
রাইকমল, কালিন্দী = তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস। 
অগ্রদানী =  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প 

উৎস: জলসাঘর, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮৯.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র রচনা নয় কোনটি?
  1. হঠাৎ আলোর ঝলকানি
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচনা নয়- জীবন থেকে নেয়া। 
• 'জীবন থেকে নেয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।

-------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।

- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।

- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’  ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ইংরেজি-বাংলা উভয় ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল।

- তিনি 'কনটেম্পোরারি' নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার দৈনিক স্টেটস্ম্যান পত্রিকার সাব-এডিটর ছিলেন। এছাড়াও সওগাত, মোহাম্মদী, বুলবুল, পরিচয়, অরণি, পূর্বাশা প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতো।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯০.
‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি' বইটর লেখক কে?
  1. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
- ‘হঠাৎ আলাের ঝলকানি’ বুদ্ধদেব বসু রচিত প্রবন্ধ। গ্রন্থটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু  একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালােচক ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।

তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী।

প্রবন্ধ:
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য।

অনুবাদ:
- কালিদাসের মেঘদূত,
- বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা,
- হেল্ডালিনের কবিতা,
- রাইনের মারিয়া রিলকের কবিতা।

• উল্লেখ্য 'হঠাৎ আলোর ঝলকানি' নামে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি গল্প রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১৯১.
'অশোক সংগীত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. আবুল ফজল
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• অশোক সংগীত:
- 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর.
১১,১৯২.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. চর্যাপদ
  2. সেক শুভোদয়া
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- এটি শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায়  না।
- এই কাব্যে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের উল্লেখ্য পাওয়া যায়।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'কাবিলের বোন' এর লেখক কে?
  1. মাহমুদুল হক
  2. আল মাহমুদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা
• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব- মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।
----------------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘কাবিলের বোন' উপন্যাস।
১১,১৯৪.
'কাপালিক' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ইন্দিরা
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯৫.
‘হেমচন্দ্র-মৃণালিনী’ চরিত্রদ্বয় কার উপন্যাসের?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৯৬.
'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. কায়কোবাদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব:
১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র।

• 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি  ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। 

উল্লেখ্য,
• 'আমি কোন আগন্তুক নই' - 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে।

• আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

• আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৯৭.
'মৈনাক' ছদ্মনামে পত্রিকায় কলাম লিখতেন-
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
⇒ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা থেকে আরেকটু ভেতরে মেঘনাপাড়ের গ্রাম পাড়াতলী- কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস। তবে জন্মেছিলেন ঢাকা শহরের ৪৬ নম্বর মাহুতটুলির বাড়িতে। দশ ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি।

⇒ ১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর তখন মননের গহীন তলাটে কবিতার যে আবাদভূমি গড়ে উঠেছিল- তা কেবল উর্বরই হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নলিনীকিশোর গুহের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতা- তারপর দে ছুট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন গদ্য-পদ্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ'র কোঠা ছুঁই ছুঁই।

⇒ 'মর্নিং নিউজ'-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ১৯৫৭ সালে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন, একই পেশায় থেকে ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
⇒ মূলত কবি হলেও সাহিত্যে তার কাজ বহুমাত্রিক। অনুবাদ সাহিত্য থেকে গদ্যের বিভিন্ন প্রশাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।
⇒ 'মৈনাক' ছদ্মনামে কলামও লিখেছেন নিয়মিত। 

• তিনি একাধিক পুরস্কার ও উপাধিকে ভূষিত হন:
- পেয়েছেন আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭)।
- সাংবাদিকতার জন্যে পেয়েছেন জাপানের মিৎসুবিশি পদক (১৯৯২), ভারতের আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪) ছাড়াও বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি শামসুর রাহমান।
- ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতেও ভূষিত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১১,১৯৮.
নীলিমা ইব্রাহিমের রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) সূর্যাস্তের পর
  2. খ) রমনা পার্কে
  3. গ) দুয়ে দুয়ে চার
  4. ঘ) রোদ জ্বলা বিকেল
ব্যাখ্যা
আমি বীরাঙ্গনা বলছি - প্রবন্ধ গবেষনা গ্রন্থ, রমনা পার্কে - গল্প। নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস - বিশ শতকের মেয়ে, এক পথ দুই বাঁক, কেয়া বন সঞ্চারিণী, বহ্নিবলয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯৯.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. ক) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  2. খ) রাইফেল রোটি আওরাত
  3. গ) নেকড়ে অরণ্য
  4. ঘ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'

তাঁর রচিত কাব্যনাট্যসমূহ-
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
- গণনায়ক
- নুরলদীনের সারাজীবন
- এখানে এখন
- কাব্যনাট্য সমগ্র
- ঈর্ষা
- বাংলার মাটি বাংলার জল
- নারীগণ

অন্যদিকে,
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শেখ আজিজুর রহমান ও ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- আনোয়ার পাশা রচিত বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক-
• নরকের লাল গোলাপ - আলাউদ্দিন আল আজাদ.
• যে অরণ্যে আলো নেই - নীলিমা ইব্রাহীম,
• পঙ্কজ বিভাস - জিয়া হায়দার,
• কিংশুক যে ম্রুতে - মোহাম্মদ এহসানুল্লাহ,
• বর্ণচোর - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• কি চাহ শঙ্খচিল - মমতাজউদ্দীন আহমেদ,
• প্রতিদিন একদিন - সাঈদ আহমদ,
• ফেরী আসছে - রনেশ দাশগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২০০.
আমার দেখা নয়াচীন - ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
“আমার দেখা নয়াচীন” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চীন ভ্রমণের উপর লেখা গ্রন্থ। এটি তার প্রকাশিত তৃতীয় গ্রন্থ। ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে। ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে নয়া চীন যান বঙ্গবন্ধু। তার এ সফরের অভিজ্ঞতাই এ গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে। (সূত্রঃ আমার দেখা নয়াচীন : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান)