বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১১১ / ১৭৪ · ১১,০০১১১,১০০ / ১৭,৪৩৭

১১,০০১.
ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত উপন্যাস- 
  1. রাজর্ষি
  2. যোগাযোগ
  3. চার অধ্যায়
  4. ঘরে-বাইরে 
ব্যাখ্যা

• 'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজর্ষি'একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে ''বিসর্জন'' নাটকটি রচিত হয়।
- রাজর্ষি উপন্যাসটি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে (১২৯৩ বঙ্গাব্দ) বালক পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোবিন্দমাণিক্য,
- পুরোহিত রঘুপতি,
- হাসি ও তাতা,
- জয়সিংহ,
- নক্ষত্ররায়। 

উৎস: 'রাজর্ষি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১১,০০২.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ কোন পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. তত্ত্ববােধিনী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০০৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' কোন ধরনের রচনা?
  1. কবিতা
  2. সনেট
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' একটি- 'নাটক'। 
- তিনি 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা 
- পদ্মাবতী 
- কৃষ্ণকুমারী 

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ, 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
১১,০০৪.
শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সারেং বউ
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. ঘ) যাত্রা
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,০০৫.
নিচের কোন নারী লেখক বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. আঁখি মজুমদার
  4. নাদিরা মজুমদার
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,০০৬.
সুফিয়া কামালের কোন কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য মহিলাদের আহবান জানান?
  1. ক) তাহারেই পড়ে মনে
  2. খ) জাগো তবে অরণ্য কন্যারা
  3. গ) বেণীবিন্যাস সময় তো আর নেই
  4. ঘ) জন্মেছি এই দেশে
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামালের তাঁর কবিতায় বেণীবিন্যাস সময় তো আর নেই কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য মহিলাদের আহবান জানান।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সুফিয়া কামাল সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। শুধু তা-ই নয়, পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর দমননীতির অঙ্গ হিসেবে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে তিনি তার বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানান। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষে তিনি ‘সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।

সুফিয়া, তাঁর স্বামী ও ছেলে দেশের মধ্যেই থেকে যান মুক্তিবাহিনীকে সাহস ও শক্তি জোগানোর জন্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন খবরাখবর সরবরাহের জন্য। যুদ্ধকালীন তিনি একাত্তরের ডায়েরী নামে একটি দিনলিপি রচনা করেন এবং এ সময়ে লেখা তাঁর কবিতাগুলি পরবর্তীকালে মোর যাদুদের সমাধি পরে নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলিতে তিনি বাঙালিদের ওপর পাকবাহিনীর নৃশংসতা বর্ণনা করেন এবং দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেন। এ সময় রচিত বেণীবিন্যাস সময় তো আর নেই কবিতায় মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মহিলাদেরও আহবান জানান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১১,০০৭.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. জীবন আমার বোন
  4. কালো বরফ
ব্যাখ্যা

• 'কালো বরফ' উপন্যাস:
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

অন্যদিকে, 
• 'অনিল বাগচীর একদিন' ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
• 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বইটি শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০০৮.
জলোচ্ছ্বাস উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিনা হোসেন
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
জলোচ্ছ্বাস উপন্যাসের রচয়িতা- 'সেলিনা হোসেন'। 

সেলিনা হোসেন
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী 
- একাত্তরের ঢাকা 
- নির্ভয় করো হে 

তাঁর রচিত গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তর
- পরজন্ম
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা 
- অনূঢ়া ,
- পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা,

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১১,০০৯.
কোন দুইটি কাব্যগ্রন্থের জন্য আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’ ও ‘সোনালি কাবিন’
  2. খ) ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’
  3. গ) ‘সোনালি কাবিন’ ও ‘পানকৌড়ির রক্ত’
  4. ঘ) ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি তিনি।
প্রধান সাহিত্যকর্ম-
কাব্যগ্রন্থঃ লোক লোকান্তর (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন ( আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়, ১৯৭৩), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৭৬), বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থঃ পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ।
উপন্যাসঃ কবি ও কোলাহল (১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস), ডাহুকী, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, চেহারার চতুরঙ্গ, কাবিলের বোন ইত্যাদি।
১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা]
১১,০১০.
"মালঞ্চ" উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ইন্দ্রনাথ
  2. সরলা
  3. দামিনী
  4. বিমলা
ব্যাখ্যা

"মালঞ্চ" উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা
- চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

অন্যদিকে,
- ইন্দ্রনাথ - চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- দামিনী - চতুরঙ্গ উপন্যাসের চরিত্র।
- বিমলা- ঘরে বাইরে।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
চোখের বালি,
নৌকাডুবি,
বউ ঠাকুরানীর হাট,
দুই বোন,
গোরা,
রাজর্ষি,
শেষের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০১১.
কোন গ্রন্থে মীর মশাররফ হোসেন নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা, যা ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্বহীন ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন।
- লেখক নিজেকে এখানে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,০১২.
'শিখা' পত্রিকাটি কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলো?
  1. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. বাংলা একাডেমি
  3. ফোর্ড উইলিয়াম কলেজ
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০১৩.
'পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।'- উক্তিটি কার?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. সুফিয়া কামাল 
ব্যাখ্যা

'পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত। 

উক্তিটির বিশ্লেষণ-

পৃথিবীর সকল শিল্পীরই শিল্প সৃষ্টির প্রয়াসকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক খেলা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
লেখক মত প্রকাশ করেছেন যে, শিল্পী যা কিছু সৃষ্টি করেন সেটি শিল্পীর কাছে একরকম খেলারই নামান্তর। বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যার সৃষ্টিকর্মকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। মাটি নিয়ে পুতুল গড়ার খেলা খেলেই পৃথিবী জোড়া খ্যাতি পেয়েছেন রোদ্যা। ঠিক তেমনই পৃথিবীর সকল শিল্পীই খেলার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অভিনব সব সৃষ্টিশীল শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

--------------------
প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধের এরূপ কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
• 'কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।'- (সাহিত্যের খেলা)।
• 'সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে'- (সাহিত্যে খেলা)।
• ‘বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না।’
• 'যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন বাঁদরও গড়তে পারেন।'
• 'সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কবির কাজের ঠিক উলটো।'

উৎস: 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,০১৪.
‘একুশের গল্প’ — কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. হাসান হাফিজুর রহমান 
ব্যাখ্যা

‘একুশের গল্প’ (জহির রায়হান):
• জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম — ‘একুশের গল্প’। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

• গল্পের প্রধান চরিত্র — তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

এ গল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু সংলাপ:
• “এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।”
• “ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে।”
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।”

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।

১১,০১৫.
‘নয়ন ঢুলি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন 
  2. সরদার জয়েনউদ্দীন
  3. সমর সেন 
  4. শামসুজ্জামান খান 
ব্যাখ্যা

‘নয়ন ঢুলি’ উপন্যাসের রচয়িতা সরদার জয়েনউদ্দীন।
------------------------------------
সরদার জয়েনউদ্দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ছিলেন চল্লিশের দশকের একজন গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
- তিনি শিশুতোষ রচয়িতা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- তিনি পাবনার কামারহাটি গ্রামের কৃষক পরিবারে ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস।
- সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক পাকিস্তান, সংবাদ, ইত্তেফাক, অবজার্ভার পত্রিকা এবং বাংলা একাডেমী, ন্যাশনাল বুক সেন্টার, বাংলাদেশ টেক্সট বুক বোর্ড প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
- কথাসাহিত্যে তাঁর পরিচয় জনসম্মুখে আসে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ নয়ন ঢুলি দিয়ে।
-
সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯৮৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থসমূহ:
- নয়ন ঢুলি;
- বীর কণ্ঠীর বিয়ে;
- খরস্রোত;
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম;
- অষ্টপ্রহর। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- নীল রং রক্ত;
- পান্নামতি;
- আদিগন্ত;
- অনেক সূর্যের আশা;
- বেগম শেফালী মির্জা;
- বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ।

• তাঁর বিখ্যাত শিশুতোষ রচনা:
- উল্টো রাজার দেশ;
- অবাক অভিযান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১১,০১৬.
'গাজী মিয়া' মিয়া কার ছদ্মনাম?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) কাজেম আল কোরায়েশী
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 
- মীর মশাররফ হোসেন - গাজী মিয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কালকূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০১৭.
'নবান্ন' নাটক কার রচনা?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. মামুনুর রশিদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০১৮.
’দি আগলি এশিয়ান’ উন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ব্যাখ্যা

 • ‘দি আগলি এশিয়ান’ উপন্যাস:
-  ‘দি আগলি এশিয়ান’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০১৯.
এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) সবুজপত্র
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
১১,০২০.
'যাযাবর' কোন লেখক এর ছদ্মনাম?
  1. রাজশেখর বসু
  2. মধুসূধন মজুমদার
  3. হরীনাথ মজুমদার
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়:
- যাযাবর' ছদ্মনামটি সাহিত্যিক বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের।
-  
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় একজন বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং গীতিকার।
- তিনি ১৯০৮ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ঢাকার ফেগুনামার গ্রাম, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে বাংলাদেশ) এ জন্মগ্রহণ করেন।
- যাযাবর নামে "দৃষ্টিপাত" রম্যরচনা লিখে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক হয়ে ওঠেন।

• ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ সংকলন মিলিয়ে বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের গ্রন্থগুলো:
- 'দৃষ্টিপাত',
- 'জনান্তিকে',
- 'ঝিলম নদীর তীরে',
- 'লঘুকরণ',
- 'হ্রস্ব ও দীর্ঘ্‌
- 'যখন বৃষ্টি নামল',
- যাযাবর অমনিবাস।

অন্যদিকে, 
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম ছিল "পরশুরাম"
- মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিল "দৃষ্টিহীন”।
- হরীনাথ মজুমদার ছিলেন একজন সাংবাদিক, কবি, লেখক এবং বাউল শিল্পী, যিনি ‘কাঙ্গাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০২১.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদূত
  3. কোহিনূর
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
-  কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
-  কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত। প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০২২.
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০২৩.
'ক্ষুধা ও আশা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা ও আশা' উপন্যাস:
- 'ক্ষুধা ও আশা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৪৩ সালে যুদ্ধরত ঔপনিবেশিক শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় স্বার্থান্বেষী দেশীয় হিংস্র শোষক শ্রেণী পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও যে মহা দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে, তাতে কিংবদন্তীর উর্বরতার ভাণ্ডার বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ অসহায় শ্রমিক-কৃষক নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত গ্রামে গ্রামে শহরে বন্দরে মহানগরীতে অভিজাত ধনাঢ্যব্যক্তিদের চোখের সামনে মৃত্যুবরণে বাধ্য হয়: এই উপন্যাস তারই এক শাদামাটা কাহিনি।

-কিশোর লেখকের নিজের চোখে দেখা যে বাস্তবতা: তুখোড় সমালোচকগণ এর নান্দনিক মূল্যায়ন যা-ই করুন, ক্ষুধা ও আশা যে বিপন্ন মানব অস্তিত্বের এক প্রামাণ্য দলিল তাতেসবাই নিঃসন্দেহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'ক্ষুধা ও আশা' উপন্যাস।
১১,০২৪.
রবীন্দ্রনাথের কোন গ্রন্থটি নাটক?
  1. মালঞ্চ
  2. নৌকাডুবি
  3. ঘরে-বাইরে
  4. বসন্ত
ব্যাখ্যা

'বসন্ত':
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - গীতিনাট্য।
- 'বসন্ত' কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- মালঞ্চ, নৌকাডুবি, ঘরে-বাইরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।
 
প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য :
- চিত্রাঙ্গদা 
- নটীর পূজা 
- চণ্ডালিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০২৫.
আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি কোন ঘটনার পটভূমিতে লেখা?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- 'ওঙ্কার' উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,০২৬.
'সীমানা ছাড়িয়ে' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আনিস চৌধুরী
  4. ঘ) দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্পঃ তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, জলেশ্বরীর গল্পগুলো ইত্যাদি।
তার উপন্যাসঃ সীমানা ছাড়িয়ে, অনুপম দিন, এক মহিলার ছবি, নীল দংশন, খেলারাম খেলে যা, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,০২৭.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অতিরিক্ত সংস্কৃত শব্দচয়ন
  2. সংক্ষিপ্ত বাক্য এবং কঠোর যুক্তিনিষ্ঠতা
  3. বহুভাষার শব্দ, বাগ্‌ধারা ব্যবহার
  4. সম্পূর্ণ প্রমিত ও কঠোর সাহিত্যভাষা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলী ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য:
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা রম্যরচনার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন ভাষা থেকে শ্লোক, রূপক, শব্দ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনের যথার্থ ব্যবহার, সূক্ষ্ম হাস্যরস সৃষ্টিতে দক্ষতা এবং গভীর জীবনবোধকে সহজ–সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় প্রকাশ করার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রম্যরচনায় তাঁর ভাষাভঙ্গি এমন স্বতন্ত্র—যা অনুকরণ করা আজও কোনো বাংলা সাহিত্যিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ তাঁর স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং বহু ভাষাগত উপাদানে সমৃদ্ধ। তিনি ছিলেন এক বহুভাষাবিদ; ফলে তাঁর রচনায় প্রবেশ করেছে বহুভাষার অজস্র শব্দ, বিশেষ উচ্চারণরীতি, ভাষাভঙ্গি, বাগধারা এবং শব্দচয়নের অভিনবত্ব।

বিভিন্ন ভাষার শব্দ, শব্দাংশ বা ধ্বনি মিলিয়ে তিনি অসংখ্য নতুন শব্দ বা ‘জোড়কমল শব্দ’ সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর রচনাকে দিয়েছে আলাদা স্বকীয়তা, মাধুর্য এবং অনবদ্য রসের স্বাদ।

সাহিত্যিক সৃজনশীলতা, ভাষার খেলায় দক্ষতা, আর রসিকতাকে জীবনের গভীর সত্যের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতার জন্যই সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যে একমাত্র ও অদ্বিতীয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

১১,০২৮.
'প্রথম আলো' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
♦ 'প্রথম আলো' উপন্যাস:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রথম আলো'। 
- এই উপন্যাসটি ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং এর ইংরেজি অনুবাদ অক্সফোর্ড প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।
- দীর্ঘ প্রবাহিত এই উপন্যাসটির শুরু হয় ত্রিপুরার এক রাজপরিবারের কাহিনি দিয়ে। তারপরে তা ক্রমে ক্রমে এসে দাড়ায় কলকাতার ঠাকুর পরিবারে এবং তৎকালীন অন্যান্য বিশিষ্ট সব মানুষদের নিয়ে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলি সবই প্রায় বাস্তব বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ, নরেন্দ্রনাথ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, নটী বিনােদিনী, গিরিশচন্দ্র প্রভৃতি চরিত্রের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
- লেখক প্রথম রবীন্দ্রনাথকে উপন্যাসের চরিত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
- এছাড়াও উপন্যাসের মূল চরিত্র হিসেবে রয়েছে দুটি কাল্পনিক চরিত্র “ভরত ও ভূমিসুতা”।
- উপন্যাসটির ঘটনা প্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করেই।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসসমূহ:
- পূর্ব-পশ্চিম,
- সেই সময়,
- প্রথম আলো,
- একা এবং কয়েকজন।

উৎস: ‘প্রথম আলো’ উপন্যাস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
১১,০২৯.
নিচের কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. নবান্ন
  2. বহিপীর
  3. চাকা
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।
- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।
- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।


অন্যদিকে,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক- বহিপীর। 
- “কবর” মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক।
- বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন' একটি নাটক।

• সেলিম আল দীন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০৩০.
‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. নির্মেলেন্দু গুণ
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
• ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’ ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে লেখকের নাম হিসেবে পাওয়া যায় টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)।
- উনিশ শতকের কলকাতার শিক্ষিত বাঙালিদের, বিশেষত পুরুষদের জীবনযাপন নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রচনা ‘মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়’।

-----------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর সাহিত্যিক ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৩১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন রচনাটি কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কারপ্রাপ্ত?
  1. বিলাসী
  2. মহেশ
  3. মন্দির
  4. বড়দিদি 
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'। তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০৩২.
'বেদান্তগ্রন্থ' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।
 
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,০৩৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. ভিখারিনী 
  3. নষ্টনীড়
  4. হৈমন্তী 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প - ক্ষুধিত পাষাণ। 
----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। 
- তাকে "গুরুদেব", "কবিগুরু" ও "বিশ্বকবি" বলা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।

• রবিঠাকুর রচিত ৪টি সমাজসেবামূলক ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চারটি অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্পের উদাহরণ-
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীথে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল। 

• রবিঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প:
- ভিখারিনী (১ম), 
- নষ্টনীড়,
- একরাত্রি,
- সমাপ্তি,,
- পোস্টমাস্টার,
- ব্যবধান,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন,
- মাল্যদান,
- ফেল,
- কাবুলিওয়ালা। 

• জীবনের শেষপর্বে রবিঠাকুর রচিত কিছু বুদ্ধিদীপ্ত ছোটগল্প হচ্ছে- 
- রবিবার, 
- শেষকথা, 
- ল্যাবরেটরি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১১,০৩৪.
কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৩০৫ - ১৩৮২ বঙ্গাব্দ
  2. ১৩০৫ - ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
  3. ১৩০৬ - ১৩৮২ বঙ্গাব্দ
  4. ১৩০৬ - ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা।

তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
১১,০৩৫.
মোকাজান মিঞা প্যারীচাঁদ মিত্রের কোন উপন্যাসটির জীবন্ত চরিত্র?
  1. ক) রামারঞ্জিকা
  2. খ) আলালের ঘরের দুলাল
  3. গ) যৎকিঞ্চিৎ
  4. ঘ) গীতাঙ্কুর
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- ঠকচাচা চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল।
-  মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি ও প্রানময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- কেউ বলেন ‘আলালের ঘরের দুলাল’  বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী 
- যৎকিঞ্চিৎ
- গীতাঙ্কুর
 
• The Zamindar and Royats: এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৩৬.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি কোন ধরণের?
  1. ক) রোমান্টিক
  2. খ) অতিনাটক
  3. গ) করুণ রসাত্মক
  4. ঘ) ব্যঙ্গ বিদ্রুপাত্মক
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি করুণ রসাত্মক
- এক অপরিসীম যন্ত্রনাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে রচনাটি। 
- ট্র্যাজেডিসদৃশ বেদনাবহতা এই নাটকে বিদ্যমান। 
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা একইভাবে ট্র্যাজিডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে। 

 সিকান্দর আবু জাফর(১৯১৯-১৯৭৫):
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক সিকান্দর আবু জাফর এর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ,  ইত্তেফাক,  সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
উপন্যাস
- পূরবী (১৯৪১),
- নতুন সকাল (১৯৪৬);

ছোটগল্প
- মাটি আর অশ্রু (১৯৪২),
- কবিতা প্রসন্ন শহর (১৯৬৫),
- তিমিরান্তিক (১৯৬৫),
- বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫),
- বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১),
- বাংলা ছাড়ো (১৯৭১);

নাটক
- সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫),
- মহাকবি আলাউল (১৯৬৬)।

আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন।
তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস (১৯৫৯),
- সেন্ট লুইয়ের সেতু (১৯৬১),
- রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম (১৯৬৬) ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
১১,০৩৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রকৃত নাম কী?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'। কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। 

-----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- তিনি১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৩৮.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. সাম্যবাদী
  2. সাম্য
  3. রুদ্র-মঙ্গল
  4. প্রবন্ধ সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• ‘রুদ্র-মঙ্গল’কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• রুদ্র-মঙ্গল:
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে। 
এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির মসজিদ এবং
- হিন্দু-মুসলমান।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ 'সাম্যবাদী'।
- 'সাম্য' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,০৩৯.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ -এর রচয়িতা কে?
  1. ক) গোবিন্দ হালদার
  2. খ) সিকান্দার আবু জাফর
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর রচিত সংগ্রামের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’।
গোবিন্দ হালদার - এক সাগর রক্তের বিনিময়ে/মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে/পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে...
নজরুল ইসলাম বাবু - সব কটা জানালা খুলে দেও না।
আবদুল লতিফ - ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো আর্কাইভ।

১১,০৪০.
বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে কোন পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. মোসলেম ভারত
  3. সবুজপত্র
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৪১.
'কবর' নাটক কোন বিদেশি নাটকের অনুকরণে লেখা?
  1. Bury The Dead
  2. Buried Emotion
  3. Deadman Land
  4. Buried Island
ব্যাখ্যা
• কবর:
- একাঙ্ক বিশিষ্ট 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১১,০৪২.
'আকাশনীলা' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ সাতটি তারার তিমির। আর এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘আকাশনীলা’।
১১,০৪৩.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,০৪৪.
প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন-
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সোমেন চন্দ
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- গল্প,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ ও
- একগ্লাস অন্ধকার উলে­খযোগ্য।

অন্যদিকে,
- শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- সোমেন চন্দ ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- সরদার জয়েনউদ্‌দীন মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৪৫.
‘বনফুল’ রচিত ‘বিদ্যাসাগর’ কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) জীবনীনাটক
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'বনফুল' বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম। তিনি ১৮৯৯ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। 'শনিবারের চিঠি' নামক ব্যঙ্গ কবিতার মাধ্যমে তিনি তার সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। গল্প, কবিতা, উপন্যাস রচনার পাশাপাশি তিনি নাটক রচনা করেছেন।
বনফুলকে জীবনীনাটক রচনার পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত 'শ্রীমধুসূদন'এবং ১৯৪২ সালে প্রকাশিত 'বিদ্যাসাগর' তাঁর রচিত জীবনীনাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,০৪৬.
‘শঙ্খমালা’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
⇒ শঙ্খমালা’ কবিতা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

• জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৪৭.
'আত্মঘাতী বাঙালি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) অশোক মিত্র
  2. খ) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. ঘ) অতুল সুর
১১,০৪৮.
শামসুর রাহমান কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৬৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান  ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 
তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা 
- স্বাধীনতা তুমি 
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা

- তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন ১৯৬৩ সালে।
- তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন ১৯৬৯ সালে 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর]
১১,০৪৯.
জগৎসিংহ ও মদনিকা কোন নাটকের চরিত্র?
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) শর্মিষ্ঠা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
-তিনি বাংলাভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

⇒ কৃষ্ণকুমারী নাটক:
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত 'কৃষ্ণকুমারী' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটক।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- নাটকের কাহিনি নেওয়া হয়, উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম-সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।

⇒ শর্মিষ্ঠা নাটক:
• 'শর্মিষ্ঠা' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রকাশিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- নাটকটি পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

• পদ্মাবতী, মধুসূদন দত্তের পৌরাণিক নাটক। 
- এটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ১৯৬২ সালে প্রকাশিত মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫০.
বাংলা মৌলিক নাটক সূচনার হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮২২
  2. খ) ১৮৩২
  3. গ) ১৮৪২
  4. ঘ) ১৮৫২
ব্যাখ্যা
বাংলা মৌলিক নাটকের সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।
- যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস' ও তারাচরণ শিকদারের 'ভদ্রার্জুন' এই বছর প্রকাশিত নাটক।
- কীর্তিবিলাস বিয়োগাত্মক নাটক রচনার প্রথম প্রকাশ।
- ভদ্রার্জুন ইংরেজ ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- বাংলায়  প্রথম সার্থক নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১১,০৫১.
'নবনূর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. শেখ ফজলল করিম
  2. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ
  3. সৈয়দ এমদাদ আলী
  4. শেখ আব্দুর রহিম
ব্যাখ্যা
• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'বাসনা' পত্রিকা ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ ফজলল করিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• বিশ শতকের পত্রিকা নয় - মিহির।
- এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম। 
উল্লেখ্য,
• হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৫২.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসে নির্যাতিতা কালো মেয়েটি কে?
  1. আমেনা
  2. নাজমা
  3. জীবন
  4. রেণু
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়। কর্তব্যের তাগিদেই, মহান মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধুনা বিস্মৃত এই উপন্যাসটি পুনর্প্রকাশিত হলো।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়ের সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে: 
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস।
১১,০৫৩.
"চোখ ফেটে এল জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. চোর-ডাকাত
  2. লিচু চোর 
  3. কুলি-মজুর
  4. শ্রমিকের গান 
ব্যাখ্যা

• "চোখ ফেটে এল জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - কাজী নজরুল ইসলাম এর কুলি-মজুর কবিতার অংশবিশেষ।

কুলি-মজুর- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম। 

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি বলে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,
বল ত এ-সব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা? -ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।
তুমি জান নাকো, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে,
ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে!
                         আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।

১১,০৫৪.
'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য কোন কবির রচনা?
  1. নবীনচন্দ্রের
  2. হেমচন্দ্রের
  3. মধুসূদনের
  4. রবীন্দ্রনাথের
ব্যাখ্যা
 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যে:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫৫.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত উপন্যাস-
  1. গ্রানাডার শেষ বীর
  2. অজ্ঞাতবা
  3. কলঙ্কবতী
  4. অপসরণ
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

অন্যদিকে,
•  অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত উপন্যাস:
- কলঙ্কবতী, 
- অজ্ঞাতবাস, 
- অপসরণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৫৬.
শহীদুল্লাহ কায়সারের স্মৃতিকথা কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) তিমির বলয়
  3. গ) কারাগারের রোজনামচা
  4. ঘ) রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,০৫৭.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. ফেরারী ফৌজ
  3. উপনয়ন
  4. কখনো মেঘ
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত উপন্যাস: উপনয়ন। 
অন্যদিকে, 
প্রথমা, ফেরারী ফৌজ, কখনো মেঘ- প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক, 
- কুয়াশা, 
- মিছিল, 
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৫৮.
‘মুকুল’ নামে ছোটদের জন্য প্রকাশিত ম্যাগাজিনের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. লুৎফর রহমান
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- তিনি ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- তিনি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ' এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' (১৯৫৫)।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

তার রচিত গ্রন্থ:
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময়,
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান,
- নতুন দিগন্ত,
- মহাকাশে কী ঘটছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প- 
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. মাল্যদান
  3. দেনাপাওনা
  4. মণিহারা
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্পগুলি ‘গল্পগুচ্ছ’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প দেনাপাওনা। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক উল্লেখযোগ্য চারটি ছোটগল্প হলো:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- নিশীথে ও
- মণিহারা

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রেমের গল্প - মাল্যদান

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০৬০.
জসীমউদ্দিনের 'কবর' কবিতাটি কোন্ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. তত্ত্ব-বোধিনী
  2. ধূমকেতু
  3. কালি ও কলম
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-
কবর
-জসীম উদ্‌দীন
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। এ
তটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

-----------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না।

• তাঁর রচিত নাটক:
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, পল্লীবধূ ইত্যাদি।

• তার রচিত আত্মকথা:
যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়, জীবন কথা ইত্যাদি।

• তাঁর ভ্রমণ কাহিনি:
চলে মুসাফির, হলদে পরির দেশে, যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৬১.
'এই বইখানিতে পেয়েছি যথার্থ গল্পের স্বাদ। এর থেকে শিক্ষা হয়নি কিছুই। দেখা হয়েছে অনেক যা পূর্বে এমন দেখি নি।' - বিভূতিভূষণের কোন উপন্যাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই মন্তব্য করেন?
  1. আরণ্যক
  2. পথের পাঁচালী
  3. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  4. অপরাজিত
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - পথের পাঁচালী যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষ।
- কাহিনী গড়ে  উঠেছে - এক শিশুর চৈতন্য জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয়।
- উপন্যাসটির ৩টি ভাগ - বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু ও অক্রূর সংবাদ।
- এই উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ড "অপরাজিত" যা ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্র - অপু, দুর্গা, ইন্দির, ঠাকুরন, সর্বজয়া প্রমুখ।

পথের পাঁচালী নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্য: এই বইখানিতে পেয়েছি যথার্থ গল্পের স্বাদ। এর থেকে শিক্ষা হয়নি কিছুই। দেখা হয়েছে অনেক যা পূর্বে এমন দেখি নি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৬২.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. সমকাল
  3. সাধনা
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা

'মোসলেম ভারত' পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক 'মোসলেম ভারত' প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- 'মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং মোহাম্মদ নাসির আলির সম্পাদনা পত্রিকা - নয়া সড়ক।
- মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন সিকান্দার আবু জাফর।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা - সাধনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,০৬৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের কোন কবির রচনাকে ‘চিত্ররূপময়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশ অন্যতম। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে বলেছেন ‘চিত্ররূপময়’।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।

- তাঁর জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

আরও কিছু বিখ্যাত কবির উপাধি- 
> সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত - ছন্দের জাদুকর
> গোবিন্দচন্দ্র দাশ - স্বভাবকবি
> ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত - যুগুসন্ধিক্ষণের কবি
> ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা - বিদ্যাসাগর
> কাজী নজরুল ইসলাম - বিদ্রোহী কবি
> জসীমউদ্দিন - পল্লীকবি
> নজিবর রহমান - সাহিত্যরত্ন
> বিহারীলাল চক্রবর্তী - ভোরের পাখি
> মালাধর বসু - গুণরাজ খান ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

১১,০৬৪.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত-
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 
 
তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।
 
তাঁর উলে­খযোগ্যে উপন্যাস:
• অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
• কঙ্কাবতী,
• যার যেথা দেশ,
• দুঃখমোচন,
• মর্তের স্বর্গ।

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা ইত্যাদি।  

অন্যদিকে,
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ফররুখ আহমেদ ছিলেন মুসলিম জাগরণ এবং ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি।

উৎস: ‘বিনুর বই’  অন্নদাশঙ্কর রায় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৬৫.
বাংলা ভাষায় প্রথম ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. অক্ষয় দত্ত
  2. মার্শম্যান
  3. ব্রাশি হ্যালহেড
  4. রাজা রামমোহন
ব্যাখ্যা
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রাজা রামমোহন রায়ের 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' ব্যাকরণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

• গৌড়ীয় ব্যাকরণ:

- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

---------------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় “শিব প্রসাদ রায়” ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৬৬.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. মাহমুদুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. মাহবুবুল আলম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- চিক্কোর কাবুল 
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০৬৭.
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনা
  2. শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট
  3. চাকমা উপজাতির জীবন ও সংগ্রাম
  4. নারী স্বাধীনতা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'কর্ণফুলী' উপন্যাস:
বাংলা উপন্যাস জগতে আলাউদ্দিন আল আজাদের “কর্ণফুলী” একটি ব্যতিক্রমধর্মী সৃষ্টি। পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত এক বিশেষ জনপদের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে লেখক চিত্রিত করেছেন উপমহাদেশের একটি অনন্য সংস্কৃতির জীবনধারা— চাকমা উপজাতির সংগ্রাম, প্রেম ও অস্তিত্বের গল্প।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্ররা হলেন রাঙ্গামিলা, চাকমা দেওয়ানপুত্র, বাঙালি ইসমাইল, জলি ও রমজান। তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ ও সামাজিক বাস্তবতা লেখক গভীর মানবিক দৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন। এখানে পাহাড়ি জীবনের কষ্ট, জাতিগত বৈষম্য এবং প্রান্তিক মানুষের সংগ্রাম নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসে চাকমা ভাষার ব্যবহার লেখাটিকে আরও বাস্তব ও জীবন্ত করেছে।
- ‘কর্ণফুলী’ মূলত একটি উপজাতীয় জীবনের কাহিনি, যেখানে মানুষ, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে এক চিরন্তন মানবিক সুরে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:

- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম: ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

১১,০৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কবির কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন  
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হচ্ছে-
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,০৬৯.
‘নবান্ন’ নাটকের বিষয়বস্তু কী ?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
  4. ঘ) গণ অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক। 

বিজন ভট্টাচার্য নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন৷
তিনি 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- জনপদ
- কলঙ্ক
- মরাচাঁদ
- অবরোধ
- গোত্রান্তর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৭০.
টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. শ্যামা সংগীত
  2. গীতরত্ন
  3. জ্ঞানপ্রদীপ
  4. সংগীতমাধব
ব্যাখ্যা
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 
- বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
 বিনে স্বদেশীয় ভাষা
  পুরে কি আশা।।"

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৭১.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শেষ রাত্রির তারা
  2. খ) মুক্তি
  3. গ) দেয়াল
  4. ঘ) প্রপঞ্চ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত গল্পগ্রন্থ হলোঃ জীবন, শেষ রাত্রির তারা, এক জোড়া প্যান্ট ও অন্যান্য, রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, ল্যাংড়ী। মুক্তি, দেয়াল, প্রপঞ্চ হলো লেখকের রচিত উপন্যাস। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১১,০৭২.
"নদী ও নারী" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. হুমায়ুন কবির
  4. সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস - নদী ও নারী।

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৭৩.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. মেঘের পরে মেঘ
  2. যাত্রা
  3. যুদ্ধ
  4. হিজল কাঠের নৌকা
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক ‘হিজল কাঠের নৌকা’

অন্যদিকে,
⇒ “মেঘের পর মেঘ” উপন্যাস:
• রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস “মেঘের পর মেঘ”। উপন্যাসটি অবলম্বনে, বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র - মেঘের পরে মেঘ।

⇒ 'যাত্রা' উপন্যাস:
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান ।

⇒ 'যুদ্ধ' উপন্যাস:
• 'যুদ্ধ' ১৯৭১ সালে সংঘটিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
• লেখক এ উপন্যাসে যুদ্ধের বিভিন্ন মাত্রা অনুসন্ধানে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, মনন এবং কল্পনাশক্তির ব্যবহার করছেন। তিনি যুদ্ধের প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন ব্যক্তির বেঁচে থাকার সঙ্কট, মূল্যবোধের রূপান্তর, ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুষঙ্গে আঘাত, মৃত্যু, স্বজন হারানোর বেদনার ভেতর দিয়ে।
• তিনি যুদ্ধের দেশীয় প্রেক্ষাপট নির্মাণ করেছেন একটি সেক্টরের সরাসরি যুদ্ধকে চিত্রিত করে এবং অগণিত মানুষের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও যুদ্ধ সম্পর্কিত দেশজ-ঐতিহ্য সংলগ্ন ভাবনার ভেতর দিয়ে।
• এ উপন্যাসে একটি চরিত্র আছে। যার কোনো নাম নেই। 'লোকটি' অভিধায় যে দেশের সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। অস্ত্রচালনার ট্রেনিং নেয়- যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধাদের পাশে পাশে থাকে । গ্রামে, গঞ্জে, শহরে, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। পুরো উপন্যাস জুড়ে সে একটি প্রতীকী চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্রকন্ঠর; কালের কণ্ঠ রিপোট; ‘যুদ্ধ’ উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

১১,০৭৪.
'চাচা কাহিনীর' লেখক-
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ

- দেশে বিদেশে,
- জলে ডাঙ্গায়।
তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।
তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
১১,০৭৫.
‘বসন্তকুমারী’ নাটকটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৭৩
  2. খ) ১৮৬১
  3. গ) ১৮৬০
  4. ঘ) ১৮৫৪
ব্যাখ্যা

মুসলিম প্রথম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেন কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
- গোরাই-ব্রিজ অথবা গৌরী-সেতু (১৮৭৩),
- বসন্তকুমারী নাটক (১৮৭৩),
- জমিদার দর্পণ (১৮৭৩),
- এর উপায় কি (১৮৭৫),
- বিষাদ-সিন্ধু (১৮৮৫-১৮৯১),
- সঙ্গীত লহরী (১৮৮৭),
- গো-জীবন (১৮৮৯),
- বেহুলা গীতাভিনয় (১৮৯৮),
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (১৮৯০),
- তহমিনা (১৮৯৭),
- টালা অভিনয় (১৮৯৭),
- নিয়তি কি অবনতি (১৮৮৯),
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯),
- মৌলুদ শরীফ (১৯০৩),
- মুসলমানদের বাঙ্গালা শিক্ষা (দুই ভাগ ১৯০৩, ১৯০৮),
- বিবি খোদেজার বিবাহ (১৯০৫),
- হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ (১৯০৫),
- মদিনার গৌরব (১৯০৬),
- বাজীমাৎ (১৯০৮),
- আমার জীবনী (১৯০৮-১৯১০),
- আমার জীবনীর জীবনী বিবি কুলসুম (১৯১০) ইত্যাদি।

- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
- তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০৭৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী মূলত কোন ধরনের রচনার জন্য বিখ্যাত?
  1. রম্য নাটক
  2. আধুনিক উপন্যাস
  3. মহাকাব্য
  4. রম্যরচনা
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষাশৈলী ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য:
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা রম্যরচনার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন ভাষা থেকে শ্লোক, রূপক, শব্দ, বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনের যথার্থ ব্যবহার, সূক্ষ্ম হাস্যরস সৃষ্টিতে দক্ষতা এবং গভীর জীবনবোধকে সহজ–সরল অথচ বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় প্রকাশ করার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি রম্যরচনার জন্য বিখ্যাত।

রম্যরচনায় তাঁর ভাষাভঙ্গি এমন স্বতন্ত্র—যা অনুকরণ করা আজও কোনো বাংলা সাহিত্যিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ তাঁর স্টাইল ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, স্বতঃস্ফূর্ত এবং বহু ভাষাগত উপাদানে সমৃদ্ধ। তিনি ছিলেন এক বহুভাষাবিদ; ফলে তাঁর রচনায় প্রবেশ করেছে বহুভাষার অজস্র শব্দ, বিশেষ উচ্চারণরীতি, ভাষাভঙ্গি, বাগধারা এবং শব্দচয়নের অভিনবত্ব।

বিভিন্ন ভাষার শব্দ, শব্দাংশ বা ধ্বনি মিলিয়ে তিনি অসংখ্য নতুন শব্দ বা ‘জোড়কমল শব্দ’ সৃষ্টি করেছেন, যা তাঁর রচনাকে দিয়েছে আলাদা স্বকীয়তা, মাধুর্য এবং অনবদ্য রসের স্বাদ।

সাহিত্যিক সৃজনশীলতা, ভাষার খেলায় দক্ষতা, আর রসিকতাকে জীবনের গভীর সত্যের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষমতার জন্যই সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যে একমাত্র ও অদ্বিতীয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

১১,০৭৭.
'ছুটির দিন দুপুরে' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি ছিলেন। তাঁর কাব্যচর্চার শুরু বাল্যকাল থেকেই।
- সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম লেখা একটি প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তখন তিনি দশম শ্রেণীর ছাত্র। এভাবেই তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অরণ্য নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।

• এ ছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ: জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,০৭৮.
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হুমায়ুন কবির
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৭৯.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ছায়ানট
  2. যুগবাণী
  3. প্রলয়শিখা
  4. চক্রবাক
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে 'যুগবাণী' - ব্যতিক্রম। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- বাকীগুলো কাব্য। 
------------------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১১,০৮০.
কোন লেখকের ছদ্মনাম ‘কালপেঁচা’?
  1. বিনয় ঘোষ
  2. বিনয় মজুমদার
  3. বিনয় কৃষ্ণ চৌধুরী
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।
- ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (১৯৪৩) সঙ্গে বিনয় ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখানে তাঁর ল্যাবরেটরী নাটকটি অভিনীত হয়।
- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষা-ভিত্তিক আলোচনাগ্রন্থ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি (১৯৫৭) তাঁর বিশিষ্ট রচনা।
- মার্কসবাদের আলোকে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এসব গ্রন্থের প্রধান আকর্ষণ।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ:
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি,
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খন্ড),
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ,
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৮১.
কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
  1. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. নির্জন স্বাক্ষর
  3. নিরালোকে দিব্যরথ
  4. নির্বাণ
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের রচিত 'নিরালোকে দিব্যরথ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।
- 'নির্জন স্বাক্ষর' জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা। 

------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,০৮২.
'সভ্যতা' ও 'সুখ' অনুবাদগ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) লুৎফর রহমান
  2. খ) মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  3. গ) মীর মোশারফ হোসেন
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম  নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের দৈন্য’, ‘আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী’ ও ‘মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা’ প্রবন্ধ যথাক্রমে সাহিত্য সমাজের পঞ্চম (১৯৩১), ষষ্ঠ (১৯৩২) ও অষ্টম (১৯৩৪) বার্ষিক সম্মেলনে পঠিত হয়। এছাড়া তাঁর ‘রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস’ প্রবন্ধটি সমাজের মুখপত্র শিখার পঞ্চম বর্ষে প্রকাশিত হয়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ 'সুখ' (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ 'সভ্যতা' (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া.

১১,০৮৩.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পত্রিকা 'কল্লোল' এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. দীনেশরঞ্জন মিত্র
  2. অজিতকুমার দত্ত
  3. দীনেশরঞ্জন দাশ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- রবীন্দ্র-রোম্যান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন
- অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত,
- শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়,
- বুদ্ধদেব বসু,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া]
১১,০৮৪.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন -
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষের 'যামিনী চন্দ্রমাহীনা' প্রহসনে
  2. দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে
  3. মাইকেল মধুসুদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' প্রহসনে
  4. মীর মশাররফ হোসেনের 'এর উপায় কি?' প্রহসনে
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন - দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্ত্ত।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
-  ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন। 

 • তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ, 
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর। 

তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১১,০৮৫.
বাংলা সাহিত্যের 'অবক্ষয় যুগ' কোনটি?
  1. ১৭৫০-১৮৫০
  2. ১৭৬০-১৮৬০
  3. ১৯০০-১৯৫০
  4. ১৯৫১-২০০০
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল/ অবক্ষয় এর যুগ:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,০৮৬.
'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা - রাবেয়া খাতুন। 
 
রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।
 
রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০৮৭.
নিচের কোন সাময়িকপত্রটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) পরিচয়
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) লোকায়ত
ব্যাখ্যা
'লোকায়ত' ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সাহিত্য পত্রিকা। ১৯৮২ সালে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরিচয় কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা। সম্পাদক ছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। উৎস: শীকর, বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
১১,০৮৮.
'আয়নায় বন্ধুর মুখ' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তিনি এ নাটকটি রচনা করেন মূলত বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা দরকার যে, মামুন ‘শপথ’ রচনার আগে ‘নিয়তির পরিহাস’, ‘বিন্দু বিন্দু রং’ শীর্ষক দুটো মৌলিক নাটক ছাড়া ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর ফস্টাস’ বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন।
• এছাড়াও তিনি নাট্যনিরীক্ষা করতে গিয়ে ‘ঋতুরাজ’ শীর্ষক এক কাব্যনাটক রচনা করেছিলেন।
• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- আয়নায় বন্ধুর মুখ,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখনও দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- সেনাপতি,
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- ক্রসরোড ক্রস ফায়ার,
- এখনও ক্রীতদাস,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- আমাদের সন্তানেরা,
- কোকিলারা,
- মাইক মাস্টার,
- মেরাজ ফকিরের মা,
- মেহেরজান আরেকবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১১,০৮৯.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জামিলা
  2. খ) জয়গুন
  3. গ) শশী
  4. ঘ) তাহেরা
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 
------------------------
• আবু ইসহাক: 
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। 
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০),  ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘শিশু একাডেমী পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।  

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- হারেম, 
- মহাপতঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯০.
'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' - ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র দাশ
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা', 'কালপুরুষ' - ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা সমরেশ মজুমদার।

সমরেশ মজুমদার (জন্ম: ১০ মার্চ ১৯৪২):
- বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক।
- সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস “দৌড়” ছাপা হয়েছিলো দেশেই ১৯৭৫ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে
- সাতকাহন,
- তেরো পার্বণ,
- স্বপ্নের বাজার,
- উজান,
- গঙ্গা,
- ভিক্টোরিয়ার বাগান,
- আট কুঠুরি নয় দরজা,
- অনুরাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

- তার ট্রিলজি 'উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ' বাংলা সাহিত্য জগতে তাকে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী করেছে।

আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 
⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম'
⇒ নবীনচন্দ্র সেন:  'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র' ও 'প্রভাস'
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিত' ও 'কাজল'
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'
⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯১.
'খুল্লনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল  মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯২.
যৌতুক প্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্পের নাম-
  1. ক) ছুটি
  2. খ) দেনাপাওনা
  3. গ) অপরিচিতা
  4. ঘ) পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
যৌতুক প্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি প্রসিদ্ধ ছোটগল্পের নাম- 'দেনাপাওনা'

⇒ দেনাপাওনা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ থেকে ‘দেনাপাওনা’ গল্পটি সংকলিত হয়েছে। 
- ‘দেনাপাওনা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অত্যন্ত সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজের প্রচলিত যৌতুক প্রথার মর্মান্তিক রূপ উপস্থাপন করেছেন।
- যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিন্ন মত গড়ে তুলতে গল্পটি সহায়ক।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ।


উৎস: বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১১,০৯৩.
সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম কী?
  1. মইনুদ্দিন আল দীন
  2. মাইন উদ্দিন আহমেদ
  3. মইনুদ্দিন আহমেদ
  4. মফিজ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
. সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ
- অল্প বয়স থেকেই সেলিম আল দীনের লেখক জীবন শুরু হলেও ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯৪.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতার নাম-
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. নজিবর রহমান
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- বিশ শতকের প্রথম দ্বিতীয় দশকের গ্রামীণ মধ্যবিত্ত মুসলিম জীবন ও সমাজের আলেখ্য নিয়ে মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচনা করেন ‘আনোয়ারা” উপন্যাস।
- 'আনোয়ারা' (১৯১৪) শিল্পসম্মত উপন্যাস নয়। তবে মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশের চিত্র আছে এখানে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ব্যবসা, চাকরি ইত্যাদিতে মুসলিমদের প্রবেশের সূচনাকালীন কথকতা থাকায় এর সমাজতাত্ত্বিক মূল্য কম নয়।
- তাছাড়া এ সময় মুসলিমরা যে ইংরেজি পড়াশোনাও আরম্ভ করেছে সে চিত্রও এখানে আছে। 

কাহিনি সংক্ষেপ-
আনোয়ারা’ উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে আনোয়ারা নাম্নী এক তরুণীকে ঘিরে। তার জীবনকে যেন লেখক বাঙালি নারীর আদর্শ জীবনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে কিনা সৎ মা গোলাপজানের শত গঞ্জনা সয়েও মুখে টু শব্দটি করে না। মায়ের বাধ্য সন্তান যেমন হয় আনোয়ারাও ঠিক তাই। আনোয়ারার একমাত্র সঙ্গী তার সই হামিদা। অন্যদিকে সৎ মায়ের গঞ্জনাতে শীতল ছায়া দিয়ে চলেছে আনোয়ারার দাদীমা। এই দুটি মানুষের কাছে জীবনের পরম আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে আনোয়ারা। কিন্তু আনোয়ারার জীবন দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আদর্শপূর্ণ করে রেখেছেন লেখক। নামাজের জন্য ওযু করতে গিয়ে চোখ পড়ে নুরল এসলামের ওপর। যে সৎ, পবিত্র, নিষ্ঠাবান একজন কর্মী। নৌকাতে অবস্থানকালে তার মধুর কণ্ঠের কোরআন পাঠ আনোয়ারাকে মুগ্ধ করে। মনের অজান্তেই ভিনদেশি এই যুবকের মতো কেউ তার স্বামীর আসন দখল করুক এই তার বাসনা।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বিয়ে হয় আনোয়ারা এবং নুরল এসলামের। কিন্তু এখানেও আনোয়ারার জীবনে আসে কালবৈশাখী ঝড়। এক তিমির থেকে বেঁচে সে এসে উপস্থিত হয় আরও এক গভীর অন্ধকারে। যেখানে তার পক্ষে কেউ নেই।

উৎস: 'আনোয়ারা' উপন্যাস।
১১,০৯৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থটি 'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে?
  1. জারীগান
  2. বাঙালীর হাসির গল্প
  3. মুর্শীদা গান
  4. নক্সী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন রচিত বাঙালীর হাসির গল্প গ্রন্থটি 'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যটি 'দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

• জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। ১৯৬৮ সালে তাঁর সম্পাদনায় কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত হয় জারীগান।  জারি গান একান্তভাবেই বাংলাদেশের নিজস্ব সৃষ্টি। এ গ্রন্থে জারি গানের মোট ২৩টি পালা সংকলিত হয়েছে। গ্রন্থের ভূমিকায় জসীমউদ্দীন জারি গানের উৎস এবং বিভিন্ন এলাকার জারি গানের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। দ্বিতীয় গ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১১,০৯৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. জলাঙ্গী
  3. ওঙ্কার
  4. প্রদোষে প্রাকৃতজন
ব্যাখ্যা

'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- 'জলাঙ্গী' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

অন্যদিকে,
- আহমদ ছফার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘ওঙ্কার' এ উঠে এসেছে '৬৯ এর পাকিস্তান আমলের সমাজচিত্রের ক্যানভাস ও সামাজিক অসংগতি এবং মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস। সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,০৯৭.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস -
  1. অ-তে অজগর
  2. সত্যের মতো বদমাশ
  3. মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
  4. নেকড়ে হায়েনা
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ।

আবদুল মান্নান সৈয়দ ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯৮.
‘পাপের সন্তান’ উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. সত্যেন সেন
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
'পাপের সন্তান' উপন্যাস:
- 'অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত 'পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনেরই সেরা সৃষ্টি নয়, বাংলা ভাষায় লিখিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার (১৯৭০) লাভ করেন।
- 'অভিশপ্ত নগরী'তে জেরুজালেম নগরী পতনের কথা আছে।
- 'পাপের সন্তানে' সেই পতনের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত।
- এই দীর্ঘ সময়ে ইহুদিদের সঙ্গে অন্য ধর্ম- জাতির অনেকেরই বিয়ে এবং সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটে।
- পরজাতি স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী ইহুদি সন্তানদের পাপের সন্তান আখ্যা দিয়ে তাদের ধ্বংস কামনা করা হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান পাত্র-পাত্রী মিকা ও শদরা ধর্মীয় ও সামাজিক এই বিধি নিষেধ অতিক্রম করে নীলনদের তীরে এসে নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়। এই নতুনের প্রতি ইঙ্গিতই উপন্যাসের মূলকথা।
- বাংলাদেশে বাইবেল থেকে কাহিনি নিয়ে উপন্যাস রচনা এই প্রথম।

সত্যেন সেন:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক। 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে 'দৈনিক সংবাদ' এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং 'উদীচী ' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।
- তিনি ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৮১ শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী, 
- পদচিহ্ন, 
- পাপের সন্তান, 
- আলবেরুনী, 
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ 'আ‌মি বিজয় দে‌খে‌ছি' এর রচয়িতা কে?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ 'আ‌মি বিজয় দে‌খে‌ছি' এর রচয়িতা - এম আর আখতার মুকুল

এম আর আখতার মুকুল:

- তিনি সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পল্লী এক্সপ্রেস,
- রূপালী বাতাস,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১০০.
'ক্রীতদাসের হাসি' কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- মধ্যপ্রাচ্যের কাহিনির আধারে এই উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানকেই তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো এ-প্রসঙ্গে বেশ মিলে যায়। যেমন: বাগদাদের বাদশা হারুন হলেন আইয়ুব খান; বেগম জুবাইদা হলেন পাকিস্তানের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ; তাতারী হলেন পাকিস্তানের সাধারণ জনতা; মেহেরজান হলেন বাংলার স্বাধীনতা।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

-------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বণী আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।