বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০৮ / ১৭৪ · ১০,৭০১১০,৮০০ / ১৭,৪৩৭

১০,৭০১.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) এখনও ক্রীতদাস
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) সুবচন নির্বসনে
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'কোকিলারা'।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।  

নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত অন্যান্য নাটক - 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭০২.
'উদীচী' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা-
  1. সমর সেন
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক। 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে 'দৈনিক সংবাদ' এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং 'উদীচী' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।
- তিনি ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৮১ শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী, 
- পদচিহ্ন, 
- পাপের সন্তান, 
- আলবেরুনী, 
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭০৩.
কোন সাহিত্য কর্ম দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়?
  1. পথের পাঁচালী
  2. অপরাজিত
  3. উপেক্ষিতা
  4. আম আঁটির ভেঁপু
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭০৪.
'সাবিত্রী উপাখ্যান' হাসান আজিজুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'সাবিত্রী উপাখ্যান' উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি। উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

---------------------
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

১০,৭০৫.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় -
  1. অলাতচক্র
  2. আর্তনাদ
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. কবর
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় - অলাতচক্র
- এটি আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক - কবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'আর্তনাদ' উপন্যাস, শওকত ওসমান।
১০,৭০৬.
"কিশোর, সুবল" - কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা

'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'। নিম্নজীবী মানুষের ব্যথা বেদনাকে আপন অভিজ্ঞতার আলোকে নির্মিত বাস্তবতার নাম ‘তিতাস একটি নদীর নাম’।

• উপন্যাসটি প্রথমে মাসিক পত্রিকা মোহাম্মদীতে প্রকাশিত হয়েছিল। কয়েকটি অধ্যায় মোহাম্মদীতে মুদ্রিত হওয়ার পর উপন্যাসটির মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যায়। পরে বন্ধু-বান্ধব ও অত্যাগ্রহী পাঠকদের অনুরোধে তিনি পুনরায় কাহিনীটি লেখেন। কাঁচড়াপাড়া হাসপাতালে ভর্তির আগে এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি বন্ধু-বান্ধবকে দিয়ে যান। তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

• উপন্যাসটিকে কেন্দ্র করে খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটক ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিতাস একটি নদীর নাম শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা; ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কিশোর,
- সুবল,
- অনন্ত,
- তিলক,
- বাসন্তী ও
- মনমালী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
 - কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া, ধনঞ্জয়, শীতলবাবু।

• আবু ইসহাকের উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী'। 
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 

• আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র:
- ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রুপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।

১০,৭০৭.
'বখতিয়ারের ঘোড়া' আল মাহমুদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. নাটক 
ব্যাখ্যা

• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' (১৯৮৪) কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

• আল মাহমুদ:

- তিনি একজন প্রথিতযশা কবিতিনি।  ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭০৮.
'সংবাদ প্রভাকর' কী ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ষাণ্মাসিক পত্রিকা
  2. মাসিক পত্রিকা
  3. সাপ্তাহিক পত্রিকা
  4. ত্রৈমাসিক পত্রিকা 
ব্যাখ্যা

‘সংবাদ প্রভাকর’ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
--------------------------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- এছাড়া ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

১০,৭০৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. মৈনাক
  2. জরাসন্ধ
  3. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভকরেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী ছদ্মনাম- জরাসন্ধ।
• মৈনাক, নেপথ্যে প্রভৃতি ছদ্মনামে কবি শামসুর রহমান কবিতা লিখতেন।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন উপন্যাসটি সৌদামিনী দেবীকে উৎসর্গ করেন?
  1. বউ ঠাকুরানীর হাট
  2. মালঞ্চ
  3. চোখের বালি
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাস:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' (১৯৬৯) গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- ' বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৭১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন?
  1. গোরা
  2. চার অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. কালান্তর
ব্যাখ্যা
• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর।
- গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ৷

অন্যদিকে,
• ‘কালান্তর’ হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক প্রবন্ধের সংকলন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস- চতুরঙ্গ (১৯১৬)। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
• গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭১২.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. আবুল হোসেন
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা - 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'। এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭১৩.
'আর্তনাদ' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. উনসত্তেরর গণ অভুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমানের 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• কয়েকটি ভাষা আন্দলন ভিত্তিক উপন্যাস:
- আরেক ফাল্গুন -জহির রায়হান,
- একুশে ফেব্রুয়ারি - জহির রায়হান ,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি - সেলিনা হোসেন,
- যাপিত জীবন - সেলিনা হোসেন।

• শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক-
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১৪.
Song Offerings গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯১২ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গীতাঞ্জলি:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এগুলো সহজ ভাষায়, সাবলীল ছন্দে লিখিত।

- 'গীতাঞ্জলি'র গানগুলো মূলত কবিতা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি অবলম্বনে Song Offerings গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বরে, ইংল্যান্ডে।
- 'গীতাঞ্জলি'র সম্পূর্ণ অনুবাদ যদিও Song Offerings নয়, তবুও এই গ্রন্থের আধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতি, প্রেমযৌথধারায় ইংরেজি গ্রন্থে প্রবাহমান।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭১৫.
নিচের কোনটি আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস?
  1. ক) অরণ্য নীলিমা
  2. খ) নন্দিত নরকে
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) শেষরাত্রি
ব্যাখ্যা
• আহমদ ছফা,  (১৯৪৩-২০০১)  প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
• ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
• জার্মান কবি গ্যেটের বিখ্যাত কাব্য ফাউস্ট-এর অনুবাদ এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের সংশয়ী রচনার বাংলা রূপান্তর আহমদ ছফাকে অনুবাদক হিসেবেও খ্যাতি এনে দিয়েছে।
• তার দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ‘(১৯৭৩) ও ‘বাঙালি মুসলমানের মন‘ (১৯৭৬)।
‘যদ্যপি আমার গুরু‘ - একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।

• আহমদ ছফার উপন্যাস 
- সূর্য তুমি সাথী 
- উদ্ধার (১৯৭৫),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন 
- অলাতচক্র 
- ওঙ্কার 
- গাভীবৃত্তান্ত 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী 
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ 

- নিহত নক্ষত্র তাঁর গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১৬.
'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. অদ্বৈত মল্লবমর্ণ
ব্যাখ্যা

• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি।
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- শাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭১৭.
কোন নাট্যকারের হাতে বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।
সুতরাং, তার হাত ধরেই বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়।

এছাড়া, 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকের রচয়িতা - রামনারায়ন তর্করত্ন।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

১০,৭১৮.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচিত রূপকথার সংকলনের মধ্যে কোনটি অনুবাদকৃত? 
  1. ঠাকুরমার ঝুলি
  2. ঠানদিদির থলে
  3. পৃথিবীর রূপকথা
  4. ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রূপকথার সংকলনের মধ্যে 'পৃথিবীর রূপকথা' অনুবাদকৃত

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও লোককথা সংগ্রাহক।
- তিনি বাংলা রূপকথা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- তিনি শুধুমাত্র রূপকথা সংগ্রাহকই ছিলেন না, চিত্রশিল্পী এবং ছড়াকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের কাজ বাংলা শিশু সাহিত্য ও লোককথার ধারাকে নতুন দিশা দিয়েছে।

• তাঁর বিখ্যাত রূপকথার সংকলন:
- ঠাকুরমার ঝুলি – বাংলা শিশু সাহিত্যের এক মাইলফলক;
- ঠাকুরদাদার ঝুলি;
- ঠানদিদির থলে;
- চিরদিনের রূপকথা;
- পৃথিবীর রূপকথা (অনুবাদ)।

• শিশুতোষ রচনা:
- খোকাবাবুর খেলা;
- আমাল বই;
- চারু ও হারু;
- ফার্স্ট বয়, লাস্ট বয়;
- উৎপল ও রবি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১০,৭১৯.
‘ভিজে বেড়াল’ কার লেখা একটি বিখ্যাত ছড়ার বই?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সুকুমার রায় 
  3. সুকুমার বড়ুয়া
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• সুকুমার বড়ুয়া:
- জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানায়।
- মৃত্যু: ২ জানুয়ারি ২০২৬ সালে।

উল্লেখ্য,
সুকুমার বড়ুয়ার প্রথম বই - "পাগলা ঘোড়া" প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ছড়ার বই - ভিজে বেড়াল।
আর ওই দুটি বইয়ের জন্যই তিনি ১৯৭৭ সালে অর্জন করেন ‘বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’।

তাঁর ১৮টি বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -
- পাগলা ঘোড়া,
- ভিজে বেড়াল,
- চন্দনা রঞ্জনার ছড়া,
- এলোপাতাড়ি,
- নানা রঙের দিন,
- চিচিং ফাঁক । 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

১০,৭২০.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস-
  1. কৃষ্ণপক্ষ
  2. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. সম্রাটের ছবি
  4. সুন্দর হে সুন্দর
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান,
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২১.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নীলমণি হালদার
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২২.
মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' - এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) মনির চৌধুরী
  3. গ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ- যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন।
- তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২৩.
‘বনফুল’ কাব্যগ্রন্থ কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) জ্ঞানাঙ্কুর
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বনফুল কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা ১৮৭৬ সালে  জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব নামক দুটি পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
- ‘বনফুল’ কাব্যগ্রন্থ ১৮৮০ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবি-কাহিনী’ (প্রকাশ:১৮৭৮)।
-  ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তাঁর “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা। 
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা: ‘হিন্দুমেলার উপহার’ (১৮৭৪)।
-  প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘কবি-কাহিনী’ ( ১৮৭৮ )।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২৪.
"জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে" - চরণটি কার লিখা?
  1. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আব্দুল হাকিম
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

বঙ্গভূমির প্রতি-
মাইকেল মধুসূধন দত্ত।

"জন্মিলে মরিতে হবে
অমর কে কোথা কবে?
চিরস্থির কবে নীড়
হায় রে জীবন নদে"?
"জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে" এই চরণটি  মধুসূধন দত্তের 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার অংশ।
- এটি একটি গীতিকবিতা এবং 'বিবিধ কাব্য' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• মাইকেল মধুসূধন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন একজন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদনের শিক্ষার পর্ব শুরু হয়। 
- মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত তার শর্মিষ্ঠা নাটক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে বিবেচিত হয়।

• ১৮৫৯ সালে মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা;
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

• মধুসূধন দত্তের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী  কবিতাবলি,
- বিবিধ কাব্য।
• মাইকেল মধুসূধনের একমাত্র গদ্য গ্রন্থ হল- হেক্টরবধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১০,৭২৫.
'ক্ষণিকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ক্ষণিকা'। এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭২৬.
নাট্যকাব্য মূলত-
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. সংলাপ
  4. দৃশ্যকাব্য
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- নাট্যকাব্য মূলত কাব্য, তবে এতে নাটকের মতো চরিত্র ও সংলাপ থাকে।
- পক্ষান্তরে কাব্যনাট্য মূলত নাটক, কিন্তু সংলাপগুলো হয় কবিতার মতো।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৭২৭.
নবাব ফয়জুন্নেসা রচিত কাব্য কোনটি?
  1. প্রভাতসঙ্গীত
  2. সঙ্গীতসার
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
• নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।

- বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

অন্যদিকে, 
• ‘প্রভাতসঙ্গীত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• ‘প্রেম প্রবাহিণী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭২৮.
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিনা হোসেন
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- 'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২৯.
‘রাজাবলি’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয়ঙ্কার
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,৭৩০.
'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. সঞ্জীব চৌধুরী
  3. লালন শাহ
  4. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'আফতাব সংগীত' গ্রন্থের লেখক শাহ আবদুল করিম।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।

শাহ আবদুল করিম:
- লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ আবদুল করিমের জন্ম ১৯১৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে।
- প্রথম জীবনে তিনি বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পালাগান গেয়েছেন।
- কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন।
- সঙ্গীতজীবনের একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক, অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী।
- ১৯৫৪ সালে শাহ আবদুল করিম প্রণীত গণসঙ্গীত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গানের সংকলন হলো:
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূলে।

তাঁর লেখা ও সুর করা কয়েকটি গান নিম্নরূপ-
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
- গাড়ি চলে না
- রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না
- আমি কূলহারা কলঙ্কিনী
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
- কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু
- গান গাই আমার মনরে বুঝাই প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৩১.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কায়কোবাদ রচনা করেন তাঁর কোন সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) শিবমন্দির
  2. খ) অশ্রুমালা
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৩২.
'পদ্মরাগ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল।
- তবে, ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
- ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

বেগম রোকেয়া রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৩৩.
‘ইছামতী’ উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস ইছামতী। এটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
প্রধান চরিত্র হলো :
- ভবানী বাঁড়ুয্যে
- তিলু
- বিলু
- নীলু

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস :
- পথের পাঁচালী
- অপরাজিত
- দৃষ্টি প্রদীপ
- আরণ্যক
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান
- অশনি সংকেত

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,৭৩৪.
'সংবাদ প্রভাকর' কত সালে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৮৩১ সালে 
  2. ১৮৩৬ সালে 
  3. ১৮৩৯ সালে 
  4. ১৮৪১ সালে 
ব্যাখ্যা
 • সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৩৫.
‘বিনোদিনী ও আশালতা’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. ক + খ
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• উপন্যাসের প্রধান চরিত্র
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও চোখের বালি উপন্যাস।
১০,৭৩৬.
‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প ‘ছোট বকুলপুরের যাত্রী’ (১৯৪৯ তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প হল: প্রাগৈতিহাসিক, পরিস্থিতি, মিহি ও মোটা কাহিনী, সরীসৃপ। তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ পদ্মা নদীর মাঝি, জননী, পুতুল নাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, শহরবাসের ইতিকথা, চিহ্ন ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
১০,৭৩৭.
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকার প্রকাশক কে ছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৭৩৮.
'শাহের বানু' - গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'শাহের বানু' - গল্পগ্রন্থটি 'শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম' রচিত রচনা। 

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
- শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম - 
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,৭৩৯.
নিচের কোন লেখক কল্লোল গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে কল্লোল সাহিত্য গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক।

• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
- যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
- কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
- মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।

কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তাঁরা হলেন :
- কবি জীবনানন্দ দাশ।
- বুদ্ধদেব বসু।
- বিষ্ণু দে ।
- কাজী নজরুল ইসলাম।
- অমিয় চক্রবর্তী।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- সঙ্গয় ভট্টাচার্য সহ অনেকের ভুমিকা উল্লেখযোগ্য। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবিতার ব্লগ।
১০,৭৪০.
কবি গোলাম মোস্তফার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রক্তরাগ
  2. খ) খোশরোজ
  3. গ) বনি আদম
  4. ঘ) বুলবুলিস্তান
ব্যাখ্যা
- রক্তরাগ প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে। 
- এটিই কবি গোলাম মোস্তফার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ । 

অন্যদিকে: 
- খোশরোজ প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- বনিআদম প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।
- বুলবুলিস্তান প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে।

• গোলাম মোস্তফা,
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,৭৪১.
এই প্রশ্নের কিছু উত্তর এমনিতেই আন্দাজ করে দেয়া গেছে। অপশনগুলো আরেকটু ভালোভাবে দেয়া যেত। সমস্যাটির জন্য আমরা দুঃখিত। পরবর্তীতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
১) 'অভিযাত্রিক' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'অভিযাত্রিক' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনী ও দিনলিপি। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য ভ্রমণকাহিনী ও দিনলিপি- স্মৃতির রেখা, বনে পাহাড়ে, উৎকর্ণ, হে অরণ্য কথা কও ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৭৪২.
শামসুর রাহমান কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৪৩.
জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. হলদে পরীর দেশে
  2. ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
  3. মাটির কান্না
  4. ডালিম কুমার
ব্যাখ্যা
• 'ডালিম কুমার' জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

• তারঁ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• জসীম উদ্দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস
পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত:
- বোবাকাহিনী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- যাঁদের দেখেছি (স্মৃতিকথা, ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (স্মৃতিকথা),
- জীবন কথা (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৪৪.
'Pakistan between Mosque and Military' বইটির রচয়িতা কে?
  1. হোসেন হাক্কানী
  2. মুনতাসীর মামুন
  3. যশোবন্ত সিংহ
  4. ড. তালুকদার মুনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত কিছু গুরত্বপূর্ণ বই-

হোসেন হাক্কানী- Pakistan between Mosque and Military.

যশোবন্ত সিং- 'জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-স্বাধীনতা'।

মুনতাসির মামুন- 'একাত্তরের বিজয়গাঁথা, সেইসব দিন'।

ড. তালুকদার মুনিরুজ্জামান- 'The Bangladesh Revolution and Its Aftermath'.
১০,৭৪৫.
সানাউল হক রচিত 'বন্দর থেকে বন্দরে' একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) রম্যরচনা
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত রম্যরচনা (ভ্রমণমূলক)।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ-কাহিনী বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

সানাউল হক 
- ১৯২৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- চল্লিশের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সানাউল হক পরিচিতি লাভ করেন।
- তার কবিতার কতকগুলি বৈশিষ্ট্য—শব্দ-ব্যবহার, ছন্দ-বিন্যাস এবং উপমা-অলঙ্কার নির্মাণ ছাড়াও তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- পদ্মিনী শঙ্খিনী (১৯৭৬),
- প্রবাসে যখন (১৯৮১),
- বিরাশির কবিতা (১৯৮২),
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ (১৯৮৪ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪৬.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. বন্দি শিবির থেকে
  4. জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
"জাহান্নম হইতে বিদায়" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
• জাহান্নম হইতে বিদায় বইটি শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। কিন্তু অনন্যতার দাবী রাখে এই উপন্যাস। কারণ মুক্তিযুদ্ধের অন্যসব উপন্যাসের মতো করে রচিত হয়নাই।
• এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রারম্ভ, যুদ্ধের নৈতিক দিক, যুদ্ধের প্রস্তুতি ইত্যাদি বিষয়ের দিকে অধিক আলোকপাত করেছেন। তাছাড়া এই বইয়ের ভেতর দিয়ে শওকত ওসমান যুদ্ধের সময় চীনের অবস্থানের কারনে চীনকে কটাক্ষ করেছেন।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' (১৯৭৬)।
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প।
• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ 'বন্দি শিবির থেকে'। 

উৎস: "জাহান্নম হইতে বিদায়" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৪৭.
রামনারায়ণ তর্করত্নের অভিনয় সাফল্য নাটক কোনটি?
  1. রামের বনবাস
  2. কুলীনকুলসর্বস্ব
  3. রাবণবধ
  4. ধ্রুবচরিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয়নি।
- 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

অন্যদিকে, 
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ পৌরাণিক ও ভক্তিমূলক নাটকগুলোর মধ্যে- 'রাবণবধ', 'রামের বনবাস', 'অভিমন্যুবধ', 'ধ্রুবচরিত্র', 'পাণ্ডবগৌরব', 'জনা', 'বুদ্ধদেব', 'চৈতন্যলীলা', 'বিল্বমঙ্গল' প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১০,৭৪৮.
'উৎস থেকে নিরন্তর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিনা পারভীন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। 
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল ইত্যাদি সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটি। 
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়। 

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৪৯.
‘নূরজাহান, সাজাহান ও চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকগুচ্ছের রচয়িতা কে-
  1. সেলিম আল দীন
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৫০.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) সুধাকর
  2. খ) মিহির
  3. গ) হাফেজ
  4. ঘ) কোহিনুর
ব্যাখ্যা
সুধাকর, মিহির ও হাফেজ পত্রিকাগুলোর সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম। পত্রিকাগুলোতে মুসলমানদের মহিমা, তত্ত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হতো। অপরদিকে কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোঃ ইয়াকুব আলী চৌধুরী। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৫১.
‘বাংলাভাষার ইতিবৃত্ত' কে রচনা করেন?
  1. ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) এনামুল হক
  4. ঘ) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
• ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
- ভাষা ও সাহিত্য
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- বাংলা সাহিত্যের কথা
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫২.
‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তমিল রয়েছে?
  1. চিত্রা
  2. মানসী
  3. পুনশ্চ
  4. সেঁজুতি
ব্যাখ্যা
‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
• ‘শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন।
• এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
• ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্‌ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
• রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৩.
শিশু পত্রিকা 'আঙুর' সম্পাদনা করেন -
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৪.
"আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না।" - এই পংক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্যবাদী
  3. কামাল পাশা
  4. রণভেরী
ব্যাখ্যা

• "আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না।" - এই পংক্তিটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না –
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উৎস: বিদ্রোহী কবিতা- কাজী নজরুল ইসলাম।

১০,৭৫৫.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) আবুল মনসুর আহ্‌মদ
  4. ঘ) আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা

আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি আত্মজীবনী মূলক বই।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।
- আত্মজীবনী – আত্মকথা।
- শিশু সাহিত্যে: মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১০,৭৫৬.
'এর উপায় কি' প্রহসনের রচিয়তা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
♦ 'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

-------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৭৫৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী কাব্য কোনটি?
  1. মোহাম্মদনামা
  2. মরুদুলাল
  3. মরু-ভাস্কর
  4. বিশ্বনবী
ব্যাখ্যা
মরু-ভাস্কর:
- এটি হযরত মুহাম্মদ (স.) জীবনী কাব্য।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়।
- ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে(১৯৫০) গ্রন্থাকারে ছাপা হয়।
- এ কাব্যের চারটি সর্গ।
- মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলামের দুটি জীবনভিত্তিক কাব্য হলো:
- চিত্তনামা - দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনী নিয়ে রচিত।
- মরু-ভাস্কর - হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়ে রচিত কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৮.
হুমায়ূন আহমেদ এর জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৯৫৮
  2. ১৯৪৮
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৪০
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম — ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৯.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন" পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) বঙ্গসুন্দরী
  2. খ) সঙ্গীত শতক
  3. গ) সারদামঙ্গল
  4. ঘ) প্রেম বাহিনী
ব্যাখ্যা
বিহারীলালের 'বঙ্গসুন্দরী' কবিতার কয়েকটি চরণ -
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

বাংলা কাব্যের 'ভোরের পাখি' বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গীতিকবিতা রচনা শিখিয়েছিলেন।
তার রচিত কিছু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেম বাহিনী
- সঙ্গীত শতক
- বঙ্গসুন্দরী
- নিসর্গ সন্দর্শন
- সারদামঙ্গল (শ্রেষ্ঠ কাব্য)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬০.
'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাপ্তি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. অপরিচিতা
  4. হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬১.
'সাত ঘাটের কানাকড়ি' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মামুনুর রশীদ
  2. খ) সৈয়দ শানসুল হক
  3. গ) মমতাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'সাত ঘাটের কানাকড়ি' নাটকটির রচয়িতা- মমতাজউদদীন আহমদ। 

• মমতাজউদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক-
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর
- বকুলপুরের স্বাধীনতা
- কী চাহ শঙ্খচিল
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬২.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত সাহিত্য কীর্তি কোনটি?
  1. ক) মায়াকানন
  2. খ) দানসাগর
  3. গ) রূপজালাল
  4. ঘ) সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা
'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা। 
- গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।

• নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- দানশীলতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,৭৬৪.
'নদী ও নারী' হুমায়ূন কবির রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
ব্যাখ্যা

• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।
• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'নদী ও নারী'।
• এটি ১৯৪৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৭৬৫.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. গড্ডলিকা
  3. নবান্ন
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটির রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক। 

অন্যদিকে,
• 'স্বপ্নদর্শন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• 'পল্লীসমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস।
• 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসুর ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬৬.
কোনটি বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. কুচবরণ কন্যা
  2. পদ্মানদীর চর
  3. মৃগপুরি
  4. চোর জামাই
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর চর’ বন্দে আলী মিয়া রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
-  কাব্যগ্রন্থ ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬৭.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• সাত সাগরের মাঝি:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর।

• সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা তাঁর সনেট সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬৮.
'আজাদ' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন কে?
  1. মওলানা আকরম খাঁ
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. মওলানা মােহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা

• মাওলানা আকরম খাঁ:
- মাওলানা আকরম খাঁ ১৮৬৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন।
- তিনি বাংলাসহ আরবি, উর্দু, পারসি ও সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত দুটি স্বল্পস্থায়ী দৈনিক পত্রিকার নাম: উর্দু দৈনিক 'জামানা' (১৯২০) ও বাংলা দৈনিক 'সেবক' (১৯২১)।
- তাঁর সাংবাদিক জীবনের কীর্তি 'আজাদ' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা (১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে)।
- তিনি ১৮ই অগস্ট, ১৯৬৮ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
- হজরত মোহাম্মদ-এর (স.) জীবনী 'মোস্তফা চরিত' (১৯২৩),
- মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস (১৯৬৫) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৬৯.
'ওঙ্কার' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
• আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
•  ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৭০.
'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থটি কোন সাহিত্যিক রচনা করেছেন? 
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম: 

- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
-  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 
- নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্য তাঁকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা
- ফণি-মনসা, 
-জিঞ্জির, 
- সন্ধ্যা, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যু-ক্ষুধা এবং 
- কুহেলিকা। 

গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা। 

সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ: 
- চোখের চাতক, 
- নজরুল গীতিকা, 
- সুর সাকী, 
- বনগীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১০,৭৭১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর কোন গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেছেন?
  1. বীরাঙ্গনা
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. হেক্টরবধ
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা

• 'হেক্টরবধ':
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
-----------------
• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। । তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৭২.
'তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষাগরু'- এই কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
 ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।
------------
"নীলকর" নামক বিখ্যাত কবিতায় মহারানী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে বলেছেন: 
"তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাঁকানো
কেবল খাবো খোল বিচিলি ঘাষ॥ ...
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব 
ঘুষি খেলে বাঁচব না।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, ঈশ্বর গুপ্ত রচনাবলী-ড.  শ্রীশান্তিকুমার দাশগুপ্ত
১০,৭৭৩.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. দেশ
  2. ব্রহ্মবাদী
  3. ধূসরপত্র
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৪.
নিচের কোনটি আলাউদ্দিন আল আজাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই?
  1. ক) মানচিত্র
  2. খ) ফেরারী ডায়েরী
  3. গ) মায়াবী প্রহর
  4. ঘ) লেলিহান পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
'ফেরারী ডায়েরী' গ্রন্থের রচয়িতা- আলাউদ্দিন আল আজাদ। এটি তাঁর স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই। মানচিত্র, লেলিহান পান্ডুলিপি, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ এবং মায়াবী প্রহর তাঁর রচিত নাটক। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৭৭৫.
'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মৃন্ময়ী
  2. চন্দরা
  3. রতন
  4. সুরবালা
ব্যাখ্যা
• 'রতন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের চরিত্র।

---------------------- 
 • 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প সম্পর্কিত আলোচনা:  
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার ছোটগল্পগুলোর অন্যতম। 
- একটি স্বজনহারা নিঃসহায় গ্রাম্য বালিকার স্নেহালোলুপ হৃদয়ে আসন্ন স্নেহবিচ্যুতির আশঙ্কায় কী সকরুণ ভাবাবেগ উদ্বেলিত হয়েছে তা গল্পের শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে তা অনুরণিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
- এই ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রতন'। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'। 

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র: 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।
- তাঁর চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- তাঁর 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ।
- তাঁর গোরা উপন্যাসের চরিত্র- গোরা, বিনয়, সুচরিতা, ললিতা, লাবণ্য।
- তাঁর দুই বোন উপন্যাসের চরিত্র- শশাঙ্ক, শর্মিল, ঊর্মিলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১০,৭৭৬.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন কে?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে The Zamindar and Royats প্রবন্ধগ্রন্থ এর রচয়িতা প্যারীচাঁদ মিত্র। 
- লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায়। 
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত। রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে। এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহূত কথ্য ভাষা আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
- আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৭),
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০), কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৭.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর প্রধান সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌। 

• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প, 
- ভাষা ও সাহিত্য,  
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম, 
- পদ্মাবতী, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, 
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি।
- মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৭৮.
"ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্রপল্লীতে, এইখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।"- উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. লালসালু
  2. ইছামতী
  3. হাজার বছর ধরে
  4. পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• "ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্রপল্লীতে, এইখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।"- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত।

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৭৯.
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত হয়েছে?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. কৃষক আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৮০.
"আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
"আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" - পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 ----------------- 
হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
১০,৭৮১.
’অনিলা দেবী’ ছদ্মনামে কে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সমরেশ বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘অনিলা দেবী'।
- ​তিনি “নারীর মূল্য” প্রবন্ধটি “অনিলা দেবী” ছদ্মনামে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

​• ​তাঁর আরও কিছু ছদ্মনাম- 
​​- অপরাজিতা দেবী;
​- শ্রী চট্টোপাধ্যায় ;
​- অপরূপা দেবী;
​- পরশুরাম;
​- শীকান্ত শর্মাতার ;

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ​বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হচ্ছে -
​- দেবদাস,
​- দেনা পাওনা,
​- গৃহদাহ, চরিত্রহীন,
​- পল্লী সমাজ,
​- পথের দাবী ইত্যাদি।

​অন্যদিকে,
​- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- সমরেশ বসুর  ছদ্মনাম- কালকূট।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত এর ছদ্মনাম- দাদা ভাই; বাণভট্ট।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৮২.
‘অতৃপ্ত কামনা’ গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রিক্তের বেদন
  2. ব্যথার দান
  3. চোখের চাতক
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৮৩.
'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ সুলতান
  2. খ) দৌলত উজীর বাহরাম খান
  3. গ) শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
 'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা- 'আলাওল
 
'পদ্মাবতী' কাব্য 
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 
১০,৭৮৪.
নিচের কোন গ্রন্থটি সুকুমার রায়ের ননসেন্স ছড়ার শ্রেষ্ঠ সংকলন হিসেবে পরিচিত?
  1. খাই খাই
  2. হযবরল
  3. আবোল তাবোল
  4. পাগলা দাশু 
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল'- সুকুমার রায়ের ননসেন্স ছড়ার শ্রেষ্ঠ সংকলন হিসেবে পরিচিত। 
------------------------------------
• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
- তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী,
- আর তাঁর পুত্র ছিল সত্যজিৎ রায়- বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- সুকুমার রায় ছিলেন বহু গুণে সমৃদ্ধ একজন শিল্পী।
- কলেজ জীবনে তিনি ছোটদের জন্য হাস্যরসপূর্ণ নাটক রচনা করতেন এবং তাতে নিজে অভিনয়ও করতেন।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই  সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করার ক্ষমতা ছিল সুকুমার রায়ের। 
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের পাশাপাশি সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 

• তাঁর রচিত কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: হযবরল।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
----------------------------------------------- 
• 'আবোল তাবোল' নিয়ে কিছু কথা:
- সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল হলো বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে আজগুবি, উদ্ভট ও কাল্পনিক বিষয় নিয়ে মজার ছড়া রয়েছে।
- ছড়াগুলো মূলত ব্যঙ্গাত্মক এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য লেখা।
- আবোল তাবোল-এ হাঁসজারু, কুমড়োপটাশ-এর মতো চরিত্র সৃষ্টি করে সুকুমার রায় শিশু সাহিত্যে এক নতুন ধারার সূচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১০,৭৮৫.
দীনবন্ধু মিত্রের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮২৯-১৮৭২
  2. ১৮২৯-১৮৭৩
  3. ১৮৩০-১৮৭২
  4. ১৮৩০-১৮৭৩
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের জীবনকাল - ১৮৩০-১৮৭৩

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীল-দর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৮৬.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো' -এটি কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. হাজার বছর ধরে
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা

আরেক ফাল্গুন:
- জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় এটি রচিত।
- ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘আরেক ফাল্গুন‘ উপন্যাসটি।
- উপন্যাসটির মূল বিষয় ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি ।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য সংলাপ- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।

• এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জহির রায়হান রচিত গল্প- 'একুশের গল্প'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৮৭.
'কালো বরফ' - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মাহমুদুল হক
  3. জহির রায়হান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

'কালো বরফ' উপন্যাস:
- 'কালো বরফ' উপন্যাসটির লেখক মাহমুদুল হক
- এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।
- ১৯৭৭ সালের ২১-৩০ আগস্ট মাহমুদুল হক রচনা করেন 'কালো বরফ' উপন্যাসটি, কিন্তু এর প্রকাশকাল অনেক পরে ১৯৯২ সালে।
- এটি ছেচল্লিশের দাঙ্গা ও ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে কেন্দ্র করে রচিত।
- উপন্যাসটিতে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ-দাঙ্গা, দ্বেষ-ক্ষোভ এবং মিলন-বিরহ পরিস্ফুটিত হয়েছে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আব্দুল খালেক।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৮৮.
'জাহান্নাম হইতে বিদায়' —উপন্যাসটির লেখক হলেন-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) আরজ আলী মাতুব্বর
  4. ঘ) এস. ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮) কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
উপন্যাস -
জননী (১৯৫৮), ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২), সমাগম (১৯৬৭), চৌরসন্ধি (১৯৬৮), রাজা উপাখ্যান (১৯৭১), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১), দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫), রাজপুরুষ (১৯৯২)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১০,৭৮৯.
'ভিমসিংহ' ও 'বিলাসবর্তী' মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন রচনার চরিত্র?
  1. ক) বীরাঙ্গনা
  2. খ) মায়াকানন
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী নাটকটি রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত ।
- নাটকটি তিনি ১৮৬১ রচনা করেন ।
- এটি একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কৃষ্ণকুমারী।
- এই নাটকের প্রধান চরিত্র- ভিমসিংহ ও বিলাসবর্তী।

- এছাড়াও মাইকেল মধুসূদন দত্ত শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী ও মায়াকানন নাটকের রচয়িতা।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ও সাহিত্য সাময়িকী।

১০,৭৯০.
আহসান হাবীব এর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাত্রিশেষে
  2. খ) ছায়া হরিণ
  3. গ) সোনার তরী
  4. ঘ) অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
- অপশনে আহসান হাবীব রচিত দুইটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে ‘ছায়া হরিণ’ ও রাত্রিশেষে।
- এর মধ্যে আহসান হাবীব এর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।

• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

বাকি অপশনগুলোর মধ্যে - 
- 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯১.
নিচের কোনটি প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. ক) নদীবক্ষে
  2. খ) শাশ্বতবঙ্গ
  3. গ) গ্রানাডার শেষ বীর
  4. ঘ) দুঃখ কষ্ট
ব্যাখ্যা
'নদীবক্ষে' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস। 'শাশ্বতবঙ্গ' তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন।
'গ্রানাডার শেষ বীর' এস ওয়াজেদ আলী রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস৷
'দুঃখ কষ্ট' ইমদাদুল হক মিলন রচিত একটি উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯২.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• 'হেক্টরবধ' গদ্যে রচিত অনুবাদ।

অন্যদিকে, 
- জসীম উদ্‌দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৩.
'মাটির কান্না' কাব্যগ্রন্থটি রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন: 
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী, 
-  নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- মাটির কান্না
- সুচয়নী, 
- পদ্মা নদীর দেশে, 
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে, 
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে, 
- স্মরণের সরণী বাহি, 
- ডালিম কুমার, 
- পদ্মাপার, 
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বোবাকাহিনী। 

গল্পগ্রন্থ: 
- বাঙ্গালীর হাসির গল্প। 

গানের সংকলন: 
- জারীগান ও 
- মুর্শীদা গান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৪.
নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য' নয় কোনটি?
  1. প্রভাস
  2. কুরুক্ষেত্র
  3. ক্লিওপেট্রা
  4. রৈবতক
ব্যাখ্যা
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। 
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৫.
অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশিত প্রথম গল্প---
  1. ক) মহেশ
  2. খ) বিন্দুর ছেলে
  3. গ) মন্দির
  4. ঘ) বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশিত প্রথম গল্প মন্দির। 
- এই গল্পের জন্য তিনি কুন্তলীন (১৯০৩) পুরস্কার লাভ করেন।

তার রচিত অন্যান্য গল্প:
- মহেশ
- সতী
- বিলাসী
- মামলার ফল
- রামের সুমতি
- মেজদিদি
- বিন্দুর ছেলে
- ছবি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৬.
কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমনকাহিনি?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. পথে প্রবাসে
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি

অন্যদিকে,
- ‘য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’ (১৮৮১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম ভ্রমণকাহিনি।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৭.
'বাঙালিকে কে বাঁচাবে' প্রবন্ধটির রচয়িতা হলেন-
  1. ক) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।  
তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।  

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস
বাবুলের বেড়ে ওঠা ।

তাঁর রচিত ছোটদের গল্প
দরজাটা খোলো ।

অনুবাদ 
এরিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব 
ইবসেনের বুনো হাঁস 
হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি রাজশেখর বসুকে উৎসর্গ করেন?
  1. খাপছাড়া
  2. খেয়া
  3. পূরবী
  4. আকাশ-প্রদীপ
ব্যাখ্যা
• 'খাপছাড়া':
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থটি জগদীশচন্দ্র বসুকে এবং 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থটি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আকাশ-প্রদীপ' কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেছেন। 

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৯.
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. জয়তী
  2. বেগম
  3. নারীশক্তি
  4. শিলালিপি
ব্যাখ্যা
• ‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

অন্যদিকে,
- শিলালিপি (১৯৬৯) সেলিনা পারভীন সম্পাদিত পত্রিকা।
- নারীশক্তি পত্রিকার সম্পাদক ডা. লুৎফর রহমান।
- জয়তী (১৯৩০) আবদুল কাদির সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৮০০.
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন?
  1. সাম্যবাদী
  2. বিষের বাঁশি
  3. অগ্নিবীণা
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।