বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০৫ / ১৭৪ · ১০,৪০১১০,৫০০ / ১৭,৪৩৭

১০,৪০১.
"বেণু ও বীণা" কাব্যটির রচয়িতা -
  1. সত্যেন সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪০২.
‘ভিশনস অফ দি পাস্ট’ কাব্যের কবি কে ?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) আহসান হাবিব
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা আধুনিক সাহিত্যের জনক। তাঁর কাব্যচর্চা শুরু হয় ইংরেজি ভাষায়।
ইংরেজি ভাষায় তিনি দুটো দীর্ঘ কাব্য লেখেন।
কাব্যগুলো হলো :
- ক্যাপটিভ লেডি
- ভিশনস অফ দি পাস্ট
তাঁর বাংলা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভবকাব্য
- মেঘনাবধকাব্য
- বীরাঙ্গনা
- ব্রজাঙ্গনা

[উৎস : লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ]

১০,৪০৩.
'মধুসূদন' - কোন উপন্যাসের নায়ক?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. যোগাযোগ
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'যোগাযোগ' উপন্যাস।

১০,৪০৪.
বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. খ) সংস্কৃত কলেজ
  3. গ) হিন্দু কলেজ
  4. ঘ) বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকার পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
১০,৪০৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. দুই সৈনিক
  4. অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়- প্রদোষে প্রাকৃতজন। 

'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস:
- প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪) উপন্যাস এর লেখক শওকত আলী।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনী রচিত।

অন্যদিকে, 
--------------
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস:
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাসের রচয়িতা শহীদুল জহির। এটি তাঁর রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- সোনায় মোড়ানো হাতের কথাশিল্পী শহীদুল জহিরের এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্যে এক অভিনব সংযোজন। বাংলা আখ্যানগদ্যের এমন অপূর্ব রূপ ও ভঙ্গি এর আগে তো ছিলই না, এখনও বিরল।

'দুই সৈনিক' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান। উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
-  হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাস।
১০,৪০৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি অবলম্বনে রচিত 'Song Offerings' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কোথা হতে?
  1. কলকাতা
  2. ইংল্যান্ড
  3. দিল্লী
  4. শান্তি নিকেতন
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গীতাঞ্জলি':
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এগুলো সহজ ভাষায়, সাবলীল ছন্দে লিখিত।
- 'গীতাঞ্জলি'র গানগুলো মূলত কবিতা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি অবলম্বনে Song Offerings গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালের নভেম্বরে, ইংল্যান্ডে। 
- 'গীতাঞ্জলি'র সম্পূর্ণ অনুবাদ যদিও Song Offerings নয়, তবুও এই গ্রন্থের আধ্যাত্মবাদ, প্রকৃতি, প্রেমযৌথধারায় ইংরেজি গ্রন্থে প্রবাহমান।
- Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪০৭.
‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯৩৩ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪০৮.
'তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষা গরু' চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তার "নীলকর" নামক বিখ্যাত কবিতায় মহারানী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে বলেছেন:
"তুমি মা কল্পতরু আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাঁকানো
কেবল খাবো খোল বিচিলি ঘাষ॥ ...
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব
ঘুষি খেলে বাঁচব না।"

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, ঈশ্বর গুপ্ত রচনাবলী-ড. শ্রীশান্তিকুমার দাশগুপ্ত
১০,৪০৯.
নিচের কোনটি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এর রচিত?
  1. ক) ঠাকুরমার ঝুলি
  2. খ) সাত ভাই চম্পা
  3. গ) ঠাকুরদাদার ঝুলি 
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলা শিশুসাহিত্যে রূপকথার যাদুকর আখ্যায় ভূষিত দক্ষিণারঞ্জনের জন্ম ১৫ ই এপ্রিল ১৮৭৭ ঢাকার উলাইল গ্রামে এক সম্রান্ত পরিবারে ।
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ছিলেন বাংলার খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও লোককথার সংগ্রাহক, যাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রূপকথাগুলিকে যথাসম্ভব অবিকৃত রেখে সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করা।
• তিনি বাংলা ১৩৬৩ সালের ১৬ই চৈত্র (১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে মার্চ) কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্য
- ঠাকুরমার ঝুলি 
- ঠাকুরদাদার ঝুলি 
- ঠানদিদির থলে 
- দাদামশায়ের থলে 
- খোকাবাবুর খেলা
- উৎপল ও রবি 
- সাত ভাই চম্পা
• চলচ্চিত্র
- তার 'সাত ভাই চম্পা' গল্প অনুসারে ১৯৭৮ সালে চিত্রসাথী পরিচালিত ভারতীয় বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র 'সাত ভাই চম্পা' মুক্তি পায়।
- তার 'কিরণমালা' গল্প অনুসারে ১৯৭৯ সালে বরুন কাবাসি পরিচালিত ভারতীয় ফ্যান্টাসি ফিল্ম 'অরুণ বরুণ ও কিরণমালা' মুক্তি পায়।

সূত্র:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর )
১০,৪১০.
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯), যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ লোক লোকান্তর (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯৬৩), সোনালি কাবিন (আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ; ১৯৭৩), কালের কলস (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৭৬) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১১.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প হিসেবে কোনটি পরিচিত?
  1. সূর্য গ্রহণ
  2. একুশের গল্প
  3. প্রথম বধ্যভূমি
  4. মৌন নয়
ব্যাখ্যা

• “একুশের গল্প” জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প, এতে এক তরুণের আত্মত্যাগের গল্প বলা হয়েছে।

• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।

অন্যদিকে,
• সূর্য গ্রহণ: এটিও জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গল্প।
• মৌন নয়: শওকত ওসমানের লেখা ভাষা আন্দোলনের পটভূমির গল্প।
• প্রথম বধ্যভূমি: রাবেয়া খাতুনের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের গল্প।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,৪১২.
'দিলরুবা' কাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

• আব্দুল কাদির ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭)।
• তাঁর রচিত কবিতাঃ
- দিলরুবা,
- উত্তর বসন্ত।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- লোকায়ত সাহিত্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪১৩.
অন্ধবিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তিশীলতা দেখা দেয়—
  1. প্রাচীন যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. আধুনিক যুগে
  4. তুর্কি বিজয়ের যুগে
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।

• আধুনিক যুগ:
- মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪১৪.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. নীল বিদ্রোহ
  2. দেশভাগ
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৪১৫.
'আর্ত শব্দাবলী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. শামসুর রাহমান
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

হাসান হাফিজুর রহমান স্মরণীয় হয়ে আছেন ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন "একুশে ফেব্রুয়ারি" (১৯৫৩) ও "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র" (১৯৮২-৮৩) সম্পাদনা করে।

• হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থঃ
- বিমুখ প্রান্তর,
- আর্ত শব্দাবলী,
- প্রতিবিম্ব,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• গল্প
- আরো দুটি মৃত্যু

• প্রবন্ধঃ
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- আলোকিত গহ্বর
- সাহিত্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৪১৬.
'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!'- চরণদ্বয় কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!'- চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা দুর্বলের মুখে নীতিকথা প্রকাশিত হয়েছে।

• দুই বিঘা জমি:
- 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

কাহিনি সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে—‘দুই বিঘা জমি’। এক জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে চুরি করে নিয়েছিল দরিদ্র উপেনের দুই বিঘা জমি। সর্বহারা হয়ে উপেন বহুদিন নানা জায়গা ঘুরেফিরে এসেছিল তার নিজ গ্রামে। সেই জমিতে, যা জমিদারবাবু মিথ্যা ডিক্রি জারি করে দখল করেছে, বলা যায় চুরি করেছে। উপেন তারই জমিতে আমগাছতলায় বসে ছিল। দুটো পাকা আম তার কোলের ওপর পড়লে জমিদারবাবু ও তার লোকজন হইহই শুরু করে। উপেনকেই চোর সাব্যস্ত করেছিল। দুঃখভারাক্রান্ত মনে উপেন বলেছিল, ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কিছু পঙ্‌ক্তি হলো:
- ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে।'
- 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বটে।’ 
- "এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি-/রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দুই বিঘা জমি' কাব্য ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১৭.
কোন কবিতার জন্য ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার একটি সংখ্যা সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. রণভেরী
  4. বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের অপর বিপ্লবী উদ্যম হলো ধূমকেতু পত্রিকার প্রকাশ (১২ আগস্ট)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল। এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪১৮.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা কোনটি?
  1. ছোটগল্প
  2. গীতিকবিতা
  3. প্রহসন
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• গীতিকবিতা / গীতিকাব্য:
- গীতিকবিতার মধ্যে কবিহৃদয়ের বিশেষ কোন অনুভূতি, সঙ্গীতমাধুর্য সহকারে রূপায়িত হয়ে ওঠে। কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি এর উপজীব্য, সঙ্গীতের ব্যঞ্জনা নিয়ে তার প্রকাশ।

- যে শ্রেণির কবিতায় কবির হৃদয়ের অনুভূতি বা একান্ত ব্যক্তিগত বাসনাকামনা ও আনন্দবেদনা প্রাণের অন্তস্তল থেকে আবেগকম্পিত সুরে অখণ্ড ভাবমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে, তাকেই গীতিকবিতা বলে অভিহিত করা হয়।

- আন্তরিকতাপূর্ণ অনুভূতি, অবয়বের স্বল্পতা, সঙ্গীতমাধুর্য ও গতিস্বাচ্ছন্দ্য-এই কয়টি বৈশিষ্ট্য গীতিকবিতার মধ্যে বিদ্যমান।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বক্তার ভাবোচ্ছ্বাসের পরিস্ফুটন মাত্র যার উদ্দেশ্য সেই কাব্যই গীতিকাব্য। হৃদয়ের অনুভূতি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে তা অবলম্বনে লেখা গীতিকবিতাও দীর্ঘ আকারের হয় না।

- গীতিকবিতায় ভাববস্তু সংক্ষিপ্ত বা বিস্তৃত উভয় রূপই হতে পারে। আর একারণেই গীতিকবিতার আকার তথা দৈর্ঘ্য সম্পর্কে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ অসম্ভব।

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বৈষ্ণব পদাবলিতে গীতিকবিতার বৈশিষ্ট্য প্রথম বারের মত ফুটে উঠেছিল। তবে কবিতা প্রাচীন ও মধ্য যুগের সৃষ্টি হলেও গীতিকবিতা আধুনিক যুগের সৃষ্টি। আধুনিক যুগে সৃষ্ঠ এই গীতি কবিতাই এই যুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা।

----------------------
উল্লেখ্য,
- মধ্যযুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাহিত্য ধারা - বৈষ্ণব সাহিত্যধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং ‘গীতি কাব্য’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১০,৪১৯.
'ললিতা তথা মানস' - গ্রন্থটি কোন লেখকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'ললিতা তথা মানস' কাব্যগ্রন্থ:
- প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৬ সালে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।  
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪২০.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। 
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া ,
- এক মুঠো ,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪২১.
রবীন্দনাথ রচিত নিচের যে গল্পটির সমাপ্তি বেদনাবিদুর নয় -
  1. ক) অতিথি
  2. খ) পোস্টমাষ্টার
  3. গ) কঙ্কাল
  4. ঘ) ছুটি
ব্যাখ্যা

রবীন্দনাথ রচিত 'কঙ্কাল' গল্পটির সমাপ্তি বেদনাবিদুর নয়।
এই গল্পের শেষ কয়েকটি লাইন হলোঃ
“গল্পটা কেমন লাগিল।”

আমি বলিলাম, “গল্পটি বেশ প্রফুল্লকর।”
এমন সময় প্রথম কাক ডাকিল। জিজ্ঞাসা করিলাম, “এখনো আছ কি।” কোনো উত্তর পাইলাম না।
ঘরের মধ্যে ভোরের আলো প্রবেশ করিল।

- এতেই বোঝা যায় গল্পটির সমাপ্তি বেদনাবিদুর নয়।

উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৪২২.
'ছন্দ সমীক্ষণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল কাদির বাঙালি কবি, সাহিত্য-সমালোচক ও ছান্দসিক হিসেবে খ্যাত। তার কাব্যপ্রয়াসে মোহিতলাল মজুমদারের ধ্রুপদী সংগঠন এবং নজরুলের উদাত্ত আবেগের চমৎকার সমন্বয় প্রত্যক্ষ হয়। মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬)-এর নেতৃত্বে ঢাকায় যে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলন সূচিত হয়, কবি আবদুল কাদির তার নেতৃস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি ছিলেন সাহিত্য সমাজের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক। প্রকাশিত কাব্য দিলরুবা (১৯৩৩) ও উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)। তার অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ ছন্দ সমীক্ষণ (১৯৭৯)। যাতে তিনি বাংলা ছন্দ সম্পর্কে মৌলিক বক্তব্য রেখেছেন।
১০,৪২৩.
'যুগবাণী' - কোন প্রকার রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
​- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই। 
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। 
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও যুগবাণী প্রবন্ধ।

১০,৪২৪.
সেলিম আল দীন রচিত 'চাকা' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক।
তিনি ফেনীর সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন‌।
তিনি 'ঢাকা থিয়েটার' এবং 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর রচিত নাটক হলো-
- চাকা,
- শকুন্তলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- কেরামতমঙ্গল,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মোনতাসির ফ্যান্টাসী,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৪২৫.
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানুষের ধর্ম
  2. কালান্তর
  3. সভ্যতার সংকট
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা

"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর একটা বিশ্বভাব" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানুষের ধর্ম' প্রবন্ধের অন্তর্গত।

প্রবন্ধটির কিছু অংশ -
"মানুষ আছে তার দুই ভাবকে নিয়ে, একটা তার জীবভাব, আর-একটা বিশ্বভাব। জীব আছে আপন উপস্থিতকে আঁকড়ে, জীব চলছে আশু প্রয়োজনের কেন্দ্র প্রদক্ষিণ করে। মানুষের মধ্যে সেই জীবকে পেরিয়ে গেছে যে সত্তা সে আছে আদর্শকে নিয়ে। এই আদর্শ অন্নের মতো নয়, বস্ত্রের মতো নয়। এ আদর্শ একটা আন্তরিক আহ্বান, এ আদর্শ একটা নিগূঢ় নির্দেশ। কোন্ দিকে নির্দেশ? যে দিকে সে বিচ্ছিন্ন নয়, যে দিকে তার পূর্ণতা, যে দিকে ব্যক্তিগত সীমাকে সে ছাড়িয়ে চলেছে, যে দিকে বিশ্বমানব।" 

তাছাড়া এই প্রবন্ধগ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ মানুষের ধর্ম সম্পর্কে বলেছেন -"যা আমাদের ত্যাগের দিকে তপস্যার দিকে নিয়ে যায় তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।"

=================
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত 
- বিচিত্র প্রবন্ধ
- সাহিত্য
- কালান্তর
- সভ্যতার সংকট

সূত্র: মানুষের ধর্ম প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪২৬.
জসীম উদ্‌দীন পল্লিগীতি সংগ্রাহক পদে নিযুক্তি লাভ করেন কার আনুকূল্যে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লিগীতি সংগ্রাহক পদে নিযুক্তি লাভ করেন 'ড. দীনেশচন্দ্র সেনের' আনুকূল্যে

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪২৭.
’বাঙ্গালীর ইতিহাস’ বইটির লেখক কে?
  1. আ সি মজুমদার
  2. আবদুল করিম
  3. নীহাররঞ্জন রায়
  4. অধ্যাপক সুনীত
ব্যাখ্যা
 নীহাররঞ্জন রায়:
- তিনি ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। 
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art,
- বাঙ্গালীর ইতিহাস,
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East,
- An Approach to Indian Art।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪২৮.
'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. উপন্যাস 
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের নবম কাব্যগ্রন্থ এটি। প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৪৬টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। কবিতাগুলোতে আছে স্বপ্নলোক, প্রতিবেশ ও সমকালের অন্তর্গত নানা অনুষঙ্গ, নিঃসঙ্গতা, ব্যর্থতা, যুদ্ধোত্তর হতাশা ইত্যাদি বিষয়।
- গ্রন্থটিতে টানা গদ্যে লেখা কবিতা যেমন আছে তেমনি আছে অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দের ব্যবহার।

--------------------------
• শামসুর রাহমান রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪২৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক ডায়েরি গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) একাত্তরের দিনগুলি
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
⇒ একাত্তরের দিনগুলি
• একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
• বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
• তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
• ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
• ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'। 

• জাহানারা ইমাম:
- মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- প্রবাসের দিনগুলি।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - রাইফেল রোটি আওরাত।
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩০.
'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. রফিক আজাদ
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মানুষের মানচিত্র' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- তাঁর 'মানুষের মানচিত্র' (১৯৮৪) কাব্যগ্রন্থে লক্ষ করা যায় নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে আকাঙ্ক্ষার সৃদুঢ় অভিব্যক্তি। যেমন-

‘তোমার অরণ্যে আছে অপরূপ স্বপ্ন-আঁকা চিতল হরিণ।
তন্দ্রাতুল হড়িয়াল-ডাকা ফাল্গুনের রাত।
শাদা খরগোশ।
তোমার কিনারে আছে পাললিক নোনাজল, জলের পরশ,
সরল শিশিরে ধোয়া সোনালিম শস্যময় হেমন্তের দিন।’


কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে কবি লিখেন- 
মানুষের মানচিত্রে' প্রধানত ভাঙাচোরা জীবনের মানুষদের উপস্থিত করতে চেষ্টা করেছি। এখন তাদের কণ্ঠে দিতে হবে জীবনের দাবি আর সংগ্রামের ভাষা। সমাজের চূড়ান্ত শোষনের অবস্থাটা জানা যায় সেই সমাজের একটি নারীর জীবন উন্মোচন করলে। শোষিত পুরুষও তার ঘরের নারীর উপর শোষন চালায়। এই বই-এ এ-রকম অনেক নারীচরিত্রের সাথে পাঠকের দ্যাখা হবে।

অন্যদিকে, 
- আলাউদ্দিন আল আজাদের রচিত 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'মানুষের মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থ।
১০,৪৩১.
"বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনী লিখতে হইবে সে কথা কে জানিত।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. কামিনী রায় 
ব্যাখ্যা

"বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনী লিখতে হইবে সে কথা কে জানিত।"—
- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত হৈমন্তী ছোটগল্প থেকে নেয়া। 
-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী।
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের।
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছোটগল্পের জনক ও বলা হয়। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু ছোটগল্প:
- ভিখারিণী,
- দেনা-পাওনা,
- পোস্টমাস্টার,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- ছুটি,
- হৈমন্তী,
- অতিথি,
- খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
- সুভা,
- সমাপ্তি,
- মহমায়া,
- শাস্তি,
- একরাত্রি, 
- ফেল,
- ব্যবধান।
------------------------------- 
'হৈমন্তী' নিয়ে কিছু কথা:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ'র অন্তর্ভুক্ত একটি ছোটগল্প। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত সবুজপত্র মাসিক পত্রিকায়।

- হৈমন্তী মূলত বাঙালি সমাজে নারীর অবমাননা এবং বিবাহিত জীবনে তাদের অসহায়ত্ব ও আত্মমর্যাদার সংকটের গল্প।
- এখানে দেখা যায়, হৈমন্তীর মতো মুক্তচিন্তা ও উচ্চশিক্ষিত নারীও স্বামীর অমনোযোগ ও শ্বশুরবাড়ির দমনমূলক আচরণের কারণে ধীরে ধীরে নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলে।
- গল্পে তৎকালীন সামাজিক প্রথা, শ্বশুরবাড়ির অন্যায় নিয়ম, স্বামী ও পরিবারের নিষ্ক্রিয়তা, নারীর আত্মমর্যাদা হরণের সমস্যা এবং সামাজিক ভণ্ডামি সবই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

- গল্পের প্রধান চরিত্র হলো: হৈমন্তী, তার স্বামী অপূর্ব, হৈমন্তীর বাবা এবং অপূর্বর বাবা-মা।
- গল্পের এক পর্যায়ে আক্ষেপ করে হৈমন্তীর স্বামী অপূর্ব মন্তব্য করে যে,
- "বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনী লিখতে হইবে সে কথা কে জানিত।"
- এই উক্তিটি সাক্ষী দেয় যে- কতটা তীব্রভাবে তৎকালীন সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য এবং মানবিক সম্পর্কের অবক্ষয় প্রতিফলিত হয়েছে।

উৎস: 
'হৈমন্তী' গল্প; 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৪৩২.
'আর্তনাদ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম 'আর্তনাদ'।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
- এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।
১০,৪৩৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্যদিকে,
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি - শামসুর রাহমান।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৩৪.
নবীনচন্দ্র সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কাব্যতত্ত্ব অন্বেষা
  2. প্রথমা
  3. অবকাশরঞ্জনী
  4. প্রতিবাদের ছড়া
ব্যাখ্যা
• অবকাশরঞ্জনী:
- নবীনচন্দ্র সেন প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থের নাম 'অবকাশরঞ্জনী'।
- এ কাব্যগ্রন্থে তিনি প্রকাশ করেছেন প্রবল দেশপ্রেম ও আত্মচিন্তামূলক ভাবধারা।
- নবীনচন্দ্র সেন রচিত অন্যান্য কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মাঝে রয়েছে - ক্লিওপেট্রা, ভানুমতি, প্রবাসের পত্র, গীতা ও চণ্ডীর অনুবাদ ইত্যাদি।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- অধ্যাপক ও আবৃত্তিকার নরেন বিশ্বাস রচিত গ্রন্থ গুলির মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে 'কাব্যতত্ত্ব অন্বেষা'।
- তিনি মূলত আবৃত্তিগুরু হিসেবে অতি পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 
- সাহিত্যিক ও সাংবাদিক প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - প্রথমা। 
- সাংবাদিক ও লেখক, বিশেষ করে শিশুতোষ গ্রন্থাকার ফয়েজ আহমদ রচিত একটি শিশু কিশোর জাতীয় গ্রন্থের নাম হচ্ছে -  প্রতিবাদের ছড়া। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৩৫.
’রক্ত গোলাপ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি, কথা-সাহিত্যিক, ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-  সাহিত্যের সকল শাখায় অনলস পদচারণার কারণে তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত উপন্যাস‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে।
- যে জাদুবাস্তবতা বিশ্বখ্যাত লেখক মার্কোয়েস তাঁর উপন্যাসে অনেক পরে নিয়ে আসেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৩৬.
'কেয়াবন সঞ্চারিণী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. রাবেয়া খাতুন 
  3. সেলিনা হোসেন 
  4. সুফিয়া কামাল 
ব্যাখ্যা

• 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' উপন্যাস:
- নীলিমা ইব্রাহিম লিখিত উপন্যাস 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' প্রকাশিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।
- প্রকাশক ছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা, প্রকাশিত হয় (পুথিঘর লিঃ) ঢাকা থেকে। প্রকাশ কালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল দুই টাকা পঁচিশ পয়সা মাত্র।
- কেয়াবন সঞ্চারিণী, উপন্যাসে মূল চরিত্র আইরিন, রিনা নামেই সে পরিচিত। তাকে ঘিরে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস।
- নিরা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, ঢাকার মগবাজারে তাদের বাসা। বাবা প্রয়াত স্কুল শিক্ষক, পিতার মৃত্যুর পর রিনা সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার বয়স মাত্র উনিশ। এভাবেই সংসারের দায়িত্ব ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস হয়েছে।

---------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।

উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

আত্মজীবনী: বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: 'কেয়াবন সঞ্চারিণী' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৩৭.
রিজিয়া রহমানের রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) ঘর ভাঙ্গা ঘর
  2. খ) উত্তর পুরুষ
  3. গ) প্রেম আমার প্রেম
  4. ঘ) বং থেকে বাংলা
  5. ঙ) না পান্না না চু্ন্নি
ব্যাখ্যা
রিজিয়া রহমান রচিত গ্রন্থসমূহ হল- দিলুর গল্প, হবু রাজা গবু মন্ত্রী, ঘর ভাঙ্গা ঘর, উত্তর পুরুষ, সবুজ পাহাড়, ঝড়ের মুখোমুখি, প্রেম আমার প্রেম, ধবল জোসনা এবং বং থেকে বাংলা। অন্যদিকে না পান্না চুনি পান্না গ্রন্থটি পান্না কায়সার রচিত। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
১০,৪৩৮.
'আসাদের শার্ট' কবিতাটির লেখক কে?
  1. ক) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
- আসাদের শার্ট কবিতার লেখক শামসুর রহমান ।
- শহীদ আসাদ স্মরণে কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’
তাতে কবি লিখেছিলেন—
''আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’'

- ১৯৬৯ সালের আজকের এই দিনে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ হন ছাত্রনেতা আসাদ।
- এর পর আসাদের সেই রক্তমাখা শার্ট যেন হয়ে উঠেছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর |
১০,৪৩৯.
‘কাব্য কুসুমাঞ্জলি’ কার রচনা?
  1. ক) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- কাব্য কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);
- গদ্য রচনা মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);

উপন্যাস -
- জোহরা (১৯১৭),
- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি।

- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৪০.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতা?
  1. হায় চিল
  2. তপসে মাছ
  3. মেথর
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) যুগসন্ধিক্ষণের কবি।
- ছদ্মনাম : ভ্রমণকারী বন্ধু
- উপাধি : যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি, সাংবাদিক কবি।
- সম্পাদনা : সংবাদ প্রভাকর। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক। ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে সপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা করে এবং ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 
- ঈশ্বরগুপ্তের সাহিত্যকর্ম : প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) এবং  হিত প্রভাকর (১৮৬১), এটি গদ্যে-পদ্যে লেখা গল্প। 
- বিখ্যাত কবিতা : স্বদেশ, নীলকর, আনারস, পাঁঠা, তপসে মাছ, কে, বাঙালির মেয়ে। 

অন্যদিকে,
‘হায় চিল’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা।
‘মেথর’ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতা।
‘মানুষ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৪৪১.
‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. বইপড়া
  2. সাহিত্যে খেলা
  3. লাইব্রেরি
  4. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
ব্যাখ্যা
‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’- উক্তিটি প্রমথ চৌধুরী রচিত ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
-'বীরবলের হালখাতা' গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪২.
কোন পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) সাম্যবাদী
  2. খ) ধূমকেতু
  3. গ) লাঙ্গল
  4. ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
- কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন 'দৈনিক নবযুগ'।

- 'সাম্যবাদী' (১৯২৩) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 
- 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৪৩.
'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪৪.
'তিমির হননের কবি' - উপাধিটি কোন লেখকের?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

- জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

​অন্যদিকে,
​- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।
​- সুকান্ত ভট্টাচার্য কে কিশোরকবি বলা হয়।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৪৫.
'মহুয়া' পালার চরিত্র কোনটি? 
  1. মদিনা
  2. সাধু
  3. সোনার
  4. আলাল
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- 'মহুয়া' পালার রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তি জীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• মহুয়া, 
• নদের চাঁদ, 
• হুমরা বেদে, 
সাধু প্রমুখ। 

অন্যদিকে, 
- 'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• আলাল, 
• দুলাল, 
• মদিনা, 
• সোনার প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪৬.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. খ) দোজখের ওম
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস - রচিত ''চিলেকোঠার সেপাই'' মহাকাব্যচিত উপন্যাসটির কাহিনীর প্রেক্ষাপট - উনসত্তরের পাকিস্তান বিরোধী গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - ওসমান। উপন্যাসটির প্রকাশকাল - ১৯৮৬ সাল। তার আরেকটি মহাকাব্যচিত উপন্যাস - খোয়াবনামা।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১০,৪৪৭.
'রাবেয়া খাতুন এবং জাহেদ' চরিত্র দুটি সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. সারেং বৌ
  4. সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
‘সংশপ্তক’ উপন্যাস:
- সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- তাই এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, মহুরতি, রমজান ইত্যাদি।

শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪৮.
‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’ প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বিয়ে পাগলা বুড়ো:
- এটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

-------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৪৯.
বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন -
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিরা
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিরা
- ১৮১৮ সালে মিশনের পক্ষে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা সাময়িক পত্র দিগ্দর্শন।
- এর ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটিতে ইংরেজি প্রবন্ধও প্রকাশিত হতো।
- ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ভবিষ্যৎ সাময়িক পত্রিকাসমূহের জন্য সন্দেহাতীতভাবে মানসম্মত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৫০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল কোনটি?
  1. একাত্তরের যিশু — শাহরিয়ার কবির
  2. একাত্তরের যাত্রী — মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. একাত্তরের বর্ণমালা — শামসুল হুদা 
  4. একাত্তরের বিজয়গাথ — সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল: একাত্তরের যিশু — শাহরিয়ার কবির।
---------------------------------------------- 
• শাহরিয়ার কবির:
- শাহরিয়ার কবির একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও মানবাধিকার কর্মী।
- তিনি ‘একাত্তরের যীশু’ উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও মৌলবাদ বিষয়ক বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- তিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতিরূপেও পরিচিত।
- তাঁর সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
--------------------------------------- 
"একাত্তরের যীশু" নিয়ে কিছু কথা: 
- শাহরিয়ার কবিরের "একাত্তরের যীশু" হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।
- এটি একটি বোবা ছেলে ডেসমন্ড এবং তার পরিবারের কষ্টকর বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
- উপন্যাসে যুদ্ধকালীন শিশুদের মানসিক অবস্থা, তাদের ভয় এবং চারপাশের ধ্বংসলীলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- ধর্মীয় রূপকের মাধ্যমে যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার অনুভূতির সঙ্গে ডেসমন্ডের অসহায়ত্বকে তুলনা করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৩ সালে একই নামের চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়।
----------------------------------------
অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- 
- একাত্তরের যাত্রী — আজয় দাশগুপ্ত;
- একাত্তরের যিশু — শাহরয়ার কবির;
- একাত্তরের বিজয়গাথা — মেজর রফিকুল ইসলাম;
- একাত্তরের ডায়েরি — বেগম সুফিয়া কামাল;
- একাত্তরের বর্ণমালা — আখতার মুকুল;
- একাত্তরের রণাঙ্গন — শামসুল হুদা;

উৎস: একাত্তরের যিশু উপন্যাস। 

১০,৪৫১.
"ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়" - এই লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. ফজলে খোদা
  2. আব্দুল লতিফ
  3. কবির সুমন
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• "ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়" লাইনটির রচয়িতা - আব্দুল লতিফ

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য: 
- সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল লতিফ রচনা করেন এবং নিজেই সুর করেন বিখ্যাত সঙ্গীত 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'।
- চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী লেখেন তাঁর বিখ্যাত 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
- ঢাকায় কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতির মিনার'।
- আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি পারি'।

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়, 
কথা: আব্দুল লতিফ
সুর: আব্দুল লতিফ

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়ত

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক, ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়- রচনা।
১০,৪৫২.
‘মানবজীবন', 'মহৎজীবন', 'উন্নতজীবন'- প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) এয়াকুব আলী চৌধুরী
  3. গ) মোঃ লুৎফর রহমান
  4. ঘ) মোঃ ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ লুত্ফ‌র রহমান একজন সমাজ সংস্কারক ও লেখক।
- কলকাতায় তার প্রতিষ্ঠিত দুটি সংগঠন ছিলো - 'নারীশিল্প বিদ্যালয়' ও 'নারীতীর্থ'। সংগঠন দুটির সভাপতি করা হয়েছিলো - বেগম রোকেয়াকে।
- তার সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সহচর ও নারীশক্তি।

সাহিত্যকর্ম:
প্রবন্ধ:
- উচ্চজীবন
- মহৎজীবন
- উন্নতজীবন
- মানবজীবন
- সত্যজীবন

উপন্যাস:
- পথহারা
- রায়হান
- প্রীতি উপহার

শিশু সাহিত্য:
- রানী হেলেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৫৩.
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক -  
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. আরেক ফাল্গুন 
  3. কে কথা কয় 
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত নাটক হচ্ছে যে অরণ্যে আলো নেই। 
নীলিমা ইব্রাহিম হচ্ছে এর রচয়িতা। 

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- জন্ম: ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামে।
- পিতা: প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী, মা: কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক অর্জন করেন।

উল্লেখযোগ্য রচনা:
- উপন্যাস: বিশ শতকের মেয়ে, এক পথ দুই বাঁক, কেয়াবন সঞ্চারিণী, বহ্নিবলয়। 
- নাটক: যে অরণ্যে আলো নেই, দুয়ে দুয়ে চার, রোদ জ্বলা বিকেল, সূর্যাস্তের পর। 
- আত্মজীবনী: বিন্দু বিসর্গ। 
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ ও গবেষণা: আমি বীরাঙ্গনা বলছি। 

অন্যদিকে,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে  শওকত ওসমানের রচিত গল্প। 
- আরেক ফাল্গুন জহির রায়হানের লেখা একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কে কথা কয় হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৪৫৪.
'দৃষ্টিপ্রদীপ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) নজিবুর রহমান সাহিত্যরত্ন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
দৃষ্টিপ্রদীপ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- পথের পাঁচালী, অপরাজিত, ইছামতি, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান ইত্যাদি। উৎস: উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৪৫৫.
নিচের কোনটি একই শ্রেণির নয়?
  1. ব্যথার দান
  2. রিক্তের বেদন
  3. শিউলিমালা
  4. ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ ৩ টি।
যথা - ব্যথার দান, রিক্তের বেদন ও শিউলিমালা।
- ঝিলিমিলি নাটক সংকলন।
এই সংকলনে ৩ টি ছোট নাটক আছে।
যথা:
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ঝিলিমিলি নাট্য সংকলন।

১০,৪৫৬.
'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি- 
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যাট্য
ব্যাখ্যা

 • 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ:
- 'দোজখের ওম' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'দোজখের ওম'।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প।

এগুলো হচ্ছে-
- কীটনাশকের কীর্তি,
- যুগলবন্দি,
- অপঘাত ও
- দোজখের ওম নামক।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৫৭.
”কপালকুণ্ডলা” উপন্যাসটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬৫ সালে
  3. ১৮৬৬ সালে
  4. ১৮৬৯ সালে
ব্যাখ্যা

• কপালকুণ্ডলা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) রচনা করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৫৮.
বাংলা সাহিত্যে ‘শামসুর রহমান’ এর পরিচয় কী?
  1. কবি
  2. সাহিত্যিক
  3. উপন্যাস রচয়িতা
  4. প্রবন্ধ রচিয়তা
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।   

• শামসুর রাহমানের মুক্তিযুদ্ধের কবিতার মধ্যে বহুল প্রচারিত দুটো কবিতা হচ্ছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৫৯.
‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ বিখ্যাত কবিতাটি কার রচনা?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শওকত ওসমান
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একটি বিখ্যাত কবিতা। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ইতিহাস-সচেতন কবি।
- এই কবিতায় তাঁর সংগ্রামী চেতনা ধরা পড়ে। তাঁর এ সংগ্রামী চেতনা পাঠককে বর্তমানের নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে ভবিষ্যতের দিকে।

‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতায় তিনি বলেন:

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে—
এ—দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?

-------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:

- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য - উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬০.
একুশের প্রথম গান কোনটি?
  1. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না
  3. ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
  4. মা গো ওরা বলে
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম গান রচনা করেন ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হক। গানটির প্রথম চরণ- ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না।
- এটি সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। 
- দূর হটো দূর হটো আই দুনিয়া ওলালো, হিন্দুস্তান হামারা হ্যায়'- জনপ্রিয় এ হিন্দি গান থেকে নেয়া হয় গানটির সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় এ গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটা ছিলো তখনকার দিনে রাজপথের গান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৬১.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর রচিত কোন গ্রন্থটি জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে উৎসর্গ করেন?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. অবরোধবাসিনী
  4. সুলতানার স্বপ্ন 
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল।
- তবে, 'পদ্মরাগে'র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
- 'পদ্মরাগ' গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

বেগম রোকেয়া রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৬২.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কি?
  1. ক) বাংলা ভাষার ইতিহাস
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গ) বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে  আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
১০,৪৬৩.
''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।" - কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) বঙ্গবাণী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) চতুর্দশপদী কবিতা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের "বঙ্গবাণী" কাব্য/কবিতার অংশ।
- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে প্রশংসিত।  

আবদুল হাকিম মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
আবদুল হাকিম রচিত পাঁচটি গ্রন্থ:  
- ইউসুফ-জুলেখা,  
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক এবং
- হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মহাশ্মশান
  2. খ) সত্যাসত্য
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) মেঘনাধবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সত্যাসত্য'। 
- এর রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। 
- 'সত্যাসত্য' উপন্যাসটি ছয় খন্ডে প্রকাশিত।
তাঁর সত্যাসত্য ছয়টি নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে-
- যার যেথা দেশ (১৯৩২),
- অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩),
- কলঙ্কবতী (১৯৩৪),
- দুঃখমোচন (১৯৩৬),
- মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০),
- অপসরণ (১৯৪২)। 

- ছয় খন্ডে রচিত সত্যাসত্য বাংলায় মননশীল উপন্যাস রচনায় এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে।
- এ উপন্যাসের বিশাল পরিসরে রূপায়িত হয়েছে আধুনিক যুগের জটিল জীবন-সমস্যা, সামাজিক, দার্শনিক, রাজনৈতিক মতবাদ ও তত্ত্ব, দাম্পত্য সম্পর্কের আধুনিক ধারণা এবং দেশ-কালের বৃহত্তর আবহ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  2. নবীন কিশোর শর্মণঃ
  3. অনুরূপা দেবী
  4. শ্রীমতি কনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৬৬.
'নবান্ন' - নাটকটি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিকায় রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  4. সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৬৭.
'রতন' - কোন গল্পের চরিত্র?
  1. হৈমন্তী
  2. পোস্টমাস্টার
  3. ভিখারিণী
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি, 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।'

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- স্ত্রীর পত্র,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী,
- মুসলমানীর গল্প।

১০,৪৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন গ্রন্থে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেন?
  1. ক) ঘরে-বাইরে
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) মালঞ্চ
  4. ঘ) চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'শেষের কবিতা' গ্রন্থে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথ তাঁকে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ সালের ২৬শে অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।

•তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ - অরিজিন এন্ড ডেভলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ।

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:

- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচর অফ মডার্ণ ইন্ডিয়া

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৬৯.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বুদ্বদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৭০.
'স্বদেশে পরবাসী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'স্বদেশে পরবাসী' প্রবন্ধের রচয়িতা - সেলিনা হোসেন।

সেলিনা হোসেন:

- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিনা হোসেন বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।

তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭১.
"অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না।" - মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে-উক্তিটি কোন দ্বৈততার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুযোগ-অভিমান
  2. প্রেম-ঘৃণা
  3. ধর্ম-অধর্ম
  4. রাগ-বিরাগ 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: খ) প্রেম–ঘৃণা।

--------------------------
ব্যাখ্যা:

• উক্তিটি নাটকের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যে হিরণবালা (তরুণী) চরিত্রের মুখে উচ্চারিত হয়।

• উক্তিটি - "অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না।"

• মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকে উক্ত বাক্যটি গভীর মানসিক দ্বৈততা প্রকাশ করে— “অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না।”

এখানে—
- অমৃত → অন্তরের গভীর ভালোবাসা/প্রেম/আবেগ।
- গরল → বাহ্যিকভাবে প্রকাশিত কঠোরতা, তীব্র ভাষা, ঘৃণা।

অর্থাৎ,
চরিত্রটি বাইরে যতই বিষাক্ত ভাষা ব্যবহার করুক না কেন, তার অন্তরে আসলে এক ধরনের ভালোবাসা বা গভীর আবেগ কাজ করছে।
এই বিপরীত দুই অনুভূতির সহাবস্থানই হলো প্রেম–ঘৃণার দ্বৈততা।
-------------------
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকে উক্ত বাক্যটির প্রসঙ্গ:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রাক্কালে দশোহরার উৎসবের রাতে ইব্রাহিম কার্দি তার স্ত্রী জোহরা বেগমকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় (কারণ সে মারাঠা বাহিনীর সাথে যুদ্ধে যোগ দেবে)। জোহরা এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে কার্দিকে তীব্র কটু কথা বলে চলে যায়। কার্দি এই ঘটনা হিরণবালার কাছে বললে হিরণবালা বলেন:
“অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না।”
অর্থাৎ: জোহরার অন্তরে কার্দির প্রতি যদি গভীর প্রেম (অমৃত) না থাকতো, তাহলে তার মুখ থেকে এত তীব্র ঘৃণা, বিষাক্ততা ও কটুতা (গরল) বের হতো না।
নাট্যকার এখানে প্রেম ও ঘৃণার দ্বৈততা (love-hate duality) দেখিয়েছেন: প্রেম যত গভীর ও অমৃতময় হয়—বিচ্ছেদ, বিশ্বাসঘাতকতা বা স্বজাত্যবোধের কারণে তা ঘৃণায় রূপান্তরিত হয়ে আরও তীব্র ও বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
জোহরার চরিত্রে এই দ্বৈততা সবচেয়ে স্পষ্ট—তার প্রেমের গভীরতাই ঘৃণাকে এত তীব্র করে তুলেছে।এটি নাটকের মানবিক সম্পর্কের ট্র্যাজিক দিকের একটি শক্তিশালী প্রতীক।

অন্য অপশন বিশ্লেষণ
ক) অনুযোগ-অভিমান → এটি প্রেমের মধ্যে সাধারণ রাগ-অভিযোগের মিশ্রণ; কিন্তু উক্তি “গরল” (বিষাক্ত, তীব্র ঘৃণা) বলে অনেক বেশি গভীর ও নেতিবাচক রূপান্তর দেখায়।
গ) ধর্ম-অধর্ম → নাটকের পুরো পটভূমিতে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব আছে, কিন্তু এই নির্দিষ্ট উক্তি সরাসরি প্রেম-ঘৃণার দ্বৈততা নিয়ে; ধর্মীয় দ্বন্দ্ব নিয়ে নয়।
ঘ) রাগ-বিরাগ → রাগ-বিরাগ প্রেমের অংশ হতে পারে, কিন্তু উক্তি প্রেমের অমৃত না থাকলে গরল বের হয় না—অর্থাৎ প্রেমের উপস্থিতিই ঘৃণার কারণ। এটি দ্বৈততা নয়, ফলাফল।

সুতরাং, উক্তিটি প্রেম-ঘৃণার দ্বৈততার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক।

উৎস: ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের প্রেক্ষাপট (কলেজ সংস্করণ); মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৭২.
'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গবেষণা পত্রের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) আবদুল হাই
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান রচিত গবেষণা পত্র 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য'।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানদের চিন্তাধারা (১৭৫৭-১৯১৮)' শিরোনামে ডক্টরেট অর্জন করেন। 
- এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) গ্রন্থরূপ দেন। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭৩.
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. সমকাল
  2. কণ্ঠস্বর
  3. নয়া সড়ক
  4. নতুন কবিতা
ব্যাখ্যা
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা:
- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।
- এই পত্রিকার সারথি হিসেবে, পত্রিকার সাহিত্যাদর্শ আর সাহিত্য-উদ্দেশ্যের নির্মাতা হিসেবে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সম্পাদক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিষ্ঠার সঙ্গে যে পরিশ্রম করেছেন, তা বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে বিশ শতকের ষাটের দশকে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট-কাগজ প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে নতুন দিগ্বলয় সৃষ্টি করে। এর মধ্যে 'কণ্ঠস্বর' অন্যতম।

অন্যদিকে,
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- 'নতুন কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক - আবদুর রশীদ খান।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা - নয়া সড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭৪.
'রূপান্তর' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
রূপান্তর' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, হ-য-ব-র-ল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৪৭৫.
'সংশপ্তক' কার রচনা? 
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. আবু ইসহাক 
  3. ইমদাদুল হক মিলন 
  4. মুনীর চৌধুরী 
ব্যাখ্যা
 • সংশপ্তক:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত 'সংশপ্তক'কে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের অন্যতম বর্ণিত বিষয়।
- এখানে ঢাকা ও কলকাতার নাগরিক পরিবেশের সঙ্গে বাকুলিয়া ও তালতলি গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশের প্রতীকে সমগ্র বাংলাদেশের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবেই উপন্যাসে এসেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।
 
• শহীদুল্লা কায়সার:
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১০,৪৭৬.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান— 
  1. যশোর
  2. কুমিল্লা
  3. কলকাতা
  4. বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৪৭৭.
'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই'- এর রচয়িতা- 'চণ্ডীদাস'।

- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

- তাঁর জাত-পাতমুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বানী- 
    "শুনহ মানুষ ভাই
    সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৪৭৮.
আহমদ ছফা রচিত 'শতবর্ষের ফেরারী' প্রবন্ধগ্রন্থটি কাকে নিয়ে লেখা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. প্রফেসর রাজ্জাক
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা: প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
তার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ (১৯৭১),
- বুদ্ধি বৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৭৩),
- বাঙালি মুসলমানের মন (১৯৭৬),
- সিপাহীযুদ্ধের ইতিহাস (১৯৮০)
- শতবর্ষের ফেরারী : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৯৭),
- সাম্প্রতিক বিবেচনা : বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস (১৯৯৭),
- যদ্যপি আমার গুরু: প্রফেসর রাজ্জাক (১৯৯৭)৷

অন্যদিকে,
কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে হুমায়ুন আজাদের লেখা প্রবন্ধ নিঃসঙ্গ শেরপা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৭৯.
‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ কাব্যগ্রন্থের কবি-
  1. ক) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০): কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। তিনি প্রথমজীবনে ‘অশোক সৈয়দ’ ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
কবিতা- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭), কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২), পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২), পার্ক স্ট্রিটে একরাত্রি (১৯৮৩), মাছ সিরিজ (১৯৮৪) ইত্যাদি।
ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ (১৯৬৮), চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩), মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা (১৯৭৭) ইত্যাদি।
উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী (১৯৭৪), পোড়ামাটির কাজ (১৯৮২), অ-তে অজগর (১৯৮২), গভীর গভীরতর অসুখ (১৯৮২), ক্ষুধা প্রেম আগুন (১৯৪৪), শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি (১৯৯৮) ইত্যাদি।
অনুবাদ- কবিতাঃ মাতাল মানচিত্র (১৯৭০)।
স্মৃতিকথাঃ আমার বিশ্বাস (১৯৮৮), স্মৃতির নোটবুক (২০০১), ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায় (২০০৯) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। ]
১০,৪৮০.
'জাহাঙ্গীর' কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

‘কুহেলিকা’ উপন্যাস:
- কুহেলিকা উপন্যাসটির রচিয়তা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি রাজনৈতিক উপন্যাস, যার রাজনৈতিক প্রসঙ্গ অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে তুলে ধরা হয়েছে।

•উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- "ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।" 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ:
- জাহাঙ্গীর (নায়ক),
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

উল্লেখ্য,
- বাঁধনহারা উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র নুরুল হুদা, মাহবুবা, রাবেয়া প্রমুখ।
- মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র আনসার, মেজ বৌ, রুবি, প্যাঁকালে প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৪৮১.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. প্রেম বিদ্রোহ
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কতৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৮২.
'ছায়া হরিণ' কাব্যগ্রন্থটির কার লেখা?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. আহসান হাবীব
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আল মাহমুদ
  5. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন। 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৮৩.
'বাদশা হারুন' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) ক্রীতদাসের হাসি
  2. খ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
  3. গ) দুই সৈনিক
  4. ঘ) নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি রচনা করেন শওকত ওসমান
- উপন্যাসটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্র হলো: বাদশা হারুন, বেগম জুবাইদা, তাতারী

• ক্রীতদাসেরে হাসি:
-  এটি শওকত ওসমানের প্রতীকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানীদের বিরূপ শাসন ও সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল। 
- উপন্যাসটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চরিত্র হলো: বাদশা হারুন, বেগম জুবাইদা, তাতারী, মেহেরজান।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৮৪.
"আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - লাইনটি কে লিখেছেন?
  1. দাউদ হায়দার 
  2. আল মাহমুদ
  3. রফিক আজাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - চরণটির রচয়িতা — আল মাহমুদ।

• সোনালী কাবিন- কাব্য;
- আল মাহমুদ।

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

উৎস: সোনালী কাবিন- আল মাহমুদ।

১০,৪৮৫.
'ভেড়াকান্ত' ছদ্মনামে একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী 
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪৮৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. কী চাহ শঙ্খচিল
  2. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  3. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  4. পাক সার জমিন সাদ বাদ
ব্যাখ্যা

• 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। উপন্যাসটি প্রথম বেরোয় দৈনিক ইত্তেফাক- এর ঈদ সংখ্যা ২০০৩-এ। বেরোনোর পর প্রগতিশীলেরা একে অভিনন্দিত করেন, আর মৌলবাদীরা মেতে ওঠে তার বিরুদ্ধে অক্রিমণে-উপন্যাসটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। পুস্তকারে উপন্যাসটি পরিবর্ধিত হয়েছে।
- হুমায়ুন আজাদ এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন '১৯৭১' সালকে; পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের নামানুসারে এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

উপন্যাসের পটভূমি-
১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশে ছিল পাকিস্তানের উপনিবেশ। তখন একটি উর্দুগানের নিরন্তর ঝালাপালা হতো আমাদের কান, যার প্রথম পংক্তি ছিলো 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। সামরিক শাসন আর উর্দু জাতীয় সঙ্গীতে বাঙলাদেশ ছিল পীড়িত। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টি করি একটি স্বাধীন দেশ; বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিরাশি আমাদের সামনের দিকে এগোতে দেয়নি, বরং নিয়ে চলছে মধ্যযুগের দিকে; বাংলাদেশকে করে তুলছে একটি অপপাকিস্তান। মৌলবাদ এখন দিকে দিকে হিংস্ররূপ নিয়ে দেখা দিচ্ছে; ত্রাসে ও সন্ত্রাসে দেশকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারই এক ভয়াবহ ও শিল্পিত চিত্র রচিত হয়েছে হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
উপন্যাসটির প্রধান নায়ক একটি কাল্পনিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকে যে একটি হিন্দু মেয়ের প্রেমে পড়ে উপন্যাসটির শেষের দিকে তাকে বিয়ে করে এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলটি ত্যাগ করে।

অন্যদিকে, 
• ড. নীলিমা ইব্রাহিমের সবচেয়ে বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য গ্রন্থ হলো "আমি বীরাঙ্গনা বলছি"। 
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ: এটি শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পই ৷ ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থতে প্রথম প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।
• 'কী চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

--------------------
• হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৮৭.
‘ওটেন সাহেবের বাংলো’ শিশুতোষ গ্রন্থটি করা রচনা?
  1. শওকত ওসমান
  2. ফররুখ আহমদ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’ শওকত ওসমান রচিত একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------------------
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাংগী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো, 
- তারা দুই জন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৪৮৮.
'সব্যসাচী' ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. মোজাম্মেল হক
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

তাঁর প্রকশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সন্ধিক্ষণ,
- কাব্য সঞ্চয়ন। 

অন্যদিকে, 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।
• মোজাম্মেল হকের ছদ্মনাম 'শান্তিপুরের কবি'। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'নীল লোহিত' ও 'সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৮৯.
'স্বদেশ অন্বেষা' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মোহাম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ (১৯২১-১৯৯৯) একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। বিশ শতকের বাঙালি আহমদ শরীফ রচিত একটি প্রবন্ধ।
তার অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, বিচিত্র চিন্তা, স্বদেশ চিন্তা, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, একালে নজরুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া
১০,৪৯০.
কাজী নজরুল ইসলাম কাব্যানুবাদ করেছেন কোন গ্রন্থটি?
  1. চক্রবাক
  2. মোহররম
  3. রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা

রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম:
- ইরানের জীবনবাদী কবি ওমর খৈয়ামের রুবাই বা কবিতা অনুবাদ করেন নজরুল।
- ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে 'রুবাইয়াৎ-ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ মুজতবা আলী এর ভূমিকা লেখেন।
- জীবনবাদী ওমর নজরুলকে খুব আকর্ষিত করেছিলেন।
- এ অনুবাদে অত্যন্ত চমৎকার ভাষাভঙ্গি ব্যবহৃত।
- অন্যান্য অনুবাদকারের উ: 'বাঁ চেয়ে নজরুলের অনুবাদ অনুভূতির পরশে, যথাযথ শব্দের পরিপাট্যে উজ্জ্বল।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৪৯১.
মহাকবি কায়কোবাদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশালে
  2. ঢাকায়
  3. রাজশাহীতে
  4. কলকাতায়
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ: 
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা, 
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৯২.
'অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:

- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা।
 
• এ নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হচ্ছে: 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'
- আমরা হচ্ছি পাহাড়াদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।
- 'অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না'। 
- 'যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ'।
- 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।
- 'জয় পরাজয় যাই হউক, মৃত্যু ভিন্ন আমার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।'
----------------------- 
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- কবর  (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন),
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, 
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাট),
- দণ্ডকারণ্য  (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য),
- রাজার জন্মদিন। 
 
অনুবাদ নাটক: 
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ),
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ),
- মুখরা রমণী বশীকরণ  (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ)। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৯৩.
ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা নিতান্তই সহজ সরল- ছোটগল্প সম্পর্কে এ বক্তব্য কার ?
  1. ক) প্রথম চৌধুরী
  2. খ) প্রমথনাথ বিশী
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন—
“ছােটো প্রাণ, ছােট ব্যথা ছােটো ছােটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”

তাছাড়া,
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।

উৎসঃ উচ্চতর বাংলা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৪৯৪.
'ফটিক' চরিত্রটি কোন রচয়িতা সৃষ্টি? 
  1. কায়কোবাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'ফটিক' চরিত্রের স্রষ্টা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"ছুটি” গল্প:
- "ছুটি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- এটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে রচিত। এবং ১৮৯২ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- ছোট গল্পটির নায়ক বালক 'ফটিক', তাকে ঘিরেই গল্প বিকাশিত হয়েছে।

গল্পের সারসংক্ষেপ:
- বালকদিগের সর্দার ফটিক প্রকৃতি লালিত এক বালক, স্বভূমিচ্যুত হয়ে নাগরিক পরিবেশে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে। সেখানকার প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রীতিহীন পরিবেশ তাকে অস্থির করে তোলে। সে সেখানে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। অবশেষে এক বর্ষাস্নাত দিনে জ্বরাক্রান্ত শরীরে বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে পড়ে। প্রচণ্ড জ্বর বিকার গ্রস্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আনে। সে মামার কাছে বাড়ি যাবার বায়না ধরলে তিনি জানান পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন। বিকারের ঘোরে সে কথা বলতে থাকে। মা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলে, ফটিক আস্তে আস্তে পাশ ফিরিয়া কাহাকেও লক্ষ্য না করিয়া মৃদুস্বরে কহিল, "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।” এ ছুটি চিরকালের ছুটি।

উৎস: ছুটি (ছোটগল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১০,৪৯৫.
হাসান হাফিজুর রহমান কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কিশোরগঞ্জ
  2. জামালপুর
  3. নেত্রকোনা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
• হাসান হাফিজুর রহমান জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

হাসান হাফিজুর রহমান: 
- তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ: 
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৯৬.
'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত -
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- 'সমুদ্রের স্বাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত - ছোটগল্প।
- এটি 'সমুদ্রের স্বাদ' গল্পগ্রন্থের প্রথম গল্প।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সমুদ্রের স্বাদ', মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
১০,৪৯৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'দুধভাতে উৎপাত' একটি -
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৪৯৮.
হাসান হাফিজুর রহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিমুখ প্রান্তর
  2. খ) আর্ত শব্দাবলী
  3. গ) অন্তিম শরের মতো
  4. ঘ) যখন উদ্যত সঙ্গীন
ব্যাখ্যা
বিমুখ প্রান্তর হাসান হাফিজুর রহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারী, প্রতিবিম্ব ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৪৯৯.
হুমায়ূন আহমেদের “অনিল বাগচীর একদিন” কিসের পটভূমিতে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. সামাজিক সমস্যা
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. সায়েন্স ফিকশন
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদের “অনিল বাগচীর একদিন” মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। 

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার এবং শিক্ষক।
- তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনে তিনি রচনা করেন ‘নন্দিত নরকে’ শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাস, যা ১৯৭২ সালে লেখা এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আগুনের পরশমণি
- অনিল বাগচীর একদিন

উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আগুনের পরশমণি,
- কে কথা কয়,
- জোছনা ও জননীর গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১০,৫০০.
"রেইনকোট" মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস 
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক 
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

• "রেইনকোট" ছোটগল্প:
-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে। -
- এই গল্পটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
-দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।