বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০৪ / ১৭৪ · ১০,৩০১১০,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১০,৩০১.
"গ্রহণ করেছ যত ______ তত করেছ আমায়।"- শূন্যস্থানে কী বসবে?
  1. ধন্য
  2. শূন্য
  3. নিঃস্ব
  4. ঋণী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''
----------------
'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩০২.
কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. মাল্যবান
  2. দত্তা
  3. রজনী
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

মাল্যবান হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি উপন্যাস। 

জীবনানন্দ দাশ
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বরিশালে।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি।
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখযোগ্য রচনা
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা। 

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

অন্যদিকে,
- 'দত্তা' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত। 
- 'রজনী' জীবনানন্দ দাশের একটি প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ। 
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া। 

১০,৩০৩.
কোন লেখিকা মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত?
  1. ক) বেগম সুফিয়া কামাল
  2. খ)  রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. গ) শামসুন্নাহার মাহমুদ
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়। মুসলিম নারী জাগরণে তিনি অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।
- পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- ৯ই ডিসেম্বর ১৯৩২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


উৎস:- বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১০,৩০৪.
‘সােফিয়া’ ও ‘মাহবুবা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. ব্যধার দান
  3. বাঁধন হারা
  4. রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা;
- মৃত্যুক্ষুধা;
- কুহেলিকা। 

⇒ ‘বাঁধন হারা' উপন্যাস: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ হলো:
- ব্যাথার দান;
- রিক্তের বেদন;
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩০৫.
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. ক) দিলরুবা
  2. খ) নূরনামা
  3. গ) সাত সাগরের মাঝি
  4. ঘ) জিঞ্জির
ব্যাখ্যা
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের উপজীব্য।

ফররুখ আহমদ
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে ।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
- সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪),
- সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২),
- নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১),
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩),
- হাতেমতায়ী (১৯৬৬),
- হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১)
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
১০,৩০৬.
'Original and Development of Bengali language' গ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) শহীদুল্লা কায়সার
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'Original and Development of Bengali language' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- সংক্ষেপে গ্রন্থটিকে ODBL বলে।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩০৭.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. মানচিত্র
  3. কর্ণফুলী
  4. ক্ষুধা ও আশা
ব্যাখ্যা
- 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, কর্ণফুলী, ক্ষুধা ও আশা, খসড়া কাগজ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩০৮.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে সম্পাদনা করেন?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩০৯.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক?
  1. চতুরঙ্গ
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
• "প্রায়শ্চিত্ত" নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- সুরমা
- ধনঞ্জয় বাউল,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• চতুরঙ্গ, বউ ঠাকুরাণীর হাট ও নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত প্রথম ছোটগল্প কোনটি? 
  1. ভিখারিনী
  2. বাল্মীকী প্রতিভা
  3. কবি-কাহিনী 
  4. হিন্দুমেলার উপহার
ব্যাখ্যা
'ভিখারিনী' ছোটগল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম - ভিখারিনী। 

- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- এটি 'ভারতী' পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবি-কাহিনী’। এটি আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১১.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) হুমায়ুন আহমেদ
  3. গ) মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা

'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকটি মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্কে বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত।
চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য ইত্যাদি তাঁর মৌলিক নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৩১২.
মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যজীবনের সূত্রপাত হয় কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. হিতকরী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. আজিজননেহার
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
• গ্রামবার্তা প্রকাশিকা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা। ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।

• প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে। এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

• গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় তৎকালীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতনামা পন্ডিতরা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথের বিভিন্নবিষয়ক প্রবন্ধ, ছড়া ইত্যাদিও এতে প্রকাশিত হতো।

• প্রখ্যাত মুসলিম লেখক মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যচর্চার হাতেখড়িও হয় এ পত্রিকার মাধ্যমে। তিনি প্রথমে এর একজন মফঃস্বল সাংবাদিক ছিলেন। ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় এ পত্রিকায় তাঁর অনেক লেখা প্রকাশিত হয়। হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। এ পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি পরবর্তীকালে মুসলমান রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যে সমন্বয়ধর্মী ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, যা পরবর্তী সময়ে বহু মুসলিম সাহিত্যিক কর্তৃক অনুসৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
• মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এবং মশাররফ 'আজিজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১৩.
নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে ‘চর্যাপদ’ উদ্ধার করেন কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১):
- প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি পান।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি এটি “হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে সম্পাদনা করেন।
- যা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) সালে প্রকাশিত হয়।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৩১৪.
একাত্তরের দিনগুলি' কার লেখা?
  1. ক) জসীমউদ্দীন
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম এর দিনপঞ্জিরূপে লেখা অনবদ্য গ্রন্থ- 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

• জাহানারা ইমাম 
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি। 
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,৩১৫.
‘মজিদ ও খালেক ব্যাপারি’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. বহিপীর
  4. লালসালু
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১৬.
কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যনাট্য?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. হাবেদা মরুর কাহিনী
  3. হাতেমতায়ী
  4. সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা

• 'নৌফেল ও হাতেম' কাব্যনাট্য:
- আরব্য উপন্যাসের বিখ্যাত কাহিনি থেকে কবি ফররুখ আহমদ 'নৌফেল ও হাতেম' নামে একটি কাব্যনাট্য রচনা করেছেন। 
- ১৯৬১ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে ঢাকা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীবৃন্দ 'নৌফেল ও হাতেম' নাটকটি মঞ্চস্থ করেন এবং নাট্যমোদীদের দ্বারা তা উচ্চ প্রশংসিত হয়।

- ইতিপূর্বে 'মাহে নও' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সালের জুন মাসে পাকিস্তান লেখক সংঘের পক্ষে ড. কাজী মোতাহার হোসেন তা প্রকাশ করেন।

- ইসলামি রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ 'নৌফেল ও হাতেম' নাটকটিতে ইয়েমেনের শাহজাদা হাতেমকে মানবতাবাদী চরিত্র ও প্রতীকরূপে গ্রহণ করেছেন। হাতেমকে আদর্শবাদী 'ন্যায়পরায়ণ', পরোপকারী, সেবাব্রতী, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ও মহৎ মানবতাবাদীরূপে চিত্রিত করেছেন। অন্যদিকে নৌফেল ঈর্ষাপরায়ণ, অত্যাচারী, অহংকারী বাদশাহর প্রতীকে চিত্রিত করেছেন। বিজয় দেখিয়েছেন মানবতার। মুক্তি দেখিয়েছেন ইনসাফের।

--------------------
• ফররুখ আহমদ:

- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। এবং ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
- তিনি ১৯১৮ সালে মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'হাবেদা মরুর কাহিনী' হলো বিখ্যাত বাঙালি কবি ফররুখ আহমদ-এর লেখা একটি গদ্য কবিতার সংকলন
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৩১৭.
ফররুখ আহমদ রচিত 'অশান্ত পৃথিবী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. সিরাজাম মুনীরা
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা
'মুহূর্তের কবিতা' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা। গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য।  সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। 

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি, 
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম, 
- মুহূর্তের কবিতা, 
- ধোলাই কাব্য, 
- হাতেম তায়ী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩১৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বন্ধু বিয়োগ
  3. সাধের আসন
  4. বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল' ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত।
- এটি পাঁচ সর্গে ত্রিপদী দীর্ঘ স্তবকময় লালিত্যপূর্ণ ভাষায় রচিত।
- কাব্যের প্রথম সর্গে কবির মনোজগতে এক কাব্যলক্ষ্মীর আবির্ভাব, দ্বিতীয় সর্গে হারানো আনন্দ লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে কবির মানসভ্রমণ, তৃতীয় সর্গে কবিচিত্তের দ্বন্দ্ব, চতুর্থ সর্গে হিমালয়ের উদার প্রশান্তির মধ্যে কবিচিত্তের আশ্বাস লাভ, পঞ্চম সর্গে হিমালয়ের পুণ্যভূমিতে কবির আনন্দ উপলব্ধির চিত্র পাওয়া যায়।
- ‘সারদামঙ্গল' কাব্য সম্পূর্ণরূপে জীবনরহিত, বিশেষ সৌন্দর্যধ্যান।
- শেলির মতো বিহারীলাল তাঁর প্রিয়তমার মধ্যে সারদাকে অন্বেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ বিরহের পর হিমাদ্রিশিখরে ভাব-সম্মিলনের চিত্র অংকন করে কবি কাব্যের পরিসমাপ্তি টেনেছেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৩১৯.
নিচের কোনটি বিহারীলাল রচিত কাব্য?
  1. ক) বঙ্গসুন্দরী
  2. খ) কৃষ্ণকুমারী
  3. গ) ব্রজাঙ্গনা
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
সারদামঙ্গল, বঙ্গসুন্দরী ইত্যাদি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্য। মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত গ্রন্থ- ব্রজাঙ্গনা, কৃষ্ণকুমারী। আর অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৩২০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পত্রোপন্যাস কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. বিরাজ বউ
ব্যাখ্যা
'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস 'বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে 'বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে মাহবুবা, রবিউল, রাবেয়া, সোফিয়া প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ২৪মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩২১.
মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি
  2. প্রথম আধুনিক বাংলা কবি
  3. বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
♦ মধুসূদন এবং যা কিছু প্রথম: 
- প্রথম বাংলা মহাকবি।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি
- মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়।
- মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- প্রথম আধুনিক কবি
- প্রথম সার্থক নাট্যকার।

- প্রথম ট্র্যাজেডি, প্রহসন এর রচয়িতা।
- প্রথম রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ - ক্যাপটিভ লেডি।
- প্রথম রচিত ও প্রকাশিত বাংলা গ্রন্থ - শর্মিষ্ঠা নাটক।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রকাব্য - বীরাঙ্গনা কাব্য।
- কৃষ্ণকুমারী - বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
- প্রথম বাংলা সনেট কবিতা - বঙ্গভাষা।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সনেট সংকলন - চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
- প্রথম বাংলা প্রহসন - বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

তথ্যসূত্র - ১..বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ।
৪. বাংলাপিডিয়া।
১০,৩২২.
হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ে
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম- 'হুতোম পেঁচা'।

অন্যদিকে, 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩২৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান ছিলেন-
  1. মি. উইলিয়াম
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. রামরাম বসু
  4. জেসি মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: 
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

 • উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি ।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক ।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
১০,৩২৪.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের সংকলিত কবিতা নয় কোনটি?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. ধূমকেতু
  3. বিদ্রোহী
  4. অগ্রপথিক
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'।
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

অন্যদিকে,
'অগ্রপথিক' কবিতাটি - কাজী নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জির' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
---------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।
১০,৩২৫.
প্রথম মুসলিম মহাকাব্য রচয়িতা কে?
  1. ক) বীরবল
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খণ্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা্‌
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩২৬.
‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি যে পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় মুদ্রিত থাকতো-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. সমকাল
  4. শিখা
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- শিখা পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তারা ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত হয়।
- আর মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৩২৭.
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসনটির রচিয়তা হলেন-
  1. ক) জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) মাইকেল মুধুসূধন দত্ত
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
- সধবার একাদশী (১৮৬৬) 

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- নীল-দর্পণ
- কমলে কামিনী
- নবীন তপস্বিনী
- লীলাবতী ইত্যাদি

অন্যদিকে,
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম:
- একেই কি বলে সভ্যতা 
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো

- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি প্রহসন - এর উপায় কি? 

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৩২৮.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটি কোন হরফে মুদ্রিত?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. রোমান
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

•  গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী (বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার একটি গ্রাম) নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজ ভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিস্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিস্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। খ্রিস্টীয় ধর্মশাস্ত্রকে কৃপা বা দয়ার শাস্ত্র মনে করে এর অর্থ রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা আলোচ্য গ্রন্থে পরিদৃষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৩২৯.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' বইটি কোন হরফে প্রকাশিত হয়?
  1. রোমান
  2. পর্তুগিজ
  3. বাংলা
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৩০.
"যযাতি", "দেবযানী" কোন নাটকের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. কীর্তিবিলাস
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- প্রথম সার্থক বাংলা নাটক।
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৩১.
'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. হুতোম প্যাঁচা
  2. অবধূত
  3. যাযাবর
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর ছদ্মনাম  'হুতোম প্যাঁচা'।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।

- তিনি "হুতোম প্যাঁচার নকশা” (১৮৬২) ও "সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ" (১৮৬৬) এই দুটি গ্রন্থের জন্য অমর হয়ে আছেন।

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে,
- অবধূত - স্বামী কালিকানন্দ।
- যাযাবর - বিনয় মুখোপাধ্যায় ।
- কালকূট - সমরেশ বসু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১০,৩৩২.
"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।
- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।'-  কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

------------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

----------------------
কবিতা: খাঁটি সোনা, 
কবি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৩৩.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস? 
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. নিষিদ্ধ লোবান
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
"নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাস:
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
- এটি আড়াই দিনের ঘটনাপ্রবাহে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনবদ্য এক উপন্যাস। এর প্রধান চরিত্র বিলকিস। অন্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে কিশোর বয়সী প্রবীর যাকে সিরাজ নাম গ্রহণ করতে হয়েছিল।
- এই উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র 'গেরিলা'।

অন্যদিকে,
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।

উৎস: "নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৩৪.
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'বিশ শতকের বাঙালি' প্রবন্ধের রচয়িতা- আহমদ শরীফ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বিচিত্র চিন্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, কালের দর্পণের স্বদেশ, স্বদেশ চিন্তা, জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৩৩৫.
মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী চরিত্রগুলো কোন উপন্যাসের?
  1. ক) নৌকাডুবি
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) প্রজাপতির নির্বন্ধ
  4. ঘ) গোরা
ব্যাখ্যা

➤ চোখের বালি (১৯০৩): বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘােষ এই উপন্যাস অবলম্বনে ‘চোখের বালি' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনােদিনী প্রভৃতি এর চরিত্র।

➤ নৌকাডুবি (১৯০৬): সামাজিক উপন্যাস।

➤ প্রজাপতির নির্বন্ধ (১৯০৮): হাস্যরসাত্মক উপন্যাস। চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

➤ গােরা (১৯১০): এপিক উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘতম উপন্যাস। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তির চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১০,৩৩৬.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য নয়?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. জলাঙ্গী
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
- ক্রীতদাসের হাসি : অনেকের মতে ‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত ওসমানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি একটি প্রতীকধর্মী উপন্যাস।
- আরব্য-উপন্যাসের একটি কল্পিত কাহিনীর মাধ্যমে সমকালীন জীবন তথা আয়ুব খানের সামরিক শাসনে লাঞ্ছিত সমাজের চিত্র উপন্যাসটিতে মনোরমভাবে অঙ্কিত হয়েছে।
- শওকত ওসমানের ‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক গাজী রহমানের দৃষ্টিই এখানে লেখকের নিজস্ব দৃষ্টি।
- ব্যক্তি গাজী রহমানের চেতনার আড়ালে লুকিয়ে আছে যুদ্ধপীড়িত দেশের দেড় মাসের কিছু চালচিত্র। 
- নেকড়ে অরণ্য’ উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে হায়েনারূপী পাকসেনাদের পাশববৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য কতিপয় বন্দিনী বাঙালী রমণীর এক মর্মন্তুদ আলেখ্য।
- গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের আরেকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হল দুই সৈনিক।

উৎস: দৈনিক জনকণ্ঠ। [লিঙ্ক] 
১০,৩৩৭.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু
দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'
- চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) কেউই নয়
ব্যাখ্যা

১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন :
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু
দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয় ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,৩৩৮.
'হায় পার্বতী' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত-
  1. ক) নাটক
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস- মানব তোমার সারা জীবন, হায় পার্বতী ও খলনায়ক। তিনি নাট্যসংগঠন থিয়েটার- এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনো দুঃসময়, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, কোকিলারা ইত্যাদি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৩৩৯.
‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসটি কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. গ্রামীণ সমাজ ও প্রকৃতি
  4. গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

‘জাহান্নম হইতে বিদায়’ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে রচিত।   

শওকত ওসমান
- শওকত ওসমান ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- জন্ম: ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে।
- প্রকৃত নাম: শেখ আজিজুর রহমান এবং সাহিত্যিক নাম: শওকত ওসমান।

শওকত ওসমানের রচিত উল্লেখযোগ্য রচনা
উপন্যাসসমূহ:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম, ইত্যাদি। 

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি। ইত্যাদি

গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে, ইত্যাদি। 

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

১০,৩৪০.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের কাহিনি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. সিপাহি বিদ্রোহ
  3. ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ
  4. তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

- তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

১০,৩৪১.
'স্মৃতির নোটবুক' - গ্রন্থটি কোন লেখকের স্মৃতিকথা?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতির নোটবুক' - আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৪২.
'কেতকী' চরিত্রটিকে পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) দুইবোন
  2. খ) রাজা ও রানী
  3. গ) তাসের দেশ
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্রঃ
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৪৩.
'পরশুরাম' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. রাজশেখর বসু
  2. বিমল ঘোষ
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমরেশ বসু
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• 'পরশুরাম' রাজশেখর বসু ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম। 

• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
---------------
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি।
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৪৪.
“পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল, কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল” - কার উক্তি?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

মদন মোহন তর্কালঙ্কার - রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- রসতরঙ্গিনী
- বাসবদত্তা
তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি -
- ''পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল, কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল''।
- ''সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।''
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৪৫.
‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতা আট বছর আগের একদিন। এই কবিতায় আত্মহত্যার কথা বলা আছে।
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- ঝরাপালক
- ধূসর পান্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

"শোনা গেল লাসকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে -ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।
বধূ শুয়ে ছিলো পাশে-শিশুটিও ছিলো;
প্রেম ছিলো আশা ছিলো জ্যোৎস্নায় তবু সে দেখিলো
কোন ভূত?ঘুম কেন ভেঙ্গে গেলো তার?
অথবা হয় নি ঘুম বহুকাল
লাসকাটা ঘরে শুয়ে ঘুমায় এবার।
এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি!"

- আট বছর আগের একদিন
জীবনানন্দ দাশ

১০,৩৪৬.
'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' চরণটির রচয়িতা-
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক সাজাহান।
- এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গান 'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৩৪৭.
‘কিত্তনখােলা’ নাটকটির বিষয়-
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন।
- মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
১০,৩৪৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন?
  1. ক) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. খ) নীল দর্পন
  3. গ) লীলাবতী
  4. ঘ) জামাই বারিক
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র:
-  পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৪৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. মৃত্যুঞ্জয় তর্কালঙ্কার
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

> গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। সুশিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত আমলাতন্ত্রের সহায়তায় কার্যকরভাবে ব্রিটিশ ভারত শাসনের এক পরিকল্পনা করেন লর্ড ওয়েলেসলী।
- ভারতের প্রধান প্রধান ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কলেজে এক একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে ছিলেন একজন অধ্যাপক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক।
- ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- উইলিয়াম কেরি ১৭৯৩ সালে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আসেন।
- উইলিয়াম কেরি রচিত 'A Grammar of the Bengali Language'' প্রকাশিত হয় ১৮০১ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৫০.
“প্রীতি প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাসে কুঁড়ে ঘরে।” - চরণ দুটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
“প্রীতি প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাসে কুঁড়ে ঘরে।” চরণ দুটির রচয়িতা -  শেখ ফজলুল করিম

স্বর্গ ও নরক
 শেখ ফজলুল করিম

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর ?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, –মানুষেতে সুরাসুর !
রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয়,
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে

শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
১০,৩৫১.
‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - গানটি রচনা করেন কে?
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী, 
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৫২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করেন কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডি.লিট' উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৫৩.
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আর্ত শব্দাবলী
  2. খ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. গ) শিউলি
  4. ঘ) আরো দুটি মৃত্যু
ব্যাখ্যা
'আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ 'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'।।
'শিউলি' ২০০৬ সালে প্রকাশিত, হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
'আরো দুটি মৃত্যু' ১৯৭০ সালে প্রকাশিত, হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,৩৫৪.
'বাঁধনহারা' উপন্যাসের কয়টি পত্র রয়েছে?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১৩
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ২২
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস বাঁধনহারা। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে। নজরুল গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন কবির প্রিয় বন্ধু নলিনীকান্ত সরকারকে। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৩৫৫.
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. লোক লোকান্তর
  2. কালের কলস
  3. বখতিয়ারের ঘোড়া
  4. আগুনের মেয়ে
  5. পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা

 • কবি আল মাহমুদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ⎯ 'আগুনের মেয়ে'। 
- উপন্যাসটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৩৫৬.
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  2. উদ্বাস্তু পৃথিবী
  3. সাঁঝের মায়া
  4. অভিযাত্রিক
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - উদ্বাস্তু পৃথিবী ।
• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ- 'উদাত্ত পৃথিবী'।

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৫৭.
মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. কেউ কিছু বলতে পারে না
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা

• মুনীর চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় 'কবর' নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
• রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজওয়র্দির The Silver  -এর বাংলা অনুবাদ।
• মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
• চিঠি।
• কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
• পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
'মানুষ' ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি এর মূল উপজীব্য।
• 'নষ্ট ছেলে' রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
'দণ্ডকারণ্য' তিনটি নাটকের সমন্বয়।
• রাজার জন্মদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

১০,৩৫৮.
অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতায়?
  1. মৃত্যুর আগে
  2. হায় চিল
  3. বনলতা সেন
  4. সেইদিন এই মাঠ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৫৯.
‘হুতোমী বাংলা’ কার রচনাকে বলা হয়?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চন্ডীচরণ মুনশী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ, সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
তিনি কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা ভাষা অনুশীলনের জন্য ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’, ‘বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা’, ‘বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- “হুতোম প্যাঁচার নকশা” (১৮৬২) ও "সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ” (১৮৬৬) এই দুটি গ্রন্থের রচয়িতা তিনি।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ অনুসৃত রীতির ভাষা হলো ‘হুতোমী বাংলা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৬০.
'জরাসন্ধ' কার ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. রাজশেখর বসু
  3. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'চারুচন্দ্র চক্রবর্তী' এর ছদ্মনাম- জরাসন্ধ। 

অন্যদিকে,
- 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
-  'রাজশেখর বসুর' ছদ্মনাম- 'পরশুরাম'।
- 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম-'বনফুল'।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৬১.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক কোনটি?
  1. একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. কবর
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
• 'কবর' নাটক সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।

- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকান্ড এবং পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে সভা হয় তাতে তীব্র ভাষায় বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে নিরাপত্তা আইনে সরকার তাঁকে বন্দি করে।

- ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি জেলে ছিলেন এবং বন্দি অবস্থায়ই পরীক্ষা দিয়ে তিনি বাংলা বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
জেলে বন্দী অবস্থায়ই তিনি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচনা করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক কবর (১৯৫৩)। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।

- শুধু রচনাই নয়, জেলের বন্দিদের দ্বারা এ নাটকের প্রথম মঞ্চায়নও হয় জেলের মধ্যেই।

- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে 'কবর' নাটকটি রচিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
​- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন: একুশে ফেব্রুয়ারি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৬২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বয়সে ছোটগল্পকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন? 
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ১৪ বছর
  4. ১৬ বছর
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প - ভিখারিনী।

- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি। 
- এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যায়, এটিই তাঁর লেখা প্রথম গল্প, যা কোনো সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে তাঁর কোনো গ্রন্থে অবশ্য এ গল্পটিকে স্থান দেননি।
- রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংকলনের নাম - গল্পগুচ্ছ।

--------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভিখারিণী’ ছোটগল্প- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১০,৩৬৩.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।'- পঙ্‌ক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্গত?
  1. দেনাপাওনা
  2. অপরিচিতা
  3. হৈমন্তী
  4. যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
ব্যাখ্যা
⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।  

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৬৪.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা?
  1. বীরবলের হালখাতা
  2. কথপোকথন
  3. লিপিমালা
  4. হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
• ‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

---------------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৬৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নৃত্যনাট্য?
  1. শারদোৎসব
  2. রক্তকরবী
  3. অচলায়তন
  4. চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
• ‘চিত্রাঙ্গদা’ নাটক:
- চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২) একটি কাব্যনাট্য এবং ১৯৩৬ সালে একই নামে প্রকাশিত গ্রন্থটি একটি নৃত্যনাট্য।
- এই নাটকে মনিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রাধান্য হয়ে উঠেছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য নৃত্যনাট্যগুলো হলো:
- শ্যামা,
- নটীর পূজা,
- চণ্ডালিকা।

অন্যদিকে,
• ‘শারদোৎসব’ (১৯০৮) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। শরৎকালের পটভূমিকায় এই নাটকের ঘটনা সন্নিবিষ্ট হয়েছে।
• রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
• রবীন্দ্রনাথের সাংকেতিক নাটক - অচলায়তন।

----------------------
• রবীন্দ্রনাথের আরও কিছু সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের ঘর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৬৬.
‘ও কি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে’ কোন ধরনের গান?
  1. চট্‌কা গান
  2. ভাটিয়ালি
  3. ঝুমুর গান
  4. ভাওয়াইয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে’ - ভাওয়াইয়া গানের উদাহরণ।

• ভাওয়াইয়া গান: 
- ভাওয়াইয়া  উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- মৈশাল, গাড়োয়ান, মাহুত প্রমুখ এই প্রণয়গীতির নায়ক।
- আধ্যাত্মিক চেতনাসমৃদ্ধ ভাওয়াইয়া গানও পরিলক্ষিত হয়।
যেমন:
‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’, ‘ছাড় রে মন ভবের খ্যালা’ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৬৭.
বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' এর রচয়িতা-
  1. ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  2. ড. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
  3. ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ আল-মুতী' প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম- ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'। 

• 'আবদুল্লাহ আল-মুতী':  
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।

• ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থ: 
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। 

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানে বিস্ময়,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- মহাকাশে কী ঘটছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৬৮.
"অনন্ত প্রেম" - কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সোনার তরী
  2. চিত্রা
  3. বলাকা
  4. মানসী
ব্যাখ্যা

"মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু ‘মানসী’ কাব্যকে “রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন”।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল।”

মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ উদ্দীপনার খরদীপ্তি। 

উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো-
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

অনন্ত প্রেম
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার—
কত রূপ ধ’রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।"

উৎস: ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থ; ‘অনন্ত প্রেম’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৩৬৯.
উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় কোন উপন্যাসে?
  1. আমার জীবনী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. কুলসুম জীবনী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' আত্মজৈবনিক উপন্যাস:
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। গাজী মিয়াঁর বস্তানীতে উদাসী বাউলের জীবনদর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

• এটি উপন্যাস জাতীয় রস-রচনা। কর্মজীবননির্ভর আত্মজীবনীমূলক এই রচনায় ব্যঙ্গরসের উপস্থাপন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

• এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম ‘উদাসীন পথিক’ মুদ্রিত হয়েছে।

• এ গ্রন্থে অনেক চরিত্রের সমাবেশ-ঘটেছে, তবে কোনো একটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি ও চরিত্র আবর্তিত বা বিবর্তিত হয়নি। মূলত লেখক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের অন্যায়-অবিচার, অনাচার-দুর্নীতি, সমাজের মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও বর্বরোচিত আচরণ চিত্রিত করেছেন।

• সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা ও জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা। উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন- অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি। ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়। 

• গাজী মিয়াঁর বস্তানীর বিষয় ও অঙ্গসজ্জা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন- "গাজী মিয়ার বস্তানী একখানি বিচিত্র সমাজচিত্র, সুশোভিত, সুলিখিত উপন্যাস।"

---------------------
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্ৰহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'গাজী মিয়ার বস্তানী' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৭০.
'অষ্টাদশী' কাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- স্বপ্নসাধ, সাথী ও অষ্টাদশী।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'নদী ও নারী' ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৭১.
'ইডিপাস' অনুবাদগ্রন্থের রচিয়তা হলেন-
  1. ক) সৈয়দ আলী হাসান
  2. খ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭), সুফী মোতাহার হোসেন স্বর্ণপদক (১৯৬৭), একুশে পদক (১৯৮৩)  লাভ করেন।  

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাব,

 প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ: 
- নজরুল ইসলাম 
- কবিতার কথা 
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা 
- আধুনিক বাংলা কবিতা : শব্দের অনুষঙ্গে 
- রবীন্দ্র কাব্য বিচারের ভূমিকা 
-  কবি মধুসূধন 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস 
- সতত স্বাগত 
- শিল্পবোধ ও শিল্পচৈতন্য,
- পদ্মাবতী 

অনুবাদগ্রন্থ : 
- হুইটম্যানের কবিতা 
- ইডিপাস 

আত্মজীবনী : 
- আমার সাক্ষ্য 


[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।]
১০,৩৭২.
লেটো গানের দলে যোগ দিয়েছিলেন কে?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
১০,৩৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযােগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ 'চর্যাপদ'। ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
ড. শহীদুল্লাহর মতে - ৬৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
সুকুমার সেনের মতে- ৯০০-১৩৫০ সালের মধ্যে রচিত।
এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে- পদগুলাে ৯৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/গানের সংকলন।
এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৩৭৪.
কোনটি রম্য গল্প?
  1. ক) এলেবেলে
  2. খ) সূর্যের দিন
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) তেতুল বনে জ্যোৎস্না
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ কথা সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত এলেবেলে একটি রম্য গল্প।
- এছাড়া সূর্যের দিন, অনিল বাগচীর একদিন, আগুনের পরশমনি - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র - বাকের ভাই (কোথাও কেউ নেই), হিমু, মিসির আলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৭৫.
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ
এই তো জগতের নিয়ম’ - এ উক্তিটি কার ?
  1. ক) সুজাউদ্দৌলা
  2. খ) নজীবদ্দৌলা
  3. গ) জোহরা বেগম
  4. ঘ) ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ এই তো জগতের নিয়ম’ উক্তিটি রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র নজীবদ্দৌলার।

- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৫৯) সালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক।
- পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৬১ সালে।
- এর মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের উর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।
- রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ গ্রন্থ থেকে ১৯০৫ সালে নেওয়া হয়।
রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র সমূহ : 
- ইব্রাহিম কার্দি
- জোহরা বেগম
- নজীবদ্দৌলা
- আহমদ শাহ আব্দালি।
- মুনীর চৌধুরী রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৭৬.
'শশী ও কুসুম' চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।
- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
-আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৩৭৭.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী রয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. সিরাজউদ্দৌলা
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. রক্তকরবী
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

• নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- চিঠি (১৯৬৬),
- কবর (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন),
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য,
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাট),
- দণ্ডকারণ্য (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য),
- রাজার জন্মদিন।

• অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ),
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৭৮.
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. আবুল হুসেন
  4. কাজী কাদের নেওয়াজ 
ব্যাখ্যা
'কাজী কাদের নেওয়াজ ' - 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

• বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন:
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন।

বাংলার মুসলমান সমাজের যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা বিরাজমান ছিল, সেসব দূরীকরণই ছিল এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
এই আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল ফজল, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম এবং আবদুল কাদির।

- এই সমাজ তাদের মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে।
- তাঁদের মধ্যে ছিলেন: মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৭৯.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) কঙ্কাবতী
  2. খ) মর্মবাণী
  3. গ) বন্দীর বন্দনা
  4. ঘ) উর্বশী
ব্যাখ্যা
উর্বশী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কবিতা। আর বাকিগুলো বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- মর্মবাণী, বন্দীর বন্দনা, কঙ্কাবতী, দময়ন্তী, যে আঁধার আলোর অধিক, মরচে পড়া পেরেকের গান, স্বাগত বিদায়, একদিন: চিরদিন ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৩৮০.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালের  প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৮১.
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সম্পাদিত পত্রিকাটির নাম কী?
  1. শিখা
  2. পূর্বাশা
  3. সওগাত
  4. সংবাদ প্রবাকর
ব্যাখ্যা

• সওগাত:
- সওগাত  একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয়
- এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে। 
- ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। ১
- ৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন ’শিখা’ পত্রিকার সম্পাদক।
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা- পূর্বাশা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৩৮২.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস?
  1. দুয়ে দুয়ে চার
  2. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  3. সূর্যাস্তের পর
  4. যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা
• ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস:
- নীলিমা ইব্রাহিম লিখিত উপন্যাস ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।  
- প্রকাশক ছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা, প্রকাশিত হয় (পুথিঘর লিঃ) ঢাকা থেকে। প্রকাশ কালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল দুই টাকা পঁচিশ পয়সা মাত্র।
- কেয়াবন সঞ্চারিণী, উপন্যাসে মূল চরিত্র আইরিন, রিনা নামেই সে পরিচিত। তাকে ঘিরে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস।
- নিরা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, ঢাকার মগবাজারে তাদের বাসা। বাবা প্রয়াত স্কুল শিক্ষক, পিতার মৃত্যুর পর রিনা সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার বয়স মাত্র উনিশ। এভাবেই সংসারের দায়িত্ব ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস হয়েছে। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:

- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।

• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৮৩.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) আনিসুজ্জামান
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

- আহমদ শরীফ একজন  শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিচিত চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা
- স্বদেশ অন্বেষা,
- বিশ শতকের বাঙালি,
- স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৮৪.
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কাল নিরবধি
  2. খ) আমার একাত্তর
  3. গ) পূর্বগামী
  4. ঘ) হারানো অর্কিড
ব্যাখ্যা
হারানো অর্কিড অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ। জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য, মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র, আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, পুরোনো বাংলা গদ্য, আমার একাত্তর, সাহিত্যে ও সমাজে, পূর্বগামী, কাল নিরবধি, স্বরূপের সন্ধানে, মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর, আমার চোখে, বিপুলা পৃথিবী, নারীর কথা, ফতোয়া, মধুদা, আইন-শব্দকোষ ইত্যাদি।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর ও সাম্প্রতিক সমাচার।
১০,৩৮৫.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) বনী আদম
  2. খ) জননী
  3. গ) চৌরসন্ধি
  4. ঘ) ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসের জন্য ১৯৬৬ সালে তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' ও 'আমলার মামলা' তাঁর রচিত নাটক।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী (প্রথম প্রকাশিত) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৩৮৬.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. আজীজন নেহার
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
• 'আজীজন নেহার' পত্রিকা:
- মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত মাসিক 'আজীজন নেহার'। এই পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৪ সালে।

- মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার জন্য পত্রিকা প্রকাশ ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হলেও মুসলমান পরিচালিত পত্রিকার লেখক ও পাঠকের অভাব সহ বিভিন্ন কারণে পত্রিকাটি বেশি দিন চলেনি। মনে করা হয়, মশাররফ হোসেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে এই পত্রিকার নামকরণ করেছিলেন।
- এই পত্রিকাটি বিলুপ্ত হলে তিনি 'হিতকরী” (১৮৯০) নামে অন্য একটি স্বল্পায়ু পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
• ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
• ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় 'সওগাত' পত্রিকা। এর সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৮৭.
শরৎচন্দ্রের প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) বড়দিদি
  2. খ) দেনা পাওনা
  3. গ) শ্রীকান্ত
  4. ঘ) গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকায় বড়দিদি উপন্যাস লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৩৮৮.
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) প্রাচীর ও প্রান্তর
  2. খ) বেদে
  3. গ) প্রথম কদমফুল
  4. ঘ) কাকজ্যোৎস্না
ব্যাখ্যা
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত (১৯০৩-১৯৭৬): তিনি কল্লোল গোষ্ঠীর লেখক ছিলেন। তাঁর ছদ্মনাম “নীহারিকা দেবী”।
তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বেদে’, ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয়। এটি আঙ্গিক, রচনাভঙ্গি ও বিষয়বিন্যাসে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট উপন্যাস হিসেবে পরিগণিত।
অন্যান্য উপন্যাস - কাকজ্যোৎস্না (১৯৩১), বিবাহের চেয়ে বড় (১৯৩১), প্রাচীর ও প্রান্তর (১৯৩২), প্রথম কদমফুল (১৯৬১)।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
১০,৩৮৯.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. আতাউর রহমান
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'আবুল মনসুর আহমদ'। 
- এটি একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’।
-------------- 
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯):
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে।
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না  ও
- ফুড কনফারেন্স।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৯০.
‘ননসেন্স ক্লাব’ এর মুখপত্র ছিল কোনটি?
  1. ক) হ-য-ব-র-ল
  2. খ) মন্ডা মিঠাই
  3. গ) সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা
  4. ঘ) শব্দকল্পদ্রুম
ব্যাখ্যা
বাংলা শিশু সাহিত্যের এক অনন্য নাম সুকুমার রায়, (১৮৮৭-১৯২৩)। 
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন।
- সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল 'সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা'
- বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’।
- এখানে আলোচনা ও পাঠের সঙ্গে থাকত ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
- তাই ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ একে বলত ‘মন্ডা ক্লাব’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৯১.
কাঙ্গাল হরিনাথ সম্পাদিত 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়- 
  1. ১৮৬২ সালে 
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৪ সালে 
  4. ১৮৬৫ সালে 
ব্যাখ্যা

গ্রামবার্তা প্রকাশিকা: 
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পত্রিকা।
- কাঙাল হরিনাথ নামে পরিচিত হরিনাথ মজুমদারের এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৮৬৩ সালে এটি প্রথম মাসিক হিসেবে প্রকাশিত হয়
- পরবর্তী সময়ে পত্রিকাটি পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক রূপ লাভ করে।

- এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল- 
- গ্রামীণ সমাজের সমস্যা তুলে ধরা; 
- এবং কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপর সংঘটিত শোষণ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করা।

- হরিনাথ মজুমদার আপসহীনভাবে ব্রিটিশ নীলকর ও মহাজনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন; 
- ফলে পত্রিকাটি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে। 

- গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।
- সে সময়ের বহু খ্যাতনামা লেখক এখানে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা যেমন এতে স্থান পেয়েছিল, তেমনি মীর মশাররফ হোসেন ও জলধর সেনের সাহিত্যজীবনের সূচনাও এই পত্রিকার মাধ্যমে ঘটে।

- দীর্ঘ আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনার পর হরিনাথ মজুমদার সাংবাদিকতা ছেড়ে ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।
- এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে বাংলা সাংবাদিকতা ও সমাজচেতনার ইতিহাসে স্থায়ী অবদান রেখে গেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১০,৩৯২.
‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আবু ইসহাক
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. শওকত ওসমান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘জাল’। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৩৯৩.
সাহিত্যে স্বাধীনতা পদক-২০২৩ লাভ করেন-
  1. ক) মো. আমির হামজা
  2. খ) এ জি মোহাম্মদ খুরশীদ
  3. গ) মরহুম ড. মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) ড. ফেরদৌসী কাদরী
ব্যাখ্যা
- ২০২৩ সালে সাহিত্যে স্বাধীনতা পদক পান মরহুম 'ড. মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আহমেদ'।
- মরহুম ড. মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আহমেদ হলো 'সেলিম আল দীন' এর প্রকৃত নাম।
- ২০২২ সালে সাহিত্যে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন 'মো. আমির হামজা'।

এছাড়াও-
• এবার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই বেসামরিক পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
• পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন —
- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) সামসুল আলম, মরহুম লে. এ জি মোহাম্মদ খুরশীদ, শহিদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূইয়া এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীর বিক্রম।
• এ ছাড়া সাহিত্যে —
- মরহুম ড. মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন আহমেদ (সেলিম আল দীন)
- সংস্কৃতিতে পবিত্র মোহন দে
- ক্রীড়ায় এ এস এম রকিবুল হাসান
- গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বেগম নাদিরা জাহান (সুরমা জাহিদ) ও ড. ফেরদৌসী কাদরী।
• আর পুরস্কারের জন্য মনোনীত প্রতিষ্ঠানটি হলো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

উৎস: প্রথম আলো রিপোর্ট (০৯ মার্চ ২০২৩)
১০,৩৯৪.
বাংলা সঙ্গীতে সর্বপ্রথম ঠুমরি ধারার আমদানি করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. সতেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সঙ্গীতে তিনি সর্বপ্রথম ঠুমরি ধারার আমদানি করেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসেবে বাংলা সঙ্গীত জগতে অনন্য স্থান দখল -করেন।
-তাঁর রচিত জনপ্রিয় গান 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।

তাঁর গানের সংকলন:
- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৯৫.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. হাতেমতায়ী
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. ছাড়পত্র
  4. পাখির বাসা
ব্যাখ্যা
• 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। 
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ (১৯৪৭) কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের অনেক কবিত বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- এই পঙ্‌ক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে। 

অন্যদিকে, 
হাতেমতায়ী, সাত সাগরের মাঝি ও পাখির বাসা ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৩৯৬.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক?
  1. তিথিডোর
  2. তপস্বী ও তরঙ্গিনী
  3.  সানন্দা
  4. কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা

• তপস্বী ও তরঙ্গিনী বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক।

• বুদ্ধদেব বসু:

- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৩৯৭.
'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে' - চরণটি কার রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে৷

কবিতার নাম - প্রাণ
কবির নাম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"
------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০,৩৯৮.
'একটি স্নেহের কথা, প্রশমিতে পারে ব্যথা'- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'একটি স্নেহের কথা প্রশমিতে পারে ব্যথা'- পঙক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 
 
⇒ কামিনী রায়:
• কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
• কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
• কামিনী রায় এক সময় 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নির্মাল্য,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অম্বা,
- পৌরাণিকী,
- অশোক সঙ্গীত,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে,
- গুঞ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৩৯৯.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত "সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান" এর রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) নরেন বিশ্বাস
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) জামিল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৫ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশে অভিধান চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠান একভাষিক, দ্বিভাষিক, বহুভাষিক, বিষয়ভিত্তিক এবং পারিভাষিক নানা ধরনের অভিধান ও শব্দকোষ প্রণয়ন ও প্রকাশ করে আসছে।
- অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমী প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতি পরিভাষাকোষ যেমন রয়েছে, তেমনি বহুখন্ডে প্রকাশিত অভিধানও রয়েছে।

এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ১৯৬৫),
- চরিতাভিধান (শামসুজ্জামান খান প্রমুখ, ১৯৮৫),
- উচ্চারণ অভিধান (নরেন বিশ্বাস, ১৯৮৯),
- সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান (আহমদ শরীফ, ১৯৯২),
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খন্ড (আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮),
- বানান অভিধান (জামিল চৌধুরী, ১৯৯৪),
- লেখক অভিধান (আশফাক-উল-আলম প্রমুখ, ১৯৯৮),
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান (মোহাম্মদ আবদুল কাইউম, ২০০৮) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১০,৪০০.
সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বমেঘ
  2. পূর্বাশা
  3. প্রগতি
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• 'পূর্বমেঘ' পত্রিকা: ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে। বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত 'পূর্বমেঘের' আয়ুকাল।

• 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'। সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।