বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০২ / ১৭৪ · ১০,১০১১০,২০০ / ১৭,৪৩৭

১০,১০১.
একুশের প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৫২
  3. গ) ১৯৫৫
  4. ঘ) ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
• একুশের প্রথম সংকলনের নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
• এটি সম্পাদনা করেছেন কবি হাসান হাফিজুর রহমান।
১৯৫৩ সালে পুঁথিপত্র প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
• প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
• এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
• হাসান হাফিজুর রহমানের অনুরোধে নিজ হাতে উৎসর্গপত্রটি লিখে দেন আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১০২.
‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ - পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বাধীনতা তুমি
  2. নতুনের গান
  3. ছাড়পত্র
  4. জন্মভূমি
ব্যাখ্যা
- ছাড়পত্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য

'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব - তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:

- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের অনেক কবিতা বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার'- এই পঙ্ক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১০৩.
'মানুষ' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
- ’মানুষ’ এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরির নাটক।

• মুনীর চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলায় এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহূত ও নিহত হন। 

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- মানুষ;
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• মামুনুর রশীদ রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১০৪.
"ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে
কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে:
ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে
কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১০৫.
'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. সানাউল হক
  3. সমর সেন
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'সানাউল হক'। 

• সানাউল হক:
- কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ হিসেবে খ্যাতি কুঁড়ান।
- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে ১৯২৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা।
- সম্ভবা অনন্য।
- সূর্য অন্যতর।
- বিচূর্ণ আর্শিতে।
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে।
- কাল সমকাল প্রভৃতি।
- পদ্মিনী শঙ্খিনী।
- প্রবাসে যখন।
- বিরাশির কবিতা।
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১০৬.
‘স্মৃতিস্তম্ভ’ কবিতার রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. মোহাম্মদ মনীরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা- 'আলাউদ্দিন আল আজাদ'। 
---------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা: 
- এটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-‌ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 
---------------------------
স্মৃতিস্তম্ভ কবিতার কয়েকটি লাইন নিম্নরূপ:

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১০৭.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
•'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
-যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১০৮.
'আযান' কবিতাটির রচয়িতা-
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আযান' কবিতাটির রচয়িতা- 'কায়কোবাদ'

কায়কোবাদ
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। 
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 
- অশ্রুমালা
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা 
- শিবমন্দির 

আযান- কায়কোবাদ 
কে ওই শোনাল মোরে আযানের ধ্বনি।
মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর
আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
কি মধুর আযানের ধ্বনি!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১০৯.
‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’ — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার?
  1. দেশ
  2. চিত্ত যেথা ভয়শূন্য
  3. আমায় কথা দাও
  4. উটপাখী
ব্যাখ্যা
• 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১১০.
'কেরামতমঙ্গল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সত্যেন সেন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কেরামতমঙ্গল' নাটকের রচয়িতা সেলিম আল দীন।

• সেলিম আল দীন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত নাটকসমূহ:
- চাকা,
- শকুন্তলা,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- কেরামতমঙ্গল,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মুনতাসির ফ্যান্টাসি,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- হরগজ,
- হাতহদাই,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১১১.
'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নবাব ফয়জুন্নেছা
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'অবরোধবাসিনী' গদ্যগ্রন্থ:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত একটি নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'।
- এই গ্রন্থে মোট ৪৭টি ঘটনা অনুগল্প আকারে লেখা হয়েছে।
- এই গ্রন্থের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- তিনি মুসলিম নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি গঠন করেন।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
-  নবনূর, সওগাত, মোহাম্মাদী, পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হাতো।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

• তার রচিত উপন্যাস:
- পদ্মরাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১১২.
'অমিত' ও 'লাবণ্য' চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. চরিত্রহীন
  2. শেষের কবিতা
  3. যোগাযোগ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
• 'অমিত ও লাবণ্য' রবীন্দ্রনাথের- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র।

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল।

অন্যদিকে,
- চরিত্রহীন( শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) - সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
- যোগাযোগ( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) - নিখিলেশ, বিমলা।
- কৃষ্ণকান্তের উইল(বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) - রোহিনী, গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১১৩.
‘পূর্ববঙ্গ-গীতিকা’ শিরোনামে প্রকাশিত পালাগুলোর সংগ্রাহক কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. সুকুমার সেন
  4. দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রকুমার দে:
- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১১৪.
‘রত্নবতী’ উপন্যাসের মূল বিতর্ক কোনটি?
  1. যুদ্ধ বড় না শান্তি বড়
  2. প্রেম বড় না বিদ্রোহ বড়
  3. ধর্ম বড় না রাজনীতি বড়
  4. ধন বড় না বিদ্যা বড়
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

'রত্নবতী' উপন্যাস: 

- মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস 'রত্নবতী'।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। এটি মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম কোন গ্রন্থ যা ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান।
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা ব' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,১১৫.
'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আবুল হাসান
  2. আহসান হাবীব
  3. আবুল ফজল
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি।

-----------------------
• আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,১১৬.
কবি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক কোনটি ?
  1.  বোবা কাহিনী
  2.  বেদের মেয়ে
  3.  ডালিম কুমার
  4. সুচয়নী
ব্যাখ্যা

• জসীমউদ্দীন: 
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

 • তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

• জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড়, 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি, 
- জারিগান।

 • 'সুচয়নী' কবি জসিমউদ্দিনের কবিতা সংকলন।
 • 'বোবা কাহিনী' কবি জসিমউদ্দিনের রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০,১১৭.
'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. পুবের চাত
  3. পূজারিণী
  4. অবেলার ডাক
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। 
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দি ছিলেন।
- দোলন চাঁপা কাব্যগ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১১৮.
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. আলেয়া
  3. ঝিলিমিলি
  4. মধুমালা
ব্যাখ্যা
• ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাস:
- ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস মৃত্যুক্ষুধা।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে।

----------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
- মধুমালা (গীতিনাট্য)

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১১৯.
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাঙালি কবির নাম কী?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। এ পর্যন্ত মোট ৪ জন বাঙালি নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। এর মধ্যে সর্বপ্রথম ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- খেয়া, 
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১২০.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. মহাপৃথিবী
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. চোরাবালি
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

অন্যদিকে,
• 'চোরাবালি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১০,১২১.
নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয় কাকে?
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. সাইদ আহমদ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্যকে- নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয়। 
------------------------
• 'নবনাট্য আন্দোলন':
- গণনাট্যের পরবর্তী  পর্যায় হলো নবনাট্য আন্দোলন।
- নবনাট্যের অন্যতম পথিকৃৎ গঙ্গাপদ বসুর মতের,
সৎ মানুষের নতুন জীবনবোধের এবং নতুন সমাজ ও বলিষ্ট জীবনগঠনের মহৎ প্র্যাস যে সুলিখিত নাটকে শিল্প সুষমায় প্রতিফলিত হয় তাকেই বলে নবনাট্যের নাটক।  
-----------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তাঁর শেষজীবনে রচিত নাটকে মার্কসীয় দর্শন, হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সংমিশ্রিত হয়েছে।
 
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকগুলো হলো: 
- জনপদ,
- নবান্ন, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১২২.
অমিয় চক্রবর্তীর গদ্যরচনা কোনটি?
  1. এক মুঠো
  2. অনিঃশেষ
  3. মাটির দেয়াল
  4. পথ অন্তহীন
ব্যাখ্যা
• ‘পথ অন্তহীন’ অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি গদ্যরচনা।

------------------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- অমিয় চক্রবর্তী কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- অমিয় চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সাথে বহুদেশ ভ্রমণ করেন।

• কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই, 
- সাম্প্রতিক,
- পুরাবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১২৩.
রবীন্দ্রনাথ কাকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

⇒ তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১২৪.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ - 
  1. কুলায় ও কালপুরুষ
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. উত্তরফাল্গুনী
  4. প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ - প্রতিধ্বনি। এটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,১২৫.
শওকত ওসমানের রচনা কোনটি?
  1. ক) উত্তম পুরুষ
  2. খ) চৌচির
  3. গ) শেষ রজনীর চাঁদ
  4. ঘ) জননী
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস জননী। উত্তম পুরুষ রশিদ করিমের উপন্যাস। শেষ রজনী চাঁদ আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস এবং চৌচির আবুল ফজলের উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১২৬.
'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সেদেশে গুণীজন জন্মাতে পারে না।' বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. খ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত কিছু উক্তি- 'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সেদেশে গুণীজন জন্মাতে পারে না।', 'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।', পৃথিবীর কোনো জাতি জাতীয় সাহিত্য ছেড়ে বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে যশস্বী হতে পারেনি।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,১২৭.
'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সানাউল হক
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'সানাউল হক'। 

• সানাউল হক:
- কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ হিসেবে খ্যাতি কুঁড়ান।
- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে ১৯২৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা।
- সম্ভবা অনন্য।
- সূর্য অন্যতর।
- বিচূর্ণ আর্শিতে।
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে।
- কাল সমকাল প্রভৃতি।
- পদ্মিনী শঙ্খিনী।
- প্রবাসে যখন।
- বিরাশির কবিতা।
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১২৮.
কাজী নজরুল ইসলামের 'চল্ চল্ চল্' কবিতার কত লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত?
  1. ২০ লাইন
  2. ২১ লাইন
  3. ১৪ লাইন
  4. ১৮ লাইন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত। 

 - দাদরা তালের এই সংগীতটি ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশের রণ-সংগীত হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

-------------------
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসেবে 'চল্ চল্ চল্' কবিতার ২১ চরণ গৃহীত হয়েছে।
- রণসঙ্গীতটি 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- নজরুলের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ-
'চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এবং বাংলাপিডিয়া। 

১০,১২৯.
'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেওয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, ঘরে ফেরার দিন, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অমরাবতী, অনিঃশেষ, নতুন কবিতা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,১৩০.
"রাত্রিশেষ" কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. চোরাবালি
  2. সাত ভাই চম্পা
  3. উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. সেই অন্ধকার চাই
ব্যাখ্যা

উর্বশী ও আর্টেমিস:
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

• বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,১৩১.
২৫ মার্চের কালো রাত্রির পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বায়ান্ন গলির এক গলি
  2. ফেরারী সূর্য
  3. মন এক শ্বেত কপোতী
  4. অনন্ত অন্বেষা
ব্যাখ্যা
• ২৫ মার্চের কালো রাত্রির বিভীষিকার কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস: 'ফেরারী সূর্য'। 

• রাবেয়া খাতুন: 
- ১৯৩৫ সালে ঢাকার বিক্রমপুরে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ‘ইত্তেফাক’, ‘সিনেমা’ পত্রিকা ছাড়াও তাঁর সম্পাদনায় পঞ্চাশের দশকে প্রকাশিত হতো ‘অঙ্গনা’ নামে নারীদের একটি মাসিক পত্রিকা।
- রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেঘের পর মেঘ’ অবলম্বনে একই নামে ২০০৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
-  ২০১১ সালে তাঁর আরেক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মধুমতি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী।
- তাঁর ফেরারী সূর্য (১৯৭৪) উপন্যাসটির পটভূমি ২৫ মার্চের কালো রাত্রির বিভীষিকা।
- ইতিহাসনির্ভর কাহিনিপ্রধান উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মধুমতী’।
 - তাঁর নীল নিশীথ (১৯৮৪) উপন্যাসটি ব্যর্থ প্রেমের হতাশা থেকে জৈবের বিকৃত চিত্তের বিকাশ।
- ‘সাহেব বাজার’, ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’, ‘শালিমার বাগ’- এসব উপন্যাসে উঠে এসেছে পুরনো ঢাকার বিচিত্র জীবনযাপন প্রণালি।

রাবেয়া খাতুনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
অনন্ত অন্বেষা,
মধুমতি,
মন এক শ্বেত কপোতী,
বায়ান্ন গলির এক গলি।
‘বাগানের নাম মালনীছড়া’,
‘ঘাতক রাত্রি’,
‘মেঘের পরে মেঘ’, 
‘সেই এক বসন্তে’,
‘রঙিন কাচের জানালা’,
‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’,
‘শঙ্খ সকাল প্রকৃতি’,
‘সাকিন ও মায়াতরু’,
‘আকাশে এখনো অনেক রাত’,
‘সৌন্দর্য সংবাদ’,
‘ছায়া হরিণী’,
‘শুধু তোমার জন্য’- এ রকম গুচ্ছ গুচ্ছ আরও উপন্যাসের কথা উল্লেখ করা যায়।

উৎস: প্রথম আলো নিউজ রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।
১০,১৩২.
'ডাক্তার পরাশর' বিখ্যাত চরিত্রটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সরীসৃপ
  2. প্রাগৈতিহাসিক
  3. হলুদ পোড়া
  4. তৈলচিত্রের ভূত
ব্যাখ্যা
• 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্প:
- 'তৈলচিত্রের ভূত' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প। 
- গল্পটি মাসিক 'মৌচাক' পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরাজমান কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে তা তুলে ধরেছেন। এ গল্পে তিনি দেখিয়েছেন বিজ্ঞানবুদ্ধির জয়।
- ডাক্তার পরাশর এই গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

-----------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৩৩.
'মেথর' কবিতাটির কবি হলেন -
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্যে ‘ছন্দের রাজা’ এবং ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে খ্যাত।
তার বহুল প্রচলিত কবিতা ‘মেথর’।
কাজী নজরুল ইসলাম তার মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে ‘সত্যেন - প্রয়াণ’ কবিতা লেখেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,১৩৪.
বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়।

• রামরাম বসু:

- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ  — 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,১৩৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস -
  1. ডাকহরকরা
  2. গণদেবতা
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. চৈতালী ঘূর্ণি
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
-  ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
-  ১৯৭১ সালেরই ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় লেখকের।

সাহিত্যকর্ম 
- তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনী।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস চৈতালী ঘূর্ণি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। 

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

 তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- আরোগ্য নিকেতন, 
- চৈতালী ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১৩৬.
কোন কবির উপাধি 'চারণকবি'?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মুকুন্দদাস
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১৩৭.
আবোল-তাবোল কার লেখা?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায় একজন ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক। তার রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ- 'আবােল-তাবোল' (১৯২৩), হ-য-ব-র-ল (১৯২৪), পাগলা দাশু (১৯৪০), বহুরূপী (১৯৪৪), ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই। উল্লেখ্য উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী তার পিতা, সত্যজিৎ রায় তার ছেলে।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,১৩৮.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা?
  1. বিধু মাস্টার
  2. পণ্ডিত মশাই
  3. শেষ প্রশ্ন 
  4. সেঁজুতি
ব্যাখ্যা
• "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থ:
- "সেঁজুতি" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার অন্ত্যপর্বের অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে সর্বমোট ২২-টি কবিতা রয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথ "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থটি তাঁর ডাক্তার বন্ধু নীলরতন সরকারকে উৎসর্গ করেন।

অন্যদিকে, 
• 'বিধু মাস্টার' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
• 'শেষ প্রশ্ন' ও 'পণ্ডিত মশাই' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

উৎস: "সেঁজুতি" কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,১৩৯.
'কিত্তনখোলা' নাটকটির বিষয় কোনটি?
  1. লোকায়ত জীবন- সংস্কৃতি
  2. দেশভাগ
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. মহাজনী শোষণ
ব্যাখ্যা
• 'কিত্তনখোলা' নাটক:
- 'কিত্তনখোলা' নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন। তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম এটি।
- 'কিত্তনখোলা' রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- 'কিত্তনখোলা' হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।
- 'কিত্তনখোলা' নাটকে বিশাল পটভূমিকায় মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় গ্রামীণ জীবনের একটি বিস্তারিত চিত্র প্রতিফলিত। বর্ণনাত্মক শিল্পরীতির প্রয়োগে এ নাটকটি শিল্পের একটি মহৎ জায়গায় পৌঁছে যায়-পায় এক ভিন্ন মাত্রা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
- বাসন
- কেরামতমঙ্গল
- প্রাচ্য
- হাতহদাই
- যৈবতী কন্যার মন
- চাকা
- হরগজ
- একটি মারমা রূপকথা
- বনপাংশুল
- নিমজ্জন
- স্বর্ণবোয়াল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও কীত্তনখোলা নাটক ।
১০,১৪০.
নিচের কোনটি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. শনিবারের চিঠি
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চবিবশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।
- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।
সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে 'জুবিলী সংখ্যা', আষাঢ় মাসে 'বিরহ সংখ্যা' ও কার্তিক মাসে 'ভোট সংখ্যা' প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই 'বিদ্রাহী' কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

অন্যদিকে, 
-----------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপ ত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১৪১.
'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের লেখক - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. কালের কণ্ঠ পত্রিকা ১০ জুন, ২০১৯।

১০,১৪২.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।’- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমেদ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে : ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:

- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮১সালে প্রকাশিত হয়। 
- কাব্যগ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,১৪৩.
'রেইনকোট' গল্পের কথকের নাম কী?
  1. ইসহাক মিয়া
  2. আখতারুজ্জামান
  3. নুরুল হুদা
  4. আবু জুনায়েদে
ব্যাখ্যা
• 'রেইনকোট' গল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কথক 'নুরুল হুদা'।  
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১৪৪.
রাজনৈতিক উপন্যাস জোড় কোনটি?
  1. পথের পাঁচালী - বাাঁধনহারা
  2. ক্রীতদাসের হাসি - রাজসিংহ
  3. গোরা - পথের দাবী
  4. অরক্ষণীয়া - সমাগম
ব্যাখ্যা
গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।
• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
• ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী’ ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- ক্রীতদাসের হাসি ও সমাগম শওকত ওসমান রচিত রূপক উপন্যাস।
- পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- বাাঁধনহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পত্র উপন্যাস।
- ‘রাজসিংহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- ‘অরক্ষণীয়া’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৪৫.
"এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।" - চরণদ্বয় কার রচনা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি/ রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।'- চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।

• দুই বিঘা জমি:
- 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

কাহিনি সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে—‘দুই বিঘা জমি’। এক জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে চুরি করে নিয়েছিল দরিদ্র উপেনের দুই বিঘা জমি। সর্বহারা হয়ে উপেন বহুদিন নানা জায়গা ঘুরেফিরে এসেছিল তার নিজ গ্রামে। সেই জমিতে, যা জমিদারবাবু মিথ্যা ডিক্রি জারি করে দখল করেছে, বলা যায় চুরি করেছে। উপেন তারই জমিতে আমগাছতলায় বসে ছিল। দুটো পাকা আম তার কোলের ওপর পড়লে জমিদারবাবু ও তার লোকজন হইহই শুরু করে। উপেনকেই চোর সাব্যস্ত করেছিল। দুঃখভারাক্রান্ত মনে উপেন বলেছিল, ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কিছু পঙ্‌ক্তি হলো:
- ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে।'
- 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বটে।’
- "এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি/ রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দুই বিঘা জমি' কাব্য ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১৪৬.
'ভূপতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কোন গল্পের চরিত্র?
  1. নষ্টনীড়
  2. একরাত্রি
  3. অতিথি
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
• 'ভূপতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প সম্পর্কিত তথ্য: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 
------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, 
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে: 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
১০,১৪৭.
জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থটি তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. ধূসর পান্ডুলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - ঝরাপালক, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ - ধূসর পাণ্ডুলিপি।
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
এই কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যর পর প্রকাশিত হয়েছিলো। 
উল্লেখ্য,
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত রূপসী বাংলা কাব্যের নামটি তিনি রাখেননি।
- ‘বাংলা ত্রস্ত নীলিমা’ নামে তিনি একটি গ্রন্থ লিখতে চেয়েছিলেন। এইটিই পরে রূপসী বাংলা নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,১৪৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. সাম্য
  2. কমলাকান্ত
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কৃষ্ণচরিত্র
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্ত"। এটি নকশা জাতীয় রম্য রচনা।
এর তিনটি অংশ -
১. কমলাকান্তের দপ্তর,
২. কমলাকান্ত পত্র ও
৩. কমলাকান্তের জবানবন্দি।

--------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১০,১৪৯.
নিচের কোনটি ‌সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ‌ নয়?
  1. ক) মায়া কাজল
  2. খ) অভিযাত্রিক
  3. গ) মন ও জীবন
  4. ঘ) অর্কেষ্ট্রা
ব্যাখ্যা
অর্কেষ্ট্রা সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ। আর বাকিগুলো সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ‌। সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ‌ সাঁঝের মায়া। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সুফিয়া কামালের সাঁঝের মায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো- মায়া কাজল, মন ও জীবন, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মৃত্তিকার ঘ্রাণ, মোর জাদুদের সমাধি পরে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,১৫০.
‘অতসী মামী’ একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
‘অতসী মামী’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি ছোট গল্প। এটি তাঁর প্রথম গল্প।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১০,১৫১.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অশনি সংকেত
  2. দেবযান
  3. যাত্রাবদল
  4. দৃষ্টি প্রদীপ 
ব্যাখ্যা

• 'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থ:
- 'যাত্রাবদল' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প সংকলন। 

- 'যাত্রাবদল' প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে।

গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পসমূহ হলো -
- ভণ্ডুলমামার বাড়ি,
- পেয়ালা,
- উইলের খেয়াল,
- কনে দেখা,
- সার্থকতা,
- একটি দিন,
- বাইশ বছর,
- বৈদ্যনাথ,
- ডানপিটে,
- যাত্রাবদল। 

------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'যাত্রাবদল' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১৫২.
'ডক্তার পরাশর' কোন ছোট গল্পের চরিত্র?
  1. প্রাগৈতিহাসিক
  2. সমুদ্রের স্বাদ
  3. তৈলচিত্রের ভূত
  4. সরীসৃপ
ব্যাখ্যা
• ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্প: 
- তৈলচিত্রের ভূত মানিক বেন্দ্যাপাধ্যায় রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি মাসিক ‘মৌচাক’ পত্রিকায় ১৯৪১ খ্রিাষ্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।
- ডক্তার পরাশর ও নগেন এই গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

অন্যদিকে,
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প প্রাগৈতিহাসিক। এই গল্পের চরিত্র ভিখু ও পাচি।

---------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• উপন্যাস:
- জননী, 
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া, 
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প, 
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৫৩.
মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. জননী
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
⇒ জাহান্নম হইতে বিদায়:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন।
- অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।
- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- কী অসীম সাহস শিল্পীর! ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানও তাই করলেন।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- এডভোকেট রেজা আলী, বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

================
⇒ শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

অন্যদিকে,
- শওকত ওসমানের 'ক্রিতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।

- জননী (১৯৫৮) শওকত ওসমান প্রথম উপন্যাস এবং প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের জননী উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।

- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান। উপন্যাসটি প্রকাশ হয় ১৯৭৩ সালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী কোনো দিনের অনুর্ধ্ব পাঁচ ঘন্টার মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনার বাণীস্বরূপ 'দুই সৈনিক' উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১৫৪.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুবাদকাব্য কোনটি? 
  1. অভ্র আবীর
  2. মণি মঞ্জুষা
  3. সবিতা
  4. বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুবাদকাব্য হচ্ছে মণি মঞ্জুষা। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি ও ছান্দসিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি ব্যবহার করে নতুন ছন্দ সৃষ্টিই তাঁর কবিপ্রতিভার মূল কীর্তি।
- এজন্য তাঁকে সাধারণভাবে 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দের রাজা' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তাঁর ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ছন্দ-সরস্বতী প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুতে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যেন-প্রয়াণ কবিতা রচনা করেন।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১০,১৫৫.
হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1.  অনীল বাগচীর একদিন
  2. শ্যামল ছায়া
  3. সৌরভ
  4. আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা

'সৌরভ' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস 'সৌরভ'।
- উপন্যাসটি ১৯৮৪ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শফিক উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।

উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্রসমূহ হলো-
- শফিক,
- রফিক,
- কাদের,
- নেজাম,
- আজিজ সাহেব,
- শীলা,
- লুনা।

হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,১৫৬.
'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের লেখক কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
→ জননী,
→ দিবারাত্রির কাব্য,
→ পদ্মানদীর মাঝি,
→ পুতুলনাচের ইতিকথা,
→ শহরতলী,
→ চিহ্ন,
→ চতুষ্কোণ,
→ সার্বজনীন,
→ আরোগ্য প্রভৃতি;

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছোটগল্প:
→ অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
→ প্রাগৈতিহাসিক,
→ সরীসৃপ,
→ সমুদ্রের স্বাদ,
→ হলুদ পোড়া,
→ আজ কাল পরশুর গল্প,
→ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
→ ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা।
• এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,১৫৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন গ্রন্থের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' লাভ করেন?
  1. খোয়াবনামা
  2. দোজখের ওম
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

​- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য 'সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার' ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার 'আনন্দ পুরস্কার' লাভ করেন।

​-----------------------
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১৫৮.
‘সংবাদ প্রভাকর’ প্রথম কবে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৪০ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৫ সালে
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৫৯.
'আলোক বিজ্ঞান' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
তিনি বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থসমূহঃ
- সঞ্চয়ন,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরষ্কার’ এবং
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘স্বাধীনতা পুরষ্কার’ লাভ করেন।  

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,১৬০.
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' মঞ্চ নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নাটক:
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত একটি মঞ্চ নাটক। প্রথম অভিনীত হয় ২০০৪ সালের মার্চ মাসে। তারপর নিউইয়র্কে। মঞ্চ নাটকের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই এটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়েছে।

এই নাটক মঞ্চায়নে ও চলচ্চিত্রে রূপায়নে লেখককে অনেক বাধা বিঘ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক খ্যাতনামা অভিনেতা-অভিনেত্রী সরকারী রোষের ভয়ে এই নাটকে ও তার ছায়াছবিতে অভিনয়ে রাজি হননি। তবু যারা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন, তাদের কাছে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর-হত্যা নিয়ে এই নাটকটি লেখা হয়েছিল হত্যাকাণ্ডের মাত্র ঊনত্রিশ বছর পর। এই কাহিনির অধিকাংশ চরিত্র এখনো বেঁচে আছেন, ফলে লেখককে অনেক সতর্কতার সঙ্গে ঘটনাবিন্যাস ঘটাতে হয়েছে। যতদূর সম্ভব লেখক ঘটনার বাস্তব সত্যের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছেন।

উৎস: 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নাটক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
১০,১৬১.
'খােকা' ও 'রঞ্জু' মাহমুদুল হক-এর কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কালাে বরফ
  2. খেলাঘর
  3. অনুর পাঠশালা
  4. জীবন আমার বােন
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির 'খোকা' নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

 উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ,
- রহমান,
- রঞ্জু,
- ইয়াসিন,
- জাহিদুল করিম,
- খোকা প্রমুখ।

-----------------
• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
১০,১৬২.
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) নির্মলেন্দু গুন
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' মহাদেব সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। 
- এতে মোট  ৪২ টি কবিতা রয়েছে। 

- কবি সাংবাদিক মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- এই গৃহ এই সন্ন্যাস (১৯৭২)
- মানব এসেছি কাছে (১৯৭৩)
- কী সুন্দর অন্ধ (১৯৭৮)
- তোমার পায়ের শব্দ (১৯৮২)
- ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস (১৯৮৪)
- আমি ছিন্নভিন্ন (১৯৮৬)
- তোমার জন্য অন্ত্যমিল (১৯৯৬)
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল (১৯৯৬)
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া (১৯৯৭)

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
- আনন্দের মৃত্যু নেই (১৯৮৪)
- মহাদেব সাহার কলাম (১৯৯২)
- কবির দেশ ও অন্যান্য ভাবনা (১৯৯৯)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,১৬৩.
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র কোনটি?
  1. ক) ফেলুদা
  2. খ) ব্যোমকেশ বক্সী
  3. গ) কাকাবাবু
  4. ঘ) বাটুল
ব্যাখ্যা
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হল সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী।
- ১৯৩২- এ 'পথের কাঁটা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে ব্যোমকেশের আত্মপ্রকাশ। 

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-৯৭০)
- তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক।
- তাঁর জন্ম উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে নিজ মাতুলালয়ে।

তাঁর ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজ
- ব্যোমকেশের ডায়েরী
- ব্যোমকেশের কাহিনী
- ব্যোমকেশের গল্প
- দুর্গরহস্য 
- চিড়িয়াখানা
- আদিম রিপু
- বহ্নি-পতঙ্গ
- সসেমিরা
- কহেন কবি কালিদাস 
- ব্যোমকেশের ছ'টি 
- ব্যোমকেশের ত্রিনয়ন ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১০,১৬৪.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘দারিদ্র’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. বেগম
  2. সওগাত
  3. সমকাল 
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের ‘দারিদ্র’ কবিতাটি কল্লোল পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
-------------------------------------------------
'দারিদ্র্য' কবিতার খুঁটিনাটি- 
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি নজরুল ইসলামের সিন্ধুহিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। 
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘দারিদ্র্য’ কবিতার মূলভাব হলো দারিদ্র্যকে হীনতা নয়, বরং শক্তি ও মর্যাদার উৎস হিসেবে তুলে ধরা।
- কবি নিজের দারিদ্র্যকে খ্রিস্টের কণ্টক-মুকুটের সঙ্গে তুলনা করে দেখিয়েছেন যে, এই দারিদ্র্যই তাঁকে সাহসী, স্বাধীনচেতা ও তীক্ষ্ণ ভাষার অধিকারী করেছে।
- দারিদ্র্য তাঁর মধ্যে শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা জাগিয়েছে।
- এবং মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। 
- তাই কবিতাটি দুঃখের আর্তনাদ নয়।
- বরং এটি প্রতিকূলতাকে জয় করে সাম্য ও বিদ্রোহের আদর্শ প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী প্রকাশ।

 • কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- শিউলিমালা,
- বেদনার দান ও
- পদ্মগোখরা।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- আলেয়া,
- ঝিলিমিলি,
- মধুমালা ও
- পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

১০,১৬৫.
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) কবর
  2. খ) রূপাই
  3. গ) পল্লিজননী
  4. ঘ) আসমানী
ব্যাখ্যা
কবর
– জসীম উদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি দু পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!


• পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত 'কবর' কবিতাটি 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে। 

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাসমূহ হলো-
- রাখাল ছেলে,
- পল্লিজননী প্রভৃতি।

পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী,
- মা যে জননী কান্দে।

উৎস: ‘কবর’ কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১৬৬.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মোতাহার হোসেন
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট।

বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,১৬৭.
তাজকেরাতুল আওলিয়া অবলম্বনে 'তাপসমালা' কে রচনা করেন?
  1. কাজী আকরাম হোসেন
  2. শেখ আব্দুল জব্বার
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'তাজকেরাতুল আওলিয়া' অবলম্বনে ৯৬ জন মুসলিম সাধকের জীবনচরিত নিয়ে 'তাপসমালা' রচনা করেন গিরিশচন্দ্র সেন।

• গিরিশচন্দ্র সেন:
- ১৮৩৫ সালে বর্তমান নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে ।
- ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন।
- গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইসলামি সাহিত্য-সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তাজকেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত গ্রন্থ 'তাপসমালা'।
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা (১৯০৭)। এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।

- তিনি মূল ফারসি গ্রন্থ থেকে গুলিস্তাঁ ও বুস্তাঁর হিতোপাখ্যানমালা, হাদিস বা মেসকাত্ মসাবিহ (১৮৯২-৯৮), দীউয়ান-ই-হাফিজ প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ, মহাপুরুষচরিত (১৮৮২-১৮৮৭), মহাপুরুষ মোহাম্মদ ও তৎপ্রবর্তিত এসলাম ধর্ম, এমাম হাসান ও হোসায়নের জীবনী (১৯১১), চারিজন ধর্মনেতা, চারটি সাধ্বী মুসলমান নারী, খলিফাবর্গ, সবমিলিয়ে ৪২টি পুস্তক বাংলা ভাষায় রচনা ও প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,১৬৮.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নন্দিত নরকে
  2. শঙ্খনীল কারাগার
  3. আজ রবিবার
  4. দেয়াল 
ব্যাখ্যা

• হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় - আজ রবিবার।
- আজ রবিবার হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি নাটক। 

• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• আজ রবিবার;
• কোথাও কেউ নেই।

- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• জোছনা ও জননীর গল্প;
• শ্যামল ছায়া;
• ১৯৭১;
• অনীল বাগচীর একদিন;
• সৌরভ;
• আগুনের পরশমনি।

- এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে:
• দেয়াল; 
• নন্দিত নরকে;
• শঙ্খনীল কারাগার;
• লীলাবালি;
• বাদশা নামদার।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
• আগুনের পরশমণি;
• শ্রাবণ মেঘের দিন এবং
• শ্যামল ছায়া, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,১৬৯.
'বোবা কাহিনী' জসীমউদ্দীন রচিত একটি-
  1. ক) আত্মকথা
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) শিশুতোষ
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
• তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
• ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
• পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
• 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত আত্মকথাঃ
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।
• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‌লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,১৭০.
বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘তরুণের বিদ্রোহ’ এর প্রাবন্ধিক এর নাম কি?
  1. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘তরুণের বিদ্রোহ’ এর প্রাবন্ধিক এর নাম- 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকা’য় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ ও সাহিত্য;
- তরুণের বিদ্রোহ। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১৭১.
'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকার নাম কী?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) রূপাই
  3. গ) সাজু
  4. ঘ) দুলী
ব্যাখ্যা
• 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের নায়িকা - সাজু
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ই. এম. মিলফোর্ড।
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৭২.
'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনি কে রচনা করেছেন?
  1. আবুল ফজল
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালে।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৭৩.
‘পদ্মরাগ’ কি ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস- পদ্মরাগ।
- এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।

- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'।

• তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১৭৪.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বছর বয়সে চিরতরে বাকশক্তি হারান?
  1. ৪১ বছর
  2. ৪৩ বছর
  3. ৪০ বছর
  4. ৩৯ বছর
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম ৪৩ বছর বয়সে চিরতরে বাকশক্তি হারান।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’, ত্যাড়া ক্ষ্যাপা, নজর আলি, নুরু, ব্যাঙাচি।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- বাংলা সাহিত্যে মুক্তক ছন্দের প্রবর্তক।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ই ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১৭৫.
"সমাচার দর্পণ" পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনে
  4. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• "সমাচার দর্পণ" পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন - জন ক্লার্ক মার্শম্যান। তিনি পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন।
------------------------- 
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,১৭৬.
‘হিমু’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. রুমানা আফরোজ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. মমতাজউদ্দিন আহমেদ
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
•  হুমায়ুন আহমেদ:
- হুমায়ুন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) - কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

• আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক ‘প্রথম প্রহর’ (১৯৮৩, পরিচালনা- নওয়াজেস আলী খান)।
- তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:

• হিমু সিরিজ: ময়ূরাক্ষী, দরজার ওপাশে, হিমু , পারাপার, এবং হিমু , হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম, হিমুর দ্বিতীয় প্রহর, হিমুর রূপালী রাত্রি , একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা, তোমাদের এই নগরে, সে আসে ধীরে, চলে যায় বসন্তের দিন, হিমু মামা, আঙুল কাটা জগলু, হলুদ হিমু কালো র‌্যাব, আজ হিমুর বিয়ে, হিমু রিমান্ডে, হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য, হিমুর মধ্যদুপুর, হিমুর বাবার কথামালা , হিমুর নীল জোছনা, হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী, হিমুর আছে জল, হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচ.ডি বল্টু ভাই প্রভৃতি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৭৭.
আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. যে অরণ্যে আলো নেই 
  3. অরণ্য নীলিমা
  4. অরণ্য গোধূলী
ব্যাখ্যা

• 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীব রচিত 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।

উল্লেখ্য, 
- 'রাণীখালের সাঁকো' তাঁর রচিত আরেকটি উপন্যাস।

 আহসান হাবীব রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
 কাব্যগ্রন্থ:
• ছায়াহরিণ,
• সারা দুপুর,
• আশায় বসতি,
• মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
• দুহাতে দু আদিম পাথর,
• প্রেমের কবিতা,
• বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
• জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
• বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
• ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• 'বিধ্বস্ত নীলিমা' শামসুর রাহমান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
• 'অরণ্য গোধূলী' বন্দে আলী মিয়া রচিত একটি উপন্যাস।
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,১৭৮.
বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রয়ী উপন্যাসের মধ্যে নেই কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. দেবী চৌধুরাণী
  3. সীতারাম
  4. যুগলাঙ্গুরীয়
ব্যাখ্যা

- সার্থক বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস হলো :
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী ও
- সীতারাম

- পক্ষান্তরে যুগলাঙ্গুরীয় ছোট আখ্যান। কেউ বলে থাকেন নভেলা।
- বঙ্কিম এটিকে বলেছেন উপকথা। এটি একটি প্রেমকাহিনি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,১৭৯.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. সাগর পাড়ের জীবচিত্র
  4. স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা

'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,১৮০.
'হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. মাইকেল মধুসূধন দত্ত 
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• দারিদ্র্য' কবিতা ও 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:
- সিন্ধু হিন্দোল কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।
- ''দারিদ্র'' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

'দারিদ্র্য'
কাজী নজরুল ইসলাম

"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যে তিনি বিদ্রোহী কবি নামে পরিচিত। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’। 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ঝিঙে ফুল,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- নতুন চাঁদ,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্য।

১০,১৮১.
সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।

• ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালেই মধুসূদনের প্রতিভার বিকাশ ঘটে। ১৮৩৪ সালে তিনি কলেজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংরেজি ‘নাট্য-বিষয়ক প্রস্তাব’ আবৃত্তি করে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কলেজের পরীক্ষায় তিনি বরাবর বৃত্তি পেতেন। এ সময় নারীশিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

• তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

• Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

• রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলী (১৮৫৮) নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব অনুভব করেন এবং মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

• পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১০,১৮২.
'অলৌকিক স্টিমার' একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কবিতা
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন আজাদঃ লেখক ও অধ্যাপক।
তার রচিত কবিতা-
-অলৌকিক স্টিমার,
-জ্বলো চিতাবাঘ,
-সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
-কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি৷
উপন্যাস-
-ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
-সব কিছু ভেঙে পড়ে,
-কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ,
-পাক সার জমিন সাদ বাদ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

১০,১৮৩.
'The Cruel Birth Of Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আর্চার কে ব্লাড
  2. মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং
  3. অ্যালেন গিন্সবার্গ
  4. মেজর আব্দুল জলিল
ব্যাখ্যা
• 'The Cruel Birth Of Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা 'আর্চার কে ব্লাড'।

আর্চার কে ব্লাড:
- আর্চার কে ব্লাড ছিলেন একজন মার্কিন কূটনীতিক যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।
- তিনি তখন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল।
- ষাটের দশকের শুরুতেও একবার এখানে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
- সেই সূত্রে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে।

অন্যদিকে,
- মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং লিখেছেন- 'দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ'।
- অ্যালেন গিন্সবার্গ লিখেছেন- 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'।
- মেজর আব্দুল জলিল লিখেছেন- 'এ সার্চ ফর আইডেন্টিটি'।

উৎস: ওপেন লাইব্রেরী ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।
১০,১৮৪.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) জাতীয়তাবাদ
  2. খ) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
  3. গ) নারীমুক্তি
  4. ঘ) মানবতাবাদ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয়েছে ১৮০১ সাল থেকে।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, নারীমুক্তি ইত্যাদি আধুনিক যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য হলেও মানবতাবাদ প্রধান।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
১০,১৮৫.
আহসান হাবীব প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. রাত্রিশেষে
  2. সারাদুপুর
  3. ছায়া হরিণ
  4. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা

• 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি।

-----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,১৮৬.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ইন্দির ঠাকরুন
  2. হাজারি ঠাকুর
  3. ভবানী বাঁড়ুয্যে
  4. বিলু
ব্যাখ্যা
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

অন্যদিকে,
- 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো: ভবানী বাঁড়ুয্যে, তিলু, বিলু নীলু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৮৭.
'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) মামুনুর রশিদ
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশিদ। তাঁর রচিত নাটক- গিনিপিগ, ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, এখানে নোঙর ইত্যাদি। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,১৮৮.
রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে কোন উপন্যাসটিতে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. আর্তনাদ
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. জননী
ব্যাখ্যা
ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।
------------------
শওকত ওসমান: 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।
-------------
• ‘আর্তনাদ’:
- শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১৮৯.
'মানব মুকুট' সাহিত্যকর্মের লেখক -
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী: 
- শক্তিশালী প্রবন্ধলেখক হিসেবে এয়াকুব আলী চৌধুরী খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- মানব মুকুট তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে তিনি এখানে মানবজাতির সেবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখিয়েছেন।
- এয়াকুব আলীর রচনার মূল উপজীব্য ইসলামি দর্শন ও সংস্কৃতি।
- গাম্ভীর্যপূর্ণভাব, মাধুর্যপূর্ণ ভাষা ও বলিষ্ঠ বক্তব্যের সমন্বয়ে তাঁর রচনাশৈলী অনন্য।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না  উর্দু হবে এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষাকেই সমর্থন করেন।

• তাঁর প্রধান রচনা হলো:
- ‘মানব মুকুট’,
- ‘নূরনবী’,
- ‘শান্তিধারা’,
- ‘ধর্মের কাহিনি’।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।  
১০,১৯০.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা- 'বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়'। 

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।
--------------------- 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,১৯১.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কতটি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ৮ টি
  2. ১০ টি
  3. ১২ টি
  4. ২৩ টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,১৯২.
‘কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও’- কবিতাটি কোন উপন্যাসের সমাপ্তিতে পাওয়া যায়?
  1. শেষের কবিতা
  2. গোরা
  3. যোগাযোগ
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
⇒ "শেষের কবিতা" উপন্যাস:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।  

• “শেষের কবিতা” উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে ‘শেষের কবিতা’ যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।

• কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
• অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।

• ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১৯৩.
কোন পত্রিকার 'কিশোর সভা' বিভাগের সম্পাদক ছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য?
  1. দৈনিক আজাদ
  2. দৈনিক স্বাধীনতা
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,১৯৪.
নিচের কোন ব্যাক্তি দীর্ঘদিন 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন
- দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ।

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ-
- ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।

• আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১৯৫.
'বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প' গ্রন্থের রচয়িতা : 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 
----------------------
• 'বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প' গ্রন্থ: 
- বিন্দুর ছেলে, রামের সুমতি, পথনির্দেশ এই তিনটি গল্পের সংকলন এই গ্রন্থ।
- এই গল্পগুলি 'যমুনা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রত্যেকটি গল্পে শরৎচন্দ্রের আখ্যান রচনার স্বাভাবিক নৈপুণ্য আছে ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।
-----------------
তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
১০,১৯৬.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক ভেঙে রবীন্দ্রনাথের রচিত নাটক-
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. পরিত্রাণ
  3. বিসর্জন
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক :
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। 
- নাটকটি পঞ্চাঙ্কের। 
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,১৯৭.
হাস্যরসাত্মক 'আয়না' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আনিসুল হক
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'আয়না' গল্পগ্রন্থ: 
- হাস্যরসাত্মক গল্পের সমাহারে আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ 'আয়না' ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- হুযুর কেবলা, গো-দেওতা-কা দেশ, নায়েবে নবী, লীডরে কওম, মুজাহেদীন, বিদ্রোহী সংঘ, ধর্মরাজ্য-এই সাতটি গল্প রয়েছে বইটির মধ্যে।
- যার মধ্যে 'বিদ্রোহী সংঘ' ছাড়া বাকি সবগুলো গল্পেই ধর্মান্ধ ও ধর্মব্যবসায়ী কয়েকটি চরিত্রকে তীব্র ব্যঙ্গবাণে জর্জরিত করা হয়েছে।
-'বিদ্রোহী সংঘ' গল্পে ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য- সমাজ' কে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে যে, তারা আত্মিক স্বাধীনতা বা আনন্দের জন্য উচ্চকণ্ঠ, কিন্তু দেশের পরাধীনতা নিয়ে মৌনব্রত পালন করে। 'আয়না' গ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- তিনি লিখেছেন : 'যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমের মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা

আবুল মনসুর আহমদ:

- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,১৯৮.
ঋত্বিক ঘটক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করেন?
  1. ক) অপরাজিত
  2. খ) পথের পাঁচালী
  3. গ) ইছামতী
  4. ঘ) অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
ঋত্বিক ঘটক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অশনি সংকেত (১৯৫৯) উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করেন। তার প্রথম রচিত উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)। অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খন্ড। ইছামতী (১৯৪৯) উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১০,১৯৯.
'Henry Wadsworth Longfellow' এর 'A Psalm of Life' অবলম্বনে কবিতা রচনা করেছেন কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'জীবন সঙ্গীত' কবিতাটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কবিতা।
- কবিতাটি মার্কিন কবি 'Henry Wadsworth Longfellow' এর 'A Psalm of Life' শীর্ষক ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ।
-------------
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়(১৮৩৮-১৯০৩)  
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ চিন্তাতরঙ্গিণী ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে বৃত্রসংহার (২ খন্ড, ১৮৭৫-৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে। 
- হেমচন্দ্রের অপর বিশিষ্ট কাব্য
- বীরবাহু কাব্য (১৮৬৪)
- আশাকানন (১৮৭৬),
- ছায়াময়ী (১৮৮০),
- দশমহাবিদ্যা (১৮৮২),
- চিত্তবিকাশ (১৮৯৮) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,২০০.
'তরজা' কী?
  1. ক) শ্যামা সঙ্গীত
  2. খ) কথা সাহিত্য
  3. গ) পল্লিসঙ্গীত
  4. ঘ) এক প্রকার বচন
ব্যাখ্যা
'তরজা' প্রচলিত পল্লিসঙ্গীত।
- প্রশ্নোত্তরমূলক একপ্রকার লোকগীতি।
- পরিবেশনার পদ্ধতি কবিগানের অনুরূপ।
- তবে এর বিষয় ও ব্যাপ্তি কবিগানের চেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত।
- বাংলায় তরজা গানের প্রচলন ছিল প্রাচীনকাল থেকেই, তবে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে মধু ঠাকুর ও তারক পাল নামে দুই কবিয়াল এ গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।