বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০১ / ১৭৪ · ১০,০০১১০,১০০ / ১৭,৪৩৭

১০,০০১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
  2. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  3. কী চাহ শঙ্খচিল
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
• ‘ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে’ কাব্যগ্রন্থ:
‘ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে’ জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
‘তুজম্বর আলি’ ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।
কবি জসীম উদ্‌দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন। রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- বঙ্গ-বন্ধু,
- কি কহিব আর,
- খবর,
- দগ্ধগ্রাম
- মুক্তি-যোদ্ধা,
- হবে হবে জয়
- স্বাধীনতার দিনে
- জাগায়ে তুলিব আশা
- Dedication,
- The last poem for you,
- Where is Mina?,
- Freedom Fighter,
- A Poet's Appeal,
- The Chariot of Dhamrai
- দিলরাশ বানুর কাহিনী
- মুক্তিযোদ্ধা মোফাখখর হোসেন
- শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। 

অন্যদিকে,
• সরদার জয়েনউদ্দীনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপাদানে রচিত একটি বৃহৎ উপন্যাস ‘বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ’। 
• মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত 'কী চাহ শঙ্খচিল' হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• সেলিনা হােসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬)।

উৎস: ‘ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে’ কাব্যগ্রন্থ কবি জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০০২.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০০৩.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসে সমাজের কোন বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে?
  1. ক) আবদুল্লাহ নামক এক তরুণের জীবন সংগ্রাম
  2. খ) কৃষকের জীবনের করুণ চিত্র
  3. গ) বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা
  4. ঘ) মজুতদারদের শোষণ
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' - উপন্যাসটির রচয়িতা কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো।
- ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্‌' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০০৪.
''সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।'' - উক্তিটি কার?
  1. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ''সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।'' - উক্তিটি করেছেন- প্রমথ চৌধুরী।
- উক্তিটি তিনি তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বলেছেন
- 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধটি 'প্রবন্ধসংগ্রহ' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০০৫.
"ওরে প্রাণের বাসনা  প্রাণের আবেগ
রুধিয়া রাখিতে নারি।"
- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
"ওরে প্রাণের বাসনা  প্রাণের আবেগ
রুধিয়া রাখিতে নারি।"
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ঝরে স্বপ্নভঙ্গ কবিতার চরণ।
১০,০০৬.
’বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন’ কিশোর উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. মাহমুদুল হক
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার  কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা।
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- পৃথিবীজোড়া গান
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভুষার কাব্য,
- নিশি কাব্য;
- কামকানন;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০০৭.
’সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'সন্দেশ' পত্রিকা:
⇒ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

• সুকুমার রায়:

- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০০৮.
'খোয়াবনামা' উপন্যাসটির অন্যতম মূল বিষয়বস্তু হলো -
  1. ক) ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) বঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭): তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক।
তাঁর রচিত উপন্যাসঃ উনসত্তরের (১৯৬৯) গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘চিলে কোঠার সেপাই’ (১৯৮৭)।
তাঁর রচিত আরেকটি উপন্যাস ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬)। উপন্যাসটির বিসষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্য সহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিখুঁতভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০০৯.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত “নুরুলদীনের সারাজীবন” কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু কি?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) কৃষক বিদ্রোহ
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য: 
- 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- ১৭৮৩ এর কৃষক আন্দোলনের বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০১০.
ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- রামমোহনের ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা মৌলিক হলেও তা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম দ্বারা খানিকটা প্রভাবিত হয়েছিল।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,০১১.
জসীমদ্‌দীন রচিত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. ধানক্ষেত
  3. বালুচর
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা
• জসীমদ্‌দীন রচিত 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি ধানক্ষেত কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।
 
• জসীমউদ্দীন:
- জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 

• ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 
নিমন্ত্রণ, 
– জসীম উদ্‌দীন। 

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়।

উৎস: ধানখেত, জসীমউদ্‌দীন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।।
১০,০১২.
একটানা এগারো বছর সার্থকতার সঙ্গে 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- 
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হিরণ্ময়ী দেবী
  4. সরলা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'ভারতী' পত্রিকা:
'ভারতী' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)। ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)। তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর পরবর্তী সময়ে স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত টানা এগারো বছর পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিয়মিত প্রকাশনা, সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষা রক্ষা এবং পত্রিকার গুণগত মান বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তাঁর দক্ষ সম্পাদনার ফলে ‘ভারতী’ পত্রিকাটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে তিনি আবার ১৩১৫–১৩২১ বঙ্গাব্দে ৭ বছর সম্পাদনা করেন (মোট ১৮ বছর)।

১৩০২-১৩০৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সময়ে হিরণ্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী যৌথভাবে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এক বছর (১৩০৫ বঙ্গাব্দ) ভারতী-র সম্পাদক ছিলেন।

সরলা দেবী ১৩০৬-১৩১৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নয় বছর পত্রিকাটির একক-সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তী ১৩৩১ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক পর্যন্ত সরলা দেবীকে পুনরায় তিন বছর পত্রিকাটির দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়েছিল। 

১৩৩৩ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ভারতী পত্রিকাটি প্রকাশনার সর্বমোট পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ত্রিশ বছরেরও অধিক নারী কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১০,০১৩.
'সাম্য' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থ:
- 'সাম্য' (১৮৭৯) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত — প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'বঙ্গদর্শনে' প্রকাশিত 'সাম্য' বিষয়ক তিনটি এবং 'বঙ্গদেশের কৃষক' প্রবন্ধের কিছু অংশ নিয়ে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ইউরোপীয় সাম্যচিন্তার ধারার ইতিহাস এখানে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। এই গ্রন্থে বঙ্কিমচন্দ্রের সমাজ ও অর্থনৈতিক প্রগতিশীল চিন্তা প্রকাশিত।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০১৪.
মীর মশাররফ হোসেন জন্মগ্রহণ করেন কোন জেলায়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. মানিকগঞ্জ
  3. ঢাকা
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- সে ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০১৫.
ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করেন কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) আবুল হুসেন
  4. ঘ) আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
 আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।

 তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নামঃ
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

- বাংলার বলশী গ্রন্থে তিনি কৃষকদের দুঃখ দুর্দশা চিহ্নিত করে তাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয় তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র শিখা সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
১০,০১৬.
চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে ষষ্ঠকে থাকে-
  1. উপসংহার
  2. ভাবের প্রবর্তনা
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  4. ভাবের পরিণতি
ব্যাখ্যা
• চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে ষষ্ঠকে থাকে- ভাবের পরিণতি। 
-------------------
• সনেট (Sonnet):
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে।
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্ঠকে ভাবের পরিণতি থাকে।
- বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতার জনক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০১৭.
'একক সন্ধায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• সৈয়দ আলী হাসান:
- সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০১৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কখন মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৯৭২ সালের ২৪ মে
  2. ১৯৭৪ সালের ২৮ আগস্ট
  3. ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট
  4. ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- জন্ম: ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ, চুরুলিয়া গ্রাম, আসানসোল।
- ছেলেবেলা: লেটো গানের দলে যোগ।
- শিক্ষা: ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুল, বর্ধমান ও ময়মনসিংহ।
- ১৯১৭: সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ, করাচি যাত্রা।
- মর্যাদা: ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।
- দুরারোগ্য রোগ: চল্লিশ বছর বয়সে বাকশক্তি হারান।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,০১৯.
সুফিয়া খাতুন রচিত ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে' একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) আত্মজীবনী
  4. ঘ) গবেষণাপত্র
ব্যাখ্যা
সুফিয়া খাতুন:
সুফিয়া খাতুন জন্ম মে ১৯২২ সালে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে। এই বিদুষী সংগ্রামী নারী সারাজীবন সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করেছেন। তারই প্রকাশ ঘটেছে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে' (২০০৫)-এ।
- শিশুদের জন্য রচনা করেছেন ‘সােনা ঝরা দিন’ (২০০৬)।
- দীর্ঘ তিন যুগ ধরে তাঁর পরিচিত পরিবেশ এবং নিকটজনদের নিয়ে কিছু সরস ও সহজবােধ্য কবিতা রচনা করেছেন। সেগুলাে মলাট বন্দি করেছেন ‘আপন ভুবন’ নামক কাব্যগ্রন্থে।
- জীবনের মনোরম দিনগুলি কাটিয়েছে প্রবাসী সন্তানদের সঙ্গে ইউকে ও ইউএসএ-তে। তারই দিনলিপির খসড়া প্রণয়ন ‘প্রবাসের প্রাপ্তি’।
- গ্রন্থটি ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। 
- ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ তিনি  মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ‘জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে', সুফিয়া খাতুন।
১০,০২০.
'এদেশের বুকে আঠারাে আসুক নেমে।'- কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে কবি আঠারাে প্রত্যাশা করেছেন।
i) উদ্দীপনা ii) সেবাব্রত iii) সাহসিকতা iv) চলার দুর্বার গতি
  1. ক) i, ii, iii ও iv
  2. খ) iv
  3. গ) i ও ii
  4. ঘ) ii ও iii
ব্যাখ্যা

তরুণদের দুর্বার উদ্দীপনা, দুর্যোগেও হাল না ছাড়া, সবার তরে নিজেদেরকে বিলিয়ে দেওয়ার ব্রত, অসম সাহসিকতা এবং চলার দুর্বার গতির জন্যই কবি চেয়েছেন যেন এ দেশের বুকে আঠারো নেমে আসে।

নিচে সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি দেওয়া হলোঃ    

আঠারো বছর বয়স
- সুকান্ত ভট্টাচার্য---ছাড়পত্র

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।

আঠরো বছর বয়স ভয়ঙ্কর
তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা,
এ বয়সে প্রাণ তীব্র আর প্রখর
এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা।

আঠারো বছর বয়স যে দুর্বার
পথে প্রান্তরে ছোটায় বহু তুফান,
দুর্যোগে হাল ঠিক মতো রাখা ভার
ক্ষত-বিক্ষত হয় সহস্র প্রাণ।

আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে
অবিশ্রান্ত; একে একে হয় জড়ো,
এ বয়স কালো লক্ষ দীর্ঘশ্বাসে
এ বয়স কাঁপে বেদনায় থরোথরো।

তব আঠারোর শুনেছি জয়ধ্বনি,
এ বয়স বাঁচে দুর্যোগে আর ঝড়ে,
বিপদের মুখে এ বয়স অগ্রণী
এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে।

এ বয়স জেনো ভীরু, কাপুরুষ নয়
পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে,
এ বয়সে তাই নেই কোনো সংশয়-
এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।

১০,০২১.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. সওগাত
  3. ধানশালিকের দেশ
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে-

১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা: গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

২. উত্তরাধিকার: মাসিক পত্রিকা। এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

৩. ধানশালিকের দেশ: ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা: ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল: ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৬. বার্তা: একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

অন্যদিকে, 
----------------
• 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।

• 'সওগাত' পত্রিকা ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

•  'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০২২.
'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক - 
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. শওকত ওসমান
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্‌দার আবু জাফর

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১০,০২৩.
'নগেন্দ্রনাথ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. মৃণালিনী
ব্যাখ্যা
'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ
- কৃষ্ণকান্তের উইল - চরিত্র রোহিনী, ভ্রমর, গোবিন্দলাল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০২৪.
সূর্যমুখী চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) দুর্গেশনন্দিনী
  2. খ) মৃণালিনী
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক এবং বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
• তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
• 'কমলাকান্ত' তাঁর ছদ্মনাম।
• ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৫৬) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস।

• 'বিষবৃক্ষ' তাঁর একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা- বিধবা বিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা।
- বিষবৃক্ষের প্রধান চরিত্রসমূহ: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী
- এই উপন্যাসের নায়িকা বিধবা কুন্দনন্দিনীর চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যার ছায়া অবলম্বনে রচিত হয় বলে জানা যায়

বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- দুর্গেশনন্দিনী
- কপালকুণ্ডুলা 
- মৃণালিনী
- বিষবৃক্ষ
- ইন্দিরা
- কৃষ্ণকান্তের উইল
- রাজসিংহ ইত্যাদি
 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।।
১০,০২৫.
স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক ইত্তেফাক
  2. দৈনিক গণকণ্ঠ
  3. দৈনিক বাংলার বাণী
  4. দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন। এই পত্রিকাটি ১৯৭২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হওয়া শুরু হয় এবং তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০২৬.
অবাঙালি কর্তৃক রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
  3. করুণা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• অবাঙালি কর্তৃক রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - 'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ'।

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ:
- হ্যানা ক্যাথারিন ম্যালেন্স একজন খ্রিস্টান বিদেশিনী। জন্মগ্রহণ করেছেন কলকাতায়। ভবানীপুর মিশন স্কুলের ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাতেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস রচনায় প্রাথমিক চেষ্টা করেছিলেন।

'ফুলমণি ও করুণার বিবরণ' (১৮৫২) তাঁর উপন্যাস রচনার প্রাথমিক চেষ্টা। এটি The Last day of the week অবলম্বনে রচিত। খ্রিস্ট ধর্মের মাহাত্ম প্রচারের জন্য এ গ্রন্থ রচনা করেছেন। খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করায় ফুলমণির সুখ এবং যথার্থ খ্রিস্ট ধর্মাচরণ না করায় করুণার দুঃখ ভোগ, পরে মেম সাহেবের ঈশ্বর প্রেরিত সুপরামর্শে করুণার সুমতি ও সুখের সুদর্শন এ গ্রন্থের মূল কাহিনী।

অন্যদিকে,
• "আলালের ঘরের দুলাল" (১৮৫৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে সেটা ছিল এক বাঙালির রচনা (প্যারীচাঁদ মিত্র, টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে)।
 
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।

উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত — সুকুমার সেন।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা — ড. সৌমিত্র শেখর।
- লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,০২৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাাস নয় কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. ললিতা তথা মানস
ব্যাখ্যা
• 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০২৮.
'চাচা কাহিনী' গ্রন্থের লেখক-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০); উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম; রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,০২৯.
"যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।" — উক্তিটি কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী'র বিখ্যাত কিছু উক্তি:

- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালিই পড়ে। (ভাষার কথা)।
- আনন্দের ধর্ম এই যে তা সংক্রামক।
- সাহিত্যে মানবত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
- যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।

প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৩০.
হুমায়ুন আজাদের 'ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল' - কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৯৯
  2. ১৯৯৪
  3. ১৯৭৬
  4. ১৯৯০
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল'।
- ১৯৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- রাশেদ।
----------------------- 
• হুমায়ুন আজাদ:
হুমায়ুন আজাদের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের কামারগাঁয়ে নানা বাড়িতে। ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট তিনি জার্মানিতে মৃত্যুবরণ করেন।
- ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’।
- তার প্রথম উপন্যাস 'ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল', যা ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
-  ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস),
- পাক সার জমিন সাদ বাদ, 
- একটি খুনের স্বপ্ন, 
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩১.
'‘আহুতি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘আহুতি’ প্রমথ চৌধুরী রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩২.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্য কোনটি?
  1. বন্দি শিবির থেকে
  2. গীতিগুচ্ছ
  3. পূর্বাশা
  4. গীতি সঞ্চয়ন
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ - 'গীতিগুচ্ছ'। 
---------------------- 
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।
-----------------------
অন্যদিকে,
• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ - গীতি সঞ্চয়ন।
• 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা: 'শামসুর রাহমান'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৩.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. মহাশ্মশান
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

অন্যদিকে,
• বিষাদসিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিষাদসিন্ধু।
- কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনাই এর মূল উপজীব্য।
- এর প্রধান চরিত্র হচ্ছে এজিদ।

• 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৪.
'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' কোন গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. ভাগবত
  2. রামায়ণ
  3. মহাভারত
  4. হোমারের ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
• "তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য":
- "তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য" মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাংলা ভাষায় প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যটি চার সর্গে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।

উল্লেখ্য,
কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৩৫.
"সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষলেখা' কাব্যের রূপনারানের কূলে- কবিতার অন্তর্গত। 

• 'শেষলেখা' কাব্য: 
- 'শেষ লেখা' হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪১ খ্রীস্টাব্দে তাঁর মৃৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"-এর অন্তর্গত সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- এতে সর্বমোট পনেরোটি কবিতা রয়েছে।
- এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ করে যেতে পারেন নি। 
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎপ্রীতি প্রকাশিত। 
- এই কাব্যগ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা- রূপনারানের কূলে। 

রূপনারানের কূলে- কবিতা,

রূপনারানের কূলে
জেগে উঠিলাম,
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।
রক্তের অক্ষরে দেখিলাম
আপনার রূপ,
চিনিলাম আপনারে
আঘাতে আঘাতে
বেদনায় বেদনায় ;
সত্য যে কঠিন,
কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,
সে কখনো করে না বঞ্চনা।
আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন,
সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,
মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।

উৎস: শেষলেখা কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৩৬.
‘একাত্তরের নয় মাস’ প্রবন্ধটি কার রচনা?
  1. শওকত ওসমান
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘একাত্তরের নয় মাস’ রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক প্রবন্ধ।

⇒ রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।

উৎস: ‘একাত্তরের নয় মাস’ প্রবন্ধ রাবেয়া খাতুন।
১০,০৩৭.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) স্বপ্নদর্শন
  2. খ) চোরাবালি
  3. গ) নবান্ন
  4. ঘ) অভিযাত্রিক
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- জনপদ, মরাচাঁদ, কলঙ্ক, অবরোধ, গোত্রান্তর। স্বপ্নদর্শন কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিহারীলাল চক্রবর্তী। অভিযাত্রিক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। চোরাবালি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,০৩৮.
‘শোন একটি মুজিবরের থেকে' গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) অংশুমান রায়
  2. খ) আপেল মাহমুদ
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের এপ্রিলে শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটির প্রেক্ষিতে  আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে বাজানো হয়েছিল একটি গান।
- গানটা ছিল ''শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি... বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।''
- গীতিকার: গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
- সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী: অংশুমান রায়
- সঙ্গীতায়োজন: দীনেন্দ্র চৌধুরী
 
এর একটা ইংরেজি অনুবাদও হয়েছিল: A Milliion Mujiburs Singing নামে।
 
উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট, বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ। 


১০,০৩৯.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তীর সৃষ্টি?
  1. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  2. পুষ্পিত ইমেজ
  3. অর্কেস্ট্রা
  4. অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
⇒ অমিয় চক্রবর্তী:  
→ তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
→ অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। 
→ তিনি ত্রিশের দশকের কবি হিসেবে পরিচিত।   
→ অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে (ব্যক্তিগত সচিব) এসেছিলেন।
→ তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'।     

⇒ তাঁর বিশেষ কাব্যগ্রন্থগুলো:    
• খসড়া, 
• এক মুঠো, 
• মাটির দেয়াল, 
• পারাপার, 
• পালাবদল, 
• ঘরে ফেরার দিন, 
• পুষ্পিত ইমেজ, 
• অনিঃশেষ, 
• অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।  
→ বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪০.
'হরগজ' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'হরগজ' নাটক:
- মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ নামক স্থানে ১৯৮৯ সালে সংঘটিত প্রলয়সদৃশ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে সেলিম আল দীন এ নাটক লিখেন। 
- টর্নেডো-পরবর্তী সর্বপ্রথম উদ্ধারপর্বে একটি ত্রাণের দলের দেখা প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের নানান স্তরে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার অভূতপূর্ব চিহ্ন এ নাটকের উপজীব্য ।
- এতে প্রায় আণবিক বিস্ফোরণকল্প ঝড়ের অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রমণ শেষাবধি যেন হয়ে ওঠে আকৃতির জগত থেকে নিরাকৃত বিশ্বে অভিপ্রয়াণ।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,০৪১.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান বলে গণ্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৪২.
'কথোপকথন' গ্রন্থটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
'কথোপকথন' গ্রন্থ:
- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা- 'উইলিয়াম কেরী'।
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। এ গ্রন্থের ঐতিহাসিক মূল্য প্রচুর।

উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ:
- কথোপকথন,
- ইতিহাসমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪৩.
'দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি স্তনে।' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বিহারীলাল
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার চরণ- ''বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে, কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে, দুগ্ধস্রোতোরূপী তুমি মাতৃভূমি স্তনে।''
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০,০৪৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪৫.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. যুগসন্ধিক্ষণের কবি
  2. 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেছেন
  3. তাঁর ছদ্মনাম যাযাবর
  4. 'সংবাদ রত্নাবলী' সম্পাদনা করেছেন
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- ছদ্মনাম: ভ্রমণকারী বন্ধু
- উপাধি : যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি, সাংবাদিক কবি।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্তের সাহিত্যকর্ম:
- প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) এবং হিত প্রভাকর (১৮৬১), এটি গদ্যে-পদ্যে লেখা গল্প।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতা:
- স্বদেশ,
- নীলকর,
- আনারস,
- পাঁঠা,
- তপসে মাছ,
- কে,
- বাঙালির মেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪৬.
বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব কবিদের একজন নন-
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অতুল প্রসাদ সেন
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের ৫ জন বিখ্যাত কবিকে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়।
• তাঁরা হলেনঃ
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,০৪৭.
'কিত্তনখোলা' নাটকে কোন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়?
  1. ময়মনসিংহ
  2. সিলেট
  3. মানিকগঞ্জ
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
• 'কিত্তনখোলা' নাটক:
- 'কিত্তনখোলা' নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন। তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম এটি।
- 'কিত্তনখোলা' রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।

- 'কিত্তনখোলা' হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত। লেখকের ভাষায় -কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

- 'কিত্তনখোলা' নাটকে বিশাল পটভূমিকায় মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় গ্রামীণ জীবনের একটি বিস্তারিত চিত্র প্রতিফলিত। বর্ণনাত্মক শিল্পরীতির প্রয়োগে এ নাটকটি শিল্পের একটি মহৎ জায়গায় পৌঁছে যায়-পায় এক ভিন্ন মাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কিত্তনখোলা' নাটক।
১০,০৪৮.
জেলেজীবন কেন্দ্রিক 'গঙ্গা' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. জহির রায়হান 
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।

- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি। সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।

- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।

- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৪৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন উপন্যাসটি লিখেছেন?
  1. অনুবর্তন
  2. ইন্দিরা
  3. যাত্রাবদল
  4. বহ্নিবলয়
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুবর্তন‘ উপন্যাসটি লিখেছেন।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক। 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ রচনা। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অনুবর্তন;
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস- বহ্নিবলয়।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- ইন্দিরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫০.
‘বউ ঠাকুরাণীর হাট’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে—
  1. পদ্মাবতী
  2. কাদম্বিনী
  3. মৃণালিনী দেবী
  4. সৌদামিনী দেবী
ব্যাখ্যা
'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাস হলো 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস।
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য ও বাকলার জমিদার রামচন্দ্রের বিবাদকে উপজীব্য করে রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে বৌ-ঠাকুরাণীর হাট অবলম্বনে রচিত হয় রবীন্দ্রনাথের 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকটি।
- প্রায়শ্চিত্ত ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে পুনর্লিখিত হয়ে ‘পরিত্রাণ' নামে মুদ্রিত হয়।
- সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের প্রশংসা করেছেন।
- ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫৩ সালে ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট' নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন নরেশ মিত্র।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩. বউ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১০,০৫১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কবিকাহিনী’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মিত্রাক্ষর ছন্দ
  2. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ  
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথের 'কবিকাহিনী' কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
-------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ প্রতিভা ও সর্বসাধারণের প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন।
- তিনি ছিলেন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, উপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীতরচয়িতা, সুরস্রষ্টা, গায়ক, চিত্রশিল্পী, অভিনেতা, সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৭৮ সালে ইংরেজি সাহিত্যের পাঠের উদ্দেশ্যে তিনি প্রথম ইংল্যান্ড যান।
- তিনি ১৮৮৪ সালে ব্রাহ্মসমাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু কাব্যগ্রন্থের নাম:
- কবিকাহিনী, বনফুল, ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা, ক্ষণিকা, গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য, খেয়া, বলাকা, মহুয়া, পূরবী, পুনশ্চ, শেষ সপ্তক, স্ফুলিঙ্গ, ছড়ার ছবি, শেষ লেখা ইত্যাদি।
------------------------------- 
'কবিকাহিনী' কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিকাহিনী। 
- ১৮৭৮ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৬ বছর।
- এটি গাথাকাব্যটি প্রায় ৫৩ পৃষ্ঠার ছিল।
- গ্রন্থের কবিতাগুলো মূলত ভারতী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হত।
- ধারনা করা হয় কবি নিজেই এই কাব্যটির নায়ক।
- কাব্যটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত; 
- তবে বিন্যাস প্রধানত পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের ছিল।
- গ্রন্থে প্রধানত কবির কিশোর বয়সের সময় এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।
------------------------ 
নোট: যদিও অনেকেই বনফুল (১৮৮০) কাব্যগ্রন্থকে প্রথম মনে করেন, তথ্যমতে কবিকাহিনীই তাঁর প্রথম মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১০,০৫২.
’কমল' চরিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. শ্রীকান্ত
  2. শেষ প্রশ্ন
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. পরিণীতা
ব্যাখ্যা
• ‘শেষ প্রশ্ন’:
- ‘শেষ প্রশ্ন’ শরৎচন্দ্রের, লেখা সবচেয়ে পরিবর্তন আনয়নকারী উপন্যাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
- এটি একটি বিতর্কপ্রধান ও সমসমস্যামূলক উপন্যাস।
- ১৯৩১ সালে প্রথম প্রকাশের পর বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি হয় সংরক্ষনশীল সমালোচকদের দ্বারা।
- তবে সাধারণ পাঠক বিশেষত মহিলা পাঠকদের অত্যুৎসাহী সমর্থন লাভ করে। শেষ প্রশ্ন সময়কে ছাপিয়ে সকল বয়সের পাঠকদেরই হৃদয়কে স্পর্শ করে।
- কাহিনীর নায়িকা ’কমল’ সময়ের হিসাবে একটি  ব্যতিক্রমী চরিত্র।
- নিজ জীবনের নিয়ন্ত্রিতা সে, বহু পুরুষের তার সম্পর্ক, দারিদ্র্যর ক্লেশ তার চেহারায় ছাপ ফেলেছিল, আগ্রার বাঙ্গালী সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে তার চরিত্র চিত্রিত করেছেন লেখক।
- কমল চরিত্রের মধ্যে দিয়ে লেখক সমগ্র ভারতীয় সনাতন রীতি-নীতি, স্বাদেশীকতা, নারীত্ববাদকে প্রশ্নের সম্মুখীন তুলে ধরেছেন।
---------------------------------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৫৩.
'চাচা কাহিনী'র লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ ছাত্রদের নিয়ে রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ 'চাচা কাহিনী' রচনা করেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ভ্রমণকাহিনীঃ দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০); উপন্যাসঃ অবিশ্বাস্য, শবনম; রম্যরচনাঃ পঞ্চতন্ত্র উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৪.
'অ্যা গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল লেঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

'অ্যা গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল লেঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,০৫৫.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' - কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• দাউদ হায়দার রচিত কাব্যগ্রন্থ 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ'।

দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৫৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্য্য কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ১৯৪৫ সালে
  2. খ) ১৯৪৬ সালে
  3. গ) ১৯৪৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৭.
‘ভ্রমি দেশে দেশে’ ভ্রমণ কাহিনিটির রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।

⇒ নির্মলেন্দু গুণ: 

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
১০,০৫৮.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. জলাঙ্গী
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
উপন্যাস -
জননী (১৯৫৮), ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২), সমাগম (১৯৬৭), চৌরসন্ধি (১৯৬৮), রাজা উপাখ্যান (১৯৭১), পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫), রাজপুরুষ (১৯৯২)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
উপন্যাস -
জননী (১৯৫৮), ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২), সমাগম (১৯৬৭), চৌরসন্ধি (১৯৬৮), রাজা উপাখ্যান (১৯৭১), পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫), রাজপুরুষ (১৯৯২)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,০৫৯.
‘অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, পশ্চিমের যাত্রী, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ, ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,০৬০.
কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) আলতাচক্র
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) কাবিলের বোন
  4. ঘ) আয়না
ব্যাখ্যা
কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। 
- এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 

'আলতাচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস। 
'কাবিলের বোন' কবি আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস। 
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৬১.
‘আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই' গানটির গীতিকার-
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. প্রতুল মুখোপাধ্যায়
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা
‘আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই' গানটির গীতিকার- 'প্রতুল মুখোপাধ্যায়'।

‘আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই'- 
--------------- প্রতুল মুখোপাধ্যায়। 

আমি বাংলায় গান গাই,আমি বাংলার গান গাই
আমি আমার আমিকে চিরদিন-এই বাংলায় খুঁজে পাই
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়া ভরা পথে, হেঁটেছি এতটা দূর
বাংলা আমার জীবনানন্দ, বাংলা প্রাণের সুখ
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ॥

আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
আমি সব দেখেশুনে খেপে গিয়ে-করি বাংলায় চিৎকার
বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান, ক্ষিপ্ত তীর ধনুক
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ॥

আমি বাংলায় ভালোবাসি, আমি বাংলাকে ভালোবাসি
আমি তারই হাত ধরে সারা পৃথিবীর-মানুষের কাছে আসি
আমি যা কিছু মহান বরণ করেছি বিনম্র শ্রদ্ধায়
মিশে তেরো নদী, সাত সাগরের জল গঙ্গায়-পদ্মায়
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল, তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ॥

 --------------------- (সংক্ষেপিত)। 
তাছাড়া, 
- গোবিন্দ হালদার একটি ফুলকে বাচাবো বলে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্বদিগন্তে সূর্য উঠেছে প্রভৃতি গানের রচয়িতা।
- সব কটা জানালা খুলে দাও না গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।
- জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি সিকান্দার আবু জাফর রচিত।
- সালাম সালাম হাজার সালাম গানটি ফজলে এ খোদা রচিত।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা : গান, দৈনিক ভোরের কাগজ, ৩০ মে ২০১৯, দৈনিক প্রথম আলো, ‘আমি বাংলার গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই'- গান।
১০,০৬২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে আনোয়ার পাশার রচিত গ্রন্থ-
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. আগুনের পরশমণি
  3. রাইফেল-রোটি-আওরাত
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
• আনোয়ারপাশা:
- তিনি একজন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নীড় সন্ধানী.
- নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- রাইফেল-রোটি-আওরাত (১৯৭৩

অন্যদিকে,
- সৈয়দ শামসুল হকের রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস "নিষিদ্ধ লোবান।
- আল মাহমুদের রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস " উপমহাদেশ।
- ’আগুনের পরশমণি’  হুমায়ূন আহমেদ-এর  মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৬৩.
নিচের কোনটি জহির রায়হানের রচনা?
  1. সংশপ্তক
  2. বরফ গলা নদী
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 

• ‘বরফ গলা নদী’ জহির রায়হান রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৩৭৬ বঙ্গাব্দে 'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 

জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

অন্যদিকে,
- সংশপ্তক- শহীদুল্লাহ কায়সার।
- ক্রীতদাসের হাসি- শওকত ওসমান।
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি- সেলিনা হোসেন।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১০,০৬৪.
সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনী অবলম্বনে করে উঠেছে কোনটি?
  1. পল্লীসমাজ
  2. লীলাবতী
  3. জামাই বারিক
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনী অবলম্বনে করে উঠেছে সধবার একাদশী (প্রহসন) নাটকটি ।
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র ।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক ।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল ।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত ।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র ;নিমচাঁদ ও কেনারাম ।

- তার রচিত নীলদর্পণ নাটকটি বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক তার রচিত প্রহসন ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৬৫.
'নেমেসিস' নাটকটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. কল্লোল
  3. লাঙল
  4. কালিকলম
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন।
- এটি 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
-  যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৬৬.
শওকত ওসমান রচিত গল্প কোনটি?
  1. সততার পুরস্কার
  2. তোলপাড়
  3. আকাশ
  4. মিনু
ব্যাখ্যা
•‘তোলপাড়'  শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গল্প। 
- "তোলপাড়" গল্পটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।
- গল্পে গ্রামের ছেলে সাবু এবং তার মা জৈতুন বিবি শহর থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের সাহায্য করে।
- পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে সাবু উত্তেজিত হয়।
- সে এবং তার মা মুড়ি ও পানি দিয়ে শরণার্থীদের সাহায্য করে।
- এক প্রৌঢ় নারী সাবুকে টাকা দিতে চান, কিন্তু সাবু তা নেয় না, কারণ তার মা তাকে বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করতে শিখিয়েছেন।
- শেষে সাবু একটি বিধবা পরিবারকে নদীর ঘাট পর্যন্ত সাহায্য করে, যাদের তিন ছেলেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা করেছে।
- গল্পটি যুদ্ধের ভয়াবহতা, মানবিকতা এবং মানুষের সংগ্রামের গভীর চিত্র তুলে ধরে।
---------------------------------------------------------
• শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য

অন্যদিকে,
’সততার পুরস্কার’ গল্পটির রচিতা - মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
’মিনু’ গল্পটির রচিতা - বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। ‘
’আকাশ’ গল্পটির রচিতা - আব্দুল্লাহ আল-মুতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ৬ষ্ঠ শ্রেণি বাংলা পাঠ্য বই।
১০,০৬৭.
ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- রামমোহনের ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা মৌলিক হলেও তা ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম দ্বারা খানিকটা প্রভাবিত হয়েছিল।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৬৮.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আহসান হাবীব
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচনা করেন।
- 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে।
- গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৬৯.
শওকত ওসমান রচিত 'জাহান্নম হইতে বিদায়' একটি-
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. রোম্যান্টিক উপন্যাস
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. আঞ্চলিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত 'জাহান্নম হইতে বিদায়' একটি- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

'জাহান্নম হইতে বিদায়' (১৯৭১) শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস।
এ উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কলকাতায় বসে লেখা হয় এবং আনন্দ পাবলিশার্স তা প্রকাশ করে।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:

 উপন্যাস: 

- ক্রীতদাসের হাসি 
- সমাগম 
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- দুই সৈনিক 
-  নেকড়ে অরণ্য 
- পতঙ্গ পিঞ্জর 
- রাজসাক্ষী 
- জলাংগী 
-পুরাতন খঞ্জর 

 গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প 
- প্রস্তর ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
- শ্রেষ্ঠ গল্প 
- জন্ম যদি তব বঙ্গে 
-  ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী 

নাটক:
- আমলার মামলা 
-তস্কর ও লস্কর 
- বাগদাদের কবি 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা 

শিশুতোষ: 
- ওটেন সাহেবের বাংলো
- তারা দুই জন 
- ক্ষুদে সোশালিস্ট 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,০৭০.
‘রাজস্থান’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকবরী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. আলেয়া
ব্যাখ্যা
⇒ কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম- সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭১.
'রঞ্জন' কোন নাটকের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. রক্তকরবী
  2. বিসর্জন
  3. রাজা
  4.  বসন্ত
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

-------------------------------
রবীন্দ্রনাথ রচিত আরো নাটক:
- বিসর্জন
- রাজা
- অচলায়তন
- চিরকুমার সভা
- তাসের দেশ
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত
- ডাকঘর
- বসন্ত
- চণ্ডালিকা
- নটীর পূজা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৭২.
'মখদুম মৃধা' সৈয়দ শামসুল হকের কোন গ্রন্থের চরিত্র?  
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. নুরলদীনের সারাজীবন
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. জলেশ্বরীর গল্পগুলো
ব্যাখ্যা

• 'মখদুম মৃধা' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় এর অন্তর্গত চরিত্র। 
-----------------------
“পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়”:
- সৈয়দ শামসুল হকের “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” একটি বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক। 
- নাটকটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ের গ্রামীণ সমাজ ও মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা গ্রামীণ মানুষের ওপর চালানো নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা এবং সেই সময়কার প্রতিরোধের চেতনা নাটকটিতে প্রতিফলিত হয়েছে। 
- নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র- রাজাকার মখদুম মৃধা- পাকিস্তানি দালালির পরিণতি এবং মানবিক সংকটের জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়।
----------------------------
সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।
- তাঁর প্রধান রচনা :
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলদে দে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১০,০৭৩.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. আবুল হাসান
  2. আবুল হোসেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য ওরা কয়েকজন।
- তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,০৭৪.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. পদ্মরাগ
  2. পদ্মাবতী
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম নয় - পদ্মরাগ
- এটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭৫.
'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শওকত আলীর রচিত উপন্যাস - ওয়ারিশ, প্রদোষে প্রাকৃতজন, দক্ষিণায়নের দিন, পিঙ্গল আকাশ, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, যেতে চাই, , বাসর মধুচন্দ্রিমা, উত্তরের ক্ষেপ, যাত্রা হিসাবনিকাশ, দলিল, উপরে ছাপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৭৬.
দীনবন্ধু মিত্র কার অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) ঈশ্বর গুপ্ত
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্ধ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় দীনবন্ধু মিত্র কবিতা লেখা শুরু করেন।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- দীনবন্ধু মিত্রের জনপ্রিয় কবিতা: সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড), দ্বাদশ কবিতা।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে 'নীল- দর্পণ' নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নীল দর্পন' নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
-  সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

• তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭৭.
'অশনি সংকেত' –উপন্যাসটির পটভূমি কোনটি?
  1. ক) '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) দুর্ভিক্ষ
  4. ঘ) সামাজিক ব্যাধি
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অশনি সংকেত' -এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ। আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক 'মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯),
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১০,০৭৮.
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'জীবনস্মৃতি' রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
জীবনস্মৃতি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ। ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তিনি রচনা করেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) ও প্রভাতসংগীত (১৮৮৩)। এ সময়ের অনুভূতি কবির জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; জীবনস্মৃতিতে তিনি তা ব্যক্ত করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিশুশিক্ষা বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) বোধোদয়
  2. খ) কথামালা
  3. গ) বর্ণমালা
  4. ঘ) আখ্যান মঞ্জুরী
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি। 

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :-
- শকুন্তলা
- সীতার বনবাসের
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮০.
"তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;" - পঙক্তিদ্বয় জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) রাখালী
  2. খ) বালুচর
  3. গ) ধানক্ষেত
  4. ঘ) মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিদ্বয় পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের 'ধানক্ষেত' কাব্যগ্রন্থের 'নিমন্ত্রন' কবিতার অন্তর্গত।  
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া। (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: নিমন্ত্রন, জসীমউদ্দীন।
১০,০৮১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল চমৎকার।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করে।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,০৮২.
'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'- উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. দত্তা
  3. শ্রীকান্ত
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
⇒ 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। 
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি: 
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।' 

অন্যদিকে,
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “দত্তা” উপন্যাসটি ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়। এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি প্রেমের উপন্যাস।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'গৃহদাহ' (১৯২০) উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মহিম ও সুরেশ এই দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ-বিকর্ষণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় উপকরণ।

⇒'শেষ প্রশ্ন' (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কপ্রধান ও সমস্যামূলক উপন্যাস। এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল উপন্যাস ধারা থেকে কিছুটা পৃথক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
১০,০৮৩.
'সম্পাদকের জবানবন্দি' গ্রন্থের লেখকের নাম-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) গোলাম সারওয়ার
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
গোলাম সারওয়ারের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ছড়াগ্রন্থ ‘রঙিন বেলুন' এবং প্রবন্ধ সংকলন ‘সম্পাদকের জবানবন্দি', ‘অমিয় গরল', আমার যত কথা', স্বপ্ন বেঁচে থাক' উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
১০,০৮৪.
'নিরুপম যাত্রা' জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসসমূহ- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,০৮৫.
কাজেম আল কোরেশী কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. ক) কাব্যভূষণ
  2. খ) বিদ্যাভূষণ
  3. গ) সাহিত্যরত্ন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদ বাংলার অপর দুই মহাকবি  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেন।
- তবে নবীনচন্দ্রই ছিলেন তাঁর প্রধান আদর্শ।
- কায়কোবাদের মহাশ্মশান হচ্ছে মহাকাব্য। 
- কায়কোবাদের কাব্যসাধনার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চাৎপদ মুসলমান সম্প্রদায়কে তার অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং তা পুনরুদ্ধারে উদ্বুদ্ধ করা।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮৬.
বাংলাভাষায় প্রথম বিয়োগান্তক বা ট্র্যাজেডি নাটক -
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) কীর্তিবিলাস
  3. গ) কাঠঠোকরা
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
বাংলাভাষায় প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত রচিত ‘কীর্তিবিলাস’। তবে, প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১০,০৮৭.
'বিলাসী' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসী' গল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮৮.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' এই উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কালী প্রসন্ন সিংহ
  3. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)। 
- নানাকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,০৮৯.
কার সম্পাদনায় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’ প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. মহম্মদ রওশন আলী
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’। পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।
- আবদুল্লাহ উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নানা দোষত্রুটি অতিশয় দক্ষতার সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন।
- ‘আবদুল্লাহ’ কাজী ইমদাদুল হকের অসমাপ্ত উপন্যাস। কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনােয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্ত, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, আশরাফ-আতরাফ বৈষম্য, হীন স্বার্থপরতা সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

• কাব্য: আঁখিজল, লতিকা।
• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৯০.
সেলিনা হোসেনের গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মতিজানের মেয়েরা
  2. খ) কাঁটাতারের প্রজাপতি
  3. গ) গেরিলা ও বীরাঙ্গনা
  4. ঘ) ভালোবাসা প্রীতিলতা
ব্যাখ্যা

'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,০৯১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. জন্ম যদি তব বঙ্গে- গল্পগ্রন্থ (আবু ইসহাক)
  2. মহাপতঙ্গ- উপন্যাস (বুদ্ধদেব বসু)
  3. খোঁয়ারি- গল্পগ্রন্থ (আখতারুজ্জামান ইলিয়াস)
  4. রেখাচিত্র- নাটক (শওকত ওসমান)
ব্যাখ্যা

• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:
- 'খোঁয়ারি' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ছোটগল্প সংকলন, যা ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ। এই গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিকদের একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- এতে চারটি গল্প রয়েছে: "খোঁয়ারি", "অসুখ বিশুখ", "তারাবিবির মরদ পোলা" এবং "পিতৃবিয়োগ"। 

- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন- নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু। তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

অন্যদিকে,
------------------
• 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।
• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। আবার 'রেখাচিত্র' নামে আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০৯২.
কোনটি বিজন ভট্টাচার্যের নাটক নয়?
  1. ক) গোত্রান্তর
  2. খ) জনপদ
  3. গ) দণ্ডকারণ্য
  4. ঘ) নবান্ন
ব্যাখ্যা

• গণনাট্য সংঘের অন্যতম অভিনেতা এবং 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,০৯৩.
রূপসী বাংলার কবি কাকে বলা হয়?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) জসীম ঊদ্দীন
  3. গ) হাছন রাজা
  4. ঘ) সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 

• জীবননান্দ দাশ একজন কবি, শিক্ষাবিদ।
তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৯৪.
কবি আল মাহমুদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. ফেনী
  3. ঢাকা
  4. মানিকগঞ্জ
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
-সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১০,০৯৫.
বুদ্ধদেব বসুর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৯০৮ - ১৯৭২
  2. ১৯০৮ - ১৯৭৪
  3. ১৯০৮ - ১৯৭৬
  4. ১৯০৮ - ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসুর জীবনকাল- (১৯০৮ - ১৯৭৪)। 

------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,০৯৬.
কাজী নজরুল ইসলামের 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসের পটভূমিতে কোন অঞ্চলের বর্ণনা রয়েছে?
  1. ময়মনসিংহের ত্রিশাল গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্যে জীবন
  2. কুমিল্লার জেলে পল্লীর জীবন সংগ্রাম
  3. নদীয়ার চাঁদ সড়ক অঞ্চলের জনজীবন
  4. পদ্মাপাড়ের ধীবর জীবন কাহিনী
ব্যাখ্যা

- কাজী নজরুল ইসলাম 'মৃত্যুক্ষুধা' উপন্যাসটি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন।
- ১৯২৭ সাল থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে তিনি মৃৎশিল্পের কেন্দ্রভূমি পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের ছিলেন।
- এ কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়কের দরিদ্র হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দারিদ্র ও দুঃখ ভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে।
উৎস: মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস।

১০,০৯৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক কোনটি?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. গিনিপিগ
  3. ওরা কদম আলী
  4. সমতট
ব্যাখ্যা
• 'সুড়ঙ্গ' নাটক:
- 'সুড়ঙ্গ' (১৯৬৪) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি নাটক।

- এই নাটকে মানুষের চেতনার গভীরস্থ লোভ, লালসা, ঘৃণা, ঈর্ষাকে নাট্যকার রূপকাশ্রয়ে তুলে ধরতে গিয়ে এবসার্ড নাট্যধারাকে অনুসরণ করেছেন। তাই অনেক সময়ই সংলাপে সামঞ্জস্যহীনতা, অস্পষ্টতা ও নাটকে রহস্যময়তা পরিদৃষ্ট হয়।

- ষোড়শী রাবেয়া নিজের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আহার ত্যাগ করে। সবাই ভাবে বিয়েতে অমত তার। কিন্তু রাবেয়া জানায় বরে তার আপত্তি নেই। তাহলে কেন রাবেয়ার এ অবস্থা? শুরু হয় রহস্যময়তা! এদিকে রাবেয়ার ঘরের আলমারির নিচে থাকা গুপ্তধনের সংবাদে তার চাচাতো ভাই কলিমসহ তিনজন যুবক রাতদিন সুড়ঙ্গ কাটতে ব্যস্ত। মাটির সুড়ঙ্গ নাকি মনের সুড়ঙ্গ- রূপকটি এখানেই।

অন্যদিকে,
 গিনিপিগ, ওরা কদম আলী, সমতট ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশিদ।

----------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৯৮.
হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. যতোই গভীরে যাই মধু
  2. আব্বুকে মনে পড়ে
  3. জ্বলো চিতাবাঘ
  4. অলৌকিক ইস্টিমার
ব্যাখ্যা
'আব্বুকে মনে পড়ে' উপন্যাস:
- 'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এক শিশু, ১৯৭১ সালে যার বয়স ছিল চার বছর।  যার মনে বার বার ভেসে উঠে যুদ্ধ করতে যাওয়া তাঁর বাবার স্মৃতি। 

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার, 
- জ্বলো চিতাবাঘ, 
- যতোই গভীরে যাই মধু, 
- যতোই উপরে যাই নীল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৯৯.
'পাখির বাসা' শিশুতোষ রচনাটি কার?
  1. সুকুমার রায় 
  2. ফররুখ আহমদ
  3. জসীম উদ্‌দীন 
  4. এস ওয়াজেদ আলী 
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা' এর রচয়িতা - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,১০০.
‘নবান্ন’ কোন ধরনের সাহিত্য কর্ম?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ অনাহার, অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তারই নাট্যরূপ বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক - ‘নবান্ন’। এটি ১৯৪৩ সালে ধারাবাহিকভাবে ‘অরণি’ পত্রিকায় প্রকাশিত এবং ১৯৪৪ সালে গ্রন্থাকারে হয়। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।