বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১০ / ১৭৪ · ৯০১১,০০০ / ১৭,৪৩৭

৯০১.
কোনটি সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা আন্দোলন বিষয়ক উপন্যাস?
  1. জীবনক্ষুধা
  2. আর্তনাদ
  3. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. উৎস থেকে নিরন্তর
ব্যাখ্যা
• ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা আন্দোলন বিষয়ক উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশভাগের পটভূমিতে রচিত ‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাস লিখেছেন আবুল মনসুর আহমেদ।
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• ‘উৎস থেকে নিরন্তর’ সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।

--------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০২.
কোন্ কবি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন?
  1. আল মাহমুদ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালে কবি শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কবি শামসুর রাহমান ‘বন্দী শিবির থেকে’ (১৯৭২) কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালীন অবরুদ্ধ সময়ে রচিত।
- গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
- মোট ৩৮ টি কবিতা রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ’স্বাধীনতা তুমি’।

--------------------
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়াপুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। 'হাতির শুঁড়' কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর 'নিজ বাসভূমে' কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে। 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯', 'পুলিশ রিপোর্ট' 'হরতাল', 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়, তাঁর রচিত এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

৯০৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. বিষের বাঁশি
  2. অগ্নিবীণা
  3. চিত্তনামা
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এতে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'রক্তাম্বর-ধারিণী মা' কবিতাটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
- বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে কাব্যগ্রন্থটি কবি উৎসর্গ করেছিলেন।

কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতাসমূহ হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০৪.
মহাকবি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা

• ‘মহাশ্মশান’ কাব্যপরিচয় ও বিষয়বস্তু:
‘মহাশ্মশান’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি ও মহাকবি কায়কোবাদ রচিত জাতীয় আখ্যানধর্মী কাব্যগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সুপরিচিত একটি মহাকাব্য। কাব্যটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩১১ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ)। যদিও গ্রন্থাকারে প্রকাশ পেতে আরও কয়েক বছর সময় লেগেছিল। এই কাব্য রচনার মাধ্যমেই কবি কায়কোবাদ ‘মহাকবি’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

কাব্যটির বিষয়বস্তু ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠা এবং মুসলিম শক্তি—আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার বাহিনীর মধ্যে এক ভয়াবহ শক্তিপরীক্ষা। যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ছিল উভয় পক্ষেরই ভয়াবহ ক্ষয় ও ধ্বংসের প্রতীক। এই সর্বনাশা ধ্বংসযজ্ঞের কারণেই কবি কাব্যের নাম রেখেছেন ‘মহাশ্মশান’।

ছন্দ ও আয়তন:
- ‘মহাশ্মশান’ কাব্যটি সম্পূর্ণভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। কাব্যটির আয়তন অত্যন্ত বৃহৎ—এর পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় নয়শত, যা একে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দীর্ঘ মহাকাব্যে পরিণত করেছে। যুদ্ধবর্ণনার পাশাপাশি এতে কবির গভীর আবেগ, মানবিক বোধ ও জাতীয় চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যেই কাব্যটিতে একাধিক প্রণয়বৃত্তান্ত সংযোজিত হয়েছে, যা কাব্যকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্যটি মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ। অর্থাৎ, সমগ্র কাব্যটি মোট ৬০টি সর্গে বিভক্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; 'মহাশ্মশান’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৫.
পঞ্চকবিদের কে কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- জীবনানন্দ দাশ কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত কবিতা?
  1. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  2. অনধিকার প্রবেশ
  3. জুতা আবিষ্কার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
• 'জুতা আবিষ্কার' কবিতা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' কাব্য থেকে 'জুতা আবিষ্কার' কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
- ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য।

কবিতাটির মূলভাব:
রাজা তাঁর মন্ত্রীদের রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীরা রাজ্যের ধুলাবালি ঝাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে রাজ্য ধুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। রাজার আদেশ মানতে গিয়ে রাজ্যের সভাসদ কোনো উপায় যেন খুঁজে আর পান না। অবশেষে রাজ্যেরই এক বয়স্ক চর্মকার নিজ বুদ্ধিতে রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেয়। এভাবে রাজার পা ধুলার স্পর্শ থেকে মুক্তি পায়। সাধারণ সমস্যার সমাধান সাধারণ বুদ্ধিতেই করতে হয়। জটিলভাবে করতে গেলে বিড়ম্বনাই বাড়ে। সমস্যা সমাধানে পদস্থ জনই যে অনিবার্য তাও নয়। সাধারণের দ্বারাও অসাধারণ কৃত্য সম্পাদিত হতে পারে। কবিতায় তাই মূর্ত হয়ে উঠেছে।

কবিতাটি সংক্ষেপে-

জুতা-আবিষ্কার
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কহিলা হবু, 'শুন গো গোবুরায়,
কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র-
মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায়
ধরণী-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র!
তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি,
রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি,
রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!
শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার,
নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।'

অন্যদিকে, 
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, অনধিকার প্রবেশ ও ক্ষুধিত পাষাণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৯০৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম:

- অনেক দিনের আশা
- ঢেউ
- পথ জানা নেই 
- শাহের বানু
- পুঁই ডালিমের কাব্য

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আল্মগড়ের উপকথা
- কাশবনের কন্যা
- কাঞ্চনমালা 
- জায়জঙ্গল
- সমুদ্র বাসর
- কাঞ্চনগ্রাম

- কাশবনের কন্যা উপন্যাসে গ্রামকে এমন ভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ-দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- এই উপন্যাস গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, এখানে রোম্যান্টিক মনোভঙ্গিতে এমন এক গ্রাম, গ্রামের মানুষ ও পরিবেশ তুলে এনেছেন, যা দুঃখ অতিক্রমকারী, সুখস্বপ্ন আশা সঞ্চারী।
-  ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৯০৮.
জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. বরিশাল জেলা
  2. ফরিদপুর জেলা
  3. গাইবান্ধা জেলা
  4. নাটোর জেলা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি/অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৯.
‘অবাক পৃথিবী,- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মতী
  3. গ) আবদুল হাই
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মতী শরফুদ্দীন (১৯০৩-১৯৯৮) রচিত গ্রন্থ হলো এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯১০.
হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক কোনটি?
  1. ক) এইসব দিনরাত্রি
  2. খ) প্রথম প্রহর
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) কোথাও কেউ নেই 
ব্যাখ্যা
-  হুমায়ূনের প্রথম টেলিভিশন নাটক 'প্রথম প্রহর'

প্রথম প্রহর:
- এটি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই নাটকটি পরিচালনা করেছেন- নওয়াজেস আলী খান।
-----------------------------------------------------------------
- আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি' যা বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
- এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
• বহুব্রীহি 
• অয়োময় 
• কোথাও কেউ নেই 
• আজ রবিবার
• নক্ষত্রের রাত। 

হুমায়ূন আহমেদ
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- 'নন্দিত নরকে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া
- আগুনের পরশমণি
- অনিল বাগচীর একদিন
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। 
উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে 
- শঙ্খনীল কারাগার 
- আমার আছে জল
- আজ রবিবার 
- এই সব দিনরাত্রি 
- বহুব্রীহি 
- অয়োময় 
- শ্রাবণ মেঘের দিন 
- দুই দুয়ারী 
- কোথাও কেউ নেই 
- মহাপুরুষ 
- বৃষ্টিবিলাস
- লীলাবতী ইত্যাদি। 
আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- আমার ছেলেবেলা 
- বলপয়েন্ট 
- কাঠপেন্সিল 
- রঙ পেন্সিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯১১.
ধর্মকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের কাহিনী বর্ণিত আছে কোন নাটকে?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) হাজার বছর ধরে
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বহিপীর বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক -
- উজানে মৃত্যু
- সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ

বিখ্যাত উপন্যাস সমূহ -
- লালসালু (ধর্ম ব্যাবসা কে কেন্দ্র করে রচিত) 
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো 
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ -
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১২.
ত্রৈমাসিক ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

পরিচয়: 
- ‘পরিচয়’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (১৯৩১, জুলাই)।
- পত্রিকাটি ত্রৈমাসিক।
- এর সম্পাদক ছিলেন আধুনিক কালের প্রখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উল্লেখ্য,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবরে কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক ‘পরিচয়’ পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘তন্বী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপের অন্যতম প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯১৩.
‘বিষবৃক্ষ’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রাজনৈতিক
  2. অতিমানবিক
  3. সামাজিক
  4. ঐতিহাসিক
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
- 'বিষবৃক্ষ' আজও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগুলোর একটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯১৪.
আল মাহমুদ সম্পাদিত আলোচিত পত্রিকা কোনটি?
  1. দৈনিক বাংলা
  2. দৈনিক গণকন্ঠ
  3. দৈনিক মানবজমিন
  4. শিখা
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯১৫.
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) অভিযাত্রিক 
  2. খ) মায়া কাজল
  3. গ) সাঁঝের মায়া
  4. ঘ) কেয়ার কাঁটা
ব্যাখ্যা
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।- 
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন 
- উদাত্ত পৃথিবী 
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে 

গল্পঃ
- কেয়ার কাঁটা।

আত্মজীবনীঃ
- একালে আমাদের কাল।

স্মৃতিকথা/ ডায়েরীঃ
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৬.
ঢাকার 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক কে ছিলেন?
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান লেখক ছিলেন আবুল হুসেন, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৯১৭.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. গ্রানাডার শেষ বীর
  2. ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. জীবনের শিল্প
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।

এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

এস ওয়াজেদ আলি উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৮.
‘সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেনো মরুর মতন,
চারিদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।”
-পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কামিনী রায়
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালের উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮), 
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২) 
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০), 
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০), 
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০), 
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০), 
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯), 
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১), 
- মায়াদেবী (১৮৮২), 
- দেবরাণী (১৮৮২), 
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭), 
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং 
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: 
- পূর্ণিমা, 
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

৯১৯.
কোন কবি একজন বিখ্যাত চিত্রকরও ছিলেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জয়নুল আবেদীন
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ছবি আঁকাআকি করতেন। তার চিত্রকর্মের প্রথম প্রদর্শনী হয় ফ্রান্সে।
ষাটোত্তর বয়সে রবীন্দ্রনাথ চিত্র চর্চা শুরু করেন
১৯২৬ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে তার প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অঙ্কিত চিত্রাবলির সংখ্যা দুই হাজার। এই চিত্রাবলিকে তিনি শেষ বয়সের প্রিয়া নামে আখ্যায়িত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।

উল্লেখ্য,
- জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রকর ছিলেন। তবে তিনি কবি নন।

৯২০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাস কোনটি?
  1. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  2. আয়না
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. কল্পতরু
ব্যাখ্যা
‘কল্পতরু’ উপন্যাস:
• ‘কল্পতরু’ (১৮৭৪) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ-উপন্যাস।
• বঙ্গদর্শনে সমালোচনা করতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র কল্পতরুকে ‘বঙ্গভাষার একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস' আখ্যা দিয়েছেন।

• এই গ্রন্থে বিষয়ে বঙ্কিমচন্দ্র মতপ্রকাশ করেছেন যে,
“বাবু ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একখানি মাত্র গ্রন্থ প্রচার করিয়া বাঙ্গালায় প্রধান লেখকদিগের মধ্যে স্থান পাইবার যোগ্য বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন।' তবে তিনি যে কল্পতরুকে আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচার নকশা ওপরে স্থান দিয়েছেন, তার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন না।

অন্যদিকে,
• আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৪) বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।

• ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ (১৮৬২) কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান, যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন। এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

• বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' (১৯৩৫) একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।

--------------------
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
• ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৪৯-১৯১১) জন্ম যদিও বর্ধমানের একটি গ্রামে, সাত মাস থেকে ন বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায়। ফলে বাংলা ভাষা তাঁর ঠিকমতো রপ্ত হয়নি।
• ইন্দ্রনাথ পরবর্তী উচ্চ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং সাহিত্যিকরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করে বাংলা ভাষা ও তার সংস্কার সম্পর্কে প্রবন্ধ ও অভিভাষণ লিখেছিলেন।
• বস্তুত বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের স্রষ্টা হিসেবে একসময়ে তিনি অতি উচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন।
• সাহিত্যক্ষেত্রে ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব অনেকটা আকস্মিক। তিনি যখন কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করেন, তখন কিছুটা খেয়ালের বশেই ক্ষুদ্রকায় ব্যঙ্গকাব্য “উৎকৃষ্ট কাব্যম” (১৮৭০) রচনা করেন।
• পরে তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধে লেখেন “কল্পতরু” (১৮৭৪)।

উৎস: ‘কল্পতরু’ উপন্যাসের (ভূমিকা) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৯২১.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. শংকর
  2. সুনন্দ
  3. যুবনাশ্ব
  4. বাণভট্ট
ব্যাখ্যা
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ

অন্যদিকে,
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - দাদাভাই; বাণভট্ট।
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শংকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২২.
নিচের কোন উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলন?
  1. ক) বরফ গলা নদী
  2. খ) কয়েকটি মৃত
  3. গ) আরেক ফাল্গুন
  4. ঘ) আর কতদিন
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

'আরেক ফাল্গুন' তাঁর রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
• এই উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলন।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস),
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত,
- তৃষ্ণা,
- একুশে ফেব্রুয়ারি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৩.
কোন কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্গত?
  1. কবর
  2. ধানখেত
  3. নক্সী কাঁথার মাঠ
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা

কবর কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্গত। 

‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এতে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

জসীম উদ্‌দীন:
- জন্ম: ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে।
- পৈতৃক নিবাস: ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুর গ্রাম।
- কর্মজীবন শুরু: পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২৪.
বিখ্যাত 'অমল' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মীর মোশাররফ হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯২৫.
'নবীন তপস্বিনী' নাটকটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. গ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
- 'নবীন তপস্বিনী' নাটকটি রচনা করেছেন- দীনবন্ধু মিত্র

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক
- নীলদর্পণ
-  নবীন তপস্বিনী
- সধবার একাদশী 
- লীলাবতী 
- কমলে কামিনী। 
প্রহসন:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক। 
কাব্যগ্রন্থ
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯২৬.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'' - পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. কড়ি ও কোমল
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯২৭.
‘কাঙাল হরিনাথ’ কোন সাহিত্যক্যের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯২৮.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নয়?
  1. অপরিচিতা
  2. নস্টনীড়
  3. অযান্ত্রিক
  4. অতিথি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প নয় - অযান্ত্রিক। ‘অযান্ত্রিক’ সুবোধ ঘোষ রচিত একটি গল্প।

অন্যদিকে,
• 'অতিথি' গল্পের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

'নষ্টনীড়' ছোটগল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

'অপরিচিতা' গল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প।
- "অপরিচিতা” প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়। এটি প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় রবীন্দ্রগল্পের সংকলন 'গল্পসপ্তক'-এ এবং পরে, 'গল্পগুচ্ছ' তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯২৯.
ঐতিহাসিক চরিত্র  "বাদশা হারুন অর রশিদ" নিচের কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জাহান্নম হইতে বিদায় 
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

'ক্রীতদাসের হাসি':
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ
- গল্পগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
•  'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. নবকুমার
  2. মৃণালিনী
  3. ইন্দিরা
  4. জগৎসিংহ
ব্যাখ্যা
• "দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাস:
- "দুর্গেশনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসও। ১৮৬৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা কথাসাহিত্যের ধারায় এক নতুন যুগ প্রবর্তিত হয়।

- ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না।

- কোনো কোনো সমালোচক এই উপন্যাসে ওয়াল্টার স্কটের আইভানহো উপন্যাসের ছায়া লক্ষ্য করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবদ্দশায় এই উপন্যাসের তেরোটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- জগৎসিংহ,
- মানসিংহ,
- বিমলা,
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- তিলোত্তমা। 

অন্যদিকে, 
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র- নবকুমার। 
• 'মৃণালিনী' উপন্যাসের চরিত্র- মৃণালিনী। 

উৎস: "দুর্গেশনন্দিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩১.
বন্দে আলী মিয়া রচিত 'ময়নামতির চর' কোন ধরনের রচনা?
  1. আঞ্চলিক উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. কবিতা
  4. শিশুতোষ গল্প
ব্যাখ্যা
• 'ময়নামতির চর'- কবি বন্দে আলী মিয়া রচিত কবিতা।

‘ময়নামতীর চর’ কবিতার মূলভাব:
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোতে ভাঙা–গড়ার কারণে অনেক চর সৃষ্টি হয়। ‘ময়নামতীর চর’ তেমনি একটি চরের নাম। এই চরে যারা বাস করে তারা অনেক সংগ্রাম করে টিকে থাকে। চরের সেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিদিনকার জীবনচিত্র আর চরের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

ময়নামতির চর - কবিতা,
– বন্দে আলী মিয়া।

এ-পারের এই বুনো ঝাউ আর ও পারের বুড়ো বট
মাঝখানে তার আগাছায় ভরা শুকনো গাঙের তট ;
এরি উঁচু পারে নিত্য বিহানে লাঙল দিয়েছে চাষী,
কুমীরেরা সেথা পোহাইছে রোদ শুয়ে শুয়ে পাশাপাশি |

------------------ 
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর, 
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।
৯৩২.
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস?
  1. জায়জঙ্গল
  2. শাহের বানু
  3. অনেক দিনের আশা
  4. ঢেউ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩৩.
নিচের কোন উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত নয়?
  1. পথের পাঁচালী
  2. শেষ প্রশ্ন
  3. পথের দাবী
  4. বিরাজবৌ
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।

- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯৩৪.
'গঙ্গা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি।
- গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- উত্তরঙ্গ
- জগদ্দল
- বিবর
- অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
- প্রজাপতি

উৎস:-  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
৯৩৫.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম - 
  1. কাদম্বরী দেবী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. সুফিয়া কামাল 
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো জন্মগ্রহণ করেন। সম্পর্কে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন।
- তিনি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩৬.
'রাসবিহারী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. দত্তা
  3. শ্রীকান্ত
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
• 'দত্তা' উপন্যাস:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সুখপাঠ্য প্রেমের উপন্যাস।
- এটি ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসটি 'বিজয়া' নামে ১৯৪৩ সালে নাট্যায়িত হয়।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বিজয়া,
- নরেন্দ্র
- বনমালী ও 
- রাসবিহারী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বড়দিদি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খণ্ড। উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ। 
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসের রচিত্র- অচলা, সুরেশ ও মহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৭.
'সংবাদ প্রভাকর' - বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৬ সালে
  2. ১৮৩৭ সালে
  3. ১৮৩৮ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩৮.
'মায়া কাজল ও উদাত্ত পৃথিবী' গ্রন্থগুলোর রচয়িতা হলেন-
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।- 
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন 
- উদাত্ত পৃথিবী 
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে 

গল্পঃ
- কেয়ার কাঁটা।

আত্মজীবনীঃ
- একালে আমাদের কাল।

স্মৃতিকথা/ ডায়েরীঃ
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৯.
‘আগুনের পরশমণি’ উপন্যাসে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে কে আশ্রয় দেয়?
  1. আজাদ সাহেব
  2. ফারুক সাহেব
  3. মতিন সাহেব
  4. বদিউল আলম
ব্যাখ্যা
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯৪০.
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কালো বরফ
  2. ময়ূরীর মুখ
  3. জলোচ্ছাস
  4. খোল করতাল
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ - খোল করতাল।
সালেহা চৌধুরী রচিত উপন্যাস - ময়ূরীর মুখ।
মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস - কালো বরফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪১.
ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও (Manuel da Assumpção) কর্তৃক রচিত পর্তুগিজ ভাষার ব্যাকরণ বইটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) লিসবন
  4. ঘ) হুগলি
ব্যাখ্যা

ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও (Manuel da Assumpção) কর্তৃক রচিত পর্তুগিজ ভাষার ব্যাকরণ বইটি ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়।
- বইটির মূল নাম ছিলো - "Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez"। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও শব্দকোষ।
-  এই বইয়ের একটি অধ্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিলো।
- লিসবন থেকে প্রকাশিত পর্তুগিজ ভাষায় রচিত রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছিলো গ্রন্থটি।
- এটি মূলত একটি অভিধান।

উল্লেখ্য,
বাংলা ব্যাকরণ রচনার দ্বিতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন  ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। যথার্থ বাংলা ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর A Grammar of the Bengal Language (হুগলি, ১৭৭৮) একটি সার্থক প্রচেষ্টা। কিন্তু গ্রন্থ রচনায় তিনি সংস্কৃতের ওপর বেশি নির্ভর করেন। যেসব পন্ডিত তাঁকে এ কাজে সহায়তা করেন তাঁরা তাঁকে Vocabulario থেকে সাহায্য না নেয়ার পরামর্শ দেন, কারণ এর শব্দগুলি নেয়া হয়েছিল পূর্ববাংলার গ্রাম্য কথ্যভাষা থেকে, মার্জিত সংস্কৃত ভাষা থেকে নয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৪২.
বিভূতিভূষণের 'অনুবর্তন' উপন্যাসের শ্রেষ্ঠ চরিত্র-
  1. ভানুমতী
  2. যদু মুখুজ্জে
  3. হাজারি ঠাকুর
  4. দোবরু পান্না
ব্যাখ্যা
⇒ 'অনুবর্তন' উপন্যাস:
- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে- যদু মুখুজ্জে।
- এখানে গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হচ্ছে - ক্ষেত্র বাবু, নারান বাবু, ছাত্র চুনি।
- এর মধ্যে যদু মুখুজ্জে নিজে ভালো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি অবিচার করে, ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে, আবার নিজের পাপের জন্য ভগবানের কাছে ক্ষমাও চান। শেষে তার ট্র্যাজিক মৃত্যু ঘটে। বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ চরিত্র এই যদু মুখুজ্জে।

অন্যদিকে,
- ভানুমতী ও দোবরু পান্না ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের চরিত্র।
- হাজারি ঠাকুর ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসের চরিত্র।

==============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অনুবর্তন' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৯৪৩.
"চাঁদের অমাবস্যা" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান 
  2. আবদুল কাদির
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৪৪.
'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ'— কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) : কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। প্রথম জীবনে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন৷

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৭৫),
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২),
- পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২),
- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি (১৯৮৩),
- মাছ সিরিজ (১৯৮৪),
- নির্বাচিত কবিতা (২০০২)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

 
৯৪৫.
"লালসালু" উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী কূট চরিত্র কোনটি?
  1. তাহের
  2. খালেক
  3. মজিদ
  4. আক্কাস
ব্যাখ্যা
• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। প্রথম উপন্যাস হলেও আমরা একজন প্রতিভাবান লেখকের দুঃসাহসী প্রচেষ্টার সার্থক ফসল বলে বিবেচনা করতে পারি।

- লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস। নিরক্ষর দরিদ্র ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সরলতা ও ধর্ম বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তার জটিল, কুটিল ছলনাজাল বিস্তার করে কীভাবে নিজের শাসন ও শোষণের ভিত প্রতিষ্ঠিত করেছে, তারই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে 'লালসালু' উপন্যাসে।

- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

- ১৯৬০ সালে পাকিস্তান লেখক সংঘ কর্তৃক করাচি থেকে উপন্যাসটির উর্দু অনুবাদ প্রকাশিত হয়। একই বছর প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ (Tree Without Roots) প্রকাশিত হয়। পরে চেক ও জার্মান ভাষাও এর অনুবাদ হয়।

- উপন্যাসটি অবলম্বনে ঢাকায় প্রথম শ্রেণির একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। ১৯৬১ সালে এই উপন্যাসের জন্য লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৬.
চিলেকোঠার সেপাই কে?
  1. ওসমান
  2. ফরিদ
  3. রায়হান
  4. খিজির
ব্যাখ্যা
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
- একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
- ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।
অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার
- আলাউদ্দিন
- আলতাফ
- হাড্ডি খিজির
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস।
৯৪৭.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. অবলাবান্ধব
  2. অবোধ বন্ধু
  3. পূর্ণিমা
  4. সাহিত্য সংক্রান্তি
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা নয় - অবলাবান্ধব
- এটি দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য সংক্রান্তি,
- অবোধ বন্ধু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৪৮.
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. অজিত
  2. অপু
  3. বিপিন
  4. হেমন্ত
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র চরিত্র- অপু, দূর্গা।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪৯.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত ‘নবান্ন’ নাটকটির প্রেক্ষাপট হচ্ছে -
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- নবান্ন হল বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক
- নাটকটির বিষয় পঞ্চাশের মন্বন্তর। 
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।

বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- তাঁর জন্ম ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত অপরাপর নাটকগুলো হলো:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫০.
‘হাসু’ কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. শিশুতোষ গ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'হাসু' জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে ।

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ গ্রন্থ -
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৫১.
কোনটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

ভদ্রার্জুন:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক - ভদ্রার্জুন
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নাটক প্রকাশিত হয়।
- ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
কৃষ্ণকুমারী: 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।
'শর্মিষ্ঠা' নাটক: - এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক
নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র কর্তৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৫২.
'পূর্বাশা' কোন শতকের পত্রিকা?
  1. আঠারো শতকের
  2. উনিশ শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' বিশ শতকের পত্রিকা। 

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫৩.
আইরিশ কবি W. B. Yeats রচিত The Falling of the Leaves কবিতার মিল পাওয়া যায় কোন কবিতায়?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) সেইদিন এই মাঠ
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
• কবি জীবনান্দ দাশ রচিত 'মৃত্যুর আগে' কবিতাটি ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত।
- এটির সাথে আইরিশ কবি W. B. Yeats রচিত  The Falling of the Leaves কবিতাটির মিল রয়েছে। 
- জীবনানন্দ দাশের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬)। 

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক 
- ধূসর পান্ডুলিপি 
- বনলতা সেন 
- সাতটি তারার তিমির
- রূপসী বাংলা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৪.
নেমেসিস নাটক লিখেছেন-
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৫৫.
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ভ্রমণবৃত্তান্ত
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি স্মৃতিকথা

• শহীদুল্লাহ কায়সার: 
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক  জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- ছাত্রজীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। 
-  ১৯৫২-র  ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান  উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- রাজবন্দীর রোজনামচা ও
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৬.
কাজী ইমদাদুল হক কোন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম স্থপতি ছিলেন?
  1. মুসলমান সাহিত্য সমাজ
  2. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধমালা।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯৫৭.
পঞ্চপাণ্ডব বলা হয় কাদের?
  1. ক) মধ্যযুগের কবিদের
  2. খ) তিরিশের কবিদের
  3. গ) চল্লিশের কবিদের
  4. ঘ) পঞ্চাশের কবিদের
ব্যাখ্যা
তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন। 
তাঁরা হলেন:
- অমিয় চক্রবর্তী
- জীবনানন্দ দাশ,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- বুদ্ধদেব বসু ও
- বিষ্ণু দে

- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯৫৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ 'মূলধারা-৭১' কে লিখেছেন?
  1. আনিসুল হক
  2. মঈদুল হাসান
  3. জহির রায়হান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'মূলধারা-৭১':
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনায় এই গ্রন্থ নিঃসন্দেহে মূল্যবান সংযোজন। লেখক মঈদুল হাসান একাত্তর সালের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পটভূমিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সকল মূল উপাদানকেই একত্রে তুলে ধরেছেন।

১৯৮৬ সালে প্রথম প্রকাশের পর থেকেই বইটি প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি নির্ভরযোগ্য বিবরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে। ১৯৯২ সালে বইটির ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

উৎস: 'মূলধারা-৭১' রচনা।
৯৫৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কোথায় এবং কবে হয়েছিল?
  1. বর্ধমান, ১৮৬১
  2. শিলাইদহ, ১৮৬৩
  3. কলকাতা, ১৮৬১
  4. শান্তিনিকেতন, ১৮৬৫
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব, যার অবদান অসীম এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। তাঁর জীবনের প্রধান ঘটনাবলী ও সাহিত্যকর্মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নিম্নরূপ:

জন্ম ও পরিবার:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ, ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে।
• তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি ব্রাহ্মসমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
• ১৮৮৩ সালে কন্যা মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ হয়।

সাহিত্যকর্ম:
• মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম ছোটগল্প ছিল 'ভিখারিনী'।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল 'কবি-কাহিনী'।
• তাঁর লেখা প্রথম গান ছিল "গগনের থালে রবি চন্দ্র দীপক জ্বালে", যা তিনি ১৮৭৩ সালে রচনা করেন।
• ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তার প্রথম কবিতা "অভিলাষ" প্রকাশিত হয়।
• তাঁর প্রথম উপন্যাস ছিল ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট’।

জমিদারি তত্ত্বাবধান:
• রবীন্দ্রনাথ ১৮৯০-৯১ সাল থেকে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে এবং অন্যান্য অঞ্চলে পৈত্রিক জমিদারিগুলোর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হন এবং সেখানে বসেই তিনি অসংখ্য বিখ্যাত রচনা রচনা করেন, যার মধ্যে অন্যতম হল ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘ক্ষণিকা’।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান:
• ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বোলপুরের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ১৯২১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

পুরস্কার ও উপাধি:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন ১৯১৩ সালে, যা তাঁকে প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে এই সম্মানে ভূষিত করে।
ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করলেও, ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।

• মৃত্যু:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রেফারেন্স:
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, 
• বাংলাপিডিয়া, 
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুবুল আলম, 
• বিবিসি বাংলা।
৯৬০.
'কবিতার কথা' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

- 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬১.
ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রামের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. চন্দ্রশেখর
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।


অন্যদিকে,
-----------------------------
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ উপন্যাস:
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান। এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনি।

• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬২.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তাঁর রচিত উপন্যাস- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রাত্রির চাঁদ। গল্পগ্রন্থ- কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর। শিশুতোষ গ্রন্থ- ডানপিটে শওকত। 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি' তাঁর রচিত কালজয়ী গান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৩.
’মুজিব- লেনিন -ইন্দিরা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) নির্মলেন্দু
  4. ঘ) আসাদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, চাষাভূষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, ইসক্রা, মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা, শিয়রে বাংলাদেশ, ‘দুঃখ করো না, বাঁচো, নিশিকাব্য ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৪.
'মানিকলাল' নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. ক) চরিত্রহীন
  2. খ) চন্দ্রশেখর
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) গোরা
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাসের রচয়িতা - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
রাজসিংহ বঙ্কিমের অন্যতম সেরা উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৮২ সালে।
উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ
রাজসিংহ, আওরঙ্গজেব, মানিকলাল, দরিয়াবিবি, চঞ্চলকুমারী, বিক্রম সোলাঙ্কী প্রমুখ।
উৎসঃ রাজসিংহ উপন্যাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৬৫.
”মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই” পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'প্রাণ' কবিতার অংশবিশেষ:
- 'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।' কবিতাটি কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। -
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা- হিন্দুমেলার উপহার।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- সোনার তরী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯৬৬.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা -
  1. সানাউল হক
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা — গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
-   তাকে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়। 
- তিনি ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস ১৯১৮ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসুন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম, 
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য), 
- কস্তুরী, 
- চন্দন, 
- ফুলরেণু (সনেট), 
- বৈজয়ন্তী, 
- শোক ও সান্ত্বনা, 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয় কত সালে?
  1. ১৮৪১
  2. ১৮৩৯
  3. ১৮৪৩
  4. ১৮৫৯
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৬৮.
'কবর' নাটকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম অভিনীত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে নাটকটির প্রথম অভিনয় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের একুশে উদযাপন উপলক্ষে ১৯৫৬ সালে।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) যায়যায়দিন, পত্রিকা।
৯৬৯.
‘অজস্র ধানের শীষে এ পবিত্র বাংলার অঙ্গনে’- চরণটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) পণ্ডশ্রম
  2. খ) নিমন্ত্রণ
  3. গ) বাবুরের মহত্ত্ব
  4. ঘ) ধানের কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘অজস্র ধানের শীষে এ পবিত্র বাংলার অঙ্গনে’- চরণটি 'ধানের কবিতা' থেকে নেয়া হয়েছে।

ফররুখ আহমদ:
- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। 
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।-
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

ধানের কবিতা

- ফররুখ আহমদ
কুমারী, কনকতারা, সূর্যমুখী, হাসি কলমি আর আটলাই, পাশপাই ধান- এ পাক বাংলার মাঠে মাঠে!
আউশ ধানের স্বপ্নে কিষাণের তপ্ত দিন কাটে,
আমনের বন্যা আনে ফসলের সম্পূর্ণ জোয়ার
শোকর-গোজারী করে তারপর দরবারে খোদার
গোলায় তোলে সে ধান-রূপ সাল, তিলক কাচারী,
বালাম, ক্ষীরাইজালি, দুধসর মাঠের ঝিয়ারি
কৃষাণ-পল্লীতে আনে পরিপূর্ণ সুরের সম্ভার।
ধান, ধান, ধান শুধু, এ ধানের স্বপ্নে দিন গোনে
মাঠের মানুষ যত! ফাল্গুনে জমিন ক'রে চাষ,
বৈশাখে ছড়ায়ে বীজ প্রতীক্ষায় থাকে দীর্ঘমাস,
কখনো শংকিত চিত্ত উত্তরের ঝড়ে ও প্লাবনে,
কখনো শিশির-ঝরা ভোরে পেয়ে সুরভি আশ্বাস
অজস্র ধানের শীষে; এই পাক বাংলার অঙ্গনে।।

[কবিতায় উল্লেখিত চরণে পাক শব্দের অর্থ - পবিত্র। প্রশ্নপত্রে পাক শব্দের পরিবর্তে পবিত্র শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে]।

উৎস: ধানের কবিতা, ফররুখ আহমদ ও বাংলাপিডিয়া।
৯৭০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস -  
  1. ঘরে-বাইরে
  2. চোখের বালি
  3. দুই বোন 
  4. চতুরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- 'চোখের বালি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- এই উপন্যাসেই তিনি প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা।
- কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।

- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে পনের বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল'।
- অতঃপর কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণসাহিত্য, রম্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি শাখায় রবীন্দ্রনাথ রেখে গেছেন তাঁর অসামান্য শিল্প-প্রতিভার স্বাক্ষর।

- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।' এ বিদ্যালয়ই পরবর্তীকালে 'বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়'-এ রূপলাভ করে।

- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- বাংলা কবিতাকে তিনিই প্রথম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রসারিত করেন।
- বাংলা ছোটগল্পকে তিনিই বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- গীতিকার ও চিত্রশিল্পী হিসেবেও রবীন্দ্রনাথের অবদান অনন্যসাধারণ। 

- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; চোখের বালি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

৯৭১.
'গাছের পাতারা সেই বেদনায় বুনো পথে যেত ঝরে'। চরণটি নান্দনিক বিবেচনায় হয়ে উঠেছে-
  1. ক) উপমা
  2. খ) রূপক
  3. গ) চিত্রকল্প
  4. ঘ) রূপকাভাস
ব্যাখ্যা

"গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।"
- কবিতাংশটি জসীমউদ্দিনের 'কবর' কবিতা থেকে গৃহীত।
কবিতায় বৃদ্ধের ছেলের মৃত্যুর শোক প্রকাশের জন্য কবিচিত্তের সংবেদনার প্রতিবিম্ব, তার ভাব চেতনার কাব্যময় চিত্রই হলো 'ইমেজ' বা 'চিত্রকল্প'।
জসীমউদ্দীন গ্রামীণ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তার কবিতায় চিত্রকল্প নির্মাণ করেছেন।

৯৭২.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা
- শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে 'উত্তরাধিকার'
- বাংলা কবিতা আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত আছে।

• শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার।
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৩.
১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষের পটভূমি রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  2. ইছামতী
  3. অশনি সংকেত
  4. দেবযান
ব্যাখ্যা
• 'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর। আর উপন্যাসের চরিত্রগুলো জীবন্ত, বাস্তবঘন ও স্বাভাবিক। 
- 'অনঙ্গবৌ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 

অন্যদিকে, 
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ। একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

• দেবযান’ উপন্যাস:
- ‘দেবযান’ (১৯৪৪) প্রেততত্ত্ব ও পরলোকতত্ত্ব-ভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি রচনার জন্য বিভূতিভূষণ সর্বাধিক কাল ধরে পরিকল্পনা করেছিলেন।
- বাস্তব ও অধিবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি এর কাহিনি ও চরিত্র বিন্যাসের নিয়ামক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৪.
সুফিয়া কামালকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. মানবতার কবি
  2. জননী সাহসিকা
  3. বঙ্গনারী
  4. বাংলা সাহিত্যসম্রাজ্ঞী
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৭৫.
'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. আহমদ ছফা
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন - আনিসুজ্জামান।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯৭৬.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. আর্তনাদ
  3. অন্ধ কথামালা
  4. কবর
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (মাহবুব উল আলম চৌধুরী)।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক হলো মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর'।
- প্রথম উপন্যাস- আরেক ফাল্গুন (জহির রায়হান)।
- ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন নিয়েই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক এবং প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।

উল্লেখ্য:
- রশীদ হায়দার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - অন্ধ কথামালা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯৭৭.
’মুনতাসির ফ্যান্টাসি’ ও ‘কিত্তনখোলা’ নাটকদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. কবীর চৌধুরী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘অপরাজিতা’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) প্রবাসী
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) সাধনা
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অপরাজিতা’ । উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল ‘অলোক সারথী’।
- উপন্যাসটি পুস্তকাকারে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
   
 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল ।

উৎস:- বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৯৭৯.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৮ সালে 
  2. ১৮৫৯ সালে 
  3. ১৮৭৮ সালে 
  4. ১৮৩৮ সালে 
ব্যাখ্যা

আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮০.
শামসুর রাহমানের ডাকনাম কী ছিল?
  1. মজলুম আদিব
  2. বাচ্চু
  3. মানিক
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। ‘হাতির শূঁড়’ কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে। ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’, ‘পুলিশ রিপোর্ট’, ‘হরতাল’, ‘এ লাশ আমরা রাখব কোথায়’, তাঁর রচিত এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮১.
‘রাজা যায় রাজা আসে’ আবুল হাসান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প সংগ্রহ
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।

• আবুল হাসান: 

- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট  গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন'।

• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮২.
'নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব'- প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ রচিত 'নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব' একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।
- এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮৩.
'রায়বাহাদুর' কার উপাধি?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও দীনবন্ধু মিত্র উভয়ই  'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন । 

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন। উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

---------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:

- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন। নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাকবিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য তৎকালীন সরকার তাঁকে 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮৪.
'পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে' - উদ্ধৃতাংশটি শামসুর রাহমানের কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. গর্জে ওঠো স্বাধীনতা
  2. তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা
  3. তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
  4. স্বাধীনতা তুমি
ব্যাখ্যা
• 'পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে' - উদ্ধৃতাংশটি শামসুর রাহমানের তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
- ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকায় গণহত্যা শুরু করলে আরো অনেকের মতো শামসুর রাহমানও শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পাড়াতলীতে আশ্রয় নেন। সেখানেই এ কবিতাটি লেখা হয়।
- কবিতাটি তাঁর 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
--- শামসুর রাহমান

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?
---------------------------------------
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বন্দী শিবির থেকে, শামসুর রাহমান।
৯৮৫.
‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ বদরুদ্দীন উমর রচিত রাজনৈতিক গবেষণা ও প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি ১৯৮৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো: 
- সাম্প্রদায়িকতা।
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা।
- পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ।
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ।
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ প্রবন্ধ।
৯৮৬.
'প্রেমের সমাধি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মশাররফ হোসেন
  2. খ) মোজাম্মেল হক
  3. গ) নজিবর রহমান
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
সাহিত্যরত্ন মোহাম্মদ নজিবর রহমান একজন ঔপন্যাসিক ছিলেন। নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন। প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা, পরিণাম, গরীবের মেয়ে, দুনিয়া আর চাইনা ও মেহেরুন্নিসা। তা ছাড়া রয়েছে বিলাতী বর্জন রহস্য ও সাহিত্য প্রসঙ্গ শীর্ষক দুটি আলোচনা গ্রন্থ। নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৮৭.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণ কাহিনি? 
  1. যাত্রী
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. ভ্রমি দেশে দেশে
  4. চলে মুসাফির
ব্যাখ্যা

‘ভ্রমি দেশে দেশে’ - নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণ কাহিনি।
---------------------------------------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের একজন অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- নিশিকাব্য।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প-
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।
---------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনী- 'যাত্রী'।
• ‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
• 'চলে মুসাফির' জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক ইনকিলাব;
বাংলাপিডিয়া। 

৯৮৮.
‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

• পঞ্চপাণ্ডব:

- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮৯.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬৮ সালে 
  2. ১৯৫৩ সালে 
  3. ১৯৫৬ সালে 
  4. ১৯৫৮ সালে 
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

------------------
জহির রায়হান রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯০.
'পূরবী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• 'পূরবী' উপন্যাসের রচয়িতা - সিকান্‌দার আবু জাফর

উল্লেখ্য, 'পূরবী' নামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে, 
- পূরবী
- নবী কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯১.
'বাল্মীকি প্রতিভা' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নৃত্যনাট্য
  3. গীতিনাট্য
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'বাল্মীকি প্রতিভা' গীতিনাট্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮১ সালে "বাল্মীকি প্রতিভা" নামক গীতিনাট্যটি রচনা করেন।
- এতে তিনি স্বরচিত গানের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মিশ্রণ ঘটান। ঠাকুরবাড়ির ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ উপলক্ষে বাল্মীকিপ্রতিভার অভিনয় হয়।
- রবীন্দ্রনাথ নিজেই অভিনয় করেন বাল্মীকির চরিত্রে। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী প্রতিভা অভিনয় করেন সরস্বতীর ভূমিকায়।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও  কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৯২.
'আর কতদিন' - উপন্যাসের উপজীব্য কী?
  1. আসন্ন মুক্তিযুদ্ধ
  2. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের
  4. ভাষা আন্দোলনের
ব্যাখ্যা

'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তার প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৯৩.
প্রতীকী চরিত্রের আড়ালে পাকিস্তান স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চৌরসন্ধি
  2. জননী
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. পতঙ্গ পিঞ্জর
ব্যাখ্যা
• "চৌরসন্ধি" উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস "চৌরসন্ধি"। উপন্যাসের মূল চরিত্র কাল্লু।

- 'কাল্লু' পেশায় একজন দিনমজুর ও রিকশাওয়ালা। একবার কারখানার মালিকপক্ষের সাথে শ্রমিকদের ধর্মঘটকে পুঁজি করে সে খুব অল্প সময়ে লাখপতি হয়। আপাতদৃষ্টিতে ভদ্র সমাজে পা দিলেও আড়ালে নিয়ন্ত্রণ করতো চোরদের এক শ্রেণি। তবে মজার বিষয় হলো এখানে সাধারণ কোনো চোরের কথা তিনি লেখেননি; তবে লিখেছেন রাষ্ট্রীয় দুই খলনায়ক আইয়ুব খান এবং মোনায়েম খানের গল্প।

- পাকিস্তান আমলের দেশভাগের সময়কে নিয়েই লেখা হয়েছে 'চৌরসন্ধি'। পুরো উপন্যাসে ভাষার ব্যবহার ছিলো আরবি-ফারসি মিশ্রিত, যার মাধ্যমে শওকত ওসমান পাকিস্তান স্বৈরশাসনকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন আশ্চর্য হলেও সত্য যে, তাঁর এই ভাষার অপরূপ ব্যবহারের কারণে আইয়ুব খান থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন শওকত ওসমান।

অন্যদিকে, 
• জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে।
• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত 'নেকড়ে অরণ্য' গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
• 'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাসটি একটি মফস্বল গ্রামে পতঙ্গের আক্রমণের কাহিনি হলেও এর আড়ালে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক বার্তা। 

উৎসঃ "চৌরসন্ধি" উপন্যাস শওকত ওসমান; বাংলাপিডিয়া এবং 'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাস।
৯৯৪.
মেঘনাদবধ কাব্যে কোন রসের প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. ক) বীররস
  2. খ) প্রেমরস
  3. গ) করুণরস
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যের কাহিনী রামায়ন থেকে গ্রহণ করা হলেও তা অনেকটা পরিবর্তিত আকারে নেওয়া হয়েছে।
- এই কাব্য নয় সর্গে রচিত। এতে তিন রাত দুই দিনের ঘটনা বর্ণিত আছে।
-----------------
- মেঘনাদবধ কাব্যের বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং কাব্যের নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে।

- বীররসাত্মক কাব্য রচনার উদ্দেশ্য নিয়ে মধুসূদন মেঘনাদবধ কাব্যে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কাব্যটির শুরুতে বীররসের কাহিনীর ইঙ্গিতও রয়েছে।
"সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর-চূড়ামণি
বীরবাহু, চলি যবে গেলা যমপুরে।"

এই স্বরস্বতী-বন্দনাতেই কবি বলেছেন -
গাইব, মা, বীররসে ভাসি,
মহাগীত; উরি, দাসে দেহ পদছায়া।

তবে, বীররসে কাব্যরচনার এই উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হয়ে ওঠে নি
- বীরবাহু জননী চিত্রাঙ্গদার আর্তনাতে, অশোকবনে বন্দিনী সীতার অশ্রুবিসর্জনে, মেঘনাদপত্নী প্রমীলার চিতারোহণে, সর্বোপরি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুত্রহারা রাবণের হাহকারে করুণ রসেরই প্রাধান্য ঘটেছে।
- প্রথম সর্গে বেদনাকাতর রাবণের অনুভূতি শেষ সর্গে চরম হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রাণপ্রিয় পুত্র মেঘনাদের চিতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর হৃদয়ের হাহকার ব্যক্ত করেছেন:  
"ছিল আশা, মেঘনাদ, মুদিব অন্তিমে
এ নয়নদ্বয় আমি তোমার সম্মুখে, -
সঁপি রাজ্যভার, পুত্র, তোমায় করিব
মহাযাত্রা! কিন্তু বিধি-বুঝিব কেমনে
তাঁর লীলা? ভাঁড়াইলা সে সুখ আমারে!"

- রাবণ চরিত্রের এই হাহাকারই কাব্যে প্রাধান্য পেয়েছে।
- আর তাই বলা যায়, কবি কাব্যের প্রথমে বীররসের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করুনরসই প্রাধান্য পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিতের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৯৫.
‘সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়’ ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়


উল্লেখ্য,
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
এগুলো হলো:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯৯৬.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক রচনা কোনটি
  1. বিনুর বই
  2. কঙ্কাবতী
  3. রাখী
  4. দুঃখমোচন
ব্যাখ্যা

• 'বিনুর বই':
- 'বিনুর বই' অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা, লেখকের কথাসাহিত্যিক তথাজীবনশিল্পী হয়ে ওঠার এক অভ্রান্ত টিপছাপ।
- এ বই কতকগুলি ছোট বড় প্রবন্ধের সংকলন নয়, একটি টানা গোটা রচনা এবং প্রতিটি অংশ প্রতিটির সঙ্গে স্বাশ্রয়ী সম্পর্কের সূত্রে গ্রথিত ও সেই সূত্রের মধ্যে একটি মৌল বিবর্তন বর্তমান। 

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯৯৭.
'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম-
  1. সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
  2. মাসিক সংবাদপত্র
  3. দৈনিক সংবাদপত্র
  4. ত্রৈমাসিক সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- শ্রীরামপুর মিশন থেকে পত্রিকাটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯৮.
'পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯৯.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতার চরণ?
  1. হিং টিং ছট
  2. বিদায়
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. পূজারণী
ব্যাখ্যা
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের 'পর" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' - এর চরণ।

• নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবির 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অন্যদিকে,
- বিদায়, 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- হিং টিং ছট', সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- পূজারণী তার 'কথা কাহিনী' কাব্য গ্রন্থের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,০০০.
বিদ্রূপাত্মক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেন-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮ - ১৯৭৯): বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে: আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।
তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।
আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।