বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান

মোট প্রশ্ন৫৫১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৫৫১

৩০১.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয় নি?
  1. ক) ষড়ঋতু
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) ঊষা
  4. ঘ) ভূষণ
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ' যুক্ত হয়।
- যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০২.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নষ্ট
  2. কৃষক
  3. কোষ
  4. বর্ষা
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট,স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৩.
'কণিকা' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. ক) ক-এর পরে 'ণ' বসে
  2. খ) 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  3. গ) ক এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  4. ঘ) স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্কণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩০৪.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাকরণ
  2. কণিকা
  3. ভাষণ
  4. মরণ
ব্যাখ্যা

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩০৫.
'মূর্ধন্য-ষ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পৌষ 
  2. পোষাক
  3. পরুষ
  4. পৌষ্টিক
ব্যাখ্যা

• 'মূর্ধন্য-ষ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- পোষাক শব্দে। 
• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'মূর্ধন্য-ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

-----------------
• ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ, পৌষ্টিক ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, পরুষ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৩০৬.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই 'ণ' হয়নি?
  1. বিপণি
  2. বণিক
  3. তূণ
  4. প্রাণ
ব্যাখ্যা
• 'প্রাণ' শব্দটি ণ- ত্ব বিধি অনুযায়ী গঠিত শব্দ।

সূত্র:
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়:
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্বণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩০৭.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে?
  1. ক) তৎসম শব্দে
  2. খ) ‘ট’ বর্গীয় বর্ণে
  3. গ) ঋ, র, ষ-বর্ণে
  4. ঘ) সবগুলোতেই প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৮.
‘ছাদবাগান’ শব্দটিতে বর্ণসমূহের উচ্চারণের স্থানসমূহ যথাক্রমে-
  1. দন্ত্য, ওষ্ঠ্য, তালু, দন্ত, কণ্ঠ্য
  2. তালু, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য, কণ্ঠ্য, দন্ত্য
  3. কণ্ঠ্য,তালু, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য, দন্ত্য
  4. তালু, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য, দন্ত্য, কণ্ঠ্য
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ:
- ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক জিহ্বা ও ওষ্ঠ।
- আর উচ্চারণের স্থান হলাে কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অগ্রতাল, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।

- উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলােকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
১) কণ্ঠ্য বা জিহ্বামুলীয়,
২) তালব্য বা অগ্রতালুজাত,
৩) মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়,
৪) দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং
৫) ওষ্ঠ্য।
--------------- 
ধ্বনিগুলোর উচ্চারণস্থান:
• ক খ ঘ ঙ - কণ্ঠ্য,
• চ জ ঝ ঞ - তালব্য, 
• ট ঠ ড ঢ ণ - মূর্ধন্য,
• ত থ - দন্ত্য,
• প ফ ভ ম - ওষ্ঠ্য। 

সে অনুসারে,
‘ছাদবাগান’ শব্দটিতে ধ্বনিসমূহের উচ্চারনের স্থানসমূহ যথাক্রমে- তালু, দন্ত্য, ওষ্ঠ্য, কণ্ঠ্য, দন্ত্য। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৩০৯.
অশুদ্ধ বানান -
  1. কাণ্ড
  2. পিণাক
  3. বর্ননা
  4. বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - বর্ননা
- এর শুদ্ধ বানান - বর্ণনা।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:

- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১০.
কোন ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান হয়?
  1. ক) ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে
  2. খ) ত-বর্গীয় বর্ণের যুক্তাক্ষরে
  3. গ) সমাসবদ্ধ শব্দে
  4. ঘ) বিদেশি শব্দের বানানে
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে।
- এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযােজ্য নয়:
- সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন হয়। যেমন-ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
- ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনাে (ণ) হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়ােজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১১.
স্বভাবতই মূর্ধন্য ণ হয় কোন বানানে? 
  1. শোণিত
  2. ক্রন্দণ
  3. বন্ধণ
  4. কর্তণ 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য- ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য- ণ এর ব্যবহার আছে।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য - ণ এর ব্যবহার বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ - এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ণ-ত্ব বিধান শুধু তৎসম শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- যেমন— ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর বানানে সব সময়ই মূর্ধন্য ণ ব্যবহৃত হয়।
- কোনো নিয়ম ছাড়াই স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় যেসব শব্দে— 
- মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, গুণ, পুণ্য, অনু, বিপণী, ক্ষণিকা, লাবণ্য, বাণী, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।

- আবার কিছু শব্দে কখনোই মূর্ধন্য ণ হয় না;
- সেখানে সব সময় দন্ত্য ন-ই ব্যবহৃত হয়।
- যেমন—
- কর্তন, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩১২.
স্বভাবতই মূর্ধন্য ণ বসে কোন বানানে? 
  1. কর্তণ 
  2. ক্রন্দণ
  3. বন্ধণ
  4. বিপণী
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য- ণ এর ব্যবহার আছে।
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য - ণ এর ব্যবহার বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ - এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ণ-ত্ব বিধান শুধু তৎসম শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- যেমন— ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর বানানে সব সময়ই মূর্ধন্য ণ ব্যবহৃত হয়।
- কোনো নিয়ম ছাড়াই স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় যেসব শব্দে— 
- চিক্কণ, নিক্বণ, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, গুণ, পুণ্য, বিপণী, ক্ষণিকা, লাবণ্য, বাণী, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।

- আবার কিছু শব্দে কখনোই মূর্ধন্য ণ হয় না;
- সেখানে সব সময় দন্ত্য ন-ই ব্যবহৃত হয়।
- যেমন—
- কর্তন, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩১৩.
নিম্নের কোন শব্দটি ণ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. ক) প্রমান
  2. খ) প্রণয়ন
  3. গ) প্রবন
  4. ঘ) প্রনিত
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে, প্রণয়ন শব্দটি সঠিক।

- পরি, প্র, নির- এই তিনটি উপসর্গের পর ণত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি মূর্ধন্য হয়। 
- ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।

- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৩১৪.
ষত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি ভুল? 
  1. ষ্টেশন
  2. সুষম
  3. মিথস্ক্রিয়া
  4. নিষ্পাপ
ব্যাখ্যা

ষত্ব বিধান:
- ষত্ব বিধান অনুসারে ষ্টেশন বানানটি ভুল। 
- ষত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শব্দে কখনো মূর্ধন্য-ষ (ষ) ব্যবহৃত হয় না।
- ‘স্টেশন’ শব্দটি ইংরেজি (Station) থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ, তাই এতে ‘ষ’ ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।
- শুদ্ধ বানানটি হবে স্টেশন। 
------------------- 
অন্যদিকে,
- সুষম একটি তৎসম শব্দ।
- ষত্ব বিধান অনুযায়ী, ‘ই’ কারান্ত এবং ‘উ’ কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয় (সু + সম = সুষম)। 

- মিথস্ক্রিয়া: ‘অ’ বা ‘আ’ কারের পর বিসর্গ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গের স্থানে দন্ত্য-স (স) হয়। 
- এখানে ‘মিথঃ + ক্রিয়া = মিথষ্ক্রিয়া’ নিয়মে দন্ত্য-স সঠিক। 

- নিষ্পাপ সন্ধিজাত শব্দ।
- ষত্ব বিধান অনুযায়ী, ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত বিসর্গের পর ক, খ, প, ফ থাকলে বিসর্গের স্থলে ‘ষ’ হয় (নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ)

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩১৫.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিম্নে কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. শ্রদ্ধাভাজনেষু
  2. শ্রদ্ধাস্পদেষু
  3. শ্রদ্ধাস্পদাসু
  4. শ্রদ্ধাস্পদেসু
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান অনুসারে অশুদ্ধ - শ্রদ্ধাস্পদেসু

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদাসু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩১৬.
নিচের কোন শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়েছে?
  1. শোণিত
  2. মণি
  3. শ্রাবণ
  4. বিপণি
ব্যাখ্যা
•'শ্রাবণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।

সূত্র: ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

অন্যদিকে,
- কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
- কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
- আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
- চিক্কণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩১৭.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ষ ব্যবহার হয়েছে?
  1. শোষণ
  2. ঋষি
  3. স্পষ্ট
  4. প্রতিষেধক
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- কিছু শব্দে স্বভাবতই সব সময় মূর্ধন্য ষ থাকে।
- যেমন:
- আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, আভাষ, অভিলাষ, ঈষৎ, ঈর্ষা, কষায়, কোষ, পাষণ্ড, পাষাণ, ভাষা, ভাষণ, মানুষ, সরিষা, ঔষধ, ওষধি, ঘোষণা, পৌষ, কলুষ, শোষণ, ষড়যন্ত্র, সুষম।
---------------------------
অন্যদিকে,
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, দৃষ্টি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩১৮.
‘সুনাম' ও 'দুর্নিবার' শব্দ দুটিতে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হয়নি কেন?
  1. ক) সমাসবদ্ধ পদ বলে
  2. খ) দেশি শব্দ বলে
  3. গ) তৎসম শব্দ বলে
  4. ঘ) বিদেশী শব্দ বলে
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের বানানে ণ - এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।

বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না৷
তাছাড়া সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়।

যেমন- ত্রিনয়ন, সুনাম, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৯.
নিচের কোন শব্দে  স্বভাবতই 'ষ' হয়?
  1. কৃষক
  2. আষাঢ়
  3. ওষ্ঠ 
  4. বর্ষা
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
 যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যথা- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়।
যথা- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২০.
কোন বর্গীয় ধ্বনির আগে সবসময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়?
  1. ক-বর্গীয়
  2. চ-বর্গীয়
  3. ট-বর্গীয়
  4. ত-বর্গীয়
ব্যাখ্যা

• "ণ-ত্ব বিধান": 
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

এখানে,
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। 
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। 
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি। 

২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। 
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি। 

৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৩২১.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) অঘ্রান
  2. খ) অঘ্রাণ
  3. গ) শিহরণ
  4. ঘ) গৃহায়ন
ব্যাখ্যা

- অঘ্রাণ তৎসম শব্দ, এর অর্থ ঘ্রাণহীন, তাই ণ হয়েছে।
- অঘ্রান তদ্ভব শব্দ। অগ্রহায়ণ থেকে অঘ্রান। তাই ন হয়েছে।
- শিহরণ শব্দটি অতৎসম বলে ণ হবে না। শুদ্ধরূপ হবে শিহরন।
- গৃহায়ন অতৎসম শব্দ, তাই ন হয়েছে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৩২২.
শুদ্ধ বানান-জোড় কোনটি?
  1. স্থাণু, লবন
  2. গৌণ, গননা
  3. কণিকা, বেণী
  4. আপণ, শান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান-জোড়: - কণিকা, বেণী

ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৩.
নিচের কোনটি স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. গৃহিণী
  2. কৃপাণ
  3. পণ্য
  4. কণ্টক
ব্যাখ্যা
'পণ্য' স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:

১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), 

- কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৪.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. অণু 
  2. গণিকা
  3. কারণ
  4. বিপণি
ব্যাখ্যা

'কারণ' শব্দে ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী মূর্ধন্য-ণ বসেছে। এখানে, নিত্য মুর্ধন্য 'ণ' হয়নি।

• ণ-ত্ব বিধান সূত্র:
- ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা। আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩২৫.
কোন বর্গের ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়?
  1. ট- বর্গ
  2. ক -বর্গ
  3. চ - বর্গ
  4. ত -বর্গ
ব্যাখ্যা
• ণত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।

- ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩২৬.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. আষাঢ়
  3. রোষ
  4. পাষাণ
ব্যাখ্যা

• 'উৎকৃষ্ট' শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।

সূত্র: 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩২৭.
নিয়ম অনুসারে 'মূর্ধন্য-ষ' ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ষড়যন্ত্র
  2. কৃষক
  3. পৌষ
  4. ভূষণ
ব্যাখ্যা
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

- কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ষড়যন্ত্র, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩২৮.
'ষ' ত্ব বিধান এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) পোষ্ট
  2. খ) মাষ্টার
  3. গ) ষ্টেশন
  4. ঘ) সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে 'সুষুপ্ত' শব্দে। 
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' 'ষ্টেশন' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার, স্টেশন ও পোশাক।   
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) পোষ্ট
  2. খ) মাষ্টার
  3. গ) অগ্নিষাৎ
  4. ঘ) ভূমিসাৎ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন: পোস্ট, মাস্টার, জিনিস, পোশাক ইত্যাদি।

- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্ৰত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- ভূমিসাৎ, ধুলিসাৎ, অগ্নিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
"দুর্নাম, দুর্নিবার" — শব্দগুলোতে মূর্ধন্য ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়নি কেন?
  1. দেশি শব্দ বলে
  2. তৎসম শব্দ বলে
  3. সমাসবদ্ধ শব্দ বলে
  4. বিদেশি শব্দ বলে
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন,
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩১.
ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে কী যুক্ত হয়?
  1. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে '' ও '' যুক্ত হয়।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য '' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে '' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩২.
'ণ'-ত্ব বিধি অনুসারে কোন শব্দগুচ্ছ অশুদ্ধ?
  1. ক) পুরোণো, ধরণ
  2. খ) ধারণা, ঝরনা
  3. গ) বরণীয়, মানবীয়
  4. ঘ) রূপায়ণ, প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
৩৩৩.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে, নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. অগ্নিষাৎ 
  3. ধূলিষাৎ 
  4. ভূমিষাৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি। ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩৪.
'অ, আ' ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক-এর পর ষ-এর প্রয়োগ হলে তা কী হয়?
  1. 'শ' হয় 
  2. অবিকৃত থাকে
  3. 'স' হয় 
  4. বিকৃত হয়
ব্যাখ্যা

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে ষ-এর প্রয়োগ হলে তা- 'ষ' ই হয়; অর্থ্যাৎ তা অবিকৃত থাকে।
যেমন:
ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন:
অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩৫.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী সঠিক নয়?
  1. প্রতিষেধক
  2. পোষাক
  3. সুষমা
  4. প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
• 'পোষাক' এর সঠিক বানান পোশাক কারণ বিদেশি শব্দের বানানে 'ষ' হয় না।

অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।

যেমন:
- অভিসেক >অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ,
- প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, প্রতিস্থান >প্রতিষ্ঠান,
- অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৩৬.
ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ক) পালোয়াণ
  2. খ) রুক্মিণী
  3. গ) ব্রাহ্মণ
  4. ঘ) অর্পণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• পালোয়ান (ফারসি শব্দ)
অর্থ- কুস্তিগির, মল্ল, ব্যায়ামবীর, বলবান, সাহসী ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ‘ণ’ ও ‘ষ’ ব্যবহৃত হয় না। অতএব, পালোয়াণ শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক, কফণি, বণিক, চিক্কণ,তূণ, ভণিতা, আপণ, বিপণি, লবণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৭.
কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কষায়িত
  2. কষণ
  3. কষরত
  4. কষ্টি
ব্যাখ্যা
• ‘কষরত’ শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ বানান: কসরত,
- এটি আরবি শব্দ।
অর্থ: কৌশল, ব্যায়াম, অভ্যাস, চর্চা।
 
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।
 
অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও কোষ শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।
 
-----------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
 
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
 
• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৮.
'রাজীব মাষ্টার ষ্টেশনের কাছেই থাকেন।' - বাক্যটির 'মাষ্টার' ও 'ষ্টেশনের' শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. দুটোই শুদ্ধ
  2. দুটোই অশুদ্ধ
  3. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  4. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'রাজীব মাষ্টার ষ্টেশনের কাছেই থাকেন।' - বাক্যটির 'মাষ্টার' ও 'ষ্টেশনের' শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার - দুটোই অশুদ্ধ


ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন, স্টুডিও ইত্যাদি।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৯.
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) রেশন
  3. গ) ষ্টেডিয়াম
  4. ঘ) কর্ণ ল
ব্যাখ্যা
• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ণ' ত্ব বিধান 'ষ' ত্ব বিধান খাটে না। 
অর্থাৎ 'ণ' ও 'ষ' বিদেশি শব্দে ব্যবহৃত হয় না। 
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে
S = স এবং
sh, shion, sion, tion = শ 

• শুদ্ধ বানান =
রেশন (ফরাসি শব্দ)
কর্নেল (ফরাসি শব্দ)
স্টেডিয়াম (ইংরেজি শব্দ)
মাস্টার (ইংরেজি শব্দ)

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৪০.
কোন ধরনের শব্দে কখনোই মূর্ধণ্য-ণ হবে না ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) বিদেশি
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) আঞ্চলিক
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

বিদেশি শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না — সবসময় ‘ন’ হয়। বাংলা ব্যাকরণে মূর্ধণ্য-ণ-এর ব্যবহার শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দেই সীমাবদ্ধ। অন্য ধরনের শব্দে দন্ত্য-ন ব্যবহৃত হয়। নিচে বিস্তারিত:তৎসম (ক):
সংস্কৃত শব্দে মূর্ধণ্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: প্রাণ, বাণী, ক্ষণিক।বিদেশি (খ):
বিদেশি শব্দে (ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি) ণ ব্যবহার হয় না।
উদাহরণ: টেলিফোন (ফোনে "ন")।
তদ্ভব (গ) -
সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত শব্দে ণ-এর বদলে ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: অঘ্রান (সংস্কৃত "অগ্রহায়ণ" থেকে)।আঞ্চলিক (ঘ):
আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষার শব্দেও ণ ব্যবহার হয় না।
উদাহরণ: কইন্যা (কন্যা)।সূত্র:
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, "মূর্ধণ্য-ণ কেবল তৎসম শব্দেই প্রযোজ্য" (ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)।প্রশ্নটি রিয়েল জবের পরীক্ষায় আসছে বিধায় আমরা অধিক প্রচলিত উত্তর (খ) বিদেশি গ্রহণ করেছি।
৩৪১.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মসাধিত উপায়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চিক্কণ
  2. লাবণ্য
  3. কঙ্কণ
  4. রুক্মিণী
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ্)। এরূপ– রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি৷

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, চিক্কণ, গুণ গণনা, পিণাক, পণ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৪২.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. গণিকা
  2. বেণী
  3. বাণিজ্য
  4. তৃণ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৪৩.
ষ- ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অনুষঙ্গ
  2. প্রতিষেধক
  3. সুষমা
  4. মাষ্টার
ব্যাখ্যা

• ষ- ত্ব বিধান অনুযায়ী 'মাষ্টার' বানানটি অশুদ্ধ।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে য হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। 
যেমন:
- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। 
যেমন সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, বিসম> বিষম, সুসমা> সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৪৪.
'সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।' এর উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্ত
  2. ক্রন্দন
  3. দুর্নিবার
  4. গ্রন্থ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

অন্যদিকে, 
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৫.
"ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত" উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়' এই নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1.  মুমূর্ষু
  2. চক্ষুন্মান
  3. ধূলিসাৎ
  4.  অনুষঙ্গ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তডব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ব লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

"ষ" ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 
২. ট-বগীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ট, ওষ্ঠ ইত্যাদি। 
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের “স' “ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুন্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর “ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, উষা, পৌষ ইত্যাদি

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও “ষ' হয় না। যেমন- অগশ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৬.
নিচের কোন শব্দটির বানানে ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিপুণ
  2. বিপণি
  3. পিন্দণ
  4. বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।
বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন - চাণক্য, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, গণ, নিপুণ, বিপণি ইত্যাদি।
'পিন্দণ'  শব্দটির সঠিক বানান - পিন্দন ।

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৩৪৭.
‘ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়’ এই নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অকুণ্ঠ
  2. প্রনষ্ট
  3. চন্দ্রায়ণ
  4. চূর্ণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ (দন্ত্য-ন) স্থানে ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয়, তাকে ণ-ত্ববিধান বলে।
অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
যেমন- ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন -এর ব্যবহার আছে, তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টা, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য়, ব, হ, ং, এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কণ্ঠ
  2. কণ্টক
  3. পাণ্ডব
  4. ঘন্টা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান বানান অনুসারে, 'ঘন্টা' শব্দটি অশুদ্ধ। 

• ণ-ত্ব বিধান: 
• ট–বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, কণ্ঠ। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- তৃণ, ঋণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ং এবং 'ক' বর্গীয় ও 'প' বর্গীয় থাকলে তার পরবর্তীতে ‘ন’ তখন ‘ণ’ হয়ে যায়।
যেমন- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৪৯.
'ষ' ত্ব বিধান এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. মাষ্টার
  2. ষ্টেশন
  3. পোষ্ট
  4. সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে 'সুষুপ্ত' শব্দে। 
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' 'ষ্টেশন' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার, স্টেশন ও পোশাক।   
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৫০.
কোন শব্দে স্বভাবত 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভণিতা
  2. বর্ণনা
  3. ব্যাকরণ
  4. ভাষণ
ব্যাখ্যা

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তুণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে,
ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫১.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে
  2. তৎসম শব্দের বানানে
  3. ঋ, র, ষ - এর পরে
  4. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫২.
কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে?
  1. প্রতিষ্ঠান
  2. পাষাণ
  3. ভাষণ
  4. ভূষণ
ব্যাখ্যা
'প্রতিষ্ঠান' শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে।

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

ষ ব্যবহারের নিয়ম:
ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

স্বভাবতই 'ষ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষা, ভাষণ, ভূষণ  ঊষা, কলুষ, মানুষ, পাষাণ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫৩.
নিচের কোন শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ভাষণ
  2. অগ্রণায়ক
  3. পিণাক
  4. কাণ্ড
ব্যাখ্যা
• ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ- অগ্রণায়ক শব্দে।
• শুদ্ধ বানান- অগ্রনায়ক।

--------------------
• ণ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫৪.
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. লক্ষণ
  2. কারণ
  3. লাবণ্য
  4. কাণ্ড
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৫.
ঋ, র, ষ এর পর কোন বর্গের ধ্বনি থাকলে 'ণ' হয়?
  1. প বর্গ
  2. চ বর্গ
  3. ট বর্গ
  4. ত বর্গ
ব্যাখ্যা
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ),
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ),
- অর্পণ (র্ + প্ + অ+ ণ),
- লক্ষণ (ক্+অ+ণ)।
এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৫৬.
'পাষাণ' শব্দটিতে ‘ষ’ হয়েছে কোন রীতিতে?
  1. ক) স্বাভাবিক নিয়মে
  2. খ) তৎসম শব্দে ‘ষ’ হয়
  3. গ) তৎসম শব্দে ‘ণ’ হয়
  4. ঘ) প- বর্গের পর ‘ণ’ হয়
  5. ঙ) ঋ, র, ষ এর পর ‘ণ’ হয়
ব্যাখ্যা
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়- পাষাণ, পোষণ, আষাঢ়, আভাষ, অভিলাষ।
৩৫৭.
নিচের কোনটিতে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য?
  1. ক) নির্নিমেষ
  2. খ) ত্রিনয়ন
  3. গ) পরনিন্দা
  4. ঘ) ত্রিহায়ণ
ব্যাখ্যা

- নির্নিমেষ, ত্রিনয়ন, পরনিন্দা - সমাসবন্ধ শব্দ।
- পূর্বপদ ও পরপদের সংযোগ স্থলে ন এসেছে বলে ণ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়। তাই হয়েছে।

ত্রিহায়ণ শব্দটিও সমাসবদ্ধ শব্দ। পূর্বপদ ত্রি ও পরপদ হায়ন এর সংযোগস্থলে ন আসেনি।
যেহেতু পরপদের শেষে ন আছে, তাই ণ-ত্ব বিধি অনুযায়ী ন পরিবর্তন হয়ে হয়েছে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৩৫৮.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে কোনটিতে?
  1. গৌণ
  2. বাণিজ্য
  3. লক্ষণ
  4. কল্যাণ
ব্যাখ্যা
- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি; ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ কারের পরে প, তার পরে ণ),
- হরিণ,
- অর্পণ,
- লক্ষণ,
- রুক্মিণী,
- ব্রাহ্মণ।

- কিন্তু বাণিজ্য, গৌণ, স্থাণু, কল্যাণ, লবণ শব্দগুলোতে স্বভাবতই ণ হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকর, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৯.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক্রন্দণ
  2. গৌণ
  3. কঙ্কণ
  4. বর্ণনা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬০.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. বিষম
  3. কৃষক
  4. ভাষণ
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য-ষ ব্যবহারের নিয়ম:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্‌ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি ।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
• ‘ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
• র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা- পুরস্কার
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ’ যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৩৬১.
মূর্ধন্য-ণ এর শুদ্ধ ব্যবহার ঘটেছে কোন শব্দ?
  1. ঝরণা
  2. পরাণ
  3. ক্ষৌণি
  4. গভর্ণর
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে 'র, ষ, ক্ষ' এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
- ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
- ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ণ, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬২.
নিচের কোন গুচ্ছের সব বানান শুদ্ধ?
  1. ক) সামর্থ্য, নৈর্ব্যক্তিক, চর্বচূষ্য
  2. খ) অর্ঘ্য, হর্ম্য, সূর্য্য
  3. গ) রামায়ণ, পরায়ণ, পলায়ণ
  4. ঘ) নিপুণ, চিক্কণ, লবন
ব্যাখ্যা

- সূর্য্য-এর শুদ্ধরূপ সূর্য। কারণ, রেফের পরে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না।

- রামায়ণ, পরায়ণ বানানে ণ হলেও ণত্ব বিধি অনুযায়ী পলায়ন বানানে ন হবে।
- নিপুণ, চিক্কণ বানান ঠিক থাকলেও লবণ বানানে ণ হবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি।

৩৬৩.
কোন ক্ষেত্রে সর্বদা দন্ত্য (‘ন’) ব্যবহার হয়? 
  1. ক্রিয়াপদের শেষে 
  2. ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে 
  3. বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 
  4. উপরের সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

স্বভাবতই দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার:
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান মূলত তৎসম শব্দে প্রযোজ্য, যেখানে ঋ, র বা ষ-এর পরে দন্ত্য ন → মূর্ধন্য ণ হয়।
- তবে ক্রিয়াপদের অন্তঃস্থিত বা শেষে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
- অর্থাৎ, ক্রিয়াপদের শেষে সর্বদা দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার হয়, মূর্ধন্য ণ কখনও বসে না।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘করন’, ‘ধরেন’, ‘মারেন’, ‘যাবেন’, ‘খাবেন’, ‘হবেন’—এই সব ক্রিয়াপদের শেষের ন সাধারণ দন্ত্য ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
- করন মানে কাজ সম্পাদন করা, এটি একটি ক্রিয়াপদ। 
- তাই করন শব্দটিতে স্বভাবতই দন্ত্য ন (‘ন’) ব্যবহার হয়েছে। 

- ত-বর্গীয় বর্ণের সাথে যুক্ত 'ন' সর্বদা দন্ত্য ‘ন’ (ন) হয়। 
- যেমন- সন্তান, অন্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, পন্থা ইত্যাদি। 

- বিদেশি (ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি) শব্দের বানানে 'ণ' হয় না, সর্বদা 'ন' (দন্ত্য-ন) হয়। 
- বিদেশি শব্দে ণত্ব বিধান খাটে না।
- উদাহরণসমূহ:
- কর্নার, গভর্নর, সিলেবাস, বাস, মেশিন, ফার্নিচার ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৬৪.
'ণ' -এর সঠিক ব্যবহার হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) ত্রিণয়ন
  2. খ) লবণ
  3. গ) দুর্ণাম
  4. ঘ) অগ্রণায়ক
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
• এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমনঃ
- ত্রিনয়ন,
- সর্বনাম,
- দুর্নীতি,
- দুর্নাম,
- দুর্নিবার,
- পরনিন্দা,
- অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৫.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) ঋষি
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) অনুষঙ্গ
  4. ঘ) কোষ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৬.
'ণ-ত্ব' বিধি অনুসারে কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ভূষণ
  2. রেণু
  3. খণ্ড
  4. লণ্ঠন
ব্যাখ্যা
• 'ণ-ত্ব' বিধি অনুসারে 'লণ্ঠন' বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান - 'লন্ঠন'। 
কারণ, 
'ণ-ত্ব' বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন নেই। 'লন্ঠন' - ইংরেজি শব্দ।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 

১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 
 
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬৭.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) মান্যবরাসু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
  3. গ) মাননীয়েসু
  4. ঘ) কল্যাণীয়েষু
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধি অনুসারে, মান্যবরাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়েষু সঠিক।
- মাননীয়েসু ভুল। শুদ্ধরূপ হবে - মাননীয়েষু

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৩৬৮.
কোনটিতে স্বভাবতই 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) প্রণাম
  2. খ) দৰ্পণ
  3. গ) নির্ণয়
  4. ঘ) বিপণি
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী

• ঋ, র, ষ - এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
• ঋ, র, ষ - এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দৰ্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
• ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
• প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য “ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে।
- যেমন: প্রবণ, প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
• ত, থ, দ, ধ - এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন' হয়, “ণ” হয় না।
- যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে: বিপণি, নিক্বণ, বাণ, শাণ, কল্যাণ ইত্যাদি। 

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বিপণি, বাণিজ্য লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৯.
 'ত্রিনয়ন' শব্দে 'ন' ব্যবহৃত হওয়ার কারণ কী?
  1. এটি তদ্ভব শব্দ
  2. এটি দেশি শব্দ
  3. এটি সমাসবদ্ধ শব্দ
  4. এটি বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা

• "ণ-ত্ব বিধান": 
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

এখানে,
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। 
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। 
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি। 

২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। 
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি। 

৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৩৭০.
ষ- ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি ভুল?
  1. সুষুপ্ত
  2. সুষমা
  3. বিষম
  4. পোষাক
ব্যাখ্যা
• ষ- ত্ব বিধান অনুযায়ী পোষাক বানানটি ভুল।
• শুদ্ধ বানান: পোশাক।

• সূত্র:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে য হয় না।
- এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে।
যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, বিসম> বিষম, সুসমা> সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭১.
নিয়ম অনুসারে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কঙ্কণ
  2. বাণিজ্য
  3. হরিণ
  4.  বিপণি
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ্)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি৷

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, চিক্কণ, নিক্কণ, গুণ গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩৭২.
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ' ব্যবহৃত হয়নি কোন শব্দে?
  1. ঊষা
  2. ষড়ঋতু
  3. চক্ষুষ্মান
  4. ভাষণ
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:

১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৩.
নিচের কোন শব্দটিতে ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আপণ
  2. বিপণি
  3. পিণ্ডারি
  4. নিপুণ
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে- পিণ্ডারি শব্দে। 
• 'পিণ্ডারি'  শব্দটির সঠিক বানান - পিন্ডারি।
• 'পিন্ডারি' অর্থ- মহারাষ্ট্রীয় অশ্বারোহী দস্যুদল, বর্গি।
'পিন্ডারি' মারাঠি শব্দ। বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম খাটে না।

অন্যদিকে,
----------------
• আপণ- 

→ আপণ একটি পুরনো তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ: নিজের মালিকানাধীন বা দোকান।
→ যদিও অনেকেই আপন ভাবেন, আসলে আপণ বানানটিও অভিধানসম্মতভাবে স্বীকৃত।
→ উদাহরণ: “আপণ প্রতিষ্ঠানে সে কর্মরত।”

• বিপণি- 
→ শুদ্ধ বানান: বিপণি (অর্থ: দোকান)
→ ‘ণ’ ব্যবহারে ভুল নেই।

• নিপুণ- 
→ শুদ্ধ বানান: নিপুণ (অর্থ: দক্ষ/কুশলী)
→ সঠিক প্রয়োগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৭৪.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম সাধিত উপায়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ষড়ঋতু
  2. সুষমা
  3. পাষাণ
  4. ভূষণ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

"ষ" ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 
২. ট-বগীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ট, ওষ্ঠ ইত্যাদি। 
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের “স' “ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুন্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারাস্ত এবং উ-কারাস্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর “ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও “ষ' হয় না। যেমন- অগশ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭৫.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে?
  1. চিকীর্ষা
  2. অভিষেক
  3. মানুষ
  4. অনুষঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অনুষঙ্গ, চিকীর্ষা ও অভিষেক ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।

• সূত্র:
 ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, বিসম> বিষম, সুসমা> সুষমা ইত্যাদি।
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭৬.
কোন বনানাটি অশুদ্ধ?
  1. সুষমা
  2. সুষুপ্ত
  3. অনুষঙ্গ
  4. মাষ্টার
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - মাষ্টার।
- এর শুদ্ধরূপ - মাস্টার।

‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:

১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন: অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৭৭.
নিচের কোন শব্দে নিত্য মূর্ধন্য 'ণ' হয়?
  1. গণ
  2. ভাষণ
  3. কাণ্ড
  4. কারণ
ব্যাখ্যা
- ট- বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দের সব সনয় মূর্ধন্য ণ যুক্ত.।
যেমন:  ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারে নিয়মই ণত্ব বিধান।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
- চাণক্য,
- মাণিক্য,
- গণ,
- বাণিজ্য
- লবণ,
- মণ,
- বেণু,
- বীণা,
- কঙ্কণ
- কণিকা,
- আপণ,
- লাবণ্য,
- বাণী,
- নিপুণ,
- ভণিতা,
- পাণি,
- গৌণ,
- কোণ,
- ভাণ ইত্যাদি

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]


 
৩৭৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) পরগণা
  2. খ) দূরবিন
  3. গ) অন্তরিণ
  4. ঘ) ভান্ডার
ব্যাখ্যা

- পরগণা ফারসি শব্দ, সুতরাং নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শব্দে ণ হবে না।
তাই শুদ্ধরূপ হবে পরগনা

- দূরবিন ফারসি শব্দ, তাই ঊ-কার হবে না।
শুদ্ধরূপ দুরবিন

- অন্তরিণ ইংরেজি শব্দ, সুতরাং ণ হবে না।
শুদ্ধরূপ অন্তরিন

- ভান্ডার খাঁটি বাংলা বলে ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত হয়েও ন হয়েছে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান

৩৭৯.
কোন ভাষার শব্দে ণ থাকলে তা অবিকৃতভাবে রাখতে হয়?
  1. দেশী শব্দে
  2. বিদেশি শব্দে
  3. অর্ধতৎসম শব্দে
  4. তৎসম শব্দে
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দ হলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সেই শব্দগুলো, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে। 
- ‘তৎ’ মানে সংস্কৃতের এবং ‘সম’ মানে তুল্য বা অপরিবর্তিত।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহারের নিয়ম মূলত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- এ নিয়মকে বলা হয় ণত্ব বিধান।
- ণত্ব বিধান অনুযায়ী, তৎসম শব্দে দন্ত্য-ন (ন) নির্দিষ্ট পরিবেশে মূর্ধন্য-ণ (ণ)-এ রূপান্তরিত হয় এবং সেই বানান অবিকৃতভাবেই রাখতে হয়।
-
বাংলা তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- যেমন— কুরআন,সিলেবাস, স্টেশন ইত্যাদি শব্দে কখনোই ণত্ব বিধান খাটে না।
------------------------ 

• ণত্ব বিধানের প্রধান নিয়ম হলো—
- ঋ, র, রেফ (র্), র-ফলা ও ষ-এর পরে যদি দন্ত্য-ন থাকে, তবে তা মূর্ধন্য-ণ হয়।
- উদাহরণ—
- ঋ-এর পরে: ঋণ, ঘৃণা, মৃণাল। 
- র-এর পরে: কারণ, বরণ, মরণ। 
- রেফ (র্)-এর পরে: বর্ণ, চূর্ণ, শীর্ণ। 
- র-ফলা-এর পরে: ত্রাণ, দ্রোণ, অগ্রহায়ণ। 
- ষ-এর পরে: ভীষণ, বিশেষণ, পাষাণ। 

- এছাড়া ঋ, র বা ষ-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গীয় বা প-বর্গীয় ব্যঞ্জন, য, ব, হ কিংবা অনুস্বার থাকে, তাহলে তার পরবর্তী দন্ত্য-নও ণ হয়ে যায়।
- যেমন— কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ, অগ্রহায়ণ।

- যুক্তব্যঞ্জনে ট-বর্গীয় বর্ণের আগে থাকা দন্ত্য-ন সাধারণত মূর্ধন্য-ণ হয়।
- যেমন— ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, ভণ্ড।

- কিছু শব্দ আছে যেগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
- এগুলোকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ শব্দ।
- যেমন— চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কল্যাণ, শোণিত, মণ, বেণু, অণু, পুণ্য ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৮০.
ণ-ত্ব বিধান এর ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয় না।
  2. খ) ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না।
  3. গ) সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
  4. ঘ) ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩৮১.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) ধরন
  2. খ) মূল্যায়ন
  3. গ) গৃহকোণ
  4. ঘ) অন্তরীণ
ব্যাখ্যা
অন্তরিন ইংরেজি শব্দ, তাই ন হবে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
৩৮২.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. অন্ত, কাণ্ড, বিষম
  2. কারণ, ঘর্ষণ, মরন
  3. গ্রন্থ, উষ্ণ, জিনিষ
  4. কাণ্ড, দ্বেষ, ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক - অন্ত, কাণ্ড, বিষম

ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

• ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

২. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৩. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৪. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৩.
নিচের কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) আত্মসাৎ
  2. খ) আপস
  3. গ) মাস্টার
  4. ঘ) ষ্টিল
ব্যাখ্যা

- আত্মসাৎ শব্দে সাৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে বলে স হয়েছে।
- আপস ও মাস্টার বিদেশি শব্দ বলে স হয়েছে।
- ষ্টিল বিদেশি শব্দ। তাই স হবে। শুদ্ধরূপ - স্টিল

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৩৮৪.
নিচের কোন শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সুজনীয়াষু 
  2. কল্যাণীয়াষু 
  3. সুজনেষু 
  4. প্রিয়তমাষু 
ব্যাখ্যা

সুজনেষু শব্দটিতে সম্বোধনসূচক রূপে মূর্ধন্য ‘ষ’ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
----------------------------- 
মূর্ধন্য ‘ষ’ এর সঠিক ব্যবহার:
- সম্বোধনসূচক শব্দে পুরুষ ও স্ত্রীবাচকের ভেদে ‘স/ষ’-এর ব্যবহার আলাদা হয়।
- যখন কোনো পুরুষবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে এ-কার থাকে, তখন তার পরে থাকা স দন্ত্য স মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়ে যায়। 
- যেমন— কল্যাণীয়েষু, প্রিয়বরেষু, সুজনেষু, প্রীতিভাজনেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু।

- কিন্তু যখন স্ত্রীবাচক সম্বোধনসূচক শব্দে আ-কার থাকে, তখন সেখানে মূর্ধন্য ষ হয় না, বরং দন্ত্য ‘স’ই থাকে।
- যেমন — কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, পূজনীয়াসু, মাননীয়াসু, প্রিয়তমাসু, সুজনীয়াসু

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩৮৫.
কোন শব্দের বানানে ‘মূর্ধন্য-ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ?
  1. অনুষঙ্গ
  2. জিনিষ
  3. পোষাক
  4. ধূলিষাৎ
ব্যাখ্যা
•  শুদ্ধ বানান - অনুষঙ্গ। 

• ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৮৬.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি ভুল? 
  1. অন্ত
  2. গ্রন্থ
  3. ক্রন্দন
  4. কোনটিই নয়  
ব্যাখ্যা

ণত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ণত্ব বিধান অনুযায়ী, ত-বর্গীয় বর্ণ (ত, থ, দ, ধ, ন) এর আগে কখনও মূর্ধন্য ণ বসে না।
- বরং সব সময় দন্ত্য ন ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা বানানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
- মূল কারণ হলো, ত-বর্গীয় বর্ণগুলো দন্ত্য মূল থেকে উচ্চারিত হয়, তাই তাদের সাথে যুক্ত দন্ত্য ন সহজ ও স্বাভাবিক উচ্চারণ নিশ্চিত করে। - উদাহরণস্বরূপ:
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বৃন্দ, বৃন্ত, ভ্রান্ত, মন্তব্য, ছন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৮৭.
নিচের কোনটি পদের অংশ নয়?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) বচন
  3. গ) নির্দেশক
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
পদের অংশ
- বিভক্তি,
- নির্দেশক,
- বচন,
- বলক

শব্দের অংশ
- উপসর্গ ও
- প্রত্যয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
 
৩৮৮.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মাষ্টার
  2. ঔষধ
  3. ঊষা
  4. পৌষ
ব্যাখ্যা
বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।

যেমন:
- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৯.
নিম্নের কোনটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে
  2. তৎসম শব্দের বানানে
  3. ঋ, র, ষ - এর পরে
  4. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯০.
তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। - এই সূত্র অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘর্ষণ
  2. সৃষ্টি
  3. কৃষক
  4. দ্বেষ
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন
- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

অন্যদিকে, 
• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯১.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভূমিষাৎ
  2. ধূলিষাৎ
  3. অগ্নিষাৎ
  4. ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক> অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯২.
কোন শব্দটিতে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে?
  1. হরিণ
  2. ক্ষীণ
  3. রাবণ
  4. স্থাণু
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
- কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
- আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
- চিক্কণ, নিক্বণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।
 
অন্যদিকে,
- 'হরিণ', 'ক্ষীণ' তে 'ণ' হয়েছে কারণ ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- 'রাবণ' এ 'ণ' হয়েছে কারণ ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৯৩.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ভুলণ্ঠিত
  2. ভূলুণ্ঠিথ
  3. ভূলুণ্ঠিত
  4. ভূলুন্ঠিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- ভূলুণ্ঠিত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- মাটি বা ধুলায় পড়ে গড়াগড়ি করছে এমন।

উল্লেখ্য,
- ট- বর্গের ট, ঠ, ড, ঢ- এই চারটি বর্ণের পর যুক্তবর্ণ তৈরিতে সর্বদা মূর্ধন্য ণ হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৪.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লবণ
  2. হরিণ
  3. বাণিজ্য
  4. কণিকা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।

মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+), লক্ষণ (ক্+ + অ + )। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ,  পুণ্য, বেণী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৩৯৫.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়?
  1. ভাষ্য
  2. অদৃষ্ট
  3. কৃষ্ণ
  4. বর্ষ
ব্যাখ্যা
• কোন নিয়ম ছাড়াই, স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয় = ”ভাষ্য” শব্দে।

অন্যদিকে,
• ট, ঠ - এই দুইটি মূর্ধন্য বর্ণের পূর্বে সর্বদা ”ষ” হবে। (যুক্তাক্ষরের রূপ হবে (ষ্ট/ষ্ঠ)।
যেমন-
- অদৃষ্ট, অনাবৃষ্টি, আকৃষ্ট, অন্তর্দৃষ্ট, ইত্যাদি।

• ঋ বা ঋ - কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন- কৃষ্ণ।

• রেফ-এর পর মূর্ধন্য-ষ হবে।
যেমন: বর্ষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৬.
"ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান" বলতে বোঝায়? 
  1. তৎসম শব্দের বানান রীতি
  2. বিদেশি শব্দের বানান রীতি
  3. দেশীয় শব্দের বানান রীতি
  4. তদ্ভব শব্দের বানান রীতি
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান:
- ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান হলো তৎসম শব্দের বানান রীতি। 
- বানানে 'ণ' ও 'ষ' ব্যবহারের বিধানকেই ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান বলে। 
- 'ণ' ত্ব ও 'ষ' ত্ব বিধান তৎসম শব্দে অনুসৃত হয়। 
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' ত্ব ও 'ষ' ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- সমাসবদ্ধ শব্দের বানানেও 'ণ' ত্ব ও 'ষ' ত্ব বিধান নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯৭.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ঘণ্টা
  2. বেণু
  3. ঋণ
  4. উষ্ণ
ব্যাখ্যা

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯৮.
নিচের কোন শব্দটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ষ'- হয়নি?
  1. ষড়ঋতু
  2. ভূষণ
  3. চিকীর্ষা 
  4. ঊষা
ব্যাখ্যা

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
 যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৯৯.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়?
  1. স্পষ্ট
  2. ঊষা
  3. ওষ্ঠ 
  4. উৎকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• ’ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:

• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০০.
কোনটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. ভীষণ
  2. উষ্ণ
  3. কৃপণ
  4. বাণিজ্য
ব্যাখ্যা

• 'বাণিজ্য' — শব্দটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।

• মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।

যেমন- 
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ,  কফণি, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।