ব্যাখ্যা
উৎস: ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৮ / ১৯ · ১,৭০১–১,৮০০ / ১,৮৬১
• ভ্যাট:
- Value Added Tax, বা মূল্য সংযোজন কর।
- বাংলাদেশের প্রথম ভ্যাট চালু হয়- ১ জুলাই, ১৯৯১ সালে।
- ভ্যাট বা মূসক একটি পরোক্ষ কর।
- ভ্যাট থেকে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় আসে আয়কর থেকে।
- বর্তমানে ভ্যাট স্তর চারটি: ৫%, ৭.৫%, ১০% ও ১৫%।
তথ্যসূত্র: NBR ওয়েবসাইট।
এজেন্ট ব্যাংকিং:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি হয়ে যে সব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মাধ্যমে জনগণকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে তাকে এজেন্ট ব্যাংক বলা হয়।
- এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে সাশ্রয়ীমূল্যে ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে।
- বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে।
- ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি।
- যে কারণে ১৭ জানুয়ারি এজেন্ট ব্যাংকিং দিবস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- মুন্সীগঞ্জ জেলার জৈনসার ইউনিয়নে প্রথম এজেন্ট আউটলেট খোলা হয়।
উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালে বিশ্বে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে ব্রাজিল।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:
১) কাগজ শিল্প: রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।
২) নিউজপ্রিন্ট কারখানা: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।
৩) দিয়াশলাই শিল্প: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
৪) রেয়ন শিল্প: চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
৫) চামড়া শিল্প: সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
৬) পর্যটন শিল্প: পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সুন্দরবন পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় স্থান। প্রাকৃতিক দৃশ্য ও জীববৈচিত্র্য পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
⇒ মাথাপিছু আয়:
- সাধারণত মাথাপিছু আয় বলতে জনপ্রতি বার্ষিক আয়কে বুঝায়।
- কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে কোন দেশের মোট জাতীয় আয়কে ঐ বছরের মধ্যসময়ের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলেই মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
⇒ মোট জাতীয় আয় (Gross National Income বা GNI):
- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলে।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
• বাংলাদেশের বিশেষায়িত ব্যাংক নয়- বেসিক ব্যাংক লিমিটেড।
- এটি একটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক।
• বাংলাদেশের বিশেষায়িত ব্যাংক:
- বাংলাদেশে বিশেষায়িত ব্যাংক - ৩টি।
- প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
- রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক:
- সোনালী ব্যাংক পিএলসি।
- জনতা ব্যাংক পিএলসি।
- অগ্রণী ব্যাংক। -
- রূপালী ব্যাংক।
- বেসিক ব্যাংক লিমিটেড।
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক।
• রাজস্ব বাজেট:
- রাজস্ব বাজেট সাধারণত রাজস্ব আয় ও রাজস্ব ব্যয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
- সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনার জন্য এ বাজেট হয়ে থাকে।
- এক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসন, সামাজিক সেবা সমূহ, প্রতিরক্ষা ইত্যাদি হলো প্রধান ব্যয়ের খাত।
- অপরদিকে সরকারি কর ও কর বহির্ভূত রাজস্ব হলো রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস।
- রাজস্ব বাজেট মূল্য একটি অনুৎপাদনশীল বাজেট।
- কারণ এটি কেবল সরকারের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কাজ পরিচালনার জন্যই করা হয়।
- এ বাজেটের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোন আয় উপার্জনের সুযোগ নেই।
- রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সাধারণত ব্যবধান থাকে।
- কারণ সরকার সব সময় আয় থেকে ব্যয় বেশী করে। এই ব্যবধানকে বলা হয় রাজস্ব ঘাটতি।
উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি :
-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগকালিন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে এবং কৃষি ক্ষেত্রে কর্মহীন সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
(১) দুঃস্থদের খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ)
(২) খাদ্য ও অর্থ সহায়তা (জিআর)
• ভিজিএফ :
-ভিজিএফ কর্মসূচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়।
- এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য হ্রাস করা।
• জিআর :
- জিআর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি মানবিক সহায়তা কমসূচি, যাতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে জরুরি সাহায্য হিসেবে খাদ্যশস্য/নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
তথ্যসূত্র: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের।
বাংলাদেশের বার্ষিক বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণকারী সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম।
- ফোরামের সমন্বয়ক হলো বিশ্বব্যাংক ।
- 2002 সালে এইড গ্রুপ নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম রাখা হয় ।
- বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্য যাতা অধিকাংশ দেশ ও সংস্থা এই ফোরামের সদস্য।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ প্রত্যক্ষ কর (Direct Tax) এর একটি উদাহরণ - আয়কর (Income Tax) ।
• প্রত্যক্ষ কর:
- প্রত্যক্ষ কর হলো এরূপ কর যার বোঝা সরাসরি ব্যক্তিকে বহন করতে হয়।
• প্রত্যক্ষ করসমূহ হলো:
- আয়কর,
- দানকর,
- ভূমি উন্নয়ন কর,
- ভ্রমণ কর ইত্যাদি।
• পরোক্ষ কর:
- মূল্য সংযোজন কর:
- আমদানি শুল্ক:
- আবগারি শুল্ক:
- সম্পূরক শুল্ক:
উৎস: অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কোন ব্যক্তির উপর আরোপিত কর সরকার প্রত্যক্ষভাবে আদায় করলে এবং করদাতা ঐ করের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম না হলে তাকে প্রত্যক্ষ বলে। যেমনঃ
- আয়কর,
- ভূমিকর,
- মুনাফা কর,
- ব্যয়কর ইত্যাদি।
• করদাতা নিজে প্রত্যক্ষভাবে বা সরাসরি কর প্রদান না করে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারকে কর প্রদান করলে তাকে পরোক্ষ কর বলে। যেমনঃ
- মূসক,
- আমদানি শুল্ক,
- বিক্রির কর,
- পণ্যকর,
- সম্পূরক শুল্ক,
- মূল্য সংযোজন কর,
- আবগারি শুল্ক ইত্যাদি।
• দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র :
- PRSP এর পূর্ণরূপ- Poverty Reduction Strategy Paper.
- দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র(পিআরএসপি) দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিশ্বে নিম্ন আয়ের দেশগুলির অভ্যন্তরীণভাবে গৃহীত নীতি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য প্রণীত দলিল বা রূপরেখা।
- মার্চ ২০০৩ সালে বাংলাদেশ অন্তবর্তীকালীন পিআরএসপি (আইপিআরএসপি) প্রথম প্রণয়ন করে।
- এর শিরোনাম ছিল ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নের কৌশল’।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
- ২০২৩ সালের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা প্রণয়ন করে।
- সেই নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ছিল ১২৫ কোটি টাকা।
- বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স (অনুমোদন) দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
- এ জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
- তবে প্রচলিত ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে প্রয়োজন ৫০০ কোটি টাকা।
উৎস: প্রথম আলো।
- বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা নয়: শ্রম শক্তির অপ্রতুলতা।
- বরং, বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সস্তা ও প্রচুর শ্রমশক্তি।
• বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিবন্ধকতা:
- বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) হলো এমন এক ধরনের বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়িক স্বার্থে অন্য দেশে বিনিয়োগ করে।
- বিনিয়োগ ব্যয় বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অনেকগুলো উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনায় প্রতিযোগী দেশগুলোর থেকে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধির পথে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, যা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং অবকাঠামোগত কারণে উদ্ভূত।
- বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগে চারটি প্রধান বাধার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যথা:
১. সরকারি সেবার মান,
২. ইউটিলিটি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন) সেবার অপ্রতুলতা,
৩. দুর্নীতি,
৪. বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরকারি সংস্থাগুলোর বোঝাপড়ায় ঘাটতি।
এছাড়াও,
• বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সমূহ:
১. প্রশাসনিক লাল ফিতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা,
২. স্বচ্ছতার অভাব,
৩. অপর্যাপ্ত অবকাঠামো,
৪. রাজনৈতিক অস্থিরতা,
৫. আইনি ও বিচারিক দুর্বলতা,
৬. জমি অধিগ্রহণ ও সম্পত্তি অধিকারের সমস্যা,
৭. কর ব্যবস্থা ও নীতিগত অস্থিরতা।
তথ্যসূত্র: সমকাল, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও সামষ্টিক অর্থনীতি, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (Link)
• ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা– ৩ জুন ২০২১
এবং বাজেট পাশ ৩০ জুন ২০২১।
• বাজেট কার্যকর হয় ১ জুলাই ২০২১।
• বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল।
• বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
• বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা (জিডিপির ১৭.৫%)।
• ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।
• জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৭ দশমিক ২ ভাগ।
• রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা।
• করোনা মোকাবিলায় বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা।
• মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৬৬ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।
• মাথাপিছু জাতীয় আয় ২৪৬২ মার্কিন ডলার।
• সাক্ষরতার হার ৭৪.৭%।
• প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭২.৬ বছর।
• দরিদ্র জনসংখ্যার হার ২০.৫%।
• অতি দরিদ্র জনসংখ্যার হার ১০.৫%।
• মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ ভাগ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
কাবিখা:
- 'কাবিখা' বা 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে।
⇒ কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীন অবকাঠামো নির্মাণ/পুননির্মাণ।
- স্বাভাবিক অবস্থায় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন।
- গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
- গ্রামীণ দরিদ্র জনগনের আয় বৃদ্ধি।
- দেশের সর্বত্র খাদ্য সরবরাহের ভারসাম্য আণয়ন এবং
- দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি।
তথ্যসূত্র - সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
- টোল ও লেভী – সেতু ও অন্যান্য সরকারি নির্মাণ থেকে আদায়। যা কর বহির্ভূত রাজস্ব।
• কর বহির্ভূত রাজস্ব
১। মুনাফা ও লভ্যাংশ সরকারি শিল্প, কারখানা ও কোম্পানির মুনাফা ও লভ্যাংশ।
২। সুদ- সরকার প্রদত্ত ঋণ থেকে প্রাপ্ত সুদ।
৩। ফি – বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে আদায়কৃত অর্থ, যেমন কোট ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি।
৪। জরিমানা – আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা অপরাধী থেকে আদায়।
৫। সরকারি সম্পত্তি খাল, বিল, নদী, বন, সরকারি খাস জমি ইত্যাদি লীজ দিয়ে অর্জিত আয়।
৬। টোল ও লেভী – সেতু ও অন্যান্য সরকারি নির্মাণ থেকে আদায়।
৭। বাণিজ্যিক আয় সরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেমন রেল, ডাক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রাপ্ত আয়।
৮। বিশেষ কর – উন্নয়নমূলক কাজের কারণে জমির মূল্যবৃদ্ধি থেকে প্রাপ্ত আয়।
৯। বিবিধ আয় – ক্ষতিপূরণ, পুরস্কার, বৈদেশিক সাহায্য ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত আয়।
বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ:
- বাংলাদেশ সরকারের যে রাজস্ব সংগৃহীত হয় তা দু'ভাগে বিভক্ত, যথা-
• কর রাজস্ব এবং
• কর বহির্ভূত রাজস্ব।
• কর রাজস্ব বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস।
- বাংলাদেশ সরকারের কর রাজস্বের উৎসগুলো নিম্নরূপ:
- আয় ও মুনাফা কর, আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আবগারি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক:, যানবাহন কর,ভূমি রাজস্ব, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রয়।
উৎস: অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনীতি (দ্বিতীয় প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
⇒ বর্তমানে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে শীর্ষ দেশ- সৌদি আরব।
⇒ প্রবাসী আয়ে শীর্ষ ১০ দেশ (জুলাই-নভেম্বর ২০২৫)
- সৌদি আরব: ২০৫ কোটি ডলার।
- যুক্তরাজ্য: ১৬৭ কোটি ডলার।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই): ১৫৮ কোটি ডলার।
- মালয়েশিয়া: ১৪৩ কোটি ডলার।
- যুক্তরাষ্ট্র: ১০৩ কোটি ডলার।
- ইতালি: ৮৩ কোটি ডলার।
- ওমান: ৭৭ কোটি ডলার।
- কুয়েত: ৬৪ কোটি ডলার।
- কাতার: ৫৯ কোটি ডলার।
- সিঙ্গাপুর: ৫৫ কোটি ডলার।
⇒ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৩০৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংক ৫৮ কোটি ৭০ লাখ ও কৃষি ব্যাংক ২৯ কোটি ৫৯ লাখ ডলার এনেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ৫৯ লাখ ডলার এনেছে।
উৎস: প্রথম আলো।
প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস দেশ:
- বর্তমানে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস হয়ে উঠেছে সৌদি আরব।
- সৌদি আরবের পেছনে রয়েছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও মালয়েশিয়া।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই-নভেম্বর, ২০২৫ সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২০৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- যুক্তরাজ্য থেকে ১৬৭ কোটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১৫৮ কোটি, মালয়েশিয়া থেকে ১৪৩ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০৩ কোটি ডলার এসেছে। উল্লেখ্য, সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন সৌদি আরবে।
তথ্যসূত্র- প্রথম আলো। [link]
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭১ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.৩৩%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১/বর্গ কি.মি.
- গড় আয়ু: ৭২.৩ বছর।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৭৮৪ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৩৮.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৪৪.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মূল্যস্ফীতি: ৯.৭৪%।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর +): ৭৭.৯%।
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।
তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড আইন:
- বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই আইনটি প্রণীত হয়।
- এর মাধ্যমে ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড কে একটি স্বতন্ত্র ও আইনগত স্বীকৃত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- যা প্রবাসী কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করে থাকে।
- 'ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড আইন' ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- আইনটি বোর্ডের গঠন, দায়িত্ব ও কার্যক্রম নির্ধারণ করে। এতে বোর্ডের সদস্য সংখ্যা, তাদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
- আইনটি ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ডের গঠন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য বোর্ডকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র - ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড ওয়েবসাইট।
• বাংলাদেশের রেলওয়ে:
- বাংলাদেশে রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা- জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে।
- ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (বিআরএ)গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৮৭৭ কিঃমিঃ রেল লাইন নেটওয়ার্ক দেশের ৪৪ টি জেলায় সংযুক্ত। (এপ্রিল ২০২৫)
- রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়- ২০১১ সালে
-বাংলাদেশে মোট ৪৭০ টি রেলওয়ে স্টেশন আছে।
- বাংলাদেশে মোট ৩ ধরনের রেলপথ আছে।
১. ব্রডগেজ ২. মিটারগেজ ৩. ডুয়েল গেজ।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রনালয়।
- সমষ্টিগত সম্পদ: যেসব সম্পদের মালিকানা সমাজ বা রাষ্ট্রের হাতে থাকে সেসব সম্পদকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে।
- অর্থাৎ জনগণের ব্যবহৃত সম্পদ ও সরকারি সম্পদ একত্রে মিলে সমষ্টিগত সম্পদ সৃষ্টি হয়।
যেমন- রেলপথ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পার্ক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।
- অপরদিকে, বাড়িঘর, ভূ-সম্পত্তি, আসবাবপত্র হলো ব্যাক্তিমালিকানাধীন সম্পদ৷
উৎসঃ অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মুদ্রানীতি (Monetary policy):
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যে নীতি গ্রহণ করা হয়, তাকে মুদ্রানীতি বলে।
- সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
- মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।
- এ জন্য দেশের আর্থিক খাতের চিত্র কেমন হবে—এ নিয়ে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য নীতি ঠিক করা হয়।
- বাজারে মুদ্রার সরবরাহ পরিস্থিতি দিয়েই মূলত এটি ঠিক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
⇒ বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে ২ বার মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশে প্রতি ছয় মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- সাধারণত জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর—এই সময়সীমা ধরে বাংলাদেশে মুদ্রানীতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য,
- ২০০৬ সালে বাংলাদেশ প্রথম মুদ্রানীতি দেওয়া হয়। তখন বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করত বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবির বছরে একবার মুদ্রানীতি প্রণয়নের ঘোষণা দেন। পরে ২০২৩ সাল থেকে আবার বছরে দুবার মুদ্রানীতি ঘোষণার রীতিতে ফিরে যায় বাংলাদেশ।
⇒ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো:
১. অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় মূল্যের স্থায়িত্ব,
২. টেকসই বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন,
৩. উচ্চ কর্মসংস্থান,
৪. সম্পদের অর্থনৈতিক এবং দক্ষ ব্যবহার,
৫. আর্থিক ও পেমেন্ট সিস্টেমের স্থিতিশীলতা।
উৎস: Bangladesh Bank ওয়েবসাইট।
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন:
- জাতীয় সংসদে গৃহীত আইনের মাধ্যমে 'পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠা করা হয়: ১৯৯৯ সালে।
- পিডিবিএফ একটি সংবিদিবদ্ধ, স্ব-শাসিত, অমুনাফাকাঙ্ক্ষী, আত্মনির্ভরশীল, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- পিডিবিএফ ক্ষুদ্র ঋণ এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ (SELP) পরিচালনা করে যাতে করে গ্রামীন বঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়।
তথ্যসূত্র - পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট।
প্রবাসী আয় (২০২৪-২৫ অর্থবছর):
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো অর্থবছরে এত প্রবাসী আয় আসেনি।
- এই আয় আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার বা ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
- এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।
তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [LINK]
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক:
- ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে নামকরণ করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক (Sammilito Islami Bank Limited)।
- ব্যাংকগুলো হচ্ছে: ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক।
- ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর আওতায় নজিরবিহীন এই একীভূতকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
⇒ ৯ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রস্তাব অনুমোদন করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনীত সাত সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটির কার্যক্রম তদারকি করছে।
- পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান: জনাব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
উৎস: i) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
ii) প্রথম আলো।
বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ:
- বাংলাদেশ সরকার বার্ষিক রাজস্ব ও উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য যে সমস্ত উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করে তাকে সরকারের আয়ের উৎস বলে।
- যে সমস্ত বিভিন্ন উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারে মোট প্রাপ্তি সংগৃহীত হয় তা দু'ভাগে বিভক্ত, যথা-
• কর রাজস্ব এবং
• কর বহির্ভূত রাজস্ব।
⇒ কর রাজস্ব বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস।
- বাংলাদেশ সরকারের কর রাজস্বের উৎসগুলো নিম্নরূপ:
১। আয় ও মুনাফা কর,
২। আমদানি শুল্ক,
৩। মূল্য সংযোজন কর,
৪। আবগারি শুল্ক,
৫। সম্পূরক শুল্ক,
৬। যানবাহন কর,
৭। ভূমি রাজস্ব,
৮। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রয়,
৯। অন্যান্য কর ও শুল্ক।
তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• কৃষিখাত:
- বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত হলো কৃষি।
- গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা তথা খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন, দারিদ্র্য নিরসন ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক ও টেকসই উন্নয়নে কৃষিখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
• বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-২০২৫ অনুসারে,
- জিডিপির সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি খাতের অবদান ১০.৯৪% ও প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির হার
দাঁড়িয়েছে ১.৭৯%।
উল্লেখ্য,
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৩০%। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ১.৫১ শতাংশীয় পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: i) অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। (Link)
বাংলাদেশের ব্যাংক নোট:
- বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যেসব নোট বের করা হয় সেগুলো ব্যাংক নোট নামে পরিচিত।
- এসব নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে।
- বর্তমানে দেশে সাতটি ব্যাংক নোট প্রচলিত রয়েছে।
- ব্যাংক নোটগুলো হলো- ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রচলিত ১, ২ ও ৫ টাকার নোট হলো সরকারি নোট।
- এসব নোট অর্থ মন্ত্রণালয় বের করে আর এগুলোতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।
- বাংলাদেশের নতুন ১০০ টাকার নোটে সামনের অংশে বামপাশে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি থাকবে।
- পেছনে থাকবে সুন্দরবনের দৃশ্য। জলছাপ হিসেবে দেখা যাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, নিচে ‘১০০’ সংখ্যা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম।
উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।
বয়স্ক ভাতা:
- দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ‘বয়স্কভাতা’ কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়।
- বর্তমানে ৬৫০ টাকা তরে প্রদান করা হয়।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
(১) বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান;
(২) পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি;
(৩) আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে তাঁদের মনোবল জোরদারকরণ;
(৪) চিকিৎসা ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
উৎস: সমাজ সেবা অধিদপ্তর।
• BSEC (Bangladesh Security Exchange Commission):
- বাংলাদেশে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো BSEC (Bangladesh Security Exchange Commission)।
- এটি ১৯৯৩ সালের ৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত।
- বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট বা স্টক এক্সচেঞ্জ দুটো। এগুলো হলোঃ
১) DSE (Dhaka Stock Exchange) এবং
২) CSE (Chittagong Stock Exchange)।
তথ্যসূত্র: BSEC এর ওয়েবসাইট।
• জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- বাজেটের ক্রম: ৫৪তম (অন্তবর্তীকালীনসহ ৫৫তম)।
- বাজেটের শিরোনাম: 'বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়'।
- বাজেট উত্থাপনকারী: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা)।
- বাজেট উত্থাপন: ২ জুন, ২০২৫।
- অনুমোদন হয় : ২২ জুন, ২০২৫।
- কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২৫।
- বাজেটের আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
- জিডিপির আকার: ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৫.৫%।
- মাথাপিছু আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- অনুমিত মুদ্রাস্ফীতির হার: ৬.৫%।
তথ্যসূত্র: জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।
• সোফার:
- SOFR এর পূর্ণরূপ Secured Overnight Financing Rate
- বৈশ্বিক সুদহার নির্ধারণের নতুন মানদণ্ড SOFR আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে।
- বৈশ্বিক সুদহার নির্ধারণের অন্যতম মাপকাঠি লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফারড রেট (লাইবর)।
- বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ১ জুলাই ২০২৩ থেকে সিকিউরড ওভারনাইট ফিন্যান্সিং রেট (সোফর) নামে নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
- লাইবরের ওপর নির্ভর করে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিং, সুইস ফ্রাঁ, ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো, জাপানি ইয়েন ও মার্কিন ডলারে নেওয়া ঋণের সুদহার নির্ধারণ হতো।
- নতুন সুদহারের মাপকাঠি সোফরের মাধ্যমে শুধু মার্কিন ডলারে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেই সুদহার নির্ধারিত হয়।
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লাইবরের সঙ্গে বাড়তি মার্জিন যোগ করে সুদ নির্ধারণ করত।
- লাইবর পরিবর্তনশীল হওয়ায় মার্জিনে কোনো পরিবর্তন হতো না। সোফরও অবশ্য একই পদ্ধতিতে চলবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ।
⇒ নোট ছাপানো বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজ নয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকে:
- বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাজকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
• প্রধান কার্যাবলি এবং
• বিশেষ ও অন্য কার্যাবলি।
⇒ প্রধান কার্যাবলি :
১. আমানত গ্রহণ ও সুদ প্রদান,
২. ঋণ মঞ্জুর ও সুদ গ্রহণ,
৩. ঋণ আমানত সৃষ্টি,
৪. বিনিময় মাধ্যম সৃষ্টি,
৫. মূলধন গঠন,
৬. নোট ইস্যু,
৭. অছি হিসাবে কাজ,
৮. আমদানি-রপ্তানি সাহায্য,
১০. সরকারের কোষাগার হিসাবে কাজ করে ও
১১. বিনিময় বিল, পরিবহন বিল ভাঙানো ইত্যাদি।
⇒ বিশেষ ও অন্য কার্যাবলি:
১. মূলধন বিনিয়োগ,
২. অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা,
৩. অর্থ স্থানান্তর,
৪. অর্থের নিরাপত্তা প্রদান,
৫. পরামর্শ দান,
৬. কর্মসংস্থান,
৭. ঋণ নিয়ন্ত্রণ,
৮. কৃষি উন্নয়ন,
৯. শিল্পোন্নয়ন,
১০. আঞ্চলিক উন্নয়ন,
১১. মুনাফা অর্জন ইত্যাদি।
উল্লেখ্য,
- নোট ছাপানো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ।
তথ্যসূত্র - ফিন্যাস এন্ড ব্যাংকিং এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।