বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ৮০১৯০০ / ৩,৭৪৭

৮০১.
শব্দের গতি কোন মাধ্যমে শূন্য?
  1. শূন্য 
  2. পানি 
  3. বায়ু 
  4. ইস্পাত 
ব্যাখ্যা

- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ যা চলার জন্য একটি মাধ্যম (কঠিন, তরল বা বায়বীয়) প্রয়োজন। শূন্য মাধ্যমে কোনো কণা বা অণু থাকে না, যার ফলে শব্দ তরঙ্গ কম্পন প্রেরণের জন্য কোনো মাধ্যম পায় না। এই কারণে শূন্য মাধ্যমে শব্দের গতিবেগ শূন্য। 

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০২.
40 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ কত হবে?
  1. ক) 332ms-1
  2. খ) 350ms-1
  3. গ) 356ms-1
  4. ঘ) 360ms-1
ব্যাখ্যা

0°C বা 273K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
বাতাসের তাপমাত্রা অথবা আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। প্রতি ১°C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে শব্দের দ্রুতির বৃদ্ধি ০.৬ ms-1.
∴ 40°C তাপমাত্রায় বায়ুতে শব্দের বেগ = 332+(40×0.6) ms-1
= 356 ms-1

৮০৩.
নিচের কোনটি অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস?
  1. ক) বায়োমাস
  2. খ) বায়ুশক্তি
  3. গ) নিউক্লিয়ার
  4. ঘ) জিওথার্মাল
ব্যাখ্যা
যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, যা ফুরিয়ে যাওয়ার আশংকা নেই তাকে নবায়নযোগ্য শক্তি বলে। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসঃ বায়োমাস, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জিওথার্মাল, সৌরশক্তি। তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম এগুলো অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮০৪.
কোনো সিস্টেমের বিশৃংখলার সূচক পরিমাপক -
  1. ক) সিস্টেম লস
  2. খ) কর্মদক্ষতা
  3. গ) এনথালপি
  4. ঘ) এনট্রপি
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে।
আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়।
ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়।
অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে।
ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়।
বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা
স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে।
ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮০৫.
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপযোগী করতে কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. জেনারেটর 
  2. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার 
  3. সার্কিট ব্রেকার
  4. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার 
ব্যাখ্যা
তড়িতের সিস্টেম লস: 
- দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পাওয়ার প্লান্টগুলোতে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে, এই বিদ্যুৎকে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন এলাকায় পাঠাতে হয়। 
- বিদ্যুৎ বিতরণ করার জন্য প্রথমে বিভিন্ন এলাকার সাব-স্টেশনে পাঠানো হয়। 
- সাব-স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ-ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ শক্তিকে একেবারে গ্রাহক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। 
- বিদ্যুৎ শক্তিকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিতরণ করার জন্য যে পরিবাহী তার ব্যবহার করা হয়, কম হলেও তাদের কিছু পরিমাণ রোধ থাকে। 
- একটা রোধের (R) ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ (I) হলে সবসময়েই (I2R) তাপ উৎপন্ন হয় এবং এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ শক্তির লস বা ক্ষয় হয়। 
- একটা নির্দিষ্ট বিদ্যুৎ শক্তির জন্য যদি উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তাহলে রোধজনিত তাপশক্তি হিসেবে লস কমে যায়। 
- সে জন্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয় সেটিকে স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার দিয়ে উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয়। 
- গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ শক্তিকে বিতরণ করার আগে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করে সেটিকে আবার ব্যবহারযোগ্য ভোল্টেজে নামিয়ে আনা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৬.
কিলোওয়াট-ঘণ্টা নিচের কোন রাশিটির একক নয়?
  1. কাজ
  2. শক্তি
  3. ক্ষমতা
  4. বিদ্যুৎশক্তি
ব্যাখ্যা
- কিলোওয়াট-ঘণ্টা 'ক্ষমতা' রাশিটির একক নয়। 

শক্তি: 

- কোনো বস্তুর কাজ করা সামর্থ্যকে শক্তি বলে। বস্তু সর্বমোট যতটুকু কাজ করতে পারে তা দিয়েই বস্তুর শক্তির পরিমাপ করা হয়। 
- কাজের মাত্রা ও শক্তির মাত্রা একই অর্থাৎ  ML2T -2
- কাজের একক ও শক্তির একক একই অর্থাৎ জুল (J)। 

কিলোওয়াট-ঘণ্টা: 
- সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব-নিকাশের সময় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (KWh) এককটি ব্যবহৃত হয়। 
- এক কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা কাজ করলে যে শক্তি ব্যয় হউ তাকে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা বলে। 
1 KWh = 1000 Wh 
= 1000 J s -1 × 3600 s 
∴ 1 KWh = 3.6 × 106 J. 

অন্যদিকে, 
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক ওয়াট। 
- ক্ষমতা কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৮০৭.
বলবিদ্যা ও মহাকর্ষ বলের সাথে সম্পর্কিত নিচের কোন ব্যক্তিত্ব?
  1. ক) লিবনিজ
  2. খ) নিউটন
  3. গ) আইনস্টাইন
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
1687 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী নিউটন বলবিদ্যার তিনটি এবং মহাকর্ষ বলের সূত্র প্রকাশ করে গতিবিদ্যার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আলােকবিজ্ঞান এবং অন্য আরাে কাজের সাথে সাথে বিজ্ঞানী নিউটন লিবনিজের সাথে গণিতের নতুন একটি শাখা ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
৮০৮.
নিচের কোনটি তড়িৎ পরিবাহী নয়?
  1. তামা
  2. রূপা
  3. পারদ
  4. গন্ধক
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ পরিবাহী:
- যে সমস্ত পদার্থের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহিত হয় তাকে পরিবাহী বলে। যেমন রূপা, লোহা, তামা, পারদ ইত্যাদি ধাতু বা গলিত ধাতু, লবণ, ক্ষার, এসিড বা এদের দ্রবণ। 

• তড়িৎ অপরিবাহী:
- যে সকল বস্তুর ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না তাদেরকে অপরিবাহী বলে। যেমন কাঠ, চিনি, গন্ধক, পেট্রল ইত্যাদি। 
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ অনেক কম হয় প্রায়- 10-8 Ωm ক্রমের। 


উৎস:
১. রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৯.
'নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য' এটি প্রমাণ করেন -
  1. ক) ওয়াটসন ও ক্রিক
  2. খ) নিউটন ও গ্যালিলিও
  3. গ) ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  4. ঘ) আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। 
অর্থাৎ ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়। 
- এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। 
- নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল।
- এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৮১০.
রেফ্রিজারেটরে মূলত কোন রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. কর্পূর
  3. ফ্রেয়ন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

• রেফ্রিজারেটরে সাধারণত খাদ্য ও পানীয়কে ঠাণ্ডা রাখতে ফ্রেয়ন নামক রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহৃত হয়। ফ্রেয়ন একটি যৌগ যা সহজে বাষ্পীভূত হয় এবং পুনরায় তরল হয়ে তাপ শোষণ ও নিঃসরণের মাধ্যমে শীতলতা সৃষ্টি করে। এটি হালকা, জ্বালানী-মুক্ত এবং নিরাপদ হওয়ার কারণে ঘরে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারে প্রচলিত। হাইড্রোজেন বা কর্পূর রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয় না, কারণ এগুলি অত্যন্ত জ্বলনশীল বা কার্যকর নয়। অতএব, সঠিক উত্তর হলো গ) ফ্রেয়ন।

• রেফ্রিজারেটর:
- রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠকে ঘিরে থাকে তামার তৈরি ফাপা নলের কুন্ডলী, একে বাষ্পীভবন কুন্ডলী বলে।
- এই কুন্ডলীর মধ্যে উদ্বায়ী পদার্থ ফ্রেয়ন ব্যবহার করা হয়।
- ফ্রেয়ন হচ্ছে ডাইক্লোরোডাইফ্লোরো মিথেন।
- এই নলের সাথে একটি সংকোচন পাম্প সংযুক্ত থাকে।
- পাম্প চালু করা হলে নলের ভিতরের চাপ কমে যাওয়ায় ফ্রেয়ন দ্রুত বাষ্পীভূত হয়।
- এজন্য যে সুপ্ততাপ প্রয়োজন তার খানিকটা ফ্রেয়ন নিজে সরবরাহ করে আর বাকীটা আসে শীতলীকরণ প্রকোষ্ঠ থেকে, ফলে শীতলীকরণ ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

৮১১.
আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা
  2. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা
  3. চার্জবিহীন
  4. উচ্চ ভেদন ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• "ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা" আলফা রশ্মির একটি বৈশিষ্ট্য। 

• আলফা রশ্মি:
- আলফা রশ্মি বা আলফা কণা হলো একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।

• একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াসে থাকে দুইটি প্রোটন এবং দুইটি নিউট্রন, কাজেই এটি একটি চার্জযুক্ত কণা।
- এর ফলে বিদ্যুৎ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা এর গতিপথকে প্রভাবিত করা যায়।

• আলফা কণার বৈশিষ্ট্য:
- এটি ধীরগতির ও ভারী কণা।
- আলফা কণার চার্জ ধনাত্মক। যা He2+
- এর ভেদন ক্ষমতা কম, কিন্তু আয়নন ক্ষমতা বেশি।
- ভেদন ক্ষমতা কম হওয়ার কারণে এটি খুব বেশি দূর যেতে পারে না। একটি কাগজ দিয়েই আলফা কণাকে থামিয়ে দেওয়া যায়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৮১২.
বাতাসে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক কত?
  1. 1.00
  2. 1.00029
  3. 1.33
  4. 1.52
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণাঙ্ক:
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে আলোকবিজ্ঞান।
- আলোকবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, কোন উপাদানের মধ্য দিয়ে আলো কতটা দ্রুত অতিক্রম করতে পারে তা হচ্ছে ঐ উপাদানের প্রতিসরণাঙ্ক।
-  শূন্য মাধ্যমে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক 1.00
- বাতাসে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক  1.00029
- পানিতে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক 1.33
- ফাইবার অপটিক ক্যাবলের কাচের তন্তুর প্রতিসরণাঙ্ক 1.5
- সাধারণ কাচে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক 1.52
- হীরাতে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক 2.42

উল্লেখ্য যে, বাতাসে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক 1.00029, মানটি 1 এর কাছাকাছি হওয়ায় এটাকে 1 ধরেও হিসাব করা যায়।
- তবে অপশনে, দুটি মানই থাকলে বাতাসে আলোর প্রতিসরণাঙ্ক বললে 1.00029 উত্তর হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৮১৩.
চাঁদে নিয়ে গেলে কোনো বস্তুর ওজন-
  1. কমবে
  2. বাড়বে
  3. শূন্য হবে
  4. একই থাকবে
ব্যাখ্যা
- কোন বস্তুকে পৃথিবী তার কেন্দ্রের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে, তাকে ঐ বস্তুর ওজন বলে।
- পৃথিবী থেকে যতই উপরে উঠা যায় বস্তুর ওজন ততই কমতে থাকে।
- এরূপে চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) হয়।
- পৃথিবীতে কোন বস্তুর ওজন ৬০ নিউটন হলে চাঁদে ঐ জিনিসের ওজন ১০ নিউটন হবে অর্থাৎ কমবে

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮১৪.
যে তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু এর মধ্যে অবস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাকে বলে-
  1. ক) স্ফুটনাঙ্ক
  2. খ) হিমাঙ্ক
  3. গ) গলনাঙ্ক
  4. ঘ) শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির একটি পরিমাপ শিশরাঙ্ক। যে তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু ঠান্ডা হয়ে এর মধ্যে অবস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।
[সূত্রঃ পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত]
৮১৫.
4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি কত ক্যালরি তাপের সমতুল্য? 
  1. 1 ক্যালরি
  2. 2 ক্যালরি
  3. 3 ক্যালরি
  4. 4 ক্যালরি
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- তাপ হলো বস্তুর বা পদার্থের অভ্যন্তরস্থ অণুসমূহের গতির সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রকার শক্তি যা ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 
- তাপ শক্তির একটি রূপ। 
- তাই শক্তি তথা কাজের এককই তাপের একক। 
- তাপের SI একক জুল (J)। 
- এক সময় তাপ পরিমাপের জন্য একক ধরা হতো ক্যালরি। 
- 1 গ্রাম পানির তাপমাত্রা 1° C বাড়াতে বা কমাতে যতটা তাপের প্রয়োজন তাকে 1 ক্যালরি (Cal) ধরা হতো। 
- 4.2 জুল যান্ত্রিক শক্তি 1 ক্যালরি তাপের সমতুল্য। 
তাই, 1 ক্যালরি = 4.2 জুল। 

উষ্ণতা বা তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রা বা উষ্ণতা হলো বস্তুর তাপীয় অবস্থা যা ঐ বস্তু থেকে অন্য বস্তুতে তাপ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাপমাত্রার S.I একক কেলভিন। 
- তবে তাপমাত্রার কেলভিন ছাড়াও বহুল প্রচলিত দুটি সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট একক আছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৬.
আধুনিক বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) আইজ্যাক নিউটন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
গ্যালিলিও গাণিতিক সূত্র দেওয়ার পর পরীক্ষা করে সেই সূত্রটি প্রমাণ করার বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন। তাই গ্যালিলিওকে অনেক সময় আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
অন্যদিকে,
নিউটন বলবিদ্যা ও গতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং
আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৭.
রকেট চালনা করা কোন সূত্রের বাস্তব উদাহরণ?
  1. ক) আর্কিমিডিসের সূত্র
  2. খ) নিউটনের প্রথম সূত্র
  3. গ) পড়ন্ত বস্তুর সূত্র
  4. ঘ) নিউটনের তৃতীয় সূত্র
ব্যাখ্যা

রকেট চালনা করা নিউটনের তৃতীয় সূত্রের বাস্তব উদাহরণ।
নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি হল - প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে
রকেট চালনার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ জ্বালানিকে গ্যাসে পরিণত করা হয় এবং এই গ্যাস কে বাইরের দিকে সজোরে নিক্ষেপ করা হলে রকেট বিপরীত দিকে অর্থাৎ উপরের দিকে উৎক্ষেপিত হয়।

৮১৮.
বাতাসের উষ্ণতা বাড়লে শব্দের গতি-
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. প্রথমে কমে পরে বাড়ে
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
• বাতাসের উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শব্দের গতি বাড়ে।

শব্দের বেগ হ্রাসবৃদ্ধির নিয়ামক:
• তাপমাত্রা:

- 0°C বা 273k তাপমাত্রায় শব্দের বেগ 332ms-1
- তাপমাত্রা 1°C বা 1k বাড়লে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় 0.6ms-1 বৃদ্ধি পায়।

• আর্দ্রতা:
- বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলেও শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়। 

• মাধ্যম:
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম,
- তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।

• বায়ু চাপ:
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৮১৯.
কোন তাপমাত্রাকে পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. 212 K
  2. 373.15 K
  3. 0 K
  4. 273.16 K
ব্যাখ্যা
• পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা হলো ২৭৩.১৬ K। ত্রৈধ বিন্দু বলতে বুঝায় সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা যেখানে পানি ত্রৈধ অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ বরফ, তরল পানি এবং বাষ্প একসঙ্গে সমতা অবস্থায় থাকে। এটি এক ধরনের স্থির বিন্দু, যেখানে তিনটি অবস্থা একই সাথে বিদ্যমান থাকে এবং চাপ ১ বাতাস। এই তাপমাত্রাটি ০.০১°C বা ২৭৩.১৬ K হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য  অপশনগুলো যেমন ২১২ K বা ৩৭৩.১৫ K পানির অন্য কোন ফেজ বা অবস্থার তাপমাত্রা নির্দেশ করে না, তাই সঠিক উত্তর হলো ২৭৩.১৬ K।

পানির ত্রৈধ বিন্দু:

- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে পরম শূন্য তাপমাত্রা 0 K, বরফ বিন্দু 273.15 K এবং স্টিম বিন্দু 373.15 K ধরা হয়।
- তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে 273.15 K এবং স্টিম বিন্দুকে 373.15 K ধরে মৌলিক ব্যবধানকে 100 ভাগে ভাগ করা হয়।
- এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (1 K) বলা হয়।
- সেলসিয়াস এবং কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে-
K = C + 273.15

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২০.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২১.
রেডিয়াম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) পিয়ারে কুরি
  2. খ) মেরি কুরি
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে পিয়ারে কুরি এবং মেরি কুরি সর্বপ্রথম রেডিয়াম আবিষ্কার করেন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
৮২২.
মহাবিশ্বে কার্যকর মৌলিক বলগুলোর মধ্যে দুর্বলতম কোনটি?
  1. সবল নিউক্লীয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  4. মহাকর্ষ বল
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বে চারটি মৌলিক বল বিদ্যমান: সবল নিউক্লীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল, তড়িৎচুম্বকীয় বল এবং মহাকর্ষ বল। এদের মধ্যে দুর্বলতম বল হলো মহাকর্ষ বল। এটি অন্যান্য বলের তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল, কারণ এটি বড় কণার মধ্যে মাত্রই প্রভাব ফেলে এবং পারমাণবিক বা সাবপারমাণবিক স্তরে প্রায় অদৃশ্য। মহাকর্ষ বল তার ক্রিয়াশীলতা দ্বারা বৃহৎ আকারের বস্তু যেমন গ্রহ, তারা বা গ্যালাক্সিকে আকৃষ্ট করে, কিন্তু কণার স্তরে প্রভাব অত্যন্ত কম। অন্যদিকে তড়িৎচুম্বকীয় এবং নিউক্লীয় বলগুলো পারমাণবিক ও উপপারমাণবিক স্তরে শক্তিশালীভাবে কাজ করে। তাই, শক্তির দিক দিয়ে মহাবিশ্বে সবচেয়ে দুর্বল মৌলিক বল হলো মহাকর্ষ বল।

- সঠিক উত্তর: ঘ) মহাকর্ষ বল।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮২৩.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি নয় কোনটি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা ৮২ অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। (যদিও প্রোটনসংখ্যা 43-Technetium এবং 61-Promethium মৌলের কোনো স্থায়ীরূপ পাওয়া যায় না)। 
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে সেটাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- শুধু তাই নয়, তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে সেটাও লক্ষ্য করা হয়েছে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয় যেমন- আলফা রশ্মি, বিটা রশ্মি এবং গামা রশ্মি। 

অন্যদিকে, 
- রঞ্জন রশ্মি (X-ray) যদিও তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ কিন্তু এটি তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নয়, বরং ইলেকট্রনের অভ্যন্তরীণ স্তর থেকে নির্গত হয়, তাই এটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৪.
এক্স-রে রশ্মি জীবন্ত কোষের উপর কী প্রভাব ফেলে? 
  1. উত্তেজিত করে
  2. বিকশিত করে
  3. রক্ষা করে
  4. ধ্বংস করে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে রশ্মির ধর্ম: 
- এক্স-রে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স-রে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্স-রে রশ্মি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স-রে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্স-রে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্স-রে রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এক্স-রে রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্স-রে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৫.
কয়লা থেকে উৎপন্ন সালফার কী ধরনের পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. তাপমাত্রার পরিবর্তন
  2. ভূমি ধ্বংস
  3. এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
  4. গ্রীনহাউস গ্যাসের সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
- জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
- এদের মধ্যে রয়েছে কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৬.
ভরের আর্ন্তজাতিক একক কী?
  1. ক) পাউন্ড
  2. খ) আউন্স
  3. গ) লিটার
  4. ঘ) কিলোগ্র্রাম
ব্যাখ্যা
ভরের আন্তর্জাতিক (SI) একক কিলোগ্রাম। সময়ের আন্তর্জাতিক (SI) একক সেকেন্ড। দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক (SI) একক মিটার। Source: Britannica
৮২৭.
তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা কেমন হবে? 
  1. বেশি হবে
  2. কম হবে
  3. অপরিবর্তনশীল থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৮.
বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন না করলে আমরা কীভাবে সেটি দেখি?
  1. আলো শোষণের মাধ্যমে
  2. আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
  3. আলো বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
  4. আলো প্রতিসরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন না করলে, সেই বস্তুতে পতিত আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে প্রবেশ করে, ফলে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।

• আলোর চলাচল:
- আলো এক প্রকার শক্তি, যা সরলরেখায় চলে।
- আলো উৎস থেকে নির্গত হয়ে সোজা পথে অগ্রসর হয়।
- স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সাধারণত বাঁকা পথে চলে না।
- আলো চলার পথে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু থাকলে ছায়া সৃষ্টি হয়, যা প্রমাণ করে যে আলো সরলরেখায় চলে।
- আলো চলার এই ধর্মকে আলোর সরলরৈখিক গতি বলা হয়।
 
• আমরা যেভাবে দেখি:
- কোনো বস্তুকে দেখতে হলে সেই বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করতে হয়।
- বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন করতে পারে অথবা অন্য উৎস থেকে আলো প্রতিফলিত করে চোখে পাঠায়।
- আলো চোখে প্রবেশ করার পর আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।
- আলো যদি চোখে প্রবেশ না করে, তবে বস্তু দেখা সম্ভব নয়।
- তাই দেখার জন্য আলো, বস্তু ও চোখ—তিনটির উপস্থিতি প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৮২৯.
পৃথিবীর কেন্দ্রে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের মান কত?
  1. 9.8 m/s2
  2. 0 m/s2
  3. 1.6 m/s2
  4. - 9.8 m/s2
ব্যাখ্যা

- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg
- এখানে, g= অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 ms- 2, m = বস্তুর ভর।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৮৩০.
দিনের গড় তাপমাত্রা 86°F হলে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে?
  1. 30°
  2. 25°
  3. 35°
  4. 36°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দিনের গড় তাপমাত্রা 86°F হলে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট স্কেল থেকে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তাপমাত্রা রূপান্তরের সূত্র: 
C = (F - 32) × 5/9
এখানে, F = 86
C = (86 - 32) × 5/9
C = 54 × 5/9
C = 270/9
C = 30

সুতরাং, 86°F তাপমাত্রা সেন্টিগ্রেড স্কেলে 30°C হবে।

৮৩১.
উচ্চ মাত্রা বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) আলো
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) আগুন
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় তত্ত্ব:
- খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় সাংখ্য দর্শনে পাওয়া যায়- বিশ্ব গঠনের পাঁচটি মৌলিক উপাদানের একটি আলো।
- বৈশাশি দর্শনে পাওয়া যায় ভৌত জগতের পারমাণবিক অবস্থার মূল উপাদান ৪টি হলো ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (পানি), তেজ (আগুন) এবং মরুৎ (বায়ু)।
- আলো হলো উচ্চ মাত্রা বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ
- বেগের বিভিন্নতার জন্য আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা বর্ণ প্রতীয়মান হয়।
- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর বিষ্ণু পুরাণে সূর্যের আলোর সাত প্রকার বর্ণের রশ্মির উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ঋগ্ বেদে উল্লেখ আছে আলোর মৌলিক বর্ণ ৩টি এদের মিশ্রণে সকল বস্তু দৃশ্যমান হয়। 
- ভারতীয় বৌদ্ধ গ্রন্থ দ্বিগঙ্গায় খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে এবং খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে ধর্মকীর্তিতে আলোকে শক্তির সমতুল্য আণবিক সত্তা হিসাবে উল্লেখ করা হয় যা আধুনিক ফোটনের ধারণার অনুরূপ।
- তাদের মতে সকল বস্তুই আলো ও শক্তির কণা দিয়ে গঠিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৩২.
রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম-
  1. গামা রশ্মি
  2. মাইক্রোওয়েভ
  3. অবলোহিত বিকিরণ
  4. আলোক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
- মাইক্রোওয়েভ রাডারে ব্যবহৃত হয়। 
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে ৩০০MHz থেকে ৩০০GHz.
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।
- মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দু' ধরনের হতে পারে। যথা : টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave) ও স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave) 

উৎস:
১. ব্রিটানিকা
২. পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৩.
বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) ০ m/s
  2. খ) ২৮০ m/s
  3. গ) ৩৩২ m/s
  4. ঘ) ১১২০ m/s
ব্যাখ্যা
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি যা ৫২২১ মি./সে,
- বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম যা ৩৩২ মি./সে।
- তরল মাধ্যমে শব্দের বেগ ১৪৫০ মি./সে।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (১ম পত্র) বোর্ড বই।
৮৩৪.
একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ২০০ বছর। মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?
  1. ক) ১৫০
  2. খ) ৩০০
  3. গ) ৪০০
  4. ঘ) ৪৫০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ২০০ বছর। মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?

সমাধান: 
অর্ধায়ু, T = 0.693/λ; λ = ক্ষয়ধ্রুবক 

200 = 0.693/λ
⇒ λ = 0.693/200 
= 0.003465

মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হলে, অবশিষ্ট আছে (100 - 75)%
= 25%

তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের বা ক্ষয়ের সূচকীয় সূত্র: 
N = N0e-tλ
⇒ N/N0 = e-tλ
⇒ e-tλ = 25% = 1/4
⇒ ln(e-tλ) = ln(1/4)
⇒ -tλ = -1.39
⇒ t = 1.39 / 0.003465
∴ t = 401.15 দিন 

গ অপশনটি কাছাকাছি হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হলো। 
৮৩৫.
একই পদার্থের বিভিন্ন অণুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে কী বলে?
  1. ক) সংসক্তি বল
  2. খ) আসঞ্জন বল 
  3. গ) আন্ত:আণবিক শক্তি 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

একই পদার্থের বিভিন্ন অণুর মধ্যে পারস্পরিক এ আকর্ষণ বলকে সংসক্তি বল বলে। 
যেমন - ইস্পাতের বিভিন্ন অণুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল।

একটি পদার্থকে অন্য একটি পদার্থের সংস্পর্শে রাখলে পদার্থ দুটির অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল অনুভূত হয়। বিভিন্ন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে আসঞ্জন বল (Adhesive Force) বলে।

আন্তঃআণবিক বল হচ্ছে দুটি অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল, যা পরমাণুর মত অন্য কণার (আয়ন) মধ্যেও বিরাজ করে। আন্তঃআণবিক বল, অন্তঃআণবিক বল (যে বল মৌলের পরমাণুগুলোকে একত্রে ধরে রাখে) অপেক্ষা দুর্বল প্রকৃতির। যেমনঃ সমযোজী বন্ধন, যেখানে দুটি পরমাণু ইলেকট্রন যুগল শেয়ার করে তা আন্তঃআণবিক বল অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, শাজাহান তপন।

৮৩৬.
দৃশ্যমান বর্ণালিতে সবচেয়ে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের?
  1. লাল
  2. কমলা
  3. বেগুনি
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি।

• দৃশ্যমান আলো:
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 380-780mm।
- মৌলিক রং ৩টি-লাল, সবুজ, আসমানী।
- লাল আলোতে সবুজ বস্তুকে কালো দেখায়।
- নীল কাচের মধ্য দিয়ে সাদা ফুল নীল দেখায়।

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি,
• নীল (Indigo) 424-450 nm - নীল আলোর বিক্ষেপণের কারনে আকাশ নীল দেখায়,
• আসমানী (Blue) 450-500 nm,
• সবুজ (Green) 500-575 nm,
• হলুদ (Yellow) 575-590 nm - মধ্য রশ্মি বলা হয়,
• কমলা (Orange) 590-647 nm এবং 
• লাল (Red) 647-780 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি, বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৭.
কোন রঙের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. সাদা
  4. কালো
ব্যাখ্যা
• পদার্থের তাপশোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের কাপে চা দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।

- কারণ কালো রং তাপ শোষণ করতে পারে।
- তাপ সব সময় উচ্চ তাপীয় অবস্থা থেকে নিম্ন তাপীয় অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়।
- এক্ষেত্রে চা এর কালো কাপটি হচ্ছে নিম্ন তাপীয় অবস্থা তাই তা দ্রুত তাপ শোষণ করে নেবে এবং চা তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে যাবে।
- সাদা রঙের কাপে চা বেশি সময় গরম থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৮.
ট্রায়োড আবিষ্কার করেন কে?
  1. জে এস কেলবি
  2. আবাকাস
  3. লি ডি ফরেস্ট
  4. জোসেফ বাটলার
ব্যাখ্যা

- ট্রায়োড এক ধরনের ইলেকট্রনিক বিবর্ধক যার তিনটি ইলেকট্রোড (cathode filament, anode plate এবং control grid) থাকে।
- সাধারণত ট্রায়োড বলতে ভ্যাকুয়াম টিউব ইলেকট্রোডকেই বোঝায়।
- ডায়োড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ১৯০৬ সালের ২০ অক্টোবর লি ডি ফরেস্ট ট্রায়োড আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮৩৯.
'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক -
  1. Jamal Nazrul Islam
  2. George Lemaitre
  3. Kepler
  4. Stephen Hawking
ব্যাখ্যা
• 'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী Stephen Hawking. এই বইটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মহাবিশ্বের গঠন, সময়ের প্রকৃতি, কৃষ্ণগহ্বর (black holes), বিগ ব্যাং (Big Bang), আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো জটিল ধারণাগুলো সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে। স্টিফেন হকিং বইটিতে মূলত মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি বিজ্ঞানের জনপ্রিয়ীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এই গ্রন্থই তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে বিজ্ঞানী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।

তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design, ইত্যাদি।

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।
- পৃথিবীর মানুষের কাছে “The Scientist on a Wheelchair” হিসেবে পরিচিত।
- স্টিফেন হকিং এর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- ‘Theory of Everything.’

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৪০.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  2. এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
  3. এটি সরল রৈখিক গতি
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪১.
ফোটন কণার নিশ্চল ভর কত?
  1. 0
  2. 3 × 108 kg
  3. 3 × 10-9 kg
  4. 3 × 10-19 kg
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে চলাচল করে।
-  প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪২.
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক রাশির কতটি একক আছে? 
  1. ৮ 
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪৩.
কোন পদার্থটিকে তাপ দিলে কঠিন পদার্থ থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) নিশাদল
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

যে প্রক্রিয়ায় কোনাে কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
নিশাদল (NH4Cl), কপূর (C10H16O), ন্যাপথলিন(C6H6), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়ােডিন (I), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) - এই পদার্থগুলােকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলােকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।

৮৪৪.
ভাঙ্গা হাড় শনাক্ত করার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গামা
  2. খ) রঞ্জন
  3. গ) বিটা
  4. ঘ) আলফা
ব্যাখ্যা
রঞ্জন রশ্মি:

- তীব্র গতিবেগ সম্পন্ন ইলেকট্রন উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট কোনো কঠিন বস্তুকে আঘাত করলে উচ্চ ভেদন শক্তির এবং ক্ষুদ্রতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যে অদৃশ্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ কঠিন বস্তু থেকে নির্গত হয়, তাকে এক্স রশ্মি বলে।
- এক্স-রে অথবা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়।
- এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য।
- এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৫.
সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে p-টাইপ অর্ধপরবাহী তৈরি হয়?
  1. ফসফরাস
  2. বোরন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা
• p- টাইপ অর্ধপরিবাহক:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
- যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।

• n- টাইপ অর্ধপরিবাহক:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
- যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৪৬.
পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যাওয়ার কারণ, আলোর - 
  1. বিচ্ছুরণ
  2. প্রতিফলন
  3. প্রতিসরণ
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে বাঁকাভাবে আপতিত হয় তবে মাধ্যম দুটির বিভেদতলে এর গতিপথের দিক পাল্টে যায়। একে প্রতিসরণ বলে। 
আলোর প্রতিসরণের ফলে - 
১) পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়। 
২) একটি সরল দণ্ডকে তির্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়। 
৩) পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়। 
৪) খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়। 
৫) পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৭.
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লার শব্দেতর তরঙ্গ কোনটি? 
  1. 45 Hz
  2. 40 Hz
  3. 04 Hz
  4. 45000 Hz
ব্যাখ্যা
- কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লার শব্দেতর তরঙ্গ - 04 Hz. 

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৮.
কোনটি অদিক রাশির উদাহরণ? 
  1. সরণ
  2. ত্বরণ
  3. তাপমাত্রা
  4. ওজন
ব্যাখ্যা
ভেক্টর: 
- কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়। 
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি, 
খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
'নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য' এই কথা কে প্রমাণ করেন?
  1. ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান
  2. ওটো হান ও আইনস্টাইন
  3. আইনস্টাইন ও স্ট্রেসম্যান
  4. স্ট্রেসম্যান ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
ভৌত বিজ্ঞানের অবদান: 
- বিংশ শতাব্দিীতে পদার্থবিজ্ঞানে আরো নতুন নতুন আবিষ্কার যুক্ত হয়। 
- ম্যাক্স প্ল্যাংক বিকিরণ সম্পর্কীত কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। 
- আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত ভর-শক্তির সূত্র (E=mc2) আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১১ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড পরমাণু বিষয়ক নিউক্লিয় তত্ত্ব এবং নীলস্ বোর হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রন স্তরের ধারণা প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে আরো উন্নতি সাধিত হয়।
- ১৯৩৮ সালে ওটো হান ও স্ট্রেসম্যান প্রমাণ করেন যে, নিউক্লিয়াস ফিশনযোগ্য। 
অর্থাৎ, ফিশনের ফলে একটি বড় ভর সংখ্যা বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে প্রায় সমান ভর বিশিষ্ট দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপাদিত হয়। এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে নিউক্লিয় বোমা ও নিউক্লিয় চুল্লীর উদ্ভাবন হয়। নিউক্লিয়াস বিভাজন থেকে যে শক্তি উৎপাদন হয়, সেই শক্তির পরিমাণ বিপুল। এজন্য বর্তমান আধুনিক বিশ্ব নিউক্লিয় শক্তিকে শক্তির একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। 
- সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার তত্ত্ব বোস-আইনস্টাইন তত্ত্ব নামে পরিচিত। তার নামানুসারে বিশেষ এক শ্রেণির মৌলিক কণার নামকরণ করা হয়েছে 'বোসন' নামে। 
- ভারতীয় নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ভেংকটারমন রমন প্রভাব আবিষ্কার করেন। 
- এছাড়া পাকিস্তানী বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম তাড়িতচুম্বক বল ও দুর্বল পারমাণবিক বলের অভিন্নতা প্রদান করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫০.
পরমাণু চার্জ নিরপেক্ষ হয়, কারণ পরমাণুতে - 
  1. নিউট্রন ও প্রোটন নিউক্লিয়াসে থাকে।
  2. নিউট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান।
  3. ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান।
  4. প্রোটন ও নিউট্রনের ওজন সমান।
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস। 
- এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫১.
STP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0° C 
  2. 25° C 
  3. 373° K 
  4. 100° C 
ব্যাখ্যা

SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- SATP এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25° C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- STP এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0° C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫২.
একটি নীল কাচকে উত্তপ্ত করলে এর থেকে কোন রঙ বের হবে?
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. হলুদ
ব্যাখ্যা
• একটি নীল কাচকে উত্তপ্ত করলে এর থেকে বের হবে হলুদ রং।
- যখন কোনো নীল কাঁচকে উত্তপ্ত করা হয় তখন সেই কাচ আগুনের অবলোহিত রশ্মির সাথে বিক্রিয়া করে হলুদ রং তৈরি করে।
- যার ফলে উৎপন্ন হলুদ রং নির্গত হয়।
৮৫৩.
কোনটি অফুরন্ত নবায়নযোগ্য সম্পদ?
  1. ক) মাটি
  2. খ) পানি
  3. গ) খাদ্য
  4. ঘ) গ্যাস
ব্যাখ্যা


উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮৫৪.
বিপরীতধর্মী আহিত দুটি বস্তুর মধ্যে কী ধরণের তড়িৎ বল কাজ করে?
  1. মাধ্যাকর্ষণ
  2. বিকর্ষণ
  3. আকর্ষণ
  4. চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বল: 
- একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দু'টির মধ্যে একটি বল কাজ করবে, আহিত বস্তু দু'টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু'টি বস্তুই ধনাত্মক বা দু'টি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে, আবার আহিত বস্তু দু'টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে। 
- দু'টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে- 
১. আধান দু'টির পরিমাণের উপর, 
২. আধান দু'টির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর, 
৩. আধান দু'টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৫.
মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য কোন ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়?
  1. দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. মাইক্রোওয়েভ
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

◉ মোবাইল ফোন যোগাযোগ সাধারণত মাইক্রোওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে (প্রায় 800 MHz থেকে 2.6 GHz) পরিচালিত হয়। এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণে উপযোগী এবং অ্যান্টেনা দ্বারা সহজে প্রেরণযোগ্য।

মাইক্রোওয়েভ:
- মাইক্রোওয়েভ এক ধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ যা সেকেন্ডে প্রায় 1 গিগা বা তার চেয়ে বেশিবার কম্পন বিশিষ্ট।
- মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে ডাটা স্থানান্তর অর্থাৎ কম্পিউটার প্রদত্ত ডাটা, কথা এবং ছবি ইত্যাদি অনেক দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব।
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে 300MHz থেকে 30GHz.

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

৮৫৬.
ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক্যালকুলেটর
  2. টেলিভিশন
  3. রেডিও
  4. টেপ রেকর্ডার
ব্যাখ্যা
• ক্যালকুলেটর ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির একটি উদাহরণ।

ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি:
- বিশেষ কোনো প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেকগুলি ইলেকট্রনিক্স বর্তনীকে সমষ্টিগতভাবে ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি বলা হয়।
যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, রেডিও, ইলেকট্রনিক্স ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি বহুল পরিচিত ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির উদাহরণ।
- বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতিসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. এনালগ পদ্ধতি:
- এনালগ সংকেত হলো অবিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত।
- এনালগ সংকেত অনেকটা শব্দ তরঙ্গের মত সময়ের সাথে সাথে অবিচ্ছিন্ন ভাবে মান বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ মানে পৌঁছিয়ে আবার অবিচ্ছিন্ন ভাবে কমতে কমতে সর্বনিম্ন মানে পৌঁছায়। এই সংকেতকে সাইন তরঙ্গের (sine wave) সাথে তুলনা করা যায়।
- এনালগ পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল (analogue) সংকেতের বৈদ্যুতিক সংকেত ব্যবহার করা হয়।
- তাপমাত্রা, চাপ, প্রবাহ হলো ক্রমাগত পরিবর্তনশীল কয়েকটি এনালগ সংকেতের উদাহরণ। এসব সংকেতকে ভোল্টেজে রূপান্তরিত করলে যে ক্রম পরিবর্তনশীল বৈদ্যুতিক তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, তাই হলো এনালগ সংকেতের।
- এ ধরণের প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিবর্ধক, ফিল্টার প্রভৃতি এনালগ বর্তনী ব্যবহার করা হয়।
- রেডিও, টেপ রেকর্ডার, টিভি ইত্যাদি এনালগ ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির উদাহরণ।

২. ডিজিটাল পদ্ধতি:
- ডিজিটাল সংকেত হলো বিচ্ছিন্ন তড়িৎ সংকেত।
- এই সংকেতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মান আছে। এই দুই মানের মাঝে অন্য কোনো স্তর নাই। সময়ের সাথে এর মান হয় সর্বোচ্চ না হয় সর্বনিম্ন মানে পরিবর্তিত হয়। এই সংকেত চৌকো তরঙ্গের (square waves)।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রম-পরিবর্তনশীল এনালগ সংকেতের বদলে স্তর পরিবর্তনশীল সংকেত ব্যবহার করা হয়। এই সংকেতকে ডিজিটাল বা বাইনারী (binary) সংকেত বলা হয়।
- দুটি পৃথক অবস্থায় কাজ করে এমন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই সংকেত পাওয়া যায়।
যেমন- ট্রানজিস্টারের সচল বা অন (on) এবং অচল বা অফ (off) অবস্থা দ্বারা দুটি পৃথক অবস্থা বোঝানো সম্ভব। প্রজ্জ্বলিত বাতি এবং নির্বাপিত বাতি অথবা টেপের চৌম্বকায়িত অবস্থা বা অচৌম্বকায়িত অবস্থা দিয়ে ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব।
- ডিজিটাল সংকেতের স্তর দুটিকে 0 এবং ১ (0 and 1), সত্য এবং মিথ্যা (true and false), কিম্বা উচ্চ এবং নিম্ন (high and low) দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- ডিজিটাল ঘড়ি, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতির জনপ্রিয় উদাহরণ।

৩. মিশ্র পদ্ধতি:
- এনালগ ও ডিজিটাল বর্তনীর সংমিশ্রণে তৈরি পদ্ধতিকে মিশ্র ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি বলে।
- শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে মিশ্র ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
- চাপ, তাপমাত্রা, রক্তচাপ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, তরল পদার্থের স্তর ইত্যাদি ক্রম-পরিবর্তনশীল বিষয় সংগৃহীত উপাত্ত এনালগ ইলেকট্রনিক্স পদ্ধতি গ্রহণ করে।
- এই উপাত্তগুলিকে ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে যথা যোগ্য সংখ্যা ও সংকেতে রূপান্তর করে পাঠ নেয়া হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৭.
কোন রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম?
  1. লাল
  2. কমলা
  3. সবুজ
  4. নীল
ব্যাখ্যা

• লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম।

• দৃশ্যমান আলো:
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 380-780nm।
- মৌলিক রং ৩টি-লাল, সবুজ, আসমানী।
- লাল আলোতে সবুজ বস্তুকে কালো দেখায়।
- নীল কাচের মধ্য দিয়ে সাদা ফুল নীল দেখায়।

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি,
• নীল (Indigo) 424-450 nm - নীল আলোর বিক্ষেপণের কারনে আকাশ নীল দেখায়,
• আসমানী (Blue) 450-500 nm,
• সবুজ (Green) 500-575 nm,
• হলুদ (Yellow) 575-590 nm - মধ্য রশ্মি বলা হয়,
• কমলা (Orange) 590-647 nm এবং 
লাল (Red) 647-780 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি, বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮৫৮.
ট্রান্সফরমার কী কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা
  2. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  3. এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
  4. ডিসি (DC) ভোল্টেজ পরিবর্তন করা
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 
- প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু বৈদ্যুতিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটা পরিমাপ করা হয় VI (ভোল্টেজ × কারেন্ট) দিয়ে, একটা ট্রান্সফরমারে প্রাইমারিতে যে পরিমাণ VI প্রয়োগ করা হয়, সেকেন্ডারি কয়েল থেকে ঠিক সেই পরিমাণ VI ফেরত পাওয়া যায়। কাজেই সেকেন্ডারিতে যদি ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়িয়ে নেয়া যায় তাহলে সেখানে বিদ্যুৎও দশ গুণ কমে যাবে। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৯.
'আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন' ব্যবহার করা হয় কোন যন্ত্রে?
  1. ক) এন্ডোস্কপি
  2. খ) আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  3. গ) ইকোকার্ডিওগ্রাফি
  4. ঘ) ম্যাগনেটিক রেসোন্যান্স ইমেজিং
ব্যাখ্যা
এন্ডোসকোপি এন্ডোসকোপি বলতে সাধারণভাবে কোনো কিছুর ভিতরে দেখাকে বুঝায়। 
কিন্তু এন্ডোসকপি বলতে আমরা বুঝি চিকিৎসাজনিত কারণে বা প্রয়োজনে দেহের অভ্যন্তরস্থ কোনো অঙ্গ বা গহ্বরকে বাহির থেকে পর্যবেক্ষণ। 
এন্ডোসকোপ যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা শরীরের ফাঁকা অঙ্গসমূহের অভ্যন্তরভাগ পরীক্ষা করে থাকি । 
 
এন্ডোসকোপ যন্ত্রে দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্য দিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়। 
আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহ্বরে প্রবেশ করে।
এই আলো রোগাক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ অঙ্গকে আলোকিত করে।
দ্বিতীয় আলোক তন্ত্র নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষনীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে তা দেখতে পারেন ।
 
উৎস : পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৬০.
জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্রে গঠিত চুড়ান্ত বিম্ব কেমন হয়?
  1. উলটো ও খর্বিত
  2. সোজা ও বিবর্ধিত
  3. উলটো ও বিবর্ধিত
  4. সোজা ও খর্বিত
ব্যাখ্যা
• জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope) সাধারণত দুইটি প্রধান লেন্স দিয়ে তৈরি হয়:

- অভিলক্ষ লেন্স (Objective lens)
- অভিনেত্র লেন্স (Eyepiece / Ocular lens)
- দুটি লেন্স ব্যবহারের ফলে চূড়ান্তভাবে যে বিম্ব দেখা যায় তা হয়:উলটো (inverted) ও বিবর্ধিত (magnified)
এই দুইটি লেন্স মিলে একটি ক্ষুদ্র বস্তুকে অনেক বড় এবং বিশদভাবে দেখায়। 


• অভিলক্ষ লেন্স (Objective lens):
- বস্তুটির খুব কাছাকাছি রাখা হয়।
- এটি একটি বাস্তব, উলটো ও বিবর্ধিত বিম্ব তৈরি করে।
- এই বিম্বটি চোখের লেন্সের সামনের দিকে (যেখান থেকে আমরা দেখি) অবস্থান করে।

• অভিনেত্র লেন্স (Eyepiece):
- এটি অভিলক্ষ লেন্সের গঠিত বিম্বটিকে আবার বিবর্ধিত ভার্চুয়াল বিম্ব হিসেবে দেখায়।
- এই দ্বিতীয় বিম্বটিও হয় উলটো ও বিবর্ধিত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮৬১.
তাড়িতচুম্বক তৈরি করার জন্য সলিনয়েডের মধ্যে সাধারণত কোন ধাতুটি ঢোকানো হয়? 
  1. রূপা
  2. লোহা
  3. তামা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। 
- কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬২.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি? 
  1. ২৪° সেলসিয়াস
  2. ১০০° সেলসিয়াস
  3. ৪° সেলসিয়াস
  4. ০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

• পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বরফের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে কম, তাই বরফ পানিতে ভাসে।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান (পদার্থবিজ্ঞান অংশ)।
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৩.
ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য কোন তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ 
  2. ভূ-কম্পীয় তরঙ্গ
  3. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  4. তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
শব্দ শক্তির রূপান্তর: 
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
- এ ক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- অনুনাদের সময় শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- আবার টেলিফোন ও রেডিওর প্রেরক যন্ত্রে শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৪.
ফিউজ তার কিসের সংকর?
  1. টিন ও লোহা
  2. টিন ও সীসা
  3. সোনা ও রূপা
  4. সীসা ও ব্রোঞ্জ
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক ফিউজ তার: 
- তড়িৎ যন্ত্রপাতির মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি তড়িৎ প্রবাহিত হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। 
- অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহের কারণে আগুন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। 
- এ ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বর্তনীতে এক ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় যা হলো ফিউজ তার ব্যবহার করা। 
ফিউজ সাধারণত টিন ও সীসার একটি সংকর ধাতুর তৈরি ছোট সরু তার। 
- এটি একটি চিনামাটির কাঠামোর উপর দিয়ে আটকানো থাকে। 
- এই তারটি সরু এবং গলনাঙ্ক কম। 
- এই তারের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হলে এটি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গলে যায়। 
- ফলে তড়িৎ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এভাবে তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে ফিউজ যন্ত্রপাতিকে রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৮৬৫.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে কোনটি? 
  1. ট্রান্সফরমার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার 
  3. ডায়োড 
  4. ট্রান্সজিস্টর 
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশ: 
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। 

ট্রান্সফরমার: 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এটি পরিবর্তী প্রবাহে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- ১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৬.
ট্রানজিস্টরের বেসের কাজ কী?
  1. সিগন্যাল গ্রহণ করা
  2. বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ রাখা
  3. কারেন্ট প্রবাহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা
  4. বিদ্যুতের উৎস হিসেবে কাজ করা
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে, আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৭.
​ট্রান্সফরমারে কুণ্ডলী দুটির জন্য সাধারণত কী ব্যবহার করা হয়?
  1. প্লাস্টিকের কাচ 
  2. কাঠ 
  3. কাগজের টুকরা 
  4. কাঁচা লোহার মজ্জা 
ব্যাখ্যা

ট্রান্সফরমার: 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলতঃ দুটি কুণ্ডলী থাকে, কুণ্ডলী দুটিকে একটি আয়তাকার কাঁচা লোহার মজ্জা বা কোরের উপর সারিবদ্ধ ভাবে জড়ানো হয় যেন অধিক পরিমান চৌম্বক বল রেখার সৃষ্টি হয়। 
- একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তি প্রবাহ করে অপর কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি সৃষ্টি করাই এর মূল কাজ। 
- এই যন্ত্র উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে, কিন্তু শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে। ফলে বিভব বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহ হ্রাস পায় এবং বিভব হ্রাস করলে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৮.
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ শক্তির মূল উৎস কী?
  1. ক) পানির গতি শক্তি
  2. খ) যান্ত্রিক শক্তি
  3. গ) পানির বিভব শক্তি
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সঞ্চিত জলরাশিতে বিভবশক্তি জমা হয়।
পানি নিচে প্রবাহিত হওয়ার সময় এই বিভবশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়। পানি প্রবাহের সাহায্যে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
এভাবে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৯.
কোনটি এক্সরের ধর্ম প্রকাশ করে?
  1. প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে না
  2. তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ
  3. বক্র পথে গমন করে
  4. ভেদন ক্ষমতা কম
ব্যাখ্যা

• এক্সরের ধর্ম বোঝায় তার বৈশিষ্ট্য ও আচরণ। প্রদত্ত অপশনের মধ্যে “তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ” সঠিক, কারণ এক্সর তড়িৎ ও চুম্বকীয় প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত এবং এটি আড়ভাবে ছড়িয়ে বা বিকশিত হতে পারে। অন্য অপশন গুলো- যেমন প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে না পারা, বক্র পথে গমন করা বা ভেদন ক্ষমতা কম- এক্সরের মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। তাই এক্সরের প্রধান ধর্ম হলো এটি তাড়িতচুম্বকীয় এবং আড়ভাবে প্রবাহিত হতে পারে।

এক্সরের বৈশিষ্ট্য:

- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
- এক্সরে সরল পথে গমন করে।
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
- এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
- ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3 × 108 ms-1 বেগে গমন করে।
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
- ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।

এক্সরের প্রকারভেদ:
- এক্সরে দুই প্রকার।
- কোমল এক্সরে ও কঠিন এক্সরে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭০.
নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনটি?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) সমুদ্রের পানি
  4. ঘ) পেট্রোল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে আসলে জ্বালানি হবে না, শক্তির উৎস হবে। তবে, প্রশ্নের ধরণ দেখে বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়।

যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় অর্থাৎ যা ফুরিয়ে যাবার আশংকা নেই তাই নবায়নযোগ্য শক্তি৷
যেমনঃ সূর্যের আলো, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, নদীর বহমান পানি, বায়ুশক্তি, জিওথার্মাল ইত্যাদি।
অনবায়নযোগ্য শক্তি হলো, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ।
যেমনঃ তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৮৭১.
মহাশূন্য থেকে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন যে রশ্মি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তাকে কী বলে? 
  1. গামা রশ্মি 
  2. আল্ট্রাভায়েলেট রশ্মি 
  3. মহাজাগতিক রশ্মি 
  4. ইনফ্রারেড রশ্মি 
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
৮৭২.
একজন রোগীর দেহের তাপমাত্রা 40°C হলে ফারেনহাইট স্কেলে তা কত হবে?
  1. ক) 40°F
  2. খ) 104°F
  3. গ) 102°F
  4. ঘ) 72°F
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, 
C/5 = (F-32)/9
বা, 40/5 = (F-32)/9
বা, (F-32)/9 = 8
বা, (F-32) = 72
বা, F = 72+32
∴ F = 104
৮৭৩.
মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপের ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্কেল ব্যবহার করা হয়?
  1. মিটার স্কেল
  2. ফুট স্কেল
  3. সেন্টিমিটার স্কেল
  4. ভার্নিয়ার স্কেল
ব্যাখ্যা
• ভার্নিয়ার স্কেল:
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- মিলিমিটারের ভগ্নাংশ যেমন, 0.2 মিমি, 0.5 মিমি বা 0.9 মিমি ইত্যাদি মাপার জন্য আমাদের ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করতে হয়।
- ফরাসী গণিত শাস্ত্রবিদ পিয়েরে ভার্নিয়ার এই স্কেল উদ্ভাবন করেন।
- এজন্য তাঁর নামানুসারে এ স্কেলের নামকরণ করা হয় ভার্নিয়ার স্কেল ।
- মিটার স্কেলের সাথে ভার্নিয়ার স্কেল সংযুক্ত করে মিলিমিটারের ভগ্নাংশ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- ভার্নিয়ার স্কেল আকারে মূল স্কেল অপেক্ষা ছোট হয়।
- এই স্কেলটি মূল স্কেল বা প্রধান স্কেলের পাশে সংযুক্ত থাকে, ভার্নিয়ার স্কেলকে প্রধান স্কেলের পাশ দিয়ে সামনে বা পেছনে সরানো যায়।
- প্রধান স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্য এবং ভার্নিয়ার স্কেলের এক ভাগের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যকে ভার্নিয়ার ধ্রুবক (Vernier constant) V.C বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৪.
কোন প্রাণী পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে?
  1. ক) হাঙ্গর
  2. খ) ইঁদুর
  3. গ) তিমি
  4. ঘ) কুকুর
ব্যাখ্যা

মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। যেমন বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য, তিমি পরম্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৭৫.
চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
  1. ক) বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণে
  2. খ) আলোর বিচ্ছুরণে
  3. গ) অপাবর্তনে
  4. ঘ) মরীচিকা
ব্যাখ্যা
- চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে।
- দিগন্তের কাছে তা অধিক পরিমাণে বেঁকে যায় বলেই চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায়।
৮৭৬.
কম্পিউটার মনিটরের পর্দা খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) চৌম্বক আবেশ
  2. খ) চল তড়িৎ
  3. গ) আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি
  4. ঘ) স্থির তড়িৎ
ব্যাখ্যা
কম্পিউটার মনিটরের পর্দা খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হওয়ার কারণ স্থির তড়িৎ। 

টেলিভিশন ও কম্পিউটার মনিটরের ভিতরে ইলেকট্রন গান ব্যবহার করা হয়।
ইলেকট্রন গান থেকে নির্গত ইলেকট্রন মনিটরের পর্দার ভিতর দিকে লাগানো ফসফর পদার্থের উপর এসে আঘাত করলে ফসফর দৃশ্যমান আলো তৈরি করে ।
এই ইলেকট্রনের কারণে পর্দা কিছুটা ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় এবং এর প্রভাবে পর্দার সামনে কাচের বিপরীত পৃষ্ঠ (যে পৃষ্ঠে আমরা ছবি দেখি) সে পৃষ্ঠও ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়।
এই আধানের আকর্ষণে বাতাসে ভাসমান ধুলিকণা আকৃষ্ট হয় এবং কাচের গায়ে লেগে যায়। সেজন্য টেলিভিশন ও মনিটরের পর্দা খুব তাড়াতাড়ি ময়লা হয়ে যায়।

উৎস : পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৭৭.
দুর্বলতম মৌলিক বল কোনটি?
  1. ক) মহাকর্ষ বল
  2. খ) তাড়িতচৌম্বক বল
  3. গ) সবল নিউক্লিয় বল
  4. ঘ) দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা

যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।
মৌলিক বল হলো চারটি- মহাকর্ষ বল, তাড়িতচৌম্বক বল, সবল নিউক্লিয় বল, দুর্বল নিউক্লিয় বল।
ভরের কারণে মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে। মহাকর্ষ একটি সার্বজনীন বল৷ চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষ হলো দুর্বলতম বল।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি;

৮৭৮.
ফোটন কণা -
  1. ক) ভর সম্পন্ন
  2. খ) গতিশীল
  3. গ) তড়িৎ নিরপেক্ষ
  4. ঘ) প্রতিটি ফোটন কণা শব্দের বেগে চলে
ব্যাখ্যা

আলাে যে ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট রুপে নির্গত হয় তাকে ফোটন বলে।
ফোটন ভরহীন, তড়িৎ নিরপেক্ষ স্থিতিশীল/সুস্থিত। ফোটন এর দুইটি সম্ভাব্য সমবর্তন দশা রয়েছে।
ফোটন এর কোনো চার্জ না থাকার কারনে তড়িৎ বা চুম্বক ক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা।
কোয়ান্টাম তত্ত্বের অপর নাম ফোটন তত্ত্ব।

৮৭৯.
শব্দের তীক্ষ্ণতা মাপা হয় কী দিয়ে?
  1. ডেসিবল
  2. অ্যাম্পিয়ার
  3. ক্যালরি
  4. জুল
ব্যাখ্যা

• প্রকৃতপক্ষে শব্দের তীক্ষ্ণতা (pitch) হার্জ (Hz)–এ মাপা হয়। তবে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র শব্দ-সম্পর্কিত একক হলো ডেসিবল (dB), যা শব্দের তীব্রতা বা জোর (loudness) মাপতে ব্যবহৃত হয়।

• অপশন আলোচনা -
ক) ডেসিবল - শব্দের তীব্রতা বা জোর পরিমাপের একক।
খ) অ্যাম্পিয়ার - বৈদ্যুতিক প্রবাহের মাত্রা পরিমাপের একক।
গ) ক্যালরি - খাদ্যের শক্তিমান বা শক্তি পরিমাপের একক।
ঘ) জুল - যান্ত্রিক শক্তি বা কাজ পরিমাপের একক।

শব্দের তীক্ষ্ণতা: 
- যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে কোন সুর চড়া বা সরু এবং কোন সুর মোটা বা খাদের তা বুঝা যায় তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে। 
- শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে। 
- কপাঙ্ক যত বেশি হবে শব্দের তীক্ষ্ণতা তত বৃদ্ধি পাবে। 
- ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা বেশি ও বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা কম। 
- পুরুষ অপেক্ষা মহিলা ও শিশুদের কন্ঠস্বরের কম্পাঙ্ক বেশি বলে তাদের স্বরও চড়া হয়। 
- মনে রাখতে হবে তীক্ষ্ণতা কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক হলেও দুটি এক জিনিস নয়। 
- কম্পাঙ্ক হলো যান্ত্রিক আন্দোলন যা নিখুঁতভাবে মাপা যায় আর তীক্ষ্ণতা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি। 
- কম্পাঙ্ক কারণ, আর তীক্ষ্ণতা তার ফল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮০.
ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক পাখার গতি কমানো হলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. ক) কম হয়
  2. খ) বেশি হয়
  3. গ) একই হয়
  4. ঘ) হয় না বললেই চলে
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমরা বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিবো।

প্রথমেই দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা কীভাবে ঘোরে:

একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।

এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:

এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি দুই ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায়—

১) ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।ফলে ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম-বেশির সাথে রেগুলেটর লস যথাক্রমে বেশি ও কম হয় ফলে বৈদ্যুতিক পাখার গতি যাই হোক, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।

২) ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলত ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তন করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।

তাই সবশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।
৮৮১.
বৈদ্যুতিক মটর এমন একটি যন্ত্রকৌশল, যা-
  1. তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিকে রূপান্তরিত করে
  2. তাপ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  3. যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে
  4. তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮২.
'টু এভরি অ্যাকশন দেয়ার ইজ অ্যান ইকুয়্যাল অ্যান্ড অপজিট রিয়েকশন'-এ সূত্রটি কার?
  1. আইনস্টাইন
  2. নিউটন
  3. ফ্যারাডে
  4. আর্কিমিডিস
ব্যাখ্যা
নিউটনের গতি সংক্রান্ত সূত্র: 
- বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটান ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে গতি সম্পর্কে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। 
- এই সূত্রগুলোর মধ্যে গতির মূল তথ্যগুলো নিহিত আছে। 
- এ তিনটি সূত্রকে নিউটনের গতিসূত্র বলা হয়। 
- নিউটনের গতি বিষয়ক সূত্র তিনটি: 
যেমন- 
১। প্রথম সূত্র: “বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির অবস্থায় থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম গতিতে সরল পথে চলতে থাকবে”। 

২। দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে। 

৩। তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে (To every action there is an equal and opposite reaction)। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৩.
"Radiative activation" কোন ধরনের প্রক্রিয়া দ্বারা চিহ্নিত হয়?
  1. অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া এবং শক্তি-শোষণকারী
  2. প্রত্যাবর্তনযোগ্য এবং তাপ-মুক্তকারী
  3. পরিবর্তনীয় এবং রূদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া
  4. রূদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়া এবং তাপ-মুক্তকারী
ব্যাখ্যা
• "Radioactive decay" - এর ক্ষেত্রে সাধারণত শক্তি মুক্তি ঘটে বা নির্গত হয়, শক্তি শোষণ নয়।
• আর "Radiative activation" - অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া এবং শক্তি শোষণকারী।
- উদাহরণস্বরূপ, কিছু ক্ষেত্রে, একটি পদার্থ উচ্চ-শক্তির রেডিয়েশন (যেমন গামা রশ্মি বা নিউট্রন) শোষণ করতে পারে এবং একটিভেটেড বা উত্তেজিত অবস্থায় চলে যেতে পারে।
- এটি "Radioactive decay" - এর চেয়ে আলাদা প্রক্রিয়া, এবং এতে শক্তি শোষণ হওয়া সম্ভব।

তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে। 
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। 
- স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল আকস্মিকভাবে এ রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নাম অনুসারে এই রশ্মির নাম দেয়া হয় “বেকেরেল রশ্মি”। 
- এই রশ্মি বর্তমানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays) নামে পরিচিত পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য: 
- বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়- 
১। তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফুর্ত ও অবিরাম ঘটনা। তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না। 
২। তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়। 
৩। তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তি স্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়। 
৪। তেজস্ক্রিয়তা একটি অপ্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়া। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৪.
ওজোন স্তরের ফাটলের জন্য মুখ্যত দায়ী কোন গ্যাস?
  1. ক) কার্বন মনোক্সাইড
  2. খ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. গ) মিথেন
  4. ঘ) ক্লোরোফ্লোরো কার্বন
ব্যাখ্যা
সিএফসি হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের সংক্ষিপ্ত রুপ। এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে (CFC+O302+…..)। এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়। এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে। উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির রসায়ন
৮৮৫.
Resistive এবং Inductive লোডে পাওয়ার সরবরাহকারী একটি অল্টারনেটরের ভোল্টেজ রেগুলেশন হলো-
  1. Always negative
  2. Always positive
  3. Either positive or negative
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- Resistiveএবং Inductive লোডে শক্তি সরবরাহকারী অল্টারনেটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ ধনাত্মক বা নেতিবাচক উভয়ই হতে পারে। 
- বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে যেমন লোডের ধরন এবং মাত্রা, অল্টারনেটরের বৈশিষ্ট্য এবং সিস্টেমের কনফিগারেশন।

- সাধারণভাবে, প্রতিরোধক লোডগুলি একটি অল্টারনেটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণকে স্থিতিশীল করে, যা সম্ভাব্যভাবে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ ভোল্টেজ আউটপুটের দিকে পরিচালিত করে।
- অন্যদিকে, ইন্ডাকটিভ লোড, তাদের প্রতিক্রিয়াশীল প্রকৃতির কারণে, ভোল্টেজ ড্রপ এবং ওঠানামা হতে পারে, সম্ভাব্যভাবে অল্টারনেটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
৮৮৬.
শক্তির এককে এক কিলোওয়াট ঘন্টা সমান কত জুল?
  1. ক) ৩.৬ জুল
  2. খ) ৩.৬ মেগা জুল
  3. গ) ৩৬০০ মেগা জুল
  4. ঘ) ৩৬০০০০ জুল
ব্যাখ্যা

এক ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কোনাে তড়িৎ যন্ত্রে মধ্যে দিয়ে এক ঘণ্টা ধরে তড়িৎ প্রবাহিত হলে যে পরিমাণ তড়িৎ শক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (যেমন বাতি জ্বললে আলােক শক্তি বা পাখা ঘুরালে যান্ত্রিক শক্তি পাওয়া যায়) সেটি হচ্ছে এক ওয়াট-ঘণ্টা।
১ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ ওয়াট x১ ঘণ্টা
অনেক সময় ওয়াট ঘণ্টার পরিবর্তে কিলােওয়াট ঘণ্টাও ব্যবহার করা হয়।
এক কিলােওয়াট ঘণ্টা কতটুকু শক্তি সেটাও বের করা যায়।
১ কিলােওয়াট-ঘণ্টা = ১০০০ ওয়াট x ৩৬০০ সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ ওয়াট-সেকেন্ড
= ৩,৬০,০০০০ জুল
অর্থাৎ শক্তির এককে এটি ৩.৬ মেগা জুল।
আন্তর্জাতিকভাবে, তড়িৎ সরবরাহকে কিলােওয়াট-ঘণ্টা এককে পরিমাপ করা হয়। এই একককে বাের্ড অব ট্রেড (BOT) ইউনিট বা সংক্ষেপে ইউনিট বলে। আমরা যে বিদ্যুৎ বিল পরিশােধ করি তা এই এককেই হিসাব করা হয়।
রেফারেন্সঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান

৮৮৭.
ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের ধারণা কোন সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. E = mc2
  2. F = ma
  3. V = IR
  4. P = VI
ব্যাখ্যা

• আইনস্টাইনের এই সূত্র অনুযায়ী ভর ও শক্তি পরস্পর রূপান্তরযোগ্য; অর্থাৎ ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের ধারণা E = mc2 সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

• প্রাকৃতিক নিয়ম ব্যবহার করে প্রযুক্তির বিকাশ:
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে E = mc2 সূত্র প্রদান করেন, যার মাধ্যমে ভরকে শক্তিতে রূপান্তরের ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়।
- ১৯৩৮ সালে অটোহান ও স্ট্রেসম্যান পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস বিভাজিত হলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- নিউক্লিয়ার বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি বিকশিত হয়।
- এই প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Nuclear Power Plant) স্থাপন করা হয়।
- আধুনিক সভ্যতায় শক্তি উৎপাদনে নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা হলো কঠিন অবস্থার পদার্থবিজ্ঞান (Solid State Physics), যেখানে অর্ধপরিবাহী পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয়।
- অর্ধপরিবাহী পদার্থের বিশেষ ধর্ম কাজে লাগিয়ে ট্রানজিস্টর উদ্ভাবন করা হয়।
- ট্রানজিস্টরের আবিষ্কার আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
- প্রাকৃতিক নিয়ম ও সূত্রের ব্যবহার প্রযুক্তি উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• Other Options:
F = ma → এটি নিউটনের দ্বিতীয় গতিসূত্রের সাথে সম্পর্কিত।
V = IR → এটি ওহমের সূত্র; তড়িৎ বর্তনী সংক্রান্ত।
P = VI → এটি তড়িৎ ক্ষমতার সূত্র।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৮৮.
কেপলারের কোন সূত্র গ্রহের কক্ষপথের আকৃতি সম্পর্কে ধারণা দেয়?
  1. ক) ১ম সূত্র
  2. খ) ২য় সূত্র
  3. গ) ৩য় সূত্র
  4. ঘ) ৪র্থ সূত্র
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
• কেপলারের প্রথম সূত্র -
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে


কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র -
প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

কেপলারের তৃতীয় সূত্র -
সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

- মহাকর্ষ - যে বল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণাকে পরস্পরের দিকে আকর্ষণ করে তার নাম মহাকর্ষ বল।
- নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র - মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সামানুপাতিক,এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল বস্তুকণাদ্বয়ের কেন্দ্র সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
- বিশ্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, G-এর মান 6.673×10 -11 Nm2kg2 এবং G-এর মাত্রা LMT-2 । আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে G-এর একক Nm2kg2.

তথ্যসূত্র: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৯.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ- 
  1. তাপের প্রভাব
  2. অণুর বিন্যাস
  3. পরমাণুর বিন্যাস
  4. রায়ায়নিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- এদের ভর ও আয়তন আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- কক্ষ তাপমাতায় বেশির ভাগ পদার্থ কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন অর্থাৎ তাপের প্রভাব পদার্থের এই তিন অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯০.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র-
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনমিটার
  3. ট্যাকোমিটার
  4. ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
ক্রেসকোগ্রাফ: 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম 'ক্রেসকোগ্রাফ'। 
- এটি আবিষ্কারক হলেন জগদীশচন্দ্র বসু। 
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে। 

অন্যদিকে, 
- উড়োজাহাজের গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার। 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৮৯১.
এক্সরের সাহায্যে কোন রোগ সনাক্ত করা হয়? 
  1. চর্মরোগ
  2. ক্যান্সার
  3. মুত্রথলির পাথর
  4. সকল উল্লিখিত
ব্যাখ্যা
এক্সরের ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১. শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। এজন্য শল্য চিকিৎসায় যুগান্তকারী উন্নতি সাধনের জন্য এক্সরের অবদান অকল্পনীয়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৩. বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

৪. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯২.
'প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে'- সূত্রটি কে প্রদান করেন?
  1. আর্কিমিডিস
  2. আলবার্ট আইনস্টাইন
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

নিউটনের গতি সূত্র:
- ১৬৮৭ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন তাঁর অমর গ্রন্থ "ন্যাচারালিস ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা" তে বস্তুর ভর, গতি ও বলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন। এ তিনটি সূত্র নিউটনের গতি সূত্র নামে পরিচিত। 
- নিউটনের সূত্র তিনটি। যথা:

• প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ না করলে, স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় বা সরল পথে চলতে থাকে।

• দ্বিতীয় সূত্র: কোন বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যে দিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন সেদিকেই ঘটে।

• তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৩.
শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব হলো- 
  1. ১২.৪ মিটার 
  2. ১৬.৬ মিটার 
  3. ১৫.৫ মিটার
  4. ১৮.৫ মিটার 
ব্যাখ্যা
• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ যখন দূরবর্তী কোনো মাধ্যমে বাধা পেয়ে উৎসের কাছে ফিরে আসে তখন মূল ধ্বনির যে পুনরাবৃত্তি হয় তাকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- এককথায়, প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় প্রতিধ্বনি।
- শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব ন্যূনতম ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।
- শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্র ও কুয়ার গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৪.
কোনটি উভমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়?
  1. রেডিও
  2. ইমেইল
  3. মোবাইল
  4. টেলিফোন
ব্যাখ্যা
রেডিও (Radio): 
- রেডিও এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে একস্থান হতে অন্য স্থানে পাঠানো হয়। 
- রেডিও আবিষ্কারে করেছেন ইতালির মার্কনী ও বাংলাদেশের জগদীশ চন্দ্ৰ বসু। 
- রেডিও এর সাহায্যে আমরা দূর-দূরান্ত হতে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ধরনের খবর, বিতর্ক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি শুনতে পাই। 
- রেডিও হচ্ছে একমুখী গ্রাহক যন্ত্র। 
- রেডিওতে শুধু শোনা যায় কিন্তু শোনার পরে কোন মন্তব্য বলে পাঠানো সম্ভব নয়। 

অন্যদিকে, 
- অপরপক্ষে যদিও মোবাইল বা টেলিফোনে রেডিও যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয়, তারপরও মোবাইল বা টেলিফোন উভয়মুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
- ইমেইল এর মাধ্যমে প্রেরক ও গ্রহণকারী উভয়ে বার্তা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৮৯৫.
বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার- 
  1. সমানুপাতিক
  2. বর্গমূলের সমানুপাতিক
  3. ব্যস্তানুপাতিক
  4. বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা

• শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∞ √T 
এখানে তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়। কেলভিন স্কেলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না। 
- তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। 
- তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। 
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি। 
- প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ০.৬ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৬.
পদার্থের পরিমাণ পরিমাপের একক কোনটি? 
  1. ক্যান্ডেলা
  2. মোল
  3. অ্যাম্পিয়ার
  4. কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা
মোল: 
- পদার্থের পরিমাণ পরিমাপের একক মোল। 
- যে পরিমান পদার্থে 0.012 কিলোগ্রাম কার্বন-12 এ অবস্থিত পরমাণুর সমান সংখ্যক প্রাথমিক ইউনিট (যেমন পরমাণু, অণু, আয়ন, ইলেকট্রন ইত্যাদি বা এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ) থাকে, তাকে 1 মোল বলে। 

কিলোগ্রাম: 
- ভরের একক কিলোগ্রাম। 
- কিলোগ্রাম ফ্রান্সের স্যাভ্রেতে ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েটস এন্ড মেজারস এ সংরক্ষিত প্লাটিনাম ইরিডিয়াম সংকর ধাতুর তৈরি একটি সিলিন্ডারের ভরকে 1 কিলোগ্রাম (kg) বলে। 
- এই সিলিন্ডারটির উচ্চতা ও ব্যাস উভয়ই 3.9 cm. 

অ্যাম্পিয়ার: 
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার। 
- শূন্য মাধ্যমে 1m দূরত্বে অবস্থিত অসীম দৈর্ঘ্যের এবং উপেক্ষনীয় প্রস্থচ্ছেদের দুটি সমান্তরাল সরল পরিবাহীর প্রত্যেকটিতে যে পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহ চললে পরস্পরের মধ্যে প্রতি মিটার দৈর্ঘ্যে 2×10-7 N নিউটন বল উৎপন্ন হয়, তাকে 1 ampere (অ্যাম্পিয়ার) বলে। 

ক্যান্ডেলা: 
- দীপন তীব্রতার একক ক্যান্ডেলা। 
- ক্যান্ডেলা হচ্ছে সেই পরিমাণ দীপন তীব্রতা যা কোনো আলোক উৎস একটি নির্দিষ্ট দিকে 540×1012 হার্জ কম্পাঙ্কের এক বর্ণী বিকিরণ নিঃসরণ করে এবং ঐ নির্দিষ্ট দিকে তার বিকিরণ তীব্রতা হচ্ছে প্রতি স্টেরোডিয়ান ঘনকোণে 1/863 ওয়াট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৭.
পরমাণু চুল্লীতে সচরাচর কোন্‌ জ্বালানী ব্যবহার করা হয়?
  1. ইউরেনিয়াম-২৩৫
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. থোরিয়াম-১৩২
  4. প্লুটোনিয়াম-২৪০
ব্যাখ্যা

- পারমাণবিক চুল্লিতে প্রধানত বিভাজনযোগ্য আইসোটোপ ব্যবহার করা হয় যা নিউট্রন আঘাত করলে ভেঙে গিয়ে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন করে। ইউরেনিয়াম-২৩৫ হলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একমাত্র আইসোটোপ যা এই শৃঙ্খল বিক্রিয়া (chain reaction) বজায় রাখতে সক্ষম। 

নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়াগুলোই মূলত নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া (Chain Reaction)। 
- যে বিক্রিয়া একবার শুরু হলে তাকে চালু রাখার জন্য অতিরিক্ত কোনো শক্তির প্রয়োজন হয় না তাকে নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া বলে। 
- একটি আইসোটোপকে একটি নিউট্রন দিয়ে আঘাত করা হলে আইসোটোপটি ভেঙে একটি নিউক্লিয়াস, একটি নিউক্লিয়াস, 3টি নিউট্রন এবং প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- এই 3টি নিউট্রনের গতি কমানো সম্ভব হলে সেগুলোর একটি অংশ আবার অন্য আইসোটোপকে আঘাত করে, এভাবে আরো নিউট্রন উৎপন্ন হয়।
- সেই নিউট্রনগুলোর গতিবেগ কমানো হলে তাদের একটি অংশ আবার অন্য কে আঘাত করে ফলে আবার নিউট্রন উৎপন্ন হয়। এভাবে চলমান বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার চেইন বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যথেষ্ট জটিল এবং এই বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে পারমাণবিক চুল্লিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৮.
আলোর প্রতিসরণের ফলে কোন ঘটনাটি ঘটে?
  1. আয়নার সামনে দাঁড়ালে প্রতিবিম্ব দেখা যায়।
  2. জলাশয়ের পানিতে আকাশ বা গাছের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। 
  3. প্রিজমের মাধ্যমে সাদা আলো রংধনু রঙে বিভক্ত হয়।
  4. পানির নিচে ডুবে থাকা পয়সা প্রকৃত অবস্থান থেকে উপরে দেখা যায়।
ব্যাখ্যা

আলোর প্রতিসরণ:
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয় তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে।
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে।
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না।

• আলোর প্রতিসরণের ফলে:
- পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়।
- একটি সরল দণ্ডকে তির্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়।
- পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়।
- খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়।
- পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) আয়নার সামনে দাঁড়ালে প্রতিবিম্ব দেখা যায়। (প্রতিফলন) 
খ) জলাশয়ের পানিতে আকাশ বা গাছের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। (প্রতিফলন) 
গ) প্রিজমের মাধ্যমে সাদা আলো রংধনু রঙে বিভক্ত হয়। (বিচ্ছুরণ) 

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৯.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলে?
  1. ক) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. খ) তরঙ্গ বেগ
  3. গ) বিস্তার
  4. ঘ) কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক: তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
কম্পাঙ্কের একক s-1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান
৯০০.
রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়?
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. কসমিক রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়।

- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জনরশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।