বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন৩,৭৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ৩৮ · ৪০১৫০০ / ৩,৭৪৭

৪০১.
পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়া-
  1. ক) তেজস্ক্রিয়তা
  2. খ) ফিউশন বিক্রিয়া
  3. গ) ফিশন বিক্রিয়া
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- প্রকৃতিতে এমন কতকগুলি পরমাণু পাওয়া যায় যারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উচ্চ ভেদনদক্ষমতা সম্পন্ন গামা রশ্মি, বিটা কণিকা ও আলফা কণিকা বিকিরণ করে।
- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি এ ধরণের পরমাণু। স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রশ্মি বিকিরণের প্রক্রিয়াকেই তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- তেজস্ক্রিয়তা দুই প্রকার । যথা- প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা ও কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা।
১। প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা- কোনো পদার্থ হতে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
২। কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা- কৃত্রিম উপায়ে কোনো মৌলকে তেজস্ক্রিয় মৌলে পরিণত করলে যে তেজস্ক্রিয়তা ঘটে তাকে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা বলে। 

ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া বলে।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া। 
- নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি পারমাণু ভেঙ্গে একাধিক হালকা ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ব্যবহার করে পারমাণবিক বোমা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
দৃশ্যমান আলোর মধ্যে কোন বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
  1. লাল 
  2. কমলা 
  3. বেগুনি 
  4. সবুজ 
ব্যাখ্যা

- দৃশ্যমান আলোর বর্ণালীতে বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ার কারণে এই আলোর কম্পাঙ্ক এবং শক্তির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র। এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি। 
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম। 
- বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি। 
- লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৩.
নিচের কোনটি আলোর প্রতিসরণের একটি উদাহরণ? 
  1. ছায়া সৃষ্টি হওয়া
  2. আয়নায় মুখ দেখা
  3. পানিতে বৈঠা বাঁকা দেখা
  4. চোখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়া
ব্যাখ্যা

আলোর প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয় তখন ২য় মাধ্যমে আলোর গতিপথের দিক পাল্টে যাওয়াকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- আলো এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় প্রতিসরিত আলোকরশ্মি অভিলম্ব হতে সরে যায় বা অভিলম্বের দিকে আসে। 
- বিষয়টি দুইটি মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে। 
- আলোর প্রতিসরণের জন্য বস্তুর প্রকৃত অবস্থান দেখা যায় না। 
- আলোর প্রতিসরণের ফলে যা ঘটে- 
• পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়। 
• একটি সরল দণ্ডকে তীর্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়। 
• পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়। 
• খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়। 
পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়। 

অন্যদিকে, 
- ছায়া সৃষ্টি হওয়া → এটি আলোর প্রতিবন্ধকতা ও সরলরেখায় চলাচলের ফল, প্রতিসরণ নয়। 
- আয়নায় মুখ দেখা → এটি প্রতিফলনের উদাহরণ। 
- চোখে সরাসরি সূর্যের আলো পড়া → এটি কোনো নির্দিষ্ট অপটিক্যাল ঘটনাকে বোঝায় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০৪.
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী, দুটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্ব দ্বিগুণ হলে আকর্ষণ বল কত গুণ হবে?
  1. ২ গুণ
  2. ৪ গুণ
  3. ১/২ গুণ
  4. ১/৪ গুণ
ব্যাখ্যা

◉ দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল ১/৪ গুণ হবে। 

মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক।
- মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।


অর্থাৎ, মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়লে বল কমে যায়। দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে বল পূর্বের ১/৪ হবে।

উৎস: উচ্চ মধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।

৪০৫.
সর্বাপেক্ষা ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ হচ্ছে -
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা

- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে ছোট হয় সেটাকে আমরা বলি আল্ট্রা ভায়োলেট আলো, আরও ছোট হলে এক্স-রে আরও ছোট হলে গামা রে- যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়।

- আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বড় হয় সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরও বড় হলে মাইক্রোওয়েভ এবং আরও বড় হলে রেডিও ওয়েভ।

 -জীবজগতের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি হলাে গামা রশ্মি।
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় এর ভেদন ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। পারমাণবিক বিস্ফোরণে গামা রশ্মি নির্গত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি, নাসা ওয়েবসাইট।

৪০৬.
একটি কাঁচের মধ্যে লাল, সবুজ, নীল ও বেগুনি রঙের আলো ফেললে কোনটির প্রতিসরণ সবচেয়ে বেশি হবে?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে পরিসর 4×10-7m থেকে 7×10-7m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।

• যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
• বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
• আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৭.
যেসকল পদার্থকে চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়কারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাকে বলে-
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
  3. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  4. এন্টিফেরোচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• ডায়াচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়নকারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ। 
 
• প্যারাচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
যেমন: অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

• ফেরোচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৮.
বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়-
  1. ট্রান্সমিটারের সাহায্যে
  2. স্টেপ-আপ ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  3. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে
  4. এডাপটারের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
• ট্রান্সফর্মার:
- ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি সার্কিট থেকে অপর একটি সার্কিটে স্থানান্তর করে।
- ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
১. স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং
২. স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার - অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে।
- এই ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয়।
- দূরদূরান্তে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।
- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার - অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে।
- স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে বিদ্যুতের উচ্চতর ভোল্ট থেকে নিম্নতর ভোল্ট পাওয়া যায়।
- স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।
- বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৯.
কিসের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস পরিমাপ করা যায়?
  1. স্লাইড ক্যালিপার্স
  2. স্ক্রু গজ
  3. ভার্নিয়ার স্কেল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্লাইড ক্যালিপার্স: 
- যে পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুর দু-প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায় তাকে স্লাইড ক্যালিপার্স বলে।
- এই যন্ত্রের সাহায্যে সিলিন্ডারের ব্যাস মাপা যায়। 

অন্যদিকে, 
- মিলিমিটারের চেয়ে সূক্ষ্ম পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার স্কেল ব্যবহার করা হয়। 
- স্ক্রু গজ যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষুদ্র বস্তুর দৈর্ঘ্য, সরু তারের ব্যাস, সরু চোঙের ব্যাসার্ধ ইত্যাদি পরিমাপ করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪১০.
C-14 আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ৭টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
কার্বোনের আইসোটোপ এবং তাদের মৌলিক কণিকার সংখ্যা:

- C-12:  6টি প্রােটন এবং 6টি নিউট্রন,
- C-13:  6টি প্রােটন এবং 7টি নিউট্রন,
- C-14:  6টি প্রােটন এবং ৪টি নিউট্রন।

- এখানে, C14 বলতে আসলে ১৪ পারমানবিক ভর বিশিষ্ট কার্বনকে বুঝানো হয়েছে। আমরা জানি ভর হলো নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি। কার্বনের প্রোটন সংখ্যা ৬ তাই C14  এ নিউট্রনের সংখ্যা (১৪ - ৬) বা ৮টি।
- কার্বনের এই তিনটি আইসােটোপের মাঝে C14 অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান।
৪১১.
নিচের কোনটি নবায়নযোগ্য শক্তি?
  1. জলবিদ্যুৎ
  2. নিউক্লিয়ার
  3. গ্যাস
  4. তেল
ব্যাখ্যা

• শক্তি: 
- শক্তি হচ্ছে কাজ করার সামর্থ্য। শুধু তা-ই না, যখন কোনো বস্তুর ওপর কোনো বল প্রয়োগ করে ধনাত্মক কাজ করা হয় তখন সেই বলটি আসলে বস্তুটির মাঝে একটা শক্তি সৃষ্টি করে। বস্তুটির মাঝে যতটুকু কাজ করা হয়েছে বস্তুটির মাঝে ততটুকু শক্তি সৃষ্টি হয় এবং যে বল প্রয়োগ করছে তাকে ঠিক সেই পরিমাণ শক্তি দিতে হয়।
- শক্তির একক হচ্ছে জুল (J)।

• শক্তির উৎস:
ক) অনবায়নযোগ্য:
- তেল, 
- গ্যাস, 
- কয়লা, 
- নিউক্লিয়ার। 

খ) নবায়নযোগ্য:
- জলবিদ্যুৎ
- বায়োমাস, 
- সৌরশক্তি, 
- বায়ুশক্তি, 
- জিওথার্মাল। 

• অনবায়নযোগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায় না, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এগুলোকে বলা হয় অনবায়নযোগ্য শক্তি। 
 - এই মুহূর্তে পৃথিবীর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে তেল,গ্যাস এবং কয়লা।
- তেল, গ্যাস এবং কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে। মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়।
- মাটির নিচ থেকে যে তেল তোলা হয় (Crude Oil) প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয় এবং সাথে সাথে আরো ব্যবহারযোগ্য পদার্থ বের হয়ে আসে।
- মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয়, সেটি মূলত মিথেন (CH4) এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশানো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়।
- অনেক দেশ নিউক্লিয়ার শক্তিকে ব্যবহার করছে, সেখানেও একধরনের জ্বালানির দরকার হয়, সেই জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম।
- তেল, গ্যাস, কয়লা বা ইউরেনিয়াম, এই শক্তিগুলোর মাঝে একটা মিল রয়েছে, এগুলো ব্যবহার করলে শেষ হয়ে যায়। মাটির নিচে কতটুকু তেল, গ্যাস, কয়লা আছে কিংবা পৃথিবীতে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছে তা বিভিন্ন উপায়ে মানুষ জানতে পেরেছে। 

• নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে শক্তিকে নবায়ন করা যায়, যে কারণে এটার ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই এগুলোকে বলা হয় নবায়নযোগ্য (Renewable Energy)।
- নবায়নযোগ্য শক্তি আসে সূর্যের আলো থেকে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা কিংবা ঢেউ থেকে, উন্মুক্ত প্রান্তরের বাতাস থেকে, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা থেকে কিংবা নদীর বহমান পানি থেকে। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব মানুষ যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে এই নবায়নযোগ্য শক্তি। যত দিন যাচ্ছে মানুষ ততই পরিবেশ সচেতন হচ্ছে। তাই এ রকম শক্তির ব্যবহার আরো বেড়ে যাচ্ছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি। 

৪১২.
কোনটির সাহায্যে ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়? 
  1. পেরিস্কোপ
  2. টেলিস্কোপ
  3. নভো-দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  4. অণুবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুইটি সমতল দর্পণের প্রয়োজন হয়। আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখতে পাই না তা এর মাধ্যমে দেখা যায়। 
- এটি তৈরি হয় সমকোণে দুবার বাঁকানো একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের দুটি ফালি স্থাপন করে। 
- ডুবোজাহাজ বা যুদ্ধের ট্যাংকে পেরিস্কোপের ব্যবহার অপরিহার্য। 
- পেরিস্কোপের সাহায্যে পানির তলায় ডুবে থাকা ডুবোজাহাজ থেকে পানির উপরিভাগের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।  

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪১৩.
নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্রের উদাহরণ কোনটি?
  1. একজন মাঝির নৌকা চালানো
  2. চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে
  3. থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন
  4. বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
• নিউটনের প্রথম সূত্র:
- বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং সমবেগে চলতে থাকা বস্তু সমবেগে চলতে থাকবে।
- উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
- থেমে থাকা বাস হঠাৎ চলতে শুরু করলে যাত্রীরা সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়েন।

• নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র:
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয় ভরবেগের পরিবর্তনও ঘটে সেদিকে।
- উদাহরণ: কোনো বস্তু নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে পড়ে তখন মহাকর্ষ বলের কারণে ত্বরণ বেড়ে যায়।

• নিউটনের তৃতীয় সূত্র:
- যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়োগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়োগ করে।
- উদাহরণ: বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে।
- একজন মাঝি নৌকা চালানোর সময় নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রয়োগ করে।
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৪.
How fast should an intercontinental ballistic missile be launched to leave Earth permanently?
  1. 11.2 kmh- 1
  2. 11.2 ms- 1
  3. 1.2 Kms- 1
  4. 9.8 ms- 2
  5. 11.2 Kms- 1
ব্যাখ্যা
• আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলকে (ICBM) ১১.২ Kms-1 বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসবে না। 

• মুক্তি বেগ:
- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সেই বেগকে মুক্তিবেগ (Escape velocity) বলা হয়।

• মুক্তি বেগ বা তার বেশি বেগে কোন বস্তুকে নিক্ষেপ করা হলে সেটি আর পৃথিবীতে ফিরে না এসে পৃথিবীর চারদিকে প্রদক্ষিন করতে থাকে।
- মুক্তি বেগের মান হলো ১১.২ কি.মি./সেকেন্ড বা ১১.২ Kms-1
- আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) কে মুক্তি বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে সেটি পৃথিবীর অভিকর্ষকে অতিক্রম করে চলে যাবে , ফলে সেটি আর ফেরত আসবে না। 

• সাধারণত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) এর গতিবেগ হয় প্রতি সেকেন্ডে ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার। 
- মুক্তিবেগ থেকে এই বেগ কম হওয়ায় তা আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- কিন্তু তা ১১.২ কিলোমিটার/সেকেন্ড বা তার বেশি বেগ প্রাপ্ত হলে পৃথিবীতে আর ফিরে আসবে না। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৫.
যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে, তাদেরকে কী বলে? 
  1. পরিবাহী
  2. অপরিবাহী
  3. কুপরিবাহী
  4. অর্ধপরিবাহী
ব্যাখ্যা
পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই আধান বা তড়িৎ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে, সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। 

অর্ধপরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন-কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৬.
সমুদ্রতীরে কোনটির প্রাচুর্য থাকে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) জলীয়বাষ্প
ব্যাখ্যা
সাধারণভাবে বায়ুতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ৭৮.০২%, অক্সিজেন ২০.৭১%, আর্গন ০.৮০%, জলীয়বাষ্প ০.৪১% এবং অন্য গ্যাসসমূহের পরিমাণ ০.০২%।
সুতরাং বলা যায়, সমুদ্রতীরের বাতাসে সামান্য হেরফের থাকলেও সেখানে নাইট্রোজেনেরই প্রাচুর্য থাকে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৪১৭.
অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যম দিয়ে আলো কোন প্রক্রিয়ায় চলে? 
  1. বিচ্ছুরণ
  2. অপবর্তন
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. ব্যতিচার
ব্যাখ্যা
অপটিক্যাল ফাইবার: 
- অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি খুব সরু কাঁচতন্তু, এটা মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয়। 
- আলোক রশ্মিকে বহনের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- আলোক রশ্মি যখন এই কাঁচতন্তুর মধ্যে প্রবেশ করে তখন এর দেয়ালে বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটতে থাকে, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে আলোক রশ্মি কাঁচতন্তু অপর প্রান্ত দিয়ে বের না হওয়া পর্যন্ত। 
- সাধারণত চিকিৎসকেরা মানবদেহের ভিতরের কোনো অংশ (যেমন পাকস্থলী, কোলন ইত্যাদি দেখার জন্য) যে বিকিরণআলোক নলটি ব্যবহার করে এটি একগুচ্ছ অপটিক্যাল ফাইবারের সমন্বয়ে গঠিত। 
- এছাড়া অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের আরেকটি ক্ষেত্র হলো টেলিযোগাযোগ। এতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করার ফলে একই সাথে অনেকগুলো সংকেত প্রেরণ করা যায়। 
- এই সংকেত অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪১৮.
একটি বালিকা দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে, সে দোলনায় উঠে দাঁড়ালে দোলনকালের কী পরিবর্তন ঘটবে?
  1. কমবে
  2. বাড়বে
  3. শূন্য হবে
  4. পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
দোলনকাল (Time Period) :
একটি পূর্ণদোলনের জন্য কোনো কণা যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল (T) বলা হয় । এর মাত্রা হলো সময়ের মাত্রা T এবং একক হলো সেকেন্ড (s)।
 
আমরা জানি, সরল দোলকের ক্ষেত্রে, T ∝ √L, যেখানে L = কার্যকরী দৈর্ঘ্য। 

বালিকা দোলনায় উঠে দাঁড়ালে কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে যাবে, ফলে দোলনকাল কমে যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
৪১৯.
কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আকাশে পানির কনা জমে যায় এবং শিলা আকারে পৃথিবীতে নেমে আসে?
  1. -8° C
  2. -20° C
  3. -50° C
  4. -60° C
ব্যাখ্যা

• আকাশে পানি কণার জমে যাওয়ার তাপমাত্রা নির্ভর করে মূলত বাতাসের তাপমাত্রা এবং পানির অবস্থা (তরল বা বাষ্প) এর উপর। সাধারণত, তাপমাত্রা -8°C থেকে -10°C-এর মধ্যে হলে ছোট ছোট পানি কণাগুলো বরফে পরিণত হতে শুরু করে। তবে, যখন শিলা বা বরফের আকারে পৃথিবীতে বৃষ্টি বা তুষার নামে নেমে আসে, তখন এটি অনেক কম তাপমাত্রায় ঘটে। সাধারণ আবহাওয়াগত গবেষণায় দেখা যায়, বৃষ্টির পানি বা ধূলিকণার চারপাশে বরফ গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় প্রায় -20°C তাপমাত্রা। তাই আকাশে পানি কণা জমে শিলা বা বরফ আকারে পৃথিবীতে নেমে আসার জন্য সবচেয়ে সঠিক তাপমাত্রা হলো খ) -20° C। এটি মূলত বরফবীজণ প্রক্রিয়ার কারণে ঘটে।
 
• আকাশে পানির কনা জমে শিলা আকারে পৃথিবীতে পড়া (Hail Formation):
- যখন মেঘের ভেতরে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে, তখন পানির কণা জমে কণা আকারে বরফে পরিণত হয়।
- সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় পানি খুব দ্রুত জমে এবং বড় বড় বরফের টুকরা (শিলা) তৈরি হয়।
- বরফের এই শিলাগুলি মেঘের ভেতরের বাতাসের প্রবাহের কারণে উপরের দিকে ওঠানামা করতে থাকে এবং আরও বরফ জমতে থাকে।
- যেহেতু এই প্রক্রিয়ার জন্য তাপমাত্রা খুব নিম্নে (-20° C) থাকা প্রয়োজন, তাই শিলা আকারে বরফ পৃথিবীতে পড়ে।
- বরফের শিলার আকার এবং ওজন মেঘের ভেতরের তাপমাত্রা ও বাতাসের গতির উপর নির্ভর করে।

সুতরাং, আকাশে পানির কনা জমে শিলা আকারে পৃথিবীতে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা হলো -20° C।  
সঠিক উত্তর: খ) -20° C

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন। 

৪২০.
পৃথিবীতে কোন বস্তুর মুক্তিবেগের মান কত?
  1. ক) 1.7 kms-1
  2. খ) 5.4 kms-1
  3. গ) 11.2 kms-1
  4. ঘ) 21.9 kms-1
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞা:
- সর্বাপেক্ষা কম যে বেগে কোনো বস্তুকে খাড়া ওপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না সে বেগকে মুক্তিবেগ বলে।

মুক্তিবেগের মান:
- কোনো বস্তুকে এমন গতিশক্তি দিতে হবে যাতে সেটি পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যেতে পারে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কোনো বস্তুকে অসীমে নিয়ে যেতে যে কাজ করতে হবে বস্তুটিকে নিক্ষেপের সময় সে গতিশক্তি প্রদান করতে হবে। এরূপ গতিশক্তি অর্জন করতে যে বেগ দিতে হবে তাই মুক্তিবেগ Ve
- পৃথিবীর মুক্তিবেগের মান 11.2 kms-1
অর্থাৎ, কোন বস্তুকে এই বেগে নিক্ষেপ করলে তা পৃথিবীর আকর্ষণ কাটিয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ড. শাহজাহান তপন। 
৪২১.
কোন ক্ষেত্রে কাজের পরিমাণ 1 জুল হবে? 
  1. 2 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  2. 1 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  3. 1 N বল প্রয়োগ করে 2 m সরণ সৃষ্টি হলে 
  4. 2 N বল প্রয়োগ করে 1 m সরণ সৃষ্টি হলে
ব্যাখ্যা

কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে বল এবং সরণ এই দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই।
- কাজের মাত্রা, [W] = ML2T-2 । 

কাজের একক: 
- বলের একককে সরণের একক দিয়ে গুণ করলে কাজের একক পাওয়া যায়। 
- বলের একক হচ্ছে নিউটন (N) এবং সরণর একক হচ্ছে (m)। 
অতএব, কাজের একক হবে নিউটন মিটার (Nm)। 
- নিউটন মিটারকে জুল (J) বলা হয়। এটি কাজের আন্তর্জাতিক একক। 
- কোন বস্তুর উপর এক নিউটন বল প্রয়োগ করা হলে যদি বস্তুটি বলের দিকে এক মিটার সরণের সৃষ্টি হয় তবে সম্পন্ন কাজ হবে এক জুল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২২.
ট্রানজিস্টর কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. একমুখীকরণে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করতে
  3. বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে
  4. উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে রূপান্তরে
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টর একটি অর্ধপরিবাহী যন্ত্র যা মূলত দুর্বল সংকেতকে শক্তিশালী করতে (বিবর্ধক বা Amplifier) এবং ইলেকট্রনিক সার্কিটে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে (সুইচ বা Switch) ব্যবহৃত হয়।

• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। 
যথা: এমিটার, বেস এবং কালেক্টর। 
- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)। 
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়। 
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে। 
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক। 
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- একমুখীকরণে বা এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করতে মূলত ডায়োড ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চয় করতে ধারক বা ক্যাপাসিটর ব্যবহৃত হয় যা বৈদ্যুতিক আধান ধরে রাখে।
- উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে রূপান্তরে ট্রান্সফর্মার (Step-down) ব্যবহার করা হয় যা মূলত এসি বিভব পরিবর্তন করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৩.
বলের মাত্রা কোনটি?
  1. ML2T2
  2. ML2T-1
  3. ML2T-3
  4. MLT-2
ব্যাখ্যা
• বলের মাত্রা MLT-2.

• মাত্রা:
- ভৌত রাশিগুলো এক বা একাধিক মৌলিক রাশি দ্বারা গঠিত হয়।
- সুতরাং যে কোনো ভৌত রাশিকে বিভিন্ন সূচকের এক বা একাধিক মৌলিক রাশির গুণফল হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো ভৌত রাশিতে বিদ্যমান মৌলিক রাশি গুলোর সূচককে রাশিটির মাত্রা বলে।
- মৌলিক রাশি দৈর্ঘ্য, ভর ও সময়কে যথাক্রমে L, M ও T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- L কে দৈর্ঘ্যের মাত্রা, M কে ভরের মাত্রা, T কে সময়ের মাত্রা বলে।
- যেমন, বল = ভর × ত্বরণ। সুতরাং, বলের মাত্রা MLT-2.

- কাজের মাত্রা ML2T-2.
- শক্তির মাত্রা ML2T-2.
- টর্কের মাত্রা ML2T-2.
- ক্ষমতার মাত্রা ML2T-3.

উৎস: পদার্থিবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৪.
1 µF কত ফ্যারাডের সমান?
  1. 10-3 F
  2. 10-6 F
  3. 10-9 F
  4. 10-12 F
ব্যাখ্যা
ধারক (Capacitor): 
- কোনো বস্তুকে তাপ দিলে বস্তু তাপ ধারণ করে রাখে, তাই বস্তুকে তাপ ধারক বলা যায়। তেমনি যে বস্তু আধান ধারণ অর্থাৎ সঞ্চয় করে রাখে, তাকে আধান ধারক বা শুধু ধারক বলে। 
- পাত্রে পানি ঢাললে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কোনো বস্তুকে তাপ দিলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তেমনি কোনো বস্তুতে আধান প্রদান করলে বস্তুর বিভব বৃদ্ধি পায়। 
- যে পরিমাণ আধান প্রদান করলে একটি বস্তুর বিভব 1V বৃদ্ধি পায় তাকে তার ধারকত্ব বলে। 
- ধারকত্বকে C দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ধারকত্বের একক ফ্যারাড (F)। 
ধরা যাক, একটি বস্তুতে q পরিমাণ আধান প্রদান করায় বস্তুটির বিভব হলো V । তাহলে বস্তুটিতে 1 বিভব বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় আধানের পরিমাণ বা বস্তুর ধারকত্ব, C = q/V 
সুতরাং 1(F) = 1(C)/1(V) = 1CV-1
- ধারকের একক ফ্যারাড (F) একটি বেশ বড় একক। এজন্য এর কতগুলো ছোট একক ব্যবহার করা হয়। 
১. 1 µF (মাইক্রো ফ্যারাড) = 10-6 F
২. 1 nF (ন্যানো ফ্যারাড) = 10-9 F এবং 
৩. 1 pF (পিকো ফ্যারাড) = 10-12 F. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৫.
নাইটিনল হলো -
  1. ক) এক ধরনের সংকর ধাতু
  2. খ) এক ধরনের এন্টিবায়োটিক
  3. গ) এক ধরনের আলোক যন্ত্র
  4. ঘ) একটি বিষাক্ত গ্যাস
ব্যাখ্যা
নাইটিনল হলো সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটিনিয়ামের সমান আণবিক অনুপাতে তৈরী।
এটি নিকেল টাইটিনিয়াম নামেও পরিচিত।

নাইটিনল সংকর ধাতুটি দুটি খুবই অনন্য ও খুবই কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত ধর্ম প্রদর্শন করে।

১) আকৃতি ধরে রাখার অনন্য ক্ষমতা যাকে  Shape Memory বলে।
Shape memory হচ্ছে বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট যা নাইটিনলকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরে তার আকৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। নাইটিনল দিয়ে কোনো কিছু তৈরীর সময় নির্দিষ্ট আকৃতি দেওয়ার ক্ষত্রে তাপমাত্রা খুব বড় প্রভাবক। তৈরির সময়ের এই তাপমাত্রাকে রুপান্তরক তাপমাত্রা বলে।

২) বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা ( superelasticity বা pseudoelasticity)
নাইটিনলের বিশেষ ধরনের স্থিতিস্থাপকতা একটি ক্ষুদ্র তাপমাত্রার পরিসরে হয়ে থাকে যা এর রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি। এই কারণেই বাঁকা তার টি এই রুপান্তর তাপমাত্রার বেশি তাপমাত্রার গরম পানিতে দেওয়ার ফলে সোজা হয়।

সূত্রঃ The Story of Nitinol: The Serendipitous Discovery of the Memory Metal and Its Applications;
৪২৬.
একটি বাল্বে '40W – 120V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম?
  1. 160 ohm
  2. 30 ohm
  3. 360 ohm
  4. 480 ohm
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি বাল্বে '40W – 120V' লেখা আছে। বাল্বটির রোধ কত ওহম?

সমাধান: 
এখানে,
বিভব পার্থক্য, V = 120V
ক্ষমতা, P = 40 W
রােধ, R = ?

আমরা জানি,
P = V2/R
⇒ R = V2/P
⇒ R = (120 × 120)/40
∴ R = 360 ohm
৪২৭.
6 Ω, 8 Ω ও 9 Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ কত হবে? 
  1. 0.5 Ω
  2. 5.0 Ω
  3. 23 Ω
  4. 25 Ω
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 6 Ω, 8 Ω ও 9 Ω মানের তিনটি রোধ শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত থাকলে তাদের তুল্য রোধ কত হবে? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
রোধ, R1 = 6 Ω, 
রোধ, R2 = 8 Ω এবং 
রোধ, R3 = 9 Ω 

যেহেতু রোধ তিনটি শ্রেণি সমবায়ে সংযুক্ত সুতরাং তুল্য রোধ, R = R1 + R2 + R3 
= 6 Ω + 8 Ω + 9 Ω 
= 23 Ω 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
সুপরিবাহী পদার্থে valence band এবং conduction band -
  1. আলাদা থাকে
  2. ওভারল্যাপ থাকে
  3. অনেক দূরে থাকে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট মুক্ত ইলেকট্রন থাকে এবং যেগুলোর মধ্য দিয়ে খুব সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলাচল করতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, রূপা, লোহা ইত্যাদি পরিবাহী পদার্থ। 

সুপরিবাহী পদার্থে বৈশিষ্ট্য: 
- পরিবাহীতে যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ডের মাঝে কোন শক্তি ব্যবধান থাকে না। অর্থাৎ, Ep এর মান শূন্য হয়। 
- এক্ষেত্রে পরিবাহীর যোজন ব্যান্ড ও পরিবহন ব্যান্ড এর মধ্যে আংশিক উপরিলেপন ঘটে বা ওভারল্যাপ থাকে, কাজেই যোজন ইলেকট্রন খুব সহজেই পরিবহন ইলেকট্রনে পরিণত হতে পারে। 
- এই উপরিলেপনের জন্য পরিবাহীর দুই প্রান্তে খুব সামান্য বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহীতে প্রচুর পরিমাণে মুক্ত ইলেকট্রন থাকার ফলে এদের রোধ খুব কম হয় অর্থাৎ তড়িৎ পরিবাহিতা বেশি হয়। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৯.
এভারেস্ট শৃঙ্গে মহাকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান আনুমানিক কত?
  1. 9.75 m/s2
  2. 9.83 m/s2
  3. 9.77 m/s2
  4. 9.91 m/s2
ব্যাখ্যা
[পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে g-এর মান সামান্য কমে যায়। এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা প্রায় ৮৮৪৯ মিটার, ফলে সেখানে এ-এর মান 9.77 m/s² এর কাছাকাছি হয়। উল্লেখ্য যে, বোর্ড বই অনুসারে এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 m/s2, যেহেতু অপশনে  9.81 m/s2 নেই তাই ব্রিটানিকা ও অন্যান্য উৎস অনুসারে 9.77 m/s² কে সঠিক উত্তর বলে বিবেচনা করা হয়েছে]

• অভিকর্ষ:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের উপর বা পৃষ্ঠ সংলগ্ন কোনো বস্তু এবং পৃথিবীর মধ্যে যে মহাকর্ষ বল ক্রিয়াশীল তাকে অভিকর্ষ বলে।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ:
- অভিকর্ষ বলের প্রভাবে মুক্তভাবে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ বা বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে। একে g দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• অভিকর্ষজ ত্বরণ g-এর মান:
- বিষুব রেখা বরাবর g-এর মান সর্ব নিম্ন প্রায় 9.78 m/s², মেরু বিন্দুতে সর্বোচ্চ 9.83 m/s²।
- এভারেষ্ট শৃঙ্গে g-এর মান 9.81 m/s2 ও সমুদ্র সমতলে প্রাপ্ত 9.75 m/s²।
- ভূ-পৃষ্ঠে বিভিন্ন স্থানে g-এর মান বিভিন্ন বলে 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে ৪-এর মানকে আদর্শ ধরা হয়। এই মান হচ্ছে 9.80665 m/s²।
- হিসাবের সুবিধার্থে আদর্শমান ধরা হয় 9.81 m/s2

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।9.81 m/s2
৪৩০.
SMOG সাধারণত কোন উপাদান মিলিত হয়ে সৃষ্টি হয়?
  1. তুষারাবৃত এবং বাতাস
  2. বৃষ্টি ও বালি
  3. ধোঁয়া ও কুয়াশা
  4. শিশির ও বালি
ব্যাখ্যা
SMOG:
- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।

⇒ মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: National Geographic Society.
৪৩১.
ভূ চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দক্ষিণে ভিকটোরিয়া অঞ্চলে
  2. খ) কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে
  3. গ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণ চীন সাগরে
ব্যাখ্যা
১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড.গিলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি চুম্বক। সাধারন চুম্বকের মতো এর দুটি মেরু আছে। দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীকে এবং উত্তর মেরু অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের দক্ষিণে ভিকটোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। পদার্থ বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীর চুম্বকত্ব এবং এতদসংক্রান্ত  বিভিন্ন বিষয় জানা যায় তাকে ভূ-চুম্বকত্ব বা পৃথিবীর চৌম্বকত্ব বলে ।

সুত্রঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এইচএসসি প্রোগ্রাম
৪৩২.
কোনটি অর্ধ-পরিবাহী (Semi-conductor) নয়?
  1. ক) লোহা
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) জার্মেনিয়াম
  4. ঘ) গ্যালিয়াম
ব্যাখ্যা
- অর্ধপরিবাহী বস্তু হলাে সেই বস্তু যার পরিবাহকত্ব অন্তরকের চেয়ে বেশি কিন্তু পরিবাহকের তুলনায় কম।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম, আর্সেনাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড প্রভৃতি বস্তু সচরাচর অর্ধপরিবাহী রূপে ব্যবহৃত হয়।
- লােহা একটি ধাতু যা তড়িৎ পরিবাহী।
৪৩৩.
গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. এর ভর ও চার্জ আছে 
  2. এটি আলোর গতির সমান বেগে চলে 
  3. এটি ইলেকট্রিক ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত হয় 
  4. এটি অণু-পরমাণু আয়নিত করতে পারে না 
ব্যাখ্যা

- গামা রশ্মির বেগ সব সময় আলোর বেগের সমান। 

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 

- গামা রশ্মি আসলে একটি শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- এ গামা রশ্মির শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের হয়ে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৪.
সরল ছন্দিত গতি সম্পন্ন বস্তু কী ধরনের পথ অনুসরণ করে?
  1. বৃত্তাকার
  2. পরাবৃত্তাকার
  3. সরলরৈখিক
  4. অবিচলিত
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৫.
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে কোন তত্ত্বের মধ্য দিয়ে? 
  1. হাইজেনবার্গ এর অনিশ্চয়তাবাদ তত্ত্ব
  2. প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব
  3. আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
  4. আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
- বিংশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক প্রদত্ত কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং ১৯০৫ সালে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রদত্ত আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব দুটি পদার্থবিজ্ঞানের জগৎকে কাপিয়ে দেয়। 
- দুটি ধারণাই প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধিতে সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। 
- কয়েক দশকের সাধনায় এই তত্ত্বগুলাে পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থের পদার্থবিজ্ঞানের উন্নয়ন, বিকাশ ও তত্ত্বকে প্রেরণা জোগায়। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা ঘটে ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে, এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালাে বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। 
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জগতে আরেকটি বিপ্লব আনেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব ও আলাের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রবর্তনের মাধ্যমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৪৩৬.
তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তার চারপাশে কী তৈরি হয়?
  1. রোধকত্ব
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. কিছুই ঘটে না
ব্যাখ্যা
• যখন কোনো তার বা কুণ্ডলীতে (coil) দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ (electric current) চালানো হয়, তখন তার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি হয়।
-   এটি একটি মৌলিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ঘটনা, যা অ্যাম্পিয়ারের নিয়ম (Ampere’s Law) ও অয়েরস্টেড পরীক্ষণ  (Oersted’s Experiment)-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবার, 
• ফারাডের গবেষণা অনুযায়ী, কুণ্ডলীর আশপাশে চৌম্বকক্ষেত্র পরিবর্তন করলে তাতে তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন হয়।
-  ঠিক উল্টোভাবে, কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়।
- যখন কুণ্ডলীর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি চুম্বকের মতো আচরণ করে। 

• এটি আবার দুইরকম হয়। যেমনঃ

→ একটি সোজা কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার ভেতরে একটি সুষম এবং শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়।
→ এর ভেতরে একটি লৌহ দণ্ড (iron core) দিলে এটি একটি শক্তিশালী অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেট (Electromagnet)।
→  বৈদ্যুতিক মোটর, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ইত্যাদি যন্ত্রে চৌম্বকক্ষেত্র ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
৪৩৭.
নিম্নের কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ?
  1. ক) কাঠ
  2. খ) প্লাস্টিক
  3. গ) তামা
  4. ঘ) রাবার
ব্যাখ্যা
তামা হচ্ছে একটি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 

যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে খুব সহজেই তড়িৎপ্রবাহ চলাচল করতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
যেমন– তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ পরিবহনের জন্য কোন মুক্ত ইলেকট্রন নেই, সেগুলো বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ। 
যেমন- প্লাস্টিক, রাবার, কাঠ ইত্যাদি। 

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৮.
নিচের কোন শক্তিকে বারবার ব্যবহার করা যায়? 
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌর শক্তি
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
- 'সৌর শক্তি' একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, তাই এটি বারবার ব্যবহার করা সম্ভব এবং পরিবেশের জন্য নিরাপদ। 

শক্তির উৎস ও এর প্রকারভেদ:  
- শক্তির উৎস প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা- 
১. নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস: 
- নবায়নযোগ্য শক্তি এমন একটি শক্তির উৎস, যা প্রকৃতিতে বারবার পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং কখনো ফুরিয়ে যায় না। 
- এটি সাধারণত পরিবেশবান্ধব হওয়ায় গ্রীন শক্তি নামেও পরিচিত। 
- নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে দূষণের পরিমাণ কম থাকে। 
- এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং প্রাকৃতিকভাবে পুনরায় উৎপন্ন হয়। 
উদাহরণ: সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সমুদ্রস্রোত, ভূ-তাপীয় শক্তি ইত্যাদি। 

২. অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস:
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎস প্রকৃতিতে সীমিত এবং একবার ব্যবহার হয়ে গেলে পুনরায় সৃষ্টি হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আর উৎপন্ন হয় না। 
- এটি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না বা খুব ধীরগতিতে পুনরায় গঠিত হয়। 
- অনবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন ব্যয়বহুল এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে। 
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, নিউক্লিয় শক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৯.
তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ X-ray এর চার্জ -
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
এক্সরের ধর্মঃ
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে।
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
৪। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক ছোট।
৫। এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই।
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪০.
পুকুরের পানির ঢেউ এর প্রকৃতি এর ক্ষেত্রে নিন্মের কোনটি অধিক প্রযোজ্য? 
  1. ক) পর্যাবৃত্ত
  2. খ) অধিবৃত্তাকার
  3. গ) বৃত্তাকার
  4. ঘ) উপবৃত্ত
ব্যাখ্যা
কোনো বস্তু নির্দ্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে অতিক্রম করলে যে গতি উৎপন্ন হয় তাকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে ।
পর্যায় গতিসম্পন্ন বস্তু বা বস্তু কণার একই দিক থেকে নির্দিষ্ট বিন্দুটি অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বলে।
পর্যাবৃত্ত গতি দু' ধরণের। ঘুর্ণন গতি ও স্পন্দন গতি।
৪৪১.
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. জেনারেটর
  4. ফিউজ
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ

কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে। তড়িৎ
চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৪২.
কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন
  3. গ) অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না
  4. ঘ) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ
ব্যাখ্যা
পৃথিবী ও যেকোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তা অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ।
১. অভিকর্ষও এক ধরনের মহাকর্ষ।
২. অভিকর্ষ বল কোন বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে।
৩. অভিকর্ষ হলো বস্তুর উপর কেন্দ্রমুখী বল।
৪. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী নিউটন।
৫. অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনকালীন সময়ে আমরা ছিটকে পড়ি না।
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে মহাকর্ষ বলে।
১. সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যে যে আকর্ষণ তা মহাকর্ষ।
২. গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যকার আকর্ষণও মহাকর্ষ।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৩.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সর্বাধিক হয়?
  1. শূন্য
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. গ্যাস
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়।

শব্দের বেগ:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন-ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন-পানি) হয়।
-বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।

  উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৪.
নিচের কোনটির জন্য UHF তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
  1. স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার
  2.  রেডিও ব্রডকাস্টিং
  3. মাইক্রোওয়েভ ওভেন
  4.  হেডফোন সিগন্যাল
ব্যাখ্যা

স্যাটেলাইট টেলিভিশন সম্প্রচার:
- UHF (Ultra High Frequency) 
তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
- ফ্রিকোয়েন্সি 300 MHz থেকে 3 GHz পর্যন্ত, যা টেলিভিশন সম্প্রচার এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। 

রেডিও ব্রডকাস্টিং:
- সাধারণ FM/AM রেডিও ব্রডকাস্টিং VHF (Very High Frequency) বা HF (High Frequency) ব্যান্ড ব্যবহার করে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন: 
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন 2.4 GHz বা তার আশেপাশের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে।
- এই ফ্রিকোয়েন্সি জল অণুগুলোর কম্পন ঘটাতে সক্ষম, যার ফলে খাবার গরম হয়।

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৪৪৫.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয়তার একক নয়?
  1. কুরী
  2. বেকেরেল
  3. টেসলা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ:
- ভারি মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- সাধারণত যে সকল মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২ এর বেশি সেই সকল পরমাণু তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে।
- তবে ৮২ থেকে কম পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট কিছু মৌলের আইসোটোপের ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়।
- তেজস্ক্রিয়তার আরো একটি একক রয়েছে কুরী

তেজস্ক্রিয়তার বৈশিষ্ট্য:
বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে নির্গত রশ্মি পর্যবেক্ষণ করে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায় -
(১) তেজস্ক্রিয়তা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও অবিরাম ঘটনা । তাপ, চাপ, তড়িৎ ক্ষেত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র অথবা কোনো ভৌত কারণ দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা প্রভাবিত হয় না।
(২) তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়।
(৩) তেজস্ক্রিয়তার উৎপত্তিস্থল হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর ভাঙ্গনের ফলেই তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়। তেজস্ক্রিয়তার ফলে এক প্রকার পরমাণু অন্য এক প্রকার পরমাণুতে পরিণত হয়।
(৪) উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণিদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস:
১) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার গ্রহের গতির তিনটি সূত্র দিয়েছিলেন:
১। প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২। সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩। একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।
সূত্র: ''Kepler's Laws of Planetary Motion''

৪৪৭.
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য কোন শর্তটি প্রয়োজন?
  1. আলোকরশ্মি শুধুমাত্র তীর্যকভাবে প্রবেশ করবে
  2. আলোকরশ্মি যে কোনো মাধ্যমে যেতে পারে
  3. আলোকরশ্মি অবশ্যই হালকা মাধ্যমে থেকে ঘন মাধ্যমে যেতে হবে
  4. আলোকরশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যমে থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে
ব্যাখ্যা

- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য যে শর্তটি প্রয়োজন তা হলো- আলোকরশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যমে থেকে হালকা মাধ্যমে যেতে হবে। 

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন: 
- এক জোড়া নির্দিষ্ট স্বচ্ছ সমসত্ব মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে যাবার সময় যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হয় তবে আলোক রশ্মি হালকা মাধ্যমে বিন্দুমাত্র প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণরূপে বিভেদ তল দ্বারা ঘন মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, একে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে। 
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত দুইটি। 
যথা- 
১। আলোক রশ্মি অবশ্যই ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের দিকে যেতে হবে। 
২। এক জোড়া নির্দিষ্ট সচ্ছ সমসত্ব মাধ্যম ও একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোক রশ্মিকে সংকট কোণের চেয়ে বড় কোণে আপতিত হতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৮.
আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল কোন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. সান্দ্র বল
  2. ঘর্ষণজাত বল
  3. সংরক্ষণশীল বল
  4. অসংরক্ষণশীল বল
ব্যাখ্যা

- আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল বা প্রত্যায়নী বলকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। কারণ, এই বল দ্বারা কাজ শুধুমাত্র বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের ওপর নির্ভর করে, কোন পথে নেওয়া হয়েছে তার ওপর নয়; একটি পূর্ণচক্রে (যেখান থেকে শুরু সেখানেই ফিরে আসলে) এই বল দ্বারা কৃত কাজের পরিমাণ শূন্য হয় এবং যান্ত্রিক শক্তি সংরক্ষিত থাকে এবং স্প্রিংকে সংকুচিত বা প্রসারিত করতে যে কাজ করা হয়, তা বিভব শক্তি হিসেবে জমা থাকে এবং পরে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। 

সংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় তাকে সংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর সংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। 
উদাহরণ- অভিকর্ষজ বল, বৈদ্যুতিক বল, চৌম্বক বল, আদর্শ স্প্রিং-এর বিকৃতি প্রতিরোধী বল ইত্যাদি। 

অসংরক্ষণশীল বল: 
- কোনো বস্তু বা কণার উপর যে বল দ্বারা কৃত মোট কাজের পরিমাণ শূন্য হয় না তাকে অসংরক্ষণশীল বল বলা হয়। 
- বস্তু বা কণার উপর অসংরক্ষণশীল বল ক্রিয়াশীল হলে বস্তুটিকে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে একটি পূর্ণচক্র সমাপ্ত করে এবং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনলেও মোট কাজ শূন্য হয় না। 
উদাহরণ- ঘর্ষণ বল, সান্দ্র বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৯.
যদি m < 1 হয়, প্রতিবিম্ব কেমন হবে? 
  1. খর্বিত 
  2. বিবর্ধিত 
  3. লক্ষ্যবস্তুর সমান 
  4. অস্পষ্ট 
ব্যাখ্যা

রৈখিক বিবর্ধন: 
- সমতল দর্পণে বিম্বের আকার এবং আকৃতি লক্ষ্যবস্তুর আকার ও আকৃতির সমান হয়। কিন্তু গোলীয় দর্পণ এবং লেন্সের ক্ষেত্রে গঠিত প্রতিবিম্বের আকার লক্ষ্যবস্তুর সমান, ছোট বা বড় হয়। প্রতিবিম্ব লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় কতগুণ বড় বা ছোট সেই রাশিকে তার বিবর্ধন বলে। 
- কোনো বিস্তৃত বস্তুর বিবর্ধন পরিমাপের জন্য বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে ব্যবহার করা হয়। তাই বিম্বের দৈর্ঘ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্যের অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন বলে। 
ধরা যাক, কোনো লক্ষ্যবস্তুর দৈর্ঘ্য L এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য Li । 
তাহলে, রৈখিক বিবর্ধন m = Li/Lo  । 
• m > 1 হলে, প্রতিবিম্বটি বিবর্ধিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার বড় হবে। 
• m = 1 হলে, প্রতিবিম্বটি লক্ষ্যবস্তুর সমান হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হবে। 
m < 1 হলে, প্রতিবিম্বটি খর্বিত হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু থেকে প্রতিবিম্বের আকার ছোট হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫০.
যে তাপ বিকিরণ পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. বিক্ষিপ্ত তাপ 
  2. বিকীর্ণ তাপ 
  3. পরিবাহী তাপ 
  4. তাপমাত্রিক তাপ 
ব্যাখ্যা
তাপ: 
- সূর্য থেকে তাপ পাওয়া যায়। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5×108 কি.মি.। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে। 
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে। 
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে। 
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান। তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গ আকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা সর্বোচ্চ কত হার্জ?
  1. ক) ২০০ হার্জ
  2. খ) ২,০০০ হার্জ
  3. গ) ২০,০০০ হার্জ
  4. ঘ) ২০,০০,০০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ থেকে ২০,০০০ হয়ে থাকে।

- এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে।
- কম্পাঙ্কের যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- যে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না তাকে অশ্রাব্য শব্দ বলে। অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের কম এবং ২০,০০০ হার্জের বেশি হয়। এ শব্দ কুকুর, বাদুড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণী শুনতে পায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৫২.
শিশিরাঙ্ক ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস বলতে বুঝায় -
  1. ক) ১৬ ডিগ্রীতে বায়ু সম্পৃক্ত হবে
  2. খ) ১৬ ডিগ্রীতে কুয়াশা জমা শুরু করবে
  3. গ) ১৬ ডিগ্রীতে বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকবেনা
  4. ঘ) ১৬ ডিগ্রীতে বায়ুতে আদ্রতা সবচেয়ে কম হবে
ব্যাখ্যা
 -শিশিরাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারাই সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক।

- সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু সর্বাধিক যে পরিমান জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে তাকেই সম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প বলে।

- অসম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প: একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ু সর্বাধিক যে পরিমান জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে তার থেকে কম থাকলে তাকেই অসম্পৃক্ত জলীয় বাষ্প বলে।

সাধারনত বায়ু অসম্পৃক্ত অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা থেকে কম জলীয় বাষ্প থাকে। বায়ুকে সম্পৃক্ত করার উপায় হলো ২ টি।
১) জলীয় বাষ্পের পরিমান বাড়িয়ে দেয়া।
২) তাপমাত্রা কমিয়া দেয়া। কারন তাপমাত্রা কমলে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের ধারণক্ষমতা কমে যায়। তখন বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারাই বায়ু সম্পৃক্ত হয়ে যায়। সেই  তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক।

অর্থাৎ, কোনো একদিন বায়ুর শিশিরাঙ্ক ১৬ ডিগ্রী বলতে বুঝায় ওইদিনের বায়ুর তাপমাত্রা কমিয়ে ১৬ ডিগ্রীতে আনলে বায়ু উপস্থিত জলীয় বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হবে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান বই।
৪৫৩.
মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কেন বেশি থাকে?
  1. মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে
  2. বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকে না
  3.  ভূ-পৃষ্ঠ তাপ সৃষ্টি করে না
  4. রাতে সূর্য বিকিরণ বেশি থাকে
ব্যাখ্যা

- মেঘাচ্ছন্ন রাতে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেশি থাকে কারণ মেঘ বিকিরণ বন্ধ করে রাখে (বা আটকে রাখে); মেঘ একটি কম্বলের মতো কাজ করে, যা পৃথিবী থেকে নির্গত তাপকে মহাকাশে চলে যেতে বাধা দেয় এবং সেই তাপকে পুনরায় ভূপৃষ্ঠের দিকে প্রতিফলিত করে, ফলে রাত পরিষ্কার আকাশের চেয়ে উষ্ণ থাকে। 

মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমার কারণ: 
- সব সময়ই বিভিন্ন জলাশয়ের পানির বাষ্পায়ন ঘটছে। এই বাষ্পায়নের ফলে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয় এবং তা বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। 
- বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট জলীয় বাষ্প ধারণ করে। 
- দিনের বেলায় সূর্য তাপে বাতাস গরম থাকায় ঐ জলীয় বাষ্প দ্বারা বায়ুমণ্ডল সম্পৃক্ত হয় না। 
- রাতে ভূ-পৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে শীতল হয় অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমে যায়। তখন বাতাস ধারণকৃত জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয় এবং তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের নিচে নেমে যায়, ফলে শিশির জমে। 
- রাতের আকাশে মেঘ থাকলে, মেঘমুক্ত রাতের থেকে তাপ বিকিরণ কম হয়। 
- তাপ বিকিরণ কম হওয়ায ভূ-পৃষ্ঠের বাতাসও তুলনামূলকভাবে কম ঠান্ডা হয়। 
- বাতাসে তাপমাত্রা শিশিরাঙ্কের খুব নিচে যেতে পারে না, তাই কম শিশির জমে। 
অর্থাৎ, মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অপেক্ষা মেঘশূন্য রাত্রে শিশির বেশি জমে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৪.
আকাশ মেঘলা থাকলে গরম বেশি লাগে কেন?
  1. ক) মেঘ উত্তম তাপ পরিবাহক
  2. খ) সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মেঘ তাপ উৎপন্ন করে
  3. গ) বজ্রপাতের ফলে তাপ উৎপন্ন হয় বলে
  4. ঘ) মেঘ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকে ওপরে যেতে বাধা দেয় বলে
ব্যাখ্যা
- দিনের বেলায় সূর্য থেকে যে আলোকরশ্মি (তাপ ও আলো) বিকিরণ আকারে আসে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় বেশ ছোট। এ কারণে তা খুব সহজেই বর্ষার মেঘ ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে চলে আসতে পারে।
- এই বিকিরণ ভূপৃষ্ঠে সহজে আসতে পারলেও প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে চলে যেতে পারে না। কারণ প্রতিফলন হবার সময়ে এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়ে যায় ফলে তখন আর সহজে মেঘ ভেদ করতে পারে না। সেগুলি মেঘের গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটির দিকে ফিরে আসে।
- এ কারণে মেঘলা দিনে/রাতে ভূপৃষ্ট থেকে বির্কীর্ণ তাপের একটা অংশ মেঘ ও মাটির মধ্যেকার বায়ুমন্ডলে আটকে পড়ার ফলে মাটি এবং তার লাগোয়া বাতাসের স্তর ঠান্ডা তো হয়ই না, বরং বেশ গরম হয়েই থাকে। এতে আবহাওয়ার উষ্ণতা বেড়ে যায় বলেই গরমটা বেশি লাগে।
- ফলে আকাশ মেঘলা থাকলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এর অর্থ বাতাসে পানির পরিমাণ বেশি।
- বাতাস আর্দ্র থাকার কারণে আমাদের গরম লাগে যেটাকে সাধারণ ভ্যাপসা গরম বলা হয়ে থাকে।
৪৫৫.
যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে কী বলে?
  1. আংশিক সংঘর্ষ
  2. স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
  3. সম্পূর্ণ সংঘর্ষ
  4. অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ
ব্যাখ্যা
• সংঘর্ষ:
- সংঘর্ষ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে অতি অল্প সময়ের জন্য বৃহৎ কোনো বল ক্রিয়া করে বস্তুর গতির হঠাৎ ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।
- সাধারণত সংঘর্ষের সময় বস্তুর গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় কিনা, তার ওপর ভিত্তি করে সংঘর্ষকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। যথা:

• অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ সংরক্ষিত হয়, কিন্তু গতিশক্তি সংরক্ষিত হয় না, তাকে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলা হয়।
- একটি রাবারের বল যদি দৃঢ় পাটাতনে আঘাত করে, তবে বলটির আকার বিকৃত হয় এবং এর গতিশক্তি হ্রাস পায়।
- এই কারণেই রাবারের বলের সাথে পাটাতনের সংঘর্ষটি অস্থিতিস্থাপক।
- যদি সংঘর্ষের পরে অংশগ্রহণকারী দুটি বস্তু একত্রে যুক্ত হয়ে একই বেগে চলতে থাকে, তবে সেটি পূর্ণভাবে অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে বিবেচিত হয়।

• উদাহরণ:

- যখন একটি গুলি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে এবং লক্ষ্যবস্তুর ভেতরে ঢুকে পড়ে, তখন গুলি ও লক্ষ্যবস্তুর সংঘর্ষ অস্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ হয়।

• স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ:
- যে সংঘর্ষে ভরবেগ ও গতিশক্তি উভয়ই সংরক্ষিত থাকে, তাকে স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে।উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৬.
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে শক্তির কী ধরনের রূপান্তর হবে?
  1. ক) বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে
  2. খ) বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে
  3. গ) বিদ্যুৎ শক্তি চৌম্বক শক্তিতে
  4. ঘ) বিদ্যুৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা
শক্তির রূপান্তর:
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।

কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

নিচে শক্তির রূপান্তরের আরো কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল -


বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
৪৫৭.
এয়ার লক কোন ইঞ্জিনের ফুয়েল সিস্টেমে ঘটে?
  1. ক) পেট্রোল ইঞ্জিনের
  2. খ) ডিজেল ইঞ্জিনের
  3. গ) গ্যাস ইঞ্জিনের
  4. ঘ) EFI ইঞ্জিনের
ব্যাখ্যা
Air lock or Diesel block: 
- ডিজেল ইঞ্জিনের সাকশন লাইনে এয়ার লক ঘটে।
- জ্বালানী ট্যাঙ্কের ডিজেল ট্যাঙ্ক থেকে সাকশন লাইনের মাধ্যমে প্রি ফিল্টারে প্রবাহিত হয়। সাকশন লাইন হল সিন্থেটিক রাবার দিয়ে তৈরি একটি টিউব।
- প্রি ফিল্টার থেকে, ডিজেল water separator-এ প্রবাহিত হয়।
- তারপর ফুয়েল ইঞ্জেকশন এ যায়।
- যদি কোনো কারনে ফুয়েলের সাথে এয়ার ফ্লো হয় তখন বায়ুর বুদবুদ এর কারনে ফুয়েল ইঞ্জেক্টর দিয়ে ঠিকমত ফুয়েল প্রবাহিত হতে পারে না।
- এয়ার লক এর ফলে ইঞ্জিনের পারফরমেন্স এ ঘাটতি দেখা দেয় এবং রানিং অবস্থায় বন্ধ হয়ে।
- ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- থ্রটল রেসপন্স কমে যায়। 

উৎস: আন্তর্জাতিক জার্নাল[Link]
৪৫৮.
কাজ ও বলের একক যথাক্রমে -
  1. নিউটন ও মিটার
  2. জুল ও ডাইন
  3. ওয়াট ও পাউন্ড
  4. প্যাসকেল ও কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা

SI পদ্ধতিতে কাজের একক জুল।
SI পদ্ধতিতে বলের একক নিউটন।
C.G.S পদ্ধতিতে বলের একক ডাইন।

৪৫৯.
নিউটনের “Principia Mathematica” কোন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে?
  1. গ্রহ ও চন্দ্রের গতিবিধি নির্ধারণের গাণিতিক পদ্ধতি
  2. আলোর বেগ ও রঙের প্রকৃতি বিশ্লেষণ
  3. গতিশক্তি ও মহাকর্ষের তত্ত্ব সংজ্ঞায়িত করা এবং গণিতের মাধ্যমে প্রকাশ
  4. বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রাথমিক সূত্র
ব্যাখ্যা

• স্যার আইজ্যাক নিউটন ও তাঁর গ্রন্থ “Principia Mathematica” (১৬৮৭):
- স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে তার গ্রন্থ “Philosophiae Naturalis Principia Mathematica” প্রকাশ করেন। সংক্ষেপে এটিকে Principia Mathematica বলা হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র এবং গণিতের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

• নিউটনের তিনটি মৌলিক গতিসূত্র (Laws of Motion):
- এই গ্রন্থে নিউটন তিনটি মৌলিক গতিসূত্র প্রবর্তন করেন:

- জড় বস্তু স্থির থাকে বা সমান গতিতে সরলরেখায় চলে যতক্ষণ বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগ হয় না।
- বাহ্যিক বল বস্তুতে এর ভর ও ত্বরণের সঙ্গে সমানুপাতিক।
- প্রতিটি ক্রিয়ার বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া থাকে।

- এরপর তিনি মহাকর্ষের সূত্র প্রণয়ন করেন, যা বলে যে পৃথিবীর সব বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই সূত্র ব্যবহার করে তিনি গ্রহগুলোর কক্ষপথ গণনা করেন এবং সৌরজগতের গতিবিধির ব্যাখ্যা দেন।

উৎস: Encyclopaedia Britannica.

৪৬০.
ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. ডায়োড
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. রেকটিফায়ার
  4. ফিউজ
ব্যাখ্যা

• অ্যামপ্লিফায়ার (Amplifier): অ্যামপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা কোনো দুর্বল বা ছোট সিগন্যালকে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে সেটিকে শক্তিশালী বা বড় সিগন্যালে রূপান্তর করে আউটপুট দেয়। এটি মূলত ট্রানজিস্টরের সাহায্যে এই কাজটি সম্পন্ন করে।

• ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যে দিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয় যা অ্যামপ্লিফায়ার নামে পরিচিত। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশন:
- ডায়োড: এটি তড়িৎ প্রবাহকে কেবল একদিকে চালিত করে এবং সিগন্যাল বড় করতে পারে না।
- রেকটিফায়ার: এটি মূলত এসি (AC) বিদ্যুৎকে ডিসি (DC) বিদ্যুতে রূপান্তর করার একটি প্রক্রিয়া বা যন্ত্র।
- ফিউজ: এটি সার্কিটের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহৃত হয়; অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে এটি পুড়ে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬১.
বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে শব্দের বেগ কেন বৃদ্ধি পায়?
  1. তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় 
  2. চাপ বেড়ে যাওয়ায়
  3. বাতাসের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় 
  4. বাতাসের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় 
ব্যাখ্যা

- বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকার ফলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, কারণ জলীয়বাষ্পের ঘনত্ব শুকনো বায়ুর চেয়ে কম। শব্দের বেগ যান্ত্রিক তরঙ্গ হিসেবে মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘনত্বের বিপরীত অনুপাতের ওপর নির্ভর করে। তাই ঘনত্ব কমলে শব্দ দ্রুত চলে ফলে বেগ বৃদ্ধি পায়

শব্দের বেগের পার্থক্য: 
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, v ∝ √T  
এখানে, তাপমাত্রা কিন্তু সেলসিয়াস তাপমাত্রা নয়, কেলভিন স্কেইলে তাপমাত্রা। 
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না, তবে বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের ওপর ব্যস্তানুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়, সে জন্য শব্দের বেগ বেড়ে যায়। 
- শব্দ নামক যান্ত্রিক তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে। 
- তরল এবং কঠিন পদার্থের প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন এবং স্বাভাবিক কারণেই শব্দের বেগ সেখানে ভিন্ন। তরলে শব্দের বেগ বাতাসে বেগের থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তার থেকেও বেশি। 
যেমন- বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ দেখানো হয়েছে- 
• বাতাস ⇒ 330 m/s, 
• হাইড্রোজেন ⇒ 1284 m/s, 
• পারদ ⇒ 1450 m/s, 
• পানি ⇒ 1493 m/s, 
• লোহা ⇒ 5130 m/s এবং 
• হীরা ⇒ 12000 m/s ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬২.
অর্ধপরিবাহীতে কি মেশালে পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
সেমিকন্ডাক্টরের সাথে ফসফরাস মেশালে ফসফরাসের মুক্ত ইলেকট্রন থাকার কারণে সেটার সহযোগীতায় সেমিকন্ডাক্টর কন্ডাক্টর বা পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে।
উৎসঃ নবম-দশম
৪৬৩.
পেরিস্কোপে কতটি দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
  1. ২ 
  2. ৩ 
  3. ৪ 
  4. ৬ 
ব্যাখ্যা

পেরিস্কোপ: 
- আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়। 
- পেরিস্কোপ তৈরিতে দুটি সমতল দর্পণ প্রয়োজন হয়। 
- আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। 
- দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। 
- পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণের (আয়না) দুটি ফালি বা স্ট্রিপ স্থাপন করে। 
- দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। 
- এরা পরস্পরের সাথে সমান্তরাল থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায় বা বাঁকিয়ে দেয়। 
- স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়া বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪৬৪.
দুটি বস্তুর মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে মহাকর্ষ বলের মান কী হবে? 
  1. বৃদ্ধি পাবে 
  2. কমে যাবে 
  3. অপরিবর্তিত থাকবে 
  4. প্রথমে বৃদ্ধি পাবে পরে কমবে 
ব্যাখ্যা

মহাকর্ষ: 
- লাফ দিয়ে উপরের দিকে উঠতে চাইলে বেশি দূর উঠা যায় না, আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে; এমনকি গাছের ফল মাটিতে পড়ে বা ক্রিকেট বলকে উপরের দিকে ছুড়ে দিলে মাটিতে পড়ে কারণ পৃথিবী সবকিছুকে তার নিজের দিকে টানে বা আকর্ষণ করে। 
অর্থাৎ, পৃথিবী সকল বস্তুকে তার নিজের দিকে টানে। 
- শুধু পৃথিবী নয়, এ মহাবিশ্বের সকল বস্তুকণাই একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। 
- এ বিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ বল তাই মহাকর্ষ বল। 

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র: 
- দুটি বস্তুকণার মধ্যকার এ আকর্ষণ বলের মান শুধু কণাদ্বয়ের ভর এবং এদের মধ্যকার দূরত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এদের প্রকৃতি কিংবা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে না। 
- বস্তু কণাদ্বয়ের ভর বেশি হলে আকর্ষণ বলও বেশি হয় আর তাদের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বল কম হয়। 
- এ আকর্ষণ সম্পর্কে নিউটনের একটি সূত্র আছে যা নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র নামে পরিচিত। 
সূত্র: 
- মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণ বলের মান বস্তুকণাদ্বয়ের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং এদের দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এ বল বস্তুকণাদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪৬৫.
এক্স-রে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কেমন? 
  1. অত্যধিক 
  2. মধ্যম 
  3. খুব কম 
  4. নেই 
ব্যাখ্যা

এক্সরে রশ্মির ধর্ম: 
১। এক্সরে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
৩। এক্সরে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
৪। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
৫। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৬। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৭। এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৮। এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৯। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
১০। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
১১। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
১২। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১৩। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৬.
তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে কী?
  1. ক) প্রোটনের প্রবাহ
  2. খ) নিউট্রনের প্রবাহ
  3. গ) ইলেকট্রন-প্রোটনের প্রবাহ
  4. ঘ) ইলেক্ট্রনের প্রবাহ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনের প্রবাহ।
ধাতুর শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন দুর্বলভাবে নিউক্লিয়াসের সাথে যুক্ত থাকে, সামান্য বিভব পার্থক (voltage) প্রয়োগ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে বর্তনীতে প্রবাহিত হয়। ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহের কারণ। 
প্রোটন ও নিউট্রন অপেক্ষাকৃত ভারী কণা এবং এরা শক্তিশালী Strong Nuclear Force এর জন্য নিউক্লিয়াসে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কিন্তু ইলেকট্রন আবিষ্কারের পূর্বে মানুষের ধারণা ছিল যে ধনাত্মক আধানের প্রবাহের জন্য তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যেহেতু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, সেহেতু কনভেনশনাল নিয়ম অনুযায়ী ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিককে তড়িৎ প্রবাহের দিক ধরা হয় ।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র বই (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), ড. শাহজাহান তপন
৪৬৭.
তাপমাত্রার যে স্কেলে '০' ডিগ্রি সবচেয়ে বেশি তা হল-
  1. ক) ফারেনহাইট
  2. খ) ক্যালভিন
  3. গ) সেন্ট্রিগেড
  4. ঘ) সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

সেলসিয়াস স্কেলকে সেন্টিগ্রেড স্কেলও বলে। সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন স্কেলের সম্পর্ক - C/5 = F-32/9 = k-273/100। এ সম্পর্ক থেকে এটা স্পষ্ট যে সেলসিয়াস স্কেলের ০ ডিগ্রির মানই সবচেয়ে বেশি। 0°C = 32°F = 273°k।

৪৬৮.
দুইটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে আকর্ষণ বল পূর্বের কতগুণ হবে?
  1. অর্ধেক
  2. এক-চতুর্থাংশ
  3. দ্বিগুণ
  4. চারগুণ
ব্যাখ্যা
• দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে, মহাকর্ষ বল এক-চতুর্থাংশ।

• মহাকর্ষ বল:

- মহাবিশ্বের যেকোন দুইটি বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বল বলে।

• নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র:
দুইটি বস্তুর মধ্যাকার আকর্ষণ বল বস্তু দুইটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।


নিউটনের সূত্রানুযায়ী,
১. মধ্যাকার আকর্ষণ বল ভরের গুণফলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ,
F ∝ m1m2
∴ ভর বাড়লে বল বাড়বে।
উভয় বস্তুর ভর যদি দ্বিগুণ করা হয় তাহলে বল চারগুণ হবে এবং ভর যদি তিনগুণ করা হয় তাহলে বল নয়গুণ হবে।

২. আকর্ষণ বল মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্থানুপাতিক। 
∴ F ∝ 1/d2
অর্থাৎ দূরত্ব বাড়লে বল কমে।
দূরত্ব যদি দ্বিগুণ করা হয় তাহলে বল পূর্বের ১/৪ গুণ হবে এবং দূরত্ব যদি তিনগুণ করা হয় তাহলএ বল পূর্বের ১/৯ গুণ হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, শাহাজাহান তপন।
৪৬৯.
নিম্নের কোনটি দৃশ্যমান আলোর সর্বোচ্চ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রঙ? 
  1. লাল
  2. আসমানী
  3. কমলা
  4. নীল
ব্যাখ্যা
দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ: 
- তাড়িত চৌম্বকীয় বর্ণালীর অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয়, একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ। 
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4×10-7 m থেকে 7×10-7 m মাত্র। 
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়। 
- দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গকে বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এই দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। 
- নিম্নের ছকে দৃশ্যমান আলোর বর্ণ অনুসারে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তালিকা দেখানো হয়েছে- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
কোনটি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়?
  1. তামা
  2. লোহা
  3. রূপা
  4. রাবার
ব্যাখ্যা
- পরিবাহী পদার্থের ইলেকট্রন এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে সহজেই চলাচল করতে পারে।
যেমন: ধাতু; বিশেষ করে সিলভার ও কপার।

- কার্বন অধাতু হলেও এর রূপভেদ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবাহী৷

- অপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে এর পরমাণুর ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে না।
যেমন: প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৭১.
স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষের উপর প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে বায়ুর চাপ পড়ে প্রায়-
  1. ১৩ পাউন্ড
  2. ১০ পাউন্ড
  3. ১৫ পাউন্ড
  4. ১৬ পাউন্ড
ব্যাখ্যা
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- গড়ে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত, ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থছেদের একটি বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম, এবং এটি ১০.১ নিউটন বল বা ওজন প্রয়োগ করে। 
- যার ফলে ১০.১নিউটন/সেমি বা ১০১ কিলোনিউটন/মিটার চাপের সৃষ্টি হয়। 
- ১ বর্গ ইঞ্চি প্রস্থচ্ছেদের একটি বায়ু একটি কলামের ওজন হবে প্রায় ১৪.৭ পাউন্ড, ফলে চাপের পরিমাণ হবে ১৪.৭ পাউন্ড বা প্রায় ১৫ পাউন্ড। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট। 
৪৭২.
শীতে শরীর কাঁপে কেন?
  1. ক) শরীরের তাপ ও বাহিরের তাপ সমান থাকায়
  2. খ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ কম বলে
  3. গ) শরীরের তাপের চেয়ে বাহিরের তাপ বেশি বলে
  4. ঘ) বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি বলে
ব্যাখ্যা
Shivering is one such tactic, in which your muscles contract and expand in speedy bursts. In addition to quaky limbs, your jaw muscles might begin to shiver, making your teeth chatter. This twitching exercise produces heat, which helps to raise body temperature. It's also your signal to find a toasty haven and a warm drink. সূত্রঃ Live Science.com
৪৭৩.
Which of the following occurs as a direct result of raising the temperature of a metallic conductor?
  1. Increase in resistance
  2. Decrease in resistance
  3. It turns into an insulator
  4. The flow of electric current increases
  5. No change in resistance
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৪.
'চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া' নিউটনের গতির কোন সূত্র দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়? 
  1. প্রথম সূত্র 
  2. দ্বিতীয় সূত্র 
  3. তৃতীয় সূত্র 
  4. চতুর্থ সূত্র 
ব্যাখ্যা

নিউটনের প্রথম সূত্র: 
- বাহ্যিক বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরলপথে চলতে থাকবে। 
উদাহরণ: চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। 

নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র: 
- বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার তার উপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক এবং বল যেদিকে ক্রিয়া করে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনও সেদিকে ঘটে। 

নিউটনের তৃতীয় সূত্র: 
- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত্মুখী প্রতিক্রিয়া থাকে। অর্থাৎ, যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুর ওপর বল প্রয়ােগ করে, তখন সেই বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির ওপর বিপরীত দিকে সমান বল প্রয়ােগ করে। 
উদাহরণ- 
- বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হলে পেছনের দিকে বন্দুক চালনাকারীকে ধাক্কা দিবে। 
- মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হয় নিউটনের তৃতীয় সূত্রের নীতিতে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৫.
ইনটিগ্রেটেড সার্কিট (IC) প্রথম তৈরি করেছিলেন কে? 
  1. জ্যাক কেলবি 
  2. এডউইন হাবল 
  3. জন হুইলার 
  4. জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

সমন্বিত বর্তনী বা আইসি: 
- ইলেকট্রনিকসের একটি শাখা হলো মাইক্রোইলেকট্রনিকস। 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 
- মাইক্রোইলেকট্রনিকস প্রযুক্তির সাহায্যে অতিক্ষুদ্র পরিসরে ইলেকট্রনিকস বর্তনী তৈরি করা যায়।এই বর্তনীগুলোকে বলে মাইক্রোইলেকট্রনিক সার্কিট বা ইনট্রিগ্রেটেড সার্কিট (integrated circuit) বা সমন্বিত বর্তনী। 
- সমন্বিত বর্তনী বা আইসি-এর মধ্যে একটি পূর্ণ বর্তনী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশ একত্রে মাইক্রো প্রযুক্তির সাহায্য তৈরি করা হয়, ফলে আলাদা আলাদা ট্রানজিস্টার, রোধ, ডায়োড ইত্যাদি পরস্পরের সাথে সংযোগ করে তৈরি করার দরকার হয় না। 
- সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সমন্বিত বর্তনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
১। মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০ টি উপাদান থাকে। 

২। বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০ টি উপাদান থাকে। 

৩। অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০ টির অধিক উপাদান থাকে। 
- ১৯৬৮ সালে বারোস কোম্পানি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ভিত্তিক প্রথম কম্পিউটার বি-২৫০০ ও বি-৩৫০০ এর উপস্থাপন করে। 
- আইসি চিপ দিয়ে তৈরি প্রথম ডিজিটাল কম্পিউটার আইবিএম সিস্টেম ৩৬০। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৪৭৬.
চাঁদে কোন বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হলে, পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজন কত কেজি হবে?
  1. ৫ কেজি
  2. ৯০ কেজি 
  3.  ১৮০ কেজি 
  4. ২১০ কেজি
ব্যাখ্যা

• চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ হয়, কারণ চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম। যদি চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন ৩০ কেজি হয়, তবে পৃথিবীতে সেই একই বস্তুর ওজন হবে প্রায় ৬ গুণ বেশি। অর্থাৎ, পৃথিবীতে বস্তুর ওজন = ৩০ × ৬ = ১৮০ কেজি। তাই সঠিক উত্তর হলো (গ) ১৮০ কেজি। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো, অভিকর্ষ বল বস্তুর ভর এবং গ্রহের অভিকর্ষজ ত্বরণের ওপর নির্ভর করে, যা চাঁদে তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবে এখানে, ওজনের একক হিসেবে নিউটন দেয়া উচিত ছিল, ভরের একক হচ্ছে - কেজি। 

- স্থানভেদে কোনো বস্তুর ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ভর ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ভর হবে ১২০ কেজি। 
- কিন্তু স্থানভেদে কোনো বস্তুর ওজনের তারতম্য হতে পারে। 

আমরা জানি, 
- ওজন= ভর x অভিকর্ষজ ত্বরণ 
- পৃথিবীতে গড় অভিকর্ষজ ত্বরণ ধরা হয় ৯.৮ মি/সেকেন্ড। 
- তাহলে পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯.৮ নিউটন হলে তার ভর হবে ১ কেজি। 
- সুতরাং চাঁদেও সেই বস্তুর ভর হবে ১ কেজি। 

- কিন্তু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ ভাগের ১ ভাগ। 
- অর্থাৎ, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোন বস্তুর ওজন ১২০ কেজি হলে চাঁদে ঐ বস্তুর ওজন হবে ২০ কেজি।

উৎস: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।

৪৭৭.
নিচের কোন প্রক্রিয়ায় তাপ তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়?
  1. বিকিরণ পদ্ধতি
  2. পরিচলন পদ্ধতি
  3. পরিবহন পদ্ধতি
  4. সংবহন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• তাপ সঞ্চালন:
- তাপ বেশি তাপমাত্রার স্থান থেকে কম তাপমাত্রার স্থানে যেতে পারে। তাপের এই স্থান পরিবর্তনকে তাপ সঞ্চালন বলে।
- তাপ সঞ্চালন তিন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত হয়। যথা:
১. পরিবহন,
২. পরিচলন ও
৩. বিকিরণ।

• বিকিরণ পদ্ধতি:
- যে প্রক্রিয়ায় তাপ কোনো জড় মাধ্যম ছাড়াই অপেক্ষাকৃত উষ্ণতর স্থান থেকে শীতলতর স্থানে সঞ্চালিত হয় সেই প্রক্রিয়াকে তাপের বিকিরণ বলে।
- সূর্য থেকে আমরা তাপ পাই।
- বিকিরণ পদ্ধতিতে যে তাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয় তাকে বিকীর্ণ তাপ বলে।
- বিকীর্ণ তাপ শক্তি ও আলোক শক্তির মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- তাই সূর্য থেকে তাপ ও আলোক শক্তি তরঙ্গাকারে এক সাথে পৃথিবীতে পৌঁছায়।
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব 1.5 × 108 কি.মি।
- এর প্রায় পুরোটাই শূন্য, কোনো জড় মাধ্যম নেই।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে।

• পরিচলন পদ্ধতি:
- কোনো পদার্থের অণুগুলি তাপ গ্রহণ করে, উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতর অংশের দিকে অণুগুলি চলাচলের মাধ্যমে তাপের সঞ্চালন ঘটায় এই পদ্ধতিকেই পরিচলন পদ্ধতি বলা হয়।
- তরল এবং বাষ্পীয় পদার্থের মধ্যে তাপ পরিচলন পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• পরিবহন পদ্ধতি:
- যে পদ্ধতিতে পদার্থের অণুগুলি তাদের স্থান পরিবর্তন করে না, শুধুমাত্র অণুগুলি স্পন্দনের মাধ্যমে এক অণু পার্শ্ববর্তী অণুকে তাপ প্রদান করে। এভাবেই পদার্থের উষ্ণতর অংশ থেকে শীতলতম অংশের দিকে তাপ সঞ্চালিত হওয়াকে পরিবহন বলা হয়।
- কঠিন বস্তুতে পরিবহন পদ্ধতিতে তাপ সঞ্চালিত হয়।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৮.
রেকটিফায়ারকে কী বলা হয়? 
  1. রেজিস্টর 
  2. কন্ডেন্সার 
  3. একমুখীকারক
  4. ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

রেকটিফায়ার: 
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এ ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে বলা হয় একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier)।
- ​রেকটিফায়ারকে একমুখীকারক বলা হয়।  
- একমুখীকারক দুই প্রকার।
যথা- (ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৯.
উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি? 
  1. ট্যাকোমিটার 
  2. অডিওমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অ্যালটিমিটার 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র: 
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪৮০.
ট্রান্সফরমার কোন শক্তি রূপান্তর করে? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. বিভব পার্থক্য
  3. তাপ শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তির ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়।

- এটি AC (Alternating Current) সার্কিটে কাজ করে এবং শক্তির ক্ষতি ছাড়াই ভোল্টেজ বৃদ্ধি (Step-up) বা হ্রাস (Step-down) করতে সক্ষম।
- ট্রান্সফরমারের মূল কাঠামোতে থাকে দুটি কয়েল প্রাইমারি কয়েল এবং সেকেন্ডারি কয়েল, যা একটি লৌহ কোরের মাধ্যমে একে অপরের সাথে চৌম্বকীয়ভাবে সংযুক্ত থাকে।
- যখন প্রাইমারি কয়েলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ আসে, তখন এটি একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
- এই চৌম্বক ক্ষেত্র সেকেন্ডারি কয়েলে ইনডাকশন ঘটায়, ফলে সেকেন্ডারি কয়েলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- এই পদ্ধতিতে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু শক্তির ধরণ পরিবর্তিত হয় না

সারসংক্ষেপে, ট্রান্সফরমার যান্ত্রিক শক্তি, তাপ শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি নয়, বরং বিদ্যুতের বিভব পার্থক্য রূপান্তর করে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দূরত্ব অনুযায়ী ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

৪৮১.
টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা
• শক্তির রূপান্তর:
- এক রূপের শক্তিকে রূপান্তর করে যখন অন্য রূপের শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তখন একে শক্তির রূপান্তর বলা হয়।
- মানুষ তার চাহিদা অনুসারে শক্তিকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে ব্যবহার করছে।

• কতিপয় শক্তির রূপান্তর বণনা করা হল:
১. রাসায়নিক শক্তির রূপান্তর:
- খাদ্য এবং জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস, কয়লা ও কাঠ হচ্ছে রাসায়নিক শক্তির আধার।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের শক্তি দেহে মুক্ত হয় এবং অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার সময় দরকারী কাজ করা যায়।
- বিদ্যুৎ কোষ বা ব্যাটারিতে রাসায়নিক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বিদ্যুৎ শক্তি আবার বাতির ফিলামেন্টে আলোক শক্তি ও তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।

২. তাপ শক্তির রূপান্তর:
- স্টীম ইঞ্জিনে তাপের সাহায্যে স্টীম উৎপন্ন করে রেলগাড়ি ইত্যাদি চালানো হয়, এখানে তাপ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের কারণে বাল্বের ফিলামেন্টের মধ্য দিয়ে বাল্বে তাপ শক্তি এবং আলোক শক্তি সৃষ্টি হয়।

৩. আলোক শক্তির রূপান্তর:
- হারিকেনের চিমনিতে হাত দিলে গরম অনুভূত হয়, এখানে আলোক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হচ্ছে।
- ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলোক সম্পাত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলোকচিত্র তৈরি করা হয়, এখানে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৪. যান্ত্রিক শক্তির রূপান্তর:
- হাতে হাত ঘষলে তাপ উৎপন্ন হয়, এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- কলমের খালি মুখে ফুঁ দিলে যান্ত্রিক শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- পানি যখন ভূপৃষ্ট হতে উপরে কোন পাত্রে থাকে তখন তাতে বিভব শক্তি সঞ্চিত থাকে, নিচে প্রবাহিত হবার সময় বিভব শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৫. বিদ্যুৎ শক্তির রূপান্তর:
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- বৈদ্যুতিক বাল্বে বিদ্যুৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- টেলিফোন ও রেডিওর গ্রাহক যন্ত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তর হয়।
- সঞ্চয়ক কোষে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর হয়।

৬. শব্দ শক্তির রূপান্তর:
- কারখানার জীবাণু ধ্বংস করা কিংবা ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করার জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে শব্দ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

৭. নিউক্লিয় শক্তির রূপান্তর:
- নিউক্লিয় সাবমেরিনে নিউক্লিয় শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়।
- নিউক্লিয় বোমার ধ্বংস লীলা নিউক্লীয় শক্তির রূপান্তর ভিন্ন আর কিছুই নয়।
- নিউক্লিয় চুল্লীতে নিউক্লীয় শক্তি অন্যান্য শক্তি বিশেষ করে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর হলে শক্তির চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ করে থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮২.
ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয় কোনটির আবিষ্কারের মাধ্যমে?
  1. রোবট
  2. কম্পিউটার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. টেলিভিশন
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। 
 
• ট্রানজিস্টর:
- তিন প্রান্তবিশিষ্ট যে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী যন্ত্রে বহির্মুখী প্রবাহ, ভোল্টেজ এবং ক্ষমতা অন্তর্মুখী প্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে ট্রানজিস্টর বলা হয়।
- এটি ভ্যাকুয়াম টিউবের বিকল্প হিসেবে তৈরি হয়। 

• ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories–এ John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley প্রথম ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন।
- ট্রানজিস্টর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
- এটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর-এর বিকাশের পথ তৈরি করে, যা আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 
৪৮৩.
যদি ঘরের তাপমাত্রা ৩০৩.১৫ কেলভিন হয় তবে সেটা সেলসিয়াস স্কেলে কত হবে?
  1. ক) ৩৩°
  2. খ) ৩০°
  3. গ) ৩২°
  4. ঘ) ৩০.১৫°
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেলের সাথে ২৭৩.১৫ যোগ করলেই কেলভিন স্কেল পাওয়া যায়৷ কাউকে ঘরের তাপমাত্রা জিজ্ঞেস করলে সে যদি ৩০° সেলসিয়াস না বলে ৩০৩.১৫ কেলভিন (৩০ + ২৭৩.১৫) বলে তাহলে সেটাও সঠিক হবে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৮৪.
বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে গেলে বস্তুর ওজনের কী পরিবর্তন হয়? 
  1. ওজন শূন্য হয়
  2. ওজন কমে
  3. ওজন বাড়ে
  4. ওজন অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতির কারণে বিভিন্ন স্থানে বস্তুর ওজনের পার্থক্য: 
- পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলক না হওয়ায়, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব সমান নয়। 
- যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের (g) মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল, তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে g-এর মান ভিন্ন হয়। 
- পৃথিবীর বিষুবীয় অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে g-এর মান সর্বনিম্ন (প্রায় ৯.৭৮ মি/সেকেন্ড), তাই বিষুবীয় অঞ্চলে কোনো বস্তুর ওজন সবচেয়ে কম হয়। 
- বিষুবীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে যত এগিয়ে যাওয়া হয়, ততই কেন্দ্র থেকে দূরত্ব কমে এবং g-এর মান বৃদ্ধি পায় (প্রায় ৯.৮৩ মি/সেকেন্ড), ফলে বস্তুর ওজনও বাড়ে। 
- মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব সর্বনিম্ন হওয়ায় g-এর মান সর্বোচ্চ এবং তাই বস্তুর ওজনও সর্বোচ্চ হয়। 
- এছাড়াও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যভাগে অভিকর্ষজ ত্বরণ শূন্য হওয়ায় সেখানে বস্তুর ওজন শূন্য হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪৮৫.
এক আলোকবর্ষ কত মাইল?
  1. ক) ৫.৬৬ ট্রিলিয়ন মাইল
  2. খ) ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
  3. গ) ৬. ৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল
  4. ঘ) ৬.৬৬ ট্রিলিয়ন মাইল
ব্যাখ্যা

আলোকবর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে মহাকাশ সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
এক আলোক বর্ষ সমান ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

সূত্র: স্পেস.কম ওয়েবসাইট

৪৮৬.
তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. হিলিয়াম
  2. ক্রিপ্টন
  3. আর্গন
  4. জেনন
ব্যাখ্যা

গাইগার-মূলার (GM) কাউন্টার হলো একটি তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকারী যন্ত্র। এর ভেতরে নিম্ন চাপে মূলত আর্গন (Argon) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যখন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ (যেমন: আলফা বা বিটা কণা) টিউবের ভেতর প্রবেশ করে, তখন এটি আর্গন পরমাণুকে আয়নিত করে। এই আয়ননের ফলে একটি ক্ষণস্থায়ী বিদ্যুৎ প্রবাহ বা পালস তৈরি হয়, যা যন্ত্রের সাহায্যে গণনা করা যায়।

• আর্গন গ্যাস: 
- বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
- রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
- ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৭.
চিত্রের OR রশ্মিকে কী বলা হয়?
  1. অভিলম্ব
  2. বিভেদ তল
  3. প্রতিসরিত রশ্মি
  4. আপতিত রশ্মি
ব্যাখ্যা
আলোর প্রতিসরণ (Refraction of Light): 
- আমরা জানি আলোক রশ্মি স্বচ্ছ ও সমসত্ত্ব মাধ্যমে সবসময় সরল রেখায় চলে। 
- কিন্তু আলোকরশ্মি যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন তার গতিপথ বেঁকে যায়। 
- আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে লম্বভাবে আপতিত না হয়ে যদি তির্যকভাবে আপতিত হয় তাহলে মাধ্যম দুটির বিভেদতলে আলোক রশ্মির গতিপথ পরিবর্তনের এ ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলা হয়। 
- এ রশ্মি চিত্রের সাহায্যে আলোর প্রতিসরণ দেখানো হয়েছে। 


- চিত্রে, XY বিভেদ তল। 
- PO একটি আলোক রশ্মি বিভেদ তলের O বিন্দুতে আপতিত হয়ে OR পথে কাচের মধ্যে গমন করে। 
- MN হলো অভিলম্ব, PO আপতিত রশ্মি এবং O হলো আপতন বিন্দু। 

আমরা জানি,
- বায়ু অপেক্ষা কাঁচের ঘনত্ব বেশি।
- রশ্মিটি বায়ু মাধ্যম হতে কাঁচ মাধ্যমে প্রবেশ করার সময় OQ পথে না গিয়ে একটু বেঁকে ON এর দিকে সরে গিয়ে OR পথে গমন করে।
এখানে, OR হচ্ছে প্রতিসরিত রশ্মি। 
তাহলে চিত্র হতে পাওয়া যায়,
∠POM = আপাতন কোণ = ∠i এবং ∠RON = প্রতিসরণ কোণ = ∠r  ।
আপতন কোণ ∠i, প্রতিসরণ কোণ ∠r থেকে বৃহত্তর হয়।
অর্থাৎ, ∠i > ∠r  । 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুযায়ী কোনটি ধ্রুব রাশি নয়?
  1. ভর
  2. স্থান
  3. সময়
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়।
- এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়।
- কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়।
- আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৯.
নিউক্লিক এসিড কয় ধরনের?
ব্যাখ্যা

নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। বংশগতির ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এবং RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম।
DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৪৯০.
ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গকে বলা হয়-
  1. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. গামারশ্মির তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়া যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, সে তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মির তরঙ্গ, গামারশ্মির তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯১.
আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ___। 
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ন্যানোটেকনোলজি
  3. থার্মোডাইনামিক্স
  4. বায়োটেকনোলজি
ব্যাখ্যা

• আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি, যা চিপের দ্রুততা, ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

- প্রসেসর বা CPU (Central Processing Unit) হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক, যা ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। আধুনিক প্রসেসরের কার্যকারিতা মাইক্রোচিপের আকার ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology):
- ন্যানোটেকনোলজি হলো অণু ও পরমাণুর মাত্রার প্রযুক্তি (1-100 ন্যানোমিটার)।
- এর মাধ্যমে অত্যন্ত ছোট, দ্রুত ও কম শক্তির চিপ তৈরি করা যায়।
- আধুনিক প্রসেসর, মেমোরি চিপ, সেন্সর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এটি ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- মাইক্রোচিপে ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর তৈরি করা।
- কম শক্তি খরচে বেশি গতি।
- কম স্থান দখল, তাই স্মার্টফোন ও ল্যাপটপকে ছোট ও দ্রুত করা যায়।
- উন্নত কোডিং, ডেটা প্রসেসিং ও AI অ্যাপ্লিকেশনে সহায়তা।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

৪৯২.
লেন্সের ক্ষমতার একক কোনটি?
  1. মিটার
  2. ক্যান্ডেলা
  3. লুমেন
  4. ডায়াপ্টার
ব্যাখ্যা
লেন্স:
- দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা আবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ সমসত্ত্ব প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলা হয়।
- লেন্স সাধারণত কাচের তৈরি হয়। এছাড়া কোয়ার্টজ, স্বচ্ছ প্লাস্টিক দ্বারাও লেন্স তেরি করা হয়।
- লেন্স প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• উত্তল বা অভিসারী লেন্স (Convex Lens)।
• অবতল বা অপসারী লেন্স (Concave Lens)।

লেন্সের ক্ষমতা:
- লেন্সের ক্ষমতাকে P দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এর একক হচ্ছে ডায়াপ্টার।
- দূরত্বকে মিটারে প্রকাশ করে এর বিপরীত রাশি নিলে লেন্সটির ক্ষমতা ডায়াপ্টার পাওয়া যায়।
- ডায়াপ্টারকে সংক্ষেপে D দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- লেন্সের ক্ষমতা ধণাত্মক বা ঋণাত্মক যে কোনোটিই হতে পারে।
- লেন্সের ক্ষমতা ধনাত্মক হয়, তাহলে বুঝতে হবে লেন্সটি উত্তল।
- লেন্সের ক্ষমতা ঋণাত্মক হয়, তাহলে লেন্সটি হবে অবতল।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৩.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করা হয়?
  1. ইনভার্টার
  2. ট্রান্সফর্মার
  3. ট্রানজিস্টর
  4. রেক্টিফায়ার
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের মাধ্যমে AC (Alternating Current) প্রবাহকে DC (Direct Current) প্রবাহে রূপান্তর করা হয়, তাকে রেক্টিফায়ার (Rectifier) বলে।

• রেক্টিফায়ার:
- এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করার পদ্ধতিকে বলা হয় রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ।
- যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা রেক্টিফিকেশন বা একমুখীকরণ করে তাকে বলা হয় রেক্টিফায়ার।
- এটি সাধারণত ডায়োড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
- রেক্টিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।
- রেক্টিফায়ার ছাড়া ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরাসরি এসি প্রবাহ গ্রহণ করতে পারে না।

• ডায়োড:

- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- এটি ব্যবহার করে রেক্টিফায়ার তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশন:
- ইনভার্টার (Inverter): এটি রেক্টিফায়ারের বিপরীত কাজ করে, অর্থাৎ ডিসি প্রবাহকে এসি প্রবাহে রূপান্তর করে। এটি সাধারণত সোলার প্যানেল বা গাড়ির ব্যাটারি থেকে পাওয়ার নিয়ে গৃহস্থালী সরঞ্জাম চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ট্রান্সফর্মার (Transformer): এটি এসি ভোল্টেজকে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ফ্রিকোয়েন্সি বা প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে না।
- ট্রানজিস্টর (Transistor): এটি একটি সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস যা সাধারণত বৈদ্যুতিক সংকেতকে অ্যামপ্লিফাই (Amplifier) করতে বা সুইচ (Switch) হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি সরাসরি এসি থেকে ডিসি রূপান্তর করে না। 

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৪৯৪.
কোন পদার্থ নিম্ন তাপমাত্রায় অপরিবাহীর এবং তাপমাত্রা বাড়ালে পরিবাহীর মতো আচরণ করে?
  1. তামা
  2. রৌপ্য
  3. প্লাস্টিক
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা
পরিবাহী পদার্থ: 
- পরিবাহী পদার্থের ইলেকট্রনসমূহ এক পরমাণু থেকে অন্য পরমাণুতে সহজেই চলাচল করতে পারে। 
যেমন- ধাতু, বিশেষ করে রৌপ্য, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি। 
- কার্বন অধাতু হলেও এর একটি রূপ গ্রাফাইট বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। 

অপরিবাহী পদার্থ: 
- অপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে এর পরমাণুর ইলেকট্রন সহজে চলাচল করতে পারে না। 
- তবে অপরিবাহী পদার্থকে ঘষে আহিত করা যায়। 
- এছাড়া যদি ইলেকট্রন গৃহীত বা বর্জিত হয়, তাহলেও অপরিবাহী পদার্থ আধানযুক্ত হয়। 
যেমন: প্লাস্টিক, গ্লাস ও রাবার ইত্যাদি। 

অর্ধপরিবাহী পদার্থ: 
- নিম্ন তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী পদার্থ অপরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
- তাপমাত্রা বাড়ালে এটি পরিবাহীর মতো আচরণ করে। 
যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৯৫.
দুটি ভিন্ন তাপমাত্রার বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে কি ঘটবে?
  1. ক) বেশি তাপমাত্রার বস্তু থেকে কম তাপমাত্রার বস্তুতে তাপমাত্রা প্রবাহিত হবে
  2. খ) কম তাপমাত্রায় বস্তু তাপ বর্জন করবে
  3. গ) বেশি তাপমাত্রার বস্তু তাপ গ্রহণ করবে
  4. ঘ) বস্তু দুটির তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের আদান-প্রদান চলবে
ব্যাখ্যা

ভিন্ন তাপমাত্রার দুটি বস্তুকে পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হলে তাদের মধ্যে তাপের আদান প্রদান ঘটে। যে বস্তুটির তাপমাত্রা বেশি সেটি তাপ ছেড়ে দেয় বা বর্জন করে, আর যে বস্তুটির তাপমাত্রা কম সেটি তাপ নেয় বা গ্রহণ করে। দুটি বস্তুর তাপমাত্রা সমান না হওয়া পর্যন্ত তাপের এই আদান প্রদান বা গ্রহণ- বর্জন চলতে থাকে।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৯৬.
বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) রেইনগ্রেট
  2. খ) সিসমোগ্রাফ
  3. গ) রেইনগেজ
  4. ঘ) ক্রনোমিটার
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্রের সিসমোগ্রাফ।
- রেইন গেজ হলো- কোন এলাকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় তা পরিমাপ করার যন্ত্র।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৯৭.
কার্বনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোনটি?
  1. C12
  2. C13
  3. C14
  4. C24
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যায় নিউট্রনযুক্ত  নিউক্লিয়াসের  পরমাণুকে বলা হয় সেই মৌলের আইসোটোপ।

কার্বন এর নিউক্লিয়াসে ৬ টি প্রোটন এবং ৩ টি আইসোটোপ:
C12: 6 টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন
C13: 6 টি প্রোটন এবং 7 টি নিউট্রন
C14: 6 টি প্রোটন এবং 8 টি নিউট্রন
- কার্বনের এই তিনটি আইসোটোপের মাঝে C14 হচ্ছে অস্থিতিশীল বা তেজস্ক্রিয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৪৯৮.
রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য কতটি মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা

• রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য মৌলিক রং ব্যবহৃত হয়।

• টেলিভিশন:
- টেলিভিশন শব্দের অর্থ দূরদর্শন।
- ১৯২৬ সালে স্কটিশ বিজ্ঞানী লজি বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের।
- এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র।
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়।

• রঙিন টেলিভিশন:
- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এই তিনটি মৌলিক রঙ ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৯.
বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনের উদাহরণ কোনটি?
  1. এল.ই.ডি বাল্ব
  2. বৈদ্যুতিক পাখা
  3. বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি
  4. ব্যাটারি চার্জ করা
ব্যাখ্যা

- বৈদ্যুতিক পাখা বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে (গতিশক্তি) রূপান্তরিত করে। পাখার মোটরে বৈদ্যুতিক প্রবাহের ফলে ব্লেডগুলো ঘোরে, যা বায়ুপ্রবাহ তৈরি করে এবং এটিই যান্ত্রিক শক্তির উদাহরণ। 

বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি: 
- শক্তির রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে সাধারণত প্রথমে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি সহজে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা যায় এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহ করা সবচেয়ে সহজ। এজন্য সবার বাসায় অন্য শক্তি সরবরাহ না করে প্রথমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। 
- বৈদ্যুতিক পাখা বা অন্যান্য মোটরে তড়িৎ বা বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
(যদিও চৌম্বক শক্তি আসলে বিদ্যুৎ বা তড়িৎশক্তি থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তার পরেও মোটর বা বৈদ্যুতিক পাখার ভেতরে বিদ্যুৎশক্তিকে প্রথমে চৌম্বক শক্তিতে রূপান্তর করে সেখান থেকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর হতে দেখা যায়)। 
- বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি বা হিটারে বিদ্যুৎ বা তড়িৎ শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- বাল্ব, টিউবলাইট বা এলইডিতে তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- শব্দ শক্তি তৈরি করার জন্য সাধারণত কোনো কিছুকে কাঁপাতে হয়, সেটি এক ধরনের যান্ত্রিক শক্তি। তারপরও স্পিকারে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 
- মোবাইলে টেলিফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হয়, যেখানে আসলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০০.
ত্বরণের একক কোনটি?
  1. ক) ms-1
  2. খ) ms-2
  3. গ) Ns
  4. ঘ) Kgs-2
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ত্বরণের একক ms-2 .
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।